বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ক্যালিফোর্ণিয়ার বিজয় দিবস উদযাপন ২০১২ (Victory Day Celebration, 2012)


বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ক্যালিফোর্ণিয়ার বিজয় দিবস উদযাপন ২০১২
(Victory Day Celebration, 2012)

১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মত লস এঞ্জেলেসেও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ক্যালিফোর্ণিয়া বিজয় দিবস
উদযাপন করে। স্থানীয় স্টার অব ইন্ডিয়া রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত মহান বিজয় দিবসের ৪১তম বার্ষিকী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা সাঈদুর রহমান পাটেল, বিশেষ অতিথি যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মোস্তাইন দারা বিল্লাহ, ইংলিশ চ্যানেল বিজয়ী সাতারু স্বাধীনতা দিবস পদক প্রাপ্ত মোশারফ হোসেন ও মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ রেনু কনা বড়ুয়া।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ক্যালিফোর্ণিয়ার প্রেসিডেন্ট শফিকুর রহমান। বক্তব্য রাখেন মোস্তাইন দারা বিল্লাহ, সাঈদুর রহমান পাটেল, শফিকুর রহমান, মোশারফ হোসেন, মোঃ আনিসুর রহমান, টি জাহান কাজল, মোবারক হোসেন বাবলু, জহির আহমেদ, লেঃ (অবঃ) জিয়া, ইমতিয়াজ হাসান সোহেল, সৈয়দ মুরাদ আলী, খন্দকার আহমেদ ইমু, ফজলুর রহমান, জাহাঙ্গীর আলম, শওকত আহমেদ চৌধুরী প্রমুখ।

ভিডিও কাভারেজঃ
বিজয় দিবস উদযাপন ২০১২ Bangladesh Awami League CA 1

একাত্তরের ঘাতকদের বিচার সম্পন্ন করে সামনের বছর চিহ্নিত রাজাকারমুক্ত বাংলাদেশে পরিপূর্ণ বিজয় দিবস উদযাপনের জন্যে চলমান বিচারের সপক্ষে আন্তর্জাতিক জনমত সুসংহত করার প্রতয়ে লস এঞ্জেলেসে ৪২তম বিজয় দিবস উদযাপিত হলো।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ক্যালিফোর্ণিয়ার বিজয় দিবস অনুষ্ঠানের কর্মসূচির মধ্যে ছিল শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, আলোচনা সভা, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চিত্র আলোকচিত্র প্রদর্শনী, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদান ও স্মৃতিচারণ।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ক্যালিফোর্ণিয়ার সাধারন সম্পাদক ডাঃ রবি আলম।

ভিডিও কাভারেজঃ
বিজয় দিবস উদযাপন ২০১২ Bangladesh Awami League CA 2

ভিডিও কাভারেজঃ
Muktijuddhader Bijoy-Gatha 2 – Saidur Rahman Patel & Others

অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রবাসীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এম কে জামান, মিজানুর রহমান শাহীন, ফরিদ ইউ আহমেদ, ডাঃ নাসির আহমেদ অপু, এম হোসেন বাবু, মোঃ দিদার আহমেদ, মনিকা আহমেদ, মিঠু বড়ুয়া, আতিক রহমান, মিসেস সাঈদুর রহমান, মিঞা আব্দুর রব, মোঃ শামীম হোসেন, মোদাসসের হাসান মুহিত, মিসেস নিলা মোশারফ, খাজা এরশাদ মইনুদ্দীন পপসি, মাহবুব মোর্শেদ জুনায়েদ, জাহান হাসান ও আরো অনেকে।

ভিডিও কাভারেজঃ
Muktijuddhader apon kahini – Dr. Renukona Barua & Pic Story

‘বঙ্গবন্ধুকে যুদ্ধাপরাধের আসামি করার সক্রিয় পরিকল্পনা’ শিরোনামে সাপ্তাহিক ঠিকানা পত্রিকায় প্রকাশিত খবরের প্রতিবাদে স্টার অব ইন্ডিয়া রেস্টুরেন্টের পার্কিলটে পত্রিকা পোড়ানো হয়।

ভিডিও কাভারেজঃ
Thikana Burning in Los Angeles, Bijoy Dibosh 2012 by AL CA Chapter

Bijoy Dibosh 2012 by AL California (152 photos)
৪১তম মহান বিজয় দিবস উদযাপনঃ আয়োজনে – ক্যালিফোর্ণিয়া ষ্টেট আওয়ামী লীগ — at Star of India Tandoori Restaurant.
http://www.facebook.com/media/set/?set=a.10151282630466897.493794.826936896&type=1&l=745fad4556

Advertisements

লস এঞ্জেলেস প্রবাসী জাহান হাসানের মায়ের মৃত্যু


লস এঞ্জেলেস প্রবাসী জাহান হাসানের মায়ের মৃত্যু

http://www.addthis.com/bookmark.php?v=250&username=banglanews24.


About Mend-Ooyo

‘All Shining Moments’ সব উজ্জ্বল মুহূর্ত

অন্ধকার থেকেই কেবল উজ্জ্বলতম আলো আসে
এবং গোধূলিকালেই রমণী সুন্দর।
সন্ধ্যাবেলায় কানের দুল উজ্জ্বল
এবং রাত্রিতে অশ্বপৃষ্ঠের গদির পেরেক।
গুমুদা ফুলগুলো সন্ধ্যায় ফোটে
ঘরমুখো অশ্বগুলোর দিনশেষে হ্রেষাধ্বনি

গোধূলি আলোর গান
মানুষের মেজাজকে উজ্জীবিত করে
বস্ত্তত মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত ভালোবাসা থেকেই
অধিক আলো আসে; মেঘের ফাঁক দিয়ে
যে-সূর্যালোক – সেটিই সবচেয়ে উজ্জ্বল।
এবং কর্ম (karma) সত্যের প্রাণরস
ধূমকেতুর ছটায় আলোর অপূর্ব উদ্ভাসন
এবং একটি পুত্রসন্তানের জন্মের ভেতর দিয়েই
বিশ্বব্রহ্মান্ড আলো ছড়ায়।
আমি যতটা নিঃসঙ্গ

আমার মনে হয় পৃথিবীর আহবানেই আমি স্বর্গচ্যুত হয়েছি
আমার বিশ্বাস, আকাশের উজ্জ্বল কালপুরুষ থেকেই আগুনের সৃষ্টি,
এবং নক্ষত্রের গল্প পৃথিবীর স্বপ্ন থেকেই নেওয়া
আমি একাকী নিঃসঙ্গ, আমি কেবল নিজ সত্তা নিয়েই ভাবি।

আমি যতটা একাকী, ততটাই আমি নিজেকে স্পষ্ট দেখি।
আমি যতটা একাকী – ততটাই আমি অন্যের নিঃসঙ্গতা অনুধাবন করি।
আমি যতটা একাকী – ততটাই আমি কোনো অদৃশ্য সত্তায় মিশি
আমি যতটা একাকী – ততটাই আমি শ্রবণাতীত সংগীত শুনি
বস্ত্ত একাকিত্বের এই স্বাধীনতা আমার উপভোগের বিষয়।

একমাত্র জার (ger)*, যদিও অস্পষ্ট
কিন্তু তা স্টেপে সমতলের ওপর শাদা হয়ে দেখা দিয়েছে;
একমাত্র পাখি – যদিও স্পষ্ট, দৃশ্যগোচর, তবু মেঘমুক্ত আকাশে চক্কর খায়
একমাত্র ঘোড়া – দিগন্ত থেকে আমার দিকে ছুটে আসে।
এবং এইসব স্বর্গীয় কবিতাই আমার অভিজ্ঞতা।

আমি যতটা নিঃসঙ্গ – ততটাই আমি ঘাসের গভীরে প্রবেশ করি
আমি যতটা নিঃসঙ্গ – ততটাই আমি আমার পূর্বপুরুষের সত্তায় মিশি
আমি যতটা নিঃসঙ্গ – ততটাই আমি অনাসৃষ্টি জ্ঞানকে আহরণ করি,
আমি যতটা নিঃসঙ্গ – ততটাই আমি উজ্জ্বল শাম্ভালার (shambhala) নৈকট্যে পৌঁছুই
কারণ নিঃসঙ্গতা শক্তির ভেতরই আমি উষ্ণতাকে খুঁজি পাই।

জি মেন্ড উয়োর কবিতা

(উৎসর্গ : শিরিণ, কল্যাণীয়াসু)

ভূমিকা ও অনুবাদ : তিতাশ চৌধুরী

[‘আমি মঙ্গোলিয়ার যাযাবরদের সন্তান। আমরা অতি প্রত্যুষে বেরিয়ে পড়তাম। শৈশবে আমি একটি ডালিতে করে পণ্যবোঝাই উটের গাড়িতে চড়তাম। উটের মন্থরগতির থপ থপ করে চলার ছন্দের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সকালের সূর্যকে স্বাগত জানাতাম। সম্ভবত সে-কালেই আমার ভবিষ্যতের কবিতাগুলোর ছন্দ কেমন হবে – তা অনুভব করতাম।’ এই কথাগুলো মঙ্গোলিয়ান কবি জি মেন্ড উয়োর।
জি মেন্ড উয়ো (G Mend-Ooya) মঙ্গোলিয়ার বর্তমান প্রধান কবিকণ্ঠ। তিনি মূলত এবং প্রধানত শেকড়-সন্ধানী ও ঐতিহ্যাশ্রয়ী কবি। তাঁর কবিতায় মঙ্গোলিয়ার ইতিহাস-ঐতিহ্য দৃঢ়ভাবে প্রোথিত। ফলে এ-কবিতাগুলো পৃথিবীর অন্যান্য স্থানের কবিতা থেকে স্পষ্টত ভিন্ন। কবি বৌদ্ধধর্মে বিশ্বাসী। ফলে বৌদ্ধ ধর্ম-দর্শন তাঁর কবিতাকে অনেক ক্ষেত্রেই আচ্ছন্ন করে রেখেছে। আবার তিনি শেকড়-সন্ধানী। তাই তিনি ধর্ম-দর্শনের মতো অনবরত নিজেকে খোঁজেন, আবিষ্কার করেন স্টেপের আলো-বাতাসে। সেখানেই তিনি সহজ, অবাধ। শহরে কর্মকোলাহল তাঁকে শান্তি দেয় না, স্বস্তিতে রাখে না, তিনি হাঁপিয়ে ওঠেন। নিজের মধ্যে, নিজের পরিবেশের মধ্যে এবং নিজের প্রকৃতির মধ্যে তিনি সতত সুখ অনুভব করেন। তাঁর নিজেকে খোঁজার এই যে অদম্য একাগ্রতা, সেই উপাদানই তাঁর কবিতাকে গতিময় ও ছন্দমুখর করে তুলেছে। পূর্বপুরুষদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনও তাঁর কবিতার ঐতিহ্য নির্মাণ করেছে। তাঁর কবিতায় উপমা-উৎপ্রেক্ষাও অল্প দেখা যায় না। চিত্রকল্পও তাঁর কবিতাকে ঘের দিয়ে আছে। ‘নক্ষত্রের জীবনচক্র ও মানুষের পথচলা’ কবিতাটির চিত্রকল্পগুলো অসাধারণ দ্যোতনায় ও ব্যঞ্জনায় অপূর্ব। মূলত এই কবি আপন বলয়েই অধিকতর দীপ্তিমান ও উজ্জ্বল।
কবি উয়ো প্রধানত মঙ্গোলিয়ান জীবনধারা ও সংস্কৃতিকে তাঁর কবিতার উপজীব্য করেছেন। মঙ্গোলিয়ার ভাষার যে একটি চমৎকারিত্ব আছে, সুর ও ছন্দ আছে, – আছে ধ্বনি-মাধুর্য, তাও তিনি তাঁর কবিতায় উপস্থাপন করেছেন।
উয়োর কবিতা ইংরেজি, জাপানি, হাঙ্গেরিয়ান, রুশ ও ফরাসি ভাষায় অনূদিত হয়েছে এবং সাহিত্যের জন্য তিনি দেশি-বিদেশি বিভিন্ন পুরস্কারেও ভূষিত হয়েছেন।
কবি উয়ো ১৯৫২ সালে মঙ্গোলিয়ার দরিগঙ্গায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৭০-এ প্যাডাগুজিক্যাল কলেজ থেকে স্নাতক এবং ১৯৯৬ সালে মঙ্গোলিয়ান ইউনিভার্সিটি অব আর্টস অ্যান্ড কালচার থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ওয়ার্ল্ড অ্যাকাডেমি অব আর্টস অ্যান্ড কালচার থেকে তিনি সাহিত্যে ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন ২০০২ সালে। তিনি Arts and Culture at the Institute of International Studies, Mongolian Academy of Sciences-এর অধ্যাপক।
১৯৮০ সালে তাঁর প্রথম কবিতার বই প্রকাশিত হয় – Birds of Thought নামে। এ-যাবৎ তাঁর ১৪টির মতো কাব্য, আলোচনা ও অন্যান্য গ্রন্থ বের হয়েছে। Golden Hill শীর্ষক তাঁর একটি কাব্য-ফিকশনও প্রকাশিত হয় ১৯৯৮ সালে। তিনি বর্তমানে মঙ্গোলিয়ার রাজধানী উলানবাতরে বসবাস করছেন।
আমি এখানে জি মেন্ড উয়োর ছয়টি কবিতা অনুবাদ করেছি। এগুলো হলো : ক. ‘In search of myself’ (নিজেকে খুঁজি), খ. ‘All Shining Moments’ (সব উজ্জ্বল মুহূর্ত), গ. ‘The more I am alone’ (আমি যতটা নিঃসঙ্গ), ঘ. ‘Paradise and Swallows’ (স্বর্গ এবং দোয়েল পাখি), ঙ. ‘The Cycle of the life of stars and the way of men’, (নক্ষত্রের জীবনচক্র এবং মানুষের পথচলা) এবং চ. ‘Song of the Moon’ (জ্যোৎস্নাসংগীত কিংবা চাঁদের গান)। এই কবিতাগুলো জি মেন্ড উয়োর A Patch of White Mist কাব্যগ্রন্থ থেকে চয়ন করা হয়েছে।]

Source: http://www.kaliokalam.com/2012/06/07/%E0%A6%9C%E0%A6%BF-%E0%A6%AE%E0%A7%87%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A1-%E0%A6%89%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A7%8B%E0%A6%B0-%E0%A6%95%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A6%BE/

জমাট বাঁধে ভালবাসা


Sunset

জমাট বাঁধে ভালবাসা

জীবন নামের উচ্চারনে কোথায় তুমি আমি;
জমাট বাঁধে ভালোবাসা; কোথায় তুমি আমি।
প্রজাপতি নাচের নাচন পাগলা হাওয়া তরে
মন উড়েনা আর; অচেনা সব ঘোরে।

ক্লান্তি ছোঁয়া সাদাকালো স্বপ্ন দেখা দেখি;
কেনা রঙে রঙিন, এম্নি অবুঝ ফাঁকি।
তুমি আমি নিবীড় হব নতুন ভালবেসে,
চোখটি তুলে দেখো; আমি স্বপ্নহারা দেশে।

সাগরতীরে হাঁটছি একাই মিশেল আভা মেখে;
রঙ কিনবো এখান থেকে হয়ত খুঁজে দেখে।
শব্দহীনে ভেসে থাকি একলা অলস শুন্যে
অপেক্ষাতে আছি জেনো শুধুই তোমার জন্যে।

কাজী রহমান, অগাস্ট ২০১২

একটি ছবির গল্প


একটি ছবির গল্প [ লস এঞ্জেলেস প্রবাসী মাসুদ হাসানের ৪ সহোদর ডিসেম্বর ১৪, ১৯৭১ তারিখে বিশ্বাসঘাতক রাজাকারদের হাতে নির্মমভাবে নিহত হয় – আমরা তাদেরসহ সকল নিহত-আহত মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সম্মান জানাই – জাহান হাসান, একুশ নিউজ মিডিয়া ]
শফিকুল ইসলাম স্বপন
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বরের সকালবেলা তখনো সম্পূর্ণ মুক্ত হয়নি দেশ, তখনো সারেন্ডার হয়নি, রাস্তাঘাটে পাকসেনা হাঁটছে। হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে মুক্তিযোদ্ধারা এসে জমায়েত হচ্ছে। ভারতীয় ট্যাঙ্ক এসে জমা হচ্ছে। মৃত্যু ভয়ে নয়, আমার খুব খারাপ লাগছিল, তাই আমি দাঁড়াতে পারছিলাম না। শাহার শহীদ হয় ১৪ ডিসেম্বর রাতে। আমাদের ঢাকা গ্রুপের মানিক ভাই শহীদ হন ১৪ নভেম্বর। তারপর নাসির উদ্দীন ইউসুফ ছিলেন আমাদের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড। তিনি আমাদের কমান্ডার হলেন এবং ঢাকা শহরের দায়িত্ব ছিল আসাদের উপর। সাভারে আমাদের ট্রেনিং ক্যাম্প। সেখান থেকে ঢাকা এসেছিলাম ফিল্ম এবং ওষুধপত্র নিয়ে যেতে। সম্ভবত ডিসেম্বরের প্রথম দিকে অথবা নভেম্বরের শেষে। সব যোগাড়-যন্ত্র করে যখন আমাদের সাভারের ট্রনিং ক্যাম্পে ফিরব, হঠাত্ খবর পেলাম ঢাকার ভেতরে আমরা যারা আছি তারা যেন কোন অবস্থাতেই ঢাকা শহর থেকে বেরিয়ে না যাই। সামনেই ঢাকা শহরে শুরু হবে প্রচণ্ড আক্রমণ এবং আমরা ভেতরে যারা আছি তাদেরকে প্রয়োজনে জীবন দিয়ে হলেও শহরের ভেতরে যুদ্ধ করতে হবে। তাই প্রত্যেকের কাছে একটি করে অস্ত্র রেখে যার যার অবস্থানে থাকতে হবে।

শফিকুল ইসলাম স্বপন

শফিকুল ইসলাম স্বপন


আগেও আমাদের অস্ত্র ধরা পড়ে, সবশেষে আমাদের অস্ত্র একসাথে জমা ছিল শাহারদের বাসায়, ফার্মগেটের খুব কাছে। সেদিন ১৫ ডিসেম্বর সকালবেলা বাবলু (যে বাবলুর সাথে আমি পালিয়েছিলাম এক কাপড়ে), আসাদ আর আমার দুলাভাই মাহবুব মোরশেদ রেলওয়েতে ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন (তিনি আজ নেই), প্রচণ্ডভাবে আমাদেরকে সাহায্য করতেন রেলওয়ের সমস্ত ম্যাপ থেকে শুরু করে যত কিছু আমাদের প্রয়োজন হয়েছে সব কিছুতেই। দুলাভাই বলেন— “সবার যাওয়ার দরকার নেই। স্বপন তুই থাক। Air Action কিছু হলে তুই ছবি তুলতে পারবি। বরং আমি গাড়ি নিয়ে আসাদকে আর বাবলুকে নিয়ে যাচ্ছি। শাহারের বাসা থেকে আমরা তোদের অস্ত্রগুলো নিয়ে আসি। বস্তায় ভরে, গাড়ির পেছনে করে নিয়ে আসি, কেউ টের পাবে না”। প্রচণ্ডআর বাবলু দুলাভাইয়ের সাথে গাড়ি নিয়ে গেল। আমি বাসায় অপেক্ষায়। অনেকক্ষণ পর ফিরে এলেন দুলাভাই। সভার মুখ কালো, কেউ কিছু বলছে না। আমাকে শুধু বললেন-অস্ত্র আনতে পারিনি। পরে কখন যেন দুলাভাই আমাকে আস্তে আস্তে বুঝিয়ে বলেন যে, গতরাতে শাহারের বাসায় আর্মিরা হামলা করেছিল। শাহারের এক বন্ধু অথবা পরিচিত কেউ একজন গোপনে আর্মিকে খবর দেয়। শাহাররা চারজন একসাথে ছিল ওই রাতে। ওর বাবা-মা অন্য জায়গায় থাকতো। ওদেরকে মেরে ফেলে রেখে গেছে উঠানে। ওরা উঠানে পড়ে আছে এবং বাড়িতে কোন অস্ত্রশস্ত্র নেই। যা ছিল সব নিয়ে গেছে। দেখেই বুঝা যায় হয়তো বন্ধু বেশে ডাক দিয়েছে, শাহার একটু বাইরে আয়। সরল বিশ্বাসে হয়তো শাহার দরজা খুলেছিল এবং চারজনকেই ১৪ ডিসেম্বর রাতে একই সাথে শহীদ হতে হলো। ওই পাড়ার অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধা ছেলেরা অবশ্য সেই বিশ্বাসঘাতক রাজাকারকে ১৬ তারিখ সকালে ধরে নিয়ে এসেছিল। আমি এক মুহূর্ত দাঁড়িয়ে একটা ছবি তুলেই আবার চলে যাই অন্যদিকে। প্রচণ্ড কষ্ট পেয়েছিলাম বুকের ভেতরে। আজও সেই কষ্ট আমি ধারণ করে আছি, যা কোনোদিন ভুলবো না, ভোলা যায় না।
লেখক : চলচ্চিত্র গ্রাহক ও আলোকচিত্র শিল্পী

Source: http://ittefaq.com.bd/index.php?ref=MjBfMTJfMDRfMTJfMV8yXzFfMTIwNg==
মাসুদ হাসানের কথাঃ
In this story Shapan Bhi describe my brother’s Makon,Roton, Lucky and Shaher, my 4 brother’s whom Pakistani army killed on 14th December 1971 in our framgate house. As like he said our house was a depot for 3/4 group of muktizodda’s arms and ammunition. Shahar was known as TIGER SHAHAR in Manic group with Shapan bhai, Naseruddin Yosuf Bachoo and actor/movie hero Assad.
মাসুদ হাসান Masud Hassan

মাসুদ হাসান Masud Hassan


On 16th December around 3 pm me ,my father, my younger brother and few hundred Muktizodda together put them in rest in front our house. May GOD bless them. Actually 5 member of my family was killed that 14th December 1971 in our framgate house my four brother’s and my cousin Nehal bhi.Shahar was memder of Manic group, Lucky was member of Mostafa Mohossin Montoo group and Nahal was member of student leader Khosru (later known as Hero Khosru in ORA AGARO ZON movie) and Roton was a member in a intelligent group working in Tejgon Airport my older brother also a member with them working in State Bank Pakistan now Bangladesh bank.

সুরের ইন্দ্রজালে বাঁধা চারটি রাত


সুরের ইন্দ্রজালে বাঁধা চারটি রাত

খোলা আকাশ, কুয়াশার বাড়াবাড়ি শাস্ত্রীয় সংগীতের প্রতি মুগ্ধতার শক্তি যেন কিছুতেই টলাতে পারে না। এ যেন এক অন্য ঢাকা। আর্মি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এশিয়া মহাদেশের স্মরণকালের সবচেয়ে বড় শাস্ত্রীয় সংগীত উত্সব নিয়ে লিখেছেন
তরিকুর রহমান সজীবhttps://i2.wp.com/www.thedailystar.net/photo/2012/11/09/2012-11-09__cul07.jpg

অগ্রহায়ণের বাতাসে শীতের রেশ। সপ্তাহখানেক হলো শীতটা যান্ত্রিক এই ঢাকা শহরেও উঁকিঝুঁকি দিয়ে যাচ্ছে। সন্ধ্যা আর রাত্রিগুলো তাই অনেকটাই প্রথম শীতের আমেজ নিয়ে কেটে যাচ্ছিল। এর মাঝেই বেঙ্গল ফাউন্ডেশন আর আইটিসি এসআরএ আয়োজন করেছে বাংলাদেশ তো বটেই, উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় শাস্ত্রীয় সংগীতের আসরের। একদিন নয়, দুই দিন নয়, চার চার দিন ধরে চলবে আয়োজন। তাও আবার প্রথম দুই দিনের আয়োজন চলবে সারা রাত ধরে। এই উপলক্ষেই উচ্চাঙ্গ সংগীতের সময়ের সব বড় বড় রথী-মহারথীদের আগমন ঘটেছে আমাদের এই ঢাকা শহরে। এমন অভাবনীয় আয়োজনে কি আর সামিল না হওয়া যায়? সুরের এমন মধুময় আয়োজনে ঠিক মৌ-লোভীদের মতোই হামলে পড়ার জন্য মুখিয়েছিলাম অনুষ্ঠানের ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই।

ইচ্ছা ছিল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের একদম শুরু থেকেই উপস্থিত থেকে পুরো আয়োজনটা নিবিষ্ট মনে উপভোগ করা। অফিসের ঝামেলায় শেষ পর্যন্ত আর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটা ধরা হলো না। অফিসের কাজ সেরে রাস্তার জ্যাম পেরিয়ে যখন ঢুকলাম আর্মি স্টেডিয়ামের চৌহদ্দিতে, ততক্ষণে মঞ্চে সানাইয়ের সুরে উত্সবের আমেজ ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে। অনুষ্ঠানের শুরু থেকে থাকতে না পেরে যে মন খারাপটা ছিল, মুহূর্তেই তা উধাও ওস্তাদ আলী আহমেদ হোসেন খাঁর সানাইয়ের মুর্চ্ছনায়। সন্ধ্যার রাগ হংসধ্বনিতে তখন কেবল আলাপ শুরু করেছেন ওস্তাদ আলী আহমেদ হোসেন খাঁ। আর সানাইয়ের সেই সুরে গোটা স্টেডিয়ামে তখন পিনপতন নিরবতা। আলাপ শেষ করে মধ্যলয় আর দ্রুত তিনতালের পৌনে এক ঘণ্টার পরিবেশনা যখন শেষ করলেন, মুহুর্মুহু করতালিতে মুখরিত হয়ে উঠল আয়োজন প্রাঙ্গণ। মনের ভেতর কেবল মুগ্ধতা আর মুগ্ধতা। শুরুতেই এমন অসাধারণ একটি পরিবেশনা যেন গোটা আয়োজনের সূচনালগ্নকে করে রাখল স্মরণীয়। আমাদের মতো যাদের সংগীতের জ্ঞানটা কম, সানাইয়ের সুরে তাদের মনের ভেতরটা যেন পূর্ণ হয়ে গেল। একে একে মঞ্চে এলেন ওমকার দাদারকার, ওস্তাদ শহীদ পারভেজ আর পণ্ডিত তেজেন্দ্র এন মজুমদার। ওমকার দাদারকারের কণ্ঠ আর শহীদ পারভেজের সেতারে আর্মি স্টেডিয়াম তখন রূপ নিয়েছে সুর সাগরের। আর সেই সাগরে আমরা যেন ভেসে চলেছি দূর থেকে দূরে। এরপর আবার কিছুটা ভিন্ন আমেজ নিয়ে মঞ্চে ওড়িশি নৃত্য নিয়ে এলেন বিদূষী সুজাতা মুখপাত্র। তার সবশেষের পরিবেশন ছিল বনমালি দাস রচিত শ্রী কৃষ্ণ লীলার অংশবিশেষ। নাচের মুদ্রাতেই রাক্ষস বধের পুরো অংশটি মুগ্ধ হয়ে দেখেছে দর্শকরা।

এরপর খানিকটা বিরতি। এতক্ষণ ধরে স্টেডিয়ামে এলেও এসেই বসে পড়াতে আর আশপাশটা ঘুরে দেখা হয়নি। এবারে একটু সুযোগ পেলাম চারপাশটা ঘুরে দেখার। ঘুরতে গিয়েই দেখলাম, সত্যিকার অর্থেই এক বিশাল আয়োজন করে বসেছে বেঙ্গল ফাউন্ডেশন আর আইটিসি এসআরএ। স্টেডিয়ামের ভেতরে বিশাল এক মঞ্চ আর তার সামনে সুবিশাল দর্শক সারি। দর্শক সারির ডান-বাম পাশে কিছুটা দূরে দূরেই বসানো প্রজেক্টর পর্দা। আর মঞ্চের ঠিক উল্টো পাশে স্টেডিয়ামের গ্যালারির উপরে বসানো একটি এলইডি টেলিভিশন। পর্দা আর টেলিভিশনে দেখানো হচ্ছে পুরো অনুষ্ঠান। দর্শক সারির পেছনের দিকে এলেই রয়েছে বড় ধরনের একটি ডিসপ্লে। ভারতীয় উপমহাদেশের সংগীতের যে ইতিহাস, তাকে যারা নিজেদের অসামান্য মেধা দিয়ে সমৃদ্ধ করে রেখেছেন, তাদের সবার ছবি আর পরিচিতি আকৃষ্ট করেছে উপস্থিত সবাইকেই। ঘুরে ঘুরে দেখতে দেখতেই চোখে পড়ল খাবারের দোকান। আর যে দিকেই তাকাই—শুধু মানুষ। তার মধ্যে আবার বেশিরভাগই তরুণ প্রজন্মের। শাস্ত্রীয় সংগীতের এই আয়োজনে তরুণদের এমন স্বতস্ফূর্ত উপস্থিতি কি প্রত্যাশিত ছিল?
https://i1.wp.com/ittefaq.com.bd/admin/news_images/2012/12/04/image_1100.gif
বিরতির পর ওয়াসিম আহমেদ খান শুরু করলেন রাগ চন্দ্রকোষ দিয়ে। সোয়া একটা পার করে দিয়ে মঞ্চে উঠলেন ওস্তাদ শাহাদাত হোসেন খান। মধ্যরাতের রাগ ঝিঞ্ঝিট দিয়ে বরাবরের মতোই আরেকবার আসর মাতিয়ে গেলেন তিনি। আর এরপর ধ্রুপদ শিল্পী পণ্ডিত উদয় ভাওয়ালকর রাগ যোগ দিয়ে মুগ্ধ করেন দর্শকদের। সরোদের আরেকটি পরিবেশনা নিয়ে পণ্ডিত তেজেন্দ্র নারায়ণ মজুমদারও মধ্যরাতটিকে করে রাখলেন স্মরণীয়। প্রথমদিনের সর্বশেষ পরিবেশনায় ছিলেন পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তী। অজয় চক্রবর্তীর খেয়ালের খুব বেশি রেকর্ড নেই বলে শাস্ত্রীয় সংগীতের কোনো আসরে অজয় চক্রবর্তীর পরিবেশনা মানেই সংগীতপ্রেমীদের জন্য বিশেষ কিছু। এই আসরেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। বিশাল এই আয়োজনকে স্মরণীয় করে রাখতে অজয় চক্রবর্তী তার পরিবেশনার জন্য নিজেই নতুন একটি বান্দিশ লিখেছেন ওইদিন রাতেই। ভোরের দিকে মঞ্চে ওঠা অজয় চক্রবর্তী তার পরিবেশনার জন্য বেছে নিলেন রাগ আহির-ললিত। আর তাতে তার স্বরচিত বান্দিশটি ছিল এমন, ‘জাগে সাভেরা, চাহো জিসে পাঞ্ছি মাচায়ে শোর/ রাতভর গুণীজন গায়ে বাজায়ে/ আজ আনন্দময় ভোর’।
https://i1.wp.com/www.thedailystar.net/photo/2012/12/04/2012-12-04__art01.jpg
দ্বিতীয় রাতের পরিবেশনায় মূল আকর্ষণ ছিলেন ওস্তাদ রশীদ খান আর পণ্ডিত শিবকুমার শর্মা। আসর মাতানো বলতে যা বুঝায়, তার প্রমাণ দিয়ে গেলেন এই দুইজন। আগের রাতে সব শিল্পীই একটিমাত্র পরিবেশনার সুযোগই পেয়েছেন। ব্যতিক্রমটি দেখালেন রশীদ খান। রাগ পুরিয়া কল্যাণে বিলম্বিত একতাল ও দ্রুত তিনতালে প্রায় দেড় ঘণ্টা খেয়াল গেয়েই দর্শকদের মুগ্ধ করেছেন। তবে বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে এরপর তিনি গেয়ে ওঠেন ওস্তাদ বড়ে গুলাম আলী খানের বিখ্যাত ঠুমরি ‘ইয়াদ পিয়া কি আয়ে’।-পণ্ডিতরা তাকে সময়ের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় এবং মেধাবী বলে কেন অভিহিত করেন, সেটা তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন তার দুইটি পরিবেশনাতেই। পণ্ডিত শিবকুমার শর্মাও রাতের সর্বশেষ পরিবেশনায় তার সন্তুরের সুমিষ্ট আওয়াজে মোহিত করে রেখেছিলেন এক ঘণ্টারও বেশি সময়। তবে এর মাঝখানে পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তীর মেয়ে কৌশিকি দেশীকান মাতিয়ে গেছেন আসর। রাগ বসন্তমুখারীতে বাবার এবং ওস্তাদের লেখা বান্দিশের পর মিশ্র পাহাড়িতে ঠুমরি ‘রাঙ্গি শাড়ি, গুলাবি চুনারিয়া’ গেয়ে সুরের আবেশে বিহ্বল করে গেছেন উপস্থিত দর্শকদের।

তৃতীয় দিনের আয়োজনে আরশাদ আলী খান, শশাঙ্ক মাকতেদার, আবির হোসেন, প্রিয়াঙ্কা গোপের মতো তরুণ এবং প্রতিশ্রুতিশীল শিল্পীদের পাশাপাশি ছিলেন বিদূষী গিরিজা দেবী। আর কত্থক নৃত্য নিয়ে উপস্থিত ছিলেন জীবন্ত কিংবদন্তি পণ্ডিত বিরজু মহারাজ। নাচ, গান আর নৃত্যের ছন্দে-তালে এদিনও মুখরিত ছিল আর্মি স্টেডিয়াম। আবিষ্ট ছিলেন দর্শক-শ্রোতা। শেষ দিনেও বাঁশি, সেতারের সুরে মুগ্ধ হয়েছেন দর্শকরা। তার সাথে ব্রজেশ্বর মুখোপাধ্যায়, বিদূষী অরুণা সায়েরাম, পণ্ডিত রাজন মিশ্র, পণ্ডিত সজন মিশ্র তাদের কণ্ঠের জাদুতে মাতিয়েছেন আসর। সাথে সর্বশেষ পরিবেশনায় পণ্ডিত হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়া তার বাঁশির সুরে মোহিত করেছেন দর্শকদের। সবমিলিয়ে গোটা আয়োজন শেষ হয় এক অন্যরকম আবেশ নিয়ে। সুরের মধুতে চারদিন ধরে কেবল পূর্ণই হয়নি হূদয়, উপচে পড়েছে আনাচে-কানাচে। আর এই রেশ থেকে যাবে দীর্ঘ সময় ধরে। এবারে অপেক্ষার পালা, আবার কবে এমন মধুরেণু লাভের সুযোগ এসে দাঁড়াবে দুয়ারে।
My wonderful experience about Classical Music Festival 2012
12-13 February 2012, National Museum Auditorium, Dhaka
http://www.facebook.com/media/set/?set=a.10151255131636897.489797.826936896&type=1&l=ab8aa40cb7
http://www.facebook.com/media/set/?set=a.10151255131636897.489797.826936896&type=1&l=ab8aa40cb7
source: http://ittefaq.com.bd/index.php?ref=MjBfMTJfMDRfMTJfMV85XzFfMTEwMA==
http://www.thedailystar.net/newDesign/news-details.php?nid=259765

ব্যবসা ও ব্যবসায়ী


ব্যবসা ও ব্যবসায়ী

চিররঞ্জন সরকার

ব্যবসায়ীদের প্রতি আমাদের দেশের মানুষের বড় বেশি ভক্তি-শ্রদ্ধা নেই। তারা লাখপতি, কোটিপতি হতে পারেন, দামি গাড়ি-বাড়ি, বিপুল বিত্ত-বৈভব, প্রভাব-প্রতিপত্তির অধিকারী হতে পারেন; কিন্তু আমাদের সমাজে ব্যবসায়ীদের ইমেজ খুব একটা ইতিবাচক নয়।

এর অবশ্য কারণও আছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে আমরা ব্যবসায়ীদের আঙুল ফুলে কলা গাছ হতে দেখি। সত্ পথে থেকে সত্ভাবে ব্যবসা করে বড় লাভের মুখ দেখা সম্ভব নয়—এমন একটা বদ্ধমূল ধারণা আমরা লালন করি। যারা ব্যবসা করেন, তারা চোরাপথে মাল কিনে, শ্রমিক-কর্মচারীদের ঠকিয়ে, ভেজাল বা নিম্নমানের জিনিস গছিয়ে, ওজনে কম দিয়ে, ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে বড়লোক হন বলে অনেকের বিশ্বাস। আমাদের দেশের বেশিরভাগ বড়লোকই হচ্ছেন ব্যবসায়ী। তারা কোনো না কোনো ধরনের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। দুই নম্বরি করে তারা বড়লোক হয়েছেন—এই সন্দেহের বশে আমরা তাদের খারাপ চোখে দেখি। তবে এই খারাপ চোখে দেখার ব্যাপারটা তখন আর শুধু বড়লোক ব্যবসায়ীদের প্রতি সীমাবদ্ধ থাকে না; পুরো ব্যবসায়ী সমপ্রদায়ের ওপর বর্তায়।

তবে ব্যবসা-বাণিজ্যের মূল কথাই হচ্ছে লাভ। যে কোনো উপায়ে লাভ করাই একজন ব্যবসায়ীর প্রধান লক্ষ্য। শুধু লাভ নয়, মহালাভ খোঁজেন তারা। লাভ করতে গিয়ে কোনো ঝুটঝামেলা, ইনকাম ট্যাক্স, সেল্স ট্যাক্স, কাস্টমস, পুলিশ, মামলা, অসন্তোষ, হরতাল, ধর্মঘটে জড়িয়ে না পড়েন—ব্যবসায়ীদের মনে এই আকাঙ্ক্ষাও প্রবলভাবে কাজ করে। তবে ব্যবসা করা সহজ কাজ নয়। অনেক ঝানু ব্যক্তি ব্যবসা করতে গিয়ে ফতুর হয়েছেন, আবার অনেক হাঁদারামও ব্যবসায় সফল হয়ে কোটিপতি বনেছেন। উভয় প্রকার উদাহরণই আমাদের সমাজে ভূরিভূরি আছে। প্রখর বুদ্ধি, কঠোর পরিশ্রম, অমিত আত্মবিশ্বাস, সেইসঙ্গে ভাগ্যদেবীর সুনজর—এসব না হলে ব্যবসায় সফল হওয়া যায় না।

হ্যাঁ, সেইসঙ্গে সততাও প্রয়োজন। আমরা ছোটবেলায় দেখতাম দোকানে কাচের ফ্রেমে বাঁধানো রয়েছে—সততাই আমাদের একমাত্র মূলধন। আজকাল অবশ্য এরকম কোনো ঘোষণাপত্র কোনো দোকানে বা শোরুমের দেয়ালে দেখা যায় না। পুরো সমাজ থেকেই যেখানে সততা বিদায় হয়েছে, সেখানে দোকানে তা আর টিকে থাকবে কীভাবে? ব্যবসায় সততা বলতে যে কিছুই আর অবশিষ্ট নেই তেমন নয়; সততা এখনও আছে। তবে তা ভিন্ন সংজ্ঞায়, আলাদা মানে নিয়ে। এ প্রসঙ্গে একটি গল্প বলা যাক।

এক বৃদ্ধ ব্যবসায়ী তার শিশু নাতিকে নিয়ে নিজের দোকানে এসেছেন। তিনি নাতিকে নিয়ে ক্যাশবাক্সের পেছনে গদিতে বসেছেন, পাশের দেয়ালেই ‘সততাই আমাদের মূলধন’ বিজ্ঞপ্তি ঝুলছে। নাতি পড়তে শিখেছে। সে ওটা দেখে পিতামহকে প্রশ্ন করল: দাদু সততা কী? দাদু বললেন, সততা একটা খুব খাঁটি জিনিস। চট করে বোঝানো কঠিন। মনে কর আমি আর তুমি এ ব্যবসার অংশীদার। এখন একজন গ্রাহক এসে একটা জিনিস কিনে ১০ টাকা দিতে গিয়ে ভুল করে ২০ টাকার নোট তোমাকে দিয়ে চলে গেল। তুমিই ক্যাশবাক্সে বসেছ, তোমার অংশীদার আমি দোকানের অন্যদিকে রয়েছি। আমি দেখতে পাইনি যে, গ্রাহক ভুল করে ১০ টাকা বেশি দিয়েছে। এখন তুমি যদি ওই ১০ টাকা থেকে আমাকে ৫ টাকা দাও তাহলে সেটাই হলো তোমার সততা।

নাতি বললো, কিন্তু দাদু গ্রাহক. . .

দাদু বললেন, গ্রাহকের কথা ভেব না, ওটা বাদ দাও। এ ঘটনার অনেক দিন পরের কথা। বৃদ্ধ ভদ্রলোক এখন আর নিজে দোকানে যান না। তার ছেলে যায়। কিন্তু ছেলে তার মতো তুখোড় নয়। ব্যবসাপত্র বেশ মন্দ যাচ্ছে।

বৃদ্ধ সারাদিন বাসায় বসে থাকেন। সাত-পাঁচ চিন্তা করেন আর নাতির পড়াশুনা দেখেন। নাতির কৌতূহল এখনো নানা বিষয়ে অপরিবর্তিত রয়েছে। একদিন কী একটা পড়তে পড়তে দাদুকে জিজ্ঞেস করলো, আচ্ছা দাদু রসাতল কী?

দাদু শুকনো গলায় একটু খুকখুক করে কেশে জবাব দিলেন, রসাতল হলো সেই জায়গা যেখানে তোমার বাবা আমার ব্যবসাকে পাঠাচ্ছে।

ব্যবসা বড় বিচিত্র জিনিস। কিসে কত লাভ এক দোকানদার ছাড়া কেউ জানে না। যখন দোকানদার বলছে, স্যার আপনাকে আমি কেনা দামে জিনিস দিচ্ছি, তখন সে ডাহা মিথ্যা কথা বলছে। আর একটা কথা মনে রাখা উচিত, ব্যবসায়ে মিথ্যা বলা ব্যবসায়ীর কাছে মোটেও পাপ নয়, বরং সেটাই তার ধর্ম। ব্যবসার আসল কথা হলো লাভ, তা সে যেভাবেই হোক। লাভের জন্য ব্যবসায়ীরা যা বলেন, যা করেন সবই তার জন্য ‘সততা’ বা ‘ন্যায়’।

লাভ প্রসঙ্গে আর একটি গল্প বলা যাক। একটি ঘড়ির দোকানের বাইরে বিজ্ঞাপনে লেখা ছিল:’এখানে লোভনীয় দামে ঘড়ি বিক্রি হয়।’ এক পথচারী সেই দোকানে ঢুকে ঘড়ির দাম কীরকম জানতে চাইল। দোকানদার বললেন, আমরা আমাদের ঘড়ি কোম্পানির কেনা দামের চাইতেও শতকরা পঁচিশ টাকা কমে বিক্রি করি। পথচারী এ কথা শুনে বিস্মিত হয়ে বলল, তাহলে ঘড়ি বেঁচে তো আপনাদের ক্ষতি হয়। দোকানদার গম্ভীর হয়ে বললেন, তা হয়। পথচারী আবার প্রশ্ন করলেন, তাহলে আপনাদের দোকান চলছে কী করে?

অধিকতর গম্ভীর হয়ে দোকানদার বললেন, ক্ষতিটা ঘড়ি সারিয়ে পুশিয়ে নিই।

আমাদের দেশে গত প্রায় দুই যুগ ধরে একশ্রেণির ব্যবসায়ী বেশ ভালোই লাভ করছে। লবণ, সয়াবিন তেল, তৈরি পোশাক, ঝুট কাপড়, ইয়াবা থেকে শুরু করে শেয়ার ব্যবসায়ীরা পর্যন্ত নানা কারসাজিতে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন এবং নিচ্ছেন। বাজার নিয়ন্ত্রণের সরকারি প্রচেষ্টা কোনো কাজে দেয়নি। তবে চোরের ওপর বাটপাড়ি শুরু করেছে সরকারের আরেক আশীর্বাদ চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীচক্র। ব্যবসায়ীদের লাভের গুড়ে এই চক্র ভাগ বসাচ্ছে। বনিবনা না হলে দু’একজন মাঝারি গোছের ব্যবসায়ী খুনও হচ্ছেন। সরকার কার পক্ষ নেবে? এই দু’পক্ষই যে তাদের একান্ত আপনজন!

আগে মোটা অংকের চাঁদার বিনিময়ে ব্যবসায়ীরা সরকারকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করত। তাদের স্বার্থের পক্ষে নীতি ও আইন প্রণয়নের জন্য অনেক কাঠখড় পোড়াতে হত। বর্তমানে ব্যবসায়ীরাই রাজনীতিবিদ, রাজনীতিবিদরাই ব্যবসায়ী। এখন আর তোয়াজ-তোষামোদের বালাই নেই। এখন তারাই সর্বেসর্বা। তারা নিজেদের স্বার্থে আইন প্রণয়ন যেমন করছেন, নিজেদের প্রয়োজনে সেই আইনকে বুড়ো আঙ্গুলও দেখাচ্ছেন। দেখারও কেউ নেই আর বলারও কিছু নেই। প্রধানমন্ত্রীসহ দু’চারজন ছাড়া বাকি সবাই প্রায় নামে-বেনামে বিভিন্ন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। কাজেই তারাই এখন নীতি-নির্ধারক। দণ্ডমুণ্ডের কর্তা। আমাদের মতো আমপাবলিকের হারিকেন হাতে নিয়ে বসে থাকা ছাড়া অন্য কোনো ভূমিকা আছে বলে মনে হয় না।
https://i1.wp.com/i.usatoday.net/news/_photos/2012/03/13/31-dead-in-Bangladesh-ferry-crash-3L14SBFF-x-large.jpg
পুনশ্চ: আমাদের দেশে বিভিন্ন পোশাক কারখানায় (বাংলাদেশের সবচেয়ে লাভজনক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান) অগ্নিকাণ্ড বা ভবন ধসের ঘটনা নিয়মিতই ঘটছে। এসব ঘটনায় ব্যাপক প্রাণহানি হচ্ছে। এ নিয়ে মিডিয়ায় ঝড় উঠছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট মালিক বা ব্যবসায়ীদের তাতে কোনো ভ্রূক্ষেপ আছে বলে মনে হয় না। সেই একই ঝুঁকিপূর্ণ কর্মপরিবেশ, নিরাপত্তাহীনতা, অমানবিকতা, জুলুমবাজি চলছে তো চলছেই। শ্রমিকদের সমূহ ক্ষতি হলেও মালিক-কর্তৃপক্ষের কোনো ক্ষতি বা সমস্যা হচ্ছে না। হবেইবা কেন? তাদের জন্য যে ভর্তুকি নিয়ে ব্যাংক-বীমাসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান তৈরি! এ প্রসঙ্গে মনে পড়ছে একটি পুরানো গল্প।

ব্যাংককের পাতায়া সমুদ্র সৈকতে একটি চারতারা হোটেলের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে বসে দুই সদ্য পরিচিত ব্যবসায়ী ঠাণ্ডা বিয়ার খাচ্ছেন। তাদের দু’জনের আজকেই আলাপ হয়েছে। দু’জনে পাতায়া বেড়াতে এসে একই হোটেলে উঠেছেন। এই দু’ ব্যবসায়ীর বাক্যালাপের কিছু অংশ উদ্ধৃত করা যাক—

প্রথম ব্যবসায়ী : আপনি কী করেন?

দ্বিতীয় ব্যবসায়ী: এখন কিছু করি না। আমার একটা কারখানা ছিল, সেটা আগুনে পুড়ে গিয়েছে। দুর্ঘটনা বীমার ভর্তুকি পেয়ে এখানে বেড়াতে এসেছি। ভবিষ্যতে কী করা যায় সেটাও ভেবে দেখছি আর কি। (এরপর একটু থেমে) আচ্ছা আপনি কী করেন?

প্রথম ব্যবসায়ী: ঐ আপনার মতোই আমারও একটা কারখানা ছিল।

দ্বিতীয় ব্যবসায়ী: সেটা আগুনে পুড়ে গেল?

প্রথম ব্যবসায়ী: না, তা নয়। আমার কারখানাটা বন্যায় ভেসে গেছে। দুর্ঘটনা বীমার ভর্তুকি পেয়ে এখানে বেড়াতে এলাম।

দ্বিতীয় ব্যবসায়ী: (গলা নামিয়ে, চুপিচুপি স্বরে) আচ্ছা ভাই, আগুন লাগার ব্যাপারটি তো বুঝি; কিন্তু বন্যা লাগান কী করে একটু বুঝিয়ে বলবেন?

লেখক:কলামিস্ট