দুই নেত্রীর জিদে উত্তপ্ত রাজপথ- দেশবাসী উৎকণ্ঠায়


দুই নেত্রীর জিদে উত্তপ্ত রাজপথ দেশবাসী উৎকণ্ঠায়

বৃহস্পতিবার, ২৮ জুলাই


একুশে রিপোর্ট : শান্ত ছিলো রাজপথ। হঠাৎ বজ্রপাতের মতোই রাজপথ উষ্ণ হয়ে ওঠলো। কারণ অনুসন্ধানে দেখা যায়, তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিলেই আসল বিষয় নয়। নেপথ্য কারণ অনেক। এর প্রথম হচ্ছে বিএনপি নেত্রীর দুই পুত্রের সাজা ও নতুন মামলায় অন্তভূর্ক্তি এবং জামাতের নেতাদের মুক্তির জন্য পরোক্ষভাবে বার্তা পৌঁছানো। সংবিধান সংশোধনী নিয়ে আলোচনা হতে পারতো। হলো না শুধু দুই নেত্রীর জিদাজিদের জন্য। কেউ কারো মুখ দর্শনে নারাজ। এই ধারা চলতে থাকলে যতই সরকারের মেয়াদ কমবে, ততই সংঘর্ষ-সংঘাতের দিকে দেশ ধাবিত হবে। জনগণ এসব ভেবে শঙ্কায় আছে।

এরই মধ্যে ৪ দল ছোট ছোট দলগুলোকে নিজেদের দিকে টানার জন্য টিম পাঠাচ্ছে। আবার আওয়ামী লীগও বসে নেই। তারাও প্রগতিশীল এবং সমমনা দলগুলোর সাথে কথা বলছে। নতুন মিত্র দুই পক্ষই খুঁজছে। সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী মুছে ফেলায় এখন হয়ত দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে। এরই মধ্যে ৪ দল আগাম ঘোষণা দিয়েছে যে, তারা হাসিনার দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না। বিশ্লেষকরা বলছেন, সময় শেষ হয়ে যায়নি। নির্বাচনের অনেক সময় বাকি। নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন ও শক্তিশালী করতে হবে। সংবিধানে সবের্াচ্চ আদালতের পরামর্শ অনুযায়ী আরও দুই মেয়াদের তত্ত্বাবধায়ক সরকার রেখে আরেকটি সংশোধনী পাশ করলেই রাজপথ শীতল হয়ে যাবে। সমাধানের পথ এটাই। আর যদি সরকারি দল সে পথে না যায়, তাহলে ঘুনিয়ে আসছে অনিবার্য মহাসংঘাত। হয়ত এই সংঘাতে গৃহযুদ্ধ না হলেও ভয়াবহ পরিস্হিতির সৃষ্টি হতে পারে। জিম্মি হয়ে পড়তে পারে দেশবাসী। আর তখন জনগণকে এমনি পরিস্হিতি থেকে উদ্ধারে কে এগিয়ে আসবেন? ত্রাতা বা রেফারী হিসেবে তখন কি আবারো সেনাবাহিনীকে এক-এগারোর মতো মিডিয়েটরের ভূমিকা পালন করতে হবে? এমনি আশঙ্কাকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা একেবারে উড়িয়ে দিচ্ছেন না।

 

জনগণ মনে করে আমাদের রাজনৈতিক গণনে মুল সমস্যা হচ্ছেন দুই নেত্রী। তারা এক টেবিলে বসে যদি সব সিদ্ধান্ত নেন তাহলে এদেশে আর কোনোদিন আন্দোলন, হরতাল দরকার হতো না। দুই নেত্রীর মধ্যে আছে ইগো বা জিদ। দু’জনই প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। আবারও হয়েছেন। জনগণ তাদের দেশ শাসনের ম্যান্ডেট দিয়েছে। দেশকে উন্নতির পথে এগিয়ে নেয়ার জন্য যদি সংঘাতের বদলে সমঝোতার ক্ষেত্র প্রস্তুত হতো, তাহলে এদেশ সব সমস্যা ও সংকট থেকে মুক্ত হতে পারতো। যদি সংবিধানে আর কোনো সংশোধনী যুক্ত না হয়, আদালতও চুড়ান্ত রায়ে আরও দু’টি নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে করা ম্যান্ডেটরী না করে, সরকারের মেয়াদের পরে রাষ্ট্রপতি অন্য কোনো অপশনে না গিয়ে শেখ হাসিনাকেই ৯০ দিনের জন্য কাজ চালিয়ে যেতে বলেন, তাহলে ৪ দল সেই নির্বাচনে যাবে না বলে জানিয়ে দিয়েছ। তারা কোনো দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করবে না। এই জেদ ও সিদ্ধান্ত বহাল রাখলে নির্বাচনের আগে রক্তক্ষয়ী সংঘাত ঘটে যাওয়াও বিচিত্র নয়। আমাদের সামনে ২০০৬ সালে জোট সরকারের পদত্যাগের সময়টার কথা মনে আছে। তখন কিভাবে পল্টনে, বায়তুল মোকাররমে রাস্তায় লড়াই হয়, গোলাগুলী হয়, অতঃপর তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন নিয়ে আন্দোলন, হরতাল, অবরোধ। আমরা কি মাত্র ৫ বছরে সেই কালচার থেকে বেরিয় আসতে পেরেছি? আমরা কি ঘোষণা দিতে পারি যে, আর এদেশে এমন ঘটনা ঘটবে না? সুতরাং সরকারি ও বিরোধী দলকে এক টেবিলে বসিয়ে দুরুত্ব কমিয়ে আনতে না পারলে দেশ এক সাংঘর্ষিক পরিস্হিতির দিকে এগিয়ে যাবে-এমনটাই ্আশঙ্কা করছেন রাজনৈতিমক বিশ্লেষকরা। খালেদা জিয়া বলেছন, আর নয় হরতাল, আর নয় ভাঙচুর, আর নয় জ্বালাও-পোড়াও। তাহলে কি শুভবুদ্ধির উদয় হলো? নাকি যে কারণে এসব চলছিল, তার সামাধান তিনি পেয়ে গেছেন? বিশ্লেষকদের একাংশ বলেছেন, এটা ঘোষণা হলেও তা চিরস্হায়ী কোনো ঘোষণা নয়। তাদের মতে হরতালের নেপথ্য কারণ ছিল তারেক-আরাফাত-এর মামলা, সাজা, ওয়ারেন্ট ইত্যাদি। হয়ত সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে গ্রীন সিগনাল দেয়া হয়েছ শর্তভিত্তিক। আর এ কারণেই শরীকদের জিজ্ঞাসা বা মতামত না নিয়েই গণ-অনশনে তিনি এমন ঘোষণা দিয়েছন। তারপরও সাধারণ জনগণ আশ্বস্ত হতে পারছেন না। তারা ঈদের পর আবার হরতাল, ভাঙচুর, গাড়ি পোড়ানোসহ নাশকতার আশঙ্কাও করছেন।

 

এরই মধ্যে সামাজিক অস্হিরতা বাড়ছে। গণপিটুনী দিয়ে ছাত্র হত্যা করা হচ্ছে, নানারকম হত্যা, ধর্ষণ ও অপরাধ বেড়ে যাচ্ছে। সন্ত্রাসীদের সাহসও বাড়ছে। দাগী আসামীরা জামীন ও পাচ্ছে। এদিকে রাষ্ট্রপতি লক্ষ্মীপুরের ফাঁসির আসামী বিপ্লবকে ক্ষমা করে দিলেন। এর আগে বিএনপি-জামাতের সময় ২০০৫ সালে ফাঁসি হওয়া পলাতক আসামী জিন্টুকে ব্যারিস্টার মওদুদ সাহেব এনে ুআদালতে আত্মসমপর্ণ করিয়ে মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিনকে দিয়ে সাজা মওকুফ করিয়ে আবার সুইডেন পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। একই নজীর হলো এ সরকারের সময়ও। তাহলে দিন বদল হলো কোথায়? এসব কর্মকাণ্ড হলে অপরাধ প্রবণতা আরও বেড়ে যায়। বঙ্গবন্ধু দালাল আইন ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত চিকন আলী রাজার ও মহসীন হল মার্ডার কেসে অভিযুক্ত শফিউল আলম প্রধানের মৃত্যুদণ্ড মওকুফ করে যাবজ্জীবন দিয়েছিলেন। এক্ষেত্রে তেমনটি হতে পারতো। ১৯৯১ সালে গণতন্ত্রিক সরকারে যাত্রা শুরু হয় অনেক আন্দোলন, রক্তক্ষয় ও ত্যাগ-তিতিক্ষার বিনিময়ে। তিন জোটের রূপরেখা অনুযায়ী তখনকার প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমেদের কাছে এরশাদ ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। নির্বাচনে বিএনপি বিজয়ী ঘোষিত হয়ে সরকার গঠন করে। কিন্তু ১৯৯৬ সালে মেয়াদ শেষ হবার আগে নির্বাচন কিমিশন নতুনভাবে গঠিত হবার পরই দেখা যায় বিএনপি আবার ক্ষমতায় আসার কেওশল নিয়ে তাদের দলে সমর্থক কমিশন সদস্যের নিয়োগ করে। ভোটার তালিকায় অনেক ভোটারকে বাদ দেয়া হয়। এ সময় দলীয় সেই সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকা কমিশনের অধীনে নির্বাচনে যেতে দেশের সব দল, এমনকি জামাতও রাজী হয়নী। তারা আন্দোলনে নামে, দাবি করে কেয়ারটেকার সরকার গঠনের। এমনি এক পরিস্হিতিতেও খালেদা জিয়ার সরকার নিজেদের লোকজনকে টিক চিহ্ন দিয়ে নির্বাচনহীন এক ভোট দেখিয়ে সংসদ ও সরকার গঠন করে। অবশেষে রাজপথে জনতার মঞ্চ তৈরি করে ৮ দল, ৫ দল, জামাত, জাসদসহ সব দল। সেই পাতানো সংসদেই পাস হয় ত্রয়োদশ সংশোধনী-তত্ত্বাবধায়ক সরকার। গঠিত হয় বিচারপতি হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে সরকার। তবে এই তত্ত্বাবধায়ক আমলেও সেনাপ্রধান জেনারেল নাসিম ট্যাংক নিয়ে অভ্যুত্থান ঘটানোর চেষ্টা করেন। দ্বিতীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার হয় বিচারপতি লতিফুরের অধীনে। তার মেয়াদকালে আইন-শৃঙখলার বারোটা বাজে। সারাদেশে হাজার হাজার মানুষ খুন ও ধর্ষণের শিকার হয়। অগণিত মানুষের সম্পদ দখল হয়। সংখ্যালঘুরা বাড়ি-ঘর ছেড়ে অন্য জেলায় আশ্রয় নেয়। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের এজেন্টদের প্রকাশ্য মেরর বের করে দেয়া হয়। সারাদেশে অরাজকতা ও নৈরাজ্যে স্বাধীনতা বিরোধীরা উল্লাসে ফেটে পড়ে। এমনি অবস্হায় নির্বাচন হয়। নির্বাচনের পর ৬ মাস যাবত চলতে থাকে অরাজকতা, খুন, ধর্ষণ ও দখল।

 

তৃতীয় তত্ত্বাবধায়ক, সরকার হলো তিন উদ্দিনের ভেলকিবাজী। ২০০৬ সালে জামাত-বিএনপি সরকার পদত্যাগের পরই রাজপথে শুরু হয় গৃহযুদ্ধ। হরতাল অবরোধ এমন পর্যায়ে যায় যে, সেনা হস্তক্ষেপ ছাড়া পরিস্হিতি নিয়ন্ত্রণে আসতো না। এখন ২০১৩-১৪ সালে আওয়ামী লীগ পদত্যাগ করলে তখন কি হবে, এ ভেবে জনগণ শঙ্কিত। তখন জনগণ যদি জিম্মি হয়ে পড়ে, তাদের উদ্ধারে রেফারী বা মিডিয়েটর কে হবে? আবার কি সেনাবাহিনীকেই আসতে হবে? সংবিধানতো ডাস্টবিনে ফেলার ঘোষণাই এসে গেছে। তাহলে জোর যার রাজ্য তার ছাড়া আরতো নীতিমালা থাকবে না। তখন কি হবে? আরেকটি মহাসংঘাত ও নতুন কোনো মিডিয়েটর?

দ্য ইকনোমিস্টের দৃষ্টিতে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতি


দ্য ইকনোমিস্টের দৃষ্টিতে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতি
Bangladesh
Politics of hate
An ancient vendetta continues to eat away at public life << Original Link

আন্তর্জাতিক প্রভাবশালী সাময়িকী দ্য ইকনোমিস্টের ২০ নভেম্বর সংখ্যায় বাংলাদেশের বৈরিতার রাজনীতি নিয়ে প্রকাশিত বিশ্লেষণধর্মী নিবন্ধটির অনুবাদ

Hartal

Hartal

সেনাবাহিনীর দুর্যোগময় অন্তর্বর্তীকালীন ব্যর্থ শাসন ও দেশের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক শাসকপরিবারের নেতারা জেল থেকে মুক্ত হওয়ার দুই বছর পর বাংলাদেশ পুনরায় ঘৃণা ও সংঘাতের রাজনীতির আবর্তে ঘূর্ণায়মান। এর জন্য মূলত দুই নেতার একজন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অন্যজন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত প্রতিহিংসাই দায়ী।

বেগম জিয়া ১৩ নভেম্বর ঢাকায় ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় যে বাড়িতে প্রায় ৩২ বছর ধরে বাস করে আসছিলেন তা থেকে উচ্ছেদ হন। এ পদক্ষেপ একটি হরতালের জন্ম দেয়। এটা ছিল বেগম জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিরোধী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ডাকা প্রতিবাদের রূপ। এতে তার বিএনপি ও শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগের সমর্থকদের মধ্যে সহিংসতার ঘটনা ঘটে। দেশটির তৃতীয় রাজনৈতিক শক্তি সেনাবাহিনী হাইকোর্টের উচ্ছেদ আদেশ কার্যকরে সহায়তা করে। বেগম জিয়ার বাড়ির চারপাশের বিশাল এলাকা নির্বাচনে তার দল আওয়ামী লীগ ক্ষমতা গ্রহণের পর পর গত বছরের প্রথম দিকে (বিডিআর) বিদ্রোহে নিহত ৫৭ জন সামরিক কর্মকর্তার পরিবারের আবাসনের জন্য বরাদ্দের ঘোষণা দেন শেখ হাসিনা এবং এটি তার একটি কূটচাল।

উচ্ছেদ কার্যক্রম হচ্ছে বিএনপির মেরুদন্ড ভেঙে দেওয়ার জন্য (আওয়ামী) লীগের মিশনের অংশ। এটা হচ্ছে বেগম জিয়ার মরহুম স্বামী ও ১৯৭১ সালে পশ্চিম পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের নায়ক জেনারেল জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠিত বংশানুক্রমিক রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ইতিহাস থেকে মুছে দেওয়ার আবিষ্টতাজাত।

ফেব্রুয়ারিতে সরকার ঢাকার জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম বদলে একজন শ্রদ্ধেয় সুফিসাধকের নামে রাখে। (সরকার) ১৯৭২ সালের সংবিধান ‘পুনর্মুদ্রণের’ সিদ্ধান্তও নিয়েছে জুলাইয়ে সুপ্রিম কোর্টের একটি যুগসন্ধিক্ষণমূলক রুলিংয়ের আলোকে, যাতে অন্যান্য নানা বিষয়ের সঙ্গে ১৯৭৫ সালে শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকান্ডের পর জেনারেল জিয়াসহ সব সামরিক শাসনকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়। এদিকে অক্টোবরে একটি আদালত বেগম জিয়ার ছোট ছেলের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে।

সেনাসমর্থিত অন্তর্বর্তীকালীন শাসনের সময় বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা চারটি দুর্নীতি মামলা রয়েছে। অন্যদিকে একই সময়ে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের করা ১৩টি দুর্নীতি মামলা বর্তমান সরকারের আমলে তুলে নেওয়া হয়েছে। এমনকি সাম্প্রতিক এ আক্রমণের আগ থেকেই বিএনপি ধুকে ধুকে চলছিল। ৩০০ আসনের জাতীয় সংসদে দলটির মাত্র ৩০টি আসন রয়েছে। তারা এই জাতীয় সংসদও বয়কট করে চলছে। এটা এখন বিভক্ত। বেগম জিয়ার পক্ষে এখন সংখ্যালঘু সংখ্যার সমর্থন রয়েছে। এদিকে বিএনপির প্রধান সহযোগী বাংলাদেশের বৃহত্তম ইসলামি দল জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা জেলে রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে রয়েছে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের সময়কালের অপরাধের অভিযোগ এবং তারা এখন সম্ভাব্য শাস্তির সামনে। সাবেক একজন প্রধানমন্ত্রী এবং বেগম জিয়ার কৌঁসুলি মওদুদ আহমদ বলেন, এ জোট বিএনপির সুনাম, বিশেষ করে আন্তর্জাতিকভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে। কিন্তু তার পরও বিএনপির প্রয়োজন রয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী সমর্থনের।

economist.com

economist.com

বেগম জিয়ার সামনে একমাত্র আশা যে দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, বিদ্যুৎ সংকট এবং শেখ হাসিনার সরকারের সর্বগ্রাসী পুঁজিবাদী শাসন যা বেগম জিয়ার শাসনামলও (২০০১-০৬) ছাড়িয়ে গেছে তাতে জনগণ বীতশ্রদ্ধ ও হতাশ। সরকারের প্রতি জনগণের যে নির্ভরতা ছিল তাতে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। বেগম জিয়া মনে করছেন, একসময় গণজোয়ার তার বড় ছেলে ও সম্ভাব্য উত্তরাধিকারী তারেক রহমান (যিনি এখন ব্রিটেনে নির্বাসনে রয়েছেন) এর পক্ষে ধাবিত হবে। যদিও তারেক রহমান সেনা হেফাজতে থাকাকালে ভাঙা মেরুদন্ড নিয়ে ২০০৮ সালে দেশত্যাগ করেন এবং তিনি বেগম জিয়ার শাসনামলের দুর্নীতির প্রতীক। এমনকি তিনি বিএনপি নেতাদেরও অনেকেরই অপছন্দের মানুষ।

ইতোমধ্যে শেখ হাসিনার প্রতিহিংসা ভারতীয় সরকারের সমর্থন লাভ করেছে। (এই সরকারের আমলে) বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। বেগম জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের শাসনের সমাপ্তি, ভারতের চোখে তার জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত। ভারত মনে করে, তার পরিবার ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অনধিকার হস্তক্ষেপ করে চলেছে। এই মাসে তারেক রহমানের ডান হাত বলে কথিত এক ব্যক্তি তদন্তকারীদের বলেছেন, ঢাকায় পাকিস্তানি দূতাবাস ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অসমিয়া জাতিসত্তার জন্য স্বাধীনতার লক্ষ্যে যুদ্ধরত সশস্ত্র গ্রুপ ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অব অসম (উলফা) বিএনপি (এ ক্ষেত্রে তারেক রহমান) ও তাদের সহযোগী বাংলাদেশী অদৃশ্য এক গোষ্ঠীকে এক কোটি ডলার প্রদান করেছে ভারতীয় সশস্ত্র গ্রুপের জন্য ১০ ট্রাক অস্ত্র গোপনে পাচার করতে।

100 injured in hartal clashes

100 injured in hartal clashes

পশ্চিমা সরকারগুলোও তারেক রহমানের ফিরে আসার বিরোধিতা করে। তারা সূক্ষ্ম ঘোমটায় টানা ২০০৭ সালের জানুয়ারির সেনা অভ্যুত্থানকে (যা বিএনপির নির্বাচনী ফলাফল ছিনিয়ে নেওয়া প্রতিহত করে বলে তারা মনে করে) সমর্থন করে। এই অভ্যুত্থান সাবেক বিএনপি সরকারকে ঘিরে যে ইসলামিক চরমপন্থী ছোট ছোট গ্রুপ গড়ে উঠেছিল তাদের ওপরও আক্রমণ করে। আওয়ামী লীগের নীতির কেন্দ্রীয় কৌশল হচ্ছে এই আক্রমণ চলমান রাখা।

সরকারের জনপ্রিয়তা কমতে থাকা সত্ত্বেও শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠজনেরা খালেদা জিয়ার ব্যাপারে নমনীয় নন যা বেগম জিয়াকে হ্রস্ব করে। এমন একটি পরিস্থিতিতে প্রায় চার দশকের পুরনো ব্যক্তিগত আক্রোশের কারণে সৃষ্ট বিভেদের রাজনীতিতে (আওয়ামী) লীগ কী করে নিজেকে সংশ্লিষ্ট রাখতে পারে সেটাই দেখার বিষয়। এখন তাদের সময় এসেছে শাসনকাজে মন দেওয়ার। [সাপ্তাহিক বুধবারে প্রকাশিত]

আমাদের সময়, আলোচনা, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, জনকন্ঠ, ডেসটিনি, দিগন্ত, দিনের শেষে, নয়া দিগন্ত, প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ভোরের কাগজ, মানবজমিন, মুক্তমঞ্চ, যায় যায় দিন, যায়যায়দিন, যুগান্তর, সংগ্রাম, সংবাদ,চ্যানেল আই, বাঙ্গালী, বাংলা ভিশন, এনটিভি,এটিএন বাংলা, আরটিভি, দেশ টিভি, বৈশাখী টিভি, একুশে টিভি, প্রবাস, প্রবাসী, ঠিকানা, জাহান হাসান, বাংলা, বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস, লিটল বাংলাদেশ, ইউএসএ, আমেরিকা, অর্থনীতি, প্রেসিডেন্ট ওবামা,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,অর্থ, বাণিজ্য, শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, রাজাকার, আল বদর, সুখ, টেলিভিশন, বসন্ত উৎসব, Jahan, Hassan, jahanhassan, Ekush, bangla, desh, Share, Market, nrb, non resident, los angeles, new york, ekush tube, ekush.info,

বাপা-বেন সম্মেলনের উদ্দেশ্য হচ্ছে বাংলাদেশের নগরায়ন নীতি প্রণয়নে স্ববাসী ও প্রবাসী নাগরিকদের অংশগ্রহণকে নিশ্চিত করা। বর্তমানে শুধুমাত্র টেকনোক্র্যাট ও আমলারাই জনসাধারণের দৃষ্টির অন্তরালে ও বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী মহলের চাপ দ্বারা প্রভাবান্বিত হয়ে এই সমস্ত নীতি প্রণয়ন করে থাকেন। নিউ ইয়র্কে নগরায়ন, যানজট ও পরিবেশের ওপর বেনের সেমিনার


নিউ ইয়র্কে নগরায়ন, যানজট ও পরিবেশের ওপর বেনের সেমিনার
পড়শী প্রতিনিধি

সেমিনারের প্রথম আলোচক ছিলেন রাজিয়া নাজমি, যিনি তার সাও পাওলো শহরের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন

সেমিনারের প্রথম আলোচক ছিলেন রাজিয়া নাজমি, যিনি তার সাও পাওলো শহরের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন

গত ১০ই অক্টোবর, ২০১০ বেন (বাংলাদেশ এনভায়রনমেন্ট নেটয়ার্ক) নিউ ইয়র্ক, নিউ জার্সি, ও কানেকটিকাট শাখার উদ্যোগে “নগরায়ন, যান-জট ও পরিবেশ” শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। বেনের এই তিন-রাজ্য শাখার সমন্বয়কারী তওফিক চৌধুরী সভাটি শুরু করেন ও বেনের বিশ্ব সমন্বয়কারী ড. নজরুল ইসলামকে সভাপতিত্ব করতে আহ্ববান জানান। ড. ইসলাম বলেন যে নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারটি বেন ও বাপা কর্তৃক আয়োজিত আগামী ৮-ই জানুয়ারী , ২০১১ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য “নগরায়ন, যানজট ও পরিবেশ” শীর্ষক সম্মেলনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আয়োজিত হয়েছে। ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য দুটি। প্রথমটি হচ্ছে যানজট ও নগরায়নের অন্যান্য সমস্যাকে বাংলাদেশের জাতীয় উন্নয়ন কৌশলের বিভিন্ন অনভিপ্রেত বৈশিষ্টের প্রেক্ষাপটে বিচার করে একটি সামগ্রিক ও সুষম নগরায়ন নীতি প্রণয়ন করা। এ প্রসংগে তিনি বলেন, যানজট নিরসনে এখন পর্যন্ত যে সব পদক্ষেপ গ্রহণ অথবা গ্রহণের চিন্তা করা হয়েছে, তাদের দুটি ভাগে ভাগ করা যায়। প্রথমটি হচ্ছে “সাময়িক উপশম” মূলক বিভিন্ন ব্যবস্থা,যেমন ট্র্যাফিক নীতির পরিবর্তন, ইত্যাদি। অন্যটি হচ্ছে উড়াল-সড়ক বা পাতাল রেল, ইত্যাদি বিভিন্ন নতুন অবকাঠামোর নির্মাণ। এই উভয়বিধ পদক্ষেপই হয়তো প্রয়োজন, যদিও অবকাঠামো নির্মাণমূলক প্রকল্পগুলির যথাযথ নিরীক্ষার প্রয়োজন। কিন্তু বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতার আলোকে স্পষ্ট যে, দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন কৌশলের পরিবর্তন না হলে শুধু এই দুই ধরণের পদক্ষেপ দ্বারা যানজট সমস্যার স্থায়ী ও প্রকৃত সমাধান অর্জিত হবে না।

ড. ইসলাম জানা যে, জানুয়ারীতে অনুষ্ঠিতব্য বাপা-বেন সম্মেলনের দ্বিতীয় উদ্দেশ্য হচ্ছে বাংলাদেশের নগরায়ন নীতি প্রণয়নে স্ববাসী ও প্রবাসী নাগরিকদের অংশগ্রহণকে নিশ্চিত করা। বর্তমানে শুধুমাত্র টেকনোক্র্যাট ও আমলারাই জনসাধারণের দৃষ্টির অন্তরালে ও বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী মহলের চাপ দ্বারা প্রভাবান্বিত হয়ে এই সমস্ত নীতি প্রণয়ন করে থাকেন। ড. ইসলাম প্রবাসীদেরকে এই সম্মেলনের সুযোগ নিয়ে বাংলাদেশের নগরায়ন কৌশল নীতি প্রণয়নে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করার জন্য আহ্ববান জানান।

নগরায়ন, যান-জট ও পরিবেশ” শীর্ষক একটি সেমিনার

নগরায়ন, যান-জট ও পরিবেশ” শীর্ষক একটি সেমিনারে অতিথিবৃন্দ

সেমিনারের প্রথম আলোচক ছিলেন রাজিয়া নাজমি, যিনি তার সাও পাওলো শহরের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন। সাও পাওলো শহর মেক্সিকো সিটির উদাহরণ অনুযায়ী একটা চক্রাকার ব্যবস্থার প্রবর্তন করে যার অধীনে “রাশ আওয়ারের” সময় গাড়ির লাইসেন্স নম্বর অনুযায়ী শহরের কিছু অংশে গাড়ির গতিবিধি নিয়ন্ত্রিত হয়। ১৯৯৭ সালে প্রবর্তিত এই পদ্ধতি শুরুতে শহরের যানজট ১৮% কমিয়ে দেয়। সাথে সাথে সাও পাওলো সাইকেল ট্রাফিকের জন্য অবকাঠামো নির্মান শুরু করে। রাজিয়া নাজমি বলেন, গণ-পরিবহন ব্যবস্থা সৃষ্টির পাশাপাশি ঢাকায় হাঁটার জন্য ভাল ফুটপাথ, সাইকেলের জন্য পথ ও বিশেষ রিক্সা এলাকা সৃষ্টির প্রয়োজন, এবং এই কাজটা সাধারণ নাগরিকদের সহযোগিতায় সরকার করতে পারে।

পরবর্তী আলোচক ছিলেন ড. আদনান মোর্শেদ যিনি আন্তর্জাতিক নগরায়ন অভিজ্ঞতার আলোকে ঢাকা শহরের সমস্যাগুলি তুলে ধরেন। তিনি বলেন সফল নগরায়ন তখনই সম্ভব যখন বিভিন্ন ধরণের পরিবহন ব্যবস্থার প্রবর্তন করা হয়। বাংলাদেশ নগরায়ন সমস্যার এই সন্ধিক্ষণকে ব্যবহার করে একটা দক্ষ, সুষম ও উপযুক্ত গণ-পরিবহন ব্যবস্থার প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে পারে। ফুটপাথ, সাইকেল পথ ও পানি পথকে সর্বোচ্চ ও উপযুক্তভাবে ব্যবহার করে নগরায়নের সুন্দর অগ্রগতি সম্ভব। তিনি জানান যে, সফল নগরায়নের জন্য ছয়টি বিষয়ের সম্মিলন প্রয়োজন। ড. মোর্শেদ তাঁর যুক্তি শিক্ষণীয় ও চমকপ্রদ স্লাইডের মাধ্যমে উপস্থাপিত করেন।

প্রফেসর রওনক জাহান বলেন, উন্নত নগরায়নের প্রকল্পগুলিকে স্বার্থান্বেষী মহলের মোকাবেলা করতে হবে, সেইজন্য এই সব প্রকল্পের গ্রহণ ও বাস্তবায়ন সহজ হবে না।

প্রফেসর রেহমান সোবহানও সঠিক নগরায়ন পদ্ধতির একটা মূল সমস্যা হিসেবে রাজনৈতিক অর্থনীতিকে চিহ্নিত করেন। তিনি বলেন, এই দ্বন্দ্বের নিরসন না হলে সমস্যা থেকেই যাবে। বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্পের প্রণয়ন, বাস্তবায়ন ও ব্যবহারে যেখানে দশ থেকে বারো বছরের প্রয়োজন, সেখানে সরকারের আয়ু পাঁচ বছর। সময়ের এই অমিল সরকারকে নতুন কাজে হাত দিতে উৎসাহিত করে না। জমির উচ্চ মূল্যও বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের পথে একটি বাধা হিসেবে কাজ করে। তিনি বলেন যে সমস্ত অবকাঠামোগত প্রকল্প নিয়ে এখান ভাবা হচ্ছে সেগুলো নিয়ে বিশ/পঁচিশ বছর আগে চিন্তা করা উচিত ছিল। দীর্ঘ-মেয়াদী প্রকল্পের বাস্তবায়নের সাথে সাথে দ্রুত বাস্তবায়িত করা যায় সেরকম কাজগুলোও চলতে পারে। বাপা-বেন নগরায়ন নিয়ে যে সম্মেলনের আয়োজন করেছে তাতে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন ও সম্মেলনের সাফল্য কামনা করেন।

ঢাকা শহরের যানজট

ঢাকা শহরের যানজট

অতিথি ও আলোচকদের বক্তব্যের পর উপস্থিত সবাই উৎসাহের সঙ্গে উন্মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।

সেমিনারে একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও চিত্রের জন্য নীচের You-Tube ক্লিপটি দেখুনঃআমাদের সময়, আলোচনা, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, জনকন্ঠ, ডেসটিনি, দিগন্ত, দিনের শেষে, নয়া দিগন্ত, প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ভোরের
কাগজ, মানবজমিন, মুক্তমঞ্চ, যায় যায় দিন, যায়যায়দিন, যুগান্তর, সংগ্রাম, সংবাদ,চ্যানেল আই, বাঙ্গালী, বাংলা ভিশন, এনটিভি,এটিএন বাংলা, আরটিভি, দেশ টিভি, বৈশাখী টিভি, একুশে টিভি, প্রবাস, প্রবাসী, ঠিকানা, জাহান হাসান, বাংলা, বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস, লিটল বাংলাদেশ, ইউএসএ, আমেরিকা, অর্থনীতি, প্রেসিডেন্ট ওবামা,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,অর্থ, বাণিজ্য, শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, রাজাকার, আল বদর, Jahan, Hassan, Ekush, bangla, desh, Share, Market, nrb, non resident, los angeles, new york, ekush tube, ekush.info,

প্রবাসীদের প্রধান ঈদ আনন্দ দেশে প্রিয়জনদের সাথে কথা বলা: ঈদের দিন সাড়ে ১০ কোটি মিনিট কল এসেছে বিদেশ থেকে


ঈদের দিন সাড়ে ১০ কোটি মিনিট কল এসেছে বিদেশ থেকে
ফিরোজ মান্না ॥

BTRC

BTRC

বৈধ পথে আন্তর্জাতিক টেলিফোন কল রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে। ঈদের দিন প্রায় সাড়ে ১০ কোটি মিনিট কল দেশের বাইরে থেকে এসেছে। এই পরিমাণ কল এর আগে কখন হয়নি। বিটিআরসি অবৈধ ভিওআইপি বন্ধের বিরম্নদ্ধে একের পর এক অভিযান পরিচালনার কারণে আনত্মর্জাতিক কল সংখ্যা বাড়ছে। অবৈধ ভিওআইপি বন্ধ করতে পারলে বৈধ পথে কলের সংখ্যা দ্বিগুণ হবে।

বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব) জিয়া আহমেদ জনকণ্ঠকে জানান, মানুষ এখন আগের চেয়ে অনেক সচেতন হয়েছে। তারা চায় না অবৈধ পথে টেলিফোন কল করতে। অবৈধ ভিওআইপি অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করার কারণে কল সংখ্যা রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে। অবৈধ কল বন্ধ করার জন্য বিটিআরসি ‘সিম ডেকেটশন টুল’ স্থাপন করে মোবাইল বা পিএসটিএন নম্বর শনাক্ত করা হয়। যে সব নম্বর থেকে অবৈধ কল আসছে সেগুলো সঙ্গে সঙ্গে বস্নক করে দেয়া হচ্ছে। আরও কিছু ব্যবস্থা নেয়ার ফলে বৈধ পথে আনত্মর্জাতিক কল দিন দিন বেড়েই চলেছে। বিটিআরসির চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব নেয়ার সময় প্রতিদিন ২ কোটি মিনিট কল বৈধ পথে আসত। সিংহভাগ কল চলে যেত অবৈধ পথে। এখন প্রতিদিন গড়ে ৫ থেকে ৬ কোটি মিনিট কল বৈধ পথে দেশে আসছে। এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব পাচ্ছে। এবার ঈদের দিন বৈধ পথে ১০ কোটি ৩৪ লাখ ৮২ হাজার ২৫৬ মিনিট কল দেশে প্রবেশ করেছে। এটা বিটিআরসির ইতিহাসে রেকর্ড পরিমাণ কল। ঈদের আগের দিন কল এসেছে ৭ কোটি ৭৪ লাখ ২ হাজার ৫২১ মিনিট। ঈদের পরের দিন কলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি ৫১ লাখ ২ হাজার ১৭৫ মিনিট। বিটিআরসি অবৈধ ভিওআইপি বন্ধ করার জন্য ১৪টি আইএসপি, পিএসটিএন ও ভিস্যাট লাইসেন্স বাতিল করার পর থেকেই আনত্মর্জাতিক কল বাড়তে শুরম্ন করেছে। অবৈধ ভিওআইপি পুরোপুরি বন্ধ করতে পারলে বৈধ পথে আনত্মর্জাতিক কলের পরিমাণ প্রতিদিন ১৫ থেকে ১৬ কোটি মিনিটে উন্নতি হতে পারে। আমরা বৈধ কল বাড়াতে নানা পদৰেপ নিয়েছি।

Radio Link

Radio Link

জানা গেছে, অবৈধ ভিওআইপি (ভয়েস ওভার ইন্টারনেট প্রটোকল) কল বন্ধ করতে সর্বোচ্চ পদৰেপ হিসেবে সরকার টেলিযোগাযোগের বিভিন্ন খাতে লাইসেন্স বৃদ্ধির চিনত্মা ভাবনা করছে। ভিওআইপি একটি প্রযুক্তি এবং সেটিকে মোকাবেলা করতে হবে প্রযুক্তি দিয়ে। লাইসেন্স বৃদ্ধি করে এর সমাধান হবে না বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। অবৈধ কল যাচাইয়ের জন্য ডিপ প্যাকেট ইন্সপেকশন (ডিপিআই) নামে একটি যন্ত্র আছে। যেসব প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের ব্যান্ডউইথ দেয় সেখানে এটি স্থাপন করা হলেই অবৈধ কল বন্ধ করা সম্ভব। কিন্তু সেটি কার্যকর করতে কর্তৃপৰ তেমন আগ্রহী হচ্ছে না।

সূত্র জানিয়েছে, অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা চলছে অত্যাধুনিক ‘রেডিও লিঙ্ক’ প্রযুক্তির মাধ্যমে। ভারত থেকে ব্যান্ডউইথ কিনে রেডিও লিঙ্কের মাধ্যমে কল আদান-প্রদান করা হচ্ছে। আর এই কাজ হচ্ছে সীমানত্ম এলাকার বহু জেলায়। এমন কি খোদ ঢাকাতেই হাই ফ্রিকোয়েন্সির রেডিও লিঙ্ক ব্যবহার করে অবৈধ ভিওআইপি করা হচ্ছে। বিটিআরসি নানা ব্যবস্থা নেয়ার পরেও অবৈধ ভিওআইপি বন্ধ হয়নি। কিছু ভুয়া বিদেশী টেলিফোন নম্বর ব্যবহার করে এসব কল আদান-প্রদান করার কাজ চলছে। বিটিআরসির পৰে এমন কল আটকানো কোনভাবেই সম্ভব হচ্ছে না। কারণ এসব কল আদান-প্রদানের জন্য দেশীয় যে কোন মোবাইল অপারেটরের সিম কার্ড বা ই-১ ব্যবহার করা হয়। প্রযুক্তিকে ফিল্টার করতে গিয়ে উন্নত প্রযুক্তির কাছে মার খাচ্ছে বিটিআরসি। সরকার হারাচ্ছে বিরাট অঙ্কের রাজস্ব। পিএসটিএন কোম্পানি এবং কিছু আইএসপি বন্ধ করে দিলেই ভিওআইপি হবে এটা ভাবার কোন কারণ নেই। প্রতিদিন প্রযুক্তির উন্নতি ঘটছে। প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধ করতে হলে উন্নত প্রযুক্তির প্রয়োজন রয়েছে।

E1 30 GSM Channel Bank

E1 30 GSM Channel Bank

তথ্য প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারত থেকে ব্যান্ডউইথ কিনে একটা ই-১ (৩০টি টেলিফোন লাইন সংযুক্ত করা যায় এমন যন্ত্র) ভয়েজ কানেকটিভিটি ব্যবহার করে অবৈধ ভিওআইপি ( ভয়েজ ওভার ইন্টারনেট প্রটোকল) হচ্ছে। অথবা বিভিন্ন মোবাইল অপারেটরের সিমও ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব ভিওআইপির বেশির ভাগ ৰেত্র হচ্ছে সীমানত্ম জেলায়। সরকার ভিওআইপি বন্ধ করার জন্য কঠোর অবস্থান নিয়েও অবৈধ ভিওআইপি বন্ধ করতে পারেনি। খোদ বিটিসিএল’র বিরম্নদ্ধে ভিওআইপি করার অভিযোগ রয়েছে। এ থেকে মোবাইল অপারেটররাও বাদ নেই। বিদেশে কল আদান-প্রদান করার সময় দেখা যায় দেশী ফোন কোম্পানিগুলোর নম্বর ভেসে উঠছে। তবে রেডিও লিঙ্ক ব্যবহার করে যে সব কল আদান-প্রদান হচ্ছে সেগুলোতে ভুয়া বিদেশী নম্বর ব্যবহার করা হচ্ছে। যে কোন দেশ থেকে কল এলে টেলিফোন নম্বরের আগে অবশ্যই যোগ চিহ্ন থাকবে। কিন্তু রেডিও লিঙ্ক থেকে আসা বেশির ভাগ কলে যোগ চিহ্ন পাওয়া যাবে না। গ্রাহক মনে করবে যে নম্বর থেকে কল এসেছে সেই নম্বরটি সংশিস্নষ্ট দেশেরই নম্বর। বিটিআরসিকে ফাঁকি দেয়ার জন্য এ ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে অবৈধ ব্যবসায়ীরা। এটি করতে তারা উন্নত মানের সফটওয়ার ব্যবহার করছে। ভারতে যারা ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার তাদের কাছ থেকে ব্যান্ডউইথ কিনছে দেশীয় অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসায়ীরা। ভারত ব্যান্ডউইথ বিক্রি করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছে। তবে বিটিআরসি বলছে, রেডিও লিঙ্ক ব্যবহার করে অবৈধ ভিওআইপি করা অসম্ভব। এটা যারা বলছে তারা এর কোন প্রমাণ দিতে পারেনি। ভারত থেকে এভাবে কেউ ব্যান্ডউইথ কিনতে পারে না। ব্যান্ডউইথ কিনতে হলে লাইসেন্স নিতে হবে। ভারত তথ্য প্রযুক্তির দিক থেকে অনেক এগিয়ে থাকা দেশ হিসাবে এমন কাজ তারা কোনভাবেই করতে পারে না। তাছাড়া ভারতকে এত উদার ভাবার কোন কারণ নেই। ভারতে শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ সংস্থা রয়েছে। এটা ধরা পড়লে জরিমানাসহ লাইসেন্স বাতিল করে দেবে। বিটিআরসি মনে করে অবৈধ ভিওআইপি বন্ধ করতে পারলে বৈধ চ্যানেলে কল বেশি আদান-প্রদান হবে। এতে সরকারের রাজস্ব বাড়বে।

VOIP

VOIP

এদিকে বিডি ডট কমের একজন কর্মকর্তা বলেন, ভিওআইপি কোনভাবেই বন্ধ করা যাবে না। কোন না কোন প্রক্রিয়ায় ভিওআইপি হবেই। ইন্টারনেটকে লং ডিসটেন্স হিসাবে দেখার কিছু নেই। ইন্টারনেট বিশ্বকে হাতের মুঠোয় এনে দিয়েছে। তাই ইন্টারনেট হচ্ছে লোকাল বিষয়। পৃথিবীর যে প্রানত্মেই যাওয়া যাক ইন্টারনেট সকলের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে। বিটিআরসিকে কোন কল অবৈধ আর কোন কল বৈধ এটা ধরার জন্য বসে থাকা বা অভিযান চালাতে হবে না। এখানে কিছু টেকনিক্যাল ব্যবস্থা নিলেই তখন আর অবৈধ বলতে কিছু থাকবে না। তখন বৈধ পথে আনত্মর্জাতিক কলের সংখ্যা এমনিতেই বেড়ে যাবে।আমাদের সময়, আলোচনা, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, জনকন্ঠ, ডেসটিনি, দিগন্ত, দিনের শেষে, নয়া দিগন্ত, প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ভোরের কাগজ, মানবজমিন, মুক্তমঞ্চ, যায় যায় দিন, যায়যায়দিন, যুগান্তর, সংগ্রাম, সংবাদ,চ্যানেল আই, বাঙ্গালী, বাংলা ভিশন, এনটিভি,এটিএন বাংলা, আরটিভি, দেশ টিভি, বৈশাখী টিভি, একুশে টিভি, প্রবাস, প্রবাসী, ঠিকানা, জাহান হাসান, বাংলা, বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস, লিটল বাংলাদেশ, ইউএসএ, আমেরিকা, অর্থনীতি, প্রেসিডেন্ট ওবামা,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,অর্থ, বাণিজ্য, শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, রাজাকার, আল বদর, Jahan, Hassan, Ekush, bangla, desh, Share, Market, nrb, non resident, los angeles, new york, ekush tube, ekush.info,

রাজনৈতিক ‘ইভ টিজিং’ একটি নষ্ট সমাজে কোনো একটি অপরাধকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। আমাদের সব নষ্টের উৎস নষ্ট রাজনীতি। আর এই নষ্ট রাজনীতি উপহার দিয়েছে আওয়ামী লীগ-বিএনপি।


রাজনৈতিক ‘ইভ টিজিং’
বেলাল বেগ

রাজনীতি

রাজনীতি

লাগুক বা না লাগুক, বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতা আবদুল্লাহ আল নোমান আওয়ামী লীগের উদ্দেশে একটি শব্দ গুলতি ছুড়েছেন। আওয়ামী লীগ নাকি সারা দেশটাকেই ‘ইভ টিজিং’ করছে। এক মুহূর্তের জন্য মনে হয়েছিল, বেড়ে বলেছেন তো! রাষ্ট্র, সমাজ, সভ্যতা ও শিক্ষা-সংস্কৃতির আলোকদীপ্তিকে আরণ্যক অন্ধকার বানিয়ে নিশাচর হিংস্র পশুর মতো আচরণ করে যে রিপুতাড়িত বখাটের দল, সেটাই তো ইভ টিজিং। আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন যুবলীগ-ছাত্রলীগের দুষ্কৃতকারীদের আচরণ এক ধরনের রাজনৈতিক ইভ টিজিং বটে। চকিতে মনে এল তারেক-কোকো, খাম্বা-মামুন, হাওয়া ভবনের প্যান্ডোরার বাঙ্রে কথা। জামায়াত-বিএনপির ওই যুগের তুলনায় আওয়ামী লীগ ভাঙিয়ে খাওয়া এসব কুলাঙ্গার তো নস্যি। আমার চিন্তাস্রোত হাসিনা-খালেদা, আওয়ামী-বিএনপির শৈবালধামে আটকা পড়ে যাচ্ছিল। আমার মনেই হয়নি, আবদুল্লাহ আল নোমান এই জাতির সাংস্কৃতিক মৃত্যুঘণ্টা বাজানো ইভ টিজিং সমস্যাটাকে খেলো বানিয়ে দিয়েছেন।

ক্ষমতার রাজনীতিতে দীর্ঘকাল মদাসক্ত আছেন বলে জাতির কোনো মর্মান্তিক সমস্যার যাতনা বিএনপি নেতাদের অন্তরে দাগ কাটে না। বখাটেদের কামলোলুপ হিংস্রতার মুখে সুন্দর এই পৃথিবীর দিকে চোখের পাপড়ি মেলে ধরার আগে ‘প্রতিকারহীন শক্তি’র অপরাধে যে কিশোরী আত্মহননের পথ বাছাই করল, তার অভিশাপে পুরো সমাজটাই দগ্ধ হতে পারে_এই বোধটা থাকলে ইভ টিজিংকে এমন ফালতু রাজনৈতিক মশকারা বানাতেন না সমাজসচেতন কোনো নেতা। এটা বলার আগে তাঁর একবারও মনে হলো না, অন্তত ইভ টিজিং সমূলে ধ্বংসের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ-বিএনপির হাত মেলানো উচিত ছিল। কেতাবি গণতন্ত্রীরা অভ্যাসবশত এটা আশা করলেও আমরা জানি, জাতির সুখ-দুঃখের কোনো বিষয়ে একমত হওয়া বা থাকা এই দুটি দলের জন্য সম্ভব নয়।

প্রথমে বিএনপির কথা ধরা যাক। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শত্রুরা, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিপক্ষে ছিল, ১৯৭৫ সালে তারা একজোট হয়ে বঙ্গবন্ধু এবং শীর্ষ নেতাদের হত্যা করে বাংলাদেশ দখল করে এবং কালবিলম্ব না করে গোপনে রাষ্ট্রটির চরিত্র বদলে এটাকে পাকিস্তানি ধারায় ফিরিয়ে দেয়। এই পরিবর্তন চিরস্থায়ী করার জন্য ষড়যন্ত্রকারীদের একটি রাজনৈতিক হাতিয়ার প্রয়োজন হয়ে পড়লে বিএনপির জন্ম হয়। বলা বাহুল্য, সেই সময় জনগণের মাঝে জামায়াতে ইসলামীর গ্রহণযোগ্যতা থাকলে বিএনপির হয়তো জন্মই হতো না। যাহোক, মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতা ধ্বংসই যাদের একমাত্র লক্ষ্য, আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করাও তাদের দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত ছিল।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগ জানত, সুযোগ পেলে বিএনপি তাদের ধ্বংস করবে। এ কাজটি তারা করে উঠতে পারছিল না গণতন্ত্রের মুখোশ পরে থাকায় এবং আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া-ভীতির কারণে। তার পরও শেষ পর্যন্ত গেরিলা কায়দায় বোমা হামলা চালিয়ে শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের হত্যার চেষ্টা করে স্বাধীনতাবিরোধীরা। বস্তুত বাঙালি জাতীয়তাবাদ এবং মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে জামায়াত-বিএনপির অবিরাম ষড়যন্ত্র ও শত্রুতা এবং তা প্রতিরোধে পরিচালিত আওয়ামী লীগের মরিয়া সংগ্রাম স্বাধীনতার পরদিন থেকেই বাংলাদেশের মানুষের বাঁচার পরিবেশকে সংঘাতময়, হতাশাগ্রস্ত, অস্থির ও অসহনীয় করে রেখেছে। মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন ঐতিহাসিক বাঙালি সমাজ ভেঙে খান খান হয়ে গেল। রাষ্ট্র ও সমাজের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল। সমাজের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তি থেকে বস্তির নিঃস্ব ব্যক্তি পর্যন্ত যে কেউ যখন খুশি আইন হাতে নেওয়ার ক্ষমতা অর্জন করে ফেলল। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তাজুল ইসলাম ছয়টি সন্তানসহ বিরজাবালাকে কেটে টুকরা টুকরা করে তাতে লবণ মিশিয়ে ড্রামে ভরে বিলের নিচে পুঁতে রেখেছিল। সংস্কৃতি চলে গেল বলিউড, মধ্যপ্রাচ্য ও ইয়াংকি মুলুকে, শিক্ষা চলে গেল হুজুরদের জুব্বার নিচে মক্তব-মাদ্রাসায়, ব্যবসা চলে গেল কালোবাজারে এবং মুক্তবাজার বিদেশিদের হাতে। ক্ষমতা রূপ নিল দখলদারিত্বে। পত্রিকার হেডলাইন পেতে লাগল সন্ত্রাসী ও ভাড়াটে খুনিরা। দুর্নীতির আন্তবিভাগীয় প্রতিযোগিতা চলল রাজনীতিতে, প্রশাসনে, পুলিশে, শিক্ষা ক্ষেত্রে, কাস্টমসে, ইনকাম ট্যাঙ্_েকোথায় নয়। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ দুর্নীতিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন রইল বেশ কয়েক বছর। যেখানে সভ্যতাবিরোধী পরিবেশে রাজাকার-আলবদররা দেশের মন্ত্রী হতে পারে, খুনের বিচার হয় না, খুনিকে পুরস্কৃত করা হয়, সেখানে অল্প বয়সী অর্থ-অস্ত্র-উন্মাদ, ড্যাম কেয়ার বন্য তরুণটির ইভ টিজার হওয়াটাই তো একটা বাহাদুরি ছিল।

ইভ টিজিং_এসিড নিক্ষেপ, গুম, জোড়া খুন, সিরিয়াল কিলিং, নাবালিকা ধর্ষণ, গণধর্ষণ, টেন্ডারবাজি, দখলবাজি, অগি্নসংযোগ, ভাড়ায় খুন প্রভৃতির মতো একটি অপরাধ। একটি নষ্ট সমাজে কোনো একটি অপরাধকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। আমাদের সব নষ্টের উৎস নষ্ট রাজনীতি। আর এই নষ্ট রাজনীতি উপহার দিয়েছে আওয়ামী লীগ-বিএনপি।

বাংলাদেশ নষ্ট করার মিশন নিয়ে যেহেতু বিএনপির জন্ম, সেহেতু বাঙালির সমাজ ও সংস্কৃতির সবকিছু নষ্ট করাই তার লক্ষ্য। এ ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের প্রধান দোষ গণতন্ত্রের মুখোশ পরা বিএনপি-জামায়াতকে প্রথম দিন থেকেই প্রতিহত না করে প্রতিষ্ঠার সুযোগ করে দেওয়া। যে জনগণ একাত্তরের নির্বিচারে হত্যা ও ধ্বংসের শিকার হয়েও স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রেরণা জুগিয়েছে, দেশের ঘোর বিপদের দিনে জনগণের নিজ সংগঠন আওয়ামী লীগ তাদেরই ডাকল না। তারা দেশের অসমাপ্ত মুক্তিযুদ্ধ ভুলে গিয়ে ক্ষমতা ভোগের রাজনীতিতে আসক্ত হয়ে পড়ল। বিএনপি আমাদের সংবিধানের অসাম্প্রদায়িক চরিত্র নষ্ট করল, আওয়ামী লীগ এর প্রতি নীরব সমর্থন জানাল। অনেকে বলাবলি শুরু করে, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। আওয়ামী লীগ-বিএনপির অসহযোগিতামূলক বন্ধুত্ব তিন দশক ধরে বাংলাদেশকে দুর্নীতি ও সাম্প্রদায়িকতার আঁস্তাকুড় বানালে আমাদের বহু যুগের লালিত সব স্বপ্ন ও আদর্শ তিরোহিত হয়। সংক্ষেপে এই হচ্ছে স্বাধীনতার পর থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত আমাদের পচা অতীতের আরণ্যক সমাজের গন্ধ ব্যবচ্ছেদ। এই সময়ে মেয়েদের উত্ত্যক্ত করার ‘প্রতিকারহীন’ অসভ্য শক্তি ডাকাতির মতো একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়।

ঘোর বর্ষায় একটানা মেঘ-বৃষ্টির পর একটা ঝলমলে দিনের মতো আশা, উদ্দীপনা এবং প্রেরণা নিয়ে আওয়ামী লীগের নবযাত্রা শুরু হয়েছে ২০০৮ সালে। এই প্রথম জনগণ ২০২১ সালে পেঁৗছানোর জন্য একটি গন্তব্যের ঠিকানা পেল, পেল পথের দিশা ডিজিটাল বাংলাদেশ। পরিচ্ছন্ন মানুষদের নিয়ে মন্ত্রিসভা গঠন, বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার, কৃষি ও কৃষকদের মধ্যে প্রাণ সঞ্চারণ, বন্ধ্যা শিক্ষা ব্যবস্থাকে (ইভ টিজিংয়ের অন্যতম কারণ) ঝাঁকি দিয়ে জাগানো, পার্লামেন্ট চালু রাখা, সংকট ও জাতীয় সমস্যাগুলো সমাধানে আন্তরিক চেষ্টা_এ রকম অসংখ্য উদ্যোগ জনগণের চোখে পড়েছে। সরকারের প্রতি জনগণের সমর্থন ও আস্থা দৃঢ়। কিন্তু তার পরও একটি জাগ্রত জনতার দেশের মতো গতিশীল, স্বতঃস্ফূর্ত ও প্রাণবন্ত পরিবেশ নেই বাংলাদেশে। একটি কারণ হয়তো রাজনৈতিক লক্ষ্যহারা বিএনপির ভাড়াটে নেতাদের দিন-রাত ‘বাঘ পড়েছে’, ‘বাঘ পড়েছে’ বলে চিৎকার করে জনগণকে সন্ত্রস্ত রাখা। এটি অবশ্য ধর্তব্যের মধ্যে পড়ে না কারণ কোকো-তারেক-মামুন-বাবর আর হাওয়া ভবন বিএনপিকে যে কফিনে শুইয়েছিল, তাতে পেরেক ঠুকে দিয়েছে খালেদা জিয়ার বাড়ি রক্ষা আন্দোলন। বিএনপি কখনো জনকল্যাণমুখী রাজনৈতিক দল ছিল না, তবে জমিদারের লাঠিয়াল বাহিনী হওয়ার মতো এমন ন্যক্কারজনক অবস্থায় আগে কখনো পড়েনি। সরকারকে সমর্থন করা সত্ত্বেও জনগণ কেন সক্রিয়ভাবে সমাজ গঠনে এগিয়ে আসছে না, এটিই হওয়া উচিত রাজনৈতিক নেতৃত্বের মূল ভাবনা। কারণ এতকালের নষ্ট সমাজ ডিজিটাল বাংলাদেশ ধারণ করার অনুপযোগী।

সমাজ এখনো জেগে না ওঠার কারণ, চেতনার ক্ষেত্রে সরকার ও দলের মধ্যে যোজন যোজন মাইল দূরত্ব রয়েছে। সরকার যেখানে ডিজিটাল যুগে প্রবেশ করেছে, দল সেখানে পচা অতীতের ক্ষমতা দখল রাজনীতির ফেনসিডিল নেশা থেকে বেরিয়ে আসতে পারছে না। সরকার যেখানে নদী উদ্ধার, ভূমি উদ্ধার, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ইত্যাদি চাচ্ছে, দল সেখানে নদী দখল, চর দখল, ভূমি দখল, বাড়ি দখল, চাকরি দখল, টেন্ডার দখল ইত্যাদি খাই খাই রোগে আক্রান্ত। জনগণ দলকে চেনে, সরকার চেনে না। তাই তো তারা ধরি মাছ না ছুঁই পানি অবস্থায় রয়েছে। স্বাধীনতার স্বপ্ন বাস্তবায়নে দলকে ছাড়িয়ে জনগণের কাছে যাওয়ার যে শর্ত গতিশীলতা, যোগ্যতা ও ধনুকভাঙ্গা পণ, তার প্রতিবন্ধতা হচ্ছে, প্রশাসনের মস্তিষ্কে বড় হওয়া আমলাতন্ত্রের টিউমার।

সমাজ ন্যায়-নীতির মাঝে গতিশীল ও কর্মময় না হয়ে ওঠার সবচেয়ে বড় কারণ জনগণ কর্তৃক পার্লামেন্টে পাঠানো তাদের ৩০০ নেতা নিজেরাই এখনো বুঝে উঠতে পারছেন না ডিজিটাল ম্যানেজমেন্ট কী এবং কেন তা একেবারেই অপরিহার্য। অথচ নতুন সমাজ গঠনের বিপ্লবে নেতৃত্ব দিতে হলে প্রথম সারিতে দাঁড়াতে হবে তাঁদেরকেই।

নতুন সমাজ গঠনে জনজোয়ার এলে ‘ইভ টিজিং’ খড়কুটোর মতো ভেসে যাবে, ভেসে যাবে ফালতু রাজনীতির পচা অতীত।
লেখক : নিউইয়র্ক প্রবাসী সাংবাদিক

মিডিয়ার উৎকট বিভাজন ও একটি মন্তব্য প্রতিবেদন


মিডিয়ার উৎকট বিভাজন ও একটি মন্তব্য প্রতিবেদন
সাকিব ফারহান

Bangladesh Media

বাংলাদেশ মিডিয়া



৩ নভেম্বর বুধবার নয়া দিগন্তের প্রথম পাতার সংবাদ শিরোণামগুলো যথাক্রমে, ট্রানজিটে শুল্ক নেয়া সম্ভব নয়, জেলহত্যা দিবস আজ, ১৯৫ পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধীকে ফেরত আনা নিয়ে হাইকোর্টের বিভক্ত আদেশ, খালেদা জিয়ার অফিসের সামনে হঠাৎ পুলিশ র‌্যাবের অবস্থান, সরকারের উচিৎ মধ্যবর্তী নির্বাচন দিয়ে জনপ্রিয়তা যাচাই করা: খালেদা জিয়া, বিএনপি মধ্যবর্তী নির্বাচন চাইতেই পারে: জাপা, মধ্যবর্তী নির্বাচন চাইলে সংসদে অনাস্থা প্রস্তাব আনুন: আশরাফ, বাংলাদেশে আল্লাহর প্রতি আস্থার মূলনীতি বাতিল ও ইসলামি ব্যক্তিত্বদের বিচারের অপচেষ্টার উদ্বেগ।

ট্রানজিট নিয়ে অর্থমন্ত্রীর দেয়া বক্তব্যকে কোড করে পত্রিকাটি প্রধান শিরোণাম করেছে। ভিন্ন শিরোণামে খবরটি প্রধান শিরোণাম করেছে প্রথম আলো ও আমার দেশ। অন্যদিকে ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, যুগান্তর, সমকালে খবরটি দেয়া হয়েছে একেবারেই লো প্রোফাইল করে। নয়া দিগন্তের প্রথম পাতায় প্রকাশিত পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধী এবং ইসলামি ব্যক্তিত্বদের বিচারের অপচেষ্টা শিরোণামে খবর দুটি অন্য কোনো পত্রিকার প্রথম পাতায় দেখা যায়নি।

প্রথম খবরটিতে নয়া দিগন্ত লিখেছে, ১৯৭৪ সালে ড. কামাল হোসেন স্বাক্ষরিত ত্রিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে ১৯৫ জন চিহ্নিত পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধীকে ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সেক্টর কমান্ডার উইং কমান্ডার হামিদুল্লাহ খানের রিট আবেদনের ওপর দ্বিধাবিভক্ত আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মোহাম্মদ আনোয়ারুল হক রিট আবেদনটি খারিজ করে দেন। অন্য বিচারপতি সৈয়দ আবু কাওসার ১৯৫ জন পাকিস্তানি সেনা সদস্যকে ছেড়ে দেয়া এবং তাদের ফেরত এনে বিচারের মুখোমুখি করার কেন নির্দেশ দেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুলনিশি জারি করেছেন। দুই বিচারপতি পৃথক রায় দেয়ায় প্রধান বিচারপতি এটিকে তৃতীয় বিচারপতির বেঞ্চে পাঠাবেন।

অন্য খবরটিতে নয়া দিগন্ত বলেছে, বিশ্বের ২১ টিরও বেশি দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম ও ইসলামি ব্যক্তিত্বের প্রতিনিধিত্বকারি সংগঠন ইত্তেহাদুল ওলামার বার্ষিক সম্মেলনে বাংলাদেশে আল্লাহর প্রতি আস্থার মূলনীতি সংবলিত পঞ্চম সংশোধনী বাতিল এবং শীর্ষ আলেম ও ইসলামি ব্যক্তিত্বদের তথাকথিত যুদ্ধাপরাধী নাম দিয়ে বিচারের অপচেষ্টায় গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা প্রকাশ করা হয়েছে। সম্মেলনে বাংলাদেশের পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শনের জন্য ইত্তেহাদুল ওলামার একটি টিম ঢাকা সফর করা এবং পরিস্থিতি নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। গত ৩০ অক্টোবর কাতারের রাজধানী দোহায় ইত্তেহাদুল ওলামার এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। দোহা সংবাদদাতার বরাত দিয়ে পত্রিকাটি এ খবরটি প্রকাশ করেছে।

যুগান্তর এদিন প্রধান শিরোণাম করেছে ‘খালেদার গুলশান কার্যালয় র‌্যাব-পুলিশের ঘেরাও’। এটি অন্যান্য পত্রিকার এক কলাম সংবাদ। পত্রিকাটি আওয়ামীলীগের ধামাধরা বলেই পরিচিত কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সরকারবিরোধী অবস্থানকে বেশি করে তুলে ধরছে। তার প্রমান অন্যান্য পত্রিকার এক কলাম সংবাদটিকে টেনে হিচড়ে ৫ কলাম করে প্রধান শিরোণাম করা। পত্রিকাটির আগের পলিসি ভারত তোষণে সেক্ষেত্রে কোন হেরফের হয়নি। ভারতকে বেপরোয়া সমর্থনদানের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন সরকারকে ঘায়েল করা হচ্ছে পত্রিকাটির বর্তমান নীতি। চট্টগ্রামের মেয়রকে যুবলীগ অবরুদ্ধ করে রাখে। এখবরটিও তারা বেশ হাইলাইট করেছে।

খবরে প্রকাশ চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র মনজুর আলমকে তুচ্ছ কারণে লাঞ্ছিত করেছে স্থানীয় যুবলীগ। ঘটনার সূত্রপাত হয় সিটি করপোরেশন অবৈধ বিল বোর্ড উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে। মঙ্গলবার দুপুরে সিটি করপোরেশনের ম্যাজিস্ট্রেট ষোলশহর দুই নম্বর গেট এলাকায় স্থাপিত ছয়টি বিল বোর্ড উচ্ছেদ করে। যারা আইনবিরোধী কাজ করেছে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের ব্যবস্থা নেয়ার কথা। এর পরিবর্তে কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে উল্টো দেখা গেল অবৈধ কর্মকান্ডের হোতাদের তান্ডব। বিকেলে নগর যুবলীগ নেতা মহিউদ্দিন বাচ্চুর নেতৃত্বে চিটাগাং আউটডোর অ্যাডভার্টাইজিং ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন নামক সংগঠনের নেতাকর্মী পরিচয়ে অর্ধশত যুবক সিটি করপোরেশন ভবনে গিয়ে তৃতীয় তলায় ম্যাজিস্ট্রেটের কক্ষে জোরপুর্বক ঢুকে পড়ে। তারা ম্যাজিস্ট্রেটের সাথে বাগবিতণ্ডায় লিপ্ত হয়। এক পর্যায়ে তারা ম্যাজিস্ট্রেটের চেয়ার ছুড়ে ফেলে। তাৎক্ষনিক অপরাধ দমনে পুলিশি একশন দেখা গেল না। বরং যুবলীগ নামধারি সন্ত্রাসিরা স্বয়ং মেয়রকে লাঞ্ছিত করার জন্য নির্বিগ্নে এগিয়ে গেল। সরকারি দলের নেতাকর্মী হলে যত অপরাধই করা হোক না পার পাওয়া যায়। বিষয়টি একটি রাজনৈতিক দলের কর্মীদের অপরাধ প্রবনতায় বরং উৎসাহিত করছে। এর পরিণাম অবশ্যই ভয়াবহ হবে। আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, খুন খারাবি ও ইভটিজিং লাগামহীনভাবে বেড়ে চলার সাথে এর সংযোগ নেই এটা কেউ বলতে পারবে না। নিরাপরাধ নয়; অপরাধিদের বিরুদ্ধে পুলিশ সক্রিয় হোক এটা সবার প্রত্যাশা ।

এদিন প্রথম আলোর ২৫ নম্বর পাতায় ‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও দায়বদ্ধতা’ শিরোণামে একটি গোল টেবিল আয়োজনের ছবি ও বিস্তারিত প্রতিবেদন দেখা যায়। অংশগ্রহণকারিদের বক্তব্য ব্যাপক বিস্তৃত করে দেয়া হয়। ২৫ নম্বর পৃষ্টার পর এটি ২৬ ও ২৭ নম্বর পৃষ্টাব্যাপী বিস্তৃত হয়। অংশগ্রহণকারিদের তালিকায় যুগান্তর এবং এবং কালের কণ্ঠ সংশ্লিষ্টদের কাউকে দেখা যায়নি। অংশগ্রহণকারিদের মধ্যে নয়া দিগন্তের সম্পাদকও ছিলেন। উল্লেখ্য প্রথম আলোর আলপিন ম্যাগাজিনে ইসলাম ধর্মের নবীকে কটাক্ষ করা হলে এর সমালোচনা করে নয়া দিগন্তে সরস একটি কলাম লিখেছিলেন আমার দেশের সম্পাদক বর্তমানে কারান্তরীন মাহমুদুর রহমান। বিষয়টিকে সহজভাবে নেয়নি প্রথম আলো। যতটুকুর খবর পাওয়া যায় প্রথম আলো কোনো ব্যাপারে নয়া দিগন্তের সংস্পর্শে আসতে চায় না। কালের কণ্ঠ, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ডেইলি সান ও যুগান্তরের কাউকে ওই অনুষ্ঠানে (সম্ভবত) দাওয়াত না করে নয়া দিগন্তের সম্পাদককে আমন্ত্রণ জানানোর মধ্যে তাৎপর্য রয়েছে। প্রথম আলো আহমদ আকবর সোবহানের যে আগ্রাসনের মুখে পড়েছে তা মোকাবেলা করার জন্য গনমাধ্যমের সকল পক্ষকে নিজেদের পক্ষ নিতে চাইছে। যুগান্তরের মালিক নুরুল ইসলাম বাবুলকে দেখা যাচ্ছে আহমদ আকবর সোবহানের সঙ্গে গাটছাড়া বাধতে। এরমধ্যে বসুন্ধরা যুমনা যৌথভাবে জমি ব্যবসা শুরু করছে। পত্রিকা দুটি একটি যায়গায় দারুন মিল। উভয় পত্রিকাই ভারতীয় স্বার্থে একই ধরনের আচরন করছে। অন্যদিকে বাংলাদেশের রাজনীতির প্রশ্নে একটি অন্ধ সরকার সমর্থক অন্যটি বর্তমানে ঘোরতর সরকার সমালোচক। এর মধ্যে গুরুত্বপর্ণ মেসেজ রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ওবামা ও তার দল ডেমক্রেটদের ভরাডুবি হয়েছে। খবরটি বাংলাদেশী পত্রিকায় অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে ছেপেছে। ইত্তেফাক, নয়া দিগন্ত, সমকাল, কালের কণ্ঠ এ খবরকে প্রধান শিরোণাম করেছে। প্রথম আলোর এক যুগপুর্তির কারণে নিজেদের খবরটি শীষ সংবাদ করেছে তবে দ্বিতীয় প্রধান শিরোণাম করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন।

ইত্তেফাক লিখেছে, মনে আশার আলো জাগিয়ে সাধারণ মানুষকে আশাহত করলে তার ফল কি হয় সেটা হাড়ে হাড়ে টের পেলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক হোসেন ওবামা। আমরা পরিবর্তনে বিশ্বাস করি, নতুন আমেরিকা গড়তে হলে পুরাতন জঞ্জাল সাফ করার বিকল্প নেই। এজন্য চাই ‘চেঞ্জ’। মার্কিনীরা ওবামার পেতে রাখা এই টোপ গিলেছিল। ২০০৮ সালের নির্বাচনে দেশটির জনগন তাকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করেছিল। কিন্তু যে পরিবর্তনের লোভ তাদের দেখানো হয়েছিল, তা আসেনি। পত্রিকাটি এর পরেই আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল তুলে ধরে। খবরের শুরুটা যেভাবে করেছে সেটাকে মন্তব্যই বলা যায়। একই সময়ে বাংলাদেশের নির্বাচনেও একই ধরনের প্রচারনা চালিয়ে বর্তমান মহাজোট সরকার বিপুলভাবে জয়ী হয়। পত্রিকাটি আমেরিকায় ডেমক্রেটদের পরাজয়ে কারণকে হাইলাইট করলেও বাংলাদেশের মহাজোট সরকারের ব্যাপারে কিছু বলেনি। তবে এ প্রতিবেদনের মাধ্যমে তারা যেনো পরোক্ষভাবে সরকারকে এ থেকে শিক্ষা নিতে বলছে। মনে হচ্ছে একই কারনে তারা খবরটি প্রধান শিরোণাম করেছে। এ নির্বাচনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত জনৈক হাসেম ক্লার্ক প্রতিনিধি পরিষদে নির্বাচিত হয়েছেন। এ খবরটি সব পত্রিকায় এসেছে।

প্রথম আলোর যুগপুর্তির দিন অবাক করে দিয়ে কালের কণ্ঠের সম্পাদক আবেদ খান নিজ পত্রিকায় একটি মন্তব্য প্রতিবেদন লিখেছেন। সেখানে তিনি প্রথম আলোর পক্ষে কয়েকটি কথা বলেছেন। তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে প্রথম আলো সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে কাজ করেছে। বাংলাদেশের সাংবাদিকতা জগতে এ ধরনের দায়বদ্ধতা প্রথম বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি ইত্তেফাকসহ ব্রিটিশ, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের ইতিহাসে অনেকগুলো পত্রিকার নাম নেন যারা সংবাদমাধ্যম জগতে প্রভাবশালী হয়ে এ ধরনের সামাজিক দায়িত্ব পালন করতে পারেনি। মতিউর রহমানের সঙ্গে তার দীর্ঘ আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে বলে বার বার উল্লেখ করেন আবেদ খান। আহমদ আকবর সোবহানের পত্রিকায় এ ধরনের মন্তব্য প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে তা অবিশ্বাস্য। বিশেষ করে পত্রিকাটি যেখানে উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলার সঙ্গে বার বার মতিউর রহমানের সংশ্লিষ্টতা প্রমানের চেষ্টা করছে। প্রতিবেদনের শেষে আবেদ খান একটি ইংরেজি উদ্বৃতি দেন। তার অর্থ করলে দাড়ায়, কেউ সেতুর বদলে প্রাচীর রচনা করে নিঃসঙ্গ হলে অভিযোগ করার অধিকারটিও সে হারায়।