রাজধানীতে দ্রুত ট্যাক্সিক্যাব নামানোর পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে…


৬ হাজার ৭৪০ ট্যাক্সিক্যাবের লাইসেন্স প্রদানে দরপত্র


ইসমাইল আলী
রাজধানী ও আশপাশ এলাকায় চলাচলের জন্য নতুন ৬ হাজার ৭৪০টি ট্যাক্সিক্যাবের লাইসেন্স দেবে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়। সংশোধিত ‘ট্যাক্সিক্যাব সার্ভিস গাইডলাইন-২০১০’-এর আলোকে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। আগ্রহী প্রতিষ্ঠানকে চলতি মাসের মধ্যে আবেদন করতে হবে। গাইডলাইন অনুযায়ী লাইসেন্স পাওয়া প্রতিষ্ঠানকে ন্যূনতম ২৫০টি ট্যাক্সিক্যাব আমদানি ও পরিচালনা করতে হবে।
এ প্রসঙ্গে যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বণিক বার্তাকে বলেন, রাজধানীতে বর্তমানে ট্যাক্সিক্যাব নেই বললেই চলে। যেগুলো আছে, সেগুলোর অবস্থা খুবই খারাপ। এ কারণে রাজধানীতে দ্রুত ট্যাক্সিক্যাব নামানোর পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এজন্য ট্যাক্সিক্যাব সার্ভিস গাইডলাইন-২০১০-এর আলোকে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। নীতিমালায় কিছুটা পরিবর্তন এনে সর্বনিম্ন ২৫০টি ট্যাক্সিক্যাব আমদানির সুযোগ দেয়া হচ্ছে।
জানা গেছে, লাইসেন্স পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর আমদানি করা ট্যাক্সিক্যাবের ইঞ্জিনক্ষমতা ১৫০০ বা তার বেশি সিসির হতে হবে। তবে ১ শতাংশ কম হলে তা ১৫০০ সিসি হিসেবেই বিবেচ্য হবে। তৃতীয় কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধানে (ক্যাবএক্স) এগুলো পরিচালনা করা যাবে না। আগ্রহী প্রতিষ্ঠানকে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) বরাবর আবেদন করতে হবে। অনুমোদন পাওয়ার পর জামানত বাবদ ১০ লাখ টাকার পে-অর্ডার (ফেরেযাগ্য) জমা রাখতে হবে।
পরিবেশবান্ধব হিসেবে সিএনজি বা পেট্রলচালিত ট্যাক্সিক্যাব আমদানি করতে হবে। মোটর কার, স্টেশন ওয়াগন ও মাইক্রোবাস ধরনের মোটরযান ট্যাক্সিক্যাব হিসেবে চালানোর অনুমতি দেয়া হবে। এগুলো এসি বা নন-এসি হতে পারে। লাইসেন্স পাওয়া প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ নতুন বা রিকন্ডিশনড গাড়ি ট্যাক্সিক্যাব হিসেবে আমদানি করতে পারবে। তবে তিন বছরের বেশি পুরনো গাড়ি আমদানি করা যাবে না। এক্ষেত্রে নন-এসি ট্যাক্সিক্যাব আকাশি নীল, এসি ক্যাব হলুদ ও দুই হাজার বা তদূর্ধ্ব ক্যাব সবুজ রঙ করতে হবে।
অনুমতি পাওয়ার চার মাসের মধ্যে ট্যাক্সিক্যাব পরিচালনা শুরু করতে হবে। এক্ষেত্রে ব্যর্থ হলে লাইসেন্স বাতিল ও জামানত বাজেয়াপ্ত করা হবে। আমদানি করা ট্যাক্সিক্যাব ঢাকা মহানগরী ছাড়াও নারায়ণগঞ্জ, সাভার, টঙ্গী, মুন্সীগঞ্জ, দোহার, মাওয়া, জয়দেবপুর চৌরাস্তা হয়ে গাজীপুর ও মানিকগঞ্জের আরিচা এলাকায় ভাড়ায় চালানো যাবে। অনুমোদন পাওয়া প্রতিটি কোম্পানি ২৪ ঘণ্টা সেবা দিতে বাধ্য থাকবে। প্রতিটি ট্যাক্সিক্যাবে অবশ্যই মিটার সংযোজন ও সে অনুযায়ী ভাড়া আদায় করতে হবে।
লাইসেন্সের জন্য আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানকে অবশ্যই কর শনাক্তকরণ নম্বরধারী (টিআইএন) প্রাইভেট বা পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি হতে হবে। প্রতিষ্ঠানটির পরিশোধিত মূলধন থাকতে হবে ন্যূনতম আড়াই কোটি টাকা। নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ট্যাক্সিক্যাব রাখার গ্যারেজ বা ডিপো ও মেরামতের ব্যবস্থা, নিজস্ব রেডিও লিংক, সেলফোন ও জিপিএস ব্যবস্থা-সংবলিত নিয়ন্ত্রণকক্ষ, ভেহিকল ট্র্যাকিং ব্যবস্থাও থাকতে হবে। কোনো ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠান ট্যাক্সিক্যাব আমদানির জন্য আবেদন করতে পারবে না।
এ প্রসেঙ্গ বিআরটিএর পরিচালক (প্রকৌশল) মো. সাইফুল হক বলেন, তিন বছর ধরে চেষ্টা করেও রাজধানীতে ট্যাক্সিক্যাব নামানো সম্ভব হয়নি। একবারে ন্যূনতম এক হাজার ট্যাক্সিক্যাব আমদানির জন্য এর আগে দুবার দরপত্র আহ্বান কর হয়। কিন্তু রাজধানীতে কোনো ক্যাবই নামানো যায়নি। এ কারণে এবার নীতিমালা আংশিক সংশোধন করে ন্যূনতম ২৫০টি ট্যাক্সিক্যাব নামানোর সুযোগ দেয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সভাপতি ও নগরবিদ সারোয়ার জাহান বলেন, একটি দেশের রাজধানীর জন্য উপযোগী ও উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য অবশ্যই শক্তিশালী ট্যাক্সিক্যাবব্যবস্থা থাকতে হবে। এতে ব্যক্তিগত গাড়ির চাপ অনেকাংশে কমে যাবে। কেউ সহজে ট্যাক্সিক্যাব সুবিধা পেলে ব্যক্তিগত গাড়ির দিকে ঝুঁকবে না। এক্ষেত্রে বিআরটিএর উদ্যোগটি অবশ্যই প্রশংসনীয়। এক হাজারের পরিবর্তে ২৫০ ট্যাক্সিক্যাব আমদানি ও পরিচালনার অনুমতি দেয়া হলে রাজধানীতে এ সার্ভিস দ্রুত চালু করা যাবে।
উল্লেখ্য, কঠিন শর্তের কারণে ২০১১ সালের অক্টোবরে অনুমতি নিয়েও ক্যাব নামাতে ব্যর্থ হয় সারিকা ট্রেডার্স ও কর্ণফুলী ওয়ার্কস লিমিটেড। পরে তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হয়। গত বছর অক্টোবরে দরপত্রে অংশ নেয় নিটল মোটরস লিমিটেড, নোফেল মোটরস লিমিটেড ও বাংলাদেশ এনভায়রনমেন্ট ভেহিকল কোম্পানি লিমিটেড। কিন্তু শর্ত পূরণ না হওয়ায় এ তিন কোম্পানি ট্যাক্সিক্যাব আমদানির লাইসেন্সই পায়নি।

সূত্রঃ http://bonikbarta.com/?view=details&pub_no=324&menu_id=11&news_id=43606&news_type_id=1

তৈরি পোশাক খাত:শ্রমিকসংকটের আশঙ্কা:বাংলাদেশে কারখানা সরিয়ে আনছে চীনা উদ্যোক্তারা:রেমিট্যান্সপ্রবাহে বিশাল ধস নেমেছে


তৈরি পোশাক খাত
শ্রমিকসংকটের আশঙ্কা
বদরুল আলম

দেশের প্রধান রফতানি খাত তৈরি পোশাকশিল্প সচল রেখেছেন প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক। তবে শিল্পমালিকরা বলছেন, এ খাতে শ্রমিক প্রয়োজন ৫০ লাখ। এ হিসাবে এখনই ১০ লাখ শ্রমিকের ঘাটতি রয়েছে। এর মধ্যেই ঘটছে তাজরীন ফ্যাশনসের মতো ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা, যা কর্মপরিবেশ নিয়ে উদ্বিগ্ন করে তুলছে শ্রমিকদের। এর ওপর আছে মজুরি নিয়ে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ। সব মিলিয়ে ভবিষ্যতে বড় ধরনের শ্রমিকসংকটে পড়তে যাচ্ছে বার্ষিক ২০ বিলিয়ন ডলার এনে দেয়া খাতটি।
শ্রমিকসংকটের কথা স্বীকার করছেন খাতসংশ্লিষ্টরাও। তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সহসভাপতি ফারুক হাসান এ প্রসঙ্গে বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সামনের দিনগুলোয় ভয়াবহ শ্রমিকসংকটের আশঙ্কা করছি আমরা। এর মূল কারণ, শ্রমিকরা আস্থা হারিয়ে ফেলেছেন। এ আস্থার সংকটে উৎপাদন ব্যাহত হবেই।’

জানা যায়, তৈরি পোশাকের মূল সরবরাহকারী চীন তাদের অবস্থান থেকে ক্রমেই ছিটকে যাচ্ছে। দেশটিতে শ্রমের মজুরি বেড়ে যাওয়াই এর প্রধান কারণ। কয়েক বছর আগে চীন বিশ্বের মোট চাহিদার ৪২ শতাংশ তৈরি পোশাক সরবরাহ করলেও এখন তা ৩৭ শতাংশে নেমে এসেছে। ভারতেও শ্রমের মজুরি প্রতি বছরই বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের সামনে সুযোগ এসেছে এ খাতে নিজেদের অবস্থান আরও সংহত করার। তবে মজুরি ও উপযুক্ত কর্মপরিবেশের অভাবে এ সুযোগ কাজে লাগানো কতটা সম্ভব, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
Bangladesh fire victims want old jobs back

Bangladesh fire victims want old jobs back

খাতসংশ্লিষ্ট সংগঠন সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে প্রতি মাসে ১৫-২০ শতাংশ শ্রমিক পোশাক কারখানা ছেড়ে যাচ্ছেন। তিন বছর আগেও এ হার ছিল ৫-১০ শতাংশ। কৃষিকাজে উপার্জনের সুযোগ বেড়ে যাওয়ায় গ্রামে ফিরে যেতে চাইছেন অনেকেই। দিনে ৩০০-৩৫০ টাকা হিসাবে একজন কৃষি শ্রমিক মাসে ৯-১০ হাজার টাকা আয় করতে পারছেন।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষক শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এখন থেকে আগামী মার্চ পর্যন্ত এ হারে আয় করতে পারবেন তারা। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জে অনেক কারখানা আছে, যেগুলোর শ্রমিকরা এখন মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমাচ্ছেন। ফলে বাধ্য হয়েই কারখানাগুলোকে সারা বছরই শ্রমিক নিয়োগে চেষ্টা চালাতে হচ্ছে। ঢাকাসহ আশপাশ এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বেশির ভাগ কারখানায়ই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ঝুলছে।

শ্রমিকদের মধ্যে পোশাক কারখানা ছেড়ে দেয়ার প্রবণতা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের ঘটনা। এর সর্বশেষ উদাহরণ আশুলিয়ার তাজরীন ফ্যাশনস। এ কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শতাধিক মানুষ মারা যাওয়ার পর আতঙ্কিত শ্রমিকদের অনেকেই এখন এ পেশা ছেড়ে দেয়ার কথা ভাবছেন। সংগঠনগুলো তাজরীনের পাশের কারখানাগুলোয় শ্রমিকদের কাজের সুযোগ করে দেয়ার প্রস্তাব দিলেও তাতে সাড়া মিলছে না।

তাজরীন ফ্যাশনসের অপারেটর শামসুল হক এ বিষয়ে বলেন, ‘সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এ কারখানায় আর কাজ করব না। অন্য কারখানায়ও যেতে চাই না। বেশির ভাগ কারখানার পরিবেশই প্রায় একই রকম। তাই কাজ পেলেও নিরাপত্তা ঝুঁকি কমবে না।’

শ্রম পরিবেশ নিয়ে শ্রমিকদের অভিযোগগুলোর সত্যতা মেলে পোশাক খাত নিয়ে করা সাম্প্রতিক একটি সমীক্ষায়। সমীক্ষা অনুযায়ী, পোশাক খাতের শ্রমিকপর্যায়ের ৬০ দশমিক ৯ শতাংশ চাকরিই অস্থায়ী। ৮০ শতাংশ কারখানার প্রশিক্ষণ সুবিধা নেই। ৫২ দশমিক ৩ শতাংশ কারখানায় চিকিত্সা সুবিধা নেই। পরিবহন সুবিধা দেয় না, এমন কারখানার হার ৯১ দশমিক ৮ শতাংশ।

অবশ্য শ্রমিক প্রতিনিধিরা এ সংকট সাময়িক বলে ধারণা করছেন। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ জাতীয় শ্রমিক জোটের সভাপতি শিরিন আখতার বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো পোশাক শ্রমিকদের মধ্যে এক ধরনের ভীতি সৃষ্টি করেছে। সাময়িকভাবে এর প্রভাব পড়তে পারে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শ্রমিকসংকট সাময়িক বা দীর্ঘমেয়াদি যা-ই হোক, এ খাতের সার্বিক কর্মপরিবেশ উন্নয়নে এখনই উদ্যোগ প্রয়োজন। কারণ এ খাতের মূল আকর্ষণই হচ্ছে শ্রমের সস্তা মজুরি।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা সংস্থার মহাপরিচালক মুস্তফা কে মুজেরী বলেন, সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে শ্রমিকরা খাত পরিবর্তনে বাধ্য হবেন কি না, তা এখন প্রশ্নবিদ্ধ ও সময়সাপেক্ষ। তবে এটাও ঠিক, তাদের হাতে খুব বেশি বিকল্পও নেই।

পোশাকশিল্প খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, বেশির ভাগ শ্রমিকই নারী, যারা শহরে এসে একসময় বাসাবাড়িতে কাজ করতেন। এ পেশা ছেড়ে তারা আর আগের পেশায় ফিরে যেতে চাইবেন না। আবার গ্রামে কৃষিকাজের সুযোগ থাকলেও কায়িক শ্রম বেশি হওয়ায় পুরুষরা তাতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। এ ক্ষেত্রে বিকল্প হতে পারে— দেশের বাইরে চলে যাওয়া। কিন্তু সেখানেও রয়েছে নিরাপত্তার অভাব। কাজেই এ মুহূর্তে পোশাক কারখানাগুলোর উচিত কর্মপরিবেশের উন্নয়ন ঘটিয়ে বিশাল এ কর্মী বাহিনীকে ধরে রাখা।

বাংলাদেশে কারখানা সরিয়ে আনছে চীনা উদ্যোক্তারা
পোশাক শিল্পে সস্তা শ্রমের সুযোগ
সাইদুল ইসলাম

সস্তা শ্রমের সুযোগ নিয়ে বাংলাদেশে পোশাক শিল্প কারখানা সরিয়ে আনছে বিশ্ব অর্থনীতির বৃহত্ শক্তি চীন। চীনা উদ্যোক্তারা বাংলাদেশে গার্মেন্টস তৈরি করে তা নিজেদের দেশের ভোক্তাদের জন্য রপ্তানিও করছে। বর্তমানে দেশে চীনা পোশাক শিল্প প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা একশ ছাড়িয়ে গেছে। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের উদ্যোক্তারাও চীনের মধ্যবিত্ত শ্রেণীর জন্য কম দামে পোশাক রপ্তানি করছে। জানা গেছে, চীনের স্থানীয় খোলাবাজারে সবচেয়ে বড় খুচরা বিক্রি প্রতিষ্ঠান ভ্যানসেল ইতিমধ্যে কিছু প্যান্ট এবং শার্টের অর্ডার বাংলাদেশকে দিয়েছে। এছাড়া পশ্চিমা ক্রেতা ওশান এবং এইচ এন্ড এম চীনা বাজারে পোশাক সরবরাহের জন্য বাংলাদেশের কারখানাগুলোতে কাজ করাচ্ছে।

বর্তমানে একজন চীনা শ্রমিকের সর্বোচ্চ বেতন প্রতিমাসে চারশ থেকে পাঁচশ মার্কিন ডলার। আর বাংলাদেশের একজন শ্রমিকের সর্বোচ্চ বেতন ৭০ থেকে ১০০ মার্কিন ডলার। চীনা বিনিয়োগকারীদের মতে, এ পরিমাণ বেতন দিয়ে অনেক সময় কারখানা চালাতে গিয়ে উত্পাদন ব্যয় বেড়ে যায়। রপ্তানির ক্ষেত্রে অনেক সময় পুষিয়ে উঠা সম্ভব হলেও অভ্যন্তরীণ বাজারে কম মূল্যে পোশাক রপ্তানি করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। কারণ ১৩০ কোটি জনসংখ্যার দেশ চীনের সবচেয়ে বড় অংশ মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত।

চীনের বন্দর শহর নিনগোতে একটি গার্মেন্টস কারখানা চালান সেখানকার নাগরিক রোজা দাদা। দৈনিক ইত্তেফাককে তিনি বলেছেন, চীনে কারখানা চালানো এখন দুরূহ হয়ে পড়েছে। গত দু’ বছরে শ্রমিকদের বেতন যে হারে বেড়েছে তাতে বাংলাদেশে কারখানা সরিয়ে আনা ছাড়া কোন উপায় ছিলো না। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশে আরেক চীনা প্রতিষ্ঠান ফোর সিজন ফ্যাশনের জন্য কাজ করেন। রোজা দাদা আরো বলেন, তিনি শুধু পণ্য ইউরোপ বা যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির জন্য ঢাকায় অফিস খোলেননি। তিনি চীনে পোশাক রপ্তানির বিষয়টিও তদারকি করছেন। চীনা উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ থেকে গার্মেন্টস আমদানি করলে তাদের খরচ চীন থেকে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ কম পড়ে।

বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা জানিয়েছেন, তারা ৯০ শতাংশ গার্মেন্টস পণ্য যেমন টি-শার্ট, জিন্স এবং স্যুয়েটারে শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা পায়। তাদের মতে, শুল্কমুক্ত সুবিধা অব্যাহত থাকলে চীনে রপ্তানি আরো বাড়বে। কয়েক বছর আগে চীনে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির পরিমাণ দুই কোটি মার্কিন ডলারের মতো থাকলেও বর্তমানে তা ১৫ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে এ রপ্তানি ৫০ কোটি ডলারে দাঁড়াবে বলে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা আশা করছেন।

তবে চীনা উদ্যোক্তাদের কারখানা সরিয়ে আনার খবরে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা কিছুটা শংকিত। একজন রপ্তানিকারক নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইত্তেফাককে বলেছেন, চীনা উদ্যোক্তারা এখানে ছোট একটি কারখানা প্রতিষ্ঠা করে। এর আদলে তারা বড় বড় ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে অর্ডার নিয়ে আসে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সাব-কন্ট্রাক্টে কাজ করিয়ে নিয়ে তারা পুরো মুনাফা নিজেদের পকেটে পুরছে। এছাড়া চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো দরকারি কাঁচামাল তাদের নিজ দেশ থেকে আমদানি করার কারণে বাংলাদেশের পশ্চাত্সংযোগ শিল্প (ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ) ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলেও মত দেন তিনি।

নভেম্বরে রেমিট্যান্স এসেছে এক হাজার ৯৮ মিলিয়ন ডলার

নিজস্ব প্রতিবেদক
রেমিট্যান্সপ্রবাহে যে ইতিবাচক ধারা শুরু হয়েছিল তাতে বিশাল ধস নেমেছে। গত অক্টোবরের চেয়ে ৩৫৫ মিলিয়ন ডলার কম রেমিট্যান্স এসেছে নভেম্বরে। এমনকি চলতি অর্থবছরের যেকোনো মাসের চেয়ে কম রেমিট্যান্স এসেছে নভেম্বরে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, নভেম্বরে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১ হাজার ৯৮ মিলিয়ন ডলার। অক্টোবরে এর পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৪৫৩ মিলিয়ন, সেপ্টেম্বর ও আগস্টে ছিল ১ হাজার ১৭৮ মিলিয়ন এবং জুলাইয়ে ছিল ১ হাজার ২০১ মিলিয়ন ডলার।

নভেম্বরে রাষ্ট্রায়ত্ত চার ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স এসেছে ৩৫৩ মিলিয়ন ডলার। অক্টোবরে আসে ৪৪৬ মিলিয়ন ডলার। বেসরকারি খাতে ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে নভেম্বরে এসেছে ৩০৬ মিলিয়ন ডলার, অক্টোবরে আসে ৩৯৮ মিলিয়ন ডলার। সব মিলিয়ে বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে নভেম্বরে রেমিট্যান্স এসেছে ৭১৭ মিলিয়ন ডলার, অক্টোবরে যার পরিমাণ ছিল ৯৬৯ মিলিয়ন ডলার।

এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কেউ মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে ব্যাংকাররা জানান, দুই ঈদের কারণে রেমিট্যান্সপ্রবাহ বেড়েছিল। এখন জনশক্তি রফতানি কমে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে রেমিট্যান্সপ্রবাহে।
Sources: http://www.bonikbarta.com/?view=details&pub_no=162&menu_id=1&news_id=20414&news_type_id=1
http://www.bonikbarta.com/?view=details&pub_no=162&menu_id=11&news_id=20411&news_type_id=1