স্ক্রিননির্ভর জীবন


স্ক্রিননির্ভর জীবন

  

সারাদিন কর্মক্ষেত্রে ল্যাপটপের স্ক্রিনে চোখ রেখে ঘরে ফিরে আবার বসছেন টিভি স্ক্রিনের সামনে। রিমোটের নব ঘুরছে, একটার পর একটা চ্যানেল আসছে, কোথাও মন বসছে না। বেডরুমের টিভিতে গৃহকর্ত্রী তখন বুঁদ হয়ে আছেন হিন্দি সিরিয়ালে। পাশের রুমে মেয়ের খোলা দরজায় চোখ রেখে দেখলেন কম্পিউটারে ফেসবুকে নিমগ্ন মেয়ে। ছোট ছেলেটি পড়ার টেবিলে বসেই ভিডিও গেমের বাটন টিপে যুদ্ধজয়ের ভার্চুয়াল নেশায় উত্তেজনায় কাঁপছে। একই ছাদের নিচে নানা স্ক্রিনে চোখ রেখে চার আপনজন হয়ে উঠেছেন চার পৃথিবীর বাসিন্দা। এক অদ্ভুত একা, নিঃসঙ্গ, বিচ্ছিন্ন পৃথিবীর বাসিন্দা হয়েও যে যার মতো খুঁজে নিচ্ছেন আপন আপন জগৎ। আমরা বাঁধা পড়ছি এক নতুন জীবনচক্রে। এক দেয়ালের মধ্যে বসবাস করেও তৈরি হচ্ছে যোজন যোজন দূরের পৃথিবী। কখনো তা সুখ আনছে কখনো তা ডাকছে দুঃখ। কিন্তু এ থেকে যেন মুক্তি নেই। নিত্যদিনের জড়িয়ে যাওয়া এই নয়া পৃথিবীই যেন আমাদের নয়ানিয়তি। লিখেছেন শুভ কিবরিয়া

ভদ্রলোকের এক ছেলে এক মেয়ে। বেসরকারি ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন পদে কাজ করেন। সকালে যখন অফিসে বের হন গাড়িতে মোবাইল ফোনের স্ক্রিনেই জেনে নেন সেদিনের দৈনিক সংবাদের শিরোনাম। অনলাইন মিডিয়ার কল্যাণে লম্বা সময় ধরে নিউজপ্রিন্টের সংবাদপত্র পাঠের ধকল আর সামলাতে হয় না তাকে। সংবাদ পাঠের মাঝেই দ্রুত নিজের পারসোনাল ই-মেইল চেক করে নেন। একবার উত্তরও দেন প্রয়োজনমতো মোবাইলের বাটন টিপে। মুঠোফোনের প্রতি এক ধরনের কৃতজ্ঞতা জেগে ওঠে। এক মোবাইল ফোন কত কাজের সুবিধা দিচ্ছে। 
অফিসে পৌঁছেই ল্যাপটপের মনিটরে চোখ রাখেন। আজকাল আর কাগজের বালাই নেই। ল্যাপটপের স্ক্রিনেই ব্যাংকিং জগতের গোটা দুনিয়ার খবর। প্রথম যখন পেশাগত জীবন শুরু করেছিলেন তখনও টেবিলজুড়ে কাগজপত্র থাকত। দ্রুত কাগজের অফিস হারিয়ে গেল। ল্যাপটপের মনিটরে চোখ রেখে এসব ভাবতে ভাবতেই মুঠোফোনের এসএমএস অ্যালার্ট বেজে ওঠে। মেয়ের স্কুলের কর্তৃপক্ষের মেসেজ। আগামী সপ্তাহে প্যারেন্টস ডে, তার খবর। ল্যাপটপ আর মোবাইল ফোন, দুই স্ক্রিনের এই চালাচালির মাঝেই দ্রুত অফিসের জরুরি মিটিংগুলো সারতে থাকেন। মিটিংয়ে থাকার সময় মুঠোফোন সাইলেন্স মুডে থাকে। মিটিং শেষে মুঠোফোন খুলে মেসেজ, মিসকলগুলোর দিকে তাকান। একটা নম্বর অচেনা মনে হয়। রিং করতেই ওপার থেকে তাকে মনে করিয়ে দেয়া হয় আজ রাত সাড়ে আটটায় মেডিসিনের প্রফেসরের সঙ্গে তার অ্যাপয়েনমেন্টের কথা। ছেলেকে নিয়ে যাবেন। বেসরকারি হাসপাতাল থেকে রিকনফার্ম করা হলো আজকের অ্যাপয়েনমেন্ট।
ছেলেটার মুখ ভেসে ওঠে। দেখতে দেখতে কী লম্বা হয়ে গেল। দেশের খ্যাতনামা একটা ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের সিনিয়র সেকশনে পড়ছে। দেখতে অনেকটা দাদার মতো হয়েছে। আজকাল ছেলের মুখের দিকে তাকালে নিজের বাবার কথা মনে পড়ে। প্রায় ১৫ বছর আগে বাবা মারা গেছেন। কাজের ভিড়ে বাবার কথা মনেই পড়ে না। বাবা কি মিষ্টি আদর করতেন, আর প্রয়োজনে কি কড়া শাসন ছিল তার! নিজের ছেলের সঙ্গে অবশ্য সম্পর্কটা অন্যরকম। প্রায় বন্ধুর মতো। যদিও কর্মব্যস্ততার কারণে আস্তে আস্তে ছেলের সঙ্গে শেয়ার করার সময় কমে যাচ্ছে। ছেলে আর বাবা, দুই প্রজন্মের মাঝখানে দাঁড়িয়ে ভাবতে ভাবতে আলগোছে কাছে টেনে নেন নোটবুক। নোটবুকের টাচস্ক্রিনে দেখতে থাকেন নিজের বাবার ছবি। ফিরে আসতে থাকে স্মৃতি, শৈশব, ধূসর দিনের বহু উজ্জ্বল আনন্দঘন সময়ের কথা। একসময় দেখেন চোখের কোণে পানি জমেছে। একটু অবাক হয়েই পড়েন। আজ কি হলো? নোটবুক বন্ধ করে, মুঠোফোনে স্ত্রী এবং ছেলেকে মেসেজ পাঠান, আজ বিকেলে ডাক্তারের কাছে অ্যাপয়েনমেন্টের কথা স্মরণ করিয়ে দিতে। স্ত্রীর তাৎক্ষণিক পাল্টা মেসেজ, ওকে, থ্যাংকস। মুচকি হাসতে থাকেন। বিয়ের আগে বছর দেড়েকের প্রেম ছিল। দুজনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বলতেন। আজকাল দুজনের দেখা এবং কথা হয় যত, তার চেয়ে স্ক্রিনেই যোগাযোগ বেশি। আন্তর্জাতিক এক এনজিওতে দ্রুত ওর উন্নতি হচ্ছে। ক্যারিয়ারের প্রতি যত
œবান স্ত্রী, আজকাল ট্রেনিং, সেমিনার এসব নিয়ে বিদেশেই থাকেন বেশি। দেশে থাকলেও বেশির ভাগ সময় কাটে তৃণমূল জনগোষ্ঠীর সঙ্গে গ্রামে। খাবার টেবিলে মাঝেমধ্যে তাই ছেলেটি রসিকতা করে মাকে বলে, মা এ মাসে কদিন তুমি দেশে থাকবে? ছেলেমেয়ের সঙ্গে বাবার মতো মায়ের যোগাযোগের বড় মাধ্যমও হয়ে উঠছে মুঠোফোন, মেইল, স্কাইপিÑ হরেক রকম স্ক্রিন।

২.
যে ঘটনাটির কথা উল্লেখ করা হলো, এরকম এক জীবনের মধ্যে দ্রুত ঢুকে যাচ্ছে উঠতি মধ্যবিত্ত। ছোট সংসারের, কর্মব্যস্ত, বৈষয়িক উন্নতির প্রতি ধাবমান এই নয়াপ্রজন্ম বাংলাদেশের মধ্যবিত্তের ষাটের দশকীয় মূর্তি ভেঙে দ্রুত ওপরে উঠছেন। ফ্ল্যাট, গাড়ি, ব্যাংক ব্যালেন্স, বিদেশ ভ্রমণ, অফিসনির্ভর জীবনের মাঝে পরিবার, সন্তান, স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে স্ক্রিন। মুঠোফোন, আইফোন, ল্যাপটপ, নোটবুক
Ñ এই ই-জগতের মাধ্যমেই পরিবার, বন্ধু-স্বজনদের সঙ্গে থাকছে নেটওয়ার্ক। এক অর্থে এই নেটওয়ার্ক এখন বড় হচ্ছে। বিদেশে বসবাসরত আত্মীয়-বন্ধুদের যাদের সঙ্গে একসময় বছরে একবারও দেখা হতো না, চিঠি চালাচালি ঘটত না, এখন তাদের সঙ্গে চলছে নিত্য যোগাযোগ। ফেসবুক, টুইটার, স্কাইপি, ইয়াহু, জি-মেইলÑ কত নিত্য পথে প্রতিদিন জানা হয়ে যাচ্ছে সবার খবর। 
এটা শুধু উঠতি মধ্যবিত্তের জীবনেই যে ঘটছে তা নয়। আমাদের সবার ঘরে, কোনো না কোনো কর্মে স্ক্রিনের উপস্থিতি নিত্য বাড়ছে। যাদের সামর্থ্য আছে, শিক্ষায় বিনিয়োগের সুযোগ আছে, সামাজিক যোগাযোগের শক্তি আছে তারা তো বটেই, যাদের সেসব নেই তারাও ঘরের মধ্যে স্ক্রিনের চৌহদ্দিতে আটকে থাকছেন। টেলিভিশনের স্ক্রিন এখন তাদের জীবনের বড় অংশ। হিন্দি, বাংলা সিরিয়াল, কৌতুকের রিয়েলিটি শো, গানের প্রতিযোগিতা, স্পোর্টস শো, নিউজ, প্রকৃতি হরেক রকম চ্যানেলের
  বহুবিচিত্র অনুষ্ঠান আমাদের ঘরের জীবনকে আটকে রেখেছে স্ক্রিনের কয়েক ইঞ্চির সীমানায়।

৩.
রাজনীতি কি স্ক্রিনের বাইরে? যে কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি বা সংবাদ সম্মেলনে নেতাদের ক্যামেরার সামনের হুড়োহুড়ি খেয়াল করলেই এর উত্তর পাওয়া যাবে। টেলিভিশন ক্যামেরায় মুখ দেখিয়ে নেতা হবার রাজনৈতিক ইঁদুর দৌড় এখন প্রবল। যারা আরেকটু সৌভাগ্যবান, যাদের সামাজিক যোগাযোগ আরেকটু গতিময়, তাদের জন্য রয়েছে টেলিভিশনের টকশো। বিরোধী দল গত চার বছরে যা করতে পারেনি, এক টকশোই তার চেয়ে বেশি প্রভাব রেখেছে সরকারি দলের ওপর। টেলিভিশন স্ক্রিনের মধ্যরাতের টকশো খোদ প্রধানমন্ত্রীকে পর্যন্ত বিরক্ত করছে। মিডিয়ায় তিনি সেই বিরক্তি প্রকাশও করেছেন। স্ক্রিনে জনগণ তাই দেখছে।
শুধু বুর্জোয়া রাজনীতির দল আওয়ামী লীগ-বিএনপিই নয়, আগে যারা সমাজ বদলের কথা ভাবতেন, সেই বামপন্থি রাজনীতিবিদদের, রাজনৈতিক কর্মীদের ভরসাও এখন স্ক্রিন। ফেসবুকে তারা স্ট্যাটাস দিচ্ছেন, কে কখন কোথায় কোন বেসরকারি টিভি চ্যানেলের টকশোতে যাচ্ছেন। ছোট স্ক্রিনে বার্তা রাখছেন, বড় রাজনৈতিক কর্মসূচির।
 
সামাজিক যোগাযোগের নেটওয়ার্ক ফেসবুকের স্ক্রিন যে বড় শক্তি অর্জন করেছে, তার প্রমাণ মধ্যপ্রাচ্যের আরব বসন্ত। বাংলাদেশেও তার স্বপ্নপ্রবণতা দেখা যায় রাজনৈতিক কর্মীদের ফেসবুক স্ট্যাটাসে। স্ক্রিন যে কত শক্তিশালী, কখনো কখনো কত আত্মধ্বংসী তার প্রমাণ মিলেছে রামুর সাম্প্রদায়িক সহিংসতায়। এর উপাদান, প্রণোদনা, প্ররোচনা ঘটিয়েছে মোবাইল আর কম্পিউটারের স্ক্রিনে ভেসে আসা কোরান অবমাননার ছবি।

৪.
শিক্ষার্থীদের জীবনে স্ক্রিনের প্রভাব বড় হয়ে উঠছে। আগে ছেলেমেয়েরা দল বেঁধে সিনেমা হলে যেত ছবি দেখতে। এখন কম্পিউটার স্ক্রিনেই তা সারছে। জ্ঞানভাণ্ডার এখন গুগল আর ইন্টারনেটের স্ক্রিন চৌহদ্দিতে ঢুকে যাওয়ায় ম্যানুয়াল লাইব্রেরির গুরুত্ব কমে যাচ্ছে। শিশুরাও এখন আর মাঠে যায় না, খোলা আকাশের দেখা পায় না। মাঠ কমছে, আকাশ হারিয়ে গেছে বলেই হয়ত শিশুদের খেলার জগৎ আর স্বপ্নপৃথিবী হচ্ছে স্ক্রিন। ডোরেমন তাদের এক নয়া অ্যাডিকশনের নাম। কার্টুন চ্যানেলগুলো এখন তাদের দিনরাত্রি কেড়ে নিচ্ছে। টেলিভিশন বা কম্পিউটার স্ক্রিনে বসেই ভিডিও গেমসে তৈরি হচ্ছে তার স্বপ্নজগৎ। ফার্মভিল তাকে শেখাচ্ছে কল্পিত গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগির ফার্ম তৈরির কথা। স্পোর্টস রাইডে চড়ে সে চলে যাচ্ছে তার অনন্ত স্বপ্নের ভার্চুয়্যাল জগতে। স্ক্রিন অ্যাডিকশনে খেলাধুলা, দৌড়াদৌড়ি কম
  বলে মুটিয়ে যাচ্ছে শিশুরা। সেই সমস্যা সমাধান করতে আবার এগিয়ে আসছে স্ক্রিন। ভার্চুয়্যাল জগতে শিশুদের খেলাধুলা, ব্যায়াম নিয়ে আসছে এক্সবক্স। টিভির মনিটরে চোখ রেখে দুরন্ত সব অ্যাডভেঞ্চারে মাতছে সচ্ছল পরিবারের শিশুরা।

৫.
স্ক্রিনের প্রভাব কি নেই তৃণমূলের জীবনে? যে কোনো বস্তি এলাকায় গেলে দেখা যাবে, ঘরে ঘরে চলছে টেলিভিশন, ভিডিও। মোবাইল ফোন তো সবার হাতে। গ্রামের ছোটবড় দোকানগুলো ছিল একসময় সামাজিক আড্ডার বড় কেন্দ্র। দোকান ঘিরে অবসর কাটত গল্প আড্ডায়। ধূমায়িত চায়ের সঙ্গে চলত রাজনীতির উজির-নাজির মারা। এখন সে জায়গারও দখল নিয়েছে স্ক্রিন। ছোটবড় প্রায় প্রতিটি দোকানে ডিভিডি চলছে সর্বক্ষণ। যার যার পছন্দমতো বাংলা কিংবা হিন্দি ছায়াছবি কিংবা গানের ট্রেলর চলছে। দোকানঘরের সব ক্রেতা কিংবা অবসর কাটানো আড্ডাপ্রিয় মানুষের চোখ আর মনোজগৎ দখল করে নিয়েছে টিভির কয়েক ইঞ্চির স্ক্রিন।
স্ক্রিন আমাদের সব দিচ্ছে। ধর্মীয় অনুষ্ঠান থেকে রিয়েলিটি শো হয়ে ন্যুড জগতের তাবৎ জিনিস পেয়ে যাচ্ছি আমরা স্ক্রিনে। এক স্ক্রিন থেকে অন্য স্ক্রিনে স্থানান্তরের সহজ প্রযুক্তির কল্যাণে জ্ঞানের জগৎ, সুশীল জগতের যেমন বিস্তার বাড়ছে, সহজগম্যতা ঘটছে, ঠিক তেমনি বাড়ছে অপরাধপ্রবণতাও।
পর্নোগ্রাফির প্রসার থেকে অনলাইন মার্কেটিংয়ের নয়াজগতের আবির্ভাব এখন এই স্ক্রিনেই। বাংলাদেশেই কোরবানির গরু কেনা যাচ্ছে অনলাইনের ল্যাপটপের মনিটরে চোখ রেখেই।

৬.
দেশে কি সুশাসন আসবে? দুর্নীতির করাল গ্রাস থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে? এই শাসনগত প্রশ্নের সমাধানেও এগিয়ে এসেছে স্ক্রিন। কথা উঠেছে, ই-গভর্নেন্স প্রতিষ্ঠার। ই-টেন্ডারিংয়ের। এই ই-জগৎ এখন সুশাসনের সমার্থক হয়ে উঠেছে। ডিজিটাল বাংলাদেশের জয়গান চলছে। অফিস-আদালত সর্বত্র ডিজিটালাইজেশন হবার কথা উঠছে। সর্বত্রই ই-সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে নতুন শাসনদুনিয়ার পথে হাঁটতে চাইছে বাংলাদেশ। অর্থাৎ এক স্ক্রিন সাম্রাজ্য এখন আমাদের আরাধ্য। দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন এখন তাই আসলে স্ক্রিন দুনিয়ার নয়ারাজ প্রতিষ্ঠার নামান্তর।

৭.
আমাদের ভাবনা, চিন্তা, কর্ম, বাণিজ্য, ধর্ম, শিক্ষা, স্বপ্ন
Ñ সর্বত্রই স্ক্রিনের উপস্থিতি বড় হয়ে উঠছে। এর ভালো দিক যেমন আছে মন্দ দিকও তেমনি আছে। ঘরের কোণে রাতের পর রাত যে মেধাবী ছেলেটি কম্পিউটারের স্ক্রিনে চোখ রেখে আউটসোর্সিং করে দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করছে, তেমনি কেউ কেউ খুঁজে নিচ্ছে আল-কায়েদার যোগসূত্রও। গ্লোবাল পৃথিবীর এই নয়া স্ক্রিনরাজ তাই এখন এক বড় বিপদের নামও। এর হাত ধরে আমরা যেমন আবিষ্কার করতে পারি জ্ঞানের সমুদ্র ঠিক তেমনি ডুবে যেতে পারি সন্ত্রাসের, পর্নোগ্রাফির নিষিদ্ধ জগতেও। ছোট একটা স্ক্রিন যেমন আমাদের জীবনে আনতে পারে অনেক আনন্দের সংবাদ, ঠিক তেমনিই এই স্ক্রিনেই ভেসে উঠতে পারে সবচেয়ে বড় দুঃসংবাদ। কিন্তু স্ক্রিন থেকে মুক্তি নেই। আধুনিক দুনিয়ার এই নয়া আবিষ্কার আমাদের আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলেছে। পুঁজি আর বাণিজ্যের দুনিয়াবি সিন্ডিকেট তাতে দিয়েছে তা। কাজেই স্ক্রিন জগতেই এখন আমাদের নিত্যবাস।
এই ঈদে হরেক চ্যানেলে হাজার রকমের অনুষ্ঠানের বিজ্ঞাপন চলছে। এই ছোট স্ক্রিনের নানান অনুষ্ঠান কেড়ে নেবে আমাদের ঈদজীবন। এক চ্যানেল থেকে অন্য চ্যানেলের নব ঘুরিয়ে স্ক্রিনের মাহাত্ম্যেই হয়ত আমরা ভুলে যাব আমাদের সামাজিক আড্ডার কথা, আত্মীয় সম্মিলনের কথা। কিংবা হয়ত ফেসবুকে, মুঠোফোনে ঝালিয়ে নেব আমাদের আত্মীয়তা-বন্ধুত্ব ।
সূত্র ঃ http://www.shaptahik.com/v2/?DetailsId=7428

ক্যালিফোর্ণিয়া ষ্টেট আওয়ামী লীগের সম্মেলন ২০১২


নেত্রী মোদের শেখ হাসিনা- আমরা সবাই মুজিব সেনা
ক্যালিফোর্ণিয়া ষ্টেট আওয়ামী লীগের সম্মেলন ২০১২
৮ জুলাই ২০১২, সন্ধ্যা ৫-১০
শ্যাটো রিক্রিয়েশনাল সেন্টার, লস এঞ্জেলেস
ভিডিও নিউজঃ
You are all cordially Invited at the Awami League Conference in California 2012

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দলীয় ক্যাডারদের ছড়াছড়ি


পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দলীয় ক্যাডারদের ছড়াছড়ি

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এখন দলীয় ক্যাডারদের ছড়াছড়ি। শুধু রাষ্ট্রদূত পদে নয়, ফার্স্ট সেক্রেটারি থেকে শুরু করে সহকারী সচিবের মতো মধ্যম ও নিম্নস্তরের কূটনীতিক পদে চলছে চুক্তিভিত্তিতে দলীয় ক্যাডারদের নিয়োগ। এ পর্যন্ত ১২ জনকে রাষ্ট্রদূত এবং ১১ জন দলীয় ক্যাডার, ক্যাডারদের স্ত্রী ও আত্মীয়স্বজনকে মধ্যম এবং নিম্নস্তরের কূটনীতিক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

এদের মধ্যে এমন অনেকে রয়েছেন যারা অনার্স ও মাস্টার্সে তৃতীয় শ্রেণীপ্রাপ্ত। অনেকে ছিলেন গৃহিণী। কূটনীতিক হিসেবে দায়িত্ব পালনের কোনো যোগ্যতাই নেই এসব দলীয় ক্যাডারের। এ নিয়ে পেশাদার কূটনীতিকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে চরম হতাশা এবং ক্ষোভ। দলীয় ক্যাডারদের এই নিয়োগের ব্যাপারে কোনো কথা বলতে রাজি হননি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ব্রিটেন, ভারত এবং জাতিসংঘের মতো গুরুত্বপূর্ণ মিশনসহ মোট ১২টি মিশনে দলীয় লোকদের চুক্তিভিত্তিতে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়।

এখন নিচের পদে চলছে দলীয় ক্যাডারদের নিয়োগ। ছাত্রলীগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সহ-সভাপতি ওয়াহিদুর রহমান টিপুকে ম্যানচেস্টারে বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে ফার্স্ট সেক্রেটারি হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এই পদে নিয়োগের আগে তার পেশা ছিল রাজনীতি। ঠাকুরগাঁওয়ের সাবেক এক আওয়ামী লীগ এমপির ছেলে শাহেদুর রহমানকে নিউইয়র্কের বাংলাদেশ কনসুলেটে ফার্স্ট সেক্রেটারি হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এই পদে নিয়োগ পাওয়ার আগে তার পেশা ছিল রাজনীতি। ছাত্রলীগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কুয়েত-মৈত্রী হল শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক অপর্ণা পালকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সিনিয়র সহকারী সচিব (কনসুলার) পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে অপর্ণা পাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শন বিভাগের ছাত্রী ছিলেন এবং তিনি অনার্স ও মাস্টার্সে তৃতীয় শ্রেণীপ্রাপ্ত।
অপর্ণা পাল এখন কানাডায় পোস্টিং নেয়ার চেষ্টা করছেন।

ছাত্রজীবনে আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক কর্মকর্তা মরহুম ওয়াইসুজ্জামানের স্ত্রী মৌসুমী ওয়াইসকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সিনিয়র সহকারী সচিব (বাজেট) নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এই পদে নিয়োগ পাওয়ার আগে তিনি একজন গৃহিণী ছিলেন। ছাত্রলীগের সাবেক নেতা মাসুম আহমেদকে নেদারল্যান্ডে বাংলাদেশ দূতাবাসে সেকেন্ড সেক্রেটারি নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এই পদে নিয়োগের আগে তিনি পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর এপিএস ছিলেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক কর্মকর্তা মরহুম রুহুল আমীনের স্ত্রী আনিসা আমীনকে প্যারিসে বাংলাদেশ দূতাবাসে ফার্স্ট সেক্রেটারি হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এই পদে নিয়োগের আগে তিনি ছিলেন গৃহিণী।

ছাত্রলীগের সাবেক নেত্রী এবং ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইসহাক আলী খান পান্নার স্ত্রী ইরিন পারভীন বাঁধনকে সিঙ্গাপুরের বাংলাদেশ হাইকমিশনে কাউন্সেলর নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তিনি একজন সরকারি চাকরিজীবী। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক মহাপরিচালক ফারুক আমীনের স্ত্রী রওনক আমীনকে থাইল্যান্ডে বাংলাদেশ দূতাবাসে ফার্স্ট সেক্রেটারি নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এই পদে নিয়োগ পাওয়ার আগে তিনি ছিলেন গৃহিণী। বিডিআর বিদ্রোহে নিহত এক সেনা কর্মকর্তার স্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর এপিএস (২) সাইফুজ্জামান শেখরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু শামীমা পারভীনকে অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনে সেকেন্ড সেক্রেটারি নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এই পদে নিয়োগ পাওয়ার আগে তিনি ছিলেন গৃহিণী।

গত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রধানমন্ত্রীর দফতরের পরিচালক এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক কর্মকর্তা মরহুম শিকদার মোহাম্মদ জাহিদুর রহমানের স্ত্রী চৌধুরী সুলতানা পারভীনকে নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনসুলেটে কনসল হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এই পদে নিয়োগ পাওয়ার আগে তিনি ছিলেন একজন গৃহিণী।

এছাড়া বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর পুরস্কার হিসেবে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় সাবেক কূটনীতিক তারিক এ করিমকে ভারতে, সাবেক কূটনীতিক আকরামুল কাদেরকে যুক্তরাষ্ট্রে এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. এম সাইদুর রহমান খানকে ব্রিটেনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। অর্থমন্ত্রীর ভাই ড. আবদুল মোমেনকে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। নেপালে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয় অযোগ্য ও বিতর্কিত ড. নিমচন্দ্র ভৌমিককে। এরই ধারাবাহিকতায় পরবর্তী সময়ে পেশাদার কূটনীতিকদের বাদ দিয়ে চীনে সাবেক কূটনীতিক মুন্সী ফয়েজ, ওমানে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি নূরুল আলম, রাশিয়ায় ড. এসএম সাইফুল হক, পাকিস্তানে মো. সোহরাব হোসেন, ইরাকে মুহাম্মদ কামালউদ্দিন, লিবিয়ায় মুহাম্মদ নুরুজ্জামান এবং শেখ কামালের বন্ধু ও আবাহনী ক্লাবের সাবেক পরিচালক শাহেদ রেজাকে দলীয় লোক হিসেবে কুয়েতে রাষ্ট্রদূত পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। ক্ষমতায় আসতে নানাভাবে সহায়তা করার পুরস্কার হিসেবে এদের রাষ্ট্রদূত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। এছাড়া ১/১১’র অন্যতম প্রধান হোতা লে. জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে হাইকমিশনার হিসেবে অস্ট্রেলিয়ায় বহাল তবিয়তে রেখেছে বর্তমান সরকার।

দলীয় ক্যাডারদের এই নিয়োগের ব্যাপারে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, অতীতে কখনও এভাবে অযোগ্য দলীয় ক্যাডার এবং তাদের আত্মীয়স্বজনদের কূটনীতিক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়নি। পেশাদার কূটনীতিকদের বাদ দিয়ে এক্ষেত্রে ঢালাওভাবে যে দলীয়করণ শুরু হয়েছে তাতে অকার্যকর হতে চলেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আর এভাবে চলতে থাকলে আগামীতে মেধাবীরা আর কূটনীতিক হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে চাইবে না। এছাড়া দলীয়করণের ফলে কূটনীতির স্বাভাবিক প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কূটনীতির মূল উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হবে। এদিকে এসব বিষয় নিয়ে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি। গত বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তার মাধ্যমে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ নিয়ে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান ।

দেশের মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে আমাদের কূটনৈতিক ভাবমূর্তি উজ্জ্বল রাখাটা অনেক বেশি জরুরি।


ডিপ্লোম্যাটিক নাকি ডিপসোম্যানিক?

আবু ইশমাম
যাদের স্থান পাওয়ার কথা
Deep-low-mat-এ বা গভীর নিচুতে পাতা মাদুরে, দেশের পররাষ্ট্রনৈতিক কর্তৃপক্ষের কাছে তারা বড়ই আদুরে! উল্টো তাদের স্থান দেয়া হয়েছে মর্যাদার উঁচু আসনে, Diplomat হিসেবে। কিন্তু কর্তৃপক্ষের হিসাবে বড়ই ভুল ছিল। জানি না এ ভুলের জন্য তারা এখন অনুশোচনায় চুল ছিঁড়তে চাইবে কি না! জাপান, ওমান ও নেপালে নিয়োজিত রাষ্ট্রদূতেরা তাদের অশিষ্টতা বা মদ-নারীতে আসক্তিপূর্ণ আচরণের মাধ্যমেDiplomat ভাবমর্যাদার বদলে বিদেশে তাদের পরিচিতি হয়েছে Diplomatic বা মাদকাসক্ত উন্মাদরূপে! নেপালে সম্প্রতি বাংলাদেশের দুইজন সাহসী তরুণ মুসা ও মুহিত বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ এভারেস্টে আরোহণ করে সারা বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি উঁচু করেছিলেন। Dipsomanic Diplomat-রা তা আবার নামিয়ে আনলেনDeep-low-mat-এ। পেশাগত দক্ষতার বদলে দলীয় আনুগত্যই একমাত্র যোগ্যতা বিবেচিত হওয়ায় কূটনৈতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের মর্যাদার এই ভূমিধস পতন বলে অনেকে মনে করছেন। আমাদের রফতানি আয়ের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ আসে বিদেশী রেমিট্যান্স থেকে (২০১০ সালে ১১ বিলিয়ন ডলার); যা অব্যাহত রাখতে ও দেশের মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে আমাদের কূটনৈতিক ভাবমূর্তি উজ্জ্বল রাখাটা অনেক বেশি জরুরি।

 

গত বছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরে প্রধানমন্ত্রীর এক সফরসঙ্গীর নারী কেলেঙ্কারিও দেশের সুনামের অবয়বে কালিমা লেপন করেছিল। কিন্তু সে ঘটনায়ও বোধ হয় সংশ্লিষ্টরা কূটনৈতিক নিয়োগে যথেষ্ট সতর্ক হননি। তাই চাণক্যের উত্তরসূরি ভেবেই হয়তো ড. নিমচন্দ্র ভৌমিককে নেপালে রাষ্ট্রদূত নিয়োগ করেছিলেন। কিন্তু সেই উত্তরসূরি যে আসলে উত্তর-শুঁড়ি, তা কে জানত? চন্দ্রেরও কলঙ্ক থাকে, তাই নিমচন্দ্রেরই বা থাকবে না কেন? নিম তো একটু তেতো বটেই! মার্সিডিস বেঞ্জের বদলে বাহন হিসেবে মোটরসাইকেল খারাপ কিছু নয়! কাঠমান্ডুতে বাইকে চেপে রাষ্ট্রদূত যাচ্ছেন, এটা দেখে তার কৃচ্ছ্রসাধনের প্রতি অনেকেই শ্রদ্ধাবনত হতে পারেন! কিন্তু ক্লাবে-বারে তার মদ-নারী-ফুর্তি ফুটিয়ে তুলেছে তার আসল মূর্তি! এ বিষয়ে বিগত ৩ জুন ২০১১ তারিখের নয়া দিগন্তের এক বিস্তারিত রিপোর্টে জানা যায়, ‘গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেপালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের ব্যবহারের জন্য দামি মার্সিডিজ বেঞ্জ গাড়ি রয়েছে। নিমচন্দ্র ভৌমিক নজিরবিহীনভাবে দূতাবাসের হিসাবরক্ষকের মোটরসাইকেলে চড়ে ড্যান্সবারে যান। মদ ও নারী নিয়ে আমোদ-ফুর্তি করেন। শুধু তা-ই নয়, কাঠমান্ডুতে অবস্থিত ভারতের একজন মহিলা কাউন্সিলরের বাসায় তিনি জোর করে ঢুকতে চাইলে কর্তব্যরত নিরাপত্তা প্রহরী বাধা দেন। এর পরও রাষ্ট্রদূত ওই কাউন্সিলরের বাসার সামনে আধা ঘণ্টা গাড়ি নিয়ে অপেক্ষা করেন। কূটনৈতিক শিষ্টাচারবহিভূত আচরণের জন্য নেপালের পররাষ্ট্রসচিব নিমচন্দ্র ভৌমিককে সরিয়ে নেয়ার জন্য বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিবকে অনুরোধ জানিয়েছেন। ঢাকায় অবস্থিত নেপাল দূতাবাস এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারকে শিগগির একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে কাঠমান্ডুতে পেশাদার কূটনীতিক নিয়োগ দেয়ার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।’ প্রশ্ন হচ্ছে, নেপালে রাষ্ট্রদূত হওয়ার কী যোগ্যতা তার আছে? বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেই কি রাষ্ট্রদূত হওয়া যায়? একটি সাম্প্রদায়িক সংগঠনের নেতৃত্বই কি তার বিশেষ যোগ্যতা? দেশে কি সচ্চরিত্র, দেশপ্রেমিক, মার্জিত-শিক্ষিত-সুসভ্য-যোগ্য পেশাদার কূটনীতিকের অভাব পড়েছে? নিমচন্দ্র কূটনৈতিক নর্ম ভঙ্গ করে যে ঘটনা ঘটিয়েছেন, তাতে কেউ আর তাকে নমঃ জানাবে না, বরং মর্যাদাপূর্ণ পদ থেকে তার অবনমনই চাইবে। নেপালের সাথে ট্রানজিট, বন্দর ব্যবহার ও বাণিজ্য সম্পর্কের বিভিন্ন দিকগুলো নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রগতির আভাস পাওয়া গেছে। সার্ক সচিবালয় রয়েছে কাঠমান্ডুতেই। নেপালের সাথে ভৌগোলিক দূরত্বও মাত্র ষোলো মাইল। কিন্তু রাষ্ট্রদূতের অবিমৃশ্যকারিতায় সৃষ্টি হতে পারে বহু যোজন কূটনৈতিক দূরত্ব, যা আমাদের জন্য ক্ষতিই বয়ে আনবে। আর মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে সম্প্রতি নেপাল কিন্তু বাংলাদেশের প্রতিদ্বন্দ্বী।http://www.newkerala.com-এর বিগত ১৭ ফেব্রুয়ারির এক খবর অনুযায়ী মালয়েশিয়া বাংলাদেশী ৫৫ হাজার কর্মীর ভিসা বাতিল করে নেপালের জন্য আগের ২৫ হাজারের বদলে এক লাখ কর্মীর ভিসা ইসু করেছে। তা ছাড়া, আমাদের নিকটতম প্রতিবেশী ভারতের সাথে কূটনৈতিক বিপর্যয় আমাদের জন্য কতটা দুর্ভোগের কারণ হতে পারে, সেটা আশা করছি ব্যাখ্যার অবকাশ নেই। আমাদের বিপর্যস্ত পেলে, নেপালও বাগে ফেলে লুটে নিতে পারে কূটনৈতিক-বাণিজ্যিক ফায়দা।

কূটনীতিক নিয়োগের পর বিদেশে পাঠানোর আগে পেশাগত দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা দেয়া দরকার, আর এটাই স্বাভাবিক। সেখানে আগে থেকেই অবস্থানরত অন্য কূটনীতিকেরাই তার জন্য প্রস্তুত থাকেন। তারা কি নতুন রাষ্ট্রদূতকে একটি প্রাথমিক ধারণা দিতে পারেননি? তাহলে কোটি কোটি টাকা খরচ করে আমরা তাদের বিদেশে পাঠিয়েছি কী কারণে? দেশের মর্যাদা এভাবে বিকিয়ে দিতে? কোনো দেশের রাষ্ট্রীয় বা সরকারি প্রতিনিধির সাথে সাক্ষাৎকালে আন্তর্জাতিক শিষ্টাচার ও সে দেশের সংস্কৃতি, সভ্যতা-ভব্যতার রীতিনীতিগুলো মেনে চলা অত্যাবশ্যকীয়।

 

ওমানে আমাদের রাষ্ট্রদূত Woman-প্রীতিতে জড়িয়ে না পড়লেও, তিনি যে কেন প্রথম সাক্ষাতে মন্ত্রী ও রাজপরিবারের সদস্যের কাঁধে হাত রাখতে গেলেন, তা বোধগম্য নয়! রিপোর্টে জানা গেছে, ‘আওয়ামী লীগের তিনবারের নির্বাচিত এমপি নূরুল আলম চৌধুরীকে ওমানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয় ২০১০ সালের ২২ মে। ওমানের সুলতানের কাছে পরিচয়পত্র পেশের আগে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইউসুফ বিন আলাউই বিন আবদুল্লাহর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালের একপর্যায়ে নূরুল আলম চৌধুরী ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাঁধে হাত তুলে দেন। এ আচরণকে কূটনৈতিক রেওয়াজের লঙ্ঘন বলে ওমান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিফ অব প্রটোকল ও আঞ্চলিক ডেস্কের প্রধান বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে উষ্মা প্রকাশ করেছেন। গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী নূরুল আলম চৌধুরী মাস্কাটে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে এটিকে একটি আড্ডাস্থলে পরিণত করেছেন।’ কূটনীতিক নিয়োগের পর বিদেশে পাঠানোর আগে পেশাগত দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে তাকে কী প্রাথমিক ধারণা দেয়া হয়েছিল, জানা দরকার। সেখানে আগে থেকেই অবস্থানরত অন্য কূটনীতিকেরাই বা কী করেছিলেন? তারা কি নতুন রাষ্ট্রদূতকে একটি প্রাথমিক ধারণা দিতে পারেননি? তাহলে কোটি কোটি টাকা খরচ করে আমরা তাদের বিদেশে পাঠিয়েছি কী কারণে? দেশের মর্যাদা এভাবে বিকিয়ে দিতে? কোনো দেশের রাষ্ট্রীয় বা সরকারি প্রতিনিধির সাথে সাক্ষাৎকালে আন্তর্জাতিক শিষ্টাচার ও সে দেশের সংস্কৃতি, সভ্যতা-ভব্যতার রীতিনীতিগুলো মেনে চলা অত্যাবশ্যকীয়। ব্রিটেনের রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথকে পর্যন্ত দেখা গেছে, ইসলামি সংস্কৃতির প্রতি সম্মান প্রদর্শনকারী পোশাকে সৌদি বাদশাহর সাথে দেখা করতে। বাংলাদেশে ইউএনএফপিএ-এর সাবেক প্রতিনিধি ও ভারতের পেশাদার কূটনীতিক সুনিতা মুখার্জিকে দেখা গেছে, রাষ্ট্রীয় অনেক অনুষ্ঠানে পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াতকালে মাথায় কাপড় দিতে। ওমানে প্রেরিত কূটনীতিক সে দেশের সংস্কৃতির প্রতি আরো সংবেদনশীল হলেই তার প্রকৃত পোশাদারিত্বের পরিচয় পাওয়া যেত। বাংলাদেশের পঞ্চম বৃহত্তম শ্রমবাজার ওমানে ২.৬১ লাখের ওপরে বাংলাদেশী শ্রমিক কাজ করেন (বাংলাদেশ টুডে ২৪-৩-২০১০)। মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের চেয়ে ওখানকার রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত থাকায় তা হতে পারে আমাদের শ্রম রফতানির এক ক্রমবর্ধনশীল বাজার। শ্রমিকদের কল্যাণে এবং প্রাথমিক গমন খরচ কমাতে বেশ ফলপ্রসূ আলোচনার সুযোগও রয়েছে বলে জানা যায়। ২০১০ সালে যত লোক বিদেশে গেছে তার ১১ শতাংশই গ্রহণ করেছে ওমান (ডেইলি স্টার, ০৫-০৩-২০১১)। ওমানের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতি অর্থনৈতিক ক্ষতি ছাড়াও মুসলিম বিশ্বে আমাদের ভাবমর্যাদা দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

জাপানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের যৌন কেলেঙ্কারি সবচেয়ে বড় আঘাত। জাপান একক রাষ্ট্র হিসেবে আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সবচেয়ে বড় অংশীদার। সেখানে কূটনৈতিক বিপর্যয়ের কারণে আমরা বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারি। রিপোর্টে জানা গেছে, পেশাদার কূটনীতিক এ কে এম মাজিবুর রহমান গত বছর জাপানে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। রাষ্ট্রদূতের সোস্যাল সেক্রেটারি হিসেবে একজন জাপানি মহিলা কর্মরত ছিলেন। কিন্তু সেই মহিলা রাষ্ট্রদূত মাজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ এনে পদত্যাগ করেছেন। এসংক্রান্ত অভিযোগ তিনি টোকিওতে অবস্থিত সব বিদেশী দূতাবাসকে ই-মেইলের মাধ্যমে অবহিত করেছেন। পদত্যাগকারী মহিলা সম্প্রতি যৌন হয়রানির অভিযোগে রাষ্ট্রদূত মাজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন। সংস্কৃতিবান, উন্নত ও পরিশীলিত রুচির জাপানিরা এ ঘটনাকে কিভাবে নিয়েছে, ভাবতেই লজ্জায় ম্রিয়মাণ হয়ে পড়ছি। জাপানে প্রায় ১২ হাজার বাংলাদেশী কর্মজীবী রয়েছেন বলে জানা যায়। তারা অন্যান্য দেশের চেয়ে অনেক বেশি মজুরি পেয়ে থাকেন। ১৯৯১-২০০৪ সাল পর্যন্ত জাপান থেকে ৪০৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাওয়া গেছে বলে জানা যায়। সুনামি ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত জাপান কর্মক্ষেত্র হিসেবে আগের চেয়ে অনেক বেশি স্পর্শকাতর, কূটনৈতিক বিপর্যয় সে স্পর্শকাতরতা আর বাড়িয়ে দিতে পারে। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারক বাংলাদেশের কূষ্টিয়ার সন্তান জাস্টিস রাধাবিনোদ পাল (১৮৮৬-১৯৬৭) দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-উত্তর জাপানে যুদ্ধাপরাধবিষয়ক বিশেষ ট্রাইবুনালে বিচারক প্যানেলের সদস্য হিসেবে জাপানিদের পক্ষে দুঃসাহসী মত ব্যক্ত করে জাপানিদের শ্রদ্ধা অর্জন করে লাভ করেছিলেনOrder of the Sacred Treasure খেতাব। তা ছাড়া, তাকে সম্মান জানাতেYasukuni shrine ও Kyoto Ryozen Gokoku Shrine-এ তার ভাস্কর্যও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই ইতিহাসকে কালিমালিপ্ত করার পাশাপাশি রাষ্ট্রদূতের কেলেঙ্কারি কী খেতাব বয়ে আনবে তা ভেবে শঙ্কিত হচ্ছি।

 

দলীয় বিবেচনায় কূটনীতিক নিয়োগের বিপদসঙ্কেত ব্যক্ত করে বিগত ১৮ মে ২০১১ তারিখে আমার দেশ পত্রিকা একটি প্রতিবেদন ছেপেছিল। সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষের অসতর্কতা যে এত দ্রুত বাস্তবে দৃশ্যমান হবে তা ভাবা যায়নি। বিপদ যে সত্যি সত্যিই রিপোর্টে ব্যক্ত অনুমানের আগেই অনেকখানি ঘটে গেছে, তা কে জানত? সত্যিই এসব কূটনীতিক অনেক করিৎকর্মা, তারা প্রতিবেদকদের দূরদর্শিতার চেয়ে অনেক অগ্রসর। রিপোর্টটিতে জানা গিয়েছিল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এখন দলীয় ক্যাডারদের ছড়াছড়ি। শুধু রাষ্ট্রদূত পদে নয়, ফার্স্ট সেক্রেটারি থেকে শুরু করে সহকারী সচিবের মতো মধ্যম ও নিুস্তরের কূটনীতিক পদে চলছে চুক্তিভিত্তিতে দলীয় ক্যাডারদের নিয়োগ। এ পর্যন্ত ১২ জনকে রাষ্ট্রদূত এবং ১১ জন দলীয় ক্যাডার, ক্যাডারদের স্ত্রী ও আত্মীয়স্বজনকে মধ্যম এবং নিুস্তরের কূটনীতিক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে এমন অনেকে রয়েছেন, যারা অনার্স ও মাস্টার্সে তৃতীয় শ্রেণিপ্রাপ্ত। অনেকে ছিলেন গৃহিণী। কূটনীতিক হিসেবে দায়িত্ব পালনের কোনো যোগ্যতাই নেই এসব দলীয় ক্যাডারের। এ নিয়ে পেশাদার কূটনীতিকদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে চরম হতাশা ও ক্ষোভ। এ বিষয়ে রিপোর্টটিতে সতর্ক করা হয়েছিল, দলীয়করণের ফলে কূটনীতির স্বাভাবিক প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কূটনীতির মূল উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হবে।

যা হোক, বাংলাদেশ প্রতিদিনের ০৬-০৬-২০১১ তারিখের এক বিস্তারিত রিপোর্টে জানা যায়, টোকিওর বাংলাদেশ মিশনের সোস্যাল সেক্রেটারি মিজ কিয়োকো তাকাহাসিকে কয়েক দফা ইন্টারভিউকালে এবং নিয়োগের পর কর্মক্ষেত্রে ও বাইরে রাষ্ট্রদূত এ কে এম মাজিবুর রহমান তাকে উত্ত্যক্ত করেন, চুমু খেতে চান, শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য চাপ দেন। সব সময়ই মেয়েটির জবাব ছিল ‘না’। এই যৌন নির্যাতনে তাকাহাসির মুখের হাসি দূর হয়ে যায়। কিন্তু রাষ্ট্রদূতের লোলুপ দৃষ্টির বাঁকা হাসি ও অপচেষ্টা বন্ধ না হওয়ায় তিনি অভিযোগ জানাতে বাধ্য হন।

ডিপ্লোম্যাটিক জগতে কূটনীতিক ও নারীর মধ্যে পার্থক্য বিষয়ে একটি মজার গল্প চালু রয়েছে, তা হচ্ছেঃ যখন একজন কূটনীতিক বলেন, হঁ্যা, তাহলে মনে করতে হবে, তিনি বোঝাতে চাচ্ছেন, সম্ভাবনা আছে। যদি তিনি বলেন, আসলে কোনো কূটনীতিকই নন। অন্য দিকে একজন নারী যদি বলেন, ‘না’, তাহলে মনে করতে হবে, তিনি বোঝাতে চাচ্ছেন সম্ভাবনা আছে। আর যদি তিনি বলেন, হঁ্যা, তাহলে মনে করতে হবে তিনি সত্যিকার অর্থে কোনো নারীই নন। জাপানে আর নেপালে নিয়োজিত আমাদের রাষ্ট্রদূতেরা হয়তো এই গল্পটি জানতেন, সে কারণে তারা আকাঙ্ক্ষিত নারীদের ‘না’কে সম্ভাবনা আছে মনে করেই হয়তো সীমা লঙ্ঘন করে থাকবেন। ওমানি কূটনীতিকের অনমনীয়তা এবং ভারতীয় ও জাপানি নারীদের ‘না’ ফুটিয়ে তুলেছে তাদের আপসহীন চারিত্রিক দৃঢ়তা ও পেশাদারিত্ব। আমাদের নির্লজ্জ কূটনীতিকেরা তাদের থেকে কিছু শিখতে পেরেছেন কি?

—————————————————————————————————————————————————–

লস এঞ্জেলেস এ বাফলার অভিষেক অনুষ্ঠিত BUFLA Appreciation Dinner and Inauguration Ceremony


লস এঞ্জেলেস এ বাফলার অভিষেক অনুষ্ঠিত

BUFLA Appreciation Dinner and Inauguration Ceremony

গত ২৪শে জুলাই লস এঞ্জেলেসের লিটল বাংলাদেশ এলাকায় দি উইশ্যায়ার হোটেলে বাংলাদেশ ইউনিটি ফেডারেশন অব লস আঞ্জেলেস-বাফলার অভিষেক অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ ডে প্যারেডের পর প্রতি বছর বাফলার নির্বাচন নিয়মিতভাবে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। অভিষেক অনুষ্ঠানে পুরাতন কমিটি নতুন কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করে । বাফলার এবারের নির্বাচিত কর্মকর্তারা হলেন-সভাপতি সামছুদ্দিন মানিক,সহসভাপতি কাজী মশহুরুল হুদা,সাধারণ সম্পাদক মারুফ ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক আশ্রাফ আহমেদ আকবর, সাংষ্কৃতিক সম্পাদক আন্জুমান আরা শিউলী, কোষাধ্যক্ষ আক্তার হোসেন মিয়া ও পাব্লিক রিলেশন অফিসার তারেক রহমান । অনুষ্ঠানে কনসাল জেনারেল মোঃ এনায়েত হোসেন,মিসেস এনায়েত হোসেন ও ভাইস কনসাল শামীম আহমেদ ছাড়াও লস এঞ্জেলেসএর গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন । ডিনার আপ্যায়ন, স্বাগত নৃত্য ও বাংলাদেশ থেকে আগত জনপ্রিয় শিল্পী রুমানা ইসলাম খানের সঙ্গীত দিয়ে গভীর রাত্রিতে অভিষেক অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।


অভিষেক অনুষ্ঠানের ভিডিও প্লে-লিষ্ট Bufla Video Playlist

অভিষেক অনুষ্ঠানের ভিডিও ১

অভিষেক অনুষ্ঠানের ভিডিও ২

অভিষেক অনুষ্ঠানের ভিডিও ৩

বাংলাদেশ ইউনিটি ফেডারেশন অব লস আঞ্জেলেস

বাফলার নতুন কমিটির শপথ গ্রহন

%d bloggers like this: