রক্তচোষা এমএলএম-ফাঁদে চলচ্চিত্র তারকারা


রক্তচোষা এমএলএম- এইমওয়ের ফাঁদে চলচ্চিত্র তারকারা
মএলএম ব্যবসায় কোনো নীতিমালা না থাকায় ব্যাঙের ছাতার মতো অলিগলিতে গজিয়ে উঠছে এমএলএম কোম্পানি। সম্প্রতি পল্টনে এ ধরনের একটি এমএলএম কোম্পানির জন্ম হয়েছে। এ নব্য এমএলএম কোম্পানির নাম এইমওয়ে করপোরেশন। রিদোয়ান বিন ইসাহাক এ কোম্পানির চেয়ারম্যান। পুরানা পল্টনের বায়তুল আবেদ কমপ্লেক্সে এ কোম্পানির কার্যক্রম শুরু হলেও পরবর্তী সময়ে রিদোয়ান বিন ইসাহাক তার নিজস্ব ভবন ৫১/১, পল্টনে এইমওয়ে করপোরেশনের ব্যবসায়িক কার্যক্রম প্রসারিত করেছেন। এরই মধ্যে এ কোম্পানির বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে।
 এইমওয়ে কর্তৃপক্ষ প্রথমে ছয় মাসে দ্বিগুণ টাকা ফেরত দেয়ার কথা বলে ১৮ মাস বা তার পরও দ্বিগুণ টাকা ফেরত দেয়া হচ্ছে না এমনটি জানান   ভুক্তভোগী বেশ কয়েকজন।  নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জানান, এইমওয়ে কর্তৃপক্ষ বিভিন্নভাবে আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করছে। ইন্টারনেটে গ্রাহকদের নিজস্ব আইডির মাধ্যমে ব্যালেন্স দেখানোর কথা বললেও বাস্তবে গ্রাহকদের অ্যাকাউন্ট আইডি সার্চ করলে ব্যালেন্স শূন্য প্রদর্শন করে। এছাড়া কোম্পানির ওয়েবসাইডে সম্মুখ পরিকল্পনা হিসেবে বিশটি প্রজেক্টের নাম উল্লেখ থাকলেও কোনোটির কার্যক্রম এখনো শুরু হয়নি।
যার মধ্যে বিপুল পরিমাণ রপ্তানিমুখী গার্মেন্টস শিল্প নির্মাণ, ফার্মাসিউটিক্যালস, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প, নিজস্ব ব্যাংক, ট্রান্সপোর্ট বিজনেস, মিনারেল ওয়াটার ফ্যাক্টরি, হাউজিং ও ডেভেলপার কোম্পানি, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক শিল্প, নিজস্ব বীমা শিল্প, লঞ্চ, হেলিকপ্টার থেকে শুরু করে পর্যটন শিল্প অর্থাৎ আল্লাহ পাকের তামাম দুনিয়ার সমস্ত শিল্প কারখানা এমনকি ব্যবসা শেষে সদস্যদের জন্য বিনামূল্যে কবরস্থান নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ রয়েছে।
   শুধুমাত্র সাধারণ জনগণকে স্বপ্ন দেখাচ্ছে। এরই মধ্যে বেশকিছু গ্রাহক তাদের জমাকৃত টাকার দ্বিগুণ আনতে গেলে এইমওয়ে কর্তৃপক্ষ দুই থেকে তিন মাস সময় নিচ্ছে। জানা যায়, এইমওয়ে হারবাল পণ্য ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করলেও পণ্যটা মূলত লতা হারবাল নামক একটি হারবাল কোম্পানির পণ্য। শুধুমাত্র এইমওয়ে কোম্পানির লোগোসম্বলিত কিছু ব্যাগে এগুলো ভরে সরবরাহ করা হয়। নানা প্রলোভনে জনগণকে ফাঁদে ফেলছে তারা। এবার প্রতারণার নতুন ভাবনায় সংযোজিত হয়েছে চলচ্চিত্রের কিছু বেকার শিল্পী। চলচ্চিত্র শিল্পীদের ব্যবহার করে তারা প্রতারণা শুরু করেছে। এক সময়ের জনপ্রিয় নায়ক রুবেল, অমিত হাসানকে এ কোম্পানির পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। ঢাকা এবং ঢাকার বাইরে এইমওয়ের বিভিন্ন কনফারেন্সে রুবেল, অমিত হাসান, ইমন, নীরবসহ চলচ্চিত্রের পরিচিত মুখদের দিয়ে উপস্থাপনা করান। ওইসব বেকার শিল্পীরা এইমওয়ের গুণকীর্তন করে থাকেন। ফলশ্রুতিতে সাধারণ জনগণ যারা এইমওয়ের কনফারেন্সে আসেন তাদের মাঝে এইমওয়ে সম্পর্কে একটা পজিটিভ ধারণা জন্ম নেয়।
প্রিয় নায়ক যখন বলেছেন তা তো মিথ্যা হতে পারে না। এ ধারণা নিয়েই বাড়িতে চলে যায়। পরবর্তীতে গচ্ছিত টাকা-পয়সা এনে জমা করে এইমওয়ের অ্যাকাউন্টে। বিনিময়ে কয়েক ব্যাগ এইমওয়ের হারবাল পণ্যের ব্যাগ নিয়ে বাড়িতে যায়।
হারবাল পণ্যে স্ত্রীর রূপচর্চায় একটু সুবিধা হলেও দ্বিগুণ টাকা ফেরত পেতে বেশ বেগ পেতে হয়। জমাকৃত টাকা যে ফেরত পাবে এ নিশ্চয়তাও নেই। এ আশঙ্কায় থাকতে হয় এইমওয়ের সদস্যদের। চলচ্চিত্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বেশ কিছু লোকজন এইমওয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ায় চলচ্চিত্রের দুয়েকজন দালালের মাধ্যমে এইমওয়েতে বিভিন্ন প্রলোভনে লোক যোগদান করিয়ে বেশ ফুরফুরে মেজাজে আছে। কারণ তাদের দিন বেশ ভালোই কাটছে। রোজগারও বেশ ভালো।
 চলচ্চিত্রের অবস্থা নাজুক হওয়ায় চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট কেউ কেউ একটু ভালো থাকার আশায়  যোগদান করছে এইমওয়েতে ।
অথচ ভালো থাকার আশায় কখন যে প্রতারণার ফাঁদে পড়েছে সে নিজেও জানে না।
  চলচ্চিত্রের সাইনবোর্ড লাগিয়ে এ ধরনের প্রতারণামূলক ব্যবসা কারো মঙ্গল বয়ে আনে না। এ ধরনের কার্যক্রমে চলচ্চিত্র তারকারা সম্পৃক্ত হওয়ায় তাদের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ হচ্ছে এমনটি জানান চলচ্চিত্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত অনেকেই। তারকাদের সম্মান ধরে রাখতে তাদের নিজেদের সর্বদা সতর্ক থাকতে হবে।
একুশ নিউজ মিডিয়া এখন ফেস বুক এ Video News: www.EkushTube.com Visit us on FaceBook

Cheap International Calls


দ্য ইকনোমিস্টের দৃষ্টিতে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতি


দ্য ইকনোমিস্টের দৃষ্টিতে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতি
Bangladesh
Politics of hate
An ancient vendetta continues to eat away at public life << Original Link

আন্তর্জাতিক প্রভাবশালী সাময়িকী দ্য ইকনোমিস্টের ২০ নভেম্বর সংখ্যায় বাংলাদেশের বৈরিতার রাজনীতি নিয়ে প্রকাশিত বিশ্লেষণধর্মী নিবন্ধটির অনুবাদ

Hartal

Hartal

সেনাবাহিনীর দুর্যোগময় অন্তর্বর্তীকালীন ব্যর্থ শাসন ও দেশের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক শাসকপরিবারের নেতারা জেল থেকে মুক্ত হওয়ার দুই বছর পর বাংলাদেশ পুনরায় ঘৃণা ও সংঘাতের রাজনীতির আবর্তে ঘূর্ণায়মান। এর জন্য মূলত দুই নেতার একজন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অন্যজন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত প্রতিহিংসাই দায়ী।

বেগম জিয়া ১৩ নভেম্বর ঢাকায় ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় যে বাড়িতে প্রায় ৩২ বছর ধরে বাস করে আসছিলেন তা থেকে উচ্ছেদ হন। এ পদক্ষেপ একটি হরতালের জন্ম দেয়। এটা ছিল বেগম জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিরোধী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ডাকা প্রতিবাদের রূপ। এতে তার বিএনপি ও শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগের সমর্থকদের মধ্যে সহিংসতার ঘটনা ঘটে। দেশটির তৃতীয় রাজনৈতিক শক্তি সেনাবাহিনী হাইকোর্টের উচ্ছেদ আদেশ কার্যকরে সহায়তা করে। বেগম জিয়ার বাড়ির চারপাশের বিশাল এলাকা নির্বাচনে তার দল আওয়ামী লীগ ক্ষমতা গ্রহণের পর পর গত বছরের প্রথম দিকে (বিডিআর) বিদ্রোহে নিহত ৫৭ জন সামরিক কর্মকর্তার পরিবারের আবাসনের জন্য বরাদ্দের ঘোষণা দেন শেখ হাসিনা এবং এটি তার একটি কূটচাল।

উচ্ছেদ কার্যক্রম হচ্ছে বিএনপির মেরুদন্ড ভেঙে দেওয়ার জন্য (আওয়ামী) লীগের মিশনের অংশ। এটা হচ্ছে বেগম জিয়ার মরহুম স্বামী ও ১৯৭১ সালে পশ্চিম পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের নায়ক জেনারেল জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠিত বংশানুক্রমিক রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ইতিহাস থেকে মুছে দেওয়ার আবিষ্টতাজাত।

ফেব্রুয়ারিতে সরকার ঢাকার জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম বদলে একজন শ্রদ্ধেয় সুফিসাধকের নামে রাখে। (সরকার) ১৯৭২ সালের সংবিধান ‘পুনর্মুদ্রণের’ সিদ্ধান্তও নিয়েছে জুলাইয়ে সুপ্রিম কোর্টের একটি যুগসন্ধিক্ষণমূলক রুলিংয়ের আলোকে, যাতে অন্যান্য নানা বিষয়ের সঙ্গে ১৯৭৫ সালে শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকান্ডের পর জেনারেল জিয়াসহ সব সামরিক শাসনকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়। এদিকে অক্টোবরে একটি আদালত বেগম জিয়ার ছোট ছেলের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে।

সেনাসমর্থিত অন্তর্বর্তীকালীন শাসনের সময় বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা চারটি দুর্নীতি মামলা রয়েছে। অন্যদিকে একই সময়ে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের করা ১৩টি দুর্নীতি মামলা বর্তমান সরকারের আমলে তুলে নেওয়া হয়েছে। এমনকি সাম্প্রতিক এ আক্রমণের আগ থেকেই বিএনপি ধুকে ধুকে চলছিল। ৩০০ আসনের জাতীয় সংসদে দলটির মাত্র ৩০টি আসন রয়েছে। তারা এই জাতীয় সংসদও বয়কট করে চলছে। এটা এখন বিভক্ত। বেগম জিয়ার পক্ষে এখন সংখ্যালঘু সংখ্যার সমর্থন রয়েছে। এদিকে বিএনপির প্রধান সহযোগী বাংলাদেশের বৃহত্তম ইসলামি দল জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা জেলে রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে রয়েছে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের সময়কালের অপরাধের অভিযোগ এবং তারা এখন সম্ভাব্য শাস্তির সামনে। সাবেক একজন প্রধানমন্ত্রী এবং বেগম জিয়ার কৌঁসুলি মওদুদ আহমদ বলেন, এ জোট বিএনপির সুনাম, বিশেষ করে আন্তর্জাতিকভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে। কিন্তু তার পরও বিএনপির প্রয়োজন রয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী সমর্থনের।

economist.com

economist.com

বেগম জিয়ার সামনে একমাত্র আশা যে দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, বিদ্যুৎ সংকট এবং শেখ হাসিনার সরকারের সর্বগ্রাসী পুঁজিবাদী শাসন যা বেগম জিয়ার শাসনামলও (২০০১-০৬) ছাড়িয়ে গেছে তাতে জনগণ বীতশ্রদ্ধ ও হতাশ। সরকারের প্রতি জনগণের যে নির্ভরতা ছিল তাতে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। বেগম জিয়া মনে করছেন, একসময় গণজোয়ার তার বড় ছেলে ও সম্ভাব্য উত্তরাধিকারী তারেক রহমান (যিনি এখন ব্রিটেনে নির্বাসনে রয়েছেন) এর পক্ষে ধাবিত হবে। যদিও তারেক রহমান সেনা হেফাজতে থাকাকালে ভাঙা মেরুদন্ড নিয়ে ২০০৮ সালে দেশত্যাগ করেন এবং তিনি বেগম জিয়ার শাসনামলের দুর্নীতির প্রতীক। এমনকি তিনি বিএনপি নেতাদেরও অনেকেরই অপছন্দের মানুষ।

ইতোমধ্যে শেখ হাসিনার প্রতিহিংসা ভারতীয় সরকারের সমর্থন লাভ করেছে। (এই সরকারের আমলে) বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। বেগম জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের শাসনের সমাপ্তি, ভারতের চোখে তার জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত। ভারত মনে করে, তার পরিবার ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অনধিকার হস্তক্ষেপ করে চলেছে। এই মাসে তারেক রহমানের ডান হাত বলে কথিত এক ব্যক্তি তদন্তকারীদের বলেছেন, ঢাকায় পাকিস্তানি দূতাবাস ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অসমিয়া জাতিসত্তার জন্য স্বাধীনতার লক্ষ্যে যুদ্ধরত সশস্ত্র গ্রুপ ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অব অসম (উলফা) বিএনপি (এ ক্ষেত্রে তারেক রহমান) ও তাদের সহযোগী বাংলাদেশী অদৃশ্য এক গোষ্ঠীকে এক কোটি ডলার প্রদান করেছে ভারতীয় সশস্ত্র গ্রুপের জন্য ১০ ট্রাক অস্ত্র গোপনে পাচার করতে।

100 injured in hartal clashes

100 injured in hartal clashes

পশ্চিমা সরকারগুলোও তারেক রহমানের ফিরে আসার বিরোধিতা করে। তারা সূক্ষ্ম ঘোমটায় টানা ২০০৭ সালের জানুয়ারির সেনা অভ্যুত্থানকে (যা বিএনপির নির্বাচনী ফলাফল ছিনিয়ে নেওয়া প্রতিহত করে বলে তারা মনে করে) সমর্থন করে। এই অভ্যুত্থান সাবেক বিএনপি সরকারকে ঘিরে যে ইসলামিক চরমপন্থী ছোট ছোট গ্রুপ গড়ে উঠেছিল তাদের ওপরও আক্রমণ করে। আওয়ামী লীগের নীতির কেন্দ্রীয় কৌশল হচ্ছে এই আক্রমণ চলমান রাখা।

সরকারের জনপ্রিয়তা কমতে থাকা সত্ত্বেও শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠজনেরা খালেদা জিয়ার ব্যাপারে নমনীয় নন যা বেগম জিয়াকে হ্রস্ব করে। এমন একটি পরিস্থিতিতে প্রায় চার দশকের পুরনো ব্যক্তিগত আক্রোশের কারণে সৃষ্ট বিভেদের রাজনীতিতে (আওয়ামী) লীগ কী করে নিজেকে সংশ্লিষ্ট রাখতে পারে সেটাই দেখার বিষয়। এখন তাদের সময় এসেছে শাসনকাজে মন দেওয়ার। [সাপ্তাহিক বুধবারে প্রকাশিত]

আমাদের সময়, আলোচনা, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, জনকন্ঠ, ডেসটিনি, দিগন্ত, দিনের শেষে, নয়া দিগন্ত, প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ভোরের কাগজ, মানবজমিন, মুক্তমঞ্চ, যায় যায় দিন, যায়যায়দিন, যুগান্তর, সংগ্রাম, সংবাদ,চ্যানেল আই, বাঙ্গালী, বাংলা ভিশন, এনটিভি,এটিএন বাংলা, আরটিভি, দেশ টিভি, বৈশাখী টিভি, একুশে টিভি, প্রবাস, প্রবাসী, ঠিকানা, জাহান হাসান, বাংলা, বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস, লিটল বাংলাদেশ, ইউএসএ, আমেরিকা, অর্থনীতি, প্রেসিডেন্ট ওবামা,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,অর্থ, বাণিজ্য, শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, রাজাকার, আল বদর, সুখ, টেলিভিশন, বসন্ত উৎসব, Jahan, Hassan, jahanhassan, Ekush, bangla, desh, Share, Market, nrb, non resident, los angeles, new york, ekush tube, ekush.info,

বাপা-বেন সম্মেলনের উদ্দেশ্য হচ্ছে বাংলাদেশের নগরায়ন নীতি প্রণয়নে স্ববাসী ও প্রবাসী নাগরিকদের অংশগ্রহণকে নিশ্চিত করা। বর্তমানে শুধুমাত্র টেকনোক্র্যাট ও আমলারাই জনসাধারণের দৃষ্টির অন্তরালে ও বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী মহলের চাপ দ্বারা প্রভাবান্বিত হয়ে এই সমস্ত নীতি প্রণয়ন করে থাকেন। নিউ ইয়র্কে নগরায়ন, যানজট ও পরিবেশের ওপর বেনের সেমিনার


নিউ ইয়র্কে নগরায়ন, যানজট ও পরিবেশের ওপর বেনের সেমিনার
পড়শী প্রতিনিধি

সেমিনারের প্রথম আলোচক ছিলেন রাজিয়া নাজমি, যিনি তার সাও পাওলো শহরের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন

সেমিনারের প্রথম আলোচক ছিলেন রাজিয়া নাজমি, যিনি তার সাও পাওলো শহরের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন

গত ১০ই অক্টোবর, ২০১০ বেন (বাংলাদেশ এনভায়রনমেন্ট নেটয়ার্ক) নিউ ইয়র্ক, নিউ জার্সি, ও কানেকটিকাট শাখার উদ্যোগে “নগরায়ন, যান-জট ও পরিবেশ” শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। বেনের এই তিন-রাজ্য শাখার সমন্বয়কারী তওফিক চৌধুরী সভাটি শুরু করেন ও বেনের বিশ্ব সমন্বয়কারী ড. নজরুল ইসলামকে সভাপতিত্ব করতে আহ্ববান জানান। ড. ইসলাম বলেন যে নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারটি বেন ও বাপা কর্তৃক আয়োজিত আগামী ৮-ই জানুয়ারী , ২০১১ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য “নগরায়ন, যানজট ও পরিবেশ” শীর্ষক সম্মেলনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আয়োজিত হয়েছে। ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য দুটি। প্রথমটি হচ্ছে যানজট ও নগরায়নের অন্যান্য সমস্যাকে বাংলাদেশের জাতীয় উন্নয়ন কৌশলের বিভিন্ন অনভিপ্রেত বৈশিষ্টের প্রেক্ষাপটে বিচার করে একটি সামগ্রিক ও সুষম নগরায়ন নীতি প্রণয়ন করা। এ প্রসংগে তিনি বলেন, যানজট নিরসনে এখন পর্যন্ত যে সব পদক্ষেপ গ্রহণ অথবা গ্রহণের চিন্তা করা হয়েছে, তাদের দুটি ভাগে ভাগ করা যায়। প্রথমটি হচ্ছে “সাময়িক উপশম” মূলক বিভিন্ন ব্যবস্থা,যেমন ট্র্যাফিক নীতির পরিবর্তন, ইত্যাদি। অন্যটি হচ্ছে উড়াল-সড়ক বা পাতাল রেল, ইত্যাদি বিভিন্ন নতুন অবকাঠামোর নির্মাণ। এই উভয়বিধ পদক্ষেপই হয়তো প্রয়োজন, যদিও অবকাঠামো নির্মাণমূলক প্রকল্পগুলির যথাযথ নিরীক্ষার প্রয়োজন। কিন্তু বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতার আলোকে স্পষ্ট যে, দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন কৌশলের পরিবর্তন না হলে শুধু এই দুই ধরণের পদক্ষেপ দ্বারা যানজট সমস্যার স্থায়ী ও প্রকৃত সমাধান অর্জিত হবে না।

ড. ইসলাম জানা যে, জানুয়ারীতে অনুষ্ঠিতব্য বাপা-বেন সম্মেলনের দ্বিতীয় উদ্দেশ্য হচ্ছে বাংলাদেশের নগরায়ন নীতি প্রণয়নে স্ববাসী ও প্রবাসী নাগরিকদের অংশগ্রহণকে নিশ্চিত করা। বর্তমানে শুধুমাত্র টেকনোক্র্যাট ও আমলারাই জনসাধারণের দৃষ্টির অন্তরালে ও বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী মহলের চাপ দ্বারা প্রভাবান্বিত হয়ে এই সমস্ত নীতি প্রণয়ন করে থাকেন। ড. ইসলাম প্রবাসীদেরকে এই সম্মেলনের সুযোগ নিয়ে বাংলাদেশের নগরায়ন কৌশল নীতি প্রণয়নে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করার জন্য আহ্ববান জানান।

নগরায়ন, যান-জট ও পরিবেশ” শীর্ষক একটি সেমিনার

নগরায়ন, যান-জট ও পরিবেশ” শীর্ষক একটি সেমিনারে অতিথিবৃন্দ

সেমিনারের প্রথম আলোচক ছিলেন রাজিয়া নাজমি, যিনি তার সাও পাওলো শহরের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন। সাও পাওলো শহর মেক্সিকো সিটির উদাহরণ অনুযায়ী একটা চক্রাকার ব্যবস্থার প্রবর্তন করে যার অধীনে “রাশ আওয়ারের” সময় গাড়ির লাইসেন্স নম্বর অনুযায়ী শহরের কিছু অংশে গাড়ির গতিবিধি নিয়ন্ত্রিত হয়। ১৯৯৭ সালে প্রবর্তিত এই পদ্ধতি শুরুতে শহরের যানজট ১৮% কমিয়ে দেয়। সাথে সাথে সাও পাওলো সাইকেল ট্রাফিকের জন্য অবকাঠামো নির্মান শুরু করে। রাজিয়া নাজমি বলেন, গণ-পরিবহন ব্যবস্থা সৃষ্টির পাশাপাশি ঢাকায় হাঁটার জন্য ভাল ফুটপাথ, সাইকেলের জন্য পথ ও বিশেষ রিক্সা এলাকা সৃষ্টির প্রয়োজন, এবং এই কাজটা সাধারণ নাগরিকদের সহযোগিতায় সরকার করতে পারে।

পরবর্তী আলোচক ছিলেন ড. আদনান মোর্শেদ যিনি আন্তর্জাতিক নগরায়ন অভিজ্ঞতার আলোকে ঢাকা শহরের সমস্যাগুলি তুলে ধরেন। তিনি বলেন সফল নগরায়ন তখনই সম্ভব যখন বিভিন্ন ধরণের পরিবহন ব্যবস্থার প্রবর্তন করা হয়। বাংলাদেশ নগরায়ন সমস্যার এই সন্ধিক্ষণকে ব্যবহার করে একটা দক্ষ, সুষম ও উপযুক্ত গণ-পরিবহন ব্যবস্থার প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে পারে। ফুটপাথ, সাইকেল পথ ও পানি পথকে সর্বোচ্চ ও উপযুক্তভাবে ব্যবহার করে নগরায়নের সুন্দর অগ্রগতি সম্ভব। তিনি জানান যে, সফল নগরায়নের জন্য ছয়টি বিষয়ের সম্মিলন প্রয়োজন। ড. মোর্শেদ তাঁর যুক্তি শিক্ষণীয় ও চমকপ্রদ স্লাইডের মাধ্যমে উপস্থাপিত করেন।

প্রফেসর রওনক জাহান বলেন, উন্নত নগরায়নের প্রকল্পগুলিকে স্বার্থান্বেষী মহলের মোকাবেলা করতে হবে, সেইজন্য এই সব প্রকল্পের গ্রহণ ও বাস্তবায়ন সহজ হবে না।

প্রফেসর রেহমান সোবহানও সঠিক নগরায়ন পদ্ধতির একটা মূল সমস্যা হিসেবে রাজনৈতিক অর্থনীতিকে চিহ্নিত করেন। তিনি বলেন, এই দ্বন্দ্বের নিরসন না হলে সমস্যা থেকেই যাবে। বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্পের প্রণয়ন, বাস্তবায়ন ও ব্যবহারে যেখানে দশ থেকে বারো বছরের প্রয়োজন, সেখানে সরকারের আয়ু পাঁচ বছর। সময়ের এই অমিল সরকারকে নতুন কাজে হাত দিতে উৎসাহিত করে না। জমির উচ্চ মূল্যও বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের পথে একটি বাধা হিসেবে কাজ করে। তিনি বলেন যে সমস্ত অবকাঠামোগত প্রকল্প নিয়ে এখান ভাবা হচ্ছে সেগুলো নিয়ে বিশ/পঁচিশ বছর আগে চিন্তা করা উচিত ছিল। দীর্ঘ-মেয়াদী প্রকল্পের বাস্তবায়নের সাথে সাথে দ্রুত বাস্তবায়িত করা যায় সেরকম কাজগুলোও চলতে পারে। বাপা-বেন নগরায়ন নিয়ে যে সম্মেলনের আয়োজন করেছে তাতে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন ও সম্মেলনের সাফল্য কামনা করেন।

ঢাকা শহরের যানজট

ঢাকা শহরের যানজট

অতিথি ও আলোচকদের বক্তব্যের পর উপস্থিত সবাই উৎসাহের সঙ্গে উন্মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।

সেমিনারে একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও চিত্রের জন্য নীচের You-Tube ক্লিপটি দেখুনঃআমাদের সময়, আলোচনা, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, জনকন্ঠ, ডেসটিনি, দিগন্ত, দিনের শেষে, নয়া দিগন্ত, প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ভোরের
কাগজ, মানবজমিন, মুক্তমঞ্চ, যায় যায় দিন, যায়যায়দিন, যুগান্তর, সংগ্রাম, সংবাদ,চ্যানেল আই, বাঙ্গালী, বাংলা ভিশন, এনটিভি,এটিএন বাংলা, আরটিভি, দেশ টিভি, বৈশাখী টিভি, একুশে টিভি, প্রবাস, প্রবাসী, ঠিকানা, জাহান হাসান, বাংলা, বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস, লিটল বাংলাদেশ, ইউএসএ, আমেরিকা, অর্থনীতি, প্রেসিডেন্ট ওবামা,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,অর্থ, বাণিজ্য, শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, রাজাকার, আল বদর, Jahan, Hassan, Ekush, bangla, desh, Share, Market, nrb, non resident, los angeles, new york, ekush tube, ekush.info,

প্রবাসীদের প্রধান ঈদ আনন্দ দেশে প্রিয়জনদের সাথে কথা বলা: ঈদের দিন সাড়ে ১০ কোটি মিনিট কল এসেছে বিদেশ থেকে


ঈদের দিন সাড়ে ১০ কোটি মিনিট কল এসেছে বিদেশ থেকে
ফিরোজ মান্না ॥

BTRC

BTRC

বৈধ পথে আন্তর্জাতিক টেলিফোন কল রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে। ঈদের দিন প্রায় সাড়ে ১০ কোটি মিনিট কল দেশের বাইরে থেকে এসেছে। এই পরিমাণ কল এর আগে কখন হয়নি। বিটিআরসি অবৈধ ভিওআইপি বন্ধের বিরম্নদ্ধে একের পর এক অভিযান পরিচালনার কারণে আনত্মর্জাতিক কল সংখ্যা বাড়ছে। অবৈধ ভিওআইপি বন্ধ করতে পারলে বৈধ পথে কলের সংখ্যা দ্বিগুণ হবে।

বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব) জিয়া আহমেদ জনকণ্ঠকে জানান, মানুষ এখন আগের চেয়ে অনেক সচেতন হয়েছে। তারা চায় না অবৈধ পথে টেলিফোন কল করতে। অবৈধ ভিওআইপি অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করার কারণে কল সংখ্যা রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে। অবৈধ কল বন্ধ করার জন্য বিটিআরসি ‘সিম ডেকেটশন টুল’ স্থাপন করে মোবাইল বা পিএসটিএন নম্বর শনাক্ত করা হয়। যে সব নম্বর থেকে অবৈধ কল আসছে সেগুলো সঙ্গে সঙ্গে বস্নক করে দেয়া হচ্ছে। আরও কিছু ব্যবস্থা নেয়ার ফলে বৈধ পথে আনত্মর্জাতিক কল দিন দিন বেড়েই চলেছে। বিটিআরসির চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব নেয়ার সময় প্রতিদিন ২ কোটি মিনিট কল বৈধ পথে আসত। সিংহভাগ কল চলে যেত অবৈধ পথে। এখন প্রতিদিন গড়ে ৫ থেকে ৬ কোটি মিনিট কল বৈধ পথে দেশে আসছে। এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব পাচ্ছে। এবার ঈদের দিন বৈধ পথে ১০ কোটি ৩৪ লাখ ৮২ হাজার ২৫৬ মিনিট কল দেশে প্রবেশ করেছে। এটা বিটিআরসির ইতিহাসে রেকর্ড পরিমাণ কল। ঈদের আগের দিন কল এসেছে ৭ কোটি ৭৪ লাখ ২ হাজার ৫২১ মিনিট। ঈদের পরের দিন কলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি ৫১ লাখ ২ হাজার ১৭৫ মিনিট। বিটিআরসি অবৈধ ভিওআইপি বন্ধ করার জন্য ১৪টি আইএসপি, পিএসটিএন ও ভিস্যাট লাইসেন্স বাতিল করার পর থেকেই আনত্মর্জাতিক কল বাড়তে শুরম্ন করেছে। অবৈধ ভিওআইপি পুরোপুরি বন্ধ করতে পারলে বৈধ পথে আনত্মর্জাতিক কলের পরিমাণ প্রতিদিন ১৫ থেকে ১৬ কোটি মিনিটে উন্নতি হতে পারে। আমরা বৈধ কল বাড়াতে নানা পদৰেপ নিয়েছি।

Radio Link

Radio Link

জানা গেছে, অবৈধ ভিওআইপি (ভয়েস ওভার ইন্টারনেট প্রটোকল) কল বন্ধ করতে সর্বোচ্চ পদৰেপ হিসেবে সরকার টেলিযোগাযোগের বিভিন্ন খাতে লাইসেন্স বৃদ্ধির চিনত্মা ভাবনা করছে। ভিওআইপি একটি প্রযুক্তি এবং সেটিকে মোকাবেলা করতে হবে প্রযুক্তি দিয়ে। লাইসেন্স বৃদ্ধি করে এর সমাধান হবে না বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। অবৈধ কল যাচাইয়ের জন্য ডিপ প্যাকেট ইন্সপেকশন (ডিপিআই) নামে একটি যন্ত্র আছে। যেসব প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের ব্যান্ডউইথ দেয় সেখানে এটি স্থাপন করা হলেই অবৈধ কল বন্ধ করা সম্ভব। কিন্তু সেটি কার্যকর করতে কর্তৃপৰ তেমন আগ্রহী হচ্ছে না।

সূত্র জানিয়েছে, অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা চলছে অত্যাধুনিক ‘রেডিও লিঙ্ক’ প্রযুক্তির মাধ্যমে। ভারত থেকে ব্যান্ডউইথ কিনে রেডিও লিঙ্কের মাধ্যমে কল আদান-প্রদান করা হচ্ছে। আর এই কাজ হচ্ছে সীমানত্ম এলাকার বহু জেলায়। এমন কি খোদ ঢাকাতেই হাই ফ্রিকোয়েন্সির রেডিও লিঙ্ক ব্যবহার করে অবৈধ ভিওআইপি করা হচ্ছে। বিটিআরসি নানা ব্যবস্থা নেয়ার পরেও অবৈধ ভিওআইপি বন্ধ হয়নি। কিছু ভুয়া বিদেশী টেলিফোন নম্বর ব্যবহার করে এসব কল আদান-প্রদান করার কাজ চলছে। বিটিআরসির পৰে এমন কল আটকানো কোনভাবেই সম্ভব হচ্ছে না। কারণ এসব কল আদান-প্রদানের জন্য দেশীয় যে কোন মোবাইল অপারেটরের সিম কার্ড বা ই-১ ব্যবহার করা হয়। প্রযুক্তিকে ফিল্টার করতে গিয়ে উন্নত প্রযুক্তির কাছে মার খাচ্ছে বিটিআরসি। সরকার হারাচ্ছে বিরাট অঙ্কের রাজস্ব। পিএসটিএন কোম্পানি এবং কিছু আইএসপি বন্ধ করে দিলেই ভিওআইপি হবে এটা ভাবার কোন কারণ নেই। প্রতিদিন প্রযুক্তির উন্নতি ঘটছে। প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধ করতে হলে উন্নত প্রযুক্তির প্রয়োজন রয়েছে।

E1 30 GSM Channel Bank

E1 30 GSM Channel Bank

তথ্য প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারত থেকে ব্যান্ডউইথ কিনে একটা ই-১ (৩০টি টেলিফোন লাইন সংযুক্ত করা যায় এমন যন্ত্র) ভয়েজ কানেকটিভিটি ব্যবহার করে অবৈধ ভিওআইপি ( ভয়েজ ওভার ইন্টারনেট প্রটোকল) হচ্ছে। অথবা বিভিন্ন মোবাইল অপারেটরের সিমও ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব ভিওআইপির বেশির ভাগ ৰেত্র হচ্ছে সীমানত্ম জেলায়। সরকার ভিওআইপি বন্ধ করার জন্য কঠোর অবস্থান নিয়েও অবৈধ ভিওআইপি বন্ধ করতে পারেনি। খোদ বিটিসিএল’র বিরম্নদ্ধে ভিওআইপি করার অভিযোগ রয়েছে। এ থেকে মোবাইল অপারেটররাও বাদ নেই। বিদেশে কল আদান-প্রদান করার সময় দেখা যায় দেশী ফোন কোম্পানিগুলোর নম্বর ভেসে উঠছে। তবে রেডিও লিঙ্ক ব্যবহার করে যে সব কল আদান-প্রদান হচ্ছে সেগুলোতে ভুয়া বিদেশী নম্বর ব্যবহার করা হচ্ছে। যে কোন দেশ থেকে কল এলে টেলিফোন নম্বরের আগে অবশ্যই যোগ চিহ্ন থাকবে। কিন্তু রেডিও লিঙ্ক থেকে আসা বেশির ভাগ কলে যোগ চিহ্ন পাওয়া যাবে না। গ্রাহক মনে করবে যে নম্বর থেকে কল এসেছে সেই নম্বরটি সংশিস্নষ্ট দেশেরই নম্বর। বিটিআরসিকে ফাঁকি দেয়ার জন্য এ ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে অবৈধ ব্যবসায়ীরা। এটি করতে তারা উন্নত মানের সফটওয়ার ব্যবহার করছে। ভারতে যারা ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার তাদের কাছ থেকে ব্যান্ডউইথ কিনছে দেশীয় অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসায়ীরা। ভারত ব্যান্ডউইথ বিক্রি করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছে। তবে বিটিআরসি বলছে, রেডিও লিঙ্ক ব্যবহার করে অবৈধ ভিওআইপি করা অসম্ভব। এটা যারা বলছে তারা এর কোন প্রমাণ দিতে পারেনি। ভারত থেকে এভাবে কেউ ব্যান্ডউইথ কিনতে পারে না। ব্যান্ডউইথ কিনতে হলে লাইসেন্স নিতে হবে। ভারত তথ্য প্রযুক্তির দিক থেকে অনেক এগিয়ে থাকা দেশ হিসাবে এমন কাজ তারা কোনভাবেই করতে পারে না। তাছাড়া ভারতকে এত উদার ভাবার কোন কারণ নেই। ভারতে শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ সংস্থা রয়েছে। এটা ধরা পড়লে জরিমানাসহ লাইসেন্স বাতিল করে দেবে। বিটিআরসি মনে করে অবৈধ ভিওআইপি বন্ধ করতে পারলে বৈধ চ্যানেলে কল বেশি আদান-প্রদান হবে। এতে সরকারের রাজস্ব বাড়বে।

VOIP

VOIP

এদিকে বিডি ডট কমের একজন কর্মকর্তা বলেন, ভিওআইপি কোনভাবেই বন্ধ করা যাবে না। কোন না কোন প্রক্রিয়ায় ভিওআইপি হবেই। ইন্টারনেটকে লং ডিসটেন্স হিসাবে দেখার কিছু নেই। ইন্টারনেট বিশ্বকে হাতের মুঠোয় এনে দিয়েছে। তাই ইন্টারনেট হচ্ছে লোকাল বিষয়। পৃথিবীর যে প্রানত্মেই যাওয়া যাক ইন্টারনেট সকলের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে। বিটিআরসিকে কোন কল অবৈধ আর কোন কল বৈধ এটা ধরার জন্য বসে থাকা বা অভিযান চালাতে হবে না। এখানে কিছু টেকনিক্যাল ব্যবস্থা নিলেই তখন আর অবৈধ বলতে কিছু থাকবে না। তখন বৈধ পথে আনত্মর্জাতিক কলের সংখ্যা এমনিতেই বেড়ে যাবে।আমাদের সময়, আলোচনা, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, জনকন্ঠ, ডেসটিনি, দিগন্ত, দিনের শেষে, নয়া দিগন্ত, প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ভোরের কাগজ, মানবজমিন, মুক্তমঞ্চ, যায় যায় দিন, যায়যায়দিন, যুগান্তর, সংগ্রাম, সংবাদ,চ্যানেল আই, বাঙ্গালী, বাংলা ভিশন, এনটিভি,এটিএন বাংলা, আরটিভি, দেশ টিভি, বৈশাখী টিভি, একুশে টিভি, প্রবাস, প্রবাসী, ঠিকানা, জাহান হাসান, বাংলা, বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস, লিটল বাংলাদেশ, ইউএসএ, আমেরিকা, অর্থনীতি, প্রেসিডেন্ট ওবামা,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,অর্থ, বাণিজ্য, শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, রাজাকার, আল বদর, Jahan, Hassan, Ekush, bangla, desh, Share, Market, nrb, non resident, los angeles, new york, ekush tube, ekush.info,

ওবামার চীন আতঙ্ক : যুক্তরাষ্ট্র বাস্তবে ইসলাম এবং বিকাশমান চীনকে ভয় করছে। এশীয় অঞ্চলে জাপান ঐতিহ্যগতভাবে ভারসাম্য রক্ষাকারী শক্তি হিসেবে থাকলেও এখন জাপান আর সে ভূমিকা পালন করতে পারছে না। এশিয়ায় চীনের সম্ভাব্য আগ্রাসন ঠেকাতে ভারতকে কাছে টানা ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কোনো বিকল্প নেই।


ওবামার চীন আতঙ্ক
আনোয়ার হোসেইন মঞ্জু

President Barack Obama met with Chinese President, Hu Jintao

President Barack Obama met with Chinese President, Hu Jintao

এক শতাব্দী আগে জার্মানি যেভাবে সমৃদ্ধ, বিকশিত ও সম্প্রসারিত হয়ে ইউরোপ তথা বিশ্বের জন্য হুমকিতে পরিণত হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র চীনের অর্থনৈতিক বিকাশ ও সমৃদ্ধিকে ঠিক একইভাবে দেখছে। সেই প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সাম্প্রতিক ভারত সফর শুধু দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করার লক্ষ্যে কিছু চুক্তি সম্পাদনের জন্য ছিল না। যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান উদ্বেগ হল, কিভাবে এশিয়ায় চীনের ক্রমবর্ধমান আধিপত্যকে সামাল দেবে। মার্কিন নেতৃবৃন্দ মুখে যতই ইসলামকে ‘মহান ধর্ম’ এবং বিভিন্ন মুসলিম দেশকে ‘মডারেট’ বলে সার্টিফিকেট দিক না কেন, যুক্তরাষ্ট্র বাস্তবে ইসলাম এবং বিকাশমান চীনকে ভয় করছে। এশীয় অঞ্চলে জাপান ঐতিহ্যগতভাবে ভারসাম্য রক্ষাকারী শক্তি হিসেবে থাকলেও এখন জাপান আর সে ভূমিকা পালন করতে পারছে না। সে কারণে এশিয়ায় চীনের সম্ভাব্য আগ্রাসন ঠেকাতে ভারতকে কাছে টানা ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কোনো বিকল্প নেই।

ওবামার ভারত সফর নিঃসন্দেহে দেশটির নেতৃবৃন্দের নৈতিক মনোবল বাড়িয়ে দিয়েছে। সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর দীর্ঘকাল ভারত কোনো পরাশক্তিকে ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে পায়নি, বরং চীনের ‘শীতল হুমকি’র মুখোমুখি ছিল; যে হুমকি এখনো বিদ্যমান বলে ভারত মনে করে। গত ২২ অক্টোবর চীন সরকারিভাবে যে অনলাইন ম্যাপিং সার্ভিস চালু করেছে তাতে ভারতের অরুণাচল, হিমাচল ও লাদাখের আকসাই চীন এলাকাকে চীনের ভূখণ্ড হিসেবে দেখিয়েছে। এটা চীন যে শুধু এবারই দেখাল তা নয়, পুরো এলাকাকে তারা দীর্ঘ দিন ধরে নিজেদের বলে দাবি করে আসছে। তাদের মতে, অরুণাচল প্রদেশ আসলে দক্ষিণ চীন, যা ভারতের জবরদখলে রয়েছে। ভারতের সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল শংকর রায় চৌধুরী সম্প্রতি দি এশিয়ান এজ-এ এক নিবন্ধে চীনের দাবিকে অরুণাচলের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার সমস্যা বলে উল্লেখ করেছেন। ভারতের বর্তমান সেনাপ্রধান জেনারেল ভি কে সিং গত ১৯ অক্টোবর দিল্লিতে এক সেমিনারে চীন ও পাকিস্তানকে ভারতের প্রধান নিরাপত্তা হুমকি বলে উল্লেখ করেন। সে কারণে ভারত নিজের নিরাপত্তার জন্য তিব্বতকে বাফার জোন হিসেবে দেখতে চায়। ভারত তিব্বতের স্বাধীনতার পক্ষে, আর চীন তিব্বতকে নিজ ভূখণ্ডের অংশে পরিণত করেছে। এ বিরোধ অনেকটাই নিষ্পত্তির অতীত।

যুক্তরাষ্ট্র চীনের মোকাবেলায় ভারতকে জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হিসেবে দেখতে চায় এবং ওবামা ভারত সফরকালে ঘোষণা করেছেন, এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে পূর্ণ সমর্থন দেবে। এ ঘোষণার আগে নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যের কাছে যুক্তরাষ্ট্র নিজ অবস্থান ব্যাখ্যা করেছে। নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য বৃদ্ধি করতে হলে জাতিসঙ্ঘের কাঠামোতে যে সংস্কার করতে হবে সে ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে যে, এটা জাতিসঙ্ঘের নিজস্ব ব্যাপার। তারা যে প্রক্রিয়ায় অন্যান্য বিষয়ে সংস্কার করে থাকে, এ ক্ষেত্রেও একইভাবে সংস্কার করবে। নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যের মধ্যে শুধু চীন এখন পর্যন্ত ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের ব্যাপারে কোনো মতামত ব্যক্ত করেনি। অনেকে মনে করেন, ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের প্রস্তাবে চীন ভেটো দেবে, কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্টের জোরালো সমর্থন ঘোষণার পর চীন এখন পর্যন্ত নেতিবাচক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি; বরং চীনের বক্তব্য ও পদক্ষেপ অনেকটাই ভারতকে আশাবাদী করার মতো। ওবামার ঘোষণার পর চীন নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত Zhang Yan-কে ভাইস মিনিস্টারের পদে উন্নীত করেছে, যা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যরাষ্ট্রে নিয়োজিত চীনের রাষ্ট্রদূতরা ভাইস মিনিস্টারের পদমর্যাদা ভোগ করে থাকেন।

U.S. businesses say China's currency is undervalued and puts them at a big competitive disadvantage

U.S. businesses say China's currency is undervalued and puts them at a big competitive disadvantage

এ ছাড়া চীনের পররাষ্ট্র দফতর থেকে ওবামার ঘোষণার পর যে প্রতিক্রিয়া দেয়া হয়েছে, সেটিও যথেষ্ট ইতিবাচক বলে ধরে নেয়া যায়। চীনা পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেন, ‘China understands New Delhi’s aspirations to play a bigger role in the United Nations and is ready for consultation with it over reforms of the world body. China values India’s status in the international affairs and is ready to keep contact and consultations with India and other member states on the issue of Security Council reform. China supports reasonable and necessary reform of the United Nations Security Council and will maintain priority to giving more representation to developing countries at the UN Security Council, so that they can play bigger role in the Security Council.’

চীনের এই সদিচ্ছা সত্ত্বেও ভারত ও চীনের মধ্যে যে সীমান্ত বিরোধ বিদ্যমান, তা শিগগিরই দূর হবে, এমনটি আশা করা বোধহয় সঠিক হবে না। ১৯৬২ সালে সীমান্ত সংঘর্ষের পর উভয় দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন পর্যন্ত যে শীতল সম্পর্ক ছিল, তা কিছুটা উষ্ণ হলেও ঘনিষ্ঠতার পর্যায়ে উন্নীত হয়নি। চীন যেমন ভারতকে তার ভূখণ্ডের দখলদার হিসেবে বিবেচনা করছে, ভারতও অনুরূপ চীনের দিক থেকে হামলার আশঙ্কামুক্ত হতে পারছে না। সে জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় অস্ত্র মজুদ করার পাশাপাশি ভারত তার এশীয় সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার স্বপ্নও আর গোপন রাখছে না। Indian Defence Journal-এর সম্পাদক মি. ভরত বর্মা সম্প্রতি এক নিবন্ধে উল্লেখ করেছেন, ‘India wants to control the politics of the whole Asian region, like the role of the United States of America playing in the global politics. And to achieve the goal it is not sufficient to patronize a section of pro-Indian intellectuals and politicians of other countries. It is necessary to develop infrastructures in order to facilitate supply of troops and logistics, side by side setting up big embassies, ensuring use of port facilities and also developing intelligence network in those countries. Even, if necessary, military aggression could be an alternative to this end. Afghanistan was not occupied by the Americans only due to the presence of people like Hamid Karzai, the Americans had to set up cantonments, air fields and build road infrastructures. Besides, they are fighting there without a ceasefire.’

President Obama touring the Badaling section of the Great Wall

President Obama touring the Badaling section of the Great Wall

ভারতের এমন সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার বিপরীতে চীন হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকবে, এমনটি ধারণা করা ঠিক হবে না। গত বছর (৭-৮ আগস্ট ২০০৯) নয়াদিল্লিতে যখন ভারত-চীন সীমান্ত বৈঠক চলছিল, তখন বেইজিং ভিত্তিক China-Centric Asian Strategy Institute-এর জার্নালে ‘If China takes a little action, the so called great Indian federation can be broken up’ শীর্ষক নিবন্ধে গবেষক Zhan Lue Gang বলেন, “এশিয়ায় নয়াদিল্লির ভারত-কেন্দ্রিক নীতি বাস্তবে হিন্দুস্থান-কেন্দ্রিক নীতি। কিন্তু ‘হিন্দুস্থান’ বলে কোনো কিছুর অস্তিত্ব নেই এবং দেশটির অনেক রাজ্যে বহুসংখ্যক ‘স্থানীয় কেন্দ্র’ বিদ্যমান। বহুবিধ স্থানীয় বৈশিষ্ট্যের কারণে তথাকথিত ভারতীয় জাতিকে প্রকৃতপক্ষে এক জাতি হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। ইতিহাসে এমন ভারতীয় জাতির অস্তিত্ব কখনো ছিল না। মুসলিম ও ব্রিটিশ শাসনাধীনে একীভূত দেশটি বর্তমানে ‘ভারত’ নামে পরিচিত।”

নিবন্ধকারের মতে, ভারত যদি ঐক্যের জন্য কোনো কিছুর ওপর নির্ভর করে থাকে, তাহলে সেটি হলো হিন্দু ধর্ম, ১৯৪৭ সালে যার ভিত্তিতে দেশটি স্বাধীন হয়েছিল। সে হিসেবে ভারতকে একটি ‘হিন্দু ধর্মীয় রাষ্ট্র’ বলা যেতে পারে। তিনি আরও বলেন, হিন্দু ধর্ম একটি ক্ষয়িষ্ণু ধর্ম, এতে বর্ণ ও জাতগত প্রতারণা ও শোষণ রয়েছে; যা দেশটির আধুনিকতার পথে বড় অন্তরায়। তিনি যুক্তি প্রদর্শন করেছেন যে, চীনের উচিত তার নিজের স্বার্থে এবং এশিয়ার অগ্রগতির স্বার্থে ভারতের অভ্যন্তরে বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠী যেমন­ অসমিয়া, বাঙালি, নকশাল, মারাঠি, পাঞ্জাবি, তামিল ও কাশ্মীরিদের সাথে মিলিত হয়ে এবং তাদেরকে সমর্থন দিয়ে ভারতের বাইরে তাদের নিজস্ব স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সাহায্য করা।

নিবন্ধে আরো বলা হয়, ‘China so that Assam realizes its national independence… For Bangladesh, the biggest threat is from India, which wants to develop a great Indian empire extending from Afghanistan to Myanmar. India is also targeting China with support to Vietnam’s efforts to occupy Nansha group of islands in South China Sea. This is why China should strengthen its alliance with Bangladesh, a country with which the US and Japan are also improving their relations to counter China. China should also open secret contacts with pro-independence groups fighting Indian rule in at least 13 states inside India.’

তিনি আরও বলেন, ‘ভারতকে বিভাজন করার লক্ষ্যে চীন তার প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান, নেপাল ও ভুটানকে সাথে নিয়ে আসামের স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্য বাস্তবায়নে ULFA-কে এবং তামিল, নাগা ও কাশ্মীরিদের মতো জাতি-গোষ্ঠীগুলোর আকাঙ্ক্ষা পূরণে সাহায্য করতে পারে, …এবং সবশেষে ভারত কর্তৃক অবৈধভাবে দখলকৃত দক্ষিণ তিব্বতের ৯০ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা, যাকে তারা অরুণাচল প্রদেশ নামে অভিহিত করে, সেই ভূখণ্ড উদ্ধার করতে পারে।’

ভারতকে ইউরোপের মতো ২০ থেকে ৩০টি জাতিরাষ্ট্রে বিভক্ত করার আশা ব্যক্ত করে নিবন্ধকার উপসংহার টেনেছেন যে, ভারতের জাতি-গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে যদি সচেতনতা জাগিয়ে তোলা যায় তাহলে দক্ষিণ এশিয়ায় সামাজিক সংস্কার ও পরিবর্তন আনয়ন এবং বর্ণভেদ দূরীকরণের মাধ্যমে সমগ্র এলাকাকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেয়া সম্ভব।

এই অবস্থার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র চীনের বিপরীতে ভারতকে তার প্রভাববলয়ে নেয়ার ফলে এশিয়ায় উত্তেজনা হ্রাস পাওয়ার পরিবর্তে বরং বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হবে। ওবামার ভারত সফরকালে দুই দেশের মধ্যে ১০ বিলিয়ন ডলারের যে বাণিজ্য চুক্তি হয়েছে, তার বাইরেও এ সফরের আরেকটি অগ্রাধিকার ছিল ভারতের কাছে ২৬ বিলিয়ন ডলার মূল্যের সামরিক উপকরণ বিক্রয়, যার সূচনা হয়েছিল ২০০১ সালে। ভারত যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ৮ বিলিয়ন ডলারে ১৪৫টি Howitzer কামান, ৪.৫ বিলিয়ন ডলারে ১০টি হেভি লিফট এয়ারক্রাফট, ২ বিলিয়ন ডলারে আওয়াকস রিফুয়েলিং সিস্টেম, ৮৮০ মিলিয়ন ডলারে ক্লাস্টার বোমা ক্রয় করবে। এ ছাড়া ভারতের সামরিক ক্রয় তালিকার মধ্যে আগামী ১০ বছরে ১২ থেকে ১৪ বিলিয়ন ডলার মূল্যে ৬০০ হেলিকপ্টার আর তিন হাজার ৬০০ কামান রয়েছে। গত বছর ভারত ২.১ ডলার মূল্যে লং রেঞ্জ মেরিটাইম রিকনাইসেন্সের অর্ডার দিয়েছে ভারত মহাসাগরে আধিপত্য বজায় রাখার প্রস্তুতি হিসেবে।

ওবামার সফরের মধ্যে ‘না বলা’ অনেক কিছু রয়ে গেছে, যা প্রাথমিকভাবে উপমহাদেশের জন্য এবং ব্যাপকভাবে এশিয়ার জন্য বিপদের বার্তা বয়ে আনবে। যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে ‘এশীয় কূটনীতির কেন্দ্রে’ পরিণত করার নামে দেশটিকে যেভাবে অস্ত্রসজ্জিত করছে, তা ইতোমধ্যে ভারতের প্রতিবেশী পাকিস্তানকে ক্ষুব্ধ করেছে। পঞ্চাশের দশক থেকে পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের মাঝে যে মৈত্রী ছিল, তা সোভিয়েত ব্লকে থাকা ভারতের জন্য ছিল ঈর্ষণীয়। আফগানিস্তান থেকে সোভিয়েত সৈন্যদের বিতাড়নে পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে অন্যতম ভূমিকা পালন করেছে এবং বর্তমানে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধেও পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রকে সার্বিক সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। সে ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে আগামী শতকের ‘Indispensable Partner’ হিসেবে ঘোষণা করায় পাকিস্তান হতাশ। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দফতর এক প্রতিক্রিয়ায় বলেছে, ‘ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র ক্ষমতার রাজনীতিতে মেতে উঠেছে, যার নৈতিক কোনো ভিত্তি নেই’।

ভারত-মার্কিন সম্প্রীতি এশিয়ায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে হলে কারো আপত্তি থাকার কথা ছিল না। কিন্তু প্রাথমিক আলামতই বলে দিচ্ছে যে, এর ফলে এ অঞ্চলে অস্থিরতা ও অস্ত্র প্রতিযোগিতাই শুধু বৃদ্ধি পাবে।
লেখকঃ সাংবাদিক
আমাদের সময়, আলোচনা, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, জনকন্ঠ, ডেসটিনি, দিগন্ত, দিনের শেষে, নয়া দিগন্ত, প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ভোরের কাগজ, মানবজমিন, মুক্তমঞ্চ, যায় যায় দিন, যায়যায়দিন, যুগান্তর, সংগ্রাম, সংবাদ,চ্যানেল আই, বাঙ্গালী, বাংলা ভিশন, এনটিভি,এটিএন বাংলা, আরটিভি, দেশ টিভি, বৈশাখী টিভি, একুশে টিভি, প্রবাস, প্রবাসী, ঠিকানা, জাহান হাসান, বাংলা, বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস, লিটল বাংলাদেশ, ইউএসএ, আমেরিকা, অর্থনীতি, প্রেসিডেন্ট ওবামা,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,অর্থ, বাণিজ্য, শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, রাজাকার, আল বদর, Jahan, Hassan, Ekush, bangla, desh, Share, Market, nrb, non resident, los angeles, new york, ekush tube, ekush.info,

যারা কেড়ে খায় তেত্রিশ কোটি মুখের গ্রাস, যেন লেখা হয় আমার রক্ত-লেখায় তাদের সর্বনাশ!


স্টপ ! দুর্নীতিঃ

মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম

Corruption spreading like cancer in Bangladesh

Corruption spreading like cancer in Bangladesh

দুর্নীতি নিয়ে আজকাল মানুষের মুখে মুখে আলোচনার কোনো শেষ নেই। লেখালেখিও কম হচ্ছে না। প্রাচীনকাল থেকেই এ নিয়ে জনগণের মাঝে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা-কথাবার্তা চলে আসছে। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনকালে রাষ্ট্রের কর্মকৗশল ও নীতিমালায় ‘দুর্নীতিকে’ একটি স্থায়ী আসনে অধিষ্ঠিত করা হয়। বিলেতি শাসকদের সুপরিকল্পিত প্রশ্রয়ে রাজনীতি, রাষ্ট্রীয় কাজকর্ম ও সমাজ জীবনে দুর্নীতি দৃঢ়মূল ও বিস্তৃত হয়। ব্রিটিশরা বিদায় নেয়ার পর পাকিস্তানি যুগেও ঔপনিবেশিক আমলের দুর্নীতির ধারা অব্যাহত থাকে। স্বাধীন বাংলাদেশেও সেই দুর্নীতির ‘সংস্কৃতি’ ও ধারা দূর হয়নি, বরং তা আরো বেড়েছে।

২০০১ সালে আওয়ামী লীগ শাসনামলের শেষ বছরে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের সূচকে বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার পর দুর্নীতির ইসু্য নিয়ে আলোচনা বিশেষভাবে জোরদার হয়ে ওঠে। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ২০০২, ২০০৩, ২০০৪ ও ২০০৫ সাল পর্যন্ত প্রতিবছরই বাংলাদেশ বিশ্বের দুর্নীতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে ‘চ্যাম্পিয়নের’ আসনে অধিষ্ঠিত থাকে। হাওয়া ভবনকে কেন্দ করে সেসময় যে দক্ষ-মসৃণ দুর্নীতি ও লুটপাটের আখড়া প্রতিষ্ঠিত হয়, সেখানে সংগঠিত সেনসেশনাল বিভিন্ন ঘটনা দুর্নীতি নিয়ে আলোচনাকে এক নম্বরে নিয়ে আসে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে অনেক ঢাক-ঢোল পিটিয়ে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান শুরু করা হয়। বলা হয় যে, ‘চুনো-পুঁটিদের না ধরা হলেও দুর্নীতিবাজ রুই-কাতলাদের রেহাই দেয়া হবে না’। ধর-পাকড়, মামলা-মোকদ্দমা শুরু হয়ে যায়। কিন্তু অচিরেই একথা পরিষ্কার হতে থাকে যে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের এই দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের আসল উদ্দেশ্য হলো রাজনৈতিক। মাইনাস-টু ফমর্ুলা কার্যকর করে ফরমাইসি শক্তিকে কৃত্রিমভাবে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করাই এই অভিযানের লুক্কায়িত এজেন্ডা। উপরন্তু এরূপ খবরও জানাজানি হতে থাকে যে রুই-কাতলাদের আটক করে বা তাদেরকে ভয় দেখিয়ে কর্তৃত্ববান মহলের হাঙ্গর-কুমিররা দেদারসে ‘টু পাইস’ কামিয়ে নিচ্ছে। দুর্নীতিবিরোধী অভিযানকে কেন্দ করে পরিচালিত দুর্নীতির ঘটনা সম্পর্কে অনেকের সুনির্দিষ্ট বিবরণ পরবর্তীতে প্রকাশিত হয়েছে।

Bangladesh Prime Minister Sk Hasina

Bangladesh Prime Minister Sk Hasina

২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে যুদ্ধাপরাধী, দ্রব্যমূল্য, বিদু্যৎ ইত্যাদির সাথে সাথে দুর্নীতির ইসু্যটিও অন্যতম প্রধান নির্বাচনী ইসু্য হয়ে ওঠে। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী মেনিফেস্টোতে যে পাঁচটি ইসু্যকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে বলে ঘোষণা করা হয় তার দ্বিতীয় নম্বরেই স্থান পায় দুর্নীতির বিষয়টি। মেনিফেস্টোতে বলা হয় যে, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গিয়ে দ্রব্যমূল্য সমস্যা নিরসনে নিম্নোক্ত ৬টি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। “ঃ(১) দুর্নীতি দমন কমিশনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে শক্তিশালী করা হবে। (২) দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধে বহুমুখী কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। (৩) ক্ষমতাধরদের বার্ষিক সম্পদ বিবরণ দিতে হবে। (৪) রাষ্ট্র ও সমাজের সকল স্তরের ঘুষ-দুর্নীতি উচ্ছেদ, অনোপার্জিত আয়, ঋণ খেলাপি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, কালো টাকা ও পেশীশক্তি প্রতিরোধ ও নিমর্ূলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। (৫) প্রতি দপ্তরে গণঅধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য নাগরিক সনদ উপস্থাপন করা হবে। (৬) সরকারি কর্মকাণ্ডের ব্যাপকভাবে কম্পিউটারায়ন করে দুর্নীতির পথ বন্ধ করা হবে।”

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের শাসনের প্রায় দু’বছর অতিক্রান্ত হতে চলেছে। দুর্নীতির সমস্যা নিরসনের জন্য নির্বাচনী মেনিফেস্টোতে যে ৬টি কাজের প্রতিশ্রুতি প্রদান করা হয়েছিল তার মধ্যে ৫টি আংশিকভাবে ও ৬টি অতীব ক্ষুদ্র পরিসরে বাস্তবায়িত হয়েছে। প্রথম ৪টি প্রতিশ্রুতি পালনে কোন দৃষ্টিগ্রাহ্য পদক্ষেপই গ্রহণ করা হয়নি। বরঞ্চ সেসব বিষয়ে অনেক ক্ষেত্রেই পরিস্থিতির অবনতি ও পশ্চাৎপসারণ ঘটেছে। দুদকের ক্ষমতা খর্ব করে তাকে কার্যত দন্তহীন বাঘে পরিণত করা হয়েছে। পাওয়ার সেক্টরের সব কাজকর্মকে বিচারের আওতা থেকে দায়মুক্তি দিয়ে আইন করা হয়েছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার বদলে দুর্নীতি করার সুযোগ নিয়ে ভাগ-বাটোয়ারাকে কেন্দ করে ক্ষমতাসীনদের ক্যাডাররা নিজেদের মধ্যে যুদ্ধ করছে। এই যুদ্ধে তাদের শতাধিক কর্মী নিজেরাই নিজেদের হাতে মৃতু্যবরণ করেছে। ক্ষমতাধরদের বার্ষিক সম্পদ বিবরণ জনগণ দু’বছরেও জানতে পারেনি। একজন মাত্র মন্ত্রী ব্যতীত অন্য কেউ সম্পদ বিবরণ জমাই দেননি বলে খবরে প্রকাশ। ফ্রি স্টাইলে চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজি চলছে। কালো টাকা সাদা করার জন্য আবার সুযোগ দেয়া হয়েছে। এর ফলে যা ঘটার তাই ঘটেছে। দেশে দুর্নীতি কমার বদলে বেড়েছে।

Former prime minister Begum Khaleda Zia

Former prime minister Begum Khaleda Zia

এখন হাওয়া ভবন নেই। তাই দুর্নীতির কেন্দ ীভবনকৃত প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনাও নেই। দুর্নীতির ক্ষেত্রে এখন কার্যত এক ধরনের নিরঙ্কুশ বিকেন্দ ীকরণ ঘটেছে। দুর্নীতিবাজরা এখন প্রত্যেকেই আলাদা-আলাদা পেস্নয়ার, সারাদেশে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে লক্ষ লক্ষ ‘মিনি-হাওয়া ভবন’। প্রত্যেকেই আপন-আপন এসব ‘হাওয়া ভবনের’ একেকজন পরিচালক। ‘হাই ব্রিডরা’সহ লক্ষ লক্ষ নেতা-কর্মী-ক্যাডারদের ‘স্বাধীন দুর্নীতির ব্যবসার’ ফলে তৃণমূল থেকে শুরু করে সর্বত্রই অবধারিতভাবে সৃষ্টি হয়েছে ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে ঠোকাঠুকি। এর স্বাভাবিক পরিণতি হিসেবে উদ্ভব ঘটেছে পরস্পরের মধ্যে হানাহানি, সংঘর্ষ, নৈরাজ্য। জনগণ সবকিছুই দেখছে। তাদের হতাশা, উদ্বেগ ও আশঙ্কা ক্রমাগত বাড়ছে। চোখের সামনে ঘটে যাওয়া এসব দুষ্কর্মের অবাধ বিস্তার তাদের ক্ষোভকেও জাগিয়ে তুলছে। দুর্নীতি যে বাড়ছে তার উপলব্ধির পেছনে রয়েছে তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা। এটা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচালের জন্য ষড়যন্ত্রকারীদের দ্বারা সৃষ্ট উপলব্ধি নয়। তবে হঁ্যা! যুদ্ধপরাধীদের রক্ষায় সচেষ্ট সেসব ষড়যন্ত্রকারীরা তাদের হাতে তুলে দেয়া এতো সুন্দর এই সুযোগটি ষোল আনা কাজে লাগাতে তৎপর রয়েছে। তবে সে সুযোগ করে দিচ্ছে শাসক দলের দুর্নীতিবাজরা_ যারা সেই দুর্নীতির ঘটনা প্রকাশ করে অন্যভাবে তার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করছে তারা নয়।

দেশে দুর্নীতি যে বেড়েছে সে সম্পর্কে মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও উপলব্ধির প্রতিফলন ঘটেছে এবছরের ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের প্রকাশিত ‘দুর্নীতির ধারণা সূচকে’। ২০০১ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের মানদণ্ডে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১ নম্বরে। ২০০৬, ২০০৭, ২০০৮ ও ২০০৯ সালে তা কিছুটা উন্নত হয়ে যথাক্রমে ছিল ৩, ৭, ১০ ও ১৩ নম্বরে। এবছর প্রকাশিত সূচক অনুযায়ী দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩ থেকে ১২ নম্বরে নেমে গেছে। দুর্নীতিমুক্ত অবস্থানের সূচক অনুযায়ী গত বছর বাংলাদেশের পয়েন্ট ছিল ২.৪। এবারও তা ২.৪ই রয়ে গেছে।

Corruption in Bangladesh

Corruption in Bangladesh

প্রসঙ্গত উলেস্নখ্য যে, সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে সূচকে ১.১ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো এবার শীর্ষে রয়েছে সোমালিয়া। দ্বিতীয় ও তৃতীয় সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে আছে আফগানিস্তান ও ইরাক। সকলেরই জানা আছে যে, এই দু’টি দেশই মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ নিয়ন্ত্রিত ও অধিকৃত দেশ। সাম্রাজ্যবাদের ওপর নির্ভরশীলতার মাত্রার সাথে দুর্নীতির সূচকের সম্পর্ক অনুসন্ধান করাটা একটি আগ্রহোদ্দীপক বিশেস্নষণের বিষয় হতে পারে। বাহ্যিকভাবে এটাই দৃশ্যমান যে ইরাক ও আফগানিস্তানের মতো মার্কিন সেনাবাহিনী দখলকৃত দেশগুলো দুর্নীতির লীলাভূমি হিসাবে শীর্ষে জায়গা করে নিচ্ছে।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল কিসের ভিত্তিতে ‘দুর্নীতির ধারণা সূচক’ নির্ধারণ করে থাকে? এটি একটি খুবই প্রাসঙ্গিক ও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। আমাদের দেশের সাধারণ মানুষের কাছে এবং এমনকি সমাজ সচেতন শিক্ষিত মহলের কাছেও টিআই-এর সূচক নির্ধারণের অনুসৃত পদ্ধতির বিষয়টি যথেষ্ট পরিমাণে স্বচ্ছ নয়। টিআই-এর একটি জরুরি কর্তব্য হওয়া উচিত, তার সূচক নির্ধারণের পদ্ধতির বিস্তারিত বিবরণ ব্যাখ্যা করে সব মহলকে অবগত করা। এটা করা হলে তার রিপোর্টের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়বে। ব্যাপারটাকে ‘ধারণা সূচক’ বলে আখ্যায়িত করলেও সকলকেই জানতে দিতে হবে যে, এই ধারণা সূচকের হিসাব কোন্ কোন্ তথ্যের ওপর ভিত্তি করে করা হয়ে থাকে। কি ধরনের কাজকে দুর্নীতিমূলক কাজ বলে আখ্যায়িত করা উচিত? এটা একটি প্রাথমিক ও মৌলিক প্রশ্ন। ‘বাংলা একাডেমী সংক্ষিপ্ত অভিধানে’ দুর্নীতি শব্দের অর্থ হিসেবে লেখা হয়েছে ‘যা নীতি বিরুদ্ধ, কুনীতি, অসদাচরণ’। সকলেই স্বীকার করবেন যে, এই সংজ্ঞা অনুযায়ী দুর্নীতি পরিব্যাপ্ত থাকতে পারে যেমন অর্থনীতিকে কেন্দ করে তেমনি তা সংগঠিত হতে পারে সামাজিক, রাজনৈতিক, পারিবারিক, নীতি-নৈতিকতা প্রভৃতি পরিমণ্ডলেও। দুর্নীতি সম্পর্কে প্রচলিত একটি ধারণা হলো, তা মূলত অর্থনীতি সম্পৃক্ত কোনো অনৈতিক কাজ আর্থিক দুর্নীতি একটি প্রধান বিষয় হিসেবে বিদ্যমান থাকলেও এর বাইরে সংগঠিত অন্য নানা ধরনের দুর্নীতির প্রকোপ মোটেও কম নয়।

দুর্নীতি সম্পর্কে আরো একটি সরল ভ্রান্তি রয়েছে। এমন একটি ধারণা কিছু মহল থেকে প্রচার করা হয় যে, দুর্নীতির বিষয়টি মূলত রাজনৈতিক রাষ্ট্রক্ষমতা সম্পৃক্ত ব্যাপার। যে বিখ্যাত ইংরেজি উক্তিটি এক্ষেত্রে হরহামেশাই উদ্ধৃত করা হয় তা হলোঃ ক্ষমতা দুর্নীতির জন্ম দেয়, আর নিরঙ্কুশ ক্ষমতা নিরঙ্কুশ দুর্নীতির পথ করে দেয়। অর্থাৎ ক্ষমতাই হলো দুর্নীতির উৎস। সম্প্রতি চেম্বারের ব্যবসায়ী নেতারা পরপর কয়েকটি সেমিনারে তত্ত্ব দিয়েছেন যে, বেসরকারি খাতে দুর্নীতি হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ব্যবসায়ীদেরকে দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত করা ঠিক নয়। কারণ তারা তো রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সাথে সম্পৃক্ত নন। তারা ব্যবসা করে আইনসম্মতভাবে। কোনো ব্যবসায়ী আইন ভঙ্গ করে কিছু করলে সেটাকে একটি বেআইনি কাজ বলে গণ্য করা গেলেও তাকে কোনোভাবে ঘুষ-দুর্নীতির কোনো ব্যাপার বলে গণ্য করা যেতে পারে না।

The Fine Art of Policing in Bangladesh

The Fine Art of Policing in Bangladesh

এক্ষেত্রে দু’টি কথা বলা আবশ্যক। প্রথমত, শুধু রাষ্ট্রীয়, প্রশাসনিক, রাজনৈতিক ক্ষমতাই যে ‘ক্ষমতার’ একমাত্র রূপ সে কথা মোটেও সত্য নয়। অর্থনৈতিক ক্ষমতাও ‘ক্ষমতার’ আরেকটি রূপ। চূড়ান্ত বিচারে অর্থনৈতিক ক্ষমতাই অন্য সব ক্ষমতার নিয়ন্ত্রক। তাই কথাটি অর্থনৈতিক ক্ষমতার-র ক্ষেত্রে আরো বড়ভাবে প্রযোজ্য। সুতরাং ‘দুর্নীতি’ ব্যাপারটি কেবল রাষ্ট্র প্রশাসন রাজনীতি সম্পৃক্ত ব্যাপার, এর সাথে বেসরকারি খাতের কোনো সম্পর্ক নেই,_ এ ধরনের বক্তব্য কেবল যুক্তিহীনই নয়, তা শোষক শ্রেণীর স্বার্থে উত্থাপিত একটি প্রতিক্রিয়াশীল কুতত্ত্ব। দ্বিতীয়ত, এ কথাটিও বুঝতে হবে যে, যা আইনসঙ্গত সেটা যে ন্যায়-নীতি সম্মত হবে তার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। আইনসম্মত হওয়া ও ন্যায়-নীতি সম্মত হওয়া_ এ দুটো ভিন্ন মাত্রার আলাদা দু’টি বিষয়। আইন যদি শোষকের পক্ষে ও শোষিতের বিপক্ষে হয় এবং ইনসাফ ও ন্যায়-নীতি বর্জিত হয় তাহলে সেক্ষেত্রে একটি আইনসম্মত কাজও ন্যায়-নীতি বিরুদ্ধ কাজ হয়ে উঠতে পারে। আমাদের বর্তমান পুঁজিবাদী সমাজ ব্যবস্থায় অনেক কাজই আইনসম্মত হলেও সেগুলো ন্যায়-নীতি বিরুদ্ধ, তথা দুর্নীতিমূলক কাজ। দেশ আজ সে আইনসম্মত অথচ ন্যায়-নীতি বর্জিত অনৈতিক কাজসহ এক সর্বব্যাপী ‘দুর্নীতির’ লীলাভূমি হয়ে উঠেছে। এর ফলে ধ্বংস হচ্ছে মানবতা, মানুষ, দেশ ও জাতি। এই ‘দুর্নীতি’ প্রতিনিয়ত গ্রাস করছে লক্ষ-কোটি মানুষের জীবন।

সমাজের এই বৈষম্য কবে যে দূর হবে!

সমাজের এই বৈষম্য কবে যে দূর হবে!

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জহির রায়হান ‘ঃ স্টপ। জেনোসাইড ঃ ‘ নামে আলোড়ন সৃষ্টিকারী একটি অসাধারণ ডকুমেন্টারি ফিল্ম রচনা করেছিলেন। এই প্রামাণ্য সিনেমাটি বিশ্ব বিবেককে জাগিয়ে তুলতে অমূল্য অবদান রেখেছিল। সাম্প্রতিক সময়কালে, বিশেষত গত এক দশক ধরে, দেশে ‘দুর্নীতির’ যেরূপ ভয়াবহ বিস্তৃতি ঘটেছে তাতে ‘স্টপ! দুর্নীতি’ নামে নতুন একটি ডকুমেন্টারি ফিল্ম রচনা করাটা আজ জরুরি প্রয়োজন হয়ে উঠেছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করাটা মুক্তিযুদ্ধের চেয়ে কম কঠিন কোনো কাজ নয়।

অনেকেই এ কথায় আপত্তি করে হয়তো বলবেন, ‘জেনোসাইড’ (গণহত্যা) আর ‘দুর্নীতি’-কে সমতুল্য অপরাধ বলে গণ্য করাটা কি সমীচীন? আমি বলবো, হঁ্যা! কখনো কখনো তা সমীচীন বটে। সমাজের মুষ্টিমেয় একশ্রেণীর ‘অমানুষের’ সীমাহীন অবাধ দুর্নীতি আজ ‘কেড়ে খাচ্ছে ষোল কোটি মানুষের মুখের গ্রাস’। তার পরিণতিতে অপুষ্টি, অর্ধাহার, অনাহার, চিকিৎসার অভাবে লক্ষ-কোটি মানুষের জীবনীশক্তি, জ্বালানির অভাবে ক্ষীণ হয়ে আসা প্রদীপ-শিখার মতো, অকালে নির্বাপিত হচ্ছে। এই অবস্থাকে এক ধরনের পরোক্ষ নীরব গণহত্যা বলে বিবেচনা করাটা কি ভুল হবে? দুর্নীতির ফলে জাতীয় আয়ের প্রবৃদ্ধি যে সম্ভাব্য পরিমাণের চেয়ে দুই-তিন শতাংশ কম হয় তা অর্থনীতির পণ্ডিতরা হরহামেশাই বলে থাকেন। তবে, দুর্নীতির কুপ্রভাবের ব্যাপারটি পরিসংখ্যানের একটি বিমূর্ত ব্যাপার শুধু নয়। দুর্নীতি ধ্বংস করে দিচ্ছে দেশবাসীর জীবনের শত শত কোটি বছরের জীবনের আয়ু, নীরব মৃতু্যর পথে ঠেলে দিচ্ছে শত-সহস্র মানুষকে।

হে মহান আল্লাহ - আমাদেরকে নেক হেদায়েত দান করুন, আমরা যেন "আশরাফুল মাখলুকাত" হতে পারি - আমিন।

হে মহান আল্লাহ - আমাদেরকে নেক হেদায়েত দান করুন, আমরা যেন "আশরাফুল মাখলুকাত" হতে পারি - আমিন।

‘দুর্নীতি’ একটি ভয়াবহ সামাজিক মরণব্যাধি। আমাদের চেনা-জানা ‘গণহত্যার’ মতো দুর্নীতিও একটি নিষ্ঠুর নরঘাতক। তাই গণহত্যার জন্য দায়ী যুদ্ধাপরাধীদের যেমন বিচার চাই, একই সাথে চাই আরেকটি নরঘাতক ‘দুর্নীতির’ হোতাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার। চাই দুর্নীতিমুক্ত সমাজের প্রতিষ্ঠা। সে জন্য পরিচালনা করতে হবে মুক্তিযুদ্ধের মতোই আরেকটি লড়াই।

ষোল কোটি দেশবাসীর সামনে আজ তাই নজরুলের সেই দীপ্ত ঘোষণা প্রতিধ্বনিত করে বজ নিনাদে রণধ্বনি তোলার সময় এসেছে_ “যারা কেড়ে খায় তেত্রিশ কোটি মুখের গ্রাস,/ যেন লেখা হয় আমার রক্ত-লেখায় তাদের সর্বনাশ!”

[লেখক : সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)।]

jahan hassan ekush tube bangla desh জাহান হাসান, লস এঞ্জেলেস. বাংলাদেশ. বাংলা, আমাদের সময়, আলোচনা, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, জনকন্ঠ, ডেসটিনি, দিগন্ত, দিনের শেষে, নয়া দিগন্ত, প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ভোরের কাগজ, মানবজমিন, মুক্তমঞ্চ, যায় যায় দিন, যায়যায়দিন, যুগান্তর, সংগ্রাম, সংবাদ, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, রাজাকার, আল বদর, একুশ, প্রবাস, প্রবাসী, ঠিকানা, ইউএসএ, আমেরিকা, অর্থনীতি, প্রেসিডেন্ট ওবামা,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,

আমি বরাবরই তরুণদের সঙ্গে থাকতে আগ্রহী : রুশনারা আলী


সাক্ষাৎকার

আমি বরাবরই তরুণদের সঙ্গে থাকতে আগ্রহী

রুশনারা আলী

সাক্ষাৎকার গ্রহণ : একরামুল হক শামীম
ছবি :আরিফুর সানী

Rushanara Ali

Rushanara Ali

রুশনারা আলীর জন্ম ১৯৭৫ সালের ১৪ মার্চ বাংলাদেশের
সিলেট জেলার বিশ্বনাথ উপজেলার ভুরকি গ্রামে। সাত বছর বয়সে তিনি পরিবারের সঙ্গে পাড়ি জমিয়েছেন যুক্তরাজ্যে। যুক্তরাজ্যের মালবেরি স্কুলস অব গার্লস ও টাওয়ার হ্যামলেট কলেজ থেকে শিক্ষা লাভ করেন তিনি। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট জন্স কলেজে দর্শন, রাজনীতি ও অর্থনীতি বিষয়ে পড়াশোনা করেন। রাজনীতি বিষয়ে আগ্রহ থেকেই রাজনীতির জগতে পদার্পণ। মাত্র ৩৫ বছর বয়সেই ২০১০ সালে হাউস অব কমন্সের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। হাউস অব কমন্সে তিনিই প্রথম বাংলাদেশি। দ্য গার্ডিয়ানের মতে, রুশনারা আলী ব্রিটেনের সবচেয়ে ক্ষমতাশালী নারীদের একজন। রুশনারা আলী সম্প্রতি বাংলাদেশে এসেছিলেন ঢাকায় অনুষ্ঠিত প্রতীকী জলবায়ু আদালতের পর্যবেক্ষক হিসেবে। সমকালের সঙ্গে আলাপে তিনি কথা বলেছেন তারা বেড়ে ওঠা, ব্রিটেন ও বাংলাদেশ নিয়ে:

সমকাল : আপনার জন্ম সিলেটে। সাত বছর বয়সে আপনি যুক্তরাজ্যে গেছেন। সেখানে টাওয়ার হ্যামলেট এলাকায় বেড়ে উঠেছেন। এক পর্যায়ে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছেন। রাজনীতিতে নিজেকে জড়ালেন। আপনার এই দীর্ঘ যাত্রা কি পরিকল্পিত ছিল?
রুশনারা আলী : আমার গল্প আর সব টিপিক্যাল পূর্বাঞ্চলবাসীর মতোই। আমি বেড়ে উঠেছি টাওয়ার হ্যামলেটে। আমার জন্ম বাংলাদেশে। সাত বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাজ্যে যাই। আমার পরিবারের এই মাইগ্রেশন দীর্ঘ সংস্কৃতির অংশ, যেসব পরিবার অধিকতর ভালো ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার জন্য বিদেশে পাড়ি জমায়। যুক্তরাজ্যে পড়াশোনা করে উচ্চ শিক্ষিত হওয়ার সুযোগ আমার ঘটে। তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করার সুযোগ হয়। টাওয়ার হ্যামলেটস সামার ইউনিভার্সিটিতে একটি প্রকল্প করার সুযোগ আমার হয়েছিল, যা হাজার হাজার তরুণকে সহায়তা করে এবং যুব অপরাধ কমাতে সহযোগিতা করে। এক পর্যায়ে আগ্রহ থেকেই রাজনীতিতে জড়িয়েছি। আমি মনে করি এগুলো আমি করতে পেরেছি আমার পরিবারের সহযোগিতায়, আমার মালবেরি স্কুল ও টাওয়ার হ্যামলেটস কলেজের বন্ধুদের পাশে পেয়ে। আমার বর্তমান অর্জন আমার পরিবারের অর্জন, আমার অর্জন আমার শিক্ষক ও বন্ধুদের অর্জন। কেউ কেউ জিজ্ঞেস করেন, আমার সফলতার রহস্য কী? আমি তাদের বলি কোনো রহস্য নেই। আমি মনে করি আমার পরিবারের অবদান এখানে অনেক বেশি। মানুষের সাফল্যের ক্ষেত্রে কমিটমেন্ট অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দ্বিতীয়ত, চেষ্টা করা জরুরি। পরিশ্রম করা জরুরি, ডিটারমিনেশন ঠিক করা জরুরি। সর্বোপরি মানুষের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রাখা জরুরি।

সমকাল : আপনার দল লেবার পার্টির পলিসিতে বাংলাদেশের নানা বিষয় অন্তর্ভুক্তিতে আপনার অবদান কী হবে? আপনি এখন লেবার পার্টির ছায়া মন্ত্রিসভায় আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিষয়ক ছায়ামন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন। এ অবস্থায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর উন্নয়নে যুক্তরাজ্যের গৃহীত পদক্ষেপে আপনার ভূমিকা কী হবে?
রুশনারা আলী : আমার পক্ষে যতটুকু অবদান রাখা সম্ভব তার সর্বোচ্চ চেষ্টাটাই আমি করব। জলবায়ু পরিবর্তন রোধ ও দারিদ্র্য নিরসনের মতো বিষয়গুলো নিয়ে আমি কাজ করতে চাই। তাছাড়া দরিদ্রতার কবল থেকে নারী ও শিশুদের রক্ষায় কাজ করার ইচ্ছা আমার রয়েছে। ব্রিটেনে লেবার পার্টি বর্তমানে বিরোধী দলে রয়েছে। সুতরাং সরকারি দলের মতো কাজ করার সুযোগ আমাদের নেই। তবে আমরা যা করতে পারি তা হলো, সরকারের জন্য দায়বদ্ধতার জায়গা তৈরি করা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করা। বর্তমান সরকার যাতে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রতি কমিটমেন্ট বজায় রাখে তার জন্য চাপ প্রয়োগ বজায় রাখবে লেবার পার্টি। লেবার পার্টির আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিষয়ক ছায়ামন্ত্রী হিসেবে আমি উন্নয়নশীল দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে কাজ করতে চাই।

Rushanara Ali and Muhammad Yunus

Rushanara Ali and Muhammad Yunus

সমকাল : বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে কী কী বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা যায়?
রুশনারা আলী : আমি মনে করি, দুটি দেশ নানা ক্ষেত্রেই পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করতে পারে। বিশেষ করে টেকনিক্যাল এক্সপার্টিজ বিনিময় করতে পারে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের উচিত যুক্তরাজ্যের সরকারের সঙ্গে পারস্পরিক সংলাপ পরিচালনা করা। কারণ এ সংলাপের মাধ্যমেই পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো বেরিয়ে আসবে। আমরা বিরোধী দল হিসেবে যুক্তরাজ্য সরকার যাতে পদক্ষেপ নেয় তা নিশ্চিতকরণে ব্যবস্থা নিতে পারি।

সমকাল : লন্ডনে পড়তে যাওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের কথা প্রায়ই খবরে আসে। এক্ষেত্রে কী করণীয় বলে আপনি মনে করেন?
রুশনারা আলী : বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের নানা বিষয়ে আমি অবহিত। সমস্যাটি প্রকট হয়ে উঠেছে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দার কারণে। ফলে বিদেশি শিক্ষার্থীদের চাকরি খুঁজে পেতে সমস্যা হচ্ছে। আসলেই সময়টা বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য কঠিন সময়। আমি ব্যক্তিগতভাবে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা করার চেষ্টা করেছি। ব্যক্তিগতভাবে আমি দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। আমি কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি লিখে এ বিষয়ে অবহিত করেছি। একটি সমস্যা হচ্ছে, অনেকেই যুক্তরাজ্যে পড়তে যায় এবং মনে করে খণ্ডকালীন চাকরি করে টিউশিন ফি ও অন্যান্য খরচ বহন করবে। কিন্তু এটি করা খুবই কঠিন। আমি মনে করি, কনজারভেটিভ সরকারকে আরও সচেতন হতে হবে। শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে নীতি আরও কার্যকর করতে হবে। আমরা বিরোধী দল হিসেবে সরকারকে এ ব্যাপারে চাপের মধ্যে রাখার চেষ্টা করছি।

British Prime Minister Gordon Brown is greeted by Labour parliamentary candidate for Bethnal Green and Bow Rushanara Ali

British Prime Minister Gordon Brown is greeted by Labour parliamentary candidate for Bethnal Green and Bow Rushanara Ali

সমকাল : বাঙালি কমিউনিটির নানা সমস্যার খবরও প্রকাশিত হয়। ব্রিটিশ পার্লামেন্টের এমপি হিসেবে আপনি এসব সমস্যা সমাধানে কী ভূমিকা রাখতে চান?
রুশনারা আলী : আমরা এখন ক্ষমতায় নেই। বিরোধী দল হিসেবে আমরা যা করতে পারি তা হলো সরকারকে দায়িত্বশীল রাখতে চাপ বজায় রাখা। কনজারভেটিভ পার্টির কোয়ালিশন সরকারকে ইমিগ্রেশন পলিসির ব্যাপারে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। আমরা বিরোধী দল হিসেবে সরকারকে চাপের মধ্যে রাখব। ইমিগ্রেশন পলিসি ঠিকমতো কাজ করলে তা দেশের অর্থনীতির জন্যই সমস্যা তৈরি করে। আমি ব্যক্তিগতভাবে বাঙালি কমিউনিটির সমস্যাগুলো নিয়ে ভাবছি। এগুলোর সমাধানে কাজ করার ইচ্ছা রয়েছে। আমি এমপি নির্বাচিত হয়েছি খুব বেশিদিন হয়নি। তবে আমার কমিটমেন্টের বিষয়ে আমি সচেতন। লেবার পার্টি বর্তমানে বিরোধী দলে থাকলেও পার্লামেন্টের সদস্য হিসেবে যতটা সম্ভব তার সর্বোচ্চ চেষ্টাই আমি করব।

সমকাল : ব্রিটেনে বাংলাদেশি কমিউনিটি কী অবস্থায় আছে বলে আপনি মনে করছেন? কমিউনিটির সম্ভাবনা কেমন?
রুশনারা আলী : আমি মনে করি, ব্রিটেনে বাংলাদেশি কমিউনিটি খুবই ভালো অবস্থায় আছে। এই কমিউনিটির সম্ভাবনাও অনেক। বিশেষ করে দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রজন্ম নিজেদের উজ্জ্বল অবস্থান প্রকাশ করতে পেরেছে। এখন ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, আর্কিটেক্ট, সাংবাদিকসহ নানা পেশার মানুষ হিসেবে ভালো করছে বাংলাদেশি কমিউনিটি। কিছু কিছু এলাকায় বাংলাদেশিদের পারস্পরিক যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমার মনে হয়, এ বিষয়টি সামনে আরও উজ্জ্বল হবে। তবে হ্যাঁ, প্রথম জেনারেশনের অনেকেই সমস্যায় ছিল। চাকরি খুঁজে পাওয়ার চ্যালেঞ্জ ছিল, প্রতিষ্ঠিত হওয়ার চ্যালেঞ্জ ছিল। এখন সে চ্যালেঞ্জ কিছুটা হলেও কমেছে। আমরা এখন অনেক কিছুই করছি। সামনে আরও অনেক কিছুই করতে পারব বলে আমার বিশ্বাস।

Labour MP Rushanara Ali has added her support to a campaign to stop a right-wing march in East London.

Labour MP Rushanara Ali has added her support to a campaign to stop a right-wing march in East London.

সমকাল : ব্রিটিশ এমপি হওয়ার পর এটিই বাংলাদেশে আপনার প্রথম সফর। আপনি সিলেটের পৈতৃক বাড়িতে গেছেন। এবারের সফর কেমন হয়েছে?
রুশনারা আলী : খুবই ভালো সফর হয়েছে। বাংলাদেশের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের অনেকের সঙ্গেই আমার আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধী দলের নেত্রী খালেদা জিয়া, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনির সঙ্গে কথা হয়েছে। এয়ারপোর্ট নিরাপত্তা নিয়ে কথা হয়েছে, যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের সম্পর্ক উন্নয়নের ব্যাপারে আলাপ করেছি। আমি জানি বাংলাদেশের সবাই খুব আন্তরিক।
সিলেটে যাওয়ার অভিজ্ঞতা দারুণ। সিলেট আমার জন্মস্থান। আলাদা একটা টান স্বাভাবিকভাবেই রয়েছে। সেখানে অনেকেই দূর থেকে আমাকে দেখতে এসেছে। সবার কাছ থেকে ইতিবাচক রেসপন্স পেয়েছি। আমার জন্য সবচেয়ে ভালো লাগার ব্যাপারটি হলো, বাংলাদেশের মানুষ আমার জন্য গর্ববোধ করে। এ বিষয়টি আমার জন্য অনেক আনন্দের। এজন্যই আমার দায়বদ্ধতা সম্পর্কে আমি সচেতন। আমি মনে করি, আমার দায়বদ্ধতা সবার ওপরে। আমার দায়বদ্ধতা কেবল সিলেটের জন্য নয়, পুরো বাংলাদেশের জন্য। আমার আজকের অবস্থানের জন্য বাংলাদেশের অবদান অনেক, বাংলাদেশের মানুষের অবদান অনেক।

সমকাল : বাংলাদেশ কেমন দেখছেন? সংকট বা সম্ভাবনাগুলো কী?
রুশনারা আলী : গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের অগ্রগতি চোখে পড়ার মতো। বাংলাদেশের সামাজিক উন্নয়ন অনেকের নজর কেড়েছে। মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল অর্জনে বাংলাদেশ কাজ করে যাচ্ছে। কিছুদিন আগে বাংলাদেশ শিশুমৃত্যুর হার কমানোর জন্য এমডিজি পুরস্কারও পেয়েছে। এটি নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। যদিও বাংলাদেশের নানা ক্ষেত্রে এখনও চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এ চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলায় বাংলাদেশ সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে। হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবার ব্যাপারে বাংলাদেশের সরকারের আরও সচেতন হওয়া উচিত। নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

সমকাল : বাংলাদেশের তরুণরা বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে যুক্ত হচ্ছে। নতুন ধারার কিছু করার চেষ্টা করছে। বাংলাদেশের তরুণদের নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কী?
রুশনারা আলী : এই তরুণরাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। বাংলাদেশে এবারের ভ্রমণে অনেক তরুণের সঙ্গে আমার আলাপ হয়েছে। তরুণ প্রজন্মকে আমার খুবই নলেজেবল মনে হয়েছে। বিভিন্ন বিষয়ে তাদের আগ্রহ রয়েছে। তাদের মধ্যে সক্রিয়তা রয়েছে, এক্সাইটমেন্ট রয়েছে। এছাড়া তারা সৃজনশীল। যদিও আমার এবারের বাংলাদেশের ভ্রমণ খুবই কম সময়ের। তবে বাংলাদেশের তরুণদের ইতিবাচক বিষয়গুলো বেশ দৃশ্যমান। আমি তা উপলব্ধি করেছি। আমি একটি ব্যাপারে খুবই আগ্রহী, তা হলো এই তরুণদের সঙ্গে কীভাবে থাকা যায়, কীভাবে সহযোগিতা করা যায়। আমি মনে করি, এই তরুণ প্রজন্ম সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে অনেক কিছুই করতে পারবে।

Rushanara Ali, a Labour MP and junior shadow minister

Rushanara Ali, a Labour MP and junior shadow minister

সমকাল : আপনি তরুণদের মধ্যে খুবই জনপ্রিয়। এর কারণ কী হতে পারে?
রুশনারা আলী : তাই নাকি? আসলে তরুণদের মধ্যে আমি কতটা জনপ্রিয় বলতে পারব না। তবে চেষ্টা করি তরুণদের মতামতকে গুরুত্ব দিতে, তাদের আগ্রহের বিষয়গুলো জানতে, পরস্পর মতামতগুলো শেয়ার করতে। এতে করে যদি তরুণদের মধ্যে আমার জনপ্রিয়তা থেকে থাকে তা আমার জন্য খুবই আনন্দের।

সমকাল : বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর একটি। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি এড়াতে আপনি বাংলাদেশের জন্য কাজ করছেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাচ্ছি।
রুশনারা আলী : জলবায়ু পরিবর্তন বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি ইস্যু। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ সত্যিকার অর্থেই চ্যালেঞ্জের মুখে আছে। সুতরাং এ ব্যাপারে বাংলাদেশকে উদ্যোগ নিতে হবে, কাজ করতে হবে। আশার কথা হলো, বাংলাদেশ এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে। নিজেদের ক্ষতির বিষয়ে সচেতন হয়েছে। এ ব্যাপারে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বাংলাদেশ নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছে। ব্রিটেনের পার্লামেন্টের সদস্য হিসেবে আমি চেষ্টা করব বর্তমান সরকারকে জবাবদিহিতার মধ্যে রাখতে। যাতে করে জলবায়ু পরিবর্তনের তহবিল গঠনের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারে, সে চেষ্টাও আমরা বিরোধী দল হিসেবে করব।

সমকাল : আপনি একজন পর্যবেক্ষক হিসেবে প্রতীকী জলবায়ু আদালতে অংশ নিয়েছেন। এ সম্পর্কে কিছু বলুন।
রুশনারা আলী : বাংলাদেশের জন্য প্রয়োজনীয় একটি উদ্যোগের সঙ্গে থাকতে পেরেছি আমি। পার্লামেন্টের সদস্য হওয়ার পর বাংলাদেশে প্রথম ভ্রমণেই এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারে সংযুক্ত থাকতে পারা আমার জন্য আনন্দের। প্রতীকী জলবায়ু আদালতে উপকূলবাসীর সংকটের কথা আমি শুনেছি, তাদের সব হারানোর কথা শুনেছি। আমি মনে করি, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো অবশ্যই ক্ষতিপূরণ পাওয়ার দাবি রাখে। জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুটিতে আমি কাজ করতে আগ্রহী।

সমকাল : আপনি নিজস্ব ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নির্বাচনের সময় প্রচারণা চালিয়েছেন। প্রযুক্তির আধুনিক সুবিধাগুলো আপনি নিয়েছেন, যেমন আমরা দেখতে পেয়েছি ফেসবুকে আপনার প্রচারণা হয়েছে। আপনার ওয়েবসাইটে নিজের পলিসিগুলো আপনি তুলে ধরেছেন। এমনকি ওয়েবসাইটটি ব্যবহার করে মানুষজন যেন আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে সে পথও খোলা রেখেছেন। এটি নিঃসন্দেহে ভালো উদ্যোগ। কিন্তু নির্বাচনের পর ওয়েবসাইটটিতে তেমন কোনো আপডেট নেই। এমনটি কেন?
রুশনারা আলী : নির্বাচনের সময় এ উদ্যোগ কাজে লেগেছিল বলে আমি মনে করি। তবে গত কয়েক মাস ব্যস্ত সময় যাওয়ায় আপডেট করার সময় পাচ্ছি না। তবে একটু ফ্রি হলেই আপডেট দেওয়ার ব্যবস্থা করব। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছাকাছি যাওয়ার জন্য এটি খুবই ভালো উপায় বলে আমি মনে করি।
সমকাল : আপনাকে ধন্যবাদ।
রুশনারা আলী : সমকালের পাঠকদের শুভেচ্ছা।

jahan hassan ekush tube bangla desh জাহান হাসান, লস এঞ্জেলেস. বাংলাদেশ. বাংলা, আমাদের সময়, আলোচনা, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, জনকন্ঠ, ডেসটিনি, দিগন্ত, দিনের শেষে, নয়া দিগন্ত, প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ভোরের কাগজ, মানবজমিন, মুক্তমঞ্চ, যায় যায় দিন, যায়যায়দিন, যুগান্তর, সংগ্রাম, সংবাদ, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, রাজাকার, আল বদর, একুশ, প্রবাস, প্রবাসী, ঠিকানা, ইউএসএ, আমেরিকা, অর্থনীতি, প্রেসিডেন্ট ওবামা,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,