অ্যাসাঞ্জের গ্রেফতার সত্ত্বেও আরো গোপন তথ্য ফাঁস: উইকিলিকসে বাংলাদেশ বিষয়ে ২১৮২ নথি


অ্যাসাঞ্জের গ্রেফতার সত্ত্বেও আরো গোপন তথ্য ফাঁস

সবকিছুর জন্য যুক্তরাষ্ট্র দায়ী :অস্ট্রেলিয়া

যৌন অপরাধের মামলায় প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ গ্রেফতার হওয়া সত্বেও থামানো যাচ্ছে না তার সাড়া জাগানো সৃষ্টি ওয়েবসাইট-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম উইকিলিকস। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের কয়েকটি দেশের লাখ লাখ গোপন নথি ফাঁস করে দুনিয়াজুড়ে আলোচনার ঝড় তোলা উইকিলিকস প্রতিষ্ঠাতা অ্যাসাঞ্জ মঙ্গলবার ব্রিটেনে গ্রেফতার হন। সুইডেনের একটি গ্রেফতারি পরোয়ানায় তাকে আটক করা হয়। দু’জন মহিলার উপর যৌন নিপীড়নের অভিযোগে অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে সুইডিশ কর্তৃপক্ষ আগেই পরোয়ানা জারি করেছিল।

তবে অস্ট্রেলিয়া বলেছে, উইকিলিকসে আড়াই লাখ কূটনৈতিক গোপন নথি ফাঁস হওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রই দায়ী, সংবাদমাধ্যমটির প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ নন। অ্যাসাঞ্জকে সহায়তা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে তার দেশ অস্ট্রেলিয়া। খবর বিবিসি, এপি ও এএফপির।

যৌন অপরাধের অভিযোগ জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ ব্রিটেনে গ্রেফতার হলেও গতকাল বুধবার তার প্রতিষ্ঠান উইকিলিকস আরো গোপন তথ্য ফাঁস করেছে। ওয়েবসাইটের এক ঘোষণায় বলা হয়েছে, সামনে আরো গোপন তথ্য প্রকাশ্যে আনবে উইকিলিকস। উইকিলিকস মুখপাত্র ক্রিস্টিন রাফসোন টুইটারে এক ক্ষুদ্রবার্তার সহায়তায় গতকাল বলেন, নতুন আরো গোপন তথ্য ফাঁস করা হয়েছে। আমাদের মিডিয়া পার্টনাররা সময়মতো এগুলো জনগণের সামনে তুলে ধরতে পারবে। করপোরেট সেনসরশিপ আরোপ করে কিংবা আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে আমাদের মুখ বন্ধ করা যাবে না। উইকিলিকস অনলাইনে আছে। সম্পূর্ণ ওয়েবসাইটটি ৫০০ এর বেশি স্থান থেকে অনুলিপি করা আছে। তাই সাইটটি বন্ধ হবার আশংকা মিথ্যা।’ উইকিলিকস সর্বশেষ যে গোপন তথ্য ফাঁস করেছে তাতে আছে ব্রিটেন-লিবিয়া কুটনৈতিক সম্পর্ক, লকারবি বোমারু মেগরাহি ইসু্য, সৌদি যুবরাজ সম্পর্কিত তথ্য, ইত্যাদি।

মঙ্গলবার লন্ডন পুলিশের বিবৃতিতে বলা হয়, অনৈতিক বলপ্রয়োগের একটি ধারা, যৌন নিপীড়নের দুইটি ধারা ও ধর্ষণের একটি ধারায় সুইডিশ কর্তৃপক্ষ অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে। এ অপরাধগুলোর সব কয়টি ২০১০ সালের আগস্টে ঘটেছে। একারণে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র দায়ী ঃ অস্ট্রেলিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী কেভিন রাড বলেছেন, উইকিলিকসে আড়াই লাখ কূটনৈতিক নথি ফাঁস হওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রই দায়ী, সংবাদমাধ্যমটির প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ নন। কেভিন রাড বলেন, এই তথ্য ফাঁসের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। তিনি আরও বলেন, তথ্যপ্রবাহে তার সম্পর্কে যে সমালোচনা হয়েছে করা হয়েছে তা নিয়ে তিনি চিন্তিত নন। কেভিনের এ অবস্থানকে সমর্থন করেছেন প্রধানমন্ত্রী জুলিয়া গিলার্ড। কেভিনের মন্তব্যেরও প্রশংসা করে গিলার্ড বলেন, ‘তিনি অত্যন্ত চমৎকার কাজ করছেন।’

উইকিলিকসের স্রষ্টা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ লন্ডনে গ্রেফতার

বিশ্ব তথ্যযুদ্ধের নায়ক অ্যাসাঞ্জ

বিশ্ব তথ্যযুদ্ধের নায়ক অ্যাসাঞ্জ


অবশেষে প্রতিশোধ নিয়েই ছাড়ল যুক্তরাষ্ট্র ও তার ইউরোপীয় দোসররা। দুই সুইডিশ নারীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে গ্রেফতার করা হল বর্তমানে বিশ্বে তোলপাড় সৃষ্টি করা ওয়েবসাইট ‘উইকিলিকসের’ স্রষ্টা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জকে। বিবিসি, পিপিআই।
বেশ কিছুদিন ধরেই ব্রিটেনে বসবাসকারী অ্যাসাঞ্জ মঙ্গলবার তার আইনজীবীদের নিয়ে লন্ডনে মেট্রোপলিটন পুলিশ কার্যালয়ে আত্মসমর্পণ করেন। এর পরই তাকে সুইডেনে জারি হওয়া ওয়ারেন্টের আওতায় গ্রেফতার দেখায় পুলিশ। তাকে এরপর ওয়েস্ট মিনিস্টার ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে তোলা হয়। সেখানে অ্যাসাঞ্জের আইনজীবীরা তার জামিন আবেদন করলে তা প্রত্যাখ্যান করেন আদালত। আদালতে অ্যাসাঞ্জ জানান, তাকে জোর করে সুইডেনে পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছে এবং এর বিরুদ্ধে লড়াই করে যাবেন তিনি। এদিকে আদালতে পাঁচ বিশিষ্ট ব্রিটিশ নাগরিক অ্যাসাঞ্জের জামিনদার হতে চান। এদের মধ্যে রয়েছে প্রখ্যাত সাংবাদিক জন পিলগার, সমাজকর্মী ও কিংবদন্তী ক্রিকেট তারকা ইমরান খানের সাবেক স্ত্রী জেমিমা। ৩৯ বছর বয়স্ড়্গ অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক অ্যাসাঞ্জ একজন পেশাদার কম্পিউটার হ্যাকার। পেন্টাগনসহ মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার নেটওয়ার্ক হ্যাক করে বিশ্ব রাজনীতির লাখ লাখ গোপন তথ্য বের করে আনেন তিনি। এরপর উইকিলিকস নামক ওয়েবসাইটটি তৈরি করে ওইসব তথ্য বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরেন অ্যাসাঞ্জ। ফাঁস হয়ে যায় মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের কথিত ধারক ও বাহক যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের নানা গোপন কাহিনী। জনগণ আঁতকে উঠেন ইরাকসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র অত্যাচার-নির্যাতনের কথা শুনে। কিভাবে বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্র প্রধানের কুকীর্তির তথ্য ফাঁস করে দেয়ার ভয় দেখিয়ে তাদের নিজেদের ইশারায় নাচায় এ তথাকথিত বন্ধুপ্রতিম দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। একের পর এক নোংরা কাহিনী ফাঁস হয়ে যাওয়ায় আঁতে ঘা লাগে এই বিশ্ব পরাশক্তির। হুমকি-ধমকি দিয়ে উইকিলিকসকে ডোমেইন বরাদ্দ দেয়া প্রতিষ্ঠানকে বাধ্য করে তাদের ডোমেইন প্রত্যাহার করে নিতে। এতে সফলও হয় তারা। বন্ধ হয়ে যায় উইকিলিকস। কিন্তু তা মাত্র কয়েকঘণ্টার জন্য। এরপর ওয়েব ঠিকানা সামান্য পরিবর্তন করে আবারও সচল হয় উইকিলিকস। এরই মধ্যে ২০০৯-এ সুইডেনে দায়ের হওয়া ওই যৌন নির্যাতনের অভিযোগে অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি করা হয়। অ্যাসাঞ্জ অবশ্য বরাবরই নিজেকে নির্দোষ ও একে যুক্তরাষ্ট্রের সাজানো নাটক হিসেবেই দাবি করে আসছিল। ইরাক-ইরান যুদ্ধের সময়ের পরম বন্ধু সাদ্দামকে কাজ শেষ হয়ে যাওয়ার পর বিশ্বের জন্য হুমকি আখ্যা দিয়ে ফাঁসিতে ঝোলানো এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে গেরিলাযুদ্ধ পরিচালনার জন্য নিজেদের সৃষ্টি করা তালেবান ও আল কায়দাকে প্রয়োজন ফুরিয়ে যাওয়ার পর নির্মূল করতে উঠেপড়ে লাগা যুক্তরাষ্ট্রের অতীত ইতিহাস ঘাটলে অ্যাসাঞ্জের দাবিকে চিরায়ত সত্যের মতোই মনে হবে। তবে ঘটনা যাই হোক, সত্যের জয় হবে এমনই প্রত্যাশা সবার।

————————————————————————————————————————
বিশ্ব তথ্যযুদ্ধের নায়ক অ্যাসাঞ্জ গ্রেফতার
তথ্য ফাঁস নয়, অভিযোগ যৌন নিপীড়নের

বিশ্ব তথ্যযুদ্ধের নায়ক ও আলোড়ন সৃষ্টিকারী ওয়েবসাইট উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জকে গতকাল মঙ্গলবার ব্রিটেনে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে লাখ লাখ মার্কিন গোপন তথ্য ফাঁসের জন্য নয়, তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে তথাকথিত যৌন নিপীড়নের অভিযোগে। গতকালই তাকে আদালতে হাজির করার পর জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয়া হয়। গ্রেফতারের প্রতিক্রিয়ায় উইকিলিকসের একজন মুখপাত্র বলেছেন, এতে আমাদের গোপন ফাইল প্রকাশ বন্ধ হবে না। খবর বিবিসি, সিএনএন, রয়টার্স ও অন্যান্য সূত্রের।
স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড জানিয়েছে, অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে ইউরোপীয় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি থাকায় লন্ডনের পুলিশ গতকাল সকালে তাকে গ্রেফতার করেছে। স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড আরো বলেছে, অ্যাসাঞ্জ নিজেই তার আটকের সময় নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন। লন্ডন পুলিশের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘অনৈতিক বলপ্রয়োগের একটি ধারা, যৌন নিপীড়নের দু’টি ধারা ও ধর্ষণের একটি ধারায় সুইডিশ কর্তৃপক্ষ অনলাইন পত্রিকাটির সম্পাদক অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে। সব অপরাধ ২০১০ সালের আগস্টে ঘটেছে।’ এর আগে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে সুইডেন সরকার তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল।
আলজাজিরা জানায়, মিডিয়ার খবরে বলা হয়, আগস্টে সুইডেন সফরকালে অ্যাসাঞ্জ দুই নারীর সাথে শুয়েছিলেন। তাদের একজনের উদ্ধৃতি দিয়ে একটি সুইডিশ পত্রিকা একটি অদ্ভুত তথ্য জানায়। বলা হয়, সম্মতিক্রমেই সেক্স শুরু হলেও শেষটা নাকি হয় ‘বলপূর্বক’। তবে পেন্টাগনের মদদে এই অভিযোগ আনা হয়েছে বলে যে দাবি করা হচ্ছে, তা ওই নারী প্রত্যাখ্যান করেন। এএফপি জানায়, ওই দুই নারী ছিলেন উইকিলিকসের স্বেচ্ছাসেবী। অ্যাসাঞ্জ চলতি বছরের প্রথম দিকে বেশ কিছু দিন সুইডেনে ছিলেন।
অ্যাসাঞ্জ অভিযোগগুলো প্রত্যাখ্যান করে এটিকে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হিসেবে অভিহিত করেছেন। অ্যাসাঞ্জের গ্রেফতারকে তার আইনজীবী বর্ণনা করেছেন রাজনৈতিক চমক হিসেবে।
গ্রেফতারের কয়েক ঘণ্টা পর গতকালই তাকে আদালতে হাজির করা হয়। কালো গাড়িতে করে তাকে ওয়েস্টমিনস্টার ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে হাজির করার সময় রাস্তাটি বন্ধ করে দেয়া হয়। গ্রেফতারের পর তাকে আলাদাভাবে রাখা হয়েছিল বলেও বিভিন্ন সূত্র জানায়।
সুইডিশ কৌঁসুলিরা অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে মামলা নিয়েও বেশ জটিলতায় পড়েছেন। প্রথমে তারা যে মামলাটি করেছিলেন, সেটা তারা প্রত্যাহার করেন। তারপর আবার তারা অভিযোগের তদন্ত শুরু করেন।
উইকিলিকসের মুখপাত্র হরাফনসন গতকাল রয়টার্সকে বলেন, অ্যাসাঞ্জের গ্রেফতার সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রতি হামলা। উইকিলিকস কাজ করে যাচ্ছে। আমরা আগের মতোই একইভাবে কাজ করে যাবো। জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের কোনো বিষয় নিয়ে আমাদের পরিকল্পনায় পরিবর্তন আসবে না।
এর আগে অ্যাসাঞ্জ নিজেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছিলেন, তাকে গ্রেফতার করা হলে তার সহকর্মীরা আরো ভয়াবহ তথ্য ফাঁস করে দেবে। তার কাছে গুয়ানতানামো বেসহ মারাত্মক সব তথ্য এবং আফগানিস্তানে মার্কিন বিমান হামলায় বেসামরিক লোকের প্রাণহানির ভিডিওচিত্রও আছে বলে তিনি দাবি করেন। উইকিলিকসের মুখপাত্র বলেন, উইকিলিকস লন্ডন ও অন্যান্য গোপন স্থান থেকে একটি গ্রুপের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।
বিবিসি জানায়, গ্রেফতারের আগে অ্যাসাঞ্জের আইনজীবী মার্ক স্টিফেনস জানিয়েছিলেন, ‘পুলিশের কাছে তার স্বেচ্ছায় যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি।’ তিনি জানান, তার মক্কেল অভিযোগগুলোর ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে ও নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে চান। সোমবার রাতে ব্রিটিশ পুলিশ তাকে জানিয়েছিল, তারা সুইডিশ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে গ্রেফতারি পরোয়ানা পেয়েছে।
মার্ক স্টিফেনসের উদ্ধৃতি দিয়ে আলজাজিরা জানায়, উইকিলিকসের তথ্য ফাঁসে ক্ষুব্ধ হয়ে যুক্তরাষ্ট্রই এসব অভিযোগ উত্থাপনের জন্য চাপ দিয়ে আসছিল।
অ্যাসাঞ্জের লন্ডনভিত্তিক আইনজীবী জেনিফার রবিনসন বলেন, তার মক্কেল তাকে সুইডেনে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ প্রতিরোধ করবেন। কারণ তিনি আশঙ্কা করছেন, তাকে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেয়া হতে পারে। তবে আইনি জটিলতা থাকায় তাকে শিগগিরই সুইডেনে হস্তান্তর করা সম্ভব হবে না বলে আইনজীবীরা দাবি করেছেন।
উল্লেখ্য, ইরাক, আফগান যুদ্ধ ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের লাখ লাখ গোপন নথি উইকিলিকসের ওয়েবসাইটে প্রকাশ হলে বিপাকে পড়ে যুক্তরাষ্ট্র। গত ৬ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের পাইপলাইন, যোগাযোগ ও পরিবহন, ক্যাবল লোকেশন, স্যাটেলাইট ও বিএই সিস্টেম প্লান্টসহ বেশ কিছু গোপন স্থাপনার তালিকা প্রকাশ করে উইকিলিকস। এতে ওই সব স্থাপনা এখন সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কার মুখে রয়েছে। এসব তথ্য ফাঁসের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনকে অন্য দেশগুলোর কাছে দুঃখও প্রকাশ করতে হয়। আরো অনেক বিশ্বনেতার তোপের মুখেও পড়েন জুলিয়ান।
৩৯ বছর বয়সী অস্ট্রেলীয় নাগরিক অ্যাসাঞ্জকে আশ্রয় না দিতে মিত্র দেশগুলোর প্রতি ওয়াশিংটন আহ্বান জানায় বলে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়। সোমবার ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম হেগ যুক্তরাজ্যসহ স্পর্শকাতর অবস্থানের তথ্য ফাঁস করায় উইকিলিকসের সমালোচনা করে বলেছিলেন, তারা সন্ত্রাসীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারেন। সাবেক মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী সারাহ পলিন অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে রক্তমাখা হাতে মার্কিনবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ আনেন। অ্যাসাঞ্জের নিজ দেশ অস্ট্রেলিয়া সরকারের কাছ থেকেও তার সহায়তা পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী জুলিয়া গিলার্ড ইতোমধ্যে অ্যাসাঞ্জের সমালোচনা করেছেন। তিনি নথি প্রকাশকে বেআইনি কাজ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি ইন্টারনেট সার্ভিস যোগানদাতা প্রতিষ্ঠান উইকিলিকসকে সুবিধা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর পর তারা সুইস সার্ভার নিতে বাধ্য হয়। সোমবার সুইস কর্তৃপক্ষ অ্যাকাউন্ট খোলার সময় অ্যাসাঞ্জ তার আবাসস্থল সম্পর্কে ভুল তথ্য দেয়ার অভিযোগে অ্যাসাঞ্জের একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেয়া হয়। এতে এক সপ্তাহে অ্যাসাঞ্জ এক লাখ ইউরো হারিয়েছেন। পোস্ট ফিনান্সের ওয়েবসাইটে দাবি করা হয়, জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের সাথে সব ধরনের ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিন্ন করা হয়েছে। এতে আরো বলা হয়েছে, অ্যাসাঞ্জ তার স্থায়ী নিবাস হিসেবে জেনেভা উল্লেখ করেছেন। কিন্তু তদন্তে তা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। তার সুইজারল্যান্ডে বসবাসের কোনো প্রমাণ না থাকায় তিনি পোস্ট ফিন্যান্সের সাথে ভোক্তার সম্পর্ক রাখার শর্ত ভঙ্গ করেছেন। এ কারণে ব্যাংক তার অ্যাকাউন্ট জব্দ করার অধিকার রাখে।
উইকিলিকস এক বিবৃতিতে জানায়, গত সপ্তাহে ইন্টারনেটের মাধ্যমে পরিশোধের বড় প্রতিষ্ঠান পেপ্যাল জার্মান দাতব্য সংস্থা ওয়াও হল্যান্ড ফাউন্ডেশনের ৬০ হাজার ইউরো জব্দ করেছে। এ প্রতিষ্ঠান পরোক্ষভাবে উইকিলিকসকে সহায়তা করে থাকে।
সম্প্রতি ওবামার পদত্যাগ করা উচিত বলে মন্তব্য করে অ্যাসাঞ্জ বলেন, যদি দেখা যায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা জাতিসঙ্ঘ কর্মকর্তার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকদের গোয়েন্দা লাগানোর প্রস্তাব অনুমোদন করেন তাহলে তার পদত্যাগ করা উচিত। তিনি বলেন, যিনি এমন কাজের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি যদি আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হন এবং যুক্তরাষ্ট্রকে একটি মর্যাদাশীল দেশ হিসেবে দেখতে চান তাহলে তাকে পদত্যাগ করা উচিত।
প্রকাশিত ওই নথিগুলোর মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য অংশ হলো, জাতিসঙ্ঘের কর্মকাণ্ড গোপনে মনিটরিং করা, সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনকে বলা হয়েছিল তিনি যেন জাতিসঙ্ঘ কর্মকর্তার টেলিফোন, ই-মেইল ও ক্রেডিট কার্ডসহ যাবতীয় বিষয়ে গোয়েন্দা লাগিয়ে রাখেন।
চমস্কির স্বাক্ষরঃ এএফপি জানায়, বিখ্যাত মার্কিন বুদ্ধিজীবী, ভাষাতাত্ত্বিক নোয়াম চমস্কি উইকিলিকস প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের পক্ষাবলম্বন করে তাকে সমর্থনের আহ্বান জানিয়ে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী জুলিয়ান গিলার্ডের কাছে পাঠানো একটি খোলা চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন। ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলোজির (এমআইটি) অধ্যাপক ও মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির কড়া সমালোচক নোয়াম চমস্কি ওই চিঠিতে গিলার্ডকে তিনি এ বিষয়ে দৃঢ়তাপূর্ণ বিবৃতি দেয়ার জন্যও বলেন। অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন আইনজীবী, লেখক ও সাংবাদিক এই চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন।
চিঠিতে লেখা রয়েছে, অস্ট্রেলিয়ার বংশোদ্ভূত অ্যাসাঞ্জকে লক্ষ্য করে ক্রমবর্ধমান সহিংস বিতর্ক শুরু হয়েছে। স্বাক্ষরকারীরা বলেন, উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতার নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। ভিক্টোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জে স্প্যারো ও মানবাধিকার আইনজীবী লিজি ও’শেরার লিখিত চিঠিটিতে গিলার্ডকে অবাধে রাজনৈতিক বক্তব্য দেয়ার অস্ট্রেলিয়ার প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়।

————————————————————————————————————————
উইকিলিকসে বাংলাদেশ বিষয়ে ২১৮২ নথি

কালের কণ্ঠ, Sun 5 Dec 2010
ওয়েবভিত্তিক সংবাদমাধ্যম উইকিলিকস যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিসহ গোটা বিশ্বের যে আড়াই লাখ নথি ফাঁস করার মিশনে নেমেছে, তার মধ্যে দুই হাজার ১৮২টি বাংলাদেশবিষয়ক। গতকাল শনিবার বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টা পর্যন্ত উইকিলিকস তার ওয়েবসাইটে ৬৮৩টি নথি প্রকাশ করেছে। বাকিগুলো গুরুত্ব বুঝে পর্যায়ক্রমে আগামী কয়েক মাসে প্রকাশ করা হবে বলে উইকিলিকসের ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে আরো বলা হয়, ১৯৬৬ সাল থেকে এ বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ও বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে দেশটির ২৭৪টি দূতাবাসের মধ্যে আদান-প্রদান হওয়া নথি ওয়েবসাইটটি প্রকাশ করতে যাচ্ছে। তবে উল্লেখযোগ্য নথিগুলোর উৎস দেখানোর জন্য ওয়েবসাইটে প্রকাশিত লেখচিত্রে (গ্রাফ) ৪৫টি দূতাবাস স্থান পেয়েছে। সেগুলোর মধ্যে ৩৭ নম্বর অবস্থানে আছে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস।

উইকিলিকস সূত্রে জানা গেছে, প্রকাশিত ও প্রকাশিতব্য নথির মধ্যে আট হাজার ৩২০টি চীনবিষয়ক, সাত হাজার ৯৫টি আফগানিস্তানবিষয়ক, পাঁচ হাজার ৮৭টি ভারতবিষয়ক এবং চার হাজার ৭৭৫টি পাকিস্তানবিষয়ক। গতকাল বিকেল পর্যন্ত প্রকাশিত নথির চারটিতে বাংলাদেশের নাম এসেছে। এগুলোর মধ্যে দুটি প্যারিসের যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস থেকে এবং বাকি দুটি ইসলামাবাদের দূতাবাস ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দপ্তর থেকে পাঠানো। ইসলামাবাদের যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস থেকে পাঠানো নথিতে বাংলাদেশে লস্কর-ই-তৈয়বার আস্তানা থাকতে পারে বলে ধারণা দেওয়া হয়েছে। প্যারিসের দূতাবাস থেকে পাঠানো নথিতে ২০০৬ সালের সন্ত্রাসবিরোধী প্রতিবেদনের বর্ণনা রয়েছে। এতে বলা হয়, আলজেরিয়া, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও মরক্কো থেকে আসা কমপক্ষে ২০ জন ইমামকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা এতে মদদ দেওয়ার অভিযোগে ২০০৬ সালে ফ্রান্স থেকে বহিষ্কারের আদেশ দেওয়া হয়েছে। প্যারিসে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের নথিতে বাংলাদেশসহ ৯টি দেশে ডিএনএ পরীক্ষা শুরুর পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। এ ছাড়া আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দপ্তর থেকে পাঠানো নথিতে বাংলাদেশসহ বেশ কয়েকটি দেশের ব্যাপারে জাতিসংঘ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য চাওয়া হয়েছে।

এ পর্যন্ত ফাঁস হওয়া এমন সাতটি নথি রয়েছে যেগুলোর অনুলিপি ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসে এসেছে। এগুলো হলো শ্রীলঙ্কায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ বিষয়ে ‘শ্রীলঙ্কা ওয়ার ক্রাইম অ্যাকাউন্টিবিলিটি : দ্য তামিল’, সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন ইস্যুতে পাকিস্তান সরকারকে চাপে রাখার বিষয়ে ‘টেরর ফিন্যান্স : এমবাসি প্রেসেস গভর্নমেন্ট অব পাকিস্তান অন ইউএন ১২৬৭’, ইরাক থেকে সেনা প্রত্যাহার না করতে আমেরিকান সিনেটর জন ম্যাককেইনের কাছে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জেনারেল পারভেজ মোশাররফের অনুরোধ বিষয়ে ‘মোশাররফ টেলস ম্যাককেইন : ডোন্ট পুল আউট ফ্রম ইরাক’, সন্ত্রাসবিরোধী লড়াই ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের জেনারেল স্কুমেকার এবং দেশটির রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি ও সেনাপ্রধান জেনারেল পারভেজ মোশাররফের বৈঠক বিষয়ে ‘প্রেসিডেন্ট মোশাররফ ব্রিফস জেনারেল স্কুমেকার অ্যান্ড’, আফগানিস্তানের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক নিয়ে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের আন্ডার সেক্রেটারি রিচার্ড বাউচারের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট জেনারেল পারভেজ মোশাররফের বৈঠক প্রসঙ্গে ‘মোশাররফ টেলস বাউচার অ্যাবাউট পাকিস্তানস প্ল্যান ফর’, যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি সভার স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির সঙ্গে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জেনারেল পারভেজ মোশাররফের বৈঠক বিষয়ে ‘প্রেসিডেন্ট মোশাররফ মিটস স্পিকার পেলোসি’ এবং ভারত, নেপাল ও বাংলাদেশে লস্কর-ই-তৈয়বার আস্তানা থাকতে পারে বলে ধারণা পোষণ বিষয়ে ‘প্রিজার্ভিং ইনফরমেশন শেয়ারিং’

—————————————————————————————————-
নিজেদের রক্ষায় পদক্ষেপ নিয়েছে উইকিলিকস কর্তৃপক্ষ

প্রথম আলো, Sun 5 Dec 2010
উইকিলিকস প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ বলেছেন, তাঁর জীবন ঝুঁকির মুখে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের গোপন বার্তা প্রকাশের পর থেকে তাঁকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। অ্যাসাঞ্জ বলেন, তিনি ও তাঁর সহকর্মীরা যেকোনো হুমকি থেকে নিজেদের বাঁচাতে যথাযথ পদক্ষেপ নিয়েছেন।
গত শুক্রবার অজ্ঞাত স্থান থেকে অনলাইনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ এসব কথা বলেন। তাঁর এ সাক্ষাৎকার ব্রিটেনের প্রভাবশালী দৈনিক গার্ডিয়ান-এর ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

এদিকে অ্যাসাঞ্জ নতুন করে আরও তথ্য প্রকাশের ঘোষণা দিয়েছেন। গার্ডিয়ানকে তিনি বলেছেন, ভিনগ্রহের প্রাণী (এলিয়েন) ও অজ্ঞাত উড়ন্ত বস্তু (ইউএফও) সম্পর্কিত যুক্তরাষ্ট্রের গোপন তথ্যও তিনি প্রকাশ করবেন। তিনি তরুণ মার্কিন সেনা ব্রাডলি ম্যানিংকে �অপ্রতিদ্বন্দ্বী নায়ক� বলে আখ্যায়িত করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, মার্কিন সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা শাখার এই সেনাই সে দেশের গোপন দলিলপত্র উইকিলিকসের কাছে পাচার করেছেন। পুলিশ চলতি বছরের মে মাসে ম্যানিংকে গ্রেপ্তার করে।

অ্যাসাঞ্জ বলেছেন, তাঁকে কেউ হুমকি দিলে তা হত্যার প্ররোচনা হিসেবে বিবেচিত হবে। তিনি বলেন, �আমাদের জীবনের হুমকির বিষয়টি সবারই জানা। পরাশক্তির সঙ্গে পেরে উঠতে এ বিষয়ে আমরা যথাযথ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছি।� নিজের নিরাপত্তাব্যবস্থা এরই মধ্যে বাড়ানো হয়েছে বলে তিনি জানান।
অ্যাসাঞ্জের আইনজীবী বলেছেন, যৌন নিপীড়নের অভিযোগে তাঁর মক্কেলকে সুইডেনের কাছে হস্তান্তরের সব প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে তিনি লড়বেন। তিনি আরও বলেন, তাঁর বিশ্বাস, বিদেশি শক্তিগুলো সুইডেনকে এ ব্যাপারে প্রভাবিত করছে।
এদিকে সুইডেন কর্তৃপক্ষ বলছে, তারা এরই মধ্যে ব্রিটেনের কাছে অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কাগজপত্র হস্তান্তর করেছে। ১০ দিনের মধ্যে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদ মাইক হুকাবি বলেছেন, যে ব্যক্তিই গোপন মার্কিন দলিল প্রকাশ করুক না কেন, তার বিচার করতে হবে।
আফগানিস্তান ও ইরাক যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন সেনাবাহিনীর গোপন দলিল প্রকাশ করে উইকিলিকস বিশ্বব্যাপী আলোচনার ঝড় তোলে। সর্বশেষ তারা বিপুল পরিমাণ গোপন মার্কিন কূটনৈতিক বার্তা প্রকাশ করে। এ নিয়ে উইকিলিকস যুক্তরাষ্ট্রের তোপের মুখে পড়ে।

এর পর থেকেই তাঁকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অ্যাসাঞ্জ দাবি করছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিজেদের জীবনের নিরাপত্তা নিজেরাই নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিল ওয়েবসাইট কর্তৃপক্ষ।
গত বৃহস্পতিবার দি ইনডিপেন্ডেন্ট-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যাসাঞ্জ সম্ভবত দক্ষিণ ইংল্যান্ডের কোনো এক জায়গায় অবস্থান করছেন। ব্রিটেনের পুলিশ তাঁর অবস্থান সম্পর্কে অবগত আছে।

—————————————————————————————————-

আত্মপক্ষঃ রহস্যজনক প্রতিষ্ঠান উইকিলিকস

এবনে গোলাম সামাদ

সম্প্রতি উইকিলিকস (WikiLeaks) ওয়েবসাইট মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনেক গোপন তথ্য ফাঁস করে দিয়েছে। এসব গোপন তথ্য উইকিলিকস কিভাবে সংগ্রহ করতে পেরেছে সেটা বিস্ময়কর। শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নয়, আরো অনেক রাষ্ট্রের গোপন তথ্য ফাঁস করছে উইকিলিকস। তাই উইকিলিকসের ফাঁস করা তথ্য যে বানোয়াট, তা কোনো রাষ্ট্রই বলছে না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চেয়েছিল পাকিস্তানের পরমাণু চুল্লি থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নিতে। কিন্তু পাকিস্তান সরকার এটা হতে দেয়নি। উইকিলিকস এই তথ্য ফাঁস করেছে পাকিস্তানের একজন সরকারি মুখপত্র বলেছেন, উইকিলিকসের দেয়া তথ্য যথার্থ। উইকিলিকসের ফাঁস করা সব তথ্যই মনে হচ্ছে বস্তুনিষ্ঠ আর এর আছে দালিলিক ভিত্তি। কী করে একটি প্রতিষ্ঠান এত দলিল সংগ্রহ করতে পারল, সেটা অনেকের কাছেই মনে হচ্ছে বিস্ময়কর।

উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জি (Julian Assange) একজন অস্ট্রেলীয় নাগরিক। তার জন্ম সে দেশে। অ্যাসাঞ্জি বলেছেন, তার সাথে সর্বক্ষণ কাজ করে মাত্র পাঁচজন। আর এ ছাড়া যারা কাজ করে তারা কেউই সার্বক্ষণিক নয়। প্রায় ৮০০ লোক পৃথিবীর নানা দেশ থেকে সহযোগিতা করছে অ্যাসাঞ্জিকে। উইকিলিকস নাম দুটো শব্দকে একত্রে মিলিয়ে তৈরি। উইকি (Wiki)শব্দটা হাওয়াই দ্বীপের ভাষা থেকে পাওয়া। শব্দগত অর্থ হলো দ্রুত। আর খপথর শব্দটা ইংরেজি। এর একটা মানে হলো ফাঁস করা। শব্দগত অর্থে তাই উইকিলিকস বলতে বোঝাচ্ছে ‘দ্রুত ফাঁস করা’। অ্যাসাঞ্জি ঘোষণা করেছেন, তাদের প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য হচ্ছে প্রধানত বিভিন্ন দেশের সরকারের গোপন তথ্য ফাঁস করা। যাতে বিভিন্ন দেশের সরকারকে সেসব দেশের মানুষের কাছে হতে হয় জবাবদিহিতার মুখোমুখি। উইকিলিকস বস্তুনিষ্ঠভাবে বিভিন্ন দেশের সরকারের স্বরূপ করে চলবে উন্মোচন।

উইকিলিস প্রতিষ্ঠানের মালিক অ্যাসাঞ্জি নন। এর মালিক হলো সানশাইন প্রেস (The Sunshine Press)। উইকিলিকস শুরু হয়েছে ২০০৬ সালে। কিন্তু মাত্র এই কয় বছরে তা হয়ে উঠেছে বিশেষ আলোচ্য ও তথ্যের উৎস। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের New York Times, বিলাতের The Guardian, জার্মানির Der Spiege , এবং ফ্রান্সের Le monde Gog এসব পত্রিকা খুবই নামকরা। আর হালকা ধরনের নয়। এসব পত্রিকায় ছাপানো হচ্ছে উইকিলিসের ফাঁস করা তথ্য। আর বিভিন্ন দেশের পাঠক সমাজের কাছে তা গৃহীত হচ্ছে নির্ভরযোগ্য হিসেবে। উইকিলিকস সম্প্রতি ফাঁস করেছে, সৌদি আরবের বাদশা আবদুল্লাহ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ করেন, সে যেন ইরানের পরমাণু স্থাপনায় আঘাত করে। বাদশা আবদুল্লাহ চেয়েছেন ইরানের পরমাণু স্থাপনার ধ্বংস। উইকিলিকসের দেয়া এই তথ্য ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে নিশ্চয় সম্পর্কের আরো অবনতি ঘটাবে। খবরটি এমনই এক সময় উইকিলিকসের পক্ষ থেকে ফাঁস করা হলো, যখন বাইরে থেকে দেখে মনে হচ্ছিল ইরান ও সৌদি আরব তাদের মধ্যকার সম্পর্ক উন্নয়নে ইচ্ছুক।

উইকিলিকস দাবি করেছে, তার হাতে আছে আফগানিস্তানের ওপর ৭৬ হাজার ৯০০ দলিল, যা সে প্রকাশ করবে আফগানিস্তান সম্পর্কে মার্কিন নীতিকে উন্মোচিত করার জন্য। উইকিলিকস বলেছে, চীনের লক্ষ্য হচ্ছে দুই কোরিয়াকে এক করে একটি রাষ্ট্রে পরিণত করা এবং সেখান থেকে মার্কিন সৈন্যের অপসারণ। উইকিলিকস সেটা বলেছে, চীনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার গোপন বক্তব্য উদ্ধৃৃত করে। প্রশ্ন উঠেছে উইকিলিকস এত সব গোপন তথ্য কী করে সংগ্রহ করতে পারছে? এসব তথ্য সংগ্রহ করতে নিশ্চয় তার ব্যয় করতে হচ্ছে বিপুল পরিমাণ অর্থ। তার এই অর্থের উৎস জানা যাচ্ছে না। সম্প্রতি খবরে প্রকাশ, তথ্য প্রচারের জন্য মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষক ব্রাডলি ম্যানিংকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি গোপন তথ্য দিয়েছেন অ্যাসাঞ্জিকে। অ্যাসাঞ্জি বলেছেন, ব্রাডলি ম্যানিংয়ের মামলার সব খরচ তিনি বহন করবেন উইকিলিকসের পক্ষ থেকে। এই মামলায় প্রচুর অর্থ লাগবে। অ্যাসাঞ্জি এই অর্থ কোথা থেকে পাবেন তা নিয়ে দেখা দিচ্ছে প্রশ্ন। অর্থাৎ উইকিলিসককে যে ধরনের প্রতিষ্ঠান বলা হচ্ছে সে তা নয়। এর পেছনে আছে একটা শক্তিমান চক্র। যারা সাহায্য করে চলেছে অ্যাসাঞ্জিকে।

উইকিলিকসের কোনো সদর দফতর নেই। উইকিলিকসের কাজ চলেছিল সুইডেনকে নির্ভর করে। কিন্তু সুইডেনে অ্যাসাঞ্জির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে যৌন হয়রানির। অ্যাসাঞ্জির বয়স ৩৯। তার বিরুদ্ধে হুলিয়া জারি করেছে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোল। অনেকে বলছেন, অ্যাসাঞ্জিকে বিপাকে ফেলার জন্যই করা হয়েছে এই মামলা। প্রমাণ করার চেষ্টা হচ্ছে, তিনি একজন যৌন বিকারগ্রস্ত মানুষ। শোনা যাচ্ছে অ্যাসাঞ্জি এখন আছেন বিলাতে, কিন্তু বিলাতের পুলিশ নাকি তাকে ধরতে আগ্রহী নয়। তাই তিনি এখনো ধরা পড়েননি। বিলাতের পুলিশ কেন তাকে ধরতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না, সেটা স্পষ্ট নয়। অ্যাসাঞ্জিকে মনে হয় রক্ষা করার চেষ্টা হচ্ছে কোনো বিশেষ মহল থেকে। উইকিলিকসের জন্ম বেশি দিন হয়নি। ২০০৬ সাল থেকে শুরু হয়েছে এর কর্মকা । কিন্তু ইতোমধ্যেই তা প্রতিষ্ঠা পেতে পেরেছে একটা শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হিসেবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বলছে, সে দেশে অ্যাসাঞ্জির বিরুদ্ধে মামলা করা হবে গোপন তথ্য চুরি করার অভিযোগে। কিন্তু অ্যাসাঞ্জি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে উপস্থিত থেকে এই কাজ করনেনি। তাই মার্কিন আদালতে এই মামলার বৈধতা নিয়ে থাকবে প্রশ্ন। অন্য দিকে ব্রিটেনে তার বিপক্ষে কোনো মামলা করা যাবে না, কারণ তিনি ব্রিটেন থেকে কোনো তথ্য চুরি করেননি। এ ছাড়া ব্রিটেনের আইন বলে (বিল অব রাইটস-১৬৮৯ খ্রিঃ) মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা আছে। সংবাদপত্রে বিলাতে কোনো খবর ছাপাতে বাধা নেই। বিলাতের আইনে তাই অ্যাসাঞ্জিকে বলা যাচ্ছে না কোনোভাবেই অপরাধী।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও আইন আছে খবর জানার অধিকারের। অ্যাসাঞ্জির বিরুদ্ধে মামলা উঠলে নিশ্চয় এই অধিকার নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আছে গোপন তথ্য সংরক্ষণের কড়াকড়ি। কিন্তু তথাপি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনেক গোপন তথ্য ফাঁস হতে পারছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী (সচিব) বলেছেন, অ্যাসাঞ্জি যা করছেন তা হলো তথ্য সন্ত্রাস। আর এই তথ্য সন্ত্রাসের ফলে কেবল যে মার্কিন স্বার্থই বিপন্নই হচ্ছে তা নয়, তার মিত্রদেরও পড়তে হচ্ছে বিপাকে। ফলে বিশ্বশান্তি বিপন্ন হতে পারে। বিপন্ন হতে পারে আন্তর্জাতিক অর্থব্যবস্থা। অ্যাসাঞ্জি ঘোষণা করেছেন, উইকিলিকসের হাতে আছে এমন দলিলপত্র যা প্রকাশিত হলে মানুষ জানতে পারবে মার্কিন ব্যাংক ব্যবস্থার দুর্বলতার কথা। তিনি এসব দলিল প্রকাশের উদ্যোগ নিতে যাচ্ছেন। অ্যাসাঞ্জি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি কী করে এত দূর ক্ষমতাধর একজন ব্যক্তি হয়ে উঠতে পারলেন, সেটা থাকছে অজ্ঞাত। সে যা হোক, উইকিলিকস হয়ে উঠেছে সারা বিশ্বের পত্রপত্রিকার বিশেষ খবর। উইকিলিকস যদি বিভিন্ন দেশের খবর ফাঁস করে চলতে পারে, তবে নিশ্চিতভাবেই তা প্রভাবিত করতে সক্ষম হবে বিশ্ব রাজনীতির ধারাকে।

লেখকঃ প্রবীণ শিক্ষাবিদ ও কলামিস্ট

আমাদের সময়, আলোচনা, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, জনকন্ঠ, ডেসটিনি, দিগন্ত, দিনের শেষে, নয়া দিগন্ত, প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ভোরের কাগজ, মানবজমিন, মুক্তমঞ্চ, যায় যায় দিন, যায়যায়দিন, যুগান্তর, সংগ্রাম, সংবাদ,চ্যানেল আই, বাঙ্গালী, বাংলা ভিশন, এনটিভি,এটিএন বাংলা, আরটিভি, দেশ টিভি, বৈশাখী টিভি, একুশে টিভি, প্রবাস, প্রবাসী, ঠিকানা, জাহান হাসান, বাংলা, বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস, লিটল বাংলাদেশ, ইউএসএ, আমেরিকা, অর্থনীতি, প্রেসিডেন্ট ওবামা,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,অর্থ, বাণিজ্য, শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, রাজাকার, আল বদর, সুখ, টেলিভিশন, বসন্ত উৎসব, Jahan, Hassan, jahanhassan, Ekush, bangla, desh, Share, Market, nrb, non resident, los angeles, new york, ekush tube, ekush.info

সারাবিশ্বের পত্রপত্রিকা ও নিউজ এজেন্সিগুলো উইকিলিকসের ফাঁস করা তারবার্তাগুলো প্রকাশ করছে। জনগণের স্বার্থেই এসব প্রকাশ করা হচ্ছে। বেশির ভাগ পশ্চিমা নেতাই উইকিলিকসের তথ্য ফাঁস ঘটনার নিন্দা করলেও, এমনকি এগুলো মানুষের জীবন বিপন্ন করবে বলে ঘোষণা দিলেও নিজ নিজ মিডিয়াকে এসব তারবার্তা প্রকাশে বাধা দিচ্ছেন না।


উইকিলিকস মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে পরিবর্তন আনবে?

wikileaks

wikileaks


ও সা মা আ ল শ রী ফ
“Could become as important a journalistic tool as the Freedom of Information Act.” – Time Magazine…<<উইকিলিকসের ওয়েবসাইট

এ সপ্তাহে উইকিলিকসের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের গুরুত্বপূর্ণ লাখ লাখ তারবার্তা ফাঁস হওয়ার ঘটনাটি বিশ্বজুড়ে হৈচৈ ফেলে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নেতারা আন্তর্জাতিক ঘটনাপ্রবাহ, বিশ্ব নেতৃবৃন্দ, অন্য দেশের সঙ্গে তাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ইত্যাদি বিষয়কে কিভাবে দেখেন, তা এসব তারবার্তার মাধ্যমে গোটা বিশ্বের কাছে উন্মোচিত হয়ে গেল। কূটনীতির দুনিয়া সম্পর্কে এতদিন যে সাধারণ ধারণা ছিল, তা উইকিলিকস কেলেংকারির ধাক্কায় বদলে যাবে। ১৯৬৬ থেকে ২০১০- প্রায় সাড়ে চার দশকে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের সঙ্গে বিশ্বের ২৭৪টি মার্কিন দূতাবাস, কনসুলেট অফিস ও কূটনৈতিক মিশনের মধ্যে যেসব তারবার্তা চালাচালি হয়েছে, তারই বিশাল ভাণ্ডার তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে উইকিলিকস। এত বড় তথ্য ফাঁসের ঘটনা এর আগে ঘটেনি। ক’দিন আগে ইরাক যুদ্ধের কিছু দলিল ফাঁস করেছিল উইকিলিকস। এ নিয়েও হৈচৈ হয়েছে। তবে উইকিলিকস কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, ওদের কাছে যত তথ্য আছে তার আকার ইরাক যুদ্ধের দলিলের চেয়ে সাত গুণ বেশি। এসব তারবার্তা নিঃসন্দেহে অস্বস্তিতে ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে। সেই সঙ্গে তার মিত্রদের জন্যও বিষয়টি বিব্রতকর। কিন্তু এর চেয়েও বড় কথা হল, এ তথ্য ফাঁসের ঘটনা কূটনীতি জগতেও পরিবর্তন আনবে। বিভিন্ন দেশের সরকার বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কিভাবে কূটনৈতিক তৎপরতা চালাবে, সে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাববে।

বিভিন্ন দেশের মধ্যে কূটনৈতিক কার্যক্রমের শুরু কয়েকশ’ বছর আগে। প্রতিটি দেশের পররাষ্ট্রনীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে এর মাধ্যমে শুধু বন্ধু নয়, শত্রুদের সঙ্গেও খোলাখুলি আলোচনা করে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হয়। তবে বিভিন্ন দেশের পারস্পরিক আলোচনা, বোঝাপড়া বা তথ্য আদান-প্রদানের মতো বিষয়গুলো জনগণের কাছ থেকে আড়াল রাখাই হল নিয়ম। সরকারগুলো জনগণকে কূটনীতির টেকনিক্যাল টার্ম প্রয়োগ করে নিজেদের মতো করে সবকিছু বোঝায়। অনেক ক্ষেত্রেই এসব বক্তব্যের সত্যতা খুবই কম।

এই যে কূটনীতির জগৎ নিয়ে এত লুকোচুরি, কূটনৈতিক কার্যক্রমের ওপর ভারি একটা পর্দা ঝুলিয়ে একে চিরতরে জনগণের আড়ালে রাখার চেষ্টা- উইকিলিকসের তথ্য ফাঁসের ঘটনায় এ জগৎটাই উন্মুক্ত হয়ে গেল। গত দুই দশকের ডিজিটাল বিপ্লবের ফলেই এটা সম্্‌ভব হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য নীতির ওপর এ ঘটনার প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হবে। যুক্তরাষ্ট্রের বুদ্ধিবৃত্তিক ও আইনগত কাঠামোর মধ্যেও দীর্ঘদিন ধরে এর ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া এবং এ নিয়ে বিতর্ক চলবে। আর এসবের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে এ ধরনের তথ্য ফাঁসের ঘটনা আরও ঘটতে থাকবে।

তবে এ মুহূর্তে যে ক্ষতিটা হয়ে গেছে তা সারানো জরুরি। তাই যুক্তরাষ্ট্রকে বন্ধু ও মিত্র রাষ্ট্রগুলোর কাছে দৌড়াতে হবে। বিশেষ করে উইকিলিকসে প্রকাশিত কিছু তারবার্তায় যেসব বন্ধুরাষ্ট্রের নেতা সম্পর্কে মার্কিন নেতারা অযাচিত মন্তব্য করেছেন, তাদের সঙ্গে সম্পর্ক ঠিক রাখতে হবে। আবার তাদের প্রতি আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর আস্থা ফিরিয়ে আনতেও কাজ করতে হবে যুক্তরাষ্ট্রকে। কারণ অনেক দেশ বা সংস্থা সম্পর্কে মার্কিন নেতারা বিব্রতকর মন্তব্য করেছেন, এমনকি কোথাও কোথাও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বিপজ্জনক কিছু নীতি গ্রহণের কথাও প্রকাশ পেয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে বিভিন্ন দেশের মার্কিন কূটনীতিকরা গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সম্পর্কে তাদের মন্তব্য ও তাদের চরিত্রহননের মতো বিষয়গুলো নিয়ে বিব্রত হবেন। আবার কেউ কেউ বুঝে নেবেন যে বিশেষ কিছু এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের জায়গায় তাদের সমঝোতা করতে হবে। বিশেষ করে পাকিস্তান, উপসাগরীয় এলাকা এবং ইয়েমেনে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক তৎপরতায় কিছু ছাড় দিতে হবে।

এখানে বিপরীত একটা দিকও আছে। শুধু কি যুক্তরাষ্ট্রই এভাবে অন্যান্য দেশে কূটনৈতিক তৎপরতা চালায়? উইকিলিকস যদি রাশিয়া ও চীনের কূটনৈতিক তারবার্তাগুলো পেত, আর সেগুলো প্রকাশ করত; তবে একইভাবে সেগুলো পড়েও বিশ্ববাসী চমকে উঠত। একই ধরনের ঘটনা সেসব দেশের ক্ষেত্রেও ঘটে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের মতো এত বড় আকারে হয়তো নয়।

উইকিলিকসের তথ্য ফাঁসের ঘটনাকে এরই মধ্যে ‘ক্যাবলগেট’ নাম দেয়া হয়েছে। সত্তরের দশকে নিক্সন সরকারের আমলের সাড়া জাগানো ‘ওয়াটারগেট’ কেলেংকারির মতো এই নাম। এ ‘ক্যাবলগেট’ কেলেংকারি যুক্তরাষ্ট্রেই শুধু সম্্‌ভব হয়েছে, অন্য দেশে এটা সম্্‌ভব ছিল না। কারণ উইকিলিকস মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির কিছু ব্যর্থ সিস্টেমের সুযোগ নিয়েছে। এ দুর্বলতার পেছনে ৯/১১ বা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আমেরিকার যুদ্ধের মতো বিষয়গুলো থাকতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের খুব অভাব। তাছাড়া তাদের মধ্যে তথ্যের আদান-প্রদানও কম। এসব কারণে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূমির ওপর সব ধরনের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ঠেকাতে দেশটি ব্যর্থ হচ্ছে।

তবে এ ঘটনা থেকে ভালো কিছুও তো পাওয়া যেতে পারে, নয় কি? দেখা গেছে সারাবিশ্বের পত্রপত্রিকা ও নিউজ এজেন্সিগুলো উইকিলিকসের ফাঁস করা তারবার্তাগুলো প্রকাশ করছে। তাদের যুক্তি হল, জনগণের স্বার্থেই এসব প্রকাশ করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র কিভাবে তাদের পররাষ্ট্রনীতি তৈরি করে, বিশেষ করে উত্তর কোরিয়া, ইরান, চীন ইত্যাদি স্পর্শকাতর ইসুøতে মার্কিন নেতা ও কূটনীতিকদের কাজকর্মের কথা জানার অধিকার বিশ্ববাসীর রয়েছে। তাই বেশির ভাগ পশ্চিমা নেতাই উইকিলিকসের তথ্য ফাঁস ঘটনার নিন্দা করলেও, এমনকি এগুলো মানুষের জীবন বিপন্ন করবে বলে ঘোষণা দিলেও নিজ নিজ মিডিয়াকে এসব তারবার্তা প্রকাশে বাধা দিচ্ছেন না।

তাই সম্্‌ভবত এসব ঘটনা থেকে ভালো কিছুও বেরিয়ে আসবে। যুক্তরাষ্ট্র একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, এটা ঠিক। কিন্তু দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পর থেকে দেশটির পররাষ্ট্রনীতি পুরোপুরি আগ্রাসী, কখনও কখনও অনৈতিক। উইকিলিকস বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিতর্কিত ভূমিকাগুলোর ওপর সামান্য আলো ফেলতে পেরেছে মাত্র। ওরা আরও তথ্য প্রকাশ করলে আরও অনেক অপ্রীতিকর সত্য বেরিয়ে আসবে। মার্কিন নেতারা বিশ্বজুড়ে নানা আলোচিত ঘটনায় কিভাবে কতটুকু জড়িত ছিলেন তা জানা যাবে।

এর মানে আবার এটা নয় যে, কূটনীতিকরা রাতারাতি বদলে যাবেন। তবে মার্কিন কূটনীতির ধারাটা বদলে যেতে পারে। ডিজিটাল তথ্যপ্রবাহের এ যুগে কোন কিছুই জনগণের চোখের আড়ালে রাখা সম্্‌ভব নয়। হয়তো আরও দৃঢ় নেটওয়ার্ক দিয়ে তথ্য ফাঁসের ঘটনা বন্ধ করার চেষ্টা হবে। আইনি কাঠামোগুলোও জোরদার করা হবে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে এখন তাদের পররাষ্ট্রনীতি চালাচ্ছে- সেটা কি বদলে যাবে?

আরব নিউজ পত্রিকা থেকে ভাষান্তরঃ ফারহানা মিলি

ওসামা আল শরীফঃ জর্ডানের প্রবীণ সাংবাদিক ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার
Prosecuting WikiLeaks For Publishing Documents Would Raise Serious Constitutional Concerns, Says ACLU

আমাদের সময়, আলোচনা, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, জনকন্ঠ, ডেসটিনি, দিগন্ত, দিনের শেষে, নয়া দিগন্ত, প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ভোরের কাগজ, মানবজমিন, মুক্তমঞ্চ, যায় যায় দিন, যায়যায়দিন, যুগান্তর, সংগ্রাম, সংবাদ,চ্যানেল আই, বাঙ্গালী, বাংলা ভিশন, এনটিভি,এটিএন বাংলা, আরটিভি, দেশ টিভি, বৈশাখী টিভি, একুশে টিভি, প্রবাস, প্রবাসী, ঠিকানা, জাহান হাসান, বাংলা, বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস, লিটল বাংলাদেশ, ইউএসএ, আমেরিকা, অর্থনীতি, প্রেসিডেন্ট ওবামা,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,অর্থ, বাণিজ্য, শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, রাজাকার, আল বদর, সুখ, টেলিভিশন, বসন্ত উৎসব, Jahan, Hassan, jahanhassan, Ekush, bangla, desh, Share, Market, nrb, non resident, los angeles, new york, ekush tube, ekush.info,

দ্য ইকনোমিস্টের দৃষ্টিতে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতি


দ্য ইকনোমিস্টের দৃষ্টিতে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতি
Bangladesh
Politics of hate
An ancient vendetta continues to eat away at public life << Original Link

আন্তর্জাতিক প্রভাবশালী সাময়িকী দ্য ইকনোমিস্টের ২০ নভেম্বর সংখ্যায় বাংলাদেশের বৈরিতার রাজনীতি নিয়ে প্রকাশিত বিশ্লেষণধর্মী নিবন্ধটির অনুবাদ

Hartal

Hartal

সেনাবাহিনীর দুর্যোগময় অন্তর্বর্তীকালীন ব্যর্থ শাসন ও দেশের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক শাসকপরিবারের নেতারা জেল থেকে মুক্ত হওয়ার দুই বছর পর বাংলাদেশ পুনরায় ঘৃণা ও সংঘাতের রাজনীতির আবর্তে ঘূর্ণায়মান। এর জন্য মূলত দুই নেতার একজন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অন্যজন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত প্রতিহিংসাই দায়ী।

বেগম জিয়া ১৩ নভেম্বর ঢাকায় ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় যে বাড়িতে প্রায় ৩২ বছর ধরে বাস করে আসছিলেন তা থেকে উচ্ছেদ হন। এ পদক্ষেপ একটি হরতালের জন্ম দেয়। এটা ছিল বেগম জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিরোধী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ডাকা প্রতিবাদের রূপ। এতে তার বিএনপি ও শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগের সমর্থকদের মধ্যে সহিংসতার ঘটনা ঘটে। দেশটির তৃতীয় রাজনৈতিক শক্তি সেনাবাহিনী হাইকোর্টের উচ্ছেদ আদেশ কার্যকরে সহায়তা করে। বেগম জিয়ার বাড়ির চারপাশের বিশাল এলাকা নির্বাচনে তার দল আওয়ামী লীগ ক্ষমতা গ্রহণের পর পর গত বছরের প্রথম দিকে (বিডিআর) বিদ্রোহে নিহত ৫৭ জন সামরিক কর্মকর্তার পরিবারের আবাসনের জন্য বরাদ্দের ঘোষণা দেন শেখ হাসিনা এবং এটি তার একটি কূটচাল।

উচ্ছেদ কার্যক্রম হচ্ছে বিএনপির মেরুদন্ড ভেঙে দেওয়ার জন্য (আওয়ামী) লীগের মিশনের অংশ। এটা হচ্ছে বেগম জিয়ার মরহুম স্বামী ও ১৯৭১ সালে পশ্চিম পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের নায়ক জেনারেল জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠিত বংশানুক্রমিক রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ইতিহাস থেকে মুছে দেওয়ার আবিষ্টতাজাত।

ফেব্রুয়ারিতে সরকার ঢাকার জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম বদলে একজন শ্রদ্ধেয় সুফিসাধকের নামে রাখে। (সরকার) ১৯৭২ সালের সংবিধান ‘পুনর্মুদ্রণের’ সিদ্ধান্তও নিয়েছে জুলাইয়ে সুপ্রিম কোর্টের একটি যুগসন্ধিক্ষণমূলক রুলিংয়ের আলোকে, যাতে অন্যান্য নানা বিষয়ের সঙ্গে ১৯৭৫ সালে শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকান্ডের পর জেনারেল জিয়াসহ সব সামরিক শাসনকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়। এদিকে অক্টোবরে একটি আদালত বেগম জিয়ার ছোট ছেলের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে।

সেনাসমর্থিত অন্তর্বর্তীকালীন শাসনের সময় বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা চারটি দুর্নীতি মামলা রয়েছে। অন্যদিকে একই সময়ে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের করা ১৩টি দুর্নীতি মামলা বর্তমান সরকারের আমলে তুলে নেওয়া হয়েছে। এমনকি সাম্প্রতিক এ আক্রমণের আগ থেকেই বিএনপি ধুকে ধুকে চলছিল। ৩০০ আসনের জাতীয় সংসদে দলটির মাত্র ৩০টি আসন রয়েছে। তারা এই জাতীয় সংসদও বয়কট করে চলছে। এটা এখন বিভক্ত। বেগম জিয়ার পক্ষে এখন সংখ্যালঘু সংখ্যার সমর্থন রয়েছে। এদিকে বিএনপির প্রধান সহযোগী বাংলাদেশের বৃহত্তম ইসলামি দল জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা জেলে রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে রয়েছে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের সময়কালের অপরাধের অভিযোগ এবং তারা এখন সম্ভাব্য শাস্তির সামনে। সাবেক একজন প্রধানমন্ত্রী এবং বেগম জিয়ার কৌঁসুলি মওদুদ আহমদ বলেন, এ জোট বিএনপির সুনাম, বিশেষ করে আন্তর্জাতিকভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে। কিন্তু তার পরও বিএনপির প্রয়োজন রয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী সমর্থনের।

economist.com

economist.com

বেগম জিয়ার সামনে একমাত্র আশা যে দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, বিদ্যুৎ সংকট এবং শেখ হাসিনার সরকারের সর্বগ্রাসী পুঁজিবাদী শাসন যা বেগম জিয়ার শাসনামলও (২০০১-০৬) ছাড়িয়ে গেছে তাতে জনগণ বীতশ্রদ্ধ ও হতাশ। সরকারের প্রতি জনগণের যে নির্ভরতা ছিল তাতে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। বেগম জিয়া মনে করছেন, একসময় গণজোয়ার তার বড় ছেলে ও সম্ভাব্য উত্তরাধিকারী তারেক রহমান (যিনি এখন ব্রিটেনে নির্বাসনে রয়েছেন) এর পক্ষে ধাবিত হবে। যদিও তারেক রহমান সেনা হেফাজতে থাকাকালে ভাঙা মেরুদন্ড নিয়ে ২০০৮ সালে দেশত্যাগ করেন এবং তিনি বেগম জিয়ার শাসনামলের দুর্নীতির প্রতীক। এমনকি তিনি বিএনপি নেতাদেরও অনেকেরই অপছন্দের মানুষ।

ইতোমধ্যে শেখ হাসিনার প্রতিহিংসা ভারতীয় সরকারের সমর্থন লাভ করেছে। (এই সরকারের আমলে) বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। বেগম জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের শাসনের সমাপ্তি, ভারতের চোখে তার জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত। ভারত মনে করে, তার পরিবার ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অনধিকার হস্তক্ষেপ করে চলেছে। এই মাসে তারেক রহমানের ডান হাত বলে কথিত এক ব্যক্তি তদন্তকারীদের বলেছেন, ঢাকায় পাকিস্তানি দূতাবাস ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অসমিয়া জাতিসত্তার জন্য স্বাধীনতার লক্ষ্যে যুদ্ধরত সশস্ত্র গ্রুপ ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অব অসম (উলফা) বিএনপি (এ ক্ষেত্রে তারেক রহমান) ও তাদের সহযোগী বাংলাদেশী অদৃশ্য এক গোষ্ঠীকে এক কোটি ডলার প্রদান করেছে ভারতীয় সশস্ত্র গ্রুপের জন্য ১০ ট্রাক অস্ত্র গোপনে পাচার করতে।

100 injured in hartal clashes

100 injured in hartal clashes

পশ্চিমা সরকারগুলোও তারেক রহমানের ফিরে আসার বিরোধিতা করে। তারা সূক্ষ্ম ঘোমটায় টানা ২০০৭ সালের জানুয়ারির সেনা অভ্যুত্থানকে (যা বিএনপির নির্বাচনী ফলাফল ছিনিয়ে নেওয়া প্রতিহত করে বলে তারা মনে করে) সমর্থন করে। এই অভ্যুত্থান সাবেক বিএনপি সরকারকে ঘিরে যে ইসলামিক চরমপন্থী ছোট ছোট গ্রুপ গড়ে উঠেছিল তাদের ওপরও আক্রমণ করে। আওয়ামী লীগের নীতির কেন্দ্রীয় কৌশল হচ্ছে এই আক্রমণ চলমান রাখা।

সরকারের জনপ্রিয়তা কমতে থাকা সত্ত্বেও শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠজনেরা খালেদা জিয়ার ব্যাপারে নমনীয় নন যা বেগম জিয়াকে হ্রস্ব করে। এমন একটি পরিস্থিতিতে প্রায় চার দশকের পুরনো ব্যক্তিগত আক্রোশের কারণে সৃষ্ট বিভেদের রাজনীতিতে (আওয়ামী) লীগ কী করে নিজেকে সংশ্লিষ্ট রাখতে পারে সেটাই দেখার বিষয়। এখন তাদের সময় এসেছে শাসনকাজে মন দেওয়ার। [সাপ্তাহিক বুধবারে প্রকাশিত]

আমাদের সময়, আলোচনা, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, জনকন্ঠ, ডেসটিনি, দিগন্ত, দিনের শেষে, নয়া দিগন্ত, প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ভোরের কাগজ, মানবজমিন, মুক্তমঞ্চ, যায় যায় দিন, যায়যায়দিন, যুগান্তর, সংগ্রাম, সংবাদ,চ্যানেল আই, বাঙ্গালী, বাংলা ভিশন, এনটিভি,এটিএন বাংলা, আরটিভি, দেশ টিভি, বৈশাখী টিভি, একুশে টিভি, প্রবাস, প্রবাসী, ঠিকানা, জাহান হাসান, বাংলা, বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস, লিটল বাংলাদেশ, ইউএসএ, আমেরিকা, অর্থনীতি, প্রেসিডেন্ট ওবামা,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,অর্থ, বাণিজ্য, শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, রাজাকার, আল বদর, সুখ, টেলিভিশন, বসন্ত উৎসব, Jahan, Hassan, jahanhassan, Ekush, bangla, desh, Share, Market, nrb, non resident, los angeles, new york, ekush tube, ekush.info,

বাপা-বেন সম্মেলনের উদ্দেশ্য হচ্ছে বাংলাদেশের নগরায়ন নীতি প্রণয়নে স্ববাসী ও প্রবাসী নাগরিকদের অংশগ্রহণকে নিশ্চিত করা। বর্তমানে শুধুমাত্র টেকনোক্র্যাট ও আমলারাই জনসাধারণের দৃষ্টির অন্তরালে ও বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী মহলের চাপ দ্বারা প্রভাবান্বিত হয়ে এই সমস্ত নীতি প্রণয়ন করে থাকেন। নিউ ইয়র্কে নগরায়ন, যানজট ও পরিবেশের ওপর বেনের সেমিনার


নিউ ইয়র্কে নগরায়ন, যানজট ও পরিবেশের ওপর বেনের সেমিনার
পড়শী প্রতিনিধি

সেমিনারের প্রথম আলোচক ছিলেন রাজিয়া নাজমি, যিনি তার সাও পাওলো শহরের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন

সেমিনারের প্রথম আলোচক ছিলেন রাজিয়া নাজমি, যিনি তার সাও পাওলো শহরের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন

গত ১০ই অক্টোবর, ২০১০ বেন (বাংলাদেশ এনভায়রনমেন্ট নেটয়ার্ক) নিউ ইয়র্ক, নিউ জার্সি, ও কানেকটিকাট শাখার উদ্যোগে “নগরায়ন, যান-জট ও পরিবেশ” শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। বেনের এই তিন-রাজ্য শাখার সমন্বয়কারী তওফিক চৌধুরী সভাটি শুরু করেন ও বেনের বিশ্ব সমন্বয়কারী ড. নজরুল ইসলামকে সভাপতিত্ব করতে আহ্ববান জানান। ড. ইসলাম বলেন যে নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারটি বেন ও বাপা কর্তৃক আয়োজিত আগামী ৮-ই জানুয়ারী , ২০১১ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য “নগরায়ন, যানজট ও পরিবেশ” শীর্ষক সম্মেলনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আয়োজিত হয়েছে। ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য দুটি। প্রথমটি হচ্ছে যানজট ও নগরায়নের অন্যান্য সমস্যাকে বাংলাদেশের জাতীয় উন্নয়ন কৌশলের বিভিন্ন অনভিপ্রেত বৈশিষ্টের প্রেক্ষাপটে বিচার করে একটি সামগ্রিক ও সুষম নগরায়ন নীতি প্রণয়ন করা। এ প্রসংগে তিনি বলেন, যানজট নিরসনে এখন পর্যন্ত যে সব পদক্ষেপ গ্রহণ অথবা গ্রহণের চিন্তা করা হয়েছে, তাদের দুটি ভাগে ভাগ করা যায়। প্রথমটি হচ্ছে “সাময়িক উপশম” মূলক বিভিন্ন ব্যবস্থা,যেমন ট্র্যাফিক নীতির পরিবর্তন, ইত্যাদি। অন্যটি হচ্ছে উড়াল-সড়ক বা পাতাল রেল, ইত্যাদি বিভিন্ন নতুন অবকাঠামোর নির্মাণ। এই উভয়বিধ পদক্ষেপই হয়তো প্রয়োজন, যদিও অবকাঠামো নির্মাণমূলক প্রকল্পগুলির যথাযথ নিরীক্ষার প্রয়োজন। কিন্তু বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতার আলোকে স্পষ্ট যে, দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন কৌশলের পরিবর্তন না হলে শুধু এই দুই ধরণের পদক্ষেপ দ্বারা যানজট সমস্যার স্থায়ী ও প্রকৃত সমাধান অর্জিত হবে না।

ড. ইসলাম জানা যে, জানুয়ারীতে অনুষ্ঠিতব্য বাপা-বেন সম্মেলনের দ্বিতীয় উদ্দেশ্য হচ্ছে বাংলাদেশের নগরায়ন নীতি প্রণয়নে স্ববাসী ও প্রবাসী নাগরিকদের অংশগ্রহণকে নিশ্চিত করা। বর্তমানে শুধুমাত্র টেকনোক্র্যাট ও আমলারাই জনসাধারণের দৃষ্টির অন্তরালে ও বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী মহলের চাপ দ্বারা প্রভাবান্বিত হয়ে এই সমস্ত নীতি প্রণয়ন করে থাকেন। ড. ইসলাম প্রবাসীদেরকে এই সম্মেলনের সুযোগ নিয়ে বাংলাদেশের নগরায়ন কৌশল নীতি প্রণয়নে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করার জন্য আহ্ববান জানান।

নগরায়ন, যান-জট ও পরিবেশ” শীর্ষক একটি সেমিনার

নগরায়ন, যান-জট ও পরিবেশ” শীর্ষক একটি সেমিনারে অতিথিবৃন্দ

সেমিনারের প্রথম আলোচক ছিলেন রাজিয়া নাজমি, যিনি তার সাও পাওলো শহরের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন। সাও পাওলো শহর মেক্সিকো সিটির উদাহরণ অনুযায়ী একটা চক্রাকার ব্যবস্থার প্রবর্তন করে যার অধীনে “রাশ আওয়ারের” সময় গাড়ির লাইসেন্স নম্বর অনুযায়ী শহরের কিছু অংশে গাড়ির গতিবিধি নিয়ন্ত্রিত হয়। ১৯৯৭ সালে প্রবর্তিত এই পদ্ধতি শুরুতে শহরের যানজট ১৮% কমিয়ে দেয়। সাথে সাথে সাও পাওলো সাইকেল ট্রাফিকের জন্য অবকাঠামো নির্মান শুরু করে। রাজিয়া নাজমি বলেন, গণ-পরিবহন ব্যবস্থা সৃষ্টির পাশাপাশি ঢাকায় হাঁটার জন্য ভাল ফুটপাথ, সাইকেলের জন্য পথ ও বিশেষ রিক্সা এলাকা সৃষ্টির প্রয়োজন, এবং এই কাজটা সাধারণ নাগরিকদের সহযোগিতায় সরকার করতে পারে।

পরবর্তী আলোচক ছিলেন ড. আদনান মোর্শেদ যিনি আন্তর্জাতিক নগরায়ন অভিজ্ঞতার আলোকে ঢাকা শহরের সমস্যাগুলি তুলে ধরেন। তিনি বলেন সফল নগরায়ন তখনই সম্ভব যখন বিভিন্ন ধরণের পরিবহন ব্যবস্থার প্রবর্তন করা হয়। বাংলাদেশ নগরায়ন সমস্যার এই সন্ধিক্ষণকে ব্যবহার করে একটা দক্ষ, সুষম ও উপযুক্ত গণ-পরিবহন ব্যবস্থার প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে পারে। ফুটপাথ, সাইকেল পথ ও পানি পথকে সর্বোচ্চ ও উপযুক্তভাবে ব্যবহার করে নগরায়নের সুন্দর অগ্রগতি সম্ভব। তিনি জানান যে, সফল নগরায়নের জন্য ছয়টি বিষয়ের সম্মিলন প্রয়োজন। ড. মোর্শেদ তাঁর যুক্তি শিক্ষণীয় ও চমকপ্রদ স্লাইডের মাধ্যমে উপস্থাপিত করেন।

প্রফেসর রওনক জাহান বলেন, উন্নত নগরায়নের প্রকল্পগুলিকে স্বার্থান্বেষী মহলের মোকাবেলা করতে হবে, সেইজন্য এই সব প্রকল্পের গ্রহণ ও বাস্তবায়ন সহজ হবে না।

প্রফেসর রেহমান সোবহানও সঠিক নগরায়ন পদ্ধতির একটা মূল সমস্যা হিসেবে রাজনৈতিক অর্থনীতিকে চিহ্নিত করেন। তিনি বলেন, এই দ্বন্দ্বের নিরসন না হলে সমস্যা থেকেই যাবে। বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্পের প্রণয়ন, বাস্তবায়ন ও ব্যবহারে যেখানে দশ থেকে বারো বছরের প্রয়োজন, সেখানে সরকারের আয়ু পাঁচ বছর। সময়ের এই অমিল সরকারকে নতুন কাজে হাত দিতে উৎসাহিত করে না। জমির উচ্চ মূল্যও বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের পথে একটি বাধা হিসেবে কাজ করে। তিনি বলেন যে সমস্ত অবকাঠামোগত প্রকল্প নিয়ে এখান ভাবা হচ্ছে সেগুলো নিয়ে বিশ/পঁচিশ বছর আগে চিন্তা করা উচিত ছিল। দীর্ঘ-মেয়াদী প্রকল্পের বাস্তবায়নের সাথে সাথে দ্রুত বাস্তবায়িত করা যায় সেরকম কাজগুলোও চলতে পারে। বাপা-বেন নগরায়ন নিয়ে যে সম্মেলনের আয়োজন করেছে তাতে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন ও সম্মেলনের সাফল্য কামনা করেন।

ঢাকা শহরের যানজট

ঢাকা শহরের যানজট

অতিথি ও আলোচকদের বক্তব্যের পর উপস্থিত সবাই উৎসাহের সঙ্গে উন্মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।

সেমিনারে একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও চিত্রের জন্য নীচের You-Tube ক্লিপটি দেখুনঃআমাদের সময়, আলোচনা, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, জনকন্ঠ, ডেসটিনি, দিগন্ত, দিনের শেষে, নয়া দিগন্ত, প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ভোরের
কাগজ, মানবজমিন, মুক্তমঞ্চ, যায় যায় দিন, যায়যায়দিন, যুগান্তর, সংগ্রাম, সংবাদ,চ্যানেল আই, বাঙ্গালী, বাংলা ভিশন, এনটিভি,এটিএন বাংলা, আরটিভি, দেশ টিভি, বৈশাখী টিভি, একুশে টিভি, প্রবাস, প্রবাসী, ঠিকানা, জাহান হাসান, বাংলা, বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস, লিটল বাংলাদেশ, ইউএসএ, আমেরিকা, অর্থনীতি, প্রেসিডেন্ট ওবামা,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,অর্থ, বাণিজ্য, শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, রাজাকার, আল বদর, Jahan, Hassan, Ekush, bangla, desh, Share, Market, nrb, non resident, los angeles, new york, ekush tube, ekush.info,

প্রবাসীদের প্রধান ঈদ আনন্দ দেশে প্রিয়জনদের সাথে কথা বলা: ঈদের দিন সাড়ে ১০ কোটি মিনিট কল এসেছে বিদেশ থেকে


ঈদের দিন সাড়ে ১০ কোটি মিনিট কল এসেছে বিদেশ থেকে
ফিরোজ মান্না ॥

BTRC

BTRC

বৈধ পথে আন্তর্জাতিক টেলিফোন কল রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে। ঈদের দিন প্রায় সাড়ে ১০ কোটি মিনিট কল দেশের বাইরে থেকে এসেছে। এই পরিমাণ কল এর আগে কখন হয়নি। বিটিআরসি অবৈধ ভিওআইপি বন্ধের বিরম্নদ্ধে একের পর এক অভিযান পরিচালনার কারণে আনত্মর্জাতিক কল সংখ্যা বাড়ছে। অবৈধ ভিওআইপি বন্ধ করতে পারলে বৈধ পথে কলের সংখ্যা দ্বিগুণ হবে।

বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব) জিয়া আহমেদ জনকণ্ঠকে জানান, মানুষ এখন আগের চেয়ে অনেক সচেতন হয়েছে। তারা চায় না অবৈধ পথে টেলিফোন কল করতে। অবৈধ ভিওআইপি অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করার কারণে কল সংখ্যা রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে। অবৈধ কল বন্ধ করার জন্য বিটিআরসি ‘সিম ডেকেটশন টুল’ স্থাপন করে মোবাইল বা পিএসটিএন নম্বর শনাক্ত করা হয়। যে সব নম্বর থেকে অবৈধ কল আসছে সেগুলো সঙ্গে সঙ্গে বস্নক করে দেয়া হচ্ছে। আরও কিছু ব্যবস্থা নেয়ার ফলে বৈধ পথে আনত্মর্জাতিক কল দিন দিন বেড়েই চলেছে। বিটিআরসির চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব নেয়ার সময় প্রতিদিন ২ কোটি মিনিট কল বৈধ পথে আসত। সিংহভাগ কল চলে যেত অবৈধ পথে। এখন প্রতিদিন গড়ে ৫ থেকে ৬ কোটি মিনিট কল বৈধ পথে দেশে আসছে। এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব পাচ্ছে। এবার ঈদের দিন বৈধ পথে ১০ কোটি ৩৪ লাখ ৮২ হাজার ২৫৬ মিনিট কল দেশে প্রবেশ করেছে। এটা বিটিআরসির ইতিহাসে রেকর্ড পরিমাণ কল। ঈদের আগের দিন কল এসেছে ৭ কোটি ৭৪ লাখ ২ হাজার ৫২১ মিনিট। ঈদের পরের দিন কলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি ৫১ লাখ ২ হাজার ১৭৫ মিনিট। বিটিআরসি অবৈধ ভিওআইপি বন্ধ করার জন্য ১৪টি আইএসপি, পিএসটিএন ও ভিস্যাট লাইসেন্স বাতিল করার পর থেকেই আনত্মর্জাতিক কল বাড়তে শুরম্ন করেছে। অবৈধ ভিওআইপি পুরোপুরি বন্ধ করতে পারলে বৈধ পথে আনত্মর্জাতিক কলের পরিমাণ প্রতিদিন ১৫ থেকে ১৬ কোটি মিনিটে উন্নতি হতে পারে। আমরা বৈধ কল বাড়াতে নানা পদৰেপ নিয়েছি।

Radio Link

Radio Link

জানা গেছে, অবৈধ ভিওআইপি (ভয়েস ওভার ইন্টারনেট প্রটোকল) কল বন্ধ করতে সর্বোচ্চ পদৰেপ হিসেবে সরকার টেলিযোগাযোগের বিভিন্ন খাতে লাইসেন্স বৃদ্ধির চিনত্মা ভাবনা করছে। ভিওআইপি একটি প্রযুক্তি এবং সেটিকে মোকাবেলা করতে হবে প্রযুক্তি দিয়ে। লাইসেন্স বৃদ্ধি করে এর সমাধান হবে না বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। অবৈধ কল যাচাইয়ের জন্য ডিপ প্যাকেট ইন্সপেকশন (ডিপিআই) নামে একটি যন্ত্র আছে। যেসব প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের ব্যান্ডউইথ দেয় সেখানে এটি স্থাপন করা হলেই অবৈধ কল বন্ধ করা সম্ভব। কিন্তু সেটি কার্যকর করতে কর্তৃপৰ তেমন আগ্রহী হচ্ছে না।

সূত্র জানিয়েছে, অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা চলছে অত্যাধুনিক ‘রেডিও লিঙ্ক’ প্রযুক্তির মাধ্যমে। ভারত থেকে ব্যান্ডউইথ কিনে রেডিও লিঙ্কের মাধ্যমে কল আদান-প্রদান করা হচ্ছে। আর এই কাজ হচ্ছে সীমানত্ম এলাকার বহু জেলায়। এমন কি খোদ ঢাকাতেই হাই ফ্রিকোয়েন্সির রেডিও লিঙ্ক ব্যবহার করে অবৈধ ভিওআইপি করা হচ্ছে। বিটিআরসি নানা ব্যবস্থা নেয়ার পরেও অবৈধ ভিওআইপি বন্ধ হয়নি। কিছু ভুয়া বিদেশী টেলিফোন নম্বর ব্যবহার করে এসব কল আদান-প্রদান করার কাজ চলছে। বিটিআরসির পৰে এমন কল আটকানো কোনভাবেই সম্ভব হচ্ছে না। কারণ এসব কল আদান-প্রদানের জন্য দেশীয় যে কোন মোবাইল অপারেটরের সিম কার্ড বা ই-১ ব্যবহার করা হয়। প্রযুক্তিকে ফিল্টার করতে গিয়ে উন্নত প্রযুক্তির কাছে মার খাচ্ছে বিটিআরসি। সরকার হারাচ্ছে বিরাট অঙ্কের রাজস্ব। পিএসটিএন কোম্পানি এবং কিছু আইএসপি বন্ধ করে দিলেই ভিওআইপি হবে এটা ভাবার কোন কারণ নেই। প্রতিদিন প্রযুক্তির উন্নতি ঘটছে। প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধ করতে হলে উন্নত প্রযুক্তির প্রয়োজন রয়েছে।

E1 30 GSM Channel Bank

E1 30 GSM Channel Bank

তথ্য প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারত থেকে ব্যান্ডউইথ কিনে একটা ই-১ (৩০টি টেলিফোন লাইন সংযুক্ত করা যায় এমন যন্ত্র) ভয়েজ কানেকটিভিটি ব্যবহার করে অবৈধ ভিওআইপি ( ভয়েজ ওভার ইন্টারনেট প্রটোকল) হচ্ছে। অথবা বিভিন্ন মোবাইল অপারেটরের সিমও ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব ভিওআইপির বেশির ভাগ ৰেত্র হচ্ছে সীমানত্ম জেলায়। সরকার ভিওআইপি বন্ধ করার জন্য কঠোর অবস্থান নিয়েও অবৈধ ভিওআইপি বন্ধ করতে পারেনি। খোদ বিটিসিএল’র বিরম্নদ্ধে ভিওআইপি করার অভিযোগ রয়েছে। এ থেকে মোবাইল অপারেটররাও বাদ নেই। বিদেশে কল আদান-প্রদান করার সময় দেখা যায় দেশী ফোন কোম্পানিগুলোর নম্বর ভেসে উঠছে। তবে রেডিও লিঙ্ক ব্যবহার করে যে সব কল আদান-প্রদান হচ্ছে সেগুলোতে ভুয়া বিদেশী নম্বর ব্যবহার করা হচ্ছে। যে কোন দেশ থেকে কল এলে টেলিফোন নম্বরের আগে অবশ্যই যোগ চিহ্ন থাকবে। কিন্তু রেডিও লিঙ্ক থেকে আসা বেশির ভাগ কলে যোগ চিহ্ন পাওয়া যাবে না। গ্রাহক মনে করবে যে নম্বর থেকে কল এসেছে সেই নম্বরটি সংশিস্নষ্ট দেশেরই নম্বর। বিটিআরসিকে ফাঁকি দেয়ার জন্য এ ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে অবৈধ ব্যবসায়ীরা। এটি করতে তারা উন্নত মানের সফটওয়ার ব্যবহার করছে। ভারতে যারা ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার তাদের কাছ থেকে ব্যান্ডউইথ কিনছে দেশীয় অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসায়ীরা। ভারত ব্যান্ডউইথ বিক্রি করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছে। তবে বিটিআরসি বলছে, রেডিও লিঙ্ক ব্যবহার করে অবৈধ ভিওআইপি করা অসম্ভব। এটা যারা বলছে তারা এর কোন প্রমাণ দিতে পারেনি। ভারত থেকে এভাবে কেউ ব্যান্ডউইথ কিনতে পারে না। ব্যান্ডউইথ কিনতে হলে লাইসেন্স নিতে হবে। ভারত তথ্য প্রযুক্তির দিক থেকে অনেক এগিয়ে থাকা দেশ হিসাবে এমন কাজ তারা কোনভাবেই করতে পারে না। তাছাড়া ভারতকে এত উদার ভাবার কোন কারণ নেই। ভারতে শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ সংস্থা রয়েছে। এটা ধরা পড়লে জরিমানাসহ লাইসেন্স বাতিল করে দেবে। বিটিআরসি মনে করে অবৈধ ভিওআইপি বন্ধ করতে পারলে বৈধ চ্যানেলে কল বেশি আদান-প্রদান হবে। এতে সরকারের রাজস্ব বাড়বে।

VOIP

VOIP

এদিকে বিডি ডট কমের একজন কর্মকর্তা বলেন, ভিওআইপি কোনভাবেই বন্ধ করা যাবে না। কোন না কোন প্রক্রিয়ায় ভিওআইপি হবেই। ইন্টারনেটকে লং ডিসটেন্স হিসাবে দেখার কিছু নেই। ইন্টারনেট বিশ্বকে হাতের মুঠোয় এনে দিয়েছে। তাই ইন্টারনেট হচ্ছে লোকাল বিষয়। পৃথিবীর যে প্রানত্মেই যাওয়া যাক ইন্টারনেট সকলের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে। বিটিআরসিকে কোন কল অবৈধ আর কোন কল বৈধ এটা ধরার জন্য বসে থাকা বা অভিযান চালাতে হবে না। এখানে কিছু টেকনিক্যাল ব্যবস্থা নিলেই তখন আর অবৈধ বলতে কিছু থাকবে না। তখন বৈধ পথে আনত্মর্জাতিক কলের সংখ্যা এমনিতেই বেড়ে যাবে।আমাদের সময়, আলোচনা, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, জনকন্ঠ, ডেসটিনি, দিগন্ত, দিনের শেষে, নয়া দিগন্ত, প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ভোরের কাগজ, মানবজমিন, মুক্তমঞ্চ, যায় যায় দিন, যায়যায়দিন, যুগান্তর, সংগ্রাম, সংবাদ,চ্যানেল আই, বাঙ্গালী, বাংলা ভিশন, এনটিভি,এটিএন বাংলা, আরটিভি, দেশ টিভি, বৈশাখী টিভি, একুশে টিভি, প্রবাস, প্রবাসী, ঠিকানা, জাহান হাসান, বাংলা, বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস, লিটল বাংলাদেশ, ইউএসএ, আমেরিকা, অর্থনীতি, প্রেসিডেন্ট ওবামা,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,অর্থ, বাণিজ্য, শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, রাজাকার, আল বদর, Jahan, Hassan, Ekush, bangla, desh, Share, Market, nrb, non resident, los angeles, new york, ekush tube, ekush.info,

আমাদের অঙ্গীকার হচ্ছে মার্কিন জনগণের কথা শোনা: পরাজয়ের জন্য আমিই দায়ী :ওবামা ; হাশেম ক্লার্ককে বাংলাদেশের অভিনন্দন


পরাজয়ের জন্য আমিই দায়ী :ওবামা

বারাক ওবামা

বারাক ওবামা


সমকাল ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্রেটিক পার্টির পরাজয়ের জন্য নিজেকেই দায়ী করেছেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তিনি বলেন, ‘অর্থনৈতিক খাতে তেমন অগ্রগতি না ঘটায় ভোটাররা হতাশ হয়ে পড়েছেন। তাই তারা ডেমোক্র্যাটদের প্রত্যাখ্যান করেছেন। আর এজন্য আমিই দায়ী।’ বুধবার হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। খবর এএফপি, বিবিসি অনলাইনের। মধ্যবর্তী নির্বাচনে নিজের দলের ভরাডুবির পর হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সামনে মলিন মুখে হাজির হন বারাক ওবামা। মাত্র দুই বছর আগে রিপাবলিকান প্রার্থী জন ম্যাককেইনকে ধরাশায়ী করে ক্ষমতায় যান ওবামা। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই জনপ্রিয়তায় ধস নামায় বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি তিনি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এক পর্যায়ে বলেন, আমি খুব খারাপ বোধ করছি। একই সঙ্গে স্বীকার করলেন দলের এ অবস্থার জন্য নিজের দায়িত্বের কথা। তবে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে তার সরকার কোনো উন্নতি ঘটাতে পারেনি এমন অভিযোগ মেনে নিতে নারাজ তিনি। তিনি বলেন, অর্থনীতি মন্দা অবস্থা থেকে একটা স্থিতিশীল পর্যায়ে এসেছে। বেকারত্বের হার অনেকটা কমে এসেছে। তবে জনগণ এখনও অর্থনৈতিক অগ্রগতির সুফল পুরোপুরি পাচ্ছে না। অন্যদিকে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর উচ্ছ্বসিত রিপাবলিকানরা ওবামার পরিকল্পনার বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলার কথা বলছেন। মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের পরবর্তী স্পিকার রিপাবলিকান জন বোয়েনার বলেন, এটা খুব স্পষ্ট, মার্কিন জনগণ আরও ছোট, কম ব্যয়ের এবং বেশি জবাবদিহিমূলক সরকার চায়। তিনি বলেন, আমাদের অঙ্গীকার হচ্ছে মার্কিন জনগণের কথা শোনা। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ নির্বাচনের ফল জলবায়ু পরিবর্তন রোধ এবং নিরস্ত্রীকরণে গৃহীত পরিকল্পনাসহ পররাষ্ট্র ও অভ্যন্তরীণ নীতিনির্ধারণে বারাক ওবামার অবস্থানকে বেশ জটিল পরীক্ষার মধ্যে ফেলবে।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে তরুণ ভোটারের সংখ্যা কমেছে বলে জানিয়েছে একটি গবেষণা সংস্থা। তারা বলছে, ২০০৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের তুলনায় এবারের নির্বাচনে তরুণদের ভোট পড়েছে প্রায় ১০ লাখ কম। সেন্টার ফর ইনফরমেশন অ্যান্ড রিসার্চ অন সিভিক লার্নিং অ্যান্ড এনগেজমেন্টের হিসাবে, মঙ্গলবার ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সী তরুণদের প্রতি পাঁচজনের একজন ভোট দিয়েছে। এ বয়সের প্রায় ৯০ লাখ ভোটার ভোট দিয়েছে। অথচ ২০০৬ সালের নির্বাচনে ভোট দিয়েছিল প্রায় এক কোটি তরুণ।
৪৩৫ আসনের প্রতিনিধি পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ২১৮ আসন। রিপাবলিকানরা পেয়েছে ২৩৯টি। ওবামার ডেমোক্র্যাট পার্টি পায় ১৮৬টি আসন। বাকি ১০টির ফল জানা যায়নি। তবে সিনেটে ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে পেরেছে। ১০০ আসনের মধ্যে তাদের আসন এখন ৫২টি। রিপাবলিকানরা পেয়েছে ৪৭টি। একটি আসনের ফল চূড়ান্ত হয়নি।

হাশেম ক্লার্ককে বাংলাদেশের অভিনন্দন

কূটনৈতিক প্রতিবেদক জানান, নির্বাচনে মিশিগান অঙ্গরাজ্য থেকে (মিশিগান কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট-১৩) বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত হেনসেন হাশেম ক্লার্ক প্রতিনিধি পরিষদে নির্বাচিত হওয়ায় তাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন ওয়াশিংটনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আকরামুল কাদের।
বাংলাদেশ সরকার ও যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিদের পক্ষ থেকে অভিনন্দনবার্তায় রাষ্ট্রদূত বলেন, হেনসেন হাশেম ক্লার্কের বিজয় তার প্রতি সাধারণ জনগণের গভীর আস্থার বহিঃপ্রকাশ। আগামী দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নীতি ও কর্মসূচি প্রণয়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে আশা প্রকাশ করেন রাষ্ট্রদূত।