যুক্তরাষ্ট্রে ভোক্তাদের অর্ধেকেরও বেশি স্মার্টফোন ব্যবহার করেন

যুক্তরাষ্ট্রে ভোক্তাদের অর্ধেকেরও বেশি স্মার্টফোন ব্যবহার করেন
২০২০ সাল নাগাদ স্মার্টফোনই হবে লেনদেনের মূল মাধ্যম
বিশ্বজুড়ে বাড়ছে ‘সোশ্যাল মিডিয়া’র আধিপত্য
চালকবিহীন গাড়ির লাইসেন্স পেল গুগল

—————————————————-

যুক্তরাষ্ট্রে ভোক্তাদের অর্ধেকেরও বেশি স্মার্টফোন ব্যবহার করেন
গবেষণাপ্রতিষ্ঠান নিয়েলসেনের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ সালের মার্চে যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তাদের মধ্যে স্মার্টফোন ব্যবহারকারী ছিলেন ৫০ দশমিক ৪ শতাংশ। এর মধ্যে অ্যান্ড্রয়েডচালিত স্মার্টফোন ব্যবহারকারী ৪৮ দশমিক ৫ শতাংশ। খবর টেকক্রাঞ্চের।

নিয়েলসেনের জরিপে আরও জানা যায়, দেশটির ভোক্তাদের মধ্যে অ্যাপল আইফোন ব্যবহারকারী রয়েছেন ৩২ শতাংশ। ২০১১ সালের ডিসেম্বরে ৪৭ দশমিক ৮ শতাংশ ব্যক্তি স্মার্টফোন ব্যবহার করতেন। সে বিচারে ২০১২ সালের মার্চে স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়েছে প্রায় তিন শতাংশ। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে কতজন স্মার্টফোন ব্যবহারকারী রয়েছেন তা-ও বের করেছে নিয়েলসেন।

সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে এশিয়ান আমেরিকানরা সবচেয়ে বেশি স্মার্টফোন ব্যবহার করেন। তাদের মধ্যে দশমিক ৩ শতাংশ স্মার্টফোনকে তাদের মূল সেলফোন হিসেবে ব্যবহার করেন। স্মার্টফোন ব্যবহারকারী হিস্পানিকদের সংখ্যা ৫৪ দশমিক ৪ শতাংশ। শ্বেতাঙ্গদের মধ্যে স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা সবচেয়ে কম, মাত্র ৪৪ দশমিক ৭ শতাংশ।

স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর মধ্যে পুরুষের চেয়ে নারীর সংখ্যা বেশি। নারীদের মধ্যে ৫০ দশমিক ৯ শতাংশ আর পুরুষদের মধ্যে ৫০ দশমিক ১ শতাংশ স্মার্টফোন ব্যবহার করেন। এ ক্ষেত্রে তরুণ সমাজ সবচেয়ে এগিয়ে আছে। ২৫-৩৪ বছর বয়সী তিনজন ব্যক্তির দুজনই স্মার্টফোন ব্যবহার করেন।

২০২০ সাল নাগাদ স্মার্টফোনই হবে লেনদেনের মূল মাধ্যম
২০২০ সাল নাগাদ স্মার্টফোনই হবে লেনদেনের মূল মাধ্যম ২০২০ সালে স্মার্টফোন ও ট্যাবলেট কম্পিউটারের মাধ্যমে লেনদেন করবে বেশির ভাগ মানুষ। নগদ অর্থ ও ক্রেডিট কার্ড দুটোই তখন দুর্লভ বস্তু হয়ে দাঁড়াবে। গত মঙ্গলবার পিউ রিসার্চের একটি জরিপ থেকে জানা গেছে এ তথ্য। খবর এএফপির।

ডিজিটাল ওয়ালেট হিসেবে স্মার্টফোন ও ট্যাবলেট কম্পিউটার যে ভবিষ্যতে জনপ্রিয় হবে, তা তথ্যপ্রযুক্তির স্টেকহোল্ডার ও সমালোচকদের ৬৫ শতাংশই স্বীকার করেছেন। পিউ রিসার্চ ও ইলন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমাজিনিং দি ইন্টারনেট সেন্টার ডিজিটাল ওয়ালেটসংক্রান্ত জরিপটি চালিয়েছিল। ১ হাজার ২১ জন এ জরিপে অংশ নিয়েছিলেন। তাদের বেশির ভাগের মতে, নিরাপত্তা এবং সুবিধা দুটোই পাওয়া যায় বলে মানুষ এখন অর্থ পরিশোধের মাধ্যম হিসেবে স্মার্টফোন ও ট্যাবলেট কম্পিউটার ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছে।


যারা স্মার্টফোনকে আগামীর ওয়ালেট হিসেবে ব্যবহার করার ক্ষেত্রে উচ্চাকাঙ্ক্ষী ছিলেন তাদের অনেকেই ভেবেছিলেন, বিষয়টি এত জনপ্রিয় হবে না। নিরাপত্তা লঙ্ঘিত হবার আশঙ্কা, অপ্রতুল অবকাঠামো এবং বর্তমান ব্যবস্থায় লাভজনক ব্যবসা বিশেষ করে ক্রেডিট কার্ড প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে প্রতিবাদের আশঙ্কা এর কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল।

স্মার্টফোন ও ট্যাবলেটের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেন হলেও নগদ অর্থ এবং ক্রেডিট কার্ড যে একেবারেই হারিয়ে যাবে না সেটাও পিউয়ের জরিপের অংশগ্রহণকারীরা মনে করেন। সামাজিক পরিবর্তনে ধীরগতি এবং আর্থিক সুবিধা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে প্রতিরোধের কারণে ডিজিটাল ওয়ালেট অর্থ পরিশোধের উপায়গুলোর অন্যতম বলে বিবেচিত হবে। পিউ রিসার্চের অ্যারন স্মিথ এমনটাই মনে করেন।

ডিজিটাল পেমেন্ট সম্পর্কে গুগলের প্রধান অর্থনীতিবিদ হাল ভারিয়েন বলেন, ২০২০ সাল যদিও খুব উচ্চাকাঙ্ক্ষী একটি লক্ষ্য, তবে স্মার্টফোন ও ট্যাবলেট কম্পিউটারকে যে ডিজিটাল ওয়ালেট হিসেবে ব্যবহার করা হবে, তা বলাই বাহুল্য। ওয়ালেটে পরিচয়, ব্যক্তিগত জিনিসপত্র এবং অর্থ হবে। খুব জলদি সেগুলো মোবাইল ডিভাইসেও সুন্দর মতো এঁটে যাবে। গুগল গত বছরই ওয়ালেট নামে একটি সার্ভিস চালু করে। অ্যান্ড্রয়েডচালিত মোবাইল ফোনগুলো দিয়ে এ সার্ভিসটির মাধ্যমে কেনাকাটা করা যায়। পুরো ব্যবস্থাকেই সংক্ষেপে বলা হয় ‘ট্যাপ অ্যান্ড পে’।

বিশ্বজুড়ে বাড়ছে ‘সোশ্যাল মিডিয়া’র আধিপত্য

বার্লিন, ৭ মে: বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সবসময়ই আলোচনার বিষয়৷ নিরপেক্ষভাবে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে এখনো বাধা রয়েছে৷ এই সীমাবদ্ধতার কারণে শক্তিশালী হয়ে উঠছে বিকল্প ‘সোশ্যাল মিডিয়া’৷

গত বছরের আরব বসন্তের কথাই ধরা যাক৷ মিশর, লিবিয়া, টিউনিশিয়ার মতো দেশগুলোর গণমাধ্যম ঠিক স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারতো না৷ স্বৈরশাসকদের অস্ত্রের নলের মুখে মূলধারার গণমাধ্যম ছিল অসহায়৷ কিন্তু মূলধারার গণমাধ্যমের নীরবতা সত্ত্বেও ফুঁসে উঠল এসব দেশের সাধারণ মানুষ৷ তারা হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিল স্যোশাল মিডিয়াকে৷ আরো সহজ করে বললে ব্লগ, ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউব’কে৷ এসব সোশ্যাল মিডিয়া আরব বিশ্বের সাধারণ মানুষকে স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের সুযোগ করে দিল৷ ইন্টারনেটে যে স্বাধীনতা তারা পেয়েছে, সেটির প্রতিফলন ঘটেছে রাজপথে৷ হোসনি মুবারক, বেন আলী কিংবা গাদ্দাফিরা আজ আর ক্ষমতায় নেই৷ পতন ঘটেছে স্বৈরতন্ত্রের, এখন গণতন্ত্রের হাওয়া বইছে মিশর, টিউনিশিয়া এবং লিবিয়ায়৷

ইন্টারনেটভিত্তিক স্বাধীন বিকল্প মিডিয়ার সন্ধান মানুষ পেয়েছে ঠিকই, কিন্তু তাই বলে কি প্রচলিত গণমাধ্যম পরাধীনতার শিকলে বাঁধা থাকবে? এমনটা আসলে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা নয়৷ যে কারণে, স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের ধারাকে উৎসাহিত করতে, প্রতি বছরের তেসরা মে উদযাপন করা হচ্ছে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস৷ ১৯৯৩ সালে জাতিসংঘ এই দিনটিকে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়৷

এখনো বিশ্বের কয়েক ডজন দেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নেই৷ মুক্তভাবে মত প্রকাশের অধিকার নেই৷ এখনো সাংবাদিক, সম্পাদকরা প্রতিনিয়ত আক্রান্ত হচ্ছেন, নির্যাতিত হচ্ছেন, নিহত হচ্ছেন৷

বাংলাদেশের কথাই ধরা যাক৷ মাত্র কয়েকদিন আগে দৈনিক সমকাল পত্রিকার সম্পাদক গোলাম সারোয়ারকে একটি প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে হুমকি প্রদান করা হয়েছে৷ গোলাম সারোয়ার এই ঘটনার পর থানায় জিডি করেছেন৷ এছাড়া চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ঢাকায় খুন হন সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারোয়ার এবং মেহেরুন রুনি৷

বাংলাদেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রখ্যাত আলোকচিত্রশিল্পী ও ব্লগার ড. শহীদুল আলম বলেন, ”আগে যতটা স্বাধীনতা ছিল, এখন তার চেয়ে বেশি আছে৷ আগে আমরা অনেক কিছু বলতে পারতাম না৷ এখন বলার সুযোগ আছে৷ কিন্তু সেটার সঙ্গে আবার যে হুমকিগুলো এখন দাঁড়িয়ে গেছে, সেগুলো উপেক্ষা করার কারণ নেই৷ বাংলাদেশে কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেল বন্ধ হয়ে গেছে৷ এক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের অজুহাত দেখানো হয়েছে৷”

প্রচলিত গণমাধ্যমের ওপর নিষেধাজ্ঞার কারণে ইন্টারনেটভিত্তিক সোশ্যাল মিডিয়া ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে, মনে করেন চীনের ব্লগার আইস্যাক মাও৷ ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি বলেন, ”চীনের প্রচলিত গণমাধ্যম পুরোপুরি সরকার নিয়ন্ত্রিত৷ ফলে নিজেদের মতামত প্রকাশের জন্য তরুণ প্রজন্ম নতুন মিডিয়ার দিকে ঝুঁকছে৷ যদিও চীনে ইন্টারনেটের ওপর কড়া নিয়ন্ত্রণ রয়েছে, তারপরও তরুণ প্রজন্ম তথ্য আদানপ্রদানের বিভিন্ন উপায় বের করছে৷ এভাবেই তারা সামাজিক এবং রাজনৈতিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে খুব দ্রুত সংঘবদ্ধ হতে পারছে, যা চীনের শাসক গোষ্ঠীর জন্য সুখবর নয়৷”

প্রতি বছর অসংখ্য সাংবাদিক প্রাণ হারাচ্ছে পেশাগত কারণে৷ রিপোর্টার্স উইদাআউট বডার্স’র হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত নিহত সাংবাদিকের সংখ্যা ১৯৷ এছাড়া কারাবন্দি রয়েছেন ১৬১ সাংবাদিক এবং ১২১ নেটিজেন৷ সূত্র: ডয়চে ভেলে।

চালকবিহীন গাড়ির লাইসেন্স পেল গুগল

ইন্টারনেট সার্চ জায়ান্ট গুগল পেল চালকবিহীন গাড়ির লাইসেন্স। এই গাড়ি চালানোর জন্য আলাদা করে কোন চালকের প্রয়োজন হবে না। বরং গাড়ি চলবে নিজেই৷ রাস্তায় অন্য গাড়িকে পাশ কাটিয়ে এগিয়ে যাবে নিশ্চিন্তে৷ এমনকি কোন রাস্তায় কোন জটিলতা দেখা দিলে আপনা থেকেই গাড়িটি বেছে নেবে নিজের সুবিধাজনক জায়গা৷ গুগল এরই মধ্যে তৈরি করে ফেলেছে এই প্রযুক্তি৷ সেটা গাড়িতে জুড়ে চলছে বিস্তর পরীক্ষা-নিরীক্ষা৷ আর এবার, আবার আরো একধাপ এগিয়ে গেল সংস্থাটি৷ কারণ সোমবার আমেরিকার নেভাদা রাজ্য কর্তৃপক্ষ গুগলকে এই গাড়ির লাইসেন্স দিয়েছে৷ লাইসেন্স পাওয়ার পর গুগল প্রথম যে চালকবিহীন গাড়িটি রাস্তায় নামাচ্ছে, সেটি টয়োটা কোম্পানির৷ প্রিয়াস মডেলের গাড়িতে চালকবিহীন প্রযুক্তি যোগ করছে গুগল৷ আরো অনেক গাড়ি কোম্পানি অবশ্য নেভাদায় চালকবিহীন গাড়ির লাইসেন্স পেতে আবেদন জানিয়েছে৷ চালকবিহীন গাড়িতে থাকছে ভিডিও ক্যামেরা, রাডার সেন্সর এবং লেজার রেঞ্জ ফাইন্ডার৷ এসব ব্যবহার করে রাস্তায় থাকা অন্যান্য গাড়ি এবং বস্তুর অবস্থান সনাক্ত করবে চালকবিহীন গাড়িটি৷ গুগলের ইঞ্জিনিয়াররা এরই মধ্যে ক্যালিফোর্নিয়ার রাস্তায় এই গাড়ি পরীক্ষা করেছে৷ তখন অবশ্য গাড়ির মধ্যে একজন অভিজ্ঞ চালক ছিলেন৷ বাড়তি সতর্কতা হিসেবে তাকে রাখা হয়েছিল৷ গুগল সফটওয়্যার যদি কোন কারণে কাজ না করে তাহলে যাতে চালক গাড়ির নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেন সেজন্যই রাখা হয়েছিল একজন দক্ষ চালক৷ বলাবাহুল্য, পরীক্ষামূলক এই চালনায় কোন ধরনের বড় জটিলতা ধরা পড়েনি৷ গুগলের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার সেবাস্টিয়ান থ্রুন এই বিষয়ে বিবিসিকে বলেন, কোন ধরনের দুর্ঘটনা ছাড়াই চালকবিহীন গাড়িটি এক লাখ চল্লিশ হাজার মাইল পাড়ি দিয়েছে৷ এই চলার পথে শুধুমাত্র একবার ট্রাফিক সিগন্যালে পেছন থেকে একটি গাড়ি ধাক্কা দিয়েছিল চালকবিহীন গাড়িটিকে৷ নেভাদার মোটর ভেহিক্যালস বিভাগের পরিচালক ব্রুস ব্রেসলো মনে করেন, চালকবিহীন গাড়ি হচ্ছে ভবিষ্যতের গাড়ি৷ রাস্তায় চালকবিহীন গাড়ি চলাচলের অনুমতি দিতে গত মার্চ মাসে আইন পরিবর্তন করে নেভাদা৷ ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষকে এই গাড়ি ব্যবহারের অনুমতি দেয়ার কথাও ভাবছে রাজ্যটি৷


Advertisements

তথ্য কণিকা Jahan Hassan জাহান হাসান
Ekush, Publisher/Editor/ Hollywood media hyphenate/ একুশ নিউজ মিডিয়া, লিটল বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস / 1 818 266 7539 / FB: JahanHassan

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: