স্বাস্থ্যসহায়ক জীবনযাপন স্মৃতির প্রখরতা বাড়ায়


স্বাস্থ্যসহায়ক জীবনযাপন স্মৃতির প্রখরতা বাড়ায়

স্বাস্থ্যসহায়ক সুষম খাদ্য গ্রহণ ও স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন মানুষের স্মৃতির প্রখরতা বাড়ায় এবং ধরে রাখতে সাহায্য করে। বিশেষ করে প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরো বেশি কার্যকর। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে পরিচালিত এক জরিপ থেকে এ তথ্য জানা গেছে। খবর ইউএসএ টুডের।

ইউসিএলএর গবেষকরা ও গ্যালাপ ১৮ বছরের বেশি বয়সী যুক্তরাষ্ট্রের ১৮ হাজার ৫৫২ জন মানুষের ওপর জরিপটি পরিচালনা করেন। এতে দেখা যায়, যেসব ব্যক্তি স্বাস্থ্যসম্মত খাবার গ্রহণ, ধূমপান বর্জন ও নিয়মিত শরীরচর্চা করেন; তাদের স্মৃতি অন্যদের তুলনায় প্রখর। যাদের স্বাস্থ্যসহায়ক জীবনযাপনের অভ্যাস আছে, তারা অন্যদের তুলনায় ২১ শতাংশ কম স্মৃতি-সংক্রান্ত সমস্যায় পড়েন। জরিপে দেখা যায়, ১৮ থেকে ৩৯ বছর বয়সীদের ১৪ শতাংশ স্মৃতি-সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যায় ভোগেন; যা অপ্রত্যাশিত। কারণ এ বয়সে কারো এমন সমস্যায় পড়ার কথা নয়। এছাড়া ৪০ থেকে ৫৯ বছর বয়সীদের মধ্যে এ হার ২২ শতাংশ এবং ৬০ থেকে ৯৯ বছর বয়সীদের মধ্যে ২৬ শতাংশ।

এ বিষয়ে ইউসিএলএ লংজিবিটি সেন্টারের পরিচালক ও জরিপ কার্যটির প্রধান গ্যারি স্মল বলেন, ‘আমরা ধারণা করেছিলাম, শুধু মধ্যবয়সী ও বেশি বয়স্করাই স্মৃতিসম্পর্কীয় নানা জটিলতায় ভোগেন। কিন্তু কম বয়সী যুবক-যুবতীদের মধ্যেও যে এ সমস্যা থাকতে পারে, তা কখনো ভাবিনি।’ তিনি বলেন, সাধারণভাবে বয়স্কদের স্মৃতির সমস্যার সঙ্গে যুবকদের বেশ পার্থক্য আছে। এক্ষেত্রে রক্তচাপ একটি বড় ভূমিকা রাখে। স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন সব বয়সী মানুষেরই বোধশক্তি ভালো রাখতে সহায়তা করে। তিনি বলেন, যদি যুবক বয়সে কেউ স্মৃতিবিভ্রাটজনিত কোনো সমস্যায় ভোগেন, তাহলে বিলম্ব না করে চিকিত্সকের পরামর্শ নেয়া উচিত।

আমেরিকান সোসাইটি ফর নিউট্রিশনের মুখপাত্র ম্যারি অ্যান জনসন বলেন, স্বাস্থ্যসহায়ক জীবনধারণের পাশাপাশি
উপযুক্ত সুষম খাদ্যগ্রহণে হূিপণ্ড ও রক্ত সঞ্চালনও স্বাভাবিক থাকে। মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রমে যথাযথ রক্ত সঞ্চালন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্রঃ বনিকবার্তা

প্লাস্টিক বোতলের পানি থেকে সাবধান


প্লাস্টিক বোতলের পানি থেকে সাবধান
রঙ-ঢঙ ডেস্ক

আকার আর ওজনের সুবিধা মিলিয়ে সারা বিশ্বেই প্লাস্টিকের বোতলজাত পানির কদর বেড়েছে। এর সঙ্গে রয়েছে বোতলজাত পানি ব্যবসায়ীদের নানা বাহারি বিজ্ঞাপন। যে কারণে এটি এখন ফ্যাশনেরও অনুষঙ্গ। তবে এ বোতলজাত পানি কতটা স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য উপকারী, তা নিয়ে সচেতনতাও বাড়ছে। চলছে গবেষণা, নেয়া হচ্ছে নানা উদ্যোগ। অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে অ্যালুমিনিয়াম অথবা স্টিলের বোতলে পানি খেতে। মেলবোর্ন ফ্যাশন উইকের অনুষ্ঠানেও চলতি বছর প্লাস্টিকের বোতলজাত পানি সরবরাহকে নিরুত্সাহিত করা হয়। কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো প্লাস্টিকের ক্ষতিকর উপাদান কমিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছে। কাজও চলছে সেই মাফিক। অস্ট্রেলিয়ার ২০ হাজার মানুষের ওপর জরিপ চালিয়ে দেখা গেছে, তাদের বেশির ভাগই প্লাস্টিকের বোতলে পানি খাওয়ার মতো আধুনিকতা ত্যাগ করতে সম্মত হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার ক্যাথলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষবিদ্যার শিক্ষক ক্রিস উইনডার সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখিয়েছেন প্লাস্টিকের বিক্রিয়া ও মানবশরীরে এর ক্ষতিকর প্রভাব। তিনি জানিয়েছেন, প্লাস্টিক বোতলের পুনর্ব্যবহার ব্যাকটেরিয়াদূষণের জন্য দায়ী। প্রতিবার ব্যবহারের পর তা এমনভাবে ধুতে হবে, যেন অন্য কোনো উপাদান, যেমন- সাবান প্রভৃতি এর সঙ্গে লেগে না থাকে। তাহলে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ থেকে অন্তত রেহাই মিলবে। তবে অবশ্যই তা ঠাণ্ডা পানিতে ধুতে হবে। কারণ তাপে প্লাস্টিকে ব্যবহূত রাসায়নিক পদার্থগুলো উন্মুক্ত হয়; যা শরীরের ক্ষতি করে।

প্লাস্টিক বোতল তৈরি হয় মূলত দুই ধরনের প্লাস্টিক থেকে। এর একটি পলিকার্বন, যা বিসফেনল এ (বিপিএ) থেকে উত্পাদিত এবং অন্যটি পিইটি, যা পলিইথিলিন থেকে উত্পাদিত। পলিইথিলিনকে নিরাপদ বিবেচনা করা হয়। তবে বিপিএ ক্ষতিকর। ১৯৫০ সাল থেকেই বাণিজ্যিকভাবে প্লাস্টিক উত্পাদনে এর ব্যবহার হয়ে আসছে; যার ক্ষতিকর বিষয়গুলো এরই মধ্যে প্রমাণিত।

বিপিএ প্লাস্টিকের আধারে জমে থাকা উপাদান দ্রবীভূত করার ক্ষমতা রাখে। পানিতে এসব উপাদান মিশে যায় সহজেই। ৯৫ শতাংশ মার্কিনের মূত্রে এ রাসায়নিক উপাদানের উপস্থিতি টের পাওয়া গেছে। এর পরিমাণ শিশুদের মধ্যেই বেশি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে।

বিপিএর সঙ্গে এক প্রকার হরমোনের গাঠনিক মিল রয়েছে। এটি ওয়েসট্রোজেন মিকি হরমোন নামে পরিচিত। অধ্যাপক উইনডার জানিয়েছেন, বিপিএ নানা স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির কারণ। যেমন— অনুর্বরতা, মোটা হয়ে যাওয়া, ডায়াবেটিস, গলার ক্যান্সার, এমনকি এ উপাদান কেন্দ্রীয় সংবেদনশীলতাকেও অবশ করে দিতে পারে। স্তন ও জরায়ু ক্যান্সারের কারণও হয়ে উঠতে পারে এ বিপিএ। উইনডার আশা করছেন, মানুষ শিগগিরই এর বিপদ সম্পর্কে অবহিত হবে, ১০ বছরের মধ্যেই এ উপাদানের ক্ষতি সম্পর্কে সবাই জানবে এবং ২০ বছরের মধ্যেই প্লাস্টিকের বোতলে পানি খাওয়া বন্ধ হয়ে যাবে।

বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর ১ দশমিক ৫ মিলিয়ন টন প্লাস্টিক ব্যবহার করা হয় পানির বোতল তৈরিতে। একবার ভাবলেই বিষয়টি উপলব্ধি করা সম্ভব। কারণ এ বোতল তৈরির ফলে ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ উত্পাদিত হয়। ক্ষতিকর উপাদানগুলোর মধ্যে রয়েছে নিকেল, ইথাইলবেনজিন, ইথিলিন অক্সাইড, বেনজিন প্রভৃতি। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বিশ্বব্যাপী প্রতি সেকেন্ডে প্রায় দেড় হাজার পানির বোতল নিঃশেষ করা হয়। এর কারণে নষ্ট হয় ভূমির উর্বরতা ও ব্যাহত হয় জলাধারের স্বাভাবিক গতি।

আতঙ্কের আরো বিষয় হচ্ছে, প্লাস্টিক থেকে ক্ষতিকর উপাদান দূর করার যে মানদণ্ড দেয়া হয়, বিশ্বব্যাপীই তা মানা হয় না। পরীক্ষায় দেখা গেছে, বিশ্বজুড়েই অন্তত ২২ শতাংশ প্লাস্টিকের বোতলে ক্ষতিকর মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা হয় না। একই সঙ্গে পানির উত্স, এর বিশুদ্ধকরণ প্রক্রিয়া ও দাম বিষয়েও ঘাপলা তৈরি হয়।

সূত্রঃ বনিকবার্তা

চলতি প্রজন্ম মিলনের বেস্ট সময় বেছে নিচ্ছে ঘুমভাঙা সকাল


চলতি প্রজন্ম মিলনের বেস্ট সময় বেছে নিচ্ছে ঘুমভাঙা সকাল

স্বাস্থ্য ডেস্ক (২০ ফেব্রুয়ারি , ২০১৩) : 

সেক্স নিয়ে এই প্রজন্মের আর কোনও রাখঢাক নেই। গ্রাসাচ্ছাদনের অতি প্রয়োজনীয়তার বাইরে যে রয়েছে যৌনজীবনের আবশ্যিকতা, তা খুল্লমখুল্লা স্বীকার করেই এই প্রজন্ম বলে- সেক্সের কোনও বয়স হয় না, কোনও সময়ও হয় না। কিন্তু চলতি হাওয়ার প্রতিটা সময় যখন ঘড়ি ধরে একেবারে পাক্কা গুণে গুণে চলে, তখন পারফেক্ট সময়ের তালিকা থেকে সেক্সই বা বাদ যায় কেন? সকালের ৮টার গ্রিন টি বা দুপুরে কাজের ফাঁকে মনে করে ৫মিনিটের বন্ধ চোখের যোগাসন বা সন্ধে ৭টার জিম-

সবেতেই তো টাইমে পাক্কা এই প্রজন্ম। তা, পারফেক্ট টাইমিংয়ের এহেন শিডিউলের নির্দিষ্ট ফাঁকে সেক্সকেও গুঁজে দিতে হবে বলেই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল। আর তার জন্য ঘুম ভাঙার ঠিক পরের সময়টাই আদর্শ!


আসলে সকালের বিশ্রি অ্যালার্মে সাধের ঘুম আর স্বপ্নের পিন্ডি চটকে বেজার মুখে বিছানা ছাড়লে পুরো দিনটাই মাটি। অ্যালার্মের কান ঝালাপালা সকালের চেয়ে তাই বরং একটি মিষ্টি মিলন হোক আপনার দিন শুরুর প্রথম উপহার। মনোরোগ বিশেষজ্ঞ এবং সেক্সোলজিস্টদের মতে রাতের ঘুমপাড়ানিয়া নয়, সেক্স যদি হয় ঘুমভাঙানিয়া- তবেই সম্পর্কের সমীকরণ একদম জমে দই। আর এমন ভাল শুরুর বাকি দিনটাও ফুরফুরে যেতে বাধ্য। ক্লান্ত দিনের শেষে বালিশ আঁকড়ে শুয়ে পড়তে চাইলেও, সেক্স প্যাশনে জর্জরিত চলতি প্রজন্ম কিন্তু মিলনের বেস্ট সময় হিসেবে বেছে নিচ্ছে ঘুমভাঙা সকালকেই।

তাছাড়া অ্যালার্ম আর স্নুজের বিরক্তিকর এপাশ-ওপাশে বিছানা ছাড়ার প্রভাব পড়তে পারে গোটা দিনে। ডাক্তারদের মতে সকালের ঘুমভাঙার পরে ঝরঝরে মনে বিছানা থেকে ওঠাই শরীর ও মনের পক্ষে মঙ্গল। এখন শারীরিক মিলনের চেয়ে রিল্যাক্স আর কীসেই বা হতে পারে? সকালের মিষ্টি শুরুটাই পালটে দেবে পুরো দিনের ছবিটা। তবে হ্যাঁ, ভাল কিছু পাওয়ার জন্য বেশ কিছু নিয়মাবলী অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে। মুখের দুর্গন্ধ কিন্তু শারীরিক মিলনের বড় বাধা। আর সকালের প্রথম চুমুতে এ ঘটনা ঘটাই স্বাভাবিক। কিন্তু খেয়াল করে রাতে শোয়ার আগে ভাল করে ব্রাশ করে নিয়ে মাউথ ওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন। এরপর সিগারেটও চলবে না। দেখবেন সকালের চুমুতে পাশের কাছে মানুষটি আর বিশেষ মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন না।


আরও বলি, সেক্স মানেই তো পুরুষের আগেভাগে এগিয়ে যাওয়ার আধিপত্য আর বিশেষ নেই। তাই মহিলারাই বা কেন সকালের শুরুর শুরুটা করবেন না? চায়ের কাপ হাতে গুড মর্নিং কলের বদলে খানিক গা ঘেঁষে গাঢ় স্বরে স্বামীকে জাগিয়ে তুলুন। প্রাথমিক ছোঁওয়ার উষ্ণতায় প্রিয় মানুষটা একবার মাখামাখি হলে বাকি সময়ের স্বর্গসুখ অনুভবেই পাবেন। আর হ্যাঁ, বিছানার সাইড টেবিলে যেন কন্ডোমের প্যাকেট অবশ্যই রাখা থাকে। সকালের আলস্য কাটিয়ে মন যখন সোহাগে আনচান আরও কিছু চাইছে, তখন ঘরময় ঘুমচোখে কন্ডোমের খোঁজ সব কিছু মাটি করতে পারে।


তা, সকাল সকাল নানান রকম এক্সপেরিমেন্ট চলতে পারে? কেন নয়, এক্সপেরিমেন্ট তো মিলনের একটা বড় অংশ! কিন্তু তা যেন কখনওই বিরক্তির কারণ না-হয়ে যায়। অফিসের তাড়ার কথা মাথায় রেখেই বেশি গদগদ এক্সপেরিমেন্টাল হবেন না। এতে রিল্যাক্স হওয়ার বদলে ‘দৌড়া দৌড়া ভাগা ভাগা সা’ সময়ই জুটবে। এক্সপেরিমেন্টের সময় রাতের জন্য তুলে রেখে শরীরে-মনে এক হয়ে যাওয়ার আনন্দই বা কম কীসে? আর হ্যাঁ, শুধু রাতের বাসি বিছানা কেন? অ্যাটাচড বাথরুমে রোম্যান্সের আইডিয়াল সুযোগও যে এই সকালেই।
এর পর আর কী ভাবছেন বলুন তো? ঘুম ভাঙলেই বসের রাগী মুখ মনে পড়ার পর কি আর এসবে মন দেওয়া যায়? একবার দিয়েই দেখুন না; শরীরে মনে তাজা-ফুরফুরে হয়ে সারাদিনের টেনশন হেলায় কাটিয়ে আপনি কেমন চিরতরুণটিই থেকে যান!

যৌনশক্তি বাড়াতে তরমুজ! 


 

স্বাস্থ্যডেস্ক (২৯ এপ্রিল ১৩) :

কৃত্রিম পন্থায় যৌনশক্তি বাড়াতে ভায়াগ্রা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার অন্ত নেই। এ নীল ট্যাবলেটটির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়েও অনেক বিতর্ক রয়েছে। তবে বিজ্ঞানীরা শেষ পর্যন্ত পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়াহীন প্রাকৃতিক ভায়াগ্রার সন্ধান দিয়েছেন। এ নিরীহ প্রাকৃতিক জিনিসটি আর কিছু নয়, আমাদের অতি পরিচিত তরমুজ। বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন, ভায়াগ্রার মতোই কার্যকর তরমুজ।

টেক্সাস এ অ্যান্ড এম ইউনি-ভার্সিটির গবেষক বিনু পাতিল মিডিয়াকে জানান, নতুন গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, যারা যৌনশক্তির দিক থেকে অক্ষম বা দুর্বল, তাদের সক্ষমতার জন্য তরমুজই প্রাকৃতিক প্রতিষেধক। অর্থাৎ তাদের এখন থেকে আর ভায়াগ্রার পেছনে টাকা না ফেলে তরমুজ বন্দনায় মেতে উঠলেই চলবে। বিনু পাতিল তার সহকর্মীদের নিয়ে গবেষণার পর বিস্ময়করভাবে দেখতে পান, একটি তরমুজে সিট্রোলিন নামের অ্যামাইনো এসিডের পরিমাণ এত বেশি, যা আগে বিজ্ঞানীরা ধারণাও করতে পারেননি।

কারণ বিজ্ঞানীরা মনে করতেন, সিট্রোলিন সাধারণত ফলের অখাদ্য অংশেই বেশি থাকে। বিনু পাতিল বলেন, তরমুজে সিট্রোলিন আছে, এটা আমাদের জানা কথা। কিন্তু এটা জানতাম না, সিট্রোলিনের পরিমাণ তাতে এত বেশি থাকতে পারে। গবেষকরা ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, মানবদেহ সিট্রোলিনকে আর-জিনিনিন নামের যৌগ পদার্থে রূপান্তরিত করে। আরজিনিনিন হচ্ছে ভিন্ন মাত্রার অ্যামাইনো এসিড, যা নাইট্রিক এসিডের অগ্রদূত হিসেবে কাজ করে। আবার নাইট্রিক এসিড দেহের রক্তবাহী শিরা বা ধমনির প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

আর রক্তবাহী শিরা বা ধমনির প্রসারণের কারণেই মানুষের বিশেষ অঙ্গটি সক্রিয় হয়। আর ভায়াগ্রাও দেহের নাইট্রিক এসিডকে সক্রিয় করার মাধ্যমে কৃত্রিম পন্থায় দেহে জৈবিক উত্তেজনা সৃষ্টি করে। গবেষক বিনু পাতিল আশা করছেন, তরমুজের ভায়াগ্রা-গুণটি নিয়ে বিশ্বের গবেষকরা এগিয়ে আসবেন। তবে তার এ গবেষণার ফলকে সবাই এক বাক্যে এখনো মেনে নেননি।

‘দি জার্নাল অফ সেক্সুয়াল মেডিসিন’-এর প্রধান সম্পাদক ইরউয়িন গোল্ডস্টেইন বলেন, বিশেষ অঙ্গের উত্তেজনার জন্য অবশ্যই নাইট্রিক এসিড দরকার। কিন্তু বেশি করে তরমুজ খেলেই তা প্রাকৃতিকভাবেই একই কাজটি করে দেবে, এটা এখনো প্রমাণিত নয়। অবশ্য বিনু পাতিল এখনো নিশ্চিত হতে পারেননি, জৈবিক তাড়না সৃষ্টি করতে একজন অক্ষম লোককে ঠিক কত পরিমাণ তরমুজ গিলতে হবে।

বাহারো ফুল বারসাও…


বিবিসির জরিপে সেরা
বাহারো ফুল বারসাও…

এখনো হয়তো পুরান ঢাকার কিছু সরু গলির টং দোকানে বাজে ষাট/সত্তরের দশকের ভারতীয় গানগুলো। সেই সুবাদেই অনেকের কাছে পরিচিত ১৯৬৬ সালের ‘সুরাজ’ ছবির গান ‘বাহারো ফুল বারসাও মেরা মেহবুব আয়া হ্যায়’। মোহাম্মদ রফির গাওয়া গানটি এখনো ধরে আছে এর আবেদন, যার প্রমাণ মিলল বিবিসির সাম্প্রতিক এক জরিপে। সর্বকালের সেরা ভারতীয় গানের তালিকায় গানটি দখল করল শীর্ষস্থান।

১৯৪০ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত মুক্তি পাওয়া ১০০ জনপ্রিয় গান নিয়ে এ জরিপ পরিচালনা করা হয়। বিবিসি এশিয়ান নেটওয়ার্কের শ্রোতাদের ১০০ গানের তালিকা থেকে ভোটের মাধ্যমে সেরা গানটি বাছাইয়ের সুযোগ দেয়া হয়। সে সময় সবচেয়ে বেশি ভোট আসে সুরাজ ছবির গানটির জন্য। ভারতীয় চলচ্চিত্রের ১০০ বছর উদযাপনকে ঘিরেই এ জরিপ চালায় বিবিসির এশিয়া অঞ্চলের বেতার চ্যানেলটি।

সর্বকালের সেরা গানের তালিকার দ্বিতীয় স্থানে আছে ‘আওয়ারা’ ছবির ‘আওয়ারা হু’ গানটি। আর এর পরই আছে নব্বইয়ের দশকের সবচেয়ে সফল ছবি ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’র ‘তুঝে দেখা তো ইয়ে জানা সানাম’। ‘দিল আপনা অউর প্রিত পারায়’ ছবির ‘আজিব দাস্তা হ্যায় ইয়ে’ গানটি আছে চতুর্থ স্থানে এবং পাঁচে আছে যশ চোপড়ার ক্ল্যাসিক ছবি ‘কাভি কাভি’র গান ‘কাভি কাভি মেরে দিল মে’।

বিবিসির ১০০ গানের প্রাথমিক তালিকাটি তৈরি করেছেন তিনজন। এরা হলেন— ভারতীয় হিপ-হপ গায়িকা হার্ড কর, চলচ্চিত্র সমালোচক রাজীব মসনদ ও বিবিসি এশিয়ান নেটওয়ার্কের অনুষ্ঠান সঞ্চালিকা নওরীন খান।

সেরা দশের তালিকায় থাকা শেষ পাঁচটি গান হলো ‘বীর-জারা’ ছবির ‘তেরে লিয়ে’, ‘শোলে’ ছবির ‘ইয়ে দোস্তি’, ‘মুগল-এ-আজম’র ‘যাব পেয়ার কিয়া তো ডারনা কেয়া’, ‘দিল সে’ ছবির ‘ছাইয়া ছাইয়া’ এবং ‘পাকিজা’ ছবির ‘চলতে চলতে’।


প্রকাশ : ২৩ মে, ২০১৩ ০০:০০:০০


কফি সঞ্জীবনী

বিজ্ঞানীরা আগেই জানিয়েছিলেন, নির্দিষ্ট মাত্রা পর্যন্ত কফি পান স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। কফিতে বিভিন্ন ভিটামিন, খনিজ উপাদান ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে। গত এক দশকে একাধিক গবেষণায় এর আরো গুণের কথা জানা গেছে

মাহফুজউল্লাহ বাবু

গল ব্লাডারে পাথর: হার্ভার্ডের গবেষকরা ২০০২ সালে জানান, দিনে কমপক্ষে চার কাপ কফি পান করেন, এমন নারীদের ক্ষেত্রে গল ব্লাডারে পাথর হওয়ার আশঙ্কা প্রায় ২৫ শতাংশ কম থাকে। এর আগে একই ধরনের এক গবেষণায় পুরুষদের ক্ষেত্রেও এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছেছিলেন বিজ্ঞানীরা।

বিষণ্নতা প্রতিরোধ: ২০১১ সালের এক গবেষণায় দেখা যায়, দিনে দু-তিন কাপ কফি পান করেন, এমন নারীদের মধ্যে বিষণ্নতা জন্মানোর প্রবণতা ১৫ শতাংশ কম এবং চার কাপ বা তারও বেশি কফি পান করা নারীদের ক্ষেত্রে বিষণ্নতায় আক্রান্ত হওয়ার এ হার ২০ শতাংশ কম।

স্মৃতিশক্তি: কফি স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি দুই ধরনের স্মৃতি বাড়াতে সাহায্য করে। ২০০৫ সালে উত্তর আমেরিকার রেডিওলজিক্যাল সোসাইটিতে উপস্থাপিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা যায়, নিয়ন্ত্রিত মাত্রার ক্যাফেইনসমৃদ্ধ কফি দিনে দুই কাপ পান করলে স্বল্পমেয়াদি স্মৃতিশক্তি ও মস্তিষ্কের তাত্ক্ষণিক সাড়া দেয়ার সক্ষমতা বাড়ে। ২০১১ সালে ফ্লোরিডার বিজ্ঞানীরাও জানান, মধ্য বয়স থেকে নিয়মিত চার-পাঁচ কাপ কফি পান অ্যালঝেইমার (বয়স বাড়ার কারণে স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়া) রোগের ঝুঁকি কমায়।

ডায়াবেটিস: দিনে চার কাপ বা তারও বেশি কফি পানের অভ্যাস আছে যাদের, তাদের ক্ষেত্রে টাইপ-২ ডায়বেটিসের ঝুঁকি ৫০ শতাংশ কম থাকে। ২০১২ সালে জার্নাল অব এগ্রিকালচার অ্যান্ড ফুড কেমিস্ট্রিতে এর ব্যাখ্যা দেয়া হয়। কফির বিভিন্ন উপাদান শরীরে এইচআইএপিপি নামে এক ধরনের রাসায়নিক উপাদান প্রতিরোধ করে, যার প্রভাবে টাইপ-২ ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়াতেও কফির প্রভাব রয়েছে।

ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়: শরীরে বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার সৃষ্টিকারী রাসায়নিক উপাদানের (কার্সিনোজেন) মাত্রা কমায় কফি। ২০০৮ সালে সুইডেনে এক গবেষণায় দেখা যায়, দিনে দু-তিন কাপ কফি স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। হার্ভার্ডে সম্প্রতি আরেক গবেষণায় পুরুষদের প্রোস্টেট ক্যান্সার প্রতিরোধে দৈনিক চার-পাঁচ কাপ কফি পানের সুফল দেখানো হয়েছে।

হজম: খাদ্য শরীরে কাজে না লাগিয়ে সরাসরি চর্বিতে রূপান্তর হওয়ার সমস্যা থেকে মুক্তি দেয়ায় কফির ভূমিকা রয়েছে। ১৯৮০ সালেই এটি জানান বিজ্ঞানীরা। তবে ক্যাফেইন নাকি অন্য কোনো উপাদান এ কাজে সহায়তা করে, তা নিশ্চিত বলা যাচ্ছিল না। ২০০৬ সালে জানা যায়, ক্যাফেইনবহির্ভূত অন্যান্য উপাদানের কারণে হজমে দক্ষতা বাড়ে। জাপানের গবেষকরা সম্প্রতি জানান, কফির ক্লোরেজেনিক এসিডের কারণে শর্করা কাজে লাগানোর দক্ষতা বাড়ে দেহে। সবুজ কফিতে উপাদানটি সবচেয়ে বেশি থাকে।

পারকিনসন্স রোগ: একাধিক মার্কিন গবেষণায় দেখা গেছে, তিন-চার কাপ কফি পানের অভ্যাস শেষ বয়সে পারকিনসন্স রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ২৫ শতাংশ কমিয়ে দেয়।

অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট: হার্ভার্ডের গবেষকদের মতে, আমেরিকায় সব ধরনের উদ্ভিজ্জ খাদ্যের মধ্যে অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের সবচেয়ে বড় উত্স হচ্ছে কফি।

সক্রিয়তা: শারীরিক ও মানসিক ক্রিয়াশীলতা বাড়াতে কার্যকর ভূমিকা রাখে কফির ক্যাফেইন। মনোযোগ ও পরিষ্কারভাবে চিন্তা করার সক্ষমতা বাড়ায় কফি। ক্যাফেইন ছাড়াও কফির বেশকিছু উপাদান চিন্তা ও আচরণে জড়তা কমায়।

গেঁটে বাত: শরীরে ইউরিক এসিডের মাত্রা বেড়ে গিয়ে হাড়ের জোড়ায় জোড়ায় প্রদাহ, ফুলে যাওয়া ও ব্যথার সমস্যাই গেঁটে বাত। ক্যাফেইনের মাত্রা নিয়ন্ত্রিত কিংবা নিয়মিত কফি দুটোই ইউরিক এসিডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর। দৈনিক গড়ে ছয় কাপ কফি পান করলে এ ঝুঁকি প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমে আসে।

তবে অতিরিক্ত কোনো কিছুই ভালো নয়। অতিরিক্ত ক্যাফেইন ঘুমে ব্যাঘাত ঘটানো থেকে শুরু করে দীর্ঘমেয়াদে উল্টো বিষণ্নতা ও অস্থিরতার জন্ম দিতে পারে। তিন-চার কাপে সীমাবদ্ধ থাকাই ভালো হবে। তাছাড়া যাদের ঘুমে সমস্যা বেশি হয়, তারা দুপুরের পর কফি এড়িয়ে চলবেন।

ভারতে জমে উঠছে স্থূলতা কমানোর ব্যবসা


প্রকাশ : ২৩ মে, ২০১৩
–New with DIV——–


ভারতে জমে উঠছে স্থূলতা কমানোর ব্যবসা

গড়ে প্রতি বছর ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির কল্যাণে ভারতে অতি ক্ষুধার্তের হার কমেছে। বিপরীতে বেড়েছে অতিরিক্ত ওজন ও স্থূল মানুষের সংখ্যা। এ কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে এখন ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের মতো জীবনক্ষয়ী রোগ ছড়িয়ে পড়ছে।

বণিক বার্তা ডেস্ক

গড়ে প্রতি বছর ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির কল্যাণে ভারতে অতি ক্ষুধার্তের হার কমেছে। বিপরীতে বেড়েছে অতিরিক্ত ওজন ও স্থূল মানুষের সংখ্যা। এ কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে এখন ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের মতো জীবনক্ষয়ী রোগ ছড়িয়ে পড়ছে। তাই স্থূলতা কমাতে ভারতীয়রা অস্ত্র্রোপচারে গুরুত্ব দিচ্ছে। স্থূলতা বেড়ে যাওয়ায় অবিসিটি সার্জারি (স্থূলতা হ্রাসের অস্ত্রোপচার) দেশটির অন্যতম ব্যবসা হয়ে উঠেছে। লন্ডনের বাজার গবেষণাবিষয়ক প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ডাটার সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এ তথ্য পাওয়া যায়। খবর ইকোনমিক টাইমসের।

গবেষণায় বলা হয়, নয়াদিল্লি ও মুম্বাইয়ের মতো শহরে এখন হালকা পাতলা গড়নের চেয়ে অপেক্ষাকৃত মোটা নারীদের সংখ্যাই বেশি চোখে পড়ে। ২০০৯ সালে চেন্নাইয়ের একটি বস্তিতে জরিপ চালিয়ে দেখা যায়, এখানে প্রতি তিনজন নারীর দুজনই স্থূল সমস্যায় রয়েছেন।

দেশটির ৬৩ মিলিয়ন নাগরিক এখন ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের মতো সমস্যায় ভুগছে। এ কারণে এসব রোগী স্থূলতা কমাতে চাইছে। এজন্য তারা অবিসিটি সার্জারির দ্বারস্থ হচ্ছে। এ ধারাকে চালিয়ে নিতে ভারতের ২৫০টি হাসপাতালে ৪০০ সার্জন পেটের চর্বি কমানোর মতো অস্ত্রোপচারের কাজে নিয়োজিত আছেন।

এর ফলে ভারত বিশ্বের ১২০ কোটি ডলারের বেরিয়াট্রিক ডিভাইসের (স্থূলতা কমানো ও নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যবহূত বিভিন্ন উপাদান) একটি উদীয়মান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এরই মধ্যে ভারতে টিটানিয়াম স্টমাক স্ট্যাপল সরবরাহে জনসন অ্যান্ড জনসনের সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে আয়ারল্যান্ডের কভিডেইন পিএলসি। এর মাধ্যমে চলতি বছর ভারতে স্থূলতা অস্ত্রোপচার দ্বিগুণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে এ বছর ১০ হাজার অস্ত্রোপচার হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

গ্লোবালডাটার তথ্যানুযায়ী, ২০১১ সালে বিশ্ব বেরিয়াট্রিক সার্জারি ডিভাইস বাজারে জনসন অ্যান্ড জনসনের শাখা ইথিকন এন্ডো-সার্জারি ইনকরপোরেশনের শেয়ার ছিল ২৪ শতাংশ। এ সময় কভিডেইনের ছিল ২১ শতাংশ, অ্যালারগান ইনকরপোরেশনের ছিল ১৬ শতাংশ।
কভিডেইনের ভারত বিভাগের প্রধান মার্ক রনেই জানান, ‘বেরিয়াট্রিক সার্জারিতে সহায়তা করে ভারতে এমন পণ্যের চাহিদা বাড়ছে, যা আমাদের ব্যবসা সম্প্রসারিত করছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘ভারতে মোট জনসংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশই ১ ডলারের কমে তাদের দৈনন্দিন জীবন নির্বাহ করে। এসব নাগরিক তাদের সুগার নিয়ন্ত্রণ ও অন্যান্য রোগের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ ব্যয় করতে পারে না। এক্ষেত্রে তাদের এ ধরনের চিকিত্সা দেয়া যায়। কারণ আমরা জানি, স্বল্পমূল্যে এটি অনেক ভালো একটি সেবা, যা ভারতের প্রত্যেক নাগরিকই বহন করতে পারবে।’

মুম্বাইয়ের বেসরকারি হাসপাতাল নোভা স্পেশালিটি সার্জারির সার্জন রামেন গোয়েল জানান, এ কোম্পানিগুলো এখন ভালো ব্যবসা করছে। তারা ব্যবসার জন্য এখন ভারতকে অন্যতম লক্ষ্যে পরিণত করেছে। সার্জারির মাধ্যমে এখন ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। শুধু শরীরচর্চার মাধ্যমেই এসব রোগীর স্বাস্থ্য ভালো হবে না। এটি কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

গ্লোবালডাটা জানায়, স্ট্যাপল, স্ট্যাপল গানস ও এ ধরনের অস্ত্রোপচারে ব্যবহূত অন্য উপকরণগুলোর আন্তর্জাতিক বাজার চলতি বছর ৯ দশমিক ৭ শতাংশ বাড়বে। ২০১৮ সাল নাগাদ তা বেড়ে ২৩০ কোটি ডলার হবে।

বিশ্বে স্থূলতা নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে বেশি অস্ত্রোপচার করা হয় যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটির দুই-তৃতীয়াংশ পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তিই অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতার মতো সমস্যায় রয়েছে। দ্য আমেরিকান সোসাইটি ফর মেটাবলিক অ্যান্ড বেরিয়েট্রিক সার্জারির হিসাব অনুযায়ী, ২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রে দুই লাখ ২০ হাজার এ ধরনের অস্ত্রোপচার করা হয়।

ওজন কমানোর অস্ত্রোপচার করলে ডায়াবেটিসসহ স্থূলতাসংশ্লিষ্ট অন্যান্য রোগ দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা যায়— এমন প্রমাণ পাওয়ার পরই এ ধরনের চিকিত্সার জনপ্রিয়তা বাড়ছে। গ্যাস্ট্রিক সার্জারির মাধ্যমে পেটের আকার কমিয়ে আনা হয় এবং ক্যালরি বাড়তে দেয়া না, যার সহায়তায় ওজন কমে যায়। এছাড়া এ ধরনের অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কিছু কিছু পরিবর্তনের মাধ্যমে মানব শরীরের সহায়তাকারী ব্যাক্টেরিয়াগুলোকে অন্ত্রে থাকার সুযোগ করে দেয়া হয়, যা ওজন কমাতে সহায়তা করে। গত মার্চে প্রকাশিত হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির এক গবেষণায় এ তথ্য পাওয়া যায়। শুধু যুক্তরাষ্ট্রের মতো ধনী নয়, উদীয়মান দেশেও এ ধরনের চিকিত্সার জনপ্রিয়তা বাড়ছে। নিম্ন ও মাঝারি আয়ের দেশগুলোয় ছোঁয়াচে ও অপুষ্টিজনিত রোগের হার বেড়ে যাচ্ছে। ফলে এসব দেশের নাগরিকদের স্থূলতার মতো ঝুঁকি বাড়ছে, যাকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ‘দ্বিগুণ বোঝা’ বলে উল্লেখ করেছে। এসব দেশ আধুনিকীকরণের মতো কার্যক্রম শুরুর পরই এ ধরনের সমস্যা বেশি হচ্ছে।

নয়াদিল্লিতে অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সাইন্সেসের অধ্যাপক জানান, সত্যিকারের শিল্পায়িত দেশগুলো এখন এ ধরনের সমস্যায় রয়েছে। ভারতে ২০ বছর ধরে এ সমস্যা চলছে।

ক্যালিফোর্নিয়ায় ফ্রস্ট অ্যান্ড সুলিভিয়ানের শিল্প বিশ্লেষক আরতি শেঠী জানান, গত দুই দশকে ভারতে স্থূল লোকের সংখ্যা ‘নাটকীয়ভাবে বেড়েছে।’ ফলে দেশটিতে স্থূলতা অস্ত্রোপচার বাজারের প্রবৃদ্ধিও বেড়ে চলছে।