২৫টি অনুমোদনহীন প্রকল্পের প্লট বেচাবিক্রি বন্ধ

অনুমোদনহীন ২৫টি কোম্পানির প্লট বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে রাজউক
ইউএস বাংলা গ্র”পের এনআরবি ডিজিটাল পার্ক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে!!

যুগান্তর রিপোর্ট

রিহ্যাবের আবাসন মেলায় এবারও অবৈধ প্রকল্পের ছড়াছড়ি দেখা গেছে। প্রশাসনের নাকের ডগায় স্টলে স্টলে জাঁকজমক প্রচারণার মাধ্যমে বীরদর্পে প্রদর্শন করা হচ্ছে অনুমোদনহীন এসব অবৈধ প্রকল্প। ক্রেতাদের প্রতারণার জালে ফেলতে চলছে স্টলকর্মীদের নানা কৌশল। নামকরা প্রতিষ্ঠানগুলোও প্রতারণার আশ্রয় নিচ্ছে। সামার ফেয়ারে অবৈধ প্রকল্প স্থান পাবে না বলে রিহ্যাব নেতৃবৃন্দ ঘোষণা দিলেও কার্যত তার কোন বাস্তবায়ন দেখা যায়নি। তবে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজউকের পরিচালকের (প্ল্যানিং) নেতৃত্বে একজন ম্যাজিস্ট্রেটসহ একটি পরিদর্শন দল মেলার ২৫টি অনুমোদনহীন প্রকল্পের প্লট বেচাবিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে। তারা মেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করে প্রথমে অবৈধ ও অনুমতিবিহীন কোম্পানির স্টলগুলো চিহ্নিত করে এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে। পরিচালক সিরাজুল ইসলাম ও ম্যাজিস্ট্রেট শহীদুল ইসলাম ভুঁইয়াসহ কর্মকর্তারা এসব অবৈধ কোম্পানির স্টলগুলোকে কঠোর ভাষায় সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, অবৈধ ও অনুমোদনহীন কোন প্রকল্পের প্লট বিক্রি করা হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে তারা রিহ্যাব কর্তৃপক্ষকেও লিখিতভাবে জানিয়েছে এসব অবৈধ কোম্পানির প্রকল্পের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য।

বৃহস্পতিবার সকালে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে বেলা ২টার দিকে শেরেবাংলা নগরের বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে রিহ্যাবের এ আবাসন মেলা সবার জন্য উš§ুক্ত করা হয়। এতে ১৬১টি হাউজিং প্রতিষ্ঠান ও পাঁচটি বিল্ডিং মেটেরিয়াল প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। হাউজিং কোম্পানিগুলোর মধ্যে বেশির ভাগ কোম্পানি অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্প নিয়ে এসেছে। বাকিগুলো এসেছে ভূমি প্রকল্প নিয়ে। দেখা গেছে, অন্তত ২০টি কোম্পানির ভূমি প্রকল্পের রাজউকের কোন অনুমোদন নেই। এগুলোর মধ্যে রয়েছে ইভাইট প্রপার্টিজ লিমিটেডের ইনভাইট ইউকে গার্ডেন, কপোতাক্ষ গ্রিন সিটি লিমিটেডের কপোতাক্ষ গ্রিন সিটি, এনশিউর ল্যান্ডমার্ক লিমিটেডের এনশিউর লেক সিটি, হীরাঝিল প্রপার্টি ডেভেলপমেন্ট (প্রা.) লিমিটেডের বসুমতি, প্রবাসী পল্লী গ্র”পের পূর্বাচল শাহপরান সিটি ও পূর্বাচল প্রবাসী পল্লী, তাজমহল আবাসন লিমিটেডের তাজমহল ডিজিটাল সিটি, ভিশন-২১ ডিজাইন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের পদ্মা ফিউচার পার্ক, আমিন মোহাম্মদ ফাউন্ডেশনের আমিন মোহাম্মদ সিটি, বসুন্ধরা গ্র”পের বসুন্ধরা রিভারভিউ ও বসুন্ধরা রিভারভিউ দখিনা, সবুজছায়া আবাসন লিমিটেডের সবুজছায়া রিভার সিটি, নিউ ঢাকা এলায়েন্সের নিউ ঢাকা সিটি, ফেয়ারডিল প্রপার্টিজ লিমিটেডের পূর্বাচল এনআরবি, ইউএস বাংলা গ্র”পের এনআরবি ডিজিটাল পার্ক, ইস্ট আমেরিকান সিটি ও পূর্বাচল আমেরিকান সিটি, উদয়ন পূর্বাচল সিটি, আশিয়ান হোমস লিমিটেডের আশিয়ান শীতলছায়া ও আশিয়ান সিটি, রিজেন্ট হোল্ডিংস ডেভেলমেন্ট লিমিটেডের পূর্বাচল রিজেন্ট টাউন, বসুকুঞ্জ ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের বসুকুঞ্জ প্রভৃতি।

সরেজমিন মেলা ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ স্টলে প্রকাশ্যেই ভূমি প্রকল্পের প্রতি ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। কোন কোন স্টলে আবার অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্প সামনে রেখে ভূমি প্রকল্পকে আড়াল রাখা হচ্ছে। তবে দর্শক ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি দেখলে ভূমি প্রকল্প প্রদর্শন করা হয়। এর ফলে ক্রেতাদের মধ্যে বিভ্রান্তিরও সৃষ্টি হচ্ছে। উদয়ন সিটি প্রকল্পের স্টলে গিয়ে মিরপুরের লোকমান হোসেন প্লট সম্পর্কে জানতে চাইলে স্টলকর্মীরা ব্যাপক আগ্রহ নিয়ে এগিয়ে আসেন। তারা লোকমানকে উদয়ন প্রকল্পের ভালো দিকগুলো বোঝানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে লোকমান উদয়ন প্রকল্পের অনুমোদন আছে কিনা জানতে চাইলে স্টলকর্মীরা বলেন, উদয়ন প্রকল্পটি রাজউকের ড্যাপের বাইরেÑ রূপগঞ্জের ভুলতা এলাকায়। এ কারণে রাজউকের অনুমোদন দরকার পড়ে না। তাই স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেয়া হয়েছে। লোকমান বলেন, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ আবাসন প্রকল্প তথা নগর পরিকল্পনা সম্পর্কে কি জানে? তারা অনুমোদন দেয়ার কে? একথা শুনে উদয়ন স্টলের কর্মীরা কোন সদুত্তর দিতে পারেনি। অন্যদিকে এনশিউর লেক সিটি প্রকল্পের স্টলে গিয়ে এ প্রতিবেদক প্রকল্পটির অনুমোদন সম্পর্কে জানতে চাইলে স্টলকর্মীরা কোন সদুত্তর দিতে পারেননি। তবে তারা বলেন, প্রকল্পের অনুমোদনের জন্য রাজউকে আবেদন করা হয়েছে।

গত বছর মুন্সীগঞ্জের আড়িয়ল বিল এলাকার মানুষের প্রতিবাদের মুখে সরকার সেখানে বিমানবন্দর নির্মাণ পরিকল্পনা বাদ দেয়। কিন্তু ওই আড়িয়ল বিল এলাকা খালি পড়ে থাকেনি। আবাসন মেলায় আসা মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরের বাসিন্দা বিল্লাল আহমেদ বলেন, হাউজিং কোম্পানিগুলো আড়িয়ল বিল গ্রাস করে ফেলেছে। আমিন মোহাম্মদ গ্র”পের আমিন মোহাম্মদ সিটি আড়িয়ল বিলেই নির্মিত হচ্ছে।

সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের হল অব ফেমে মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বিশেষ অতিথি ছিলেন সরকারদলীয় সংসদ সদস্য প্রকৌশলী এনামুল হক এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. খোন্দকার শওকত হোসেন। রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সুলতানা শাহেদা ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন রিহ্যাব সাধারণ সম্পাদক মুরাদ ইকবাল চৌধুরী ও রবিউল হক।

যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, বিদেশী বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মতামত নেয়া উচিত ছিল। এছাড়া আবাসন খাতে বিদেশী বিনিয়োগ প্রয়োজন আছে কিনা সেটাও নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে ঠিক করা উচিত। পূর্ত সচিবের উদ্দেশে তিনি বলেন, দেশীয় আবাসন ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নিন। কেননা ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা ছাড়া কোন পরিকল্পনা সফল হবে না। তিনি বলেন, পৃথিবীর সবচেয়ে অপরিকল্পিত, নোংরা ও অপরিচ্ছন্ন শহরগুলোর মধ্যে ঢাকার অবস্থান দ্বিতীয়। এ শহরকে বসবাসযোগ্য রাখার দায়িত্ব আমাদের সবার। তিনি বলেন, ব্যাঙের ছাতার মতো আবাসন গড়ে উঠছে। পরিকল্পিতভাবে নগরায়ন করতে হবে। খেলার মাঠ ও জলাশয় হারিয়ে যাচ্ছে। এগুলো সংরক্ষণ করতে হবে।

পূর্ত সচিব ড. খন্দকার শওকত হোসেন বলেন, সাহারা ইন্ডিয়া পরিবারের সঙ্গে সমঝোতা স্বাক্ষরের সময় অন্তত ৫০ জন সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন। অথচ কেউ কেউ বলেন, এটা নাকি গোপনে হয়েছে। সরকার কিছুই গোপন করেনি। নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব আবাসন গড়তে সরকার সার্বিক সহযোগিতা করবে বলে আবাসন ব্যবসায়ীদের আশ্বাস দেন তিনি। রিহ্যাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সুলতানা শাহেদা ইসলাম বলেন, সাহারার চেয়ে বেশি টাকা বিনিয়োগ করার ক্ষমতা রিহ্যাব সদস্যদের রয়েছে।

আবাসন মেলা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে এবং রোববার মেলা শেষ হবে।

জানা গেছে, মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রিহ্যাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাজউককে মেলা পরিদর্শনের আহ্বান জানানোর কথা বললেও গতকাল বিকাল পর্যন্ত মেলা প্রাঙ্গণে রাজউকের কোন তৎপরতা দেখা যায়নি। তবে রাজউকের এক কর্মকর্তা বলেন, যে কোন সময় তারা মেলা পরিদর্শনে যাবেন এবং ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত উইন্টার ফেয়ারের মতো এবারও অবৈধ আবাসন প্রকল্পের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন। তিনি জানান, এবারের মেলায় রাজউকের জন্য পৃথক কোন স্টল রাখা হয়নি।

প্রসঙ্গত ডিসেম্বরের মেলায় রাজউক তিনদিন অভিযান চালিয়ে প্রায় অর্ধশত অবৈধ প্রকল্পের সন্ধান পায় এবং এ ব্যাপারে শেরেবাংলা নগর থানায় সাধারণ ডায়েরি করে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শাও নোটিশ জারি করে। কিন্তু এর বেশি কিছু আর করতে পারেনি রাজউক।

তথ্য কণিকা Jahan Hassan জাহান হাসান
Ekush, Publisher/Editor/ Hollywood media hyphenate/ একুশ নিউজ মিডিয়া, লিটল বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস / 1 818 266 7539 / FB: JahanHassan

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: