যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া ভার্সিটির গভর্নিং বোর্ডের প্রথম মুসলিম সদস্য হলেন সাদিয়া সাইফুদ্দিন

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া ভার্সিটির গভর্নিং বোর্ডের প্রথম মুসলিম সদস্য হলেন সাদিয়া সাইফুদ্দিন

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম বারের মতো একজন মুসলিমকে গভর্নিং বোর্ডের ছাত্র সদস্য হিসেবে নিয়োগ করেছে। আমেরিকান মুসলিম এ ছাত্রীর নাম সাদিয়া সাইফুদ্দিন। ইহুদি গ্র`পগুলোর প্রবল বিরোধিতা সত্ত্বেও তিনি এ নিয়োগ লাভ করেন।২১ বছর বয়স্কা সাদিয়া বার্কেলেতে অবস্থিত মর্যাদা সম্পন্ন ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের ছাত্রী। ১৭ জুলাই বুধবার গভর্নিং বোর্ডের ২৬ জন রিজেন্টের মধ্যে ২৫ জনই তার পক্ষে ভোট প্রদান করেন। একজন রিজেন্ট ভোটদানে অনুপস্থিত থাকেন। সাদিয়া ২০১৪ সালে এক বছর দায়িত্ব পালন করবেন। এ সময় তার ভোটাধিকার থাকবে না। এক বছর পর তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আরভিন ক্যাম্পাসের আইন বিভাগের ছাত্রী সিনথিয়া ফ্লোরেসের স্থলাভিষিক্ত হবেন এবং ভোটাধিকারপ্রাপ্ত হবেন।

বিখ্যাত সাইমন উইসেনথাল সেন্টারসহ ইহুদি গ্রপগুলো তার মনোনয়নের জোর বিরোধিতা করে। তাদের বক্তব্য ছিল যে সাদিয়া সাইফুদ্দিন ইসরাইলের সামরিক বাহিনীর সাথে ব্যবসা আছে এমন সব কোম্পানি থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিল প্রত্যাহারের আন্দোলনের সাথে জড়িত ছিলেন। পাশাপাশি `ইসলামো ফোবিয়া`র (ইসলাম সম্পর্কে ভীতি) বিরুদ্ধে তার স্পষ্টভাষিতা তাকে ক্যাম্পাস রাজনীতির সবচেয়ে বিভক্তি সৃষ্টিকারী বিষয়গুলোর একটি ইসরাইল-ফিলিস্তিন সম্পর্ক -এর একেবারে কেন্দ্রবিন্দুতে স্থাপন করে।

এ উপলক্ষে দেয়া বক্তৃতায় তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থাকে অধিক সংখ্যক ছাত্রের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলার ব্যাপারে তিনি আশাবাদী। আরো পরিষ্কার করে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য অধিক আর্থিক সুবিধার ব্যবস্থা করা এবং সকল ছাত্র-ছাত্রীর জন্য ক্যাম্পাসকে আরো প্রীতিকর করে তোলাই তার লক্ষ্য।

তারা সাদিয়ার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সিনেটে একটি প্রস্তাবের পৃষ্ঠপোষকতা করার অভিযোগ করে। ঐ প্রস্তাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সান্তাক্রুজ ক্যাম্পাসে এক বক্তার নিন্দা করা হয় যিনি `ইসলামোফোবিয়া` বিষয়ে বক্তব্য রাখেন।

উইসেনথাল সেন্টারের রাব্বি আরন হায়ার বলেন, যে বছরটিতে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থার ক্যাম্পাস- পরিবেশ প্রধান বিষয়ে পরিণত হয়েছে, সেখানে ক্যাম্পাস ও এর বাইরে হাজার হাজার মানুষের মেরুকরণের কাজ করেছেন এমন ব্যক্তিকে নিয়োগের জন্য ভোট দেয়া দু:খজনক। একজন উপযুক্ত মুসলিমকে এ পদে নিয়োগ করা হলে তিনি যোগ্যতার সাথে কাজ করতে পারতেন। আমরা সাদিয়াকে যোগ্য প্রার্থী মনে করি না।

সাদিয়ার সমর্থকরা বলেন, তিনি একজন দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী ছাত্রী যিনি সকল ধর্মের ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতি যতবান। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সমিতির সিনেটর ও মুসলিম ছাত্র সমিতির সদস্য হিসেবে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থার কল্যাণে কাজ করেছেন।

ছাত্র রিজেন্ট নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যান রিজেন্ট বনি রিস বলেন, সাদিয়া একজন গুরুত্বপূর্ণ তরুণী নারী। তিনি ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ছাত্র, এ বিশ্ববিদ্যালয় ও তার ভালোবাসার এ দেশটির সেবা করতে অঙ্গীকারবদ্ধ।

রিজেন্ট রিস নিজেও একজন ইহুদি। সাদিয়ার বিরুদ্ধে ইহুদি গ্র`পগুলোর অভিযোগের জবাবে তিনি আরো বলেন, নির্বাচক কমিটি সাদিয়াকে ছাত্র রিজেন্ট নির্বাচিত করত না যদি তারা তাকে সেমিটিক বিরোধী ভাবত।

কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামী রিলেশনসের মুখপাত্র ইবরাহিম হুপার বলেন, সাদিয়ার রাজনীতির সাথে যারা একমত নয় সেই বিরোধীরা অন্যায়ভাবে তাকে জনসেবার কাজে অংশগ্রহণ থেকে বাইরে রাখতে চেয়েছিল।

তিনি বলেন, কোন আমেরিকান মুসলিম যখন প্রতিষ্ঠা লাভ করে বা করতে যায়, আমাদের সমাজের `ইসলামফোবিয়া`গ্রস্ত ক্ষুদ্র অংশটি তার বিরুদ্ধে উঠে পড়ে লাগে এবং তাকে কোণঠাসা ও তার ভোটাধিকার হরণ করতে চায়।

ভোটের পর তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে ফুলছাপ দেয়া হেজাব পরা আনন্দোজ্জ্বল সাদিয়া বলেন, আমি সৌভাগ্যবান। এ পদটি লাভ করতে পেরে আমি খুবই উচ্ছ্বসিত।

Advertisements

তথ্য কণিকা Jahan Hassan জাহান হাসান
Ekush, Publisher/Editor/ Hollywood media hyphenate/ একুশ নিউজ মিডিয়া, লিটল বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস / 1 818 266 7539 / FB: JahanHassan

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s