রাজনৈতিক ক্ষমতা, অন্তরালের যৌনতা এবং দিনান্তের পতন!


রাজনৈতিক ক্ষমতা, অন্তরালের যৌনতা এবং দিনান্তের পতন!

সম্পাদক, ডিফারেন্ট নিউজ

গোলাম মাওলা রনি: রাজা-বাদশাদের যৌন জীবন নিয়ে মানুষের আগ্রহের কমতি নেই। রাষ্ট্র ক্ষমতার কেন্দ্রীয় চরিত্র বা তাদের পাত্র-মিত্রদের বিচিত্র এবং ক্ষেত্রবিশেষে বিকৃত যৌনাচার কখনো কখনো কাউকে ক্ষমতার কেন্দ্রে পেঁৗছে দেয়, আবার কেউ কেউ পড়ে যায় পতনের অতল গহ্বরে। ইতিহাসে এ বিষয়ে অনেক জমজমাট মজার ঘটনা আছে। ক্ষমতাসীনদের যৌনাচার সম্পর্কিত সাম্প্রতিককালের অনেক ঘটনাও মানুষকে প্রবলভাবে উত্তেজিত করে। রাজা-রানীদের যৌনাকাঙ্ক্ষার ওপর সাম্রাজ্যের উত্থান-পতন অনেকাংশে নির্ভর করে। ধর্মের বিধান এক্ষেত্রে পরিষ্কার_ অর্থাৎ যৌন জীবন নিয়ন্ত্রিত, নিষ্পাপ এবং কলঙ্কমুক্ত হলে ঐশী সাহায্য যেমন পাওয়া যায়, তদ্রূপ পাপাচারের জন্য পতনের গ্যারান্টি শতভাগ।
উইলিয়াম শেকসপিয়র তার অমর লেখনীর মাধ্যমে সর্বপ্রথম রাজনীতির নিয়ামক হিসেবে যৌনতাকে কেন্দ্রীয় চরিত্রে নিয়ে আসেন। তার প্রায় সব নাটকেই প্রধান পাত্র-পাত্রীদের জীবনের উপাখ্যান রচিত হয়েছে যৌনতাকে কেন্দ্র করে। আমি এখানে ক্লিওপেট্রা নাটকের কিছু অংশ বর্ণনা করে বিশ্বের অন্য নামকরা রাজা-বাদশাদের অন্তঃপুরে ঢুকে যাব এবং সর্বশেষে সাম্প্রতিক বিশ্বের কিছু ঘটনা বর্ণনা করব।
খ্রিস্টের জন্মের মাত্র ৫০-৬০ বছর আগে রোমান সেনাপতি জুলিয়াস সিজার তার সহযোগী সেনাপতি ক্রেসাস, পম্পে দি গ্রেট এবং মার্ক এন্টোনিওর সহযোগিতায় সমগ্র ইউরোপ দখল করেন। রোম তখন রাজধানী। শাসনব্যবস্থা অনেকটা সংসদীয় গণতন্ত্রের আদলে। দেশ চালাত রোমান সিনেট। জুলিয়াস সিজারের একের পর এক যুগান্তকারী বিজয়ে সেনাবাহিনী অতিশয় ক্ষমতাশালী হয়ে ওঠে এবং সিনেটের ক্ষমতা হ্রাস পেতে থাকে। তখন ধুরন্ধর সিনেটররা কোটি কোটি স্বর্ণমুদ্রা বিনিয়োগ করে একের পর এক সেনাবিদ্রোহ ঘটাতে থাকে। এ বিদ্রোহের অন্যতম হাতিয়ার ছিল যৌনদাসী। ভাড়া করা যৌনদাসীদের কৌশলে প্রভাবশালী সেনাপতিদের শয্যায় পাঠানো হতো। পরবর্তীতে একই যৌনদাসীকে যখন প্রতিদ্বন্দ্বী সেনা কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হতো তখন সংঘাত অনিবার্য হয়ে উঠত। এভাবেই সাম্রাজ্যের প্রধান তিন সেনাপতির মধ্যে প্রথমে মতবিরোধ, তারপর সংঘাত এবং যুদ্ধের মাধ্যমে রোমান সিনেটের পতন ডেকে আনা হয়েছিল। প্রথমেই যুদ্ধ বাঁধলো সিজার ও ক্রেসাসের মধ্যে। যুদ্ধে ক্রেসাস পরাজিত ও নিহত হন। এরপর সিনেট সর্বশক্তি নিয়োগ করে পম্পে দি গ্রেটের পেছনে। কিন্তু জুলিয়াস সিজার ও মার্ক এন্টোনিওর সম্মিলিত বাহিনীর কাছে টিকতে না পেরে তিনি পালিয়ে যান মিসরে।
ইউরোপের বাইরে এশিয়ায় কেবলমাত্র মিসর ও সিরিয়া সরাসরি রোমের কর্তৃত্ব মেনে তাদের করদ রাজ্য হিসেবে গণ্য হয়ে আসছিল আলেকজান্ডার দি গ্রেটের সময়কাল থেকেই। আলেকজান্ডারের সেনাপতি টলেমির বংশধরদের হাতে ছিল মিসর ও সিরিয়া শাসনের ভার। যাই হোক পম্পেকে ধাওয়া করতে করতে সিজার যখন মিসরের আলেকজান্দ্রিয়াতে উপস্থিত হন তখন মিসরে চলছে মহারাজনৈতিক সংকট। তাও আবার কেবল যৌনতাকে কেন্দ্র করে। সর্বশেষ টলেমি শাসক একাদশ টলেমির দুই মেয়ে এবং এক ছেলে রেখে মারা যাওয়ার পর নিয়মানুযায়ী ১১ বছর বয়সী মানসিকভাবে অসুস্থ টলেমিপুত্রই হবেন মিসরের শাসক। কিন্তু তৎকালীন রাজপরিবারের নিয়মানুযায়ী ভাইবোনে বিবাহ সিদ্ধ ছিল। দুই রাজকুমারীই ছোট ভাইয়ের বউ হওয়ার জন্য শুরু করলেন তুমুল প্রতিযোগিতা। এতে জড়িয়ে পড়লেন মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা এবং সেনাবাহিনীও। প্রাসাদ ষড়যন্ত্রে বড় বোনের আপাত জয় হলো এবং ছোট বোন ক্লিওপেট্রা পরাজিত হয়ে প্রাসাদ ছেড়ে অদূরবর্তী একটি মরূদ্যানে তার সহযোগী সেনাবাহিনী এবং মন্ত্রীবর্গকে নিয়ে আশ্রয় নিলেন। যতদূর জানা যায়, ক্লিওপেট্রার বয়স তখন ১৯ বছর।
সিজার আলেকজান্দ্রিয়া বন্দরে অবতরণের পর সেনাপতি পম্পে মিসর ত্যাগ করে নিরুদ্দেশ হন। সিজার অনেকটা ছুটি কাটানোর আবেশে রাজপ্রাসাদে ওঠেন। বালক টলেমি এবং তার হবু স্ত্রী বড় বোন সিজারকে অভ্যর্থনা জানান। ওইদিকে ক্লিওপেট্রা সুযোগ খুঁজতে থাকেন সিজারের সঙ্গে দেখা করার জন্য। কিন্তু রাজবিদ্রোহী হিসেবে তার বিরুদ্ধে হুলিয়া থাকায় তিনি প্রাসাদে ঢুকতে পারছিলেন না। শেকসপিয়রের বর্ণনা মতে, বাইরের কোনো সামন্ত বা জমিদারের পক্ষ থেকে পাঠানো একটি কার্পেটের মধ্যে লুকিয়ে ক্লিওপেট্রা সিজারের সামনে নীত হন। পরিকল্পনা অনুযায়ী রুমে সিজার বিশ্বস্ত কয়েকজন সেনাপতিসহ অবস্থান করছিলেন এবং সময়টা ছিল সন্ধ্যার ঠিক পর পর। সুন্দরতম যৌন আবেদন সৃষ্টিকারী পোশাকে ক্লিওপেট্রা যখন জুলিয়াস সিজারের সামনে আবির্ভূত হলেন তখন গভীর বিস্ময়ে সিজার বাকরুদ্ধ হয়ে পড়লেন। ৫১ বছর বয়সী সিজার ১৯ বছরের তরুণী ক্লিওপেট্রার রূপের আবেশে উত্তেজিত হয়ে থরথর করে কাঁপছিলেন। সিজারের সঙ্গীরা রুম থেকে সরে পড়লেন আর ক্লিওপেট্রাও এই সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন। তিনি ঝাঁপিয়ে পড়লেন সিজারের বুকে। তাদের বিয়ে হলো এবং একটি পুত্র সন্তান জন্ম নিল।
মিসরে অবস্থানকালীন পৃথিবীর অন্যতম সর্বশ্রেষ্ঠ মহাবীর স্থবির হয়ে পড়লেন। তিনি প্রথমে ক্লিওপেট্রার ভাইয়ের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্লিওপেট্রার বিয়ে দিলেন এবং পরে আততায়ীর মাধ্যমে ভাই এবং অন্য বোনকে খুন করালেন। ফলে ক্লিওপেট্রা বিনা বাধায় হয়ে গেলেন রানী নেফার তিতির পর মিসরের প্রথম মহিলা সম্রাজ্ঞী। এর পর শুরু হলো অলস প্রণয়, উদ্ভট পরিকল্পনা এবং অবাস্তব উচ্চকাঙ্ক্ষা। রোমান সাম্রাজ্যের রীতি অনুযায়ী জুলিয়াস সিজার ছিলেন কেবলমাত্র একজন সেনাপতি। যদিও সর্বময় ক্ষমতা তার হাতে ছিল, তথাপি আইনত প্রত্যেকটি কাজের জন্য তাকে সিনেটের অনুমতি নিতে হতো এবং জবাবদিহি করতে হতো। ক্লিওপেট্রা সিজারকে প্ররোচিত করতে শুরু করল সিনেট প্রথা বাতিল এবং নিজেকে সম্রাট ঘোষণা করার জন্য। যাতে তাদের ঔরসজাত সন্তান ভবিষ্যতে রোমান সম্রাট হতে পারে। প্রতিনিয়ত এবং অনবরত প্ররোচনার ফলে সিজার দুর্বল হয়ে পড়লেন, পৌরুষ হারালেন এবং বলতে গেলে নৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে রোমে উপস্থিত হলেন। কিন্তু রোমের সার্বিক পরিস্থিতি, নিজের অবদমিত মন এবং সিনেটের ঐতিহ্যের কারণে কিছুই করতে সাহসী হলেন না। এ অবস্থায় ক্লিওপেট্রা তার শিশুপুত্রকে নিয়ে রোম নগরীতে আগমনের জন্য সিজারের অনুমতি প্রার্থনা করলেন। বিশাল আড়ম্বরপূর্ণ পরিবেশে বিপুল সংবর্ধনার মাধ্যমে সিনেট এবং স্বয়ং সিজারসহ রোমান নাগরিকরা ক্লিওপেট্রা ও তার শিশুপুত্রকে বরণ করে নিলেন। এবার রোমে বসে ক্লিওপেট্রা সিজারকে প্রবলভাবে চাপ দিলেন নিজেকে সম্রাট ঘোষণা করার জন্য। বাধ্য হয়ে সিজার নিজেকে সম্রাট ঘোষণা করলেন এবং সিনেটের মধ্যে তারই বিশ্বস্ত বন্ধু ও সহকারী ব্রুটাস কর্তৃক নির্মমভাবে নিহত হলেন।
এ তো গেল সিজার পতনের কাহিনী। এবার বলব ক্লিওপেট্রা পতনের ইতিকথা। যে রাতে সিজার খুন হলেন সে রাতেই ক্লিওপেট্রা রোম থেকে পালিয়ে মিসর রওনা হলেন। এদিকে বিভিন্ন ঘটনা পরিক্রমায় রোমের ক্ষমতা দখল করলেন জুলিয়াস সিজারের পৌত্র অক্টাভিয়ান সিজার। অক্টাভিয়ান নিজেকে সম্রাট ঘোষণা করে রোমান ইতিহাসের প্রথম সম্রাট হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করলেন। তিনি সেনাপতি মার্ক এন্টোনিওকে মিসর পাঠালেন ক্লিওপেট্রাকে রোমে বন্দী করে নিয়ে আসার জন্য। ক্লিওপেট্রা এবার মার্ক এন্টোনিওকে প্রেমের ফাঁদে জড়ালেন। ক্লিওপেট্রার প্ররোচনায় মার্ক এন্টোনিও রোমের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করলেন। অক্টাভিয়ান প্রাণান্ত কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালালেন এন্টোনিওকে নিবৃত্ত করার জন্য। কিন্তু নীল নদের অপরূপ দৃশ্যের মাঝে রোজকার নৌবিহারের প্রমোদ ভ্রমণ, সুরা ও ক্লিওপেট্রার উষ্ণ সানি্নধ্য এন্টোনিওকে সবকিছু ভুলিয়ে একজন নপুংসকে পরিণত করল। এ অবস্থায় অক্টাভিয়ান সিজার সসৈন্যে মিসর উপস্থিত হলেন এবং নৌযুদ্ধে মার্ক এন্টোনিওকে পরাজিত ও নিহত করার পর ক্লিওপেট্রার প্রাসাদে এই প্রথম পৃথিবীর সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ রূপবতীর মুখোমুখি হলেন। অক্টাভিয়ান পাগল হয়ে গেলেন ক্লিওপেট্রাকে পাওয়ার জন্য। অক্টাভিয়ানকে ভালোবাসার বিনিময়ে রাজ্যপট ফিরিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব করলেন রোম সম্রাট। কিন্তু ততদিনে ক্লিওপেট্রা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। তিনি সুকৌশলে অক্টাভিয়ানের কাছ থেকে একদিনের সময় নিলেন এবং সুযোগ মতো আত্দহত্যার মাধ্যমে একটি ইতিহাসের যবনিকা টানলেন। সমকালীন প্রথার অধীনে নিয়মতান্ত্রিক যৌনতা দোষণীয় না হলেও ব্যক্তিজীবনে এর বাড়াবাড়ি মানুষকে অলস, অকর্মণ্য, বিলাসী এবং অপব্যয়ী করে তোলে। যার পরিণাম পতন। যা ক্ষেত্রবিশেষে ধীরগতিতে হয়ে থাকে। কিন্তু অবাধ, অনৈতিক ও অনাচারমূলক যৌনাচার দেশ, জাতি ও সাম্রাজ্যকে ধ্বংস করে ফেলে। মহাকবি হোমারের মাধ্যমেই আমরা হেলেন ও ট্রয়ের ধ্বংসের কাহিনী জানতে পারি। ট্রয়ের যুবরাজ প্যারিস পাশর্্ববর্তী রাজ্যে তার বন্ধুর স্ত্রী হেলেনকে পরকীয়া ফাঁদে ফেলে পালিয়ে মিসর চলে গেলেন। অন্যদিকে এ অপহরণের কারণে গ্রিকদের দ্বারা সম্পূর্ণ ট্রয় নগরী শেষ হয়ে গিয়েছিল। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যে ষোড়শ শতাব্দীতে রানী প্রথম এলিজাবেথের সিংহাসনে আরোহণের ইতিহাস ভ্রষ্টতা ও পাপাচারের এক নিকৃষ্ট উদাহরণ। রানী প্রথম এলিজাবেথের বিকৃত যৌনাচার ব্রিটিশ সামাজ্যের পতন ডেকে এনেছিল। ঊনবিংশ শতাব্দীর ব্রিটিশ সম্রাজ্ঞী মহারানী ভিক্টোরিয়াও ছিলেন পরকীয়ায় আসক্ত। জনৈক ভারতীয় মুসলমান মুন্সীর সঙ্গে তার যৌনাচারের কথা কম-বেশি সবাই জানত।
স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী পণ্ডিত জওহরলাল নেহেরুর পরকীয়ার কারণে ভারতবর্ষকে দুভাগে ভাগ হতে হয়েছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ব্রিটিশ সরকার কিছুতেই ভারতবর্ষকে তাদের অধীন রাখতে চাচ্ছিলেন না। যত দ্রুত সম্ভব এখান থেকে তাদের সবকিছু গুছিয়ে নিতে চাচ্ছিলেন। ব্রিটেনের নতুন আইন অনুযায়ী ভারত সরকারকে প্রতিবছর বিরাট অঙ্কের অর্থ সাবসিডি দিতে হচ্ছিল। অন্যদিকে স্থানীয় রাজস্ব হ্রাস পাচ্ছিল ব্যাপক হারে। ক্রিপস মিশনের সুপারিশ, লন্ডনের গোলটেবিল বৈঠক ইত্যাদি কোনো কিছুতেই ব্রিটিশ সরকার ক্ষমতা হস্তান্তরের পথ পাচ্ছিলেন না। ঐক্যবদ্ধ একক ভারত, না দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে ভারত ও পাকিস্তান ভাগ_ এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত কোনো রাজনৈতিক দলই নিতে পারছিল না। এ সময় তৎকালীন গভর্নর জেনারেল লর্ড মাউন্ট ব্যাটেন তার স্ত্রীর পরকীয়া প্রেমিক পণ্ডিত নেহেরুকে কাজে লাগালেন। ভারত ভাগ হলো। অনৈতিক যৌনাচারের একটি উপাখ্যান ভারত ও পাকিস্তানের সীমান্তের ঠিক মাঝখানে কলঙ্কের পাহাড় হয়ে রক্ত ঝরাতে লাগল সেই ১৯৪৭ সাল থেকে অদ্যাবধি।
এই গাঙ্গেয় বদ্বীপের বাংলাদেশের রাজমহলের অসংখ্য ঘটনা এখনো উপকথা হয়ে মানুষের মুখে মুখে ফিরছে যুগ যুগ ধরে। প্রতিটি ঘটনাই হয়তো সাম্রাজ্যের পতন ডেকে এনেছে কিংবা ব্যক্তির পতন ঘটিয়েছে। সাম্প্রতিককালে দেখা যায়, একদল সুন্দরী নারী প্রতিনিয়ত অবাধে সচিবালয়ে যাতায়াত করছে। ক্ষমতার অন্যান্য কেন্দ্রেও তাদের অবাধ যাতায়াত। যে রুমে ক্ষমতা, সেখানেই তাদের বিচরণ। সব রুমে তাদের অভ্যর্থনা জানানো না হলেও বেশির ভাগ রুম থেকে তারা প্রত্যাখ্যাত হয় না।
আজ ঢাকা শহরের অভিজাত এলাকাগুলোতে তথাকথিত অভিজাতদের রক্ষিতালয় এবং সেখানকার অশালীনতা সমাজকে পঙ্কিলতার দিকে নিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। মহান জাতীয় সংসদের সামনে মানিক মিয়া এভিনিউতে প্রতি সন্ধ্যায় পতিতাদের বৃহত্তম হাট বসে। সন্ধ্যার পর রাজধানীর কয়েকটি সড়কে ভদ্রলোকদের হাঁটা অসম্ভব। তাদের সঙ্গে যোগ হচ্ছে নিত্যনতুন নেশাকর উপাদান। পাঁচতারা হোটেলগুলোর গভীর রাতের কর্মকাণ্ড আরব্য রজনীর সবচেয়ে বাজে দৃশ্যকেও হার মানায়। এসবই হচ্ছে রাজনৈতিক ক্ষমতার ছত্রছায়ায় কিংবা প্রশ্রয়ে। অর্থ-বিত্ত কিংবা ক্ষমতা হলেই মানুষকে বিকৃত যৌনাচারের দিকে টেনে নেওয়ার আদিম কৌশল যেভাবে আমাদের সমাজকে অক্টোপাসের মতো জড়িয়ে ফেলছে তাতে আমরা কোনদিকে যাচ্ছি তা বলা মুশকিল।
নিজের দু’একটি অভিজ্ঞতা দিয়ে লেখা শেষ করব। বর্তমান সামাজিক অবস্থানগত কারণে সমাজের একবারে নিম্নস্তর থেকে উঁচুস্তর পর্যন্ত অন্তরঙ্গভাবে মেশার সুযোগ হয় প্রতিনিয়ত। প্রায় সব আলোচনাতেই যৌনাচারের বিষয়টি যখন আসে তখন সবাইকেই দেখি এ কাজে মহা ওস্তাদ। তাদের বক্তব্য শুনে আমি একটি বিষয় লক্ষ করলাম, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে পরকীয়ার প্রতি প্রচণ্ড আকৃষ্ট হয়ে পড়ছে। বিয়েশাদি করে নিয়ন্ত্রিত জীবন খুব কম প্রভাবশালী লোকেরই পছন্দ।
একাধিক বিয়ে করে কোনো নারীর দায়িত্ব নেওয়ার চেয়ে অন্যের স্ত্রীর সঙ্গে গোপনে মেলামেশাকেই তারা পছন্দ করে। অন্যদিকে নারীরা আরও ভয়াবহ কাজ করছে। ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে বিবাহ কিংবা দ্বিতীয় বা তৃতীয় স্ত্রী হওয়ার চেয়ে স্বার্থের জন্য নৈতিকভাবে দেহদানের মাধ্যমে স্বার্থ হাসিলের যে চেষ্টা তারা করে যাচ্ছে তার পরিণতি কিন্তু খুবই খারাপ হবে বলেই ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়।
লেখক : সংসদ সদস্য ও সম্পাদক, ডিফারেন্ট নিউজ

পুরুষদের পছন্দ দুষ্টু মেয়ে, কিন্তু কেন!


পুরুষদের পছন্দ দুষ্টু মেয়ে, কিন্তু কেন!

প্রেম, ভালোলাগা কিংবা মন্দ লাগা মানুষ মনের ভেতর বিভিন্নভাবে অনুভব করে। প্রতিটা মানুষ স্বতন্ত্র বৈশিষ্টের অধিকারী। সুতরাং একজনের যা অসাধারণ সৌন্দর্য্যমণ্ডিত সেটা অন্য জনের কাছে নাও হতে পারে। তারপরেও গড়পড়তা বলে একটা ব্যাপারতো থেকেই যায়। চলুন আজ সিম্পল একটা বিষয় পুরুষ কেন দুষ্টু প্রকৃতির মেয়ে পছন্দ করে নিয়ে আলোচনা করলে কেমন হয়! নিশ্চয়ই পুরুষদের কাছ থেকে পরস্পর বিরোধী নানারকম তথ্য পাওয়া যাবে।ওকে! আলোচনার আগে আপনাকে একটু খেই ধরিয়ে দেই, আপনি কি জানেন! গুডি গুডি টাইপ মেয়েরা শুধু স্বর্গে যেতে পারে আর দুষ্টু প্রকৃতির মেয়েরা সবখানে যেতে পারে। এখানেই লুকিয়ে থাকতে পারে কোনো রহস্য। এবার তবে সেই কারণগুলো মন থেকে উগড়ে দিন। অতলষ্পর্শীকে আবিস্কার করার নেশাতুর আগ্রহ তো সবারই অদম্য। জানিয়ে দিন তবে রহস্যটা কি!

কোনো একটা অজানা কারণে পুরুষেরা দুষ্টু প্রকৃতির মেয়েদের পছন্দ করে থাকে। ব্যাপার টা আসলে সেই আবিস্কার হেতু! পুরুষের এই দুষ্টু মেয়ে কেন্দ্রীক ব্যাপার স্যাপার নিয়ে সম্প্রতি জরিপ কাজ পরিচালনা করেছে জি নিউজ। পুরুষদের কাছ থেকে পাওয়া নানা রকম তথ্য খণ্ডিয়ে গড়পড়তা ছয়টি কারণকে উল্লেখযোগ্য বলে ধারণা করা হয়েছে। চলুন চোখ রাখি।

সম্পর্কের গভীরতা চেয়ে ব্যস্ত হননা: দুষ্টু প্রকৃতির মেয়েরা একটু সতন্ত্র ও স্বাধীনচেতা হয়ে থাকে আর সেকারণেই তারা দীর্ঘকালীন একটি সম্পর্কে নিজেকে আবদ্ধ করে রাখতে চায়না। সম্পর্কের গভীরতার বিষয়টি তাদের কাছে গৌণ। বাবা-মায়ের মাথার বোঝা হয়ে থাকতে নারাজ ওই মেয়েরা পুরুষের নোংরা মানসিকতাকে হেলায় ঠেলে দিতে কখনো পিছপা হয়না। পুরুষরা মেয়েদের বোল্ড মাইন্ড পছন্দ করে।

আকর্ষণীয় পোশাক: দুষ্টু প্রকৃতির মেয়েরা তাদের নিজস্ব স্বভাব গুণেই পুরুষদের চোখে নিজেদের আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে। উল্লেখযোগ্য কারণ হলো পোশাক পরিচ্ছদ। তারা নিঃর্দ্বিধায় পুরুষদের চোখে আকর্ষণীয় সব উদ্দীপক পোশাক পড়তে পারে। পুরুষদের চোখে হাই হিল, সর্ট স্কার্ট ও সিস্নভলেস পোশাকের থেকে আকর্ষণীয় তো কিছু হতে পারে না।

অসাধারণ সেন্স অব হিউমার: পুরুষদের আসরে জুসি ল্যঙ্গোয়েজ আর ডার্টি জোকস্ থাকবেনা সেটা কি ভাবা যায়! এই পরিস্থিতিতে দুষ্টু প্রকৃতির মেয়েদের অসাধারণ সেন্স অব হিউমার প্রকাশ পায়। হাস্যরসের খানিকটা তাদেরও তো জানা। সুতরাং পাল্টা জুসি ল্যাঙ্গোয়েজ দিয়ে তারাও আসর জমাতে সক্ষম। নিজেকে যে কোনো পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেয়ার ক্ষমতা তাদের মধ্যে দুর্দান্ত।

এটা দরকার, এটা চাই: দুষ্টু প্রকৃতির মেয়েরা কখনোই বলবে না মিউজিকটা উচ্চস্বরে হয়েছে, ক্ষুধা লেগেছে অথবা তাদের ঠাণ্ডা কিংবা গরম লাগছে। তারা কথা বলে অথবা ব্যাখ্যা দিয়ে সময় নষ্ট করতে পছন্দ করেন না। তারা উঠবে- রেডিওটা বন্ধ করবে, নিজের জন্য স্যান্ডউইচের ব্যবস্থা করবে, হ্যাঙ্গার থেকে নিজের জন্য জ্যাকেট নামিয়ে নেবে।

চিন্তাশীলতায় সমমনা: দুষ্টু প্রকৃতির মেয়েরা মানসিক দিক দদিয়ে পুরুষের অনেক কাছাকাছি চলে আসতে পারে। তারা পুরুষের প্রতিপক্ষ হতে পছন্দ করেন না। পুরুষরাও তাদের সঙ্গে নিজের মানসিকতাকে সম্পৃক্ত করতে অনেক সহজবোধ করেন। পুরুষরা তাদের কেবলমাত্র ভালোবাসার উপাদান হিসেবে নয় প্রকৃত বন্ধু হিসেবে পায়।

স্ত্রী হিসেবে অনন্য: বেশির ভাগ পুরুষের কাছে দুষ্টু মেয়েরা স্ত্রী হিসেবে বিছানাতেও খুব দুষ্টু হিসেবে স্বীকৃত হয়েছেন। স্বামী-স্ত্রী দুজনের একান্ত সময়কে গুণগত মানসম্পন্ন করে তুলতে দুষ্টু প্রকৃতির মেয়ে কখনো কুন্ঠিত কিংবা লজ্জিত হন না।

কম খেলেই ওজন কমে না


কম খেলেই ওজন কমে না

August 6, 2012

কম করে খেলে কি সত্যিই ওজন কমে যায়? এমন কোনো কথা নেই যে কম খেলেই আপনার ওজন কমে যাবে। ওজন কমানোর ড়্গেত্রে অনেক ধারণা প্রচলিত আছে এবং তা ব্যাপকভাবে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রচলিত। কিন্তু এসব প্রচলিত ধারণা সব সময় ঠিক হবে, তা কিন্তু নয়। যেমন ধরুন, আমাদের মধ্যে একটি ধারণা আছে, তেল, মাখন বা ঘি ইত্যাদি ফ্যাট বা চর্বিজাতীয় খাবার কম খেলে বা খাওয়া বন্ধ করে দিলে আমাদের ওজন কমে যায় বা কম হতে পারে। আপাতদৃষ্টিতে দেখলে কথাটা সত্যি বলে মনে হয়। কারণ সবাই জানে, অত্যধিক চর্বিজাতীয় খাদ্য শরীরে চর্বির পরিমাণ বাড়িয়ে দিয়ে মোটা করে তোলে। তাই আমাদের স্বাভাবিক ধারণা, চর্বিজাতীয় খাবার কম খেলে আমাদের ওজন ঠিক থাকে বা ওজন কমে যায়। কিন্তু আপনি কি জানেন, একটি সমীড়্গায় জানা গেছে, আমরা যতটা সাধারণ ভাবছি ব্যাপারটা মোটেই ততটা সাধারণ নয়। চর্বি নয়, মোটা না হতে চাইলে বা আপনার শরীর থেকে চর্বি কমাতে চাইলে দেখা দরকার আপনি যত ক্যালোরি খাবারের মাধ্যমে গ্রহণ করছেন তার পরিমাণ ঠিক কিনা। অর্থাৎ আপনার দৈনন্দিন খাদ্যতালিকাতে ক্যালোরির মাত্রা ঠিক রাখা প্রয়োজন। কিছু ড়্গেত্রে অবশ্য ফ্যাটের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখার সঙ্গে সঙ্গে ক্যালোরির মাত্রাও কম হয়ে যায়। কিন্তু চর্বিজাতীয় খাদ্যের পরিমাণ কমানোর ড়্গেত্রে একটি অসুবিধা দেখা যায়। কারণ অধিকাংশ চর্বিজাতীয় খাবারে প্রচুর পরিমাণ প্রোটিন থাকে। অর্থাৎ এই জাতীয় খাবার খাওয়ার পর বেশ কিছু সময় পেট ভরা আছে বলে মনে হয়। আর আপনি বেশি খাবার খাওয়া থেকে বেঁচে যান। সেইসঙ্গে বেশি ক্যালোরি গ্রহণ করা থেকেও বেঁচে যান। এবার হয়তো ক্যালোরি কম করার জন্য চর্বিজাতীয় খাবার খাওয়া বন্ধ করে দিলেন, তার ফলে প্রোটিন গ্রহণের মাত্রাও কম হয়ে গেল, তখন আপনার কিছুড়্গণের মধ্যেই খিদে পেয়ে গেল। সেড়্গেত্রে না চাইলেও কিছু না কিছু আপনি খাবেন। এর দ্বারা হতে পারে আরও বেশি ক্যালোরি গ্রহণ করতে শুরু করলেন। তাই ওজন কম করার ড়্গেত্রে শুধু চর্বিজাতীয় খাদ্য গ্রহণ বন্ধ করার প্রবণতা ওজন কমানোর বদলে তা বাড়িয়েও তুলতে পারে। চরে আপনার খাদ্য তালিকায় ক্যালোরির মাত্রা ঠিক রাখার ব্যবস্থা করুন।

স্থুলতা কমায় লাল মরিচ


স্থুলতা কমায় লাল মরিচ

August 27, 2012

অতিরিক্ত ঝালযুক্ত লাল মরিচ তিন উপায়ে দেহের স্থূলতা কমায় বলে জানিয়েছেন বৃটেনের একদল গবেষক। তাদের মতে, এ জাতীয় মরিচ দেহের চর্বি হ্রাস করে, ক্ষুধা দমন করে এবং ক্যালরির পরিমাণ কমায়। ম্যানচেস্টার মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির খাদ্যবিজ্ঞানী স্টিফেন হোয়েটিংয়ের গবেষণায় প্রমাণ হয়, মরিচের ভেতর যে উপাদান রয়েছে তা দেহে চর্বি রোধে বিশেষ ভূমিকা রাখে। ঝাল লাল মরিচের রাসায়নিক উপাদান দেহে তীব্র তাপপ্রবাহ সৃষ্টি করে এবং অ্যাড্রেনালিন হরমোন রোধে সহায়তা করে। ফলে শরীরে চর্বির পরিমাণ কমে যায়।
এ ছাড়া লাল মরিচ মস্তিষ্কে চর্বি কমানোর জন্য বার্তা পাঠায়। ফলে দ্রুত দেহের চর্বি পুড়ে যায়। দেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর ম্যাড্রিফ চর্বি লাল মরিচ দ্বারা দমন করা সম্ভব। শরীরে এ জাতীয় চর্বির প্রভাবে হূদরোগের আশঙ্কা অনেকাংশে বেড়ে যায়।

ভারতীয়দের কালো চামড়ায় স্বর্ণালঙ্কার বেশি ঝলক দেয়!


ভারতীয়দের কালো চামড়ায় স্বর্ণালঙ্কার বেশি ঝলক দেয়!

অগাষ্ট ২৯, ২০১২

ভারতীয়দের কালো চামড়ায় সোনার গয়না বেশি ঝকমক করে, সম্প্রতি চীনের একটি পত্রিকার উদ্ধৃতি দিয়ে ভারতের টাইমস অব ইন্ডিয়া পত্রিকায় এ সংক্রান্ত তথ্য উপস্থাপিত হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, এমনকি রাস্তার পাশে যে সব মেয়ে শিশু ভিক্ষা করে, তাদের নাকেও সোনার নোলক দেখা যায়। এছাড়া ভারতীয় নারীরা সোনার নাকফুল পরা ছাড়া কোথাও বের হয় না বলেও উল্লেখ করা হয় ওই প্রতিবেদনে। ইন্ডিয়ান বিউটি অয়্যারিং গোল্ড জুয়েলারি শিরোনামে চীনের পিপলস ডেইলি অনলাইনে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এর উদ্ধৃতি দিয়ে টাইমস অব ইন্ডিয়ায় এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতে সোনার গহনা পরিধান না করে কোনো নারী কোথাও গেলে তাকে ভালো চোখে দেখা হয় না। পৃথিবীর সব গহনার মধ্যে ভারতীয়রা সোনাকেই বেশি পছন্দ করে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এর কারণ হিসেবে প্রতিবেদনে যুক্তি দেওয়া হয়, ভারতীয়দের কালো চামড়ায় সোনার গহনা উজ্জ্বলভাবে দৃশ্যমান হয়, এ কারণেই তারা অলঙ্কার হিসেবে সোনার প্রতি এত আসক্ত। প্রতিবেদনে বলা হয়, এমনকি যেসব ছোট মেয়ে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ভিক্ষা করে, তাদের নাকেও সোনার নোলক দেখা যায়। পাশাপাশি ভারতীয় অভিভাবকরা তাদের মেয়েদের বিয়ে দেওয়ার সময় যৌতুক হিসেবে সোনা দেওয়াই পছন্দ করে। সোনার প্রতি ভারতীয়দের অতি আগ্রহের কারণে সেখানে সর্বত্রই সোনার দোকান চোখে পড়ে, সেটা বড় শহরই হোক আর প্রত্যন্ত অঞ্চলের কোনো জনপদই হোক।

বেশি বয়সী পিতার সন্তানের আয়ু বাড়তে পারে


সাংস্কৃতিক ডেস্ক:
বেশি বয়সী পিতার সন্তানের আয়ু বাড়তে পারে বলে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় জানা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃতত্ত্ব বিভাগের ড. ড্যান এইসেনবার্গ ও তার সহকর্মীদের পরিচালিত এ গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে প্রসেডিংস অব দ্য ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সে।
গবেষণার জন্য ফিলিপাইনে বসবাসরত ১ হাজার ৭শ
৭৯ জনের ডিএনএর তথ্য পর্যালোচনা করা হয়।
এতে দেখা যায়, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্পার্ম দিয়ে তৈরি জেনেটিক বিষয়ের পরিবর্তন ঘটে এবং দীর্ঘায়ুতে সহায়তাকারী ডিএনএ কোডের উন্নয়ন ঘটে। পরে এর রেশ রয়ে যায় সন্তানের মধ্যে।
টেলেমেরসের গঠনের সঙ্গে যে মানুষের আয়ু জড়িত তা বেশ কিছুদিন আগেই গবেষকরা উদ্ঘাটন করেছেন। ডিএনএ
র সৃষ্টিকারক ক্রেমোজোমের শেষ প্রান্তে থাকে এ টেলেমেরস এবং এটা ক্রোমোজোমকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে। সাধারণত টেলেমেরসের দৈর্ঘ্য কম হলে মানুষের আয়ুও কম হয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, টেলেমেরস বয়সের সঙ্গে সঙ্গে বড় হয়। আর তাই স্পার্মের মাধ্যমে যখন এক ব্যক্তির ডিএনএ তার সন্তানের মধ্যে যায় তখন উত্তরাধিকারসূত্রেই পরবর্তী প্রজন্মের কাছে লম্বা টেলেমেরস চলে যায়।
গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত টেলেমেরসের দৈর্ঘ্যই পর্যালোচনা করা হয়।
এতে দেখা যায়, সেসব অংশগ্রহণকারীর পিতা বেশি বয়সে সন্তান জন্ম দিয়েছেন তাদের টেলেমেরসের দৈর্ঘ্য বেশি।
সন্তান জন্মদানে যত দেরি হয় ততই প্রতিবছর একজন লোকের টেলেমেরসের দৈর্ঘ্য বাড়তে থাকে। আর মধ্য বয়সে গিয়ে ঠিক এর উল্টোটা ঘটে। আর কোনো শিশুর দাদাও যদি বেশি বয়সে সন্তানের পিতা হয়ে থাকেন তাহলে টেলেমেরসের দৈর্ঘ্য আরো বেশি বাড়ে।
তবে নিউ ক্যাসল বিশ্ববিদ্যালয়ের সেলুলার এজিং বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক থমান ভন গ্লিনিচকি বলেন, এ বিষয়ে আরো গবেষণা প্রয়োজন।

শরীরে তারুণ্য আসার সঙ্গে সঙ্গেই তাকে আটকে রাখার ব্যবস্থা করুন।


যৌবন-বন্দি খেলা

 
 

অনন্যা রায় : দেরি করে সচেতন হলে লাভ নেই। শরীরে তারুণ্য আসার সঙ্গে সঙ্গেই তাকে আটকে রাখার ব্যবস্থা করুন। তা হলেই বলিরেখার দিন পিছু হটবে।

বাইশ থেকে বিরাশি সব মহিলাই চান গ্রানাইটের মতো চকচকে আর চকলেট মুস-এর মতো তুলতুলে ত্বক। বয়সটা এখন কোনও ব্যাপারই নয়। আগেকার দিনে অন্য রকম ছিল। একটু বয়স হলেই মা-কাকিমারা সাদাটে শাড়ি কেনাকাটা শুরু করে দিতেন। তার সঙ্গে চুলে পাক ধরাটাও স্বাভাবিক নিয়ম বলে ধরে নিতেন। এখন কিন্তু উল্টোটাই হয়। সবাই চান, মেয়ের সঙ্গে হাঁটলে সবাই ভাবুক, দুই বন্ধু গল্প করতে করতে যাচ্ছেন। কিন্তু একটা অমোঘ সত্যকে কিছুতেই খণ্ডানো সম্ভব নয়। সেটি হচ্ছে, সাফ সাফ বললে, কুড়িতে বুড়ি। মেয়েদের কুড়ি থেকে বাইশের মধ্যে হরমোনের বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটে। তার প্রভাব ত্বকে দেখা যায়। সুতরাং পুরাকালের পণ্ডিতগণের কথা একেবারে ফেলনা নয়।
যখন থেকে শিশুদের প্রডাক্ট ব্যবহারের বয়স পেরিয়ে গেলেন, মায়ের যত্নও কমে এল, তখন থেকেই একটুআধটু যত্ন নিতে হবে। না হলে বয়সের ছাপ পড়ে যেতে পারে তাড়াতাড়ি। অনেকের ক্ষেত্রেই এই বয়সটা তাড়াতাড়ি চলে আসে। পঁচিশেই মনে হয় চল্লিশের কাছাকাছি। কম বয়সে ত্বকে স্বাভাবিক আর্দ্রতার মাত্রা যত বেশি থাকে, বয়সের সঙ্গে সঙ্গে তা দ্রুত কমতে থাকে। কুড়ির দশকে তা অনেকটাই হারিয়ে যায়।
তৈলাক্ত, শুষ্ক, সাধারণ সব ত্বকেই বলিরেখার সমস্যা শুরু হয়। কিন্তু ত্রিশের পর থেকে চোখে পড়ে, তখন আমরা সজাগ হই, কিছু একটা করতে হবে। যাঁদের তৈলাক্ত ত্বক, তাঁরা ভাবেন,
আমার কোনও যত্নের প্রয়োজন নেই। কিন্তু এই চিন্তাধারাই বিপদ ডেকে আনে। সব ধরনের ত্বকেই যত্ন জরুরি। এ ছাড়া বংশগত কারণটিও গুরুত্বপূর্ণ।
আর একটা কথা। কলকাতায় কিন্তু খুব ঘাম হয়। সেই কারণে মুখ চকচক করলেই অনেকে ভাবেন আমার ত্বক তৈলাক্ত। এমন ভেবে নেওয়া ঠিক নয়। ঘাম ও তৈলাক্ত ত্বকের মধ্যে একশো শতাংশ তফাৎ আছে। ঘামের সঙ্গে খুব অল্প তেল বের হয়। শুষ্ক ত্বকে ঘাম হয় বেশি। বাইরের তাপ শুষ্ক ত্বকে আঘাত করে বেশি। তাই ঘামের পরিমাণও বেশি হয়।
খুব কম বয়সে, অর্থাৎ ১৪-১৫ বছর যখন বয়স, তখন ত্বকটি শুধু পরিষ্কার রাখলেই চলে। দুধ বা পুদিনা পাতার ক্লেনজার দিয়ে পরিষ্কার করা উচিত। এতে সতেজতা বজায় থাকে। টোনার সব সময় ব্যবহার করা প্রয়োজন। এই সময়ে গোলাপজল ব্যবহার করলেও হয়। সানস্ক্রিন লাগানো অবশ্যকর্তব্য। তৈলাক্ত ত্বকে জেল জাতীয় সানস্ক্রিন ব্যবহার করবেন এবং শুষ্ক ও সাধারণ ত্বকের জন্য লোশন বা ক্রিম জাতীয় সানস্ক্রিন সেরা। যে কোনও বয়সের জন্যই এই পরামর্শ উপযুক্ত। সানস্ক্রিন কেনার সময় ইউভিএ, ইউভিবি লেখা আছে কিনা দেখে নেবেন।

কুড়ির পর থেকে যে কোনও বয়সের জন্য
যাঁদের বয়স পঁচিশের মধ্যে, তাঁদের সপ্তাহে কমপক্ষে এক দিন স্ক্রাবিং করতে হবে। তার পর থেকে সপ্তাহে তিন দিন স্ক্রাবিং করা উচিত। যাঁরা ভাবেন বাড়িতে থাকলে এ সবের দরকার নেই, তাঁদের ধারণা ভুল। রান্নার তাপ, ফোড়নের ভাপ লাগলেও ত্বকের কিছুটা ক্ষতি হয়, তাই স্ক্রাবিং দরকার। স্ক্রাবিং ত্বকের মৃত কোষগুলিকে সরিয়ে দিয়ে নতুন কোষ জন্মানোয় সাহায্য করে। স্ক্রাবিংয়ের একটি বড় গুণ হল এটি পিগমেন্টেশনকে সহজে কাছে আসতে দেয় না। তবে স্ক্রাবিং করার পর অবশ্যই টোনিং করবেন। চার চামচ জলে এক ফোঁটা রোজ অয়েল বা এক ফোঁটা ল্যাভেন্ডার অয়েল দিয়ে টোনার তৈরি করে লাগিয়ে নেবেন। সপ্তাহে দুই বা তিন দিন প্যাকের জন্য বরাদ্দ রাখবেন। যাঁদের ত্বক শুষ্ক, তাঁরা ক্রিম জাতীয় প্যাক ব্যবহার করতে পারেন। আর যাঁদের ত্বক তৈলাক্ত, তাঁরা মূলতানি মাটির সঙ্গে চন্দন কাঠের তেল, টি ট্রি অয়েল, এগুলি মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে লাগান। সাধারণ ত্বকের জন্য যে কোনও প্যাকই ভাল ফল দেবে।

পনেরো দিনে উজ্জ্বল ত্বক
স্ক্রাবিংয়ের জন্য অত্যন্ত মিহি করে বাটা মুসুর ডালের সঙ্গে, কিছুটা টক দই ও এক ফোঁটা ল্যাভেন্ডার অয়েল মিশিয়ে নিন। তৈলাক্ত ত্বকে দই বাদ দিন। যাঁর ত্বকে যে রকম সহ্য হয়, সেই ধরনের প্যাক লাগান। প্যাকের মধ্যে এক ফোঁটা জেরানিয়াম অয়েল মিশিয়ে নিন। এর ফলে ফরসা ভাব বজায় থাকবে। ফেসওয়াশ ব্যবহার করবেন না, এতে ত্বক কিছুটা শুষ্ক হয়ে যায়। সাধারণ ত্বকের জন্য সাদা তিলবাটার সঙ্গে রোজ অয়েল বা ল্যাভেন্ডার অয়েল এক ফোঁটা মিশিয়ে নিন। রাত্রে শোওয়ার সময় দু
ফোঁটা বিউটিফুল স্কিন অয়েল সমস্ত মুখে লাগিয়ে শুয়ে পড়ুন। এটা যে কোনও বয়সেই ব্যবহার করা যায়। দেখবেন, পনেরো দিনে আপনার ত্বক উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে।

অল্প বয়সে বলিরেখার সমস্যা হলে
কোনও ক্রিমের সঙ্গে দু
ফোঁটা জোজোবা অয়েল অথবা এক ফোঁটা নিরোলি অয়েল মিশিয়ে লাগাতে পারেন। বলিরেখা কমে যাবে।

চল্লিশোর্ধ্বদের জন্য কয়েকটি ফেশিয়াল
ক্লিনফিল্ম ফেশিয়াল: এটি জোজোবা, নিরোলি, স্যান্ডাল, আমন্ড প্রভৃতি এসেনশিয়াল অয়েল মিশিয়ে করা হয়। বয়স অনুপাতে দ্রুত বলিরেখা পড়লে এই ফেশিয়াল কাজে দেবে। অনেকের গলার কাছে, হাতের উপরিভাগ, চিবুক ইত্যাদির ত্বক বেশি মাত্রায় ফোলা লাগে। ঝুলেও যায়। তাঁরা এই ফেশিয়ালটি করাতে পারেন।
থার্মোহার্ব ফেশিয়াল: এটির সঙ্গে আমরা সকলেই অল্পবিস্তর পরিচিত। যে কোনও পার্লারের শোকেসে মিশরের মামির মতো একটি মুখ রাখা থাকে, আমরা সবাই দেখে কিছু ক্ষণ থমকে যাই। এটিই থার্মোহার্ব ফেশিয়াল। শুধু বয়স নয়, দূষণ থেকেও বলিরেখা দেখা দেয়। এই ফেশিয়াল ত্বককে টানটান করে, শুষ্কতা কমায়। যাঁদের ত্বক শুষ্ক ও বলিরেখার সমস্যা দ্রুত দেখা দিয়েছে, বাড়িতে বসে থাকারও উপায় নেই, তাঁদের জন্য এই ফেশিয়ালটি সবার সেরা।

%d bloggers like this: