অর্থমন্দায় যুক্তরাষ্ট্রে কমেছে পারিবারিক সম্পদ

ফেডের প্রতিবেদন : অর্থমন্দায় যুক্তরাষ্ট্রে কমেছে পারিবারিক সম্পদ

অর্থনৈতিক মন্দার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের পারিবারিক সম্পদ প্রায় ৪০ শতাংশ কমেছে। সম্প্রতি দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সিস্টেম (ফেড) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য দেয়া হয়। খবর এএফপির।
প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়, ১৮ বছর আগে দেশটির পারিবারিক সম্পদের হার এ অবস্থায় নেমে এসেছিল।
ফেড জানায়, পারিবারিক সম্পদ কমে যাওয়ার মূল কারণ হচ্ছে বাড়ির দাম কমে যাওয়া। এ ছাড়া শেয়ারবাজার, মিউচুয়াল ফান্ডে প্র্রত্যাশা অনুযায়ী আয় না হওয়ার কারণেও সম্পদ কমেছে। এ অবস্থায় পরিবারগুলোর ঋণের হার বেড়েছে এবং অনেক বয়স্ক নাগরিক এরই মধ্যে অবসর গ্রহণের পরিকল্পনা নিয়েছে।
অর্থনৈতিক এ অবস্থায় দেশটি বিপর্যস্ত হওয়ার কারণে দেশটির পারিবারিক সম্পদ ৩৮ দশমিক ৮ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। ২০০১ সালে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর আয় ১ লাখ ৬ হাজার ১০০ থেকে ২০০৭ সালে তা বেড়ে হয় ১ লাখ ২৬ হাজার ৪০০ ডলার। কিন্তু এর মাত্র তিন বছর পর এ আয় নেমে আসে ৭৭ হাজার ৩০০ ডলারে, যা ১৯৯২ সালের মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর আয়ের সমতুল্য।
ফেডের সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখানো হয়, ২০০৭ থেকে ২০১০ সালে একই সময়ে দেশটির পারিবারিক আয়ের পরিমাণ ৭ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে। অর্থনীতির এ পরিস্থিতিতে ২০০৭-১০ সময়ে তিন বছরে মধ্যবিত্ত পারিবারগুলোর আয় ৪৯ হাজার ৬০০ থেকে কমে ৪৫ হাজার ৮০০ ডলারে নেমে এসেছে। অর্থনৈতিক মন্দার কারণে বিপুলসংখ্যাক কর্মী ছাঁটাই এবং ব্যবসায়িক পরিস্থিতি নাজুক হয়ে পড়ার কারণেই পরিবারের আয় কমেছে।
এদিকে এ তিন বছরে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের ঋণের পরিমাণও বেড়েছে।

এক দশকের মধ্যে তেল উত্তোলনে শীর্ষে যেতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের উত্তোলন ১৪ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ হয়েছে। জানুয়ারি-মার্চ সময়কালে প্রতিদিন গড়ে উত্তোলন হয়েছে ৬০ লাখ ব্যারেল। ইউনাইটেড স্টেটস এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ইআইএ) সূত্রে এ তথ্য জানা যায়। তেল উত্তোলনে এ প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে আগামী দশকের মধ্যেই রাশিয়া ও সৌদি আরবকে ছাড়িয়ে যাবে যুক্তরাষ্ট্র। খবর কমোডিটি অনলাইনের।
তেল উত্তোলকারী দেশগুলোর সংস্থা ওপেকের বাইরে রাশিয়া সর্ববৃহত্ তেল উত্পাদক রাষ্ট্র। দেশটি প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৩৬ কোটি ব্যারেল তেল উত্তোলন করে। ওপেকের মধ্যে সৌদি আরব সর্ববৃহত্ অপরিশোধিত তেল উত্পাদক রাষ্ট্র। গত মার্চে প্রতিদিন গড়ে দেশটিতে উত্পাদন ছিল ৯৯ লাখ ব্যারেল, যা এ দশকের মধ্যে সর্ব্বোচ্চ। ওপেক (অর্গানাইজেশন অব পেট্রোলিয়াম এক্সপোর্টিং কান্ট্রিজ) আন্তদেশীয় সংগঠন ১২টি তেল উত্পাদনকারী দেশ নিয়ে গঠিত। দেশগুলো হলো— আলজেরিয়া, ইকুয়েডর, অ্যাঙ্গোলা, ইরান, ইরাক, কুয়েত, লিবিয়া, নাইজেরিয়া, কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ভেনিজুয়েলা।
তেল উত্তোলনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবৃদ্ধি সম্পর্কে আলাস্কার খনিজ সম্পদ বিভাগের কমিশনার ডেনিয়েল সুলিভান বলেন, ২০০৮ সাল থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ১৬ লাখ ব্যারেল তেল অতিরিক্ত উত্পাদন করছে। ২০১১ সালে ওপেকের বাইরে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে তেল উত্তোলন করে যুক্তরাষ্ট্র।
ইআইএর তথ্য অনুসারে নর্থ ডাকোটা, টেক্সাস ও মেক্সিকো উপসাগরে তেল উত্তোলনের ক্ষেত্রে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। গত মার্চে আলাস্কাকে টপকে নর্থ ডাকোটা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিতীয় প্রধান তেল উত্পাদক রাজ্যের স্থান করে নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বেশি তেল উত্পাদক রাজ্যগুলো হলো— টেক্সাস, নর্থ ডাকোটা, আলাস্কা, ক্যালিফোর্নিয়া ও ওকলাহামা। দেশটিতে উত্পাদিত তেলের প্রায় ৫০ শতাংশেরও বেশি আসে এ রাজ্যগুলো থেকে।

স্বর্ণ আবারও নিরাপদ বিনিয়োগ মাধ্যম হতে পারে: ইউবিএস

ইউরোপের ঋণসংকট ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় শেয়ারবাজার থেকে শুরু করে পণ্যবাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। কোথায় বিনিয়োগ করা নিরাপদ হবে তা নিয়ে বিনিয়োগকারীরা সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন। এক সময় স্বর্ণ বিনিয়োগ নিরাপদ মনে করা হলেও সম্প্রতি এর দামে উত্থান-পতন দেখা যাচ্ছে। তবে জুরিখভিত্তিক ইউনিয়ন ব্যাংক অব সুইজারল্যান্ড বলেছে, স্বর্ণের মধ্যে আবারও নিরাপদ বিনিয়োগ মাধ্যমের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। খবর কমোডিটি অনলাইনের।
ইউবিএসের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিবিষয়ক তথ্যের ওপর স্বর্ণের বাজার ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। দেশটির অর্থনীতিতে দুর্বলতা প্রকাশ পেলে মনে করা হয় স্বর্ণের বাজার ঊর্ধ্বমুখী হবে। ইউবিএসের মূল্যবান ধাতুবিষয়ক বিশ্লেষক এডেল টালি বলেন, ইউরোপের অর্থনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা বেশি থাকায়, স্বর্ণের ওপর অনেকে বাজি ধরছেন। নিরাপদ বিনিয়োগ মাধ্যম হিসেবে স্বর্ণের মর্যাদা আবারও ফিরে আসবে।
সম্প্রতি অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে ইউরোপের অনেক দেশ সুদের হার কমাচ্ছে। এ ছাড়া জার্মান বন্ডের প্রতিও আস্থা কমছে। এ সম্পর্কে টালি বলেন, নিরাপদ বিনিয়োগ মাধ্যম হিসেবে জার্মান বন্ড বাজার হারাচ্ছে কি না, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। যদি তা সত্যি হয়, তবে বিনিয়োগকারীরা বিকল্প খুঁজতে শুরু করবে। তবে তাদের হাতে বিকল্প খুব কম রয়েছে। এ ক্ষেত্রে তাদের পছন্দের শীর্ষে থাকবে স্বর্ণ।

 


 

Advertisements

তথ্য কণিকা Jahan Hassan জাহান হাসান
Ekush, Publisher/Editor/ Hollywood media hyphenate/ একুশ নিউজ মিডিয়া, লিটল বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস / 1 818 266 7539 / FB: JahanHassan

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: