মানবাধিকার পরিস্থিতির তীব্র সমালোচনা

বাংলাদেশকে ঘিরে বিশ্ব সংস্থা ও মিডিয়ায় একের পর এক রিপোর্ট

মানবাধিকার পরিস্থিতির তীব্র সমালোচনা

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক : বাংলাদেশের বর্তমান মহাজোট সরকাররের কর্মকা- ও ভুমিকা নিয়ে বিশ্বের প্রভাবশালী মানবাধিকার সংস্থাসমূহ ও শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমগুলোতে একের পর এক রিপোর্ট প্রকাশিত হচ্ছে। এর ফলে বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের ভাবমর্যাদা বিপুলভাবে ক্ষুণœ হলেও তার পরিশোধনে সরকারের কোন মাথাব্যথা নেই বলে অভিযোগ উঠেছে পর্যবেক্ষক মহলে।

বাংলাদেশের মানবাধিকার, বিচারব্যবস্থা, আইন-শৃঙ্খলা, রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রভৃতি বিষয়ে সাম্প্রতিক সময়ে এসব রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়াও প্রভাবশালী দেশের পার্লামেন্ট ও ফোরামেও সরকারের বিভিন্ন কার্যকলাপের কঠোর সমালোচনা করা হয়েছে। তবে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের কোন কোনটি অস্বীকার করা হয়েছে। গত সপ্তাহে সর্বাধিক আলোচিত রিপোর্ট ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ সম্পর্কিত ‘মানবাধিকার রিপোর্ট, এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের রিপোর্ট, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ-এর বিবৃতি, বৃটিশ পার্লামেন্টের বক্তব্য, প্রভাবশালী পত্রিকা ইকোনমিস্ট ও দি হিন্দুর প্রতিবেদন, বিবিসি ও আল-জাজিরার রিপোর্ট প্রভৃতি। গত ২৪ মে প্রকাশিত হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ সম্পর্কিত ‘মানবাধিকার রিপোর্ট। এতে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির তীব্র সমালোচনা করে যুক্তরাষ্ট্র। এতে বলা হয়েছে, নিখোঁজ, নিরাপত্তা হেফাজতে মৃত্যু, খেয়ালখুশিমতো গ্রেফতার ও আটক রাখার জন্য দায়ী নিরাপত্তা বাহিনী। তারা মানবাধিকারের বড় সমস্যা। বিচার বিভাগকে অতিমাত্রায় রাজনীতিকরণ করা হয়েছে।

এতে সমস্যা বেড়েছে। বিরোধী দলের সদস্যদের ন্যায় বিচার পাওয়ার পথকে সঙ্কুচিত করা হয়েছে। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে সীমিত করেছে সরকার। নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা সাংবাদিকদের হয়রানি করছে। ২০১১ সালের ওপর করা এই রিপোর্টে বাংলাদেশ চ্যাপ্টারে বলা হয়েছে, সরকার সমাবেশ করার স্বাধীনতাকে খর্ব করেছে। এছাড়া রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপূর্ণ সহিংসতা সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। সরকারি পর্যায়ে দুর্নীতি মারাত্মক এক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে মোটা দাগে বক্তব্য দেয়া হয়েছে রিপোর্টে। সরকারি কার্যক্রমের অনিয়ম-দুর্নীতি বিষয়ে বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে দুর্নীতিবিরোধী আইন ও বিধিবিধান থাকলেও সরকার তার যথাযথ প্রয়োগ করে না। সরকারি কর্মকর্তাদের অনেকেই দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। এখানে দুর্নীতি করলেও শান্তি হয় না। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-টিআইবি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)কে ‘দন্তহীন বাঘ আখ্যা দিয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ‘২০০৯ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার আগে শাসক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির যেসব মামলা হয়েছিল কোন আইন কানুনের তোয়াক্কা না করে নির্বাহী আদেশের বলে তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। অথচ খালেদা জিয়া কিংবা বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা খুব কম মামলাই প্রত্যাহার করা হয়েছে।

এসময়ের আরেকটি চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। তারা অভিযোগ করে, বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধের বিচারে গঠিত আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল পুরোপুরি আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করছে না। এ্যামনেস্টি ২০১১ সালের বিশ্বের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে তাদের বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে গত ২৪ মে। সেখানে বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে গঠিত ট্রাইব্যুনাল নিয়ে একটি অধ্যায় রয়েছে। এতে বলা হয়েছে, শুরুতে এই বিচার প্রক্রিয়ায় অনেক ত্রুটি ছিল, তার কিছু কিছু সংশোধন করা হলেও এখনও অনেক সমস্যা রয়ে গেছে এবং এই ট্রাইব্যুনাল পুরোপুরি আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করতে পারছে না।  প্রতিবেদনটির ‘বাংলাদেশ অধ্যায় নিয়ে এ্যামনেস্টির বাংলাদেশ গবেষক আববাস ফয়েজ বলেন, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এখনো আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত হতে পারেনি বলেই তারা মনে করেন। তারা আরো বলেন, ট্রাইব্যুনালে আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে হলে এজন্যে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশাপাশি যাদের বিচার করা হচ্ছে, তাদের মানবাধিকার ও ন্যায় বিচারের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে। যাদের বিচার চলছে তারা যাতে আত্মপক্ষ সমর্থন করতে পারেন বা তারা যেন নির্যাতনের শিকার না হন, সেটি নিশ্চিত করাও জরুরি। ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তকে সে দেশের অন্য কোন আদালতে চ্যালেঞ্জ করা যাবে না, এটি মানবাধিকারের জন্য একটি বড় সমস্যা বলে তিনি অভিহিত করেন। এতে বিচার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখার এবং অভিযুক্তদের জামিন পাওয়ার অধিকারের বিষয়টিও তোলা হয়। আরো উল্লেখ করা হয়, এখানে এমন কিছু বিষয় রয়েছে যা আসলে ঠিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের সাথে খাপ খায় না। বলা হয়, ‘আমরা কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি যে এসব ক্ষেত্রে আমরা মোটেই সন্তুষ্ট নই। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচার প্রক্রিয়া এ্যামনেস্টি সতর্কতার সাথে পর্যবেক্ষণ করছে বলেও জানানো হয়।

এর আগে গত ২৭ এপ্রিল মানবাধিকার সংস্থা এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এক বিবৃতিতে বলে, তারা বাংলাদেশে মানুষ ‘গুম হওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করছে। তারা সিলেটের দুজন ছাত্রদল নেতা, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রশিবিরের দুজন নেতা, ট্রেড ইউনিয়ন নেতা আমিনুল ইসলাম এবং বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করে। তাদের অনুসন্ধান শেষে দেয়া বিবৃতিতে বলা হয়, ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছে, গুম হওয়া ব্যক্তিদের অধিকাংশের ক্ষেত্রেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাদা পোশাকধারী সদস্যরা তুলে নিয়ে গেছে। তাদের পায়ে বুট পরা থাকায় ধারণা করা হয় তারা সবাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য। আর তাদের চুলও ছোট করে ছাঁটা। ইলিয়াস আলীর গুম হওয়ার পর পুলিশকে তদন্ত করতে বলার পর আবার একে ‘নাটক বলে মন্তব্য করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কড়া সমালোচনা করে এ্যামনেস্টি।

প্রায় একই সময়ে যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী পত্রিকা দি ইকোনমিস্ট প্রকাশ করে তাদের একটি মন্তব্য প্রতিবেদনে। এতে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের কঠোর সমালোচনা করা হয়। এতে সরাসরি বলা হয়, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে বিপজ্জনক পথে নিয়ে যাচ্ছেন। গত ২৫ মে পত্রিকাটির অনলাইন সংস্করণে রাজনৈতিক উত্তেজনা, দুর্নীতি, খুন, অপহরণ ইত্যাদি বিষয় তুলে দুটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। একটির শিরোনাম ছিল ‘বাংলাদেশস টক্সিক পলিটিকস : ইট ইজ আপ টু ইন্ডিয়া টু ট্রাই টু স্টপ শেখ হাসিনা রুইনিং বাংলাদেশ। অপরটির শিরোনাম ছিল ‘পলিটিকস ইন বাংলাদেশ : দ্য প্রাইম মিনিস্টার সেটস দ্য কান্ট্রি অন এ ডেঞ্জারাস পাথ। এই প্রতিবেদনে গুরুত্ব দিয়ে বলা হয়, ‘পরবর্তী নির্বাচন কার তত্ত¦াবধানে হবে এবং তা আসলেই নিরপেক্ষ হবে কি না তা নিয়ে পরস্পর বিরোধী অবস্থান দেখা যাচ্ছে। এটা ইতোমধ্যে এত তীব্র হয়ে উঠেছে যে, অনেক পর্যবেক্ষক প্রতিদ্বনিদ্বতামূলক কোনো নির্বাচন আদৌ হবে কি না তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। বাংলাদেশীরা ইতোমধ্যে খাদ্য ও জ্বালানির মূল্য, মারাত্মক লোডশেডিং এবং নতুন নতুন সড়ক নির্মাণের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন। ইকোনমিস্ট আরো বলে, সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশে বেশ  কয়েকটি রহস্যজনক হত্যাকান্ড ঘটেছে। এক সৌদী কূটনীতিক গুলীতে নিহত হয়েছেন, এক ট্রেড ইউনিয়ন কর্মী নির্যাতিত ও খুন হয়েছেন, দুর্নীতির অনুসন্ধান করার পর এক সাংবাদিক দম্পতিকে হত্যা করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ কঠোর করতে জানুয়ারিতে অভ্যূত্থানের গুজব ছড়ানো হয়। আরো বলা হয়, বাংলাদেশের অন্যতম সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব গ্রামীণ ব্যাংকের মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তা করা হয়েছে। শেখ হাসিনা তাকে রাজনৈতিক হুমকি মনে করেন। সরকার গ্রামীণ ব্যাংককে কব্জা করতে চাচ্ছে বলেও উল্লেখ করা হয়। সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলা হয়, দুর্নীতি এতো ব্যাপক যে, তা দাতাদেরও উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জাপান তার উপ-প্রধানমন্ত্রীকে পাঠিয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি ব্যক্ত করেছে। সাম্প্রতিক এক দুর্নীতির ঘটনায় রেলমন্ত্রীর সহকারীর গাড়ি থেকে বস্তাভর্তি টাকা পাওয়ার পরে তিনি পদত্যাগ করেছিলেন। কিন্তু অল্প পরেই তাকে মন্ত্রিসভায় পুনর্বহাল করা হয়। ইকোনমিস্ট আরো উল্লেখ করে, ‘১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধ আধুনিক ইতিহাসের মধ্যকার রক্ত¯œাত যুদ্ধগুলোর অন্যতম। কিন্তু অভিযুক্তদের বিচার করতে গঠিত ট্রাইব্যুনালের সম্ভাব্য রায়ের উদ্দেশ্য এখন প্রতীয়মান হচ্ছে, বিএনপি ও তার ইসলামী মিত্রদের হেয় প্রতিপন্ন করা।

বাংলাদেশের স্পর্শকাতর বিষয়গুলো নিয়ে বৃটেনের পার্লামেন্টেও আলোচনা হয়েছে গত ২১ মে। সেখানকার একটি সংবাদপত্র জানায়, বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস আলীসহ সব গুমের স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছে বৃটেন। বৃটেন পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ হাউজ অব লর্ডসে লেবার পার্টির সদস্য লর্ড হ্যারিসের এক প্রশ্নের জবাবে দেশটির স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র এবং কমনওয়েলথ মন্ত্রী লর্ড হাওয়েল এ কথা বলেন। লর্ড হাওয়েল বলেন, ‘দেশটির জনগণের দারিদ্র্য নিরসন ও জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আগামী সংসদ নির্বাচন নিশ্চিত করতে এবং তা যথাসময়ে অনুষ্ঠানের ব্যাপারে রাজনীতিকে স্থিতিশীল করতে বাংলাদেশের চেষ্টাকে আমরা সমর্থন দিয়ে আসছি। তাই আমাদের কর্মকর্তারা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অফিস ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। এই বৈঠকে যেকোনো মূল্যে ইলিয়াস আলীসহ গুম হওয়া সব মানুষকে খুঁজে বের করতে সরকারকে আহবান জানানো হয়। বৃটেন বিশ্বাস করে বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক অন্ধকারাচ্ছন্ন অবস্থা অচিরেই কেটে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। এছাড়া গত ফেব্রুয়ারিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান বাংলাদেশ সফরকালে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে সরকারকে তাদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

এদিকে বাংলাদেশের বিরোধী রাজনৈতিক নেতা এবং কর্মীদের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা অবিলম্বে নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানায় যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। ২৭ এপ্রিল এই সংস্থার বিবৃতি প্রচার করে বিবিসি। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এই বিবৃতিতে বলে, বাংলাদেশে বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা বাড়ছে এবং এ ধরণের সর্বশেষ ঘটনায় গত ১৭ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ রয়েছেন বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী। বিবৃতিতে বাংলাদেশের একজন গার্মেন্টস শ্রমিক নেতা আমিনুল ইসলামকে অপহরণ এবং কয়েকদিন পর তাকে হত্যার ঘটনাও উল্লেখ করা হয়। বলা হয়, বাংলাদেশের মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র কেবল চলতি বছরেই এভাবে ২২ জন মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন বলে তাদের এক রিপোর্টে জানিয়েছিল। অন্যদিকে অধিকার নামের আরেকটি মানবাধিকার সংস্থার হিসেবে ২০১০ সাল থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৫০ জন মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন। বিবিসি গত সপ্তাহে বাংলাদেশে গুম-নিখোঁজের ওপর একটি সচিত্র প্রতিবেদনও সম্প্রচার করে।

এছাড়া প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক টিভি চ্যানেল আল জাজিরা ‘বাংলাদেশ রাজনৈতিক গুমের মহামারীতে আক্রান্ত শীর্ষক এক প্রতিবেদন প্রচার করে। এতে বলা হয়, বিগত এক বছরে বাংলাদেশে প্রায় ১০০ মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন। তাদের বেশিরভাগই রাজনৈতিক নেতাকর্মী। এর আগে ১০ আগস্ট ২০১১ এবং এ বছর ১৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সম্পর্কে দুটি প্রতিবেদন আল জাজিরা টিভিতে প্রচারিত হয়। শেষ প্রতিবেদনের একাংশে বলা হয়, ‘বাংলাদেশের সাবেক রাজনীতিবিদ গোলাম আযম ৪০ বছরেরও বেশি সময় আগে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে বিচারের মুখোমুখি। ৮৯ বছর বয়সী গোলাম আযম হাঁটতে পারেন না, দেখতে পান না, এমনকি শুনতেও পান না। তা সত্তে¦ও ১০ জন সশস্ত্র পুলিশ কর্মকর্তা সার্বক্ষণিক তাঁকে পাহারা দিচ্ছেন।

এদিকে ভারতের প্রভাবশালী দৈনিক ‘দ্য হিন্দুর অনলাইন সংস্করণে ‘ডিসঅ্যাপেয়ারেন্সেস, কিলিংস ট্রিগার কনসার্ন ইন বাংলাদেশ শীর্ষক রিপোর্টে সম্প্রতি বলা হয়, গুমের ঘটনা ও রহস্যময় হত্যার ঘটনা সম্প্রতি বাংলাদেশে ব্যাপক আকারে বেড়ে গেছে। এর ফলে বাংলাদেশে আতঙ্ক ও রাজনীতিতে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এ রিপোর্টে আরো বলা হয়, ক্রমবর্ধমান গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ডে এরই মধ্যে উচ্চ আদালত গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। মানবাধিকার গ্রুপগুলো দাবি করছে, ২০১০ সালের জানুয়ারি থেকে শতাধিক মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন। তাদের মধ্যে ২১ জনকে মৃত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে গত সপ্তাহে ঢাকায় গাড়িচালকসহ সাবেক এমপি ও বিরোধী দল বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলীর রহস্যময় নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় আতঙ্ক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা বেড়ে গেছে। রিপোর্টে আরও বলা হয়, ২০১০ সালের জুলাই মাসে বিএনপির আরেক নেতা চৌধুরী আলম কোথায় আছেন সে ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে পুলিশ কর্মকর্তা ও র‌্যাবকে নিন্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট। বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন আদালত।

Advertisements

তথ্য কণিকা Jahan Hassan জাহান হাসান
Ekush, Publisher/Editor/ Hollywood media hyphenate/ একুশ নিউজ মিডিয়া, লিটল বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস / 1 818 266 7539 / FB: JahanHassan

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: