রাজনৈতিক ক্ষমতা, অন্তরালের যৌনতা এবং দিনান্তের পতন!

রাজনৈতিক ক্ষমতা, অন্তরালের যৌনতা এবং দিনান্তের পতন!

সম্পাদক, ডিফারেন্ট নিউজ

গোলাম মাওলা রনি: রাজা-বাদশাদের যৌন জীবন নিয়ে মানুষের আগ্রহের কমতি নেই। রাষ্ট্র ক্ষমতার কেন্দ্রীয় চরিত্র বা তাদের পাত্র-মিত্রদের বিচিত্র এবং ক্ষেত্রবিশেষে বিকৃত যৌনাচার কখনো কখনো কাউকে ক্ষমতার কেন্দ্রে পেঁৗছে দেয়, আবার কেউ কেউ পড়ে যায় পতনের অতল গহ্বরে। ইতিহাসে এ বিষয়ে অনেক জমজমাট মজার ঘটনা আছে। ক্ষমতাসীনদের যৌনাচার সম্পর্কিত সাম্প্রতিককালের অনেক ঘটনাও মানুষকে প্রবলভাবে উত্তেজিত করে। রাজা-রানীদের যৌনাকাঙ্ক্ষার ওপর সাম্রাজ্যের উত্থান-পতন অনেকাংশে নির্ভর করে। ধর্মের বিধান এক্ষেত্রে পরিষ্কার_ অর্থাৎ যৌন জীবন নিয়ন্ত্রিত, নিষ্পাপ এবং কলঙ্কমুক্ত হলে ঐশী সাহায্য যেমন পাওয়া যায়, তদ্রূপ পাপাচারের জন্য পতনের গ্যারান্টি শতভাগ।
উইলিয়াম শেকসপিয়র তার অমর লেখনীর মাধ্যমে সর্বপ্রথম রাজনীতির নিয়ামক হিসেবে যৌনতাকে কেন্দ্রীয় চরিত্রে নিয়ে আসেন। তার প্রায় সব নাটকেই প্রধান পাত্র-পাত্রীদের জীবনের উপাখ্যান রচিত হয়েছে যৌনতাকে কেন্দ্র করে। আমি এখানে ক্লিওপেট্রা নাটকের কিছু অংশ বর্ণনা করে বিশ্বের অন্য নামকরা রাজা-বাদশাদের অন্তঃপুরে ঢুকে যাব এবং সর্বশেষে সাম্প্রতিক বিশ্বের কিছু ঘটনা বর্ণনা করব।
খ্রিস্টের জন্মের মাত্র ৫০-৬০ বছর আগে রোমান সেনাপতি জুলিয়াস সিজার তার সহযোগী সেনাপতি ক্রেসাস, পম্পে দি গ্রেট এবং মার্ক এন্টোনিওর সহযোগিতায় সমগ্র ইউরোপ দখল করেন। রোম তখন রাজধানী। শাসনব্যবস্থা অনেকটা সংসদীয় গণতন্ত্রের আদলে। দেশ চালাত রোমান সিনেট। জুলিয়াস সিজারের একের পর এক যুগান্তকারী বিজয়ে সেনাবাহিনী অতিশয় ক্ষমতাশালী হয়ে ওঠে এবং সিনেটের ক্ষমতা হ্রাস পেতে থাকে। তখন ধুরন্ধর সিনেটররা কোটি কোটি স্বর্ণমুদ্রা বিনিয়োগ করে একের পর এক সেনাবিদ্রোহ ঘটাতে থাকে। এ বিদ্রোহের অন্যতম হাতিয়ার ছিল যৌনদাসী। ভাড়া করা যৌনদাসীদের কৌশলে প্রভাবশালী সেনাপতিদের শয্যায় পাঠানো হতো। পরবর্তীতে একই যৌনদাসীকে যখন প্রতিদ্বন্দ্বী সেনা কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হতো তখন সংঘাত অনিবার্য হয়ে উঠত। এভাবেই সাম্রাজ্যের প্রধান তিন সেনাপতির মধ্যে প্রথমে মতবিরোধ, তারপর সংঘাত এবং যুদ্ধের মাধ্যমে রোমান সিনেটের পতন ডেকে আনা হয়েছিল। প্রথমেই যুদ্ধ বাঁধলো সিজার ও ক্রেসাসের মধ্যে। যুদ্ধে ক্রেসাস পরাজিত ও নিহত হন। এরপর সিনেট সর্বশক্তি নিয়োগ করে পম্পে দি গ্রেটের পেছনে। কিন্তু জুলিয়াস সিজার ও মার্ক এন্টোনিওর সম্মিলিত বাহিনীর কাছে টিকতে না পেরে তিনি পালিয়ে যান মিসরে।
ইউরোপের বাইরে এশিয়ায় কেবলমাত্র মিসর ও সিরিয়া সরাসরি রোমের কর্তৃত্ব মেনে তাদের করদ রাজ্য হিসেবে গণ্য হয়ে আসছিল আলেকজান্ডার দি গ্রেটের সময়কাল থেকেই। আলেকজান্ডারের সেনাপতি টলেমির বংশধরদের হাতে ছিল মিসর ও সিরিয়া শাসনের ভার। যাই হোক পম্পেকে ধাওয়া করতে করতে সিজার যখন মিসরের আলেকজান্দ্রিয়াতে উপস্থিত হন তখন মিসরে চলছে মহারাজনৈতিক সংকট। তাও আবার কেবল যৌনতাকে কেন্দ্র করে। সর্বশেষ টলেমি শাসক একাদশ টলেমির দুই মেয়ে এবং এক ছেলে রেখে মারা যাওয়ার পর নিয়মানুযায়ী ১১ বছর বয়সী মানসিকভাবে অসুস্থ টলেমিপুত্রই হবেন মিসরের শাসক। কিন্তু তৎকালীন রাজপরিবারের নিয়মানুযায়ী ভাইবোনে বিবাহ সিদ্ধ ছিল। দুই রাজকুমারীই ছোট ভাইয়ের বউ হওয়ার জন্য শুরু করলেন তুমুল প্রতিযোগিতা। এতে জড়িয়ে পড়লেন মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা এবং সেনাবাহিনীও। প্রাসাদ ষড়যন্ত্রে বড় বোনের আপাত জয় হলো এবং ছোট বোন ক্লিওপেট্রা পরাজিত হয়ে প্রাসাদ ছেড়ে অদূরবর্তী একটি মরূদ্যানে তার সহযোগী সেনাবাহিনী এবং মন্ত্রীবর্গকে নিয়ে আশ্রয় নিলেন। যতদূর জানা যায়, ক্লিওপেট্রার বয়স তখন ১৯ বছর।
সিজার আলেকজান্দ্রিয়া বন্দরে অবতরণের পর সেনাপতি পম্পে মিসর ত্যাগ করে নিরুদ্দেশ হন। সিজার অনেকটা ছুটি কাটানোর আবেশে রাজপ্রাসাদে ওঠেন। বালক টলেমি এবং তার হবু স্ত্রী বড় বোন সিজারকে অভ্যর্থনা জানান। ওইদিকে ক্লিওপেট্রা সুযোগ খুঁজতে থাকেন সিজারের সঙ্গে দেখা করার জন্য। কিন্তু রাজবিদ্রোহী হিসেবে তার বিরুদ্ধে হুলিয়া থাকায় তিনি প্রাসাদে ঢুকতে পারছিলেন না। শেকসপিয়রের বর্ণনা মতে, বাইরের কোনো সামন্ত বা জমিদারের পক্ষ থেকে পাঠানো একটি কার্পেটের মধ্যে লুকিয়ে ক্লিওপেট্রা সিজারের সামনে নীত হন। পরিকল্পনা অনুযায়ী রুমে সিজার বিশ্বস্ত কয়েকজন সেনাপতিসহ অবস্থান করছিলেন এবং সময়টা ছিল সন্ধ্যার ঠিক পর পর। সুন্দরতম যৌন আবেদন সৃষ্টিকারী পোশাকে ক্লিওপেট্রা যখন জুলিয়াস সিজারের সামনে আবির্ভূত হলেন তখন গভীর বিস্ময়ে সিজার বাকরুদ্ধ হয়ে পড়লেন। ৫১ বছর বয়সী সিজার ১৯ বছরের তরুণী ক্লিওপেট্রার রূপের আবেশে উত্তেজিত হয়ে থরথর করে কাঁপছিলেন। সিজারের সঙ্গীরা রুম থেকে সরে পড়লেন আর ক্লিওপেট্রাও এই সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন। তিনি ঝাঁপিয়ে পড়লেন সিজারের বুকে। তাদের বিয়ে হলো এবং একটি পুত্র সন্তান জন্ম নিল।
মিসরে অবস্থানকালীন পৃথিবীর অন্যতম সর্বশ্রেষ্ঠ মহাবীর স্থবির হয়ে পড়লেন। তিনি প্রথমে ক্লিওপেট্রার ভাইয়ের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্লিওপেট্রার বিয়ে দিলেন এবং পরে আততায়ীর মাধ্যমে ভাই এবং অন্য বোনকে খুন করালেন। ফলে ক্লিওপেট্রা বিনা বাধায় হয়ে গেলেন রানী নেফার তিতির পর মিসরের প্রথম মহিলা সম্রাজ্ঞী। এর পর শুরু হলো অলস প্রণয়, উদ্ভট পরিকল্পনা এবং অবাস্তব উচ্চকাঙ্ক্ষা। রোমান সাম্রাজ্যের রীতি অনুযায়ী জুলিয়াস সিজার ছিলেন কেবলমাত্র একজন সেনাপতি। যদিও সর্বময় ক্ষমতা তার হাতে ছিল, তথাপি আইনত প্রত্যেকটি কাজের জন্য তাকে সিনেটের অনুমতি নিতে হতো এবং জবাবদিহি করতে হতো। ক্লিওপেট্রা সিজারকে প্ররোচিত করতে শুরু করল সিনেট প্রথা বাতিল এবং নিজেকে সম্রাট ঘোষণা করার জন্য। যাতে তাদের ঔরসজাত সন্তান ভবিষ্যতে রোমান সম্রাট হতে পারে। প্রতিনিয়ত এবং অনবরত প্ররোচনার ফলে সিজার দুর্বল হয়ে পড়লেন, পৌরুষ হারালেন এবং বলতে গেলে নৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে রোমে উপস্থিত হলেন। কিন্তু রোমের সার্বিক পরিস্থিতি, নিজের অবদমিত মন এবং সিনেটের ঐতিহ্যের কারণে কিছুই করতে সাহসী হলেন না। এ অবস্থায় ক্লিওপেট্রা তার শিশুপুত্রকে নিয়ে রোম নগরীতে আগমনের জন্য সিজারের অনুমতি প্রার্থনা করলেন। বিশাল আড়ম্বরপূর্ণ পরিবেশে বিপুল সংবর্ধনার মাধ্যমে সিনেট এবং স্বয়ং সিজারসহ রোমান নাগরিকরা ক্লিওপেট্রা ও তার শিশুপুত্রকে বরণ করে নিলেন। এবার রোমে বসে ক্লিওপেট্রা সিজারকে প্রবলভাবে চাপ দিলেন নিজেকে সম্রাট ঘোষণা করার জন্য। বাধ্য হয়ে সিজার নিজেকে সম্রাট ঘোষণা করলেন এবং সিনেটের মধ্যে তারই বিশ্বস্ত বন্ধু ও সহকারী ব্রুটাস কর্তৃক নির্মমভাবে নিহত হলেন।
এ তো গেল সিজার পতনের কাহিনী। এবার বলব ক্লিওপেট্রা পতনের ইতিকথা। যে রাতে সিজার খুন হলেন সে রাতেই ক্লিওপেট্রা রোম থেকে পালিয়ে মিসর রওনা হলেন। এদিকে বিভিন্ন ঘটনা পরিক্রমায় রোমের ক্ষমতা দখল করলেন জুলিয়াস সিজারের পৌত্র অক্টাভিয়ান সিজার। অক্টাভিয়ান নিজেকে সম্রাট ঘোষণা করে রোমান ইতিহাসের প্রথম সম্রাট হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করলেন। তিনি সেনাপতি মার্ক এন্টোনিওকে মিসর পাঠালেন ক্লিওপেট্রাকে রোমে বন্দী করে নিয়ে আসার জন্য। ক্লিওপেট্রা এবার মার্ক এন্টোনিওকে প্রেমের ফাঁদে জড়ালেন। ক্লিওপেট্রার প্ররোচনায় মার্ক এন্টোনিও রোমের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করলেন। অক্টাভিয়ান প্রাণান্ত কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালালেন এন্টোনিওকে নিবৃত্ত করার জন্য। কিন্তু নীল নদের অপরূপ দৃশ্যের মাঝে রোজকার নৌবিহারের প্রমোদ ভ্রমণ, সুরা ও ক্লিওপেট্রার উষ্ণ সানি্নধ্য এন্টোনিওকে সবকিছু ভুলিয়ে একজন নপুংসকে পরিণত করল। এ অবস্থায় অক্টাভিয়ান সিজার সসৈন্যে মিসর উপস্থিত হলেন এবং নৌযুদ্ধে মার্ক এন্টোনিওকে পরাজিত ও নিহত করার পর ক্লিওপেট্রার প্রাসাদে এই প্রথম পৃথিবীর সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ রূপবতীর মুখোমুখি হলেন। অক্টাভিয়ান পাগল হয়ে গেলেন ক্লিওপেট্রাকে পাওয়ার জন্য। অক্টাভিয়ানকে ভালোবাসার বিনিময়ে রাজ্যপট ফিরিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব করলেন রোম সম্রাট। কিন্তু ততদিনে ক্লিওপেট্রা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। তিনি সুকৌশলে অক্টাভিয়ানের কাছ থেকে একদিনের সময় নিলেন এবং সুযোগ মতো আত্দহত্যার মাধ্যমে একটি ইতিহাসের যবনিকা টানলেন। সমকালীন প্রথার অধীনে নিয়মতান্ত্রিক যৌনতা দোষণীয় না হলেও ব্যক্তিজীবনে এর বাড়াবাড়ি মানুষকে অলস, অকর্মণ্য, বিলাসী এবং অপব্যয়ী করে তোলে। যার পরিণাম পতন। যা ক্ষেত্রবিশেষে ধীরগতিতে হয়ে থাকে। কিন্তু অবাধ, অনৈতিক ও অনাচারমূলক যৌনাচার দেশ, জাতি ও সাম্রাজ্যকে ধ্বংস করে ফেলে। মহাকবি হোমারের মাধ্যমেই আমরা হেলেন ও ট্রয়ের ধ্বংসের কাহিনী জানতে পারি। ট্রয়ের যুবরাজ প্যারিস পাশর্্ববর্তী রাজ্যে তার বন্ধুর স্ত্রী হেলেনকে পরকীয়া ফাঁদে ফেলে পালিয়ে মিসর চলে গেলেন। অন্যদিকে এ অপহরণের কারণে গ্রিকদের দ্বারা সম্পূর্ণ ট্রয় নগরী শেষ হয়ে গিয়েছিল। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যে ষোড়শ শতাব্দীতে রানী প্রথম এলিজাবেথের সিংহাসনে আরোহণের ইতিহাস ভ্রষ্টতা ও পাপাচারের এক নিকৃষ্ট উদাহরণ। রানী প্রথম এলিজাবেথের বিকৃত যৌনাচার ব্রিটিশ সামাজ্যের পতন ডেকে এনেছিল। ঊনবিংশ শতাব্দীর ব্রিটিশ সম্রাজ্ঞী মহারানী ভিক্টোরিয়াও ছিলেন পরকীয়ায় আসক্ত। জনৈক ভারতীয় মুসলমান মুন্সীর সঙ্গে তার যৌনাচারের কথা কম-বেশি সবাই জানত।
স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী পণ্ডিত জওহরলাল নেহেরুর পরকীয়ার কারণে ভারতবর্ষকে দুভাগে ভাগ হতে হয়েছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ব্রিটিশ সরকার কিছুতেই ভারতবর্ষকে তাদের অধীন রাখতে চাচ্ছিলেন না। যত দ্রুত সম্ভব এখান থেকে তাদের সবকিছু গুছিয়ে নিতে চাচ্ছিলেন। ব্রিটেনের নতুন আইন অনুযায়ী ভারত সরকারকে প্রতিবছর বিরাট অঙ্কের অর্থ সাবসিডি দিতে হচ্ছিল। অন্যদিকে স্থানীয় রাজস্ব হ্রাস পাচ্ছিল ব্যাপক হারে। ক্রিপস মিশনের সুপারিশ, লন্ডনের গোলটেবিল বৈঠক ইত্যাদি কোনো কিছুতেই ব্রিটিশ সরকার ক্ষমতা হস্তান্তরের পথ পাচ্ছিলেন না। ঐক্যবদ্ধ একক ভারত, না দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে ভারত ও পাকিস্তান ভাগ_ এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত কোনো রাজনৈতিক দলই নিতে পারছিল না। এ সময় তৎকালীন গভর্নর জেনারেল লর্ড মাউন্ট ব্যাটেন তার স্ত্রীর পরকীয়া প্রেমিক পণ্ডিত নেহেরুকে কাজে লাগালেন। ভারত ভাগ হলো। অনৈতিক যৌনাচারের একটি উপাখ্যান ভারত ও পাকিস্তানের সীমান্তের ঠিক মাঝখানে কলঙ্কের পাহাড় হয়ে রক্ত ঝরাতে লাগল সেই ১৯৪৭ সাল থেকে অদ্যাবধি।
এই গাঙ্গেয় বদ্বীপের বাংলাদেশের রাজমহলের অসংখ্য ঘটনা এখনো উপকথা হয়ে মানুষের মুখে মুখে ফিরছে যুগ যুগ ধরে। প্রতিটি ঘটনাই হয়তো সাম্রাজ্যের পতন ডেকে এনেছে কিংবা ব্যক্তির পতন ঘটিয়েছে। সাম্প্রতিককালে দেখা যায়, একদল সুন্দরী নারী প্রতিনিয়ত অবাধে সচিবালয়ে যাতায়াত করছে। ক্ষমতার অন্যান্য কেন্দ্রেও তাদের অবাধ যাতায়াত। যে রুমে ক্ষমতা, সেখানেই তাদের বিচরণ। সব রুমে তাদের অভ্যর্থনা জানানো না হলেও বেশির ভাগ রুম থেকে তারা প্রত্যাখ্যাত হয় না।
আজ ঢাকা শহরের অভিজাত এলাকাগুলোতে তথাকথিত অভিজাতদের রক্ষিতালয় এবং সেখানকার অশালীনতা সমাজকে পঙ্কিলতার দিকে নিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। মহান জাতীয় সংসদের সামনে মানিক মিয়া এভিনিউতে প্রতি সন্ধ্যায় পতিতাদের বৃহত্তম হাট বসে। সন্ধ্যার পর রাজধানীর কয়েকটি সড়কে ভদ্রলোকদের হাঁটা অসম্ভব। তাদের সঙ্গে যোগ হচ্ছে নিত্যনতুন নেশাকর উপাদান। পাঁচতারা হোটেলগুলোর গভীর রাতের কর্মকাণ্ড আরব্য রজনীর সবচেয়ে বাজে দৃশ্যকেও হার মানায়। এসবই হচ্ছে রাজনৈতিক ক্ষমতার ছত্রছায়ায় কিংবা প্রশ্রয়ে। অর্থ-বিত্ত কিংবা ক্ষমতা হলেই মানুষকে বিকৃত যৌনাচারের দিকে টেনে নেওয়ার আদিম কৌশল যেভাবে আমাদের সমাজকে অক্টোপাসের মতো জড়িয়ে ফেলছে তাতে আমরা কোনদিকে যাচ্ছি তা বলা মুশকিল।
নিজের দু’একটি অভিজ্ঞতা দিয়ে লেখা শেষ করব। বর্তমান সামাজিক অবস্থানগত কারণে সমাজের একবারে নিম্নস্তর থেকে উঁচুস্তর পর্যন্ত অন্তরঙ্গভাবে মেশার সুযোগ হয় প্রতিনিয়ত। প্রায় সব আলোচনাতেই যৌনাচারের বিষয়টি যখন আসে তখন সবাইকেই দেখি এ কাজে মহা ওস্তাদ। তাদের বক্তব্য শুনে আমি একটি বিষয় লক্ষ করলাম, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে পরকীয়ার প্রতি প্রচণ্ড আকৃষ্ট হয়ে পড়ছে। বিয়েশাদি করে নিয়ন্ত্রিত জীবন খুব কম প্রভাবশালী লোকেরই পছন্দ।
একাধিক বিয়ে করে কোনো নারীর দায়িত্ব নেওয়ার চেয়ে অন্যের স্ত্রীর সঙ্গে গোপনে মেলামেশাকেই তারা পছন্দ করে। অন্যদিকে নারীরা আরও ভয়াবহ কাজ করছে। ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে বিবাহ কিংবা দ্বিতীয় বা তৃতীয় স্ত্রী হওয়ার চেয়ে স্বার্থের জন্য নৈতিকভাবে দেহদানের মাধ্যমে স্বার্থ হাসিলের যে চেষ্টা তারা করে যাচ্ছে তার পরিণতি কিন্তু খুবই খারাপ হবে বলেই ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়।
লেখক : সংসদ সদস্য ও সম্পাদক, ডিফারেন্ট নিউজ

Advertisements

তথ্য কণিকা Jahan Hassan জাহান হাসান
Ekush, Publisher/Editor/ Hollywood media hyphenate/ একুশ নিউজ মিডিয়া, লিটল বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস / 1 818 266 7539 / FB: JahanHassan

One Response to রাজনৈতিক ক্ষমতা, অন্তরালের যৌনতা এবং দিনান্তের পতন!

  1. জহির says:

    লেখা অনেক সুন্দর হয়েছে তবে তথ্য সূত্র দিলে আরো ভালো হত।
    ধন্যবাদ

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: