সুস্থ ও সবল থাকতে চান?

সুস্থ ও সবল থাকতে চান? পরিবারের সবার সাথে একসঙ্গে খান।

রিফাত ইসলাম, সুইডেন
পরিবারের সবাই একসঙ্গে
 খেতে বসা মানেই হাসি খুশী থাকা, সুস্থ থাকা। কি সবাইকে নিয়ে খেতে বসবেন তো? পরিবার কে সময় দিন, পরিবারের সঙ্গ উপভোগ করুণ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিবারগুলোর উচিত সকলে একত্র হয়ে খাবার গ্রহণের রীতি অনুসরণ করা। বর্তমান বিশ্বে শহুরে শিক্ষিত পরিবারগুলোর মধ্যে ব্যস্ততা বেড়ে গেছে। পরিবারের সবাই একসঙ্গে খেলে স্বাস্থ্য ঠিক থাকে। একসঙ্গে খেলে মানসিকতাও উন্নত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের দ্য স্টেট ইউনিভার্সিটি অব নিউজার্সির অনুষদ রাটজারসের গবেষক এ তথ্য প্রকাশ করেছেন। পারিবারিক খাদ্যাভ্যাস ও শিশুস্বাস্থ্য নিয়ে এর আগে ৬৮ বার বিজ্ঞানসম্মত তথ্য প্রকাশ করা হয়। গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যেসব পরিবারের অভিভাবকরা কর্মব্যস্ত থাকেন তাদের সন্তানরা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মুখে যা ভালো লাগে সে খাবারই বেশি খেয়ে থাকে। কিন্তু পরিবারের সবাই যখন একসঙ্গে বসে খাবার গ্রহণ করেন তখন একে অন্যের স্বাস্থ্যের দিকে খেয়াল রাখেন। ফলে কোনটা কার স্বাস্থ্যের জন্য ভালো হবে সে বিষয়ে সবাই খেয়াল রাখেন।

সন্তানদের নিয়ে ব্যবসায়ী বা চাকরিজীবী বাবা-মার মধ্যাহ্ন বা নৈশভোজ একসঙ্গে করার তেমন সুযোগ তৈরি হয় না। এটা পরিবারের সদস্যদের মধ্যে স্বাস্থ্যগত দিক দিয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। গবেষকরা বলছেন, পারিবারিক বন্ধন অটুট রাখা, আস্থা, প্রেম এবং দৈনন্দিন মতবিনিময়ের জন্য দুপুরে ও রাতে বা অন্তত একবার পরিবারের সব সদস্যকে একসঙ্গে খাদ্যগ্রহণ করা উচিত। মানসিক প্রশান্তি প্রাপ্তির পাশাপাশি যা সবার শরীরকে সুস্থ ও সবল রাখবে।

যুক্তরাষ্ট্রে বাইরে খাওয়ার প্রবণতার হার বেড়ে যাওয়ায় এ নিয়ে এক গবেষণা পরিচালিত হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, সচরাচর বাইরে সুষম খাদ্য গ্রহণের সুযোগ থাকে না বললেই চলে। পরিবর্তে ফাস্টফুড বা অন্য সস্তা খাবার গ্রহণের দিকে সবাই ঝুঁকে পড়ে।

যেনতেনভাবে ক্ষুধা নিবৃত্তি করাই তখন মুখ্য হয়ে দাঁড়ায়। ভিটামিন, ক্যালসিয়াম বা আঁশ জাতীয় খাবার যেমন শাকসবজি, ফল খাদ্য তালিকায় অনুপস্থিত তাকে। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদে অল্পবয়সী ছেলেমেয়েদের ক্ষেত্রে এ ধরনের খাবার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়ায়। 

বাইরে নিয়মিত খাদ্য গ্রহণ মোটা হওয়ার অন্যতম কারণও বটে। বিশেষজ্ঞরা দাবি করেন, বাবা-মাকে সন্তান ও পরিবারের বয়জ্যেষ্ঠদের সঙ্গে একসঙ্গে খাবার খেলে পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় হয় এবং পরিববারে সুখ ও শান্তি বিরাজ করে। এ ধরনের সংস্কৃতি একান্নবর্তী পরিবারগুলোর মধ্যে বেশি ছিল।

পরিবার যত ছোট হয়ে আসছে আত্মীয়স্বজনের মধ্যে দেখা-সাক্ষাৎ বা সম্পর্ক আগের মতো থাকছে না। পরিবারের সন্তানদের মানসিক গঠন বিকাশের জন্য আত্মীয়তার মেলবন্ধন সৃষ্টি করা আবশ্যক। বিভিন্ন সামাজিক বা পারিবারিক অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে এ ধরনের সম্প্রীতি গড়ে তোলা সম্ভব বলে বিশেষজ্ঞরা অভিমত প্রকাশ করেন।

——————————————————————
আপনার সন্তানকে কখনোই যা বলবেন না :

লিখেছেন কানিজ ফাতিমা

সব বাবা-মা ই চান তার সন্তানটি সেরা হোক,  সব কিছুতে ভালো হোক, চৌকস হোক৷ এজন্য তারা অনেক চেষ্টা করেন, ত্যাগ করেন, সময় দেন, সামর্থ অনুযায়ী অর্থ ব্যয় করেন৷ এরপর ও যখন কাঙ্খিত ফল পান না তখন কষ্ট পান , মুষড়ে পড়েন৷ তারা তাদের কষ্টের এ অনুভুতি প্রকাশ করেন  বিভিন্ন ভাবে –

  • কেউ  রাগ করেন
  • কেউ চেচামেচি করেন
  • কেউ অভিযোগ করেন
  • কেউ  Nagging করেন ….

 যে কারণে  তারা রাগ, চেচামেচি, অভিযোগ বা Nagging করেন তার যৌক্তিকতা আছে৷ বাবা-মা সন্তানের ভালো চান বলেই  এগুলো করেন , কিন্তু তারা যে এই রাগ চেচামেচি করছেন, তার ফল কি হচ্ছে ? – অবশ্যই খারাপ৷ অর্থাত- কারণ যুক্তিযুক্ত হলেই আপনার কাজ ভালো ফল আনবে  তা নয় ৷ কারণ যুক্তযুক্ত হতে হবে এবং  Action positive হতে হবে – তবেই result positive হবে ৷ 

ভালো কারণ + Positive Action = Positive Result

ভালো কারণ + Negative Action = Negative Result

একটি কেস স্টাডি বলছি –

তাহমিদের বয়স ৭ বছর ৷ সে চঞ্চল প্রকৃতির ছেলে ৷ ফলে চেয়ারে অনেকক্ষণ বসে থেকে নিবিষ্ট মনে পড়তে বা লিখতে পছন্দ করে না ৷ লিখতে বসলে প্রথম দিকে হাতের লেখা ভালই হয় – কিন্তু কিছুদুর গিয়ে আকাবাঁকা হতে শুরু করে ৷ তার মা অনেক চেষ্টা করেছে , অনেক অনেক চেষ্টা -নানা রকম চেষ্টা ৷ এতে কিছুটা কাজ হয় , কিন্তু ততটা না ৷

অথচ পাশের বাসার তাদভীনের হাতের লেখা কত সুন্দর ৷ শান্ত হয়ে বসে সে পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা লিখে ফেলছে , তার মাকে তেমন কষ্ট করতে হয় না ৷ ফলে তাহমিদের মা রেগে গিয়ে বলেন-

 ” তোকে নিয়ে কত চেষ্টা করলাম , কোনো কাজই হয় না ”

” তোকে দিয়ে কিছু হবে না ”

” এটাই পারিস না , জীবনে কি করবি?”

” এরকম করলে আর কিন্তু ভালবাসবনা ”

” পাশের বাসার ছেলেটি কত ভালো, আর তুই ….. ”

” তুই তো কিছুই শিখতে চাস না ”

তাহমিদের মা ফোনে তার বোনকে দুঃখ করে বলেন –

” ওকে নিয়ে এত চেষ্টা করি , কিছুতেই কিছু হয় না ..”

তাহমিদের মা এর এ কথা গুলো বলার কারণ কি? – তিনি মনে করছেন এভাবে বললে তাহমিদ শুধরে যাবে৷ কিন্তু আসলে ফল কি হচ্ছে ? 

  • তাহমিদ  আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলছে – আসলেই কি তার মধ্যে কোনো যোগ্যতায় নাই?
  • সে চেষ্টা করার Motivation হারিয়ে ফেলছে
  • সে মনে করছে তার মার কাছে সে মূল্যহীন ৷ এ বয়সে তার মা-বাবা আর স্কুলের বন্ধুরাই তার কাছে গোটা  বিশ্ব ৷ তার মনে হচ্ছে তার উপর আকাশ ভেঙ্গে পরছে , তার বিশ্বের বড় অংশটাই অন্ধকার হয়ে গেছে ….
  • সে নিজের অজান্তেই rude ভাবে কথা বলতে শিখছে … ফলে  সেও অন্যদেরকে এভাবেই  আঘাত করে কথা বলবে …

    এ কেস স্টাডি থেকে আমরা কি জানলাম-

আমরা দেখলাম এই কথা গুলো বলার পেছনে আপনার উদ্দেশ্য ছিল তাহমিদের উন্নতি করা , ভালো করা৷ কিন্তু ফল হচ্চ্ছে উল্টো -তার ক্ষতি হচ্ছে ৷

আপনি এত কষ্ট করার পর কি সন্তানের ক্ষতি চান? যদি না চান , তাহলে আর একটু ধৈর্য্য বাড়ান৷ আপনার যত কষ্টই হোক কখনই আপনার সন্তানকে এটা বলবেন না যে- 

  • তোমাকে দিয়ে কিছু হবে না …
  • তোমার মত ছেলে/মেয়ে আমার দরকার নাই ..

 কখনই তার সঙ্গে ওর  সমবয়সী কারো তুলনা করবেন না ৷ যদি কাউকে মডেল হিসাবে সামনে রাখতে চান তাহলে  মহত মানুষদের ছোট বেলার গল্প বলতে পারেন বা তার থেকে বড় কারো কথা বলতে পারেন ৷ বড়দের অনুকরণ করতে বাচ্চারা পসন্দ করে কিন্তু সমবয়সী কাউকে না ৷

অন্যের  কাছে  তার  নামে কখনও অভিযোগ করবেন না , অন্তত তখন করবেননা যখন সে তা শুনতে পায় ৷ এতে বাচ্চারা মনে করে মা (বা বাবা ) তার সম্পর্কে ভালো ধারণা রাখে না   ..তার বদনাম করে …৷ এতে তার মন খারাপ হয় এবং তার Self Esteem কমে যায় ৷ তবে এর মানে এই না যে আপনি বাচ্চার সমস্যা নিয়ে অন্যের সঙ্গে আলোচনা করবেন না ৷ বাচ্চাদের সমস্যা গোপন না রেখে অভিজ্ঞ কারো সাথে এ নিয়ে আলোচনা করলে সুফল পাওয়া যায় ৷ তবে এক্ষত্রে যা মনে রাখতে হবে  তাহলো এটা বাচ্চার সামনে কখনই করা যাবে না ৷ এমনকি তাকে পাশের ঘরে রেখেও না – অনেক সময় মনে হয় তারা শুনছে না বা খেলা নিয়ে ব্যস্ত আছে …কিন্তু আসলে তারা শোনে৷ তার সম্পর্কে negative কোনো কথার একটি শব্দ ও যদি তার কানে যায় তাহলে  সে আপনার প্রতি বিশ্বাস হারিয়ে ফেলবে , মনে করবে ” মা মনে হয় সব সময়েই আমার নামে এসব কথা বলে…” ৷ তাছাড়া বাচ্চারা তার সম্পর্কে বাবা- মার মন্তব্য শুনতে খুবই আগ্রহী ৷ আপনি তার সম্পর্কে কিছু বলতে শুরু করলেই সে কান খাড়া করে তা শুনে , কিন্তু ভান করে যে সে আপনার কথায় একেবারেই মনোযোগ দিচ্ছে না ৷ কাজেই তাকে শুনিয়ে শুনিয়ে বলুন ” তাহমিদ অনেক চেষ্টা করে …সে আগের চেয়ে উন্নতি করছে …আর একটু চেষ্টা করলে সে অনেক ভালো করবে …” ৷  নিজের সম্পর্কে এ রকম মন্তব্য শুনলে বাচ্চারা তাদের চেষ্টা বাড়িয়ে দিবে এবং আপনার সঙ্গে তার সম্পর্ক সদৃঢ় হবে ৷

মনে রাখবেন আপনার সঙ্গে আপনার বাচ্চার সম্পর্ক অন্য যেকোনো কিছুর চেয়ে তার সঠিক Development এর জন্য বেশী জরুরী৷

শেষ কথা:

এ কথা গুলো বলা যত সহজ করা তত সহজ না ৷ আসলেই এটা কঠিন একটি কাজ … একটু চিন্তা করুন – আপনি কি চাচ্ছেন ? সন্তান মানুষ করতে…এটা স্বাভাবিক একটি চাওয়া কিন্তু ছোট চাওয়া না ৷ পৃথিবীর  সবথেকে কঠিন কাজটি  আপনি করছেন- Human Resource Development ৷ পৃথিবীর সবথেকে উন্নত জীবকে গড়ছেন আপনি ৷ এটা অন্য যে কোনো কাজের চেয়ে Challenging৷ কাজেই অন্য যেকোনো কাজের চেয়ে বেশী ধৈর্য  ও বুধিমত্তার  প্রয়োজন এ কাজে ৷ এবং সেটা আপনাকেই করতে হবে -কারণ, আপনি আপনার সন্তানের ভালো চান 

Advertisements

তথ্য কণিকা Jahan Hassan জাহান হাসান
Ekush, Publisher/Editor/ Hollywood media hyphenate/ একুশ নিউজ মিডিয়া, লিটল বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস / 1 818 266 7539 / FB: JahanHassan

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: