মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতিতে লস এঞ্জেলেস প্রবাসীদের উদ্বেগ


লস এঞ্জেলেসে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি শীর্ষক আলোচনা সভা

মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতিতে লস এঞ্জেলেস প্রবাসীদের উদ্বেগ

জুন ৩, ২০১২, লস এঞ্জেলেসঃ বাংলাদেশের অবনতিশীল মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা গভীর উদ্বেগের সাথে পর্যবেক্ষন করছে লস এঞ্জেলেস প্রবাসীরা। বিরোধী দলের উপর নজিরবিহীন আগ্রাসন ও হয়রানি, নাগরিকদের অধিকার ও মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার অপচেষ্টার প্রতি নিন্দা ও ঘৃণা জানিয়েছেন তারা।

গত রবিবার লিটল বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস অলিম্পিক পুলিশ ষ্টেশনের কমিউনিটি সেন্টারে একুশ নিউজ মিডিয়া ও বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ডাইভার্সিটি আর্টস এন্ড মিডিয়া (বাদাম) এর উদ্যোগে সমবেত বিভিন্ন কমিউনিটির নেতারা ও বিশিষ্ট ব্যাক্তিবর্গ বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে মানবাধিকারের চরম লংঘনে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

বক্তারা বলেন, কিছু কিছু সুবিধাবাদী রাজনৈতিক নেতাদের ভুল সিদ্ধান্ত ও সংসদকে অকার্যকর করে রাখায় দেশ এখন শুধু প্রধানমন্ত্রীর উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। এতে সামাজিক উন্নয়ন প্রচণ্ড ভাবে হুমকির সম্মুখীন। দেশ ও দশের উন্নয়নে যোগ্য রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিকল্প নাই। মেধা বিকাশে দলীয়করণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর জন্য শিক্ষিত সমাজকে সোচ্চার হবার আহ্বান জানানো হয়।

বাংলাদেশে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে পরিমাণ হিংসা-বিদ্বেষ তাতে দেখে যে কারো মনে হতে পারে এখানে গৃহযুদ্ধ চলছে। প্রবাসের মতো দেশেও যেন সব দলের নেতারা এক প্লাটফর্মে বসে কথা বলার পরিবেশ তৈরী করতে পারে তার জন্য সহনশীলতা তৈরি করতে হবে। বাংলাদেশে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে ক্ষমতার লিপ্সাই প্রধান। স্থানীয় উন্নয়নে সাংসদদের ভূমিকায় অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে এনে শুধু নিজেদের জন্য নয় বরং দেশের উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়।

দেশের নাজুক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নাগরিকদের জান-মালের নিশ্চয়তা বিধানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীদের দলের উর্ধে উঠে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। বাংলাদেশে আজ ব্যক্তির কোনো নিরাপত্তা নেই। রাষ্ট্রে খুন, গুম, ধর্ষণ একের পর এক বেড়েই চলেছে। সচিবালয়ে বোমা হামলা ও বাসে অগ্নিসংযোগ ঘটনায় কয়েকদিনের মাথায় বিরোধীদলের নেতৃবৃন্দকে গ্রেফতার করে জেলে অন্তরীন করা হয় অথচ মাসের পর মাস পেরিয়ে গেলেও সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যাকাণ্ডের কোন কূলকিনারা না হওয়াতে দলীয় হস্তক্ষেপে আশংকায় উদ্দ্বেগ প্রকাশ করা হয়। খুন হওয়া সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনির ঘটনা সরকার যেন ইচ্ছা করে ডিপ ফ্রিজে রেখে দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অপশক্তিরা উৎসাহিত হয়। এ পরিস্থিতিতে দেশের সাংবিধানিক অভিভাবক নির্বাচিত সরকারের নির্লিপ্ততার নিন্দা জানিয়ে বক্তরা বলেন, কোনো কোনো ক্ষেত্রে মানবিক গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেয়ার কাজে সরাসরি পুলিশ বহিনী ও দলীয় ক্যাডারদের ব্যবহার সামগ্রিক পরিস্থতিকে আরো জটিল করেছে। ক্ষমতা চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত নয় – তাই শুধু ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, অর্থবহ জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়। দলীয় দূর্নীতিবাজদেরও ছাড় দেওয়া চলবে না। এতে নিজ দলের অপরাধীদেরকেও বিচারের আওতায় আনার ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার যেন আন্তর্জাতিক মানের হয় তার প্রতি আইনজীবী ও সচেতন সমাজের লক্ষ্য রাখার অনুরোধ জানানো হয়।

মানুষের সামাজিক নিরাপত্তা বলে কিছু নেই। ব্যবসায়ীদের আজ রাজনীতিতে আধিপত্যতা। তার ফলশ্রুতিতে প্রিন্ট এবং ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াতে অপশক্তির উত্থান ঘটছে। প্রকৃত ঘটনা উদ্বঘাটিত হচ্ছেনা। সাংবাদিকরাও আইনের উর্ধে নন। সাংবাদিকরা নিজেদের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদ সঠিকভাবে করছে না বলেই অপশক্তিরা এখনো সংগঠিত হচ্ছে। সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতনের বিরুদ্ধে সর্বস্তরের জনগণ পাশে প্রবাসীরা ও সোচ্চার আছে। সাংবাদিকদের মধ্যে ঐক্যর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

দেশের উন্নয়নে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে এনে বিদেশী বিনিয়োগকে আকৃষ্ট করার কোন বিকল্প নেই বলে প্রবাসীরা মনে করেন। বক্তারা বলেন, দেশের ভাবমূর্তি এখন আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে অনেক খারাপ। সবগুলো রাষ্ট্রীয় খাতই এত বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত যে বিদেশিরা কোনো সহায়তা দিতে ভরসা পাচ্ছে না। তারা মনে করছে, এখানে কিছু দিলেই তা ব্যক্তি বিশেষের পকেটে চলে যাবে। এটা দেশের উন্নয়নের কোনো কাজে লাগবে না। হত্যা, গুম, নারী নির্যাতনরোধে বিশ্বব্যাপী জনমত তৈরিতে পরিবর্তিত বিশ্ব প্রেক্ষাপটে প্রবাসে বসবাসরত প্রবাসীদের উৎকন্ঠা তাদের নিজ নিজ কাউন্সিলম্যান, সিনেটরদেরকে অবহিত করার উপর তাগিদ দেওয়া হয়। দেশের এ নাজুক পরিস্থিতিতে দেশের সরকারকে আরো দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার পাশাপাশি এবং জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন দায়িত্বশীল মহলকে যথাযথ ভূমিকা রাখার আহবান জানানো হয়।

দেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের অবদান স্বীকৃত হয়ে আসলেও রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রবাসীদের গুরুত্ব দেওয়ার ধারা তৈরী করতে হবে। প্রবাসীদের আওয়াজ যাতে সংসদ ও জনগণের মাঝে তুলে ধরা যায় তার জন্য প্রবাসী উইন্ডো নামে একটি ডিজিটাল প্লাটফর্ম তৈরী করার পরামর্শ দেওয়া হয়। স্বদেশে নিরাপদ জীবনের অঙ্গীকারে প্রবাসীদের হয়রানী বন্ধে দেশের স্থানীয় প্রশাসনকে সক্রিয় হবার আহ্বান জানানো হয়। সহনশীলতার পরিবেশ ও আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে দেশের উন্নতির লক্ষ্যে বিজ্ঞ প্রবাসীদের নিয়ে একটি পলিসি ইন্সটিউট তৈরির আহ্বান জানানো হয়। পারষ্পরিক শ্রদ্ধাবোধের মাধ্যমে পরিশীলিত রাজনৈতিক সংষ্কৃতির উন্মেষ ঘটিয়ে যুগের চাহিদা অনুযায়ী দেশ গড়ার প্রতয়ে সকল প্রবাসীদের নিজ নিজ অবস্থানে থেকে সোচ্চার হবার আহ্বান জানিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হয়।

সাম্প্রতিক বাংলাদেশ ও প্রবাস ভাবনা শীর্ষক এই আলোচনায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, ইসমাইল হোসেন, ড্যানী তৈয়ব, মুশফিকুর চৌধুরী খসরু, মাহতাব আহমেদ, তারিক বাবু, শাহানা পারভীন, এম এ বাতেন, মারুফ ইসলাম, শফিঊল আলম বাবু, মোঃ এস জোহা বাবলু, মুজিব সিদ্দিকী, শামসুদ্দিন মানিক, এম এ বাসিত, আনিসুর রহমান, ডাবলু আমিন, লায়েক আহমেদ, এম কে জামান, মোঃ গোলাম সারোয়ার, ফয়সাল আহমেদ তুহিন, রওনাক সালাম, আশরাফ এইচ আকবর, মার্টিন রহমান, জসীম আশরাফী, অবঃ মেজর হামিদ, ফারহানা সাঈদ, ডাঃ আবুল হাশেম, মোসাম্মৎ ফরিদা, সোহেল রহমান বাদল প্রমুখ।

এসময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- আলী তৈয়ব, মাসুদ চৌধুরী, ইশতিয়াক চিশতী, কাঞ্চন চৌধুরী, মোহাম্মদ আলী খান, বুলবুল সিনহা, মোঃ ময়েজ উদ্দিন, শফিক রহমান, নাসির উদ্দিন জেবুল, ফারুক হাওলাদার, ইফতেখার রহমান, ইলিয়াস খান, মোতিয়ার রহমান প্রমুখ।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন কাজী মশহুরুল হুদা ও সৈয়দ এম হোসেন বাবু।

সার্বিক অনুষ্ঠান পরিচালনায় ছিলেন আয়োজক সংগঠন একুশ নিউজ মিডিয়ার পরিচালক জাহান হাসান।
Pic Link: http://www.facebook.com/media/set/?set=oa.425613467460482

যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র প্রতিষ্ঠা


দেশ প্রেমিক সকল নাগরিককে সরকারের ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে : বিএনপি নেতা ডা. মুজিব

এখন সময় রিপোর্ট : বিদেশে দেশের কোন রাজনৈতিক দলের শাখা বিধি সম্মত নয়। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে সে সুযোগ নেই। তবে দেশের কোন রাজনৈতিক দলের সমর্থক গোষ্ঠি বিভিন্ন নামে সংগঠিত হতে বাঁধা নেই। সংগঠিত হয়ে তারা যেমন নিজ নিজ দলের সমর্থনে ভূমিকা রাখতে পারেন তেমনি জাতীয় স্বার্থে ও উন্নয়নেও ভূমিকা রাখতে পারেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসে বাংলাদেশের দুটি বড় রাজনৈতিক দলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নামে দল কোন্দলেন অভাব নেই। আওয়ামী লীগের বিভক্ত নেতৃত্ব’র ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সুযোগ হয়েছিল দলীয় সভানেত্রীর একটি কমিটি ঘোষণার মাধ্যমে, কিন্তু কমিটিতে পদ বঞ্চিতদের বিদ্রোহে সামান্য পরিবর্তন করে একই নামের আরেকটি সংগঠন (কর্পোরেশন) জন্ম লাভ করে বিভক্তিকে টিকিয়ে রাখা হয়।

অপর বড় দল বিএনপি’র কোন কমিটি (কেন্দ্র অনুমোদিত) যুক্তরাষ্ট্রে নেই। এ সুযোগে নেতৃত্ব দানে আগ্রহী নেতাদের দল উপদলের সংখ্যা বেড়েই চলছে। একই ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধ না হয়ে বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন ব্যানারে অনুষ্ঠান সমাবেশ চালিয়ে যাচ্ছে। কেন্দ্র থেকে আসা দলীয় নেতারাও এসব অনুসষ্ঠানে অংশ গ্রহণ করে এ প্রতিযোগী প্রতিদ্বন্দিদেও মধ্যে নিজেদের অজান্তেই উৎসাহ যোগিয়ে যাচ্ছেন- এমন মন্তব্য পর্যবেক্ষকদের। তারা মনে করেন, এর ফলে সাধারণ সমর্থক ও কর্মীরা নেতৃত্ব সম্পর্কে বিভ্রান্ত ও দ্বিধাদ্বন্দে ভুগছেন। দলের কেন্দ্র থেকে একটি সংগঠন ঘোষণা করলে এ দ্বিধাদ্বন্দের অবসান হয়- তা সত্বেও কোন অজানা কারণে হচ্ছে না। শোনা যায় গত বছরের মে মাসে দলের চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার সফরের সময় কেন্দ্রীয় অনুমোধনেনে একটি সংবর্ধনা কমিটি গঠিত হয়। সে কমিটিতে আহবায়ক ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে বিএনপি’র প্রতিষ্ঠা লগ্নের নেতৃত্বদানকারী ডা. মুজিবুর রহমান মজুমদার। বিএনপি নেতা কর্মীদের মধ্যে বিভক্তি ও দলটির অবস্থা অবস্থান জানতে প্রথম পর্যায়ে এখন সময়’র পক্ষ থেকে তাঁর মুখামুখি হন- আরীফ মুহাম্মদ।

প্রশ্ন : যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র প্রতিষ্ঠা কিভাবে হয়েছিল? আপনি প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন, প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে আপনার সঙ্গে আর কারা ছিলেন?

ডা. মুজিবুর রহমান মজুমদার : ১৯৮৮ সালে স্বৈরাচার বিরোধী এরশাদ হটাও আন্দোলনের সময় তৎকালীন বিএনপি’র মহাসচিব অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও ড. কামাল হোসেন নিউ ইয়র্ক সফরে আসেন। তখন যুক্তরাষ্ট্র থেকে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে সহযোগিতা করার জন্য বদরুদ্দোজা চৌধুরী বিএনপিতে আমন্ত্রণ জানান। তারপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বিএনপি’র কার্যক্রম শুরু করি। সাংগঠনিকভাবে ১৯৮৮ সালে আমাকে (ডা. মুজিব) সভাপতি ও ইহসানুল হক মিলনকে সাধারণ সম্পাদক করে ১০১ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়। প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে আরো ছিলেন-জিল্লুর রহমান জিল্লু, ডা. ফয়জুল কবির, ডা. হামিদুজ্জামান, গোলাম মাওলা মানিক, ফারুক বখত চৌধুরী, নিয়াজ আহমেদ, গিয়াস উদ্দিন মজুমদার, ইলিয়াস মাস্টার ও হেলাল উদ্দিনসহ অনেকেই। কারা প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে গুরুত্ত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

বিএনপি চেয়ারপার্সন দেশ নেত্রী খালেদা জিয়ার স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে লবিং করেছি। নিউ ইয়র্কে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছি।

প্রশ্ন : যুক্তরাষ্ট্রে বিএনপিতে বিভক্তি কবে দেখা দেয়। এর কারণ কি?

ডা. মুজিব : নেতৃত্বের দ্বন্দ নিয়ে ১৯৯১ সালে তৎকালীন সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট গ্রুপিং করে দলের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি করে। পরে ৯৫ সালে ডা. হামিদুজ্জামান ও জিল্লুর রহমান জিল্লুর নেতৃত্ব নিয়ে বিভেদ দেখা দেয়। ২০০১ সালে নেতা-কর্মীদের রায়কে অবজ্ঞা করে অন্যায়ভাবে আব্দুল লতিফ স¤্রাটকে সভাপতি করে কমিটি চাপিয়ে দেয়। পরে একদিকে স¤্রাট ও কামাল পাশা বাবুল অন্যদিকে সোলেমান ভূইয়া ও জিল্লুর রহমান জিল্লুর নেতৃত্বে বিএনপি দু’ভাগ হয়ে যায়। তখন থেকে মূলত বিএনপি দু’গ্রুপ পৃথক কর্মসূচি পালন করে। এর আগে নেতৃত্ব নিয়ে দ্বন্দ থাকলেও আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচি পালন করেছি।

প্রশ্ন : বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র বৈধ কোন কমিটি আছে কিনা?

ডা. মুজিব : বর্তমান নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে বিএনপি’র কোন শাখা নেই। তাই আগের কমিটি থাকার প্রশ্নই আসেনা। তবে ২০১১ সালে মে মাসে বিএনপি চেয়ার্পাসন বেগম খালেদা জিয়া নিউ ইয়র্কে সফরের সময় যুক্তরাষ্ট্রে বিএনপি’র সমর্থক নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করার জন্য আমাকে (ডা. মুজিব) আহবায়ক করে ১১ সদস্যের একটি আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। ঐ কমিটির কো-কনভেনর হচ্ছেন-জিল্লুর রহমান জিল্লু, শরাফত হোসেন বাবু, কামাল পাশা বাবুল, সোলেমান ভূইয়া, জসিম উদ্দিন ভূইয়া। সদস্য সচিব- বেলাল মাহমুদ। সদস্য হচ্ছেন- আব্দুল লতিফ স¤্রাট, ডা. গুলজার হোসেন, তোফায়েল আহমেদ লিটন ও ফয়সাল (কানাডা বিএনপি)।

প্রশ্ন : বর্তমানে বিএনপিতে বেশ কয়েকটি গ্রুপ রয়েছে। এ সম্পর্কে আপনার মুল্যায়ন কি?

ডা. মুজিব : নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা নিয়ে গ্রুপিং থাকাটা স্বাভাবিক। দলের মধ্যে বিভক্তি থাকলেও ওয়ান এলিভেন সরকারের সময় যে যার অবস্থান থেকে কাজ করেছে। সবাই পৃথকভাবে সোচ্চার ছিলেন। তবে সবাই ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন করতে পারলে আরো বেশি ভালো হতো।

প্রশ্ন : ১৮ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের গ্রেফতারের পর যুক্তরাষ্ট্রে বিএনপি’র নেতা-কর্মীদের মাঝে ঐক্যেবদ্ধ কর্মসূচি পালন করতে দেখা গেছে। তবে একটি গ্রুপ এখনো পৃথক কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে আপনার বক্তব্য কি?

ডা. মুজিব : দলের প্রয়োজনে ঐক্য প্রয়োজন। তবে দিন ক্ষণ ঠিক করে ঐক্য হবেনা। ঐক্য চলমান পক্রিয়া। বিশেষ একটি গোষ্ঠি চায়না, আমরা ঐক্যবদ্ধ হই। ব্যক্তি স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে দেশের প্রয়োজনে জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন।

প্রশ্ন : বাংলাদেশে সরকার বিরোধী আন্দোলন, বিরোধী দলীয় নেতা কর্মীদের উপর হামলা মামলা প্রবাস থেকে কি ধরণের ভূমিকা রাখা উচিত বলে আপনি মনে করেন।

ডা. মুজিব : আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ফ্যাসীবাদী কায়দায় দেশ চালাচ্ছে। দেশে গণতন্ত্রের লেবাসে স্বৈরতন্ত্র চলছে। দেশকে ভারতের অঙ্গ রাজ্য বানানোর জন্য দেশের স্বার্থ বিকিয়ে দিয়ে নানাবিদ কাজ করে যাচ্ছে সরকার। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ সঙ্গে আঁতাত করে সরকার বাংলাদেশে বিডিআর ধ্বংশের পর সেনাবাহিনীকেও ধ্বংশের ষড়যন্ত্র করছে । সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যাকান্ডসহ সর্বশেষ সাংবাদিকদের সন্ত্রাসী হামলায় প্রমাণ করে সরকারের সমালোচনাকারী রাখতে চায়না। সরকারের বিভিন্ন অবৈধ কর্মকান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিভিন্ন আন্তর্জাকি ফোরামে বিএনপি কাজ করে যাচ্ছে। যার বহি:প্রকাশ ঘটেছে স্টেট ডিপার্টমেন্টের মানবাধিকার রিপোর্ট। দেশের জন্য প্রবাস থেকে আন্তর্জাতিক ফোরামে কাজ করার অনেক সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশের এ ভয়াবহ পরিস্থিতিতে শুধু জাতীয়তাবাদী দলকে কাজ করলে হবে না, দেশ প্রেমিক সকল নাগরিককে সরকারের ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াতে হবে।

প্রশ্ন : আপনি প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন, কিন্তু আপনি নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পেিরন নি, অর্থাৎ নেতৃত্বের কোন পর্যায়ে দীর্ঘদিন  আপনাকে দেখা যায় নি- এর কারণ কি?

ডা. মুজিব : নিজের পেশাগত ও গবেষণার কাজে দলের কার্যক্রম থেকে বেশ কিছুদিন নেপথ্যে ছিলাম। যার কারণে ইচ্ছা থাকলেও মাঠে সক্রিয় থাকতে পারিনি। আবার দলের প্রয়োজনে ব্যক্তি স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে অনেক ছাড় দিতে হয়েছে। সর্বশেষ বিএনপি চেয়ারপার্সনের নিউ ইয়র্ক সফরের সময় সহকর্মীদের সাথে নিয়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করে নেত্রীর সফরকে সফল করেছি।

এখন সময় : সময় দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ!

ডা. মুজিব : আপনাকে, এখন সময় পরিবারের সকল সদস্য ও সম্মানিত পাঠকদেরকে ধন্যবাদ!

মানবাধিকার পরিস্থিতির তীব্র সমালোচনা


বাংলাদেশকে ঘিরে বিশ্ব সংস্থা ও মিডিয়ায় একের পর এক রিপোর্ট

মানবাধিকার পরিস্থিতির তীব্র সমালোচনা

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক : বাংলাদেশের বর্তমান মহাজোট সরকাররের কর্মকা- ও ভুমিকা নিয়ে বিশ্বের প্রভাবশালী মানবাধিকার সংস্থাসমূহ ও শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমগুলোতে একের পর এক রিপোর্ট প্রকাশিত হচ্ছে। এর ফলে বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের ভাবমর্যাদা বিপুলভাবে ক্ষুণœ হলেও তার পরিশোধনে সরকারের কোন মাথাব্যথা নেই বলে অভিযোগ উঠেছে পর্যবেক্ষক মহলে।

বাংলাদেশের মানবাধিকার, বিচারব্যবস্থা, আইন-শৃঙ্খলা, রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রভৃতি বিষয়ে সাম্প্রতিক সময়ে এসব রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়াও প্রভাবশালী দেশের পার্লামেন্ট ও ফোরামেও সরকারের বিভিন্ন কার্যকলাপের কঠোর সমালোচনা করা হয়েছে। তবে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের কোন কোনটি অস্বীকার করা হয়েছে। গত সপ্তাহে সর্বাধিক আলোচিত রিপোর্ট ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ সম্পর্কিত ‘মানবাধিকার রিপোর্ট, এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের রিপোর্ট, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ-এর বিবৃতি, বৃটিশ পার্লামেন্টের বক্তব্য, প্রভাবশালী পত্রিকা ইকোনমিস্ট ও দি হিন্দুর প্রতিবেদন, বিবিসি ও আল-জাজিরার রিপোর্ট প্রভৃতি। গত ২৪ মে প্রকাশিত হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ সম্পর্কিত ‘মানবাধিকার রিপোর্ট। এতে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির তীব্র সমালোচনা করে যুক্তরাষ্ট্র। এতে বলা হয়েছে, নিখোঁজ, নিরাপত্তা হেফাজতে মৃত্যু, খেয়ালখুশিমতো গ্রেফতার ও আটক রাখার জন্য দায়ী নিরাপত্তা বাহিনী। তারা মানবাধিকারের বড় সমস্যা। বিচার বিভাগকে অতিমাত্রায় রাজনীতিকরণ করা হয়েছে।

এতে সমস্যা বেড়েছে। বিরোধী দলের সদস্যদের ন্যায় বিচার পাওয়ার পথকে সঙ্কুচিত করা হয়েছে। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে সীমিত করেছে সরকার। নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা সাংবাদিকদের হয়রানি করছে। ২০১১ সালের ওপর করা এই রিপোর্টে বাংলাদেশ চ্যাপ্টারে বলা হয়েছে, সরকার সমাবেশ করার স্বাধীনতাকে খর্ব করেছে। এছাড়া রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপূর্ণ সহিংসতা সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। সরকারি পর্যায়ে দুর্নীতি মারাত্মক এক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে মোটা দাগে বক্তব্য দেয়া হয়েছে রিপোর্টে। সরকারি কার্যক্রমের অনিয়ম-দুর্নীতি বিষয়ে বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে দুর্নীতিবিরোধী আইন ও বিধিবিধান থাকলেও সরকার তার যথাযথ প্রয়োগ করে না। সরকারি কর্মকর্তাদের অনেকেই দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। এখানে দুর্নীতি করলেও শান্তি হয় না। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-টিআইবি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)কে ‘দন্তহীন বাঘ আখ্যা দিয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ‘২০০৯ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার আগে শাসক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির যেসব মামলা হয়েছিল কোন আইন কানুনের তোয়াক্কা না করে নির্বাহী আদেশের বলে তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। অথচ খালেদা জিয়া কিংবা বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা খুব কম মামলাই প্রত্যাহার করা হয়েছে।

এসময়ের আরেকটি চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। তারা অভিযোগ করে, বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধের বিচারে গঠিত আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল পুরোপুরি আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করছে না। এ্যামনেস্টি ২০১১ সালের বিশ্বের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে তাদের বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে গত ২৪ মে। সেখানে বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে গঠিত ট্রাইব্যুনাল নিয়ে একটি অধ্যায় রয়েছে। এতে বলা হয়েছে, শুরুতে এই বিচার প্রক্রিয়ায় অনেক ত্রুটি ছিল, তার কিছু কিছু সংশোধন করা হলেও এখনও অনেক সমস্যা রয়ে গেছে এবং এই ট্রাইব্যুনাল পুরোপুরি আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করতে পারছে না।  প্রতিবেদনটির ‘বাংলাদেশ অধ্যায় নিয়ে এ্যামনেস্টির বাংলাদেশ গবেষক আববাস ফয়েজ বলেন, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এখনো আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত হতে পারেনি বলেই তারা মনে করেন। তারা আরো বলেন, ট্রাইব্যুনালে আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে হলে এজন্যে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশাপাশি যাদের বিচার করা হচ্ছে, তাদের মানবাধিকার ও ন্যায় বিচারের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে। যাদের বিচার চলছে তারা যাতে আত্মপক্ষ সমর্থন করতে পারেন বা তারা যেন নির্যাতনের শিকার না হন, সেটি নিশ্চিত করাও জরুরি। ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তকে সে দেশের অন্য কোন আদালতে চ্যালেঞ্জ করা যাবে না, এটি মানবাধিকারের জন্য একটি বড় সমস্যা বলে তিনি অভিহিত করেন। এতে বিচার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখার এবং অভিযুক্তদের জামিন পাওয়ার অধিকারের বিষয়টিও তোলা হয়। আরো উল্লেখ করা হয়, এখানে এমন কিছু বিষয় রয়েছে যা আসলে ঠিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের সাথে খাপ খায় না। বলা হয়, ‘আমরা কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি যে এসব ক্ষেত্রে আমরা মোটেই সন্তুষ্ট নই। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচার প্রক্রিয়া এ্যামনেস্টি সতর্কতার সাথে পর্যবেক্ষণ করছে বলেও জানানো হয়।

এর আগে গত ২৭ এপ্রিল মানবাধিকার সংস্থা এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এক বিবৃতিতে বলে, তারা বাংলাদেশে মানুষ ‘গুম হওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করছে। তারা সিলেটের দুজন ছাত্রদল নেতা, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রশিবিরের দুজন নেতা, ট্রেড ইউনিয়ন নেতা আমিনুল ইসলাম এবং বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করে। তাদের অনুসন্ধান শেষে দেয়া বিবৃতিতে বলা হয়, ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছে, গুম হওয়া ব্যক্তিদের অধিকাংশের ক্ষেত্রেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাদা পোশাকধারী সদস্যরা তুলে নিয়ে গেছে। তাদের পায়ে বুট পরা থাকায় ধারণা করা হয় তারা সবাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য। আর তাদের চুলও ছোট করে ছাঁটা। ইলিয়াস আলীর গুম হওয়ার পর পুলিশকে তদন্ত করতে বলার পর আবার একে ‘নাটক বলে মন্তব্য করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কড়া সমালোচনা করে এ্যামনেস্টি।

প্রায় একই সময়ে যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী পত্রিকা দি ইকোনমিস্ট প্রকাশ করে তাদের একটি মন্তব্য প্রতিবেদনে। এতে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের কঠোর সমালোচনা করা হয়। এতে সরাসরি বলা হয়, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে বিপজ্জনক পথে নিয়ে যাচ্ছেন। গত ২৫ মে পত্রিকাটির অনলাইন সংস্করণে রাজনৈতিক উত্তেজনা, দুর্নীতি, খুন, অপহরণ ইত্যাদি বিষয় তুলে দুটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। একটির শিরোনাম ছিল ‘বাংলাদেশস টক্সিক পলিটিকস : ইট ইজ আপ টু ইন্ডিয়া টু ট্রাই টু স্টপ শেখ হাসিনা রুইনিং বাংলাদেশ। অপরটির শিরোনাম ছিল ‘পলিটিকস ইন বাংলাদেশ : দ্য প্রাইম মিনিস্টার সেটস দ্য কান্ট্রি অন এ ডেঞ্জারাস পাথ। এই প্রতিবেদনে গুরুত্ব দিয়ে বলা হয়, ‘পরবর্তী নির্বাচন কার তত্ত¦াবধানে হবে এবং তা আসলেই নিরপেক্ষ হবে কি না তা নিয়ে পরস্পর বিরোধী অবস্থান দেখা যাচ্ছে। এটা ইতোমধ্যে এত তীব্র হয়ে উঠেছে যে, অনেক পর্যবেক্ষক প্রতিদ্বনিদ্বতামূলক কোনো নির্বাচন আদৌ হবে কি না তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। বাংলাদেশীরা ইতোমধ্যে খাদ্য ও জ্বালানির মূল্য, মারাত্মক লোডশেডিং এবং নতুন নতুন সড়ক নির্মাণের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন। ইকোনমিস্ট আরো বলে, সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশে বেশ  কয়েকটি রহস্যজনক হত্যাকান্ড ঘটেছে। এক সৌদী কূটনীতিক গুলীতে নিহত হয়েছেন, এক ট্রেড ইউনিয়ন কর্মী নির্যাতিত ও খুন হয়েছেন, দুর্নীতির অনুসন্ধান করার পর এক সাংবাদিক দম্পতিকে হত্যা করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ কঠোর করতে জানুয়ারিতে অভ্যূত্থানের গুজব ছড়ানো হয়। আরো বলা হয়, বাংলাদেশের অন্যতম সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব গ্রামীণ ব্যাংকের মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তা করা হয়েছে। শেখ হাসিনা তাকে রাজনৈতিক হুমকি মনে করেন। সরকার গ্রামীণ ব্যাংককে কব্জা করতে চাচ্ছে বলেও উল্লেখ করা হয়। সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলা হয়, দুর্নীতি এতো ব্যাপক যে, তা দাতাদেরও উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জাপান তার উপ-প্রধানমন্ত্রীকে পাঠিয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি ব্যক্ত করেছে। সাম্প্রতিক এক দুর্নীতির ঘটনায় রেলমন্ত্রীর সহকারীর গাড়ি থেকে বস্তাভর্তি টাকা পাওয়ার পরে তিনি পদত্যাগ করেছিলেন। কিন্তু অল্প পরেই তাকে মন্ত্রিসভায় পুনর্বহাল করা হয়। ইকোনমিস্ট আরো উল্লেখ করে, ‘১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধ আধুনিক ইতিহাসের মধ্যকার রক্ত¯œাত যুদ্ধগুলোর অন্যতম। কিন্তু অভিযুক্তদের বিচার করতে গঠিত ট্রাইব্যুনালের সম্ভাব্য রায়ের উদ্দেশ্য এখন প্রতীয়মান হচ্ছে, বিএনপি ও তার ইসলামী মিত্রদের হেয় প্রতিপন্ন করা।

বাংলাদেশের স্পর্শকাতর বিষয়গুলো নিয়ে বৃটেনের পার্লামেন্টেও আলোচনা হয়েছে গত ২১ মে। সেখানকার একটি সংবাদপত্র জানায়, বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস আলীসহ সব গুমের স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছে বৃটেন। বৃটেন পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ হাউজ অব লর্ডসে লেবার পার্টির সদস্য লর্ড হ্যারিসের এক প্রশ্নের জবাবে দেশটির স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র এবং কমনওয়েলথ মন্ত্রী লর্ড হাওয়েল এ কথা বলেন। লর্ড হাওয়েল বলেন, ‘দেশটির জনগণের দারিদ্র্য নিরসন ও জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আগামী সংসদ নির্বাচন নিশ্চিত করতে এবং তা যথাসময়ে অনুষ্ঠানের ব্যাপারে রাজনীতিকে স্থিতিশীল করতে বাংলাদেশের চেষ্টাকে আমরা সমর্থন দিয়ে আসছি। তাই আমাদের কর্মকর্তারা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অফিস ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। এই বৈঠকে যেকোনো মূল্যে ইলিয়াস আলীসহ গুম হওয়া সব মানুষকে খুঁজে বের করতে সরকারকে আহবান জানানো হয়। বৃটেন বিশ্বাস করে বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক অন্ধকারাচ্ছন্ন অবস্থা অচিরেই কেটে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। এছাড়া গত ফেব্রুয়ারিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান বাংলাদেশ সফরকালে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে সরকারকে তাদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

এদিকে বাংলাদেশের বিরোধী রাজনৈতিক নেতা এবং কর্মীদের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা অবিলম্বে নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানায় যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। ২৭ এপ্রিল এই সংস্থার বিবৃতি প্রচার করে বিবিসি। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এই বিবৃতিতে বলে, বাংলাদেশে বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা বাড়ছে এবং এ ধরণের সর্বশেষ ঘটনায় গত ১৭ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ রয়েছেন বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী। বিবৃতিতে বাংলাদেশের একজন গার্মেন্টস শ্রমিক নেতা আমিনুল ইসলামকে অপহরণ এবং কয়েকদিন পর তাকে হত্যার ঘটনাও উল্লেখ করা হয়। বলা হয়, বাংলাদেশের মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র কেবল চলতি বছরেই এভাবে ২২ জন মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন বলে তাদের এক রিপোর্টে জানিয়েছিল। অন্যদিকে অধিকার নামের আরেকটি মানবাধিকার সংস্থার হিসেবে ২০১০ সাল থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৫০ জন মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন। বিবিসি গত সপ্তাহে বাংলাদেশে গুম-নিখোঁজের ওপর একটি সচিত্র প্রতিবেদনও সম্প্রচার করে।

এছাড়া প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক টিভি চ্যানেল আল জাজিরা ‘বাংলাদেশ রাজনৈতিক গুমের মহামারীতে আক্রান্ত শীর্ষক এক প্রতিবেদন প্রচার করে। এতে বলা হয়, বিগত এক বছরে বাংলাদেশে প্রায় ১০০ মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন। তাদের বেশিরভাগই রাজনৈতিক নেতাকর্মী। এর আগে ১০ আগস্ট ২০১১ এবং এ বছর ১৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সম্পর্কে দুটি প্রতিবেদন আল জাজিরা টিভিতে প্রচারিত হয়। শেষ প্রতিবেদনের একাংশে বলা হয়, ‘বাংলাদেশের সাবেক রাজনীতিবিদ গোলাম আযম ৪০ বছরেরও বেশি সময় আগে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে বিচারের মুখোমুখি। ৮৯ বছর বয়সী গোলাম আযম হাঁটতে পারেন না, দেখতে পান না, এমনকি শুনতেও পান না। তা সত্তে¦ও ১০ জন সশস্ত্র পুলিশ কর্মকর্তা সার্বক্ষণিক তাঁকে পাহারা দিচ্ছেন।

এদিকে ভারতের প্রভাবশালী দৈনিক ‘দ্য হিন্দুর অনলাইন সংস্করণে ‘ডিসঅ্যাপেয়ারেন্সেস, কিলিংস ট্রিগার কনসার্ন ইন বাংলাদেশ শীর্ষক রিপোর্টে সম্প্রতি বলা হয়, গুমের ঘটনা ও রহস্যময় হত্যার ঘটনা সম্প্রতি বাংলাদেশে ব্যাপক আকারে বেড়ে গেছে। এর ফলে বাংলাদেশে আতঙ্ক ও রাজনীতিতে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এ রিপোর্টে আরো বলা হয়, ক্রমবর্ধমান গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ডে এরই মধ্যে উচ্চ আদালত গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। মানবাধিকার গ্রুপগুলো দাবি করছে, ২০১০ সালের জানুয়ারি থেকে শতাধিক মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন। তাদের মধ্যে ২১ জনকে মৃত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে গত সপ্তাহে ঢাকায় গাড়িচালকসহ সাবেক এমপি ও বিরোধী দল বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলীর রহস্যময় নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় আতঙ্ক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা বেড়ে গেছে। রিপোর্টে আরও বলা হয়, ২০১০ সালের জুলাই মাসে বিএনপির আরেক নেতা চৌধুরী আলম কোথায় আছেন সে ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে পুলিশ কর্মকর্তা ও র‌্যাবকে নিন্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট। বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন আদালত।

The Coaching Business in Bangladesh


The Coaching Business

Despite the government’s intention to ban private coaching, many students, especially those who recently passed their Senior Secondary Certificate (SSC) exams, are heavily dependent on private coaching.

Naimul Karim

  

  

Photo: Zahedul I Khan

For Muntasir Ahmed, the last ten months were the most tiring days of his life. “I had to wake up at 8 in the morning every day, to go to tuitions, followed by school and coaching classes,” he exclaims. Back then his SSC exams were just months away and the increasing competition meant that he had to work twice as hard as before. “My day would end at 9 pm, following the last of my coaching classes and I had no time for anything else,” says the smiling 15-year-old, who was glad to have passed, in his words, the ‘first major obstacle’ of life.

“I had to go to coaching since most of the teachers at school didn’t teach properly. The good teachers were available for only two days a week and that really didn’t help much,” explains Muntasir who went on to score a high grade point average (GPA) of five.

A number of students interviewed by the Star, who passed their SSC exams this year, echoed similar sentiments. “The model papers available in some of the coaching centres are really helpful. They train you, make you feel confident before an exam and eventually help you prepare well,” says Syeda Tasneem, who scored an A plus and received the golden honour roll.

The statements prove that despite the government’s repeated attempts to put a bar on coaching centres, students still prefer to go for private coaching. “At times the syllabuses remain incomplete and the teacher doesn’t always have the time to explain each and every detail in class. In those circumstances, private coaching helps a lot,” says Arafat Qazi, a student from a school in Motijheel.

The latest action against coaching centres came in January this year, when Education Minister, Nurul Islam Nahid formed a four-member committee, to collect information on teachers running coaching centres. The move was in response to a High Court ruling that questioned the legality of coaching centres, last year.

  

Increasing competition has created a huge demand for private coaching. Photo: Star File

  

Members of the Education Ministry, in a recent report, have stated that certain teachers from prominent schools and colleges in Dhaka evade their classroom duties and create situations where students are forced to take tuition beyond school hours. While the Education Minister admits to the problems regarding private coaching, he adds that it wouldn’t be possible to close down the centres overnight.

Manzur Jalal, father of a student studying in Mohammadpur, narrates how he was forced to enroll his daughter into a coaching centre last year, “My daughter is currently in class nine. Last year when she was about to appear in the Junior School Certificate exam, we noticed that her syllabus was incomplete. I wrote a letter to the director of the institution, complaining about the matter, but it made no difference. We had no alternative other than spending a handsome amount of money for special coaching. It’s nothing but a dirty business.”

Humayun Hyder, a parent of a student studying in class ten, reiterates Jalal’s views, “I don’t think it’s worth spending a huge amount of money every month on the school fees and coaching centres for the same purpose. I don’t understand why extra coaching is required when the schools pay their teachers for doing the same job.”

Critcising the low pay-scales of public schools, Sara Hossain, a teacher from a prominent institution, claims that teachers lose interest in classrooms due to the low wages.

“How can we expect talented and brilliant people to take up teaching as a profession if they are not provided with a proper salary? Why will they want to live an ordinary life? My friend, who is a doctor, is now the owner of a multistoried building, whereas I am still living in a rented apartment. That’s because I’m a teacher,” says Hossain.

  

  

There’s no time for play, as coaching classes dominate the ‘after-school’ hours.
Photo: Shafiqul Islam Kajol

The low salary-scales have also encouraged certain teachers to take full-time jobs at various coaching centres. Twenty-eight-year-old Abdul Rahman, a Masters graduate, is one such example. “I initially joined a school. But after weighing my options, I decided to join a coaching centre. I got paid on the basis of the number of students that joined my class and that was a lot more than what any other public school would have offered to pay me,” says Rahman.

One of the steps taken by the ministry, to prevent students from going to coaching, was the introduction of ‘after-school’ classes for weaker students, in August last year. The scheme however, didn’t work out too well as the teachers were paid a very low amount for the extra classes.

A report published by the Bangladesh Bureau of Statistics (BBS) in 2007 identified around 5,500 coaching centres in the country, a figure that must have increased by a huge margin in the last couple of years. It further states that more than 80 per cent of the students receive private tutoring or go to coaching centres by the time they reach class ten.

The fact that society has accepted the presence of coaching centres so easily –both the teachers and the students who have adjusted themselves to the system—will make it extremely difficult for Nahid and his ministry to bring any significant change in the system.

For now, it seems the education sector, which is supposed to be doing a service to society is being dominated by various profit-making ventures, the coaching centres being one of them. The ministry’s drive to curb private coaching, alone, by no means, can solve the problem. Upgrading the teachers’ salary structure in accordance to the current costs of living is a must, if the government seriously intends to restrict the growth of coaching centres.

http://www.thedailystar.net/magazine/2012/05/04/special.htm

ঢাকায় এক যুগে ৯০ শতাংশ জলাভূমি ভরাট


ঢাকার ওপর জাতিসংঘ ও বিসিএসের সমীক্ষা

এক যুগে ৯০ শতাংশ জলাভূমি ভরাট

ইফতেখার মাহমুদ | তারিখ: ০৫-০৬-২০১২

ক্রমশ ধূসর হয়ে উঠছে ঢাকা। জলাশয় কমছে আশঙ্কাজনক হারে। সবুজ বনানী আর বৃক্ষের ছায়াতল সংকুচিত হয়ে আসছে। মাটি, পানি আর ঘাস ঢেকে যাচ্ছে কংক্রিটের আস্তরণে। ধুলা আর দূষণে অতিষ্ঠ নগরজীবন।
বিশ্বের নয়টি শহর নিয়ে পরিচালিত জাতিসংঘের তিনটি সংস্থার এক চলমান সমীক্ষায় বাংলাদেশের রাজধানীর এই চিত্র উঠে এসেছে। ঢাকাসহ দক্ষিণ এশিয়ার শহরগুলোর ওপর সমীক্ষাটি চালিয়েছে বাংলাদেশ সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড স্টাডিজ (বিসিএসএস)।
আফ্রিকার ছয়টি ও দক্ষিণ এশিয়ার তিনটি শহরের ওপর এ সমীক্ষা করা হয়। এতে বলা হয়েছে, ঢাকা শহরের চারপাশে কৃষিজমি হিসেবে চিহ্নিত এলাকাগুলো দ্রুত ভরাট হয়ে গেছে। তৈরি হচ্ছে আবাসন প্রকল্প। জলাভূমিগুলোও এই দখল থেকে বাদ যাচ্ছে না। শহরের আশপাশ থেকে কৃষিজমি ও জলাভূমি ক্রমশ ধ্বংস হওয়ায় পরিবেশ বিপর্যস্ত হচ্ছে। ফলে খাদ্যশস্য ও মৎস্য সম্পদের উৎপাদন কমছে।
দক্ষিণ এশিয়ায় ঢাকা, নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু ও ভারতের চেন্নাই শহরের ওপর পরিচালিত ‘নলেজ অ্যাসেসমেন্ট অন ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড পেরি আরবান এগ্রিকালচার ইন সাউথ এশিয়া’ শীর্ষক এ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে শহরের চারপাশে কৃষি উৎপাদন কমে যাচ্ছে। আর দূরবর্তী এলাকা থেকে খাদ্য এনে রাজধানীবাসীর চাহিদা মেটানো হচ্ছে। এতে রাজধানীমুখী পরিবহনের সংখ্যা বাড়ছে, সৃষ্টি হচ্ছে যানজট।
সমীক্ষায় বলা হয়, নিম্নভূমি ও জলাভূমি ভরাট করে একের পর এক কংক্রিটের ভবন ও পিচঢালা পথ নির্মাণের ফলে শহরে তাপমাত্রাও বাড়ছে। মার্চ, এপ্রিল, মে—এই তিন মাসে ঢাকায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমছে, গড় তাপমাত্রা বাড়ছে। কারণ, মৌসুমি বায়ু আসার আগের এই সময়ে যে বৃষ্টিপাত হয়, তার উৎস হচ্ছে স্থানীয় নদী ও জলাশয় থেকে সৃষ্ট জলীয় বাষ্প। জলাশয় কমে যাওয়ায় বৃষ্টিপাতও কমছে। প্রতিবছর এই তিন মাসে দশমিক শূন্য ৬৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বাড়ছে। শীত মৌসুমে শূন্য দশমিক শূন্য ৬১ ডিগ্রি এবং বর্ষায় বাড়ছে শূন্য দশমিক শূন্য ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
সমীক্ষার ফলাফল সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে বিশিষ্ট নগরবিদ অধ্যাপক নজরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, সারা দেশে ছোট-বড় মিলিয়ে শহর ৬২৫টি। পুরোনো শহরগুলোকে অবহেলায় রেখে ও কোনো উন্নয়ন না করে আবার নতুন উপশহর নির্মাণের কথা শোনা যাচ্ছে। এ ধরনের সিদ্ধান্তকে আত্মঘাতী হিসেবে চিহ্নিত করে তিনি বলেন, কৃষি, জলা ও বনভূমিকে অক্ষত রেখে নগরায়ণ করতে হবে। সারা দেশের জন্য একটি ভূমি ব্যবহার বিষয়ে ভৌত পরিকল্পনা তৈরি করে তার ভিত্তিতে নগরায়ণ করার পরামর্শ দেন তিনি।
সমীক্ষায় আরও বলা হয়, জলাভূমি ভরাট হয়ে শহর থেকে বৃষ্টির পানিনিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে জলাবদ্ধতা বাড়ছে। পানিনিষ্কাশন এলাকা হিসেবে চিহ্নিত ঢাকার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বাড্ডা, সাঁতারকুল, খিলক্ষেত, রামপুরা, দক্ষিণ ও উত্তরখানের বেশির ভাগ এলাকা একসময় জলাভূমি ও নিম্নাঞ্চল ছিল। গত এক যুগে এই জলাভূমি ও নিম্নাঞ্চলের ৯০ শতাংশ ভরাট হয়ে গেছে। মোহাম্মদপুর ও গুলশান আবাসিক এলাকায় কংক্রিটের আচ্ছাদন নেই, এমন এলাকায় মোট জমির মাত্র ৪ শতাংশ।
ঢাকা সিটি করপোরেশনের বাইরের এলাকায় কিছু সবুজ বনানী, কৃষিজমি ও জলাশয় থাকলেও তা ধ্বংস হচ্ছে আশঙ্কাজনক হারে। এক যুগ আগেও সাভার, কেরানীগঞ্জ, গাজীপুর, মুন্সিগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ জমি ছিল সবুজে ঢাকা, ছিল নদী ও জলাশয়। এক যুগে নগরায়ণ ও উন্নয়নের নামে এলাকাগুলো ধূসর এলাকায় পরিণত হয়েছে। বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা বা ড্যাপের আওতাভুক্ত এলাকার মধ্যে শুধু গাজীপুর সদরে ৫৪ বর্গকিলোমিটার বনভূমি রয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের মুখে নগরগুলোর পরিবেশ ও খাদ্যনিরাপত্তার প্রস্তুতি জানতে জাতিসংঘের পরিবেশ ও জলবায়ুবিষয়ক সংস্থা ইউএনইপি, ডব্লিউএমও ও আইপিসিসি সমীক্ষাটি পরিচালনা করছে। জাতিসংঘের আন্তসরকার জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত প্যানেলের আসন্ন চতুর্থ মূল্যায়ন প্রতিবেদনের জন্য সমীক্ষা প্রতিবেদনটি তৈরি হচ্ছে।
সমীক্ষার প্রাথমিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ঢাকা মহানগরের ৩৫৩ বর্গকিলোমিটার এলাকার মধ্যে বৃক্ষ আচ্ছাদিত এলাকার পরিমাণ মাত্র ৩৫ বর্গকিলোমিটার, আর জলাভূমির পরিমাণ ৭০ বর্গকিলোমিটার। এর মধ্যে আবার রমনা পার্ক, বোটানিক্যাল গার্ডেন, সংসদ ভবন লেক, ধানমন্ডি, উত্তরা, বনানী, গুলশান লেকসহ মোট ১০টি পার্ক ও লেক মিলিয়ে ২০ কিলোমিটার এলাকা রয়েছে। এক যুগ আগেও ঢাকায় সবুজ এলাকা ছিল প্রায় ৮০ বর্গকিলোমিটার, আর জলাভূমি ছিল ১০০ কিলোমিটারের বেশি।
রাজধানীর বাড্ডা আবাসিক এলাকার স্যাটেলাইট আলোকচিত্র বিশ্লেষণ করে ওই সমীক্ষায় বলা হয়, ২০০৫ সালে বাড্ডায় জলাভূমির পরিমাণ ছিল ৫ দশমিক ৮৬ বর্গকিলোমিটার। ২০১০ সালে তা কমে হয় ৩ দশমিক ৯৫ বর্গকিলোমিটার। ২০১২ সালে নেমে আসে ৩ বর্গকিলোমিটারে।
সমীক্ষাটির নেতৃত্বদানকারী বিসিএএসের নির্বাহী পরিচালক ড. আতিক রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঢাকায় মানুষ বেড়েই চলেছে। এখন জলবায়ু পরিবর্তন নতুন হুমকি হিসেবে এসেছে। এই নগরের খাদ্য, আবাসন ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। শহরকে সুস্থ রাখতে দালানকোঠা, উন্মুক্ত এলাকা, পানি, জলাভূমির এলাকা সুনির্দিষ্ট করে সেগুলোকে রক্ষা করতে হবে।
ঢাকার আশপাশের জেলার চিত্র: ড্যাপের মোট জমির পরিমাণ ধরা হয়েছে এক হাজার ৫২৮ বর্গকিলোমিটার এলাকা। ঢাকা মহানগর এলাকা ছাড়াও সাভার, কেরানীগঞ্জ, গাজীপুর সদর ও কালীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ, সোনারগাঁ, বন্দর ও সদর এলাকাকে ড্যাপের আওতাভুক্ত ধরা হয়েছে। এক যুগ আগেও এই এলাকাগুলোর ৭০ থেকে ৯০ শতাংশ এলাকা ছিল জলাভূমি ও কৃষিজমি।
২০০৮ সালের কৃষিশুমারিতে দেখা গেছে, সাভারে ৬৩ শতাংশ, কেরানীগঞ্জে ৫৭ শতাংশ, কালিগঞ্জে ৯১ ও গাজীপুর সদরে মাত্র ৪১ শতাংশ এলাকায় কৃষিজমি টিকে আছে। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ৭৬, সোনারগাঁয়ে ৬৫, বন্দরে ৭২ ও সদরে ৩৫ শতাংশ কৃষিজমি টিকেছিল। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) যে নতুন উপশহরগুলো স্থাপনের পরিকল্পনা করছে, তা এই এলাকাগুলোর মধ্যে। গত চার বছরে এসব এলাকায় প্রায় ৪০০ বেসরকারি ভূমি উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান জমি ভরাট শুরু করেছে। ফলে ওই এলাকাগুলোতে কৃষিজমির পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে কমেছে।

আইন ভঙ্গকারী পুলিশের কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত


আইন ভঙ্গকারী পুলিশের কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত

রবিবার, ০৩ জুন ২০১২

স্টাফ রিপোর্টার: পুলিশের সামপ্রতিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেছেন, পুলিশ বাহিনীর কাজ আইন রক্ষা করা। কিন্তু তারা যখন আইন ভঙ্গ করে তা কোনভাইে মেনে নেয়া যায় না। আর তাই সাধারণ কেউ আইন ভাঙলে যে শাস্তি হওয়া উচিত, পুলিশের ক্ষেত্রে এর চেয়ে অনেক বেশি শাস্তি হওয়া উচিত। গতকাল রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে আমরা তরুণ: অর্জন, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) ও ইয়ুথ এনগেজমেন্ট অ্যান্ড সাপোর্ট (ইয়েস)-এর দু’দিনব্যাপী জাতীয় সম্মেলন ২০১২-এর শেষ দিনে এ সভার আয়োজন করা হয়। আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেন, দুর্নীতি বন্ধে তরুণ সমাজকেই নেতৃত্ব দিতে হবে।
সম্মেলনে গণতন্ত্র, সুশাসন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন জোরদার করতে সরকার, রাজনৈতিক দল এবং নাগরিক সমাজসহ সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত প্রয়াসের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। এতে ঢাকা ও দেশের ৪৫টি অঞ্চল থেকে দু’হাজারেরও বেশি তরুণ প্রতিনিধি যোগ দেন। দুর্নীতি প্রতিরোধে দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেয়া হয় সম্মেলনের ঘোষণাপত্রে। একই সঙ্গে দুর্নীতির মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে স্বতন্ত্র বিচার বেঞ্চ গঠনের দাবিও জানানো হয়। সম্মেলনে দ্বান্দ্বিক রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে সুষ্ঠু বিচারিক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধের বিচার সম্পন্ন করার জোর দাবি জানানো হয়। বিচার বিভাগের স্বাধীনতার পূর্ণ বাস্তবায়নের দাবি করে মানবাধিকার লঙ্ঘনের সাম্প্রতিক ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর হাতে সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। ন্যায্য, সুশাসিত এবং গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সংলাপের মাধ্যমে সব বিরোধপূর্ণ বিষয়ের সমাধানে রাজনৈতিক ঐকমত্যের ওপর বিশেষ জোর দেয়া হয় সম্মেলনের ঘোষণাপত্রে। পাশাপাশি আদিবাসী, প্রতিবন্ধী ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর মৌলিক অধিকারের সাংবিধানিক স্বীকৃতির দাবিও জানানো হয়। পদ্মা সেতু নির্মাণে বিশ্বব্যাংকের দুর্নীতির অভিযোগ, রেলওয়েতে নিয়োগ সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগ এবং বিভিন্ন সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অর্থ লেনদেনের অভিযোগের স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু তদন্ত জরুরি বলে টিআইবি মনে করে। সুন্দরবনসহ দেশের অন্যান্য সংরক্ষিত বনাঞ্চল, ভূমিসম্পদ এবং তেল-গ্যাসসহ সব প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহারের প্রত্যেক ধাপে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিকল্প নেই বলে টিআইবির ঘোষণাপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
সম্মেলনটিকে টিআইবির ট্রাস্টি বোর্ডের দুই সাবেক চেয়ারপারসন স্যামসন এইচ চৌধুরী এবং অধ্যাপক মোজাফ্‌ফর আহমদের প্রতি উৎসর্গ করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের চেয়ারপারসন ড. হিউগেট ল্যাবেলের শুভেচ্ছা বাণী পাঠ করা হয়। আলোচনায় অংশ নেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সভাপতি অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ, টিআইবির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন এডভোকেট সুলতানা কামাল, মহাসচিব কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন, কোষাধ্যক্ষ দ্যা ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। এডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, স্বধীনতা স্বপ্ন পূরণে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সাহসের সঙ্গে দুর্নীতির মোকাবিলায় তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে। সেলিনা হোসেন তরুণদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত এবং নৈতিক শক্তিতে বলীয়ান হয়ে দুর্নীতি প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
টিআইবির কোষাধ্যক্ষ ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম দুর্নীতিকে ক্যান্সারের সঙ্গে তুলনা করে তরুণদের আরও সংগঠিত হয়ে দেশকে দুর্নীতির হাত থেকে রক্ষার আহ্বান জানান। কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন বলেন, তরুণদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত এবং নৈতিক শক্তিতে বলীয়ান হয়ে দুর্নীতি প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
সভা সঞ্চালক ও টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, তরুণরাই পারে দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে।

বর্তমানে ইউটিলিটি সার্ভিস বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি ইত্যাদির বেশ সঙ্কট চলছে


স্যাটেলাইট সিটি নির্মাণের সুযোগ চাইলেন রিহ্যাব ও বিএলডিএ নেতারা

রবিবার, ০৩ জুন ২০১২

বিশেষ প্রতিনিধি: স্যাটেলাইট সিটি নির্মাণ করার সুযোগ চেয়েছেন রিহ্যাব ও বিএলডিএ নেতারা। রিহ্যাব সভাপতি নসরুল হামিদ বলেছেন, স্যাটেলাইট শহর নির্মাণের ক্ষেত্রে দেশী কোম্পানিকে সুযোগ দিলে দেশের টাকা দেশেই থাকবে। আর বিদেশী কোম্পানিকে দেয়ায় টাকা বিদেশে চলে যাবে। বিএলডিএ সভাপতি বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান বলেন, সাহারা যে টাকা বিনিয়োগ করতে চেয়েছে তার চেয়ে অনেক বেশি টাকা দেশী কোম্পানি বিনিয়োগ করতে পারে। কিন্তু তারা সুযোগ পাচ্ছে না। বিদেশী বিনিয়োগের ক্ষেত্রে দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিলে হবে না। গতকাল সকালে ঢাকার পাঁচতারকা একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত রাজধানী ঢাকার আশপাশে স্যাটেলাইট সিটি নির্মাণে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগের সম্ভাব্যতা শীর্ষক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তারা এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে রিহ্যাব ও বিএলডিএ’র বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও নির্বাহী পরিষদের নেতা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএলডিএ’র সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামাল মহিউদ্দিন, রিহ্যাবের যুগ্ম-সম্পাদক মেজর (অব.) জামশেদ হাসান পিএসসি, রিহ্যাবের ল্যান্ড স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান মো. আকতার বিশ্বাস, এম আনিসুজ্জামান ভূঁইয়া রানা, বিল্ডিং টেকিনোলজি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক এফ আর খান প্রমুখ।
রিহ্যাব সভাপতি নসরুল হামিদ বলেন, বর্তমানে ইউটিলিটি সার্ভিস বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি ইত্যাদির বেশ সঙ্কট চলছে। বিদেশী কোম্পানিকে উপ-শহর করার দায়িত্ব দেয়া হলে যে বিপুল পরিমাণ ইউটিলিটি সার্ভিসের প্রয়োজন হবে তার সংস্থান কেমন করে হবে তা ভাবতে হবে। আমাদের নির্মিত ফ্ল্যাটেই এখন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ পাওয়া যাচ্ছে ধীরে ধীরে। এসব বিষয় পর্যালোচনা ছাড়া স্যাটেলাইট শহর নির্মাণ করার কোন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা উচিত হবে না। অনুষ্ঠানে বিএলডিএ সভাপতি বলেন, সরকার বিদেশী কোম্পানিকে উপ-শহর করার সুযোগ দিচ্ছে। এ সুযোগ আমাদের দিলে আমরা প্রতিযোগিতামূলকভাবে তা তৈরি করতে পারবো। তিনি বলেন, সাহারা গ্রুপ বলেছে, ঢাকায় কংক্রিটের জঙ্গল হয়েছে। ভারতে যে পরিমাণ জমি পাওয়া যায় আমাদের এখানে তা পাওয়া যায় না। এ কারণে স্বল্প জমিতেই প্রকল্প তৈরি করতে হয়। সরকার পরিকল্পনা নিলে পরিকল্পিত নগরায়ন দেশী কোম্পানি দ্বারাই সম্ভব। নসরুল হামিদ বলেন, আমরা বিদেশী বিনিয়োগের বিরোধিতা করছি না। তবে আমাদেরকেও সুযোগ দিতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে তাদের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে একটি প্রস্তাব দেয়া হয়। স্যাটেলাইট সিটি নির্মাণে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগের জন্য তিন দফা প্রস্তাবে রিহ্যাব ও বিএলডিএ বলেছে, এ ধরনের প্রকল্পের স্থান, আয়তন এবং প্রকল্প সম্পাদনের সম্ভাব্য মডেল নিয়ে আবাসন খাতের সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে অবিলম্বে ব্যাপক আলোচনা করা উচিত। দ্বিতীয়ত, ঢাকার আশপাশে স্যাটেলাইট সিটি নির্মাণে একই ভাবে সরকারের সঙ্গে রিহ্যাব ও বিএলডিএ’র সমঝোতা স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেয়া উচিত। তৃতীয়ত, আবাসন খাতে বিদেশী বিনিয়োগ অনুমোদনের আগে স্থানীয় আবাসন ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যৌথ অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে একটি উপযোগী মডেল অনুসন্ধান করা যেতে পারে। তবে সাহারা গ্রুপের বিনিয়োগের ব্যাপারে তারা সরাসরি কোন মত দিতে রাজি হননি।
সাহারা গ্রুপের বিরুদ্ধে ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট আদালত অবমাননার রুল জারি করেছে। অভিযোগ রয়েছে, তারা প্রভাব খাটিয়েছে, আরও নানা ধরনের অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে রয়েছে। এ ধরনের একটি কোম্পানির বিনিয়োগ তারা কেমন করে দেখছেন এবং তাদের সঙ্গে কুলিয়ে উঠতে পারবেন কিনা- এ প্রশ্নের জবাবে রিহ্যাব সভাপতি নসরুল হামিদ বলেন, সাহারা গ্রুপের বিরুদ্ধে ভারতের কোর্টে কি আছে সেটা ওইভাবে আমরা দেখছি না। সেটা ওখানকার ব্যাপার। আমরা এখানে তারা কি করেন দেখবো।
আপনারা স্যাটেলাইট সিটি নির্মাণ করতে চান- এজন্য কি কোন সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিয়েছেন সরকারের কাছে। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, সরকার প্রস্তাব চাইলেই তা দিতে পারবো। আহমেদ আকবর সোবহান বলেন, আমার সঙ্গে প্রতিমন্ত্রীর কথা হয়েছে। তিনি বলেছেন, আপনারা প্রস্তাব দেন, আমরা দেখবো। জমি অধিগ্রহণ করে দেবো।
তিনি বলেন, রাজউক নামের প্রতিষ্ঠানটি নিয়ে আমার প্রশ্ন আছে। কারণ, তারা তাদের এলাকা ছাড়াও ঢাকা শহরের পুরোটাই দেখায় জলাশয়, ডোবা। সেখানে ভরাট করে কাজ করা যাবে না। তাহলে এখন তারাই আবার কেমন করে জমি অধিগ্রহণ করে জলাশয় ভরাট করে স্যাটেলাইট সিটি করতে যাচ্ছে। একই প্রতিষ্ঠানের দুই রকম ভূমিকা কেন হবে।
আহমেদ আকবর সোবহান বলেন, সাহারা গ্রুপ প্রথমে বলেছিল তারা ১০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে। পরে আবার তা বাড়িয়েছে। এক লাখ একর জমিতে যে পরিমাণ টাকা বিনিয়োগ করতে চেয়েছে, এর চেয়ে বেশি টাকা আমরা বিনিয়োগ করতে পারি। দেশের অনেক কোম্পানি তা পারে। তিনি বলেন, ঢাকার আশপাশে বিদেশী কোম্পানি দিয়ে স্যাটেলাইট সিটি না করে বরং নিঝুম দ্বীপে ও চট্টগ্রামের মিরেরসরাইতে লাখ লাখ একর জমি পড়ে আছে। সেখানে যদি স্যাটেলাইট সিটি বানানোর সুযোগ দেয়া হয়, এবং তারা রাজি হয় তাহলে এটা মঙ্গলজনক হবে। ঢাকার আশপাশে হলে আমরাও সুযোগ চাইবো। আমাদেরকেও সুযোগ দিতে হবে।
দেশী কোম্পানির বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ। তারা বেশি দামে জমি ও ফ্ল্যাট বিক্রি করছে। একচেটিয়া বাণিজ্য করছে। এ অবস্থায় বিদেশী কোম্পানির সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে তারা পারবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রতিযোগিতাকে আমরা স্বাগত জানাই। সরকার তাদেরকে এক লাখ একর জমি দিচ্ছে, আমাদের দুই লাখ একর দিক। আমরা পারবো। আমরা জমি কিনে প্রকল্প করবো আর বিদেশী কোম্পানি সরকারের কাছ থেকে জমি পাবে- এটা হবে না। কারণ, জমি অধিগ্রহণ করলে বিঘাপ্রতি দাম পড়ে ১-২ লাখ। আর আমরা কিনলে দাম পড়ে ৫০-৬০ লাখ কিংবা তারও বেশি। এ কারণে সরকার জমি অধিগ্রহণ করলে মিছিল হয়, আমরা করলে হয় না। কারণ, আমরা ন্যায্য দামে কিনে নেই। তিনি বলেন, বিদেশী বিনিয়োগ আসুক, তবে এজন্য প্রস্তুতি দরকার। আর দরকার দেশীয় কোম্পানি ও শিল্পের স্বার্থ সংরক্ষণ করা। রিহ্যাব সভাপতি বলেন, রিয়েল এস্টেট সেক্টরে ৪০ ভাগ বিক্রি কমে গেছে, ৭০ ভাগ বিনিয়োগ বন্ধ হয়ে গেছে। খুব খারাপ অবস্থায় রয়েছে শিল্পখাতটি।

%d bloggers like this: