একজন ইলিয়াস ও একটি বিজয়

একজন ইলিয়াস ও একটি বিজয়

রওনাক সালাম

Los Angeles, April 25, 2012

তুমি এখন কি ভাবছ ইলিয়াস?­
কি চিন্তাধারায় আবর্তিত তোমার মন?

তুমি এখন কি ভাবছ ইলিয়াস?
বাংলাদেশের পরাজয় না কি একটি মুক্তাংগন ?

৭১’এর বাংলাদেশ যে এখণ আবার আক্ক্রান্ত রাহুর কবলে!
কি ভয়ানক করাল তার গ্রাস!
এই গ্রহনে যে সব জালিয়ে-পুড়িয়ে একাকার, তাইনা ইলিয়াস?

ঘরে ঘরে গুম খুণ, হত্তা, আর বক্তব্বের টুটি চিপে ধরার কি এক ভয়ংকর খেলায়
ওরা মেতে গেছে,
-এখন কি হবে ইলিয়াস??
তুমিই পারো, বোধকরি তোমাকেই মহাশান্তির জণক এতদিন পরে
নিরধারন করলেন—ইলিয়াস
একদার সুজলা-সুফ লা বাংলাদেশকে হানাদারদের কবল
থেকে রক্ষার জন্ন
এগিয়ে আসো ইলিয়াস, হারকিউলিসের (Hercules) মত প্রবল শক্তিতে এসো,
কোরনা সারেন্ডার…

জীবনের বিনিময়ে হবে? …তবে তাই হোক

তবু হোক জয় বাংলার ষোল কোটী আপামর জনকণ্ঠের
শত মায়ের দোয়া তোমার জয় ধ্বনি হয়ে বাজুক…

—এইবার জেগেছে, ইলিয়াস জেগেছে, এইবার দুঃশাসন তুমি থেমে যাও—-

রুনি-সাগরের ভাসমান রুহু বেহেশত থেকে বলে উঠুক…
সাবাস ইলিয়াস, বাঃলার জয় তো তোমারই জয়।

——————————————————————-
ইলিয়াস আলী এবং আমাদের গোয়েন্দা ব্যর্থতা
ড· ফে র দৌ স আ হ ম দ কো রে শী

ভারতের সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জিকে পিল্লাই বছর দুই আগে তার গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের এক সম্মেলনে বলেছিলেন, ‘ওভ রহঃবষষরমবহপব ভধরষং, ধিৎ রং ষড়ংঃ’- গোয়েন্দারা ব্যর্থ হলে যুদ্ধে পরাজয় অবধারিত। বিএনপির তর“ণ নেতা ইলিয়াস আলী এখনও নিখোঁজ। ১৭ এপ্রিল রাতে বনানীতে নিজ বাড়ির কাছেই অজ্ঞাত ব্যক্তিরা তার গাড়ি থামিয়ে তাকে জোর করে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। তারপর থেকে তাকে আর পাওয়া যা”েছ না। তিনি জীবিত আছেন কিনা- সে প্রশ্ন এখন সবার মনে।

ইলিয়াস আলী জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এমপি হয়েছেন। জাতীয়তাবাদী দলের অন্যতম সাংগঠনিক সম্পাদক। সাম্প্রতিককালে জাতীয় পর্যায়ে বিশেষ করে সিলেট বিভাগে সবচেয়ে সক্রিয় ও আলোচিত রাজনীতিকদের অন্যতম। এমন একজন ব্যক্তিকে কে বা কারা এভাবে তুলে নিয়ে গেল, তুলে নিয়ে যাওয়ার এতদিন পরও তার কোন খোঁজখবর করা গেল না, এটা দেশে-বিদেশে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা সৃষ্টি করেছে।

ইলিয়াস আলীর স্বজনদের জন্য বিষয়টি কতটা বিপর্যয়কর তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তাদের সান্ত্বনা দেয়ার কোন ভাষা নেই। কি‘ দেশের সর্বস্তরের মানুষ বিশেষ করে রাজনৈতিক অঙ্গন এ ঘটনায় হতবিহ্বল। আতংক ও অসহায়ত্ব ফুটে উঠছে সবার মনে। তাহলে তো কেউই নিরাপদ নয়! এ অসহায়ত্ব আরও তীব্র হ”েছ এজন্য যে, আমাদের আইন-শৃংখলার দায়িত্বে নিয়োজিত বিভিন্ন বাহিনী ও গোয়েন্দা সং’া সাম্প্রতিককালের অনেক চাঞ্চল্যকর অপহরণ ও খুনের ঘটনার মতো এ ঘটনারও কোন কূলকিনারা করতে পারছে না।

সরকারের তরফ থেকে বলা হ”েছ, ইলিয়াসকে উদ্ধারের জন্য সর্বাত্মক প্রয়াস চলছে। সব ক’টি গোয়েন্দা সং’া, র্যাব এবং পুলিশ সর্বশক্তি নিয়ে কাজে নেমেছে। কি‘ ইলিয়াসকে কারা তুলে নিয়েছে, কেন নিয়েছে, তাকে আদৌ ফেরত পাওয়া যাবে কিনা, এসব প্রশ্নের কোন উত্তর মিলছে না।
পনেরো কোটি মানুষের একটি সমস্যাসংকুল দেশের অি’র সামাজিক-রাজনৈতিক পরিি’তিতে নানা কারণে নানা ধরনের সংঘাতের উদ্‌ভব ঘটতে পারে। সংঘাতের জের ধরে কিছু অনাসৃষ্টি ঘটা বিচিত্র কিছু নয়। তবে সে ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট সং’াসমূহ পরিি’তি মোকাবেলায় সর্বশক্তিতে ঝাঁপিয়ে পড়বে, অপরাধী শনাক্ত হবে এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীরা শাস্তি পাবে, এটাই প্রত্যাশিত। এটাই রাষ্ট্রের সঙ্গে নাগরিকের ‘সামাজিক চুক্তি’ বা ঝড়পরধষ পড়হঃৎধপঃ; যা আধুনিক জাতি-রাষ্ট্রের প্রধান ভিত্তি।

দুর্ভাগ্যবশত সাম্প্রতিককালে আমাদের রাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায় থেকে এমন সব বক্তব্য আসছে, যা এ ‘সামাজিক চুক্তি’ অস্বীকার করার শামিল। সাংবাদিক দম্পতির হত্যার পর আমাদের প্রধানমন্ত্রী বলে বসলেন, ‘কারও বেডর“ম পাহারা দেয়ার দায়িত্ব সরকারের নয়।’ ভালো কথা। ইলিয়াস আলীকে তো বেডর“ম থেকে তুলে নেয়া হয়নি। নগরীর কেন্দ্র’লের রাজপথ থেকেই তুলে নেয়া হয়েছে। এবার প্রধানমন্ত্রী কী বলবেন? তিনি বললেন, ‘বিএনপি নিজেরাই ইলিয়াসকে লুকিয়ে রেখেছে!’

ধরে নেয়া যাক, ব্যাপারটা সে রকমই। প্রধানমন্ত্রীর কাছে খবর থাকতে পারে, বিএনপি কিছু একটা চক্রান্তমূলক কাজ করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চাইছে। সে রকম সম্্‌ভাবনা একেবারে উড়িয়েও দেয়া যায় না। রাজনীতিতে তা বিচিত্র কিছু নয়। কি‘ তাহলে তো উচিত হবে ইলিয়াসকে চটজলদি জনসমক্ষে হাজির করা। সেক্ষেত্রে বিএনপির মুখে এমন চুনকালি লাগবে যে, আগামী নির্বাচনের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে আর কোন দুশ্চিন্তায় থাকতে হবে না। এমন লোভনীয় সুযোগ তিনি নি”েছন না কেন?

এদিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামও বলেছেন, ‘শিগগিরই ইলিয়াসকে জীবিত উদ্ধার করে জনসমক্ষে হাজির করা হবে।’ তার এ কথা থেকে অনেকে মনে করছেন ইলিয়াসকে কারা তুলে নিয়েছে এবং তিনি কোথায় আছেন কর্তৃপক্ষ তা জানে এবং তাকে উদ্ধারের প্রক্রিয়া চলছে। এ লেখাটি কাগজে বের হওয়ার আগেই ইলিয়াস ফিরে আসুক। প্রধানমন্ত্রী এবং সৈয়দ আশরাফের বক্তব্য সঠিক প্রমাণিত হোক। ইলিয়াস আলীর পরিবারের নির্ঘুম দিন-রাত্রির অবসান হোক। দলমত নির্বিশেষে দেশের সর্বস্তরের মানুষের সেটাই প্রত্যাশা।

দুই
তবে ইলিয়াস আলী ফিরে এলেও সারা দেশের মানুষের মনে সাম্প্রতিককালে যে ভয়-বিহ্বলতা দানা বেঁধেছে তা দূর হবে না। গত এক বছরে এ রাজধানীতে এবং সারাদেশে আরও অনেক ‘খুন’ ও ‘গুম’-এর ঘটনা ঘটেছে, যার কূলকিনারা হয়নি। এটা যেন নিয়মিত ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মিডিয়ার সামনে সরকার এবং আইন-শৃংখলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত বাহিনীগুলোর অতি-উৎসাহী উপি’তি থাকলেও এ ধরনের ঘটনাবলীর রহস্য উঞ্ছঘাটিত হ”েছ না। সে জন্য বিরোধী পক্ষ সরকার, পুলিশ ও গোয়েন্দা সং’াগুলোর সমালোচনায় মুখর। বিক্ষোভ-সমাবেশ, হরতাল, ভাংচুর চলছে দেশজুড়ে।

সরকারের ৫ বছরের মেয়াদ পূর্তির আর বেশি দেরি নেই। তারা আবার ক্ষমতায় আসতে চান। কি‘ জনমতের বাতাস অনুকূলে নয়। সেজন্য তাদের অি’রতা ক্রমেই বাড়ছে। ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য আপ্রাণ প্রচেষ্টাও সেই সঙ্গে বাড়ছে। আর তা করতে গিয়ে নানাবিধ বাড়াবাড়ি পরিি’তি আরও শোচনীয় করে তুলছে। যতই দিন যা”েছ, সরকার পক্ষ যেন মরিয়া হয়ে উঠছে।

অভাবের সংসারে পরিবারের কর্তা হওয়ার বিড়ম্বনা ভয়ংকর। তেমনি সীমিত সম্পদে সমস্যার পাহাড় উপড়ে ফেলার প্রতিশ্র“তি দিয়ে ক্ষমতায় বসাটা বাঘের পিঠে চড়ার মতো ঝুঁকিপূর্ণ। যতক্ষণ সম্্‌ভব পিঠের উপরেই থাকতে হবে। নামলেই বিপদ। বাঘের পেটে যাওয়ার শংকা। আমাদের জাতীয় রাজনীতিতে এ পর্যন্ত একবারও কোন দল দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতাসীন হয়নি। নির্বাচনে জয়ী হওয়ার জন্য হাজারও রকমের অনিয়ম করেও কোন লাভ হয়নি। পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এবারও তার ব্যতিক্রম হওয়ার সম্্‌ভাবনা খুব একটা নেই। (চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা পৌর-কর্পোরেশন নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর শোচনীয় পরাজয়কে অনেকে তারই আলামত মনে করছেন। ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন ’গিত হওয়ার মধ্য দিয়ে সেই বাস্তবতা আরও প্রকট হয়েছে।)

এ পটভূমিতে অন্য অনেক ঘটনার মতো ইলিয়াসের গুম হওয়া, সাগর-র“নীর হত্যাকাণ্ড এবং রেল মন্ত্রণালয়ের ঘুষ কেলেংকারির মতো ঘটনার রহস্য উঞ্ছঘাটনে আমাদের আইন-শৃংখলা বাহিনী বিশেষ করে গোয়েন্দা সং’াগুলোর ব্যর্থতা রীতিমতো হতাশাব্যঞ্জক।

এখানেই আবার পিল্লাইয়ের কাছে ফিরে যেতে হবে। ভারতের এযাবৎকালের স্বরাষ্ট্র সচিবদের মধ্যে তাকে সবচেয়ে জাঁদরেল ও সুদক্ষ মনে করা হয়। স্বরাষ্ট্র সচিব থাকাকালে তাকে ভারতের ‘তৃতীয় ক্ষমতাধর’ ব্যক্তি আখ্যা দেয়া হয়েছিল। ওপরে উদ্ধৃত তার বক্তব্যটি অবশ্য একেবারে নতুন কিছু নয়। একে আপ্তবাক্যও বলা যেতে পারে। যুদ্ধক্ষেত্রে শত্র“র অব’ান এবং পারিপার্শ্বিকতা বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য সঠিক না হলে বিপর্যয় তো অনিবার্য হবেই। রাষ্ট্র পরিচালনা এবং যুদ্ধ পরিচালনা প্রায় সমার্থক। আর সেজন্যই রাষ্ট্রের গোয়েন্দা সং’াগুলো সঠিকভাবে কাজ না করলে কিংবা করতে না পারলে রাষ্ট্র পরিচালনার যুদ্ধে পরাজয় এড়ানো অসম্্‌ভব।

বাংলাদেশে সাম্প্রতিককালে যেসব লোমহর্ষক ও অভিনব হত্যা-গুম, খুন-ডাকাতি-ধর্ষণ, ঘুষ-দুর্নীতির ঘটনা ঘটছে তার অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে গেছে। বিশেষ করে গত এক বছরে শতাধিক ব্যক্তির ‘গুম’ হওয়ার রহস্য উঞ্ছঘাটিত হয়নি। প্রতিটি ঘটনা নিয়েই দেশজুড়ে হৈচৈ হয়েছে, মিডিয়ায় দিনের পর দিন নানাবিধ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। থানা-পুলিশ থেকে তদন্তভার অর্পিত হয়েছে গোয়েন্দা সং’ার ওপর। একাধিক গোয়েন্দা সং’ার জোর তৎপরতার কথা শোনা গেছে। কি‘ শেষ পর্যন্ত যে তিমিরে সেই তিমিরেই। অর্থাৎ আমাদের গোয়েন্দারা অপরাধী শনাক্ত করতে পারছেন না, অধিকাংশ ক্ষেত্রে অপরাধের ‘মোটিভ’ বা কারণ উঞ্ছঘাটনেও তারা সক্ষম হ”েছন না।

কেন এমন হ”েছ? এটা কি আমাদের ইন্টেলিজেন্সের ই”ছাকৃত গাফিলতি? নাকি আমাদের ‘ইনটেলিজেন্স’ তার সক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে? আমাদের গোয়েন্দা সং’াগুলো কি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে? নাকি তারা কাজ করার উৎসাহ-উদ্দীপনা হারিয়ে ফেলেছেন? যদি তাই হয়ে থাকে তা যে কারণেই হয়ে থাকুক না কেন, তাহলে তো আবারও পিল্লাইয়ের কথারই প্রতিধ্বনি করতে হবেঃ

তিন
রাজনীতিক ইলিয়াস আলীর ‘গুম’ ও সাংবাদিক সাগর-র“নীর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা সাম্প্রতিককালের দুটি অতি চাঞ্চল্যকর ঘটনা। দুটি ঘটনাই ঘটেছে রাজধানীর কেন্দ্রীয় এলাকায়। উভয় ক্ষেত্রেই সরকারের উ”চপর্যায় থেকে শুর“ করে জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা, বাদ-প্রতিবাদ চলছে। মিডিয়ায় নানা সংবাদ, সংবাদ বিশ্লেষণ ও মন্তব্য প্রচারিত হ”েছ দিনের পর দিন। প্রতিবাদ সভা, মানববন্ধন, অনশন হ”েছ। লাগাতার হরতালে জনজীবন বিপর্যস্ত। কি‘ কোন ‘ক্লু’ বের হয়ে আসছে না।
ইলিয়াস আলীর গুম হওয়ার পেছনে মিডিয়ায় নানা ধরনের কথাবার্তা হ”েছ। লোকমুখে নানা গুজবও ডালপালা বিস্তার করছে। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হ”েছঃ
০ ইলিয়াস টিপাইমুখ বাঁধ ইসুøতে লংমার্চ আয়োজনে এবং আন্দোলনে জোরালো ভূমিকা পালন করে মহলবিশেষের রোষানলে পড়েছেন, সেজন্যই তাকে এ পরিণতি বরণ করতে হয়েছে;
০ বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের শিকার হয়েছেন তিনি;
০ একটি বিদেশী গোয়েন্দা সং’া বাংলাদেশের রাজনীতি তাদের অনুকূলে রাখার জন্য দেশের ১০০ রাজনীতিক, সাংবাদিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সরিয়ে দেয়ার জন্য কাজ করছে, এটা তারই অংশ;
০ বিএনপি বা সরকারবিরোধী কোন গ্র“প আন্দোলন চাঙ্গা করার জন্য একটা ইসুø তৈরি করেছে;
০ রেলওয়ে মন্ত্রণালয়ের ঘুষ কেলেংকারি ফাঁস হওয়ার পেছনে ইলিয়াসের ড্রাইভারের একটা পরোক্ষ ভূমিকা ছিল, সেই ড্রাইভারকে কেন্দ্র করেই এ ঘটনার সূত্রপাত;
০ ব্যক্তিগত কোন শত্র“তার জের ধরেই এ ঘটনা ইত্যাদি।

প্রকৃত রহস্য উঞ্ছঘাটিত না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের ঘুড়ি ওড়ানো চলতেই থাকবে। সরকারের প্রত্যক্ষ ইঙ্গিতে ইলিয়াসকে গুম করা হয়েছে, যেমনটি বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হ”েছ, তা আমরা বিশ্বাস করতে চাই না। একটি গণতান্ত্রিক দেশে কোন নির্বাচিত সরকার, যে সরকার আবার নির্বাচিত হতে চায়, এমন কাজ করতে পারে, তা চিন্তার অতীত। কোন বিদেশী সং’া বাংলাদেশের রাজনীতির নিয়ন্ত্রণভার হাতে নেয়ার জন্য দেশের রাজনীতির মাঠ থেকে তাদের অপছন্দের রাজনীতিকদের সরিয়ে দেয়া শুর“ করেছে, তেমন চিন্তাও আমরা করতে চাই না।

এক্ষেত্রে ভাবনার বিষয় হ”েছ এই, আমাদের গোয়েন্দা সং’াগুলো ঠিকভাবে কাজ করছে না। এটা গোটা জাতি ও রাষ্ট্রযন্ত্রের জন্য চরম দুশ্চিন্তার বিষয়। ক্ষমতাসীন সরকারের জন্যও। কারণ রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালিত না হলে তারা পদে পদে জবাবদিহিতা ও সমালোচনার সম্মুখীন হবেন। তাদের রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্রমাগত আরও প্রশ্নবিদ্ধ হতে থাকবে।

অনেকে মনে করছেন সরকারের বিভিন্ন আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং গোয়েন্দা সং’াগুলোর ভেতর এখন এক ধরনের হতাশা ও লক্ষ্যহীনতা বিরাজ করছে। মাত্রাতিরিক্ত রাজনৈতিক চাপ, উ”চপর্যায় থেকে দৈনন্দিন হস্তক্ষেপ, এমনকি বিদেশী পরামর্শের বাড়াবাড়ি এসব সং’ার সদস্যদের নৈতিক মনোবল ভেঙে দি”েছ।
সাম্প্রতিককালে এমন কিছু ঘটনাও ঘটেছে যার বিরূপ ও সুদূরপ্রসারী প্রতিক্রিয়ায় এখন এসব সং’ার অনেকে আর ঝঁুকি নিয়ে কোন কাজ করতে চাইছেন না। রাজনৈতিক সরকারের নির্দেশ আক্ষরিকভাবে পালন করা তাদের কর্তব্য, কি‘ তেমন নির্দেশ পালন করতে গিয়ে সাম্প্রতিককালে অনেক উ”চপদ’ পুলিশ ও গোয়েন্দা কর্মকর্তা বিপদের সম্মুখীন হয়েছেন। এক সরকারের আমলে ওপরের নির্দেশে কাজ করতে গিয়ে পরবর্তী সরকারের আমলে অনেককে চরম হয়রানির সম্মুখীন হতে হ”েছ। এক্ষেত্রে কথিত ‘দশ ট্রাক অস্ত্র মামলা’র বিষয়টি বিবেচনায় আনা যেতে পারে। কাজটি ভালো কী মন্দ, উচিত কী অনুচিত, সে বিতর্ক থাক। কি‘ মন্দকাজ হলে তার চূড়ান্ত দায়-দায়িত্ব কার সে বিষয়টি স্পষ্ট না করে তখনকার সময়ের গোয়েন্দা ও পুলিশ কর্মকর্তাদের যেভাবে হাতকড়া পরিয়ে কোমরে দড়ি দিয়ে হেন’া করা হয়েছে, তাতে ওই ব্যক্তিদের যতটা অপমান করা হয়েছে, তার চেয়ে বেশি সমগ্র পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগের অবমাননা করা হয়েছে, যা সামগ্রিকভাবে আমাদের পুলিশ, সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা বাহিনীর নিয়মানুবর্তিতা ও রাজনৈতিক সরকারের প্রতি আনুগত্যে চিড় ধরিয়ে দিয়েছে।

আমাদের গোয়েন্দা ব্যর্থতা সে রকম একটা পরিি’তির পরিণতি কিনা, তা বর্তমানের শাসকশ্রেণী ও ভবিষ্যতের ক্ষমতা-প্রত্যাশী উভয় মহলকে গভীরভাবে ভাবতে হবে।
ড· ফেরদৌস আহমদ কোরেশীঃ রাজনীতিক, ভূ-রাজনীতি গবেষক

Advertisements

তথ্য কণিকা Jahan Hassan জাহান হাসান
Ekush, Publisher/Editor/ Hollywood media hyphenate/ একুশ নিউজ মিডিয়া, লিটল বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস / 1 818 266 7539 / FB: JahanHassan

2 Responses to একজন ইলিয়াস ও একটি বিজয়

  1. Mamun Sarkar says:

    তুমি এখন কি ভাবছ ইলিয়াস?­
    কি চিন্তাধারায় আবর্তিত তোমার মন?

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: