পার্থকে নিয়ে বিপাকে শেখ হেলাল পরিবার


পার্থকে নিয়ে বিপাকে শেখ হেলাল পরিবার

June 19, 2013
Andalib Parthoঢাকা:মেয়ের জামাইকে নিয়ে বিপাকেই পড়েছেন প্রধানমন্ত্রীর চাচাতো ভাই শেখ হেলাল উদ্দিন। কোনো কিছুতেই বাগে আনতে পারছেন না তাকে। বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্য হয়ে ও হরহামেশাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সরকারের মুখোরোচক সমালোচনা করে যাচ্ছেন তিনি। এই তিনির নাম আন্দালিব রহমান পার্থ। তিনি আঠারো দলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপির সভাপতি।

ভোলা সদরের সাংসদ আন্দালিব রহমান পার্থকে নিয়ে আওয়ামী লীগে ব্যাপক সমালোচনা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীকে­ নিয়ে তাঁর বক্তব্য ভাল ভাবে নিচ্ছেন না সরকারের নীতি নির্ধারকরা। শেখ হেলাল কেন পার্থ কে বোঝাতে পারেন না তা নিয়ে ও নানা কথা আছে আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে। শুধু তিনিই নন, আওয়ামী লীগের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম পার্থর মামা। ভাগ্নের কারণে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয় তাকেও। খালাতো ভাই জাতীয় সংসদের হুইপ নূর-ই-আলম লিটন চৌধুরী ও এর বাইরে নয়। তিনি ও সমালোচকের দায় এড়াতে পারেন না সহজে। খালু আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী। মামাতো ভাই ফজলে নূর তাপসও এ নিয়ে আন্দালিব রহমান পার্থের সঙ্গে কথা বলেছেন।

পার্থর ঘনিষ্ঠ সূত্র ঢাকাটাইমসকে জানায়, কদিন আগে বিজেপি নেতার বাসায় আওয়ামী লীগের তার ঘনিষ্ঠরা এ নিয়ে বৈঠক ও করেন। তারা পার্থকে হেফাজতে ইসলামের আন্দোলনের পক্ষে বক্তৃতা-বিবৃতি থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ করেন। এরপর থেকে অনেকটা গা ঢাকা দিয়ে আছেন বিজেপি চেয়ারম্যান।

এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য আন্দালিব রহমান পার্থর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ইউসুফ হোসেন হুমায়ুনকে হারিয়ে ভোলা সদরের এমপি হন পার্থ। বাবা নাজিউর রহমান মঞ্জুর হাত ধরেই রাজনীতিতে আসা পার্থের। সাবেক মন্ত্রী নাজিউরের জনপ্রিয়তা কাজে লাগিয়ে এলাকায় নিজের অবস্থান তৈরি করে ফেলেছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই শেখ হেলালের মেয়ে শেখ সায়রা রহমানকে বিয়ে করেছেন তিনি। এই দম্পতির দুই কন্যা মাহাম সানজিদা রহমান এবং দিনাবিনতে আন্দালিব।

ঢাকায় সেন্টযোসেফ ও ল্যাবরেটরি স্কুলে পড়া লেখা করেছেন পার্থ। লন্ডনে রলিং কনসইন থেকে ১৯৯৭ সালে সম্পন্ন করেন বার-অ্যাট-ল। ইংল্যান্ডের উল্ভার হ্যাম্পটন ইউনিভার্সিটির ছাত্র ছিলেন পার্থ। টিউশন নিয়েছেন হল্বর্ন কলেজ থেকে। তিনি লিংকন সইনের মেম্বার। দেশে ফিরে চার বছর কাজ করেন প্রখ্যাত আইনজীবী রফিক-উল হকের সঙ্গে।

পার্থ মনে করেন, ছাত্রলীগ যুবলীগ দিয়ে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা হবে না। সোনার বাংলা গড়তে হলে যে প্রবাসী শ্রমিকরা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে এদেশে টাকা পাঠায় তাদের মূল্যায়ণ করতে হবে। তাদের ভালোবাসতে হবে। যে পোশাক শ্রমিকরা ‘মেড ইন বাংলাদেশ’কে বিশ্বের কাছে পরিচিত করেছে তাদের সম্মান করতে হবে।
সোমবার জাতীয় সংসদে বাজেটের উপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) আন্দালিব রহমান পার্থ এ কথা বলেন।

পদ্মাসেতু, হলমার্ক, হেফাজতে ইসলাম, জঙ্গী, শাহবাগ, ভিওআইপিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকারের বিতর্কিত ভূমিকার সমালোচনা করে বক্তৃতা করেন তিনি। বিতর্কিত ভূমিকার জন্য দপ্তরবিহীন মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের পদত্যাগও দাবি করেন পার্থ।

ওয়ান ইলেভেনের সময়ে সরকারের নির্যাতন, অনিয়মের প্রসঙ্গ এনে তিনি বলেন, এজন্য দায়ী কোন সেনা কর্মকর্তার বিচার হয়নি।
পার্থের বক্তৃতার সময় সরকার দলীয় সদস্যরা হৈ চৈ করে প্রতিবাদ জানান। বক্তৃতা শেষে সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত ব্যক্তিগত আক্রমণের জবাব দিতে চাইলে স্পিকার তাকে থামিয়ে দিয়ে বলেন, আপনাকে পরে সময় দেওয়া হবে।

http://newstimes24.net/?p=10849

Advertisements

তথ্য আছে, আ.লীগ আবার আসবে: জয়


তথ্য আছে, আ.লীগ আবার আসবে: জয়.

আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জয়ের ব্যাপারে ‘আত্মবিশ্বাসী’ প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজিব ওয়াজেদ জয়।

মঙ্গলবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে যুবলীগ আয়োজিত ইফতার পূর্ব আলোচনা সভায় তিনি বলেন, “আমার কাছে তথ্য আছে আওয়ামী লীগ আগামীবার আবার ক্ষমতায় আসবে। বিএনপির মিথ্যা প্রচার মোকাবেলা করতেই হবে।”

আগামী ছয় মাস তরুণ ভোটারদের কাছে বিএনপি-জামায়াতের দুঃশাসন, দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরারও আহ্বান জানান জয়।

গত ১৬ জুলাই স্ত্রী ক্রিস্টিন ওভারমায়ার ও মেয়ে সোফিকে নিয়ে সজীব ওয়াজেদ দেশে আসেন। দেশের ফেরার পর সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির দেয়া ইফতার আয়োজনে অংশ নেন।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে আগামী ১০ বছরে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে দাবি করে তিনি বলেন, “বিএনপি ক্ষমতায় আসলে দেশ পেছন দিকে হাঁটবে। বাংলার মানুষ কখনোই বিএনপি-জামায়াতের সেসব দিনের কথা ভুলবে না।

২১ অগাস্টে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার কথা উল্লেখ করে জয় বলেন, “একুশে আগস্টের কথা আমরা ভুলিনি। আমার মা কে লক্ষ্য করে বোমা হামলা করা হয়েছিল। আওয়ামী লীগের ২৩ জন নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছিল, আহত হয়েছিলেন ৪০০ জন। আর এই হামলার মূল পরিকল্পনা করা হয়েছিল হাওয়া ভবনে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর ছেলে নিজে আমার মাকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন।”

“আমার মা সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে গেলেও আইভী রহমান বাঁচতে পারেননি। তিনি আমাকে নিজের সন্তানের মতোই স্নেহ করতেন। আমরা কিছুই ভুলিনি, ভুলব না। ২১ শে আগস্টের হত্যাকাণ্ডের বিচার হবেই।”

বিএনপি-জামায়াত জোটের সঙ্গে বর্তমান সরকারের আমলের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, “কোথায় সরকার ব্যর্থ হয়েছে? বিগত বিএনপির সাথে বর্তমান সরকারের তুলনা করে দেখুন। টিআইবি এতো অভিযোগ করে কিন্তু বিএনপির সময়ে টিআইবির জরিপে দুর্নীতিতে শীর্ষে ছিল বাংলাদেশ, এখন বাংলাদেশের অবস্থা ৪০ এর উপরে।”

বর্তমান সরকারের আমলে ব্যবসায়ীদের চাঁদা দিতে হয় না দাবি করে জয় বলেন, “হলমার্ক-ডেসটিনি নিয়ে এত কথা হয়, কিন্তু হাওয়া ভবনের কথা কি জাতি ভুলে গেছে? খাম্বার কথা ভুলে গেছে? বিএনপি সরকার ৫ বছর শুধু খাম্বা কিনেছে, বিদ্যুৎ দিতে পারেনি। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণেও বিএনপি-জামায়াত সরকার ছিল সম্পূর্ণ ব্যর্থ।”

দেড় কোটি মানুষ গত সাড়ে ৪ বছরে দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পেয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীর সভাপতিত্বে ইফতার মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মীজানুর রহমান, যুবলীগ নেতা হারুনুর রশীদ, ফজলুল হক প্রমুখ।

কে জানে গণতন্ত্রই এক দিন গুম হয়ে যায় নাকি এ দেশে!


গুম হয়ে যাচ্ছে গণতন্ত্র?
 

  

আসিফ নজরুল:

অধ্যাপক, আইন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। 
 

রোববারের পত্রিকা পড়ার পর আরও চিন্তিত হয়ে আছি। মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান বলেছেন, গুম ও নিখোঁজের কিছু ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সম্পৃক্ততার প্রমাণ পেয়েছে কমিশন। তাঁর এই সাহসী বক্তব্যের জন্য তাঁকে ধন্যবাদ; কিন্তু তিনি যা বলেছেন, তা উদ্বেগজনকও। এই উদ্বেগ আরও বেড়ে যায় যখন আমরা মিজানুর রহমান খানের লেখায় পাই গুমের একটি ঘটনার সঙ্গে র‌্যাবে থাকা একজন সেনাসদস্যের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ।

বাংলাদেশে বহু বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে র‌্যাব জড়িত ছিল। এ ধরনের ঘটনা বানানো হলেও র‌্যাবের একটি কৈফিয়ত থাকে। লাশ উদ্ধার হয় বলে তার ময়নাতদন্ত, সৎকার এবং ভবিষ্যতে বিচারের একটি সম্ভাবনা থাকে। গুমের ক্ষেত্রে এসব কিছুই থাকে না; থাকে না এমনকি ‘মৃত’ মানুষের জন্য প্রার্থনা করার সুযোগটুকু। এই পৈশাচিক অপরাধকে তাই নিকৃষ্টতম অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয় আইন ও নৈতিকতা—উভয় বিচারে। পৃথিবীর ইতিহাস বলে, যে দেশের সরকার যত বেশি ফ্যাসিস্ট, সেখানে তত বেশি গুমের ঘটনা ঘটে। কম্পুচিয়া, ভিয়েতনাম, কলম্বিয়া, নিকারাগুয়া, জিম্বাবুয়ের মতো দেশে এসব ঘটনা প্রায়ই ঘটত একসময়। ইলিয়াসের নিখোঁজের ঘটনা আবারও এই প্রশ্ন জন্ম দিয়েছে যে আমরা কি সেদিকে যাচ্ছি? নাকি এরই মধ্যে এমন এক রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছি, যেখানে জনগণের নিরাপত্তার বড় শত্রু স্বয়ং রাষ্ট্র!

অতীতের বিশাল বর্ণনা বাকি রাখি। সাম্প্রতিক সময়ের কিছু ঘটনাই চরম অস্বস্তির জন্ম দেয় আমাদের মনে। সাগর-রুনির হত্যাকাণ্ডের পর এর তদন্ত তদারকির দায়িত্ব স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীও নিয়েছেন—এ কথা বলেছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজে। পুলিশের আইজি হত্যাকাণ্ডের দুই দিন পর বলেছিলেন, তদন্তে প্রণিধানযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তদারকির দায়িত্ব নেওয়ার পরও সেই পুলিশি তদন্তের ফলাফল উচ্চ আদালতের ভাষায় কেমন করে তাহলে ‘জিরো’ হয়ে যায়! কেন এই তদন্তের দায়িত্ব অবশেষে দিতে হয় র‌্যাবকে, যে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেই রয়েছে তদন্ত ‘গুম’ করার বা সাজানোর অভিযোগ! এ দেশের ইতিহাসে বিদেশি কূটনীতিকের খুন হওয়ার কোনো নজির ছিল না। সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের কিছুদিন পর রাজধানীর সবচেয়ে নিরাপদ জায়গায় খুন হন একজন পদস্থ সৌদি কূটনীতিক। কেন প্রায় দুই মাস পরও এমন একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর খুনের তদন্তে কোনো অগ্রগতি নেই? কেন দেশকাঁপানো এমন দুটো ঘটনায় একজনকে আজও গ্রেপ্তার করতে পারল না পুলিশ? মিডিয়ার এত জিজ্ঞাসা সত্ত্বেও কোথায় গায়েব হয়ে গেল সুরঞ্জিতের ঘুষ কেলেঙ্কারির ঘটনা, যার কারণে উদ্ঘাটিত হয়নি সেই গাড়িচালক আলী আজম?

সবশেষে কেমন করে রাজধানীর সবচেয়ে প্রটেকটেড একটি রাস্তা থেকে উধাও হলেন বিরোধী দলের একজন প্রথম সারির নেতা? এ ঘটনার পর বিএনপি, এমনকি আওয়ামী লীগের নেতাদের সাবধানে চলাফেরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে প্রথম আলোতে। বড় রাজনীতিবিদদের গানম্যান আছে, সঙ্গী-সাথি আছে, খবর নেওয়ার নেটওয়ার্ক আছে। তাঁরা সাবধানে থাকতে হয়তো সমর্থ। কিন্তু আমাদের মতো সাধারণ মানুষের কী হবে? প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বেডরুমে নিরাপত্তা দিতে পারবেন না। আবার আমরা দেখছি, রাজপথ থেকেও উধাও হয়ে যেতে পারে কোনো মানুষ। আইন-আদালত কোথাও নিষ্পত্তি হচ্ছে না কারও দায়দায়িত্ব!

এ পরিস্থিতি, বিশেষ করে সরকারের সঙ্গে ভিন্ন মত পোষণকারীদের জন্য অশনিসংকেত। এ পরিস্থিতি মানুষের প্রতিবাদ করার অধিকারের জন্য ভয়ংকর। এ পরিস্থিতি কখনোই গণতন্ত্র নয়, বরং গণতন্ত্রের মোড়কে ভয়াবহ ফ্যাসিবাদের ইঙ্গিতবাহী।

২.
প্রত্যক্ষদর্শীর জবানিতে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় যে বর্ণনা আমরা পেয়েছি, তাতে এটি সন্দেহ করার কারণ রয়েছে, সরকারের কোনো সংস্থার লোকেরা ইলিয়াসকে তুলে নিয়ে গেছে। যে নিখুঁত পরিকল্পনায় তাঁর গাড়িকে পেছন থেকে ধাক্কা দিয়ে তাঁকে নেমে আসতে বাধ্য করা হয়, যেভাবে সেখানে মাইক্রোবাসে তাঁকে তোলা হয় এবং ঘটনাস্থলে সাইরেন বাজানো যানের যে বর্ণনা আমরা পাই, তাতে এ ধারণা যে কারও জন্মাতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী অবশ্য বলেছেন, ইলিয়াস লুকিয়ে থাকতে পারেন আন্দোলনের ইস্যু তৈরি করার জন্য। সোহরাব হাসান তাঁর লেখায় ব্যাখ্যা করেছেন কতটা অবাস্তব এটি। আমি মনে করি, যে সরকারের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস, দুর্নীতি, দলীয়করণ আর ভারত-তোষণের অভিযোগের পাহাড় জমছে, তার বিরুদ্ধে আন্দালনের আর কোনো নতুন ইস্যুর প্রয়োজন নেই; বরং খতিয়ে দেখলে মনে হবে ইলিয়াসকে উধাও করার ঘটনার পেছনে সরকারেরই মোটিভ থাকতে পারে। প্রথমত, বিএনপি অভিযোগ করেছে, রেল মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ-বাণিজ্যের দুর্নীতি হাতেনাতে ধরা পড়ার পর তা আড়াল করার জন্য ইলিয়াসকে গুম করা হয়েছে। বাস্তবতা হচ্ছে, তোলপাড় করা সুরঞ্জিতকেন্দ্রিক এ দুর্নীতির ঘটনা আসলেই অনেকটা আড়াল পড়ে গেছে ইলিয়াস গুম হওয়ার ঘটনায়। দ্বিতীয়ত, বিএনপির একজন নেতা টিপাইমুখবিরোধী আন্দোলনে সম্প্রতি ইলিয়াসের সোচ্চার ভূমিকাকেও আরেকটি কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তৃতীয়ত, আন্দোলনের মাঠ সচল রাখার ক্ষেত্রে ইলিয়াসের রয়েছে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। ইলিয়াসের মতো একজন সুপরিচিত নেতা গুম হয়ে গেলে মাঠপর্যায়ে, বিশেষ করে সিলেট বিভাগে সরকারবিরোধী আন্দোলন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, এমনকি এটি বিএনপির কিছু নেতা-কর্মীকে আতঙ্কিত এবং আন্দোলনবিমুখও করে তুলতে পারে।

আমাদের মনে রাখতে হবে, এর আগে বিএনপির প্রায় দুই ডজন নেতাসহ শতাধিক মানুষ গুমের শিকার হয়েছে। কারও ক্ষেত্রেই তদন্তের কোনো সুরাহা হয়নি। দুই বছরে সরকার আমাদের কিছুই জানাতে পারেনি যে চৌধুরী আলম কোথায়, তাঁকে কে উধাও করেছে, তিনি মারা গেলে তাঁর লাশ কোথায়?

সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব যেকোনো নাগরিকের জীবনের নিরাপত্তা দেওয়া। কোনো মানুষ উধাও বা খুন হলে দোষীদের গ্রেপ্তার করা এবং বিচারের জন্য সোপর্দ করা। সরকার যদি এটি করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে দুটো অনুসিদ্ধান্তই কেবল নেওয়া সম্ভব। এক. সরকার নিজে তা করেছে বলে বিচার করতে অনিচ্ছুক। দুই. সরকার অপরাধী শনাক্ত করতে বা অপরাধটির বিচার করতে অক্ষম বা অসমর্থ। যদি এর একটিও সত্যি হয়, তাহলে সেই সরকারের ক্ষমতায় থাকার নৈতিক অধিকার কোথায় থাকে? মানুষের নিরাপত্তা ও জীবন যদি রাষ্ট্রযন্ত্র কেড়ে নেয় বা তা কেড়ে নেওয়া মেনে নেয়, তাহলে সে রাষ্ট্রে গণতন্ত্র, মানবাধিকার আর আইনের শাসন কোথায় থাকে?

৩.
আমাদের কিছু উদ্বেগ এখনো দূর হয়ে যেতে পারে ইলিয়াস জীবিত অবস্থায় ফেরত এলে। কিন্তু তিনি কি বেঁচে আছেন এখনো? আমি জানি, যাঁরা প্রকৃত রাজনীতিক, যাঁরা দেশকে ভালোবাসেন, গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন, তাঁরা মনেপ্রাণে চাইবেন তিনি বেঁচে থাকুন। আওয়ামী লীগের মতো সুদীর্ঘকালের গণতান্ত্রিক দলে এমন বহু নেতা-কর্মী আছেন, যাঁরা ইলিয়াসের ঘটনায় উদ্বিগ্ন। তাঁর অন্তর্ধানের প্রথম দিনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর কথাবার্তায় তাঁদের উদ্বিগ্ন ও বিব্রত মনে হয়েছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর কিছু দুর্ভাগ্যজনক মন্তব্যের পর আওয়ামী লীগের দু-একজন নেতাকে তাঁর মতো করে কথা বলতে হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী যেহেতু বলেছেন, ইলিয়াসকে খালেদা জিয়াই লুকিয়ে থাকতে বলে নাটক সাজিয়েছেন, তাঁকে ভুল প্রমাণ করার জন্য নিশ্চয়ই পুলিশ-গোয়েন্দা কাজ করবে না। অন্য বহু তদন্তের মতো সময়ক্ষেপণের মাধ্যমে এটিও ঝুলিয়ে দেওয়া হতে পারে তাই। সরকারের কাজের যা প্যাটার্ন, এ ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য আরও ভয়াবহ কোনো ঘটনাও হয়তো ঘটানো হতে পারে বাংলাদেশে।

আমি জানি, দেশজুড়ে গুজব আছে ইলিয়াসকে ফেরত দেওয়া হতে পারে জীবিতাবস্থায়। কিন্তু এটি বিশ্বাস করা কষ্টকর। যেখানে কোনো তদন্তের আগে প্রধানমন্ত্রী বলেন যে এটি বিরোধী দলের নেত্রীর সাজানো নাটক, সেখানে ইলিয়াস এমন একটি বিবরণ নিজে থেকে দিতে রাজি হলেই কেবল তাঁকে জীবিত ফেরত দেওয়া সম্ভব। নিজের জীবন রক্ষার্থে এবং সন্তানের মুখের দিকে চেয়ে ইলিয়াস হয়তো সাময়িকভাবে রাজি হতে পারেন এতে। কিন্তু তাতে এই হীন অপরাধের জন্য দায়ী ব্যক্তিরা রক্ষা পাবে, প্রকৃত ঘটনা নিয়ে কুৎসিত কাদা ছোড়াছুড়ি অব্যাহত থাকবে, দেশবাসী আরও বিভ্রান্তিতে পড়বে।

আমরা তবু চাই, ইলিয়াস ফেরত আসুন। কারণ, শাহ্দীন মালিকের গতকালের অসাধারণ লেখা থেকেই বলছি, ‘এভাবে চলতে থাকলে দেশে রাজনীতি আর রাজনীতিবিদদের আকাল পড়বে। বহাল তবিয়তে থাকবে শুধু র‌্যাব।’

যত দূর মনে করতে পারি, প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে র‌্যাবের দিকে ইঙ্গিত করে বিরোধী দলকে বলছেন, আপনাদের সৃষ্টি করা বাহিনীই আপনাদের খাবে! বিএনপির কি এখন বোধোদয় হচ্ছে, কী ভয়ংকর আগুন নিয়ে খেলেছিল তারা র‌্যাবের মাধ্যমে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড শুরু করে? আর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি কি বুঝতে পারছেন, আপনার আমলে গুম-সংস্কৃতি বিস্তার হওয়ায় কোন দাবানল তৈরি হচ্ছে দেশে? গুম হওয়া যদি স্বাভাবিক হয়ে পড়ে, তাহলে কে জানে গণতন্ত্রই এক দিন গুম হয়ে যায় নাকি এ দেশে!

আমরা সত্যিই আশঙ্কিত!

পাদটীকা: এই লেখা যখন লিখছি, দেশে তখন হরতাল চলছে বিরোধী দলের আহ্বানে। হরতালের দিন এবং আগের দিন সহিংসতায় নিহত হয়েছেন দুজন, আহত হয়েছেন অনেকে, বেশ কিছু যানবাহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। আমরা হরতালের অধিকারে বিশ্বাসী, কিন্তু হরতালে নিহত-আহত হওয়ার ঘটনা আর ধ্বংসযজ্ঞ এই অধিকারের আওতায় পড়ে না। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।

 
 

আসিফ নজরুল: অধ্যাপক, আইন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
[সূত্রঃ প্রথম আলো, ২৩/০৪/১২]

দলীয়করণে উচ্চ আদালতে সংকট


দলীয়করণে উচ্চ আদালতে সংকট

আমীর খসরু ● হাইকোর্টের একটি বেঞ্চে একজন বিচারকের এক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিএনপি সমর্থিত কয়েকজন আইনজীবীর হট্টগোল, বিশৃঙ্খলা এবং এর জের ধরে সরকারের পক্ষ থেকে পুলিশি মামলা ও গ্রেফতারের ঘটনায় পুরো উচ্চ আদালতে এক অস্থির পরিস্থিতি চলছে। এই অস্থির পরিস্থিতির সৃষ্টি একদিনে হয়নি, উচ্চতর আদালত এবং এর নানাবিধ কার্যক্রম নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক চলছে অনেকদিন ধরেই। এছাড়া উচ্চতর আদালতকে লক্ষ্য করে যে রাজনৈতিক কটাক্ষের ফুলঝুড়ি সাম্প্রতিককালে আমরা লক্ষ্য করছি, তা ইতিপূর্বে কখনো শোনা যায়নি। আদালতের একটি বেঞ্চে বিচারকাজ চলাকালীন সময়ের অনাকাঙ্ক্ষিত ওই ঘটনায় সিনিয়র আইনজীবীরা যেমন উদ্বিগ্ন তেমনি উদ্বিগ্ন সচেতন জনসমাজ। কারণ রাষ্ট্রের তিনটি স্তম্ভের মধ্যে একটি হচ্ছে বিচার বিভাগ। সংকীর্ণ দলীয়করণসহ নানামুখী অগণতান্ত্রিক কর্মকান্ডের ফলে এখন ঐ দুটো বিভাগের সঙ্গীনদশা। বিচার বিভাগও সে পথেই এগুচ্ছে বলে অনেকে বলছেন। তাছাড়া সরকার নিজেই যখন এই পরিস্থিতিতে একটি পক্ষ হয়ে দাঁড়ায়, তখন অবস্থা কতোটা ভয়াবহ হতে পারে বিচার বুদ্ধিসম্পন্ন যেকোনো মানুষই তা উপলব্ধি করতে পারছেন।

গণতন্ত্রের দাবিতে এবং স্বৈরাচারী জেনারেল এরশাদ সরকারকে পতনে বাধ্য করার জন্য তৎকালীন সময়ে আইনজীবীদের ভূমিকা ছিল উজ্জ্বল। এরই অংশ হিসেবে তখন আইনজীবীগণ দলমত নির্বিশেষে তখনকার প্রধান বিচারপতির এজলাস বর্জন করেছিলেন। স্বভাবতই এটা প্রত্যাশিত ছিল যে, ’৯০-এর সামরিক স্বৈরশাসকের বিদায়ের পরে রাষ্ট্রের স্তম্ভগুলো আরো জনমুখী ও গণতন্ত্রপরায়ণ অবস্থান নিয়ে সচল, সজীব হবে। কিন্তু এর বদলে দলবিভক্তি এবং এর ফলে দলীয়করণ একদিকে যেমন আইনজীবীদের বিভক্ত করেছে, তেমনি বিচারক থেকে রাষ্ট্রের আইন কর্মকর্তার নিয়োগ পর্যন্ত এর ক্ষতিকর প্রভাব দ্রুত দৃশ্যমান হতে থাকে।

১৯৯৬ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন বিচারপতি কেএম হাসানসহ কয়েকজন বিচারপতির জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে আপিল বিভাগে বিচারক নিয়োগের পরে উচ্চতর আদালতে উত্তপ্ত অবস্থার সৃষ্টি হয়। ওই সরকারের সময়ে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোঃ নাসিমের নির্দেশে বস্তি উচ্ছেদ করা হচ্ছিল। এর বিরুদ্ধে আইন ও শালিস কেন্দ্র একটি রিট আবেদন দায়ের করেছিল। এই রিটের পক্ষে আদালতে ড. কামাল হোসেন মূল আইনজীবী হিসেবে মামলা পরিচালনা করছিলেন। এই রিটের বিরুদ্ধে তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গণ এবং ড. কামাল হোসেনের বাড়ির সামনে রাতারাতি বস্তি বসিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এ নিয়েও তখন সমালোচনার ঝড় উঠেছিল। কিন্তু তৎকালীন সরকার এতে ক্ষান্ত না হয়ে উত্তপ্ত বাক্যবর্ষণ করে যাচ্ছিল উচ্চতর আদালতের বিরুদ্ধে।

২০০৬ সালে একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিক্ষুব্ধ আওয়ামীপন্থী আইনজীবীরা প্রধান বিচারপতির কামরার দরজায় পদাঘাত করে ভাঙচুর চালায়। ভাঙচুর চালায় অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিসে এবং গাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয় তৎকালীন আইন প্রতিমন্ত্রীর। প্রধান বিচারপতির কক্ষ ভাংচুরের ঘটনায় অভিযুক্ত একজন আইনজীবী বর্তমান সরকারের সময়ে এসে বিচারকও হয়েছেন। ঐ সময় সংশ্লিষ্ট আইনজীবীর বিরুদ্ধে মামলাও দায়ের করা হয়েছিল। তবে গ্রেফতারের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরে হাইকোর্টে বিচারক নিয়োগ এবং শপথ বাক্য পাঠ নিয়েও জটিলতার সৃষ্টি হয়। এছাড়া প্রধান বিচারপতি ও আপিল বিভাগে বিচারপতি নিয়োগে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘনের একাধিক ঘটনা ঘটে। তবে বিএনপি সরকারের সময়েও এমন ঘটনা ঘটেছে। সেক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ তার বিরুদ্ধে ছিল সোচ্চার।

তবে এ কথাও বলে নেওয়া উচিত, বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা আদালতের বেঞ্চে এ বছর যে পন্থায় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটিয়েছে তাও প্রত্যাশিত নয়। প্রতিবাদের ভাষা এবং প্রতিবাদের প্রকাশ ভিন্নভাবে হওয়াটাই ছিল প্রত্যাশিত।

যদিও যতই দিন যাচ্ছে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর বিভিন্ন স্তম্ভে ততোই রাজনৈতিক দুঃখজনক বিভাজন এবং দলীয়করণ স্পষ্ট থেকে স্পষ্টতর হচ্ছে। আইনজীবীরাই এখন উচ্চ আদালতের ‘কোন কোর্ট কোন দলের পক্ষে’, তা প্রকাশে বয়ান করে চলেছেন। এ পরিস্থিতি আসলেই কাম্য ছিল না।

সাম্প্রতিককালে পঞ্চম ও সপ্তম সংশোধনী এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায় নিয়ে ব্যাপক রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে। উচ্চতর আদালতের এই রায় বিদ্যমান রাজনীতিতে সংঘাত, বিভেদ এবং বিবাদকে আরো উসকে দিয়েছে।

সর্বশেষ যে ঘটনাটি নিয়ে এখন উচ্চতর আদালত নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, তা শুরু হয়েছে একজন বিচারকের একটি মন্তব্যের সূত্র ধরে। সংবিধান ডাস্টবিনে ফেলে দেয়া হবে – এমন রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার জন্য ইসলামী ঐক্যজোটের নেতা ফজলুল হক আমিনীর বিরুদ্ধে মামলা হয় এবং দু’জন বিচারকের সমন্বয়ে গঠিত ওই বেঞ্চে এর শুনানি চলতে থাকে। এ শুনানিকালে ওই বেঞ্চের একজন বিচারক বেগম খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে একটি মন্তব্য করেন। এই মন্তব্যের কোনো প্রয়োজন ছিল কিনা – এ প্রশ্ন উত্থাপন জরুরি, বিশেষত খালেদা জিয়ার বক্তব্য যখন আদালতের বিচার্য্য ছিল না। এটা ধরে নেওয়া যায়, সংশ্লিষ্ট বিচারপতির দলীয় রাজনৈতিক বিবেচনা থেকেই এমন মন্তব্য এসেছে। এই বিচারপতি বুদ্ধিজীবী, কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদকে আদালতে ডেকে নিয়ে ‘নির্বোধ, অজ্ঞসহ’ এমন ভাষায় ভৎর্সনা করেছিলেন যা এ দেশের অনেক সচেতন মানুষই আশা করেনি এবং অনেকেই মর্মাহতও হন।

দলীয়করণ এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, বিচারিক সক্রিয়তার নামে বিচার বিভাগে এক নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আগে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে দলনিরপেক্ষ সিনিয়র আইনজীবীগণ প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আলোচনাক্রমে ব্যবস্থা নিতেন। এখন তীব্র দলীয়করণের কারণে সেটি প্রায় বিলুপ্তির পথে। সরকার যখন একটি শক্ত পক্ষ হিসেবে দাঁড়ায় তখন এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে বাধ্য।

কিন্তু এ অবস্থা কোনোক্রমেই কাম্য নয়। আইনজীবীদের দলীয়করণের মাত্রা বাড়বে যদি বিচার বিভাগের দলীয়করণ বন্ধ না হয়। বিচার বিভাগ স্বাধীন করার বদলে এখন বিচার বিভাগে দলীয়করণের মাত্রা দিনে দিনে বাড়ছে।

এই পরিস্থিতি কোনোক্রমেই দেশের গণতান্ত্রিক প্রথা ও প্রতিষ্ঠানের জন্য শুভ ফল বয়ে আনবে না। এ কথাটি প্রধানত সরকারকেই বুঝতে হবে।

Published On 11-08-2011
Link: http://budhbar.com/?p=6031

দুই নেত্রীর জিদে উত্তপ্ত রাজপথ- দেশবাসী উৎকণ্ঠায়


দুই নেত্রীর জিদে উত্তপ্ত রাজপথ দেশবাসী উৎকণ্ঠায়

বৃহস্পতিবার, ২৮ জুলাই


একুশে রিপোর্ট : শান্ত ছিলো রাজপথ। হঠাৎ বজ্রপাতের মতোই রাজপথ উষ্ণ হয়ে ওঠলো। কারণ অনুসন্ধানে দেখা যায়, তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিলেই আসল বিষয় নয়। নেপথ্য কারণ অনেক। এর প্রথম হচ্ছে বিএনপি নেত্রীর দুই পুত্রের সাজা ও নতুন মামলায় অন্তভূর্ক্তি এবং জামাতের নেতাদের মুক্তির জন্য পরোক্ষভাবে বার্তা পৌঁছানো। সংবিধান সংশোধনী নিয়ে আলোচনা হতে পারতো। হলো না শুধু দুই নেত্রীর জিদাজিদের জন্য। কেউ কারো মুখ দর্শনে নারাজ। এই ধারা চলতে থাকলে যতই সরকারের মেয়াদ কমবে, ততই সংঘর্ষ-সংঘাতের দিকে দেশ ধাবিত হবে। জনগণ এসব ভেবে শঙ্কায় আছে।

এরই মধ্যে ৪ দল ছোট ছোট দলগুলোকে নিজেদের দিকে টানার জন্য টিম পাঠাচ্ছে। আবার আওয়ামী লীগও বসে নেই। তারাও প্রগতিশীল এবং সমমনা দলগুলোর সাথে কথা বলছে। নতুন মিত্র দুই পক্ষই খুঁজছে। সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী মুছে ফেলায় এখন হয়ত দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে। এরই মধ্যে ৪ দল আগাম ঘোষণা দিয়েছে যে, তারা হাসিনার দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না। বিশ্লেষকরা বলছেন, সময় শেষ হয়ে যায়নি। নির্বাচনের অনেক সময় বাকি। নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন ও শক্তিশালী করতে হবে। সংবিধানে সবের্াচ্চ আদালতের পরামর্শ অনুযায়ী আরও দুই মেয়াদের তত্ত্বাবধায়ক সরকার রেখে আরেকটি সংশোধনী পাশ করলেই রাজপথ শীতল হয়ে যাবে। সমাধানের পথ এটাই। আর যদি সরকারি দল সে পথে না যায়, তাহলে ঘুনিয়ে আসছে অনিবার্য মহাসংঘাত। হয়ত এই সংঘাতে গৃহযুদ্ধ না হলেও ভয়াবহ পরিস্হিতির সৃষ্টি হতে পারে। জিম্মি হয়ে পড়তে পারে দেশবাসী। আর তখন জনগণকে এমনি পরিস্হিতি থেকে উদ্ধারে কে এগিয়ে আসবেন? ত্রাতা বা রেফারী হিসেবে তখন কি আবারো সেনাবাহিনীকে এক-এগারোর মতো মিডিয়েটরের ভূমিকা পালন করতে হবে? এমনি আশঙ্কাকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা একেবারে উড়িয়ে দিচ্ছেন না।

 

জনগণ মনে করে আমাদের রাজনৈতিক গণনে মুল সমস্যা হচ্ছেন দুই নেত্রী। তারা এক টেবিলে বসে যদি সব সিদ্ধান্ত নেন তাহলে এদেশে আর কোনোদিন আন্দোলন, হরতাল দরকার হতো না। দুই নেত্রীর মধ্যে আছে ইগো বা জিদ। দু’জনই প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। আবারও হয়েছেন। জনগণ তাদের দেশ শাসনের ম্যান্ডেট দিয়েছে। দেশকে উন্নতির পথে এগিয়ে নেয়ার জন্য যদি সংঘাতের বদলে সমঝোতার ক্ষেত্র প্রস্তুত হতো, তাহলে এদেশ সব সমস্যা ও সংকট থেকে মুক্ত হতে পারতো। যদি সংবিধানে আর কোনো সংশোধনী যুক্ত না হয়, আদালতও চুড়ান্ত রায়ে আরও দু’টি নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে করা ম্যান্ডেটরী না করে, সরকারের মেয়াদের পরে রাষ্ট্রপতি অন্য কোনো অপশনে না গিয়ে শেখ হাসিনাকেই ৯০ দিনের জন্য কাজ চালিয়ে যেতে বলেন, তাহলে ৪ দল সেই নির্বাচনে যাবে না বলে জানিয়ে দিয়েছ। তারা কোনো দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করবে না। এই জেদ ও সিদ্ধান্ত বহাল রাখলে নির্বাচনের আগে রক্তক্ষয়ী সংঘাত ঘটে যাওয়াও বিচিত্র নয়। আমাদের সামনে ২০০৬ সালে জোট সরকারের পদত্যাগের সময়টার কথা মনে আছে। তখন কিভাবে পল্টনে, বায়তুল মোকাররমে রাস্তায় লড়াই হয়, গোলাগুলী হয়, অতঃপর তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন নিয়ে আন্দোলন, হরতাল, অবরোধ। আমরা কি মাত্র ৫ বছরে সেই কালচার থেকে বেরিয় আসতে পেরেছি? আমরা কি ঘোষণা দিতে পারি যে, আর এদেশে এমন ঘটনা ঘটবে না? সুতরাং সরকারি ও বিরোধী দলকে এক টেবিলে বসিয়ে দুরুত্ব কমিয়ে আনতে না পারলে দেশ এক সাংঘর্ষিক পরিস্হিতির দিকে এগিয়ে যাবে-এমনটাই ্আশঙ্কা করছেন রাজনৈতিমক বিশ্লেষকরা। খালেদা জিয়া বলেছন, আর নয় হরতাল, আর নয় ভাঙচুর, আর নয় জ্বালাও-পোড়াও। তাহলে কি শুভবুদ্ধির উদয় হলো? নাকি যে কারণে এসব চলছিল, তার সামাধান তিনি পেয়ে গেছেন? বিশ্লেষকদের একাংশ বলেছেন, এটা ঘোষণা হলেও তা চিরস্হায়ী কোনো ঘোষণা নয়। তাদের মতে হরতালের নেপথ্য কারণ ছিল তারেক-আরাফাত-এর মামলা, সাজা, ওয়ারেন্ট ইত্যাদি। হয়ত সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে গ্রীন সিগনাল দেয়া হয়েছ শর্তভিত্তিক। আর এ কারণেই শরীকদের জিজ্ঞাসা বা মতামত না নিয়েই গণ-অনশনে তিনি এমন ঘোষণা দিয়েছন। তারপরও সাধারণ জনগণ আশ্বস্ত হতে পারছেন না। তারা ঈদের পর আবার হরতাল, ভাঙচুর, গাড়ি পোড়ানোসহ নাশকতার আশঙ্কাও করছেন।

 

এরই মধ্যে সামাজিক অস্হিরতা বাড়ছে। গণপিটুনী দিয়ে ছাত্র হত্যা করা হচ্ছে, নানারকম হত্যা, ধর্ষণ ও অপরাধ বেড়ে যাচ্ছে। সন্ত্রাসীদের সাহসও বাড়ছে। দাগী আসামীরা জামীন ও পাচ্ছে। এদিকে রাষ্ট্রপতি লক্ষ্মীপুরের ফাঁসির আসামী বিপ্লবকে ক্ষমা করে দিলেন। এর আগে বিএনপি-জামাতের সময় ২০০৫ সালে ফাঁসি হওয়া পলাতক আসামী জিন্টুকে ব্যারিস্টার মওদুদ সাহেব এনে ুআদালতে আত্মসমপর্ণ করিয়ে মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিনকে দিয়ে সাজা মওকুফ করিয়ে আবার সুইডেন পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। একই নজীর হলো এ সরকারের সময়ও। তাহলে দিন বদল হলো কোথায়? এসব কর্মকাণ্ড হলে অপরাধ প্রবণতা আরও বেড়ে যায়। বঙ্গবন্ধু দালাল আইন ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত চিকন আলী রাজার ও মহসীন হল মার্ডার কেসে অভিযুক্ত শফিউল আলম প্রধানের মৃত্যুদণ্ড মওকুফ করে যাবজ্জীবন দিয়েছিলেন। এক্ষেত্রে তেমনটি হতে পারতো। ১৯৯১ সালে গণতন্ত্রিক সরকারে যাত্রা শুরু হয় অনেক আন্দোলন, রক্তক্ষয় ও ত্যাগ-তিতিক্ষার বিনিময়ে। তিন জোটের রূপরেখা অনুযায়ী তখনকার প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমেদের কাছে এরশাদ ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। নির্বাচনে বিএনপি বিজয়ী ঘোষিত হয়ে সরকার গঠন করে। কিন্তু ১৯৯৬ সালে মেয়াদ শেষ হবার আগে নির্বাচন কিমিশন নতুনভাবে গঠিত হবার পরই দেখা যায় বিএনপি আবার ক্ষমতায় আসার কেওশল নিয়ে তাদের দলে সমর্থক কমিশন সদস্যের নিয়োগ করে। ভোটার তালিকায় অনেক ভোটারকে বাদ দেয়া হয়। এ সময় দলীয় সেই সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকা কমিশনের অধীনে নির্বাচনে যেতে দেশের সব দল, এমনকি জামাতও রাজী হয়নী। তারা আন্দোলনে নামে, দাবি করে কেয়ারটেকার সরকার গঠনের। এমনি এক পরিস্হিতিতেও খালেদা জিয়ার সরকার নিজেদের লোকজনকে টিক চিহ্ন দিয়ে নির্বাচনহীন এক ভোট দেখিয়ে সংসদ ও সরকার গঠন করে। অবশেষে রাজপথে জনতার মঞ্চ তৈরি করে ৮ দল, ৫ দল, জামাত, জাসদসহ সব দল। সেই পাতানো সংসদেই পাস হয় ত্রয়োদশ সংশোধনী-তত্ত্বাবধায়ক সরকার। গঠিত হয় বিচারপতি হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে সরকার। তবে এই তত্ত্বাবধায়ক আমলেও সেনাপ্রধান জেনারেল নাসিম ট্যাংক নিয়ে অভ্যুত্থান ঘটানোর চেষ্টা করেন। দ্বিতীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার হয় বিচারপতি লতিফুরের অধীনে। তার মেয়াদকালে আইন-শৃঙখলার বারোটা বাজে। সারাদেশে হাজার হাজার মানুষ খুন ও ধর্ষণের শিকার হয়। অগণিত মানুষের সম্পদ দখল হয়। সংখ্যালঘুরা বাড়ি-ঘর ছেড়ে অন্য জেলায় আশ্রয় নেয়। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের এজেন্টদের প্রকাশ্য মেরর বের করে দেয়া হয়। সারাদেশে অরাজকতা ও নৈরাজ্যে স্বাধীনতা বিরোধীরা উল্লাসে ফেটে পড়ে। এমনি অবস্হায় নির্বাচন হয়। নির্বাচনের পর ৬ মাস যাবত চলতে থাকে অরাজকতা, খুন, ধর্ষণ ও দখল।

 

তৃতীয় তত্ত্বাবধায়ক, সরকার হলো তিন উদ্দিনের ভেলকিবাজী। ২০০৬ সালে জামাত-বিএনপি সরকার পদত্যাগের পরই রাজপথে শুরু হয় গৃহযুদ্ধ। হরতাল অবরোধ এমন পর্যায়ে যায় যে, সেনা হস্তক্ষেপ ছাড়া পরিস্হিতি নিয়ন্ত্রণে আসতো না। এখন ২০১৩-১৪ সালে আওয়ামী লীগ পদত্যাগ করলে তখন কি হবে, এ ভেবে জনগণ শঙ্কিত। তখন জনগণ যদি জিম্মি হয়ে পড়ে, তাদের উদ্ধারে রেফারী বা মিডিয়েটর কে হবে? আবার কি সেনাবাহিনীকেই আসতে হবে? সংবিধানতো ডাস্টবিনে ফেলার ঘোষণাই এসে গেছে। তাহলে জোর যার রাজ্য তার ছাড়া আরতো নীতিমালা থাকবে না। তখন কি হবে? আরেকটি মহাসংঘাত ও নতুন কোনো মিডিয়েটর?

দ্য ইকনোমিস্টের দৃষ্টিতে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতি


দ্য ইকনোমিস্টের দৃষ্টিতে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতি
Bangladesh
Politics of hate
An ancient vendetta continues to eat away at public life << Original Link

আন্তর্জাতিক প্রভাবশালী সাময়িকী দ্য ইকনোমিস্টের ২০ নভেম্বর সংখ্যায় বাংলাদেশের বৈরিতার রাজনীতি নিয়ে প্রকাশিত বিশ্লেষণধর্মী নিবন্ধটির অনুবাদ

Hartal

Hartal

সেনাবাহিনীর দুর্যোগময় অন্তর্বর্তীকালীন ব্যর্থ শাসন ও দেশের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক শাসকপরিবারের নেতারা জেল থেকে মুক্ত হওয়ার দুই বছর পর বাংলাদেশ পুনরায় ঘৃণা ও সংঘাতের রাজনীতির আবর্তে ঘূর্ণায়মান। এর জন্য মূলত দুই নেতার একজন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অন্যজন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত প্রতিহিংসাই দায়ী।

বেগম জিয়া ১৩ নভেম্বর ঢাকায় ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় যে বাড়িতে প্রায় ৩২ বছর ধরে বাস করে আসছিলেন তা থেকে উচ্ছেদ হন। এ পদক্ষেপ একটি হরতালের জন্ম দেয়। এটা ছিল বেগম জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিরোধী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ডাকা প্রতিবাদের রূপ। এতে তার বিএনপি ও শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগের সমর্থকদের মধ্যে সহিংসতার ঘটনা ঘটে। দেশটির তৃতীয় রাজনৈতিক শক্তি সেনাবাহিনী হাইকোর্টের উচ্ছেদ আদেশ কার্যকরে সহায়তা করে। বেগম জিয়ার বাড়ির চারপাশের বিশাল এলাকা নির্বাচনে তার দল আওয়ামী লীগ ক্ষমতা গ্রহণের পর পর গত বছরের প্রথম দিকে (বিডিআর) বিদ্রোহে নিহত ৫৭ জন সামরিক কর্মকর্তার পরিবারের আবাসনের জন্য বরাদ্দের ঘোষণা দেন শেখ হাসিনা এবং এটি তার একটি কূটচাল।

উচ্ছেদ কার্যক্রম হচ্ছে বিএনপির মেরুদন্ড ভেঙে দেওয়ার জন্য (আওয়ামী) লীগের মিশনের অংশ। এটা হচ্ছে বেগম জিয়ার মরহুম স্বামী ও ১৯৭১ সালে পশ্চিম পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের নায়ক জেনারেল জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠিত বংশানুক্রমিক রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ইতিহাস থেকে মুছে দেওয়ার আবিষ্টতাজাত।

ফেব্রুয়ারিতে সরকার ঢাকার জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম বদলে একজন শ্রদ্ধেয় সুফিসাধকের নামে রাখে। (সরকার) ১৯৭২ সালের সংবিধান ‘পুনর্মুদ্রণের’ সিদ্ধান্তও নিয়েছে জুলাইয়ে সুপ্রিম কোর্টের একটি যুগসন্ধিক্ষণমূলক রুলিংয়ের আলোকে, যাতে অন্যান্য নানা বিষয়ের সঙ্গে ১৯৭৫ সালে শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকান্ডের পর জেনারেল জিয়াসহ সব সামরিক শাসনকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়। এদিকে অক্টোবরে একটি আদালত বেগম জিয়ার ছোট ছেলের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে।

সেনাসমর্থিত অন্তর্বর্তীকালীন শাসনের সময় বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা চারটি দুর্নীতি মামলা রয়েছে। অন্যদিকে একই সময়ে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের করা ১৩টি দুর্নীতি মামলা বর্তমান সরকারের আমলে তুলে নেওয়া হয়েছে। এমনকি সাম্প্রতিক এ আক্রমণের আগ থেকেই বিএনপি ধুকে ধুকে চলছিল। ৩০০ আসনের জাতীয় সংসদে দলটির মাত্র ৩০টি আসন রয়েছে। তারা এই জাতীয় সংসদও বয়কট করে চলছে। এটা এখন বিভক্ত। বেগম জিয়ার পক্ষে এখন সংখ্যালঘু সংখ্যার সমর্থন রয়েছে। এদিকে বিএনপির প্রধান সহযোগী বাংলাদেশের বৃহত্তম ইসলামি দল জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা জেলে রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে রয়েছে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের সময়কালের অপরাধের অভিযোগ এবং তারা এখন সম্ভাব্য শাস্তির সামনে। সাবেক একজন প্রধানমন্ত্রী এবং বেগম জিয়ার কৌঁসুলি মওদুদ আহমদ বলেন, এ জোট বিএনপির সুনাম, বিশেষ করে আন্তর্জাতিকভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে। কিন্তু তার পরও বিএনপির প্রয়োজন রয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী সমর্থনের।

economist.com

economist.com

বেগম জিয়ার সামনে একমাত্র আশা যে দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, বিদ্যুৎ সংকট এবং শেখ হাসিনার সরকারের সর্বগ্রাসী পুঁজিবাদী শাসন যা বেগম জিয়ার শাসনামলও (২০০১-০৬) ছাড়িয়ে গেছে তাতে জনগণ বীতশ্রদ্ধ ও হতাশ। সরকারের প্রতি জনগণের যে নির্ভরতা ছিল তাতে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। বেগম জিয়া মনে করছেন, একসময় গণজোয়ার তার বড় ছেলে ও সম্ভাব্য উত্তরাধিকারী তারেক রহমান (যিনি এখন ব্রিটেনে নির্বাসনে রয়েছেন) এর পক্ষে ধাবিত হবে। যদিও তারেক রহমান সেনা হেফাজতে থাকাকালে ভাঙা মেরুদন্ড নিয়ে ২০০৮ সালে দেশত্যাগ করেন এবং তিনি বেগম জিয়ার শাসনামলের দুর্নীতির প্রতীক। এমনকি তিনি বিএনপি নেতাদেরও অনেকেরই অপছন্দের মানুষ।

ইতোমধ্যে শেখ হাসিনার প্রতিহিংসা ভারতীয় সরকারের সমর্থন লাভ করেছে। (এই সরকারের আমলে) বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। বেগম জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের শাসনের সমাপ্তি, ভারতের চোখে তার জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত। ভারত মনে করে, তার পরিবার ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অনধিকার হস্তক্ষেপ করে চলেছে। এই মাসে তারেক রহমানের ডান হাত বলে কথিত এক ব্যক্তি তদন্তকারীদের বলেছেন, ঢাকায় পাকিস্তানি দূতাবাস ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অসমিয়া জাতিসত্তার জন্য স্বাধীনতার লক্ষ্যে যুদ্ধরত সশস্ত্র গ্রুপ ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অব অসম (উলফা) বিএনপি (এ ক্ষেত্রে তারেক রহমান) ও তাদের সহযোগী বাংলাদেশী অদৃশ্য এক গোষ্ঠীকে এক কোটি ডলার প্রদান করেছে ভারতীয় সশস্ত্র গ্রুপের জন্য ১০ ট্রাক অস্ত্র গোপনে পাচার করতে।

100 injured in hartal clashes

100 injured in hartal clashes

পশ্চিমা সরকারগুলোও তারেক রহমানের ফিরে আসার বিরোধিতা করে। তারা সূক্ষ্ম ঘোমটায় টানা ২০০৭ সালের জানুয়ারির সেনা অভ্যুত্থানকে (যা বিএনপির নির্বাচনী ফলাফল ছিনিয়ে নেওয়া প্রতিহত করে বলে তারা মনে করে) সমর্থন করে। এই অভ্যুত্থান সাবেক বিএনপি সরকারকে ঘিরে যে ইসলামিক চরমপন্থী ছোট ছোট গ্রুপ গড়ে উঠেছিল তাদের ওপরও আক্রমণ করে। আওয়ামী লীগের নীতির কেন্দ্রীয় কৌশল হচ্ছে এই আক্রমণ চলমান রাখা।

সরকারের জনপ্রিয়তা কমতে থাকা সত্ত্বেও শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠজনেরা খালেদা জিয়ার ব্যাপারে নমনীয় নন যা বেগম জিয়াকে হ্রস্ব করে। এমন একটি পরিস্থিতিতে প্রায় চার দশকের পুরনো ব্যক্তিগত আক্রোশের কারণে সৃষ্ট বিভেদের রাজনীতিতে (আওয়ামী) লীগ কী করে নিজেকে সংশ্লিষ্ট রাখতে পারে সেটাই দেখার বিষয়। এখন তাদের সময় এসেছে শাসনকাজে মন দেওয়ার। [সাপ্তাহিক বুধবারে প্রকাশিত]

আমাদের সময়, আলোচনা, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, জনকন্ঠ, ডেসটিনি, দিগন্ত, দিনের শেষে, নয়া দিগন্ত, প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ভোরের কাগজ, মানবজমিন, মুক্তমঞ্চ, যায় যায় দিন, যায়যায়দিন, যুগান্তর, সংগ্রাম, সংবাদ,চ্যানেল আই, বাঙ্গালী, বাংলা ভিশন, এনটিভি,এটিএন বাংলা, আরটিভি, দেশ টিভি, বৈশাখী টিভি, একুশে টিভি, প্রবাস, প্রবাসী, ঠিকানা, জাহান হাসান, বাংলা, বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস, লিটল বাংলাদেশ, ইউএসএ, আমেরিকা, অর্থনীতি, প্রেসিডেন্ট ওবামা,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,অর্থ, বাণিজ্য, শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, রাজাকার, আল বদর, সুখ, টেলিভিশন, বসন্ত উৎসব, Jahan, Hassan, jahanhassan, Ekush, bangla, desh, Share, Market, nrb, non resident, los angeles, new york, ekush tube, ekush.info,

বাপা-বেন সম্মেলনের উদ্দেশ্য হচ্ছে বাংলাদেশের নগরায়ন নীতি প্রণয়নে স্ববাসী ও প্রবাসী নাগরিকদের অংশগ্রহণকে নিশ্চিত করা। বর্তমানে শুধুমাত্র টেকনোক্র্যাট ও আমলারাই জনসাধারণের দৃষ্টির অন্তরালে ও বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী মহলের চাপ দ্বারা প্রভাবান্বিত হয়ে এই সমস্ত নীতি প্রণয়ন করে থাকেন। নিউ ইয়র্কে নগরায়ন, যানজট ও পরিবেশের ওপর বেনের সেমিনার


নিউ ইয়র্কে নগরায়ন, যানজট ও পরিবেশের ওপর বেনের সেমিনার
পড়শী প্রতিনিধি

সেমিনারের প্রথম আলোচক ছিলেন রাজিয়া নাজমি, যিনি তার সাও পাওলো শহরের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন

সেমিনারের প্রথম আলোচক ছিলেন রাজিয়া নাজমি, যিনি তার সাও পাওলো শহরের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন

গত ১০ই অক্টোবর, ২০১০ বেন (বাংলাদেশ এনভায়রনমেন্ট নেটয়ার্ক) নিউ ইয়র্ক, নিউ জার্সি, ও কানেকটিকাট শাখার উদ্যোগে “নগরায়ন, যান-জট ও পরিবেশ” শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। বেনের এই তিন-রাজ্য শাখার সমন্বয়কারী তওফিক চৌধুরী সভাটি শুরু করেন ও বেনের বিশ্ব সমন্বয়কারী ড. নজরুল ইসলামকে সভাপতিত্ব করতে আহ্ববান জানান। ড. ইসলাম বলেন যে নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারটি বেন ও বাপা কর্তৃক আয়োজিত আগামী ৮-ই জানুয়ারী , ২০১১ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য “নগরায়ন, যানজট ও পরিবেশ” শীর্ষক সম্মেলনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আয়োজিত হয়েছে। ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য দুটি। প্রথমটি হচ্ছে যানজট ও নগরায়নের অন্যান্য সমস্যাকে বাংলাদেশের জাতীয় উন্নয়ন কৌশলের বিভিন্ন অনভিপ্রেত বৈশিষ্টের প্রেক্ষাপটে বিচার করে একটি সামগ্রিক ও সুষম নগরায়ন নীতি প্রণয়ন করা। এ প্রসংগে তিনি বলেন, যানজট নিরসনে এখন পর্যন্ত যে সব পদক্ষেপ গ্রহণ অথবা গ্রহণের চিন্তা করা হয়েছে, তাদের দুটি ভাগে ভাগ করা যায়। প্রথমটি হচ্ছে “সাময়িক উপশম” মূলক বিভিন্ন ব্যবস্থা,যেমন ট্র্যাফিক নীতির পরিবর্তন, ইত্যাদি। অন্যটি হচ্ছে উড়াল-সড়ক বা পাতাল রেল, ইত্যাদি বিভিন্ন নতুন অবকাঠামোর নির্মাণ। এই উভয়বিধ পদক্ষেপই হয়তো প্রয়োজন, যদিও অবকাঠামো নির্মাণমূলক প্রকল্পগুলির যথাযথ নিরীক্ষার প্রয়োজন। কিন্তু বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতার আলোকে স্পষ্ট যে, দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন কৌশলের পরিবর্তন না হলে শুধু এই দুই ধরণের পদক্ষেপ দ্বারা যানজট সমস্যার স্থায়ী ও প্রকৃত সমাধান অর্জিত হবে না।

ড. ইসলাম জানা যে, জানুয়ারীতে অনুষ্ঠিতব্য বাপা-বেন সম্মেলনের দ্বিতীয় উদ্দেশ্য হচ্ছে বাংলাদেশের নগরায়ন নীতি প্রণয়নে স্ববাসী ও প্রবাসী নাগরিকদের অংশগ্রহণকে নিশ্চিত করা। বর্তমানে শুধুমাত্র টেকনোক্র্যাট ও আমলারাই জনসাধারণের দৃষ্টির অন্তরালে ও বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী মহলের চাপ দ্বারা প্রভাবান্বিত হয়ে এই সমস্ত নীতি প্রণয়ন করে থাকেন। ড. ইসলাম প্রবাসীদেরকে এই সম্মেলনের সুযোগ নিয়ে বাংলাদেশের নগরায়ন কৌশল নীতি প্রণয়নে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করার জন্য আহ্ববান জানান।

নগরায়ন, যান-জট ও পরিবেশ” শীর্ষক একটি সেমিনার

নগরায়ন, যান-জট ও পরিবেশ” শীর্ষক একটি সেমিনারে অতিথিবৃন্দ

সেমিনারের প্রথম আলোচক ছিলেন রাজিয়া নাজমি, যিনি তার সাও পাওলো শহরের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন। সাও পাওলো শহর মেক্সিকো সিটির উদাহরণ অনুযায়ী একটা চক্রাকার ব্যবস্থার প্রবর্তন করে যার অধীনে “রাশ আওয়ারের” সময় গাড়ির লাইসেন্স নম্বর অনুযায়ী শহরের কিছু অংশে গাড়ির গতিবিধি নিয়ন্ত্রিত হয়। ১৯৯৭ সালে প্রবর্তিত এই পদ্ধতি শুরুতে শহরের যানজট ১৮% কমিয়ে দেয়। সাথে সাথে সাও পাওলো সাইকেল ট্রাফিকের জন্য অবকাঠামো নির্মান শুরু করে। রাজিয়া নাজমি বলেন, গণ-পরিবহন ব্যবস্থা সৃষ্টির পাশাপাশি ঢাকায় হাঁটার জন্য ভাল ফুটপাথ, সাইকেলের জন্য পথ ও বিশেষ রিক্সা এলাকা সৃষ্টির প্রয়োজন, এবং এই কাজটা সাধারণ নাগরিকদের সহযোগিতায় সরকার করতে পারে।

পরবর্তী আলোচক ছিলেন ড. আদনান মোর্শেদ যিনি আন্তর্জাতিক নগরায়ন অভিজ্ঞতার আলোকে ঢাকা শহরের সমস্যাগুলি তুলে ধরেন। তিনি বলেন সফল নগরায়ন তখনই সম্ভব যখন বিভিন্ন ধরণের পরিবহন ব্যবস্থার প্রবর্তন করা হয়। বাংলাদেশ নগরায়ন সমস্যার এই সন্ধিক্ষণকে ব্যবহার করে একটা দক্ষ, সুষম ও উপযুক্ত গণ-পরিবহন ব্যবস্থার প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে পারে। ফুটপাথ, সাইকেল পথ ও পানি পথকে সর্বোচ্চ ও উপযুক্তভাবে ব্যবহার করে নগরায়নের সুন্দর অগ্রগতি সম্ভব। তিনি জানান যে, সফল নগরায়নের জন্য ছয়টি বিষয়ের সম্মিলন প্রয়োজন। ড. মোর্শেদ তাঁর যুক্তি শিক্ষণীয় ও চমকপ্রদ স্লাইডের মাধ্যমে উপস্থাপিত করেন।

প্রফেসর রওনক জাহান বলেন, উন্নত নগরায়নের প্রকল্পগুলিকে স্বার্থান্বেষী মহলের মোকাবেলা করতে হবে, সেইজন্য এই সব প্রকল্পের গ্রহণ ও বাস্তবায়ন সহজ হবে না।

প্রফেসর রেহমান সোবহানও সঠিক নগরায়ন পদ্ধতির একটা মূল সমস্যা হিসেবে রাজনৈতিক অর্থনীতিকে চিহ্নিত করেন। তিনি বলেন, এই দ্বন্দ্বের নিরসন না হলে সমস্যা থেকেই যাবে। বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্পের প্রণয়ন, বাস্তবায়ন ও ব্যবহারে যেখানে দশ থেকে বারো বছরের প্রয়োজন, সেখানে সরকারের আয়ু পাঁচ বছর। সময়ের এই অমিল সরকারকে নতুন কাজে হাত দিতে উৎসাহিত করে না। জমির উচ্চ মূল্যও বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের পথে একটি বাধা হিসেবে কাজ করে। তিনি বলেন যে সমস্ত অবকাঠামোগত প্রকল্প নিয়ে এখান ভাবা হচ্ছে সেগুলো নিয়ে বিশ/পঁচিশ বছর আগে চিন্তা করা উচিত ছিল। দীর্ঘ-মেয়াদী প্রকল্পের বাস্তবায়নের সাথে সাথে দ্রুত বাস্তবায়িত করা যায় সেরকম কাজগুলোও চলতে পারে। বাপা-বেন নগরায়ন নিয়ে যে সম্মেলনের আয়োজন করেছে তাতে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন ও সম্মেলনের সাফল্য কামনা করেন।

ঢাকা শহরের যানজট

ঢাকা শহরের যানজট

অতিথি ও আলোচকদের বক্তব্যের পর উপস্থিত সবাই উৎসাহের সঙ্গে উন্মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।

সেমিনারে একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও চিত্রের জন্য নীচের You-Tube ক্লিপটি দেখুনঃআমাদের সময়, আলোচনা, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, জনকন্ঠ, ডেসটিনি, দিগন্ত, দিনের শেষে, নয়া দিগন্ত, প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ভোরের
কাগজ, মানবজমিন, মুক্তমঞ্চ, যায় যায় দিন, যায়যায়দিন, যুগান্তর, সংগ্রাম, সংবাদ,চ্যানেল আই, বাঙ্গালী, বাংলা ভিশন, এনটিভি,এটিএন বাংলা, আরটিভি, দেশ টিভি, বৈশাখী টিভি, একুশে টিভি, প্রবাস, প্রবাসী, ঠিকানা, জাহান হাসান, বাংলা, বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস, লিটল বাংলাদেশ, ইউএসএ, আমেরিকা, অর্থনীতি, প্রেসিডেন্ট ওবামা,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,অর্থ, বাণিজ্য, শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, রাজাকার, আল বদর, Jahan, Hassan, Ekush, bangla, desh, Share, Market, nrb, non resident, los angeles, new york, ekush tube, ekush.info,