ঢাকার বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে বিষ

ঢাকার বাতাসে বিষ

বুধবার প্রতিবেদন ঢাকার বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে বিষ। বাতাসের দূষণ এতটাই মাত্রাতিরিক্ত যে, সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বছরে কয়েক হাজার মানুষ মারা যায় এ দূষণের কারণে। এছাড়াও লাখ লাখ মানুষ বিভিন্ন শ্বাসজনিত রোগে ভোগে। জাতীয় পর্যায়ে রাজধানীর বাতাস দূষণের বোঝাটি এতটাই ব্যাপক যে প্রয়োজনের তুলনায় স্বল্প পরিমাণের স্বাস্থ্য বাজেটের ওপর এটি বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে। সম্প্রতি সমাপ্ত বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ সমীক্ষায় বলা হয়েছে, বায়ু দূষণ দেশের মৃত্যুহার এবং মানুষের কর্মস্পৃহা কমিয়ে দেওয়ার একটি বড় কারণ।

ঢাকার বায়ু দূষণের মাত্রা সম্প্রতি এতটাই বেড়েছে যে, বাতাসে মাত্রাতিরিক্ত কার্বন মনোক্সাইড, সিসা, নাইট্রোজেন অক্সাইড, সালফার ডাই-অক্সাইডসহ নানা দূষিত উপাদানের কারণে মানুষ চরম স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। বিশেষ করে শিশুরা শ্বাসনালী সংক্রান্ত নানা সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছে। বায়ু দূষণের কারণে ফুসফুস আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘমেয়াদি রক্তশূন্যতাও দেখা দিচ্ছে। বাড়ছে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা শিশুদের একটা বড় অংশ শ্বাস-প্রশ্বাস সংক্রান্ত সমস্যায় ভুগছে। চিকিৎসকরা বলছেন, দূষিত বায়ুর কারণে শিশুরা এলার্জি, অ্যাজমাসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। শ্বাসতন্ত্র সংক্রান্ত রোগ এতটাই প্রকট যে, তা ডায়রিয়ার প্রকোপকেও ছাড়িয়ে গেছে। দূষিত বাতাসের মাধ্যমে ফুসফুসে সিসা ও অদৃশ্য বস্ত্তকণা ঢুকে নিউমোনিয়া ও রক্তস্বল্পতা দেখা দিচ্ছে। তবে তারা বলছেন, এসব রোগ আগেও ছিল। আর ১০ বছরে তা প্রায় তিনগুণ বেড়েছে। তাছাড়া, আগে সামান্য পরিচর্যায় এসব রোগ ভালো হলেও এখন শিশুদের বয়স্কদের মতো দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

শনিবার ঢাকা শিশু হাসপাতালের বহিঃবিভাগে গিয়ে দেখা যায়, রোগীদের দীর্ঘ লাইন- যাদের একটি বড় অংশই শ্বাসজনিত রোগী। কথা হয় চিকিৎসাসেবা নিতে আসা সুমা আক্তারের (১৩) পিতা সিদ্দিক মোল্লার সঙ্গে। তিনি জানান, প্রায় এক মাস ধরে সুমা মাঝে মাঝে মাথায় ব্যথা অনুভব করছে। বিশেষ করে স্কুল থেকে ফেরার পর মাথা ব্যথাটা বেশি অনুভব করে। বর্তমানে যন্ত্রণা অনেক বেশি হয়েছে। তাই হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। লিপি মন্ডলের বয়স মাত্র সাত বছর। কিন্তু এই বয়সেই তার প্রচন্ড শ্বাসকষ্ট হয়। বিশেষ করে রাতে লিপির শ্বাস প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। লিপির মা নমিতা মন্ডল বলেন, আমাদের বংশে কারো শ্বাসকষ্ট রোগ নেই। তারপরও কী কারণে আমার মেয়ের এ রোগ হলো তা বুঝতে পারছি না। রক্তশূন্যতায় ভোগা সিহাবের (৭) মা নূরু-উন-নাহার জানান, শিহাবের বাবা রিকশা চালায়। দীর্ঘদিন ধরে সে রক্তশূন্যতায় ভুগছে। বর্তমানে একই সঙ্গে তার শ্বাসকষ্ট রোগ হয়েছে। শুধু সুমা, লিপি, সিহাব ও মিম নয় ঢাকা শিশু হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীদের প্রতি সাতজনের চারজনই অ্যাজমা বা শ্বাসকষ্ট রোগে আক্রান্ত।

একই চিত্র ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগে। এখানে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা মানুষের একটা বড় অংশ নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের। রোববার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে অসুস্থ শিশুদের অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চিকিৎসাসেবা নিতে আসা শিশুদের একটা বড় অংশ শ্বাসকষ্ট বা অ্যাজমা রোগে আক্রান্ত। তসলিমা আক্তারের (১০) মা জাহানারা বেগম জানান, তার মেয়ের রাতে প্রচন্ড কাশি হয়। একই সঙ্গে তসলিমার শ্বাস-প্রশ্বাসেও সমস্যা দেখা দিয়েছে। রেজাউল করিমের (৭) পিতা করিম উদ্দিন বলেন, রেজাউলের প্রায় সময়ই মাথা ব্যথা করে। কাশিও হয়। তবে কাশির সঙ্গে কোনো কফ নেই। আর মাঝে মাঝে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়।  কয়েক সপ্তাহ ধরে এমন হচ্ছে বলে তিনি জানান। সেকেন্দারের (৯) পিতা এনামূল হক জানান, গত সপ্তাহে একবার এনামুলকে ডাক্তার দেখানো হয়। ওষুধ খাওয়ানোর পর শ্বাসকষ্ট কিছুটা কম হয়েছে। তবে এখনো রাতে মাঝে মাঝে সমস্যা দেখা দেয়। ফারহানা আক্তারের (৪) পিতা স্বপন মোল্লা জানান, জন্মের সময় থেকে তার অ্যাজমার সমস্যা ছিল বলে ডাক্তার জানিয়েছিলেন। কিন্তু অর্থের অভাবে তিনি মেয়েকে ভালো চিকিৎসা করাতে পারেননি। বর্তমানে তার প্রচন্ড শ্বাসকষ্ট হচ্ছে।

ইবনে সিনা হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে তাদের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের শতকরা প্রায় ১১ ভাগ রোগীই শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছে। এক সপ্তাহে ইবনে সিনার ধানমন্ডি শাখার জরুরি বিভাগে ১৯৫ জন চিকিৎসা নিয়েছে। যাদের মধ্যে ২৩ জনই ব্রঙ্কিয়ালে আক্রান্ত। এছাড়া একই কারণে হাসপাতালটিতে গত এক সপ্তাহে ২৬ জন শিশু ভর্তি হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি ফারুক রেজার (৬) পিতা রফিক রেজা জানান, শুক্রবার ও শনিবার তিনি ছেলেকে নিয়ে বই মেলায় গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফিরে ফারুকের কাশি হয়। শ্বাস নিতে সামান্য কষ্টও হচ্ছিল। পরে সমস্যা আরো বেড়ে গেলে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। তামান্না জাহান রোজির (৪) মা রোকেয়া আক্তার বলেন, রোজির জন্মের পর থেকেই এমন সমস্যা। সামান্য ঠান্ডা লাগলেই শ্বাস-প্রশ্বাসে কষ্ট হয়। তাই মেয়েকে সবসময় সাবধানে রাখি। কিন্তু বর্তমানে কোনো কারণ ছাড়াই সমস্যা লেগেই থাকছে। হালিমা আক্তার জ্যোস্নার (১৩) মা হাসিনা আক্তার বলেন, শীতের শুরুতে জ্যোস্নার সামান্য সর্দি-কাশি হয়। এটা জন্মের পর থেকেই হচ্ছে। তবে দুই-এক সপ্তাহ পর সাধারণত ভালো হয়ে যায়। কিন্তু এ বছর পুরো শীতকাল জ্যোস্না সর্দি-কাশিতে ভুগেছে। আর বর্তমানে তার শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে প্রচন্ড কষ্ট হচ্ছে। তাই হাসপাতালে নিয়ে এসেছি।

এ ব্যাপারে শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ বারডেম জেনারেল হাসপাতাল-২ (মহিলা ও শিশু) অধ্যাপক তাহমিনা বেগম বলেন, বায়ু দূষণের কারণে প্রতিনিয়ত আমাদের শরীরে অক্সিজেনের সঙ্গে বিষাক্ত সিসা প্রবেশ করছে। ফলে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা মারাত্মক হারে কমে যাচ্ছে। তাই সামান্য কারণেই তারা সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত হচ্ছে। পরে তা শ্বাসকষ্ট, অ্যাজমা বা নিউমোনিয়ায় রূপ নিচ্ছে। শহরে বায়ু দূষণের পরিমাণ বেশি হওয়ার কারণে এসব এলাকায় আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বেশি। তিনি বলেন, আমার ২২ বছরের বাস্তব অভিজ্ঞতা দিয়ে বলতে পারি আগের থেকে এখন শিশুরা এসব রোগে প্রায় তিনগুণ বেশি আক্রান্ত হচ্ছে।

ঢাকা শিশু হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ও সহকারী অধ্যাপক ডা. প্রবীর কুমার সরকার বলেন, বায়ু দূষণের কারণে সাধারণত শ্বাসকষ্ট, চোখ জ্বালাপোড়া করা, নিউমোনিয়া, রক্তদূষণ, চর্মরোগ হয়ে থাকে। বর্তমানে ঢাকার বাতাসে সিসা ও অদৃশ্য বস্ত্তকণার হার মাত্রাতিরিক্ত হারে বেড়ে যাওয়ায় শিশুরা এলার্জি, অ্যাজমা, শ্বাসকষ্ট, মাথা ব্যথা, বমি বমি ভাবসহ নানা সমস্যায় ভুগছে। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা শিশুদের একটা বড় অংশ শ্বাসকষ্ট বা অ্যাজমা জাতীয় রোগে আক্রান্ত। তিনি জানান, প্রতিনিয়ত এমন শিশুর সংখ্যা বাড়ছে।

শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ওয়াদুদ গনি বলেন, বর্তমানে যেসব শিশু চিকিৎসাসেবা নিতে আসছে তাদের মধ্যে একটা বড় অংশ ব্রঙ্কিয়াল রোগে ভুগছে। আগেও শিশুদের এসব সমস্যা দেখা যেত। সে সময় পরিচর্যা আর সামান্য চিকিৎসা নিলে সাধারণত ভালো হয়ে যেত। কিন্তু বর্তমানে সমস্যাটা পূর্ণবয়স্কদের মতো করে দেখা দিচ্ছে। তাদের দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাসেবা নিতে হচ্ছে।

শ্বাসজনিত রোগের কারণ ও প্রকোপ যে কতটা প্রকট তার প্রমাণ মিলে পরিবেশ বিভাগের তথ্য থেকেও। পরিবেশ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ব্যাপক জনসংখ্যা অধ্যুষিত রাজধানী ঢাকার বায়ু দূষণের মাত্রা যদি বর্তমান পর্যায় থেকে শতকরা ২০ ভাগও কমিয়ে আনা যায় তাহলে বছরে কম করে হলেও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে মারা যায় এমন ১২০০ থেকে ৩৫০০ মৃত্যু ঠেকানো যায়। এছাড়াও প্রতি বছর কম করে হলেও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ৮ থেকে ১০ কোটি কমে আসত।

বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় পরিচালিত বাংলাদেশ সরকারের ‘নির্মল বাতাস ও টেকসই পরিবেশ’ প্রকল্পের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকার বায়ু দূষণের প্রধান কারণগুলো হচ্ছে রাস্তায় ব্যাপক সংখ্যক গাড়ি ও আশপাশের ইটের ভাটা থেকে উৎসারিত ধোঁয়াশা, রাস্তাঘাট খোঁড়াখুঁড়ি ও দালানকোঠা নির্মাণ কাজ থেকে উৎসারিত দৃশ্য ও অদৃশ্য কণা, বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক কারখানার বর্জ্য ইত্যাদি। সমীক্ষায় বলা হয়েছে, এই বায়ু দূষণ সহনীয় মাত্রায় কমিয়ে আনতে পারলে সরকারি ও ব্যক্তিগত পর্যায়ের চিকিৎসা ব্যয় বছরে ১৭ কোটি থেকে ৫০ কোটি ডলার সাশ্রয় করা যেত।

পরিবেশ অধিদফতরের সূত্রে ঢাকার একটি দৈনিকের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকার বাতাসে প্রতি ঘনমিটারে কম করেও ২৫০ মাইক্রোগ্রাম ধূলিকণা ভেসে বেড়াচ্ছে। সবচেয়ে শঙ্কার ব্যাপার সহনীয় মাত্রার চেয়ে এই পরিমাণ কম করেও পাঁচগুণ বেশি। ঢাকার বাতাসে সাধারণ ক্ষতিকর রাসায়নিকগুলো হচ্ছে সালফার ডাই অক্সাইড, কার্বন-ডাই-অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইড, ওজোন, হাইড্রোজেন সালফাইড, বিভিন্ন ধরনের সালফেট ও নাইট্রেট এবং দ্রবীভূত বিভিন্ন জৈব পদার্থ ইত্যাদি। এর সঙ্গে রয়েছে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকি সংক্রান্ত বিষাক্ত ধাতব যৌগ। এসব ধাতব পদার্থের মধ্যে রয়েছে সীসা, পারদ, ম্যাংগানিজ, আর্সেনিক, নিকেল ইত্যাদি। এছাড়াও রয়েছে বেঞ্জিন, ফরমালেডেহাইড, পলিক্লোরিনেটেড বাইফেনাইল, ডক্সিন ও অন্যান্য অদ্রবীভূত জৈব যৌগ।

বাতাসে এসব বিষাক্ত পদার্থ এত পরিমাণেই ভেসে বেড়াচ্ছে যে, ঢাকাকে তা একটি ভাগাড়ে পরিণত করেছে। ঢাকার বাতাস যে কতটা বিষাক্ত ও দূষিত তার প্রমাণ পাওয়া যায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল ও কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত একটি সমীক্ষা থেকে। এই সমীক্ষার ফলাফল দিয়ে তারা যে এনভায়রনমেন্টাল পারফরম্যান্স ২০১২ তৈরি করেছে, সে অনুযায়ী বিশ্বের মোট ১৩২টি দূষণ আক্রান্ত নগরীর তালিকায় ঢাকার অবস্থান ৩১তম।

বাংলাদেশ পরিবেশ বিভাগের পরিমাপে, মাত্রা অনুযায়ী প্রতি কিউবিক মিটার বাতাসে ২.৫ মাইক্রনের ৬৫ মাইক্রোগ্রাম ও ১০ মাইক্রনের ১৫০ মাইক্রোগ্রাম পর্যন্ত সহনীয়। কিন্তু এই বিভাগের পরিমাপে শীত ঋতুতে এই মাত্রা ২৭৪ মাইক্রোগ্রাম ছাড়িয়ে যায়। অন্যদিকে পত্রিকান্তরে প্রকাশিত পরিবেশ বিভাগের চেয়ারম্যানের তত্ত্বাবধানে ২০০৮ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত পরিচালিত সমীক্ষায় দেখা যায়, ২০০৮ সালে ঢাকার প্রতি ঘনমিটার বাতাসে বিষাক্ত সালফার ডাই অক্সাইডের পরিমাণ ছিল গড়ে ৩৩৯ দশমিক ২৩ মাইক্রোগ্রাম, ২০০৯ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪২৮ দশমিক ১৩ মাইক্রোগ্রাম এবং ২০১০ ও ২০১১ সালে পর্যায়ক্রমে তা বেড়ে দাঁড়ায় প্রতি ঘনমিটারে ৫৩৮ দশমিক ২০ ও ৬২৮ দশমিক ১২ মাইক্রোগ্রামে। একইভাবে বেড়েছে কার্বন-ডাই-অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড, নাইট্রোজেন যৌগসহ সব ধরনের দৃশ্য ও অদৃশ্য কণা।

পরিবেশ বিভাগের মতে, এপ্রিল থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বাতাসে বিভিন্ন ধরনের কণার পরিমাণ বৃষ্টিপাতের কারণে কম থাকে। কিন্তু নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত এর পরিমাণ ভয়াবহ আকারে বেড়ে যায়। এ সময় এই পরিমাণ প্রতি ঘনমিটারে ৪৬৩ মাইক্রোগ্রাম পর্যন্ত পাওয়া গেছে। এই দূষণের মাত্রা পৃথিবীর মধ্যে সর্বোচ্চ। সবচেয়ে বায়ু দূষণের শিকার বলে পরিচিত দুটি শহর মেক্সিকো ও মুম্বাইয়ের বায়ু দূষণের মাত্রা হলো প্রতি ঘনমিটারে যথাক্রমে ৩৮৩ ও ৩৬০ মাইক্রোগ্রাম।

বায়ু দূষণের প্রধান কারণ হচ্ছে অটোমোবাইল, ইটের ভাটা, শিল্পবর্জ্য, যত্রতত্র গজিয়ে ওঠা নির্মাণ ও রাসায়নিক কারখানা, অনিয়ন্ত্রিত অবকাঠামো (সড়ক, গৃহ) নির্মাণ কাজ, মেরামত, নাগরিকদের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অনীহা ইত্যাদি। ২০০২ সালের আগে গ্যাসোলিন দিয়ে গাড়ি চালানো, পুরনো গাড়ি বিশেষ করে টু স্ট্রোক অটোরিকশা বাতিল করায় ও সিএনজি দিয়ে গাড়ি চালানোর ব্যবস্থা করায় পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছিল। কিন্তু পরিবেশ বিভাগের তথ্য মতে, নতুন করে ডিজেল চালিত পুরনো গাড়ি, ইটের ভাটা ও অবকাঠামো (গৃহ ও রাস্তাঘাট) নির্মাণ নিয়ন্ত্রণহীন বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটেছে। এছাড়াও রয়েছে বিভিন্ন আবাসিক এলাকাসহ যত্রতত্র গজিয়ে গাড়ি মেরামত ও রড সিমেন্টের দোকান। নগরজীবনে প্রতিদিনের পারিবারিক ও গৃহস্থালী কাজের বর্জ্য নিষ্কাষণ ব্যবস্থার অসচেতনতাও দুষণের বড় কারণ। এরই প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে হাসপাতালগুলোতে রোগীদের ভিড়ের চিত্রে।

যেহেতু বায়ু দূষণের কারণগুলো চিহ্নিত, তাই এর মাত্রা সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসা অসম্ভব নয়। কিন্তু প্রয়োজন উদ্যোগের। এর দায় সরকারের।
http://budhbar.com/?p=7771

Advertisements

তথ্য কণিকা Jahan Hassan জাহান হাসান
Ekush, Publisher/Editor/ Hollywood media hyphenate/ একুশ নিউজ মিডিয়া, লিটল বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস / 1 818 266 7539 / FB: JahanHassan

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: