সন্ত্রাসবাদ দমনে বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসায় যুক্তরাষ্ট্র


মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের প্রতিবেদন

সন্ত্রাসবাদ দমনে বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসায় যুক্তরাষ্ট্র

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় বাংলাদেশ সরকারের কার্যক্রমের প্রশংসা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর প্রকাশিত সন্ত্রাসবাদ দমনবিষয়ক বার্ষিক প্রতিবেদনে এ প্রশংসা করা হয়। ‘কান্ট্রি রিপোর্টস অন টেরোরিজম ২০১২’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি গতকাল শুক্রবার প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনে দেশীয় ও আন্তঃদেশীয় সন্ত্রাস দমনে বাংলাদেশের নেয়া পদক্ষেপ এবং প্রতিশ্রুতির প্রশংসা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি বলছে, বাংলাদেশের নেয়া পদক্ষেপের কারণে বাংলাদেশের মাটিতে সন্ত্রাসীদের তত্পরতা চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

তবে সন্ত্রাসীদের বিচারিক প্রক্রিয়া ধীর বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তার পরও ‘সন্ত্রাসবাদ দমন অধ্যাদেশ ২০০৯’ ফৌজদারি আইন পূর্ণাঙ্গভাবে প্রয়োগের পথে বাংলাদেশ এগোচ্ছে বলে মনে করে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের স্থল, নৌ ও বিমানবন্দরের নিরাপত্তা আরো জোরদারে বাংলাদেশকে সহায়তা করছে যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশের সরকারি কৌঁসুলিরা সন্ত্রাসবাদ নিয়ে দক্ষতা বৃদ্ধিতে ধারাবাহিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগে প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। এছাড়া মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের আর্থিক সহায়তায় অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে নিয়ে ২০১২ সালে বাংলাদেশ একটি ন্যাশনাল একাডেমী ফর সিকিউরিটি ট্রেনিং চালু করেছে। যেখানে সন্ত্রাস দমনে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।

আইন প্রণয়ন, আইনের প্রয়োগ ও সীমান্ত নিরাপত্তা, মাদক পাচার, জঙ্গি অর্থায়ন রোধ, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং মৌলবাদ ও উগ্র সন্ত্রাসবাদ দমন নিয়ে পুরো প্রতিবেদনে আলোচনা করা হয়েছে। জঙ্গি অর্থায়ন রোধে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অর্থ পাচার রোধ আইনেও পরিবর্তন আনা হয়েছে।

সন্ত্রাসবাদ দমনে সার্কের আওতায় বেশকিছু স্মারকে স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ। পাশাপাশি জাতিসংঘের দেয়া বৈশ্বিক সন্ত্রাস প্রতিরোধ কৌশলও অবলম্বন করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ও পররাষ্ট্রনীতি আঞ্চলিক দেশগুলো বিশেষ করে ভারত দ্বারা প্রভাবিত। অতীতে দুই দেশের সম্পর্কের কারণে আন্তঃদেশীয় সন্ত্রাসবাদ হুমকিতে ছিল। কিন্তু বর্তমানে দুই দেশের আন্তরিকতায় সন্ত্রাসবাদ দমনে পারস্পরিক সহযোগিতা উন্নত ও সম্প্রসারিত হয়েছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোয় পুরোপুরি সক্রিয় ছিল। এছাড়া বাংলাদেশ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আর্থিক অপরাধ এবং জঙ্গি অর্থায়নসহ অন্যান্য অপরাধ তদন্তে সহায়তাবিষয়ক সমঝোতা স্মারক সই করেছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর মনে করে, ২০১২ সালে বাংলাদেশ ‘পারস্পরিক আইনি সহায়তা’ নামে একটি আইন প্রণয়ন করে, যা সন্ত্রাসবাদ দমনে
বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়াবে। সেই সঙ্গে মৌলবাদ ও উগ্র সন্ত্রাসবাদ দমনে শিক্ষা ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নেয়া উদ্যোগেরও প্রশংসা করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

jahan Hassan Dan Mozena Ekush News Media

US praises Bangladesh’s counterterrorism efforts
But it says judiciary moves slowly
UNB, Dhaka

Counterterrorism

The US has highly appreciated Bangladesh’s role in combating terrorism saying its counterterrorism efforts made it harder for transnational terrorists to operate in or establish safe havens in Bangladeshi territory but said the judiciary moved slowly in processing terrorism and other criminal cases in general.

“…Bangladesh has demonstrated its commitment to combating domestic and transnational terrorist groups,” the ‘Country Reports on Terrorism 2012’ of the US State Department said in its Bangladesh part.

It mentioned that the South Asia remains a frontline in the battle against terrorism.

US assistance supports programmes for Bangladeshi civilian, law enforcement, and military counterparts to build their capacity to monitor, detect, and prevent terrorism.

The report considers Bangladesh as an influential counterterrorism partner in the region, and mentioned that the country continued to make strides against domestic and international terrorism. Besides, Bangladesh and India improved and expanded counterterrorism cooperation.

Despite the absence of major terrorist incidents on their territory, governments in the five Central Asian states were concerned about the possibility of a growing threat connected to changes in the international force presence in Afghanistan in 2014.

Legislation, Law Enforcement and Border Security

Bangladesh’s criminal justice system is in the process of fully implementing the Antiterrorism Act of 2009. However, the judiciary moved slowly in processing terrorism and other criminal cases in general.

Bangladesh cooperated with the United States to further strengthen control of its borders and land, sea, and air ports of entry. It continued to participate in the Department of State’s Antiterrorism Assistance program and cooperated with the Department of Justice’s efforts to provide prosecutorial skills training to its assistant public prosecutors, encourage greater cooperation between police and prosecutors, and institute community policing in targeted areas of the country.

With financial support from the United States and other partners, Bangladesh established a National Academy for Security Training in 2012 and began to provide counterterrorism training courses.

Countering Terrorist Finance

Bangladesh is a member of the Asia/Pacific Group on Money Laundering, a Financial Action Task Force (FATF)-style regional body.

The Bangladesh Bank (the central bank) and its Financial Intelligence Unit/Anti-Money Laundering Section lead the government’s effort to comply with the international sanctions regime.

FATF has identified Bangladesh’s implementation of UNSCRs 1267 and 1373 as a deficiency in its laws. Bangladesh formed an interagency committee to address this issue, and has drafted regulations to implement both of these provisions.

While Bangladesh’s Anti-Terrorism Act criminalised terrorist financing, FATF has recommended that Bangladesh amend its laws to meet international standards and to clarify remaining ambiguities.

The interagency committee mentioned above has begun revising the legislation to satisfy FATF’s concerns in this regard.

Regional and International Cooperation

Bangladesh is party to various counterterrorism protocols under the South Asian Association for Regional Cooperation and is bringing the country’s counterterrorism efforts in line with the four pillars of the UN Global Counter-Terrorism Strategy.

Bangladesh’s foreign and domestic policies are heavily influenced by the region’s major powers, particularly India.

In past years the Indo-Bangladesh relationship provided openings for transnational threats, but the current government has demonstrated its interest in regional cooperation on counterterrorism. Bangladesh was active in the full range of international fora.

In 2012, Bangladesh enacted a mutual legal assistance law that will allow for greater international cooperation. It has also signed memoranda of understanding with a number of countries to share evidence regarding criminal investigations, including investigations related to financial crimes and terrorist financing.

Countering Radicalisation and Violent Extremism

Bangladesh uses strategic communication to counter violent extremism, especially among youth.

The Ministry of Education provides oversight for madrassas and is developing a standard national curriculum that includes language, math, and science curricula; and minimum standards of secular subjects to be taught in all primary schools, up to the eighth grade.

The Ministry of Religious Affairs and the National Committee on Militancy Resistance and Prevention work with imams and religious scholars to build public awareness against terrorism.
“The Government of Bangladesh is also actively expanding economic opportunities for women as it views economic empowerment for women as a buffer against violent extremist messages of male religious leaders,” the report says.

About Pakistan it said the country continued to experience significant terrorist violence, including sectarian attacks.

Although terrorist attacks occurred in 85 different countries in 2012, they were heavily concentrated geographically. As in recent years, over half of all attacks (55%), fatalities (62%), and injuries (65%) occurred in just three countries: Pakistan, Iraq, and Afghanistan, the report says.
সূত্রঃ বনিকবার্তা

ব্রিটেনে অস্থায়ী ইমিগ্র্যান্টদের স্থায়ী হওয়ার বিধান বাতিল হচ্ছে


ব্রিটেনে অস্থায়ী ইমিগ্র্যান্টদের স্থায়ী হওয়ার বিধান বাতিল হচ্ছে

মহিউদ্দিন আফজাল লন্ডন

ইমিগ্র্যান্টদের জন্য স্বপ্নপুরী খ্যাত ব্রিটেনে যতই দিন যাচ্ছে ততই ইমিগ্র্যান্ট নীতিমালা কঠিন থেকে কঠিনতর হচ্ছে। বিশেষ করে বর্তমান টোরি-লিবডেম সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে ব্রিটিশ ইমিগ্রেশন পূর্ণপদ্ধতি, আইন ও নিয়ম-নীতি সর্বক্ষেত্রে ব্যাপক সংস্কার চালিয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেকগুলো বিষয় তারা কার্যকর করেছে। যার ফলে ইমিগ্রেশন কমিউনিটি বিশেষ করে বাংলাদেশী, পাকিস্তানি, টারকিশ ও সোমালীয়দের মধ্যে তীব্র আশঙ্কা বিরাজ করছে।

নব্য ইমিগ্রেশন নীতিমালার যাঁতাকলে নিষ্পেষিত হয়ে অনেকে দুর্বিষহ প্রবাসজীবন অতিবাহিত করছেন। তার ওপর ব্রিটেনে শুরু হতে যাচ্ছে নব্য সোস্যাল সিকিউরিটি পদ্ধতি। যা সমগ্র মুসলিম কমিউনিটির মধ্যে প্রভাব ফেলবে। কেননা ব্রিটেনে মুসলিম কমিউনিটি অন্যদের তুলনায় এখনো ততটা সচ্ছল অথবা প্রতিষ্ঠিত নয়। এ ছাড়া ১/১১, ৭/৭ ও বিশ্বমন্দার প্রভাবে মুসলিম কমিউনিটি ব্যবসা-বাণিজ্য ও চাকরিতে যথেষ্ট বৈষম্য ও ক্ষতির শিকার হয়েছে। এসবের প্রভাব ব্রিটেনে এখনো চলমান। এরই মধ্যে আরেকটি দুঃসংবাদ মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা-এর মতো দেখা দিয়েছে। সেটা হচ্ছে­ বর্তমান টোরি-লিবডেম সরকার নতুন আইন প্রণয়ন করতে যাচ্ছে, যে আইনে এখন থেকে ব্রিটেনে অস্থায়ী ইমিগ্র্যান্টদের স্থায়ীভাবে থাকার অনুমতি দেয়ার বিধান বাতিল করা হবে।

সম্প্রতি ব্রিটিশ হোম সেক্রেটারি টেরেসা মে বলেছেন, ব্রিটেনে যারা অস্থায়ী ইমিগ্র্যান্ট হিসেবে আসবেন তারা অস্থায়ীভাবে ব্রিটেনে থাকবেন। ব্রিটেনে আসার পর মেয়াদ শেষ হলে তাকে ব্রিটেনে স্থায়ীভাবে থাকতে দেয়া হবে না। তাদের কার্য সমাধা করে স্বদেশে চলে যেতে হবে। গত সপ্তাহে ইমিগ্রেশন স্থায়ী হওয়া আইন সংস্কারের ঘোষণায় তিনি এ নীতিমালা পেশ করেন। অর্থাৎ ব্রিটেনে পড়তে এলে লেখাপড়া শেষে নিজ নিজ দেশে চলে যেতে হবে। এখানে স্থায়ীভাবে থাকার অনুমতি দেয়া হবে না।

টোরি-লিবডেম সরকারের মুখপাত্র বলেন, আমরা ছাত্র বলতে বুঝি ব্রিটেনে পড়তে এসে পড়া শেষ করে স্বদেশে চলে যাওয়া। এ ছাড়া সরকার ছাত্রদের ও তাদের নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের চাকরির অধিকার পর্যালোচনা করতে যাচ্ছে।

এ দিকে ব্রিটিশ সরকার নন-ইউরোপিয়ান ছাত্রদের পোস্টস্টাডি ওয়ার্ক বন্ধ করতে যাচ্ছে বলে একটি মিডিয়া সূত্রে জানা যায়। শিগগিরই ওই সব নীতিমালা চূড়ান্তভাবে পেশ করতে যাচ্ছে টোরি-লিবডেম সরকার। এ ছাড়া সরকার বর্তমানে ব্রিটেনে অবস্থানরত নন-ইউরোপিয়ান এক লাখ ৬০ হাজার ছাত্র টার্গেট করে নয়া নীতিমালা কার্যকর করতে চাচ্ছে।

লেবার সরকারের ব্রিটিশ নাগরিক নীতিমালা বাতিল হলে যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত এক লাখ ২০ হাজার ইমিগ্র্যান্ট ব্রিটিশ নাগরিক হওয়ার অধিকার হারাবেন। যাদের বেশির ভাগই বাংলাদেশী, পাকিস্তানি ও সোমলিয়ান। এ দিকে ব্রিটিশ সরকার গত চার বছরে এক লাখ ৩৯ হাজার লোককে ইংল্যান্ডে রাজনৈতিক আশ্রয় দিয়েছে। যাদের সাথে স্ত্রী-শিশু পরিবারের সদস্যরাও রয়েছে।

জাতিসংঘের ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় ঢাকার অবস্থান দ্বিতীয়


জাতিসংঘের ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় ঢাকার অবস্থান দ্বিতীয়

ভিওবিডি, ঢাকা থেকে

জাতিসংঘের ঝঁুকিপূর্ণ শহরগুলোর তালিকায় ঢাকা দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। ঢাকা সম্পর্কে আশঙ্কা করা হয়েছে এখানে বড় ধরনের ধ্বংসযজ্ঞ ঘটতে পারে। কারণ জনসংখ্যার ঘনত্ব, ত্রুটিপূর্ণ অবকাঠামো ও ঘন বিল্ডিং নির্মাণ। গতকাল রোববার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) মিলনায়তনে একশন এইড বাংলাদেশ ও ইউরোপিয়ান কমিশন ফর হিউম্যানিটারিয়ান এইড এর সহযোগিতায় বিজিএমইএ ও পপুলেশন সার্ভিসেস এন্ড ট্রেনিং সেন্টারের (পিএসটিসি) যৌথ উদ্যোগে পোশাক শিল্পে কর্মরতদের ভূমিকম্প ও অগ্নি দুর্ঘটনা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি বিষয়ক এক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় এ আশঙ্কার কথা উঠে আসে। কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী ড· মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক এ ঝঁুকির কথা জানান।

তিনি বলেন, ভূমিকম্প ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে শ্রমনিবিড় পোশাক শিল্পে নিয়োজিত বিপুল জনগোষ্ঠী। এ খাতে একই ভবনে বহু শ্রমিককে একসঙ্গে কাজ করতে হয়। কিন্তু তারা জানে না ভূমিকম্প হলে কিভাবে বিপদ থেকে উদ্ধার পেতে হবে। তাই এ বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য এই প্রশিক্ষণ কর্মশালা আয়োজন করা হয়েছে। বিজিএমইএ সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন একশন এইড বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক প্রতিনিধি আসগর আলী সাবরি, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগে· জে· আবু নাঈম মোঃ শহীদুলস্নাহ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বুøরোর মহাপরিচালক আহসান জাকির, পিএসটিসির নির্বাহী পরিচালক মিলন বিকাশ পাল, বিজিএমইএর দ্বিতীয় সহসভাপতি সফিউল ইসলাম (মহিউদ্দিন), সহসভাপতি (অর্থ) মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান, ফায়েজুন নবী চৌধুরীসহ বিজিএমইএর পরিচালকবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

ড· মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক আরো বলেন, জাতীয় অর্থনীতিতে পোশাক শিল্প গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। ভূমিকম্পকালীন যাতে ক্ষয়ক্ষতি কম হয়, সেজন্য প্রস্তুতি ও প্রতিরোধের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা উচিত। তিনি বলেন, ভূমিকম্পে জীবন বাঁচানো ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমানোর লক্ষ্যে তার মন্ত্রণালয় থেকে ৭০ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি ক্রয় করা হয়েছে। এ ছাড়াও ভূমিকম্পে বিপন্ন মানবতাকে সাহায্য করার জন্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেশব্যাপী ৬২ হাজার স্বেচ্ছাসেবক তৈরি করার প্রক্রিয়া চলছে।

আব্দুস সালাম মুর্শেদী বলেন, সামাজিক দায়বদ্ধতায় উদ্বুদ্ধ হয়ে পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের কল্যাণে বিজিএমইএ এ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এই অবস্থায় ৩৫ লাখ শ্রমিকদের খাদ্য নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা, বছরব্যাপী চাল, ডাল, তেল, লবণ, আটাসহ খাদ্যসামগ্রী ন্যায্যমূল্যে তারা যাতে পেতে পারে সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য বিজিএমইএ সভাপতি মাননীয় মন্ত্রীকে অনুরোধ জানান। আসগর আলী সাবরি বলেন, ২০০৬ সাল থেকে বাংলাদেশে অগ্নি নিরাপত্তা কার্যক্রম শুরু করে ২০০৯ সালে বিজিএমইএর সঙ্গে সমঝোতা স্বাক্ষর করা হয়। তিনি বলেন, অগ্নি নিরাপত্তা ছাড়াও একশনএইড বাংলাদেশ বিজিএমইএর সঙ্গে কমপস্নায়েন্সের ক্ষেত্রগুলোয় কাজ করতে আগ্রহী।

রিয়েল এস্টেট টু ওয়াল স্ট্রীটঃ শেয়ার মার্কেটে প্রতারণা বাংলাদেশী নূর মোহাম্মদ নিউইয়র্কের কারাগারে


ধাপ্পাবাজিঃরিয়েল এস্টেট টু ওয়াল স্ট্রীটঃ শেয়ার মার্কেটে প্রতারণা বাংলাদেশী নূর মোহাম্মদ নিউইয়র্কের কারাগারে

এনা, নিউইয়র্ক থেকে

শেয়ার বাজারে লাগাতার কেলেংকারির মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেয়ার ঘটনায় জড়িত বাংলাদেশী আমেরিকান নূর মোহাম্মদ (৪৭)কে এফবিআই গ্রেফতারের পর নিউইয়র্কে বাংলাদেশীদের ব্যাপারে ফেডারেল প্রশাসনের দৃষ্টিভঙ্গিতে ভিন্নতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। এর আগে ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতি, রিয়েল এস্টেট প্রতারণা, ধাক্কা ব্যবসায় বেশ কিছু বাংলাদেশীর জেল-জরিমানা হলেও ওয়াল স্ট্রীটে প্রতারণার মত মারাত্মক কোন অপকর্মে কোন বাংলাদেশী গ্রেফতার হননি। নূর মোহাম্মদকে জামিনহীন আটকাদেশ দিয়ে জেলে প্রেরণ করা হয়েছে বলে ইউএস এটর্নীর মুখপাত্র রবার্ট নারডোজা ২১ অক্টোবর বার্তা সংস্থা এনাকে জানিয়েছেন। এর আগে তার জামিন হয়েছিল ২ মিলিয়ন ডলার বন্ডে, কিন্তু পরবর্তিতে তা নাকচ করা হয়েছে। উত্তর আমেরিকায় বাংলা ভাষার সর্বাধিক প্রচারিত ঠিকানা পত্রিকার চলতি সংখ্যা (২২ অক্টোবর) প্রথম পাতায় সেকেন্ড লীড হিসেবে চাঞ্চল্যকর সংবাদটি ‘প্রতারণাঃ রিয়েল এস্টেট টু ওয়াল স্ট্রীটঃ ধাপ্পাবাজ নূর মোহাম্মদের অবিশ্বাস্য কাহিনী’ শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছে। তা এখানে উপস্থাপন করা হলো।

নূর মোহাম্মদ।

রিয়েল এস্টেট ও মর্টগেজ প্রতারকরা নয়া ধান্দা হিসেবে ওয়াল স্ট্রীটকে বেছে নিয়েছে। ই-ট্রেড ফাইন্যান্সিয়াল একাউন্টে অর্থ না থাকা সত্বেও মোটা অংকের চেক ইসুø এবং ইসুøকৃত ঐ চেকের বিপরীতে শর্ট-টার্ম স্টক ক্রয় করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে নিউইয়র্কের নূর মোহাম্মদ নামক এক বাংলাদেশীকে গ্রেফতার এবং তার স্ত্রী ও শাশুড়ির বিরুদ্ধেও অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। ব্রুকলীনে অবস্থিত ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট সূত্রে ওয়াল স্ট্রীটে প্রতারণার অভিনব এ কৌশলের তথ্য জানা গেছে। নূর মোহাম্মদকে গ্রেফতার করা হয় গত সেপ্টেম্বরে এবং ২ মিলিয়ন ডলার বন্ডে জামিনের অনুমতি দেয়া হলেও বন্ড সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি বিধায় এখনও তিনি জেলেই রয়েছেন। ১ অক্টোবর থেকে তার বিরুদ্ধে ডিটেনশনের নির্দেশ দিয়েছেন ফেডারেল জজ যোয়ান এম এজরেক। ১৫ অক্টোবর নূর মোহাম্মদের কথিত অফিস থেকে প্রতারণার অনেরক ডকুøমেন্ট উদ্ধার করা হয়েছে বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়। উদ্ধারকৃত ডকুøমেন্টে রয়েছে প্রতারণাকারীদের ড্রাইভার লাইসেন্স, সোস্যাল সিকিউরিটি কার্ড, হস্তলেখা, বার্ষিক আয়ের সার্টিফিকেট, মোট সহায়-সম্পদের পরিমাণের হিসাব এবং কথিত ই-ট্রেড একাউন্টগুলোর নম্বর।

মামলার বিবরণে প্রকাশ, নিউইয়র্কের ডিয়ার পার্ক এলাকার অধিবাসী বাংলাদেশী আমেরিকান নূর মোহাম্মদ ২০০৭ সালের ২৬ মার্চ আইল্যান্ড ট্রেডিং এন্টারপ্রাইজ ইনক নামে কোম্পানীর রেজিস্ট্রেশনের জন্যে নিউইয়র্ক স্টেট ডিপার্টমেন্টে আবেদন করেন। একই নামে তিনি এইচএসবিসি ব্যাংকে একটি একাউন্টও খুলেন। এছাড়া নূর মোহাম্মদের নামে আরেকটি কোম্পানীর অস্তিত্ব পায় এফবিআই। সেটির নাম হচ্ছে দেশ ডেভেলপমেন্ট ইনক। এ কোম্পানীর মালিকের নাম হচ্ছে নূর মোহাম্মদ। দেশ ডেভেলপমেন্ট ইনকের নামে ব্যাংক একাউন্ট খোলা হয় চেজ ব্যাংকে। এ একাউন্টের পক্ষ থেকেই চেক ইসুø করা হয় এবং স্বাক্ষর করেন এন মোহাম্মদ। মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০৭ সালের ১৫ অক্টোবর এই নূর মোহাম্মদকে গ্রেফতার করেছিল সাফোক কাউন্টি পুলিশ। ব্যাংক অব আমেরিকাকে তিনি ৯৫ হাজার ডলারের একটি চেক দিয়েছিলেন দেশ চেজ একাউন্ট থেকে। সে একাউন্টে কোন অর্থ ছিল না। ঐ প্রতারণার মামলায় নূর মোহাম্মদ ২০০৮ সালের ২৪ জুলাই মাননীয় আদালতে দোষ স্বীকার করেন এবং জীবনে কখনো এহেন প্রতারণার আশ্রয় নেবেন না মোচলেকা দিয়ে ঐ মামলা থেকে অব্যাহতি লাভ করেন।

ফেডারেল কোর্টে বিচারাধীন মামলায় আরো উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০৭ সালের জানুয়ারিতে নূর মোহাম্মদ অনলাইনে একটি ই-ট্রেড একাউন্ট খুলেন। একাউন্টে নূর মোহাম্মদকে উপরোক্ত আইল্যান্ড ট্রেডিংয়ের কর্মকর্তা হিসেবে উল্লেখ করা হয় এবং বার্ষিক আয় দেখানো হয় ২ লাখ ডলার এবং তার মোট সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয় ৪ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯৯ ডলার। মামলায় বলা হয়েছে, ২০০৭ সালের ২৫ এপ্রিল এইচএসবিসি ব্যাংকের একাউন্ট থেকে এন মোহাম্মদ স্বাক্ষরিত ৩০ হাজার ডলারের একটি চেক ইসুø করা হয় অভিযুক্ত নূর মোহাম্মদের নামে এবং তা জমা দেয়া হয় ই-ট্রেড একাউন্টে। সে সময় এইচএসবিসি একাউন্টে ছিল ১৫ হাজার ডলার। অথচ চেক দেয়া হয় ৩০ হাজার ডলারের। ২০০৭ সালের ২৬ এপ্রিল ২৩১ ব্রডকম কল থেকে নূর মোহাম্মদ প্রতি শেয়ার ১.২৫ ডলার হারে মোট ২৯০৫৮.২৪ ডলারের শেয়ার ক্রয় করেন ই-ট্রেড একাউন্ট বরাবরে। একাউন্টে ডলার না থাকা সত্বেও শর্ট টার্ম শেয়ার ক্রয়ের পরিণতিতে ব্রডকম কলের বাজারে পতন ঘটে এবং পরদিন অর্থাৎ ২৭ এপ্রিল প্রতি শেয়ারের দাম মাত্র ৩৫ সেন্ট হয়। অর্থাৎ আগের দিন নূর মোহাম্মদের কেনা শেয়ারের দাম কমে ৭৯০১.৬৩ ডলার হয়।

মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০৭ সালের ১ মে উপরোক্ত ৩০ হাজার ডলারের চেক ফেরৎ আসে, কারণ নূর মোহাম্মদ স্টপ পেমেন্ট করেছিলেন। এভাবে স্টক ব্যবসায় ধসের দায় এড়ানোর নাটক করেন নূর মোহাম্মদ এবং তার একাউন্ট নেগেটিভ হয় ১৮৮৭২.৪৯ ডলারের।

নূর মোহাম্মদের প্রতারণার ঘটনা বর্ননাকালে মামলায় আরো উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০৭ সালের এপ্রিল মাসে আরেকটি ই-ট্রেড একাউন্ট খোলা হয় নূর মোহাম্মদের নামে। এ সময় এক ব্যক্তির কাছে গিয়ে নূর মোহাম্মদ বলেন যে, তাৎক্ষণিকভাবে তার কিছু ডলার দরকার। একাউন্টে ডলার রয়েছে কিন্তু চেকবই আনতে ভুলে গেছেন। এভাবে ঐ লোকটির কাছে নগদ অর্থ নিয়ে পরদিন যে চেক দিয়েছিলেন সেটি ভাঙ্গানো যায়নি একাউন্টে ডলার না থাকায়।

২০০৭ সালের ৩০ এপ্রিল সিটি ব্যাংকের একটি একান্ট থেকে ৯৫ হাজার ডলারের চেক ইসুø করা হয়। সে চেক জমা দেয়া হয় ই-ট্রেড একাউন্টে। পরবতিতে খোঁজ নিয়ে জানা যায় যে একাউন্টে রয়েছে মাত্র ৩০০ ডলার, অথচ চেক ইসুø করা হয় ৯৫ হাজার ডলারের। ২০০৭ সালের ১ মে মাস্টার কার্ড শেয়ার ক্রয় করা হয় মোট ৯৪ হাজার ৮৪৩.৭১ ডলারের। প্রতিটি শেয়ারের মূল্য ছিল ২.১০ ডলার থেকে ২.৩৫ ডলার করে। পরদিন মাস্টার কার্ডের শেয়ারের দাম বেড়ে প্রতিটি ৭.৭০ ডলার থেকে ৮.৩০ ডলার করে বিক্রি হয়। অর্থাৎ আগের দিন ৯৪৮৪৩.৭১ ডলারের শেয়ার পরদিন বিক্রি হয় ৩২৬৬৩১.২১ ডলারে। ২ মে সিটি ব্যাংকের ঐ একাউন্ট থেকে ৯৬ হাজার ডলার ড্র করা হয়। এর পরদিন ৯৫০৩০ ডলারের আরেকটি চেক ইসুø করা হয়। ৭ মে চেকটি রিটার্ন আসে একাউন্টে ডলার না থাকায়। মামলায় বলা হয়েছে, ৮ মে থেকে ১১ মে র্পন্ত সিটি ব্যাংকের ঐ একাউন্ট থেকে ৩১৮০০০ ডলার ট্র্যান্সফার করা হয় ই-ট্রেড একাউন্টে। ঐ অর্থ থেকে ২৪৮০০০ ডলার স্থানান্তর করা হয় চেজ ব্যাংকে। এর সপ্তাহখানেক পর অর্থাৎ ১৬ ও ১৭ মে চেজ ব্যাংকের ঐ একাউন্ট থেকে মোট দেড় লাখ ডলার ড্র করা হয়। ১৭ মে ৭৫ হাজার ডলারের চেজ ক্যাশিয়ার চেক জমা দেয়া হয় দেশ চেজ একাউন্টে। এসব চেকে স্বাক্ষর করেন এন মোহাম্মদ। অর্থাৎ চেক ইসুøকারী এবং গ্রহণকারী একই ব্যক্তি হলেও বিভিন্ন নামে একাউন্ট খুলে ব্যাংকের সাথে প্রতারণা করা হয়েছে লাগাতারভাবে। একাউন্টে অর্থ না থাকা সত্বেও চেক জমা দিয়ে কালেকশন হওয়ার জন্যে ন্যূনতম সময়ের মধ্যে তিনি স্টক ব্যবসা করে মোটা অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, উপরোক্ত নূর মোহাম্মদ তার প্রতারণায় শাশুড়িকেও ব্যবহার করেছেন। ২০০৭ সালের ২২ মে চেজ একাউন্ট থেকে ৯০ হাজার ডলারের একটি চেক ইসুø করা হয় শাশুড়ির নামে খোলা ই-ট্রেড একাউন্টে। অথচ ঐ সময় চেজ একাউন্টে জমা ছিল মাত্র ৫০ ডলার। এই চেক জমা দেয়ার পরই ২২ মে সন্দা ইন্টারন্যাশনাল থেকে ৮৯৯৯৩.১৯ ডলারের শেয়ার কেনা হয়। প্রতিটির দাম ছিল ১.২৫ ডলার থেকে ১.৩৫ ডলার করে। ভূয়া চেকের বিপরীতে শেয়ার কেনার তথ্য জানাজানি হওয়া মাত্র দরপতন ঘটে এবং ২৪ মে প্রতিটি শেয়ারের দাম কমে ৪০ থেকে ৪৫ সেন্ট হয়। অর্থাৎ নূর মোহাম্মদের ক্রয় করা শেয়ারের মোট মূল দাঁড়ায় ২৯৩১৬.৩১ ডলার। অথচ দুদিন আগে তা কেনা হয় ৮৯৯৯৩,১৯ ডলার দিয়ে। ঘটনার এখানেই শেষ নয়, ২৪ মে ভেরিজি লিমিটেডের ২০৬টি শেয়ার কেনা হয় নূর মোহাম্মদের শাশুড়ির ই-ট্রেড একাউন্টের বিপরীতে। প্রতিটি ১.৩০ থেকে ১.৪০ ডলার হারে মোট ২৮৮৩৪.৪৮ ডলারের শেয়ার কেনা হয়। ২৫ মে শেয়ারের দাম বেড়ে প্রতিটি ৩.৮০ থেকে ৩.৯০ ডলার করে বিক্রি হয়। অর্থাৎ মোট মূল্য দাঁড়ায় ৭৮৪৯৪.৩৩ ডলার। ২৫ মে সানটেক পাওয়ারের ৪১০টি শেয়ার কেনা হয় ঐ নূর মোহাম্মদের শাশুড়ির ই-ট্রেড একাউন্টের বিপরীতে। প্রতিটি শেয়ারের দাম ছিল ১.৮৫ ডলার থেকে ১.৯৫ ডলার। অর্থাৎ মোট ৭৮৮৫৭.৪৫ ডলারের শেয়ার কেনা হয়। দিন পর এসব শেয়ারের মূল্য পতন ঘটে প্রতিটি ৭০ সেন্ট থেকে ১.০৫ ডলার করে বিক্রি হয় অর্থাৎ ৭৮৪৯৪.৩৩ ডলারের শেয়ার বিক্রি করতে হয় মাত্র ৪১৮৬১.৮৭ ডলারে। এসব শেয়ার ক্রয়ের বিপরীতে যে চেক দেয়া হয়েছিল ৯০ হাজার ডলারের, তা রিটার্ন আসে একাউন্টে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায়। ফলশ্রুতিতে নূর মোহাম্মদের শাশুড়ির একাউন্টে নেগেটিভ ব্যালেন্স দাঁড়ায় ৪৭৯৬৪.৫৯ ডলারে।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০০৩ সালের জানুয়ারি মাসে আরেকটি ই-ট্রেড একাউন্ট খোলা হয় জনৈক ব্যক্তির নামে (যার পরিচয় এফবিআই জানে)। অনলাইনে খোলা ঐ একাউন্ট হোল্ডার আইল্যান্ড ট্রেডিংয়ের কর্মচারি বলে উল্লেখ করা হয়। ২০০৭ সালের জুন মাসে ঐ একাউন্টে যখন কোন অর্থই ছিল না সে সময় ট্রেডিং ব্যবসার সুযোগ সম্প্রসারণ করা হয়। এরপর ১৪ জুন কমার্স ব্যাংকের একটি চেক ইসুø করা হয় ৭৫ হাজার ডলারের। এ চেক জমা করা হয় আগের ই-ট্রেড একাউন্টে। এ সময় কমার্স ব্যাংকের একাউন্টে ছিল মাত্র ১০ ডলার। ১৪ জুন এডবি সিস্টেমের ১১৪০টি শেয়ার ক্রয় করা হয় উপরোক্ত ই-ট্রেড একাউন্টের বিপরীতে। ঐ সময় কমার্স ব্যাংক প্রদত্ত ৭৫ হাজার ডলারের চেক কালেকশনের অপেক্ষায় ছিল বিধায় শেয়ার মার্কেট থেকে শর্ট টার্ম হিসেবে ১১৪০টি শেয়ার কেনা সম্ভব হয়-যার মূল্য দাঁড়ায় ৭৪৯৮০.৯৮ ডলার। ১৯ জুন ঐ চেক রিটার্ন আসে। অপরদিকে ২২ জুন এডবির শেয়ারের মূল্য পরিশোধের শেষ সময় ছিল। ই-ট্রেড একাউন্ট থেকে ঐ শেয়ারের কোন অর্থ সংগ্রহ করা সম্ভব না হলেও নূর মোহাম্মদ গং-রা তা হাতিয়ে নিতে সক্ষম হন। যদিও সে সময় ঐ ট্রেড একাউন্টে নেড়েটিভ ব্যালেন্স দাঁড়িয়েছিল ৭৫১১৫.১৮ ডলার।

এভাবে আরো কয়েকটি চেক প্রতারণামূলকভাবে ইসুø করেন নূর মোহাম্মদ এবং শেয়ার বাজারে টালমাটাল পরিস্থিতির উদ্ভব হয়। ১৫ অক্টোবর নূর মোহাম্মদকে গ্রেফতারের সময় প্রতারণার অনেক ডকুøমেন্ট পুলিশ উদ্ধার করেছে বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া গার্ডেন সিটিতে ই-ট্রেড শাখায় ২০০৭ সালের ১৬ ও ১৭ জুলাই এক ব্যক্তি দুটি চেক জমা দিয়েছেন-সে ভিডিও রয়েছে এফবিআইয়ের হাতে। ভিডিওতে নূর মোহাম্মদের ছবি রয়েছে যিনি ভূয়া চেকগুলো জমা দিয়েছিলেন। নূর মোহাম্মদ তার স্ত্রীকেও রেহাই দেননি। স্ত্রীর নামেও ই-ট্রেড একাউন্ট খুলেছিলেন এবং ২০০৭ সালের ২৪ জুলাই দেড় লাখ ডলারের একটি চেক জমা দেয়া হয়। চেকটি ছিল সিটি ব্যাংকের এবং জমা দেয়া হয় স্ত্রীর নামে ই-ট্রেড একাউন্টে। সে সময় সিটি ব্যাংকের একাউন্টে ছিল মাত্র ৪৫ ডলার অথচ চেক ইসুø করা হয় দেড় লাখ ডলারের। এ চেকের বিপরীতে ২৪ জুলাই নিউট্রিসিস্টেমের ৪৬৭ শেয়ার ক্রয় করা হয়। প্রতিটির দাম ছিল ১.২৫ ডলার থেকে ১.৬৫ ডলার করে। মোট মূল্য দাঁড়ায় ৭৬১৫৫.২১ ডলার। পরদিন শেয়ারের দরপতন ঘটে এবং তা বিক্রি করতে হয় পানির দরে। ২৫ জুলাই অকামাই টেকনোলজির ৪৮৮ শেয়ার কেনা হয় প্রতিটি ১.৬৫ থেকে ১.৮০ ডলার করে। মোট ক্রয় মূল্য দাঁড়ায় ৮৪৩৫৫.৯৮ ডলার। ১৮ আগস্ট এসব শেয়ারের কন্ট্রাক্ট ফুরিয়ে যায়। অর্থাৎ কোন মূল্য ছাড়াই শেয়ারগুলো পরিত্যক্ত হয়। এরইমধ্যে ৩১ জুলাই উপরোক্ত দেড় লাখ ডলারের চেক রিটার্ন আসে। ফলে ২০০৭ সালের আগস্ট মাসের শেষ সপ্তাহে নূর মোহাম্মদের স্ত্রীর একাউন্টে নেগেটিভ ব্যালেন্স দাঁড়ায় ১৪৪৯৫৩.৪৪ ডলার। সর্বশেষ ২০০৭ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর নূর মোহাম্মদ তার দেশ চেজ একাউন্টের চেক কাটেন ৯৫ হাজার ডলারের। এ চেক জমা দেয়া হয় তারই ব্যাংক অব আমেরিকা একাউন্টে। দেশ চেজ একাউন্টে সে সময় ছিল মাত্র ২ হাজার ডলার। এ চেক দেখিয়ে ২০ সেপ্টেম্বর নূর মোহাম্মদ আপেল ইনকের ৩৬৭ শেয়ার ক্রয় করেন প্রতিটি ১.৭০ ডলার থেকে ২.৬৫ ডলার হারে। মোট ক্রয় মূল্য দাঁড়ায় ৭৮৮৭৫.২৫ ডলার। প্রতারণার বিষয়টি জানাজানি হবার পর শেয়ারের দরপতন ঘটে এবং ২১ সেপ্টেম্বর তা বিক্রি করতে হয় প্রতিটি ১.৪০ ডলার করে এবং বিক্রির পর পাওয়া যায় মাত্র ৫৬৮৫৮.৮২ ডলার। একই চেকের অজুহাতে ২১ সেপ্টেম্বর বিয়ার স্টিয়ার্নস কোম্পানীর ৯৯০টি শেয়ার ক্রয় করেন ঐ নূর মোহাম্মদ মোট ৭৭৯১৪.৫০ ডলারের। শেয়ারের দাম কমায় ২৪ সেপ্টেম্বর ৩৩৭টি বিক্রি করা হয় মোট ১০১৪.৫৫ ডলারে। অবশিষ্ট শেয়ারগুলোর কোন মূল্যই পাওয়া যায়নি। যথারীতি ২৪ সেপ্টেম্বর ৯৫ হাজার ডলারের চেকটিও ফেরৎ এসেছে। ৮ সেপ্টেম্বর উপরোক্ত নূর মোহাম্মদ ১৯০০০০ ডলারের আরেকটি চেক ইসুø করেন চেজ ব্যাংক একাউন্ট থেকে এবং তা জমা করা হয় ব্যাংক অব আমেরিকার একাউন্টে। সে চেকটিও ফেরৎ এসেছে একাউন্টে কোন অর্থ না থাকায়। এভাবে প্রতারণার মাধ্যমে নূর মোহাম্মদ মোট ৬ লাখ ডলার ক্ষতি করেছেন ই-ট্রেড এবং ব্যাংক অব আমেরিকার।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতি, ধাক্কা ব্যবসা, রিয়েল এস্টেট প্রতারণার সাথে জড়িত একটি চক্রের নেপথ্য কারিগররা এখন নবউদ্যমে ওয়ালস্ট্রীটে এহেন জালিয়াতির ধান্দা করেছে। একাউন্ট খুলে এভাবে চেক প্রদানের পর শর্টটার্ম শেয়ার ক্রয় করে স্টক মার্কেটে এরা বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরী করছে বলে জানা গেছে। সূত্রঃ খবর ডট কম

কালো টাকার অনেক মালিকই গণমাধ্যমে বিনিয়োগ করতে আসছে: এই সরকার অবাধ তথ্যপ্রবাহে বিশ্বাস করে।


রাজনৈতিক টিভি লাইসেন্স বন্ধের দাবি

আজকাল ঢাকা প্রতিনিধিঃ তথ্যমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ বলেছেন, ১/১১ এর জরম্নরি অবস্থা থেকে আজকের গণতন্ত্রের উত্তরণে গণমাধ্যম গুরম্নত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী এবং গণমাধ্যমকে সহায়ক শক্তি মনে করে। কাজেই গণমাধ্যমের বিরম্নদ্ধে সংসদে কোন সাংসদ কি বক্তব্য দিলেন; সেটা সরকারের অবস্থান নয়। প্রধানমন্ত্রী এসব বিষয়ে সচেতন আছেন। প্রথম আলো অwেয়াজিত ‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও দায়বদ্ধতা’ শীর্ষক গোলটৈবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির ভাষণে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বৃহষ্পতিবার প্রথম আলো কার্যালয়ে এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী বলেন, কালো টাকা এখন সবখানে। গণমাধ্যমও এর বাইরে নয়। তবে আদর্শ ও নৈতিকতা মেনে সাংবাদিকতা করতে হবে। টাকার কাছে বিক্রি হলে চলবে না। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন প্রবীণ সাংবাদিক ও কলামিস্ট এবিএম মূসা, দি ইনডিপেনডেন্টের সম্পাদক মাহবুবুল আলম, সমকালের সম্পাদক গোলাম সারওয়ার, সাংবাদিক ও প্রাবন্ধিক সৈয়দ আবুল মকসুদ, নিউজ টুডের সম্পাদক রিয়াজউদ্দিন আহমেদ, ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ইকবাল সোবহান চৌধুরী, চ্যানেল আইয়ের পরিচালক ও বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজ, গণমাধ্যম ব্যাক্তিত্ব মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর, নয়াদিগন্তেôর সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান গীতি আরা নাসরীন, আমাদের সময়ের সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান, বৈশাখি টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মঞ্জুরম্নল আহসান বুলবুল, এবিসি রেডিওর বার্তা ও অনুষ্ঠান প্রধান সানাউলস্নাহ লাবলু, ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, মাছরাঙ্গা টেলিভিমনের বার্তা প্রধান শাহ আলমগীর, এটিএন বাংলার বার্তা প্রধান জ· ই· মামুন, এটিএন নিউজের বার্তা প্রধান মুন্নী সাহা এবং দৈনিক করতোয়ার সম্পাদক মোজাম্মেল হক।

বৈঠকের সূচণা বক্তব্য দেন প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান। তিনি বলেন, সংবাদপত্র রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তôম্্‌ভ। বাংলাদেশের অদিকাংশ সংবাদপত্র মুক্তিযুদ্ধ, অসাম্প্রদায়িকতা ও স্বাধীনতার পড়্গে। সরকারের ভুল ত্রম্নটি দেখিয়ে দিয়ে সংবাদপত্র সরকারকে দায়িত্ববান করে। তিনি বলেন, গণমাধ্যমের জবাবদিহিতা তার পাঠকের কাছে। কাজেই কোন গণমাধ্যম দায়িত্বশীল না হলে পাঠক বা দর্শক হারাবে।

মতিউর রহমান বলেন, সরকারি বিজ্ঞাপনের মূল্য বাড়েনি। নিউজপ্রিন্টের দাম বাড়ছেই। এই সমস্যাগুলোর সমাধান হওয়া জরম্নরি। জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, নিউজপ্রিন্টের শুল্ক প্রত্যাহার, সরকারি বিজ্ঞাপনের দাম বাড়ানোসহ অনান্য বিষয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবেন।

সংসদের ঘটনায় উদ্বেগঃ বৈঠকে উপস্থিত সম্পাদকরা সম্প্রতি সংসদে যে ভাষায় সংবাদপত্রের সমালোচনা করা হয়েছে তার সমালোচনা করে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, তত্বাবধায়ক সরকার ড়্গমতায় আসার পর বলেছিলো দেশে এখন সংসদ নেই। গণমাধ্যম সংসদের ভূমিকা পালন করবে। কিন্তু সেই গণমাধ্যমের ওপর নানা সময়ে নির্যাতন হয়েছে। সাংসদদের ত্রম্নটি বিচুøতি নিয়ে সংবাদ হতেই পারে। কিন্তু তাই বলে এভাবে সমালোচনা হতে পারে না।

মঞ্জুরম্নল আহসান বুলবুল বলেন, ভারতে টাকা খেয়ে প্রশ্ন করার দায়ে ১৫ সাংসদের সদস্যপদ চলে যায়। বাংলাদেশের সাংসদরাও একইভাবে সংবাদপত্র নিয়ে সংসদে আলোচনা করলেন কিনা সেই প্রশ্ন উঠতে পারে। কারণ এমন লড়্গণই সেদিন দেখা গিয়েছিলো। গোলাম সারোয়ার বলেন, ‘সংসদে সেদিন যেভাবে গণমাধ্যমের সমালোচনা হয়েছে আমি আমার পেশাগত জীবনে তেমনটা দেখিনি। আমাদের সম্মিলিতভাবে এর প্রতিবাদ করা উচিত ছিলো।’ গোলাম সারোয়ারও একই প্রশ্ন করে বলেন, ‘যেভাবে এই ঘটনা ঘটলো, স্পিকারও যেভাবে যোগ দিলেন তাতে সন্দেহ হয় এটা পূর্ব পরিকল্পিত কিনা।’

তবে তথ্যমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ বলেছেন, সংসদের এই ঘটনা নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই।এটি সরকারের বক্তব্য নয়। কারণ, এই সরকার অবাধ তথ্যপ্রবাহে বিশ্বাস করে। গণমাধ্যমকে সহায়ক শক্তি ভাবে। রিয়াজউদ্দিন আহমেদ বলেন, রাজনৈতিক কর্মীরা সাংবাদিকদের উপর নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করে। এটি বন্ধ করতে হবে। শাইখ সিরাজ বলেন, সংবাদপত্র তুলনামূলকভাবে অনেক স্বাধীনতা ভোগ করলেও টেলিভিশনে নানা চাপ আসে। কাজেই একটি সম্প্রচার নীতিমালা করা দরকার। তিনি বলেন, সরকারের পড়্গ থেকে বেসরকারি টেলিভিশনগুলোকে বিটিভির খবর প্রকাশ করার জন্য বলা হচ্ছে। এতে জনগণের কি উপকারটা হবে বোঝা যাচ্ছে না। এ ছাড়া পত্রিকায় কোন বিজ্ঞাপন দিলে সরকার টাকা দেয়। কিন্তু টেলিভিশনে কোন টাকা না দিয়ে উল্টো বলা হয়, গুরম্নত্বপূর্ণ সময়ে দেখাতে হবে। অতীতে ও জরম্নরি অবস্থায় টেলিভিশনগুলোকে অনেক চাপে কাজ করতে হয়েছে।

মুন্নী সাহা বলেন, আগে বিভিন্ন ভবন থেকে চাপ আসতো। তবে এখন সেটা নেই।

তথ্যমন্ত্রী আরো বলেছেন, এই সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে। তাই কোন চাপ দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। তিনি বলেন, গত দুই বছরে তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে কোথাও কোন চাপ দেওয়া হয়েছে এমন কথা কেউ বলতে পারবে না।

রাজনৈতিক লাইসেন্স বন্ধের দাবিঃ রাজনৈতিকভাবে টেলিভিশনের লাইসেন্স দেওয়া বন্ধের আহবান জানান বক্তারা। রিয়াজউদ্দিন আহমেদ বলেন, কাকে টেলিভিশন ও রেডিওর লাইসেন্স দেওয়া হবে সে ব্যাপারে নীতিমালা করতে হবে। জ· ই· মামুন বলেন, গণমাধ্যশ একটি শক্তিশালী অস্ত্র। কাকে এই অস্ত্র দেবেন, কাকে দেবেন না সেটি ঠিক করা দরকার। একই রকম মন্তôব্য করেন ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সব বার্তা প্রধানরা।

কালো টাকা নিয়ে উদ্বেগঃ মঞ্জুরম্নল আহসান বুলবুল বলেন, পুঁজি ও ড়্গমতা নানাভাবে গণমাধ্যমকে কলুষিত করেছে। শ্যামল দত্ত বলেন, কালো টাকার বিনিয়োগ আসছে মিডিয়ায়। যাদের বিরম্নদ্ধে লেখালেখি হয় তারাই এখন টাকা নিয়ে সংবাদপত্র বের করছে। ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, কালো টাকার অনেক মালিকই গণমাধ্যমে বিনিয়োগ করতে আসছে। বুদবুদের মতো এই বিনিয়োগ উড়ে গেলে অনেকেই চাকুরি হারাবেন। তথ্যমন্ত্রী বলেন, কালো টাকা এখন সব জায়গায়। কিন্তু সাংবাদিকদের টাকার কাছে বিক্রি হলে চলবে না। গোলাম সারোয়ার বলেন, কালো টাকার মালিকরা এসে বেশি বেতনে সাংবাদিকদের নিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি প্রথম আলো সম্পাদকের বিরম্নদ্ধে কুৎসা রটানো হচ্ছে খুবই নোংরাভাবে। আমাদের সম্মিলিতভাবে এর প্রতিবাদ করা উচিত।

খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়ায় সরকারের শীর্ষ মহল উদ্বিগ্ন : ঋণখেলাপি দুই হাজার, ব্যাংকের পাওনা ১৫ হাজার কোটি টাকা


খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়ায় সরকারের শীর্ষ মহল উদ্বিগ্ন

গোলাম মওলাঃ
ঋণ খেলাপিদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় সরকারের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা মনে করছেন, খেলাপি ঋণের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার কারণে সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সংকট তৈরি হবে। এ মুহূর্তেই খেলাপি ঋণের হ্রাস টেনে না ধরলে সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ভেঙে পড়তে পারে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সভায় খেলাপি ঋণের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। ইএনবি।

সভায় জানানো হয়, ঋণ খেলাপিরা মাত্র ১০% ডাউন পেমেন্ট দিয়ে পুনরায় সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে আর্থিক সুবিধা পেয়ে যায়। এতে করে সরকারের তারল্য সংকটসহ দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচারের পরিপ্রেক্ষিতে যে সংকট সৃষ্টি হচ্ছে তা আরো ঘনীভূত হবে। দেশে খেলাপি ঋণ বেড়ে গেলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্পগুলো ক্ষতিগ্রস্তô হবে বেশি।

এদিকে গতকাল অনুষ্ঠিত পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সংক্রান্তô সংসদীয় কমিটির বৈঠকে ঋণ খেলাপির ওপর আলোচনা হয়। উলেস্নখ্য, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত খেলাপি ঋণের ব্যাপারে বরাবরই কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে আসছিলেন। এ ব্যাপারে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড· এমএম আকাশ বলেছেন, দেশে দুটি শ্রেণী সৃষ্টি হচ্ছে। একটি ধনীকশ্রেণী আরেকটি হতদরিদ্র। মুষ্টিমেয় সুবিধাভোগী লোক রাষ্ট্রীয় অর্থ আইন-কানুনের ফাঁক-ফোঁকরে কুক্ষিগত করে দেশে সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পথ তৈরি করছে।

ঋণখেলাপি দুই হাজার, ব্যাংকের পাওনা ১৫ হাজার কোটি টাকা

সংসদে তালিকা: শীর্ষ ১০ খেলাপি
১. বেক্সিমকো টেক্সটাইলস লি. ২. পদ্মা টেক্সটাইল মিলস লি. ৩. বিজেএমসি ৪. বিটিএমসি ৫. এসডিএস ইন্টারন্যাশনাল লি. ৬. শাইনপুকুর হোল্ডিংস লি. ৭. মাগুরা পেপার মিলস লি. ৮. আদমজী জুট মিলস লি. ৯. ফেয়ার এক্সপো ওয়েভিং মিলস ১০. বেক্সিমকো নিটিং লি.

বিশেষ প্রতিনিধি, প্রথম আলোঃ
দেশে এক কোটি বা এর চেয়ে বেশি অঙ্কের ঋণখেলাপি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দুই হাজার ১৯৬। এই খেলাপি-দের কাছে ব্যাংকগুলোর মোট পাওনা ১৫ হাজার ৪৫১ কোটি দুই লাখ টাকা।
তালিকার শীর্ষে বেক্সিমকো টেক্স-টাইলস। শীর্ষ দশের মধ্যে বেক্সিমকো গ্রুপের আরও তিনটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। আরও আছে সরকারি দুটি করপোরেশন এবং বন্ধ আদমজী পাটকল।
জাতীয় সংসদে গতকাল রোববার এই তালিকা উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। সংরক্ষিত আসনের নারী সাংসদ নূর আফরোজ আলীর প্রশ্নের জবাবে লিখিত আকারে এ উত্তর দেওয়া হয়। তবে সময়ের অভাবে প্রশ্নটি নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ তথ্য ব্যুরোর (সিআইবি) গত ৩১ মার্চ পর্যন্ত করা তালিকা জাতীয় সংসদে দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০৯ সালের মার্চ শেষে দেশে ব্যাংক খাতের মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ২৩ হাজার ৫৮৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা; যা সেই সময় পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা দুই লাখ ১২ হাজার ৪৪ কোটি টাকার ১১ দশমিক ১২ শতাংশ।
তবে এই হিসাবের বাইরে প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকার খেলাপি ঋণ অবলোপন (রাইট অফ) করা হয়েছে। এর বিপরীতে ১০০ ভাগ নিরাপত্তা সঞ্চিতি (প্রভিশন) ব্যাংক সংরক্ষণ করে বলে মোট খেলাপি ঋণের হিসাবে তা যোগ করা হয় না। কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঋণ তথ্য ব্যুরোতে (সিআইবি) ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে খেলাপি ঋণ যুক্ত থাকার কথা। খেলাপির সংজ্ঞা অনুসারে, কোনো ঋণ পরিশোধের মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে ছয় মাস অতিক্রান্ত হলে সেই ঋণটি খেলাপিতে পরিণত হয়।
জাতীয় সংসদে দেওয়া তালিকায় সবচেয়ে বেশি রয়েছে পোশাক ও বস্ত্র খাতের নানা ধরনের প্রতিষ্ঠান। বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানই বছরের পর বছর ধরে খেলাপি হয়ে রয়েছে। তালিকায় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের প্রতিষ্ঠান যেমন রয়েছে, তেমনি অখ্যাত ব্যক্তিদের প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। এমনকি এই তালিকায় খাদ্য মন্ত্রণালয়ের নামও রয়েছে। খাদ্য মন্ত্রণালয় ২১৬তম খেলাপি। মোট খেলাপির পরিমাণ ১৫ কোটি ৪৮ লাখ টাকা।
বেক্সিমকো গ্রুপ ছাড়াও তালিকায় আবুল খায়ের লিটু, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সহসভাপতি মোহাম্মদ আলী, বিতর্কিত ব্যবসায়ী গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের একাধিক প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে।
তালিকার শীর্ষ খেলাপি বেক্সিমকো টেক্সটাইলসের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৩৫৩ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। দ্বিতীয় স্থানে থাকা বেক্সিমকো গ্রুপের আরেকটি প্রতিষ্ঠান পদ্মা টেক্সটাইলের খেলাপি ঋণ ২৯২ কোটি ৯১ লাখ টাকা। ষষ্ঠ স্থানেও আছে বেক্সিমকো গ্রুপের শাইনপুকুর হোল্ডিংস। শাইনপুকুরের কাছে ব্যাংকের পাওনা ১৩৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। শীর্ষ দশের সর্বশেষ কোম্পানি বেক্সিমকো নিটিংয়ের মোট খেলাপি ঋণ ৮১ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এর বাইরে ২১তম স্থানে রয়েছে বেক্সিমকো গ্রুপের প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো ইঞ্জিনিয়ারিং। তাদের খেলাপি ঋণ ৫৯ কোটি ৮০ লাখ টাকা। ৫৫তম খেলাপি বেক্সিমকো ডেনিমস। খেলাপির পরিমাণ ৩৮ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। তালিকায় ৩২৯ নম্বরে থাকা বেক্সিমকো কম্পিউটার্সের মোট খেলাপি ঋণ ১১ কোটি দুই লাখ টাকা এবং ৩৬৮তম খেলাপি বেক্সিমকো ফ্যাশনস লিমিটেডের খেলাপি ঋণ নয় কোটি ৭৬ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে বেক্সিমকো গ্রুপের আট প্রতিষ্ঠানের মোট খেলাপি ঋণ ৯৮১ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। বেক্সিমকো গ্রুপের অন্যতম মালিক সালমান এফ রহমান। তিনি আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি খাত উন্নয়নবিষয়ক উপদেষ্টা।
তালিকার তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত দুটি করপোরেশন। এর মধ্যে বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের (বিজেএমসি) খেলাপি ঋণ ২৬৭ কোটি ৪৪ লাখ টাকা এবং বাংলাদেশ বস্ত্রকল করপোরেশনের (বিটিএমসি) খেলাপি ঋণ ১৭৬ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। বন্ধ হয়ে গেলেও ঋণখেলাপির তালিকায় এখনো রয়েছে আদমজী পাটকল। ব্যাংকের পাওনা ১২৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।
পঞ্চম শীর্ষ ঋণখেলাপি বেসরকারি খাতের এসডিএস ইন্টারন্যাশনালের মোট খেলাপি ঋণ ১৩৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। মাগুরা পেপার মিলস দেশের সপ্তম শীর্ষ ঋণখেলাপি, ব্যাংকের পাওনা ১২৬ কোটি পাঁচ লাখ টাকা। নবম স্থানে থাকা ফেয়ার এক্সপো উইভিং মিলসের খেলাপি ঋণ ৯৬ কোটি ৫৩ লাখ টাকা।
তালিকায় একাদশ স্থানে রয়েছে প্রয়াত মাওলানা এম এ মান্নানের রিভার সাইড লেদার ও ফুটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রি। খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৭৮ কোটি ছয় লাখ টাকা। দ্বাদশ স্থানের আর্চ লিমিটেডের খেলাপি ঋণ ৭৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এর পরই আছে বাংলাদেশ অটোরিকশা চালক সমবায় ফেডারেশন। ১৯৯৬ সালে রাজনৈতিক বিবেচনায় এই সমিতি গঠন করে ঋণ দেওয়া হয়েছিল। বিতরণ করা ঋণের মধ্যে খেলাপি হয়ে আছে ৭৭ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। বস্ত্র খাতের প্রতিষ্ঠান শামসুল আল আমিন কটন মিলসের কাছে পাওনা ৭৪ কোটি ৪২ লাখ টাকা। এই গ্রুপের আরেকটি প্রতিষ্ঠান জাহানারা আল আমিন স্পিনিং মিল ৮০তম শীর্ষ খেলাপি। এর কাছে পাওনা ৩৪ কোটি ২৩ লাখ টাকা। বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান খুলনা নিউজপ্রিন্টের খেলাপি ঋণ ৭১ কোটি ১১ লাখ টাকা। সরকারি আরেক প্রতিষ্ঠান কওমী পাটকলের খেলাপি ঋণ ৬৫ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। ১৭তম খেলাপি আবুল খায়ের লিটুর দেশ বেভারেজ কোম্পানি। প্রতিষ্ঠানটির মোট খেলাপি ঋণ ৬১ কোটি ১৭ লাখ। এর পরের তিনটি প্রতিষ্ঠান হলো যথাক্রমে সামিনা ট্যানারি (৬০ কোটি ৯৮ লাখ), স্টার সিমেন্ট (৬০ কোটি ৮৯ লাখ) এবং বিক্রমপুর পটেটো ফ্লেকস (৬০ কোটি ১৮ লাখ টাকা)।
মোহাম্মদ আলীর দেশমা সুজ (৫৯ কোটি ৩৭ লাখ টাকা) ২২তম শীর্ষ খেলাপি। একই ব্যক্তির এবি ভেজিটেবল অয়েলের অবস্থান ৪৫তম, খেলাপির পরিমাণ ৪৩ কোটি ২০ লাখ টাকা। আবার দেশ বেভারেজ ছাড়াও আবুল খায়ের লিটুর আরেক প্রতিষ্ঠান ন্যাশনওয়াইড কমিউনিকেশন তালিকায় ১০৭তম স্থানে রয়েছে। খেলাপির পরিমাণ ২৭ কোটি ৭৩ লাখ টাকা।
বিতর্কিত ব্যবসায়ী গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের ওয়ান স্পিনিং মিল ২৪তম খেলাপি, পাওনা ঋণের পরিমাণ ৫৮ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। ৭৫তম খেলাপি ওয়ান এন্টারটেইনমেন্টের কাছে ব্যাংকের পাওনা ৩৫ কোটি ২২ লাখ টাকা, আবার ১৫৭তম স্থানে থাকা ওয়ান ডেনিমের খেলাপি ঋণ ২০ কোটি ১৫ লাখ টাকা। বহুল আলোচিত বিদ্যুতের খঁুটি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান খাম্বা লিমিটেডের মোট খেলাপি ঋণ ১৯ কোটি ৬১ লাখ টাকা।
খালেদা জিয়ার ভাই সাইদ এস্কান্দার ও ছেলে তারেক রহমানের প্রতিষ্ঠান ড্যান্ডি ডাইং ৫৪তম খেলাপি প্রতিষ্ঠান, ব্যাংকের পাওনা ৪০ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। রেকর্ড পরিমাণ কম সময়ের মধ্যে সুদ মওকুফ করার পরও ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠান হিসেবে রয়ে গেছে এই প্রতিষ্ঠানটি।
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলা করা আরেক ব্যবসায়ী তাজুল ইসলাম ফারুকের ওয়েস্টমন্ট পাওয়ার ৯৬তম খেলাপি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির কাছে পাওনা ৩০ কোটি ৪৪ লাখ টাকা।

গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানও খেলাপির তালিকায়: বেশ কয়েকটি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানও খেলাপির তালিকায় রয়েছে। যেমন, ৫৯তম অবস্থানে থাকা আমার দেশ পাবলিকেশন্সের মোট খেলাপি ঋণ ৩৮ কোটি ২৪ লাখ টাকা। গত বিএনপি সরকারের জ্বালানি উপদেষ্টা মাহমুদুর রহমান এ প্রতিষ্ঠানের বর্তমান চেয়ারম্যান। ডায়লগ পাবলিকেশন্স ৬৮তম খেলাপি, মোট খেলাপি ঋণ ৩৬ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। বৈশাখী মিডিয়া ৯১তম খেলাপি, ব্যাংকের পাওনা ৩১ কোটি ২১ লাখ টাকা। বন্ধ সিএসবি বা বিএনপির নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফোকাস মাল্টিমিডিয়া লিমিটেডের অবস্থান ১৬১তম, খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১৯ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। ১৮৯তম খেলাপি জনকণ্ঠ-এর কাছে ব্যাংকের পাওনা ১৭ কোটি ১২ লাখ টাকা। ২৯২তম খেলাপি একুশে টেলিভিশনের মোট খেলাপি ঋণ ১২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা।
বিএনপির সাবেক সাংসদ মেজর (অব.) আখতারুজ্বামানের গচিহাটা একুয়াকালচার ফার্মস ১৯৩তম খেলাপি এবং মোট পাওনা ১৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। সোহাগপুর টেক্সটাইল ১১৯তম খেলাপি এবং ঋণের পরিমাণ ২৫ কোটি পাঁচ লাখ টাকা। এর স্বত্বাধিকারী বিটিএমএর সভাপতি আবদুল হাই সরকার। ২৩৮তম খেলাপি এয়ার পারাবাতের খেলাপি ঋণ ১৪ কোটি ১৮ লাখ টাকা। হায়দারুজ্বামানের বেস্ট এভিয়েশনের খেলাপি ঋণ ছয় কোটি ৯৬ লাখ টাকা। কে জেড ইসলামের নির্মাণ ইন্টারন্যাশনাল ২৯তম খেলাপি, ব্যাংকের পাওনা ৫১ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। তবে এ ক্ষেত্রে আদালতের নিষেধাজ্ঞা আছে বলে তালিকায় উল্লেখ রয়েছে। বিএনপির সাবেক সাংসদ জি এম সিরাজের ক্যাব এক্সপ্রেস ৪০৪তম খেলাপি, ঋণের পরিমাণ আট কোটি ৭৮ লাখ টাকা। জাহাজ তৈরির কোম্পানি আনন্দ শিপইয়ার্ড ১১৮তম ঋণখেলাপি, পাওনার পরিমাণ ২৫ কোটি ২৩ লাখ টাকা।
তালিকার শেষ দিকে রয়েছে বসুন্ধরা, ফায়নাজ অ্যাপার্টমেন্ট (পঞ্চম তলা), ৩৭/১ পুরানা পল্টনের নাম। ১৫২৫ নম্বরে থাকা এই হিসাবের বিপরীতে ব্যাংকের পাওনা এক কোটি ৭০ লাখ টাকা।

এমএলএম কোম্পানির নীতিমালা প্রণয়নে আজ বৈঠক


এমএলএম কোম্পানির নীতিমালা প্রণয়নে আজ বৈঠক
স্টাফ রিপোর্টার, যুগান্তর ॥
প্রতারণা ঠেকাতে মাল্টিলেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) কোম্পানিগুলোর জন্য দেশে প্রথমবারের মতো প্রস্তাবিত খসড়া নীতিমালার ওপর আজ সোমবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করতে যাচ্ছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কৰে বেলা ১১ টায় এ সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে অংশ নিতে পারেন ২০/২২টি এমএলএম কোম্পনির প্রতিনিধিরা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে এ তথ্য।

সংশ্লিষ্টরা জানান, খসড়া নীতিমালায় প্রাথমিকভাবে ১৩টি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করলেও গত ৪ অক্টোবর আনত্মঃমন্ত্রণালয় সভায় ৯টি বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে খসড়া চূড়ান্ত করা হয়। এতে বেশকিছু বিষয় বাদ দেয়া হয়েছে ও পরিবর্তন আনা হয়েছে। চূড়ান্ত খসড়ায় বলা হয়েছে, মাল্টি লেভেল মার্কেটিং কোম্পানি পণ্য ও সেবা উভয় প্রকার ব্যবসা করতে পারবে। সকল ডিরেক্ট সেলিং বা এমএলএম কোম্পানিকে জামানত দিতে হবে। যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মগুলোর পরিদফতর কী পদ্ধতিতে এবং কোন খাতে গ্রহণ করবে সে বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান করবে। ডিরেক্ট সেলিং বা এমএলএম কোম্পানি ব্যবসায়ের ৰেত্রে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এবং কম্পিটিশন এ্যাক্ট ২০১০ (প্রণীতব্য) পরিপূর্ণভাবে মেনে চলতে বাধ্য থাকবে। কোম্পানি নতুন পরিবেশক হওয়ার সময় কী ধরনের চার্জ নেবে তা তাদের প্রণীত নীতিমালায় সুনির্দিষ্ট ও যৌক্তিকভাবে উলেস্নখ থাকতে হবে।
নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, পরবতর্ী সিদ্ধানত্ম না নেয়া পর্যনত্ম ভোক্তা অধিকার সংরৰণ অধিদফতর কেন্দ্রীয়ভাবে জেলা প্রশাসন জেলা পর্যায়ে ও ইউএনও উপজেলা পর্যায়ে এমএলএম কোম্পানিগুলোর কার্যাবলী পর্যবেৰণ করবে। পণ্য অথবা সেবা বাজারজাতকরণের পূর্বে সেসব পণ্য ও সেবার গুণগতমানের সনদ সরকার নির্ধারিত সংশিস্নষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে নিতে হবে। ডিরেক্ট সেলিং বা এমএলএম কোম্পানিগুলো তাদের বাজারজাত পণ্যের গায়ে পণ্যের উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদ উত্তীর্নের তারিখ ও মূল্য প্রকাশের ব্যাপারে ভোক্তা অধিকার সংরৰণ আইন ও প্রচলিত সংশিস্নষ্ট আইন মেনে চলবে। সেবার ৰেত্রেও সংশিস্নষ্ট প্রচলিত আইন মেনে চলতে হবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ সকল নীতিমালা বাসত্মবায়নের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আইন প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করবে। ডিরেক্ট সেলিং বা এমএলএম কোম্পানি এ আইন মেনে চলতে বাধ্য থাকবে। সংশিস্নষ্টরা জানান, নীতিমালার বেশকিছু বিষয়ে আপত্তি রয়ে গেছে। বৈঠকে এ বিষয়গুলো উঠে আসবে। এমএলএম প্রতিষ্ঠানের জন্য জামানত প্রথাকে অযৌক্তিক বলে মনে করা হচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত সাধারণ লোকদের স্বার্থে এমএলএম প্রতিষ্ঠান নতুন পরিবেশক হওয়াকালীন সময়ে সার্ভিস চার্জ, সিকিউরিটি মানি ও ট্রেনিং ফি ইত্যাদির নামে যে অতিরিক্ত অর্থ নেয় তা নিষিদ্ধ করতে হবে। এ সম্পর্কে নীতিমালায় কিছু উলেস্নখ নেই। নীতিমালায় এমএলএম কোম্পানিগুলোর আমানত সংগ্রহের অবৈধ ব্যাংকিং বন্ধে খসড়া নীতিমালায় কোন বিধান রাখা হয়নি। বাংলাদেশে নিবন্ধনবিহীন ই-কমার্স বা ইন্টারনেটভিত্তিক এমএলএম কোম্পানির কার্যক্রম বন্ধের বিষয়ে খসড়া নীতিমালায় কোন বিধান রাখা হয়নি। এছাড়া আগের খসড়া নীতিমালায় কোম্পানিগুলোকে বাধ্যতামূলকভাবে ইলেকট্রনিক ক্যাশ রেজিস্টার ব্যবহার করার বিধান রাখা হলেও চূড়ানত্ম খসড়ায় তা বাদ দেয়া হয়েছে। এতে করে সরকার বিপুল পরিমাণের রাজস্ব আয় বঞ্চিত হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উলেস্নখ্য, দেশে এমএলএম ব্যবসার শুরম্নর এক দশক পর প্রথমবারের মতো একটি নীতিমালা করতে যাচ্ছে সরকার। সংশিস্নষ্টরা জানান, ভারত, মালয়েশিয়া, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এমএলএম ব্যবসা পরিচালনার ৰেত্রে সরকারী নীতিমালা ও গাইড লাইন রয়েছে এবং তা কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়। অথচ আমাদের দেশে এ ব্যবসা শুরম্নর এক দশক পেরিয়ে গেলেও কোন নীতিমালা করা হয়নি। নীতিমালা না থাকায় কোন কোন কোম্পানি ইচ্ছামতো শর্ত যুক্ত করে প্রতারণার ফাঁদ ফেলেছে। ফলে এ ব্যবসার সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছেন সাধারণ অনেক মানুষ। কয়েকটি কোম্পানি সাধারণের গচ্ছিত কোটি কোটি টাকা আত্মসাত করে ব্যবসা গুটিয়ে ফেলেছে।

২০০২ সালে মাল্টি লেভেল কোম্পানির সংখ্যা ছিল ১৬টি। ২০০৬ সালে এর সংখ্যা দাঁড়ায় ২৪টিতে। সর্বশেষ ২০১০ সালে যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মগুলোর পরিদফতরের তথ্য অনুযায়ী দেশে এখন এমএলএম কোম্পানির সংখ্যা ৭০টি। তবে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, দেশে এখন ৩৩টি কোম্পানি কার্যকর আছে। বাকিগুলো প্রতারণাসহ বিভিন্ন কারণে বন্ধ হয়ে গেছে।