ভারতে জমে উঠছে স্থূলতা কমানোর ব্যবসা


প্রকাশ : ২৩ মে, ২০১৩
–New with DIV——–


ভারতে জমে উঠছে স্থূলতা কমানোর ব্যবসা

গড়ে প্রতি বছর ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির কল্যাণে ভারতে অতি ক্ষুধার্তের হার কমেছে। বিপরীতে বেড়েছে অতিরিক্ত ওজন ও স্থূল মানুষের সংখ্যা। এ কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে এখন ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের মতো জীবনক্ষয়ী রোগ ছড়িয়ে পড়ছে।

বণিক বার্তা ডেস্ক

গড়ে প্রতি বছর ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির কল্যাণে ভারতে অতি ক্ষুধার্তের হার কমেছে। বিপরীতে বেড়েছে অতিরিক্ত ওজন ও স্থূল মানুষের সংখ্যা। এ কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে এখন ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের মতো জীবনক্ষয়ী রোগ ছড়িয়ে পড়ছে। তাই স্থূলতা কমাতে ভারতীয়রা অস্ত্র্রোপচারে গুরুত্ব দিচ্ছে। স্থূলতা বেড়ে যাওয়ায় অবিসিটি সার্জারি (স্থূলতা হ্রাসের অস্ত্রোপচার) দেশটির অন্যতম ব্যবসা হয়ে উঠেছে। লন্ডনের বাজার গবেষণাবিষয়ক প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ডাটার সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এ তথ্য পাওয়া যায়। খবর ইকোনমিক টাইমসের।

গবেষণায় বলা হয়, নয়াদিল্লি ও মুম্বাইয়ের মতো শহরে এখন হালকা পাতলা গড়নের চেয়ে অপেক্ষাকৃত মোটা নারীদের সংখ্যাই বেশি চোখে পড়ে। ২০০৯ সালে চেন্নাইয়ের একটি বস্তিতে জরিপ চালিয়ে দেখা যায়, এখানে প্রতি তিনজন নারীর দুজনই স্থূল সমস্যায় রয়েছেন।

দেশটির ৬৩ মিলিয়ন নাগরিক এখন ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের মতো সমস্যায় ভুগছে। এ কারণে এসব রোগী স্থূলতা কমাতে চাইছে। এজন্য তারা অবিসিটি সার্জারির দ্বারস্থ হচ্ছে। এ ধারাকে চালিয়ে নিতে ভারতের ২৫০টি হাসপাতালে ৪০০ সার্জন পেটের চর্বি কমানোর মতো অস্ত্রোপচারের কাজে নিয়োজিত আছেন।

এর ফলে ভারত বিশ্বের ১২০ কোটি ডলারের বেরিয়াট্রিক ডিভাইসের (স্থূলতা কমানো ও নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যবহূত বিভিন্ন উপাদান) একটি উদীয়মান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এরই মধ্যে ভারতে টিটানিয়াম স্টমাক স্ট্যাপল সরবরাহে জনসন অ্যান্ড জনসনের সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে আয়ারল্যান্ডের কভিডেইন পিএলসি। এর মাধ্যমে চলতি বছর ভারতে স্থূলতা অস্ত্রোপচার দ্বিগুণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে এ বছর ১০ হাজার অস্ত্রোপচার হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

গ্লোবালডাটার তথ্যানুযায়ী, ২০১১ সালে বিশ্ব বেরিয়াট্রিক সার্জারি ডিভাইস বাজারে জনসন অ্যান্ড জনসনের শাখা ইথিকন এন্ডো-সার্জারি ইনকরপোরেশনের শেয়ার ছিল ২৪ শতাংশ। এ সময় কভিডেইনের ছিল ২১ শতাংশ, অ্যালারগান ইনকরপোরেশনের ছিল ১৬ শতাংশ।
কভিডেইনের ভারত বিভাগের প্রধান মার্ক রনেই জানান, ‘বেরিয়াট্রিক সার্জারিতে সহায়তা করে ভারতে এমন পণ্যের চাহিদা বাড়ছে, যা আমাদের ব্যবসা সম্প্রসারিত করছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘ভারতে মোট জনসংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশই ১ ডলারের কমে তাদের দৈনন্দিন জীবন নির্বাহ করে। এসব নাগরিক তাদের সুগার নিয়ন্ত্রণ ও অন্যান্য রোগের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ ব্যয় করতে পারে না। এক্ষেত্রে তাদের এ ধরনের চিকিত্সা দেয়া যায়। কারণ আমরা জানি, স্বল্পমূল্যে এটি অনেক ভালো একটি সেবা, যা ভারতের প্রত্যেক নাগরিকই বহন করতে পারবে।’

মুম্বাইয়ের বেসরকারি হাসপাতাল নোভা স্পেশালিটি সার্জারির সার্জন রামেন গোয়েল জানান, এ কোম্পানিগুলো এখন ভালো ব্যবসা করছে। তারা ব্যবসার জন্য এখন ভারতকে অন্যতম লক্ষ্যে পরিণত করেছে। সার্জারির মাধ্যমে এখন ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। শুধু শরীরচর্চার মাধ্যমেই এসব রোগীর স্বাস্থ্য ভালো হবে না। এটি কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

গ্লোবালডাটা জানায়, স্ট্যাপল, স্ট্যাপল গানস ও এ ধরনের অস্ত্রোপচারে ব্যবহূত অন্য উপকরণগুলোর আন্তর্জাতিক বাজার চলতি বছর ৯ দশমিক ৭ শতাংশ বাড়বে। ২০১৮ সাল নাগাদ তা বেড়ে ২৩০ কোটি ডলার হবে।

বিশ্বে স্থূলতা নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে বেশি অস্ত্রোপচার করা হয় যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটির দুই-তৃতীয়াংশ পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তিই অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতার মতো সমস্যায় রয়েছে। দ্য আমেরিকান সোসাইটি ফর মেটাবলিক অ্যান্ড বেরিয়েট্রিক সার্জারির হিসাব অনুযায়ী, ২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রে দুই লাখ ২০ হাজার এ ধরনের অস্ত্রোপচার করা হয়।

ওজন কমানোর অস্ত্রোপচার করলে ডায়াবেটিসসহ স্থূলতাসংশ্লিষ্ট অন্যান্য রোগ দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা যায়— এমন প্রমাণ পাওয়ার পরই এ ধরনের চিকিত্সার জনপ্রিয়তা বাড়ছে। গ্যাস্ট্রিক সার্জারির মাধ্যমে পেটের আকার কমিয়ে আনা হয় এবং ক্যালরি বাড়তে দেয়া না, যার সহায়তায় ওজন কমে যায়। এছাড়া এ ধরনের অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কিছু কিছু পরিবর্তনের মাধ্যমে মানব শরীরের সহায়তাকারী ব্যাক্টেরিয়াগুলোকে অন্ত্রে থাকার সুযোগ করে দেয়া হয়, যা ওজন কমাতে সহায়তা করে। গত মার্চে প্রকাশিত হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির এক গবেষণায় এ তথ্য পাওয়া যায়। শুধু যুক্তরাষ্ট্রের মতো ধনী নয়, উদীয়মান দেশেও এ ধরনের চিকিত্সার জনপ্রিয়তা বাড়ছে। নিম্ন ও মাঝারি আয়ের দেশগুলোয় ছোঁয়াচে ও অপুষ্টিজনিত রোগের হার বেড়ে যাচ্ছে। ফলে এসব দেশের নাগরিকদের স্থূলতার মতো ঝুঁকি বাড়ছে, যাকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ‘দ্বিগুণ বোঝা’ বলে উল্লেখ করেছে। এসব দেশ আধুনিকীকরণের মতো কার্যক্রম শুরুর পরই এ ধরনের সমস্যা বেশি হচ্ছে।

নয়াদিল্লিতে অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সাইন্সেসের অধ্যাপক জানান, সত্যিকারের শিল্পায়িত দেশগুলো এখন এ ধরনের সমস্যায় রয়েছে। ভারতে ২০ বছর ধরে এ সমস্যা চলছে।

ক্যালিফোর্নিয়ায় ফ্রস্ট অ্যান্ড সুলিভিয়ানের শিল্প বিশ্লেষক আরতি শেঠী জানান, গত দুই দশকে ভারতে স্থূল লোকের সংখ্যা ‘নাটকীয়ভাবে বেড়েছে।’ ফলে দেশটিতে স্থূলতা অস্ত্রোপচার বাজারের প্রবৃদ্ধিও বেড়ে চলছে।

কম খেলেই ওজন কমে না


কম খেলেই ওজন কমে না

August 6, 2012

কম করে খেলে কি সত্যিই ওজন কমে যায়? এমন কোনো কথা নেই যে কম খেলেই আপনার ওজন কমে যাবে। ওজন কমানোর ড়্গেত্রে অনেক ধারণা প্রচলিত আছে এবং তা ব্যাপকভাবে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রচলিত। কিন্তু এসব প্রচলিত ধারণা সব সময় ঠিক হবে, তা কিন্তু নয়। যেমন ধরুন, আমাদের মধ্যে একটি ধারণা আছে, তেল, মাখন বা ঘি ইত্যাদি ফ্যাট বা চর্বিজাতীয় খাবার কম খেলে বা খাওয়া বন্ধ করে দিলে আমাদের ওজন কমে যায় বা কম হতে পারে। আপাতদৃষ্টিতে দেখলে কথাটা সত্যি বলে মনে হয়। কারণ সবাই জানে, অত্যধিক চর্বিজাতীয় খাদ্য শরীরে চর্বির পরিমাণ বাড়িয়ে দিয়ে মোটা করে তোলে। তাই আমাদের স্বাভাবিক ধারণা, চর্বিজাতীয় খাবার কম খেলে আমাদের ওজন ঠিক থাকে বা ওজন কমে যায়। কিন্তু আপনি কি জানেন, একটি সমীড়্গায় জানা গেছে, আমরা যতটা সাধারণ ভাবছি ব্যাপারটা মোটেই ততটা সাধারণ নয়। চর্বি নয়, মোটা না হতে চাইলে বা আপনার শরীর থেকে চর্বি কমাতে চাইলে দেখা দরকার আপনি যত ক্যালোরি খাবারের মাধ্যমে গ্রহণ করছেন তার পরিমাণ ঠিক কিনা। অর্থাৎ আপনার দৈনন্দিন খাদ্যতালিকাতে ক্যালোরির মাত্রা ঠিক রাখা প্রয়োজন। কিছু ড়্গেত্রে অবশ্য ফ্যাটের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখার সঙ্গে সঙ্গে ক্যালোরির মাত্রাও কম হয়ে যায়। কিন্তু চর্বিজাতীয় খাদ্যের পরিমাণ কমানোর ড়্গেত্রে একটি অসুবিধা দেখা যায়। কারণ অধিকাংশ চর্বিজাতীয় খাবারে প্রচুর পরিমাণ প্রোটিন থাকে। অর্থাৎ এই জাতীয় খাবার খাওয়ার পর বেশ কিছু সময় পেট ভরা আছে বলে মনে হয়। আর আপনি বেশি খাবার খাওয়া থেকে বেঁচে যান। সেইসঙ্গে বেশি ক্যালোরি গ্রহণ করা থেকেও বেঁচে যান। এবার হয়তো ক্যালোরি কম করার জন্য চর্বিজাতীয় খাবার খাওয়া বন্ধ করে দিলেন, তার ফলে প্রোটিন গ্রহণের মাত্রাও কম হয়ে গেল, তখন আপনার কিছুড়্গণের মধ্যেই খিদে পেয়ে গেল। সেড়্গেত্রে না চাইলেও কিছু না কিছু আপনি খাবেন। এর দ্বারা হতে পারে আরও বেশি ক্যালোরি গ্রহণ করতে শুরু করলেন। তাই ওজন কম করার ড়্গেত্রে শুধু চর্বিজাতীয় খাদ্য গ্রহণ বন্ধ করার প্রবণতা ওজন কমানোর বদলে তা বাড়িয়েও তুলতে পারে। চরে আপনার খাদ্য তালিকায় ক্যালোরির মাত্রা ঠিক রাখার ব্যবস্থা করুন।