বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ক্যালিফোর্নিয়া শাখার সাংবাদিক সম্মেলন


বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ক্যালিফোর্নিয়া শাখার সাংবাদিক সম্মেলন

এপ্রিল ২২, ২০১২
হলিউড, লস এঞ্জেলেস, ইউ এস এ
রিপোর্টঃ জাহান হাসান / লস এঞ্জেলেস

প্রবাসীরা বাংলাদেশে বেড়াতে যেতে, বিনিয়োগে এবং বাংলাদেশে অবস্থানরত পরিবার-পরিজন,আত্তীয়-স্বজনের নিরাপত্তা নিয়ে শংকিত । গুম, হত্যা, খুনের ধারাবাহিকতায় জননেতা ইলিয়াস আলীর মত একজন সাবেক এমপির গুম হয়ে যাওয়া এবং এখনো র্যা ব-পুলিশ এবং অন্যান্য সংস্থা তার খোজ খবর না দিতে পারায় এটা প্রমানিত যে দেশে আজ জানমালের কোনো নিরাপত্তা নাই, সরকার প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যর্থ । আন্তর্জাতিক চাপ, গণমানুষের আন্দোলন এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর পরামর্শ সরকারকে রাষ্ট্রের জনগনের নিরাপত্তা দিতে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে বাধ্য করিতে সক্ষম। তারা অনতিবিলম্বে জননেতা ইলিয়াস আলীকে তার পরিবারের মাঝে – জনগনের মাঝে ফিরিয়ে দিতে সরকারকে আহ্বান জানান, একই সাথে তার গাড়ি চালক আনসার এবং পূর্বে গুম হয়ে যাওয়া সকলের রহস্য উদঘাটনে সত্যিকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে পরিবার পরিজনদের গুম বেদনা থেকে মুক্তি দেবার আহ্বান জানান। তারা টিপাই মুখ বাধ, সীমান্তে হত্যা, বস্তা বস্তা ঘুষের টাকার দুর্নীতি, সাংবাদিক হত্যা, লোড শেডিং, শেয়ার মার্কেট কেলেংকারী, সরকারের প্রভৃতি ব্যর্থতা তুলে ধরে। সরকারের এই তিন বছরের ব্যর্থতায় তারা জনগনকে প্রতিবাদী হয়ে, ইলিয়াস আলীর গুমের প্রতিবাদী আন্দোলনে রাস্তায় থেকে সরকার পতনে জোরালো ভুমিকা রাখার আহ্বান জানান ।

Picture Link:

Visit us on FaceBook একুশ নিউজ মিডিয়া এখন ফেস বুক এ

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল কালিফোর্নিয়া শাখা, যুক্তরাষ্ট্র দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল বাসিতের সভাপতিত্বে, যুগ্ম সম্পাদক নিয়াজ মোহাইমেনের সঞ্চালনে সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্ত্তব্য পাঠ করেন দলের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু আমিন ।
২২ শে এপ্রিল রবিবার হলিউডের এক রেস্টুরেন্টে আয়োজিত এই সাংবাদিক সম্মেলনে আরও বক্ত্তব্য রাখেন দলের সহসভাপতি মুর্শেদুল ইসলাম, শামশুজ্জোহা বাবলু, যুগ্ম সম্পাদক বদরুল আলম শিপলু, বি এন পি নেতা মাহতাব আহমেদ, শাহীন আহমেদ, সাইফুল ইসলাম চপল, মারুফ খান, আলমগীর হোসাইন, এম ওহিদ রহমান, লায়েক আহমেদ, প্রমুখ. সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বি এন পি নেতা শাহীন রহমান, আহসান হাফিজ রুমি, ফারুক হাওলাদার, মার্শাল, বদরুল, মুনিম আহমেদ, লিয়াকত হোসেন, এরশাদ হোসেন, জুনেল আহমেদ, মন্টু, প্রমুখ. সাংবাদিকদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন লস এঞ্জেলেসের প্রখ্যাত সাংবাদিক জাহান হাসান, মাশহুরুল হুদা, এম হোসেন বাবু , প্রমুখ ।
বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচির অংশ হিসাবে যুক্তরাষ্ট্র ক্যালিফোর্ণিয়া বিএনপি বাংলাদেশ কন্স্যুলেট অব লস এঙ্গেলেস কন্সাল জেনারেলের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি বরাবরে ইলিয়াস আলীর মুক্তির দাবিতে একটি স্মারকলিপি পেশ করে।

BNP California

BNP California


গুমের ঘটনা ভীতিকর ও উদ্বেগজনক :মজীনা

লেখক: বিশেষ প্রতিনিধি | বুধবার, ২৫ এপ্রিল ২০১২, ১২ বৈশাখ ১৪১৯

বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস আলীর ‘গুম’ হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনা বলেন, ‘গুম হওয়ার ঘটনা ভীতিকর অভিজ্ঞতা। সবার সঙ্গে আমিও খুব উদ্বিগ্ন। এটা মৌলিক মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঘন। এটা শোচনীয় ও দুঃকজনক ঘটনা। আশা করি সংশ্লিষ্ট সবাই সংযম ও সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে ইলিয়াস আলীকে খুঁজে বের করতে একযোগে কাজ করবেন।’ তিনি বলেন, কেবল নিখোঁজ ব্যক্তির জন্য নয়, তার পরিবারের জন্যও এটা উদ্বেগজনক।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত বিকালে তার গুলশানের বাসভবনে কয়েকজন সাংবাদিকের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন। গত ১৯ এপ্রিল ঢাকায় অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র প্রথম নিরাপত্তা সংলাপ’ সম্পর্কে অবহিত করতে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন ড্যান মজীনা। তিনি প্রশ্নের জবাবে বলেন, আগামী সংসদ নির্বাচনের আগে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোকে একযোগে কাজ করতে হবে। প্রকৃত ও আন্তরিক সংলাপের মাধ্যমে নির্বাচনের পথ খুঁজে বের করতে হবে। আমি গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। বিশ্বাস করি বাংলাদেশ গণতন্ত্রের জন্যই। এখানকার মানুষ রাজনৈতিকভাবে খুবই সচেতন ও প্রগতিশীল। গণতন্ত্র এখানকার শিকড়ে গ্রোথিত এবং দেশটির ভবিষ্যত্ও গণতান্ত্রিক। দলগুলোকে গণতান্ত্রিক পথে অগ্রসর হতে হবে।

BNP leader M Elias Ali disappeared:
Reaction: BNP Of California

BNP leader M Elias Ali disappeared:
Reaction: BNP Of California


Visit us on FaceBook Pic Link

বিশ্বের প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির মধ্যে স্থান করে নিয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সালমান খান


যুক্তরাষ্ট্রের টাইম ম্যাগাজিন নির্বাচিত বিশ্বের প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির মধ্যে স্থান করে নিয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সালমান খান

Salman Khan started his online “Khan Academy” to help a young cousin learn math. Now his online YouTube math, science as well as history and economics videos have garnered 22 millions views worldwide.

শিক্ষকের ভূমিকায় সালমান

 সালমান খান

সালমান খান


যুক্তরাষ্ট্রের টাইম ম্যাগাজিন বর্তমান পৃথিবীর সবচেয়ে প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির সমপ্রতি যে তালিকা প্রকাশ করেছে, যাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন, ধনকুবের ওয়ারেন বাফেটের মতো ব্যক্তিদের পাশে উঠে এসেছে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণ সালমান খানের নাম!
খান একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা সালমান খানের প্রশংসায় পঞ্চমুখ আজ গোটা বিশ্ব। টাইমের এই তালিকায় সালমানের জীবনী লিখেছেন স্বয়ং বিল গেটস। অথচ যাঁকে নিয়ে আজ এত হইচই, সেই সালমান আজ থেকে সাত বছর আগেও জানতেন না তাঁর জন্য ভবিষ্যৎ কী নিয়ে অপেক্ষা করছে! ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব আইটি (এমআইটি) থেকে তিন বিষয়ে স্নাতক আর হার্ভার্ড বিজনেস স্কুল থেকে এমবিএ শেষ করে তাঁর দিনরাত ব্যবসা জগতের জটিল হিসাব-নিকাশেই কেটে যেত। নিয়মমাফিক জীবনে বাদ সাধল ছোট্ট কাজিন নাদিয়া, অঙ্ক নিয়ে বড়ই হিমশিম খাচ্ছে সে। অগত্যা বড় ভাই সালমান সিলিকন ভ্যালির অ্যাপার্টমেন্টে বসে ইন্টারনেটে নিউ অরলিন্সে থাকা নাদিয়াকে অঙ্ক শেখানো শুরু করলেন। আস্তে আস্তে আরও অনেকে সালমানের কাছে পড়তে আগ্রহী হয়ে উঠল। এতজনকে কীভাবে একসঙ্গে শেখানো যায়! ভাবতে ভাবতে সালমান কিছু টিউটরিয়াল ভিডিও বানিয়ে ইউটিউবের ওয়েবসাইটে তুলে দিলেন। সেটা ২০০৬ সালের কথা। আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। ভিডিওগুলোর জনপ্রিয়তা আর এভাবে পাঠদানের সম্ভাবনা বুঝতে পেরে ২০০৯ সালে সবকিছু ছেড়ে পরিপূর্ণভাবে আত্মনিয়োগ করে শুরু করেন ‘খান একাডেমি’।

২০০৯ সালেই মাইক্রোসফটের পক্ষ থেকে সালমান লাভ করেন শিক্ষা ক্ষেত্রে প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য সম্মানসূচক পুরস্কার। ২০১০ সালে গুগল খান একাডেমির ভিডিওগুলোকে পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদের জন্য ২০ লাখ ডলারের অর্থ সহায়তা প্রদান করে। একই বছর ফোর্বস ম্যাগাজিনের প্রকাশিত ৪০ বছরের কম বয়সী পৃথিবীর সবচেয়ে সম্ভাবনাময় ৪০ জন ব্যক্তির তালিকায় নিজের স্থান করে নেন সালমান। বিল গেটসের উপস্থাপনায় টিইডি সম্মেলনে খান একাডেমি নিয়ে বক্তব্য দেন তিনি।

একের পর এক সম্মানসূচক অর্জনের ধারাবাহিকতায় এবার যোগ হলো আরেকটি নতুন পালক, টাইম ম্যাগাজিনের প্রভাবশালী ১০০ জনের তালিকায় স্থান করে নেওয়া। বিশ্বজুড়ে নতুন প্রজন্মের কাছে তিনি এখন এক অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব। তাই বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সমাবর্তন বক্তা হিসেবেও ডাক পড়ছে সালমানের। আগামী মাসেই যুক্তরাষ্ট্রের রাইস বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে বক্তব্য দেবেন তিনি, জুনে যাবেন তাঁর নিজের বিশ্ববিদ্যালয়, এমআইটিতে।
শুধু বড় বড় পুরস্কার আর সম্মাননাই নয়, সালমান খান এক বৈপ্লবিক শিক্ষাপদ্ধতির সূচনা করে জয় করে নিয়েছেন সাধারণ মানুষের হূদয়। প্রতিমাসে অসংখ্য মানুষের চিঠি আর ই-মেইল আসে খান একাডেমিতে। এক মা সালমানকে লিখে জানান, ‘আমার একটি ১২ বছরের অটিস্টিক ছেলে আছে। অঙ্ক করতে খুব সমস্যা হয় ওর। আমরা কোনো কিছুই চেষ্টা করতে বাদ রাখিনি। অনেক কিছু কিনে এনেছি, অনেক কিছু ব্যবহার করে ওকে শেখাতে চেয়েছি, কিন্তু পারিনি। একদিন ইন্টারনেটে এই ভিডিওগুলো আমার চোখে পড়ে। প্রথমে দশমিকের ভিডিওটা আমি ওকে দেখাই। মনে হলো, ও বেশ বুঝতে পারছে! তারপর আমরা ভগ্নাংশ শুরু করি। আমার ছেলে যে এখন কত খুশি, আমি তা বোঝাতে পারব না!’ এমন অনেক ভালোবাসায় প্রতিনিয়ত সিক্ত হন সালমান। ব্লুমবার্গ বিজনেসউইক তাঁকে নিয়ে লিখেছে, ‘খান একাডেমিই সম্ভবত পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় টিউটরিয়াল-ভিত্তিক ওয়েবসাইট। প্রতিমাসে যেখানে এমআইটির তৈরি ‘ওপেনকোর্সওয়্যার’ সাইট প্রায় ১০ লাখ মানুষ ব্যবহার করে, সেখানে খান একাডেমির ব্যবহারকারী ২০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে অনেক আগেই।’

ইন্টারনেট-ভিত্তিক এক জরিপে বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় শিক্ষামূলক পাঁচটি ওয়েবসাইটের মধ্যে অনলাইন বিশ্বকোষ উইকিপিডিয়া, বিবিসির ইংরেজি ভাষা শেখার প্রোগ্রম আর ভিন্নধর্মী বক্তৃতার অনন্য সংকলন টিইডি টকসের পাশাপাশি রয়েছে সালমানের খান একাডেমি।

টাইম ম্যাগাজিন এক প্রবন্ধে সালমান খানকে তুলনা করেছে এন্ড্রু কার্নেগির সঙ্গে, যিনি সেই ১৯০০ শতাব্দীতে নিজের চেষ্টায় সারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গড়ে তুলেছিলেন প্রায় এক হাজার ৭০০ গণগ্রন্থাগার। মার্কিনিদের কাছে এ শতাব্দীর এন্ড্রু কার্নেগি এখন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সালমান খান।

এবারের টাইমের প্রকাশিত তালিকায় উঠে এসেছে ৩৭টি দেশের খ্যাতনামা ব্যক্তিদের নাম। যে তালিকায় আছেন অ্যাপলের সিইও টিম কুক, ফেসবুকের সিওও শেরিল স্যান্ডবার্গ কিংবা ফুটবলের তরুণ জাদুকর লিওনেল মেসি, সেই তালিকায় নিজের স্থান করে নিয়ে সালমান গর্বিত করেছেন বাংলাদেশকে। খান একাডেমির মাধ্যমে তিনি এ দেশের হাজারো সম্ভাবনাময় তরুণকে স্বপ্ন দেখতে উজ্জীবিত করছেন। অর্থ, ক্ষমতা বা খ্যাতির জন্য অন্য উপায় বেছে না নিয়ে, বিতর্কের ঊর্ধ্বে উঠেও যে কতটা প্রভাবশালী হওয়া যায়, তা-ই আরেকবার প্রমাণ করে দিলেন তিনি। সব সময় প্রচলিত নিয়মে পথ চলাই যে সবকিছু নয়, নিয়মনীতিকে ভেঙেচুরে নতুন কিছু গড়ে যে সত্যিই পৃথিবীকে বদলে দেওয়া যাতে পারে, আজ তার অনন্য উদাহরণ আমাদের গৌরব সালমান খান।

swapno.lekhok@gmail.com

অনবদ্য কবিতা সন্ধ্যা ২০১২


Bangladesh Reders & Writers Forum
Kobita Shondha in Los Angeles 2012
Full Program:

কবিতার ভাষা হোক সমাজ বদলের হাতিয়ার।
সাংস্কৃতিক বিপ্লবের মাধ্যমে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক অপ-সংস্কৃতির মোকাবেলা করার শপথে লস এঞ্জেলেস এ বাংলাদেশ রিডার্স এন্ড রাইটার্স ফোরামের অনবদ্য কবিতা সন্ধ্যা

Picture Link:

Visit us on FaceBook একুশ নিউজ মিডিয়া এখন ফেস বুক এ

মানুষ চিকিৎসা নিতে ‘অমানুষ’দের কাছেই যাবে


চিকিৎসা ব্যবস্থা

মানুষ চিকিৎসা নিতে ‘অমানুষ’দের কাছেই যাবে

মশিউল আলম | তারিখ: ১১-০৩-২০১২
হেলথ ওয়াচ নামের এক বেসরকারি সংস্থার গবেষণা প্রতিবেদনের তথ্য: বাংলাদেশে একজন চিকিৎসক গড়ে প্রতিটি রোগীর পেছনে সময় দেন মাত্র ৫৪ সেকেন্ড।

হেলথ ওয়াচের সমীক্ষার হিসাবে, বাংলাদেশে ২০১০ সালে মোট ছয় হাজার কোটি টাকার ওষুধ বিক্রি হয়েছে। বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাকোলজি বিভাগের একজন শিক্ষক ও গবেষক বলেন, এর অর্ধেকটাই, তিন হাজার কোটি টাকার ওষুধ অতিরিক্ত, অপ্রয়োজনীয়; ‘ইর্র‌্যাশনাল ইউজ অব ড্রাগ’ বা ওষুধের অযৌক্তিক ব্যবহার।

কিন্তু এটা কেমন করে ঘটে? কেন ঘটে?

বাংলাদেশে বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির মোট বিশ হাজারের মতো মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ আছেন, তাঁরা নিজ নিজ কোম্পানির ওষুধ বিপণনে চিকিৎসকদের মন জয় করতে তীব্র প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। তাঁরা অতি উচ্চ মাত্রায় ‘টার্গেট ওরিয়েন্টেড’, টার্গেট পূরণের জন্য চিকিৎসকদের নানা ধরনের ‘প্রণোদনা’ দিয়ে থাকেন। ওষুধ কোম্পানিগুলো চিকিৎসকদের সম্পর্কে তথ্য রাখে, তাঁদের দেওয়া ব্যবস্থাপত্র মনিটর করে। ওষুধ কোম্পানিগুলোর বেপরোয়া বিপণন তৎপরতার ফলে ১৯৯৪ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে ওষুধ বিক্রির পরিমাণ বেড়েছে চার গুণেরও বেশি। ওষুধ বেশি বিক্রি হলে কোম্পানির লাভ, চিকিৎসকেরও লাভ। তাই ওষুধ বিক্রি না বাড়ার কোনোই কারণ নেই।

রোগী চিকিৎসকের কাছে গেলেই তাঁকে নানা ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাগজ ধরিয়ে দেওয়া হয়। কোনো কোনো চিকিৎসক উল্লেখ করে দেন কোন প্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষাগুলো করিয়ে আনতে হবে। সাধারণ মানুষের ধারণা, চিকিৎসকেরা ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর কাছ থেকে ‘কমিশন’ পেয়ে থাকেন। এ বিষয়ে এখনো কোনো গবেষণা-সমীক্ষার খবর পাওয়া যায়নি। কিন্তু মানুষের সাধারণ ধারণার যে কোনো ভিত্তি নেই, তা বলা যায় না।

রোগী চিকিৎসকের কাছে গেলে চিকিৎসক তাঁকে ডায়াগনস্টিক পরীক্ষাগুলো করতে পাঠান, তখন ভিজিট নেন, তারপর যখন রিপোর্টগুলো দেখেন, তখন আবারও ভিজিট নেন (প্রথমবারের চেয়ে কম)। অস্ত্রোপচারের রোগী অস্ত্রোপচারের পর যতবার ডাক্তারের কাছে যাবেন, ততবার ডাক্তার টাকা নেবেন। হাসপাতাল/ক্লিনিকে ভর্তি থাকলে রোগী ওই ডাক্তারের আর দেখাই পাবেন না, কালেভদ্রে তাঁর জুনিয়র কলিগ বা ছাত্ররা এসে রোগীকে এক নজর দেখে যাবেন। রোগীর মনে হবে, তিনি কাঙাল, টাকা দিয়ে চিকিৎসা কিনতে আসেননি, করুণা ভিক্ষা করতে এসেছেন। তখন তাঁর মনে হবে, ডাক্তার মানুষ না, টাকা বানানোর যন্ত্র। তিনি বলে বেড়াবেন, ‘টাকা দিয়েও চিকিৎসা পাবেন না, এমন জায়গা আমি আপনাকে দেখাতে পারি।’ (এক পাঠকের মন্তব্য)।

সরকারের বেতনভুক চিকিৎসক সরকারি হাসপাতালে দায়িত্ব পালনের চেয়ে ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখায় বেশি আগ্রহী; হাসপাতালের পদ-পদবি তিনি ব্যবহার করেন প্রাইভেট প্র্যাকটিসের পক্ষে সহায়ক ‘সাইনবোর্ড’ হিসেবে। এ প্রসঙ্গে বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কিছু চিকিৎসক সম্পর্কে এমন গুরুতর কিছু অভিযোগ শুনেছি, যা ফৌজদারি অপরাধের শামিল।

ঢাকায় একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ভিজিট ফি ৭০০-৮০০ টাকা, গ্রামাঞ্চলে ৪০০-৫০০ টাকা। মানুষ মনে করে, এটা ‘গলাকাটা ফি’। এত টাকা কেন নেওয়া হয়? কে নির্ধারণ করে দিয়েছে ৮০০ টাকা বা ৫০০ টাকা ভিজিট ফি? আর সেটা রাতারাতি ৫০০ টাকা থেকে এক লাফে ৮০০ টাকায় উঠলে কিছু বলার বা করার কেউ কি আছে? তা ছাড়া, চিকিৎসকেরা কি ভিজিটের টাকা নিয়ে রোগীকে রসিদ দেন? যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক প্রাইভেট চেম্বারে বসে এক সন্ধ্যায় চল্লিশ-পঞ্চাশ জন রোগী দেখেন, তাঁর দৈনিক আয় কত? তিনি আয়কর বিভাগকে কী হিসাব দেন?

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান কক্সবাজার সদর হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে অনিয়ম দেখে মন্তব্য করেছিলেন, ‘ডাক্তাররা অমানুষ, গরিবের রক্তচোষা’। এতে চিকিৎসক সমাজের পক্ষ থেকে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করা হলে মিজানুর রহমান প্রথম আলোয় ‘আমার মন্তব্য দেশের সব চিকিৎসক সম্পর্কে নয়’ শিরোনামে একটা লেখা প্রকাশ করেছেন (৯ মার্চ)। সে লেখায় তিনি বলেছেন, ‘বক্তব্যে কোনো চিকিৎসক আহত হয়ে থাকলে আমি দুঃখিত’। প্রথম আলোর অনলাইন সংস্করণে তাঁর এই লেখার পাঠক-প্রতিক্রিয়ায় অনেক পাঠক লিখেছেন, তাঁর দুঃখ প্রকাশের প্রয়োজন ছিল না, কারণ তিনি ভুল বা অন্যায় কিছু বলেননি। এমনকি কেউ কেউ লিখেছেন, তিনি যেন তাঁর ওই বক্তব্য থেকে বিচ্যুত না হন। এর আগে ৬ মার্চ প্রথম আলোয় প্রকাশিত এক প্রতিক্রিয়ায় বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের ডিন অধ্যাপক এ বি এম আবদুল্লাহ লিখেছিলেন, মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান চিকিৎসকদের সমালোচনা করতে গিয়ে ‘যে ভাষা ব্যবহার করেছেন তা সুস্পষ্ট মানবাধিকারের লঙ্ঘন’। অনলাইন সংস্করণে ওই লেখার পাঠক-প্রতিক্রিয়াগুলোর অধিকাংশই মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানের বক্তব্যকে সমর্থন করে, এমনকি কোনো কোনো পাঠক আরও কঠোর ভাষা ব্যবহার করে চিকিৎসকদের সমালোচনা করেছেন। চিকিৎসকদের সম্পর্কে ‘কসাই’, ‘ডাকাত’ ইত্যাদি কঠিন কঠিন শব্দ ব্যবহার করেছেন কেউ কেউ। ডা. আবদুল্লাহর বক্তব্যকে সমর্থন করে যাঁরা প্রতিক্রিয়া লিখেছেন, তাঁদের অধিকাংশই চিকিৎসক বা চিকিৎসা শিক্ষার সঙ্গে জড়িত। চিকিৎসক সমাজের সদস্যরা ছাড়া অবশিষ্ট জনগণ চিকিৎসকদের সম্পর্কে কী ধারণা পোষণ করে—তার একটা মোটা দাগের চিত্র পাওয়া যায় ডা. আবদুল্লাহর ও মিজানুর রহমানের ওই দুটি লেখার পাঠক প্রতিক্রিয়াগুলো থেকে।

মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান যদি তাঁর মন্তব্যের সঙ্গে ‘এক শ্রেণীর ডাক্তার’ বা ‘ডাক্তারের একাংশ’ বা ‘ডাক্তারদের কেউ কেউ’ শব্দবন্ধ জুড়ে দিতেন, তাহলে এ নিয়ে কোনো বিতর্কের সৃষ্টি হতো না, চিকিৎসক সমাজও এতটা ক্ষুব্ধ হতেন না। সে রকম বলাই তাঁর উচিত ছিল। কিন্তু ‘আবেগতাড়িত হয়ে’ উক্তিটি করার সময় কূটনৈতিক ভব্যতার বিষয়টি তাঁর মাথায় আসেনি বলে তিনি বিরাট বড় অন্যায় করে ফেলেছেন তা-ও বলা ঠিক হবে না। কোনো জনগাষ্ঠীর সুখ্যাতি বা কুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে ওই গোষ্ঠীর সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের দৃশ্যমান বৈশিষ্ট্য বা আচরণের কারণে। ‘বাংলাদেশের মানুষ গরিব’—এমন কথা বললে এটা বোঝায় না যে বাংলাদেশের প্রত্যেকটা মানুষই গরিব, একজনও ধনী লোক নেই। বা লোকে যখন বলে ‘ব্রিটিশ পুলিশ ভালো’—তখন এটা বোঝায় না যে ব্রিটিশ পুলিশের প্রত্যকটি সদস্যই ভালো। আমাদের চিকিৎসকদের কত শতাংশ ‘অমানুষ’ ও ‘রক্তচোষা’র মতো ব্যবহার করলে চিকিৎসকেরা অমানুষ ও রক্তচোষা, এমন কথা বলা অন্যায় হবে না?

ডা. আবদুল্লাহ ক্ষুব্ধ সুরে লিখেছেন, ‘রোগীরা কি মানবাধিকার কমিশনে গিয়ে স্বাস্থ্যসেবা নেবেন?’ একজন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপকের এই কথায় যে অচিকিৎসকসুলভ চিন্তাধারার প্রকাশ ঘটে, তা বিস্ময়কর ও মর্মান্তিক। ডা. দেবপ্রসাদ অধিকারী নামের এক চিকিৎসক-পাঠকের মন্তব্যেও একই মানসিকতার প্রকাশ: ‘ঈশ্বর না করুন, রাত তিনটায় চেয়ারম্যান সাহেব অসুস্থ হলে তাঁকে কিন্তু কোনো রক্তচোষার কাছেই দৌড়াতে হবে। মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান হয়ে অমানুষদের কাছে দৌড়ানো শোভা পায় না।’ মনে প্রশ্ন জাগছে: মানবাধিকার সম্পর্কে, চিকিৎসক পেশার নৈতিক স্বরূপ সম্পর্কে এ রকম চিন্তাধারাই কি চিকিৎসকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে? ডা. আবদুল্লাহর লেখাটির প্রতিক্রিয়ায় আরেক পাঠক লিখেছেন, ‘চিকিৎসক পেশার সাথে অন্য পেশার যে বিশাল তফাৎ তা তো এই লোক নিজেই বোঝে না—ছাত্রদের কি ছাই বোঝাবে?’

অধিকাংশ পাঠকের মতে, মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান জনগণের মনের কথাই বলেছেন—এটাই আসলে বিবেচনার মূল বিষয়। চিকিৎসকেরা এখন নিজেদের মনকেই জিজ্ঞাসা করতে পারেন, ‘জনসাধারণ আমাদের অমানুষ ও রক্তচোষা মনে করে কেন?’

এই আত্মজিজ্ঞাসা খুব জরুরি, কারণ সমাজে চিকিৎসক পেশার মর্যাদা, অনেকে বলেন, সৃষ্টিকর্তার পরেই: মানুষের প্রাণ ও সুস্থতা নিয়ে চিকিৎসকের কাজ। চিকিৎসকদের সঙ্গে সমাজের আর কোনো পেশাজীবী গোষ্ঠীরই তুলনা চলে না। চিকিৎসকের ঘুম নেই, খাওয়ার সময় নেই, স্ত্রী-সন্তানদের জন্য সময় নেই। কারণ মানুষের জীবন বাঁচানো এসবের চেয়ে অনেক অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এসব জেনে-বুঝেই একজন মেধাবী শিক্ষার্থী সিদ্ধান্ত নেন যে তিনি চিকিৎসক হবেন। মানুষের এই ধারণা ও প্রত্যাশা কী মাত্রায় আঘাত পেলে চিকিৎসকদের সম্পর্কে অমানুষ, গরিবের রক্তচোষা, কসাই, ডাকাত ইত্যাদি শব্দ তারা ব্যবহার করতে পারে—এই জিজ্ঞাসা চিকিৎসকদের মনে জাগা উচিত।

চিকিৎসকদের মধ্যে যাঁরা সৎ ও মানবিক, যাঁরা চিকিৎসা পেশার প্রকৃত নৈতিক স্বরূপ আন্তরিকভাবে উপলব্ধি করেন, আমার বিশ্বাস, মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানের মন্তব্যে তাঁরা ক্ষুব্ধ হননি। কারণ, তাঁরা জানেন, মন্তব্যটি তাঁদের জন্য প্রযোজ্য নয়। এক পরিচিত চিকিৎসক আমাকে টেলিফোন করে বললেন, ‘মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানের কাছে আমার অসংখ্য ধন্যবাদ পৌঁছে দেবেন; তাঁর এই মন্তব্যে যদি অমানুষ ও রক্তচোষাদের একটুখানি হলেও টনক নড়ে।’

মশিউল আলম: সাংবাদিক

mashiul.alam@gmail.com

ডাক্তাররা অমানুষ, গরিবের রক্তচোষা: মিজানুর


ডাক্তাররা অমানুষ, গরিবের রক্তচোষা: মিজানুর
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান কক্সবাজার সদর হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবার বেহাল দশায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ডাক্তাররা অমানুষ, গরিবের রক্তচোষা।’ আজ সোমবার সকালে ২৫০ শয্যার ওই হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, এই হাসপাতালের সব ডাক্তারের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে দায়িত্ব পালনে অবহেলা ও নানা অনিয়মের দায়ে অভিযুক্ত কয়েকজন চিকিত্সককে রোগীদের সামনে ‘অমানুষ’ হিসেবে ভর্ত্সনা করে মিজানুর রহমান বলেন, ‘গরিবের রক্ত চুষে আপনারা (চিকিত্সকরা) বড় লোক হচ্ছেন। কর্মস্থল ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন ক্লিনিকে বসে প্রাইভেট ব্যবসা করছেন। আপনাদের আর কত বাড়ি গাড়ির দরকার? গরিব রোগীরা যদি ফুঁসে ওঠে, বিপদে পড়বেন। ঢাকায় ফিরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বরাবর এই অনিয়মের নালিশ করা হবে।’
আজ সকাল সাড়ে নয়টায় হঠাত্ করে এই সদর হাসপাতালে হাজির হন মিজানুর রহমান। প্রথমে তিনি ব্লাড ব্যাংক কক্ষে ঢুকে টেবিলের ওপর বেশ কিছু ব্যবহূত সুই-সিরিঞ্জ পড়ে থাকতে দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি দেখতে পান, একই সিরিঞ্জ দিয়ে একাধিক ব্যক্তির রক্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে। পরে তিনি দাঁড়িয়ে থেকে এসব সুঁই-সিরিঞ্জ ফেলে দেন।
এরপর তিনি জরুরি বিভাগ, পর্যবেক্ষণ কক্ষ, পুরুষ ওয়ার্ড পরিদর্শন করেন। তিনতলার শিশু ওয়ার্ডে গেলে কুলসুমা নামের এক রোগী অভিযোগ করেন, ঠিকমতো অসুস্থ শিশুপুত্রের চিকিত্সা পাচ্ছেন না। চিকিত্সকের দেখা মেলে না। বাইরে থেকে খাবার ও ওষুধ কিনে ছেলেকে খাওয়াতে হচ্ছে। টয়লেট, ওয়ার্ডের মেঝে নোংরা ও দুর্গন্ধযুক্ত। হাসপাতালের বিছানার বালিশ ও চাদর রোগীদের ঘর থেকে এনে ব্যবহার করতে হচ্ছে।
রোগীদের অভিযোগ প্রসঙ্গে মিজানুর রহমান উপস্থিত হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মাহবুবুর রহমানের কাছে জানতে চান, অভিযোগ সত্য কি না? মাহবুব সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে অভিযোগ সত্য নয় বলে জানান। ওই চিকিত্সকের সঙ্গে তাঁর বাক-বিতণ্ডা হয়। মিজানুর রহমান উত্তেজিত স্বরে সরকারি এই হাসপাতালের চিকিত্সক কী করে বেসরকারি হাসপাতাল ‘ডিজিটাল মেডিকেল সেন্টারে’ গিয়ে রোগী দেখেন, সে ব্যাপারে প্রশ্ন তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
পরিদর্শন শেষে মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রায় সব হাসপাতালে কিছু না কিছু সমস্যা থাকে। কিন্তু কক্সবাজারের এই হাসপাতালে যা দেখলাম, এখানে রোগীরা মোটেও সেবা পাচ্ছেন না। এই হাসপাতালের চিকিত্সকেরা প্রাইভেট ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত। বিনামূল্যের সরকারি ওষুধ রোগীরা পাচ্ছেন না। এই হাসপাতালের সব চিকিত্সকের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। ঢাকায় গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বরাবরে এই অভিযোগ করা হবে।’
অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘উনি (মিজানুর রহমান) সম্মানিত ব্যক্তি। হাসপাতালে সমস্যা থাকতে পারে, তাই বলে প্রকাশ্যে ঢালাওভাবে চিকিত্সকদের দায়ী করা ঠিক হচ্ছে না। হাসপাতালের দায়িত্ব শেষ করেই চিকিত্সকেরা বাইরের ক্লিনিক বা হাসপাতালে গিয়ে রোগী দেখেন। এটা দোষের কিছু না।’

——————————-

mamunur rashid
২০১২.০২.২৭ ২৩:২০
শোনেন শোনেন সবাই শোনেন দিয়া মন….।
এবার আমি খুলিয়া দিব আপনাদের চোখ।
আমরাযে ডাক্তারি পড়ি বেতন কত জানেন? ২১ টাকা মাসে।১৯৮৯-২০০০ সালের হিসাব আমি জানি। এখনো হয়তো সেই একই।। খরচকত হয়? আল্লামালুম সে জানে। টাকা কোথা থেকে আসে? গরিবের, আমজনতার টাক্সের টাকা। খেটে খাওয়া মানুসের টাকা। আমরা হলে সিট ভাড়া দিতাম ২৫ পয়সা মাসে। এই ডাক্তার নামের জীব আমরা পাস করে দেশে বসে ওই গরিব জনতার রক্ত খেতে বসি না হয় বিদেশে পাড়ি জমাই। খেটেখাওয়া মানুস গুলোর কোথাও কোন স্থান নাই। সরকারি হাসপাতাল? সেখানে চিকিতসা পায় তারা যাদের খমতা আছে। জমি জমা বেচে ডাক্তার দেখাতে পারলেও একটা সান্তনা ছিল। আমরা ডাক্তার জীব ভিসিট তো নেই তার সাথে করি কমিশন নামের ভয়ানক রক্তচোষা ব্যবসা। ধরেন ৫০০০ টাকা টেষ্ট করলেন, তার ২৫০০ টাকাই চলে আসে আমাদের পকেটে। যেখানে আমাদের কোন হক নাই। আর আমরা যারা বিদেশ চলে আসি সেই খেটে খাওয়া মানুষের টাকা মারে দিয়ে। তাদের নিয়ে কি করা যায়, সেটা নিয়েও আজ আমাদের ভাবতে হবে।
উধাহরন হিসাবে বলি। আমেরিকেতে দুই ধরনের খরচে ডাক্তারি পড়তে। এক নিজের পকেটের টাকা সেটা বাপের হোক আর লোন করে হোক। সেটা না হলেও ২ লাখ ডলার। ফ্রীও পড়া যায় সেটার জন্য ছাত্রকে আর্মি বা নেভীতে যোগ দিতে হবে। তাদের পয়সায় পড়তে হবে। বিনিময়ে ১০ বতসর তাদের চাকরি করতে হবে। বিশেষ মেধাবিদের কথা এখানে বলছিনা।
আমাদেরগরিব দেশের জন্য সেরকম কিছু করার সময় এসেছে। ২৫ টাকার বেতন? তামাসা ছাড়া আর কি? তাই তো রক্ষক না হয়ে আমরা ভক্ষক।
আমিআমার সেক্ট্ররের কথা বললাম। ভাই আসুন আমরা সবাইসবার পেশার কথা বলি। জনগনকে জানাই তারা কি করছে আর আমরা বিনিময়ে কি দিচ্ছি তাদের। সবাই শুধু ডাক্তার না। সব পেশাজীবি। সাংবাদিক ভাইদের বলব ভাই আমাদের দিয়ে শুরু করুন। খুনী খুন করে হাতে গোনা আর ডাক্তারের খুনের সঙ্খার কোন হিসাব নাই, বিচার নাই।

News Link: http://www.prothom-alo.com/detail/date/2012-02-27/news/228209

ভালোবাসার শক্তি ও স্বাস্থ্যকুশল


ভালোবাসার শক্তি ও স্বাস্থ্যকুশল


তার নাড়ি দ্রুত হলো, চোখ দুটো উজ্জ্বল হয়ে উঠল, পাকস্থলীর ভেতরে প্রজাপতি উড়তে শুরু করল; যখন সে কাছে এসেছে। সে মনোযোগ দিতে পারে না, তবে খেয়ালও করে না।
সে উচ্ছল, মাথা ঝিমঝিম করছে তার, আনন্দে উৎফুল্ল। একে কি প্রেম বলে?
‘ঠিক তা নয়, তবে হতে পারে এটি সূচনা।’ হুস্টনে ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস স্কুল অব পাবলিক হেলথের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ইমেরিটাস ব্লেয়ার জাসটিস বলেন, এই আচরণ প্রেম বা ভালোবাসার সূচনা পর্যায়ে হয় সচরাচর, একে বলে ‘প্রেমের মোহে পড়া’।
অন্ধ প্রেমেও নাকি এমন হয়। ‘ভালোবাসা কীভাবে আমাদের স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করে’—এ সম্পর্কে পাঁচটি পুরস্কার বিজয়ী বই লিখে খ্যাত ব্লেয়ার জাসটিস। ভালোবাসা সম্পর্কে আমাদের দেশেও কবি-সাহিত্যিক কত পদ্য ও গদ্য রচনা করেছেন, এ সম্পর্কে মানুষের কৌতূহল, অনুসন্ধিৎসাও কম নয়। ‘ভালোবাসা কারে কয়, সে কি কেবলই যাতনাময়’—এমন অভিজ্ঞতাও আছে অনেকের। ভালোবাসা নিয়ে মজার কথাও আছে: ১৯৮৮ সালে ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা রোমান্টিক প্রেমের তিনটি রকমফেরও করেছেন। অন্তরঙ্গতা, দায়বদ্ধতা, প্রতিশ্রুতি, প্যাশন—সব উপকরণ মিলিয়েই রোমান্টিক প্রেম।
ভালোবাসা যখন গবেষণাগারে
কী ধরনের ভালোবাসার অভিজ্ঞতা হবে, তা বড় কথা নয়, ভালোবাসা না থাকার চেয়ে ভালোবাসা থাকা ভালো, তা বড় হিতকরী।
এর মূলে রয়েছে রসায়নের খেলা: শরীরের ওপর এর হিতকরী প্রভাব কম নয়। অনুরাগ ও আসক্তি মগজের রসায়নের মূলে নিহিত।
তেমন একটি রাসায়নিক হলো এনডোর্ফিন। ১৯৭৫ সালে প্রথম আবিষ্কৃত এই রাসায়নিকটি দেহ প্রতিরোধব্যবস্থা উন্নত করে, ব্যথা উপশম করে, চাপ প্রশমিত করে, বার্ধক্যের প্রক্রিয়া বিলম্বিত করে। এনডোর্ফিন হর্ষোৎফুল্ল করে আমাদের। ব্যায়াম ও শরীরচর্চা আরও উদ্দীপিত করে এনডোর্ফিন নিঃসরণ। এমনকি দূরপাল্লার দৌড়ে এনডোর্ফিনের জন্য ব্যথা ও অবসন্নতা বোধ ঘটে না, বরং দৌড়ের শেষে নিজেকে মনে হয় নমনীয় ও শক্তিমান।
যখন ভালোবাসা ও এনডোর্ফিন নিঃসরণ উদ্দীপ্ত করে
ভালোবাসার উষ্ণ যন্ত্রণা বরং শক্তি দেয় মানুষকে।
এনডোর্ফিন তীব্রতর হয়; আরও রাসায়নিক ক্রমে চড়া হয়ে ওঠে, আসে আমোদ উৎপাদক হরমোন রাসায়নিক ‘ডোপামিন’ ও নরইপিনেফ্রিন, এই নিউরোট্রান্সমিটারটি ইতিবাচক প্রণোদনার সঙ্গে সম্পর্কিত। এই ‘রোমাঞ্চকর ধেয়ে আসা’ কারও জন্য হয় হিতকরী, কাউকে করে বড় উদ্দীপ্ত; কেউ কেউ ভালোবাসাতে হয় আসক্ত।
সিক্রেটস অব দ্য সুপার ইয়ং বইটি লিখে খ্যাত নিউরোসাইকোলজিস্ট ডেভিড উইকস বলেন, জীবনসঙ্গী যাঁরা ঘন-ভালোবাসা করেন প্রায়শ; তাঁদের আয়ু বেশ বাড়ে।
কেবল ঘনিষ্ঠ ভালোবাসা নয়, দৈহিক সংস্পর্শ, নিঃসৃত করে এনডোর্ফিন; যেমন, হরমোন অক্সিটোসিনও। মানুষের মধ্যে বন্ধন স্থাপনে অক্সিটোসিনের ভূমিকা অনন্য। এই দুটো রাসায়নিক প্রাকৃতিক আফিমের মতো কাজ করে; নেশা ধরায় মনে, আসক্তি টানে, সুস্থিত করে রোমান্টিক সম্পর্ক—বলেন ডা. মাইকেল ওডেন্ট।
অন্তরঙ্গ স্পর্শ, যেমন, হাতে হাত ধরা, হাত ধরে হাঁটা, প্রেমিকের গালে টোকা দেওয়া—এমন আন্তরিক ভালোবাসা শরীরে রোগ প্রতিরোধ অ্যান্টিবডি বাড়ায়; গ্রোথ হরমোনকে প্রণোদিত করে। গবেষণায় দেখা গেছে, হাসপাতাল-নার্সারিতে অপরিণত শিশুদের নার্সরা বুকে ধরে গালে টোকা দিলে গ্রোথ হরমোন নিঃসরণ বাড়ে—এই ফলাফল অনেক হাসপাতালকে ‘স্পর্শ করা চর্চা’ চালু করতে উৎসাহিত করেছে, যাতে নিওন্যাটাল নার্সারিতে শিশুরা বেড়ে ওঠে সহজে। বিখ্যাত হূদেরাগ বিজ্ঞানী ডিন অরনিশ লিখেছেন, আমাদের অসুস্থ হওয়া ও ভালো থাকা, আমাদের বিষণ্ন হওয়া, আমাদের সুখী হওয়া—এসব কিছুর মূলে রয়েছে ভালোবাসা ও অন্তরঙ্গতা, আমাদের রোগভোগ ও নিরাময় এসবের মূলেও রয়েছে এই দুটো জিনিস। রোগীর হূদ্যন্ত্র ও রক্তনালির স্বাস্থ্যের ওপর খাদ্য, ধূমপান, বংশগতি ও ব্যায়ামের যেমন প্রভাব, ভালোবাসারও রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব।
ক্যালিফোর্নিয়ার ইনস্টিটিউট অব হার্টম্যাথের গবেষকেরা ইদানীং দেখেছেন, মগজের মতো হূদ্যন্ত্রও ইমোশনের মুখোমুখি হলে উৎপন্ন করে হরমোন। ভালোবাসা, প্রেমের প্রভাবে খুব ছন্দময়, সংগতিপূর্ণ হূৎস্পন্দন ঘটে, অথচ নেতিবাচক ইমোশন জন্ম দেয় এলোমেলো স্পন্দন। জীবনসঙ্গীদের মধ্যে প্রেমঘন ভালোবাসা অনেক রোগ প্রতিরোধ করে, দীর্ঘায়ু করে দম্পতিকে। যাঁদের মা-বাবার সঙ্গে মধুর সম্পর্ক, তাঁদের হূদেরাগ হয় অনেক কম।
দার্শনিক ব্যাখ্যা বাদ দিলেও এর একটি প্রায়োগিক ব্যাখ্যাও আছে। একা জীবনযাপনে অভ্যস্ত যাঁরা, তাঁদের চেয়ে অনেক সুবিধায় থাকেন দম্পতিরা। যেমন, বিবাহিত পুরুষের কথা যদি বলি—স্ত্রীরা সুষম আহার পরিকল্পনা করেন, অনেকে রান্না করেন, চিকিৎসকের কাছে যেতে স্বামীদের উদ্বুদ্ধ করেন এবং জোরও খাটান। বিবাহিত জীবন যেমন—প্রেমঘন, তেমনি নিরাপদ ও রুচিশীলও বটে। মূলকথা যা শাশ্বত; ভালোবাসার শক্তি স্বাস্থ্যকুশল বাড়ায়।
ভ্যালেন্টাইনস ডে-তে এমন সংকল্প হোক সবার, ‘ভালোবাসি, ভালোবাসি, এই সুরে, কাছে দূরে জলে স্থলে সর্বত্র।’

অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
পরিচালক, ল্যাবরেটরি সার্ভিসেস বারডেম হাসপাতাল, সাম্মানিক অধ্যাপক, ইব্রাহিম মেডিকেল কলেজ, ঢাকা।
সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো, ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০১২

%d bloggers like this: