একটি ছবির গল্প

একটি ছবির গল্প [ লস এঞ্জেলেস প্রবাসী মাসুদ হাসানের ৪ সহোদর ডিসেম্বর ১৪, ১৯৭১ তারিখে বিশ্বাসঘাতক রাজাকারদের হাতে নির্মমভাবে নিহত হয় – আমরা তাদেরসহ সকল নিহত-আহত মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সম্মান জানাই – জাহান হাসান, একুশ নিউজ মিডিয়া ]
শফিকুল ইসলাম স্বপন
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বরের সকালবেলা তখনো সম্পূর্ণ মুক্ত হয়নি দেশ, তখনো সারেন্ডার হয়নি, রাস্তাঘাটে পাকসেনা হাঁটছে। হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে মুক্তিযোদ্ধারা এসে জমায়েত হচ্ছে। ভারতীয় ট্যাঙ্ক এসে জমা হচ্ছে। মৃত্যু ভয়ে নয়, আমার খুব খারাপ লাগছিল, তাই আমি দাঁড়াতে পারছিলাম না। শাহার শহীদ হয় ১৪ ডিসেম্বর রাতে। আমাদের ঢাকা গ্রুপের মানিক ভাই শহীদ হন ১৪ নভেম্বর। তারপর নাসির উদ্দীন ইউসুফ ছিলেন আমাদের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড। তিনি আমাদের কমান্ডার হলেন এবং ঢাকা শহরের দায়িত্ব ছিল আসাদের উপর। সাভারে আমাদের ট্রেনিং ক্যাম্প। সেখান থেকে ঢাকা এসেছিলাম ফিল্ম এবং ওষুধপত্র নিয়ে যেতে। সম্ভবত ডিসেম্বরের প্রথম দিকে অথবা নভেম্বরের শেষে। সব যোগাড়-যন্ত্র করে যখন আমাদের সাভারের ট্রনিং ক্যাম্পে ফিরব, হঠাত্ খবর পেলাম ঢাকার ভেতরে আমরা যারা আছি তারা যেন কোন অবস্থাতেই ঢাকা শহর থেকে বেরিয়ে না যাই। সামনেই ঢাকা শহরে শুরু হবে প্রচণ্ড আক্রমণ এবং আমরা ভেতরে যারা আছি তাদেরকে প্রয়োজনে জীবন দিয়ে হলেও শহরের ভেতরে যুদ্ধ করতে হবে। তাই প্রত্যেকের কাছে একটি করে অস্ত্র রেখে যার যার অবস্থানে থাকতে হবে।

শফিকুল ইসলাম স্বপন

শফিকুল ইসলাম স্বপন


আগেও আমাদের অস্ত্র ধরা পড়ে, সবশেষে আমাদের অস্ত্র একসাথে জমা ছিল শাহারদের বাসায়, ফার্মগেটের খুব কাছে। সেদিন ১৫ ডিসেম্বর সকালবেলা বাবলু (যে বাবলুর সাথে আমি পালিয়েছিলাম এক কাপড়ে), আসাদ আর আমার দুলাভাই মাহবুব মোরশেদ রেলওয়েতে ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন (তিনি আজ নেই), প্রচণ্ডভাবে আমাদেরকে সাহায্য করতেন রেলওয়ের সমস্ত ম্যাপ থেকে শুরু করে যত কিছু আমাদের প্রয়োজন হয়েছে সব কিছুতেই। দুলাভাই বলেন— “সবার যাওয়ার দরকার নেই। স্বপন তুই থাক। Air Action কিছু হলে তুই ছবি তুলতে পারবি। বরং আমি গাড়ি নিয়ে আসাদকে আর বাবলুকে নিয়ে যাচ্ছি। শাহারের বাসা থেকে আমরা তোদের অস্ত্রগুলো নিয়ে আসি। বস্তায় ভরে, গাড়ির পেছনে করে নিয়ে আসি, কেউ টের পাবে না”। প্রচণ্ডআর বাবলু দুলাভাইয়ের সাথে গাড়ি নিয়ে গেল। আমি বাসায় অপেক্ষায়। অনেকক্ষণ পর ফিরে এলেন দুলাভাই। সভার মুখ কালো, কেউ কিছু বলছে না। আমাকে শুধু বললেন-অস্ত্র আনতে পারিনি। পরে কখন যেন দুলাভাই আমাকে আস্তে আস্তে বুঝিয়ে বলেন যে, গতরাতে শাহারের বাসায় আর্মিরা হামলা করেছিল। শাহারের এক বন্ধু অথবা পরিচিত কেউ একজন গোপনে আর্মিকে খবর দেয়। শাহাররা চারজন একসাথে ছিল ওই রাতে। ওর বাবা-মা অন্য জায়গায় থাকতো। ওদেরকে মেরে ফেলে রেখে গেছে উঠানে। ওরা উঠানে পড়ে আছে এবং বাড়িতে কোন অস্ত্রশস্ত্র নেই। যা ছিল সব নিয়ে গেছে। দেখেই বুঝা যায় হয়তো বন্ধু বেশে ডাক দিয়েছে, শাহার একটু বাইরে আয়। সরল বিশ্বাসে হয়তো শাহার দরজা খুলেছিল এবং চারজনকেই ১৪ ডিসেম্বর রাতে একই সাথে শহীদ হতে হলো। ওই পাড়ার অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধা ছেলেরা অবশ্য সেই বিশ্বাসঘাতক রাজাকারকে ১৬ তারিখ সকালে ধরে নিয়ে এসেছিল। আমি এক মুহূর্ত দাঁড়িয়ে একটা ছবি তুলেই আবার চলে যাই অন্যদিকে। প্রচণ্ড কষ্ট পেয়েছিলাম বুকের ভেতরে। আজও সেই কষ্ট আমি ধারণ করে আছি, যা কোনোদিন ভুলবো না, ভোলা যায় না।
লেখক : চলচ্চিত্র গ্রাহক ও আলোকচিত্র শিল্পী

Source: http://ittefaq.com.bd/index.php?ref=MjBfMTJfMDRfMTJfMV8yXzFfMTIwNg==
মাসুদ হাসানের কথাঃ
In this story Shapan Bhi describe my brother’s Makon,Roton, Lucky and Shaher, my 4 brother’s whom Pakistani army killed on 14th December 1971 in our framgate house. As like he said our house was a depot for 3/4 group of muktizodda’s arms and ammunition. Shahar was known as TIGER SHAHAR in Manic group with Shapan bhai, Naseruddin Yosuf Bachoo and actor/movie hero Assad.
মাসুদ হাসান Masud Hassan

মাসুদ হাসান Masud Hassan


On 16th December around 3 pm me ,my father, my younger brother and few hundred Muktizodda together put them in rest in front our house. May GOD bless them. Actually 5 member of my family was killed that 14th December 1971 in our framgate house my four brother’s and my cousin Nehal bhi.Shahar was memder of Manic group, Lucky was member of Mostafa Mohossin Montoo group and Nahal was member of student leader Khosru (later known as Hero Khosru in ORA AGARO ZON movie) and Roton was a member in a intelligent group working in Tejgon Airport my older brother also a member with them working in State Bank Pakistan now Bangladesh bank.

Advertisements

তথ্য কণিকা Jahan Hassan জাহান হাসান
Ekush, Publisher/Editor/ Hollywood media hyphenate/ একুশ নিউজ মিডিয়া, লিটল বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস / 1 818 266 7539 / FB: JahanHassan

2 Responses to একটি ছবির গল্প

  1. Murad says:

    A GRAND SALUTE TO THEM and SALUTE to all other MUKTIJUDDAH who fight for our Nation, our motherland BANGLADESH. Please Pray for all the MUKTIJUDDAH those are a live and those sacrificed their life in the 1971 MUKTIJUDDOH. Please also remember they have done their part to form a New Nation (BANGLADESH) and now it is OUR TURN to make it better. I strongly believe we (Generation born in Free Bangladesh after 1971) have the courage and strength to positively change the Nation and make OUR and All the MUKTIJUDDAH’s Dream come TRUE.

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: