ম্যানিলায় যা ঘটেছে, তা দেশের ভাবমূর্তিকে ছোট করেছে

এবার মাজেদা রফিকুন্নেসা, ফিলিপাইনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের কেলেঙ্কারি

সুলতানা জাহান

বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতদের কেলেঙ্কারি এখন মুখরোচক সংবাদ। রাজনীতি, র‌্যাব-পুলিশের ক্রসফায়ার, মানবাধিকার লঙ্ঘন, খাদ্যে ভেজাল, কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্ট ইত্যাদির সঙ্গে বহির্বিশ্বে আমাদের কয়েকজন রাষ্ট্রদূতের তাণ্ডব দেশবাসীর কাছে নতুন শঙ্কা হিসেবে হাজির হয়েছে। ‘তালি কই?’ রাষ্ট্রদূত চৌধুরী নূরুল আলমের একটি বক্তৃতা ইউটিউবে আছে। ওমানে নিযুক্ত এই রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বিদেশে কতটা সমুজ্জ্বল করেছেন, তা বলাই বাহুল্য। নেপালে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত নিমচন্দ্র ভৌমিক সম্ভবত সকল কিছুর ঊর্ধ্বে। মন্ত্রী দীপু মনি সাংবাদিকদের তার ব্যাপারে বলেছিলেন: ‘অভিযোগ এসেছে বলেই তদন্ত হচ্ছে’। কিন্তু সেই তদন্ত ড. ভৌমিকের পইে গেছে। অর্থ-কর্মকর্তা মৌলভী হারুন ও নেপালেই আছেন এখনো, যার মোটরবাইকে রাষ্ট্রদূত বিভিন্ন পানশালায় ঢুঁ মারেন বলে ‘নিন্দুকেরা’ খবর রটিয়েছিল। পেশাদার কূটনীতিবিদ মুজিবর রহমান ভূঁইয়া এবং হাসিব আজিজের ব্যাপারে যত সহজে সরকার সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছিল সরকার, আওয়ামী চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্তদের বেলায় সরকার ততটাই নির্লিপ্ত। হয়তো দেশের চেয়ে ‘সরকার’ বড়।
এই চার রথী-মহারথীর আলোচনা শেষ না হতেই এবার যুক্ত হলেন ফিলিপাইনে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মাজেদা রফিকুন্নেসা। রাষ্ট্রদূত হিসেবে এটিই তার প্রথম পোস্টিং। ৯০ দশকের মাঝামাঝি তিনি কুয়ালালামপুরে হেড অব দ্য চেঞ্চারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তার স্বামী আবদুল মান্নান মিয়াও তখন একই মিশনে। সুনামখ্যাত ইসমাইল জবিউল্লাহ তখন লেবার কাউন্সিলর। এই ত্রয়ীর কীর্তি এখনো মালয়েশিয়ায় বাংলা-কমিউনিটিতে সুবিখ্যাত। সেই সময় সরকার পাসপোর্ট বিতরণের একটি প্রজেক্ট চলছিল। আর সুযোগ বুঝে নির্ধারিত অংকের ৫-৭ গুণ অর্থ আদায় করেছেন বলে অভিযোগ আছে। পরবর্তী সময়ে মন্ত্রণালয় এই ঘটনার তদন্ত করে। পরবর্তী সময়ে মন্ত্রণালয় এই ঘটনার তদন্ত করে। মাজিদা রফিকুন্নেসাকে ঢাকায় ডেপুটি চিফ অব প্রটোকল (মিশন সার্ভিসেস) বানানো হয়। এ পদে থাকার সময় তার একটি কন্টেইনার কেলেঙ্কারি সুবিখ্যাত। শুল্ক বিভাগ হাতে-নাতে ধরলেও তিনি তদন্তে ছাড়া পেয়ে যান। পদোন্নতি পেয়ে এখন রাষ্ট্রদূত।

ম্যানিলায় তিনি যা করেছেন, তা একজন কূটনীতিবিদের জন্য মানানসই নয়। অবসরপ্রাপ্ত স্বামী, শিার্থী কন্যা এবং আপন ছোটবোনকে গড়ে বাংলাদেশি ৪৫০০০ হাজার টাকা বেতনে চাকরি দিয়েছেন। এই পদগুলো স্থানীয়দের জন্য বরাদ্দকৃত হওয়ার পরও তিনি কোনো কিছু পরোয়া করেননি। কারণ, বাংলাদেশে এখন নারীদের জয়জয়কার। প্রধানমন্ত্রীসহ প্রভাবশালী সকল মন্ত্রণালয় এখন নারীদের দখলে। বেশ কজন সচিবসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পদস্থ কর্মকর্তারাও নারী। রাষ্ট্রদূত মাজেদা ভেবেছেন, ওপর মহলের সবাই তার ওপর সহানুভূতিশীল আছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাজেদা রফিকুন্নেসার স্বামী আবদুল মান্নান মিয়ার পরিবারের অনেকেই সরকারি কর্মকর্তা। তার ছোট বোন শিা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব। আরেক বোনের স্বামী বিগত বিএনপি সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী মওদুদ আহমদের পিএস ছিলেন। বর্তমানে ওএসডি। আরেক বোন সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তা এ ছাড়া মান্নান মিয়ার অন্যান্য ভাইবোনও সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত। স্ত্রীর কারণে তিনি পরিবারে খুবই নাজুক পরিস্থিতিতে আছেন। রাষ্ট্রদূত মাজেদা ও বিভিন্নভাবে শ্বশুরবাড়িকে হেয় করে থাকেন। একটি বই লিখেছেন তিনি, যেখানে শ্বশুরবাড়ির পরিবারকে প্রতীকীভাবে তুলোধোনা করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পরিবারের এক সদস্য রাষ্ট্রদূত মাজেদাকে ‘ভাইরাস’ ও ‘অর্থলোভী’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
একজন সাবেক রাষ্ট্রদূত বলেন, বর্তমানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনেক যোগ্য কর্মকর্তা থাকলেও অসৎ এবং কম মেধাবীরা লবির জোরে ভালো ভালো জায়গায় পোস্টিং নিয়ে চলে যান। স্টকহোমের মতো জায়গায় পোস্টিং নিয়ে গেছেন জীবনে প্রথমবারের মতো রাষ্ট্রদূত হওয়া একজন। বড় বড় দুর্নীতির তদন্ত হয় না। হলেও কোনো দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয় না। আর এ জন্যই একের পর এক ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটছে। রাষ্ট্রদূতেরা অনেক সময় ভুলে যান যে তারা কার প্রতিনিধি।
ম্যানিলায় যা ঘটেছে, তা দেশের ভাবমূর্তিকে ছোট করেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র অবশ্য বিষয়টি ‘দেখা হচ্ছে’ বলে জানিয়েছেন।

Advertisements

তথ্য কণিকা Jahan Hassan জাহান হাসান
Ekush, Publisher/Editor/ Hollywood media hyphenate/ একুশ নিউজ মিডিয়া, লিটল বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস / 1 818 266 7539 / FB: JahanHassan

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: