বিশ্বের ৭ম বৃহৎ শ্রমশক্তি বাংলাদেশে

বিশ্বের ৭ম বৃহৎ শ্রমশক্তি বাংলাদেশে 

ইসমাইল আলী
Bangladesh’s growing workforce supports key export industries and generates remittances that contribute a significant amount to the economy. In 2010, Bangladesh was ranked as the 7th manpower exporting country and migrant workers remitted nearly US$ 11.6 billion in FY 2011. Bangladesh has also emerged as an exporting power house and the country’s growth in Ready Made Garments and Knitwear exports has been impressive. Link:

কিছু দিন আগেও বহির্বিশ্বের মানুষ বাংলাদেশের সম্ভাবনা নিয়ে খুব একটা খবর নিত না। গরিব দেশ, প্রাকৃতিক দুর্যোগের দেশ, অধিক জনসংখ্যার দেশ। যারা বাংলাদেশের এ রকম ভাবমূর্তি তৈরি করেছেন, তারাই এখন বলছেন, বাংলাদেশ অপার সম্ভাবনার দেশ। এখানে আছে বিশ্বের অন্যতম বড় শ্রমশক্তির ভাণ্ডার। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল ইন্টালিজেন্স ইউনিটের (সিআইএ) সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, শ্রমশক্তির আকারের বিচারে বিশ্বের ২২৯টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৭ম। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী দিনগুলোয় সেসব দেশই অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে সবচেয়ে এগিয়ে যাবে, যার শ্রমশক্তি ও ভোক্তার আকার যত বড়। পশ্চিমের দেশগুলো সে কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে তাদের নেতৃত্ব হারাবে এবং এশিয়ার দেশগুলো এগিয়ে যাবে। এখন প্রয়োজন মোটিভেশন এবং শ্রমিকদের সুযোগ-সুবিধা বাড়িয়ে উত্পাদনশীলতা কয়েক গুণ বাড়ানো।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্বে সবচেয়ে বেশি শ্রমশক্তি রয়েছে চীনে। বর্তমানে দেশটির শ্রমশক্তি ৮১ কোটি ৬২ লাখ। দ্বিতীয় স্থানে ভারত। দেশটির শ্রমশক্তি ৪৮ কোটি ৭৬ লাখ। আর তৃতীয় স্থানে রয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। তাদের শ্রমশক্তির পরিমাণ ২২ কোটি ৮১ লাখ। ১৫ কোটি ৩৪ লাখ শ্রমশক্তি নিয়ে চতুর্থ স্থানে যুক্তরাষ্ট্র, ১১ কোটি ৭০ লাখ শ্রমশক্তি নিয়ে পঞ্চম স্থানে ইন্দোনেশিয়া ও ১০ কোটি ৪৩ লাখ শ্রমশক্তি নিয়ে ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে ব্রাজিল। ৭ কোটি ৫৪ লাখ ২০ হাজার শ্রমশক্তি নিয়ে ৭ম অবস্থানে বাংলাদেশ। শীর্ষ ১০-এর মধ্যে এরপর রয়েছে যথাক্রমে রাশিয়া, জাপান ও পাকিস্তান।
এ বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বণিক বার্তাকে বলেন, শ্রমশক্তির দিক থেকে বাংলাদেশ শীর্ষ অবস্থানের অন্যতম। কারণ এর জনসংখ্যা বেশি এবং শ্রমশক্তির মধ্যে নির্ভরশীলতার হার হ্রাস পাওয়া। তবে শ্রমশক্তির দিক থেকে বৃহৎ শক্তি হলেও এর উল্লেখযোগ্য অংশই বেকার। এ ছাড়া ন্যূনতম মজুরি, কাজের নিশ্চয়তা, শিক্ষার সুযোগ, চিকিত্সা সুব্যবস্থা না থাকায় শ্রমশক্তির বড় একটা অংশ সবসময় দেশ ত্যাগে আগ্রহী থাকে। তাই এ বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি দেয়া জরুরি।
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক মুস্তফা কে মুজেরী বলেন, ‘বাংলাদেশের বেশির ভাগ শ্রমিক অদক্ষ। কারণ তাদের দক্ষতার জন্য যে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দরকার, তা তাদের নেই। শ্রমিকের দক্ষতার সঙ্গে কারিগরি শিক্ষার বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বাংলাদেশে এটির সুযোগ কম। যেটুকু সুযোগ আছে তা আবার মানসম্পন্ন নয়। তা ছাড়া মানবসম্পদের দক্ষতা অনেক বেশি বিশেষায়িত হয়ে পড়েছে। দক্ষ মানবসম্পদের চাহিদাও বেশি। তাদের পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা দিতে না পারায় দেশে তাদের ধরে রাখতে পারছি না।’
অদক্ষ শ্রমিক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিশ্বপ্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে দক্ষ মানবসম্পদেরও প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু আমাদের তার অভাব রয়েছে।’
তবে সিআইয়ের প্রতিবেদনের তথ্যের সঙ্গে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যের ভিন্নতা রয়েছে। বিবিএসের তথ্যমতে, বাংলাদেশ শ্রমশক্তি জরিপ-২০১০ অনুসারে বাংলাদেশে শ্রমশক্তির পরিমাণ ৫ কোটি ৬৭ লাখ। এর মধ্যে পুরুষ ৩ কোটি ৯৫ লাখ ও নারী ১ কোটি ৭২ লাখ। তবে মোট শ্রমশক্তির বেশির ভাগই গ্রামে বাস করে। শহরের শ্রমশক্তির পরিমাণ ১ কোটি ৩৩ লাখ আর গ্রামের ৪ কোটি ৩৪ লাখ।
জনসংখ্যা বেশি হওয়া, মোট জনসংখ্যার মধ্যে কর্মক্ষম (১৫ থেকে ৬৫ বছরের মধ্যে) জনগোষ্ঠী বাড়া, নির্ভরশীল (১৫ বছরের নিচে ও ৬৫ বছরের ওপরে) জনগোষ্ঠীর অনুপাত কমা, শ্রমশক্তিতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়া শ্রমশক্তি বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। ২০০৫-০৬ সালের তুলনায় ২০১০-এ শ্রমশক্তি ২ কোটি ৯ লাখ বেড়েছে। এর মধ্যে তরুণ শ্রমশক্তি বেড়েছে ১ কোটি ৩১ লাখ। তরুণ শ্রমশক্তির উল্লেখ্যযোগ্য বৃদ্ধি মোট শ্রমশক্তি বৃদ্ধিরও অন্যতম কারণ।
শ্রমশক্তি জরিপ-২০১০ অনুসারে বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যায় কর্মক্ষমের হার বাড়ছে। বর্তমানে প্রায় ৫৯ দশমিক ৩ শতাংশ জনগোষ্ঠী শ্রমশক্তির অন্তর্ভুক্ত। ২০০৫-০৬ সালের জরিপ অনুসারে তা ছিল ৫৮ দশমিক ৫ শতাংশ। প্রতি বছর প্রায় ১৮ লাখ মানুষ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে। এ ছাড়া বর্তমানে শ্রমশক্তিতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ছে। ২০১০ সালের জরিপ অনুসারে নারী শ্রমশক্তির পরিমাণ ৩৬ শতাংশ, ২০০৫-০৬ প্রতিবেদনে যা ছিল ২৯ দশমিক ২ শতাংশ।
এ বিষয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের সচিব রীতি ইব্রাহিম বলেন, বাংলাদেশে শ্রমশক্তি বাড়ছে। এর মূল কারণ এ দেশে নির্ভরশীলতার হার কমছে, কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর মধ্যে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ছে। এমনকি কয়েকটি সামাজিক সূচকে ভারতের চেয়েও ভালো অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। এগুলোর সম্মিলিত প্রভাবে বাংলাদেশ শ্রমশক্তির দিক থেকে এগিয়ে যাচ্ছে।
বিবিএসের হিসাবে মোট কর্মজীবী মানুষের সংখ্যা ৫ কোটি ৪১ লাখ। এর মধ্যে ৮৭ দশমিক ৫ শতাংশ অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে আর মাত্র ১২ দশমিক ৫ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত। মোট কর্মজীবীর মধ্যে অবৈতনিক পারিবারিক সহযোগীর সংখ্যা ১ কোটি ১৮ লাখ; কৃষি, বনজ ও মত্স্য খাতে যুক্ত মানুষের সংখ্যা ২ কোটি ৫৭ লাখ ও দিনমজুরের সংখ্যা ১ কোটি ৬ লাখ। সব মিলিয়ে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত শ্রমিকের সংখ্যা ৪ কোটি ৭৩ লাখ আর প্রাতিষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত ৬৮ লাখ। বিভিন্ন পেশার কর্মজীবীদের মধ্যে কৃষি খাতে ৪৭ দশমিক ৩ ও অকৃষি খাতে ৫২ দশমিক ৭ শতাংশ নিয়োজিত রয়েছে।
শ্রম অধিদফতরের শ্রম বিভাগের পরিচালক আবু সাইদ মো. খুরশীদুল আলম এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘বিশ্বে শ্রমশক্তির দিক থেকে ৭ম অবস্থানে থাকলেও আমাদের দেশের শ্রমশক্তির উল্লেখযোগ্য অংশ এখনো অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত। ফলে শ্রমশক্তির ফলদায়ক ব্যবহার সম্ভব হচ্ছে না। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, শ্রম অধিদফতর, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান এ বিষয়ে কাজ করছে। দেশী-বিদেশী উদ্যোগে বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও এনজিও কাজ করছে। তবে এখনো লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে শিক্ষা, চিকিত্সা, প্রশিক্ষণসহ অনেক ধরনের কাজ করতে হবে।’
এদিকে দেশে কর্মে নিয়োজিতদের মধ্যে মজুরি অনেক কম। মোট শ্রমশক্তির ৪২ দশমিক ৮ শতাংশের সাপ্তাহিক আয় ৫০১ থেকে ১ হাজার টাকার মধ্যে। ৩৪ দশমিক ৪ শতাংশের সাপ্তাহিক আয় ১ হাজার ১ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে। মাসিক আয়ের দিক থেকে ১১ দশমিক ৬ শতাংশের আয় ৪ হাজার থেকে ৪ হাজার ৯৯৯ টাকার মধ্যে। ১১ দশমিক ৮ শতাংশের মাসিক আয় ৮ হাজার থেকে ৮ হাজার ৯৯৯ টাকার মধ্যে। আর ২১ শতাংশের আয় ১০ হাজার থেকে ১২ হাজার ৪৯৯ টাকার মধ্যে।
 
২০১০ সালের তথ্যনুসারে, মোট শ্রমশক্তির ২৬ লাখ বা ৪ দশমিক ৫ শতাংশ বেকার। গত পাঁচ বছরে বেকারের হার কিছুটা বেড়েছে। ২০০৫-০৬ সালের হিসাব অনুসারে, বেকারত্বের হার ছিল ৪ দশমিক ৩ শতাংশ। এদিকে মোট শহর অঞ্চলে বেকারত্বের হার ৬ দশমিক ৫ ও গ্রামে ৪ শতাংশ। আর মোট শ্রমশক্তির ৫ দশমিক ৭ শতাংশ নারী ও ৪ দশমিক ১ শতাংশ পুরুষ বেকার। মোট শ্রমশক্তির মধ্যে শহর অঞ্চলে পুরুষ ও নারীর বেকারত্বের হার যথাক্রমে ৫ দশমিক ৭ ও ৮ দশমিক ৩ শতাংশ। আর গ্রাম অঞ্চলে এ হার যথাক্রমে ৩ দশমিক ৬ ও ৪ দশমিক ৯ শতাংশ।

Advertisements

তথ্য কণিকা Jahan Hassan জাহান হাসান
Ekush, Publisher/Editor/ Hollywood media hyphenate/ একুশ নিউজ মিডিয়া, লিটল বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস / 1 818 266 7539 / FB: JahanHassan

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: