‘প্রেম ব্যবসা’

ছাতার নিচে টক-মিষ্টি প্রেম- স্পট : সোহরাওয়ার্দী উদ্যান  

গতকাল দুপুরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, উদ্যানের ভেতরদিকের বেশ কয়েকটি স্পটে লাল-নীল রঙিন সব ছাতা। নিচে বসার জন্য লাল চেয়ার। দেখলে সাগর সৈকতের বেলাভূমির মতো মনে হয়। চেয়ারগুলোতে জোড়ায়  জোড়ায় প্রেমিকযুগল বসে আছে।
 সন্ধ্যার পর এ দৃশ্যাবলী যেন আরো মনোরম। চেয়ারগুলোর চারপাশে লাল কাপড় দিয়ে ঘেরা থাকে। ভেতরে আলো-আঁধারিতে চলে প্রেম-যুগলের প্রেমলীলা। এসব ছাতার নিচের প্রেমকে স্থানীয়রা ‘প্রেম ব্যবসা’ বলেই নাম দিয়েছে। আর সাধারণের আইওয়াশের জন্য এখানে মূলত বেচাবিক্রি হয় চটপটি। কিন্তু টক-ঝাল-মিষ্টি এ ব্যবসার আড়ালে চেয়ারে বসে নিরাপদে চলে প্রেমলীলা। শেষ হলে আয়োজক বা ব্যবসায়ী যা-ই বলা হোক না কেন তাদের হাতে তুলে দিতে হয় একটি নির্দিষ্ট পরিমাণে বিল। মাঝেমধ্যে বাড়তি কিছু।
বাবুল নামের এক দোকানির কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সে জানায়, কাপড়ের ভেতরে বসে আড্ডা মারলে আপনি নিরাপদ। আপনাকে কেউ বিরক্ত করবে না। কিন্তু এর বাইরে পার্কের যেখানেই আড্ডা দিতে বসবেন; সেখানেই আপনাকে বখাটে ছেলেরা উত্ত্যক্ত করবে।
 কখনো কখনো প্রেমিকাকে টানাটানির ঘটনাও ঘটে। কিন্তু এসব চেয়ারে বসে আড্ডা দিলে আপনাকে কেউ বিরক্ত করবে না। কারণ এসব বসার জায়গা নিয়ন্ত্রণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের কতিপয় নেতারা। তাদেরই শেল্টারে এ প্রেম ব্যবসা চলে থাকে। গতকাল দুপুরে পুরো উদ্যানজুড়ে ৫০-৫৫টি চটপটির দোকান দেখা যায়।
 অনেকগুলো আবার গুটিয়ে শিকল দিয়ে একসঙ্গে করে বেঁধে রাখা হয়েছে। দিনের বেলা এসব দোকান বন্ধ থাকে। বিকেলের পরপর খুলে দেয়া হয়। তখন দোকানের সংখ্যা দাঁড়ায় ৭০-৭৫টি।
দোকানি বাবুল, শফিক, মামুন ও বাবর জানান, এখানে দোকান চালাতে প্রতিদিন দোকান প্রতি তাদের ২শ টাকা চাঁদা দিতে হয়।
লোকমান নামের একজন ওই টাকা তুলে ছাত্রনেতাসহ পুলিশকে দিয়ে থাকে। চাঁদার টাকা নিয়ে ছাত্র সংগঠনের দু’গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়াও হয়েছে কয়েকবার। সন্ধ্যার পর বখাটেরা মাদক ব্যবসাও করে ওখানে। এছাড়া ভাসমান অনেক পতিতা এসেও জড়ো হয়।
মাঝে শাহবাগ থানা পুলিশ অভিযান চালালেও পরে আবার দোকান বসে। প্রেমব্যবসা জমজমাট হয়ে ওঠে। তবে স্কুল-কলেজের কোমলমতি ছাত্রছাত্রীদের পাশাপাশি বহিরাগত অনেক প্রেমিক-প্রেমিকারা নিয়মিত আসে এখানে। ফলে চটপটি দোকানিদের এ ‘প্রেম-বাণিজ্য’ বেশ জমজমাট।
এ ব্যাপারে শাহবাগ থানার ওসি জানান, পুলিশ মাঝেমধ্যে অভিযান চালিয়ে এটা বন্ধ করে দেয়। কিন্তু এরপর আবার তারা শুরু করে। তাছাড়া সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অভিযান চালিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের ধরলেও বিভিন্নরকম সমস্যা দেখা দেয়। তবু আমরা সবসময় উদ্যানের পরিবেশ যেন খারাপ না হয়ে যায় সেদিকে খেয়াল রাখি।
একুশ নিউজ মিডিয়া এখন ফেস বুক এ Video News: www.EkushTube.com Visit us on FaceBook

Cheap International Calls


Advertisements

তথ্য কণিকা Jahan Hassan জাহান হাসান
Ekush, Publisher/Editor/ Hollywood media hyphenate/ একুশ নিউজ মিডিয়া, লিটল বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস / 1 818 266 7539 / FB: JahanHassan

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: