সুখ তুমি কী?


” … সুখ তুমি কী? …”

রঙ-ঢঙ ডেস্ক

হায় হায় করে কিছু হবে না; ট্যাঁকে যা আছে, তা নিয়েই সুখে থাকুন!

প্রায় ৮৫ শতাংশ মত দিয়েছেন— ‘স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল’। কেউ কেউ আবার বলেছেন (৮১ শতাংশ), একটা ভালো সম্পর্ক বা বিবাহবন্ধনও মানুষকে সুখী করে। ৭৯ শতাংশ জানিয়েছেন, ভালো কাজ করলে সহজেই সুখী হওয়া যায়।

সুখ নিয়ে আমেরিকানদের দর্শন পাল্টাচ্ছে। সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তাদের এ পরিবর্তনের কারণ বলে মানছেন কেউ কেউ। ‘দ্য লাইফ টুইস্টে’র এক গবেষণায় ধরা পড়েছে চিন্তার পরিবর্তনটি। সেখানে দেখা গেছে, অনেকে মনে করেন, সুখের সঙ্গে সম্পদ-সম্পত্তির কোনো সম্পর্ক নেই! তবে প্রতি চারজনের একজন অর্থাৎ ২৭ শতাংশ মার্কিন এখনো মনে করেন, সম্পদ বা অর্থ-বিত্ত মানুষের সফলতা নির্ধারণ করে। এ সমীক্ষায় দুই হাজার আমেরিকান অংশ নেয়।

গবেষণায় দেখা যায়, প্রায় ৮৫ শতাংশ মত দিয়েছেন— ‘স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল’। কেউ কেউ আবার বলেছেন (৮১ শতাংশ), একটা ভালো সম্পর্ক বা বিবাহবন্ধনও মানুষকে সুখী করে। ৭৯ শতাংশ জানিয়েছেন, ভালো কাজ করলে সহজেই সুখী হওয়া যায়। ৭৫ শতাংশ বলেছেন, ভালো কিংবা পছন্দের চাকরি সুখ বয়ে আনে। তবে জীবনে সফল বা সুখী হতে হলে উন্মুক্ত ও উদার মানসিকতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ— একবাক্যে প্রায় সবাই মানেন এ কথা।

এছাড়া ডজন খানেক গবেষণায় দেখা গেছে, সুখ-সফলতা নিয়ে মার্কিনদের ভেতর নতুন ধারণ তৈরি হচ্ছে। তাদের বিশ্বাস, সুখী হতে টাকা-পয়সা তেমন গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক নয়। অর্থনৈতিক মন্দা ও বেকারত্বের হার বাড়ার কারণে তাদের চিন্তাভাবনায় নতুন এ ধারণা সৃষ্টি হয়েছে। ৪৩ শতাংশ বলেছেন, তারা সবাই আর্থিক দুরবস্থার তিক্ত অভিজ্ঞতার শিকার। ফলে জীবন সম্পর্কে তাদের নতুন দর্শন তৈরি হয়েছে। ৪২ শতাংশ বলছেন, নানা সমস্যা-প্রতিবন্ধকতা তাদের চোখ খুলে দিয়েছে। টাকা-পয়সা থাকলেই সুখী হওয়া যায় না— এমন ধারণা বদলে যাওয়ার ক্ষেত্রে মাত্রাতিরিক্ত কাজের চাপও বড় ভূমিকা পালন করেছে। ১০ জনের আটজন কর্মজীবী মত দিয়েছেন, প্রচণ্ড কাজের চাপ ও তুলনামূলক কম বেতনের কারণে তাদের জীবনটা চিঁড়েচ্যাপ্টা!

হাফিংটন পোস্টের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান সম্পাদক আরিয়ানা হাফিংটন বলেছেন, টাকা ও ক্ষমতা থাকলেই সে সফল— এ ধারণা বদলে দেয়া প্রয়োজন। হাফিংটন ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ব্লগে লিখেছেন, বাকি জীবনে নতুন উদ্যমে নিজেকে ফিরে পেতে, কাজে আনন্দ পেতে নিজেদের কল্যাণ, স্বাস্থ্য ও সামর্থ্যের ওপর ভিত্তি করে সফল হওয়ার তৃতীয় কোনো পদ্ধতি বের করা প্রয়োজন। আসলে টাকা আর ভালো অবস্থান থাকলেই জীবনে সফল হওয়া যায় না।

২০০৫-এর অন্য একটি গবেষণায় দেখা যায়, সুখী মানুষ সবসময় কাজকর্মে, সম্পর্ক গড়ার ক্ষেত্রে ও সুস্বাস্থ্য অর্জনে সফলতা পায় (এবং তাদের ঘুমও ভালো হয়!)। এসব গবেষণার পরিপ্রেক্ষিতে বলতে হয়— হায় হায় করে কিছু হবে না; ট্যাঁকে যা আছে, তা নিয়েই সুখে থাকুন!

লন্ডনের ব্যয়বহুল জীবনযাপনের ব্যয়ভার কোথা থেকে আসছে


[প্রবাস প্রতিবেদন] তারেক রহমানের বিলেতের দিনকাল

  

ইসহাক কাজল লন্ডন থেকে

তারেক রহমান তথা তারেক জিয়া দীর্ঘদিন ধরেই লন্ডনে বসবাস করছেন। তাকে নিয়ে বিলেতে বাঙালি কমিউনিটি এবং বাংলাদেশে রাজনৈতিক ও সাধারণ জনসমাজে কৌতূহলের শেষ নেই। বিশেষ করে লন্ডনে বাঙালি কমিউনিটি তো বটেই, বাইরের সমাজের সঙ্গে যোগাযোগ না করায় তাকে নিয়ে মানুষের ঔৎসুক্য আরও বেড়েছে। প্রায় ৫ বছর আগে বিলেতে এসে এখন পর্যন্ত চিকিৎসাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তার যে খরচ তার যোগান কোথা থেকে আসছে তাও এক রহস্য কমিউনিটির কাছে। বিশেষ করে তার রাজকীয় চলাফেরার খবর অনেকের কাছেই রয়েছে। অনেকের মনে প্রশ্ন যেখানে তৎকালীন পাকিস্তানের সামরিক শাসক ইস্কন্দর মির্জা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে এই লন্ডনে এসে হোটেলে ম্যানেজারের চাকরি করে দিন যাপন করেছেন, উগান্ডার ইদি আমিন, ইরানের রেজা শাহ পাহলেবী প্রচণ্ড অর্থকষ্টে জীবন কাটিয়েছেন বিদেশের মাটিতে, সেখানে তারেক রহমান বিনা আয়ে এমন রাজকীয়ভাবে লন্ডনের মতো ব্যয়বহুল শহরে চলেন কীভাবে?
বর্তমান মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর তারেক রহমান প্রথমে লন্ডনে আসেন ২০০৮ সালের ১২ সেপ্টেম্বর। শারীরিক অসুস্থতার অজুহাতে বাসা থেকে বের না হলেও মাঝে মাঝে তাকে বিভিন্ন শপিং মলসহ বিনোদন কেন্দ্রে দেখেছেন অনেকে। এছাড়া চিকিৎসার প্রয়োজনে ওয়েলিংটন হসপিটালে কিংবা তার প্রাইভেট ডাক্তারের কাছে যাওয়ার সময়ও অনেকের নজরে এসেছেন এই রহস্যময় রাজনীতিক নেতা। ক্ষমতা হারানোর পর নির্যাতনে তারেকের মেরুদণ্ডের ৬ ও ৯ নম্বর হাড় সম্পূর্ণ ভেঙে যায়। ডাক্তারদের ভাষ্যমতে এ অবস্থা থেকে পুরোপুরি মুক্ত হওয়া কঠিন। সম্প্রতি প্রথমবারের মতো যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সভাপতি প্রয়াত কমর উদ্দিনের মেয়ের বিয়েতে তারেক রহমান জনপ্রকাশ্যে এলে তাকে ছড়ি হাতে দেখে ডাক্তারদের সেই কথাই মনে হয়েছে অনেকের।

লন্ডনে শুরুর সময়
২০০৮ সালে লন্ডনে আসার পর পর তারেক রহমান ছিলেন তৎকালীন যুক্তরাজ্য বিএনপির একচ্ছত্র নেতা কমর উদ্দিনের ছত্রছায়ায়। সেই সময় তারেক রহমান কমর উদ্দিনের এনফিল্ড টাউন ও সাউথ গেইট এই দুই এলাকার মাঝামাঝি এলাকায় এক বাসায় থাকতেন। কমর উদ্দিন লন্ডনে বাংলাদেশি রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকার পাশাপাশি ধনাঢ্য ব্যবসায়ী হিসেবেও সুপরিচিত ছিলেন। কমর উদ্দিনের প্রায় বারোটির মতো ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্ট আছে লন্ডন ও বিভিন্ন শহরে। তারেক রহমান যে বাসায় ওঠেন কমর উদ্দিন সেই বাড়ি ক্রয় করেন ২০০৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। বিলাসবহুল এই বাড়ির মাসিক মর্টগেজ দিতে হতো ৩৩৫ পাউন্ড যা ক্রেডিট ক্রাঞ্চে কমে গিয়ে ২২০ পাউন্ডে নেমে আসে। তারেক রহমানকে এই মর্টগেজের টাকাও দিতে হয় না। উপরন্ত লন্ডনে তারেকের বাড়ির খরচও চালাতেন কমর উদ্দিন। লন্ডনে আসার পর কমর উদ্দিনের নিজের ব্যবহারকৃত জাগুয়ার গাড়িটি তারেককে দিয়ে দেন। মাসিক ৮০০ পাউন্ড বেতনে ড্রাইভার শরীফুল ইসলাম চাকরি পান। পরে তারেক নিজেও দুইটি গাড়ি কিনেন, ক্যাব্রিজ হিথ রোডের রূড থেকে। একটি হলো বিএম ডাব্লিউ সেভেন সিরিজ আরেকটি হচ্ছে অডি। এসময় তারেক রহমান প্রধানত বাসাতেই থাকতেন। মাঝে মধ্যে মেয়ে জাইমাকে স্কুল থেকে আনতে ড্রাইভারের সঙ্গে বের হতেন।
পাশাপাশি মাঝে মাঝে তার পরিবার নিয়ে বাসার গ্রোসারি কেনাকাটা করতেন পন্ডার্স এন্ডের টেসকো থেকে। কমর উদ্দিনের রেস্টুরেন্টের কয়েকজন বিশ্বস্ত কর্মচারীও তার কেনাকাটায় সাহায্য করতেন। প্রায় দিনই রেস্টুরেন্ট থেকে খাবার প্রেরণ করা হতো। এছাড়াও প্রতিমাসে লেক সাইডের ব্লু ওয়াটার এবং সেন্ট্রাল লন্ডনের সেলফ্রিজেসে শপিং করতেন বলে জানা গেছে। যেতেন সেলফ্রিজেস এর হোম এক্সেসরিজেও। সেলফ্রিজ ও ব্লু ওয়াটার হচ্ছে ইউকের সবচাইতে বিলাসবহুল এবং ব্যয়বহুল শপিং মল। মিলিয়নিয়াররাই মূলত সেখানে কেনাকাটা করে থাকেন। তারেক প্রায়ই পুরো পরিবার নিয়ে উডগ্রীন সিনে ওয়ার্ল্ডে সিনেমা দেখতে যেতেন। মাঝেমধ্যে আপ্টন পার্কের বলিনেও সিনেমা দেখতে আসতেন বলে জানা গেছে।

বর্তমান জীবন
কমর উদ্দিনের আকস্মিক মৃত্যুর পর স্বাভাবিকভাবেই অবস্থার পরিবর্তন ঘটে। বর্তমানে তারেক রহমান থাকেন সারের কিংসটনে। এ এলাকার লোকাল অথরিটির তথ্য অনুযায়ী ৩-৪ বেডরুমের এক বাসার মাসিক ভাড়া ১২শ’ থেকে শুরু করে ৫ হাজার পাউন্ড। সি ব্যান্ডের বাসার জন্য কাউন্সিল ট্যাক্স ১৪৭৪ পাউন্ড ৬৭ পেন্স। বিদ্যুৎ গ্যাসসহ ইউটিলিটি বিল ন্যূনতম ১৫০ পাউন্ড। তার পরিবারের ট্রান্সপোর্টেশন খরচ ন্যূনতম ১শ’ পাউন্ড। এছাড়া লন্ড্রি, পোশাক-আশাক, পত্রপত্রিকা এবং মোবাইল ও টেলিফোনসহ আরও প্রায় ৭-৮শ’ পাউন্ড খরচ হয়ই। সব মিলিয়ে ৪ হাজার পাউন্ডের নিচে তার মতো লাইফ স্টাইল চালানো সম্ভব হওয়ার কথা নয়। বিশেষত এই এলাকায় আরও রাঘব বোয়ালরা থাকেন। এই এলাকাতেই থেকে গেছেন পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টো। এখনো পাকিস্তানের সাবেক সেনা শাসক পারভেজ মোশাররফ বসবাস করছেন কিংসটনে।
এরই মধ্যে একবার তিনি ২০০৮-এ লন্ডনে এসে বার এট ল ডিগ্রি (ব্যারিস্টার) সম্পাদন করবেন বলে মনস্থির করেন। তবে তিনি সুবিধা করতে পারেনি। তারেক যেহেতু বাংলাদেশের গ্রাজুয়েট তাই লন্ডনে তাকে প্রথমে একটি ব্যাচেলর ডিগ্রি নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে তিনি এক্সেশন পাননি। সাউথ ব্যাঙ্ক ইউনিভারসিটি ও কুইন মেরী তারেককে সরাসরি রিজেক্ট করে দেয়। পরে তিনি জিডিএল করে শর্ট-কাটে বার এট ল করতে চেয়েও পারেননি।

নেই কোনো আয়ের উৎস
গত প্রায় ৫ বছর ধরে লন্ডন থাকলেও তারেক রহমান কোনো অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি যেমন কোনো কাজে নিয়োজিত হতেও পারেন না। তাকে বাইরে দেখাও যায় না খুব একটা। স্ত্রী জুবাইদা গুলশান আরাও তেমন কোনো কাজ করেন না। উপরন্তু এক মেয়ের লেখাপড়ার খরচও রয়েছে। অতি সম্প্রতি ব্রিটেনে বসবাসের জন্য রাজনৈতিক আশ্রয় পেয়েছেন তারেক রহমান। এর সুবাদে ব্রিটেনে অবাধে চলাচলের সুযোগ পেয়েছেন তিনি। তবে কোনো সরকারি অর্থায়ন বা বেনিফিট পাবেন না তারেক। দেশেও তার এবং তার মা বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার বেশ কয়েকটি ব্যাংক একাউন্ট জব্দ করা আছে। তারেকের ইনকামের একমাত্র স্বীকৃত উৎস হিসেবে ধরা যায় তার মা বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়ার সংসদের বেতন। তবে তা দিয়ে লন্ডনে এই বিলাসী জীবনের একাংশও বহন করা সম্ভব কি না সন্দেহ।

মাথার উপর মামলার বোঝা 
গ্রেপ্তারি পরোয়ানাসহ তারেক রহমানের ওপর ঝুলছে ১৪টি মামলার খড়গ। ২০০৭ সালের ওয়ান-ইলেভেনের পর তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ১৫টি মামলা করা হলেও ২০০৯ সালে একটি মামলা প্রত্যাহার করা হয়। অন্য মামলাগুলোর মধ্যে ৪টি মামলা উচ্চ আদালতের নির্দেশে স্থগিত রয়েছে। জীবনে আর রাজনীতি করবেন না এমন মুচলেকা দিয়ে তারেক রহমান চিকিৎসাসেবা গ্রহণের জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়ে লন্ডন চলে আসার পর তা বাতিল করে বর্তমান সরকার। পরবর্তীতে বাংলাদেশে দীর্ঘ অনুপস্থিতিতে পলাতক বিবেচনায় একাধিক মামলায় তারেক রহমানের জামিন বাতিল করে আদালত। এছাড়াও জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে যে ২৫টি মামলা ঝুলছে সেগুলোর মধ্যে ২৩টি মামলাই তত্ত্বাবধায়ক আমলে দায়ের করা।

যুক্তরাজ্য নেতৃবৃন্দ যা বলেন
যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ ও যুক্তরাজ্য বিএনপির বিলুপ্ত কমিটির নেতৃবৃন্দের মতামত জানতে চাইলে তারা অনেক কথা বলেছেন।
 
যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি সুলতান মাহমুদ শরিফ বলেছেন, তৎকালীন পাকিস্তানের রাষ্ট্রক্ষমতা জবরদখলকারী সামরিক শাসক ইস্কন্দর মির্জা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে এই লন্ডনে এসে আশ্রয় পেয়ে ছিলেন। লন্ডনে জীবনযাপনের ব্যয়ভার বহনের জন্য তাকে একটি হোটেলে ম্যানেজারের চাকরি পর্যন্ত করতে হয়েছে। দারুণ অর্থকষ্টে একেবারে নিঃস্ব কপর্দকহীন অবস্থায় তাকে মৃত্যুবরণ করতে হয়েছে। উগান্ডার ইদি আমিন, ইরানের রেজা শাহ পাহলেবীর কথা তো কারো অজানা নয়। ইদি আমিনকে সৌদি আরবে ঝাড়–দারের চাকরি করে জীবন নির্বাহ করতে হয়েছিল আর রেজা শাহ পাহলেবীর অবস্থাও খুবই করুণ ছিল। তারেক রহমান হচ্ছেন রাষ্ট্রীয় অর্থসম্পদ
  নিজের করে নেয়া অনৈতিক রাজনৈতিক ধারার প্রবর্তক। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অংশীদারিত্ব পেয়ে হাওয়া ভবনের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার বিকল্প কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন। এ বিকল্প ক্ষমতার ভরকেন্দ্রকে ভিত্তি করে বিপুল পরিমাণ রাষ্ট্রীয় অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়। সেই অর্থ দিয়েই তারেক রহমান লন্ডনে বিলাসী জীবনযাপন করছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন। অর্থ পাচারের ঘটনাটি তো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তে প্রমাণিতও হয়েছে। রাজনৈতিক পাওয়ার বা শক্তি বিক্রি করেই তারেক রহমান এই অঢেল অবৈধ অর্থ ও বিত্তের মালিক হয়েছেন। এই অপরাধের জন্য তারেক রহমানকে যেমন একদিন আইনের মুখোমুখি হতে হবে তেমনি বাংলাদেশের জনগণের আদালতেও একদিন জবাবদিহিতার সম্মুখীন হতে হবে। সেই দিন বেশি দূরে নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং যুক্তরাজ্য যুবলীগের সাবেক সভাপতি আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী লন্ডনে তারেক রহমানের বিলাসী জীবনযাপন সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, ‘মানি ইজ নো প্রবলেম’ বলে সেনা শাসক জিয়াউর রহমান রাজনৈতিক অঙ্গনে কেনাবেচার রাজনীতির সূচনা করেছিলেন। স্বগর্বে তিনি ঘোষণা করেছিলেন রাজনীতিবিদদের জন্য রাজনীতি চর্চা কঠিন করে ছাড়বেন। সে ধারা অক্ষুণ
œ রেখে তারেক রহমান একই পথ অনুসরণ করেন। রাষ্ট্রীয় অর্থ সম্পদ লুটপাট করে সাহসী তারুণ্যের অহঙ্কারকে কেনাবেচার মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশে অনৈতিক রাজনীতি চর্চার সূচনা করেন। হাওয়া ভবনকে ক্ষমতার ভরকেন্দ্র করে তারেক-কোকো-মামুন এতিমের টাকা পর্যন্ত আত্মসাৎ করে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করেছেন। লুটের সেই অর্থেই তাদের বিলাসী জীবনযাপন চলছে।
তিনি বলেন, তারেক রহমান বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি। তাই তার সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জনগণের জানার অধিকার রয়েছে। লন্ডনে দীর্ঘদিন কী অবস্থায়, কোন ক্যাটাগরির ভিসায় তিনি আছেন তা জনগণের জানার অধিকার পর্যায়ে পড়ে। এখানে অবস্থানের ব্যয়ভার কীভাবে তিনি নির্বাহ করেন সে সত্যও প্রকাশ করা উচিত। সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে যেসব দুর্নীতি মামলা তার ওপর হয়েছে, সৎ সাহস থাকলে বাংলাদেশে গিয়ে সেগুলোর মোকাবেলা করা উচিত। সন্ত্রাসী চক্র আর দুর্নীতিবাজরা মিডিয়া থেকে বরাবরই নিরাপদ দূরত্বে থাকে। তারেক রহমান
  মিডিয়াকে ভয় করেন কেন? লন্ডনের ব্যয়বহুল জীবনযাপনের ব্যয়ভার কোথা থেকে আসছে একজন রাজনীতিক হিসেবে সে সত্য তার প্রকাশ করা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বিলুপ্ত ঘোষিত যুক্তরাজ্য বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটির সাবেক আহ্বায়ক এমএ মালিক বলেন, যুক্তরাজ্য বিএনপির একজন সংগঠক ও কর্মী হিসেবে এ সত্য আমার অজানা নয় যে তারেক রহমান নিজের সকল ব্যয়ভার নিজেই বহন করে থাকেন। একটি কথা মনে রাখতে হবে তিনি বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পুত্র। তার পিতা জিয়াউর রহমান দীর্ঘদিন সামরিক বাহিনীতে উচ্চপদে চাকরি করেছেন। তাই তাকে কারও দয়া দাক্ষিণ্যের উপর ভরসা করে লন্ডনে বসবাস করতে হবে সে প্রশ্ন অবান্তর।
যুক্তরাজ্য বিএনপি’র সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মিয়া মনিরুল আলম এ ব্যাপারে কোনো প্রকার রাখঢাক না করে বলেন, তারেক রহমানের অবস্থা এত খারাপ নয় যে তার খাওয়াপরার ব্যয়ভার বহন করতে পারবেন না। সিলেটি ভাষায় তিনি বলেন, তারেক রহমান বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পোয়া। তিনি লন্ডনে অবস্থান করছেন নিজের শক্তি ও সামর্থ্য।ে আজকের বাংলাদেশের ক্ষমতার ভরকেন্দ্রে এবং ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনৈতিক নেতৃত্বের কাতারে অনেকেই আছেন যারা আমাদের রেস্টুরেন্টে ভাত খেয়ে, থেকে লালিতপালিত হয়েছেন। অনেকের হাত খরচের অর্থ আমরা যুগিয়েছি। তারা এখন ক্ষমতার উচ্চশিখরে আছেন বলে আমাদের সঙ্গে কোনো যোগসূত্রও নেই। দেখেও না দেখার ভান করেন। আর তারেক জিয়া আমাদের নেতা জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের আগামী দিনের বীর সেনানী তিনি যদি অর্থকষ্টে থাকেন তাহলে সে লজ্জা আমাদেরই। আমরা প্রাণ উজাড় করে শর্তহীনভাবে তাকে সহায়তা করতে সদা প্রস্তুত। তিনি সুস্থ হয়ে বাংলাদেশে ফিরে গিয়ে জাতির কাণ্ডারি হিসেবে নেতৃত্ব প্রদান করুন সে প্রত্যাশা আমাদের সকলের।
বিলুপ্ত ঘোষিত যুক্তরাজ্য বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সাবেক সদস্য সচিব ব্যারিস্টার এমএ সালাম বলেছেন, কিছু কিছু বিষয়ে রাজনীতি না এনে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা উচিত। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে নির্যাতনে প্রায় পঙ্গু অবস্থায় উচ্চতর চিকিৎসাসেবা গ্রহণের জন্য তারেক রহমান লন্ডন এসেছিলেন। এখনো তিনি চিকিৎসাধীন আছেন। চিকিৎসকদের পরামর্শেই লন্ডনে তার চিকিৎসা অব্যাহত আছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর আমাদের প্রত্যাশা ছিল তারেক রহমানের ওপর যে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়েছে সে ব্যাপারে উচ্চতর তদন্তের মাধ্যমে দোষী ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করা হবে। কিন্তু আমাদের সে প্রত্যাশা গুঁড়ে বালি। বিষয়টি তদন্ত করা তো দূরের কথা বর্তমান সরকার তারেক রহমানের বিরুদ্ধে একের পর একটি মামলা দায়ের করে তার বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে চলেছে।

সূত্রঃ http://www.shaptahik.com/v2/?DetailsId=7532

বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে সংহত করার জন্য এবং দেশের অধিকাংশ মানুষের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মুক্তির অসমাপ্ত লড়াইয়ের সাফল্যের জন্য মওলানা ভাসানীর প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক রাজনীতির পুনরুজ্জীবন এখন ভীষণ জরুরি।


মওলানা ভাসানীর সাম্রাজ্যবাদবিরোধী প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক রাজনীতির পুনরুজ্জীবন সবচেয়ে জরুরি

মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর মৃত্যু দিবস নভেম্বর ১৭। ১৯৭৯ সালের এই দিনে বাংলাদেশের নিপীড়িত দরিদ্র মানুষের, বিশেষ কৃষকের, সবচেয়ে কাছের মানুষ, মওলানা ভাসানী মৃত্যুবরণ করেন। ভাসানী আমৃত্যু উপনিবেশবাদ ও সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে প্রগতিশীল জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠার লড়াই করেছেন। লড়াই করেছেন দেশের বিপুল অধিকাংশ মানুষের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক শোষণমুক্তির লক্ষ্যে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তিনি ছিলেন সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সিপাহসালার।

১৯৪৭ সালে মুসলিম লীগের নেতৃত্বে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর মুসলিম লীগ সরকার নানান গণবিরোধী কাজে লিপ্ত হলে ১৯৪৮ সালে মওলানা ভাসানীই গড়ে তোলেন আওয়ামী মুসলিম লীগ। অর্থাৎ জনগণের মুসলিম লীগ। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে, ১৯৫৪ সালে, তারই প্রধান উদ্যোগে স্বায়ত্তশাসনের আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য গঠন করেন ২১ দফাভিত্তিক যুক্তফ্রন্ট। সে বছরের সাধারণ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের কাছে মুসলিম লীগের ভরাডুবির পেছনে ভাসানীর ভূমিকাই সর্বোচ্চ। ১৯৫৫ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগকে অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার জন্য এ মওলানা ভাসানীই, দলের অপরাপর অনেক নেতার বিরোধিতা সত্ত্বেও, মুসলিম শব্দটি বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগ নামকরণ করেন। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করার পর, ১৯৫৬ সালে, যুক্তফ্রন্টের ২১ দফাভিত্তিক পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসনের দাবিকে অগ্রাহ্য করলে মওলানা ভাসানীই গর্জে ওঠেন। পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসনের দাবিকে কটাক্ষ করলে একই সালে, এ মওলানা ভাসানীই ‘আসসালামু আলাইকুম’ বলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম শুরু করার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত দেন। সোহরাওয়ার্দী ও শেখ মুজিবুর রহমান প্রমুখের মার্কিনপন্থী পররাষ্ট্রনীতি থেকে সরে না আসার প্রতিবাদে ভাসানী আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে ১৯৫৭ সালে গঠন করেন ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি। ১৯৫৮ সালে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী সামরিক শাসন জারি করে দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করলে সামরিক শাসনবিরোধী জাতীয় সংগ্রাম গড়ে তোলার জন্য সবচেয়ে সাহসী ও উদ্যোগী ভূমিকা পালন করেন এই ভাসানী। তারই নেতৃত্বে সূচিত সামরিক শাসনবিরোধী সংগ্রাম ১৯৬৯ সালে এক ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান তৈরি করে সামরিক শাসনের তখতে তাউস কাঁপিয়ে দেয় – যে সংগ্রামের ভেতর দিয়ে উঠে আসে ‘স্বাধীন জনগণতান্ত্রিক পূর্ব পাকিস্তান’ সৃষ্টি করার রাজনৈতিক স্লোগান। ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয়ের পরও পাকিস্তানিরা ক্ষমতা হস্তান্তরে গড়িমসি করলে মওলানা ভাসানী জানুয়ারিতে প্রকাশ্যে স্বাধীনতা সংগ্রামের ডাক দেন এবং পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমঝোতা-সংলাপরত শেখ মুজিবুর রহমানকে আপস করার পরিবর্তে স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্ব দেওয়ার আহবান জানান।

১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রামে তৎকালীন ভারত সরকারের নজরবন্দি থাকা অবস্থায়ও মওলানা ভাসানী আওয়ামী লীগের খন্দকার মোশতাক আহমদপন্থী গ্রুপের আপসবাদী ধারার বিরুদ্ধে সদা তৎপর থাকেন এবং স্বাধীনতাপন্থী নেতৃত্বকে সক্রিয় সহযোগিতা প্রদান করেন। ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পর থেকে ১৯৭৯ সালে জীবনাবসান পর্যন্ত মওলানা ভাসানী এ দেশের নিপীড়িত মানুষের কণ্ঠস্বর হিসেবে সব সরকারের গণবিরোধী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে সংগ্রাম পরিচালনা করেন।

তার দৈহিক জীবনাবসানের মধ্য দিয়ে তার সাম্রাজ্যবাদ ও উপনিবেশবাদবিরোধী ক্ষুরধার গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ধারাটি ভীষণ দুর্বল হয়ে পড়ে। বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে সংহত করার জন্য এবং দেশের অধিকাংশ মানুষের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মুক্তির অসমাপ্ত লড়াইয়ের সাফল্যের জন্য মওলানা ভাসানীর প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক রাজনীতির পুনরুজ্জীবন এখন ভীষণ জরুরি। [● সাপ্তাহিক বুধবার ]

আমাদের সময়, আলোচনা, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, জনকন্ঠ, ডেসটিনি, দিগন্ত, দিনের শেষে, নয়া দিগন্ত, প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ভোরের কাগজ, মানবজমিন, মুক্তমঞ্চ, যায় যায় দিন, যায়যায়দিন, যুগান্তর, সংগ্রাম, সংবাদ,চ্যানেল আই, বাঙ্গালী, বাংলা ভিশন, এনটিভি,এটিএন বাংলা, আরটিভি, দেশ টিভি, বৈশাখী টিভি, একুশে টিভি, প্রবাস, প্রবাসী, ঠিকানা, জাহান হাসান, বাংলা, বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস, লিটল বাংলাদেশ, ইউএসএ, আমেরিকা, অর্থনীতি, প্রেসিডেন্ট ওবামা,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,অর্থ, বাণিজ্য, শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, রাজাকার, আল বদর, Jahan, Hassan, jahanhassan, Ekush, bangla, desh, Share, Market, nrb, non resident, los angeles, new york, ekush tube, ekush info,

দেশে নামে-বেনামে সম্পত্তি, অর্থ, ব্যবসা, জমি, বাড়ি, গাড়ি প্রভৃতি হিসাব করলে প্রকৃত কোটিপতির বহুগুনে বেড়ে যাবে। সম্পদের বৈষম্য বৃদ্ধি, দারিদ্র্য বৃদ্ধি, শ্রম শোষণ যেভাবে চলছে তাতে কোটিপতির সংখ্যা আরো বাড়বে।


দুই বছরে ১০ হাজার কোটিপতি

এম এম মুসা বিগত দুই বছরে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের হিসাবে বাংলাদেশে নতুন প্রায় ১০ হাজার কোটিপতির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। সাড়ে তিন দশকে দেশের ব্যাংকগুলোতে আমানতকারী কোটিপতির সংখ্যা ৫০০ গুণ বেড়েছে। স্বাধীনতার আগে ২২ পরিবার ছিল কোটিপতি, যার মধ্যে ৭ জন ছিলেন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের। ১৯৭৫ সালে বিভিন্ন ব্যাংকে যাদের হিসাব বা একাউন্ট ছিল তাদের মধ্যে কোটিপতি ছিলেন মাত্র ৪৭ জন। ২০০৯ সালের শেষে ওই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩ হাজার ১৩০ জনে। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, চলতি বছর এই সংখ্যা ২৮ হাজার ছাড়িয়ে যাবে। শুধু দেশের সব তফসিলি ব্যাংকে আমানতকারীদের তথ্যের ভিত্তিতে এই তালিকা তৈরি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কেউ অবৈধভাবে বেনামে একাধিক হিসাবে টাকা রাখলে তাদের শনাক্ত করা কঠিন। কাজেই কোটিপতিদের প্রকৃত সংখ্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবের তুলনায় অনেক বেশি। এছাড়া দেশের এমন অনেক কোটিপতি রয়েছে যাদের ব্যাংকে কোটি টাকা নেই কিন্তু কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি রয়েছে। তাদের নাম বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকাশিত তালিকায় স্থান পায়নি। বিশেষজ্ঞগণ বলছেন, দেশে নামে-বেনামে সম্পত্তি, অর্থ, ব্যবসা, জমি, বাড়ি, গাড়ি প্রভৃতি হিসাব করলে প্রকৃত কোটিপতির বহুগুনে বেড়ে যাবে। সম্পদের বৈষম্য বৃদ্ধি, দারিদ্র্য বৃদ্ধি, শ্রম শোষণ যেভাবে চলছে তাতে কোটিপতির সংখ্যা আরো বাড়বে। কোটিপতির তালিকায় শুধু ব্যবসায়ী নয়, সামরিক-বেসামরিক আমলা, রাজনীতিবিদ, শিল্পপতি, জমির মালিকসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ ও তাদের প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর বিভিন্ন ব্যাংকে ২৩ হাজার ১৩০ জন কোটিপতির মোট আমানতের পরিমাণ ছিল এক লাখ ৫৪৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত চারটি বাণিজ্যিক ব্যাংকে আমানতকারী কোটিপতির সংখ্যা পাঁচ হাজার ৬০১ জন। রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোতে এক হাজার ৮৫৪ জন, বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে ১৩ হাজার ৬৭৯ জন ও বিদেশী ব্যাংকগুলোতে এক হাজার ৯৯৬ জন কোটিপতির হিসাব রয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে কোটিপতি গ্রাহকদের আমানতের পরিমাণ ছিল ৩১ হাজার ৬৫৬ কোটি টাকা, রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোতে ছয় হাজার ৯৯৭ কোটি টাকা, বিভিন্ন বেসরকারি ব্যাংকে ৫১ হাজার ৬৩০ কোটি টাকা এবং বিদেশী ব্যাংকে ১০ হাজার ২৬০ কোটি টাকা। কোটিপতি আমানতকারীদের এ সংখ্যা ব্যাংকিং খাতে মোট আমানতকারীর দশমিক ০৬ শতাংশ এবং তাদের আমানতের পরিমাণ মোট আমানতের এক-তৃতীয়াংশ।  ২০০৮ সালে ব্যাংকিং খাতে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা ছিল ১৯ হাজার ১৬৩ জন। তাদের আমানতের পরিমাণ ছিল ৭৭ হাজার ২৩৯ কোটি টাকা। শতকরা হিসাবে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা ছিল ব্যাংকিং খাতে মোট আমানতকারীর দশমিক ০৫ শতাংশ এবং আমানতের পরিমাণ ছিল মোট আমানতের প্রায় ৩১ শতাংশ।

১৯৭৫ সালে বিভিন্ন ব্যাংকের হিসাবধারী ৪৭ জন কোটিপতির মোট আমানতের পরিমাণ ছিল ব্যাংকিং খাতের মোট আমানতের ১০ শতাংশ। ১৯৯০ সালে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৯৪৩ জনে। আর তাঁদের আমানতের পরিমাণ ছিল ব্যাংক খাতের মোট আমানতের ১২ শতাংশ। ১৯৯৬ সালের জুনে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা দাঁড়ায় দুই হাজার ৫৯৪ জনে। তাদের আমানতের পরিমাণ তখন ছিল প্রায় ব্যাংক খাতের মোট আমানতের সাড়ে ২০ শতাংশ। ২০০১ সালের শেষে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা হয় পাঁচ হাজার ৭৯৯ জন। ব্যাংক খাতে তাঁদের অবদান হয় সাড়ে ২২ শতাংশ। ২০০৬ সালের শেষে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা ছিল ১৪ হাজার ৪৯ জন। তাঁদের আমানতের পরিমাণ ছিল ব্যাংক খাতের মোট আমানতের প্রায় সাড়ে ২৭ শতাংশ। আশির দশক পর্যন্ত ব্যাংকগুলোতে মাঝারি ও ক্ষুদ্র আমানতকারীদের একটা বিশেষ অবস্থান ছিল। নববইয়ের দশক থেকে ব্যাংকগুলোতে কোটিপতি আমানতকারীদের আধিপত্য বাড়তে থাকে। নববই দশকে কোটিপতির সংখ্যা সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পায় ‘৯৩-এর মাঝামাঝি থেকে ‘৯৪ সাল পর্যন্ত এবং ‘৯৬-এর মাঝামাঝি থেকে ‘৯৮ সাল পর্যন্ত। এই দুই সময়ে বছরওয়ারি হিসাবে গড়ে কোটিপতির সংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল যথাক্রমে ৫০০ এবং ৩৯৩ শতাংশ।

কোটিপতিরাই বেশি ঋণ নিচ্ছে : সরকারি পরিসংখ্যানে দেখা যায়, কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যার চেয়ে কোটিপতি ঋণ গ্রহীতার সংখ্যা বেশি। বর্তমানে ব্যাংকিং খাতের মোট ঋণ প্রবাহের ৬০ শতাংশেরও বেশি ঋণ কোটিপতিদের দখলে। ব্যাংকিং খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, সাধারণ আমানতকারীদের অধিকাংশই ব্যাংকে টাকা রাখেন সঞ্চয়ের জন্য, অন্যদিকে কোটিপতি গ্রাহকদের ক্ষেত্রে সঞ্চয়ের চেয়ে ঋণ গ্রহণের প্রবণতাই বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী ২০০৯ সালে ব্যাকিং খাতে বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ছিল দুই লাখ ৩৩ হাজার ৪৭৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা। আর ঋণগ্রহীতার সংখ্যা ছিল ৮৭ লাখ ৮৩ হাজার ৫২৩ জন। এর মধ্যে এক কোটি টাকার উপরে ঋণগ্রহীতার সংখ্যা ২৯ হাজার ৪৫৮ জন। তাদের নেওয়া ঋণের পরিমাণ হচ্ছে এক লাখ ৪৪ হাজার ৮৫৫ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। অর্থাৎ মাত্র দশমিক ৩৪ শতাংশ আমানতকারী মোট ঋণপ্রবাহের ৬২ শতাংশের বেশি নিয়ন্ত্রণ করছেন। ২০০৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর কোটিপতি ঋণ গ্রহীতার সংখ্যা ছিল ২৫ হাজার ২০৬ জন এবং গৃহীত ঋণের পরিমাণ ছিল মোট ঋণ প্রবাহের সাড়ে ৬২ শতাংশ। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে কোটিপতি ঋণগ্রহীতার সংখ্যা বেড়েছে চার হাজার ২৫২ জন। ২০০৭ সালে কোটিপতি ঋণ গ্রহীতার সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ২১ হাজার ২১৫ জন এবং গৃহীত ঋণের পরিমাণ ছিল মোট ঋণ প্রবাহের সাড়ে ৬০ শতাংশ। উল্লেখ্য, ১৯৭৫ সালে দেশে এক কোটি টাকার অধিক ঋণ গ্রহীতার সংখ্যা ছিল মাত্র ২১২ জন। ‘৯০ সালে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২ হাজার ১২৫ জনে এবং  গৃহীত ঋণের পরিমাণ ছিল মোট ঋণ প্রবাহের ৩৮ শতাংশ। জুন ‘৯৬ ও ২০০১ সালের শেষে মোট কোটিপতি ঋণ গ্রহীতার সংখ্যা দাঁড়ায় যথাক্রমে চার হাজার ৫২৬ জন এবং ৮ হাজার ৮৪৪ জন। আর আলোচ্য দুই বছরে গৃহীত ঋণের পরিমাণ ছিল মোট ঋণ প্রবাহের যথাক্রমে ৪৪ শতাংশ এবং প্রায় ৫২ শতাংশ।

সম্পদের বৈষম্য বৃদ্ধি : বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ ২০০৫ সালে পরিচালিত জরিপের তথ্যানুযায়ী ২০০০ সালে দেশের সর্বনিম্ন ৫ শতাংশ চরম দারিদ্র্যপীড়িত মানুষের আয় ছিল মোট জাতীয় আয়ের দশমিক ৯৩ শতাংশ। ২০০৫ সালে এই আয় দাঁড়ায় দশমিক ৭৭ শতাংশ। এর বিপরীতে ২০০৫ সালে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ ধনী পরিবারের আয় মোট জাতীয় আয়ের ২৬ দশমিক ৯৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। সবচেয়ে দরিদ্র ২০ শতাংশ মানুষ দেশের মোট আয়ের মাত্র ৯ শতাংশ ভোগের সুযোগ পাচ্ছে। অথচ সবচেয়ে ধনী ২০ শতাংশ মানুষ ভোগ করছে ৪৬ শতাংশ। ১৯৯৫ সালে দেশে শীর্ষ ৫ শতাংশ ধনী ও সর্বনিম্ন ৫ শতাংশ দরিদ্রের আয়ের ব্যবধান ছিল ২৭ অনুপাত ১। ২০০০ সালে এই ব্যবধান দ্বিগুণ বেড়ে হয়েছে ৪৭ অনুপাত ১। ২০০৪ সালে পরিচালিত সরকারি পরিসংখ্যান ব্যুরোর দারিদ্র্যসংক্রান্ত এক জরিপে দেখা যায়, ১৯৯৯ সালে এদেশে ধনী ও গরিবের ভেতর সাধারণভাবে বৈষম্য ছিল ২০ গুণ। ২০০৪ সালে এ বৈষম্য বেড়ে ২৪ দশমিক ৫ গুণ হয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী ১৯৯৯ সালে মোট জাতীয় আয়ের ১ দশমিক ৭ শতাংশ পৌঁছেছিল দেশের সবচেয়ে দরিদ্র্য ১০ ভাগ জনগোষ্ঠীর কাছে। অন্যদিকে সবচেয়ে ধনী ১০ ভাগ জনগোষ্ঠীর করায়ত্ত হয়েছিল মোট জাতীয় আয়ের ৩৩ দশমিক ৯ শতাংশ। ২০০৫ সালে এই বৈষম্য আরো বেড়ে সবচেয়ে ধনী ১০ ভাগ জনগোষ্ঠীর কাছে কেন্দ্রীভূত হয় মোট জাতীয় আয়ের ৩৭ দশমিক ৬৪ শতাংশ। আর সবচেয়ে গরিব ১০ ভাগ জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে মোট জাতীয় আয়ের মাত্র
২ শতাংশ। বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রকাশিত বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষায় বৈষম্য বৃদ্ধির কথা স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে। বেসরকারি এক গবেষণায় দেখা গেছে, ১৯৭২ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত উচ্চতম ও ন্যূনতম আয়ের অনুপাত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১-এর বিপরীতে ৪০০। গত ১২ বছরে এই অনুপাত আরো বেড়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞগণ।

বাড়ছে দারিদ্র্য : কোটিপতির সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে হতদরিদ্রে্যর সংখ্যা। দারিদ্র্যবিমোচন কৌশলপত্র, সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি, সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী, এনজিও কার্যক্রম, পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনাসহ বহুবিধ পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হলেও দারিদ্র্য ও বৈষম্য হ্রাসে ফলাফল শূন্য। জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিভাগ থেকে প্রকাশিত ‘বৈশ্বিক সামাজিক অবস্থা ২০১০’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে ১৯৯০ সালে দৈনিক এক ডলার ২৫ সেন্ট অর্থাৎ ৪৪ টাকার নিচে আয় করে এমন জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ছিল ৪৯ দশমিক ৯ শতাংশ অর্থাৎ ১১ কোটি জনসংখ্যার ৫ কোটি ৪৮ লাখ ৯০ হাজার লোকই দরিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে। ২০০৫ সালে এক ডলার ২৫ সেন্ট অর্থাৎ ৮৩ টাকার নিচে আয় করে এমন জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৫০ দশমিক ৫ শতাংশ অর্থাৎ ১৩ কোটি ৭৮ লাখ জনগণের ৬ কোটি ৯৬ লাখই দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে। বাজারভিত্তিক দারিদ্র্যবিমোচনের চেষ্টা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে বলে স্বীকার করেছে জাতিসংঘ। বাংলাদেশ ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ এক গবেষণায়ও দেখা গেছে, দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসরত জনগোষ্ঠীর পরিমাণ ৪০ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তবে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা উন্নয়ন সমুন্নয় বলছে, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে গত এক বছরে ৬২ লাখ লোক নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছে। এ সময় এই সংখ্যা সাড়ে চার শতাংশ বেড়ে দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসরত জনগোষ্ঠীর পরিমাণ ৪৫ দশমিক ৮৬ শতাংশে পৌঁছেছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এবং বাংলাদেশের গবেষণা সংস্থা সিপিডির এক গবেষণায় দেখা যায়, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে ২০০৭-০৮ এই দুই বছরে ৪০ লাখ মানুষ দরিদ্র্যসীমার নিচে নেমেছে। চলতি বছর বাংলাদেশ ব্যাংকের বার্ষিক প্রতিবেদন এবং জাতিসংঘে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, আগামী বছর অর্থাৎ ২০১১ সালে দরিদ্রের সংখ্যা আরো বাড়বে। বাংলাদেশে দরিদ্র পরিস্থিতির হালনাগাদ কোনো তথ্য নেই। এখন পর্যন্ত সরকারি যেসব তথ্য পাওয়া যায় তার সবই ২০০৫ সালের খানাজরিপের তথ্যউপাত্তের ভিত্তিতে প্রণীত। অন্যদিকে ২০০৫ সালের খানাজরিপ ২০০১ সালের সংগ্রহিত তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি। ২০০৫ সালে সরকারি পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য মতে, দেশের দৈনিক মাথাপিছু ২ হাজার ১২২ কিলোক্যালরির কম খাদ্য গ্রহণ করে মোট জনসংখ্যার ৪০ শতাংশ। বাংলাদেশে এদেরকে দারিদ্রসীমার নিচে বসবাসকারী হিসাবে ধরা হয়। ২০০৫ সালের জনসংখ্যা অনুযায়ী ৫ কোটি ৬০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাসবাস করছে। দারিদ্র্য পরিমাপের সবচেয়ে উন্নত পদ্ধতি হলো মৌলিক চাহিদার ব্যয় পদ্ধতি অনুসারে দেশের মোট জনগোষ্ঠীর ৪০ শতাংশ দারিদ্র্য। আর ২৫ দশমিক ১০ শতাংশ হলো চরমভাবে দরিদ্র। শহরবাসী জনগোষ্ঠীর সাড়ে ১৪ শতাংশ এবং গ্রামে ২৮ দশমিক ৬০ শতাংশ চরম দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে। বিশ্ব খাদ্য সংস্থার কর্মকর্তাদের মতে, বাংলাদেশে প্রতি মিনিটে ৪ জন শিশু জন্মগ্রহণ করে এবং তাদের মধ্যে একজন হতদরিদ্র। দেশের ১৫ কোটি মানুষের মধ্যে ৩ কোটি খাদ্য ও পুষ্টির অভাবে ভুগছে। তারা ‘চরম দরিদ্র’ বাংলাদেশে প্রতিদিন ২০০ শিশু অপুষ্টিতে মারা যায় আর ২ কোটি ৮০ লাখ লোক প্রয়োজনীয় খাবার সংগ্রহ করতে পারে না।

বাড়ছে মজুরি বৈষম্য : চরম মজুরি বৈষম্যের কারণে কোটিপতির সংখ্যা বাড়ছে, বাড়ছে বৈষম্য। সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের আয় বৈষম্য চরম আকার ধারণ করেছে। ২০০৯ সালে ঘোষিত সপ্তম জাতীয় বেতন কাঠামো অনুযায়ী সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন পার্থক্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫ হাজার ৯০০ টাকা। যা অতীতের যেকোন সময়ের চেয়ে সর্বোচ্চ। ২০০৫ সালে ঘোষিত ষষ্ঠ বেতন কাঠামো অনুযায়ী সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনভোগী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতনের পার্থক্য ছিল ২০ হাজার ৬০০ টাকা। আয় বৈষম্য সরকারি খাতের চেয়ে বেসরকারি খাতে আরো প্রকট। গার্মেন্টস খাতে একজন শ্রমিকের ন্যূনতম মজুরি ১ হাজার ৬৬০ টাকা। অথচ বেসরকারি ব্যাংক বা কোম্পানিতে কর্মরত একজন মহাব্যবস্থাপকের বেতন ১০ থেকে ৩০ লাখ টাকার বেশি। এখানে আয়বৈষম্য হাজার নয়, লাখ টাকা।

দারিদ্র্য হ্রাসে নিম্ন বরাদ্দ : দারিদ্র্য না কমলেও প্রতিবছরই দারিদ্র্যবিমোচন খাতে ব্যয় বাড়ছে, যদিও তা প্রয়োজনের তুলনায় সামান্য। ২০১০-১১ অর্থবছরে দারিদ্র্যবিমোচন খাতে সরকারি বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৭৬ হাজার কোটি টাকা। সরকারি হিসাবের সাড়ে ছয় কোটি দরিদ্র জনগণের দৈনিক মাথাপিছু বরাদ্দ দাঁড়ায় মাত্র ৩২ টাকা। এর মধ্যে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, দলীয় প্রভাব প্রভৃতির কারণে প্রকৃত ব্যক্তিরা প্রদত্ত সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়ে যাচ্ছে। ২০০৯-১০ অর্থবছরে এই খাতে খরচ হয়েছে ৬১ হাজার ৮০৮ কোটি টাকা। বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমডিজির অন্যতম লক্ষ্য দারিদ্র্যবিমোচন করতে হলে বাংলাদেশকে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচিতে বছরে রাষ্ট্রীয় ব্যয়ের ৩৫ শতাংশ অর্থ ব্যয় করতে হবে। বর্তমানে ব্যয় হচ্ছে মাত্র ৫ শতাংশ অর্থ। অপরদিকে চার বছরের ব্যবধানে উন্নয়ন খাতে ব্যয় ৪ দশমিক ৬৮ থেকে ৪ দশমিক ৫ শতাংশে কমেছে। অনুন্নয়ন খাতে বেড়েছে ৮ দশমিক ৮১ থেকে ১১ দশমিক ১ শতাংশ। রাজস্ব ঘাটতি মেটাতে বৈদেশিক ঋণনির্ভরতা বাড়ছে। মাথাপিছু বৈদেশিক ঋণের স্থিতি এরই মধ্যে ১২ হাজার টাকা ছাড়িয়েছে। ঋণ পরিশোধে বাজেটের বিপুল অংশ ব্যয় দারিদ্র্য হ্রাসে বরাদ্দ বাড়াতে নেতিবাচক ভূমিকা রাখছে।

ন্যূনতম ক্যালোরি গ্রহণ : ২০০৯ সালে পরিচালিত সরকারি এক গবেষণায় দেখা যায়, দেশে বসবাসরত ৩৯ দশমিক ৮০ শতাংশ অর্থাৎ ৬ কোটি ৩৭ লাখ মানুষের জীবনে নির্ধারিত ন্যূনতম খাদ্যনিরাপত্তা অনুপস্থিত। খাদ্যনিরাপত্তাহীনতার শিকার এসব মানুষের ৫৪ দশমিক ৩ শতাংশ অর্থাৎ ৮ কোটি ৬৯ লাখ অনাহার ও অর্ধাহারে দিন অতিবাহিত করে। ১৪ হাজার পরিবারের ওপর পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, ৮০ দশমিক ৮ শতাংশ পরিবারের ক্ষেত্রে খাদ্যনিরাপত্তার সংকট একটি দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা। এদের ৫৯ দশমিক ৬ শতাংশ নিম্নমাত্রার আয়কে তাদের খাদ্য সংকটের প্রধান কারণ হিসাবে চিহ্নিত করেছে।

জাতীয় মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি ও বৈষম্য : ১৯৭৩ সালে মাথাপিছু গড় আয় ছিল ১১০ ডলার। ২০০৯ সময়কালে মাথাপিছু গড় আয় বেড়ে হয়েছে ৭০০ ডলার, দৈনিক মাথাপিছু আয় দাঁড়ায় ১ ডলার ৯২ সেন্ট। অন্য দিকে জাতিসংঘ বলছে, দেশের ৫০ শতাংশ অর্থাৎ ৮ কোটি ২৫ লাখ লোকের দৈনিক মাথাপিছু আয় ১ ডলার ২৫ সেন্টের নিচে। কোটিপতির সংখ্যা এবং তাদের আয় বৃদ্ধির কারণেই জাতীয় আয় বাড়ছে। বৈষম্য হ্রাসে রাষ্ট্রের অস্পৃহা কোটিপতির সংখ্যা বৃদ্ধিতে সহায়তা করলেও দারিদ্র্য ও আয় বৈষম্য হ্রাসে কোনো ভূমিকাই পালন করেছে না।

বেকারত্ব : দ্য চ্যালেঞ্জ বইয়ে মালয়েশিয়ার সাবেক রাষ্ট্রপতি মাহাথির মোহাম্মদ লিখেছেন, একজন ব্যক্তি যদি নিয়মিত কাজ করেন তবে তার পক্ষে গরিব হওয়া কখনো সম্ভব নয়। এর আয় বাড়বেই। বেকারত্ব বৃদ্ধি বৈষম্য বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে। জাতিসংঘের পরিসংখ্যান অনুযায়ী বর্তমানে দেশে প্রায় তিন কোটি লোক বেকার। ১৯৮১ সালে দেশে বেকারের সংখ্যা ছিল ১ কোটি ৩০ লাখ। বিগত ২০০৬-০৭ অর্থবছরে পিআরএসপিতে ৩০ লাখ ৬০ হাজার নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে মাত্র ৮ লাখ ৬০ হাজার। এর আগে ২০০৫-০৬ অর্থবছরে পিআরএসপিতে ২৭ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে মাত্র ৮ লাখ ৬০ হাজার নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছিল।

কোটিপতি ও ব্যবসায়ীদের সংসদ : নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত ৩০০ সংসদ সদস্যের মধ্যে প্রায় ৪৪ শতাংশ অর্থাৎ ১২৮ জনই কোটিপতি। সংসদ সদস্যদের ঘোষণা অনুযায়ী ১০ কোটি টাকার বেশি সম্পদ আছে ২১ জনের। সুজন পরিচালিত এক গবেষণায় এই তথ্য পাওয়া যায়। হলফনামার চেয়ে বাস্তবে সম্পদের পরিমাণ বেশি, সম্পদের বর্ণনা দেওয়া আছে কিন্তু মূল্য উল্লেখ নেই, সেগুলো গণনা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এগুলোর মূল্য যোগ করা হলে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের তালিকায় কোটিপতির সংখ্যা আরো বাড়বে বলে মনে করে সংস্থাটি। ‘সুজন’ নেতৃবৃন্দরা ২০০৯ সালে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে কোটিপতির সংখ্যা যে হারে বাড়ছে তাতে জাতীয় সংসদ ‘কোটিপতিদের ক্লাবে’ পরিণত হবে, যা হবে প্রতিনিধিত্বশীল গণতান্ত্রিক ধারণার পরিপন্থী। বেসরকারি এক গবেষণায় দেখা যায়, ১৯৫৪ সাল থেকে বর্তমান জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত সংসদ সদস্যের মধ্যে আনুপাতিক হারে ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণ বাড়ছে, কমছে প্রকৃত রাজনীতিবিদের সংখ্যা। ১৯৫৪ সালের সংসদ নির্বাচনে ব্যবসায়ী ও শিল্পপতির সংখ্যা ছিল মাত্র ১১ জন, মোট সংসদ সদস্যের মাত্র ৪ শতাংশ। ১৯৭৩ সালে সেই হার বেড়ে ২৪ শতাংশ এবং ১৯৯১ সালে ৫৯ শতাংশ হয়। ১৯৯১ সালে ৩০০ সংসদ সদস্যের মধ্যে ১৭৭ জনই ছিল ব্যবসায়ী, শিল্পপতি ও সরকারি চাকরি থেকে অবসরপ্রাপ্ত। ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাত্র ১০ জন পেশাদার রাজনীতিবিদ, ১৯ জন কৃষিজীবী, ৪৪ জন আইনজীবী ও ১৬৯ জন ব্যবসায়ী নির্বাচিত হয়েছেন।

দুর্নীতি : কোটিপতির সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধির পেছনে দুর্নীতির বড় ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেজ্ঞগণ। বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ। বিগত সময়ে বাংলাদেশ পর পর ৫ বছর দুর্নীতিতে শীর্ষস্থান অধিকারী দেশ হিসাবে পরিগণিত হয়েছিল। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী বিশ্বে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান গত বছরের তুলনায় বেড়ে ১২তম হয়েছে।

কর ফাঁকি : দ্য চ্যালেঞ্জ বইয়ে মালয়েশিয়ার সাবেক রাষ্ট্রপতি মাহাথির মোহাম্মদ লিখেছেন, রাষ্ট্রের বিকাশ ও বৈষম্য দূরীকরণ নির্ভর করে সঠিক কর ব্যবস্থার ওপর। বাংলাদেশে সেই কর ব্যবস্থাই নানামুখী সমস্যায় জর্জরিত। বাংলাদেশের কোটিপতির সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়িয়ে গেলেও আয়করে তার কোনো প্রভাবই পড়েনি। বাংলাদেশের কর ব্যবস্থায় মোট করে ভ্যাটের অবদান সবচেয়ে বেশি এরপর আমদানি শুল্ক। বেসরকারি খাতে পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা যায়, কোটিপতি ও ধনী শ্রেণীর মানুষের মধ্যে কর ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা বেশি দেখা যায়। পক্ষান্তরে মধ্যবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত ও দরিদ্র শ্রেণীর মধ্যে কর ফাঁকির প্রবণতা তুলনামূলক কম। কানাডা, সুইডেন, নরওয়েসহ অন্যান্য জনকল্যাণমুখী অর্থনীতির দেশগুলোতে মোট রাজস্ব আয়ে আয়করের অবদান ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ। অন্যদিকে বাংলাদেশের মোট রাজস্ব আয়ে আয় করের অবদান মাত্র ২৩ শতাংশ অথচ ভ্যাটের অবদান ৪১ শতাংশ (২০০৯)।

শেষ কথা :
পরিসংখ্যান বলছে, দেশের কোটিপতির সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে রাষ্ট্রের সম্পদ কেন্দ্রীভবন হচ্ছে, বাড়ছে আরো দারিদ্র্য ও বৈষম্য। শরীরের একটি অঙ্গ শক্তিশালী এবং বাকিগুলো শক্তিহীন হলে যেমন কোনো কাজেই আসে না, তেমনি সমাজে দারিদ্র্য বৃদ্ধি অব্যাহত রেখে কোটিপতি বৃদ্ধি, মাথাপিছু আয়ের উন্নয়ন কোনো কার্যকর অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাপকাঠি হতে পারে না। [ এম এম মুসা ● সাপ্তাহিক বুধবার musamiah@gmail.com ]

দ্য ইকনোমিস্টের দৃষ্টিতে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতি


দ্য ইকনোমিস্টের দৃষ্টিতে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতি
Bangladesh
Politics of hate
An ancient vendetta continues to eat away at public life << Original Link

আন্তর্জাতিক প্রভাবশালী সাময়িকী দ্য ইকনোমিস্টের ২০ নভেম্বর সংখ্যায় বাংলাদেশের বৈরিতার রাজনীতি নিয়ে প্রকাশিত বিশ্লেষণধর্মী নিবন্ধটির অনুবাদ

Hartal

Hartal

সেনাবাহিনীর দুর্যোগময় অন্তর্বর্তীকালীন ব্যর্থ শাসন ও দেশের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক শাসকপরিবারের নেতারা জেল থেকে মুক্ত হওয়ার দুই বছর পর বাংলাদেশ পুনরায় ঘৃণা ও সংঘাতের রাজনীতির আবর্তে ঘূর্ণায়মান। এর জন্য মূলত দুই নেতার একজন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অন্যজন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত প্রতিহিংসাই দায়ী।

বেগম জিয়া ১৩ নভেম্বর ঢাকায় ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় যে বাড়িতে প্রায় ৩২ বছর ধরে বাস করে আসছিলেন তা থেকে উচ্ছেদ হন। এ পদক্ষেপ একটি হরতালের জন্ম দেয়। এটা ছিল বেগম জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিরোধী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ডাকা প্রতিবাদের রূপ। এতে তার বিএনপি ও শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগের সমর্থকদের মধ্যে সহিংসতার ঘটনা ঘটে। দেশটির তৃতীয় রাজনৈতিক শক্তি সেনাবাহিনী হাইকোর্টের উচ্ছেদ আদেশ কার্যকরে সহায়তা করে। বেগম জিয়ার বাড়ির চারপাশের বিশাল এলাকা নির্বাচনে তার দল আওয়ামী লীগ ক্ষমতা গ্রহণের পর পর গত বছরের প্রথম দিকে (বিডিআর) বিদ্রোহে নিহত ৫৭ জন সামরিক কর্মকর্তার পরিবারের আবাসনের জন্য বরাদ্দের ঘোষণা দেন শেখ হাসিনা এবং এটি তার একটি কূটচাল।

উচ্ছেদ কার্যক্রম হচ্ছে বিএনপির মেরুদন্ড ভেঙে দেওয়ার জন্য (আওয়ামী) লীগের মিশনের অংশ। এটা হচ্ছে বেগম জিয়ার মরহুম স্বামী ও ১৯৭১ সালে পশ্চিম পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের নায়ক জেনারেল জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠিত বংশানুক্রমিক রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ইতিহাস থেকে মুছে দেওয়ার আবিষ্টতাজাত।

ফেব্রুয়ারিতে সরকার ঢাকার জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম বদলে একজন শ্রদ্ধেয় সুফিসাধকের নামে রাখে। (সরকার) ১৯৭২ সালের সংবিধান ‘পুনর্মুদ্রণের’ সিদ্ধান্তও নিয়েছে জুলাইয়ে সুপ্রিম কোর্টের একটি যুগসন্ধিক্ষণমূলক রুলিংয়ের আলোকে, যাতে অন্যান্য নানা বিষয়ের সঙ্গে ১৯৭৫ সালে শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকান্ডের পর জেনারেল জিয়াসহ সব সামরিক শাসনকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়। এদিকে অক্টোবরে একটি আদালত বেগম জিয়ার ছোট ছেলের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে।

সেনাসমর্থিত অন্তর্বর্তীকালীন শাসনের সময় বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা চারটি দুর্নীতি মামলা রয়েছে। অন্যদিকে একই সময়ে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের করা ১৩টি দুর্নীতি মামলা বর্তমান সরকারের আমলে তুলে নেওয়া হয়েছে। এমনকি সাম্প্রতিক এ আক্রমণের আগ থেকেই বিএনপি ধুকে ধুকে চলছিল। ৩০০ আসনের জাতীয় সংসদে দলটির মাত্র ৩০টি আসন রয়েছে। তারা এই জাতীয় সংসদও বয়কট করে চলছে। এটা এখন বিভক্ত। বেগম জিয়ার পক্ষে এখন সংখ্যালঘু সংখ্যার সমর্থন রয়েছে। এদিকে বিএনপির প্রধান সহযোগী বাংলাদেশের বৃহত্তম ইসলামি দল জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা জেলে রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে রয়েছে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের সময়কালের অপরাধের অভিযোগ এবং তারা এখন সম্ভাব্য শাস্তির সামনে। সাবেক একজন প্রধানমন্ত্রী এবং বেগম জিয়ার কৌঁসুলি মওদুদ আহমদ বলেন, এ জোট বিএনপির সুনাম, বিশেষ করে আন্তর্জাতিকভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে। কিন্তু তার পরও বিএনপির প্রয়োজন রয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী সমর্থনের।

economist.com

economist.com

বেগম জিয়ার সামনে একমাত্র আশা যে দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, বিদ্যুৎ সংকট এবং শেখ হাসিনার সরকারের সর্বগ্রাসী পুঁজিবাদী শাসন যা বেগম জিয়ার শাসনামলও (২০০১-০৬) ছাড়িয়ে গেছে তাতে জনগণ বীতশ্রদ্ধ ও হতাশ। সরকারের প্রতি জনগণের যে নির্ভরতা ছিল তাতে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। বেগম জিয়া মনে করছেন, একসময় গণজোয়ার তার বড় ছেলে ও সম্ভাব্য উত্তরাধিকারী তারেক রহমান (যিনি এখন ব্রিটেনে নির্বাসনে রয়েছেন) এর পক্ষে ধাবিত হবে। যদিও তারেক রহমান সেনা হেফাজতে থাকাকালে ভাঙা মেরুদন্ড নিয়ে ২০০৮ সালে দেশত্যাগ করেন এবং তিনি বেগম জিয়ার শাসনামলের দুর্নীতির প্রতীক। এমনকি তিনি বিএনপি নেতাদেরও অনেকেরই অপছন্দের মানুষ।

ইতোমধ্যে শেখ হাসিনার প্রতিহিংসা ভারতীয় সরকারের সমর্থন লাভ করেছে। (এই সরকারের আমলে) বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। বেগম জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের শাসনের সমাপ্তি, ভারতের চোখে তার জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত। ভারত মনে করে, তার পরিবার ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অনধিকার হস্তক্ষেপ করে চলেছে। এই মাসে তারেক রহমানের ডান হাত বলে কথিত এক ব্যক্তি তদন্তকারীদের বলেছেন, ঢাকায় পাকিস্তানি দূতাবাস ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অসমিয়া জাতিসত্তার জন্য স্বাধীনতার লক্ষ্যে যুদ্ধরত সশস্ত্র গ্রুপ ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অব অসম (উলফা) বিএনপি (এ ক্ষেত্রে তারেক রহমান) ও তাদের সহযোগী বাংলাদেশী অদৃশ্য এক গোষ্ঠীকে এক কোটি ডলার প্রদান করেছে ভারতীয় সশস্ত্র গ্রুপের জন্য ১০ ট্রাক অস্ত্র গোপনে পাচার করতে।

100 injured in hartal clashes

100 injured in hartal clashes

পশ্চিমা সরকারগুলোও তারেক রহমানের ফিরে আসার বিরোধিতা করে। তারা সূক্ষ্ম ঘোমটায় টানা ২০০৭ সালের জানুয়ারির সেনা অভ্যুত্থানকে (যা বিএনপির নির্বাচনী ফলাফল ছিনিয়ে নেওয়া প্রতিহত করে বলে তারা মনে করে) সমর্থন করে। এই অভ্যুত্থান সাবেক বিএনপি সরকারকে ঘিরে যে ইসলামিক চরমপন্থী ছোট ছোট গ্রুপ গড়ে উঠেছিল তাদের ওপরও আক্রমণ করে। আওয়ামী লীগের নীতির কেন্দ্রীয় কৌশল হচ্ছে এই আক্রমণ চলমান রাখা।

সরকারের জনপ্রিয়তা কমতে থাকা সত্ত্বেও শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠজনেরা খালেদা জিয়ার ব্যাপারে নমনীয় নন যা বেগম জিয়াকে হ্রস্ব করে। এমন একটি পরিস্থিতিতে প্রায় চার দশকের পুরনো ব্যক্তিগত আক্রোশের কারণে সৃষ্ট বিভেদের রাজনীতিতে (আওয়ামী) লীগ কী করে নিজেকে সংশ্লিষ্ট রাখতে পারে সেটাই দেখার বিষয়। এখন তাদের সময় এসেছে শাসনকাজে মন দেওয়ার। [সাপ্তাহিক বুধবারে প্রকাশিত]

আমাদের সময়, আলোচনা, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, জনকন্ঠ, ডেসটিনি, দিগন্ত, দিনের শেষে, নয়া দিগন্ত, প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ভোরের কাগজ, মানবজমিন, মুক্তমঞ্চ, যায় যায় দিন, যায়যায়দিন, যুগান্তর, সংগ্রাম, সংবাদ,চ্যানেল আই, বাঙ্গালী, বাংলা ভিশন, এনটিভি,এটিএন বাংলা, আরটিভি, দেশ টিভি, বৈশাখী টিভি, একুশে টিভি, প্রবাস, প্রবাসী, ঠিকানা, জাহান হাসান, বাংলা, বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস, লিটল বাংলাদেশ, ইউএসএ, আমেরিকা, অর্থনীতি, প্রেসিডেন্ট ওবামা,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,অর্থ, বাণিজ্য, শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, রাজাকার, আল বদর, সুখ, টেলিভিশন, বসন্ত উৎসব, Jahan, Hassan, jahanhassan, Ekush, bangla, desh, Share, Market, nrb, non resident, los angeles, new york, ekush tube, ekush.info,

বাপা-বেন সম্মেলনের উদ্দেশ্য হচ্ছে বাংলাদেশের নগরায়ন নীতি প্রণয়নে স্ববাসী ও প্রবাসী নাগরিকদের অংশগ্রহণকে নিশ্চিত করা। বর্তমানে শুধুমাত্র টেকনোক্র্যাট ও আমলারাই জনসাধারণের দৃষ্টির অন্তরালে ও বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী মহলের চাপ দ্বারা প্রভাবান্বিত হয়ে এই সমস্ত নীতি প্রণয়ন করে থাকেন। নিউ ইয়র্কে নগরায়ন, যানজট ও পরিবেশের ওপর বেনের সেমিনার


নিউ ইয়র্কে নগরায়ন, যানজট ও পরিবেশের ওপর বেনের সেমিনার
পড়শী প্রতিনিধি

সেমিনারের প্রথম আলোচক ছিলেন রাজিয়া নাজমি, যিনি তার সাও পাওলো শহরের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন

সেমিনারের প্রথম আলোচক ছিলেন রাজিয়া নাজমি, যিনি তার সাও পাওলো শহরের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন

গত ১০ই অক্টোবর, ২০১০ বেন (বাংলাদেশ এনভায়রনমেন্ট নেটয়ার্ক) নিউ ইয়র্ক, নিউ জার্সি, ও কানেকটিকাট শাখার উদ্যোগে “নগরায়ন, যান-জট ও পরিবেশ” শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। বেনের এই তিন-রাজ্য শাখার সমন্বয়কারী তওফিক চৌধুরী সভাটি শুরু করেন ও বেনের বিশ্ব সমন্বয়কারী ড. নজরুল ইসলামকে সভাপতিত্ব করতে আহ্ববান জানান। ড. ইসলাম বলেন যে নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারটি বেন ও বাপা কর্তৃক আয়োজিত আগামী ৮-ই জানুয়ারী , ২০১১ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য “নগরায়ন, যানজট ও পরিবেশ” শীর্ষক সম্মেলনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আয়োজিত হয়েছে। ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য দুটি। প্রথমটি হচ্ছে যানজট ও নগরায়নের অন্যান্য সমস্যাকে বাংলাদেশের জাতীয় উন্নয়ন কৌশলের বিভিন্ন অনভিপ্রেত বৈশিষ্টের প্রেক্ষাপটে বিচার করে একটি সামগ্রিক ও সুষম নগরায়ন নীতি প্রণয়ন করা। এ প্রসংগে তিনি বলেন, যানজট নিরসনে এখন পর্যন্ত যে সব পদক্ষেপ গ্রহণ অথবা গ্রহণের চিন্তা করা হয়েছে, তাদের দুটি ভাগে ভাগ করা যায়। প্রথমটি হচ্ছে “সাময়িক উপশম” মূলক বিভিন্ন ব্যবস্থা,যেমন ট্র্যাফিক নীতির পরিবর্তন, ইত্যাদি। অন্যটি হচ্ছে উড়াল-সড়ক বা পাতাল রেল, ইত্যাদি বিভিন্ন নতুন অবকাঠামোর নির্মাণ। এই উভয়বিধ পদক্ষেপই হয়তো প্রয়োজন, যদিও অবকাঠামো নির্মাণমূলক প্রকল্পগুলির যথাযথ নিরীক্ষার প্রয়োজন। কিন্তু বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতার আলোকে স্পষ্ট যে, দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন কৌশলের পরিবর্তন না হলে শুধু এই দুই ধরণের পদক্ষেপ দ্বারা যানজট সমস্যার স্থায়ী ও প্রকৃত সমাধান অর্জিত হবে না।

ড. ইসলাম জানা যে, জানুয়ারীতে অনুষ্ঠিতব্য বাপা-বেন সম্মেলনের দ্বিতীয় উদ্দেশ্য হচ্ছে বাংলাদেশের নগরায়ন নীতি প্রণয়নে স্ববাসী ও প্রবাসী নাগরিকদের অংশগ্রহণকে নিশ্চিত করা। বর্তমানে শুধুমাত্র টেকনোক্র্যাট ও আমলারাই জনসাধারণের দৃষ্টির অন্তরালে ও বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী মহলের চাপ দ্বারা প্রভাবান্বিত হয়ে এই সমস্ত নীতি প্রণয়ন করে থাকেন। ড. ইসলাম প্রবাসীদেরকে এই সম্মেলনের সুযোগ নিয়ে বাংলাদেশের নগরায়ন কৌশল নীতি প্রণয়নে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করার জন্য আহ্ববান জানান।

নগরায়ন, যান-জট ও পরিবেশ” শীর্ষক একটি সেমিনার

নগরায়ন, যান-জট ও পরিবেশ” শীর্ষক একটি সেমিনারে অতিথিবৃন্দ

সেমিনারের প্রথম আলোচক ছিলেন রাজিয়া নাজমি, যিনি তার সাও পাওলো শহরের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন। সাও পাওলো শহর মেক্সিকো সিটির উদাহরণ অনুযায়ী একটা চক্রাকার ব্যবস্থার প্রবর্তন করে যার অধীনে “রাশ আওয়ারের” সময় গাড়ির লাইসেন্স নম্বর অনুযায়ী শহরের কিছু অংশে গাড়ির গতিবিধি নিয়ন্ত্রিত হয়। ১৯৯৭ সালে প্রবর্তিত এই পদ্ধতি শুরুতে শহরের যানজট ১৮% কমিয়ে দেয়। সাথে সাথে সাও পাওলো সাইকেল ট্রাফিকের জন্য অবকাঠামো নির্মান শুরু করে। রাজিয়া নাজমি বলেন, গণ-পরিবহন ব্যবস্থা সৃষ্টির পাশাপাশি ঢাকায় হাঁটার জন্য ভাল ফুটপাথ, সাইকেলের জন্য পথ ও বিশেষ রিক্সা এলাকা সৃষ্টির প্রয়োজন, এবং এই কাজটা সাধারণ নাগরিকদের সহযোগিতায় সরকার করতে পারে।

পরবর্তী আলোচক ছিলেন ড. আদনান মোর্শেদ যিনি আন্তর্জাতিক নগরায়ন অভিজ্ঞতার আলোকে ঢাকা শহরের সমস্যাগুলি তুলে ধরেন। তিনি বলেন সফল নগরায়ন তখনই সম্ভব যখন বিভিন্ন ধরণের পরিবহন ব্যবস্থার প্রবর্তন করা হয়। বাংলাদেশ নগরায়ন সমস্যার এই সন্ধিক্ষণকে ব্যবহার করে একটা দক্ষ, সুষম ও উপযুক্ত গণ-পরিবহন ব্যবস্থার প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে পারে। ফুটপাথ, সাইকেল পথ ও পানি পথকে সর্বোচ্চ ও উপযুক্তভাবে ব্যবহার করে নগরায়নের সুন্দর অগ্রগতি সম্ভব। তিনি জানান যে, সফল নগরায়নের জন্য ছয়টি বিষয়ের সম্মিলন প্রয়োজন। ড. মোর্শেদ তাঁর যুক্তি শিক্ষণীয় ও চমকপ্রদ স্লাইডের মাধ্যমে উপস্থাপিত করেন।

প্রফেসর রওনক জাহান বলেন, উন্নত নগরায়নের প্রকল্পগুলিকে স্বার্থান্বেষী মহলের মোকাবেলা করতে হবে, সেইজন্য এই সব প্রকল্পের গ্রহণ ও বাস্তবায়ন সহজ হবে না।

প্রফেসর রেহমান সোবহানও সঠিক নগরায়ন পদ্ধতির একটা মূল সমস্যা হিসেবে রাজনৈতিক অর্থনীতিকে চিহ্নিত করেন। তিনি বলেন, এই দ্বন্দ্বের নিরসন না হলে সমস্যা থেকেই যাবে। বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্পের প্রণয়ন, বাস্তবায়ন ও ব্যবহারে যেখানে দশ থেকে বারো বছরের প্রয়োজন, সেখানে সরকারের আয়ু পাঁচ বছর। সময়ের এই অমিল সরকারকে নতুন কাজে হাত দিতে উৎসাহিত করে না। জমির উচ্চ মূল্যও বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের পথে একটি বাধা হিসেবে কাজ করে। তিনি বলেন যে সমস্ত অবকাঠামোগত প্রকল্প নিয়ে এখান ভাবা হচ্ছে সেগুলো নিয়ে বিশ/পঁচিশ বছর আগে চিন্তা করা উচিত ছিল। দীর্ঘ-মেয়াদী প্রকল্পের বাস্তবায়নের সাথে সাথে দ্রুত বাস্তবায়িত করা যায় সেরকম কাজগুলোও চলতে পারে। বাপা-বেন নগরায়ন নিয়ে যে সম্মেলনের আয়োজন করেছে তাতে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন ও সম্মেলনের সাফল্য কামনা করেন।

ঢাকা শহরের যানজট

ঢাকা শহরের যানজট

অতিথি ও আলোচকদের বক্তব্যের পর উপস্থিত সবাই উৎসাহের সঙ্গে উন্মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।

সেমিনারে একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও চিত্রের জন্য নীচের You-Tube ক্লিপটি দেখুনঃআমাদের সময়, আলোচনা, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, জনকন্ঠ, ডেসটিনি, দিগন্ত, দিনের শেষে, নয়া দিগন্ত, প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ভোরের
কাগজ, মানবজমিন, মুক্তমঞ্চ, যায় যায় দিন, যায়যায়দিন, যুগান্তর, সংগ্রাম, সংবাদ,চ্যানেল আই, বাঙ্গালী, বাংলা ভিশন, এনটিভি,এটিএন বাংলা, আরটিভি, দেশ টিভি, বৈশাখী টিভি, একুশে টিভি, প্রবাস, প্রবাসী, ঠিকানা, জাহান হাসান, বাংলা, বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস, লিটল বাংলাদেশ, ইউএসএ, আমেরিকা, অর্থনীতি, প্রেসিডেন্ট ওবামা,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,অর্থ, বাণিজ্য, শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, রাজাকার, আল বদর, Jahan, Hassan, Ekush, bangla, desh, Share, Market, nrb, non resident, los angeles, new york, ekush tube, ekush.info,

প্রবাসীদের প্রধান ঈদ আনন্দ দেশে প্রিয়জনদের সাথে কথা বলা: ঈদের দিন সাড়ে ১০ কোটি মিনিট কল এসেছে বিদেশ থেকে


ঈদের দিন সাড়ে ১০ কোটি মিনিট কল এসেছে বিদেশ থেকে
ফিরোজ মান্না ॥

BTRC

BTRC

বৈধ পথে আন্তর্জাতিক টেলিফোন কল রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে। ঈদের দিন প্রায় সাড়ে ১০ কোটি মিনিট কল দেশের বাইরে থেকে এসেছে। এই পরিমাণ কল এর আগে কখন হয়নি। বিটিআরসি অবৈধ ভিওআইপি বন্ধের বিরম্নদ্ধে একের পর এক অভিযান পরিচালনার কারণে আনত্মর্জাতিক কল সংখ্যা বাড়ছে। অবৈধ ভিওআইপি বন্ধ করতে পারলে বৈধ পথে কলের সংখ্যা দ্বিগুণ হবে।

বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব) জিয়া আহমেদ জনকণ্ঠকে জানান, মানুষ এখন আগের চেয়ে অনেক সচেতন হয়েছে। তারা চায় না অবৈধ পথে টেলিফোন কল করতে। অবৈধ ভিওআইপি অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করার কারণে কল সংখ্যা রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে। অবৈধ কল বন্ধ করার জন্য বিটিআরসি ‘সিম ডেকেটশন টুল’ স্থাপন করে মোবাইল বা পিএসটিএন নম্বর শনাক্ত করা হয়। যে সব নম্বর থেকে অবৈধ কল আসছে সেগুলো সঙ্গে সঙ্গে বস্নক করে দেয়া হচ্ছে। আরও কিছু ব্যবস্থা নেয়ার ফলে বৈধ পথে আনত্মর্জাতিক কল দিন দিন বেড়েই চলেছে। বিটিআরসির চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব নেয়ার সময় প্রতিদিন ২ কোটি মিনিট কল বৈধ পথে আসত। সিংহভাগ কল চলে যেত অবৈধ পথে। এখন প্রতিদিন গড়ে ৫ থেকে ৬ কোটি মিনিট কল বৈধ পথে দেশে আসছে। এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব পাচ্ছে। এবার ঈদের দিন বৈধ পথে ১০ কোটি ৩৪ লাখ ৮২ হাজার ২৫৬ মিনিট কল দেশে প্রবেশ করেছে। এটা বিটিআরসির ইতিহাসে রেকর্ড পরিমাণ কল। ঈদের আগের দিন কল এসেছে ৭ কোটি ৭৪ লাখ ২ হাজার ৫২১ মিনিট। ঈদের পরের দিন কলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি ৫১ লাখ ২ হাজার ১৭৫ মিনিট। বিটিআরসি অবৈধ ভিওআইপি বন্ধ করার জন্য ১৪টি আইএসপি, পিএসটিএন ও ভিস্যাট লাইসেন্স বাতিল করার পর থেকেই আনত্মর্জাতিক কল বাড়তে শুরম্ন করেছে। অবৈধ ভিওআইপি পুরোপুরি বন্ধ করতে পারলে বৈধ পথে আনত্মর্জাতিক কলের পরিমাণ প্রতিদিন ১৫ থেকে ১৬ কোটি মিনিটে উন্নতি হতে পারে। আমরা বৈধ কল বাড়াতে নানা পদৰেপ নিয়েছি।

Radio Link

Radio Link

জানা গেছে, অবৈধ ভিওআইপি (ভয়েস ওভার ইন্টারনেট প্রটোকল) কল বন্ধ করতে সর্বোচ্চ পদৰেপ হিসেবে সরকার টেলিযোগাযোগের বিভিন্ন খাতে লাইসেন্স বৃদ্ধির চিনত্মা ভাবনা করছে। ভিওআইপি একটি প্রযুক্তি এবং সেটিকে মোকাবেলা করতে হবে প্রযুক্তি দিয়ে। লাইসেন্স বৃদ্ধি করে এর সমাধান হবে না বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। অবৈধ কল যাচাইয়ের জন্য ডিপ প্যাকেট ইন্সপেকশন (ডিপিআই) নামে একটি যন্ত্র আছে। যেসব প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের ব্যান্ডউইথ দেয় সেখানে এটি স্থাপন করা হলেই অবৈধ কল বন্ধ করা সম্ভব। কিন্তু সেটি কার্যকর করতে কর্তৃপৰ তেমন আগ্রহী হচ্ছে না।

সূত্র জানিয়েছে, অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা চলছে অত্যাধুনিক ‘রেডিও লিঙ্ক’ প্রযুক্তির মাধ্যমে। ভারত থেকে ব্যান্ডউইথ কিনে রেডিও লিঙ্কের মাধ্যমে কল আদান-প্রদান করা হচ্ছে। আর এই কাজ হচ্ছে সীমানত্ম এলাকার বহু জেলায়। এমন কি খোদ ঢাকাতেই হাই ফ্রিকোয়েন্সির রেডিও লিঙ্ক ব্যবহার করে অবৈধ ভিওআইপি করা হচ্ছে। বিটিআরসি নানা ব্যবস্থা নেয়ার পরেও অবৈধ ভিওআইপি বন্ধ হয়নি। কিছু ভুয়া বিদেশী টেলিফোন নম্বর ব্যবহার করে এসব কল আদান-প্রদান করার কাজ চলছে। বিটিআরসির পৰে এমন কল আটকানো কোনভাবেই সম্ভব হচ্ছে না। কারণ এসব কল আদান-প্রদানের জন্য দেশীয় যে কোন মোবাইল অপারেটরের সিম কার্ড বা ই-১ ব্যবহার করা হয়। প্রযুক্তিকে ফিল্টার করতে গিয়ে উন্নত প্রযুক্তির কাছে মার খাচ্ছে বিটিআরসি। সরকার হারাচ্ছে বিরাট অঙ্কের রাজস্ব। পিএসটিএন কোম্পানি এবং কিছু আইএসপি বন্ধ করে দিলেই ভিওআইপি হবে এটা ভাবার কোন কারণ নেই। প্রতিদিন প্রযুক্তির উন্নতি ঘটছে। প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধ করতে হলে উন্নত প্রযুক্তির প্রয়োজন রয়েছে।

E1 30 GSM Channel Bank

E1 30 GSM Channel Bank

তথ্য প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারত থেকে ব্যান্ডউইথ কিনে একটা ই-১ (৩০টি টেলিফোন লাইন সংযুক্ত করা যায় এমন যন্ত্র) ভয়েজ কানেকটিভিটি ব্যবহার করে অবৈধ ভিওআইপি ( ভয়েজ ওভার ইন্টারনেট প্রটোকল) হচ্ছে। অথবা বিভিন্ন মোবাইল অপারেটরের সিমও ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব ভিওআইপির বেশির ভাগ ৰেত্র হচ্ছে সীমানত্ম জেলায়। সরকার ভিওআইপি বন্ধ করার জন্য কঠোর অবস্থান নিয়েও অবৈধ ভিওআইপি বন্ধ করতে পারেনি। খোদ বিটিসিএল’র বিরম্নদ্ধে ভিওআইপি করার অভিযোগ রয়েছে। এ থেকে মোবাইল অপারেটররাও বাদ নেই। বিদেশে কল আদান-প্রদান করার সময় দেখা যায় দেশী ফোন কোম্পানিগুলোর নম্বর ভেসে উঠছে। তবে রেডিও লিঙ্ক ব্যবহার করে যে সব কল আদান-প্রদান হচ্ছে সেগুলোতে ভুয়া বিদেশী নম্বর ব্যবহার করা হচ্ছে। যে কোন দেশ থেকে কল এলে টেলিফোন নম্বরের আগে অবশ্যই যোগ চিহ্ন থাকবে। কিন্তু রেডিও লিঙ্ক থেকে আসা বেশির ভাগ কলে যোগ চিহ্ন পাওয়া যাবে না। গ্রাহক মনে করবে যে নম্বর থেকে কল এসেছে সেই নম্বরটি সংশিস্নষ্ট দেশেরই নম্বর। বিটিআরসিকে ফাঁকি দেয়ার জন্য এ ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে অবৈধ ব্যবসায়ীরা। এটি করতে তারা উন্নত মানের সফটওয়ার ব্যবহার করছে। ভারতে যারা ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার তাদের কাছ থেকে ব্যান্ডউইথ কিনছে দেশীয় অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসায়ীরা। ভারত ব্যান্ডউইথ বিক্রি করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছে। তবে বিটিআরসি বলছে, রেডিও লিঙ্ক ব্যবহার করে অবৈধ ভিওআইপি করা অসম্ভব। এটা যারা বলছে তারা এর কোন প্রমাণ দিতে পারেনি। ভারত থেকে এভাবে কেউ ব্যান্ডউইথ কিনতে পারে না। ব্যান্ডউইথ কিনতে হলে লাইসেন্স নিতে হবে। ভারত তথ্য প্রযুক্তির দিক থেকে অনেক এগিয়ে থাকা দেশ হিসাবে এমন কাজ তারা কোনভাবেই করতে পারে না। তাছাড়া ভারতকে এত উদার ভাবার কোন কারণ নেই। ভারতে শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ সংস্থা রয়েছে। এটা ধরা পড়লে জরিমানাসহ লাইসেন্স বাতিল করে দেবে। বিটিআরসি মনে করে অবৈধ ভিওআইপি বন্ধ করতে পারলে বৈধ চ্যানেলে কল বেশি আদান-প্রদান হবে। এতে সরকারের রাজস্ব বাড়বে।

VOIP

VOIP

এদিকে বিডি ডট কমের একজন কর্মকর্তা বলেন, ভিওআইপি কোনভাবেই বন্ধ করা যাবে না। কোন না কোন প্রক্রিয়ায় ভিওআইপি হবেই। ইন্টারনেটকে লং ডিসটেন্স হিসাবে দেখার কিছু নেই। ইন্টারনেট বিশ্বকে হাতের মুঠোয় এনে দিয়েছে। তাই ইন্টারনেট হচ্ছে লোকাল বিষয়। পৃথিবীর যে প্রানত্মেই যাওয়া যাক ইন্টারনেট সকলের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে। বিটিআরসিকে কোন কল অবৈধ আর কোন কল বৈধ এটা ধরার জন্য বসে থাকা বা অভিযান চালাতে হবে না। এখানে কিছু টেকনিক্যাল ব্যবস্থা নিলেই তখন আর অবৈধ বলতে কিছু থাকবে না। তখন বৈধ পথে আনত্মর্জাতিক কলের সংখ্যা এমনিতেই বেড়ে যাবে।আমাদের সময়, আলোচনা, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, জনকন্ঠ, ডেসটিনি, দিগন্ত, দিনের শেষে, নয়া দিগন্ত, প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ভোরের কাগজ, মানবজমিন, মুক্তমঞ্চ, যায় যায় দিন, যায়যায়দিন, যুগান্তর, সংগ্রাম, সংবাদ,চ্যানেল আই, বাঙ্গালী, বাংলা ভিশন, এনটিভি,এটিএন বাংলা, আরটিভি, দেশ টিভি, বৈশাখী টিভি, একুশে টিভি, প্রবাস, প্রবাসী, ঠিকানা, জাহান হাসান, বাংলা, বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস, লিটল বাংলাদেশ, ইউএসএ, আমেরিকা, অর্থনীতি, প্রেসিডেন্ট ওবামা,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,অর্থ, বাণিজ্য, শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, রাজাকার, আল বদর, Jahan, Hassan, Ekush, bangla, desh, Share, Market, nrb, non resident, los angeles, new york, ekush tube, ekush.info,