‘সংবাদপত্রে বিনিয়োগ বিত্তবানদের জন্য আজ এক আকর্ষণীয় মৃগয়া’

‘সংবাদপত্রে বিনিয়োগ বিত্তবানদের জন্য আজ এক আকর্ষণীয় মৃগয়া’

বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসের আলোচনা

বিচারপতি মু. হাবিুবর রহমান
আজ ঋণখেলাপি ও ভূমিদস্যু থেকে শুরু সামরিক-বেসামরিক নানা গোয়েন্দা সংস্থার অর্থ-সহায়তায় সংবাদপত্র প্রকাশনার অভিযোগ শোনা যায়। সংবাদপত্রে বিনিয়োগ বিত্তবানদের জন্য আজ এক আকর্ষণীয় মৃগয়া। সেই মৃগয়ার শিকারি অনেক সময় আশুপ্রাপ্তি, চমকসৃষ্টি কিংবা প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য ছাপার অক্ষরে কিছু প্রকাশ করতে দ্বিধা করে না। সম্প্রতি রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত জার্নালিজম ট্রেনিং এন্ড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভের (যাত্রী), ইউনেসকো, বিসিডিজেসি ও বিএনএনআরসি কর্তৃক আয়োজিত “সংবাদপত্রের স্বাধীনতা: বাংলাদেশ পরিপ্রেক্ষিত” বিষয়ে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসের আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় সাবেক প্রধান বিচারপতি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান এ কথা বলেন।
বিচারপতি হাবিবুর রহমান বলেন, সংবাদপত্র আজ এক বড় বিনিয়োগক্ষেত্র। এখানে কেনাবেচা হয়। টাকার খেলাও হয়। হুমকিতে অনেক সময় পাতা নড়ে। সাংবাদিকদের যেমন কর্তৃপক্ষ খুশি রাখতে চায়, তেমনি সাংবাদিকেরাও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একটা সুসম্পর্ক রক্ষা করতে চায়। তেমন খাসলত হলে একটি সংবাদপত্র একেবারে আশ্রিত বা পোষ্য হতে পারে।
তিনি বলেন, আজ সংবাদপত্রের স্বাধীনতা বলতে অনেক সময় মালিকের স্বাধীনতা মনে হয়। তবে সেই স্বাধীনতা আপেক্ষিক ও সীমিত। পাঠকের কাছে গ্রহণযোগ্যতা না থাকলে একটি সংবাদপত্র বেশি দিন চলবে না। তথ্যাশ্রয়ী ও সত্যাশ্রয়ী সাংবাদিকের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বেশি। সাংবাদিকদের ন্যায্য পাওনাগন্ডা পেতে সারাক্ষণ তাদের উচ্চকিত থাকতে হয়। তিনি সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা ও বিভক্তি প্রসঙ্গে বলেন, কাক নির্যাতিত হলে সহকর্মী কাকেরা তার সমর্থনে চিৎকার করে। সাংবাদিক নির্যাতিত হলে তার স্বীয় গোষ্ঠীর সদস্যদের কাছ থেকে অনেক সময় কাকসদৃশ ব্যবহার পায় না। সেই নিয়ে দুঃখ বা মাতম না করে নির্যাতিতের পাশে দাঁড়ানোই তিনি শ্রেয়তর মনে করেন।
বিসিডিজেসির প্রেসিডেন্ট নাঈমুল ইসলাম খান বলেন, আজকের বাস্তবতায় সাংবাদিকতা নানা ভাগে বিভক্ত। এই বিভক্তি মালিকানা, বেতন-ভাতা ও ঢাকা ও ছোট শহরের সাংবাদিকতাসহ বহু ধারায় বিভক্ত। প্রতিদিনের সাংবাদিকতায় আজ অন্যতম অনুষঙ্গ অবদার সাংবাদিকতা। রিপোর্ট করার ক্ষেত্রে আবদারের সংখ্যা বেড়েছে। এই আবদারের সাংবাদিকতা স্বাধীন সাংবাদিকতায় এক নতুন প্রতিবন্ধকতা। প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম বলেন, প্রতিটি সংবাদপত্র স্বাধীন সম্পাদকীয় নীতিমালা থাকা প্রয়োজন। যাতে করে একজন সাংবাদিক সহজেই বুঝতে পারেন, তার প্রতিষ্ঠান কী নীতিমালা অনুসরণ করে। প্রতিটি সাংবাদিকদের উচিত তাদের সম্পদের বিবরণী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া। এতে করে সাংবাদিকেরা সহজেই অন্যদের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারবেন।
ইউনেসকোর অফিস ইনচার্জ কিচি ওয়েসু বলেন, ইউনেসকো ভাব ও বাক্ প্রকাশের স্বাধীনতা ও তথ্য অধিকারের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে থাকে। স্বাধীন ও বহুমাত্রিক গণমাধ্যম বিকাশ ইউনেসকোর অন্যতম কাজের ক্ষেত্র। আগামী দিনে সাংবাদিকদের দক্ষতা উন্নয়নে ইউনেসকো কাজ করতে চাই। ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব শাবান মাহমুদ বলেন, সাংবাদিকদের বিভক্তি এমন প্রকট আকার ধারণ করে যে সাংবাদিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করতে গিয়ে আমরা উভয় সংকট পড়ছি।
অধ্যাপক দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস সাংবাদিকতার পেশাগত উৎকর্ষের জন্য প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একাত্তর টেলিভিশনের হেড অব নিউজ সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা বলেন, সাংবাদিকদের মধ্যে বিভত্তি দূর করে মানসম্মত সাংবাদিকতা চর্চা নিশ্চিত করা গেছে। গণমাধ্যম আগামী দিনে শক্তিশালী সামাজিক প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠতে পারে। যাত্রীর উপদেষ্টা জগ্লুল আহ্মেদ চৌধূরী বলেন, সাংবাদিকতা সেবাধমী পেশা; এটা ব্যবসাধর্মী হলো তা আদর্শচ্যুত হয়।
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ইশফাক এলাহী চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও যাত্রীর প্রধান নির্বাহী জামিল আহমেদ এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটি পরিচালিত হয়।

Advertisements

তথ্য কণিকা Jahan Hassan জাহান হাসান
Ekush, Publisher/Editor/ Hollywood media hyphenate/ একুশ নিউজ মিডিয়া, লিটল বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস / 1 818 266 7539 / FB: JahanHassan

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: