টিফা (Trade and Investment Framwork Agreement বা TIFA)


জাতীয় স্বার্থ বজায় রেখেই হোক টিকফা
রাশিদুল ইসলাম নাহিদ

টিকফা চুক্তি নিয়ে দরকষাকষি হচ্ছে অনেক দিন আগ থেকে। তবে আগে এর নাম ছিল টিফা (Trade and Investment Framwork Agreement বা TIFA)। ১৩টি ধারা ও ১৯টি প্রস্তাবনাসংবলিত চুক্তিটির প্রথম খসড়া প্রণয়ন করা হয় ২০০২ সালে। ২০০৪ ও ২০০৫ সালে চুক্তির খসড়াটিতে সংশোধন আনা হয়। চুক্তিটির খসড়া প্রণয়নের পর থেকেই দেশের নানা মহল থেকে এর সমালোচনা ও বিরোধিতা করা হয়। ফলে আজ অবধি এ চুক্তি বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি। ওই সমালোচনা ও বিরোধিতা সামাল দেয়ার প্রয়াসে টিফার সঙ্গে সহযোগিতা শব্দটি যোগ করা হয়।

টিকফা চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রও নাছোড়বান্দা। বুশ, ওবামা সবার আমলেই বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের টিকফা স্বাক্ষরের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা। আগে বলা হয়েছিল, টিকফা স্বাক্ষরিত না হলে দুই দেশের সহযোগিতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। ক্রমাগত চাপাচাপি করেও বাংলাদেশকে রাজি করাতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু সাভারে ভবনধসের ঘটনায় অসংখ্য শ্রমিকের মৃত্যু তাদের জন্য এনে দিয়েছে মোক্ষম সুযোগ। বলা হলো, এ ঘটনার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশ যে জিএসপি সুবিধা পেয়ে আসছে তার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ড্যান মোজিনা পরোক্ষভাবে বলেই দিলেন টিকফা স্বাক্ষর না হলে শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা বাতিল করা হবে। আর এ ভয় থেকেই আমাদের রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকরা জিএসপি রক্ষায় টিকফা স্বাক্ষরে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অথচ বিশেষজ্ঞরা এ চুক্তি না করার ব্যাপারে সরকারকে পরামর্শ দিচ্ছেন।

টিকফা চুক্তির মাধ্যমে উদারীকরণ, মুক্তবাজার, ব্যক্তি খাতের অবাধ আন্তর্জাতিক প্রবাহ, পুঁজি বিনিয়োগ, বাজার সংরক্ষণ নীতি পরিহার, মুনাফা স্থানান্তরের অবাধ গ্যারান্টি ও মেধাস্বত্ব আইন বাস্তবায়নের মাধ্যমে এ দেশের অর্থনীতিকে মূলত ‘পুঁজিবাদী-সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বায়নের’ কাঠামোর মধ্যে আটকে ফেলার একটি ব্যবস্থাপত্র বাস্তবায়ন করতে চলেছে যুক্তরাষ্ট্র। অথচ আমাদের নীতিনির্ধারকরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সুর মিলিয়ে বলছেন, টিকফা স্বাক্ষর হলে তেমন অসুবিধা হবে না বরং যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি বাড়বে এবং বেশি বিনিয়োগ আসবে। কিন্তু চুক্তির কাঠামো সে কথা বলে না।

বরং চুক্তিটি কার্যকর হলে দেশের সেবা খাতগুলো রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত হয়ে মার্কিন বহুজাতিক কোম্পানির দখলে চলে যাবে। এতে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে দেশীয় কোম্পানিগুলোর স্বার্থ বিঘ্নিত হবে। অবাধ মুনাফা অর্জনের জন্য বিদেশী কোম্পানিগুলো সেবা যেমন— টেলিযোগাযোগ, বিদ্যুত্, গ্যাস, পানি, চিকিত্সা, শিক্ষা, বন্দর প্রভৃতি ও পণ্যের দাম বাড়বে।

টিকফা চুক্তিতে উল্লেখ আছে— ১৯৮৬ সালে স্বাক্ষরিত যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ চুক্তি। সে চুক্তি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে বিশেষ সুবিধা পাবে, তাদের অর্জিত মুনাফা বা পুঁজির ওপর কর থাকবে না এবং বিনিয়োগ প্রত্যাহার করে নেয়া হলে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। তবে এ চুক্তির ফলে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কোনো পক্ষ ব্যর্থ হলে অন্য পক্ষকে সহযোগিতা দেয়া হবে। সেক্ষেত্রে চুক্তিটি হলে মার্কিন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতির আশঙ্কা থাকবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
টিফা চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র নির্দিষ্ট সময়ের আগেই মেধাস্বত্ব আইন মানতে বাধ্য করছে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে। টিকফা চুক্তির ফলে বাংলাদেশকে ২০১৬ সালের আগেই মেধাস্বত্ব আইন মেনে চলতে হবে। চুক্তির প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, বাণিজ্য-সম্পর্কিত মেধাস্বত্ব অধিকার (TRIPS), অন্যান্য প্রচলিত মেধাস্বত্ব আইনের যথাযথ এবং কার্যকর রক্ষণাবেক্ষণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে। অর্থাত্ মেধাস্বত্ব প্রতিষ্ঠা পেলে তা আমাদের দেশকে মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন করবে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতেই দেশকে সফটওয়্যার লাইসেন্স ফি বাবদ ৫ হাজার কোটি টাকা (৬০ কোটি ডলার) ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে। তৈরি পোশাকশিল্পকেও ব্র্যান্ড নামে ব্যবহূত এ দেশে তৈরি অ্যাকসেসরিজের জন্য সংশ্লিষ্ট মার্কিন কোম্পানিকে রয়্যালিটি দিতে হবে।

বাংলাদেশকে টিকফা চুক্তি স্বাক্ষরে বাধ্য করতে যুক্তরাষ্ট্র এত তত্পর হওয়ার অন্যতম কারণ হলো, একটি স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে বাংলাদেশ বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে তৃতীয় বিশ্বের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ মাঝে মধ্যেই পেয়ে থাকে। এসব স্থানে মার্কিন স্বার্থের বিরোধিতা করার সুযোগ থেকে বাংলাদেশকে বিরত রাখাটা টিকফা চুক্তির অন্যতম লুক্কায়িত এজেন্ডা বলে ধারণা। টিকফা চুক্তির খসড়ায় ১৮ নম্বর প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ একত্রে ‘দোহা ডেভেলপমেন্ট এজন্ডোর’ সফল বাস্তবায়নে সহযোগিতামূলক প্রয়াস শক্তিশালী করবে। এ চুক্তির ফলে বহুপক্ষীয়ভাবে যেকোনো বিরোধ
নিরসনের সুযোগ হারাবে বাংলাদেশ।

টিকফা চুক্তিতে বলা হয়েছে, শ্রম আইন পরিপালন করতে হবে। শ্রমিকদের অধিকার রক্ষার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে এবং পরিবেশের মান বজায় রাখার পাশাপাশি সুশাসনের বিষয়টিও এ চুক্তির অধীনে কার্যকর করা হবে। প্রকৃতপক্ষে টিকফার প্রস্তাবনায় মানবাধিকার, শ্রমের মান ও শ্রমজীবীদের অধিকার এবং পরিবেশগত বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হলেও তার লক্ষ্য শ্রমজীবীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা নয়; বরং এগুলোকে ব্যবহারপূর্বক যুক্তরাষ্ট্র তার বাজারে বাংলাদেশী পণ্যের রফতানি ইচ্ছামতো নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে।
বলা হচ্ছে, এ চুক্তি স্বাক্ষরের পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ কয়েক গুণ বাড়বে। সেসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়বে বাংলাদেশী পণ্য রফতানিও। এ রকম চুক্তি নাকি পাকিস্তান, সৌদি আরব, শ্রীলংকা, ভিয়েতনাম, ইরাক, উরুগুয়েসহ বিশ্বের ৩০টিরও বেশি দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র স্বাক্ষর করেছে। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, কোন দেশের সঙ্গে এ চুক্তি করা হবে— সেটা নির্ভর করে করপোরেট স্বার্থ আর ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্বের ওপর। যুক্তরাষ্ট্র কেবল মুনাফা অর্জনের জন্যই একটি দেশের সঙ্গে চুক্তি করে না বরং এর মাধ্যমে একটি দেশকে নিজ প্রভাব বলয়ে নিয়ে এসে ওই অঞ্চলের ওপর আধিপত্য বৃদ্ধির চেষ্টা করে। যেমন উরুগুয়ের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে ওই অঞ্চলের ঐক্যের মাঝে ফাটল ধরানো হয়েছে।
মূলত জিএসপি রক্ষার কথা বলে আমাদের সরকার টিকফা চুক্তিতে সম্মত হয়েছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশী রফতানি পণ্য পোশাকশিল্পের জন্য কোনো জিএসপি সুবিধা দেয় না। যুক্তরাষ্ট্রে রফতানিকৃত ৯৭ শতাংশ পণ্যের ক্ষেত্রে জিএসপি সুবিধা দেয়া হলেও বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের পণ্য তার আওতার বাইরে থাকায় আর্থিকভাবে তেমন লাভবান হচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পণ্য রফতানিতে প্রধান বাধা হচ্ছে শুল্ক বাধা। বাংলাদেশী পোশাক রফতানিকারকদের যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ১৫.৩ শতাংশ শুল্ক দিতে হয়, অন্যদিকে চীন পরিশোধ করে মাত্র ৩ শতাংশ। তৈরি পোশাকের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকারের লোভ দেখিয়ে এ চুক্তি বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র অথচ চুক্তিতে তৈরি পোশাকের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকারের নিশ্চয়তা নেই। টিকফা চুক্তির খসড়ায় পণ্য ও পুঁজির চলাচলকে অবাধ করার কথা বলা হলেও শ্রমশক্তির অবাধ যাতায়াতের সুবিধার কথা কিছুই রাখা হয়নি।
উল্লিখিত প্রস্তাবনাগুলোর আলোকে টিকফা স্বাক্ষর হলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে যাওয়া আর সম্ভব হবে না বরং তাদের শৃঙ্খলে আবদ্ধ হবে বাংলাদেশ। এ কারণে টিকফা চুক্তি নিয়ে তাড়াহুড়া করে অগ্রসর না হয়ে জনগণের সামনে চুক্তির রূপরেখা তুলে ধরা চাই। বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করে ও চুক্তির ধারা-উপধারায় জাতীয় স্বার্থের বিষয়গুলো বিন্যস্ত করার দিকে মনোযোগ দেয়া আবশ্যক।

লেখক: শিক্ষার্থী
nahidir09@gmail.com
সূত্রঃ বনিকবার্তা

Advertisements

প্লাস্টিক বোতলের পানি থেকে সাবধান


প্লাস্টিক বোতলের পানি থেকে সাবধান
রঙ-ঢঙ ডেস্ক

আকার আর ওজনের সুবিধা মিলিয়ে সারা বিশ্বেই প্লাস্টিকের বোতলজাত পানির কদর বেড়েছে। এর সঙ্গে রয়েছে বোতলজাত পানি ব্যবসায়ীদের নানা বাহারি বিজ্ঞাপন। যে কারণে এটি এখন ফ্যাশনেরও অনুষঙ্গ। তবে এ বোতলজাত পানি কতটা স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য উপকারী, তা নিয়ে সচেতনতাও বাড়ছে। চলছে গবেষণা, নেয়া হচ্ছে নানা উদ্যোগ। অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে অ্যালুমিনিয়াম অথবা স্টিলের বোতলে পানি খেতে। মেলবোর্ন ফ্যাশন উইকের অনুষ্ঠানেও চলতি বছর প্লাস্টিকের বোতলজাত পানি সরবরাহকে নিরুত্সাহিত করা হয়। কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো প্লাস্টিকের ক্ষতিকর উপাদান কমিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছে। কাজও চলছে সেই মাফিক। অস্ট্রেলিয়ার ২০ হাজার মানুষের ওপর জরিপ চালিয়ে দেখা গেছে, তাদের বেশির ভাগই প্লাস্টিকের বোতলে পানি খাওয়ার মতো আধুনিকতা ত্যাগ করতে সম্মত হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার ক্যাথলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষবিদ্যার শিক্ষক ক্রিস উইনডার সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখিয়েছেন প্লাস্টিকের বিক্রিয়া ও মানবশরীরে এর ক্ষতিকর প্রভাব। তিনি জানিয়েছেন, প্লাস্টিক বোতলের পুনর্ব্যবহার ব্যাকটেরিয়াদূষণের জন্য দায়ী। প্রতিবার ব্যবহারের পর তা এমনভাবে ধুতে হবে, যেন অন্য কোনো উপাদান, যেমন- সাবান প্রভৃতি এর সঙ্গে লেগে না থাকে। তাহলে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ থেকে অন্তত রেহাই মিলবে। তবে অবশ্যই তা ঠাণ্ডা পানিতে ধুতে হবে। কারণ তাপে প্লাস্টিকে ব্যবহূত রাসায়নিক পদার্থগুলো উন্মুক্ত হয়; যা শরীরের ক্ষতি করে।

প্লাস্টিক বোতল তৈরি হয় মূলত দুই ধরনের প্লাস্টিক থেকে। এর একটি পলিকার্বন, যা বিসফেনল এ (বিপিএ) থেকে উত্পাদিত এবং অন্যটি পিইটি, যা পলিইথিলিন থেকে উত্পাদিত। পলিইথিলিনকে নিরাপদ বিবেচনা করা হয়। তবে বিপিএ ক্ষতিকর। ১৯৫০ সাল থেকেই বাণিজ্যিকভাবে প্লাস্টিক উত্পাদনে এর ব্যবহার হয়ে আসছে; যার ক্ষতিকর বিষয়গুলো এরই মধ্যে প্রমাণিত।

বিপিএ প্লাস্টিকের আধারে জমে থাকা উপাদান দ্রবীভূত করার ক্ষমতা রাখে। পানিতে এসব উপাদান মিশে যায় সহজেই। ৯৫ শতাংশ মার্কিনের মূত্রে এ রাসায়নিক উপাদানের উপস্থিতি টের পাওয়া গেছে। এর পরিমাণ শিশুদের মধ্যেই বেশি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে।

বিপিএর সঙ্গে এক প্রকার হরমোনের গাঠনিক মিল রয়েছে। এটি ওয়েসট্রোজেন মিকি হরমোন নামে পরিচিত। অধ্যাপক উইনডার জানিয়েছেন, বিপিএ নানা স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির কারণ। যেমন— অনুর্বরতা, মোটা হয়ে যাওয়া, ডায়াবেটিস, গলার ক্যান্সার, এমনকি এ উপাদান কেন্দ্রীয় সংবেদনশীলতাকেও অবশ করে দিতে পারে। স্তন ও জরায়ু ক্যান্সারের কারণও হয়ে উঠতে পারে এ বিপিএ। উইনডার আশা করছেন, মানুষ শিগগিরই এর বিপদ সম্পর্কে অবহিত হবে, ১০ বছরের মধ্যেই এ উপাদানের ক্ষতি সম্পর্কে সবাই জানবে এবং ২০ বছরের মধ্যেই প্লাস্টিকের বোতলে পানি খাওয়া বন্ধ হয়ে যাবে।

বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর ১ দশমিক ৫ মিলিয়ন টন প্লাস্টিক ব্যবহার করা হয় পানির বোতল তৈরিতে। একবার ভাবলেই বিষয়টি উপলব্ধি করা সম্ভব। কারণ এ বোতল তৈরির ফলে ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ উত্পাদিত হয়। ক্ষতিকর উপাদানগুলোর মধ্যে রয়েছে নিকেল, ইথাইলবেনজিন, ইথিলিন অক্সাইড, বেনজিন প্রভৃতি। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বিশ্বব্যাপী প্রতি সেকেন্ডে প্রায় দেড় হাজার পানির বোতল নিঃশেষ করা হয়। এর কারণে নষ্ট হয় ভূমির উর্বরতা ও ব্যাহত হয় জলাধারের স্বাভাবিক গতি।

আতঙ্কের আরো বিষয় হচ্ছে, প্লাস্টিক থেকে ক্ষতিকর উপাদান দূর করার যে মানদণ্ড দেয়া হয়, বিশ্বব্যাপীই তা মানা হয় না। পরীক্ষায় দেখা গেছে, বিশ্বজুড়েই অন্তত ২২ শতাংশ প্লাস্টিকের বোতলে ক্ষতিকর মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা হয় না। একই সঙ্গে পানির উত্স, এর বিশুদ্ধকরণ প্রক্রিয়া ও দাম বিষয়েও ঘাপলা তৈরি হয়।

সূত্রঃ বনিকবার্তা

শীর্ষ কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে বিপাকে মার্কিন সরকার


কৌশলে কর ফাঁকির অভিযোগ

শীর্ষ কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে বিপাকে মার্কিন সরকার

বণিক বার্তা ডেস্ক

বিপুল অঙ্কের কর ফাঁকি দেয়া শীর্ষ প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, প্রচলিত কর আইনে দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে বিদেশের মাটিতে নগদ অর্থের পাহাড় গড়ে তুলছে অ্যাপল, গুগল, ফেসবুকের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো। তবে প্রবল জনসমর্থনের কারণে এদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেয়া কঠিন হবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। খবর টেকটুর।

বিশ্লেষকরা জানান, মন্দা-পরবর্তী যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোই নিত্যনতুন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করছে। অতি উচ্চ জীবনমান আর উপযুক্ত পরিবেশের কারণে এসব কোম্পানিতে কাজ করতে মুখিয়ে থাকেন যেকোনো ব্যক্তিই। আবার এফডব্লিউডি ডট আসের (ফরওয়ার্ড আস) মতো প্রযুক্তিবিদদের রাজনৈতিক সংগঠনগুলোও যথেষ্ট শক্তিশালী। এ গ্রুপের চাপের মুখে সম্প্রতি প্রযুক্তি-সংক্রান্ত অভিবাসন আইনে পরিবর্তন আনতে উদ্যোগী হয়েছে মার্কিন সিনেট।

কোম্পানিগুলোর দাবি, তারা যা করে সবই স্বচ্ছ এবং বাক-স্বাধীনতাকে খুবই গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়। গুগলের প্রধান মূল্যবোধ স্বচ্ছতা; গ্লোবাল নেটওয়ার্ক ইনিশিয়েটিভের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী ব্যক্তি-স্বাধীনতা সমুন্নত রাখার পদক্ষেপ নিয়েছে শীর্ষ সামাজিক যোগাযোগ সাইট ফেসবুক।

বিশ্লেষকদের মতে, স্বাধীনতা ও স্বচ্ছতার ওপর জোর দেয়ায় এসব কোম্পানির প্রতি জনসমর্থনও প্রবল। অন্যদিকে বিশ্বের অন্যান্য দেশের পাশাপাশি মার্কিন সরকারের বিরুদ্ধে নাগরিক স্বাধীনতা খর্ব করার অভিযোগ রয়েছে। যুক্তরাজ্যের দুজন নামি সাংবাদিক তাদের পেশা ছেড়ে যোগ দিয়েছেন গুগলে। এর মধ্যে রয়েছেন বামপন্থী পত্রিকা নিউ স্টেটসম্যানের সম্পাদক জন ক্যাম্ফনার। তিনি আবার সেন্সরশিপের এনজিও সূচকেরও প্রধান। বর্তমানে তিনি গুগলের অবাধ মত ও সংস্কৃতি শাখার এক্সটার্নাল অ্যাডভাইজার হিসেবে কাজ করছেন। বিবিসির তদন্তনির্ভর নিউজনাইট অনুষ্ঠান সম্পাদনা করতেন পিটার ব্যারন। ইরাকে অস্ত্র পাচার-সংক্রান্ত কেলেঙ্কারির ওপর প্রতিবেদন করে ১৯৯৫ সালে রয়েল টেলিভিশন সোসাইটি পদক পেয়েছিলেন তিনি। বর্তমানে তিনি গুগলের ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা শাখার আন্তঃসম্পর্ক বিভাগের প্রধান।

বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের ব্যক্তিরা কখনই চাইবেন না তাদের অধস্তনদের বিপদে ফেলতে। তবে কোম্পানিগুলোর মূল সমস্যা তাদের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গির কারণেই সৃষ্টি হয়েছে। প্রযুক্তি খাতের বাইরের অনেক কোম্পানিই বিপুল অঙ্কের কর ফাঁকি দেয়; কিংবা অর্থ পাচার করে থাকে। রাজনীতিবিদ কিংবা কর্মকর্তাদের হাত করে পারও পেয়ে যায় তারা। অবশ্য এসবই হয়ে থাকে লোকচক্ষুর আড়ালে।

কিন্তু প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর স্বচ্ছ থাকার মনোভাব ও বাক-স্বাধীনতা সমর্থন তাদের জন্য বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বব্যাপী বিপুল আয় করে থাকে অ্যাপল। তাদের হাতে নগদ অর্থের পরিমাণ ১২ হাজার কোটি ডলারের কাছাকাছি। তবে এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছে ৪ হাজার কোটি ডলারের মতো। মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, বাকি অর্থ ইচ্ছা করেই দেশের মাটিতে ফিরিয়ে আনছে না কোম্পানিটি। তবে তারা যেকোনো আইন ভাঙেনি তাও স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে মার্কিন সিনেটে তদন্ত উপকমিটি। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, আশির দশক থেকেই করস্বর্গ বলে পরিচিত আয়ারল্যান্ডে অর্থ জমা রেখে আসছে অ্যাপল। গুগল এবং ফেসবুকের বিরুদ্ধেও এ দেশের পাশাপাশি ক্যারিবীয় অঞ্চলের বিভিন্ন ব্যাংকে অর্থের মজুদ গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে।

কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেই আইন ভঙ্গের প্রমাণ দেখাতে সক্ষম হয়নি মার্কিন সিনেট। এ কারণে এসব কোম্পানির প্রতি নৈতিক স্খলনের মতো আপেক্ষিক অভিযোগ এনেই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে রাজনীতিবিদদের। গত বছর আইনের ফাঁকফোকরের সুযোগে ঋণাত্মক কর পরিশোধ করে ফেসবুক। এ ঘটনায় মার্কিন কোষাগার থেকে উল্টো ৪২ কোটি ৯০ লাখ ডলার পায় বিশ্বের শীর্ষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটি। জাকারবার্গসহ অন্যান্য অংশীদারের সম্পদের আর্থিক মূল্য পড়তির দিকে থাকায় এ সুযোগ পায় কোম্পানিটি। সব মিলিয়ে ১ হাজার ৬০০ কোটি ডলার বেচে যায় ফেসবুকের। বিশ্লেষক ও আইনপ্রণেতারা জানান, ফেসবুক যে পদ্ধতিতে কর রেয়াত নিয়েছে, তা আইনগতভাবে পুরোপুরি বৈধ। কিন্তু এত বড় একটি প্রতিষ্ঠানের এ ধরনের কার্যক্রম অন্যদের কর ফাঁকি দেয়ায় উত্সাহিত করবে তা বলাই বাহুল্য। সিনেটর কার্ল লেভিন বলেন, ‘আমাদের ট্যাক্স কোডে এত ফাঁকফোকর দেখে যতটা না স্তম্ভিত হয়েছি; তার চেয়ে বেশি নাড়া খেয়েছে বিবেক, কীভাবে এ রকম ঘটনা ঘটল?’

মে মাসে অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা টিম কুকসহ প্রতিষ্ঠানটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এক শুনানিতে হাজির করে সিনেট। তার কয়েক দিন আগে কংগ্রেসের প্রতিবেদনে জানানো হয়, অ্যাপল যে পদ্ধতিতে কর দেয়; তা নিয়ে সংশয় আছে। বিশ্লেষকরা জানান, ৩০ বছর আগে আয়ারল্যান্ডে কৌশলগত কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ সরিয়ে নেয় কোম্পানিটি। যুক্তরাজ্যের এ প্রতিবেশী দেশটিতে করপোরেট করের হার খুবই কম। এমনিতে ব্যবসা কৌশল হিসেবে এটা দারুণ একটা উদাহরণ হতে পারত। কিন্তু কার্ল লেভিন মনে করেন, এত বড় একটা কোম্পানি এভাবে কর ফাঁকি দেয়ার ব্যবস্থা নেবে, তা মোটেও মেনে নেয়া যায় না।

এদিকে বিশ্লেষকরা জানান, সিনেটে কর ফাঁকি অভিযোগ শুনানিতে অংশ নিলেও টিম কুককে মোটেও বিচলিত মনে হয়নি। এক বিবৃতিতে অ্যাপল প্রধান পাল্টা দাবি করেন যে, তার কোম্পানি কোনো ধরনে ছলচাতুরির সাহায্য নেয় না।

জাহান হাসান ফেস বুক

Jahan Hassan in San Jose at the FaceBook main office


সূত্রঃ বনিকবার্তা

সন্ত্রাসবাদ দমনে বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসায় যুক্তরাষ্ট্র


মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের প্রতিবেদন

সন্ত্রাসবাদ দমনে বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসায় যুক্তরাষ্ট্র

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় বাংলাদেশ সরকারের কার্যক্রমের প্রশংসা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর প্রকাশিত সন্ত্রাসবাদ দমনবিষয়ক বার্ষিক প্রতিবেদনে এ প্রশংসা করা হয়। ‘কান্ট্রি রিপোর্টস অন টেরোরিজম ২০১২’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি গতকাল শুক্রবার প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনে দেশীয় ও আন্তঃদেশীয় সন্ত্রাস দমনে বাংলাদেশের নেয়া পদক্ষেপ এবং প্রতিশ্রুতির প্রশংসা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি বলছে, বাংলাদেশের নেয়া পদক্ষেপের কারণে বাংলাদেশের মাটিতে সন্ত্রাসীদের তত্পরতা চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

তবে সন্ত্রাসীদের বিচারিক প্রক্রিয়া ধীর বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তার পরও ‘সন্ত্রাসবাদ দমন অধ্যাদেশ ২০০৯’ ফৌজদারি আইন পূর্ণাঙ্গভাবে প্রয়োগের পথে বাংলাদেশ এগোচ্ছে বলে মনে করে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের স্থল, নৌ ও বিমানবন্দরের নিরাপত্তা আরো জোরদারে বাংলাদেশকে সহায়তা করছে যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশের সরকারি কৌঁসুলিরা সন্ত্রাসবাদ নিয়ে দক্ষতা বৃদ্ধিতে ধারাবাহিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগে প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। এছাড়া মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের আর্থিক সহায়তায় অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে নিয়ে ২০১২ সালে বাংলাদেশ একটি ন্যাশনাল একাডেমী ফর সিকিউরিটি ট্রেনিং চালু করেছে। যেখানে সন্ত্রাস দমনে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।

আইন প্রণয়ন, আইনের প্রয়োগ ও সীমান্ত নিরাপত্তা, মাদক পাচার, জঙ্গি অর্থায়ন রোধ, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং মৌলবাদ ও উগ্র সন্ত্রাসবাদ দমন নিয়ে পুরো প্রতিবেদনে আলোচনা করা হয়েছে। জঙ্গি অর্থায়ন রোধে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অর্থ পাচার রোধ আইনেও পরিবর্তন আনা হয়েছে।

সন্ত্রাসবাদ দমনে সার্কের আওতায় বেশকিছু স্মারকে স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ। পাশাপাশি জাতিসংঘের দেয়া বৈশ্বিক সন্ত্রাস প্রতিরোধ কৌশলও অবলম্বন করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ও পররাষ্ট্রনীতি আঞ্চলিক দেশগুলো বিশেষ করে ভারত দ্বারা প্রভাবিত। অতীতে দুই দেশের সম্পর্কের কারণে আন্তঃদেশীয় সন্ত্রাসবাদ হুমকিতে ছিল। কিন্তু বর্তমানে দুই দেশের আন্তরিকতায় সন্ত্রাসবাদ দমনে পারস্পরিক সহযোগিতা উন্নত ও সম্প্রসারিত হয়েছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোয় পুরোপুরি সক্রিয় ছিল। এছাড়া বাংলাদেশ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আর্থিক অপরাধ এবং জঙ্গি অর্থায়নসহ অন্যান্য অপরাধ তদন্তে সহায়তাবিষয়ক সমঝোতা স্মারক সই করেছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর মনে করে, ২০১২ সালে বাংলাদেশ ‘পারস্পরিক আইনি সহায়তা’ নামে একটি আইন প্রণয়ন করে, যা সন্ত্রাসবাদ দমনে
বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়াবে। সেই সঙ্গে মৌলবাদ ও উগ্র সন্ত্রাসবাদ দমনে শিক্ষা ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নেয়া উদ্যোগেরও প্রশংসা করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

jahan Hassan Dan Mozena Ekush News Media

US praises Bangladesh’s counterterrorism efforts
But it says judiciary moves slowly
UNB, Dhaka

Counterterrorism

The US has highly appreciated Bangladesh’s role in combating terrorism saying its counterterrorism efforts made it harder for transnational terrorists to operate in or establish safe havens in Bangladeshi territory but said the judiciary moved slowly in processing terrorism and other criminal cases in general.

“…Bangladesh has demonstrated its commitment to combating domestic and transnational terrorist groups,” the ‘Country Reports on Terrorism 2012’ of the US State Department said in its Bangladesh part.

It mentioned that the South Asia remains a frontline in the battle against terrorism.

US assistance supports programmes for Bangladeshi civilian, law enforcement, and military counterparts to build their capacity to monitor, detect, and prevent terrorism.

The report considers Bangladesh as an influential counterterrorism partner in the region, and mentioned that the country continued to make strides against domestic and international terrorism. Besides, Bangladesh and India improved and expanded counterterrorism cooperation.

Despite the absence of major terrorist incidents on their territory, governments in the five Central Asian states were concerned about the possibility of a growing threat connected to changes in the international force presence in Afghanistan in 2014.

Legislation, Law Enforcement and Border Security

Bangladesh’s criminal justice system is in the process of fully implementing the Antiterrorism Act of 2009. However, the judiciary moved slowly in processing terrorism and other criminal cases in general.

Bangladesh cooperated with the United States to further strengthen control of its borders and land, sea, and air ports of entry. It continued to participate in the Department of State’s Antiterrorism Assistance program and cooperated with the Department of Justice’s efforts to provide prosecutorial skills training to its assistant public prosecutors, encourage greater cooperation between police and prosecutors, and institute community policing in targeted areas of the country.

With financial support from the United States and other partners, Bangladesh established a National Academy for Security Training in 2012 and began to provide counterterrorism training courses.

Countering Terrorist Finance

Bangladesh is a member of the Asia/Pacific Group on Money Laundering, a Financial Action Task Force (FATF)-style regional body.

The Bangladesh Bank (the central bank) and its Financial Intelligence Unit/Anti-Money Laundering Section lead the government’s effort to comply with the international sanctions regime.

FATF has identified Bangladesh’s implementation of UNSCRs 1267 and 1373 as a deficiency in its laws. Bangladesh formed an interagency committee to address this issue, and has drafted regulations to implement both of these provisions.

While Bangladesh’s Anti-Terrorism Act criminalised terrorist financing, FATF has recommended that Bangladesh amend its laws to meet international standards and to clarify remaining ambiguities.

The interagency committee mentioned above has begun revising the legislation to satisfy FATF’s concerns in this regard.

Regional and International Cooperation

Bangladesh is party to various counterterrorism protocols under the South Asian Association for Regional Cooperation and is bringing the country’s counterterrorism efforts in line with the four pillars of the UN Global Counter-Terrorism Strategy.

Bangladesh’s foreign and domestic policies are heavily influenced by the region’s major powers, particularly India.

In past years the Indo-Bangladesh relationship provided openings for transnational threats, but the current government has demonstrated its interest in regional cooperation on counterterrorism. Bangladesh was active in the full range of international fora.

In 2012, Bangladesh enacted a mutual legal assistance law that will allow for greater international cooperation. It has also signed memoranda of understanding with a number of countries to share evidence regarding criminal investigations, including investigations related to financial crimes and terrorist financing.

Countering Radicalisation and Violent Extremism

Bangladesh uses strategic communication to counter violent extremism, especially among youth.

The Ministry of Education provides oversight for madrassas and is developing a standard national curriculum that includes language, math, and science curricula; and minimum standards of secular subjects to be taught in all primary schools, up to the eighth grade.

The Ministry of Religious Affairs and the National Committee on Militancy Resistance and Prevention work with imams and religious scholars to build public awareness against terrorism.
“The Government of Bangladesh is also actively expanding economic opportunities for women as it views economic empowerment for women as a buffer against violent extremist messages of male religious leaders,” the report says.

About Pakistan it said the country continued to experience significant terrorist violence, including sectarian attacks.

Although terrorist attacks occurred in 85 different countries in 2012, they were heavily concentrated geographically. As in recent years, over half of all attacks (55%), fatalities (62%), and injuries (65%) occurred in just three countries: Pakistan, Iraq, and Afghanistan, the report says.
সূত্রঃ বনিকবার্তা

চলতি প্রজন্ম মিলনের বেস্ট সময় বেছে নিচ্ছে ঘুমভাঙা সকাল


চলতি প্রজন্ম মিলনের বেস্ট সময় বেছে নিচ্ছে ঘুমভাঙা সকাল

স্বাস্থ্য ডেস্ক (২০ ফেব্রুয়ারি , ২০১৩) : 

সেক্স নিয়ে এই প্রজন্মের আর কোনও রাখঢাক নেই। গ্রাসাচ্ছাদনের অতি প্রয়োজনীয়তার বাইরে যে রয়েছে যৌনজীবনের আবশ্যিকতা, তা খুল্লমখুল্লা স্বীকার করেই এই প্রজন্ম বলে- সেক্সের কোনও বয়স হয় না, কোনও সময়ও হয় না। কিন্তু চলতি হাওয়ার প্রতিটা সময় যখন ঘড়ি ধরে একেবারে পাক্কা গুণে গুণে চলে, তখন পারফেক্ট সময়ের তালিকা থেকে সেক্সই বা বাদ যায় কেন? সকালের ৮টার গ্রিন টি বা দুপুরে কাজের ফাঁকে মনে করে ৫মিনিটের বন্ধ চোখের যোগাসন বা সন্ধে ৭টার জিম-

সবেতেই তো টাইমে পাক্কা এই প্রজন্ম। তা, পারফেক্ট টাইমিংয়ের এহেন শিডিউলের নির্দিষ্ট ফাঁকে সেক্সকেও গুঁজে দিতে হবে বলেই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল। আর তার জন্য ঘুম ভাঙার ঠিক পরের সময়টাই আদর্শ!


আসলে সকালের বিশ্রি অ্যালার্মে সাধের ঘুম আর স্বপ্নের পিন্ডি চটকে বেজার মুখে বিছানা ছাড়লে পুরো দিনটাই মাটি। অ্যালার্মের কান ঝালাপালা সকালের চেয়ে তাই বরং একটি মিষ্টি মিলন হোক আপনার দিন শুরুর প্রথম উপহার। মনোরোগ বিশেষজ্ঞ এবং সেক্সোলজিস্টদের মতে রাতের ঘুমপাড়ানিয়া নয়, সেক্স যদি হয় ঘুমভাঙানিয়া- তবেই সম্পর্কের সমীকরণ একদম জমে দই। আর এমন ভাল শুরুর বাকি দিনটাও ফুরফুরে যেতে বাধ্য। ক্লান্ত দিনের শেষে বালিশ আঁকড়ে শুয়ে পড়তে চাইলেও, সেক্স প্যাশনে জর্জরিত চলতি প্রজন্ম কিন্তু মিলনের বেস্ট সময় হিসেবে বেছে নিচ্ছে ঘুমভাঙা সকালকেই।

তাছাড়া অ্যালার্ম আর স্নুজের বিরক্তিকর এপাশ-ওপাশে বিছানা ছাড়ার প্রভাব পড়তে পারে গোটা দিনে। ডাক্তারদের মতে সকালের ঘুমভাঙার পরে ঝরঝরে মনে বিছানা থেকে ওঠাই শরীর ও মনের পক্ষে মঙ্গল। এখন শারীরিক মিলনের চেয়ে রিল্যাক্স আর কীসেই বা হতে পারে? সকালের মিষ্টি শুরুটাই পালটে দেবে পুরো দিনের ছবিটা। তবে হ্যাঁ, ভাল কিছু পাওয়ার জন্য বেশ কিছু নিয়মাবলী অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে। মুখের দুর্গন্ধ কিন্তু শারীরিক মিলনের বড় বাধা। আর সকালের প্রথম চুমুতে এ ঘটনা ঘটাই স্বাভাবিক। কিন্তু খেয়াল করে রাতে শোয়ার আগে ভাল করে ব্রাশ করে নিয়ে মাউথ ওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন। এরপর সিগারেটও চলবে না। দেখবেন সকালের চুমুতে পাশের কাছে মানুষটি আর বিশেষ মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন না।


আরও বলি, সেক্স মানেই তো পুরুষের আগেভাগে এগিয়ে যাওয়ার আধিপত্য আর বিশেষ নেই। তাই মহিলারাই বা কেন সকালের শুরুর শুরুটা করবেন না? চায়ের কাপ হাতে গুড মর্নিং কলের বদলে খানিক গা ঘেঁষে গাঢ় স্বরে স্বামীকে জাগিয়ে তুলুন। প্রাথমিক ছোঁওয়ার উষ্ণতায় প্রিয় মানুষটা একবার মাখামাখি হলে বাকি সময়ের স্বর্গসুখ অনুভবেই পাবেন। আর হ্যাঁ, বিছানার সাইড টেবিলে যেন কন্ডোমের প্যাকেট অবশ্যই রাখা থাকে। সকালের আলস্য কাটিয়ে মন যখন সোহাগে আনচান আরও কিছু চাইছে, তখন ঘরময় ঘুমচোখে কন্ডোমের খোঁজ সব কিছু মাটি করতে পারে।


তা, সকাল সকাল নানান রকম এক্সপেরিমেন্ট চলতে পারে? কেন নয়, এক্সপেরিমেন্ট তো মিলনের একটা বড় অংশ! কিন্তু তা যেন কখনওই বিরক্তির কারণ না-হয়ে যায়। অফিসের তাড়ার কথা মাথায় রেখেই বেশি গদগদ এক্সপেরিমেন্টাল হবেন না। এতে রিল্যাক্স হওয়ার বদলে ‘দৌড়া দৌড়া ভাগা ভাগা সা’ সময়ই জুটবে। এক্সপেরিমেন্টের সময় রাতের জন্য তুলে রেখে শরীরে-মনে এক হয়ে যাওয়ার আনন্দই বা কম কীসে? আর হ্যাঁ, শুধু রাতের বাসি বিছানা কেন? অ্যাটাচড বাথরুমে রোম্যান্সের আইডিয়াল সুযোগও যে এই সকালেই।
এর পর আর কী ভাবছেন বলুন তো? ঘুম ভাঙলেই বসের রাগী মুখ মনে পড়ার পর কি আর এসবে মন দেওয়া যায়? একবার দিয়েই দেখুন না; শরীরে মনে তাজা-ফুরফুরে হয়ে সারাদিনের টেনশন হেলায় কাটিয়ে আপনি কেমন চিরতরুণটিই থেকে যান!

যৌনশক্তি বাড়াতে তরমুজ! 


 

স্বাস্থ্যডেস্ক (২৯ এপ্রিল ১৩) :

কৃত্রিম পন্থায় যৌনশক্তি বাড়াতে ভায়াগ্রা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার অন্ত নেই। এ নীল ট্যাবলেটটির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়েও অনেক বিতর্ক রয়েছে। তবে বিজ্ঞানীরা শেষ পর্যন্ত পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়াহীন প্রাকৃতিক ভায়াগ্রার সন্ধান দিয়েছেন। এ নিরীহ প্রাকৃতিক জিনিসটি আর কিছু নয়, আমাদের অতি পরিচিত তরমুজ। বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন, ভায়াগ্রার মতোই কার্যকর তরমুজ।

টেক্সাস এ অ্যান্ড এম ইউনি-ভার্সিটির গবেষক বিনু পাতিল মিডিয়াকে জানান, নতুন গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, যারা যৌনশক্তির দিক থেকে অক্ষম বা দুর্বল, তাদের সক্ষমতার জন্য তরমুজই প্রাকৃতিক প্রতিষেধক। অর্থাৎ তাদের এখন থেকে আর ভায়াগ্রার পেছনে টাকা না ফেলে তরমুজ বন্দনায় মেতে উঠলেই চলবে। বিনু পাতিল তার সহকর্মীদের নিয়ে গবেষণার পর বিস্ময়করভাবে দেখতে পান, একটি তরমুজে সিট্রোলিন নামের অ্যামাইনো এসিডের পরিমাণ এত বেশি, যা আগে বিজ্ঞানীরা ধারণাও করতে পারেননি।

কারণ বিজ্ঞানীরা মনে করতেন, সিট্রোলিন সাধারণত ফলের অখাদ্য অংশেই বেশি থাকে। বিনু পাতিল বলেন, তরমুজে সিট্রোলিন আছে, এটা আমাদের জানা কথা। কিন্তু এটা জানতাম না, সিট্রোলিনের পরিমাণ তাতে এত বেশি থাকতে পারে। গবেষকরা ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, মানবদেহ সিট্রোলিনকে আর-জিনিনিন নামের যৌগ পদার্থে রূপান্তরিত করে। আরজিনিনিন হচ্ছে ভিন্ন মাত্রার অ্যামাইনো এসিড, যা নাইট্রিক এসিডের অগ্রদূত হিসেবে কাজ করে। আবার নাইট্রিক এসিড দেহের রক্তবাহী শিরা বা ধমনির প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

আর রক্তবাহী শিরা বা ধমনির প্রসারণের কারণেই মানুষের বিশেষ অঙ্গটি সক্রিয় হয়। আর ভায়াগ্রাও দেহের নাইট্রিক এসিডকে সক্রিয় করার মাধ্যমে কৃত্রিম পন্থায় দেহে জৈবিক উত্তেজনা সৃষ্টি করে। গবেষক বিনু পাতিল আশা করছেন, তরমুজের ভায়াগ্রা-গুণটি নিয়ে বিশ্বের গবেষকরা এগিয়ে আসবেন। তবে তার এ গবেষণার ফলকে সবাই এক বাক্যে এখনো মেনে নেননি।

‘দি জার্নাল অফ সেক্সুয়াল মেডিসিন’-এর প্রধান সম্পাদক ইরউয়িন গোল্ডস্টেইন বলেন, বিশেষ অঙ্গের উত্তেজনার জন্য অবশ্যই নাইট্রিক এসিড দরকার। কিন্তু বেশি করে তরমুজ খেলেই তা প্রাকৃতিকভাবেই একই কাজটি করে দেবে, এটা এখনো প্রমাণিত নয়। অবশ্য বিনু পাতিল এখনো নিশ্চিত হতে পারেননি, জৈবিক তাড়না সৃষ্টি করতে একজন অক্ষম লোককে ঠিক কত পরিমাণ তরমুজ গিলতে হবে।

বাহারো ফুল বারসাও…


বিবিসির জরিপে সেরা
বাহারো ফুল বারসাও…

এখনো হয়তো পুরান ঢাকার কিছু সরু গলির টং দোকানে বাজে ষাট/সত্তরের দশকের ভারতীয় গানগুলো। সেই সুবাদেই অনেকের কাছে পরিচিত ১৯৬৬ সালের ‘সুরাজ’ ছবির গান ‘বাহারো ফুল বারসাও মেরা মেহবুব আয়া হ্যায়’। মোহাম্মদ রফির গাওয়া গানটি এখনো ধরে আছে এর আবেদন, যার প্রমাণ মিলল বিবিসির সাম্প্রতিক এক জরিপে। সর্বকালের সেরা ভারতীয় গানের তালিকায় গানটি দখল করল শীর্ষস্থান।

১৯৪০ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত মুক্তি পাওয়া ১০০ জনপ্রিয় গান নিয়ে এ জরিপ পরিচালনা করা হয়। বিবিসি এশিয়ান নেটওয়ার্কের শ্রোতাদের ১০০ গানের তালিকা থেকে ভোটের মাধ্যমে সেরা গানটি বাছাইয়ের সুযোগ দেয়া হয়। সে সময় সবচেয়ে বেশি ভোট আসে সুরাজ ছবির গানটির জন্য। ভারতীয় চলচ্চিত্রের ১০০ বছর উদযাপনকে ঘিরেই এ জরিপ চালায় বিবিসির এশিয়া অঞ্চলের বেতার চ্যানেলটি।

সর্বকালের সেরা গানের তালিকার দ্বিতীয় স্থানে আছে ‘আওয়ারা’ ছবির ‘আওয়ারা হু’ গানটি। আর এর পরই আছে নব্বইয়ের দশকের সবচেয়ে সফল ছবি ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’র ‘তুঝে দেখা তো ইয়ে জানা সানাম’। ‘দিল আপনা অউর প্রিত পারায়’ ছবির ‘আজিব দাস্তা হ্যায় ইয়ে’ গানটি আছে চতুর্থ স্থানে এবং পাঁচে আছে যশ চোপড়ার ক্ল্যাসিক ছবি ‘কাভি কাভি’র গান ‘কাভি কাভি মেরে দিল মে’।

বিবিসির ১০০ গানের প্রাথমিক তালিকাটি তৈরি করেছেন তিনজন। এরা হলেন— ভারতীয় হিপ-হপ গায়িকা হার্ড কর, চলচ্চিত্র সমালোচক রাজীব মসনদ ও বিবিসি এশিয়ান নেটওয়ার্কের অনুষ্ঠান সঞ্চালিকা নওরীন খান।

সেরা দশের তালিকায় থাকা শেষ পাঁচটি গান হলো ‘বীর-জারা’ ছবির ‘তেরে লিয়ে’, ‘শোলে’ ছবির ‘ইয়ে দোস্তি’, ‘মুগল-এ-আজম’র ‘যাব পেয়ার কিয়া তো ডারনা কেয়া’, ‘দিল সে’ ছবির ‘ছাইয়া ছাইয়া’ এবং ‘পাকিজা’ ছবির ‘চলতে চলতে’।