বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মান একেবারে নিম্ন: প্রধান বিচারপতি


বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মান একেবারে নিম্ন: প্রধান বিচারপতি

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
বাংলাদেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মান একেবারে নিম্ন পর্যায়ে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা।
সোমবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে প্রকৃতপক্ষে ভালো আইনজীবীর দরকার। ভালো আইনজীবী হতে হলে দরকার ভালো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।”

প্রতিবেশী দেশ ভারতের প্রসঙ্গ টেনে প্রধান বিচারপতি বলেন, “এখন কিন্তু ভারতে বেস্ট স্টুন্ডেন্টরা ল’তে অ্যাডমিশন নেয়; আমেরিকা এবং জাপানেও হচ্ছে। আমাদের এখানে প্রকৃতপক্ষে যদিও একেবারে রিসেন্টলি ডেভেলপ করছে।

“ঢাকা ইউনিভার্সিটি ভালো ছেলে-মেয়ে বের করছে। রাজশাহী ইউনিভার্সিটি, চিটাগাং ইউনিভার্সিটিও করছে। কিন্তু যেসব প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি আছে, সেগুলোর মান একেবারে নিম্ন পর্যায়ে।”

23_chief justice sk sinha_290516_0003.jpgভারতের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আইন বিভাগের সিলেবাস বার কাউন্সিল করে জানিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, “আমাদের দেশে প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিগুলো ইচ্ছামতো সিলেবাস … করে, কোনো স্ট্যান্ডার্ড মেইনটেইন করা হয় না।

“এখন ডিজিটালাইজেশনের এই জামানায় … ডিজিটাল ল’, সায়েন্টিফিক ল’- এগুলো কোনো ল’ কলেজ বা ইউনিভার্সিটিতে পড়ানো হয় না।”

অনুষ্ঠানে উপস্থিত আইনজীবীদের উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি বলেন, “ভালো আইনজীবী হতে হলে ভালো ল’ কলেজ দরকার। দরকার ভালো সিলেবাস। ভালো শিক্ষা দরকার। … যত ল’ কলেজ-ইউনিভার্সিটি আছে- এটার সিলেবাসগুলো আপনার ঠিক করে দেন।”

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে শামসুল হক চৌধুরীর ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছিলেন প্রধান বিচারপতি।

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী আইনজীবী সমিতির গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধান বিচারপতি সিনহা বলেন, “স্ট্রং বার না থাকলে ভালো বিচারকও হবে না। কারণ সুপ্রিম কোর্টের বেশিরভাগ বার থেকে বিচারক হয়।”

23_chief justice sk sinha_290516_0002.jpgবিদেশি বিনিয়োগের সঙ্গে আইনের শাসনের সম্পর্ক তুলে ধরে তিনি বলেন, “যে বিদেশ থেকে এখানে আসবে বিনিয়োগ করতে, সে প্রথমে দেখবেই এ দেশে আইনের শাসন কী রকম, এই দেশে আমি যে টাকা বিনিয়োগ করব, এটা তুলে নিতে নিশ্চয়তা আছে কি না?

“এ দেশে যে মামলাগুলো আছে, সেগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি হচ্ছে কি না? কারণ আমি যদি মামলাতে পড়ে যাই, আমার টাকাটা আটকে যাবে কি না?

শামসুল হক স্মৃতি পরিষদের সভাপতি ও বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল বাসেত মজুমদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে ড. কামাল হোসেন, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, সম্পাদক মাহবুব উদ্দিন খোকন, সাবেক বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী, সাবেক আইনমন্ত্রী আবদুল মতিন খসরু, সুব্রত চৌধুরী, শ ম রেজাউল করিম, মনজিল মোরসেদ ও ব্যারিস্টার ওমর ফারুক আলোচনায় অংশ নেন।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন স্মৃতি পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এ বি এম বায়েজিদ।

 

 

Advertisements

যুক্তরাজ্য প্রবাসী ১০০ প্রভাবশালী বাংলাদেশির তালিকায় যারা


যুক্তরাজ্য প্রবাসী ১০০ প্রভাবশালী বাংলাদেশির তালিকায় যারা

লন্ডন, ২৩ জানুয়ারি: যুক্তরাজ্য প্রবাসী ‘একশ প্রভাবশালী বাংলাদেশির’ দ্বিতীয় তালিকায় ৩৫ নতুন মুখের নাম উঠে এসেছে। ‘বিবিপাওয়ার ১০০’ উপদেষ্টা কমিটি মঙ্গলবার লন্ডনের ওয়েস্ট মিনিস্টারে হাউস অব কমন্সের কমনওয়েলথ কক্ষে ব্রিটিশ বাংলাদেশি পাওয়ার ১০০ নামের এই তালিকা প্রকাশ করে।

Lutfur Rahman is the first directly elected mayor of Tower Hamlets, in London. He was elected to the role in 2010, having previously been the leader of Tower Hamlets London Borough Council from 2008 to 2010


যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ‘সবচেয়ে প্রভাবশালী’দের এই তালিকায় টাওয়ার হ্যামলেটসের প্রথম নির্বাচিত মেয়র লুৎফুর রহমান, পার্লামেন্ট মেম্বার রুশনারা আলী ও আইরিন জুবায়দা খানের পাশাপাশি প্রতিশ্রুতিশীল এক ঝাঁক প্রবাসী তরুণও জায়গা করে নিয়েছেন।

Rushanara Ali is a British Labour Party politician and Associate Director of the Young Foundation, who has been the Member of Parliament for Bethnal Green and Bow since 2010

বিভিন্ন ক্ষেত্রে ‘বিশেষ অবদানের জন্য’ সীমার্ক গ্রুপের চেয়ারম্যান ইকবাল আহমেদ, মেকআপ শিল্পী রুবি মিলি, ব্যারিস্টার আজমালুল হুসেইন কিউসি, জন র‌্যাডক্লিফ হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক টিপু জাহেদ আজিজ, ইউনিভার্সিটি অফ ওয়েস্ট স্কটল্যান্ডের অধ্যাপক অ্যান্ডি মিয়া, দ্য রয়েল ব্যাংক অফ স্কটল্যান্ডের করপোরেট ব্যাংকিং বিভাগের ট্রেজারার ড. মুরাদ চৌধুরী, সংবাদ উপস্থাপক নিনা হোসেন, ব্রিটিশ কিকবঙিং চ্যাম্পিয়ন রুকসানা বেগম, তরুণ উদ্যোক্তা সাবিরুল ইসলাম, মানবাধিকার সংস্থা রেস্টলেস বিংসের প্রতিষ্ঠাতা রহিমা বেগম, মোবো বিজয়ী জো রহমান ও লেখক তাহমিমা আনামও রয়েছেন।

Irene Zubaida Khan is a British Bangladeshi human rights activist who has been based in the United Kingdom. She was the seventh Secretary General of Amnesty International until her resignation on 31 December 2009.


লন্ডন অলিম্পিক ও প্যারা অলিম্পিকে অবদান রাখা বাংলাদেশিদের নামও রয়েছে এ তালিকায়।

এদের মধ্যে কোরিওগ্রাফার ও লন্ডন অলিম্পিকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া নৃত্যশিল্পী আকরাম খান, অলিম্পিকের বোর্ড মেম্বার ড. আব্দুল বারি, অলিম্পিকের ৫ পাউন্ডের স্মারক মুদ্রার নকশাকার সাইমন মিয়া, বিড মেম্বার আয়েশা কোরেশি ও কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবীও রয়েছেন।

এছাড়া ডা. আনিসুর রহমান, ডা. তাহসেন চৌ্‌ধুরী ও রুবাইয়াৎ হক, পুলিশ কর্মকর্তা পিসি সাকিরা সুজিয়া, লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. নবাব উদ্দীন, জো রহমান ও তরুণ উদ্যোক্তা সাবিরুল ইসলামের মতো নতুন মুখ স্থান পেয়েছে এবারের তালিকায়।

এ তালিকা প্রকাশ অনুষ্ঠানে ব্রিটিশ মন্ত্রী টেরেসা মে বলেন, যুক্তরাজ্যের সামাজিক অগ্রগতি ও নাগরিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে বাংলাদেশিরা অবদান রেখে চলেছেন।

মেধা নাকি যৌন আবেদনে আসে খ্যাতি!


যৌন আবেদন নাকি মেধা?

ফোর্বস ম্যাগাজিনের সাম্প্রতিক এক তালিকা দেখে এমন প্রশ্নের আবির্ভাব৷ তালিকাটা ৩০ বছরের কম বয়সি বিশ্বের সবচেয়ে বেশি অর্থ উপার্জনকারী সেলিব্রেটিদের৷ তাতে শীর্ষ দশের সাতজনই হচ্ছেন নারী৷

একেবারে শীর্ষ অবশ্যই লেডি গাগা৷ গত বছরে তাঁর আয় ছিল ৮০ মিলিয়ন ডলার৷ হিট গান বিক্রি, ওয়ার্ল্ড ট্যুর আর বিভিন্ন পণ্যের মডেল হয়ে এই অর্থ আয় করেছেন লেডি গাগা৷ পরিমাণটা হয়ত আরও বাড়তে পারতো যদি না ইনজুরির কারণে কয়েকটি ট্যুর বাতিল না করতেন৷ ঐ সময়টা তাঁকে তাঁর ২৪ ক্যারেট সোনা দিয়ে তৈরি হুইলচেয়ারে কাটাতে হয়েছে!

এরপরেই আছেন তালিকায় থাকা তিন তরুণের প্রথমজন ক্যানাডিয়ান সেনসেশন জাস্টিন বিবার৷ তবে তাঁর আয় লেডি গাগার চেয়ে ২২ মিলিয়ন ডলার কম, অর্থাৎ ৫৮ মিলিয়ন৷ তালিকার অন্য দুই ছেলে তারকা হলেন ডিজে ক্যালভিন হ্যারিস ও অভিনেতা টেলর লাউটনার৷ তাঁদের আয় যথাক্রমে ৪৬ ও ২২ মিলিয়ন ডলার৷ আর মেয়েদের মধ্য আছেন টেলর সুইফট (৫৫ মিলিয়ন ডলার), রিহানা (৪৩ মিলিয়ন), কেটি পেরি (৩৯ মিলিয়ন), আডেলে (২৫ মিলিয়ন), জেনিফার লরেন্স (২৬ মিলিয়ন ডলার) ও ক্রিস্টেন স্টুয়ার্ট (২২ মিলিয়ন)৷

তবে শুধু কম বয়সি তারকাদের তালিকায় নয়, গত জুনে ফোর্বস যে ‘পাওয়ারফুল সেলিব্রেটি'-দের লিস্ট তৈরি করেছিল তাতেও শীর্ষ দশে ছিলেন ছয়জন নারী৷

ফেমিনিস্ট ওয়েবসাইট জেজেবেল ডটকমের ব্লগার কেট ড্রাইস বলছেন, ‘‘শুধু যৌন আবেদন দিয়ে মেয়েরা অর্থ আয়ের ক্ষেত্রে পুরুষদের চেয়ে এগিয়ে যাচ্ছে তা ঠিক নয়, বরং গানের শিল্পীরা শুধু মিউজিশিয়ান হওয়ার চেয়ে আরো অন্যান্য বিষয়েও দক্ষতা অর্জন করছেন৷ তাই তাঁরা বেশি আয় করছেন৷

তিনি বলেন, লেডি গাগা, রিহানা, টেলর সুইফট, কেটি পেরির মতো তারকারা পণ্যের মডেল হয়েই বেশি আয় করছেন৷ বিশেষ করে তাঁরা চান বিভিন্ন কসমেটিক পণ্যের সঙ্গে নিজের নাম জড়াতে৷ এমনকি জাস্টিন বিবারও তরুণীদের কাছে তাঁর নাম বেঁচে অনেক অর্থ আয় করছেন বলে মনে করেন ড্রাইস৷
প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন?

‘আমেরিকার দৃষ্টিতে মিশরে সামরিক অভ্যুত্থান হয়নি’


‘আমেরিকার দৃষ্টিতে মিশরে সামরিক অভ্যুত্থান হয়নি’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মার্কিন প্রশাসন মিশরের নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করার ঘটনাকে ‘সামরিক অভ্যুত্থান’ হিসেবে ঘোষণা করবে না। আমেরিকার সরকারি কর্মকর্তারা এ ঘোষণা দিয়েছেন। কংগ্রেসের উভয় কক্ষের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকে এ ধরনের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা উইলিয়াম বার্নসের বরাত দিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েক জন মার্কিন কর্মকর্তা এএফপিকে জানিয়েছেন।

আমেরিকা থেকে মিশর প্রতিবছর ১৩০ কোটি ডলার সামরিক সহায়তা পেয়ে থাকে। মিশরের প্রেসিডেন্ট মুহাম্মাদ মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর মার্কিন এ সহায়তা স্থগিত হয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছিল। আমেরিকার আইন অনুযায়ী, বিশ্বের যে দেশেই সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সরকার উতখাত করা হবে সে দেশে মার্কিন সামরিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা অবশ্যই স্থাগিত করতে হবে।

তবে, গত ৩ জুলাই মিশরের প্রেসিডেন্ট মুরসিকে সেনাবাহিনী ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয়ার পরও সামরিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা স্থগিত করার ঘোষণা দেয়নি আমেরিকা। মার্কিন সামরিক সহায়তা অব্যাহত রাখতেই মিশরের ঘটনাকে সামরিক অভ্যুত্থান বলতে গড়িমসি করছে ওয়াশিংটন।

এছাড়া, দখলদার ইসরাইলের শীর্ষ পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতারা আমেরিকাকে সামরিক সহায়তা স্থগিত না করার জন্য একের পর এক ফোন করে চলেছেন। ইসরাইলি কর্মকর্তারা আমেরিকাকে বার বার সতর্ক করে বলছেন, মিশরে সামরিক সহায়তা বন্ধ করা হলে ইসরাইলের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়বে।

প্রেস টিভিকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে মার্কিন রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাইকেল বার্নস বলেছেন, মিশরের বর্তমান পরিস্থিতিকে ইসরাইলের স্বার্থ রক্ষার কাজে ব্যবহারের চেষ্টা করছে আমেরিকা। আইআরআইবি

বাংলাদেশের বাণিজ্য সুবিধা কমাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র?


বাংলাদেশের বাণিজ্য সুবিধা কমাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র?

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশী পণ্য রফতানিতে বাণিজ্যিক সুযোগ-সুবিধা কমাতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। শিগগিরই দেশটির প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এ ঘোষণা দিতে পারেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদন সূত্রে এ তথ্য উঠে এসেছে।
জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি সংস্থা (ইউএসটিআর) সরকারের অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে পরামর্শ করে বাণিজ্য সুবিধা কমানোর সুপারিশ চূড়ান্ত করেছে। ৩০ জুন এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের ঘোষণা দেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সরকার মনে করেছে, এ হুমকি হয়তো বাংলাদেশে দীর্ঘদিনের প্রয়োজনীয় শ্রম পরিবেশ সংস্কারে যথেষ্ট উত্সাহ জোগাবে।

তবে সুবিধা কমানো নাকি পুরোপুরি বাতিল করা হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। এ প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম সংগঠন দি আমেরিকান ফেডারেশন অব লেবার অ্যান্ড কংগ্রেস অব ইন্ডাস্ট্রিয়াল অর্গানাইজেশনসের (এএফএল-সিআইও) বাণিজ্যবিষয়ক প্রধান সেলেস্ত ড্রেক রয়টার্সকে বলেন, গত নভেম্বরে তাজরীন ফ্যাশনস ও সম্প্রতি সাভার রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় মৃত্যুর কারণে ওবামা প্রশাসন বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সুবিধা বাতিল করতে বা কমিয়ে দিতে পারে।

প্রসঙ্গত, এএফএল-সিআইও ২০০৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের অবাধ সুযোগ-সুবিধা (জিএসপি) বাতিলের দাবিতে প্রথম আবেদন করে। স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যে বাজার-সুবিধা দেয়া হয়, তা হলো জিএসপি বা জেনারালাইজড সিস্টেম অব প্রেফারেন্সেস। ১৯৭৬ সাল থেকে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে এ সুবিধা পেয়ে আসছে। কিন্তু বাংলাদেশের প্রধান রফতানি পণ্য তৈরি পোশাক খাত এ সুবিধার আওতাভুক্ত নয়।

তবে এ ঘোষণা বাংলাদেশের রফতানিতে খুব বেশি প্রভাব ফেলবে না বলে মনে করেন বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষণা পরিচালক ড. জায়েদ বখ্ত। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, বাণিজ্য সুবিধা বাদ দিলে তা শাস্তি হিসেবে না নিয়ে বরং সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ব্যবহার করা উচিত হবে। দেশের রফতানি খাতে বর্তমানে কর্মপরিবেশ থেকে শুরু করে সার্বিক মানের যতটুকু উন্নয়ন হয়েছে, তা আন্তর্জাতিক চাপের মুখেই সম্ভব হয়েছে। কারণ দেখা গেছে, সরকার বা স্থানীয় উদ্যোক্তা চাপে না পড়লে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বিরত থাকেন। তবে এ ধরনের সুবিধা বৃদ্ধি বা কমানোর পাশাপাশি ক্রেতা দেশগুলোর কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতায় এগিয়ে আসা প্রয়োজন।

সূত্রমতে, গত আট মাসে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে একের পর এক দুর্ঘটনায় সহস্রাধিক শ্রমিকের প্রাণহানি ঘটেছে। এর পর থেকেই বাংলাদেশকে দেয়া বাণিজ্য সুবিধা বাতিল করার দাবি ওঠে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মহলে। ডিসেম্বরে তাজরীন দুর্ঘটনার পর থেকেই ইউএসটিআর জিএসপি সুবিধা পর্যালোচনার জন্য চাপ দিতে শুরু করে। রানা প্লাজা ধসের পর এ পর্যালোচনায় নতুন মোড় নেয়। সর্বশেষ গতকাল শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার বরাতে প্রতিবেদনটি প্রকাশ হয়।

গ্লোবাল ওয়ার্কস ফাউন্ডেশনের সঙ্গে সম্পৃক্ত বাণিজ্যবিষয়ক বিশ্লেষক এড গ্রেসার জানান, গত বছর বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে তাঁবু, গলফ খেলার সরঞ্জাম, প্লেটসহ প্রায় সাড়ে ৩ কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য রফতানি করেছে। এর ওপর জিএসপি সুবিধা বাবদ ২০ লাখ ডলার শুল্কছাড় পেয়েছে। আবার বাংলাদেশ ৪৯০ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রফতানি করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ৭৩ কোটি ২০ লাখ ডলার শুল্ক দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের দাবি, যদিও রফতানি খাতের মূল পণ্য তৈরি পোশাক খাত কোনো ধরনের বাণিজ্য সুবিধা পায় না। তার পরও শ্রম নিরাপত্তাহীনতার তাত্পর্য মাথায় রেখে প্রতীকী জবাব হিসেবেই বাংলাদেশকে দেয়া সুবিধা কমিয়ে দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্ব-অর্থনীতিতে ক্ষমতাধর দেশ হিসেবেই তারা এ ধরনের পদক্ষেপ নিলে তা অনুসরণ করতে পারে ইউরোপসহ অন্যান্য দেশ।

অন্যদিকে রফতানি খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাণিজ্য সুবিধা বাতিল হলে তা বাংলাদেশের রফতানি খাতের ভাবমূর্তির সংকটকে আরো ত্বরান্বিত করবে। কারণ এরই মধ্যে বিশ্বব্যাপী যে নেতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়েছে, তা আরো জোরালো হয়ে ভাবমূর্তি সংকটকে আরো দীর্ঘায়িত করবে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সভাপতি আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘বাণিজ্য সুবিধার আওতায় পোশাক খাত নেই। তার পরও আমরা ইউএসটিআরের সঙ্গে যোগাযোগ করে সুবিধা অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানিয়েছিলাম। কিন্তু দেশটিতে আমাদের লবিংয়ের চেয়ে অ্যান্টি-লবিং অনেক বেশি জোরালো। আর তাজরীনের পর রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় কোনো লবিং বা অনুরোধ কাজে লাগছে না। যদিও আমরা ইতিবাচক সিদ্ধান্তের আশা এখনো ছেড়ে দিইনি।’

জানা গেছে, অতীতে অনেক আইনপ্রণেতাই বাংলাদেশ ও কম্বোডিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া তৈরি পোশাক খাতকে জিএসপি সুবিধার আওতায় আনার প্রস্তাব দিয়েছেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক প্রস্তুতকারীরা এর বিরোধিতা করেছেন। আশির দশকে শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষার মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হতে ব্যর্থ হওয়ায় অন্তত ১৩টি দেশের জিএসপি সুবিধা আংশিক বা পুরোপুরি বাতিল হয়। পরে তাদের বেশির ভাগই অধিকারের বিষয়টি নিশ্চিত করায় আবার জিএসপি সুবিধায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর দ্য সাউথ এশিয়া স্টাডিজের সহযোগী পরিচালক সঞ্চিতা সাক্সেনা জানান, বাংলাদেশী পণ্যের ক্ষেত্রে জিএসপি সুবিধা প্রত্যাহার করে নিলেও তা দেশটির তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের কোনো সহায়তায় আসবে না। তার মতে, যদি যুক্তরাষ্ট্র এ পরিস্থিতির উন্নয়নে সহায়তা করতে চায়, তাহলে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড কর্তৃপক্ষ ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলো এসব পোশাক কারখানায় নজরদারি করতে পারে এবং বিদ্যমান আইনগুলো প্রয়োগে চাপ দিতে পারে।

এদিকে গত বৃহস্পতিবার মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের ভবন ও অগ্নিনিরাপত্তার বিষয়টি উঠে আসে। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ইউরোপের ক্রেতারা এরই মধ্যে বাংলাদেশের সঙ্গে ভবন ও অগ্নিনিরাপত্তা-বিষয়ক চুক্তি সই শুরু করেছে। কিন্তু মার্কিন ক্রেতাদের এখনো বিষয়টিতে খুব একটা এগিয়ে আসতে দেখা যায়নি।

মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র জেন পিসাকি এ প্রসঙ্গে বলেন, বিষয়টি নিয়ে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজস্ব সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ভবন ও অগ্নিনিরাপত্তায় সাহায্যের বিষয় নিয়ে মার্কিন সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে সংলাপ চলছে। সেখানকার কর্মপরিবেশকে মূলে রেখেই আলোচনা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের সঙ্গে মার্কিন ক্রেতাদের চুক্তি ও দায়িত্বশীল আচরণ বিষয়ে প্রশ্ন উঠলে জেন পিসাকি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র মনে করে, ক্রেতারা কর্মপরিবেশ ও মানবাধিকার ইস্যুতে তাদের সর্বোচ্চ মান বজায় রাখবেন। যদি কোনো নির্দিষ্ট চুক্তি সই নাও হয়, যুক্তরাষ্ট্র মানবাধিকার ও কর্মপরিবেশ নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ মান ধরে রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করবে। আশা করি, ক্রেতারা নিজ থেকেই এ মান বজায় রাখবেন।’
উল্লেখ্য, ২০১২ সালের নভেম্বরে তাজরীন ফ্যাশনসের অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু হয় ১১৩ শ্রমিকের। এর পরই স্মার্ট ফ্যাশনে আগুন লেগে মৃত্যু হয় ছয়জনের। আর চলতি বছর রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ১৩০।

Obama nears decision on Bangladesh trade following tragedies

Fri, Jun 14 03:16 AM IST

By Doug Palmer

WASHINGTON (Reuters) – President Barack Obama could soon decide to cut off trade benefits for Bangladesh, in a largely symbolic response to tragedies in the country’s garment sector that have cost more than 1,200 lives in the past eight months.

The U.S. Trade Representative’s office, with input from other government agencies, is completing its recommendations in preparation for a White House announcement by June 30.

Even though the trade benefits affect less than 1 percent of Bangladeshi exports to the United States, its government has pleaded with the Obama administration not to cut them off.

The AFL-CIO, the largest U.S. labor organization, first filed a petition to suspend Bangladesh from the U.S. Generalized System of Preferences program in 2007.

The U.S. government has put off that decision for six years, hoping the threat would be enough to encourage Bangladesh to make long-needed labor reforms.

But after the Tazreen factory fire in November that killed 112 people and the Rana Plaza building collapse in April that killed 1,129 more, it seems likely that Obama will eliminate or reduce the trade benefits, Celeste Drake, the AFL-CIO’s lead on trade issues, told Reuters this week.

The past year in Bangladesh has been so horrendous that unless the United States acts the labor provisions of the GSP program will be seen as meaningless, she said.

The GSP program is aimed at helping create jobs in poor countries by waiving U.S. duties on thousands of goods as long as the countries meet certain eligibility requirements.

Bangladesh has been in the program since it began in 1976. But its main export, clothing, is not eligible for GSP tariff cuts, in deference to the U.S. textile and apparel industry, which employed some 2.4 million workers four decades ago compared to less than 300,000 now.

Last year, the GSP program spared Bangladesh about $2 million in duties on $35 million worth of tents, golf equipment, plates and other items it exported to the United States, said Ed Gresser, a trade analyst with the GlobalWorks Foundation.

But Bangladesh paid about $732 million in duties on $4.9 billion worth of clothing to the United States. That is almost twice as much as the $383 million in U.S. tariffs collected on $41 billion worth of French goods in 2012, Gresser said.

In the past, some lawmakers have proposed changing the GSP program to provide duty-free benefits for clothing from Bangladesh and Cambodia, but U.S. textile manufacturers lobbied to prevent action on the legislation.

At least 13 countries have lost some or all of their GSP benefits since workers rights protections were added to the eligibility criteria in the 1980s. Most have been reinstated after making progress on the concerns.

While Bangladeshi clothing manufacturers would not be directly affected by a decision to suspend the GSP program, Drake said she expected other Bangladeshi companies hit with increased duties to join the international community in lobbying the government for labor reforms.

“It’s a small stick, which is perhaps right, given that it is a developing country. Nobody wants to do something that would be an earthquake to their economy,” Drake said.

Sanchita Saxena, associate director of the Center for South Asia Studies at the University of California at Berkeley, said revoking Bangladesh’s GSP benefits would not help workers in Bangladesh’s garment industry.

“If the U.S. wants to help improve conditions, international brands and international NGOs can help in building capacity to monitor the thousands of factories that need monitoring and help to enforce some of the laws that are in the books,” she said.

U.S. retailers should also sign an agreement embraced by European retailers to improve safety conditions in Bangladesh’s garment industry, Saxena said.

– See more at: http://bonikbarta.com

টিফা (Trade and Investment Framwork Agreement বা TIFA)


জাতীয় স্বার্থ বজায় রেখেই হোক টিকফা
রাশিদুল ইসলাম নাহিদ

টিকফা চুক্তি নিয়ে দরকষাকষি হচ্ছে অনেক দিন আগ থেকে। তবে আগে এর নাম ছিল টিফা (Trade and Investment Framwork Agreement বা TIFA)। ১৩টি ধারা ও ১৯টি প্রস্তাবনাসংবলিত চুক্তিটির প্রথম খসড়া প্রণয়ন করা হয় ২০০২ সালে। ২০০৪ ও ২০০৫ সালে চুক্তির খসড়াটিতে সংশোধন আনা হয়। চুক্তিটির খসড়া প্রণয়নের পর থেকেই দেশের নানা মহল থেকে এর সমালোচনা ও বিরোধিতা করা হয়। ফলে আজ অবধি এ চুক্তি বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি। ওই সমালোচনা ও বিরোধিতা সামাল দেয়ার প্রয়াসে টিফার সঙ্গে সহযোগিতা শব্দটি যোগ করা হয়।

টিকফা চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রও নাছোড়বান্দা। বুশ, ওবামা সবার আমলেই বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের টিকফা স্বাক্ষরের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা। আগে বলা হয়েছিল, টিকফা স্বাক্ষরিত না হলে দুই দেশের সহযোগিতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। ক্রমাগত চাপাচাপি করেও বাংলাদেশকে রাজি করাতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু সাভারে ভবনধসের ঘটনায় অসংখ্য শ্রমিকের মৃত্যু তাদের জন্য এনে দিয়েছে মোক্ষম সুযোগ। বলা হলো, এ ঘটনার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশ যে জিএসপি সুবিধা পেয়ে আসছে তার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ড্যান মোজিনা পরোক্ষভাবে বলেই দিলেন টিকফা স্বাক্ষর না হলে শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা বাতিল করা হবে। আর এ ভয় থেকেই আমাদের রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকরা জিএসপি রক্ষায় টিকফা স্বাক্ষরে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অথচ বিশেষজ্ঞরা এ চুক্তি না করার ব্যাপারে সরকারকে পরামর্শ দিচ্ছেন।

টিকফা চুক্তির মাধ্যমে উদারীকরণ, মুক্তবাজার, ব্যক্তি খাতের অবাধ আন্তর্জাতিক প্রবাহ, পুঁজি বিনিয়োগ, বাজার সংরক্ষণ নীতি পরিহার, মুনাফা স্থানান্তরের অবাধ গ্যারান্টি ও মেধাস্বত্ব আইন বাস্তবায়নের মাধ্যমে এ দেশের অর্থনীতিকে মূলত ‘পুঁজিবাদী-সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বায়নের’ কাঠামোর মধ্যে আটকে ফেলার একটি ব্যবস্থাপত্র বাস্তবায়ন করতে চলেছে যুক্তরাষ্ট্র। অথচ আমাদের নীতিনির্ধারকরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সুর মিলিয়ে বলছেন, টিকফা স্বাক্ষর হলে তেমন অসুবিধা হবে না বরং যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি বাড়বে এবং বেশি বিনিয়োগ আসবে। কিন্তু চুক্তির কাঠামো সে কথা বলে না।

বরং চুক্তিটি কার্যকর হলে দেশের সেবা খাতগুলো রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত হয়ে মার্কিন বহুজাতিক কোম্পানির দখলে চলে যাবে। এতে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে দেশীয় কোম্পানিগুলোর স্বার্থ বিঘ্নিত হবে। অবাধ মুনাফা অর্জনের জন্য বিদেশী কোম্পানিগুলো সেবা যেমন— টেলিযোগাযোগ, বিদ্যুত্, গ্যাস, পানি, চিকিত্সা, শিক্ষা, বন্দর প্রভৃতি ও পণ্যের দাম বাড়বে।

টিকফা চুক্তিতে উল্লেখ আছে— ১৯৮৬ সালে স্বাক্ষরিত যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ চুক্তি। সে চুক্তি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে বিশেষ সুবিধা পাবে, তাদের অর্জিত মুনাফা বা পুঁজির ওপর কর থাকবে না এবং বিনিয়োগ প্রত্যাহার করে নেয়া হলে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। তবে এ চুক্তির ফলে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কোনো পক্ষ ব্যর্থ হলে অন্য পক্ষকে সহযোগিতা দেয়া হবে। সেক্ষেত্রে চুক্তিটি হলে মার্কিন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতির আশঙ্কা থাকবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
টিফা চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র নির্দিষ্ট সময়ের আগেই মেধাস্বত্ব আইন মানতে বাধ্য করছে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে। টিকফা চুক্তির ফলে বাংলাদেশকে ২০১৬ সালের আগেই মেধাস্বত্ব আইন মেনে চলতে হবে। চুক্তির প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, বাণিজ্য-সম্পর্কিত মেধাস্বত্ব অধিকার (TRIPS), অন্যান্য প্রচলিত মেধাস্বত্ব আইনের যথাযথ এবং কার্যকর রক্ষণাবেক্ষণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে। অর্থাত্ মেধাস্বত্ব প্রতিষ্ঠা পেলে তা আমাদের দেশকে মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন করবে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতেই দেশকে সফটওয়্যার লাইসেন্স ফি বাবদ ৫ হাজার কোটি টাকা (৬০ কোটি ডলার) ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে। তৈরি পোশাকশিল্পকেও ব্র্যান্ড নামে ব্যবহূত এ দেশে তৈরি অ্যাকসেসরিজের জন্য সংশ্লিষ্ট মার্কিন কোম্পানিকে রয়্যালিটি দিতে হবে।

বাংলাদেশকে টিকফা চুক্তি স্বাক্ষরে বাধ্য করতে যুক্তরাষ্ট্র এত তত্পর হওয়ার অন্যতম কারণ হলো, একটি স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে বাংলাদেশ বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে তৃতীয় বিশ্বের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ মাঝে মধ্যেই পেয়ে থাকে। এসব স্থানে মার্কিন স্বার্থের বিরোধিতা করার সুযোগ থেকে বাংলাদেশকে বিরত রাখাটা টিকফা চুক্তির অন্যতম লুক্কায়িত এজেন্ডা বলে ধারণা। টিকফা চুক্তির খসড়ায় ১৮ নম্বর প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ একত্রে ‘দোহা ডেভেলপমেন্ট এজন্ডোর’ সফল বাস্তবায়নে সহযোগিতামূলক প্রয়াস শক্তিশালী করবে। এ চুক্তির ফলে বহুপক্ষীয়ভাবে যেকোনো বিরোধ
নিরসনের সুযোগ হারাবে বাংলাদেশ।

টিকফা চুক্তিতে বলা হয়েছে, শ্রম আইন পরিপালন করতে হবে। শ্রমিকদের অধিকার রক্ষার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে এবং পরিবেশের মান বজায় রাখার পাশাপাশি সুশাসনের বিষয়টিও এ চুক্তির অধীনে কার্যকর করা হবে। প্রকৃতপক্ষে টিকফার প্রস্তাবনায় মানবাধিকার, শ্রমের মান ও শ্রমজীবীদের অধিকার এবং পরিবেশগত বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হলেও তার লক্ষ্য শ্রমজীবীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা নয়; বরং এগুলোকে ব্যবহারপূর্বক যুক্তরাষ্ট্র তার বাজারে বাংলাদেশী পণ্যের রফতানি ইচ্ছামতো নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে।
বলা হচ্ছে, এ চুক্তি স্বাক্ষরের পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ কয়েক গুণ বাড়বে। সেসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়বে বাংলাদেশী পণ্য রফতানিও। এ রকম চুক্তি নাকি পাকিস্তান, সৌদি আরব, শ্রীলংকা, ভিয়েতনাম, ইরাক, উরুগুয়েসহ বিশ্বের ৩০টিরও বেশি দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র স্বাক্ষর করেছে। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, কোন দেশের সঙ্গে এ চুক্তি করা হবে— সেটা নির্ভর করে করপোরেট স্বার্থ আর ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্বের ওপর। যুক্তরাষ্ট্র কেবল মুনাফা অর্জনের জন্যই একটি দেশের সঙ্গে চুক্তি করে না বরং এর মাধ্যমে একটি দেশকে নিজ প্রভাব বলয়ে নিয়ে এসে ওই অঞ্চলের ওপর আধিপত্য বৃদ্ধির চেষ্টা করে। যেমন উরুগুয়ের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে ওই অঞ্চলের ঐক্যের মাঝে ফাটল ধরানো হয়েছে।
মূলত জিএসপি রক্ষার কথা বলে আমাদের সরকার টিকফা চুক্তিতে সম্মত হয়েছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশী রফতানি পণ্য পোশাকশিল্পের জন্য কোনো জিএসপি সুবিধা দেয় না। যুক্তরাষ্ট্রে রফতানিকৃত ৯৭ শতাংশ পণ্যের ক্ষেত্রে জিএসপি সুবিধা দেয়া হলেও বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের পণ্য তার আওতার বাইরে থাকায় আর্থিকভাবে তেমন লাভবান হচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পণ্য রফতানিতে প্রধান বাধা হচ্ছে শুল্ক বাধা। বাংলাদেশী পোশাক রফতানিকারকদের যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ১৫.৩ শতাংশ শুল্ক দিতে হয়, অন্যদিকে চীন পরিশোধ করে মাত্র ৩ শতাংশ। তৈরি পোশাকের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকারের লোভ দেখিয়ে এ চুক্তি বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র অথচ চুক্তিতে তৈরি পোশাকের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকারের নিশ্চয়তা নেই। টিকফা চুক্তির খসড়ায় পণ্য ও পুঁজির চলাচলকে অবাধ করার কথা বলা হলেও শ্রমশক্তির অবাধ যাতায়াতের সুবিধার কথা কিছুই রাখা হয়নি।
উল্লিখিত প্রস্তাবনাগুলোর আলোকে টিকফা স্বাক্ষর হলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে যাওয়া আর সম্ভব হবে না বরং তাদের শৃঙ্খলে আবদ্ধ হবে বাংলাদেশ। এ কারণে টিকফা চুক্তি নিয়ে তাড়াহুড়া করে অগ্রসর না হয়ে জনগণের সামনে চুক্তির রূপরেখা তুলে ধরা চাই। বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করে ও চুক্তির ধারা-উপধারায় জাতীয় স্বার্থের বিষয়গুলো বিন্যস্ত করার দিকে মনোযোগ দেয়া আবশ্যক।

লেখক: শিক্ষার্থী
nahidir09@gmail.com
সূত্রঃ বনিকবার্তা

প্লাস্টিক বোতলের পানি থেকে সাবধান


প্লাস্টিক বোতলের পানি থেকে সাবধান
রঙ-ঢঙ ডেস্ক

আকার আর ওজনের সুবিধা মিলিয়ে সারা বিশ্বেই প্লাস্টিকের বোতলজাত পানির কদর বেড়েছে। এর সঙ্গে রয়েছে বোতলজাত পানি ব্যবসায়ীদের নানা বাহারি বিজ্ঞাপন। যে কারণে এটি এখন ফ্যাশনেরও অনুষঙ্গ। তবে এ বোতলজাত পানি কতটা স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য উপকারী, তা নিয়ে সচেতনতাও বাড়ছে। চলছে গবেষণা, নেয়া হচ্ছে নানা উদ্যোগ। অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে অ্যালুমিনিয়াম অথবা স্টিলের বোতলে পানি খেতে। মেলবোর্ন ফ্যাশন উইকের অনুষ্ঠানেও চলতি বছর প্লাস্টিকের বোতলজাত পানি সরবরাহকে নিরুত্সাহিত করা হয়। কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো প্লাস্টিকের ক্ষতিকর উপাদান কমিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছে। কাজও চলছে সেই মাফিক। অস্ট্রেলিয়ার ২০ হাজার মানুষের ওপর জরিপ চালিয়ে দেখা গেছে, তাদের বেশির ভাগই প্লাস্টিকের বোতলে পানি খাওয়ার মতো আধুনিকতা ত্যাগ করতে সম্মত হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার ক্যাথলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষবিদ্যার শিক্ষক ক্রিস উইনডার সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখিয়েছেন প্লাস্টিকের বিক্রিয়া ও মানবশরীরে এর ক্ষতিকর প্রভাব। তিনি জানিয়েছেন, প্লাস্টিক বোতলের পুনর্ব্যবহার ব্যাকটেরিয়াদূষণের জন্য দায়ী। প্রতিবার ব্যবহারের পর তা এমনভাবে ধুতে হবে, যেন অন্য কোনো উপাদান, যেমন- সাবান প্রভৃতি এর সঙ্গে লেগে না থাকে। তাহলে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ থেকে অন্তত রেহাই মিলবে। তবে অবশ্যই তা ঠাণ্ডা পানিতে ধুতে হবে। কারণ তাপে প্লাস্টিকে ব্যবহূত রাসায়নিক পদার্থগুলো উন্মুক্ত হয়; যা শরীরের ক্ষতি করে।

প্লাস্টিক বোতল তৈরি হয় মূলত দুই ধরনের প্লাস্টিক থেকে। এর একটি পলিকার্বন, যা বিসফেনল এ (বিপিএ) থেকে উত্পাদিত এবং অন্যটি পিইটি, যা পলিইথিলিন থেকে উত্পাদিত। পলিইথিলিনকে নিরাপদ বিবেচনা করা হয়। তবে বিপিএ ক্ষতিকর। ১৯৫০ সাল থেকেই বাণিজ্যিকভাবে প্লাস্টিক উত্পাদনে এর ব্যবহার হয়ে আসছে; যার ক্ষতিকর বিষয়গুলো এরই মধ্যে প্রমাণিত।

বিপিএ প্লাস্টিকের আধারে জমে থাকা উপাদান দ্রবীভূত করার ক্ষমতা রাখে। পানিতে এসব উপাদান মিশে যায় সহজেই। ৯৫ শতাংশ মার্কিনের মূত্রে এ রাসায়নিক উপাদানের উপস্থিতি টের পাওয়া গেছে। এর পরিমাণ শিশুদের মধ্যেই বেশি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে।

বিপিএর সঙ্গে এক প্রকার হরমোনের গাঠনিক মিল রয়েছে। এটি ওয়েসট্রোজেন মিকি হরমোন নামে পরিচিত। অধ্যাপক উইনডার জানিয়েছেন, বিপিএ নানা স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির কারণ। যেমন— অনুর্বরতা, মোটা হয়ে যাওয়া, ডায়াবেটিস, গলার ক্যান্সার, এমনকি এ উপাদান কেন্দ্রীয় সংবেদনশীলতাকেও অবশ করে দিতে পারে। স্তন ও জরায়ু ক্যান্সারের কারণও হয়ে উঠতে পারে এ বিপিএ। উইনডার আশা করছেন, মানুষ শিগগিরই এর বিপদ সম্পর্কে অবহিত হবে, ১০ বছরের মধ্যেই এ উপাদানের ক্ষতি সম্পর্কে সবাই জানবে এবং ২০ বছরের মধ্যেই প্লাস্টিকের বোতলে পানি খাওয়া বন্ধ হয়ে যাবে।

বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর ১ দশমিক ৫ মিলিয়ন টন প্লাস্টিক ব্যবহার করা হয় পানির বোতল তৈরিতে। একবার ভাবলেই বিষয়টি উপলব্ধি করা সম্ভব। কারণ এ বোতল তৈরির ফলে ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ উত্পাদিত হয়। ক্ষতিকর উপাদানগুলোর মধ্যে রয়েছে নিকেল, ইথাইলবেনজিন, ইথিলিন অক্সাইড, বেনজিন প্রভৃতি। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বিশ্বব্যাপী প্রতি সেকেন্ডে প্রায় দেড় হাজার পানির বোতল নিঃশেষ করা হয়। এর কারণে নষ্ট হয় ভূমির উর্বরতা ও ব্যাহত হয় জলাধারের স্বাভাবিক গতি।

আতঙ্কের আরো বিষয় হচ্ছে, প্লাস্টিক থেকে ক্ষতিকর উপাদান দূর করার যে মানদণ্ড দেয়া হয়, বিশ্বব্যাপীই তা মানা হয় না। পরীক্ষায় দেখা গেছে, বিশ্বজুড়েই অন্তত ২২ শতাংশ প্লাস্টিকের বোতলে ক্ষতিকর মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা হয় না। একই সঙ্গে পানির উত্স, এর বিশুদ্ধকরণ প্রক্রিয়া ও দাম বিষয়েও ঘাপলা তৈরি হয়।

সূত্রঃ বনিকবার্তা