ব্যর্থ হলেও থেমে যেয়ো না ওয়াসিম মিয়া


আমাদের গর্ব ওয়াসিম

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ওয়াসিম মিয়া মাত্র ১৭ বছর বয়সেই লাভ করেছেন যুক্তরাজ্যের তরুণ বর্ষসেরা প্রকৌশলী ২০১২-এর খেতাব। ওয়াসিমের মা-বাবা দুজনই বাংলাদেশি। যুক্তরাজ্যের কার্ডিফে জন্ম নিলেও বাংলাদেশের প্রতি রয়েছে তাঁর অপরিসীম ভালোবাসা। তাই প্রতিবছর ছুটি পেলেই ছুটে আসেন সিলেটের মৌলভীবাজারে নিজ গ্রামে। ই-মেইলের মাধ্যমে এই সাক্ষাৎকার নিয়েছেন অঞ্জলি সরকার

ব্যর্থ হলেও থেমে যেয়ো না
ওয়াসিম মিয়া
যুক্তরাজ্যের তরুণ প্রকৌশলী হিসেবে পুরস্কৃত হওয়ায় বাংলাদেশের তরুণদের পক্ষ থেকে তোমাকে অভিনন্দন।
—ধন্যবাদ তোমাকে, ধন্যবাদ বাংলাদেশের তরুণদের।

বিজ্ঞানের প্রতি তোমার আগ্রহ কবে থেকে?
—খুব ছোটবেলা থেকেই আমার যন্ত্রপাতির প্রতি অন্য রকম ঝোঁক ছিল। প্রতিদিন আমরা এই যে কত রকমের যন্ত্র ব্যবহার করছি, এসব কীভাবে কাজ করে তা জানতে খুব ইচ্ছে হতো। স্কুলে থাকতে আমি প্রকৌশল বিষয়ে কিছুই করার সুযোগ পাইনি। কলেজে উঠে আমি প্রথম প্রকৌশল ক্লাবে যোগ দিই। এর পর থেকে প্রকৌশলে আমার আগ্রহ বাড়তে থাকে।

কীভাবে এ প্রকল্পের চিন্তা মাথায় এল?
—কলেজে আমাদের অ্যাসাইনমেন্ট ছিল ‘ভ্রূণ মনিটর প্রকল্প’ নিয়ে। আমরা চেষ্টা করছিলাম এটিকে কীভাবে আরও উন্নত এবং কম খরচে তৈরি করা যায়। এই ব্যাপারটিতে আমার উৎসাহ বেড়ে যায় যখন ইউরোপের অন্যতম বড় একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ হয়। কিন্তু বাজেট বেশি হওয়ায় তা বেশি দূর এগোয় না। এ প্রকল্প নিয়ে কাজ করতে গিয়ে আমাদের যে কতবার ব্যর্থ হতে হয়েছে তার কোনো ইয়ত্তা নেই। আমাদের কলেজে প্রকৌশল বিষয়ে অবকাঠামোগত সুবিধা খুব একটা ভালো ছিল না। আমাদের শিক্ষক পিটার স্পিয়ারের সহযোগিতায় আমরা একটি স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে বিনা খরচে গবেষণাগার ব্যবহার করার অনুমতি পাই। তখন আমাদের হাতে ছিল মাত্র দুদিন সময়। আইডিয়া খুঁজতে খুঁজতে এক দিন চলে গেল। পরের দিন কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আমরা একটা মডেল দাঁড় করিয়ে ফেললাম (যদিও চূড়ান্ত পর্যায়ে সেটি আর কাজ করেনি!)

বিগ ব্যাং ২০১২ ফেয়ারে কীভাবে অংশ নিলে?
—অনেকটা মনের জোর সম্বল করেই সহপাঠী জেসিকা আমি মিলে স্থির করি তরুণ বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীদের জন্য আয়োজিত বার্মিংহামের বিগ ব্যাং ফেয়ারে অংশ নেব। কিন্তু শুধু অংশ নিতে চাই বললেই তো আর অংশ নেওয়া যায় না। তৈরি করতে হবে একটি যন্ত্রের মডেল। শুধু আইডিয়া থাকলে চলবে না, তাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার পথ করে দিতে হবে! আমি কাজে লেগে গেলাম মডেলটির যান্ত্রিক দিকগুলো উন্নত করতে, আর আমার সহকর্মী জেসিকা কাজ করেছিল মডেলটির বৈদ্যুতিক দিকগুলো নিয়ে। অবশেষে আমরা যৌথভাবে যন্ত্রটার ডিজাইন শেষ করি।

পুরস্কার পাওয়ার ব্যাপারে কতটা আশাবাদী ছিলে?
—আমরা যখন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলাম, পুরস্কার পাওয়ার এতটুকু আশাও ছিল না। আমরা বড়জোর এতটুকু চাইছিলাম যাতে দুএকজন মানুষ আমাদের যন্ত্রটি সম্পর্কে জানতে পারে এবং আমাদের সাহায্য করতে এগিয়ে আসে। তবে শেষ পর্যন্ত ৩৬০ তরুণ প্রতিযোগীর মধ্যে আমরাই বিজয়ী হই। বিগ ব্যাং ফেয়ারে আমরা নির্বাচিত হই বর্ষসেরা তরুণ প্রকৌশলী ২০১২ হিসেবে।

জীবনে ব্যর্থতা এলে তা কীভাব মোকাবিলা করো?
—তরুণ উদ্ভাবকদের আমি বলব, নিজের পথ নিজেকেই তৈরি করে নিতে হবে। যেখানে ব্যর্থ হবে, সেখানে যেন থেমে যেয়ো না। প্রকৌশল পেশাটির মূলমন্ত্রই হলো ব্যর্থতাকে মোকাবিলা করে নতুন কোনো সমাধান খুঁজে বের করা। যখন তুমি কোনো একটি ব্যর্থতাকে জয় করবে, তখন এক অদ্ভুত সার্থকতায় তোমার মন ভরে যাবে।
আর একটা জিনিস মনে রাখতে হবে যে সফল হতে হলে দলগতভাবে কাজ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তোমার যদি একটি ভালো দল থাকে, সেটি যে তোমাকে কোথায় নিয়ে যাবে তা তুমি চিন্তাও করতে পারবে না।

বাংলাদেশের তরুণ বন্ধুদের জন্য তোমার পরামর্শ কী?
—বাংলাদেশের তরুণদের জন্য আমি বলতে চাই যে তোমরা নিজেদের পছন্দের বিষয় নিয়ে গবেষণার চেষ্টা করো। বাংলাদেশের স্থপতির হাতেই যুক্তরাষ্ট্রের সিয়ার্স টাওয়ার তৈরি হয়েছে। ইন্টারনেটের জনপ্রিয় চ্যানেল ইউটিউবের যৌথ প্রতিষ্ঠাতাও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত একজন। তাঁরা কখনো তাঁদের কাজে সফল হতেন না যদি না তাঁরা গবেষণা কিংবা উদ্ভাবনের জন্য নিজের সবটুকু ঢেলে দিতেন। কোনো কিছু উদ্ভাবন করতে যে সব সময় অনেক বড় পৃষ্ঠপোষক আর কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা দরকার হয় না, জেসিকা আর আমিই তার প্রমাণ।
আমি সবার জন্য একবাক্যে যা বলতে পারি তা হলো, তুমি যে কাজই করো না কেন, সব সময় সুযোগের সদ্ব্যবহার করবে। আর সুযোগ যদি না থাকে, নিজেই তা তৈরি করে নেওয়ার চেষ্টা করো। তুমি হয়তো জানোও না তোমার আজকের ছোট্ট একটি পদক্ষেপ ভবিষ্যতে তোমাকে কোথায় নিয়ে যেতে পারে।

Advertisements

কাদম্বরীদেবীর সুইসাইড-নোট রবীন্দ্রনাথের নতুন বউঠানের শেষ চিঠি


রবীন্দ্রনাথের নতুন বউঠানের শেষ চিঠি

কাদম্বরীদেবীর সুইসাইড-নোট

লেখক – রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশক – পত্র ভারতী, মূল্য – ১০০.০০

আবীর মুখোপাধ্যায়
কলকাতা, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১২

বিহারীলালের সঙ্গে জ্যোতিরিন্দ্রনাথের কোনও ‘গহন’ সম্পর্ক’? নাকি তৎকালীন কলকাতার বিখ্যাত এক নটীর সঙ্গে জ্যোতিরিন্দ্রনাথের গোপন প্রণয়? না, বিয়ের পর আদরের রবির জীবনে নতুন অধ্যায়-  ঠিক কোন ঘটনা দায়ী, কবির বিয়ের সাড়ে চার মাসের মাথায় নতুন বউঠান কাদম্বরীদেবীর আত্মহত্যার জন্য? সঠিক উত্তরটি হয়ত বা জানতেন রবিঠাকুর স্বয়ং। বউঠানের আত্মহত্যার পরে হয়ত তাই লিখেছিলেন, ‘আমি জানি, আত্মহত্যার কারণ জিজ্ঞেস করলে কী সে কহিত, কী তাকে দহিত!’ 

যে ঠাকুরবাড়ি, পুত্রবধূর আত্মহত্যার পর মরদেহ মর্গে পাঠায় না, স্ক্যান্ডেল এড়ানোর উদ্দেশ্যে ৫১ টাকা ১২ আনা খরচ করে জোড়াসাঁকোর বাড়িতেই করোনার কোর্ট বসিয়ে রিপোর্ট গোপন করে এবং খবরের কাগজের মুখ বন্ধ রাখার জন্য ঘুষ দেয়, সেই বাড়ির এক বহুচর্চিত পরকীয়া সম্পর্কের মন-বিশ্লেষণের সৌরভ নিয়ে রঞ্জনের এই নব্য উপন্যাস। স্বয়ং মহর্ষির উদ্যোগে করোনার রিপোর্ট লোপ করা বা, কেন ‘সুইসাইড নোট’ গায়েব করা হল ঠাকুরবাড়ির অন্দরমহলের এমনতরো বিতর্কিত প্রসঙ্গের সদুত্তর মেলে না রঞ্জনের ১২০ পাতার উপন্যাসে। মেলে, এক মধ্য তেইশের নারীর প্রেম ও দহনের বারমাস্যা। কাহিনির বাঁকে কাদম্বরী রবিকে তাই বলেছে, ‘তুমি জানো কোথায় আমার কষ্ট, আমার দহন’! বাস্তব ও কল্পনার মিশেলে এখানেই রঞ্জনের কাহিনির উড়ান। 

ঠাকুরবাড়ির অন্দরমহলের কাদম্বরীর আত্মহনন প্রসঙ্গ নিয়ে লেখালিখি শুরু হয়েছিল বহুকাল আগে। সে প্রায়, ১৯০০ সালে। সোফিয়া পত্রিকায় ব্রহ্মবান্ধব উপাধ্যায় তাঁর ‘দ্য ওয়ার্ল্ড পোয়েট অফ বেঙ্গল’ প্রবন্ধে কবির সঙ্গে বউঠানের সম্পর্কের ইঙ্গিত দিয়ে লিখেছিলেন, রবীন্দ্র-কবিতায় যে ‘স্পিরিট’ তার উৎসে আছে ‘an excruciating pain of an unrequited love’। তবে, বিস্তৃত ভাবে প্রথম ‘শনিবারের চিঠি’-তে ধারাবাহিক ভাবে লেখেন জগদীশ ভট্টাচার্য। কাদম্বরীদেবীকে নিয়ে যাঁরা জগদীশ ভট্টাচার্যের ‘কবিমানসী’ বা, মল্লিকা সেনগুপ্তের ‘কবির বউঠান’, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘প্রথম আলো’ অথবা রবীন্দ্র-জীবনীকার প্রভাত মুখোপাধ্যায়, রবিজীবনী’-র অথর প্রশান্তকুমার পাল, রবীন্দ্র গবেষক জ্যোতির্ময় ঘোষ, অমিত্রসূদন ভট্টাচার্য পড়েছেন, তাঁরা ভিরমি খাবেন না। কেন না, রঞ্জন সন-তারিখ মিলিয়ে জীবনকেন্দ্রিক এ উপন্যাসে ঠাকুরবাড়ির রোজনামচা হয়ত লেখেন নি। কিন্তু, এ উপন্যাস নিছক প্রাপ্ত-মনস্কদের গল্প নয়, বলা যায় খানিকটা গসিপ। গসিপের যেমন একটা ছুতো থাকে, কখনও ভিত্তি – এ কাহিনি ঠিক তেমন। বাকিটা রঞ্জনের সহজিয়া গদ্য ভাষার লালিত্যে পরকীয়া-প্রেম। যে প্রেম নিকষিত হেম-ই, কাম গন্ধ নেই তাতে! ভালো লাগে সেই পরকীয়া প্রেমের শোভন ও সহজপাঠ।
 

প্রদীপ জ্বালানোর আগে যেমন সলতে পাকানোর একটা কাহিনি থাকে। এ উপন্যাস শুরুর আগে লেখক তেমন একটি নাতিদীর্ঘ কাহিনি-সূত্র রেখেছেন। ইটালিক্স বাংলা হরফে তিন পাতার সেই ইতিহাস নির্ভর, একশো সাতাশ বছরের পুরানো, কাহিনি সূত্রে; কাদম্বরীদেবীর আফিম খেয়ে আত্মহনন ও শেষ দু্’ দিনের ঠাকুরবাড়ির অন্দরমহলের কথা বারমহলে আনতে গিয়ে; রঞ্জন লিখছেন, ‘ঠিক সুইসাইড ‘নোট’ নয়। এক সুদীর্ঘ চিঠি। চিঠিটার সর্বাঙ্গ ঝলসে গেছে আগুনে। সব চিঠিটা ঠিক পড়াও যায় না। ঝলসানো চিঠিটিকে কে বাঁচিয়েছিলেন আগুন থেকে? রবীন্দ্রনাথ?…’ ব্লার্বেও এই প্রসঙ্গ, ঔপন্যাসিকের ‘প্রাক্-কথন’-এও এক কথার পুনরাবৃত্তি। সংবেদনশীল পাঠক এখানেই টের পান, উপন্যাসের মূল ‘কি-ওয়ার্ড’-টি লেখক পাঠকের হাতে যেন তুলে দিলেন এখানেই। এ উপন্যাস আসলে সেই কল্পিত কথাচারিতার এক দীর্ঘ গোপ্য চিঠিই। নতুন বউঠান লিখছেন ‘প্রাণের রবি’-কে।

পরকীয়া কাহিনির শুরুতেই এক মোক্ষম মোচড়। রবিকে তাঁর বউঠান লিখছেন, ‘আজকাল তোমার ঘুম থেকে উঠতে দেরি হয়। সেটাই তো স্বাভাবিক। মাত্র চারমাস বিয়ে হয়েছে তোমার’। এর ঠিক পরের পরিচ্ছদে, ‘আগে তো সূর্য ওঠার আগে তুমি উঠতে। আমার ঘুম ভাঙাতো তোমার সকালবেলার গান। আমরা একসঙ্গে যেতাম নন্দনকাননে। …তারপর একদিন সেই বাগানে ভোরের প্রথম আলোয় আমাকে চুমু খেয়ে জিগ্যেস করলে- ‘নতুন বউঠান, নামটা তোমার পছন্দ হয়েছে?’ আমার সমস্ত শরীরের তখন কাঁটা দিচ্ছে। আবার ভয়ে বুক করছে দুরদুর। ঠাকুরপো, ‘এমন দুঃসাহস ভালো নয়, কেউ দেখে ফেললে…’!

কাদম্বরী চরিত্রের দুর্বহ যন্ত্রণার দিকটি আঁকতে গিয়ে তাঁকে ঠাকুরবাড়ির মহিলামহল এবং কর্তাব্যাক্তিদের নিয়ত অপমানের খন্ডচিত্র এনেছেন রঞ্জন। এর সঙ্গে, একদিকে নতুনদাদার প্রত্যাখান। অন্যদিকে, বর্ষণমুখর দিনে রবীন্দ্রের বরণমাল্য। প্রেমের আশ্চর্য সারল্যে লেখা এই পর্বের খানিকটা উদ্ধৃত করার লোভ সংবরণ করতে পারছি না। ‘বৃষ্টিতে ভিজছ তুমি। …তোমার আয়ত দুটি চোখে মেঘলা আকাশের মায়া। তুমি আমাকে বুকে জড়িয়ে ধরে বলেছিলে, ‘ঠাকুরবাড়িতে একটি উপবাসে আমরা সবাই কষ্ট পেয়েছি। চিরকাল, আদরের উপবাস’। …তোমার মুখের দিকে মুখ তুলে বললাম, ‘আমাকে একটু আদর করবে ঠাকুরপো? কতদিন – কতদিন কোনও আদর পাইনি আমি। তুমি যেন জলদেবতা। সামান্য নীচু হলে তুমি। আমার মুখখানি তুলে নিলে কত আদরে – চুমু খেলে আমার ঠোঁটে। এক ঝলকের আলতো চুমু। মনে হল, এই প্রথম আদর পেলাম আমি’। যে অলস দ্বিপ্রহরের প্রান্তবেলায় কাদম্বরী জানলার ধারে মালা গাঁথতে গাঁথতে ঘুমিয়ে পড়েছিল, সেদিনকার দৃশ্যকল্পটিও তুখোড়। পড়তে পড়তে আমার কেবলই মনে পড়ছিল ওই গানটির কথা, ‘যখন যাব চলে ওরা ফুটবে তোমার কোলে,/ তোমার মালা গাঁথার আঙুলগুলি মধুর বেদনভরে/ যেন আমায় স্মরণ করে…অলস দ্বিপ্রহরে’। 

মল্লিকা তাঁর বইতে ধরেছিলেন একটা সময়। যে সময়ে, ‘একইসঙ্গে খেলা করেছে সৃজনশীল এক আশ্চর্য সময় আর নিঃসঙ্গ ভালাবাসার বিষাদ’। অন্যরা, কেবল গবেষকের মন নিয়ে তথ্যনিষ্ঠ নিবন্ধ লিখেছেন। কিন্তু সুনীলের পর, রঞ্জন তাঁর উপন্যাসে ধরেছেন সতেরো বছর ধরে চলা একটা সম্পর্কের মন বিশ্লেষণের সৌরভ! উপন্যাসের মধ্য পর্বে গিয়ে কাদম্বরী ও রবির পারস্পরিক ভালবাসার স্বীকারোক্তি চিঠি এনেছেন লেখক।  কাদম্বরীদেবীর বয়ানে খানিকটা স্বগতোক্তির ঢঙে বলে যাওয়া এই সব চিঠিতে, উপন্যাসের কাহিনি ঘিরে ভিড় করেছে ঠাকুরবাড়ির বিচিত্র চরিত্র ও তাদের দোস্তির দস্তুর। এঁরা সকলেই প্রায় ঐতিহাসিক নরনারী। নেহাত রঞ্জনের ‘গসিপ’-এর কুশীলব নয়। মানুষগুলোর সামাজিক পরিচয় দেবার জন্য চিঠির পরতে পরতে বে-আব্রু করে দেন লেখক। বোঝা যায়, এ উপন্যাসের সব চরিত্র কাল্পনিক নয়। 

কাহিনির নির্মিতির অভিনব ঠাট ও কথনভঙ্গিমার প্রেম-তন্ময়তা আমাকে বারবার মুগ্ধ করে। তবু, বাংলা উপন্যাসের হাওয়া বদলের পর লেখা একে ঠিক হয়ত ‘উপন্যাস’ বলা যায় না। কেন না, চিঠি একটি ব্যাক্তি-পুরুষের আত্মগত খন্ড-বিচ্ছিন্ন ভাবনা। ঘটনার পারম্পর্য বা ধারাবাহিকতার সংহতি থাকে না সেখানে। যা নেই-ও এ লেখায়। তাই প্রায় পরিচ্ছদ বদলের সঙ্গে সঙ্গেই একটি স্বতন্ত্র এপিসোড হয়ে ওঠে। কাদম্বরীর একই কথার অনুরণন তোলে, ‘মৃত্যু যতই এগিয়ে আসছে, বিদায়ের ঘণ্টা যতই শুনতে পাচ্ছি, ততই যেন এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে মন, ভাবনারা সব ছড়িয়ে যাচ্ছে, তাদের ওপর আমার শাসন আলগা হয়ে যাচ্ছে’। কখনও কাদম্বরী বলছেন, ‘ঠাকুরপো, কথায়-কথায় খেই হারিয়ে কোথায় চলে এলাম। তোমাকে তো বলেইছি, মনটা বড্ড এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে। কিছুতেই নিজেকে গুছিয়ে নিতে পারছি না’। আর এই এলোমেলো কথার ভিতর দিয়েই কাদম্বরী মুখে তার ছোট্ট জীবনের গল্প বলেছেন। 

উপন্যাস শেষ করে, বউঠাকুরানির কথা ভাবতে ভাবতে কষ্ট হয়, করুণা হয় মধ্য তেইশের ওই রমণীর জন্য। কেননা, তিনি নিজেকে তো জানতেনই। আর এও জানতেন কবি নিরুপায়। বুঝেছিলেন, এই প্রণয় শেষ হবে বেদনরাগে। একটু একটু করে উপন্যাসের একেবারে শেষে রঞ্জন তাই যেন পিলু-কালাংড়া আর পরজ-কীর্তনে দুঃখরাগের মীড় বিছিয়ে দিয়েছেন। কবির বউঠান চিরতরে চলে গেলেন নিভৃতে! নিঃশব্দে যেন, ঢেউয়ের মতন ভেসে গেলেন চাঁদের আলোর দেশে! পাঠ ফুরিয়ে দূর নীলিমার দিকে তাকিয়ে থাকি। একরকম মনখারাপ হয়। বুঝি, এ মনখারাপ রঞ্জনের বউঠান চরিত্রের জন্য মনকেমনের মনখারাপ! এখানেই জিতে যান লেখক।

KadambariDebir Suicide Note by Ranjan Bandyopadhyay

BADAM’er ADDA: An Evening with Ranjan Bandyopadhyay in Hollywood

FaceBook Pic Link: http://www.facebook.com/media/set/?set=a.10151015787146897.452333.826936896&type=1&l=9eeafb6909
FaceBook Video:
http://www.facebook.com/v/10151327095401897

কালিফোর্নিয়া বি এন পি এর কার্যনির্বাহী কমিটির সভা


বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল কালিফোর্নিয়া শাখা, যুক্তরাষ্ট্র
কালিফোর্নিয়া বি এন পি এর কার্যনির্বাহী কমিটির সভা

গত ২ রা জুলাই স্থানীয় স্টার অব ইন্ডিয়া রেস্টুরেন্টে কালিফোর্নিয়া বি এন পি এর কার্যনির্বাহী সংসদের এক সভা অনুষ্ঠিত হয় . সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি নজরুল ইসলাম কাঞ্চন. সভা থেকে পদ্মা সেতুর দুর্নীতির দ্বায় নিয়ে মহাজোট সরকারকে পদত্যাগের আহবান জানানো হয়. বি এন পির সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস আলীকে অবিলম্বে ফেরত প্রদানের দাবি জানানো হয়. সভায় আগামী দিনের বিভিন্ন কর্মসূচি এবং কালিফোর্নিয়া বি এন পির নুতন কমিটি গঠনের ব্যাপারে খোলামেলা আলোচনা হয়. সভার সকলের সর্বসম্মতিক্রমে কালিফোর্নিয়া বি এন পির সক্রিয় নেতৃবৃন্দের মাঝ থেকে আগামী দিনের নেতা নির্বাচনের দ্বায়িত্ব দেওয়া হয় কালিফোর্নিয়া বি এন পির স্টিয়ারিং কমিটিকে এবং কালিফোর্নিয়া বি এন পির কার্যনির্বাহী কমিটিতে সদস্য পদে কো অপ্ট করা হয় ১৪ জন নুতন জিয়া সৈনিককে . আগামী ২৯ শে জুলাই ইফতার পার্টি এবং ২ রা সেপ্টেম্বর বি এন পির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর আলোচনা সভা করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়. ২ রা সেপ্টেম্বরের অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় এবং যুক্তরাষ্ট্র বি এন পির নেতৃ বৃন্দকে আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত হয়.

স্টিয়ারিং কমিটিতে রয়েছেন নজরুল ইসলাম কাঞ্চন, ডাবলু আমিন, আব্দুল বসিত, মুর্শেদুল ইসলাম, সামসুজ্জোহা বাবলু, আব্দুল হাকিম, নিয়াজ মুহায়মেন, বদরুল আলম শিপলু, মাহতাব আহমেদ, মাহবুবুর রহমান, প্রমুখ.

কো-অপ্ট করা সদস্যরা হলেন এম ওয়াহিদ রহমান, আমজাদ হোসেন, শাহীন হক, হাসানুজ্জামান মিজান, আহসান হাফিজ রুমি, ওমর ফারুক, মারুফ খান, বদরুল আলম, শাহাদাত হোসেন শাহীন, সুবিদর বড়ুয়া, মোয়াজ্জেম হোসেন রাসেল, মানিক (গাজীপুর), হোসাইন এবং তমাল হোসেন.

সভায় উপস্থিত ছিলেন নজরুল ইসলাম কাঞ্চন, আব্দুল বসিত, মুর্শেদুল ইসলাম, সামসুজ্জোহা বাবলু, আব্দুল হাকিম, নিয়াজ মুহায়মেন, মাহতাব আহমেদ, জুনেল আহমেদ, মাহবুবুর রহমান শাহীন, ফারুক হাওলাদার, আলমগীর হোসেন, নাসিরুদ্দিন জেবুল, হাসানুজ্জামান মিজান, আমজাদ হোসেন, মারুফ খান, শাহাদাত হোসেন শাহীন প্রমুখ. টেলিফোনে কার্যনির্বাহী কমিটির ডাবলু আমিন, বদরুল আলম চৌধুরী শিপলু, ইলিয়াস সিকদার, শাহীন হক, এম ওয়াহিদ রহমান, খন্দকার জাভেদ, আব্দুল আওয়াল অপু. হালিম, বদরুল আলম সহ অনেকের সাথে যোগাযোগ হয়.

সভা থেকে বি এন পির সকল নেতা-কর্মী-সমর্থক-সুভাকাংখি দের আগামীদিনের কর্মসূচি সফল করে তোলার আহবান জানানো হয়.

শৈশবে ধাক্কা, থাপ্পর বা আঘাত পাওয়া শিশুদের মধ্যে পরবর্তীতে হতাশা, উদ্বেগ ও ব্যক্তিত্বের সমস্যা দেখা দিতে পারে।


‘হতাশা ও উদ্বেগের পেছনে শৈশবের শাস্তি’

কানাডা, জুলাই ০৩ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/রয়টার্স)- শৈশবে ধাক্কা, থাপ্পর বা আঘাত পাওয়া শিশুদের মধ্যে পরবর্তীতে হতাশা, উদ্বেগ ও ব্যক্তিত্বের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

সম্প্রতি কানাডার একদল গবেষকের পরিচালিত এক গবেষণায় এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে। পেডিয়াট্রিকস সাময়িকীতে এ গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে।

২০০৪-২০০৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে জরিপের জন্য নেওয়া ৩৫ হাজার প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির সাক্ষাতকারের তথ্যের ভিত্তিতে নতুন এ গবেষণা করা হয়েছে।

শিশু বয়সে কতবার শারীরিক শাস্তি পেয়েছে, পিতামাতার মাদক বিষয়ক বা কারাগারে যাওয়ার মতো পরিবারের অন্য কোনো সমস্যা ছিলো কিনা এবং বর্তমান বা অতীতের মানসিক সমস্যার বিষয়ে প্রশ্ন করা হয় গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের।

অংশগ্রহণকারীদের ছয় শতাংশ জানায়, তাদের ‘মাঝে মাঝে’, ‘মোটামুটি প্রায়ই’ অথবা ‘প্রায়ই’ শারীরিক শাস্তি দেওয়া হত। আর এদেরই মানসিক সমস্যা অথবা মাদক ও মদ ব্যবহারের সঙ্গে বেশি সংশ্লিষ্টতা লক্ষ করা গেছে।

উদাহরণস্বরূপ, শারীরিক শাস্তি পাওয়ার কথা স্মরণ করতে পেরেছে এমন মানুষের ২০ শতাংশ মনোবল হারিয়েছে এবং ৪৩ শতাংশ মাদক গ্রহণ করেছে। অপরদিকে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে শারীরিক শাস্তি পায় নি অথচ মনোবল হারিয়েছে এমন ব্যক্তির সংখ্যা ১৬ শতাংশ ও অতিরিক্ত মদ্যপানকারীর সংখ্যা ৩০ শতাংশ।

এসব সংযোগ বের করার ক্ষেত্রে অংশগ্রহণকারীদের পারিবারিক সমস্যা, গোত্র, আয় ও শিক্ষাগত যোগ্যতাও বিবেচনা করেছেন গবেষকরা।

প্রধান গবেষক মানিটোবা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেসি আফিফি ও তার দল জানায়, শারীরিক শাস্তির কারণে শিশুদের দীর্ঘমেয়াদী মানসিক চাপের সৃষ্টি হতে পারে যা থেকে পরবর্তীতে হতাশা বা উদ্বেগের সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

গবেষকদের এ ধরনের ফলাফলে সমর্থন জানিয়েছেন মনস্তত্ববিদ ও টোলেডো কলেজ অব মেডিসিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইয়ুথ ভায়োলেন্সের শিক্ষক মিশেল নক্স।

তবে শুধু শাস্তির কারণেই যে শিশুদের মানসিক বৈকল্য ঘটে তা মনে করেন না তিনি।

নক্স বলেন, সাক্ষাতকারদাতারা হয়ত জানেন না তাদের পিতামাতার মানসিক অসুস্থতার কোনো ধরনের চিকিৎসা হয়েছে কিনা। আর হতাশা ও উদ্বেগ অনেকটা বংশানুক্রমিকভাবেই চলে আসে।

যমুনা-বসুন্ধরার বন্ধুত্ব ভাঙছে?



যমুনা-বসুন্ধরার বন্ধুত্ব ভাঙছে?

 

দেশের শীর্ষ দুই ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান যমুনা ও বসুন্ধরা গ্রুপের মধ্যে হঠাৎ করেই গড়ে উঠেছিল সখ্যতা। দীর্ঘদিনের সেই রেষারেষি, প্রতিযোগিতা এবং বিরোধিতার পর বন্ধুত্ব গড়ে উঠায় অবাক হয়েছিল সেই সময় অনেকেই। নিজেদের স্বার্থের প্রয়োজনেই যে এই বন্ধুত্ব এটা বুঝে নিয়েছিল সবাই। কিন্তু এখন আবার হঠাৎ করেই তাদের এই বন্ধুত্বে চিড় ধরতে যাচ্ছে। স্বার্থের কারণে গড়ে উঠা বন্ধত্ব এখন সেই একই কারণে ভাঙতে বসেছে। সরকারের একটি সিদ্ধান্তে নিজেদের অবস্থান নিয়ে এই দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হচ্ছে। সেনা সদস্যদের আবাসনের জন্য যমুনা ও বসুন্ধরার মালিকানাধীন একটি যৌথ প্রকল্পের জমি নিয়ে দ্বিমত হওয়ায় দুই ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের মিত্রতায় এই ভাঙনের সুর বাজছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে। আমাদের দেশের শীর্ষ দুই ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান হলো যমুনা ও বসুন্ধরা গ্রুপ। আবাসন ব্যবসায় বসুন্ধরার পদচারণা এবং প্রভাব দীর্ঘদিনের। সেই তুলনায় যমুনা গ্রুপ তুলনামূলকভাবে পরে এই ব্যবসায় প্রবেশ করেছে। তবে তাদের বিভিন্ন প্রকল্প দেখে বলা যেতে পারে বেশ আটঘাট বেঁধেই তারা এই সেক্টরে এসেছিল। কিন্তু নানা কারণে বিভিন্ন ঝামেলার মুখোমুখি হওয়ায়, এখনো এই ব্যবসায়ে তেমন উল্লেখযোগ্য সফলতা অর্জন করতে পারেনি এই শিল্প গ্রুপটি। সম্ভবত এ কারণেই নিজেদের পারস্পরিক প্রয়োজনে বিরোধী দু’টি শিল্প প্রতিষ্ঠান হাত মিলিয়েছিল।তার আগে বহুদিন পর্যন্ত এই দুই ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের মধ্যকার রেষারেষি ছিল প্রকাশ্য আলোচনার একটি বিষয়। ব্যবসায়িক কারণে এদের মধ্যকার প্রতিযোগিতা একসময়ে তীব্র বিরোধিতায় রূপান্তরিত হতেও দেখা গেছে। ফলশ্রুতিতে যমুনা গ্রুপের পত্রিকা যুগান্তরে বসুন্ধরার নানা খবর ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়েছে সেই সময়। এক পর্যায়ে হঠাৎ করেই লেখালেখি বন্ধ হয়ে যায়। উল্টো ওই সময় একদিন দেখা গেলো, যমুনা গ্রুপের মালিকানাধীন দৈনিক যুগান্তরে বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবসায়িক কার্যক্রমের ইতিবাচক দিক তুলে ধরে একটা সাপ্লিমেন্টও ছাপা হয়েছে। যাতে বসুন্ধরা চেয়ারম্যান এবং তার ছেলেদের ছবিসহ ইতিবাচক বক্তব্যও রয়েছে। এরপর ধাপে ধাপে সম্পর্কের উন্নতি হতে থাকে। এক পর্যায়ে প্রতিষ্ঠা করা হয় যমুনা-বসুন্ধরা হাউজিং প্রকল্প। কিন্তু সম্প্রতি সেনা সদস্যদের আবাসনের জন্য এই দুই প্রতিষ্ঠানের যৌথ প্রকল্পের জমি দেয়া না দেয়ার ইস্যুতে তাদের মধ্যে আবারও নতুন করে বিরোধের সূত্রপাত ঘটছে।সেনা সদস্যদের জন্য আবাসন প্রকল্পসেনা আবাসন সমস্যা দূর করার লক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে গত বছরের শুরুতে সেনাবাহিনী রাজউকের পূর্বাচল প্রকল্পে আর্মি হাউজিং স্কিম (এএইচএস) নামে একটি নতুন প্রকল্পের উদ্যোগ নেয়। নিজস্ব অর্থায়নে সেনাবাহিনীর কিছু সদস্য তাদের কর্মকর্তাদের জন্য সরকারের সম্মতি সাপেক্ষে এ প্রকল্পটির উদ্যোগ নেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রস্তাবিত প্রকল্পের জন্য স্থানীয় কৃষিভূমি কেনার পরিকল্পনা নেয়া হয়। সড়ক, সেতু, উদ্যান, মার্কেট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, কমিউনিটি সেন্টারের মতো সব নাগরিক সুবিধা রেখে প্রকল্পটির কাজ এগিয়ে নেয়া হয়। প্রকল্পের আওতাভুক্ত সব সদস্য এ উদ্দেশ্যে মোটা অঙ্কের টাকা এএইচএসকে দেন এবং এ জন্য অনেক সেনা সদস্য ব্যাংক থেকে ঋণও নেন।প্রকল্পের শুরু থেকে বাজারমূল্যে জমি কেনার জন্য স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে আলোচনা চলতে থাকে। এ নিয়ে বিপরীতমুখী কথাও শোনা যায়। সেনা সদস্যদের পক্ষ থেকে বলা হয়, জমির মালিকদের প্রচলিত বাজারমূল্যের চেয়ে বেশি দাম প্রস্তাব করা হয়। অন্যদিকে গ্রামবাসীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয় জমির বাজারমূল্য ৩০ থেকে ৭০ লাখ টাকা বিঘা। অথচ এ জমি তাদের কাছ থেকে ১৪/১৫ লাখ টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য করা হয়। কিছু দালাল সেনাবাহিনীর নাম ভাঙিয়ে তাদের বাধ্য করে কম দামে জমি বিক্রি করতে। এইভাবে গ্রামবাসীদের মধ্যে এই প্রকল্প নিয়ে একটি বিরূপ প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। যার বহিঃপ্রকাশ ঘটে ২৩ অক্টোবর ২০১০। এদিন নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার কায়েতপাড়া ও রূপগঞ্জ সদর ইউনিয়নে সেনা আবাসন প্রকল্পের (এএইচএস) জমি কেনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের সঙ্গে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ব্যাপক সংঘর্ষ ঘটে।বাজারদরের চেয়ে কম মূল্যে জোর করে জমি কেনার অভিযোগ তুলে ওই দিন ভোর থেকে ৭/৮ হাজার এলাকাবাসী রূপগঞ্জ-ইছাপুরা সড়ক অবরোধ করে। তারা রাস্তার বিভিন্ন স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে ও গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ করে রাখে। গুলিতে একজন নিহত হওয়ার সংবাদকে কেন্দ্র করে বিক্ষুব্ধ জনতা আর্মি অফিসার্স হাউজিং সোসাইটির অফিস হিসেবে ব্যবহৃত সেনাক্যাম্পে হামলা চালায়। অবরুদ্ধ করে রাখে সেনা সদস্যদের। এভাবে চারটি ক্যাম্পে ২০/২৫ সেনাসদস্য ছয় ঘণ্টা অবরুদ্ধ ছিলেন। অবশেষে তাদের সরিয়ে নিতে হয় হেলিকপ্টারে করে। এর পরই প্রত্যাহার করা হয় ক্যাম্প। ক্যাম্প প্রত্যাহারের পর বিক্ষুব্ধ লোকজন ক্যাম্প ভাংচুর করে লুটপাট চালায়। পুলিশের সঙ্গে বিক্ষুব্ধ জনতার দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। বিক্ষুব্ধ লোকজন ৭/৮টি বাস ভাংচুর করে ও সেনাবাহিনীর গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এই ভাবে এই সংঘর্ষ ব্যাপক হয়ে উঠে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর গুলি বর্ষণের ফলে বেশ কিছু মানুষ হতাহত হয় এবং পরবর্তীকালে এদের একজন হাসপাতালে মারা যায়। পুরো ঘটনাটি সরকারকে যথেষ্ট বিব্রত করেছে। সেই সাথে ঘটনায় সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তিরও যথেষ্ট ক্ষতি হয়েছে।গ্রামবাসীর সাথে সেনা সদস্যের এই তীব্র সংঘর্ষের পর স্বাভাবিকভাবেই সেখানে সেনা আবাসন প্রকল্পটির বাস্তবায়ন হুমকীর মুখে পড়ে যায়। ফলে শেষ পর্যন্ত সেনাবাহিনীর ওই প্রকল্প বাতিল হতে চলেছে। তবে রূপগঞ্জের প্রকল্পটির যাত্রা থেমে পড়লেও সেনা সদস্যদের আবাসনের প্রকল্পের কাজ থেমে নেই। বরং সরকার সেনাবাহিনীর কিছু সদস্যের এই ক্ষতি পুষিয়ে দেয়ার জন্য নানাভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছে।সরকারের পদক্ষেপরপগঞ্জের অনভিপ্রেত ঘটনার প্রেক্ষিতে সেনা সদস্যেদের আবাসনের ওই প্রকল্পটি আপাতত স্থগিত হয়ে গেলেও সরকার বসে নেই। বরং সরকারের তরফে চেষ্টা চলছে, সেনা সদস্যদের আবাসনের জন্য অন্যত্র জমি সংগ্রহের। এই প্রেক্ষিতেই সরকারের পক্ষ থেকে যমুনা-বসুন্ধরার যৌথ প্রকল্পের বারিধারা জোয়ার সাহারা প্রকল্পের জমি গ্রহণের কথা ভাবা হয়। শুধু ভাবাই নয়, ইতিমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে পূর্ত প্রতিমন্ত্রী আব্দুল মান্নান খানের সাথে এই দুই প্রতিষ্ঠানের মালিকের বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২৮ এপ্রিল সকাল ১১টায় বসুন্ধরা গ্রুপের মালিক শাহ আলমের সাথে প্রতিমন্ত্রী তার মন্ত্রণালয়ে দীর্ঘ বৈঠক করেন। একই দিন ১২.৩০ এ তিনি বৈঠক করেন যমুনা গ্রুপের মালিক নুরুল ইসলাম বাবুলের সাথে। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, তাদের কাছে ওই জমি সেনা সদস্যদের আবাসনের প্রকল্পের জন্য ছেড়ে দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। বিনিময়ে তাদেরকে নানা সহায়তার আশ্বাস দেয়া হয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে, যেহেতু যমুনা গ্রুপের মালিক এখন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর সাথে সরাসরি সাক্ষাতের সুযোগ পাননি, তার ব্যবস্থা করে দেয়াসহ আরও বেশ কয়েকটি লোভনীয় প্রস্তাব। জানা গেছে, ওই প্রস্তাবে বসুন্ধরা চেয়ারম্যান আগেই মত দিয়ে দিয়েছেন। তাছাড়া প্রস্তাবটিতে শুধু ওই দিনই নয়, আরও আগেই গোপনে সরকারের কাছে মত দিয়ে এসেছেন শাহ আলম। কারণ, এটি তার জন্য বেশ সুবিধাজনক একটি প্রস্তাব। পক্ষান্তরে দ্বিমত রয়েছে নুরুল ইসলাম বাবুলের। তিনি এই প্রকল্পের জমিটি ছেড়ে দেয়ার প্রস্তাবে রাজি হচ্ছেন না বলে জানা গেছে। কারণ, এর বিনিময়ে বেশ কিছু দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তিনি লাভবান হবার সম্ভাবনা তেমন নেই বললেই চলে। অথচ প্রকল্পটির মালিকানা ছেড়ে দিলে ক্ষতি হবে তার অনেক বড়।বিরোধিতার সুর যৌথ প্রকল্পের জমি নিয়ে বসুন্ধরা চেয়ারম্যান শাহ আলমের সাথে নুরুল ইসলামের এই বিপরীতমুখী অবস্থানের কারণে তাদের মধ্যকার চাপা থাকা বিরোধিতার সুরটি আবারও নতুন করে শোনা যাচ্ছে। জানা গেছে, যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যানের সাথে পরামর্শ না করেই শাহ আলম তাদের যৌথ প্রকল্পের জমিটি সেনা সদস্যদের আবাসনের জন্য সরকারের হাতে ছেড়ে দিতে রাজি হয়ে গেছেন। সূত্র জানায়, প্রতিমন্ত্রীর সাথে ২৮ এপ্রিলের বৈঠকের আগে থেকেই এ নিয়ে গোপনে বেশ কয়েকদফা আলোচনা হয়েছে- যেখানে বাবুলকে অংশ নিতে দেখা যায়নি। জমি প্রদানের ব্যাপারে শাহ আলমের এই অতি উৎসাহের পেছনে অবশ্য বেশ কিছু কারণও আছে। এই প্রকল্পটি যৌথ হলেও তাতে শাহ আলমের জমি আছে খুবই সামান্য। প্রায় সব জমিই নুরুল ইসলাম বাবুলের। কিন্তু তারপরও যুগান্তর চেয়ারম্যান যে এই প্রকল্পে তার সঙ্গে শাহ আলমের নামটি যুক্ত করে নিয়েছেন এর পেছনেও আছে সুনির্দিষ্ট কয়েকটি কারণ। বিগত সরকারের আমলে তো বটেই, এমনকি বর্তমান সরকারের কিছু মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর সাথে বিরোধে জড়িয়ে তিনি বেশ বেকায়দার মধ্যেই পড়ে গিয়েছেন। এই অবস্থায় শক্তিশালী বসুন্ধরা গ্রুপের সাথে যৌথ মালিকানার প্রকল্প হলে তাদের বন্ধুত্বটি একটি শক্ত ভিত্তি পাবে বলে মনে করেছিলেন নুরুল ইসলাম বাবুল। এছাড়া যৌথ প্রকল্প হলে তাতে প্রচার-প্রচারণা যেমন বাড়বে, ক্রেতাদের আস্থা অর্জনের ক্ষেত্রেও এটি একটি বিষয় হিসেবে কাজ করবে। এই সব বিবেচনায়, এই প্রকল্পের অধিকাংশ জমি যমুনা গ্রুপের হলেও বসুন্ধরার নামটি এর সাথে যুক্ত করা হয়। কিন্তু এখন প্রকল্পটি এভাবে আহমদ আকবর সোবহান ওরফে শাহ আলম তার সাথে কোন পরামর্শ না করেই ছেড়ে দিতে রাজি হওয়ায় তিনিই সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। হাউজিং-এর ব্যবসায় এটিই যমুনা গ্রুপের অন্যতম বড় একটি সফল প্রকল্প। যদিও আশুলিয়ায় তারা প্রায় ১২শ’ বিঘা জমি সংগ্রহ করেছেন আরেকটি হাউজিং প্রকল্পের জন্য। কিন্তু জমিটি নিচু হওয়ার কারণে ড্যাপ-এর অনুমোদন পাচ্ছে না। ভবিষ্যতে পাবে কিনা তারও কোন নিশ্চয়তা নেই। সে ক্ষেত্রে যমুনা-বসুন্ধরার এই যৌথ প্রকল্পটির জমিও যদি ছেড়ে দেয়া হয়, এই ব্যবসায় নুরুল ইসলাম বাবুল চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তাছাড়া এমন হলে তার সামনে ব্যবসা করার মত উৎসাহব্যঞ্জক আর কিছু অবশিষ্ট থাকে না। অন্যদিকে ইতিমধ্যে এই প্রকল্পের আওতায় প্রায় কয়েক হাজার লোকের কাছে তিনি প্লট বিক্রি করেছেন। ফলে এখানেও তিনি বেশ অসহায়। কারণ, ভবিষ্যতে এই ব্যবসা পরিচালনা করতে গেলে এটি তার ইমেজের জন্যও ক্ষতিকর হিসেবে বিবেচিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাছাড়া যাদের কাছ থেকে প্লট বিক্রির কথা বলে টাকা নিয়েছেন তাদের কী হবে? এসব কারণে পূর্ত প্রতিমন্ত্রী বা সরকারের প্রস্তাবে তিনি রাজি হতে পারছেন না। অন্যদিকে শাহআলম রাজি হয়ে যাওয়াতে তিনি আরও বিপাকে পড়ে গেছেন। এক্ষেত্রে তিনি রাজি না হলে সরকারের সাথে তার সম্পর্ক আরও খারাপ হতে পারে। এতে যমুনা ফিউচার পার্ক এবং যমুনা টিভির মত আরও বেশ কয়েকটি অমীমাংসিত বিষয় নিয়ে তিনি আরও অনিশ্চয়তায় পড়ে যেতে পারেন। জানা গেছে, প্রতিমন্ত্রীর সাথে বৈঠকের আগের দিন অর্থাৎ ২৭ এপ্রিল, বিষয়টি নিয়ে শাহ আলমের সাথে নুরুল ইসলাম বাবুলের বৈঠক হয়। সেখানে তিনি বসুন্ধরা চেয়ারম্যানকে এই যৌথ প্রকল্প থেকে সরে না যেতে অনুরোধ করেন। কিন্তু শাহ আলম এতে রাজি হননি। ফলে বাবুল অনেকটা বেকায়দায় পড়ে গেছেন। একেতো বিষয়টিতে তার ব্যবসায়িক স্বার্থ জড়িত। অন্যদিকে এটি সেনা অফিসারদের ব্যাপার হওয়ায়, এবং এর পক্ষে সরকারের অনুরোধ আসায় তিনি কোন দিকেই যেতে পারছেন না।শাহ আলমের প্রতিশোধবিষয়টিকে এখন নুরুল ইসলাম বাবুলের প্রতি শাহ আলমের প্রতিশোধ হিসেবেই বলতে শুরু করেছেন তাদের ঘনিষ্ঠরা। অতীতে যুগান্তরে বসুন্ধরা মালিকের এবং তার পুত্রদের কুকীর্তিসহ নানা তথ্য প্রকাশিত হয়েছিল। সেই সময় তিনি কিছু করতে পারেননি বাবুলকে। কারণ, তার হাতে কোন মিডিয়া ছিল না। ফলে যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যানকে তার বেশ তোয়াজ করে চলতে হত। কিন্তু এখন ব্যাপার স্বতন্ত্র। এখন শাহ আলমের নিজের হাতেই আছে দৈনিক, অনলাইন পত্রিকাসহ ৪টি মিডিয়া। তাছাড়া যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যানের তুলনায় সরকারের বিভিন্ন মহলের সাথে রয়েছে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ। ফলে এখন তিনি বাবুলকে আর তেমন পাত্তা দিচ্ছেন না। অন্যদিকে কেউ কেউ বলছেন, অতীতে তার এবং তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে যুগান্তরে সংবাদ প্রকাশ নিয়ে তিনি অত্যন্ত ক্ষুব্ধ ছিলেন। যা এতদিন আসলে তিনি নিজের ভেতর পুষে রেখেছিলেন। আর এখন সুযোগ পেয়ে তারই প্রতিশোধ নিতে যাচ্ছেন। কারণ, তাদের এই যৌথ প্রকল্পটি ভেঙে গেলে যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যানই সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।এটি এই প্রস্তাবে তার রাজি হওয়ার পেছনে একটি অন্যতম কারণ বলে অনেকে মনে করছেন বটে। কিন্তু এটি ছাড়াও প্রস্তাবে রাজি হওয়ার পেছনে শাহ আলমের অন্য আরও বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে। যেমন আগেই বলা হয়েছে, বারিধারার জোয়ার সাহারার এই প্রকল্পটিতে শাহ আলমের জমির পরিমাণ খুবই কম। তাই এখানকার জমি সেনা সদস্যদের জন্য দিলেও তার কোন ক্ষতি হবে না। বরং সব দিক থেকেই লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা। কারণ এর বিনিময়ে সরকারের কাছ থেকে বেশ কিছু সুবিধা তিনি আদায় করতে পারবেন। অননুমোদিত বেশ কয়েকটি প্রকল্পের অনুমোদন ছাড়াও তার এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের মামলার ব্যাপারে দরকষাকষি করতে পারবেন। অন্যদিকে রূপগঞ্জে যেখানে এর আগে সেনা সদস্যদের আবাসনের প্রকল্পের কাজ চলছিল, ওইখানে বরং শাহ আলমের অনেক জমি আছে। নিজের হাউজিংয়ের জন্য ওখানে বেশ কিছু জমি তিনি সংগ্রহ করেছিলেন। সেখানে সেনা সদস্যদের আবাসন প্রকল্প হলে তার ওই সব জমি হাতছাড়া হয়ে যেত। যা এখন আর হচ্ছে না। এতসব লাভের পরও যে লাভ, তা হলো বলে বেড়াতে পারবেন, সেনা সদস্যদের আবাসনের জন্য তিনি জমি দিয়েছেন। যদিও এতে তার অংশ থাকছে খুবই কম। কিন্তু কেই বা তা আর খতিয়ে দেখছে?বিপাকে যমুনা গ্রুপকার্যত সব দিক দিয়ে বিপদে পড়েছেন যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বাবুল। একটার পর একটা ঝামেলা তার পেছনে লেগেই রয়েছে। বহুদিন ধরেই যমুনা ফিউচার পার্ক এবং যমুনা টিভি নিয়ে বেশ ঝামেলায় আছেন তিনি। সমস্ত প্রস্তুতি নেয়ার পরও তিনি তার যমুনা টিভি চালু করতে পারেননি। অন্যদিকে যমুনা ফিউচার পার্ক তার সারাজীবনের একটি স্বপ্ন। কিন্তু সেটিও চালু করতে পারছেন না। যমুনা ফিউচার পার্কের বর্ধিত অংশ নিয়ে রাজউকের সাথে ঝামেলায় জড়িয়ে পড়েছেন।যমুনা ফিউচার পার্ককে এশিয়ার সর্ববৃহৎ শপিং মল হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করেছেন নুরুল ইসলাম বাবুল। এ জন্য তিনি সর্বাত্মক চেষ্টাও করেছেন। কিন্তু বর্তমান সরকারের আমলে রাজউক তার বর্ধিত অবৈধ অংশ ভেঙে ফেলার উদ্যোগ নেয়। অবৈধ অংশটিকে রক্ষা করার অনেক চেষ্টা করেও তিনি শেষতক ব্যর্থ হন। শেষ পর্যন্ত ওই অংশটির বেশ কিছুটা ভেঙে ফেলে রাজউক। যদিও ঢাকা শহরে এমন অন্তত আরো ৫ হাজার বিল্ডিং আছে যেগুলোতে অবৈধ বর্ধিত অংশ রয়েছে। কিন্তু সে সব ক্ষেত্রে এ ধরনের কঠোরতা দেখানো হয়নি। এমনকি বসুন্ধরা শপিংমলও অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী তৈরি করা হয়নি। এ জন্য রাজউকের পক্ষ থেকে চিঠিও দেয়া হয়েছিল বসুন্ধরাকে। কিন্তু বসুন্ধরা কর্তৃপক্ষ সেই চিঠিকে পাত্তাই দেয়নি। এ ক্ষেত্রে দুর্ভাগ্য বাবুলের। তিনি একটার পর একটা বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন এবং ঝামেলায় পড়ে যাচ্ছেন। যে কারণে এখন পর্যন্ত তার স্বপ্নের যমুনা ফিউচার পার্কের যাত্রা শুরুই করতে পারলেন না। অন্যদিকে এখন প্রকল্পের জমি সেনা সদস্যদের হাতে ছেড়ে দেয়ার প্রস্তাব তার কাছে মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা-এর মত। তিনি না পারছেন প্রস্তাব গ্রহণ করতে। আবার না পারছেন ফিরিয়ে দিতে। আর এরকম একটি সংকট তার জন্য মূলত সৃষ্টি করেছেন তার এই সময়ের তথাকথিত বন্ধু শাহ আলম স্বয়ং। এর জের শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।- বিশেষ প্রতিবেদক

আরব বসন্তের সাফল্য ফেসবুককে দিয়েছে ‘প্রতিরোধের মঞ্চ’র স্বীকৃতি।



ফেসবুক কি শুধু তরুণদেরই মুখচ্ছবি? ফেসবুক ব্যবহারকারী হিসাবে তরুণদের সংখ্যা বেশী হলেও আসলে সব বয়সের মানুষকেই এখন দেখা যাচ্ছে সামাজিক যোগাযোগের এ মাধ্যমে।

দিন দিন বাড়ছে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যাও । তরুণ-তরুণীর সাথে যুক্ত হচ্ছেন রাজনীতিবিদরাও। জনমত গঠন ছাড়াও নানা ভাবে রাজনীতিতে ব্যবহৃত হচ্ছে ফেসবুক।
২০১০ সালের মধ্যপ্রাচ্যে শুরু হওয়া আরব বসন্তের সাফল্যের বড় দাবিদার ফেসবুক- টুইটার।

আরব বসন্তের সাফল্য ফেসবুককে দিয়েছে ‘প্রতিরোধের মঞ্চ’র স্বীকৃতি।
২০০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তার নির্বাচনী প্রচারণায় ফেসবুককে কাজে লাগিয়ে ভোটারদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ গড়ে তুলেছিলেন।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মত আমাদের দেশের রাজনীতিবিদরাও ক্রমশ বেছে নিচ্ছেন ফেসবুককে- ব্যক্তিগত-সামাজিক সকল যোগাযোগের মাধ্যম হিসাবে।

সাবেক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ও বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ড.আব্দুল মইন খান মনে বলেন, “বিশ্বয়নের যুগে মানুষ বিশ্ব নাগরিক হয়ে উঠছে আর মাধ্যম হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে ফেসবুক। এর মাধ্যমে হাজার মাইল দূরের মানুষের সাথেও যোগাযোগ করা যায়, মতামত আদান প্রদান করা যায়। অনেক দূর থেকেও মনে হয় কাছাকাছিই থাকছি সকলের”।

আওয়ামী লীগের সামনের সারির প্রত্যেক নেতারই আছে ফেসবুকে ফ্যানপেজ। যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী, সিলেটের সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান চৌধুরী সহ অনেকেই ফেসবুকের সক্রিয় ব্যবহারকারী। 

যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, “আমিতো ফেসবুকের নতুন ব্যবহারকারি নই। সাড়ে ৩ বছর আগে থেকেই ব্যবহার করছি। এর মাধ্যমে মানুষ তাদের দুঃখ কষ্ট, সমস্যা রাজনীতিবিদদের সাথে শেয়ার করতে পারে।

ফেসবুকে একাউন্ট আছে বিজেপি’র সভাপতি আন্দালিব রহমান পার্থরও।ফ্যান পেজও আছে তার। ফেসবুকে তার ফ্যানপেজের সদস্য প্রায় ১৪ হাজার । ফেসবুক তার কী উপকার করছে এ বিষয়ে তিনি বলেন, “আমরা যারা রাজনীতি করি তারা হাতে গোনা কয়েকজন মানুষ দ্বারা পরিবেষ্টিত থাকি। কিন্তু গনমানুষের ভেতরের অনুভূতির কথা জানতে ফেসবুক কাজে লাগে”। 

জনতার সহজাত প্রতিক্রিয়া তাকে আলোড়িত করে ও দিক নির্দেশ করে-যোগ করেন তিনি।
সামগ্রিকভাবে না হলেও, ফেসবুকের মাধ্যমে কিছুটা হলেও হয়তো জনতার মনোভাব বুঝতে পারছেন রাজনীতিকরা

রেমিটেন্স মূল্যবান হলেও প্রবাসী শ্রমিকরা মূল্যহীন


১২ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলার রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা

গেল অর্থবছরে ১২ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন (এক হাজার ২৮৫ কোটি) ডলার রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার বা বা ১০ দশমিক ৩০ শতাংশ বেশি। 
মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক রেমিটেন্স সংক্রান্ত যে তথ্য প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যায়, গত ৩০ জুন শেষ হওয়া ২০১১-১২ অর্থবছরে বিভিন্ন ব্যাংকের মাধ্যমে আসা ১২ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলার রেমিটেন্সের মধ্যে জুন মাসে এসেছে ১০৭ কোটি ৩৫ লাখ ডলার।
 
১২ মাসের মধ্যে মাত্র মাস দুই মাস প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সের পরিমাণ একশ’ কোটি ডলারের কম ছিল। বাকি দশ মাস এসেছে একশ’ কোটি ডলারের বেশি।
 
এর মধ্যে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে জানুয়ারি মাসে আসা রেমিটেন্সের পরিমাণ ছিল ১২২ কোটি ১৪ ডলার। এক মাসের হিসাবে যা ছিল সর্বোচ্চ রেমিটেন্স।
 
রেমিটেন্স বাড়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বেড়েছে। মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) ৭০ কোটি ডলার আমদানি বিল পরিশোধের পর রিজার্ভ ৯ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছিল। তবে মঙ্গলবার রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি।
 
২০১১-১২ অর্থবছরে সরকারি মালিকানাধীন চার ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৩১ কোটি ডলার।
 
এ ছাড়া বিশেষায়িত দুই ব্যাংকের (কৃষি ব্যাংক ও বেসিক ব্যাংক) মাধ্যমে এসেছে এক কোটি ডলারের কিছু বেশি।
 
৭৩ কোটি ২৪ লাখ ডলার এসেছে ৩০টি বেসরকারি ব্যাংকের ম্যাধ্যমে। আর নয়টি বিদেশি ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সের পরিমাণ এক কোটি ৯৫ লাখ ডলার।


রেমিটেন্স মূল্যবান হলেও প্রবাসী শ্রমিকরা মূল্যহীন

প্রবাসীদের প্রেরিত রেমিটেন্স আমাদের দেশে মূল্যবান হলেও প্রবাসী শ্রমিকরা বরাবরই মূল্যহীন। এরা আমাদের কাছে শুধুই শ্রমিক হিসেবে গণ্য। প্রতিবছর প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকার রেমিটেন্স পাঠাচ্ছে প্রবাসীরা। অথচ তাদের কোনো মূল্য নেই আমাদের দেশে। কোনো শ্রমিক বিদেশে মারা গেলে কোম্পানির খরচে দেশে পাঠানো হলেও স্টুডেন্ট বা ভিজিট ভিসায় গমনকারীদের চাঁদা তুলেই দেশে আনার ব্যবস্থা করতে হয়।

সরকার কর্তৃক প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক অবশেষে আলোর মুখ দেখেছে। এছাড়া চরম নিরাপত্তা হুমকিতে দিন কাটাতে হয় বাংলাদেশের প্রবাসীদের। এক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কোনো নীতিমালা না থাকায় দেশের বাইরে প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়ছে তারা। এভাবে অনেকটা মূল্যহীন এবং অবহেলিত হয়েই প্রবাস জীবন কাটাচ্ছে ভুক্তভোগীরা।অভিযোগ রয়েছে, এসব শ্রমিক দেশে এসে কোনো রকম কর্মসংস্থানের সুযোগ পায় না।

বিদেশে অবস্থানকালে হাইলি স্কিলড এসব জনশক্তি আমাদের দেশে এসে অবহেলিতই থেকে যাচ্ছে। উপরন্তু কোনো রকম প্রবাসী ফান্ড বা ট্রাস্ট নেই বলে দেশে এসে শূন্য হাতেই জীবন কাটাতে হয় তাদের। বিদেশে অবস্থান কালে চিকিৎসা সুবিধাসহ বিভিন্ন সুবিধা ভোগ করলেও দেশের অর্থনীতিতে বিরাট অবদান রেখেও কোনো রকম রাষ্ট্রীয় সুবিধা পায় না তারা। প্রবাসীদের প্রেরিত রেমিটেন্স জাতীয় অর্থনীতির জন্য মূল্যবান হলেও তাদের কোনো মূল্যায়ন নেই আমাদের দেশে। এছাড়া বাইরে পড়তে যাওয়ার ক্ষেত্রে সরকারিভাবে কোনো রকম নীতিমালা বা তদারকি না থাকায় জালিয়াত চক্রের হাতে হরহামেশা প্রতারিত হচ্ছে দেশের শিক্ষিত যুবকরা। গুটিকয়েক দেশীয় চক্র উচ্চ শিক্ষার নামে বিদেশে পাঠানোর লোভ দেখিয়ে কৌশলে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।

সমপ্রতি মার্কিন দূতাবাস থেকে পাওয়া এক অভিযোগের ভিত্তিতে গোয়েন্দা পুলিশ অভিযান চালিয়ে একটি জালিয়াত চক্রের ৭ সদস্যকে আটক করেছে। তাদের কাছ থেকে ২০ হাজার ছাত্র-ছাত্রীর ভর্তির পুরনো আবেদন ফরম ও ছবিসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করেছে। এছাড়াও ইমিগ্রেশন পুলিশ জালিয়াতি করে বিদেশ পাঠানোর অভিযোগে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন পয়েন্টে বিভিন্ন সময় প্রায় ১ হাজার ৫শ’ যুবককে আটক করেছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, সমপ্রতি একটি জালিয়াত চক্র উচ্চশিক্ষার নাম করে বিদেশে পাঠানোর জন্য ৫৫ জন যুবকের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা করে হাতিয়ে নিয়েছে। পরে তাদের বিদেশে না পাঠিয়ে নানাভাবে প্রতারণা করে আসছে।

ইমিগ্রেশন ও গোয়েন্দা সূত্র জানায়, উচ্চশিক্ষা ও ভিজিট ভিসার নামে বিদেশ যাওয়ার সুনির্দিষ্ট কোনো নীতিমালা না থাকায় জালিয়াত চক্র সুযোগ পেয়ে অপকর্মে লিপ্ত হচ্ছে। মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ, দুবাইসহ বিভিন্ন দেশে ভিজিট ভিসার নামে হাজার হাজার যুবক বিদেশে যায়। সেখানে গিয়ে নানা প্রতারণার শিকার হচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশি পাসপোর্ট দিয়ে কিছু প্রতারক চক্র রোহিঙ্গাদের মধ্যপ্রাচ্যে পাচার করারও অভিযোগ রয়েছে। মাঝে মধ্যে অনেককেই আটক করা হয়। কিন্তু এরপর সমস্যা থেকেই যাচ্ছে।বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও ভিজিট ভিসার নামে আদম বেপারীরা চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে তরুণ-তরুণীদের বিদেশে পাঠানোর লোভ দেখায়। প্রতি বছর কমপক্ষে ২০ থেকে ২৫ হাজার তরুণ-তরুণী বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা করে। এর মধ্যে গত প্রায় এক বছরে দেড় হাজার তরুণ-তরুণীকে গলাকাটা পাসপোর্টসহ নানা অভিযোগে ইমিগ্রেশনে আটক হয়েছে বলে জানা গেছে। আটককৃতদের মধ্যে অনেকেই ভুয়া ছাত্র সেজে উচ্চশিক্ষার নাম করে বিদেশ যাচ্ছে। সেখানে গিয়ে অন্য কাজ করে। আবার অনেকেই ধরা পড়ে দেশে ফেরত আসে। কেউ কেউ গলাকাটা পাসপোর্ট নিয়ে জালিয়াতি করে বিদেশে গিয়ে ধরা পড়ে দেশে ফেরত আসে।

ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে, সঠিক পাসপোর্ট এবং কাগজ-পত্র ভেবেই তারা অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি দিচ্ছে। কিন্তু যখন জানতে পারে পুরো বিষয়টিই ভুয়া তখন আর কিছুই করার থাকে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইমিগ্রেশন পুলিশের এক অপরাধ বিশেষজ্ঞ শীর্ষ কাগজকে জানান, এ জালিয়াত চক্র সম্পর্কে সচেতন থাকার জন্য দেশে রাজধানী, বিভাগীয় শহর, জেলা, উপজেলা, থানা, ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রচারণা চালানো দরকার। এয়ারলাইনসগুলোতে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টি করা না গেলে এ সমস্যার সমাধান হবে না। সংশ্লিষ্ট মতে, উচ্চশিক্ষার নামে চটকদার বিজ্ঞাপনগুলো খতিয়ে দেখার জন্য সরকারিভাবে একটি মনিটরিং সেল থাকা প্রয়োজন

%d bloggers like this: