বর্তমানে ইউটিলিটি সার্ভিস বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি ইত্যাদির বেশ সঙ্কট চলছে

স্যাটেলাইট সিটি নির্মাণের সুযোগ চাইলেন রিহ্যাব ও বিএলডিএ নেতারা

রবিবার, ০৩ জুন ২০১২

বিশেষ প্রতিনিধি: স্যাটেলাইট সিটি নির্মাণ করার সুযোগ চেয়েছেন রিহ্যাব ও বিএলডিএ নেতারা। রিহ্যাব সভাপতি নসরুল হামিদ বলেছেন, স্যাটেলাইট শহর নির্মাণের ক্ষেত্রে দেশী কোম্পানিকে সুযোগ দিলে দেশের টাকা দেশেই থাকবে। আর বিদেশী কোম্পানিকে দেয়ায় টাকা বিদেশে চলে যাবে। বিএলডিএ সভাপতি বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান বলেন, সাহারা যে টাকা বিনিয়োগ করতে চেয়েছে তার চেয়ে অনেক বেশি টাকা দেশী কোম্পানি বিনিয়োগ করতে পারে। কিন্তু তারা সুযোগ পাচ্ছে না। বিদেশী বিনিয়োগের ক্ষেত্রে দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিলে হবে না। গতকাল সকালে ঢাকার পাঁচতারকা একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত রাজধানী ঢাকার আশপাশে স্যাটেলাইট সিটি নির্মাণে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগের সম্ভাব্যতা শীর্ষক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তারা এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে রিহ্যাব ও বিএলডিএ’র বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও নির্বাহী পরিষদের নেতা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএলডিএ’র সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামাল মহিউদ্দিন, রিহ্যাবের যুগ্ম-সম্পাদক মেজর (অব.) জামশেদ হাসান পিএসসি, রিহ্যাবের ল্যান্ড স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান মো. আকতার বিশ্বাস, এম আনিসুজ্জামান ভূঁইয়া রানা, বিল্ডিং টেকিনোলজি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক এফ আর খান প্রমুখ।
রিহ্যাব সভাপতি নসরুল হামিদ বলেন, বর্তমানে ইউটিলিটি সার্ভিস বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি ইত্যাদির বেশ সঙ্কট চলছে। বিদেশী কোম্পানিকে উপ-শহর করার দায়িত্ব দেয়া হলে যে বিপুল পরিমাণ ইউটিলিটি সার্ভিসের প্রয়োজন হবে তার সংস্থান কেমন করে হবে তা ভাবতে হবে। আমাদের নির্মিত ফ্ল্যাটেই এখন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ পাওয়া যাচ্ছে ধীরে ধীরে। এসব বিষয় পর্যালোচনা ছাড়া স্যাটেলাইট শহর নির্মাণ করার কোন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা উচিত হবে না। অনুষ্ঠানে বিএলডিএ সভাপতি বলেন, সরকার বিদেশী কোম্পানিকে উপ-শহর করার সুযোগ দিচ্ছে। এ সুযোগ আমাদের দিলে আমরা প্রতিযোগিতামূলকভাবে তা তৈরি করতে পারবো। তিনি বলেন, সাহারা গ্রুপ বলেছে, ঢাকায় কংক্রিটের জঙ্গল হয়েছে। ভারতে যে পরিমাণ জমি পাওয়া যায় আমাদের এখানে তা পাওয়া যায় না। এ কারণে স্বল্প জমিতেই প্রকল্প তৈরি করতে হয়। সরকার পরিকল্পনা নিলে পরিকল্পিত নগরায়ন দেশী কোম্পানি দ্বারাই সম্ভব। নসরুল হামিদ বলেন, আমরা বিদেশী বিনিয়োগের বিরোধিতা করছি না। তবে আমাদেরকেও সুযোগ দিতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে তাদের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে একটি প্রস্তাব দেয়া হয়। স্যাটেলাইট সিটি নির্মাণে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগের জন্য তিন দফা প্রস্তাবে রিহ্যাব ও বিএলডিএ বলেছে, এ ধরনের প্রকল্পের স্থান, আয়তন এবং প্রকল্প সম্পাদনের সম্ভাব্য মডেল নিয়ে আবাসন খাতের সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে অবিলম্বে ব্যাপক আলোচনা করা উচিত। দ্বিতীয়ত, ঢাকার আশপাশে স্যাটেলাইট সিটি নির্মাণে একই ভাবে সরকারের সঙ্গে রিহ্যাব ও বিএলডিএ’র সমঝোতা স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেয়া উচিত। তৃতীয়ত, আবাসন খাতে বিদেশী বিনিয়োগ অনুমোদনের আগে স্থানীয় আবাসন ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যৌথ অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে একটি উপযোগী মডেল অনুসন্ধান করা যেতে পারে। তবে সাহারা গ্রুপের বিনিয়োগের ব্যাপারে তারা সরাসরি কোন মত দিতে রাজি হননি।
সাহারা গ্রুপের বিরুদ্ধে ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট আদালত অবমাননার রুল জারি করেছে। অভিযোগ রয়েছে, তারা প্রভাব খাটিয়েছে, আরও নানা ধরনের অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে রয়েছে। এ ধরনের একটি কোম্পানির বিনিয়োগ তারা কেমন করে দেখছেন এবং তাদের সঙ্গে কুলিয়ে উঠতে পারবেন কিনা- এ প্রশ্নের জবাবে রিহ্যাব সভাপতি নসরুল হামিদ বলেন, সাহারা গ্রুপের বিরুদ্ধে ভারতের কোর্টে কি আছে সেটা ওইভাবে আমরা দেখছি না। সেটা ওখানকার ব্যাপার। আমরা এখানে তারা কি করেন দেখবো।
আপনারা স্যাটেলাইট সিটি নির্মাণ করতে চান- এজন্য কি কোন সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিয়েছেন সরকারের কাছে। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, সরকার প্রস্তাব চাইলেই তা দিতে পারবো। আহমেদ আকবর সোবহান বলেন, আমার সঙ্গে প্রতিমন্ত্রীর কথা হয়েছে। তিনি বলেছেন, আপনারা প্রস্তাব দেন, আমরা দেখবো। জমি অধিগ্রহণ করে দেবো।
তিনি বলেন, রাজউক নামের প্রতিষ্ঠানটি নিয়ে আমার প্রশ্ন আছে। কারণ, তারা তাদের এলাকা ছাড়াও ঢাকা শহরের পুরোটাই দেখায় জলাশয়, ডোবা। সেখানে ভরাট করে কাজ করা যাবে না। তাহলে এখন তারাই আবার কেমন করে জমি অধিগ্রহণ করে জলাশয় ভরাট করে স্যাটেলাইট সিটি করতে যাচ্ছে। একই প্রতিষ্ঠানের দুই রকম ভূমিকা কেন হবে।
আহমেদ আকবর সোবহান বলেন, সাহারা গ্রুপ প্রথমে বলেছিল তারা ১০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে। পরে আবার তা বাড়িয়েছে। এক লাখ একর জমিতে যে পরিমাণ টাকা বিনিয়োগ করতে চেয়েছে, এর চেয়ে বেশি টাকা আমরা বিনিয়োগ করতে পারি। দেশের অনেক কোম্পানি তা পারে। তিনি বলেন, ঢাকার আশপাশে বিদেশী কোম্পানি দিয়ে স্যাটেলাইট সিটি না করে বরং নিঝুম দ্বীপে ও চট্টগ্রামের মিরেরসরাইতে লাখ লাখ একর জমি পড়ে আছে। সেখানে যদি স্যাটেলাইট সিটি বানানোর সুযোগ দেয়া হয়, এবং তারা রাজি হয় তাহলে এটা মঙ্গলজনক হবে। ঢাকার আশপাশে হলে আমরাও সুযোগ চাইবো। আমাদেরকেও সুযোগ দিতে হবে।
দেশী কোম্পানির বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ। তারা বেশি দামে জমি ও ফ্ল্যাট বিক্রি করছে। একচেটিয়া বাণিজ্য করছে। এ অবস্থায় বিদেশী কোম্পানির সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে তারা পারবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রতিযোগিতাকে আমরা স্বাগত জানাই। সরকার তাদেরকে এক লাখ একর জমি দিচ্ছে, আমাদের দুই লাখ একর দিক। আমরা পারবো। আমরা জমি কিনে প্রকল্প করবো আর বিদেশী কোম্পানি সরকারের কাছ থেকে জমি পাবে- এটা হবে না। কারণ, জমি অধিগ্রহণ করলে বিঘাপ্রতি দাম পড়ে ১-২ লাখ। আর আমরা কিনলে দাম পড়ে ৫০-৬০ লাখ কিংবা তারও বেশি। এ কারণে সরকার জমি অধিগ্রহণ করলে মিছিল হয়, আমরা করলে হয় না। কারণ, আমরা ন্যায্য দামে কিনে নেই। তিনি বলেন, বিদেশী বিনিয়োগ আসুক, তবে এজন্য প্রস্তুতি দরকার। আর দরকার দেশীয় কোম্পানি ও শিল্পের স্বার্থ সংরক্ষণ করা। রিহ্যাব সভাপতি বলেন, রিয়েল এস্টেট সেক্টরে ৪০ ভাগ বিক্রি কমে গেছে, ৭০ ভাগ বিনিয়োগ বন্ধ হয়ে গেছে। খুব খারাপ অবস্থায় রয়েছে শিল্পখাতটি।

Advertisements

তথ্য কণিকা Jahan Hassan জাহান হাসান
Ekush, Publisher/Editor/ Hollywood media hyphenate/ একুশ নিউজ মিডিয়া, লিটল বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস / 1 818 266 7539 / FB: JahanHassan

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: