বিশ্বের সবচেয়ে ধনী দেশ কাতার

২৭ ফেব্রুয়ারি ॥ : বিশ্বের সব শক্তিধর ও প্রভাবশালী দেশকে পেছনে ফেলে সবচেয়ে ধনী দেশ হওয়ার সম্মান পেল কাতার। যুক্তরাষ্ট্রে জনপ্রিয় ম্যাগাজিন ফোর্বস বিশ্বের ১৮২টি দেশে সমীক্ষা চালিয়ে ধনবান দেশের যে তালিকা তৈরি করে তাতে প্রথমে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় ১৭ লাখ জনসংখ্যার এই দেশ। তেল ভান্ডার আর প্রাকৃতিক গ্যাসের সৌজন্যেই কাতারের ভাগ্যে এই সম্মান জুটল। কাতারের মাথাপিছু আয় ৮৮ হাজার ২২২ মার্কিন ডলার (প্রায় ৭৪ লাখ টাকা)।

দেশের লোকের ক্রয়ক্ষমতা, জিডিপি, মাথাপিছু আয় এইসব বিষয়ের উপর চুলচেরা বিশ্লেষণের উপর ভিত্তি করে এই তালিকা তৈরি করেছে ফোর্বস। কাতার বিশ্ব অর্থনীতিতে বেশ কয়েক বছর ধরেই সামনের সারিতে আছে।

বিশ্বের ধনবান শিল্পপতিদের অনেকের বাস এই দেশে। দেশের রাজধানী দোহায় আকাশচুম্বি বাড়িগুলো তো সবার চোখ ধাঁধিয়ে দেয়। ২০২২ ফুটবল বিশ্বকাপের আয়োজনের দায়িত্ব পাওয়ার পর কাতার এখন ২০২০ অলিম্পিকের আয়োজক হওয়ার দৌড়ে আছে। এতেও বোঝা যায় অর্থনৈতিক ভীত কতটা শক্ত রাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার এই দেশের।

কাতারের পরেই ধনবান দেশের এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে আছে ইউরোপের ছোট্ট দেশ লুক্সেমবার্গ, মাথাপিছু আয় ৮১ হাজার ৪৬৬ ডলার। তৃতীয় স্থানে এশিয়ার সিঙ্গাপুর, মাথাপিছু আয় ৫৬ হাজার ৬৯৪ ডলার। তালিকায় প্রথম ১০ নম্বরে এরপর রয়েছে যথাক্রমে নরওয়ে (মাথাপিছু আয় ৫১,৯৫৯ ডলার), ব্রুনাই (৪৮,৩৩৩), সংযুক্ত আরব আমিরাত (৪৭,৪৩৯), যুক্তরাষ্ট্র (৪৬,৮৬০), হংকং (৪৫,৯৪৪), সুইজারল্যান্ড (৪৩,৯৫০) ও নেদারল্যান্ডস (৪০,৯৭৩)। তালিকায় একেবারে শেষের দিকে আফ্রিকার দারিদ্রক্লিষ্ট দেশ লাইবেরিয়া, বুরুন্ডি ও কঙ্গো।

কাতার পারস্য উপসাগরের একটি দেশ। এটি আরব উপদ্বীপের পূর্ব উপকূল থেকে উত্তর দিকে প্রসারিত কাতার উপদ্বীপে অবস্থিত। কাতারের দক্ষিণে সৌদি আরব, এবং এর পশ্চিমে দ্বীপরাষ্ট্র বাহরাইন অবস্থিত। আরব উপদ্বীপের মত কাতারও একটি উত্তপ্ত ও শুষ্ক মরু এলাকা। এখানে ভূ-পৃষ্ঠস্থ কোন জলাশয় নেই এবং প্রাণী ও উদ্ভিদের সংখ্যাও যৎসামান্য। বেশির ভাগ লোক শহরে, বিশেষত রাজধানী দোহা শহরে বাস করে। দেশটিতে খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের বড় মজুদ আছে। এই প্রাকৃতিক সম্পদের কারণে দেশটির অর্থনীতি অত্যন্ত সমৃদ্ধ। ১৯শ শতকের শেষভাগ থেকে আল-থানি গোত্রের লোকেরা কাতার অঞ্চলটিকে একটি আমিরাত হিসেবে শাসন করে আসছে। বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে দেশটি ব্রিটিশ শাসনের অধীনে আসে। ১৯৭১ সালে এটি পূর্ণ স্বাধীনতা লাভ করে। বিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগ পর্যন্তও এটি একটি তুলনামূলকভাবে দরিদ্র দেশ ছিল। ঐ সময় দেশটিতে পেট্রোলিয়ামের মজুদ আবিষ্কৃত হয় এবং এগুলি উত্তোলন শুরু হয়। বর্তমানে মাথাপিছু আয়ের হিসেবে কাতার বিশ্বের সবচেয়ে ধনী দেশগুলির একটি।

কাতারের রাজনীতি একটি পরম রাজতন্ত্র কাঠামোয় সংঘটিত হয়। কাতারের আমীর হলেন একাধারে রাষ্ট্রের প্রধান ও সরকার প্রধান।হামাদ বিন খালিফা আল সানি ১৯৯৫ সাল থেকে দেশটির বর্তমান আমীর। হামাদ ইবন জাবার আল সানি ২০০৭ সাল থেকে দেশটির প্রধানমন্ত্রী।

আরবি ভাষা কাতারের সরকারী ভাষা। এখানকার প্রায় ৫৬% লোক আরবি ভাষাতে কথা বলেন। প্রায় এক-চতুর্থাংশ লোক ফার্সি ভাষায় কথা বলেন। বাকীরা উর্দু ভাষা,ভারতীয় উপমহাদেশেরফিলিপিন দ্বীপপুঞ্জের অন্যান্য ভাষাতে কথা বলেন। আন্তর্জাতিক কাজকর্মে ইংরেজি ভাষা ব্যবহার করা হয়।

তথ্য কণিকা Jahan Hassan জাহান হাসান
Ekush, Publisher/Editor/ Hollywood media hyphenate/ একুশ নিউজ মিডিয়া, লিটল বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস / 1 818 266 7539 / FB: JahanHassan

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: