‘আমেরিকার দৃষ্টিতে মিশরে সামরিক অভ্যুত্থান হয়নি’


‘আমেরিকার দৃষ্টিতে মিশরে সামরিক অভ্যুত্থান হয়নি’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মার্কিন প্রশাসন মিশরের নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করার ঘটনাকে ‘সামরিক অভ্যুত্থান’ হিসেবে ঘোষণা করবে না। আমেরিকার সরকারি কর্মকর্তারা এ ঘোষণা দিয়েছেন। কংগ্রেসের উভয় কক্ষের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকে এ ধরনের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা উইলিয়াম বার্নসের বরাত দিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েক জন মার্কিন কর্মকর্তা এএফপিকে জানিয়েছেন।

আমেরিকা থেকে মিশর প্রতিবছর ১৩০ কোটি ডলার সামরিক সহায়তা পেয়ে থাকে। মিশরের প্রেসিডেন্ট মুহাম্মাদ মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর মার্কিন এ সহায়তা স্থগিত হয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছিল। আমেরিকার আইন অনুযায়ী, বিশ্বের যে দেশেই সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সরকার উতখাত করা হবে সে দেশে মার্কিন সামরিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা অবশ্যই স্থাগিত করতে হবে।

তবে, গত ৩ জুলাই মিশরের প্রেসিডেন্ট মুরসিকে সেনাবাহিনী ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয়ার পরও সামরিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা স্থগিত করার ঘোষণা দেয়নি আমেরিকা। মার্কিন সামরিক সহায়তা অব্যাহত রাখতেই মিশরের ঘটনাকে সামরিক অভ্যুত্থান বলতে গড়িমসি করছে ওয়াশিংটন।

এছাড়া, দখলদার ইসরাইলের শীর্ষ পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতারা আমেরিকাকে সামরিক সহায়তা স্থগিত না করার জন্য একের পর এক ফোন করে চলেছেন। ইসরাইলি কর্মকর্তারা আমেরিকাকে বার বার সতর্ক করে বলছেন, মিশরে সামরিক সহায়তা বন্ধ করা হলে ইসরাইলের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়বে।

প্রেস টিভিকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে মার্কিন রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাইকেল বার্নস বলেছেন, মিশরের বর্তমান পরিস্থিতিকে ইসরাইলের স্বার্থ রক্ষার কাজে ব্যবহারের চেষ্টা করছে আমেরিকা। আইআরআইবি

স্বাস্থ্যসহায়ক জীবনযাপন স্মৃতির প্রখরতা বাড়ায়


স্বাস্থ্যসহায়ক জীবনযাপন স্মৃতির প্রখরতা বাড়ায়

স্বাস্থ্যসহায়ক সুষম খাদ্য গ্রহণ ও স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন মানুষের স্মৃতির প্রখরতা বাড়ায় এবং ধরে রাখতে সাহায্য করে। বিশেষ করে প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরো বেশি কার্যকর। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে পরিচালিত এক জরিপ থেকে এ তথ্য জানা গেছে। খবর ইউএসএ টুডের।

ইউসিএলএর গবেষকরা ও গ্যালাপ ১৮ বছরের বেশি বয়সী যুক্তরাষ্ট্রের ১৮ হাজার ৫৫২ জন মানুষের ওপর জরিপটি পরিচালনা করেন। এতে দেখা যায়, যেসব ব্যক্তি স্বাস্থ্যসম্মত খাবার গ্রহণ, ধূমপান বর্জন ও নিয়মিত শরীরচর্চা করেন; তাদের স্মৃতি অন্যদের তুলনায় প্রখর। যাদের স্বাস্থ্যসহায়ক জীবনযাপনের অভ্যাস আছে, তারা অন্যদের তুলনায় ২১ শতাংশ কম স্মৃতি-সংক্রান্ত সমস্যায় পড়েন। জরিপে দেখা যায়, ১৮ থেকে ৩৯ বছর বয়সীদের ১৪ শতাংশ স্মৃতি-সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যায় ভোগেন; যা অপ্রত্যাশিত। কারণ এ বয়সে কারো এমন সমস্যায় পড়ার কথা নয়। এছাড়া ৪০ থেকে ৫৯ বছর বয়সীদের মধ্যে এ হার ২২ শতাংশ এবং ৬০ থেকে ৯৯ বছর বয়সীদের মধ্যে ২৬ শতাংশ।

এ বিষয়ে ইউসিএলএ লংজিবিটি সেন্টারের পরিচালক ও জরিপ কার্যটির প্রধান গ্যারি স্মল বলেন, ‘আমরা ধারণা করেছিলাম, শুধু মধ্যবয়সী ও বেশি বয়স্করাই স্মৃতিসম্পর্কীয় নানা জটিলতায় ভোগেন। কিন্তু কম বয়সী যুবক-যুবতীদের মধ্যেও যে এ সমস্যা থাকতে পারে, তা কখনো ভাবিনি।’ তিনি বলেন, সাধারণভাবে বয়স্কদের স্মৃতির সমস্যার সঙ্গে যুবকদের বেশ পার্থক্য আছে। এক্ষেত্রে রক্তচাপ একটি বড় ভূমিকা রাখে। স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন সব বয়সী মানুষেরই বোধশক্তি ভালো রাখতে সহায়তা করে। তিনি বলেন, যদি যুবক বয়সে কেউ স্মৃতিবিভ্রাটজনিত কোনো সমস্যায় ভোগেন, তাহলে বিলম্ব না করে চিকিত্সকের পরামর্শ নেয়া উচিত।

আমেরিকান সোসাইটি ফর নিউট্রিশনের মুখপাত্র ম্যারি অ্যান জনসন বলেন, স্বাস্থ্যসহায়ক জীবনধারণের পাশাপাশি
উপযুক্ত সুষম খাদ্যগ্রহণে হূিপণ্ড ও রক্ত সঞ্চালনও স্বাভাবিক থাকে। মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রমে যথাযথ রক্ত সঞ্চালন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্রঃ বনিকবার্তা

ইন্টারনেটের আওতায় দেশের মাত্র ৫% মানুষ


ইন্টারনেটের আওতায় দেশের মাত্র ৫% মানুষ

ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যার দিক দিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে ৪৬তম।
মে ১৮, ২০১৩

জেসমিন মলি :
তথ্যপ্রবাহের অবাধ ব্যবহার নিশ্চিত করতে ইন্টারনেটের বিকল্প নেই। অথচ দেশে এর বিপরীত চিত্রই দৃশ্যমান। বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী দেশের ২৭ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। কিন্তু ইন্টারনেট ওয়ার্ল্ড স্ট্যাটাসের চলতি বছরের প্রতিবেদন বলছে, ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে। বাংলাদেশে ইন্টারনেট পেনিট্রেশন বা ঘনত্বের হার ৫ শতাংশ, যা এশিয়ার মোট ইন্টারনেট ব্যবহারকারী সংখ্যার মাত্র দশমিক ৭ শতাংশ। আর ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৩৩ লাখ ৫২ হাজার।
প্রসঙ্গত, সারা বিশ্বে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর তথ্য নিয়ে তথ্যভাণ্ডার তৈরি করে ইন্টারনেট ওয়ার্ল্ড স্ট্যাটাস।
প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ায় ইন্টারনেট ঘনত্বে সবচেয়ে বেশি ভুটানে। দেশটির মোট জনসংখ্যার ২১ শতাংশ ইন্টারনেট ব্যবহার করে আর তাদের ফেসবুক গ্রাহকের সংখ্যা ৪২ হাজার। ভারতে ইন্টারনেট ঘনত্বের হার ১১ দশমিক ৪ শতাংশ এবং ফেসবুক ব্যবহারকারী ৬২ কোটি ৭ লাখ। পাকিস্তানে ইন্টারনেট ঘনত্বের হার ১৫ দশমিক ৩ শতাংশ এবং ফেসবুক গ্রাহক ৭ কোটি ৯৮ লাখ। শ্রীলংকায় ১৫ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধাপ্রাপ্ত আর ফেসবুক গ্রাহক ১ কোটি ৫১ লাখ। নেপালে ৯ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করে আর ফেসবুক গ্রাহক ১৯ লাখ ৪০ হাজার।
ইন্টারনেট ওয়ার্ল্ড স্ট্যাটাসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১২ সালে এশিয়ায় ৪৪ দশমিক ৮ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করে। এ হার ইউরোপে ২১ দশমিক ৫, দক্ষিণ আমেরিকায় ১১ দশমিক ৪, লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে ১০ দশমিক ৪, আফ্রিকায় ৭, মধ্যপ্রাচ্যে ৩ দশমিক ৭ এবং ওশেনিয়ায় ১ শতাংশ। গত বছর পুরো এশিয়ায় ৪৪ দশমিক ৮ শতাংশ গ্রাহক ইন্টারনেট ব্যবহারের আওতায় ছিল, যা মোট জনসংখ্যার ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ। আর বিশ্বের বাকি অংশে ছিল ৫৫ দশমিক ২ শতাংশ, যা মোট জনসংখ্যার ৫৫ দশমিক ২ শতাংশ। এশিয়ায় ইন্টারনেট ব্যবহারের ঘনত্ব উত্সাহব্যঞ্জক হলেও বাংলাদেশে এ চিত্র হতাশাজনকই।
ফেসবুক-সংশ্লিষ্ট নানা পরিসংখ্যান সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সোস্যাল বেকারস বলছে, ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যার দিক দিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে ৪৬তম।
ইন্টারনেট ওয়ার্ল্ড স্ট্যাটাসের প্রতিবেদনের তথ্য ভুল বলে দাবি করে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা শেফায়েত হোসেন জানান, বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী ইন্টারনেট ঘনত্ব ৩ থেকে ২৭ শতাংশে পৌঁছেছে। সে হিসাবে দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারের চিত্র উত্সাহব্যঞ্জক। সারা দেশে অপটিক্যাল ক্যাবল ফাইবার নেটওয়ার্কের আওতায় ও টেলিটকের থ্রিজি পুরোপুরি চালু হলে এ হার আরো বাড়বে।
ঢাকা কমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এমএ হাকিম এ প্রসঙ্গে বণিক বার্তাকে জানান, কোনো দেশের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর ঘনত্ব বাড়াতে হলে সে পরিমাণ অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা থাকতে হয়। কিন্তু দেশে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে পর্যাপ্ত অবকাঠামোর সুযোগ না থাকায় ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়ছে না। এ কারণে সরকারের নিজস্ব অবকাঠামো তৈরির ওপর জোর দিতে হবে।
দেশে ইন্টারনেট ব্যবহার বাড়াতে সরকারি-বেসরকারি নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ওয়াইম্যাক্স, থ্রিজির মতো প্রযুক্তিতে প্রবেশ করেছে গ্রাহক। ইন্টারনেটে কাজের সুযোগ করে নিয়েছেন অনেক ফ্রিল্যান্সার। কিন্তু অতিরিক্ত দাম ও অপর্যাপ্ত গতির কারণে তাদের কাজ ঠিকভাবে করতে পারছেন না। সরকার কয়েক দফা ব্যান্ডউইডথের দাম কমিয়েছে। কিন্তু গ্রাহকপর্যায়ে এর সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারস অ্যাসোসিয়েশন (আইএসপিএবি) অবশ্য বিষয়টি মানতে নারাজ। তাদের মতে, শুরুর সময় বেশি মূল্যে গ্রাহক কম গতির সংযোগ ব্যবহার করত। এখন একই মূল্যে বেশি গতির সংযোগ ব্যবহার করছে। এ কারণে এ অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন আইএসপিএবির সাবেক পরিচালক মাক্তুবুর রহমান।

– বণিক বার্তা

বাংলাদেশের সমাজ ও সংস্কৃতিতে মার্কিনী আধিপত্যের কারণ


বাংলাদেশের সমাজ ও সংস্কৃতিতে মার্কিনী আধিপত্যের কারণ

ডঃ কাজী নাসির উদ্দীন

সম্প্রতি বাংলাদেশের সামাজিক জীবনে মার্কিন সমাজের আচার ব্যবহারের অনুপ্রবেশ বিশেষভাবে লক্ষ্যগোচর হচ্ছে গত কয়েক বছর যাবত অত্যন্ত উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্যে মা দিবস আর ভালোবাসা দিবস উদযাপিত হতে দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশের তরুণ-তরুণীদের মধ্যে মার্কিনী প্রথায় ছেলেবন্ধু (বয়ফ্রেন্ড) ও মেয়েবন্ধু (গার্লফ্রেন্ড) গড়ে উঠছে এই রকম বন্ধুত্বের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার কোন পরিকল্পনা পরিলক্ষিত হচ্ছে না অচিরেই হয়তো শুনতে পাবো যে বিবাহের বন্ধনে আবদ্ধ না হয়েই যুবক-যুবতীরা একই ছাদের নীচে বসবাস করছে ।

দেশে বিবাহ বিচ্ছেদের হিড়িক পড়ে গেছে এবং তরুণ-তরুণীরা বন্ধুত্বের দাবীতে বিবাহপূর্ব দৈহিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়েছে আর একে অপরকে ‘তুই’ বলে সম্বোধন করে অপরিসীম আনন্দ উপভোগ করছে বাংলাদেশের সংস্কৃতিকেও এই মার্কিনী অনুকরণের বন্যা ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে এখন বাংলাদেশের গায়ক-গায়িকাদের গানের সঙ্গে নাচ যোগ করে দিতে হয় অর্থাৎ নেচে নেচে গান না গাইলে সে গান জনপ্রিয় হয় না বসে বসে গান গাওয়াটাতো এখন অতীতের ব্যাপারে পর্যবসিত হয়েছে আমাদের দেশের সংগীত শিল্পীরা চিরকাল গলা আর হৃদয়াবেগের মিশ্রণে মনের আকুলতা প্রকাশ করে এসেছে দেহকে সেখানে টেনে আনার কোন প্রয়োজন দেখা দেয় নি অবশ্য আমি এ ব্যাপারে সচেতন, যে কোন সংগীত চর্চায় গলা ও হৃদয়ের সঙ্গে দৈহিক অঙ্গভঙ্গী ওতপ্রোতভাবে জড়িত হয়ে পড়েছে, যেমন বাউল গান ও লালন গীতি কিনতু নজরুল গীতি, রবীন্দ্র সংগীত ও আধুনিক গান যদি নেচে নেচে গাইতে হয়, তবে কেমন হয় ? পাঠকরাই বিবেচনা করুন এছাড়া দেশের তরুণীরা এখন শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ আর ওড়না ছেড়ে দিয়ে বেপরোয়াভাবে শার্ট আর জিন্স-এর প্যান্ট পরে ঘুরে বেড়াচ্ছে ।

বলা বাহুল্য যে সমাজ ও সংস্কৃতির চিত্র উপরে তুলে ধরা হলো তা হুবহু মার্কিন সমাজ ও সংস্কৃতির অন্ধ অনুকরণ মাত্র এক কথায় বাংলাদেশের সমাজ ও সংস্কৃতিকে সবচেয়ে বেশী প্রভাবিত করতে সক্ষম হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমাজ ও সংস্কৃতি কেন এমন হলো ? পাশ্চাত্যে আরো অনেক দেশতো রয়েছে বাংলাদেশের নাগরিকেরা পাশ্চাত্যের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে ইংল্যান্ড, স্পেন, সুইডেন, নেদারল্যান্ড এবং ফিনল্যান্ড ভ্রমণ করার সুযোগ আমার হয়েছে সেই সমস্ত দেশে বসবাসকারী বাঙালিদের নিজস্ব সংস্কৃতিকে ধরে রাখার প্রাণান্তকর প্রয়াসের সঙ্গে পরিচিত হয়ে আমি মুগ্ধ হয়েছি আশ্চর্য্যরে ব্যাপার ঐ সমস্ত দেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ বাংলাদেশের উপর আধিপত্য বিস্তার করতে সক্ষম হয়নি কেবলমাত্র মার্কিনী সংস্কৃতি গ্রাস করে নিয়েছে বাংলাদেশকে আরো আশ্চর্য্যরে বিষয় এই যে পাশ্চাত্যের ঐ সমস্ত দেশকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংস্কৃতি গ্রাস করে নিতে পারেনি উপরন্তু পাশ্চাত্যের ঐ সমস্ত দেশে আমি মার্কিনী সংস্কৃতির প্রতি চরম বিতৃষ্ণা আর ঘৃণা লক্ষ্য করেছি জিব্রালটার প্রণালী পার হয়ে স্পেনে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে বুঝতে পারলাম স্পেন, ইংল্যান্ড আর নেদারল্যান্ডের অধিবাসীরা আমেরিকানদের রাখাল বালক (Cow Boy)হিসেবে অভিহিত করে অবজ্ঞা ও ঘৃণার চোখে দেখে বলা হয়ে থাকে আমেরিকানরা অসভ্য আর অসংস্কৃত সুতরাং হঠাৎ করে বাংলাদেশের তরুণ-তরুণীদের কাছে আমেরিকার সংস্কৃতি এতো প্রিয় হয়ে গেল কেন যে, এ বিষয়টি নিয়ে একটু চিন্তা-ভাবনার প্রয়োজন রয়েছে বলে আমি মনে করি।

কোন একটি দুর্বল দেশকে যদি কোন একটি সবল দেশ চিরদিনের জন্যে অধীনস্থ করে রাখতে চায় তাহলে দুর্বল দেশটির সভ্যতা ও সংস্কৃতিকে ধ্বংস করে দেয়া হয় বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদ দীর্ঘদিন যাবত পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে নিজেদের উপনিবেশকে বহাল তবিয়তে রাখার জন্য এই ধ্বংস যজ্ঞে আত্মনিয়োগ করেছিলো নিজেদেরকে কিšতু জাগ্রত প্রহরীর মতো সে সমস্ত উপনিবেশের বুদ্ধিজীবি, সমাজ নেতা ও রাজনীতিবিদরা তাদের উন্নত সভ্যতা ও সংস্কৃতির অপলাপ রোধ করতে সক্ষম হয়েছিলো আর তারই ফলশ্রুতিতে সেই সমস্ত দেশের পক্ষে সম্ভব হয়েছিলো তাদের নিজ নিজ দেশের স্বাধীনতা অর্জন করা ।

আমার দৃঢ় বিশ্বাস সাম্রাজ্যবাদ ও উপনিবেশবাদের অবসান আজও ঘটেনি নতুন মুখোশ পরে সাহায্য সহযোগিতার অজুহাতে আর গণতন্ত্রের ধ্বজাধারী হয়ে সাম্রাজ্যবাদীরা দুর্বল দেশগুলোর উপর নিজেদের অধিকার চিরস্থায়ী করার জন্যে তৎপর হয়ে উঠেছে সাম্রাজ্যবাদীরা বুঝতে পেরেছে সৈন্য লেলিয়ে দিয়ে একটি দেশকে দখল করা যায় সাময়িকভাবে কিনতু সে দেশটিকে জয় করা যায় না যতদিন পর্যন্ত না সে দেশের মানুষের আত্মমর্যাদা, গর্ব আর অহংকারকে চূর্ণ করা যায় ততদিন পর্যন্ত সে দেশের মানুষকে বশীভূত করা যায় না একটি জাতির গৌরব, গর্ব আর অহংকারকে ধ্বংস করতে হলে সর্বপ্রথম ধ্বংস করতে হবে সে জাতির সংস্কৃতিকে মহা ধ্বংসযজ্ঞে বর্তমানে আত্মনিয়োগ করেছে সাম্রাজ্যবাদীরা আর এই ধ্বংসযজ্ঞের প্রথম শিকারে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ কেন ? যেহেতু বাংলাদেশ হারিয়েছে তার আত্মমর্যাদা দুর্নীতিতে শীর্ষস্থান দখল করে বাংলাদেশ সকল গৌরবকে দিয়েছে জলাঞ্জলি সাম্রাজ্যবাদীরা বুঝে নিয়েছে বাংলাদেশকে জয় করার এই হচ্ছে মোক্ষম সময় এই পরিস্থিতির হাত থেকে মুক্তি পেতে হলে বাংলদেশকে রুখে দাঁড়াতে হবে যেমনভাবে রুখে দাঁড়িয়েছিলো পৃথিবীর দিকে দিকে আত্মমর্যাদা সম্পন্ন বিভিন্ন জাতি বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদের চক্রান্তের বিরুদ্ধে।

সংস্কৃতি চেতনা যাদের খুব প্রখর তাদের আত্মমর্যাদাবোধ অত্যন্ত বলিষ্ঠ এই রকম আত্মমর্যাদা সম্পন্ন জাতিকে অধীনস্থ করা কঠিন আমার নিজের দেশবাসীরাই যদি অতি আগ্রহের সঙ্গে সাম্রাজ্যবাদীর অপসংস্কৃতির অনুকরণে উৎসাহী হয়, তাহলে সাম্রাজ্যবাদীকে দোষ দিয়ে লাভ কি ? সাম্রাজ্যবাদীদের উদ্দেশ্যটাতো দেশবাসীর সহায়তায় সহজেই হাসিল হয়ে যায় কিনতু কেন যে বাংলাদেশের নতুন প্রজন্ম এই মার্কিনী সংস্কৃতির অনুপ্রবেশকে রুখে না দাঁড়িয়ে বরং স্বাগত জানালো সে বিষয়টা এবার একটু তলিয়ে দেখার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছি।

মনস্তত্ত্ব শাস্ত্রে বিপরীত আকর্ষণ (Opposite attracts) করে বলে একটা তত্ত্ব আছে এর সারমর্ম এই যে তরুণ-তরুণীরা তার সম্পূর্ণ বিপরীতের প্রতি আকর্ষণ অনুভব করে বাংলাদেশ আমেরিকার সম্পূর্ণ বিপরীত ক্রান্তিতে অবস্থান করছে অর্থাৎ আমেরিকায় যখন দিন বাংলাদেশে তখন রাত আমেরিকা পৃথিবীর একটি মহাপরাক্রমশালী দেশ বাংলাদেশ পৃথিবীর একটি অন্যতম দুর্বল দেশ আমেরিকা পৃথিবীর শীর্ষ স্থানীয় ধনী দেশ সমূহের তালিকাভুক্ত আর বাংলাদেশ পৃথিবীর দরিদ্রতম দেশ বিপরীত বটে, আর সে কারণেই বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের আমেরিকার সংস্কৃতির প্রতি আকর্ষণ সৃষ্টি হওয়া মনস্তত্ত্ব শাস্ত্রের তত্ত্ব অনুযায়ী খুবই স্বাভাবিক কিনতু এই স্বাভাবিক মানসিক অবস্থাটাকে দুর্বল পক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে যে তত্ত্ব প্রকাশ পায় তার নাম হলো হীনমন্যতা বোধ ইংরেজীতে যাকে বলে Inferiority complex এই হীনমন্যতা বোধের শিকারে পরিণত হয়ে যারা নিজেদের ঐতিহ্যবাহী মহান সভ্যতা ও সংস্কৃতির উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করে তারা শুধু নিজেদেরকেই অপমানিত ও লাঞ্ছিত করে না, তারা সমগ্র জাতিকে দেউলিয়া করে দেশের স্বাধীনতাকে করে বিপন্ন। আমাদের দেশের তরুণ-তরুণীদের মধ্যে এই হীনমন্যতা বোধের জন্মলাভের জন্য ওরা নিজেরাও যথার্থভাবে দায়ী নয় আমাদের দেশের তথাকথিত বুদ্ধিজীবি, সমাজ নেতা ও রাজনীতিবিদরা এই পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্যে দায়ী তরুণ-তরুণীদের মধ্যে নিজস্ব সংস্কৃতি চেতনা, দেশাত্মবোধ এবং দেশপ্রেম গড়ে তুলতে বুদ্ধিজীবি, সমাজ নেতা ও রাজনীতিবিদরা চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন আমাদের দেশের দুর্নীতিপরায়ণ, স্বার্থান্বেষী কর্ণধাররা তাদের নিজেদের আখের গোছানোর কাজে এবং বিদেশী প্রভুদের পদলেহনে এতই ব্যস্ত ছিলেন যে তারা আমাদের নতুন প্রজন্মের সামনে দেশাত্মবোধের কোন উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে সক্ষম হননি ।

বুদ্ধিজীবিদের মধ্যে অনেকে আবার মার্কিন সংস্কৃতির অনুকরণের স্বপক্ষে তাদের মনের মধ্যে অনেক যুক্তি দাঁড় করিয়েছেন তারা বলেন, বিদেশী সংস্কৃতিতে যদি কোন ভালো জিনিস থাকে তবে তাকে গ্রহণ করতে দোষ কি ? এই প্রশ্নের জবাব হচ্ছে এই যে সংস্কৃতির সঙ্গে ভালো মন্দের কোন সম্পর্ক নেই একটি দেশের সংস্কৃতি বলতে সেই দেশের মানুষের সামগ্রিক জীবন যাপন পদ্ধতিকে বুঝায় আমাদের সংস্কৃতির যে বিষয়টি আমরা সবচেয়ে ভালো মনে করি আমেরিকানরাতো সেটাকে গ্রহণ করে নিচ্ছে না তাহলে ওদের ভালো জিনিসটা আমাদের গ্রহণ করতে হবে কেন ? তাছাড়া আপাততঃ যাকে ভালো মনে হয় সংস্কৃতির অঙ্গনে তার উৎপত্তি ও বিকাশের কারণটা খুঁজে দেখার প্রয়োজন রয়েছে।

উদাহরণস্বরূপ মার্কিন মুল্লুকে মা দিবস ও বাবা দিবসের উদ্ভবের কারণ বিশ্লেষণ করা যাক আমেরিকায় সন্তান-সন্ততিরা তাদের ষোল (১৬) বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই গৃহ ত্যাগ করে তারপর কালে ভদ্রে কখনো সখনো মা-বাবার সঙ্গে তাদের সাক্ষাৎ হয় সেই দেখা সাক্ষাতের জন্যে আবার আগে থেকেই দিনক্ষণ নির্ধারণ (appointment) করে নিতে হয় তাছাড়া আমেরিকার ছেলেমেয়েদের মা-বাবারা বিবাহ বিচ্ছেদের কারণে এক সঙ্গে এক বাড়িতে বসবাস করে না এই সমস্ত অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে নিজেদেরকে অপরাধবোধ থেকে মুক্ত করার জন্যে বৎসরে একবার মা-বাবার খোঁজ খবর নেওয়া জরুরী হয়ে পড়ে সুতরাং আপাততঃ এটাকে একটা ভালো জিনিস মনে হলেও এর মূলে ভালো কিছুই নেই আমাদের সংস্কৃতিতে প্রতিটি দিনই মা-বাবার দিন প্রতিটি মূহুর্তে আমরা মা-বাবার সেবা করতে পারলে নিজেদেরকে ধন্য মনে করি এমন কি প্রাপ্ত বয়স্ক অবস্থায় নিজেদের ঘর সংসার নিয়ে যখন আমরা আলাদাভাবে বসবাস করি তখনও মা-বাবা বেঁচে থাকলে আমরা যখন তখন মা-বাবার কাছে ছুটে যাই মা-বাবার কাছ থেকে আমাদের কোন অনুমতি নিতে হয় না আমাদেরকে একবার মায়ের বাড়ি আর একবার বাপের বাড়ি দৌড়াতে হয় না আমরা মা-বাবাকে এক সঙ্গে পাই সব সময় সুতরাং ঘটা করে আমেরিকার মতো বৎসরে একবার মা আর একবার বাবার সেবা করাটা বাংলাদেশের সভ্যতা ও সমাজের পরিপ্রেক্ষিতে যে কতো অবাস্তব তা সহজেই বোধগম্য ।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানোর আগে আমি দীর্ঘ ৩৪ বছর বাংলাদেশে বসবাস করি এখন আর ৩০ বছর যাবত আমি আমেরিকায় বসবাস করছি আমেরিকায় আসার পর এদেশের সংস্কৃতির তুলনায় আমাদের দেশের সংস্কৃতি যে কতো উন্নত, পরিশীলিত আর আমরা যে কি এক মহান সভ্যতার উত্তরাধিকারী তা আমার চোখে পড়ে দেশ থেকে বের না হলে দেশকে চেনা যায় না এটা শুধু আমার একার অভিমত নয় আমার মতো অনেকেই যারা কিছুদিন মার্কিন মুল্লুকে বসবাস করেছেন তারা সবাই মার্কিনী সংস্কৃতির অন্তঃসারশূন্যতা সম্যক উপলব্ধি করতে পেরেছেন আর তাদের নিজের বাংলাদেশে এই অপসংস্কৃতির অন্ধ অনুকরণে দুঃখ প্রকাশ করেছেন অতি সম্প্রতি হলিউড থেকে প্রকাশিত ”একুশ” পত্রিকায় চাঁদ সুলতানা মাহবুব কামরুন-এর ভ্রমণ বৃত্তান্ত ”ঘুরে এলাম কিছু সময় বা ঝটিকা সফর”-এ সেই দুঃখ এভাবে ব্যক্ত করা হয়েছে, ”একটা ব্যাপার খুব চোখে লাগলো, বাংলাদেশের ছেলেমেয়েরা ফ্রীডমে বিদেশকেও হার মানিয়েছে প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের মোহনা ধীরে ধীরে এক হয়ে যাচ্ছে” অন্যত্র ”নব্য সভ্যতার যুগে পুরাতন কালচার সব হারিয়ে যাচ্ছে গাড়িতে ছেলেমেয়েরা সুরে বেসুরে ওদের ইচ্ছামতো গান গাচ্ছিলো আমি তখন একমনে খুঁজছিলাম আমার হারিয়ে যাওয়া পুরানো অতীতকে” বড়ই দুঃখের বিষয় সেই অতীত দ্রুত বিস্মৃতির অতলে তলিয়ে যাচ্ছে সে কারণেই বোধ হয় প্রবাসীদের মধ্যে বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখার অত প্রাণান্তকর প্রয়াস অথচ আমাদের প্রিয় দেশবাসী তরুণ-তরুণীরা নির্বিচারে বিদেশী অপসংস্কৃতিতে অবগাহন করে পরম পুলক অনুভব করছে এর চাইতে পরিতাপের বিষয় আর কি হতে পারে ? কবে কিভাবে আমাদের বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের মধ্যে এই হীনমন্যতা বোধের অবসান ঘটবে ? কবে আমাদের দেশের ছেলেমেয়েরা কুঁড়ে ঘরে থেকেও শিল্পের বড়াই করতে শিখবে, কবে ওরা বুক ফুলিয়ে বলবে, ”নিক হাতে গড়া মোর কাঁচা ঘর খাসা” ? সে কথাই আজ ভাবছি।

একুশ পত্রিকা,

লস এঞ্জেলেস, জুলাই ৪ ২০০৭ ইস্যুঃ উপ-সম্পাদকীয়ঃ

বাংলাদেশে আইনের শাসন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র চিন্তিত


মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য ছাড়া পদ্মা সেতু প্রকল্পের ভবিষৎ অনিশ্চিতঃ

বাংলাদেশে আইনের শাসন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র চিন্তিত, বিদেশী বিনিয়োগের বড় বাঁধা হচ্ছে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা আর দুর্নীতি – ড্যান ডব্লিউ মজিনা

লস এঞ্জেলেস, ২৩ অক্টোবর (একুশ নিউজ মিডিয়া)ঃবাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজিনা লস এঞ্জেলেসে প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমেরিকার তার নিজস্ব স্বার্থেই বাংলাদেশের পাশে থাকবে। পৃথিবীর সপ্তম বৃহত্তম ও বিশ্বের চতুর্থ মুসলিম অধ্যুষিত বাংলাদেশ ভূ-রাজনৈতিক কারণেই আমেরিকার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। গত ১০ বছরে বাংলাদেশের প্রতি ওয়াশিংটনের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে গেছে। দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক বিক্ষুদ্ধ চরমপন্থী সহিংসতার মাঝে মধ্যপন্থী সহিষ্ণু গণতান্ত্রিক লোকায়ত রাষ্ট্রশক্তি হিসাবে বাংলাদেশের বর্তমান উত্থান এই অঞ্চলে প্রচণ্ড আশাবাদ নিয়ে এসেছে। বর্তমানে প্রতিবেশী দেশ ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, বার্মা এমনকি চীনের সাথে বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ সহযোগীতার কেন্দ্রস্থল হিসাবে আবির্ভুত হচ্ছে। শান্তিরক্ষী মিশনে বিশ্বের প্রথম দুটি পূর্ণাঙ্গ মহিলা পুলিশ ইউনিট সহ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে  ১০ হাজার ৬৫৩ জন শান্তিরক্ষী সদস্যের বৃহত্তম শান্তিরক্ষা বাহিনী হিসাবে বিশ্বে বাংলাদেশ সুনাম কুড়াচ্ছে। তারজন্য আমেরিকা বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানায়।’ বাংলাদেশে গণতন্ত্র, মানবাধিকার রক্ষা ও মানবহিতৈষী কর্মকান্ডে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সহযোগিতা ও সাহায্যের কথা ড্যান ডব্লিউ মজিনা অভিবাসী বাংলাদেশীদের জানান। তিনি বলেন আমেরিকা চায় বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে আরো উন্নত হোক।

This slideshow requires JavaScript.


বাংলাদেশের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য এখনো বিদ্যমান। তিনি এই প্রসঙ্গে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গ্রামীণ ব্যাংকের ভূয়সী প্রশংসা করেন। দারিদ্র্য দূরীকরণে মাইক্রোক্রেডিটকে সাফল্যকে যুগান্তকারী বলে আখ্যায়িত করে বলেন, আমেরিকা এই প্রতিষ্ঠানের সার্থক প্রসারের ধারায় অনুভূতিশীল ও সহানুভূতিশীল। আশ্রয়হীন, বিপদগ্রস্ত রোহিঙ্গাদের অতীতের মতোই আশ্রয় দেয়ার জন্য আবারও বাংলাদেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনা। তিনি এই প্রসঙ্গে বাংলাদেশকে আরো মানবিক হতে আহ্বান জানান। তিনি বলেন ১৯৭১ সালে বাংলাদেশী উদ্বাস্তুরা ভারতে আশ্রয় নেয়, সেই ঘটনার কথা তিনি স্মরণে আনেন। শ্রমিক অসন্তোষ নিয়েও তার উদ্বেগের কথা জানান। বাংলাদেশকে আগামীর এশিয়ান টাইগার হিসেবে উল্লেখ করে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনা বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতি রোধ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।  

স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে আলাপ প্রসঙ্গে ড্যান মজিনা বলেন, পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের প্রতিশ্রুত ১২০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণ-সহায়তার উপরই নির্ভর করছে পদ্মা সেতুর ভবিষৎ। মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, সেতু হলে বাংলাদেশের তথা এ দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলেরও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়বে। দক্ষিণ এশিয়ার উন্নয়নে পদ্মা সেতুর জন্য ঋণ পাওয়ার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র,ভারত এবং জাপানসহ বন্ধু রাষ্ট্রগুলো কাজ করছে। এখন ভারত সেই আশাবাদ থেকে সরে এসে  দক্ষিণ এশিয়ায় নিজেদের বাণিজ্যিক সম্প্রসারণে ভিন্নভাবে অগ্রসর হচ্ছে। পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্বব্যাংক অর্থায়নের স্বাভাবিক শর্তে বর্তমান সরকারের অস্বাভাবিক আচরনে তিনি হতাশা ব্যক্ত করেছেন। নিজেদের আভ্যন্তরীণ আয়োজনে এই সেতু নির্মান করা প্রায় অসম্ভব বলে তিনি বলেন, পদ্মা সেতুর জন্য ঋনের ব্যাপারটাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা ও আগামী নির্বাচনে এই ইস্যুকে জনগনের সামনে এনে সুবিধা নেওয়ার চিন্তা-ভাবনা চলছে। 

গত কয়েক বছর ধরে আফ্রিকার কয়েকটি দেশে চলমান কর্মসূচীর অংশ হিসাবে প্রবাসী বাংলাদেশী-আমেরিকান শিক্ষাবিদ, চিন্তাবিদ, পেশাজীবী ও ব্যবসায়ী সম্প্রদায়কে নিজ নিজ দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে গুনগত উন্নয়নে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ষ্টেট ডিপার্টমেন্টের সুদূরপ্রসারী উদ্যোগের অংশ হিসাবে মার্কিন কূটনীতিকদের এই আয়োজন। এই প্রকল্পের অংশ হিসাবে নতুন প্রজন্মদের সম্পৃক্ত করে নতুন ব্যবসা পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের জন্য মিলিয়ন ডলারের পুরষ্কারের ঘোষণা দিয়েছে ষ্টেট ডিপার্টমেন্টের মিতুল দেশাই। দেশে জনসেবায় প্রবাসীদের উদ্বুদ্ধ করার নিমিত্তে ষ্টেট ডিপার্টমেন্টের মাধ্যমে তাদের এমবেডেড এনজিওগুলির সাথে কাজ করার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রবাসীদের অর্জিত ব্যবসা, প্রফেশনাল ও সাইন্টিফিক নেটওয়ার্ককে স্বদেশে সম্প্রসারিত করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এই কমিউনিটি উদ্যোগ ষ্টেট ডিপার্টমেন্ট ও আমেরিকান দূতাবাসের সহযোগীতায় তাদের আমব্রেলা অর্গানাইজেশনগুলির মাধ্যমে কো-ডেভেলপমেন্টের সুযোগ তৈরী করাই এই ইনিশিয়েটিভের লক্ষ্য। এই প্রসঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজিনা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে রপ্তানী এক বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় নয় হাজার লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে। আগামী তিন বছরে এই রপ্তানিকে তিনগুন করার লক্ষ্যে প্রবাসী ব্যবসায়ীদের এগিয়ে আসবার আহ্বান জানান। আমেরিকান দূতাবাস এই ব্যাপারে সর্বাত্মক সাহায্য করার অঙ্গীকার করছে।

লস এঞ্জেলেসের ব্রেন্টউডে প্রবাসী ব্যবসায়ী ফিরোজ ফখরীর বাসভবনে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পার্টনারশিপ ডায়লগের অংশ হিসাবে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ বিজনেস ফোরাম (ইউ এস বি বি এফ) এ মতবিনিময় নৈশভোজের আয়োজন করে। গত সপ্তাহজুড়ে আমেরিকার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বিভিন্ন স্তরের এই মতবিনিময়ে অংশ নিচ্ছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও ষ্টেট ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তারা। এই পর্যায়ে নিউইয়র্ক, পোর্টল্যান্ড ও ক্যালিফোর্ণিয়ায় প্রবাসী সীমিতসংখ্যক বাংলাদেশী নাগরিকদের সাথে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও ষ্টেট ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তারা খোলামেলা কথা-বার্তা বলেন। লস এঞ্জেলেসে প্রথমে ইউনিভার্সিটি অফ সাউদার্ণ ক্যালিফোর্ণিয়ায় শিক্ষক-ছাত্র ও কমিউনিটির গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে লাঞ্চ, বিকালে উডল্যান্ড হিলের এক প্রবাসীর বাসায় ইভনিং টী প্রোগ্রাম ও রাতে বেভারলি হিলস-ব্রেন্টউড এলাকায় ডিনার পার্টি আয়োজন করা হয়। আলোচনা ও নৈশভোজে স্থানীয় প্রবাসীদের সাথে রাষ্ট্রদূত পত্নী গ্রেস ফিনে মজিনাও উপস্থিত থেকে সবার সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। ফিরোজ ফখরী তার স্বাগত বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত মজিনাকে এই কমিউনিটি উদ্যোগের জন্য ধন্যবাদ জানান। এরপর মজিনা অভ্যাগত অতিথিদেরও কয়েকটি প্রশ্নের জবাব দেন। এই পর্বটি পরিচালনা করেন ইউ এস বি বি এফ-এর প্রসিডেন্ট মোঃ জাফরুল্লাহ। 
Video: United States Ambassador to Bangladesh – Dan Mozena with Bangladeshi American in Los Angeles
-Jahan Hassan
Editor,
Ekush News Media
13659 Vicory Blvd, #376, Van Nuys, CA 91401, USA

1 818 266 7539
editor@Ekush.info
FaceBook: 
http://www.facebook.com/jahan.hassan.1

Pic Link: http://www.facebook.com/media/set/?set=a.10151198517861897.480982.826936896&type=1&l=a99bed5285


Dan Mozena Grace Feeney -Jahan Hassan Ekush News Media জাহান হাসান একুশ নিউজ মিডিয়া
Editor

http://www.probashipotro.com/2012/10/26/padmasetu/

ঢাকা- নিউইয়র্কের মাঝে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট অচিরেই চালু হচ্ছে।


ঢাকা- নিউইয়র্কের মাঝে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট অচিরেই চালু হচ্ছে।

একুশ নিউজ মিডিয়া,লস এঞ্জেলেস, ২৮ জুলাই : বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান এমপি তার ব্যক্তিগত সফরের অংশ হিসাবে নবনির্বাচিত ক্যালিফোর্ণিয়া ষ্টেট আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আয়োজিত ইফতারি ও মতবিনিময় সভায় স্থানীয় প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বাংলার মাটিতে হবেই। ‘৭৫-এ আমরা বঙ্গবন্ধুকে রক্ষা করতে পারিনি। বঙ্গবন্ধুকে রক্ষা করতে না পারায় ‘৭১-এ পরাজিত যুদ্ধাপরাধীরা এদেশে রাজনীতি করার সুযোগ পেয়েছিলো। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবীতে তিনি প্রবাসীদের সোচ্চার হবার জন্য আহ্বান জানান। BADAM Los Angeles

বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান একুশ নিউজ মিডিয়ার জাহান হাসানের সাথে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, গার্মেন্ট শিল্পের মত বাংলাদেশের পর্যটন খাতকে আরও বিকশিত করার লক্ষ্যে প্রাইভেট ট্যুর অপারেটরদের উৎসাহিত করার জন্য অচিরেই প্রনোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হচ্ছে। ট্যুর বাসসহ পর্যটন খাতে ব্যবহৃত সামগ্রীর উপর আমদানি কর কমানো হচ্ছে। ১২টি দেশে পর্যটন মেলাতে বাংলাদেশের প্রাইভেট ট্যুর অপারেটররা অংশ নিচ্ছে। ইতিমধ্যে জার্মানী, স্পেন ও জাপান থেকে ট্যুর অপারেটরদের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশ সফর করে গেছে।

BADAM Los Angeles Ekush News Media Jahan Hassanআমেরিকা ও ইউরোপ থেকে আগত টুরিস্টদের অন-এরাইভ্যাল ভিসা প্রদান করা হচ্ছে। গত বছর বিদেশ থেকে ৫ লাখেরও বেশী পর্যটক বাংলাদেশ ভ্রমণ করে গেছেন। ২০১০-১১ অর্থবছরে বিদেশি পর্যটকদের বাংলাদেশ ভ্রমণ বাবদ মোট ৫৯৪ কোটি ৬৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়েছে। দেশের মাঝে পর্যটনকে আকর্ষনীয় করার লক্ষ্যে প্রতি বছর ৬টি পর্যটনমেলার আয়োজন করা হচ্ছে।

পর্যটন মন্ত্রী বলেন পর্যটন শিল্পকে গুরুত্ব দিয়ে কক্সবাজারকে পৃথিবীর সুন্দরতম পর্যটন নগরী হিসাবে গড়ে তোলার অংশ হিসাবে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ নামে একটি সংস্থা মন্ত্রীপরিষদ ক্যাবিনেট মিটিংএ অনুমোদিত হয়েছে। আগামী সংসদে এই বিল উত্থাপণ করা হবে। এতে বিদেশী পর্যটকদের জন্য এক্লুসিভ টুরিস্ট জোন থাকবে। ২০১৪ সালের টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে কক্সবাজার স্টেডিয়াম নির্মিত হতে যাচ্ছে। তিনি বলেন, পর্যটনের এই বিশাল সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে। এতে দেশের ভাবমূর্তির উন্নতি হবে। বৈদেশিক মুনাফা অর্জন করা সম্ভব হবে।

BADAM Los Angeles Ekush News Media Jahan Hassanমন্ত্রী লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান বলেন, তিন বছর পর ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিশেন অর্গানাইজেশন (আইকাও) এর কালো তালিকা থেকে মুক্ত হলো বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। ২০০৯ সালের জুনে ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশন (আইকাও) বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) কার্যক্রমে নানা অসঙ্গতির কারণে বাংলাদেশকে নিরাপত্তা উদ্বেগের বিষয়ে সিগনিফিকেন্ট সেফটি কনসার্নের (এসএসসি) তালিকাভুক্ত করে। যা বিমান চলাচল ব্যবসায় কালো তালিকা হিসেবে ধরা হয়। এদিকে এসএসসিতে থাকার ফলে আমেরিকান ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) বেবিচককে ক্যাটাগরি-২ এ রেখেছে।

BADAM Los Angeles Ekush News Media Jahan Hassanতিনি বলেন, এই কালো তালিকা থেকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বের হয়ে আসার ফলে আগামী ৬ মাসের মধ্যে ঢাকা- নিউইয়র্কের মাঝে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট চালু হবার প্রবল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ ২টি অত্যাধুনিক বোয়িং ৭৭৭-৩০০ বিমান কিনেছে। তিনি বলেন, বিশ্বের উন্নত বিমানবন্দরগুলোর সাথে সামঞ্জস্য রেখেই এ বিমানবন্দরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এজন্য পুরো বিমানবন্দরকেই অত্যাধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন নিরাপত্তা বলয়ের আওতায় আনা হচ্ছে। তাছাড়া বিমানবন্দরের সংরক্ষিত এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে স্থাপন করা হচ্ছে স্বয়ংক্রিয় এর্লাম ও ভিডিও সার্ভিলেন্স সিস্টেম। একই সাথে যাত্রীদের দেহতল্লাশি, ব্যাগেজ ও কেবিন ব্যাগেজ স্ক্যানিং পদ্ধতিতেও অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন নিরাপত্তা প্রশাসন (টিএসএ ) এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রত্যয়ন অনুসারে বিস্ফোরকদ্রব্য ও ধাতব-অধাতব পদার্থ শনাক্ত করতে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে স্থাপিত হচ্ছে সিটি প্রযুক্তির স্ক্যানিং মেশিন। পাশাপাশি বিমানবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা কার্যক্রম তদারকি ও নিয়ন্ত্রণের জন্য খোলা হচ্ছে নিরাপত্তা কন্ট্রোল সেন্টার। বাণিজ্যিকভাবে বিমানকে লাভজনক করার জন্য ১০টি উড়োজাহাজ সংগ্রহ, সার্বিক খরচ কমানো ও ফ্লাইট সূচি পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

BADAM Los Angeles Ekush News Media Jahan Hassanক্যালিফোর্ণিয়া ষ্টেট আওয়ামী লীগ আয়োজিত ইফতার ও মতবিনিময় অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মাঝে বারব্যাঙ্ক নির্বাচনী এলাকার ডেমোক্রেটিক ইউ এস রিপ্রেজেন্টেটিভ কংগ্রেসম্যান এডাম শীফ উপস্থিত ছিলেন। তিনি বাংলাদেশের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের পর্যটন শিল্পসহ অন্যান্য খাতে অবিরাম সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

ডাঃ রবি আলমের সঞ্চালনা ও শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে লস এঞ্জেলেসের কন্সাল জেনারেল এনায়েত হোসেন, ভাইস কন্সাল, কমার্শিয়াল কন্সাল সহ অনেক স্থানীয় প্রবাসীরা এই উপলক্ষে উপস্থিত ছিলেন।

ছবি লিঙ্কঃ
http://www.facebook.com/media/set/?set=a.10151048843531897.456294.826936896&type=3&l=0e4bd1f1d9

আমি আর স্বপ্ন দেখি না বাংলাদেশ নিয়ে


নগর পুড়লে দেবালয় এড়ায় না

শামারুহ মির্জা

আমার বাবা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আপাদমস্তক একজন রাজনীতিবিদ। আমি এই মানুষটি এবং অন্য আরও কিছু প্রসঙ্গ নিয়ে কিছু কথা লিখছি। নিজের বাবাকে নিয়ে লেখা বোধহয় খুব শোভন নয়! আপাতদৃষ্টিতে এ কাজটি আমি আজ করতে চাই এবং করব।

মির্জা আলমগীরের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্ব্বীরা তাকে শ্রদ্ধা করেছেন সবসময়। এলাকায় যে কোনো বিপদে-আপদে প্রথমে ছোটেন তাঁর কাছে, সমাধানের জন্য। তিনি যে দলেরই হোন না কেন, তিনি যে ধর্মেরই হোন না কেন। বলুকাকার একটি কথা মনে পড়ে গেল। নির্বাচনী প্রচারণায় আমি হাঁটছি এক পাড়া থেকে আরেক পাড়ায়। বলুকাকার বাসার সামনে এসেছি, সঙ্গে থাকা দু’জন বললেন—ভেতরে যাওয়ার দরকার নেই, তিনি আব্বুর বিরুদ্ধে প্রচারণা করছেন। আমি তবু এগিয়ে গেলাম। ঘরে ঢুকতেই দেখি বলুকাকা আর ক’জন বসে। বললাম, বলুকাকা, আব্বুর জন্য দোয়া করবেন। বলুকাকা হেসে বললেন—মাগো, রাজনৈতিক কারণে আমি তোমার বাবার বিরোধিতা করছি; কিন্তু মানুষ আলমগীরের জন্য আমার মঙ্গল কামনা নির্ভেজাল, সবসময় ।

নাম বলছি না, তবে আওয়ামী লীগের এক বিখ্যাত বাগ্মী রাজনীতিবিদ এক টকশোতে আব্বুর সঙ্গে বসতে চাননি। তার স্রেফ কথা, এই ভদ্রলোকের সঙ্গে আমি ঝগড়া করতে পারব না। শতভাগ সততার সঙ্গে মানুষটি সারা জীবন রাজনীতি করেছেন; নিজের আদর্শ, নিজের বিশ্বাসের সঙ্গে কখনো সমঝোতা করেননি। শুধু বোঝেননি, এই বাংলাদেশে তিনি বড়ই অনুপযুক্ত এক রাজনীতিবিদ। একটি ‘গণতান্ত্রিক’ সরকার আজ এই মানুষটিকে যেভাবে অপদস্থ করল, তা আসলেই উদাহরণ হয়ে থাকবে চরম অবিচারের।

কী অপরাধ ছিল তাঁর? তিনি বিরোধী দলের মহাসচিব, সরকারের সমালোচনা করতেন, কর্মীদের সংগঠিত করতেন, তাঁদের উজ্জীবিত করতেন সরকারবিরোধী আন্দোলনে প্রকাশ্যে বক্তৃতা দিয়ে, যা পুরো বাংলাদেশের মানুষ দেখত, শুনত, উপলব্ধি করার চেষ্টা করত। তিনি বোমাবাজি করেছেন কিংবা করিয়েছেন? গাড়িতে আগুন দিতে বলেছেন? মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মির্জা আলমগীরের চরম শত্রুও তা বিশ্বাস করবে না!

পঁয়ষট্টি বছরের মানুষটাকে আমি প্রায়ই প্রশ্ন করতাম—আব্বু, এই নষ্ট, পচে যাওয়া সমাজে তুমি কেন এখনও রাজনীতি করছ? ‘৭১-পূর্ববর্তী রাজনীতির সেই পরিবেশ তো আর নেই। আগেও রাজনীতিবিদদের বন্দি করা হতো, তাদের সঙ্গে যথাযথভাবে ব্যবহার করা হতো, আজ তো কোনো নিয়ম নেই, আজ তো গ্রেফতার করেই রিমান্ডে নিয়ে প্রাগৈতিহাসিকভাবে অত্যাচার করে। এসব বাদ দাও না! আব্বু স্মিত হেসে বলতেন, ‘শেষ চেষ্টাটা করেই দেখি, আমার তো চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই।’ তাঁর খুব প্রিয় কবিতার একটি লাইন প্রায়ই আমাকে বলতেন, ‘এখনি অন্ধ বন্ধ করো না পাখা।’

আমার এই বাবার বিরুদ্ধে এই সরকার দুটি আজব মামলা দিয়েছে। একটিতে অভিযোগ, আব্বু এবং আরও ক’জন মিলে সচিবালয়ে ককটেল ফুটিয়েছে বা ফোটাতে সহযোগিতা করেছে; আরেকটিতে অভিযোগ, তাঁর এবং আরও ক’জনের প্ররোচনায় ২৯ এপ্রিল একটি বাস পোড়ানো হয়েছে। মামলার চার্জশিট পড়ছিলাম। নিজের অজান্তেই হেসে উঠলাম। আমাকে হাসতে দেখে আমার এক স্টুডেন্ট প্রশ্ন করল, কেন হাসছি। ওকে পুরো ঘটনাটা খুলে বললাম। ও অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকল। তোমার বাবাকে আসামি বানিয়েছে? এই মামলায়? ওর বিস্ময় দেখে বললাম, বাংলাদেশের ৯৯ ভাগ মানুষ তোমার মতোই বিস্মিত! ওকে বললাম—জানো, এই সরকার দুই-তৃতীয়াংশ ভোট পেয়ে সরকার গঠন করেছে, এরা দিনবদলের কথা বলেছে! ওর বিস্ময় আরও বাড়ল। ‘বল কী, এটা নির্বাচিত সরকার! আমি তো ভেবেছি, এটা স্বৈরাচারী সামরিক সরকার।’ খারাপ লাগছিল। বললাম, ‘চিন্তা করো না, ঠিক হয়ে যাবে, সরকার একটু টালমাটাল এখন, ঠিক হয়ে যাবে।’ আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় ঘটনাটা আসার পরে অনেকেই আমার কাছে জানতে চাইল পুরো ব্যাপারটা। খুব চেষ্টা করলাম দেশের ‘ভাবমূর্তি’ রক্ষা করে বুঝিয়ে বলার। সবাইকে আশ্বাস দিলাম, আমাদের বিচারব্যবস্থার ওপর আস্থা আছে।

নিম্নআদালত আব্বুদের জামিন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠিয়েছে। রায় ঘোষণার পরপরই আব্বুকে ফোন দিলাম। ভীষণ পজিটিভ, হাসছিলেন আমার দুশ্চিন্তা দেখে। হঠাত্ গলাটা বোধহয় আবেগে কিছুটা বুজে এলো। বললেন—’মাগো, তুমি সাহস হারিয়ো না, আমরা একসঙ্গে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করব, করতেই হবে। যা-ই হোক, তুমি সাহস হারিয়ো না মা।’ আমি আর কথা বলতে পারলাম না। তাঁকে বললাম না, আমি আর স্বপ্ন দেখি না বাংলাদেশ নিয়ে, আমি আর আশা করি না। আমার কেন জানি আজকাল শুধু মনে হয়, ওরা ভিন্নমতাবলম্বী, সাহসী, সত্যবাদী, দেশপ্রেমিক কোনো বাংলাদেশী নাগরিককে মুক্ত থাকতে দেবে না। তুমি যদি স্বাধীনভাবে কথা বলতে চাও, চুপ করে থাকো। এর কিছুই তাঁকে বলা হোল না। শুধু বললাম, ‘তুমি ভালো থেকো আব্বু।’

আমার প্রিয় শিক্ষক প্রফেসর আনোয়ার হোসেনের লেখা আজকাল প্রায়ই পড়ি। সব লেখাতেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে, স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে তাঁর সংগ্রামের কথা, তাঁর ভাইয়ের আত্মদানের কথা, সোনার বাংলা নিয়ে তাঁর পরিবারের স্বপ্নের কথা। আমারও মনে পড়ে ১/১১-এর পরে তাঁর সাহসী ভূমিকার কথা, আরেকটু আগেকার কথাও মনে পড়ে, শামসুন নাহার হলে পুলিশি অভিযানের বিরুদ্ধে তাঁর সাহসী ভূমিকার কথা। আমরা তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী। স্যারকে দেখতে গিয়েছিলাম তাঁর বাসায়, তাঁর আগেও স্যারের বাসায় গেছি রাতের খাবার খেতে, ক’জন বন্ধুসহ। কিছুদিন আগে মেইলে পেলাম তাঁর চিঠি, ১/১১-এর পরে কোর্টে দেয়া তাঁর জবানবন্দিসহ, তাঁকে ভোট দেয়ার আবেদন করে।

এই স্যার আজ আর প্রতিবাদ করছেন না, গর্জে উঠছেন না, মিছিলে যাচ্ছেন না। উনি দেখছেন, সেই একই পুলিশি রিমান্ডে রাজনৈতিক নেত্রীকে চার পেয়ে পশুর মতো অত্যাচার করা হচ্ছে, মেয়েটি দাঁড়াতে পারছে না, সেই একই রিমান্ডে মানুষের মেরুদণ্ড ভেঙে দেয়া হচ্ছে, সেই একই বাহিনী রাতের অন্ধকারে তুলে নিয়ে যাচ্ছে কারও বাবাকে, কারও স্বামীকে, কারও সস্তানকে, ক’দিন পরে বুড়িগঙ্গায় ভেসে উঠছে মানুষের হাত, পা। স্যার কিন্তু কিছুই বলছেন না। স্যার একটি রাজনৈতিক আদর্শে বিশ্বাস করেন জানি। খুব স্বাভাবিক। প্রতিটি মানুষ রাজনৈতিক। কিন্তু যে কোনো অন্যায় তো অন্যায়ই, যে কোনো অবিচার তো অবিচারই, যে কোনো অত্যাচার তো অত্যাচারই। এসবের তো অন্য কোনো নাম নেই, অন্য কোনো সংজ্ঞা নেই। তবে? তাঁর এই নীরবতার কারণ কী? স্যারের একটি লেখা পড়লাম, কালের কণ্ঠে। তিনি লিখেছেন তাঁর প্রিয় শিক্ষককে নিয়ে। সেই লেখাতেও তিনি কয়েকবার উল্লেখ করলেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে তাঁর অতীত সংগ্রামের কথা। প্রশ্ন করি তাঁকে, আপনার ভাই যে আদর্শের জন্য জীবন দিয়েছেন, তার কতটুকু এই ‘সোনার বাংলা’য় বাস্তবায়ন হয়েছে? প্রশ্ন করি তাঁকে, বর্তমানকে তিনি কীভাবে দেখছেন এবং বর্তমানে তিনি কী করছেন? সংগ্রাম কি চলমান প্রক্রিয়া নয়?

আমি স্যারের কথা উল্লেখ করলাম, কারণ আমি মনে করি বাংলাদেশের বেশিরভাগ বুদ্ধিজীবীকে তিনি প্রতিনিধিত্ব করেন। আমাদের আঁতেলরা এক একটি দলের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করতে গিয়ে কেমন জানি বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী হয়ে যান। একটি মার্কা, একটি রঙ তাঁদের অন্ধ করে দেয়। চোখের সামনে সমাজটা নষ্ট হয়ে যায়, চোখের সামনে মানুষগুলো কুঁকড়ে যায়, চোখের সামনে দেশটা বধ্যভূমিতে পরিণত হয়, এদের কিচ্ছু যায় আসে না। একটু আগেই খবর পেলাম, আনোয়ার স্যার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি মনোনীত হয়েছেন, স্যারের সাম্প্রতিক নীরবতার কারণটা এখন বোধগম্য হলো!

সোহেল তাজের পদত্যাগের পর একটি ব্যাপার আমার কাছে পুরো পরিষ্কার। আমরা সবাই এক একটি সোহেল তাজ। আমরা খুব সাহস, উদ্যোগ নিয়ে নেমে পড়ি সমাজ বদলাবো বলে। ফেসবুকে এমন ঝড় তুলি, সে ঝড়েই যেন উড়ে যায় সব অনাচার, রাজনীতিবিদদের গালিগালাজ করে অর্গাজমের সমপরিমাণ আনন্দ বোধ করি, অন্যের পিণ্ডি চটকিয়ে দাবি করি—আমিই আলাদা, আমিই শুদ্ধ। তারপর যখন ত্বধষরঃু নরঃবং, দৈত্যগুলো কামড়ে দেয়, তখন গাল ফুলাই, অবুঝ শিশুর মতো বলি—’আমি তোমার সঙ্গে আর খেলব না।’ বিশাল একটা চিঠি লিখে পালিয়ে যাই আমেরিকা। ব্যস, নাটকের এখানেই সমাপ্তি।

আমার কিছু উচ্চশিক্ষিত বন্ধু আছে, এরা প্রায়ই বিভিন্ন আড্ডায়, ফেসবুকে রাজনীতিবিদের পিণ্ডি চটকায়। খুব ফ্যাশনের কাজ, নিজের নিরপেক্ষতা প্রমাণের কী সাংঘাতিক চেষ্টা, অনেক হাত তালি। ভাবখানা এমন, ‘হলো তো? দেশ ও সমাজের প্রতি দায়িত্ব পালন করা শেষ, এবার চলো, শীশা খেতে যাই।’ সুবিধাবাদের চূড়ান্ত! রাজনীতিবিদদের গালি দিয়ে দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি বদলানো যায় না, এ সহজ কথাটি আমার উচ্চশিক্ষিত বন্ধুদের মাথায় ঢোকে না, সম্ভবত ইচ্ছাকৃতভাবেই!

আমার বাবা একটি কথা আজকাল প্রায়ই বলেন, ‘আমাদের দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিবর্তনে একটি অন্যতম মূল ভূমিকা রেখেছে শিক্ষিত মধ্যবিত্ত। পুঁজিবাদ আর ভোগবাদের প্রভাবে এই মধ্যবিত্ত আজ নির্লিপ্ত হয়ে গেছে, সুবিধাজনক বলে।’ আর আমার মাথা বলে, এটা খুব ভয়ঙ্কর একটা অবস্থা। কোনো নিয়মতান্ত্রিকভাবে, সভ্যভাবে এই অবস্থার পরিবর্তন সম্ভব নয়। আজ ব্যক্তি মির্জা আলমগীরের ওপর যে অন্যায় হলো, যে অবিচার হোল—এর ফল ভোগ করতে হবে পুরো জাতিকে। এটা পরিষ্কার। আজ অথবা কাল। নগর পুড়লে দেবালয় এড়ায় না।
লেখক : কলামিস্ট, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষারত

আমেরিকায় ৫৯% বাংলাদেশীর দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস


আমেরিকায় ৫৯% বাংলাদেশীর দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস

একুশ নিউজ মিডিয়া - আমেরিকায় ৫৯% বাংলাদেশীর দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস

On Saturday, community leaders and activists spoke to a packed house at an event in Parkchester commemorating 41 years of Bangladeshi independence from Pakistan. (Photo by Rachel Sapin)

একুশ নিউজ মিডিয়া - আমেরিকায় ৫৯% বাংলাদেশীর দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস

নিউইয়র্ক থেকে এনা : স্বপ্নের দেশ আমেরিকায় আসার পরও বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশী দারিদ্র্যসীমার নিচে জীবনযাপন করছেন। কৃষ্ণাঙ্গ, হিসপ্যানিক এবং শ্বেতাঙ্গের চেয়ে বাংলাদেশীদের মধ্যে দারিদ্র্যের এ হার দ্বিগুণ। যুক্তরাষ্ট্র সেনসাস রিপোর্টের ওপর পর্যালোচনার পর এশিয়ান-আমেরিকান ফাউন্ডেশন এ তথ্য প্রকাশ করেছে এবং তা মার্কিন মিডিয়াগুলোতেও ৯ মে ফলাও করে প্রকাশিত হয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির ব্রুকলিনের ওপর প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রুকলিনে বসবাসরত বাংলাদেশীর ৫৯% অত্যন্ত্ম গরিব। সিটির এশিয়ান দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশীদের আর্থিক অবস্থান নবম স্থানে। ২০১০ সালের ওই সেনসাস রিপোর্ট অনুযায়ী, ব্রুকলিনে বাংলাদেশীর সংখ্যা ৬১ হাজার ৭৮৮ এবং ২০০৬ সালে তা ছিল ২৮২৬৯। এশিয়ান আমেরিকান ফাউন্ডেশনের বিশ্লেষণে আরো বলা হয়েছে যে, ব্রুকলিনে পাকিস্ত্মানি এবং ভিয়েতনামি ইমিগ্র্যান্টদের অবস্থাও তথৈবচ।

উলেস্নখ্য, ব্রুকলিনে বসবাসরত বাংলাদেশীদের বিরাট একটি অংশ নির্মাণ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। বেশকিছু বাংলাদেশী সিটিতে ট্যাক্সি ড্রাইভিং করেন। খুচরা দোকানে সেলসম্যানের কাজও করেন উলেস্নখযোগ্যসংখ্যক বাংলাদেশী। ফেডারেল, স্টেট এবং সিটি প্রশাসনে কাজ করেন এমন বাংলাদেশীর সংখ্যা নিতান্ত্মই কম। এজন্যই যুক্তরাষ্ট্রের দারিদ্র্যসীমার নীচে বসবাসকারী বাংলাদেশীর সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে না। কারণ, ইউএস সেনসাস ব্যুরো এ তথ্য সংগ্রহ করে ট্যাক্স রিটার্ন থেকে। অপরদিকে কুইন্সে বসবাসরত বাংলাদেশীর বিরাট একটি অংশ অফিসিয়াল কাজ করেন বিধায় তাদের আর্থিক অবস্থান কিছুটা ভালো। এদিকে মন্দার কারণে অসংখ্য বাংলাশীর কর্মঘণ্টা হ্রাস করা হয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্যে এখনো গতি আসেনি। নির্মাণ ব্যবসায়ীরা ঠিকমতো কাজ পাচ্ছেন না। ফলে কম্যুনিটিতে এক ধরনের হতাশা বিরাজ করছে। ব্রুকলিনের মতো আরো অনেক এলাকাতেই বাংলাদেশীরা নাজুক পরিস্থিতির মুখোমুখী বলে জানা গেছে।

নিউইয়র্কে নতুন প্রবাসী বাংলাদেশীদের সবচেয়ে বেশী কাজ মেলে ডানকিন ডোনাট, কেএফসি, ম্যাগডোনাল্ডসহ ফাস্টফুডের দোকানসমূহে। এসব দোকানে প্রতি ঘন্টার জন্য পারিশ্রমিক দেয়া হয় মাত্র ৭ ডলার ২৫ সেন্টস। এভাবে প্রতিদিন ৮ ঘন্টা করে সপ্তাহে ৬ দিন কাজ করলে ৪৮ঘন্টায় আয় হয় ৩’শ ৪৮ ডলার। এ হিসেবে মাসিক আয় দাড়ায় ১৩৯২ ডলার। কিন্তু এক বেড, এক ড্রইং রম্নমের একটি বাসার ভাড়া সর্বনিম্ন ১ হাজার থেকে দেড় হাজার ডলার। একার আয়ে বাসাভাড়া নিয়ে খাওয়ার টাকা থাকেনা। ফলে স্বামী-স্ত্রীরা পালা করে কাজ করেও দারিদ্র ঘোচাতে পারেন না। এ মুহুর্তে সরকারী চাকুরী নেই বললেই চলে। মাঝে মাঝে দু’একটা হলেও মুসলমানদের তাতে নেয়া হয়না। কৌশলে তাদের চাকুরী সা্কক্ষাৎকার এড়িয়ে যায় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু এতো কষ্টে থাকার পরেও দেশে আত্মীয় স্বজনের কাছে কেউ লজ্জায় কষ্টের কথা বলেন না।

” … Free International Calls: Free mobile calls between 50 countries …”

The Asian community was the fastest growing major population in New York City, increasing by 30% in the past decade. Asians are now 13.9% of the City’s population. In the same period, the population of Asian children grew by 16%, the only major race and ethnic group to show an increase, while the number of seniors in our community grew by 64%, the largest increase among major race and ethnic groups. The report also shows:

  • New York City is home to the largest Bangladeshi and Pakistani population in the U.S.
  • Korean children are twice as likely not to have health insurance than all children in New York City.
  • The poverty rate of Asian seniors increased while other race/ethnic groups declined.
  • Asian seniors were more than twice as likely to have no health insurance coverage than seniors in other populations.
  • Japanese have one of the highest rates of seniors living alone, citywide.
  • While Asians represent 11% of the citizen voting-age population in New York City, Asians were least likely to be registered to vote.
  • Despite having the highest income in the Asian community, Filipinos saw a drop in the median household income and an increase in child poverty rate of 4%.
  • Chinese, Indians and Koreans own 80% of the Asian-owned businesses in our City.
  • Asian workers had the largest jump in unemployment rates.
  • Asian-owned businesses contributed $38 billion worth of sales, receipts or value of shipments to the City’s economy.

Visit us on FaceBook একুশ নিউজ মিডিয়া এখন ফেস বুক এ

New face of poverty?

Brooklyn’s Bangladeshi community poorer than blacks and Latinos

Nearly 54% of the immigrant group live in poverty, report finds

By / NEW YORK DAILY NEWS

Wednesday, May 9, 2012, 6:21 PM
Mamnunul Haq. - (Susan Watts/New York Daily News)

Susan Watts/New York Daily News / Mamnunul Haq. – (Susan Watts/New York Daily News)

 A new face of poverty is emerging in Brooklyn.

Recent U.S. Census data shows that the borough’s Bangladeshi community is poorer than blacks, whites, or Latinos living in the county.

The Asian American Federation found that 53.9 % of Bangladeshis living in Brooklyn are poor – the highest rate among the city’s eight largest Asian immigrant groups.

The poverty rates for Bangladeshis was nearly double the numbers for blacks, whites, and Hispanics in the borough and citywide, according to stats from 2006 to 2010.

“We want to make sure that the programs that address poverty in the city address the specific needs of these groups,” said AAF’s Census guru Howard Shih.

The report also found high rates of poverty among Pakistanis and Vietnamese reidents in the city.

“They are really, really starting out at the bottom,” said CUNY sociologist Philip Kasinitz of the Banladeshis and other newcomers. “A lot of new (immigrant) groups are growing very rapidly.”

Asians are the fastest growing immigrant group in the city, increasing by one-third in 2010 compared to a decade ago and adding 262,142 new residents, said the AAF.

A large portion of the expansion came from the Bangladeshi community – centered in Kensington – which has doubled in size surging from 28,269 in 2000 to 61, 788 in 2010.

Father of three Mamnun Haq, AGE, moved to Kensington twenty years ago leaving behind a bank officer position in his South East Asian homeland.

Haq scrambled to find a steady paycheck in New York learning that his banking experience was worthless.

So he did what a lot of his friends were doing – drove a yellow cab.

“They are first generation and are trying to find work, mainly doing odd jobs,” said Haq pointing out that many of his friends are either hacks, construction workers, or restaurant employees at Dunkin’ Donuts.

But a passenger stabbed Haq in March 2005 ending his taxi career.

“I had a tough time,” Haq said.

He now runs a health program at NYU centered on teaching Bangladeshis how to eat better. A third of New York’s Bangladeshis suffer from diabetes, said Haq, three times the city’s average rate.

“Their food is too starchy; they eat too much rice,” Haq said.

Haq teamed up with Councilman Brad Lander (D-Kensington) getting more Bengali translators for Kensington public schools and pushing more Bangledeshi to attend community meetings to learn what services the city provides.

“There is still a long way to go,” said Lander. “We haven’t caught up with the growth of the community.”

Some experts pointed out that although many new Asian immigrants are poor, the hard numbers are much higher in the black and Latino communities.

The Community Service Society of New York found that an estimated 315,000 blacks and Latinos live in poverty in Brooklyn.

simonew@nydailynews.com

Read more: http://www.nydailynews.com/new-york/brooklyn/face-poverty-brooklyn-bangladeshi-community-poorer-blacks-latinos-article-1.1075313#ixzz1uVSYHVsu

Asians Lead City In Growth Rate

 By SUMATHI REDDY

While Chinatown’s Asian population declined over the past decade, the Asian footprint widened in far-flung neighborhoods from Sunset Park in Brooklyn to Murray Hill in Queens.

In a report released Friday the Asian American Federation, an advocacy and civic group, zeroed in on the city’s booming Asian population, breaking it down by country of origin, neighborhood and age.

Using U.S. Census data from 2000 and 2010, as well as American Community Survey results, the report tracks demographic changes in the Asian population, which increased 30% between 2000 and 2010, making it the city’s fastest-growing racial and ethnic group. Asians compose 13.9% of the city’s population, versus 10.9% in 2000, according to the report. The group showed growth in every borough.

একুশ নিউজ মিডিয়া - আমেরিকায় ৫৯% বাংলাদেশীর দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস

Queens continued to have the largest Asian population, and it exceeding the number of blacks in the borough for the first time. The report predicts that if growth rates continue at the current pace, Asians will become Queens’s largest ethnic group this decade, topping non-Hispanic whites and Hispanics.

Brooklyn’s Asian population grew at the fastest clip, with children fueling much of the increase. The number of Asians in Dyker Heights and Sunset Park East, for example, shot up 83% and 60%, respectively.

The report found an increasing diversity within the Asian population. While Chinese and Indians continue to be the largest groups, the fastest-growing ethnic groups were Hmong, Taiwanese, Bangladeshi and Laotians, all of which more than doubled in size over the past decade, though some had tiny base populations. (The Hmong were the smallest, with 83 people.) Other emerging groups, though still small in number, include Nepalese, Burmese and Bhutanese, many of whom came to the U.S. as refugees in recent years.

Howard Shih, census programs director for the Asian American Federation, said the numbers showed that Chinatown’s 15% decrease in Asians was driven largely by a loss of children, while the boom in Sunset Park and Bensonhurst was fueled by children.

Queens had the largest increase in the number of Asian seniors.

The report noted several shifts in settlement. Koreans seem to be moving out of Jackson Heights and Elmhurst further east to Bayside and surrounding neighborhoods, said Mr. Shi.

Meanwhile, Astoria, Elmhurst and Flushing saw declines in the Indian population but their numbers increased in Richmond Hill, South Ozone Park and Northeast Queens.

One longstanding goal of the Asian community is to help Asian-American candidates win public office. The report showed that while the number of registered Asian voters has doubled, registration rates have remained relatively stable, said Mr. Shih.

“It certainly shows the great potential within the Asian community for being more engaged civically,” said Yang Chen, executive director of the Asian American Bar Association. “It would be a shame if we weren’t able to mobilize because it is an election year and it is a chance for the Asian community to have their voice heard.”

Write to Sumathi Reddy at sumathi.reddy@wsj.com

A version of this article appeared April 21, 2012, on page A17 in some U.S. editions of The Wall Street Journal, with the headline: Asians Lead City In Growth Rate.
http://online.wsj.com/article/SB10001424052702303513404577356153202527234.html?mod=WSJ_article_comments#articleTabs%3Darticle

দ্য আদার আমেরিকা: ‘দারিদ্রের সংস্কৃতি’


মার্কিন দারিদ্রে্র পুনরাবিষ্কার

বারবারা এরেনরিচ

আজ থেকে ঠিক ৫০ বছর আগে গরিবরা না হলেও অন্তত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সচ্ছল মানুষ জানতে পেরেছিল যে, তাদের মধ্যেও দরিদ্র মানুষ রয়েছে। এই আবিষ্কারের জন্য মাইকেল হ্যারিংটনকে ধন্যবাদ দিতেই হয়। কারণ তার লেখা দ্য আদার আমেরিকা বা অন্য আমেরিকা বইটি প্রকাশিত হওয়ার পরই শ্রেণীহীন সামাজিক অবস্থা ও সম্পদের সুখসাগরে ভাসতে থাকা একটি জাতি আকস্মিক একটি ধাক্কা খায়। হ্যারিংটনের দেওয়া তথ্য মতে, সে সময় এক-চতুর্থাংশ মার্কিন নাগরিকই দারিদ্রে্যর মধ্যে বসবাস করছিল।

এদের বেশির ভাগই নগরকেন্দ্রের কৃষ্ণাঙ্গ, পাশ্চৎপদ শ্বেতাঙ্গ, খামার শ্রমিক এবং বয়স্ক মার্কিনি।

বইটিতে লেখক দারিদ্র সম্পর্কে যে ধারণা দিয়েছেন তাতে মনে হয়েছে আরাম আয়েসে থাকা মানুষের জন্যই আরো বেশি আয়েস যোগানো দরকার। বলা হয়েছে দরিদ্ররা অন্যান্য মার্কিনির চেয়ে একেবারেই আলাদা। আর এই আলাদা হওয়ার কারণ যে কেবল তারা বঞ্চিত, পশ্চাৎপদ, নিম্নমানের ঘরবাড়িতে বসবাস করে কিংবা নিম্নমানের আহার গ্রহণ করে থাকে তা নয়। তাদের আবেগ-অনুভূতি, ভাবনা-চিন্তাও আলাদা ধরনের। তাদের জীবনযাত্রার মধ্যে স্থূলতা আছে এবং রয়েছে একটা বেপরোয়াভাবও।

হ্যারিংটনের ভাষায়, ‘দরিদ্রদের নিজস্ব একটি ভাষা আছে, মনস্তত্ত্ব আছে এবং ভিন্ন ধরনের একটি বিশ্ববীক্ষাও পোষণ করে তারা। দরিদ্র হওয়ার অর্থই হলো সমাজের মূল স্রোত থেকে ছিটকেপড়া এমন একটি সংস্কৃতির মধ্য বেড়ে ওঠা যা সমাজের মূল ধারা থেকে একেবারেই আলাদা।’ তবে ১৯৬৩ সালে আমি যখন প্রথম তার বইটি পড়ি আমি কিন্তু সেখানে আমার পূর্বপুরুষ এবং আমার পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে এই আলাদা মানুষের অস্তিত্ব খুঁজে পাইনি। একথা ঠিক যে, মধ্যবিত্তের মানদন্ডে বিচার করলে তারা হয়তো কিছুটা বিশৃঙ্খল জীবন যাপন করেছে, পানে আসক্ত থেকেছে, ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত হয়েছে কিংবা বিবাহ-বহির্ভূত সন্তান জন্ম দিয়েছে। কিন্তু তারাও যে পরিশ্রমী ছিল, তাদের মনেও যে উচ্চাশা উঁকি দিতো তা কিন্তু হ্যারিংটন উল্লেখ করেননি। এসব ভালো গুণ তিনি আর্থিকভাবে সচ্ছলদের জন্যেই তুলে রেখেছেন। তার মধ্যে দরিদ্রদের যা আলাদা করে চিহ্নিত  করে তা হলো ‘দারিদ্র্য সংস্কৃতি’। এই ধারণাটি তিনি নৃতত্ত্ববিদ অসকার লুইসের মেক্সিকোর বস্তিবাসীদের ওপর পরিচালিত একটি জরিপ থেকে ধার নিয়েছিলেন। এই ধারণাটির সংযোজন বইটির একটি তাত্ত্বিক মূল্য তৈরি করেছে। তবে এখানে ‘আমরা’ শব্দটি দিয়ে মার্কিন সমাজের সেই সব সচ্ছল বিত্তবানদের কথাই বলা হয়েছে, যারা সবসময় গরিব জনগোষ্ঠীর দারিদ্র্য লাঘবের চেষ্টা চালিয়ে থাকে।

কিন্তু একটি বিষয় বোঝা উচিত যে, এই দারিদ্রে্যর মধ্যে এমন কিছু সমস্যা রয়েছে যেগুলো কেবল সরাসরি সম্পদ পুনর্বণ্টনের মাধ্যমেই সমাধান করা সম্ভব নয়। একবার ভাবুন সেই ব্যক্তিটির কথা যিনি একজন ভিক্ষুককে দেখে দয়াপরবশ হয়ে পড়েন কিন্তু তার হাতে একটি কানাকড়িও ছুড়ে দেন না। কারণ তার ধারণা টাকা-পয়সা হাতে গেলেই সে তা মদের পেছনে খরচ করে ফেলবে। হ্যারিংটন অবশ্য তার গ্রন্থের কোথাও একথা বলেননি যে, গরিব মানুষ তাদের স্বভাব বৈশিষ্ট্যের কারণেই দরিদ্র। তবে ধারণাটি নিয়ে বিতর্ক তৈরির দরজাটি তিনি খুলে দিয়েছিলেন। এরই সূত্র ধরে হ্যারিংটনের একসময়কার আড্ডার সঙ্গী ড্যানিয়েল প্যাট্রিক মইনিহানের একটি প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে রোনাল্ড রিগান প্রশাসনের উপদেষ্টা এডওয়ার্ড-সি ব্যানিফিল্ড মন্তব্য করেছেন, ‘নিম্নশ্রেণীর একজন মানুষ মুহূর্তের হিসেবে বেঁচে থাকে। শরীরিক প্রবণতাই তার আচরণের  নিয়ামক। এ কারণেই সে এতটা নিঃস্ব। যেটা তার ভোগে আসে না সেটাকেই সে অর্থহীন মনে করে। সে ভঙ্গুর প্রকৃতির এবং তার আত্মশক্তি নিঃশেষিত। রিগান আমলেই ‘দারিদ্রের সংস্কৃতি’ রক্ষণশীল আদর্শের ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হতে শুরু করে। এই আদর্শ মনে করে যে, কম মজুরি কিংবা কর্মসংস্থানের অপ্রতুলতার কারণে দারিদ্রে্যর সৃষ্টি হয় না। বরং দারিদ্রে্যর কারণ হচ্ছে জীবনের প্রতি খারাপ দৃষ্টিভঙ্গী ও ত্রুটিপূর্ণ জীবনাচরণ। গরিবরা নৈতিকদিক থেকে স্খলিত এবং উচ্ছৃঙ্খল, নেশা ও অপরাধের প্রতি আসক্ত। তারা কৃতজ্ঞতাবোধ বিবর্জিত। টাকা-পয়সা দিয়ে তাদের মোটেই বিশ্বাস করা যায় না।

তাদের বৈষয়িকভাবে সাহায্য করা মানেই হচ্ছে তাদের নৈতিক স্খলনের পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়া।

এ কারণেই ডেমোক্র্যাট এবং রিপাবলিকান উভয় দলেরই মনে হয়েছে, দারিদ্র্যময়, বরং দারিদ্রে্যর সংস্কৃতিই দূর করতে হবে। ১৯৯৬ সালে ক্লিনটন প্রশাসন এ লক্ষ্যে একটি আইনও প্রণয়ন করেছিল যার মাধ্যমে গরিবদের জন্য আবাসন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হয়। একদশক সময় পেরিয়ে আজকের দিনেও এবং মার্কিন অর্থনীতির নিম্নগতির কারণে মধ্যবিত্তরা ক্রমশ দরিদ্র জনগোষ্ঠীতে পরিণত হওয়া সত্ত্বেও ‘দারিদ্র্য সংস্কৃতি’র ধারণা ও কার্যক্রম অভিন্নই থেকে গেছে। দরিদ্র মানুষকে এখনো সংশোধনের মুখোমুখি হতে হয়। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বলয় থেকে সুবিধা পেতে হলে তাকে স্বভাব বৈশিষ্ট্য ও মাদক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়। কারণ দারিদ্র্য সংস্কৃতি তত্ত্ব বলছে, গরীবরা স্বভাবতই অপরাধ প্রবণ। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা কর্মসূচি থেকে কোনো ধরনের সুবিধা পেতে এমনকি তাদের আঙ্গুলের ছাপ পর্যন্ত পরীক্ষা করা হয়। তাদের কোনো অপরাধে জড়িত থাকার নজির আছে কিনা কম্পিউটার থেকে তাও খুঁজে বের করা হয়। বেকারত্ব এখনো দারিদ্রে্যর একটি কারণ হিসেবে বিবেচিত। গত বছরও যুক্তরাষ্ট্রের ১২টি অঙ্গ রাজ্যে বেকারদের চাকরি দেওয়ার আগে মূত্রপরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী মিট রমনি এবং নেট গিনরিচও বলেছেন, একজন বেকারকে চাকরি পেতে হলে কিংবা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বলায় থেকে কোনো সুবিধা পেতে হলে তাকে অবশ্যই মাদক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।

মাইকেল ক্যারিংটন যেই ‘দরিদ্র সংস্কৃতি’কে জনপ্রিয় করার জন্য এত চেষ্টা করেছিলেন সেই ‘দারিদ্র্য-সংস্কৃতি’কে এখন যেভাবে কাজে লাগানো হচ্ছে তা দেখে তিনি কী বলতেন? ১৯৮০-এর দশকে তার সঙ্গে আমার কাজ করার সুযোগ হয়েছিল। তিনি কোনোদিনই ‘দারিদ্রে্যর সংস্কৃতি’ নিয়ে কোনো কথা বলেননি।

আজ পঞ্চাশ বছর পর নতুন করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দারিদ্র্য আবিষ্কার করতে হলে শহরতলীর দরিদ্র মানুষ, চাকরিচ্যুত শ্রমিক এবং দেশটির বিশাল আকারের খেটে খাওয়া গরিব মানুষের অবস্থা বিবেচনায় নিতে হবে। আমাদেরও বুঝতে হবে যে, সাংস্কৃতিক বিচ্যুতি কিংবা চারিত্রিক ত্রুটিই দারিদ্রে্যর জন্মদাতা নয়। দারিদ্র্য হচ্ছে অর্থের অভাব।
একুশ নিউজ মিডিয়া এখন ফেস বুক এ Video News: www.EkushTube.com Visit us on FaceBook

http://budhbar.com/?p=8200
Cheap International Calls

Remembering the Other America


March marks the 50th anniversary of one of the most important books ever published about poverty in the United States. Michael Harrington, born and raised in St. Louis, wrote of a population invisible to most Americans.

“These, then, are the strangest poor in the history of mankind,” Harrington wrote in The Other America. “They exist within the most powerful and rich society the world has ever known. Their misery has continued while the majority of the nation talked of itself as being ‘affluent’ and worried about the neuroses in the suburbs. In this way tens of millions of human beings became invisible. They dropped out of sight and out of mind; they were without their own political voice.”

Harrington wrote that researchers had concluded that there were 50 million poor living in the United States in the early 1960s, but admitted that he too had trouble believing the figures because they went against the popular perception of the United States as a prosperous society.

Though Harrington sprinkled in policy prescriptions throughout The Other America—mostly calls for a more active federal government—his main goal was to make American poverty visible to a people so removed from its effects that they often thought it had disappeared.

In many respects, he succeeded. The Other America not only became an immediate bestseller, it also had an impact at the highest levels of the government. Both John F. Kennedy and Lyndon Johnson were early readers of the book, and Harrington has often been credited with influencing Johnson’s “War on Poverty.”

Harrington believed that poverty must be at the top of the political agenda and challenged those who argued that American poverty wasn’t comparable to the poverty faced by those in other countries. “What shall we tell the American poor, once we have seen them? Shall we say to them that they are better off than the Indian poor, the Italian poor, the Russian poor? That is one answer, but it is heartless,” Harrington wrote. “I want to tell every well-fed and optimistic American that it is intolerable that so many millions should be maimed in body and in spirit when it is not necessary that they should be. My standard of comparison is not how much worse things used to be. It is how much better they could be if only we were stirred.”

Harrington continued to write books following the publication of The Other America, but none of his subsequent books caught the public’s attention in the same way.  Many of his other books, articles, and lectures dealt with socialism, a political philosophy that he believed offered a corrective to American capitalism, which he thought put too much power in the hands of unelected business leaders.

The Other America remains the St. Louis native’s defining work, and continues to be a touchstone for many who believe the issues of inequality remain invisible. Since its original publication in 1962, more than 1 million copies have been sold.

Not long before he died in 1989, friends and colleagues, including Cesar Chavez and Edward Kennedy, honored Harrington for his commitment to America’s poor at a ceremony in New York.

“I see Michael Harrington as delivering the Sermon on the Mount to American,” then Senator Kennedy said to the assembled. “Among veterans in the War on Poverty, no one has been a more loyal ally when the night was darkest.”

—Jody Sowell, Public Historian

 ***

Other books about poverty with St. Louis connections

The Other American: The Life of Michael Harrington (Maurice Isserman)

This excellent biography of Harrington examines his evolution as a social justice activist and includes details of his personal life, including his early days in St. Louis.

One Nation, Underprivileged: Why American Poverty Affects Us All (Mark Rank)

Mark Rank, a professor of social welfare at Washington University, is one of the country’s preeminent scholars of poverty and inequality. This book is an accessible entry into many of the statistics about American poverty and its wide-reaching effects.

Savage Inequalities: Children in America’s Schools (Jonathan Kozol)

Few have written as urgently about American poverty’s impact on children as has Jonathan Kozol. Kozol visited more than 30 schools, including schools in East St. Louis, for this 1992 examination of inequalities seen in classrooms. Though it is now 20 years old, many of the same issues remain—as Kozol’s later work has proved.

Mapping Decline: St. Louis and the Fate of the American City (Colin Gordon)

This book examines the ways that poverty and urban decline have affected one city—St. Louis. It is a deep examination of the country’s urban crisis through the lens of one city, and is worth a read for the graphics alone.


 

ল্যাটিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশসহ আফ্রিকার কয়েকটি দেশে এদেশের তৈরি পোশাকের পর্যাপ্ত চাহিদা রয়েছে


তৈরি পোশাকের নয়াবাজারে ঢুকতে পারছে না বাংলাদেশ

ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, চিলি, উরুগুয়ে, পর্তুগালসহ ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলোতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের দারুণ চাহিদা। একই অবস্থা আফ্রিকার কয়েকটি দেশে। তবে এসব দেশের নতুন বাজারে ঢুকতে পারছেন না দেশের তৈরি পোশাকের উদ্যোক্তারা। সরকারি পর্যায়ে নানা জটিলতা এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে বাংলাদেশের কোনো দূতাবাস না থাকায় এ সমস্যা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
দেশের সবচেয়ে বড় রফতানি আয়ের খাত তৈরি পোশাক শিল্প। এ শিল্পের বাজার প্রতিনিয়তই বাড়ছে। দেশের রফতানি আয়ের প্রায় ৭৮ শতাংশই আসে এ খাত থেকে। মূলত বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি রফতানি হচ্ছে। সাড়ে ১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের এ শিল্পটি বাজার সম্প্রসারণের জন্য নানা উদ্যোগ নিলেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের দূতাবাস অথবা কাউন্সিলিং সেন্টার না থাকায় উদ্যোগগুলো কাজে লাগছে না।
এদিকে পোশাক শিল্পের নতুন বাজার খুঁজতে গিয়ে গত বছর বিজিএমইএর একটি প্রতিনিধি দল ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, চিলি, উরুগুয়ে, পর্তুগালসহ ল্যাটিন আমেরিকার আরও কয়েকটি দেশ ভ্রমণ করে। এ ভ্রমণের ফলাফল হিসেবে সম্প্রতি শেষ হওয়া বাটেক্সপো মেলায় উপরোক্ত দেশগুলোর ক্রেতাদের অংশগ্রহণ এবং এদেশ থেকে তারা পোশাক কেনার জন্য স্পট অর্ডারও দিয়েছেন।
এবারের বাটেক্সপো মেলায় মোট ৬৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের স্পট অর্ডার পেয়েছেন এদেশের পোশাক শিল্প মালিকরা। পাশাপাশি আরও ৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্ডার নিয়ে আলোচনা চলছে। কিন্তু অর্ডার পেলেও সেসব দেশে বাংলাদেশের দূতাবাস বা কাউন্সিলিং সেন্টার না থাকায় রফতানি কার্যক্রম দ্রুত করা সম্ভব হচ্ছে না।
যেসব দেশে বাংলাদেশের দূতাবাস রয়েছে সেসব দেশে বাণিজ্যিক কর্মকর্তা না থাকায় রফতানি কার্যক্রম পরিচালনা করতে অনেক সময় লেগে যায়। ফলে বাংলাদেশকে প্রতি বছরই কোনো না কোনো বায়ার হারাতে হচ্ছে।
বর্তমানে জাতিসংঘের সদস্যভুক্ত ১৯৩টি দেশের মধ্যে মাত্র ৩৯টি দেশে বাংলাদেশের দূতাবাস অথবা কাউন্সিলিং সেন্টার রয়েছে।
একদিকে নতুন বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে এ শিল্পকে যতই এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে বিজিএমইএ, অন্যদিকে সরকারের কূটনৈতিক পর্যায়ে জোর লবিংয়ের অভাবে বিশেষ করে আফ্রিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন দেশে দূতাবাস না থাকায় দেশগুলোতে পোশাক রফতানি করতে পারছেন না রফতানিকারকরা। ল্যাটিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশসহ আফ্রিকার কয়েকটি দেশে এদেশের তৈরি পোশাকের পর্যাপ্ত চাহিদা রয়েছে বলেও জানিয়েছে বিজিএমইএর একটি সূত্র।
এশিয়ার অনেক দেশে দূতাবাস থাকলেও বাণিজ্যিক পরামর্শক না থাকায় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারছেন না অনেক ব্যবসায়ী। চীন, জাপান, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ আরও কয়েকটি দেশেও পোশাক রফতানির অর্ডার পেয়েছেন দেশের ব্যবসায়ীরা। কিন্তু দ্রুত ভিসাপ্রাপ্তি এবং দূতাবাসগুলোতে বাণিজ্যিক লবিস্ট না থাকার কারণে খুব সহজে রফতানি করতে পারেছেন না পোশাক শিল্প মালিকরা।
বাংলাদেশ গার্মেন্ট মেনুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী বলেন, নতুন বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে কয়েক বিলিয়ন মার্কিন ডলার রফতানি আয় করতে পারবে এ দেশ। ফলে দেশের অর্থনীতি আরও মজবুত হবে। এ ব্যাপারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনেক আশার কথা শুনিয়েছেন; কিন্তু এখনও কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ আমাদের চোখে পড়েনি।
তিনি আরও বলেন, এরই মধ্যে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, চিলিসহ দক্ষিণ আফ্রিকায় বাজার সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু এ বাজার ধরে রাখার জন্য এবং সম্প্রসারণের জন্য ব্যবসায়ীদের সে দেশগুলোতে যেতে হয়। কিন্তু আমরা তা পারছি না। ফলে বাজার সম্প্রসারণ হচ্ছে না।
বাংলাদেশ নিটঅয়্যার মেনুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম এ বিষয়ে গতকাল আমার দেশকে বলেন, বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার পর যেমন ইউরোপ-আমেরিকায় তৈরি পোশাকের ব্যাপক চাহিদা সৃষ্টি হয়েছে, তেমনি নতুন বাজারও তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, আফ্রিকার অনেক দেশ আছে যেসব দেশে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক তৃতীয় কোনো দেশ থেকে রফতানি হচ্ছে; কিন্তু এ সুযোগ বাংলাদেশ নিতে পারছে না।
আমাদের সময়, আলোচনা, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, জনকন্ঠ, ডেসটিনি, দিগন্ত, দিনের শেষে, নয়া দিগন্ত, প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ভোরের কাগজ, মানবজমিন, মুক্তমঞ্চ, যায় যায় দিন, যায়যায়দিন, যুগান্তর, সংগ্রাম, সংবাদ,চ্যানেল আই, বাঙ্গালী, বাংলা ভিশন, এনটিভি,এটিএন বাংলা, আরটিভি, দেশ টিভি, বৈশাখী টিভি, একুশে টিভি, প্রবাস, প্রবাসী, ঠিকানা, জাহান হাসান, বাংলা, বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস, লিটল বাংলাদেশ, ইউএসএ, আমেরিকা, অর্থনীতি, প্রেসিডেন্ট ওবামা,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,অর্থ, বাণিজ্য, শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, রাজাকার, আল বদর, Jahan, Hassan, Ekush, bangla, desh, Share, Market, nrb, non resident, los angeles, new york, ekush tube, ekush info,