শীর্ষ কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে বিপাকে মার্কিন সরকার

কৌশলে কর ফাঁকির অভিযোগ

শীর্ষ কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে বিপাকে মার্কিন সরকার

বণিক বার্তা ডেস্ক

বিপুল অঙ্কের কর ফাঁকি দেয়া শীর্ষ প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, প্রচলিত কর আইনে দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে বিদেশের মাটিতে নগদ অর্থের পাহাড় গড়ে তুলছে অ্যাপল, গুগল, ফেসবুকের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো। তবে প্রবল জনসমর্থনের কারণে এদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেয়া কঠিন হবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। খবর টেকটুর।

বিশ্লেষকরা জানান, মন্দা-পরবর্তী যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোই নিত্যনতুন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করছে। অতি উচ্চ জীবনমান আর উপযুক্ত পরিবেশের কারণে এসব কোম্পানিতে কাজ করতে মুখিয়ে থাকেন যেকোনো ব্যক্তিই। আবার এফডব্লিউডি ডট আসের (ফরওয়ার্ড আস) মতো প্রযুক্তিবিদদের রাজনৈতিক সংগঠনগুলোও যথেষ্ট শক্তিশালী। এ গ্রুপের চাপের মুখে সম্প্রতি প্রযুক্তি-সংক্রান্ত অভিবাসন আইনে পরিবর্তন আনতে উদ্যোগী হয়েছে মার্কিন সিনেট।

কোম্পানিগুলোর দাবি, তারা যা করে সবই স্বচ্ছ এবং বাক-স্বাধীনতাকে খুবই গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়। গুগলের প্রধান মূল্যবোধ স্বচ্ছতা; গ্লোবাল নেটওয়ার্ক ইনিশিয়েটিভের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী ব্যক্তি-স্বাধীনতা সমুন্নত রাখার পদক্ষেপ নিয়েছে শীর্ষ সামাজিক যোগাযোগ সাইট ফেসবুক।

বিশ্লেষকদের মতে, স্বাধীনতা ও স্বচ্ছতার ওপর জোর দেয়ায় এসব কোম্পানির প্রতি জনসমর্থনও প্রবল। অন্যদিকে বিশ্বের অন্যান্য দেশের পাশাপাশি মার্কিন সরকারের বিরুদ্ধে নাগরিক স্বাধীনতা খর্ব করার অভিযোগ রয়েছে। যুক্তরাজ্যের দুজন নামি সাংবাদিক তাদের পেশা ছেড়ে যোগ দিয়েছেন গুগলে। এর মধ্যে রয়েছেন বামপন্থী পত্রিকা নিউ স্টেটসম্যানের সম্পাদক জন ক্যাম্ফনার। তিনি আবার সেন্সরশিপের এনজিও সূচকেরও প্রধান। বর্তমানে তিনি গুগলের অবাধ মত ও সংস্কৃতি শাখার এক্সটার্নাল অ্যাডভাইজার হিসেবে কাজ করছেন। বিবিসির তদন্তনির্ভর নিউজনাইট অনুষ্ঠান সম্পাদনা করতেন পিটার ব্যারন। ইরাকে অস্ত্র পাচার-সংক্রান্ত কেলেঙ্কারির ওপর প্রতিবেদন করে ১৯৯৫ সালে রয়েল টেলিভিশন সোসাইটি পদক পেয়েছিলেন তিনি। বর্তমানে তিনি গুগলের ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা শাখার আন্তঃসম্পর্ক বিভাগের প্রধান।

বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের ব্যক্তিরা কখনই চাইবেন না তাদের অধস্তনদের বিপদে ফেলতে। তবে কোম্পানিগুলোর মূল সমস্যা তাদের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গির কারণেই সৃষ্টি হয়েছে। প্রযুক্তি খাতের বাইরের অনেক কোম্পানিই বিপুল অঙ্কের কর ফাঁকি দেয়; কিংবা অর্থ পাচার করে থাকে। রাজনীতিবিদ কিংবা কর্মকর্তাদের হাত করে পারও পেয়ে যায় তারা। অবশ্য এসবই হয়ে থাকে লোকচক্ষুর আড়ালে।

কিন্তু প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর স্বচ্ছ থাকার মনোভাব ও বাক-স্বাধীনতা সমর্থন তাদের জন্য বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বব্যাপী বিপুল আয় করে থাকে অ্যাপল। তাদের হাতে নগদ অর্থের পরিমাণ ১২ হাজার কোটি ডলারের কাছাকাছি। তবে এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছে ৪ হাজার কোটি ডলারের মতো। মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, বাকি অর্থ ইচ্ছা করেই দেশের মাটিতে ফিরিয়ে আনছে না কোম্পানিটি। তবে তারা যেকোনো আইন ভাঙেনি তাও স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে মার্কিন সিনেটে তদন্ত উপকমিটি। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, আশির দশক থেকেই করস্বর্গ বলে পরিচিত আয়ারল্যান্ডে অর্থ জমা রেখে আসছে অ্যাপল। গুগল এবং ফেসবুকের বিরুদ্ধেও এ দেশের পাশাপাশি ক্যারিবীয় অঞ্চলের বিভিন্ন ব্যাংকে অর্থের মজুদ গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে।

কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেই আইন ভঙ্গের প্রমাণ দেখাতে সক্ষম হয়নি মার্কিন সিনেট। এ কারণে এসব কোম্পানির প্রতি নৈতিক স্খলনের মতো আপেক্ষিক অভিযোগ এনেই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে রাজনীতিবিদদের। গত বছর আইনের ফাঁকফোকরের সুযোগে ঋণাত্মক কর পরিশোধ করে ফেসবুক। এ ঘটনায় মার্কিন কোষাগার থেকে উল্টো ৪২ কোটি ৯০ লাখ ডলার পায় বিশ্বের শীর্ষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটি। জাকারবার্গসহ অন্যান্য অংশীদারের সম্পদের আর্থিক মূল্য পড়তির দিকে থাকায় এ সুযোগ পায় কোম্পানিটি। সব মিলিয়ে ১ হাজার ৬০০ কোটি ডলার বেচে যায় ফেসবুকের। বিশ্লেষক ও আইনপ্রণেতারা জানান, ফেসবুক যে পদ্ধতিতে কর রেয়াত নিয়েছে, তা আইনগতভাবে পুরোপুরি বৈধ। কিন্তু এত বড় একটি প্রতিষ্ঠানের এ ধরনের কার্যক্রম অন্যদের কর ফাঁকি দেয়ায় উত্সাহিত করবে তা বলাই বাহুল্য। সিনেটর কার্ল লেভিন বলেন, ‘আমাদের ট্যাক্স কোডে এত ফাঁকফোকর দেখে যতটা না স্তম্ভিত হয়েছি; তার চেয়ে বেশি নাড়া খেয়েছে বিবেক, কীভাবে এ রকম ঘটনা ঘটল?’

মে মাসে অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা টিম কুকসহ প্রতিষ্ঠানটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এক শুনানিতে হাজির করে সিনেট। তার কয়েক দিন আগে কংগ্রেসের প্রতিবেদনে জানানো হয়, অ্যাপল যে পদ্ধতিতে কর দেয়; তা নিয়ে সংশয় আছে। বিশ্লেষকরা জানান, ৩০ বছর আগে আয়ারল্যান্ডে কৌশলগত কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ সরিয়ে নেয় কোম্পানিটি। যুক্তরাজ্যের এ প্রতিবেশী দেশটিতে করপোরেট করের হার খুবই কম। এমনিতে ব্যবসা কৌশল হিসেবে এটা দারুণ একটা উদাহরণ হতে পারত। কিন্তু কার্ল লেভিন মনে করেন, এত বড় একটা কোম্পানি এভাবে কর ফাঁকি দেয়ার ব্যবস্থা নেবে, তা মোটেও মেনে নেয়া যায় না।

এদিকে বিশ্লেষকরা জানান, সিনেটে কর ফাঁকি অভিযোগ শুনানিতে অংশ নিলেও টিম কুককে মোটেও বিচলিত মনে হয়নি। এক বিবৃতিতে অ্যাপল প্রধান পাল্টা দাবি করেন যে, তার কোম্পানি কোনো ধরনে ছলচাতুরির সাহায্য নেয় না।

জাহান হাসান ফেস বুক

Jahan Hassan in San Jose at the FaceBook main office


সূত্রঃ বনিকবার্তা

Advertisements

তথ্য কণিকা Jahan Hassan জাহান হাসান
Ekush, Publisher/Editor/ Hollywood media hyphenate/ একুশ নিউজ মিডিয়া, লিটল বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস / 1 818 266 7539 / FB: JahanHassan

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s