সচল হচ্ছে চেক জালিয়াতির কয়েক হাজার মামলা

সচল হচ্ছে চেক জালিয়াতির কয়েক হাজার মামলা

চেক প্রত্যাখ্যান মামলার বিচারে হিসাবধারীকে সুরক্ষা দিতে নিম্ন আদালতকে সংশ্লিষ্ট আইনের ধারাগুলো বিবেচনা করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে নিম্ন আদালতে কার্যক্রম স্থগিত থাকা এ সংক্রান্ত কয়েক হাজার মামলা চলবে বলে উল্লেখ করেছেন আদালত। গতকাল এ-সংক্রান্ত রুলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি শেষে বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় দেন।

এ রায়ের ফলে নিম্ন আদালতে বিচারাধীন চেক জালিয়াতির মামলাগুলোর ওপর হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ উঠে যাবে এবং মামলাগুলো আবার সচল হবে বলে জানান রিটকারীর আইনজীবী ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান।
https://i0.wp.com/www.ourinfoshare.com/wp-content/uploads/2011/05/Bounced-Check-060609L_0.jpg
আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম, অ্যাডভোকেট শাহ মো. মুনীর শরীফ, ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান প্রমুখ। বিপক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার এএফ হাসান আরিফ। রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা শুনানি করেন।

রিটকারীর আইনজীবী শাহ মো. মুনীর শরীফ সাংবাদিকদের জানান, ১৮৮১ সালের নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় বলা হয়, ঋণ বা দেনার বিপরীতে দেয়া কোনো চেক প্রত্যাখ্যাত হলে হিসাবধারীকে সাজা দেয়া যাবে। কিন্তু ২০০০ সালের ৬ জুলাই এ ধারা সংশোধন করে ‘ঋণ বা দেনার বিপরীতে’ শব্দ বাদ দেয়া হয়। ফলে সব ধরনের চেক প্রত্যাখ্যানের ঘটনাই শাস্তিযোগ্য অপরাধ হয়ে যায়। চেক প্রত্যাখ্যাত হলে চেকে উল্লিখিত টাকার তিন গুণ জরিমানা ও ১ বছর কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। গত বছরের নভেম্বরে সংশোধনীটির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করা হয়।

রিটের কার্যক্রম চলাকালে বিভিন্ন সময়ে আদালতে এমিকাস কিউরি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মাহমুদুল ইসলাম, ব্যারিস্টার রফিক-উল হক, ড. এম জহির, অ্যাডভোকেট এমআই ফারুকী, এম জহির, রুকনউদ্দিন মাহমুদ প্রমুখ। তারা প্রত্যেকেই সংশোধনীটি যথার্থ নয় বলে মত দেন বলে জানান মুনীর শরীফ।
তিনি আরও জানান, ১৩৮ ধারায় মিসটিক ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খালেদা চৌধুরী প্রতিষ্ঠানটির মালিক শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে নিম্ন আদালতে মামলা করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে শফিকুল ইসলাম আইনের ২০০০ সালের সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন। রিটটির ওপর প্রাথমিক শুনানি শেষে গত বছরের ১৪ নভেম্বর রুল জারি করেন আদালত। রুলে ‘আইনটির এ সংশোধনীকে কেন অবৈধ ও বেআইনি ঘোষণা করা হবে না’ তা জানতে চাওয়া হয়। এ ছাড়া একই বিষয়ে বেশ কয়েকটি রিট এবং রুল জারি করা হয়। এসব রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে গতকাল রায় দেয় হাইকোর্ট।

তিনি বলেন, এ আইনের ৪, ৬, ৮, ৯, ৪৩, ৫৮ ও ১১৮ ধারায় হিসাবধারীর পর্যাপ্ত সুরক্ষার বিষয়ে বলা হয়েছে। তাই হাইকোর্ট ১৩৮ ধারায় দায়ের করা মামলার বিচারের ক্ষেত্রে অন্য ধারাগুলোও বিবেচনা করার নির্দেশ দিয়েছেন। নিম্ন আদালতকে এখন থেকে এ রায় অনুসরণ করে মামলা নিষ্পত্তি করতে হবে বলেও হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়েছে।
Source: http://www.bonikbarta.com/?view=details&pub_no=162&menu_id=31&index=1

Advertisements

তথ্য কণিকা Jahan Hassan জাহান হাসান
Ekush, Publisher/Editor/ Hollywood media hyphenate/ একুশ নিউজ মিডিয়া, লিটল বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস / 1 818 266 7539 / FB: JahanHassan

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s