লস এঞ্জেলেসে ষ্টেট আওয়ামী লীগের ইফতার ও সজীব ওয়াজেদ জয়ের জন্মদিন উদযাপন


লস এঞ্জেলেসে ষ্টেট আওয়ামী লীগের ইফতার ও সজীব ওয়াজেদ জয়ের জন্মদিন উদযাপন

একুশ নিউজ মিডিয়া,লস এঞ্জেলেস, ২৭ জুলাই :
লস এঞ্জেলেসে ইফতার সন্ধ্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একমাত্র ছেলে তথ্য-প্রযুক্তিবিদ সজীব ওয়াজেদ জয়ের ৪২তম শুভ জন্মদিন উপলক্ষে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
লস এঞ্জেলেসে সজীব ওয়াজেদ জয়ের জন্মদিন উদযাপন
ক্যালিফোর্ণিয়া ষ্টেট আওয়ামী লীগের উদ্যোগে গত শনিবার লস এঞ্জেলেসের অলিম্পিক পুলিশ ষ্টেশন কম্যুনিটি সেন্টারে ইফতার মাহফিলে দোয়া ও মুনাজাত পরিচালনা করেন মিয়া আবদুর রব। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দৌহিত্র ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একমাত্র ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে দোয়া করা হয়। অনুষ্ঠানে দোয়ায় বঙ্গবন্ধু পরিবারের অন্যান্য সদস্যের সুস্থতা ও সাফল্য কামনা করা হয়।

ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নে নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বের দুয়ার প্রসারিত করার লক্ষ্যে আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহারের কোন বিকল্প নাই, আর সেই সন্ধিক্ষণে সজীব ওয়াজেদ জয়ের অগ্রযাত্রাকে সুযোগ দিতে প্রবাসীসহ দেশবাসীকে আহ্বান জানান ক্যালিফোর্ণিয়া ষ্টেট আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ডাঃ রবি আলম।

ষ্টেট আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিকুর রহমান আগত অতিথিদের ধন্যবাদ জানান এবং বলেন, নিজেদের মাঝে দ্বিধা-দ্বন্ধ ভুলে আগামী নির্বাচনে বিপুলভাবে জয়ী হয়ে অসমাপ্ত কাজ শেষ করার জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ শুরু করার আহ্বান জানান।

দলের দুঃসময়ে যারা দলকে এগিয়ে নিয়ে গেছে তাদেরকে সংগঠিত করে প্রবাসে-দেশে শক্তিশালী নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির উপর গুরুত্বারোপ করেন ক্যালিফোর্ণিয়া ষ্টেট আওয়ামী লীগের প্রাক্তন সভাপতি সোহেল রহমান বাদল।

জন্মদিন উদযাপনের সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাহাতাব আহমেদ টিপু, মিজানুর রহমান শাহীন, তোফাজ্জল কাজল, মোঃ হোসেন, শওকত চৌধুরী, মোঃ আলী, আকতার এইচ মিয়া, মোবারক হোসেন বাবলু, ফরিদ উ আহমেদ, শফিউল আলম বাবু, সৈয়দ এম হোসেন, জসীম আশ্রাফী, জিয়াউল ইসলাম, মোঃ হিলটন, তপন দেবনাথ, এম কে জামান, নাসির আহমেদ অপু, নিপা মোনালিসা, আতিক রহমান, মিঠুন চৌধুরী ও মমিনুল হক বাচ্চু প্রমুখ।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় অবরুদ্ধ ঢাকায় জন্ম হয় জয়ের, বিজয়ের পর তার নাম রাখেন নানা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার তথ্য-প্রযুক্তি উপদেষ্টা ও যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত তথ্য-প্রযুক্তিবিদ প্রধানমন্ত্রীপুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের জন্মদিনের কেক কাটেন ক্যালিফোর্ণিয়া ষ্টেট আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিকুর রহমান সহ আগত অন্যান্য অতিথিবৃন্দ।
২০১৩ ছবি লিঙ্কঃ http://goo.gl/mL3rVs

This slideshow requires JavaScript.


২০১২ জন্মদিনের ছবি ও নিউজঃ http://goo.gl/yNP3TI

লস এঞ্জেলেসে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালিত


লস এঞ্জেলেসে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালিত

লস এঞ্জেলেসঃ ১০ জানুয়ারী, ২০১৩
লস এঞ্জেলেসে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ক্যালিফোর্ণিয়া, যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দ্যোগে বাংলাদেশের স্থপতি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালন করা হয়েছে।
লস এঞ্জেলেসে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালিত

লস এঞ্জেলেসে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালিত


লস এঞ্জেলেসের সান ফেরন্যান্ডো ভ্যালীতে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ক্যালিফোর্ণিয়ার সভাপতি শফিকুর রহমান। বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুর অবদানের কথা স্মরণ করে শফিকুর রহমান বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হারিয়ে বাংলাদেশ যে পিছিয়ে পড়েছে সেই শূন্যতাকে তার সুযোগ্য উত্তরসূরি শেখ হাসিনা সুদৃড়ভাবে সামনে নিয়ে যাচ্ছেন ও তার হাতকে শক্তিশালী করার জন্য প্রবাসীদের এগিয়ে আসতে হবে।

আলোচনায় বক্তারা বলেন- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি সৈন্যদের বিরুদ্ধে নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হলেও ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মধ্যদিয়ে জাতি বিজয়ের পূর্ণ স্বাদ গ্রহণ করে। বক্তারা সেই মাহেন্দ্রক্ষণকে স্মরণ করে বলেন, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, এটা সমগ্র বিশ্বের স্বাধীনতাকামী মানুষের সংগ্রামের নিদর্শন স্বরূপ। বঙ্গবন্ধু হত্যা সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্য একটি অপূরণীয় ক্ষতি বলেও বক্তারা উল্লেখ করেন।

লস এঞ্জেলেসে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালিত

লস এঞ্জেলেসে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালিত


বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ক্যালিফোর্ণিয়ার সাধারন সম্পাদক ডাঃ রবি আলমের সঞ্চালনায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ দেলোয়ার হোসেন, কোষাধ্যক্ষ মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, ক্যালিফোর্ণিয়া ছাত্রলীগের আহ্বায়ক শওকত আহমেদ চৌধুরী। স্থানীয় কমিউনিটির পক্ষে থেকে স্মৃতিচারণ করেন মোবারক হোসেন বাবলু, এম কে জামান, খন্দকার ইমতিয়াজ আহমেদ ইমু, কাজী নাজির আহমেদ হাসিব প্রমুখ।

বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের সদস্যসহ যাঁরা ১৫ ই আগস্ট শাহাদাৎ বরণ করেছেন তাঁদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে ও বাংলাদেশের অব্যাহত শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে মোনাজাত করা হয়। এই উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর বর্ন্যাঢ্য জীবন নিয়ে চিত্র প্রর্দশনীর আয়োজন করা হয়।

লস এঞ্জেলেসে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালিত:ভিডিও:

The Liberator Bangabandhu Sheikh Mujib returns home: Video
http://www.facebook.com/v/10151325194521897
Pic: http://www.facebook.com/media/set/?set=a.10151325115691897.499885.826936896&type=1&l=a9c80f4b51

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ক্যালিফোর্ণিয়ার বিজয় দিবস উদযাপন ২০১২ (Victory Day Celebration, 2012)


বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ক্যালিফোর্ণিয়ার বিজয় দিবস উদযাপন ২০১২
(Victory Day Celebration, 2012)

১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মত লস এঞ্জেলেসেও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ক্যালিফোর্ণিয়া বিজয় দিবস
উদযাপন করে। স্থানীয় স্টার অব ইন্ডিয়া রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত মহান বিজয় দিবসের ৪১তম বার্ষিকী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা সাঈদুর রহমান পাটেল, বিশেষ অতিথি যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মোস্তাইন দারা বিল্লাহ, ইংলিশ চ্যানেল বিজয়ী সাতারু স্বাধীনতা দিবস পদক প্রাপ্ত মোশারফ হোসেন ও মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ রেনু কনা বড়ুয়া।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ক্যালিফোর্ণিয়ার প্রেসিডেন্ট শফিকুর রহমান। বক্তব্য রাখেন মোস্তাইন দারা বিল্লাহ, সাঈদুর রহমান পাটেল, শফিকুর রহমান, মোশারফ হোসেন, মোঃ আনিসুর রহমান, টি জাহান কাজল, মোবারক হোসেন বাবলু, জহির আহমেদ, লেঃ (অবঃ) জিয়া, ইমতিয়াজ হাসান সোহেল, সৈয়দ মুরাদ আলী, খন্দকার আহমেদ ইমু, ফজলুর রহমান, জাহাঙ্গীর আলম, শওকত আহমেদ চৌধুরী প্রমুখ।

ভিডিও কাভারেজঃ
বিজয় দিবস উদযাপন ২০১২ Bangladesh Awami League CA 1

একাত্তরের ঘাতকদের বিচার সম্পন্ন করে সামনের বছর চিহ্নিত রাজাকারমুক্ত বাংলাদেশে পরিপূর্ণ বিজয় দিবস উদযাপনের জন্যে চলমান বিচারের সপক্ষে আন্তর্জাতিক জনমত সুসংহত করার প্রতয়ে লস এঞ্জেলেসে ৪২তম বিজয় দিবস উদযাপিত হলো।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ক্যালিফোর্ণিয়ার বিজয় দিবস অনুষ্ঠানের কর্মসূচির মধ্যে ছিল শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, আলোচনা সভা, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চিত্র আলোকচিত্র প্রদর্শনী, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদান ও স্মৃতিচারণ।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ক্যালিফোর্ণিয়ার সাধারন সম্পাদক ডাঃ রবি আলম।

ভিডিও কাভারেজঃ
বিজয় দিবস উদযাপন ২০১২ Bangladesh Awami League CA 2

ভিডিও কাভারেজঃ
Muktijuddhader Bijoy-Gatha 2 – Saidur Rahman Patel & Others

অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রবাসীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এম কে জামান, মিজানুর রহমান শাহীন, ফরিদ ইউ আহমেদ, ডাঃ নাসির আহমেদ অপু, এম হোসেন বাবু, মোঃ দিদার আহমেদ, মনিকা আহমেদ, মিঠু বড়ুয়া, আতিক রহমান, মিসেস সাঈদুর রহমান, মিঞা আব্দুর রব, মোঃ শামীম হোসেন, মোদাসসের হাসান মুহিত, মিসেস নিলা মোশারফ, খাজা এরশাদ মইনুদ্দীন পপসি, মাহবুব মোর্শেদ জুনায়েদ, জাহান হাসান ও আরো অনেকে।

ভিডিও কাভারেজঃ
Muktijuddhader apon kahini – Dr. Renukona Barua & Pic Story

‘বঙ্গবন্ধুকে যুদ্ধাপরাধের আসামি করার সক্রিয় পরিকল্পনা’ শিরোনামে সাপ্তাহিক ঠিকানা পত্রিকায় প্রকাশিত খবরের প্রতিবাদে স্টার অব ইন্ডিয়া রেস্টুরেন্টের পার্কিলটে পত্রিকা পোড়ানো হয়।

ভিডিও কাভারেজঃ
Thikana Burning in Los Angeles, Bijoy Dibosh 2012 by AL CA Chapter

Bijoy Dibosh 2012 by AL California (152 photos)
৪১তম মহান বিজয় দিবস উদযাপনঃ আয়োজনে – ক্যালিফোর্ণিয়া ষ্টেট আওয়ামী লীগ — at Star of India Tandoori Restaurant.
http://www.facebook.com/media/set/?set=a.10151282630466897.493794.826936896&type=1&l=745fad4556

পোশাক শিল্পে আগুন: লস এঞ্জেলেসে বাদাম-এর শোক সমাবেশ ও আলোচনা সভা


পোশাক শিল্পে আগুন, প্রবাসীদের শোকঃ নিহতদের প্রতি সহানুভূতি এবং সমবেদনা
লস এঞ্জেলেসে বাদাম-এর শোক সমাবেশ ও আলোচনা সভা
লস এঞ্জেলেস, ২৭ নভেম্বর, একুশ নিউজ মিডিয়াঃ শিল্প-কারখানায় শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও শ্রমিকদের জীবন ও জীবিকার নিরাপত্তার জন্য অবিলম্বে সরকারকে নিরাপদ কার্যক্ষেত্র নিশ্চিত করতে হবে। তদন্ত শেষে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষ স্থায়ী ও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। অনিরাপদ ভবনে শিল্পকারখানা গড়ে তোলার কারণে দুর্ঘটনা এড়াতে বিল্ডিংকোড শক্তিশালী করে নিরাপত্তা পরিদর্শকদের আরও দায়িত্ববান হওয়া ও দুর্নীতি, দায়িত্বে অবহেলা আর অযোগ্যতার বিরুদ্ধে সরকারের পূর্নদৃষ্টি দেবার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন লস এঞ্জেলেসের প্রবাসী বাংলাদেশীরা।

গত মঙ্গলবার বাংলাদেশে ঘোষিত জাতীয় শোক দিবসে লস এঞ্জেলেসের প্রাণকেন্দ্র লিটল বাংলাদেশে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে উদ্বেগ ও প্রবাসীদের অবস্থান’ শীর্ষক আলোচনা ও শোকসভায় এসব কথা বলা হয়। সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ডাইভার্সিটি ইন আর্টস অ্যান্ড মিডিয়া (বাদাম)।

আশুলিয়ায় তৈরি পোশাক কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে শতাধিক লোকের প্রাণহানির ঘটনা ও চট্টগ্রামে উড়াল সেতু দুর্ঘটনায় বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ডাইভার্সিটি ইন আর্টস এন্ড মিডিয়া (বাদাম) এক শোক সমাবেশ ও আলোচনা সভার আয়োজন করে। বাদাম-এর আহবানে স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মী, লেখক, সাংবাদিক ও সাধারণ প্রবাসীরা এই সভায় যোগ দেন।

শোকসভায় কারখানার নিরাপত্তা, কাজের পরিবেশ ও শ্রমিক অধিকার নিয়ে ক্রেতা কোম্পানিগুলোর দায়বদ্বতা নিয়ে প্রবাসীরা তাদের মূল্যবান মতামত তুলে ধরেন। গত শনিবার সংঘটিত দেশের পোশাক শিল্পের ইতিহাসে বৃহত্তম এবং ভয়াবহতম অগ্নিকাণ্ডের পর বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে এর সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া যাতে পোশাক শিল্পকে হুমকির মুখে না নিয়ে যায়, প্রবাসীরা এই ব্যাপারে সরকারের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করার নিমিত্তে দল-মত নির্বিশেষে একমত পোষণ করে।

সভায় মোবারক হোসেন বাবলু স্মারকলিপি পড়ে শোনান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অ্যাঞ্জেলিনোদের মাঝে সুচিন্তিত রূপরেখাসহ বক্তব্য দেন সিরাজুল ইসলাম খোকন, ফরিদ উ আহমেদ, সোহেল রহমান বাদল, মুশফিকুর চৌধুরী খসরু, এম হোসেন বাবু, ইসমাইল হোসেন, ড্যানী তৈয়ব, এম এ বাসিত, ডঃ জয়নাল আবেদিন, তৌফিক সোলেমান খান তুহিন, মোরশেদুল ইসলাম, আবু হানিফা, ডঃ মাহবুব হাসান, ফারহানা সাঈদ, মোঃ মুরাদ হোসেন, মুজিব সিদ্দিকী ও এম কে জামান।

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে যেন কোন নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া না পড়ে তার প্রতি সতর্ক ও সচেতন দৃষ্টি দেবার জন্য সকলকে কাজ করে যাওয়ার জন্য অনুরোধ জানান লস এঞ্জেলেসের রাজনৈতিক কর্মীরা। সভায় নিরাপত্তা পরিদর্শকদের বিরুদ্ধে সীমাহীন দুর্নীতি, দায়িত্বে অবহেলা আর অযোগ্যতার অভিযোগ তুলে প্রবাসীরা বলেন, ব্যাক্তিস্বার্থের উর্ধে উঠে দেশের এই বৃহত্তর শিল্পকে বিশ্বের বুকে সম্মানজনক পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে।

This slideshow requires JavaScript.

বক্তারা জানান, কর্তৃপক্ষের অবহেলা যেমন বাঞ্ছনীয় নয়, তেমনি শ্রমিকদের ঘামের বিনিময়ে মুনাফার অংশ যেন শ্রমিকদের কল্যাণে সচেতনভাবে ব্যয় হয় তার প্রতি মালিক সম্প্রদায়ের দায়বদ্বতা অস্বীকার করার সুযোগও নেই। দুর্ঘটনা যেন হত্যাকাণ্ডে পরিণত না হয় তার জন্য সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান সচেতন প্রবাসীরা।

গার্মেন্টসে অগ্নিকাণ্ড ও চট্টগ্রামে উড়াল সেতু দুর্ঘটনায় নিহতদের সত্যিকারের পরিচয় সংগ্রহ করে সেই সকল দুস্থ পরিবারদের সরাসরি সাহায্য করার জন্য প্রবাসীরা একটি তহবিল গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন। আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে পোশাক শিল্প কারখানায় সংগঠিত ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের পরিবার ও পরিজনকে প্রবাসীদের পক্ষ থেকে সমবেদনা জানানো হয়। এ ঘটনায় যারা আহত হয়েছেন তাদের দ্রুত আরোগ্য লাভ কামনা করা হয়।

আলোচনা ও শোকসভায় আরো যোগ দেন সাইফুল আনসারী চপল, জহির ইউ আহমেদ, আবদুল খালেক মিয়া, রেজাউল চৌধুরী, আব্দুল কে মিয়া, জামাল হোসেন, মতিউর রহমান মার্টিন, আলী তৈয়ব, কাজী নাজির হাসিব, রেজাউল চৌধুরী, জামাল হোসেন, মশিউর চৌধুরী, আখতার ভুঁইয়া প্রমুখ।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন বাদাম-এর আহবায়ক জাহান হাসান। সহযোগিতায় ছিলেন পঙ্কজ দাস ও শফিউল ইসলাম বাবু।

লস এঞ্জেলেসে বাদাম-এর গুনীজন সম্মাননাঃ


লস এঞ্জেলেসে বাদাম-এর গুনীজন সম্মাননাঃ
আটজন ব্যক্তিত্বকে বাদাম-হলিউড পদক প্রদান
লস এঞ্জেলেস, ৩০ সেপ্টেম্বর (একুশ নিউজ মিডিয়া)ঃ লস এঞ্জেলেসের অভিজাত এক রেষ্টুরেন্টে বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ডাইভার্সিটি, আর্টস এন্ড মিডিয়া (বাদাম) এক মনোজ্ঞ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সেলেব্রেটি এওয়ার্ড প্রদান করে গত ৩০শে সেপ্টেম্বর। অত্যন্ত জাঁকজমকভাবে আটজন ব্যাক্তিত্বকে বাদাম-হলিউড পদক প্রদান করা হয়।
BADAM Ibne Mizan Ekush Jahan Hassan
দেশ ও প্রবাসে শিল্প-সাহিত্য-সংষ্কৃতি-ক্রীড়া ও সমাজ উন্নয়নের আইকনদের কর্মের মূল্যায়ন, উৎসাহ, অবদানের স্বীকৃতি এবং নতুন প্রজন্মের মাঝে প্রেরনা সৃষ্টির মাধ্যমে সামাজিক মূল্যবোধ বৃদ্ধি ও স্বদেশী স্বকীয়তাকে সমুজ্জ্বল রাখার নিমিত্তেই বাদাম-হলিউড পদক-এর সৃষ্টি।

বাংলাদেশের যে আটজনকে নিয়ে বাদামের আজকের আয়োজন -তারা প্রতেকেই দেশের গুনী ব্যক্তিত্ব। এবারে যারা আজীবন সম্মাননা পদক পেলেন তারা হলেন, বাংলা চলচ্চিত্রের লিজেন্ড পরিচালক, প্রযোজক ইবনে মিজান, স্বাধীনতাউত্তর বাংলা ব্যান্ড সঙ্গীতের পুরোধা সৈনিক, “স্পন্দন” ব্যান্ডের নাসির আহমেদ অপু। আরো সম্মাননা পেলেন, কাজী নজরুল ইসলামের কর্মের উপর অবদানমূলক কাজের জন্য খিলখিল কাজী, ডঃ গুলশান আরা কাজী, কবি রেজাউদ্দীন ষ্টালিন ও প্রখ্যাত নজরুল সঙ্গীত শিল্পী ও শিক্ষক ফেরদৌস আরা। অভিনেত্রী তারিন জাহান, বিউটিশিয়ান – মেকআপ আর্টিষ্ট নাহিন কাজীকে ও সম্মাননায় ভূষিত করল বাদাম।
BADAM Tarin Nahin Zabin Hilton Jahan Hassan Ekush News Media
অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন কাজী মশহুরুল হুদা। সহযোগীতায় ছিলেন শাহানা পারভীন, এম কে জামান ও জাহান হাসান। সংগঠনের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরেন বাদামের উপদেষ্টা মোবারক হোসেন। সম্মানিত বরেন্য ব্যক্তিত্বদের উপর নির্মিত অডিও-ভিস্যুয়াল প্রর্দশনীর মাধ্যমে সম্মাননা প্রদান করা হয়। ইবনে মিজানকে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন বাদামের প্রধান উপদেষ্টা এম কে জামান। নাহিন কাজীকে ব্যবসায়ী ও সংগঠক ফরিদ আহমেদ নুরু ও তারিন জাহানকে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন চিকিৎসক ও সমাজসেবক ডাঃ রবি আলম।
BADAM Ekush News Media Jahan Hassan
তিন পর্বের এই অনুষ্ঠানে দ্বিতীয় পর্বের সঞ্চালনায় ছিলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক সাইফুর রহমান ওসমানী জিতু। বাদামের পক্ষ থেকে ক্যালিফোর্ণিয়ায় ৬ষ্ঠ কাজী নজরুল ইসলাম এনডাউমেন্ট লেকচারশীপ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজক সংগঠন তরঙ্গ অব ক্যালিফোর্নিয়ার আগত কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। এই পর্বে ফেরদৌস আরাকে স্মারক সম্মাননা প্রদান করেন বাদামের আহবায়ক জাহান হাসান। খিলখিল কাজীকে জাতীয় বক্সার আক্তার ভূইয়া, ডঃ গুলশান আরা কাজীকে মোবারক হোসেন ও রেজাউদ্দীন ষ্টালিনকে শফিঊল আলম (ফ্রেন্ড বাবু) স্মারক সম্মাননা প্রদান করেন।
BADAM Jahan Hassan ekush news media
সম্মানিতরা তাদের বক্তব্যে প্রবাসে তাদেরকে এই ধরনের তথ্যপূর্ণ ও ব্যক্তিগতভাবে যত্নশীল উপস্থাপনের জন্য বাদামকে ধন্যবাদ জানান এবং দেশ-প্রবাসের মাঝে সেতুবন্ধনের এই মহতী প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানান।

BADAM Jahan Hassan ekush news media

শেষ পর্বে সংগীত পরিবেশন করেন ইবনে মিজানের বড় ছেলে ব্যবসায়ী, চিত্রনায়ক টিটো মিজান।
বরেন্য ব্যক্তিত্বদের উপর ভিডিও নির্মান ও গবেষনায় ছিলেন জাহান হাসান। দর্শক-শ্রোতায় পরিপূর্ণ এই ভিন্নধর্মী অনুষ্ঠানে লস এঞ্জেলেস সহ পার্শ্ববর্তী শহরের বিদগ্ধজনেরা যোগ দেন।

ছবি লিঙ্কঃ http://www.facebook.com/media/set/?set=a.10151174942411897.477044.826936896&type=1&l=8db18e46cb





ওরা আটজনঃ বাদামের পথচলা ও আজকের উদিতারা


লস এঞ্জেলেস থেকে জেসমিন খানের কলাম
হলিউডে ওরা আটজনঃ বাদামের পথচলা ও আজকের উদিতারা
-জেসমিন খান
হলিউডের দেশে অর্থাৎ লস এঞ্জেলেসের “রয়াল দিল্লি প্যালেস” এর হলরুমে তখন আলো আধারির নরম আলোর তৈরী মোহনীয় আলোকসজ্জার মাঝে মঞ্চের বিশাল ডিজিটাল স্ক্রিনে প্রদর্শিত হচ্ছে একটা গানের দৃশ্য। গানের সুর টা খুব আবেগময়। কন্ঠটাও খুব মিষ্টি। গায়িকা নিজেই অংশ নিয়েছেন কোরীয়গ্রাফিতে। আকাশ দেব কাকে? গানের কথায় আকাশ ছুয়ে যাওয়ার বাসনা, বৃষ্টির রিমঝিম ধারা ও শব্দের সাথে সুললিত কন্ঠ মাধুর্য ছুয়ে যাচ্ছে দর্শক-শ্রোতার হৃদয়। বৃষ্টি দেখতে দেখতে দর্শক শ্রোতাও পৌছে গেছেন বাংলাদেশের বর্ষার মাঝে। বাংলাদেশে এখন শরত এসেছে। হয়ত সেখানে এখন সুনীল আকাশে কৃষ্ণবর্ণ মেঘের আনাগোনা। বর্ষা বিদায় নিলেও যাই যাই করেও এখনো দাড়িয়ে আছে দুরে কোথাও। তবুও শরত এসেছে। এসেছে তার শিশির ভেজা সবুজ মাঠ,খালে বিলে পদ্ম ও শিউলির লাবন্য নিয়ে। এখন ভোর ভোর সকাল নেমেছে বাংলাদেশে। কুয়াশার চাদর সরিয়ে সকালের স্নিগ্ধ আলো ছড়িয়ে পরছে আমার দেশের পথে প্রান্তরে…|

চমক ভাঙ্গলো প্রচন্ড হাততালির শব্দে। গায়িকা অভিনেত্রী তারিনের গাওয়া গানের অংশ শেষ হয়েছে ,এখন অভিনয়ের অংশ বিশেষ দেখানো হচ্ছে। আয়োজনটি বাদামের পক্ষ থেকে। BADAM বাদাম -মানে, বাংলাদেশ এসোসিয়েসন অব ডাইভারসিটি আর্টস আন্ড মিডিয়া। আজ এখানে বাদাম আয়োজিত এক সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে সম্মাননা পেতে যাচ্ছেন দেশের আট জন গুনী ব্যক্তিত্ব। তার মধ্যে পাঁচ জনই নারী। নারীদের এই সাফল্য যে কতটা আনন্দের তা নতুন করে বলবার অপেক্ষা রাখে না। আমি পর্দায় জাহান হাসানের ভিডিও প্রেজেন্টেশন দেখতে দেখতে ভাবছিলাম – সাকসেস মাপার মাপকাঠিটি কেমন? কোন বিশেষ সংগায় বাধা যায় সাফল্যের রসাযন। যে মেয়েটা মিস ইউনিভার্স অথবা সেরা সুন্দরীর মুকুট পরে সারা দুনিয়ার মানুষকে তাক লাগিয়ে ফ্লাইং হাসি ছুড়ে দেয়, আর যে মেয়েটা লন্ঠনের আলোয় অঙ্ক কসে কসে ইউনিভার্সিটি বা অন্য কোনো ডিগ্রির পরীক্ষায় ভালো ভাবে উতরে যায়,-তাদের মধ্যে কে বেশী সফল? প্রশ্নটা প্রায়ই আমায় তাড়িয়ে নিয়ে বেড়ায়। নারী মুক্তির ইতিহাস নিয়ে কত কথা শুনি।

নারীবাদের আইনেস্টায়েন সিমন দা বুভেয়র এর “দা লাজিয়েম অফ সেক্স ” বা দা সেকেন্ড সেক্স” আদ্যপ্রান্ত পড়েও বুঝে উঠতে পারিনি এই সব গোলমেলে প্রশ্নের উত্তর। বুঝতে পারিনা তার আসল সংগা।একসময় পুতুল খেলার বয়সের বাচ্চা মেয়েদের বিয়ে দেওয়া হতো ধর্ম রক্ষার নামে। তাদের স্বামী নির্বাচনের ব্যাপারে বয়সের কোনো মাপকাঠি ছিল না। একজন পুরুষ হলেই হলো। বৃদ্ধ,এমন কি মৃত্যু পথযাত্রী হলেও ক্ষতি নেই। সমাজ পতিদের মন রক্ষা হলেই বাধা নেই। তার পর বিধবা অথবা সহমরণ এই ছিল তাদের ভবিতব্য। সহমরণের ভয়ংকর প্রথা, বিধবাদের প্রতি সমাজের অকথ্য অত্যাচার, এসব থেকে তাদের বাচাতে এগিয়ে এসেছিলেন রামমোহন রায়,ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এর মতো মানুষ। বিদ্যাসাগর চেয়েছিলেন মেয়েমানুষ নামের এই সব অবলা বাকরুদ্ধ প্রাণীগুলো বাঁচতে শিখুক। ভালোমন্দ বুঝতে শিখুক। স্বপ্নটাকে আরো একটু বাড়িয়ে বিধবা-বিবাহ পর্যন্ত যেতে তাকে কম হেনস্থা সইতে হয় নি !

বিদ্যাসাগরের সময় থেকে বেগম রোকেয়ার সময় পর্যন্ত যে সব মেয়েরা বিদ্যাসাগর অথবা বেগম রোকেয়ার স্বপ্ন সার্থক করতে তুচ্ছ করেছিলেন সমাজের চোখ রাঙ্গানি ও ভ্রুকুটি -তারা কি বেশী সাফল্যময়ী নাকি সে সময়ের অভিজাত পরিবারের লোরেটো বা বেথুন থেকে পাশ করা সর্ব বিদ্যায় পারদর্শী মেয়েটি বেশি সাকসেসফুল তা ভাবনায় আসে অনেকটাই|

সাফল্যকে মাপা খুব জটিল একটা কাজ। তার নিজেরই একটা জ্যো-তি আছে। সে আলোতেই সে উদ্ভাসিত হয় সকলের চোখে। তেমনি আলোতেই গুণীজনদের আরো আলোকিত করবার প্রত্যয় ও প্রচেষ্টা নিয়েই বাদামের জন্ম। লস এঞ্জেলসে বেশ কিছু সংগঠন থাকা সত্বেও নতুন আরো একটি সংগঠন কেনো –এ প্রশ্নের উত্তরে বাদামের আহবায়ক জাহান হাসান জানালেন –বাংলা সংস্কৃতির মূল ধারার বিকাশ ও ঐতিহ্যকে ধরে রাখবার একান্ত প্রচেষ্টাই বাদামের মূল লক্ষ্য। আমেরিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম বাংলাদেশী অধ্যুষিত এই এলাকার একটি শক্তিশালী সংগঠন হিসেবে দেশের ও প্রবাসের কবি সাহিত্যিক ,দার্শনিক,সাংবাদিক ,অভিনেতা ,অভিনেত্রী ,ক্রীড়াবিদ ও সমাজের অন্যান্য শাখার প্রথিতযশা মানুষদের মূল্যায়নের জন্যই বাদাম কাজ করে যাবে।

এ লক্ষ্যেই বাদাম তার প্রথম আয়োজন করে -“সাম্প্রতিক বাংলাদেশ “। এই উন্মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে প্রবাসী হৃদয়ের অনেক চিন্তা-ভাবনার কথা উঠে আসে। কারণ প্রবাসের নিশ্চিত ও নিরাপদ জীবনে বাস করলেও দেশের সুখ দুঃখ ,আনন্দ বেদনা ঘিরে রাখে প্রতিনিয়ত প্রায় সকল প্রবাসীকেই। হৃদয়ের চোরা কুঠুরিতে আলোড়ন তোলে দেশের ভাবনা। এই আবেগ থেকেই আলোচনা হয়ে ওঠে আরো প্রানবন্ত। স্থানীয় প্রবাসী ও পুরোনো সতীর্থদের সাথে যোগ দেন দেশের এর আর এক জন সফল মানুষ -ফিডব্যাক এর প্রথম ভোকালিস্ট, স্কয়ার ফার্টিলিটি সেন্টারের প্রধান স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডা: জাকিউর রহমান। সম্বর্ধনা জানানো হয় বাংলাদেশে আধুনিক চলচ্চিত্র নির্মানের অগ্রদূত চলচ্চিত্রকার মোহাম্মদ হোসেন জেমিকে। যিনি এই হলিউড থেকেই উচ্চতর ডিগ্রী নিয়েছেন চলচ্চিত্র নির্মানের ওপর।

এর মাঝেই বিষাদের ছায়া নেমে এলো বাঙালি সমাজে। শুধু বিষাদ নয় -এ যেনো এক কাল বৈশাখী ঝড়। কিংবদন্তির রূপকথার নায়ক হিসেবে যে মানুষটি অতি অনায়াসে স্থান করে নিয়েছিলেন দেশের কোটি মানুষের ভালবাসায়। সেই মহানায়ক লেখক হুমায়ুন আহমেদের চির প্রস্থানের পর বেদনাহত বাদাম পরিবার। সেই বেদনাকে সঙ্গী করে আয়োজন হলো -“-হুমায়ুন আহমেদ স্মরনে–শ্রদ্ধাঞ্জলি “। তবু যেনো পাওয়া হলো না পরিপূর্ণ পাওয়ার দুর্লভ আনন্দ, যা অবিস্মরণীয় হতে পারতো! কারণ সদ্য প্রয়াত সেই মানুষটি অনন্তলোকের ওপার থেকেও আচ্ছন্ন করে রেখেছেন তার পাঠকের চিন্তা চেতনা ,মনন শীলতা। বাদামকে কেন্দ্র করে হুমায়ুন ভক্তরা -জানালেন তাদের সেই অতৃপ্ততার কথা -বেদনার কথা ,শ্রদ্ধা ও ভালবাসার কথা।

এর পর বাদাম আয়োজন করে ওপার বাংলার বিশিষ্ট সাহিত্যিক রঞ্জন বন্দোপধ্যায় এর সাম্প্রতিক বই বেস্টসেলার ” কাদম্বরীদেবীর সুইসাইড-নোট” এর হলিউডে মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান। আনন্দবাজার পত্রিকার সাবেক সহ সম্পাদক ও সংবাদ প্রতিদিনের সহ সম্পাদক রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় মূলত লেখালিখি করেছেন -রবীন্দ্র জীবনের গোপনচারীনিদের নিয়ে। তার “আদরের উপবাস “বইটিতেও তিনি রবীন্দ্রনাথের জীবনের তিন নারীর ভূমিকার অজানা প্রেমময় দিকগুলোর কথা তুলে ধরেছেন। তারা হলেন কাদম্বরী দেবী ,লেডি রানু মুখার্জি এবং ভাইঝি ইন্দিরা দেবী |স্কটিশ চার্জ কলেজের একদা ইংরেজির অধ্যাপক রঞ্জন বন্দোপধ্যায় তার” আদরের উপবাসে ” জানিয়েছেন যে রবীন্দ্রনাথের পূর্বপুরুষ মুসলমান ছিলেন | তাদের পূর্বপুরুষের একজনের নাম ছিল -পীর আলী। যে কারণে তাদের পিরালী ব্রাহ্মন হিসেবে অভিহিত করা হয় এবং নির্ভেজাল ব্রাহ্মন্ না থাকার কারণে ঠাকুর পরিবাররের ছেলেমেয়েদের বিবাহে -এমন কি রবীন্দ্রনাথেরও বধু সংগ্রহে যথেষ্ট বেগ পেতে হয় |

সাহিত্যের কোনো জাত নেই, ধর্ম নেই, গোত্র নেই, নেই দেশ কাল সীমানা। সাহিত্য সকলের। তাই বাদাম তার সীমানা করেছে উন্মুক্ত। দেশ কাল পাত্রে সীমাবদ্ধ থাকেনি। বাদাম সকলের। বিশেষ করে বাংলা ভাষা ভাষীদের প্রতিটি মানুষের। বাংলাদেশের যে আটজনকে নিয়ে বাদামের আজকের আয়োজন -তারা প্রতেকেই দেশের গুনী ব্যক্তিত্। দেশের সংস্কৃতির অঙ্গনে তাদের অবদান অনষিকার্য। চলচিত্র বা সিনেমার পরিচালক হিসেবে ইবনে মিজান সুপরিচিত একটা নাম। বহু সফল বানিজ্যিক ছবির নির্মাতা তিনি। বর্তমানে তিনি লস এন্জেলেসে বসবাস করছেন। ইবনে মিজান ছাড়াও আজীবন সম্মাননা সনদ পেলেন নাসির আহমেদ অপু। তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম দিকের, সম্ভবত ৭২ এর দিকে ব্যান্ড সঙ্গীতের জগতে জনপ্রিয় দল ” স্পন্দন ” এর সংগঠক ও প্রধান ভোকালিস্ট। বহু জনপ্রিয় গানের নির্মাতা তিনি। তার লেখা ও সুর করা গান -এমন একটা মা দেনা ,যে মায়ের সন্তানেরা -কান্দে আবার হাসতে জানে,-প্রচন্ড ভাবে জনপ্রিয়তা লাভ করেছিল। তিনিও বর্তমানে এখানেই বাস করছেন।
BADAM
নাহীন কাজী সম্মাননা পেলেন একটু ভিন্ন খাতে। তিনি একজন সফল বিউটিসিয়ান। তার কাজ অনেকটা অন্তরালে। টেলিভিশন বা মঞ্চের অভিনেত্রী বা গায়িকাদের সাজসজ্জায় আমরা মুগ্ধ হই, অনেক সময় অনুকরণ ও করতে চাই, সেই সব মনোমুগ্ধকর সাজ সজ্জা একজন বিউটিশিয়ানের সৃষ্টি। আধুনিক বিশ্বে সব কিছুই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চলতি ফ্যাশন, ফিউসন, লাইফ স্টাইল ট্রেন্ডস, হেলথ কেয়ার, তথা পারসনাল গ্রুমিং সব কিছুই জীবনে অপরিহার্য। বিশেষ করে যারা সেলিব্রিটি বা মিডিয়ার সাথে যুক্ত। সৌন্দর্য চর্চা এবং সুন্দর থাকা তাদের প্রথম ও প্রধান শর্ত। নাহীন কাজী তার কাজের মাধ্যমে দেশের মিডিয়া জগতে এক নন্দিত শিল্পীর পরিচয়ে পরিচিতি লাভ করেছেন ইতিমধ্যে।

প্রখ্যাত গায়িকা ফেরদৌস আরার কথা নতুন করে বলবার কিছু নেই। তিনি জাত শিল্পী। অত্যন্ত খ্যাতিমান এই গায়িকা সঙ্গীতের সব শাখায় অবাধ বিচরণ করলেও নজরুল সঙ্গীতে তিনি ঈর্ষনীয় জনপ্রিয়তা লাভ করেছেন। তার জনপ্রিয়তা আজ আর দেশে সীমাবদ্ধ নেই। ছড়িয়ে পরেছে সমস্ত পৃথিবীর প্রবাসী বাঙালির মাঝে। খিলখিল কাজিও এমনি একজন মানুষ। তিনি শুধু কাজী নজরুল ইসলামের নাতনি নন ,প্রখ্যাত আবৃত্তিকার কাজী সব্যসাচীর কন্যা খিলখিল কাজী নিজে ও একজন শিল্পী। বহুবিধ প্রতিভার অধিকারিনী তিনি। অথচ তার কোনো প্রকাশ তার মধ্যে নেই। তিনি তার অসাধারণ বলবার ক্ষমতায় বর্ণনা করলেন কবি নজরুলের জীবনের অজানা আটপৌরে দিকগুলো।মুহুর্তেই বিদ্রোহী কবি তার যোজনার দুরত্ব ঘুচিয়ে হয়ে উঠলেন আমাদের সকলের আপনার। আমরা শ্রোতার দল খুঁজে পেলাম সেই নজরুল -যিনি রাগ করছেন,ফুটবল খেলে প্রিয় দল হেরেছে বলে অভিমানে কাঁদছেন,আবার সন্তানদের নিয়ে আনন্দ করে ঘুরছেন সাধারণ গৃহস্থ হয়ে, এই পাওয়াও বড় কম নয়। বাংলাদেশের জাতীয় কবি তথা বিশ্ব মানবতার কবি কাজী নজরুল ইসলামকে বিশ্ব সমাজে পরিচিত করার লক্ষ্যে নর্থ আমেরিকাতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন নজরুল গবেষক ডঃ গুলশান আরা কাজী। তাকেও সম্মাননার অন্তর্জালেও আবদ্ধ করল বাদাম।

বেশ অনেকক্ষণ ধরে স্ক্রিনে দেখছি মিডিয়া কাপানো সেলিব্রিটিদের আনাগোনা। সাংবাদিক ও বাদামের আহবায়ক জাহান হাসানের অসাধারণ ভিডিও প্রেজেন্টশনএ প্রতিটি গুনিজনের জীবন বৃত্তান্ত ফুটে উঠেছে জীবন্ত হয়ে উঠছে রওনাক সালাম, শাহানা পারভীন ও এম কে জামানের সাবলীল ধারা বর্ণনায়। সঞ্চালক মশহুরুল হুদা তার সহযোগী শাহানা পারভীন ও এম কে জামানের প্রানবন্ত উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানটিকে করে তুলছে অত্যন্ত মনোগ্রাহী। কিন্তু কি যেনো একটা নেই। কি যেনো একটা অতৃপ্তি ! সাহিত্য বা কবিতার অনুপস্থিতি চোখে লাগে বৈকি ! উদ্যোক্তারা কি টেলিপ্যাথী জানেন?

এবার মঞ্চে যিনি এলেন, তার সবচেয়ে বড় পরিচয় তিনি একজন কবি। নজরুল একাডেমির ডেপুটি ডিরেক্টর রেজাউদ্দিন স্টালিন তার সব পরিচয় ছাড়িয়ে কবি পরিচয়েই যেনো বড় বেশী কাছের হয়েছেন সকলের। কারণ অনেকেই তার কবিতা শুনতে চান। অত্যন্ত শক্তিমান এই কবি, কবিতার রাজ্যে বাস করেও অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলেছেন কাজী নজরুলের সব সৃষ্টিকে যথাযত ভাবে বাঁচিয়ে রাখবার প্রয়াসে। সকলের অনুরোধে তিনি পাঠ করলেন নিজের লেখা কিছু কবিতা। তার প্রায় কবিতায় তিনি প্রকৃতির সৌন্দর্য রক্ষার কথা বলেছেন। পৃথিবীকে বাঁচাবার কথা বলেছেন। স্টালিন বললেন কবিরা শুধু দিতে চায়, দিতে চায় হৃদয় ভরে। পৃথিবীকে সজীব ও সুন্দর রাখতে চায়। বিনিময়ে চায়না কিছুই। কোনো ঐশ্বর্যতেই কবিদের রুচি নেই। কবিরা প্রকৃতি ভালোবাসে তা আমরা জানি। তারা যে ঐশ্বর্য চায় না তাও আমরা জানি। অনেক বছর আগে শার্ল-বদলিয়ার বলেছিলেন –
কি তুমি চাও -অজানা আগন্তুক? মনি কাঞ্চন ,নাকি সোনা রুপা ?
কোথায় তোমার দেশ ?কোন দ্রাঘিমায় তার অবস্থান ?
অনেক প্রশ্নের উত্তরে সে বলছে —
আমি ভালো বাসি মেঘ ,চলিষ্ণু মেঘ ,যারা উড়ে যায় ওই উচু থেকে উচুতে …..||
আকাশ আর মেঘ থেকে আবার ফিরে এলাম মাটিতে। এই হলরুমে সুবেশী অসংখ্য নারী পুরুষের ভি। পরিমিত আলোক সজ্জা, চা কফি ছাড়াও সুখাদ্যের কমতি নেই। হৃদয় ও উদরের পরিপূর্ণ উপাদান।

বাদাম বয়সে নবীন হলেও কাজে প্রমান করেছে দায়িত্বশীলতার। ভাবছি –বাদাম যে প্রত্যয় দিয়ে শুরু করেছে তা ছিল অনেকটাই প্রতিশ্রুতিশীল। ছিল অনেক অঙ্গীকার। বাদাম কি তার প্রথম অঙ্গীকার থেকে কিছুটা সরে এসেছে? কিছুটা কি বদলে গেছে তার ভাবনার গতি? এই লস এন্জেলেসেই এমন বেশ কিছু মানুষ আছেন যারা সম্মাননা পাওয়ার তালিকার প্রথম সারিতে আছেন। আমার হয়ত অনেকের সাথে তেমন পরিচয় নেই, কিন্তু কিছু মানুষের কথা না বললেই নয়। তাদের মধ্যে আছেন –ড: মাহবুব হাসান, লেখক তপন দেবনাথ, কাজী মশহুরুল হুদা, মুক্তাদির চৌধুরী তরুণ ও আরো অনেকেই। বাদাম কি ভাবছে তাদের নিয়ে? বাদাম কি তার পরবর্তী কাজের কথা ঘোষনা করেছে ইতিমধ্যে? জানবার বাসনা রইল অনেকটাই।

কবিতার রাজ্য থেকে আবার ফিরে এলাম গানের জগতে। তারিনের গানের মধ্য দিয়ে। তারিন জাহান বা তারিন এতটাই পরিচিত একটা নাম দেশের মিডিয়া জগতে যে ,তার সম্পর্কে নতুন করে কিছু বলবার আর নেই। মিডিয়ার কল্যাণে তার সবকিছুই সবার মোটামুটি ভাবে জানাই আছে। নতুন কুড়ির শিশু শিল্পী হিসেবে তারিনের পথ চলা শুরু। তার পর থেকে পথটা শুধুই সাফল্যের। নাচ, গান, অভিনয় সবকিছুতেই অসম্ভব জনপ্রিয়তা পাওয়া নামটি তারিন। আজকের দিন শুধু নয়। তারিন এগিয়ে যাবে আরো আরো অনেক দূর। যে কথা দিয়ে শুরু করেছিলাম –সাফল্যের বেরমিটারের পারদ কি দিয়ে মাপা যায় ,যদি সে হয় নারী? আমেরিকার এই সব দেশে নারী পুরুষের তেমন তফাত মাপা হয় না। নারীদের কোনো জবাবদিহিতার দায় ও তেমন নেই। তবু ভাবি আরো কতদূর যাবে বাংলাদেশের মেয়েরা? পলে পলে প্রতিবন্ধকতার বেড়ী এড়িয়ে? আমি জানি আজকের উদিতারা ,আজকের নারীরা অনেক চেতনা সম্মৃদ্ধ। তারা নিজ যোগ্যতাতেই খুঁজে নেবে পথের দিশা। আলোকের ঝরনাধারায় ধুয়ে দেবে সব অন্ধকার।

বাদাম সাথে থাক আমাদের। আজকের পৃথিবীর হিংসা বিদ্দেষ,অশান্তির কালো মেঘের মধ্যে দেখা দিক ভালবাসার আলোর উৎস। অন্ধকার গভীর হয় সূর্যের দুর্বল অবস্থানের জন্য। আমাদের সকলের সম্মিলিত প্রার্থনায় সূর্য আরো প্রখর হোক পৃথিবীর মঙ্গলের জন্য। বেঁচে থাক প্রেম তার জাদুকরী উজ্জলতায়। বেচে থাক ফুল, নদী, পাখি, গান, কবিতা, সাহিত্য ও সুন্দর। এই সুন্দরের আগমনী সুরে –বাদাম এর স্বপ্ন দেখা –জাহান হাসান, কাজী মশহুরুল হুদা, এম কে জামান, পঙ্কজ দাস, ফারাহ সাঈদ, সৈয়দ এম হোসেন বাবু, শাহানা পারভীন, শফিউর রহমান বাবু ,খাজা এরশাদ মইনুদ্দিন পপসি, আকতার ভুইয়া, মোবারক হোসেন ও কবি রওনক সালাম সহ বাদামের সকল সদস্য ও গুনগ্রাহীদের জানাই আমাদের আন্তরিক শুভেচ্ছা। এ পথ চলা সার্থক হোক।।
ছবি লিঙ্কঃ http://www.facebook.com/media/set/?set=a.10151174942411897.477044.826936896&type=1&l=8db18e46cb





লস এঞ্জেলেসে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি শীর্ষক আলোচনা সভা



লস এঞ্জেলেসে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি শীর্ষক আলোচনা সভা

মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতিতে লস এঞ্জেলেস প্রবাসীদের উদ্বেগ
মে ৩, ২০১২, লস এঞ্জেলেসঃ বাংলাদেশের অবনতিশীল মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা গভীর উদ্বেগের সাথে পর্যবেক্ষন করছে লস এঞ্জেলেস প্রবাসীরা। বিরোধী দলের উপর নজিরবিহীন আগ্রাসন ও হয়রানি, নাগরিকদের অধিকার ও মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার অপচেষ্টার প্রতি নিন্দা ও ঘৃণা জানিয়েছেন তারা।

BADAM Los Angelesগত রবিবার লিটল বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস অলিম্পিক পুলিশ ষ্টেশনের কমিউনিটি সেন্টারে একুশ নিউজ মিডিয়া ও বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ডাইভার্সিটি আর্টস এন্ড মিডিয়া (বাদাম) এর উদ্যোগে সমবেত বিভিন্ন কমিউনিটির নেতারা ও বিশিষ্ট ব্যাক্তিবর্গ বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে মানবাধিকারের চরম লংঘনে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

বক্তারা বলেন, কিছু কিছু সুবিধাবাদী রাজনৈতিক নেতাদের ভুল সিদ্ধান্ত ও সংসদকে অকার্যকর করে রাখায় দেশ এখন শুধু প্রধানমন্ত্রীর উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। এতে সামাজিক উন্নয়ন প্রচণ্ড ভাবে হুমকির সম্মুখীন। দেশ ও দশের উন্নয়নে যোগ্য রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিকল্প নাই। মেধা বিকাশে দলীয়করণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর জন্য শিক্ষিত সমাজকে সোচ্চার হবার আহ্বান জানানো হয়।

BADAM Los Angelesবাংলাদেশে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে পরিমাণ হিংসা-বিদ্বেষ তাতে দেখে যে কারো মনে হতে পারে এখানে গৃহযুদ্ধ চলছে। প্রবাসের মতো দেশেও যেন সব দলের নেতারা এক প্লাটফর্মে বসে কথা বলার পরিবেশ তৈরী করতে পারে তার জন্য সহনশীলতা তৈরি করতে হবে। বাংলাদেশে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে ক্ষমতার লিপ্সাই প্রধান। স্থানীয় উন্নয়নে সাংসদদের ভূমিকায় অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে এনে শুধু নিজেদের জন্য নয় বরং দেশের উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়।

BADAM Los Angelesদেশের নাজুক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নাগরিকদের জান-মালের নিশ্চয়তা বিধানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীদের দলের উর্ধে উঠে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। বাংলাদেশে আজ ব্যক্তির কোনো নিরাপত্তা নেই। রাষ্ট্রে খুন, গুম, ধর্ষণ একের পর এক বেড়েই চলেছে। সচিবালয়ে বোমা হামলা ও বাসে অগ্নিসংযোগ ঘটনায় কয়েকদিনের মাথায় বিরোধীদলের নেতৃবৃন্দকে গ্রেফতার করে জেলে অন্তরীন করা হয় অথচ মাসের পর মাস পেরিয়ে গেলেও সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যাকাণ্ডের কোন কূলকিনারা না হওয়াতে দলীয় হস্তক্ষেপে আশংকায় উদ্দ্বেগ প্রকাশ করা হয়। খুন হওয়া সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনির ঘটনা সরকার যেন ইচ্ছা করে ডিপ ফ্রিজে রেখে দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অপশক্তিরা উৎসাহিত হয়। এ পরিস্থিতিতে দেশের সাংবিধানিক অভিভাবক নির্বাচিত সরকারের নির্লিপ্ততার নিন্দা জানিয়ে বক্তরা বলেন, কোনো কোনো ক্ষেত্রে মানবিক গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেয়ার কাজে সরাসরি পুলিশ বহিনী ও দলীয় ক্যাডারদের ব্যবহার সামগ্রিক পরিস্থতিকে আরো জটিল করেছে। ক্ষমতা চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত নয় – তাই শুধু ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, অর্থবহ জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়। দলীয় দূর্নীতিবাজদেরও ছাড় দেওয়া চলবে না। এতে নিজ দলের অপরাধীদেরকেও বিচারের আওতায় আনার ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার যেন আন্তর্জাতিক মানের হয় তার প্রতি আইনজীবী ও সচেতন সমাজের লক্ষ্য রাখার অনুরোধ জানানো হয়।

মানুষের সামাজিক নিরাপত্তা বলে কিছু নেই। ব্যবসায়ীদের আজ রাজনীতিতে আধিপত্যতা। তার ফলশ্রুতিতে প্রিন্ট এবং ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াতে অপশক্তির উত্থান ঘটছে। প্রকৃত ঘটনা উদ্বঘাটিত হচ্ছেনা। সাংবাদিকরাও আইনের উর্ধে নন। সাংবাদিকরা নিজেদের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদ সঠিকভাবে করছে না বলেই অপশক্তিরা এখনো সংগঠিত হচ্ছে। সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতনের বিরুদ্ধে সর্বস্তরের জনগণ পাশে প্রবাসীরা ও সোচ্চার আছে। সাংবাদিকদের মধ্যে ঐক্যর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

দেশের উন্নয়নে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে এনে বিদেশী বিনিয়োগকে আকৃষ্ট করার কোন বিকল্প নেই বলে প্রবাসীরা মনে করেন। বক্তারা বলেন, দেশের ভাবমূর্তি এখন আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে অনেক খারাপ। সবগুলো রাষ্ট্রীয় খাতই এত বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত যে বিদেশিরা কোনো সহায়তা দিতে ভরসা পাচ্ছে না। তারা মনে করছে, এখানে কিছু দিলেই তা ব্যক্তি বিশেষের পকেটে চলে যাবে। এটা দেশের উন্নয়নের কোনো কাজে লাগবে না। হত্যা, গুম, নারী নির্যাতনরোধে বিশ্বব্যাপী জনমত তৈরিতে পরিবর্তিত বিশ্ব প্রেক্ষাপটে প্রবাসে বসবাসরত প্রবাসীদের উৎকন্ঠা তাদের নিজ নিজ কাউন্সিলম্যান, সিনেটরদেরকে অবহিত করার উপর তাগিদ দেওয়া হয়। দেশের এ নাজুক পরিস্থিতিতে দেশের সরকারকে আরো দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার পাশাপাশি এবং জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন দায়িত্বশীল মহলকে যথাযথ ভূমিকা রাখার আহবান জানানো হয়।

দেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের অবদান স্বীকৃত হয়ে আসলেও রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রবাসীদের গুরুত্ব দেওয়ার ধারা তৈরী করতে হবে। প্রবাসীদের আওয়াজ যাতে সংসদ ও জনগণের মাঝে তুলে ধরা যায় তার জন্য প্রবাসী উইন্ডো নামে একটি ডিজিটাল প্লাটফর্ম তৈরী করার পরামর্শ দেওয়া হয়। স্বদেশে নিরাপদ জীবনের অঙ্গীকারে প্রবাসীদের হয়রানী বন্ধে দেশের স্থানীয় প্রশাসনকে সক্রিয় হবার আহ্বান জানানো হয়। সহনশীলতার পরিবেশ ও আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে দেশের উন্নতির লক্ষ্যে বিজ্ঞ প্রবাসীদের নিয়ে একটি পলিসি ইন্সিটিউট তৈরির আহ্বান জানানো হয়। পারষ্পরিক শ্রদ্ধাবোধের মাধ্যমে পরিশীলিত রাজনৈতিক সংষ্কৃতির উন্মেষ ঘটিয়ে যুগের চাহিদা অনুযায়ী দেশ গড়ার আহ্বান জানানো হয়।

সাম্প্রতিক বাংলাদেশ ও প্রবাস ভাবনা শীর্ষক এই আলোচনায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, ইসমাইল হোসেন, ড্যানী তৈয়ব, মুশফিকুর চৌধুরী খসরু, মাহতাব আহমেদ, তারিক বাবু, শাহানা পারভীন, এম এ বাতেন, মারুফ ইসলাম, শফিঊল আলম বাবু, মোঃ এস জোহা বাবলু, মুজিব সিদ্দিকী, শামসুদ্দিন মানিক, এম এ বাসিত, আনিসুর রহমান, ডাবলু আমিন, লায়েক আহমেদ, এম কে জামান, মোঃ গোলাম সারোয়ার, ফয়সাল আহমেদ তুহিন, রওনাক সালাম, আশরাফ এইচ আকবর, মার্টিন রহমান, জসীম আশরাফী, অবঃ মেজর হামিদ, ফারহানা সাঈদ, ডাঃ আবুল হাশেম, মোসাম্মৎ ফরিদা, সোহেল রহমান বাদল প্রমুখ।

এসময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- আলী তৈয়ব, মাসুদ চৌধুরী, ইশতিয়াক চিশতী, কাঞ্চন চৌধুরী, মোহাম্মদ আলী খান, বুলবুল সিনহা, মোঃ ময়েজ উদ্দিন, শফিক রহমান, নাসির উদ্দিন জেবুল, ফারুক হাওলাদার, ইফতেখার রহমান, ইলিয়াস খান, মোতিয়ার রহমান প্রমুখ।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন কাজী মশহুরুল হুদা ও সৈয়দ এম হোসেন বাবু।

সার্বিক অনুষ্ঠান পরিচালনায় ছিলেন আয়োজক সংগঠন একুশ নিউজ মিডিয়ার পরিচালক জাহান হাসান।
Pic Link: http://www.facebook.com/media/set/?set=oa.425613467460482