গণমাধ্যমের রাজনীতি বনাম রাজনীতিতে গণমাধ্যম

গণমাধ্যমের রাজনীতি বনাম রাজনীতিতে গণমাধ্যম    

-রাশেদা রওনক খান

এই মুহুর্তে পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী ও ক্ষমতাধর বিষয়টি কি, এই প্রশ্নের উত্তরে নিশ্চতভাবেই ‘গণমাধ্যম’ এর কথাই বলা যায়। গণমাধ্যম এর ভুমিকাও তাই স্বাভাবিকভাবেই খুব জটিল । জটিল বললাম একারনে যে, ক্ষমতাধর যেকোনো কিছুই খুব স্পর্শকাতর। বিষয়টিকে এটমিক বোমার সাথে তুলনা করলে অনেকেই হয়ত আঁতকে উঠতে পারেন, কিন্তু এটমিক বোমার চেয়ে যে মিডিয়া কোনভাবেই কম শক্তিশালী নয়,তা এতদিনে নিশ্চয়ই আমরা অনেকভাবেই স্পষ্ট হয়ে গেছি।

এর ব্যাপকতা সম্পর্কে তাই আমাদের খুব সচেতন থাকতে হবে, বিশেষত এ কারণে যে আমরা এই এটমিক বোমার মত ভয়ংকর রকমের শক্তিশালী বিষয়টিকে নিয়ে কাজ করছি,অনেকেই তার ব্যাপকতা এবং ক্ষমতা সম্পর্কে খুব ভালোভাবে না জেনেই। গণমাধ্যমের ক্ষমতা কিংবা ব্যাপকতা কতটুকু তা বুঝা যায় যখন আমরা বাংলাদেশের কোনো গহীন গ্রামের কোন এক বাড়িতে বসেই দেখতে পাই আমেরিকার হোয়াইট হাউজে এই মুহূর্তে কোন ফরেন পলিসি নিয়ে চিন্তা-ভাবনা চলছে! কিংবা আফগান-আমেরিকার যুদ্ধ এর উধাহরন টেনেই যদি বলি, দু-দেশের যুদ্ধ আসলে ততটুকই আমাদের চোখে সত্য, যতটুক আমরা সিএনএন-বিবিসি’র পর্দায় দেখেছি, এর বাইরের সত্য আমাদের অগোচরেই রয়ে গেল! এর বাইরে যে পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদ এর কত সত্য চিত্র রয়ে গেল, তা আর আমাদের চোখে ধরা পড়েনা! তাহলে

কি আমরা বলতে পারি, এই উত্তর-আধুনিক বিশ্বে গণমাধ্যম আমাদের যা দেখায়, তাই আমরা দেখি! এর বাইরে যেসব সত্য, তার বেশির ভাগ আড়ালেই থেকে যায়, যদি গণমাধ্যম তা আড়াল করে! অর্থাৎ আমার মূল কথা হল, গণমাধ্যম হল তাই, যার মাধ্যমে আমরা বিশ্ব দেখি, বুঝি কিংবা জানি ! এই বছরের ৯/১১ এ আমেরিকায় প্রকাশিত সকল দৈনিক পত্রিকাগুলোর প্রথম পাতার ছবিগুলো সব একটি বার্তা বহন করছিল, তা হল দল মত ধর্ম জাত শ্রেণী নির্বিশেষে তারা এক এবং অভিন্ন!এবং তা বোঝানোর জন্য তাঁদের কাছে একটি ছবিই যথেষ্ট ছিল,যা আসলে একাত্মতাকেই প্রকাশ করে। ছবিটি ছিল ‘বুশ- ক্লিনটন এবং ওবামা’ একসাথে জনতার সামনে এসে দাঁড়িয়ে রইল সেদিনের নিহতদের প্রতি সন্মান জানাতে। এই তিন ব্যক্তির রাজনৈতিক চিন্তা-ভাবনার মিল অমিল বিচার করলে তিন মেরুর হতে পারে কিন্তু গণমাধ্যমের বদৌলতে তারা সেদিন পৃথিবীর সামনে এক হয়ে গিয়েছিল। অর্থাৎ গণমাধ্যমের ক্ষমতা এতোটাই যে মিথ্যা কিংবা খণ্ডিত সত্যকে পুরো সত্যে রূপান্তরিত করতে পারে খুব সহজেই! অতএব গণমাধ্যমের ব্যাপকতা আসলে কতটা, তা অনুমেয়!

আবার ওয়াল স্ট্রিট কিংবা পল্টনের ময়দান যখন আন্দোলনের ভাষায় উচ্চকিত, তখন সে আন্দলনের প্রতিটি ভাষা আমাদের কানে আসছে প্রতি মুহূর্তে এই গণমাধ্যমের কল্যাণেই। অর্থাৎ যদি বলি, উত্তর-আধুনিক যুগে গণমাধ্যম হচ্ছে গণআন্দোলন, বিষয়টি মোটেই বাড়িয়ে বলা হবেনা। গণমাধ্যম যে ‘গণআন্দোলন’- এই বিষয় টি খুব স্পষ্ট ভাবে আমাদের দু-পক্ষকেই বুঝতে হবে। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও খোদ গণমাধ্যম কর্মীদের !তানাহলে দেশে অরাজকতা তৈরি হবার সমূহ সম্ভাবনা আছে। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের যেমন প্রয়োজন কথা বলার আগে ভেবে-চিন্তে কথা বলা, তেমনি গণমাধ্যম কর্মীদেরও রয়েছে ব্যাপক দায়িত্ব সঠিক তথ্য কিংবা বার্তা প্রচারে। যেমন-প্রফেসর আব্দুল্লাহ আবু সায়িদ এর কথাই ধরা যাক। তিনি দাবি করছেন, সাংসদরা সংসদ এ তার বক্তব্য নিয়ে যা বলেছেন, তিনি মোটেও এই ধরনের কোন বক্তব্য দেননি। তাহলে ব্যাপারটা দাঁড়ালো কি? দাঁড়ালো যা, তাহলো গণমাধ্যমের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হবার পাটাতন তৈরি হয়েছে! অথবা অন্যভাবে বললে রাজনীতিবিদ যারা বিভিন্ন গণমাধ্যম না পড়ে, ক্রসচেক না করেই সংসদ এর মত জায়গায় তা নিয়ে কথা বলে ফেলছেন, তাদের গণমাধ্যম পাঠ করার বিষয়টিও একই ভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে! সামনে আরও সংকটময় পরিস্থিতি তৈরি হবে স্বাভাবিকভাবেই । তাই এখনি আমাদের দুপক্ষকে গণমাধ্যমের ভুমিকা নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে, নয়ত এই ধরনের ভুল বুঝাবুঝি কেবল এই দুইপক্ষকে একে অপরের সাথে কেবল সংঘর্ষই তৈরি করবেনা, পাশাপাশি সাধারন জনগণকেও করবে দ্বিধান্বিত!

গণমাধ্যমের এই ব্যাপকতা আমরা কেবল খবর প্রকাশেই ব্যবহার করছি, এই ক্ষেত্রে আমরা অন্যান্য দেশ হতে পিছিয়েই আছি বলব! কেবল খবর প্রকাশেই গণমাধ্যমের কাজ? এর বাইরের তার রয়েছে অনেক দায়িত্ব, সেইসব দায়িত্ব যেন আমরা এড়িয়ে যাচ্ছি সযতনে! খবর প্রকাশের মধ্য দিয়ে জনগণ কে আলোকিত করা, আন্দোলিত করা,আনন্দ দেয়া, কিংবা দেশ-বিদেশের খবর দেয়া-সবিই গণমাধ্যমেরই দায়িত্ব, এটাই স্বাভাবিক।কিন্তু আমাদের দেশের টিভি চ্যানেল গুলো দেখলে মনে হয় বিজ্ঞাপনের মাঝে মাঝে একটু খবর প্রদান আর খবর ভিত্তিক আলোচনা এবং নাটক দেখানোর মাঝেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে তারা! চরম পুঁজিবাদী কিংবা নিওলিবারালিজম এর যুগে টেলিভিশন এর চিত্র এটা হওয়াটাই স্বাভাবিক ! এই স্বাভাবিকতার চিত্র দেশ-কাল-পাত্র ভেদে কিছুটা ভিন্ন হলেও এই ভিন্নতার মাত্রা খুব বেশি হবার সুযোগ নেই খোদ গণমাধ্যমের নিজ বৈশিষ্টের কারনেই। এর সাথে যুক্ত হয় উত্তর-আধুনিকতার বৈশিষ্টও, যে বৈশিষ্টের কারনে সারাক্ষণ চলে রেপ্লিকা তৈরির প্রতিযোগিতা। এই রেপ্লিকা তৈরির ধারা আমেরিকান আইডল-ইন্ডিয়ান আইডল হয়ে আমাদের দেশের এক-দুইটি চ্যানেলে প্রচার হওয়া পর্যন্ত সহনীয় বলা যেতে পারে, কিন্তু তা যদি দেদারছে দেশের সকল টিভি চ্যানেলগুলো একযোগে এই প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠান প্রচার করে,তাহলে দর্শকের মন পাওয়ার বদলে বিরক্তির কারন হয়ে উঠতে পারে। দেশে যে হারে টিভি চ্যানেল বাড়ছে, সে হারে অনুষ্ঠান এর ধরন-গড়ন- বৈচিত্র বাড়ছে কিনা, সেই প্রশ্ন এখন নিজেদেরকেই ভেবে দেখতে হবে। চ্যানেল গুলোর গুনগত মান না বাড়িয়ে সংখ্যাগত ভাবে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি হুহু করে, তাতে সমস্যাই বাড়বে, সমাধানের পথ উন্মচিত হবেনা। অনেকের সাথে আমি ‘ছোটো একটি দেশে এত চ্যানেল’, এই কথার সাথে একমত নই। ভাল কাজ দেখাতে পারলে সব চ্যানেলই জরুরী এবং জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারে, এই ব্যাপারে আমার কোন সন্দেহ নেই।

গত কয়েক বছর পড়া-লেখার সুবাদে বিদেশে থাকার কারনে সেখানকার চ্যানেল গুলোর বৈশিষ্ট গুলো বোঝার চেষ্টা করেছি। আমেরিকার পঞ্চাশটি স্টেট এর টিভি চ্যানেল প্রত্যেকটি হতে প্রত্যেকটি ভিন্ন। অর্থাৎ স্টেট ভেদে ওদের চ্যানেলও ভিন্ন। এই ভিন্নতার সুর কেবল চ্যানেল এর মালিকানা কিংবা লোগোতেই নয়, এই ভিন্নতা প্রতিটি অনুষ্ঠান এর মাঝেও। নিওলিবারালিজমের চরম রূপ এই মুহূর্তে আমেরিকার চেয়ে বিশ্বে আর কোথাও বেশি নয়, তবে তারা যদি পারে প্রতিটি চ্যানেলে ভিন্নতা আনতে আমরা কেন পারবনা? সেখানে চ্যানেল গুলোর বৈশিষ্টের কথা বলতে গেলে প্রথমেই যেটা বলা যেতে পারে,তাহল রিমোট টিপলে চ্যানেল পরিবর্তনই হয় কেবল তা নয়, পরিবর্তন হয় দেখার এবং জানার বিশ্ব। প্রতিটি চ্যানেলের রয়েছে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য।

এবার দেশে এসে দেখলাম,অনেক নতুন চ্যানেল এসেছে!খুব আগ্রহ নিয়েই বসলাম নতুন-পুরাতন সব চ্যানেল দেখার জন্য। কিন্তু রিমোট টিপলে হাতে গুনা দুয়েকটি ছাড়া, কম-বেশি সব একইরকম, উনিশ আর বিশের যে তফাৎ, সেরকম মনে হল! একেবারেই সতন্ত্র ধারার কিংবা ভিন্নতা নিয়ে চ্যানেল এসেছে কি? ব্যাপারটা এমন যে, সব যেন নিউজ ভিত্তিকই হতে হবে, নয়ত লাইসেন্স বাতিল হয়ে যাবে! কিংবা জাতিকে খবর আর বিজ্ঞাপনের জোয়ারেই ভাসিয়ে দিতে হবে, এর বাইরে আর কোন জগত নেই আমাদের!কে কত বেশি চমকপ্রদ খবর ও তথ্য প্রদান করে, সেই প্রতিযোগিতা যেন চলছে! প্রতিযোগিতা’র বিষয় টি ভাল তখনি, যদি গুণগত পর্যায়ের হয়, পরিমাণগত নয়!

আমার অনেকদিনের স্বপ্ন শিশুদের একটি চ্যানেল থাকবে। দেশে ফিরতে ফিরতে ভাবছিলাম, যাক এতোগুলো চ্যানেল এল,তাহলে নিশ্চয় ছোটদের জন্য একটা চ্যানেল এসেছে! কিন্তু কোথায়? সব যেন রেপ্লিকা তৈরির কারখানা! স্বপ্ন সপ্নই রয়ে গেল,তার আর যেন কোন দেখাই নেই। অথচ বাইরের দেশগুলোতে বাচ্চাদের চ্যানেল এর প্রতি রয়েছে বিশেষ মনোযোগ। সেসব দেশের প্রতিটি নাগরিক বিশ্বাস করে, শেখার বয়স আসলে ওদেরই ,তাই ওরা যেন সঠিক শিক্ষা পায়,তার যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার প্রতিই তাদের সকল মনোযোগ কেন্দ্রীভূত। আমাদের দেশে আমরা মুখে মুখে সারাক্ষণই বলি, শিশুরাই জাতির ভবিষ্যৎ, কিন্তু মনে তা ধারন করিনা। যদি করতাম, তাহলে এতদিনে আমাদের একটা টিভি চ্যানেল থাকতো শুধুমাত্রই শিশুদের জন্য! জাতির এই ভবিষ্যৎ কে গড়ে তোলার দায়িত্ব কাধে নেবার মত কোন ধনবান দায়িত্বশীল উদ্দ্যক্তা নেই আমাদের দেশে,এটা আমি বিশ্বাস করিনা। কেউ যদি ভেবে থাকি, শিশুদের চ্যানেল খুলে কি লাভ? ব্যবসায়িক দিক হতে লোকসানের খাতায় নাম লিখাই এর পরিনতি হবে, তাহলে বলব আমরা বোকার স্বর্গে বাস করছি! শিশুদের মনোজগৎ বোঝে তাদের মত করে টি ভি চ্যানেল এলে বাসায় বড়দের আর অন্য চ্যানেল দেখার সুযোগ মিলবে না,তা আমি হলফ করে বলে দিতে পারি। বাইরের দেশগুলোতে চাকরিজীবী বাবা-মায়ের প্রধান চিন্তার বিষয় ‘বেবি সিটিং’ নিয়ে। আর ‘বেবি সিটিং’ এর কাজটি অনেক্ষেত্রেই সহজ করে দেয় তাদের টিভি চ্যানেলগুলো। আমি আশা করছি, খুব শিগগিরি সমাজের কোন এক বিত্তবান এবং চিত্তের অধিকারি ব্যক্তি বা গোষ্ঠী এগিয়ে আসবে শিশুদের জন্য চ্যানেল প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে। সেই চ্যানেল এ থাকবে শিশুদের মনোজগৎ গড়ে তোলার যাবতীয় উপকরন। সেখানে প্রচারিত হবে পৃথিবীর বিখ্যাত সব ব্যাক্তির জীবন ইতিহাস, দেখানো হবে বিশ্বের অন্যান্য দেশের শিশুদের সাফল্য কাহিনী, আলোচিত হবে পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্কের কথা, তৈরি হবে নিজ দেশের কার্টুন, যার সাথে শিশু তার নিজ সমাজের মিল খুজে পাবে, প্রচার হবে শিশুদের নাটক, যেখানে থাকবে হাস্যরস, থাকবে আনন্দ, থাকবে সামাজিক সচেতনতামুলক বক্তব্য। গণমাধ্যমের যে ব্যাপকতা,তা কাজে লাগানোর একটি উপায় হতে পারে এই ধরনের চ্যানেল। একটি সষিত ,উদার, পরোপকারী, দায়িত্বববোধ সম্পন্ন ভবিষ্যৎ গরে দিতে পারে চ্যানেলটি!

এতো গেল শিশুদের চ্যানেল এর কথা, অন্যান্য আরও অনেক বৈচিত্র্যময় চ্যানেলও হতে পারে, কেন কেবল মাত্র নির্দিষ্ট ছাঁচেবন্ধী কিছু প্রতিযোগিতামুলক অনুষ্ঠান, রাজনৈতিক টক শো এবং খবর ভিত্তিক আলোচনা অনুষ্ঠান এর মাঝেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছে চ্যানেল দেবার সংস্কৃতি! প্রতিদিন নতুন নতুন চ্যানেল এলেইতো হবেনা, চাই নতুনত্ত্ব, সাথে দায়িত্বশীল উপস্থাপন। হতে পারে এমন একটি চ্যানেল, যার কাজ খবর প্রচারের পাশাপাশি কেবল ইতিহাস প্রচার করা। আমেরিকার ইতিহাস কেবল দুইশ বছরের, তা প্রচারের জন্য রয়েছে কয়েকটি চ্যানেল, আর আমাদের ইতিহাসতো হাজার বছরের! এই চ্যানেলটিতে আমাদের অঞ্চলভেদে যে ইতিহাস ছড়িয়ে আছে,তাও তোলে আনতে পারে। বিটিভি আমাদের জাতীয় গনমাধ্যম, কিন্তু সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথে পাঠ্য-পুস্তকের ইতিহাসের পরিবর্তনের মতই বিটিভিতেও এই পরিবর্তন দেখি! ফলে জাতি কোন সঠিক ইতিহাস জানতে পারেনা। এই ইতিহাস পরিবর্তনের রাজনীতি বন্ধ করার পাশাপাশি সঠিক ও নিরপেক্ষ ইতিহাস জাতির সামনে তোলে ধরার মহান দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে কেউ এগিয়ে আসতে পারে একটি ইতিহাসভিত্তিক চ্যানেল চালুর মাধ্যমে। কারন, গণমাধ্যমই পারে সত্যিকারের ইতিহাস তোলে ধরতে আমাদের সামনে।

হতে পারে এমন আরও অনেক বৈচিত্রময় চ্যানেল। কিন্তু সবকথার শেষ কথা হল গণমাধ্যম এর বিশালতা এতটাই ব্যাপক যে, এই ব্যাপকতাকে কাজে লাগাতে হবে। তথ্য বিভ্রাট আমাদের অনেক ক্ষতি করে দিতে পারে,তাই তথ্য প্রচারে আমাদের সর্বচ্চ পরিমান স্বচ্ছতা থাকতে হবে। এই সঠিক ও নিরপেক্ষ সংবাদ প্রচার সম্ভব গণমাধ্যমকর্মীদের দায়িত্বশীল ভুমিকা পালনের মধ্য দিয়ে। কিন্তু সঠিক ও নিরপেক্ষ সংবাদ প্রচার করতে গিয়ে যদি গণমাধ্যমকর্মীরা রাষ্ট্র-যন্ত্র দ্বারা নিষ্পেষিত হয়, তাহলে এই লজ্জা রাষ্ট্রকেই নিতে হবে! গত কয়েক দশকধরে সাংবাদিকদের উপর পুলিশের নির্যাতন বেড়েই চলছে! এই দমন-নিপীড়নের সংস্কৃতি বন্ধ করার দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে। তানাহলে গণমাধ্যমের যে বৈশিষ্ট্য তা হতে সরে আসবে গণমাধ্যম, যা একটি জাতির জন্য উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার বিষয় হয়ে উঠবে।

রাশেদা রওনক খান

সহকারী অধ্যাপক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। ও গণমাধ্যমকর্মী এবং সমালোচক ।
বৃহস্পতিবার, ২৮ জুন ২০১২

Advertisements

তথ্য কণিকা Jahan Hassan জাহান হাসান
Ekush, Publisher/Editor/ Hollywood media hyphenate/ একুশ নিউজ মিডিয়া, লিটল বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস / 1 818 266 7539 / FB: JahanHassan

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: