এটি খুবই দুঃখজনক যে, নিয়মিত করদাতারা ২৫ শতাংশ হারে কর দেবেন, আর ফাঁকিবাজরা মাত্র ১০ শতাংশ হারে কর দিয়েই অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করতে পারবেন


শেয়ারবাজারে কালো টাকা রাখতে হবে দুই বছর
শেয়ারবাজারে কালো টাকা রাখতে হবে দুই বছর মাত্র ১০ শতাংশ হারে কর দিয়েই শেয়ারবাজারে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ দেয়া হলো। একই সঙ্গে প্রাইমারি শেয়ারে কালো টাকা বিনিয়োগ করলে প্রদেয় করে ১০ শতাংশ হারে ছাড় (রিবেট) পাওয়া যাবে। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এনবিআর চেয়ারম্যান নাসিরউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। কালো টাকা বিনিয়োগের জন্য একটি নীতিমালা তৈরি করে তা প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করা হয়েছে বলে তিনি জানান। এদিকে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ দেয়ায় দুই সপ্তাহ ধরেই শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বিরাজ করছে।
সংবাদ সম্মেলনে এনবিআর চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, শেয়ারবাজারে কালো টাকা বিনিয়োগ করলে তা দু’বছরের জন্য রাখতে হবে। আগামী এক বছর ১০ শতাংশ কর দিয়ে শেয়ারবাজারে কালো টাকা বিনিয়োগ করা যাবে। আর কেউ যদি প্রাইমারি শেয়ারে বিনিয়োগ করেন তাহলে প্রদেয় করের ওপর ১০ শতাংশ হারে রিবেট পাওয়া যাবে। তবে নির্ধারিত দু’বছরের আগে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করা কালো টাকা তুলে নিতে চাইলে সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারী ২৫ শতাংশ হারে কর দিয়ে বিনিয়োগ করা অর্থ তুলে নিতে পারবেন। পুরো বিষয়টি মনিটরিং করবে রাজস্ব বোর্ড। চলতি মাস থেকে আগামী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত এ সুযোগ থাকবে। এনবিআর জানিয়েছে, কালো টাকা বিনিয়োগ করতে হলে এনবিআরকে একটি নির্ধারিত ফরমে ঘোষণা দিয়ে বিনিয়োগ করতে হবে। পাশাপাশি ওই টাকা বিনিয়োগের আগেই ১০ শতাংশ হারে কর দিতে হবে। এ সুযোগ নিতে হলে এনবিআরকে বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাব দাখিল করতে হবে। শেয়ারবাজারে আগে বিনিয়োগ করা টাকা পুনরায় বিনিয়োগের সুযোগ নেয়া যাবে না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক ওসমান ইমাম বলেন, শেয়ারবাজারে রাজনৈতিক কারণে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ দেয়া হয়েছে। কারণ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই দু’বার শেয়ারবাজারে ধস নেমেছিল। এ কারণে বিভিন্ন ধরনের চাপের কারণেই সরকারকে শেয়ারবাজারে কালো টাকার সুযোগ দিতে হয়েছে। এদিকে বাজেট ঘাটতি পূরণে সরকার ব্যাংক থেকে প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকা নেয়ার কথা বলেছে। অথচ বাজেট ঘাটতি পূরণে শেয়ারবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহের সুযোগ থাকলেও সরকার সেটি গ্রহণ করেনি। এতে শেয়ারবাজারের প্রতি সরকারের অনাগ্রহের বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে। তবে কালো টাকা বিনিয়োগের যে সুযোগ দেয়া হয়েছে এটি শেয়ারবাজারে স্বল্প মেয়াদে হয়তো প্রভাব পড়বে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে শেয়ারবাজারের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না। স্বল্প মেয়াদে প্রভাব পড়ার বিষয়টি আমরা ইতোমধ্যেই লক্ষ্য করেছি।
প্রসঙ্গত, গত বছর চারটি সেক্টরে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ দেয়া হয়েছিল। এগুলো হচ্ছে— বিএমআরই, শেয়ারবাজার, নতুন শিল্প স্থাপন ও রিয়েল এস্টেট সেক্টর। রাজস্ব বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯-১০ অর্থবছরে প্রায় ৯২২ কোটি কালো টাকা সাদা করা হয়েছিল। এর মধ্যে শুধু শেয়ারবাজার থেকে ৪২৭ কোটি টাকা সাদা করা হয়েছিল। ২০০৯-১০ অর্থবছরে কালো টাকা সাদা করার পর ৩৬ ব্যক্তি তাদের টাকা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করে। এ থেকে সরকার প্রায় ৪৩ কোটি টাকা রাজস্ব পেয়েছিল।
শেয়ারবাজারে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ থাকছে মাত্র এক বছর। ১ জুলাই থেকে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত। তবে মূলধন কমপক্ষে দুই বছর বাজারে ধরে রাখতে হবে। অর্থাত্ ২০১৩ সালের জুলাই পর্যন্ত মূলধন বাজার থেকে উঠাতে পারবে না। বিনিয়োগকারী ওই সময়ের মধ্যে শেয়ার লেনদেন করে শুধু মুনাফা তুলে নিতে পারবেন। কিন্তু মূলধন উঠিয়ে নিতে পারবেন না। চূড়ান্ত নীতিমালায় এ ধরনের নির্দেশনা রয়েছে। এ সুযোগ গ্রহণ করার পর যাতে কোনো ব্যক্তি বাজার থেকে বেরিয়ে যেতে না পারেন সেজন্যই এ ধরনের শর্ত আরোপ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
সরকার ঘোষিত সুযোগটি গ্রহণ করতে হলে বিনিয়োগকারীকে অবশ্যই ঘোষণা দিতে হবে তিনি কি পরিমাণ অর্থ বৈধ করবেন। যে পরিমাণ অর্থ ঘোষণা করা হবে তার বিপরীতে নির্ধারিত হারে কর দিয়ে পে-অর্ডারের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে। এনবিআরের তৈরি করা আলাদা ঘোষণাপত্রে নাম, ঠিকানা, ট্যাক্স আইডেনটিফিকেশন নম্বরসহ (টিআইএন) সুনির্দিষ্ট তথ্য উল্লেখ করতে হবে। এসব তথ্য উল্লেখ করার পাশাপাশি বিও অ্যাকাউন্টের বিবরণী ঘোষণাপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সালাউদ্দিন আহমেদ খান বণিক বার্তাকে বলেন, এটি খুবই দুঃখজনক যে, নিয়মিত করদাতারা ২৫ শতাংশ হারে কর দেবেন, আর ফাঁকিবাজরা মাত্র ১০ শতাংশ হারে কর দিয়েই অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করতে পারবেন। তিনি বলেন, অতীত অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায়, অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ শেয়ারবাজারে খুব বেশি প্রভাব ফেলবে না। কারণ এর আগে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও আশানুরূপ ফল পাওয়া যায়নি। তারল্য সরবরাহ না বাড়ালে বাজারের স্থিতিশীলতা টিকবে না। তবে অপ্রদর্শিত অর্থ প্রাইমারি শেয়ারে বিনিয়োগে ১০ শতাংশ রিবেটের যে সুযোগ দেয়া হয়েছে, সেটি তিনি সমর্থন করেন। তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় নীতিমালা সাপেক্ষে প্লেসমেন্ট শেয়ার বরাদ্দ দেয়া প্রয়োজন। এটি কোম্পানির জন্য ভালো। কারণ আইপিওর চাইতে প্লেসমেন্টে খরচ অনেক কম।
এ বিষয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আহসানুল ইসলাম টিটো বলেন, এটি সরকারের একটি ভালো উদ্যোগ। তবে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগে বেশি মনিটরিং করা হলে প্রত্যাশিত মাত্রায় হয়তো বিনিয়োগ আসবে না। প্রাইমারি শেয়ারে বিনিয়োগে রিবেটের সুযোগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এটি নট ফেয়ার। সুযোগ দেয়া হলে প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি মার্কেটে একসঙ্গেই দেয়া উচিত্। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী যেখানে শেয়ারবাজারে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ দেয়ার কথা বলেছেন সেখানে আমলারা নানা রকম শর্ত জুড়ে দেয়ায় অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের মূল উদ্দেশ্য হয়তো সফল হবে না।

আমাদের সময়, আলোচনা, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, জনকন্ঠ, ডেসটিনি, দিগন্ত, দিনের শেষে, নয়া দিগন্ত, প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ভোরের কাগজ, মানবজমিন, মুক্তমঞ্চ, যায় যায় দিন, যায়যায়দিন, যুগান্তর, সংগ্রাম, সংবাদ,চ্যানেল আই, বাঙ্গালী, বাংলা ভিশন, এনটিভি,এটিএন বাংলা, আরটিভি, দেশ টিভি, বৈশাখী টিভি, একুশে টিভি, প্রবাস, প্রবাসী, ঠিকানা, জাহান হাসান, বাংলা, বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস, লিটল বাংলাদেশ, ইউএসএ, আমেরিকা, অর্থনীতি, প্রেসিডেন্ট ওবামা,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,অর্থ, বাণিজ্য, শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, রাজাকার, আল বদর, সুখ, টেলিভিশন, বসন্ত উৎসব, Jahan, Hassan, jahanhassan, Ekush, bangla, desh, Share, Market, nrb, non resident, los angeles, new york, ekush tube, ekush.info,

‘শব্দমালায় ধুপগন্ধ আজ’


লসএঞ্জেলেস শব্দমালার কবিতা সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত
লসএঞ্জেলেস সংবাদদাতাঃ লসএঞ্জেলেসে ব্যতিক্রমধর্মী অনুষ্ঠান ‘শব্দমালায় ধুপগন্ধ আজ’ শিরোনামে একটি অনবদ্য কবিতা সন্ধ্যা হয়েছে গত ২৭ নভেম্বর। রাইটারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, ক্যালিফোর্নিয়া এই একটি কবিতা সন্ধ্যার আয়োজন করে। লসএঞ্জেলেসে কমিউনিটিতে স্থানীয় রাজনৈতিক কোন্দল, দলাদলি, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব নিয়ে যখন কমিউনিটির মানুষ ব্যতিব্যস্ত, তারই মাঝে রাইটারসএসোসিয়েশন সকল দ্বন্দ্বকে উপেড়্গা করে প্রবাসের কবিতা চর্চাকে অব্যাহত ও উন্নতর করার জন্য ব্যতিক্রমধর্মী কবিতা সন্ধ্যা অব্যাহত রেখেছে। যখনই লসএঞ্জেলেসে কমিউনিটিতে সামাজিক পরিস্থিতিতে অস্থিরতা বিরাজ করে তখনই কবিতার সন্ধ্যায় শব্দের ধূপজ্বলে ওঠে। বিগত দিনে ফোবানার সময় এমনটি ঘটেছে, এখন বাফলার অস্থিরতার মধ্যে কবিতার সন্ধ্যাটি ছিল একটি চ্যালেঞ্জ । জনৈক নেতা ঘোষণা দিয়েছিলেন কবিতার সন্ধ্যায় যারা অংশগ্রহণ করবেন তাদের সাথে তার সম্পর্ক থাকবেনা। অনেকেই সম্পর্কচ্ছেদ না করার জন্য কবিতার সন্ধ্যায় ধূপের গন্ধ্য নিতে আসেনি। যারা সত্যিকার শিল্পসাহিত্যের অনুরাগী, তারা প্রতিহিংসার উর্ধ্বে উঠে শব্দের মালাকে ভালবেসে ‘ধূপগন্ধ আজ’ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছিলেন। থেমে থাকেনি কবিতা সন্ধ্যার আয়োজন। স্বরচিত কবিতার সন্ধ্যায় এক কবি বলে উঠেছিল ‘খাজনা দেবে না, অথচ ট্রানজিট নেবে! কোন অধিকারে বলো, খাজনা দেবোনা? ট্রানজিট নিলে কর দিতে হবে,স্বাধীনতার স্বাধীকার মানতে হবে, নইলে করিডোর বন্ধ হবে।


তৌরাত রেষ্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত এই কবিতা সন্ধ্যার অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কাজী মাশহুরুল হুদা। উলে্‌রখ্য, একমাত্র রাইটারস এসোসিয়েশনই বিশুদ্ধ কবিতার চর্চা লসএঞ্জেলেসে করার গৌরব অর্জন করেছে। এদিন কবিতাপাঠে অংশগ্রহণ করে তাবাসসুম হামিদা আলম, শাহ আলম, কাজী মাশহুরুল হুদা, কানিজ ফাতিমা শিমুল, মুক্তা সিনহা, বুলবুল সিনহা, মার্টিন রহমান, রওনক সালাম, নাসির আহমেদ অপু প্রমুখ। শিল্পী গোষ্ঠির অন্যতম গীতিকার, সুরকার কন্ঠশিল্পী অপু কবিতার সাথে গান গেয়ে সকলকে মুগ্ধ করেন। কবিতার পর ছিল কবিতা নিয়ে সকলের ব্যক্তিগত আলাপচারিতা ও নৈশভোজ।

বিজয় দিবস উপলক্ষে রাইটারর্স এসোসিয়েশন অব ক্যালিফোর্নিয়া ২৫ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টায় ‘ঐ নতুনের কেতন ওড়ে’ শিরোনামে আরেকটি কবিতা সন্ধ্যার আয়োজন করতে যাচ্ছে তৌরাত রেস্টুরেন্টে।

টিভি গাইডঃ ঈদের অনুষ্ঠানমালা


টিভি গাইড

ঈদের আগের দিন

বিটিভি

৫-৩০ ঈদের তাৎপর্য ও নিয়মাবলী

৫৫-৫৫ মনের কথা

৬-১৫ ছোটদের অনুষ্ঠান

৭-০০ নৃত্যানুষ্ঠান

৭-৩০ ঈদের রান্না

৯-০০ সঙ্গীতানুষ্ঠান

১০-৩০ আনন্দ মেলা

১২-০০ খোলা চিঠি

এটিএন বাংলা

৯-১৫ নাটক: লীলাবতী

১০-৩০ টকশো: হ্যালো বাংলাদেশ

১১-১৫ সিটি ভিশন ২০২০

১২-১৫ সড়ুল ভিত্তিক ম্যাগাজিন: অফ টাইম

১-২৫ সঙ্গীতানুষ্ঠান: এটিএন মিউজিক

২-৪৫ ছায়াছবি: বধুবরণ

৬-১০ মুক্তিপ্রাপ্ত ছায়াছবি নিয়ে : শুভমুক্তি

৮-০০ নাটক: হাজার রজনীর গল্প

৯-১০ গীত ও গজলসন্যা

১০-৫৫ নাটক: প্রপোজাল

চ্যানেল আই

১-৩০ হূদয়ের গান

২-৪০ ধারাবাহিক নাটক ভালোমন্দ মানুষেরা

৩-০৫ চ্যানেল আই সেরাকণ্ঠ’১০

৩-৩০ আপনার সুস্বাস্থ্য

৪-০৫ মুক্তিযুদ্ধ প্রতিদিন

৫-৩০ গল্প নয় নাটক

৬-০০ ধারাবাহিক নাটক কষ্ট শুধুই আমার

৬-১৫ স্পেশাল অনুষ্ঠান

৬-৩০ বিহাইন্ড দ্যা সিন অব গহীনে শব্দ

৭-৫০ নাটক: হোয়াইটওয়াশ

১১-৩০ তারকাদের নিয়ে অনুষ্ঠান ঈদ ভাবনা

১২-০০ আজকের সংবাদপত্র

একুশে টেলিভিশন

৭-৩০ নাটক: জিন্নাহ কশাই

৮-৩০ নৃত্যানুষ্ঠান: নাচ আনন্দ

৯-৩০ চলচ্চিত্র বিষয়ক অনুষ্ঠান: ঈদ মুভিজ

১০-০০ অপূর্ব সঙ্গে তাহাদের মধুচন্দ্রিমা

১১-৩০ নাটক: তিনটি প্রিয় মুখ

১২-৩০ এন্ড্রূ কিশোর ও সাবিনা ইয়াসমিন মিউজিক স্পেশাল: গানের পাখি

আরটিভি

৮-০০ ঈদ স্পেশাল বোটানিক এরোমা

১২-০৫ নিউজ হেডলাইন

২-৩০ টেলিফিল্ম: ঝুমুর ঝুমুর প্রেম

৪-৪৫ হজ্ব ও ওমরা

৫-৪৫ ত্যাগের মহিমায় কোরবানী

৮-০০ ঈদ স্পেশাল নৃত্যানুষ্ঠান

৯-০০ নাটক: দুই লাইন কম বুঝে

১১-৩০ নাটক: তোমাদের সাগড় পাড়ে

ঈদের দিন

বিটিভি

৪-০৫ নৃত্যানুষ্ঠান

৪-৪০ সঙ্গীতানুষ্ঠান

৫-৪০ তারার ভূবনে সুরের ছোঁয়া

৭-০০ ছায়াছন্দ

৮-৩০ ঈদের নাটক

১০-২৫ আনন্দ মেলা

এনটিভি

১০-০৫ পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা ছায়াছবি ‘লুটতরাজ’

২-৩০ টেলিফিল্ম ‘অ্যাংকর মফিজ’

৫-৩০ একটি ভুবন দুটি তারা

৬-১৫ এলো খুশির ঈদ

৮-১৫ বিশেষ নাটক ‘চন্দ্রাহত’

৯-৪৫ অ্যাডভেঞ্চার গেইম শো ‘জি-ফ্যাক্টর’

১১-৩০ মিনিটে প্রচারিত হবে নাটক ‘৫.৫’

এটিএন বাংলা

০৯-১০ ছোটদের ‘ঈদ আনন্দে মাতি’

১০-০০ এটিএন বাংলা সংবাদ

১০-৩০ রান্নার অনুষ্ঠান ‘এটিএন রান্নাঘর’

১১-১৫ বিশেষ সঙ্গীতানুষ্ঠান ‘অজান্তে’

১২-১৫ সঙ্গীতানুষ্ঠান ‘মুসাফির চলতে চলতে’

১২-৪৫ ঈদের বিশেষ টেলিছবি ‘কৃষ্ণপক্ষ খোঁজে কুমারী চাঁদ’

০৩-৩০ ছায়াছবি ‘চিরদিন আমি তোমার’

০৭-৪৫ বিশেষ নাটক ‘গণিত মানব’

০৮-৫০ ঈদের বিশেষ নাটক ‘?’

১০-৪৫ ইভা রহমানের একক সঙ্গীতানুষ্ঠান মন থেকে দূরে নয়

একুশে টিভি

০৮.০০ বিশেষ অনুষ্ঠান ঃ কুরবানীর মহিমা

০৮.৩০ বিশেষ একুশের সকাল(সরাসরি)

০৯.৩০ বিশেষ অনুষ্ঠান ঃ মজার কিচ্ছা

১০.০২ ঈদ স্পেশাল মুক্ত খবর

১১.৩০ ডকুড্রামা ঃ অপেক্ষা, আনন্দ, বেদনা

১২.০২ বিশেষ একুশের দুপুর(সরাসরি)

১২.৩০ রান্নাবিষয়ক ঃ টমি মিয়ার রেসিপি

০১.৩০ বাংলা সিনেমা : আমার স্বপ্ন তুমিপরিচালনা ঃ হাসিবুল ইসলাম মিজান

০৫.২৫ ঈদ এক্সক্লুসিভ মোমেন্টস

০৬.৩০ বিশেষ একুশের সন্ধ্যা(সরাসরি)

০৭.৩০ বিশেষ নাটক ঃ জিন্নাহ কশাই

০৮.৩০ বিশেষ নৃত্যানুষ্ঠান ঃ নাচ আনন্দ

০৯.৩০ চলচ্চিত্র বিষয়ক ঃ ঈদ মুভিজ

১০.০০ অপুর্বর সঙ্গে তাহাদের মধুচন্দ্রিমা

১১.৩০ বিশেষ নাটক ঃ তিনটি প্রিয় মানুষ

১২.৩০ বিশেষ এন্ড্রু কিশোর ও সাবিনা ইয়াসমিন মিউজিক স্পেশাল ঃ গানের পাখি

চ্যানেল আই

৮.০৫ ঈদ স্পেশাল

১০.৪০ পূরবী ঈদ আনন্দ

১১.৩০ ঈদ স্পেশাল নাটক

১.৩০ গহীনে শব্দ

২.০০ চ্যানেল আই দুপুরের সংবাদ

৬.৩০ বিহাইন্ড দ্য সিন অব ডুবসাঁতার

৭.০০ চ্যানেল আই সন্ধ্যার সংবাদ

৭.৫০ মীরার দিন-রাত্রি (নাটক)

৯.০০ চ্যানেল আই রাতের সংবাদ

৯.৩৫ আলাপী (নাটক)

১০.৩০ চ্যানেল আই রাতের সংবাদ

১২.০০ ভালোবাসার বাংলাদেশ, পর্ব-১

আরটিভি

০৮-৩০ ঈদ স্পেশাল বোটানিক এরোমা

০৯-০০ নির্বচিত অনুষ্ঠান

০৯-৪৫ আরটিভির সকালের সংবাদ

১০-০০ বাংলা ছায়াছবি- ভাইয়া

১২-০৫ নিউজ হেডলাইন

০২-৩০ ঈদ টেলিফিল্ম- হাট টু ডুডু

০৪-৪৫ বিশেষ অনুষ্ঠান- দস্যুদের দস্যিপনা

০৮-০০ ঈদ ধারাবাহিক ‘গরিবের বন্ধু’

০৯-০০ ঈদ নাটক ‘সারমেয়’

১১-৩০ ঈদ জেগে আছো কি?

বাংলাভিশন

৮:০০ ঈদের বিশেষ নাটক ‘দি কাউ’

৯:০০ বাংলাভিশন নিউজ টপ টেন

৯:০৫ এলিট লাচ্ছা সেমাই আমাদের রান্নাঘর

৯:৩০ বাংলাভিশনের ঈদ আয়োজন

১০:০০ বাংলাভিশন সংবাদ

১০:১০ বাংলা চলচ্চিত্র ‘সুন্দরী বধূ’

১:০০ বাংলাভিশন নিউজ টপ টেন

২:০০ বাংলাভিশন সংবাদ

২:১০ বিটিভির সংবাদ

২:৪০ বিশেষ টেলিফিল্ম ‘বেহালা’

৪:০০ বাংলাভিশন সংবাদ

৫:০০ সংবাদ দেশজুড়ে

৫:১৫ বাংলাভিশনের ঈদ আয়োজন

৬:০০ বাংলাভিশন নিউজ টপ টেন

৬:০৫ মঞ্চ থেকে পর্দায়

৭:৩০ বাংলাভিশন সংবাদ

৮:১০ বিশেষ নাটক ‘চাঁদের বুড়া’

৯:৪০ গানের যাদুকরদের ‘সালেকা মালেকা’

১১:১৫ বিশেষ নাটক ‘হাইওয়ে টু হেভেন’

দেশ টিভি

৮:০০ গানের- খুঁজি তারে নতুন করে

৯:০০ কার্টুন ছবি: টম অ্যান্ড জেরি

৯:৩০ শিশুতোষ: কল্পলোকের গল্পকথা

১০:৩০ ছায়াছবি: রূপবান

২:৩০ টেলিফিল্ম: আয়শার ইতিকথা

৬:০০ বিশেষ রান্নার অনুষ্ঠান: রান্না বান্না

৬:২৫ সেলিব্রেটি শো: হঠাৎ একদিন

৭:৩০ ৭ দিনের ধারাবাহিক নাটক: মুর্তি

৮:৩০ সাত তরুনের নাটক: যা দেখি নাই

১০:০০ ৭ দিনের ধারাবাহিক নাটক: জিম্মি

১১:৪৫ লাইভ শো : ব্যান্ডদল বাংলা

বৈশাখী

১০.৪০ ছায়াছবি: পৃথিবী তোমার আমার

৩.১০ টেলিফিল্ম : গেন্দু চোরার প্রেম কাহিনী

৫.২০ ঈদ সিনেমার গান

৬.২০ গাঁও গেরামের ঈদ: পর্ব-১

৭.৫০ ধারাবাহিক প্রেমের নাম বেদনা- পর্ব ১

৮.৩০ বিশেষ নাটক : মুগ্ধ নীলিমার প্রান্ত

১০.৩৫ বিশেষ নাটক: জোড়া শালিক

১২.০০ সময় কাটুক গানে গানে

দিগন্ত টিভি

১১-৩০ আনন্দ সম্ভার

১২-০০ মধ্যাহ্নের সংবাদ

০২-০০ দুপুরের সংবাদ

০২-৩০ দি উইলো টি

০৪-৩০ বানিজ্য সংবাদ

০৬-০৫ প্রাণে প্রাণে ঈদ প্রচার

০৭-০০ নিউজ আওয়ার

০৮-০৫ কথায় গানে ঈদের দিনে

০৯-০০ বিশেষ নাটক ‘দুই তষ্কর’

১০-০০ প্রাইম টাইম

১১-০৫ কিছুক্ষণ

ঈদের দ্বিতীয় দিন

বিটিভি

৫-৩০ নাটক: বাবা

৭-০০ তারাদের গান

৭-৩০ বেশী ছিল অভিমান

৮-৩০ নাটক: ব্যান্ড মাষ্টারের কোরবানী

১০-৩০ নাটক: তোমার জন্য উপহার

এনটিভি

১০-০৫ পূর্ণদৈঘর্্য বাংলা ছায়াছবি ‘মায়ের হাতে বেহেস্তের চাবি’

২- ৩০ মিনিটে প্রচারিত হবে টেলিফিল্ম ‘ইনসমনিয়া’

৫-৩০ সঙ্গীতানুষ্ঠান ‘মনে লাগে দোলা’

৬-৪৫ প্রীতি বিতর্ক অনুষ্ঠান ‘তর্কে বহুদূর’

৮-১৫ মিনিটে প্রচারিত হবে নাটক ‘ভালবাসি তোমাকেই’

৯-১৫ মিনিটে প্রচারিত হবে সঙ্গীতানুষ্ঠান ‘দু’জনে মিলে’

১১-৩০ মিনিটে প্রচারিত হবে নাটক ‘দ্বিধা’

এটিএন বাংলা

১০-৩০ ছোটদের ‘রাম গরুড়ের ছানা’

১১-১৫ রম্য বির্তক ঈদ আনন্দ ডট কম

১২-১০ পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা ছায়াছবি ‘ঢকাইয়া পোলা বরিশালের মাইয়া’

০৩-৪৫ বিশেষ টেলিছবি ‘ভ্যাজাল মন্ডল’

০৬-১০ বিশেষ সঙ্গীতানুষ্ঠান ‘টিউন ক্যাফে’

০৭-৪৫ ঈদের বিশেষ নাটক ‘মায়া ম্যাডাম’

০৮-৫০ ঈদের বিশেষ নাটক ‘তুরুপের তাস’

১০-৪০ ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘পাঁচ ফোড়ন’

একুশে টিভি

০৯.৩০ বিশেষ অনুষ্ঠান ঃ মজার কিচ্ছা

১০.০২ বিশেষ নাটক ঃ জিন্নাহ কশাই

১১.৩০ শিশুতোষ ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ঃ স্বপ্ন

০১.৩০ ছায়াছবি: ফুল নেবো না অশ্রু নেবো

০৫.২৫ এক্সক্লুসিভ ইভেন্টস

০৭.৩০ বিশেষ নাটক ঃ পুরুষ আশ্রম

০৮.৩০ মিলার একক ঃ দোলা দে

০৯.৩০ বিশেষ নৃত্যানুষ্ঠান ঃ রঙের নাচ

১০.০০ বিশেষ নাটক ঃ অপেক্ষা

১১.৩০ বিশেষ নাটক ঃ কনফিডেন্স

১২.৩০ বিশেষ ফোনো লাইভ স্টুডিও

চ্যানেল আই

৭.০০ চ্যানেল আই সকালের সংবাদ

৮.০৫ ঈদ স্পেশাল

৯.০০ চ্যানেল আই সকালের সংবাদ

৯.৪৫ গ্রামীণফোন তৃতীয় মাত্রা

১০.৩০ ডুবসাঁতার ছায়াছবি

৩.০৫ নিউইয়র্ক (টেলিফিল্ম)

৫.৩০ হূদয়ের ছবি (নাটক)

৭.৫০ গন্তব্যের পথে (নাটক)

৯.৩৫ লাভ ষ্টোরী ২০২০ (নাটক)

১২.০০ ভালোবাসার বাংলাদেশ, পর্ব-২

আরটিভি

০৮-৩০ ঈদ স্পেশাল বোটানিক এরোমা

০৯-০০ নির্বচিত অনুষ্ঠান

০৯-৪৫ আরটিভির সকালের সংবাদ

১০-০০ বাংলা ছায়াছবি – ভাইয়া

১২-০৫ নিউজ হেডলাইন

০২-৩০ ঈদ টেলিফিল্ম-হাট টু ডুডু

০৪-৪৫ বিশেষ অনুষ্ঠান- দস্যুদের দস্যিপনা

০৮-০০ ঈদ ধারাবাহিক ‘গরিবের বন্ধু’

০৯-০০ ঈদ নাটক ‘সারমেয়’

১১-৩০ ঈদ জেগে আছো কি?

বাংলাভিশন

৬:০০ ‘সালেকা মালেকা’

৬:৩০ সংগীতানুষ্ঠান ‘সেরাদের সেরা’

৮:০০ নৃত্যানুষ্ঠান ‘সোল ড্যান্স’

৮:৩০ সাবিনা ইয়াসমিনের ‘কেমন আছো’।

৯:০০ বাংলাভিশন নিউজ টপ টেন

৯:০৫ নাটক ‘জলতরঙ্গ’

১০:১০ বাংলা চলচ্চিত্র ‘উল্টা পাল্টা ৬৯’

২:৪০ টেলিফিল্ম ‘চিকেন টিক্কামাসালস্না’

৫:০০ সংবাদ দেশজুড়ে

৫:১৫ বাংলাভিশনের ঈদ আয়োজন

৬:০৫ ‘মন শুধু মন ছুয়েছে’

৮:১০ বিশেষ নাটক ‘সোনার ডিম’

৯:৪০ জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী রুনা লায়লার ‘তারার পানে চেয়ে’

১১:১৫ বিশেষ নাটক ‘আছে নাকি নাই’

১:৩০ বিশেষ নাটক ‘সোনার ডিম;

দেশ টিভি

৯:০০ বম্বে সুইটস ঈদ উৎসব: কার্টুন ছবি: টম অ্যান্ড জেরি

৯:৩০ বম্বে সুইটস ঈদ উৎসব: শিশুতোষ আয়োজন : কল্পলোকের গল্পকথা

১০:৩০ ছায়াছবি: খাইরুন সুন্দরী

২:৩০ টেলিফিল্ম: ধুলোর মানুষ, মানুষের ঘ্রান

৬:০০ বিশেষ রান্নার অনুষ্ঠান: রান্না বান্না

৬:২৫ ফান শো: দেশ ব গল্প

৭:৩০ ৭ দিনের ধারাবাহিক নাটক: মুর্তি

৮:৩০ সাত তরুনের নাটক: সব রাতের গল্প এক রকম নয়

১০:০০ ৭ দিনের ধারাবাহিক নাটক: জিম্মি

১১:৪৫ লাইভ শো: ঈধষষ- এর গান : কোলকাতার ব্যান্ডদল দোহার

বৈশাখী

৯.১৫ নির্বাচিত অনুষ্ঠান

১০.৪০ ছায়াছবি: সত্য মিথ্যার লড়াই

৩.১০ টেলিফিল্ম : ভালবাসার উল্টোপিট)

৫.২০ ঈদ সিনেমার গান

৬.২০ গাঁও গেরামের ঈদ : পর্ব-২

৭.৫০ ধারাবাহিক প্রেমের নাম বেদনা- পর্ব ২

৮.৩০ বিশেষ নাটক : আমাদের ফলো করু

১০.৩৫ নাটক সুখ-অসুখের সালতামামি

১২.০০ সময় কাটুক গানে গানে (লাইভ মিউজিক্যাল শো)

দিগন্ত টিভি

১১-৩০ আনন্দ সম্ভার

১২-০০ মধ্যাহ্নের সংবাদ

০২-০০ দুপুরের সংবাদ

০২-৩০ বাংলা ছায়াছবি জজ ব্যরিস্টার

০৪-৩০ বানিজ্য সংবাদ

০৬-০৫ ফানশো

০৭-০০ নিউজ আওয়ার

০৮-০৫ মিউজিক ক্যারাভান

০৯-০০ বিশেষ নাটক একটি নোট

১০-০০ প্রাইম টাইম

ঈদের তৃতীয় দিন

বিটিভি

১১-০৫ ঈদ আনন্দ

৫-৩০ নাটক: অত:পর টিয়া পাখি উড়িয়া চলিল

৭-০০ সিনে ম্যাগাজিন তারকা মেলা

৭-৩০ সঙ্গীতানুষ্ঠান: চাওয়া পাওয়া

৮-৩০ নাটক: শালিকের ঘাড়ে রোগ

১০-৩০ নাটক: সেই তো আবার

এনটিভি

১০-০৫ পূর্ণদৈঘর্্য বাংলা ছায়াছবি ‘মনের সাথে যুদ্ধ’

২-৩০ মিনিটে প্রচারিত হবে টেলিফিল্ম ‘ছবিওয়ালা’

৫-৩০ ‘বৃত্তের বাইরে’

৬-১৫ সেলিব্রেটি শো ‘মিট দ্য সেলিব্রেটি’

৮-১৫ নাটক ‘চোখ’

৯-১৫ সঙ্গীতানুষ্ঠান ‘মন পবনের ঘুড়ি’

১১-৩০ নাটক ‘স্বপ্ন’

এটিএন বাংলা

১০-৩০ বিশেষ সঙ্গীতানুষ্ঠান ‘রম্যরস’

১১-১৫ বিশেষ নৃত্যানুষ্ঠান ‘আনন্দ হিলেস্নাল’

১২-১০ বিশেষ সঙ্গীতানুষ্ঠান ‘অবশেষে পেলাম’

১২-৪৫ ছায়াছবি ‘চাঁদের মত বউ’

০৪-৩০ বিশেষ টেলিছবি ‘দরজার ওপাশে’

০৭-৪৫ বিশেষ নাটক ‘ভরসা কোচিং সেন্টার’

০৮-৫০ ঈদের বিশেষ নাটক ‘অ্যান্টিক্লক’

১০-৪০ শিল্পী সাবিনা ইয়াসমিনের একক সঙ্গীতানুষ্ঠান ‘গল্প গানে সাবিনা ইয়াসমিন’

একুশে টিভি

০৭.০০ একুশে সংবাদ

০৮.০০ আজকের পত্রিকায়

০৮.৩০ বিশেষ একুশের সকাল(সরাসরি)

০৯.০০ একুশে সংবাদ

০৯.৩০ বিশেষ অনুষ্ঠান ঃ মজার কিচ্ছা

১০.০২ বিশেষ নাটক ঃ পুরুষ আশ্রম

১১.০০ একুশে সংবাদ

১১.৩০ গাও গেরামের ঈদ

১২.০২ বিশেষ একুশের দুপুর(সরাসরি)

১২.৩০ রান্নাবিষয়ক ঃ টমি মিয়ার রেসিপি

০১.০০ একুশে সংবাদ

০১.৩০ বাংলা সিনেমা : মায়ের মত ভাবী

০৫.০০ একুশের সংবাদ

০৫.২৫ এক্সক্লুসিভ ইভেন্টস ঃ আইডল নাইটথাকছেন শ্রীরাম, ভূমি , রাকেশ

০৬.৩০ বিশেষ একুশের সন্ধ্যা(সরাসরি)

০৭.০০ একুশে সংবাদ

০৭.৩০ বিশেষ নাটক ঃ মায়াজাল

০৮.৩০ বিশেষ অনুষ্ঠান ঃ পপ কর্ণ

০৯.০০ একুশে সংবাদ

০৯.৩০ বিশেষ চলচ্চিত্র বিষয়ক ঃ ঈদ মুভিজ

১০.০০ বিশেষ নাটক ঃ মামার বালিশ কোথায়

১১.০০ একুশে সংবাদ

১১.৩০ নাটক ঃ মনু মিয়ার মালকা বানু

১২.৩০ বিশেষ ফোনো লাইভ স্টুডিও কর্নসার্টথাকছে আরফিন রুমি

চ্যানেল আই

৭.০০ চ্যানেল আই সকালের সংবাদ

৮.০৫ ঈদ স্পেশাল

৯.০০ চ্যানেল আই সকালের সংবাদ

৯.৪৫ গ্রামীণফোন তৃতীয় মাত্রা

১০.৩০ জব্বর আলী (নাটক)

১২.৩৫ নায়িকার মা (টেলিফিল্ম)

১.৩০ এক প্রেম দুই গল্প (টেলিফিল্ম)

২.০০ চ্যানেল আই দুপুরের সংবাদ

৪.৩০ কৃষকের ঈদ আনন্দ (গেম শো)

৫.০০ জনপদের খবর

৫.১৫ কৃষি সংবাদ

৬.০০ ঈদ স্পেশাল

৭.৫০ কমিশনার (নাটক)

৯.০০ চ্যানেল আই রাতের সংবাদ

৯.৩৫ বাতাস যখন খুঁজে পেল কাঁশবন (নাটক)

১০.৩০ চ্যানেল আই রাতের সংবাদ

১.০০ গ্রামীণফোন তৃতীয় মাত্রা

আরটিভি

০৮-৩০ ঈদ স্পেশাল বোটানিক এরোমা

০৯-৪৫ আরটিভির সকালের সংবাদ

১০-০০ বাংলা ছায়াছবি- ভাইয়ের শত্রু ভাই

১২-০৫ নিউজ হেডলাইন

০১-৪৫ আরটিভি সংবাদ

০২-৩০ ঈদ টেলিফিল্ম- ‘সায়াহ্নে’

০৪-৪৫ নৃত্যাঅনুষ্ঠান- নুপুরের ছন্দে

০৮-০০ ঈদ ধারাবাহিক ‘গরিবের বন্ধু’

০৯-০০ ঈদ নাটক ‘ফেলু কাজল’

১০-৪৫ আরটিভি সংবাদ

১১-৩০ নুরজাহান আরটিভি স্টুডিও ঈদ কনসর্াট

বাংলাভিশন

৮:৩০ রুনা লায়লার একক গানের অনুষ্ঠান ‘আমি আছি তোমাদের হূদয়ে’

৯:০৫ নাটক ‘ঢোলের বাদ্য’

১০:১০ বাংলা চলচ্চিত্র ‘সবার উপরে প্রেম’

২:৪০ ঈদ উপলক্ষে বিশেষ টেলিফিল্ম ‘সাম্পান’

৪:০০ বাংলাভিশন সংবাদ

৫:০০ সংবাদ দেশজুড়ে

৫:১৫ বাংলাভিশনের ঈদ আয়োজন

৬:০৫ ‘গুরুকে সালাম’

৮:১০ বিশেষ নাটক ‘আরমান ভাই ফাইসা গেছে’

৯:৪০ ঈদ উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠান ‘নায়ক মহানায়ক’

১০:৩০ বাংলাভিশন সংবাদ

১১:১৫ ঈদ উপলক্ষে বিশেষ নাটক ‘এক কোটি পনেরশ ষাট টাকা’

দেশ টিভি

৯:০০ কার্টুন ছবি: টম অ্যান্ড জেরি

৯:৩০ শিশুতোষ : কল্পলোকের গল্পকথা

১০:৩০ ছায়াছবি: অবিচার

২:৩০ টেলিফিল্ম : সহোদর

৬:০০ বিশেষ রান্নার অনুষ্ঠান: রান্না বান্না

৬:২৫ সেলিব্রেটি শো: যা কিছু প্রথম

৭:৩০ ৭ দিনের ধারাবাহিক নাটক: মুর্তি

৮:৩০ সাত তরুনের নাটক: আপন খবর

১০:০০ ৭ দিনের ধারাবাহিক নাটক: জিম্মি

১১:৪৫ কোলকাতার ব্যান্ডদল চন্দ্রবিন্দু

বৈশাখী

৯.১৫ নির্বাচিত অনুষ্ঠান

১০.৪০ পূর্ণদৈর্ঘ বাংলা ছবি: মায়ের সম্মান

৫.২০ ঈদ সিনেমার গান

৬.২০ বিশেষ অনুষ্ঠান: রেডি স্টেডি গো

৭.৫০ ধারাবাহিক নাটক : প্রেমের নাম বেদনা-

৮.৩০ বিশেষ নাটক : স্বপ্নওয়ালা

১০.৩৫ বিশেষ নাটক: পূর্ণ দৈর্ঘ্য বাংলা

১২.০০ সময় কাটুক গানে গানে

দিগন্ত টিভি

০৬-৩০ পথ ও পাথেয়

০৮-০৫ সুবর্ণ সকাল (লাইভ)

১১-৩০ শিশুতোষ ম্যাগাজিন

০২-৩০ বাংলা ছাায়াছবি মহানায়ক

০৬-০৫ খুশির খেয়া

০৭-০০ নিউজ আওয়ার

০৮-০৫ রসনা বিলাস

০৯-০০ বিশেষ নাটক স্বার্থপর

১০-০০ প্রাইম টাইম

১১-০৫ গানে গানে ঈদ আনন্দে(লাইভ)

টিভি চ্যানেলগুলোতে বিজ্ঞাপনের নির্যাতন থেকে মুক্তি চাই : বিটিভি সরকারের নেতা মন্ত্রীদের দেখায়। প্রাইভেট টিভি চ্যানেলগুলো তাদের মালিক এবং বউ বাচ্চাদের দেখায়।


টিভি চ্যানেলগুলোতে বিজ্ঞাপনের নির্যাতন থেকে মুক্তি চাই
মহিউদ্দিন আহমদ

বাংলা টিভি

বাংলা টিভি

জনপ্রিয় কথাশিল্পী হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন উপলৰে তাঁর সাথে ঘনিষ্ঠ একটি প্রাইভেট টিভি চ্যানেল হুমায়ূন আহমেদের কাহিনী ও পরিচালনায় ‘নন্দিত নরকে’ পূর্ণদৈর্ঘ্য ছবিটি দেখতে আজ শনিবার সকাল থেকে মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। ইংরেজি দৈনিক ‘ডেইলি স্টার’ মোতাবেক ছবিটি শুরু হওয়ার কথা ছিল দুপুর ১টা ০৫ মিনিটের দিকে। তখন থেকেই শুরম্ন হয় বিজ্ঞাপনের দৌরাত্ম্য। একটানা চলল এই নির্যাতন ৩০ মিনিটের মতো। ছবিটি ‘নন্দিত নরকে’ নয়, ‘আমার আছে জল’_ শুরু হলো ১টা ৩৫-এর দিকে। তাও ভাবলাম, ঠিক আছে, হুমায়ূন আহমেদেরই ছবি তো, কিন্তু চলল ১টা ৫০ পর্যন্ত। তারপর আবার পুরো ১০ মিনিটের বিজ্ঞাপন নির্যাতন। ২টায় শুরু হলো দুপুরের খবর। চলল ২টা ৩০ পর্যন্ত। তারপর শুরু হলো বিটিভির খবরের পুনর্প্রচার। কয়েক মাস ধরেই বিটিভির খবরের নামে এই অত্যাচার চাপিয়ে দেয়া হয়েছে প্রাইভেট চ্যানেলগুলোর উপর। দেশে বিটিভিরই একমাত্র ‘টেরিস্ট্রিয়াল’, সম্প্রচার। শুরু থেকে একুশে টিভিরও এই সুবিধা ছিল। কিন্তু জামায়াত-জাতীয়তাবাদী জোট ২০০১-এর অক্টোবরে ক্ষমতায় এসে কয়েক মাসের মধ্যেই পুরো একুশে টেলিভিশনটাকেই বন্ধ করে দিল। বিএনপি-জামায়াতের পতনের পর কয়েক বছর আগে ‘একুশে’ টিভি যখন আবার পুনপ্রচার শুরু করল, তখন তার ‘টেরিস্ট্রিয়াল’ সুবিধাটুকু ‘একুশে’কে আর দেয়া হলো না। সুতরাং বিটিভিরই ‘টেরিস্ট্রিয়াল’ সম্প্রচারের একচেটিয়া অধিকার, মানে মনোপলি। তারপর কয়েক বছর ধরে বিটিভির ‘বিটিভি ওয়ার্ল্ড’ নামের আর একটি চ্যানেলে দুনিয়ার বিভিন্ন দেশে অনুষ্ঠানমালা প্রচার করে আসছে। তারপরও বিটিভির খবর প্রাইভেট চ্যানেলগুলোতে প্রচার করতে হবে কেন, তার কোন ব্যাখ্যা নেই। গ্রামেগঞ্জে যেখানেই বিদু্যত সংযোগ আছে, সেখানেই বিটিভির অনুষ্ঠানমালা দেখা যায়। তাহলে আরও বারো চৌদ্দটি প্রাইভেট চ্যানেলে বিটিভির এই খবর আবার দেখাতে হবে কেন? মানুষজনকে এই ‘খাদ্যটি’ খেতে বাধ্য করা হচ্ছে কেন?

প্রাইভেট চ্যানেলগুলোর বিজ্ঞাপনগুলোর সঙ্গে যখন বিটিভির এই ‘নিউজ বুলেটিন’ও প্রচার করতে হয়, তখন দর্শকদের ওপর নির্যাতনের মাত্রাটা আরও বাড়ে। যেমন দেখলাম আজ শনিবার। বিটিভির আরোপিত দুপুরের খবর চলল এই প্রাইভেট চ্যানেলটিতে অপরাহ্ন ৩টা পর্যনত্ম। তারপর আবার এই প্রাইভেট চ্যানেলটির নিয়মিত প্রতিদিনের ‘শীর্ষ খবর’। পাঁচ মিনিটের শীর্ষ খবর শেষে হুমায়ূন আহমেদের ছবিটি আবার শুরম্ন হলো ৩টা ০৫ মিনিটে। মানে, পুরো একঘণ্টা পনেরো মিনিট পর। তারপর প্রায় প্রতি ১০ মিনিট পর পর ১০ মিনিটের বিজ্ঞাপন যন্ত্রণা। ছবিটি শেষ হলো বিকাল ৫টায়। মানে পৌনে দু’ঘণ্টা, দু’ঘণ্টার ছবি দেখতে লাগল পুরো চারটি ঘণ্টা! নাগরিক জীবনের এতসব যন্ত্রণা, বিদু্যতের যন্ত্রণা, পানি গ্যাসে যন্ত্রণা, যানজটের যন্ত্রণা; এখন টিভি চ্যানেলগুলোর যন্ত্রণা। ঈদের দিন এবং তার আগে পরের কয়েকদিন এই যন্ত্রণার কোন সীমা পরিসীমা থাকবে না।

॥ দুই ॥
গত রোজার ঈদের অনুষ্ঠানমালায় টিভি চ্যানেলগুলো দর্শকদের ওপর কেমন বিজ্ঞাপন যন্ত্রণা চালিয়েছিল তার একটি নিখুঁত বর্ণনা দিয়েছেন বাংলাদেশ টেলিভিশনের এক সাবেক মহাপরিচালক মুস্তাফিজুর রহমান। গত ৮ নবেম্বর সোমবার দৈনিক ‘সমকাল’-এ “কৌন্ বনেগা ক্রোড়পতি” শিরোনামের লেখাটির কয়েকটি লাইন এমন : “গত ঈদে আমি একটি নাটক দেখতে বসেছিলাম। নাটক দেখছিলাম, সে সঙ্গে প্রায় ১০ মিনিট পর পর বিজ্ঞাপনও দেখছিলাম। এক পর্যায়ে দেখা গেল, নাটকের যে মূল চরিত্র বা নায়ক একটা ভয়ঙ্কর অবস্থায় পতিত হয়ে সেখান থেকে নিজেকে উদ্ধারের আপ্রাণ চেষ্টা করছে। নাটকটির এই পর্যায়ে এমন টানটান উত্তেজনা যখন অনুভব করছিলাম তখনই পর্দায় একটি লেখা ভেসে উঠল, বিজ্ঞাপন ও রাতের সংবাদের পর নাটকের বাকি অংশ দেখতে পাবেন। এর মানে আরও ৫০ মিনিট পর নাটকের বাকি ১০ মিনিট। আর দেখার ধৈর্য হলো না।” মুসত্মাফিজুর রহমান সাহেব গত ঈদের তিক্ত অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন উপরে উদ্ধৃত কয়েকটি লাইনে। আর আমার তিক্ত অভিজ্ঞতা কোরবানির ঈদের ৪ দিন আগের। টিভি চ্যানেলগুলোতে ঈদের দিনগুলোতে বিজ্ঞাপন যন্ত্রণার ওপর ঈদের কয়েকদিন পর তখন এই দৈনিক জনকণ্ঠেও একটি দীর্ঘ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল।

দেখা যাচ্ছে আমাদের টিভি চ্যানেলগুলো ঈদ এবং বিশেষ দিনগুলোতে তাদের অত্যাচারের মাত্রাটা বাড়িয়ে দেয়। অত্যাচার নির্যাতন বাড়িয়ে দেয় জনপ্রিয় অন্যসব অনুষ্ঠানেও। যেমন আজ দেখলাম হুমায়ূন আহমেদের ‘আমার আছে বলে’ ‘ফিচার’ ছবিটির প্রচারের সময়।

বিজ্ঞাপন ছাড়া টিভি চ্যানেলগুলো চালানো যাবে না, এই কথাটি দেশের প্রতিটি প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষ, মানে পাগল ও শিশু ছাড়া আর সকলেই জানে। বিজ্ঞাপনের টাকা ছাড়া টিভি চ্যানেলের কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতনভাতা, প্রাইভেট প্রোডাকশন কোম্পানিগুলো থেকে নাটক সিরিয়াল, গান বাজনার অনুষ্ঠান ক্রয়, কিছুই সম্ভব নয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, প্রতি ঘণ্টায় কত মিনিট বিজ্ঞাপনের জন্য বরাদ্দ থাকবে? বিজ্ঞাপনের এমন আধিক্যের কারণে একটি নীতিমালা এখন জরম্নরী হয়ে পড়েছে। নাটক অনুষ্ঠানের ফাঁকে ফাঁকে বিজ্ঞাপন? নাকি বিজ্ঞাপনের ফাঁকে ফাঁকে নাটক অনুষ্ঠান প্রচারিত হবে, তা দর্শকদের জানা দরকার। এই তথ্যটি দর্শকদের জানার অধিকার রয়েছে।

আমাদের টিভি চ্যানেলগুলো মানুষজনের বিভিন্ন অধিকারের প্রশ্নে যথার্থভাবেই সরব এবং সক্রিয়। কিন্তু টিভি চ্যানেলগুলোই যখন মানুষজনের অর্থাৎ দর্শকদের অধিকারে হামলা করছে, সেখানে এই ৰতিগ্রসত্ম মানুষগুলোর প্রতিকার কোথায় পাওয়া যাবে?
এই প্রতিকারটি আমাদের সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়টি দিতে পারে। প্রতি ঘণ্টার অনুষ্ঠানে কত মিনিট বিজ্ঞাপন প্রচার করা যাবে তথ্য মন্ত্রণালয় তা ঠিক করে দিতে পারে। অথবা প্রতিটি চ্যানেল এককভাবে তার নিজের অনুসরণের জন্য, অথবা সব প্রাইভেট টিভি চ্যানেল, সকল চ্যানেলের জন্য প্রযোজ্য একটি নীতিমালা প্রণয়ন করতে পারে। কোন চ্যানেল এই নীতিমালা লঙ্ঘন করলে, লঙ্ঘনকারী সেই চ্যানেলের বিরম্নদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথাও থাকতে হবে এই নীতিমালায়। দুনিয়ার সকল উন্নত দেশেই অনুষ্ঠান প্রচারের সময় এবং তার ফাঁকে ফাঁকে বিজ্ঞাপন প্রচারের সময় নির্ধারণ করা আছে। অনেক উন্নয়নশীল দেশেও তার প্রচলন শুরম্ন হয়েছে।

তথ্য অধিকার আদায়ে এবং রৰায় আমাদের গণমাধ্যমগুলোর সাথে যে কোন গণতন্ত্রমনা মানুষ একাত্মতা প্রকাশ করবে। কিন্তু কত ঘণ্টার টিভি প্রোগ্রামে কত সময় বিজ্ঞাপনের জন্য নির্ধারিত থাকবে, এই তথ্যটা জানাও শ্রোতা-দর্শকদের অধিকার।

॥ তিন ॥
দর্শকদের পছন্দ অপছন্দের তোয়াক্কা করছে না আমাদের টিভি চ্যানেলগুলো। তাইতো চ্যানেল মালিকরা দর্শকদের অনুভূতিগুলোর প্রতি এমন অবজ্ঞা দেখাতে পারে। টিভি চ্যানেলগুলোর মালিকরা তাদের এই চ্যানেলগুলোতে বিশাল পরিমাণের পুঁজি বিনিয়োগ করেছেন। সুতরাং তারা লাভ করবেন তা প্রত্যাশিত। কিন্তু বিজ্ঞাপনের এত আধিক্যের কারণে আবার কী, তারা লুণ্ঠনের মানসিকতাতেই বেশি তাড়িত হচ্ছেন। নিউজ বুলেটিনগুলোর বিভিন্ন অংশে বিভিন্ন বিজ্ঞাপনদাতার ব্র্যান্ড প্রচারিত হচ্ছে এখন। মাত্র আধঘণ্টার একটি বুলেটিনে এখন আরও আটটি বিজ্ঞাপনও দেখা যাচ্ছে। পুরনো চ্যানেল একটির এক মালিক নাকি খবর পাঠকদের সু্যট, পাঞ্জাবিতে এবং খবর পাঠিকাদের বাড়িতেও বিজ্ঞাপনদাতা কোম্পানির ‘লোগো’ লাগাতে চাইছেন। ক্রিকেট খেলোয়াড়দের আমরা এখন যেমন দেখি।

একদিকে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশের বিজ্ঞাপনের বাজারটি বড় নয়। এই বাজারটিতে ভাগ আছে প্রিন্ট মিডিয়া, রেডিও এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ার। পত্রপত্রিকার সংখ্যা বাড়ছে। এখন এক ঢাকা শহর থেকেই ২০১টি দৈনিক পত্রিকা প্রকাশিত হচ্ছে। এই তথ্যটি পাওয়া যাবে আমাদের চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদফতরের ২০০৮-এর বার্ষিক সাময়িকী প্রতিবেদনে। পত্রিকার সংখ্যা বাড়ছে, বাড়ছে এফএম রেডিও এবং টিভি চ্যানেলের সংখ্যাও। একজন সাধারণ দর্শকও তাহলে একটি অতি সাধারণ প্রশ্ন করতে পারে, বিজ্ঞাপনের বাজার এত সীমিত জেনেও প্রাইভেট সেক্টরের কিছু লোক পত্রপত্রিকা প্রকাশে এবং টিভি চ্যানেলের লাইসেন্স যোগাড়ে এত আগ্রহী, এত মরিয়া কেন?

এই দেশের মানুষ দেখতে পাচ্ছে, গণমাধ্যমের মালিক হওয়ার পর অন্যান্য ৰেত্রেও ব্যবসার সম্প্রসারণ ঘটছে। কেউ কেউ অবশ্য পয়সাওয়ালা হওয়ার আগেই পত্রিকার মালিক ছিলেন। কিন্তু দুটো পুরনো প্রাইভেট টিভি চ্যানেলের মালিকদের একজন ওষুধ কোম্পানি খুলে রমরমা ব্যবসা করছে। আর অন্য চ্যানেলটির অন্য এক মালিক তার স্ত্রীর গানের অডিও ক্যাসেট, সিডি এবং ডিভিডির দোকানও খুলে বসেছেন। আত্মীয়-স্বজনকে তুলে ধরার নির্লজ্জ অপচেষ্টা, অপতৎপরতাও চলছে কতগুলো চ্যানেলে। তাহলে বিটিভির দোষ কি? বিটিভি সরকারের নেতা মন্ত্রীদের দেখায়। প্রাইভেট টিভি চ্যানেলগুলো তাদের মালিক এবং বউ বাচ্চাদের দেখায়।

॥ চার ॥
মূলত বিজ্ঞাপনের নির্যাতনের কারণে, ঠিক কখন কত বছর আগে টিভিতে একটি নাটক দেখেছি, তা মনে করতে পারছি না। হুমায়ূন আহমেদের ছবি বলে অনেক বছর পর আজকের ছবিটি দেখতে আগ্রহী হয়েছিলাম। এই ছবিটিতে আবার পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ‘চ্যালেঞ্জারও’ ছিলেন। পীযূষের সাথে কিছুটা ঘনিষ্ঠতা আছে, ‘চ্যালেঞ্জারকে’ আমি কোনদিন সামনাসামনি দেখিনি। কিন্তু তার অভিনয় আমার ভাল লাগত। অল্প বয়সেই মানুষটি কিছুদিন আগে মারা গেলেন। ভাবলাম ছবিটি দেখলে তাঁর প্রতি একটু শ্রদ্ধাও জানানো হবে। কিন্তু অভিজ্ঞতাটা সুখের হলো না।

বিটিভিকে অনেক কারণেই তুলোধুনো করা যায়। কিন্তু এই বিটিভিতে সেই ৮০ এবং ৯০ এর দশকে যে সিরিয়ালগুলো প্রচারিত হয়েছে সেগুলো নিয়ে এখনও মানুষজন আলোচনা করে। মমতাজ হোসেনের লেখা এবং খ. ম. হারম্ননের প্রযোজনায় বিটিভিতে মধ্য ৮০’র দশকে প্রচারিত ‘শুকতারা’ নাটকের সিরিয়ালটির কথা একেবারেই ভুলতে পারি না। একজন পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধার ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন প্রয়াত আলী আহসান সিডনী। শহীদ মুক্তিযোদ্ধা রম্নমীর কথাও ছিল এই নাকটটিতে। ছিল জাহানারা ইমামের ‘একাত্তরের দিনগুলি’ বইটির কথা। শুকতারা নাটকটির এই পর্বটি যখন প্রচারিত হয়, জাহানারা আপা তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে, তাঁর ছোট ছেলে জামীর কাছে। তাই তিনি তখন শুকতারার এই পর্বটি দেখার সুযোগ পাননি। কিন্তু আমি সব পর্ব তখন ভিসিআরে ভিডিও করে বিদেশে আমাদের সব দূতাবাসে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছিলাম। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রশাসন অনুবিভাগের ডিরেক্টর জেনারেল আমি তখন। পরে জাহানারা আপা দেশে ফিরে শেরে বাংলা নগরের মিনিস্টার্স হোস্টেলে আমার সরকারী বাসায় শহীদ রম্নমী এবং জাহানারা আপার উপর প্রচারিত ‘শুকতারা’র এই পর্বটি দেখানোর ব্যবস্থা করেছিলাম এক সন্ধ্যায়। দেখতে দেখতে কেঁদেছিলেন তিনি তখন। শুকতারার মতো আর একটি সিরিয়ালও কি তারপর হয়েছে? এখন তো ‘টেকনোলজি’র ৰেত্রে আমরা অনেক বেশি উন্নত, সমৃদ্ধ এবং টিভি চ্যানেলগুলো সংখ্যায় এখন প্রায় বিশ পঁচিশ।

সেইসব দিনে ‘সকাল সন্ধ্যা’, ‘এইসব দিনরাত্রি’ এবং ‘কোথাও কেউ নেই’-এর মতো ধারাবাহিক নাটক হয়েছে, এই সিরিয়ালগুলোর জন্য তখন মানুষজন অপেৰা করত সেই বিশেষ দিনটির জন্য।
১৯৮৫’র অক্টোবর ১৫ তারিখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের অডিটরিয়ামে কয়েক শ’ ছাত্র জড়ো হয়েছিল ‘শুকতারা’ দেখতে। বর্ষা বাদল ছিল তখন। রাতে যখন ‘শুকতারা’ নাটকটি দেখছে ছাত্ররা তখনই ধসে পড়ল অডিটরিয়ামটির ছাদ। আর এই দুর্ঘটনায় মারা গেল ৩৬ জন ছাত্র।
মমতাজ হোসেন এখনও লেখালেখি করে যাচ্ছেন। খ.ম. হারম্ননও এখন ‘বৈশাখী’ টেলিভিশনটির দ্বিতীয় শীর্ষ ব্যক্তি। কিন্তু তারপরও ‘শুকতারা’ নেই, নেই ‘সকাল সন্ধ্যা’, ‘এই সব দিনরাত্রি’ বা ‘কোথাও কেউ নেই’। তাহলে আমাদের অগ্রগতিটা কি হলো?

অগ্রগতি হয়ত আছে, কিন্তু আমি জানি না। জানি না_কারণ আমি দু’তিনটি চ্যানেলে খবর দেখার চেষ্টা করি। চ্যানেল আই-এর খবর দেখি কোন কোনদিন, যেদিন সাঈদুর রহমান খবর উপস্থাপন করে। সাঈদুর রহমান খবরের পাঠক হিসাবে আমার প্রিয়। তার উপর চৌদ্দ পনেরো বছর আগে দৈনিক ‘সংবাদ’-এ আমার একটি কলামও প্রকাশিত হয়েছিল,_ “প্রজন্ম ৭১ এর সাঈদুর রহমান বনাম বেঙ্মিকোর সালমান রহমান।” একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে সাঈদুর রহমান তার বাবা-মা এবং তিন ভাইবোনকে শহীদ হতে দেখেছে। তারা তখন নীলফামারীর সৈয়দপুরে।

॥ পাঁচ ॥
আমাদের কোন কোন বিজ্ঞাপন নির্মাতা তাদের বিজ্ঞাপনে রম্নচিহীনতা দেখিয়ে যাবে। ‘ওয়াশিং লিকুইড’-এর কার্যকারিতা দেখাতে সেই বিজ্ঞাপনে ‘কমোড’ দেখাতে হবে? ‘কমোড’ কোন দেখানোর জিনিস হতে পারে? তারপর একটি প্রাইভেট ব্যাংকের বিজ্ঞাপনে দেখি বৃষ্টিতে ভিজছে একটি শিশু ছাত্র। সে তারই একই স্কুলের হয়ত। তারই একই ক্লাসের ছাত্রীর গাড়িতে একটি ‘লিফ্ট্’ চাইছে। কিন্তু গাড়িতে উপবিষ্ট ছাত্রীটি বৃষ্টিতে ভেজা ছাত্রটিকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিচ্ছে, শিশু ছাত্রটিকে গাড়িতে উঠতে দিচ্ছে না। একটি শিশু আর একটি শিশুকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিচ্ছে, এই দৃশ্যটি দেখে আর সব ছোট শিশু কি শিৰা পাচ্ছে? মনে হয় শিশুরা যে বেশি সংবেদনশীল, এই কথাটি এই বিজ্ঞাপন নির্মাতার জানা নেই।

অথচ এমন সব নিম্নমানের বিজ্ঞাপন চিত্রের বিপরীতে কিছু বিজ্ঞাপনে যে ক্রিয়েটিভিটি দেখি, তা আমাদের দেশের কিছু তরম্নণ সম্পর্কে আমাকে খুবই আশাবাদী করে তোলে। এর মধ্যে একটি, আমার কাছে অসাধারণ মনে হয়। তবে এখন আর দেখি না। কয়েক বছর আগে ক্রিকেট সিজনে প্রায়ই দেখতাম বিভিন্ন চ্যানেলে। এই বিজ্ঞাপন চিত্রে দেখা যায় গ্রামের উদোম গায়ের কতগুলো ক্রিকেটপাগল শিশু ক্রিকেটের ব্যাট বানানোর তীব্র আগ্রহে তাল গাছে উঠেছে, তালগাছ থেকে তালপাতার ডাল কাটছে, মাটিতে সেই ডাল নামিয়ে সেই ডাল থেকে ব্যাট বানাচ্ছে বাঁ হাতে দা দিয়ে কুপিয়ে। তারপর তারা গ্রামের একটি খোলা মাঠে ক্রিকেট খেলছে। এই শিশুগুলো আমাকে দারম্নণভাবে অনুপ্রাণিত করত, যখন এই বিজ্ঞাপনটি আমি দেখতাম।

কয়েক বছর আগের আর একটি বিজ্ঞাপন চিত্র, ‘চ্যালেঞ্জার’ ছিলেন এটিতে। বিজ্ঞাপনটিতে দেখা যায়, কতগুলো শিশু কিশোর ফুল চুরি করছে একটি বাড়ির বাগান থেকে। ‘চ্যালেঞ্জার’ তখন তাদের তাড়াচ্ছেন। কিন্তু সেই শিশু কিশোরগুলোই যখন একুশে ফেব্রম্নয়ারিতে শহীদ মিনারে ফুল দেয়ার জন্য ফুল চুরি করছে, ‘চ্যালেঞ্জার’ একটু দূর থেকে কিন্তু কিশোরদের এই চুরি কাজটি দেখে একটু একটু হাসছেন। তাঁর এই হাসি দেখে মনে হচ্ছিল, তিনি এই বাচ্চাগুলোকে দোয়া করছেন।

॥ ছয় ॥
আমি যখন বিদেশে যাই, আমি সেই দেশের টিভির খবর এবং বিজ্ঞাপন দেখার চেষ্টা করি। টিভির খবর যদি দেশের প্রেসিডেন্ট প্রাইম মিনিস্টারকে দিয়ে শুরম্ন হয়, তাহলে বুঝতে হবে, সেই দেশটি আমাদের জেনারেল জিয়াউর রহমান এবং জেনারেল এরশাদ জামানায় আছে। বিরোধী দলের খবর যত কম থাকবে, বুঝতে হবে সেই দেশের সরকারটি বিরোধী দলগুলোর প্রতি অসহনশীল। তারপর বিদেশী চ্যানেলে বিজ্ঞাপন। বিদেশী টিভি চ্যানেলগুলোতে প্রচারিত ‘মালয়েশিয়া ট্রুলি এশিয়া’বিজ্ঞাপনটিতে মালয়েশিয়ায় ‘টুরিস্ট’ আকর্ষণ করার চেষ্টা আছে। মানে সেই দেশে পর্যটকদের আকর্ষণ করার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা আছে।

বিজ্ঞাপনে টুথপেস্ট দেখানো হচ্ছে, নাকি মোটর গাড়ি?
কম্পিউটার, আইফোর্ড, এমপি থ্রি-ফোর এবং এ জাতীয় উন্নত বিশ্বের সর্বসাম্প্রতিক ‘প্রডাক্ট’গুলোর বিজ্ঞাপন লুঙ্গি, শাড়ি, পায়জামা, কোর্তা, গামছার? আমিরাত এয়ারলাইন্স এবং কাতার এয়ারলাইন্স-এর বিজ্ঞাপন দেখলে মনে হবে এই আরব দেশগুলোর মানুষজন বিমানযাত্রী এবং কার্ব পরিবহনের জটিল ব্যবস্থায়ও অনেক সাফল্য, অনেক অগ্রগতি মাত্র কয়েক বছরেই অর্জন করে ফেলেছে। সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স এবং থাই এয়ারলাইন্সের বিজ্ঞাপনগুলো দেখলে বিশ্বাস জাগে তাদের ফ্লাইটগুলো ঠিক সময় আকাশে এবং ঠিক সময়ই গনত্মব্যেও পেঁৗছে। এই বিমান কোম্পানিগুলো ইউরোপ আমেরিকার বিমান সংস্থাগুলোর গায়ে তীব্র প্রতিযোগিতা করে বিশাল পরিমাণের মুনাফাও অর্জন করে চলেছে। এই বিজ্ঞাপনগুলো থেকে সেই দেশটির অর্থনৈতিক অগ্রগতির একটি ধারণাও পাওয়া যায়।

‘জি বাংলায়’ সৌরভ গাঙ্গুলীর উপস্থাপনায় ‘দাদাগিরি’ অনুষ্ঠানটি এ দেশের দর্শকদের কাছেও এত জনপ্রিয় কেন তা কি আমাদের চ্যানেলওয়ালারা একটু ভেবে দেখেছেন? এই অনুষ্ঠানটিতেও বিজ্ঞাপন প্রচারিত হয় ফাঁকে ফাঁকে। কিন্তু একটানা পাঁচ মিনিটেরও বিজ্ঞাপন কি প্রচারিত হয় এই অনুষ্ঠানটিতে এবং এই চ্যানেলটিতে? বিজ্ঞাপন যত ক্রিয়েটিভই হোক না কেন, টিভি চ্যানেলগুলোতে বিজ্ঞাপনের যন্ত্রণা, নির্যাতন থেকে ‘ফ্রীডম’, মুক্তি চাই।

উত্তরা, ঢাকা; শনিবার ১৩ নবেম্বর ২০১০

জাতিসংঘের ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় ঢাকার অবস্থান দ্বিতীয়


জাতিসংঘের ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় ঢাকার অবস্থান দ্বিতীয়

ভিওবিডি, ঢাকা থেকে

জাতিসংঘের ঝঁুকিপূর্ণ শহরগুলোর তালিকায় ঢাকা দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। ঢাকা সম্পর্কে আশঙ্কা করা হয়েছে এখানে বড় ধরনের ধ্বংসযজ্ঞ ঘটতে পারে। কারণ জনসংখ্যার ঘনত্ব, ত্রুটিপূর্ণ অবকাঠামো ও ঘন বিল্ডিং নির্মাণ। গতকাল রোববার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) মিলনায়তনে একশন এইড বাংলাদেশ ও ইউরোপিয়ান কমিশন ফর হিউম্যানিটারিয়ান এইড এর সহযোগিতায় বিজিএমইএ ও পপুলেশন সার্ভিসেস এন্ড ট্রেনিং সেন্টারের (পিএসটিসি) যৌথ উদ্যোগে পোশাক শিল্পে কর্মরতদের ভূমিকম্প ও অগ্নি দুর্ঘটনা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি বিষয়ক এক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় এ আশঙ্কার কথা উঠে আসে। কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী ড· মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক এ ঝঁুকির কথা জানান।

তিনি বলেন, ভূমিকম্প ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে শ্রমনিবিড় পোশাক শিল্পে নিয়োজিত বিপুল জনগোষ্ঠী। এ খাতে একই ভবনে বহু শ্রমিককে একসঙ্গে কাজ করতে হয়। কিন্তু তারা জানে না ভূমিকম্প হলে কিভাবে বিপদ থেকে উদ্ধার পেতে হবে। তাই এ বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য এই প্রশিক্ষণ কর্মশালা আয়োজন করা হয়েছে। বিজিএমইএ সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন একশন এইড বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক প্রতিনিধি আসগর আলী সাবরি, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগে· জে· আবু নাঈম মোঃ শহীদুলস্নাহ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বুøরোর মহাপরিচালক আহসান জাকির, পিএসটিসির নির্বাহী পরিচালক মিলন বিকাশ পাল, বিজিএমইএর দ্বিতীয় সহসভাপতি সফিউল ইসলাম (মহিউদ্দিন), সহসভাপতি (অর্থ) মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান, ফায়েজুন নবী চৌধুরীসহ বিজিএমইএর পরিচালকবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

ড· মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক আরো বলেন, জাতীয় অর্থনীতিতে পোশাক শিল্প গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। ভূমিকম্পকালীন যাতে ক্ষয়ক্ষতি কম হয়, সেজন্য প্রস্তুতি ও প্রতিরোধের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা উচিত। তিনি বলেন, ভূমিকম্পে জীবন বাঁচানো ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমানোর লক্ষ্যে তার মন্ত্রণালয় থেকে ৭০ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি ক্রয় করা হয়েছে। এ ছাড়াও ভূমিকম্পে বিপন্ন মানবতাকে সাহায্য করার জন্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেশব্যাপী ৬২ হাজার স্বেচ্ছাসেবক তৈরি করার প্রক্রিয়া চলছে।

আব্দুস সালাম মুর্শেদী বলেন, সামাজিক দায়বদ্ধতায় উদ্বুদ্ধ হয়ে পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের কল্যাণে বিজিএমইএ এ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এই অবস্থায় ৩৫ লাখ শ্রমিকদের খাদ্য নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা, বছরব্যাপী চাল, ডাল, তেল, লবণ, আটাসহ খাদ্যসামগ্রী ন্যায্যমূল্যে তারা যাতে পেতে পারে সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য বিজিএমইএ সভাপতি মাননীয় মন্ত্রীকে অনুরোধ জানান। আসগর আলী সাবরি বলেন, ২০০৬ সাল থেকে বাংলাদেশে অগ্নি নিরাপত্তা কার্যক্রম শুরু করে ২০০৯ সালে বিজিএমইএর সঙ্গে সমঝোতা স্বাক্ষর করা হয়। তিনি বলেন, অগ্নি নিরাপত্তা ছাড়াও একশনএইড বাংলাদেশ বিজিএমইএর সঙ্গে কমপস্নায়েন্সের ক্ষেত্রগুলোয় কাজ করতে আগ্রহী।

রিয়েল এস্টেট টু ওয়াল স্ট্রীটঃ শেয়ার মার্কেটে প্রতারণা বাংলাদেশী নূর মোহাম্মদ নিউইয়র্কের কারাগারে


ধাপ্পাবাজিঃরিয়েল এস্টেট টু ওয়াল স্ট্রীটঃ শেয়ার মার্কেটে প্রতারণা বাংলাদেশী নূর মোহাম্মদ নিউইয়র্কের কারাগারে

এনা, নিউইয়র্ক থেকে

শেয়ার বাজারে লাগাতার কেলেংকারির মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেয়ার ঘটনায় জড়িত বাংলাদেশী আমেরিকান নূর মোহাম্মদ (৪৭)কে এফবিআই গ্রেফতারের পর নিউইয়র্কে বাংলাদেশীদের ব্যাপারে ফেডারেল প্রশাসনের দৃষ্টিভঙ্গিতে ভিন্নতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। এর আগে ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতি, রিয়েল এস্টেট প্রতারণা, ধাক্কা ব্যবসায় বেশ কিছু বাংলাদেশীর জেল-জরিমানা হলেও ওয়াল স্ট্রীটে প্রতারণার মত মারাত্মক কোন অপকর্মে কোন বাংলাদেশী গ্রেফতার হননি। নূর মোহাম্মদকে জামিনহীন আটকাদেশ দিয়ে জেলে প্রেরণ করা হয়েছে বলে ইউএস এটর্নীর মুখপাত্র রবার্ট নারডোজা ২১ অক্টোবর বার্তা সংস্থা এনাকে জানিয়েছেন। এর আগে তার জামিন হয়েছিল ২ মিলিয়ন ডলার বন্ডে, কিন্তু পরবর্তিতে তা নাকচ করা হয়েছে। উত্তর আমেরিকায় বাংলা ভাষার সর্বাধিক প্রচারিত ঠিকানা পত্রিকার চলতি সংখ্যা (২২ অক্টোবর) প্রথম পাতায় সেকেন্ড লীড হিসেবে চাঞ্চল্যকর সংবাদটি ‘প্রতারণাঃ রিয়েল এস্টেট টু ওয়াল স্ট্রীটঃ ধাপ্পাবাজ নূর মোহাম্মদের অবিশ্বাস্য কাহিনী’ শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছে। তা এখানে উপস্থাপন করা হলো।

নূর মোহাম্মদ।

রিয়েল এস্টেট ও মর্টগেজ প্রতারকরা নয়া ধান্দা হিসেবে ওয়াল স্ট্রীটকে বেছে নিয়েছে। ই-ট্রেড ফাইন্যান্সিয়াল একাউন্টে অর্থ না থাকা সত্বেও মোটা অংকের চেক ইসুø এবং ইসুøকৃত ঐ চেকের বিপরীতে শর্ট-টার্ম স্টক ক্রয় করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে নিউইয়র্কের নূর মোহাম্মদ নামক এক বাংলাদেশীকে গ্রেফতার এবং তার স্ত্রী ও শাশুড়ির বিরুদ্ধেও অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। ব্রুকলীনে অবস্থিত ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট সূত্রে ওয়াল স্ট্রীটে প্রতারণার অভিনব এ কৌশলের তথ্য জানা গেছে। নূর মোহাম্মদকে গ্রেফতার করা হয় গত সেপ্টেম্বরে এবং ২ মিলিয়ন ডলার বন্ডে জামিনের অনুমতি দেয়া হলেও বন্ড সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি বিধায় এখনও তিনি জেলেই রয়েছেন। ১ অক্টোবর থেকে তার বিরুদ্ধে ডিটেনশনের নির্দেশ দিয়েছেন ফেডারেল জজ যোয়ান এম এজরেক। ১৫ অক্টোবর নূর মোহাম্মদের কথিত অফিস থেকে প্রতারণার অনেরক ডকুøমেন্ট উদ্ধার করা হয়েছে বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়। উদ্ধারকৃত ডকুøমেন্টে রয়েছে প্রতারণাকারীদের ড্রাইভার লাইসেন্স, সোস্যাল সিকিউরিটি কার্ড, হস্তলেখা, বার্ষিক আয়ের সার্টিফিকেট, মোট সহায়-সম্পদের পরিমাণের হিসাব এবং কথিত ই-ট্রেড একাউন্টগুলোর নম্বর।

মামলার বিবরণে প্রকাশ, নিউইয়র্কের ডিয়ার পার্ক এলাকার অধিবাসী বাংলাদেশী আমেরিকান নূর মোহাম্মদ ২০০৭ সালের ২৬ মার্চ আইল্যান্ড ট্রেডিং এন্টারপ্রাইজ ইনক নামে কোম্পানীর রেজিস্ট্রেশনের জন্যে নিউইয়র্ক স্টেট ডিপার্টমেন্টে আবেদন করেন। একই নামে তিনি এইচএসবিসি ব্যাংকে একটি একাউন্টও খুলেন। এছাড়া নূর মোহাম্মদের নামে আরেকটি কোম্পানীর অস্তিত্ব পায় এফবিআই। সেটির নাম হচ্ছে দেশ ডেভেলপমেন্ট ইনক। এ কোম্পানীর মালিকের নাম হচ্ছে নূর মোহাম্মদ। দেশ ডেভেলপমেন্ট ইনকের নামে ব্যাংক একাউন্ট খোলা হয় চেজ ব্যাংকে। এ একাউন্টের পক্ষ থেকেই চেক ইসুø করা হয় এবং স্বাক্ষর করেন এন মোহাম্মদ। মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০৭ সালের ১৫ অক্টোবর এই নূর মোহাম্মদকে গ্রেফতার করেছিল সাফোক কাউন্টি পুলিশ। ব্যাংক অব আমেরিকাকে তিনি ৯৫ হাজার ডলারের একটি চেক দিয়েছিলেন দেশ চেজ একাউন্ট থেকে। সে একাউন্টে কোন অর্থ ছিল না। ঐ প্রতারণার মামলায় নূর মোহাম্মদ ২০০৮ সালের ২৪ জুলাই মাননীয় আদালতে দোষ স্বীকার করেন এবং জীবনে কখনো এহেন প্রতারণার আশ্রয় নেবেন না মোচলেকা দিয়ে ঐ মামলা থেকে অব্যাহতি লাভ করেন।

ফেডারেল কোর্টে বিচারাধীন মামলায় আরো উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০৭ সালের জানুয়ারিতে নূর মোহাম্মদ অনলাইনে একটি ই-ট্রেড একাউন্ট খুলেন। একাউন্টে নূর মোহাম্মদকে উপরোক্ত আইল্যান্ড ট্রেডিংয়ের কর্মকর্তা হিসেবে উল্লেখ করা হয় এবং বার্ষিক আয় দেখানো হয় ২ লাখ ডলার এবং তার মোট সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয় ৪ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯৯ ডলার। মামলায় বলা হয়েছে, ২০০৭ সালের ২৫ এপ্রিল এইচএসবিসি ব্যাংকের একাউন্ট থেকে এন মোহাম্মদ স্বাক্ষরিত ৩০ হাজার ডলারের একটি চেক ইসুø করা হয় অভিযুক্ত নূর মোহাম্মদের নামে এবং তা জমা দেয়া হয় ই-ট্রেড একাউন্টে। সে সময় এইচএসবিসি একাউন্টে ছিল ১৫ হাজার ডলার। অথচ চেক দেয়া হয় ৩০ হাজার ডলারের। ২০০৭ সালের ২৬ এপ্রিল ২৩১ ব্রডকম কল থেকে নূর মোহাম্মদ প্রতি শেয়ার ১.২৫ ডলার হারে মোট ২৯০৫৮.২৪ ডলারের শেয়ার ক্রয় করেন ই-ট্রেড একাউন্ট বরাবরে। একাউন্টে ডলার না থাকা সত্বেও শর্ট টার্ম শেয়ার ক্রয়ের পরিণতিতে ব্রডকম কলের বাজারে পতন ঘটে এবং পরদিন অর্থাৎ ২৭ এপ্রিল প্রতি শেয়ারের দাম মাত্র ৩৫ সেন্ট হয়। অর্থাৎ আগের দিন নূর মোহাম্মদের কেনা শেয়ারের দাম কমে ৭৯০১.৬৩ ডলার হয়।

মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০৭ সালের ১ মে উপরোক্ত ৩০ হাজার ডলারের চেক ফেরৎ আসে, কারণ নূর মোহাম্মদ স্টপ পেমেন্ট করেছিলেন। এভাবে স্টক ব্যবসায় ধসের দায় এড়ানোর নাটক করেন নূর মোহাম্মদ এবং তার একাউন্ট নেগেটিভ হয় ১৮৮৭২.৪৯ ডলারের।

নূর মোহাম্মদের প্রতারণার ঘটনা বর্ননাকালে মামলায় আরো উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০৭ সালের এপ্রিল মাসে আরেকটি ই-ট্রেড একাউন্ট খোলা হয় নূর মোহাম্মদের নামে। এ সময় এক ব্যক্তির কাছে গিয়ে নূর মোহাম্মদ বলেন যে, তাৎক্ষণিকভাবে তার কিছু ডলার দরকার। একাউন্টে ডলার রয়েছে কিন্তু চেকবই আনতে ভুলে গেছেন। এভাবে ঐ লোকটির কাছে নগদ অর্থ নিয়ে পরদিন যে চেক দিয়েছিলেন সেটি ভাঙ্গানো যায়নি একাউন্টে ডলার না থাকায়।

২০০৭ সালের ৩০ এপ্রিল সিটি ব্যাংকের একটি একান্ট থেকে ৯৫ হাজার ডলারের চেক ইসুø করা হয়। সে চেক জমা দেয়া হয় ই-ট্রেড একাউন্টে। পরবতিতে খোঁজ নিয়ে জানা যায় যে একাউন্টে রয়েছে মাত্র ৩০০ ডলার, অথচ চেক ইসুø করা হয় ৯৫ হাজার ডলারের। ২০০৭ সালের ১ মে মাস্টার কার্ড শেয়ার ক্রয় করা হয় মোট ৯৪ হাজার ৮৪৩.৭১ ডলারের। প্রতিটি শেয়ারের মূল্য ছিল ২.১০ ডলার থেকে ২.৩৫ ডলার করে। পরদিন মাস্টার কার্ডের শেয়ারের দাম বেড়ে প্রতিটি ৭.৭০ ডলার থেকে ৮.৩০ ডলার করে বিক্রি হয়। অর্থাৎ আগের দিন ৯৪৮৪৩.৭১ ডলারের শেয়ার পরদিন বিক্রি হয় ৩২৬৬৩১.২১ ডলারে। ২ মে সিটি ব্যাংকের ঐ একাউন্ট থেকে ৯৬ হাজার ডলার ড্র করা হয়। এর পরদিন ৯৫০৩০ ডলারের আরেকটি চেক ইসুø করা হয়। ৭ মে চেকটি রিটার্ন আসে একাউন্টে ডলার না থাকায়। মামলায় বলা হয়েছে, ৮ মে থেকে ১১ মে র্পন্ত সিটি ব্যাংকের ঐ একাউন্ট থেকে ৩১৮০০০ ডলার ট্র্যান্সফার করা হয় ই-ট্রেড একাউন্টে। ঐ অর্থ থেকে ২৪৮০০০ ডলার স্থানান্তর করা হয় চেজ ব্যাংকে। এর সপ্তাহখানেক পর অর্থাৎ ১৬ ও ১৭ মে চেজ ব্যাংকের ঐ একাউন্ট থেকে মোট দেড় লাখ ডলার ড্র করা হয়। ১৭ মে ৭৫ হাজার ডলারের চেজ ক্যাশিয়ার চেক জমা দেয়া হয় দেশ চেজ একাউন্টে। এসব চেকে স্বাক্ষর করেন এন মোহাম্মদ। অর্থাৎ চেক ইসুøকারী এবং গ্রহণকারী একই ব্যক্তি হলেও বিভিন্ন নামে একাউন্ট খুলে ব্যাংকের সাথে প্রতারণা করা হয়েছে লাগাতারভাবে। একাউন্টে অর্থ না থাকা সত্বেও চেক জমা দিয়ে কালেকশন হওয়ার জন্যে ন্যূনতম সময়ের মধ্যে তিনি স্টক ব্যবসা করে মোটা অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, উপরোক্ত নূর মোহাম্মদ তার প্রতারণায় শাশুড়িকেও ব্যবহার করেছেন। ২০০৭ সালের ২২ মে চেজ একাউন্ট থেকে ৯০ হাজার ডলারের একটি চেক ইসুø করা হয় শাশুড়ির নামে খোলা ই-ট্রেড একাউন্টে। অথচ ঐ সময় চেজ একাউন্টে জমা ছিল মাত্র ৫০ ডলার। এই চেক জমা দেয়ার পরই ২২ মে সন্দা ইন্টারন্যাশনাল থেকে ৮৯৯৯৩.১৯ ডলারের শেয়ার কেনা হয়। প্রতিটির দাম ছিল ১.২৫ ডলার থেকে ১.৩৫ ডলার করে। ভূয়া চেকের বিপরীতে শেয়ার কেনার তথ্য জানাজানি হওয়া মাত্র দরপতন ঘটে এবং ২৪ মে প্রতিটি শেয়ারের দাম কমে ৪০ থেকে ৪৫ সেন্ট হয়। অর্থাৎ নূর মোহাম্মদের ক্রয় করা শেয়ারের মোট মূল দাঁড়ায় ২৯৩১৬.৩১ ডলার। অথচ দুদিন আগে তা কেনা হয় ৮৯৯৯৩,১৯ ডলার দিয়ে। ঘটনার এখানেই শেষ নয়, ২৪ মে ভেরিজি লিমিটেডের ২০৬টি শেয়ার কেনা হয় নূর মোহাম্মদের শাশুড়ির ই-ট্রেড একাউন্টের বিপরীতে। প্রতিটি ১.৩০ থেকে ১.৪০ ডলার হারে মোট ২৮৮৩৪.৪৮ ডলারের শেয়ার কেনা হয়। ২৫ মে শেয়ারের দাম বেড়ে প্রতিটি ৩.৮০ থেকে ৩.৯০ ডলার করে বিক্রি হয়। অর্থাৎ মোট মূল্য দাঁড়ায় ৭৮৪৯৪.৩৩ ডলার। ২৫ মে সানটেক পাওয়ারের ৪১০টি শেয়ার কেনা হয় ঐ নূর মোহাম্মদের শাশুড়ির ই-ট্রেড একাউন্টের বিপরীতে। প্রতিটি শেয়ারের দাম ছিল ১.৮৫ ডলার থেকে ১.৯৫ ডলার। অর্থাৎ মোট ৭৮৮৫৭.৪৫ ডলারের শেয়ার কেনা হয়। দিন পর এসব শেয়ারের মূল্য পতন ঘটে প্রতিটি ৭০ সেন্ট থেকে ১.০৫ ডলার করে বিক্রি হয় অর্থাৎ ৭৮৪৯৪.৩৩ ডলারের শেয়ার বিক্রি করতে হয় মাত্র ৪১৮৬১.৮৭ ডলারে। এসব শেয়ার ক্রয়ের বিপরীতে যে চেক দেয়া হয়েছিল ৯০ হাজার ডলারের, তা রিটার্ন আসে একাউন্টে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায়। ফলশ্রুতিতে নূর মোহাম্মদের শাশুড়ির একাউন্টে নেগেটিভ ব্যালেন্স দাঁড়ায় ৪৭৯৬৪.৫৯ ডলারে।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০০৩ সালের জানুয়ারি মাসে আরেকটি ই-ট্রেড একাউন্ট খোলা হয় জনৈক ব্যক্তির নামে (যার পরিচয় এফবিআই জানে)। অনলাইনে খোলা ঐ একাউন্ট হোল্ডার আইল্যান্ড ট্রেডিংয়ের কর্মচারি বলে উল্লেখ করা হয়। ২০০৭ সালের জুন মাসে ঐ একাউন্টে যখন কোন অর্থই ছিল না সে সময় ট্রেডিং ব্যবসার সুযোগ সম্প্রসারণ করা হয়। এরপর ১৪ জুন কমার্স ব্যাংকের একটি চেক ইসুø করা হয় ৭৫ হাজার ডলারের। এ চেক জমা করা হয় আগের ই-ট্রেড একাউন্টে। এ সময় কমার্স ব্যাংকের একাউন্টে ছিল মাত্র ১০ ডলার। ১৪ জুন এডবি সিস্টেমের ১১৪০টি শেয়ার ক্রয় করা হয় উপরোক্ত ই-ট্রেড একাউন্টের বিপরীতে। ঐ সময় কমার্স ব্যাংক প্রদত্ত ৭৫ হাজার ডলারের চেক কালেকশনের অপেক্ষায় ছিল বিধায় শেয়ার মার্কেট থেকে শর্ট টার্ম হিসেবে ১১৪০টি শেয়ার কেনা সম্ভব হয়-যার মূল্য দাঁড়ায় ৭৪৯৮০.৯৮ ডলার। ১৯ জুন ঐ চেক রিটার্ন আসে। অপরদিকে ২২ জুন এডবির শেয়ারের মূল্য পরিশোধের শেষ সময় ছিল। ই-ট্রেড একাউন্ট থেকে ঐ শেয়ারের কোন অর্থ সংগ্রহ করা সম্ভব না হলেও নূর মোহাম্মদ গং-রা তা হাতিয়ে নিতে সক্ষম হন। যদিও সে সময় ঐ ট্রেড একাউন্টে নেড়েটিভ ব্যালেন্স দাঁড়িয়েছিল ৭৫১১৫.১৮ ডলার।

এভাবে আরো কয়েকটি চেক প্রতারণামূলকভাবে ইসুø করেন নূর মোহাম্মদ এবং শেয়ার বাজারে টালমাটাল পরিস্থিতির উদ্ভব হয়। ১৫ অক্টোবর নূর মোহাম্মদকে গ্রেফতারের সময় প্রতারণার অনেক ডকুøমেন্ট পুলিশ উদ্ধার করেছে বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া গার্ডেন সিটিতে ই-ট্রেড শাখায় ২০০৭ সালের ১৬ ও ১৭ জুলাই এক ব্যক্তি দুটি চেক জমা দিয়েছেন-সে ভিডিও রয়েছে এফবিআইয়ের হাতে। ভিডিওতে নূর মোহাম্মদের ছবি রয়েছে যিনি ভূয়া চেকগুলো জমা দিয়েছিলেন। নূর মোহাম্মদ তার স্ত্রীকেও রেহাই দেননি। স্ত্রীর নামেও ই-ট্রেড একাউন্ট খুলেছিলেন এবং ২০০৭ সালের ২৪ জুলাই দেড় লাখ ডলারের একটি চেক জমা দেয়া হয়। চেকটি ছিল সিটি ব্যাংকের এবং জমা দেয়া হয় স্ত্রীর নামে ই-ট্রেড একাউন্টে। সে সময় সিটি ব্যাংকের একাউন্টে ছিল মাত্র ৪৫ ডলার অথচ চেক ইসুø করা হয় দেড় লাখ ডলারের। এ চেকের বিপরীতে ২৪ জুলাই নিউট্রিসিস্টেমের ৪৬৭ শেয়ার ক্রয় করা হয়। প্রতিটির দাম ছিল ১.২৫ ডলার থেকে ১.৬৫ ডলার করে। মোট মূল্য দাঁড়ায় ৭৬১৫৫.২১ ডলার। পরদিন শেয়ারের দরপতন ঘটে এবং তা বিক্রি করতে হয় পানির দরে। ২৫ জুলাই অকামাই টেকনোলজির ৪৮৮ শেয়ার কেনা হয় প্রতিটি ১.৬৫ থেকে ১.৮০ ডলার করে। মোট ক্রয় মূল্য দাঁড়ায় ৮৪৩৫৫.৯৮ ডলার। ১৮ আগস্ট এসব শেয়ারের কন্ট্রাক্ট ফুরিয়ে যায়। অর্থাৎ কোন মূল্য ছাড়াই শেয়ারগুলো পরিত্যক্ত হয়। এরইমধ্যে ৩১ জুলাই উপরোক্ত দেড় লাখ ডলারের চেক রিটার্ন আসে। ফলে ২০০৭ সালের আগস্ট মাসের শেষ সপ্তাহে নূর মোহাম্মদের স্ত্রীর একাউন্টে নেগেটিভ ব্যালেন্স দাঁড়ায় ১৪৪৯৫৩.৪৪ ডলার। সর্বশেষ ২০০৭ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর নূর মোহাম্মদ তার দেশ চেজ একাউন্টের চেক কাটেন ৯৫ হাজার ডলারের। এ চেক জমা দেয়া হয় তারই ব্যাংক অব আমেরিকা একাউন্টে। দেশ চেজ একাউন্টে সে সময় ছিল মাত্র ২ হাজার ডলার। এ চেক দেখিয়ে ২০ সেপ্টেম্বর নূর মোহাম্মদ আপেল ইনকের ৩৬৭ শেয়ার ক্রয় করেন প্রতিটি ১.৭০ ডলার থেকে ২.৬৫ ডলার হারে। মোট ক্রয় মূল্য দাঁড়ায় ৭৮৮৭৫.২৫ ডলার। প্রতারণার বিষয়টি জানাজানি হবার পর শেয়ারের দরপতন ঘটে এবং ২১ সেপ্টেম্বর তা বিক্রি করতে হয় প্রতিটি ১.৪০ ডলার করে এবং বিক্রির পর পাওয়া যায় মাত্র ৫৬৮৫৮.৮২ ডলার। একই চেকের অজুহাতে ২১ সেপ্টেম্বর বিয়ার স্টিয়ার্নস কোম্পানীর ৯৯০টি শেয়ার ক্রয় করেন ঐ নূর মোহাম্মদ মোট ৭৭৯১৪.৫০ ডলারের। শেয়ারের দাম কমায় ২৪ সেপ্টেম্বর ৩৩৭টি বিক্রি করা হয় মোট ১০১৪.৫৫ ডলারে। অবশিষ্ট শেয়ারগুলোর কোন মূল্যই পাওয়া যায়নি। যথারীতি ২৪ সেপ্টেম্বর ৯৫ হাজার ডলারের চেকটিও ফেরৎ এসেছে। ৮ সেপ্টেম্বর উপরোক্ত নূর মোহাম্মদ ১৯০০০০ ডলারের আরেকটি চেক ইসুø করেন চেজ ব্যাংক একাউন্ট থেকে এবং তা জমা করা হয় ব্যাংক অব আমেরিকার একাউন্টে। সে চেকটিও ফেরৎ এসেছে একাউন্টে কোন অর্থ না থাকায়। এভাবে প্রতারণার মাধ্যমে নূর মোহাম্মদ মোট ৬ লাখ ডলার ক্ষতি করেছেন ই-ট্রেড এবং ব্যাংক অব আমেরিকার।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতি, ধাক্কা ব্যবসা, রিয়েল এস্টেট প্রতারণার সাথে জড়িত একটি চক্রের নেপথ্য কারিগররা এখন নবউদ্যমে ওয়ালস্ট্রীটে এহেন জালিয়াতির ধান্দা করেছে। একাউন্ট খুলে এভাবে চেক প্রদানের পর শর্টটার্ম শেয়ার ক্রয় করে স্টক মার্কেটে এরা বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরী করছে বলে জানা গেছে। সূত্রঃ খবর ডট কম

কালো টাকার অনেক মালিকই গণমাধ্যমে বিনিয়োগ করতে আসছে: এই সরকার অবাধ তথ্যপ্রবাহে বিশ্বাস করে।


রাজনৈতিক টিভি লাইসেন্স বন্ধের দাবি

আজকাল ঢাকা প্রতিনিধিঃ তথ্যমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ বলেছেন, ১/১১ এর জরম্নরি অবস্থা থেকে আজকের গণতন্ত্রের উত্তরণে গণমাধ্যম গুরম্নত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী এবং গণমাধ্যমকে সহায়ক শক্তি মনে করে। কাজেই গণমাধ্যমের বিরম্নদ্ধে সংসদে কোন সাংসদ কি বক্তব্য দিলেন; সেটা সরকারের অবস্থান নয়। প্রধানমন্ত্রী এসব বিষয়ে সচেতন আছেন। প্রথম আলো অwেয়াজিত ‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও দায়বদ্ধতা’ শীর্ষক গোলটৈবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির ভাষণে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বৃহষ্পতিবার প্রথম আলো কার্যালয়ে এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী বলেন, কালো টাকা এখন সবখানে। গণমাধ্যমও এর বাইরে নয়। তবে আদর্শ ও নৈতিকতা মেনে সাংবাদিকতা করতে হবে। টাকার কাছে বিক্রি হলে চলবে না। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন প্রবীণ সাংবাদিক ও কলামিস্ট এবিএম মূসা, দি ইনডিপেনডেন্টের সম্পাদক মাহবুবুল আলম, সমকালের সম্পাদক গোলাম সারওয়ার, সাংবাদিক ও প্রাবন্ধিক সৈয়দ আবুল মকসুদ, নিউজ টুডের সম্পাদক রিয়াজউদ্দিন আহমেদ, ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ইকবাল সোবহান চৌধুরী, চ্যানেল আইয়ের পরিচালক ও বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজ, গণমাধ্যম ব্যাক্তিত্ব মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর, নয়াদিগন্তেôর সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান গীতি আরা নাসরীন, আমাদের সময়ের সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান, বৈশাখি টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মঞ্জুরম্নল আহসান বুলবুল, এবিসি রেডিওর বার্তা ও অনুষ্ঠান প্রধান সানাউলস্নাহ লাবলু, ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, মাছরাঙ্গা টেলিভিমনের বার্তা প্রধান শাহ আলমগীর, এটিএন বাংলার বার্তা প্রধান জ· ই· মামুন, এটিএন নিউজের বার্তা প্রধান মুন্নী সাহা এবং দৈনিক করতোয়ার সম্পাদক মোজাম্মেল হক।

বৈঠকের সূচণা বক্তব্য দেন প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান। তিনি বলেন, সংবাদপত্র রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তôম্্‌ভ। বাংলাদেশের অদিকাংশ সংবাদপত্র মুক্তিযুদ্ধ, অসাম্প্রদায়িকতা ও স্বাধীনতার পড়্গে। সরকারের ভুল ত্রম্নটি দেখিয়ে দিয়ে সংবাদপত্র সরকারকে দায়িত্ববান করে। তিনি বলেন, গণমাধ্যমের জবাবদিহিতা তার পাঠকের কাছে। কাজেই কোন গণমাধ্যম দায়িত্বশীল না হলে পাঠক বা দর্শক হারাবে।

মতিউর রহমান বলেন, সরকারি বিজ্ঞাপনের মূল্য বাড়েনি। নিউজপ্রিন্টের দাম বাড়ছেই। এই সমস্যাগুলোর সমাধান হওয়া জরম্নরি। জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, নিউজপ্রিন্টের শুল্ক প্রত্যাহার, সরকারি বিজ্ঞাপনের দাম বাড়ানোসহ অনান্য বিষয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবেন।

সংসদের ঘটনায় উদ্বেগঃ বৈঠকে উপস্থিত সম্পাদকরা সম্প্রতি সংসদে যে ভাষায় সংবাদপত্রের সমালোচনা করা হয়েছে তার সমালোচনা করে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, তত্বাবধায়ক সরকার ড়্গমতায় আসার পর বলেছিলো দেশে এখন সংসদ নেই। গণমাধ্যম সংসদের ভূমিকা পালন করবে। কিন্তু সেই গণমাধ্যমের ওপর নানা সময়ে নির্যাতন হয়েছে। সাংসদদের ত্রম্নটি বিচুøতি নিয়ে সংবাদ হতেই পারে। কিন্তু তাই বলে এভাবে সমালোচনা হতে পারে না।

মঞ্জুরম্নল আহসান বুলবুল বলেন, ভারতে টাকা খেয়ে প্রশ্ন করার দায়ে ১৫ সাংসদের সদস্যপদ চলে যায়। বাংলাদেশের সাংসদরাও একইভাবে সংবাদপত্র নিয়ে সংসদে আলোচনা করলেন কিনা সেই প্রশ্ন উঠতে পারে। কারণ এমন লড়্গণই সেদিন দেখা গিয়েছিলো। গোলাম সারোয়ার বলেন, ‘সংসদে সেদিন যেভাবে গণমাধ্যমের সমালোচনা হয়েছে আমি আমার পেশাগত জীবনে তেমনটা দেখিনি। আমাদের সম্মিলিতভাবে এর প্রতিবাদ করা উচিত ছিলো।’ গোলাম সারোয়ারও একই প্রশ্ন করে বলেন, ‘যেভাবে এই ঘটনা ঘটলো, স্পিকারও যেভাবে যোগ দিলেন তাতে সন্দেহ হয় এটা পূর্ব পরিকল্পিত কিনা।’

তবে তথ্যমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ বলেছেন, সংসদের এই ঘটনা নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই।এটি সরকারের বক্তব্য নয়। কারণ, এই সরকার অবাধ তথ্যপ্রবাহে বিশ্বাস করে। গণমাধ্যমকে সহায়ক শক্তি ভাবে। রিয়াজউদ্দিন আহমেদ বলেন, রাজনৈতিক কর্মীরা সাংবাদিকদের উপর নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করে। এটি বন্ধ করতে হবে। শাইখ সিরাজ বলেন, সংবাদপত্র তুলনামূলকভাবে অনেক স্বাধীনতা ভোগ করলেও টেলিভিশনে নানা চাপ আসে। কাজেই একটি সম্প্রচার নীতিমালা করা দরকার। তিনি বলেন, সরকারের পড়্গ থেকে বেসরকারি টেলিভিশনগুলোকে বিটিভির খবর প্রকাশ করার জন্য বলা হচ্ছে। এতে জনগণের কি উপকারটা হবে বোঝা যাচ্ছে না। এ ছাড়া পত্রিকায় কোন বিজ্ঞাপন দিলে সরকার টাকা দেয়। কিন্তু টেলিভিশনে কোন টাকা না দিয়ে উল্টো বলা হয়, গুরম্নত্বপূর্ণ সময়ে দেখাতে হবে। অতীতে ও জরম্নরি অবস্থায় টেলিভিশনগুলোকে অনেক চাপে কাজ করতে হয়েছে।

মুন্নী সাহা বলেন, আগে বিভিন্ন ভবন থেকে চাপ আসতো। তবে এখন সেটা নেই।

তথ্যমন্ত্রী আরো বলেছেন, এই সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে। তাই কোন চাপ দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। তিনি বলেন, গত দুই বছরে তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে কোথাও কোন চাপ দেওয়া হয়েছে এমন কথা কেউ বলতে পারবে না।

রাজনৈতিক লাইসেন্স বন্ধের দাবিঃ রাজনৈতিকভাবে টেলিভিশনের লাইসেন্স দেওয়া বন্ধের আহবান জানান বক্তারা। রিয়াজউদ্দিন আহমেদ বলেন, কাকে টেলিভিশন ও রেডিওর লাইসেন্স দেওয়া হবে সে ব্যাপারে নীতিমালা করতে হবে। জ· ই· মামুন বলেন, গণমাধ্যশ একটি শক্তিশালী অস্ত্র। কাকে এই অস্ত্র দেবেন, কাকে দেবেন না সেটি ঠিক করা দরকার। একই রকম মন্তôব্য করেন ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সব বার্তা প্রধানরা।

কালো টাকা নিয়ে উদ্বেগঃ মঞ্জুরম্নল আহসান বুলবুল বলেন, পুঁজি ও ড়্গমতা নানাভাবে গণমাধ্যমকে কলুষিত করেছে। শ্যামল দত্ত বলেন, কালো টাকার বিনিয়োগ আসছে মিডিয়ায়। যাদের বিরম্নদ্ধে লেখালেখি হয় তারাই এখন টাকা নিয়ে সংবাদপত্র বের করছে। ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, কালো টাকার অনেক মালিকই গণমাধ্যমে বিনিয়োগ করতে আসছে। বুদবুদের মতো এই বিনিয়োগ উড়ে গেলে অনেকেই চাকুরি হারাবেন। তথ্যমন্ত্রী বলেন, কালো টাকা এখন সব জায়গায়। কিন্তু সাংবাদিকদের টাকার কাছে বিক্রি হলে চলবে না। গোলাম সারোয়ার বলেন, কালো টাকার মালিকরা এসে বেশি বেতনে সাংবাদিকদের নিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি প্রথম আলো সম্পাদকের বিরম্নদ্ধে কুৎসা রটানো হচ্ছে খুবই নোংরাভাবে। আমাদের সম্মিলিতভাবে এর প্রতিবাদ করা উচিত।