দিবাস্বপ্নেই বেশি সময় কাটে মানুষের ; জেগে থাকার ৪৬ দশমিক ৯ শতাংশ সময়ই মানুষের মন বিক্ষিপ্ত থাকে


দিবাস্বপ্নেই বেশি সময় কাটে মানুষের

দিবা স্বপ্ন

দিবা স্বপ্ন Day Dreaming

জীবনে স্বপ্ন থাকা ভালো। স্বপ্ন সজীবতার লক্ষণ। স্বপ্নহীন মানুষকে আপনি গন্ধহীন গোলাপের সঙ্গে তুলনা করতে পারেন। গন্ধ ছাড়া গোলাপের মহিমা কোথায়, বলুন তো?

চর ঘোরে রাতের স্বপ্ন অর্থহীন ঘটনার সমাহার মাত্র। সেদিকে মন না দেয়াই ভালো। সহি সোলেমানি খোয়াবনামার পাতা উল্টে উল্টে অনর্থক সময় নষ্ট। স্বপ্ন দেখতে হয় দিনে, কাজের ফাঁকে কিংবা কর্মহীন অবসরে। এই স্বপ্নই মানুষের মনে বেঁচে থাকার রসদ জোগায়; তাকে প্রাণবন্ত ও আশাবাদী করে তোলে। অফুরান প্রাণশক্তি নিয়ে নবস্বপ্নে বলীয়ান মানুষ দৃঢ় পায়ে এগিয়ে যায় সামনের দিকে। গড়ে তোলে স্বপ্নে ছককাটা প্রাসাদের বাস্তব কাঠামো। তবে একটাই শর্ত—স্বপ্নটা যেন স্রেফ দিবাস্বপ্ন হয়ে না দাঁড়ায়। দিবাস্বপ্ন মানুষকে আপাত বিনোদন ছাড়া আর কিছু দিতে পারে না। তবে বিষয় হলো, মানুষের দিনের বেশিরভাগ সময় কেটে যায় দিবাস্বপ্নের অলীক প্রভাবে মগ্ন হয়ে। এটা শুধু অলস বা বেকারদের বেলায় নয়, মহা কর্মব্যস্ত মানুষটিও তার হাতের কাজটি নিয়ে না ভেবে দিনের অর্ধেকটা সময় দিবাস্বপ্ন দেখেই কাটিয়ে দেন। একটি মার্কিন গবেষণায় এ তথ্য জানা গেছে। সূত্র ওয়েবসাইট

২ হাজার ২শ’রও বেশি মানুষ মোবাইল ফোনে ছাড়া আবেদনপত্র ডাইনলোড করে উত্তর দেন। এর ভিত্তিতে দিনরাতের বিভিন্ন সময় তাদের চিন্তা-ভাবনার ধরন জরিপ চালিয়ে দেখা হয়। বিজ্ঞানবিষয়ক এ গবেষণায় বলা হয়, এমনকি জরুরি কাজের সময়ও দিনের ৩০ শতাংশ সময় দিবাস্বপ্ন দেখে কাটিয়ে দেন অধিকাংশ মানুষ। এ ধরনেরই আরেকটি জরিপের ভিত্তিতে যুক্তরাজ্যের এক বিশেষজ্ঞ বলেন, মানুষের মন খুব সহজেই বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়ে।

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের জন্য একটি কার্যকর গবেষণা হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে আইফোনকে।

এখানে অংশগ্রহণকারীরা তারা কী করছেন, তালিকা থেকে তা চিহ্নিত করার ব্যাপারে সম্মত হন এবং এতে তিনি আনন্দিত নাকি বিষণ্ন, এ বিষয়েও তথ্য দেন।
অংশগ্রহণকারীদের উত্তরগুলো একত্রিত করার পর গবেষকরা জানতে পারেন, দিনের বেলা মানুষের মন কীভাবে এদিক-সেদিক ঘুরে বেড়ায়।

দুই লাখ ৫০ হাজার গবেষণা ফলাফল একত্রিত করার পর গবেষকরা এ সিদ্ধান্তেই উপনীত হন যে, জেগে থাকার ৪৬ দশমিক ৯ শতাংশ সময়ই মানুষের মন বিক্ষিপ্ত থাকে।

গবেষকদের একজন ড. ম্যাথু কিলিংসওয়ার্থ বলেন, ‘মানুষের মনের বিক্ষিপ্ত চিন্তা তার আর সব কাজকে ছাড়িয়ে গেছে। আসলে আমাদের মানসিক জীবন ব্যাপকভাবে বিস্তৃত।’

তবে দিনের বিভিন্ন সময় মন বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়ার সঙ্গে মানুষের সুখী হওয়ার প্রবণতার সংযোগ খুঁজে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। কাজের সময় যাদের মন বেশি বিক্ষিপ্ত থাকে, তারা অসুখী জীবন কাটানোর কথাই বেশি উল্লেখ করেন বলে জানা যায়।

তবে এই যে বিক্ষিপ্ত চিন্তা, এটা মানুষের অসুখী বোধের কারণ না ফলাফল—গবেষণায় এটা এখনও পরিষ্কার হয়নি।