যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বাড়ি বেচাকেনা বেড়েছে


দাম কমেছে :

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বাড়ি বেচাকেনা বেড়েছে

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, দেশটিতে চলতি বছরের অক্টোবরে নতুন বাড়ি বিক্রির পরিমাণ ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। তবে কমেছে বাড়ির দাম। নতুন বাড়ির গড় মূল্য শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১২ হাজার ৩০০ ডলার। খবর বিবিসির।
গত মাসে নতুন বাড়ি বিক্রির পরিমাণ ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে বার্ষিক বিক্রির হার ৩ লাখ ৭ হাজারে দাঁড়ায়। তা সত্ত্বেও বিক্রির পরিমাণ প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, এ খাতে পুনর্গঠনের জন্য বার্ষিক ৭ লাখ বাড়ি বিক্রি প্রয়োজন ছিল।
এদিকে দেশটিতে বিক্রিযোগ্য নতুন বাড়ির মূল্য রেকর্ড পরিমাণ হ্রাস পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬২ হাজার ডলার। মূল্য হ্রাসের অন্যতম কারণ হলো অবকাঠামো নির্মাণকারীদের অর্থের স্বল্পতা।
এ প্রসঙ্গে ইনসাইট ইকোনমিক্সের প্রধান অর্থনীতিবিদ স্টিভেন উড বলেন, যখন চাহিদা বাড়তে শুরু করবে তখন স্বল্পসংখ্যক নতুন বাড়ি বিক্রির মধ্য দিয়েই অতি দ্রুত গৃহ বাজার ভালো অবস্থানে যাবে।
এর পরও অপ্রত্যাশিতভাবে নতুন বাড়ি বিক্রি আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। এদিকে পুরনো বাড়িগুলোও এখন মূল্য হ্রাসের ঝুঁকিতে রয়েছে।
এদিকে পুরনো বাড়ি বিক্রির পরিমাণ বার্ষিক হারের তুলনায় গত মাসে কমে দাঁড়িয়েছে ৪৯ লাখ ৭ হাজার। অথচ সম্পত্তির বাজারকে চাঙ্গা করার জন্য ৬০ লাখ বাড়ি বিক্রি হওয়া দরকার ছিল।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২০০৮ সাল থেকে গৃহ বাজারকে উত্সাহিত করার লক্ষ্যে সুদের হার শূন্যতে নামিয়ে নিয়ে আসে। কিন্তু আমানতের বৃহৎ পরিমাণসহ অনমনীয় ঋণের শর্তাবলীর কারণে ক্রেতারা ঋণ নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেনি।

যুক্তরাষ্ট্রে বেসরকারি খাতে কর্মসংস্থান বেড়েছে

 যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলো চলতি বছরের নভেম্বরে বেশ কিছু কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। ফলে শ্রমবাজারে যে বিশৃঙ্খল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল তা থেকে অতি দ্রুত উত্তরণ সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। গত বুধবার গৃহনির্মাণ এবং আঞ্চলিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর পরিচালিত এক জরিপের ফলাফলে তা প্রকাশ পেয়েছে। খবর সিডনি মর্নিং হেরাল্ডের।
জরিপে দেখানো হয়েছে, প্রতিষ্ঠানগুলো প্রত্যাশার চেয়েও ভালো অবস্থানে রয়েছে। এমনকি অতি দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জনের মধ্য দিয়ে তারা অর্থনীতির মন্দা ভাব কাটিয়ে উঠতে পারবে, এমনটি নিশ্চিত করা হয়েছে এখানে।
এ প্রসঙ্গে নিউইয়র্কের আইটিজি ইনভেস্টমেন্ট রিসার্চের ঊর্ধ্বতন অর্থনীতিবিদ স্টিভ ব্লিজ বলেন, ‘গত বসন্তে এবং গ্রীষ্মের শুরুতে প্রবৃদ্ধিতে যে ধীরগতি ছিল তা কাটিয়ে প্রবৃদ্ধি ২ থেকে আড়াই শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।’
তা সত্ত্বেও তিনি বলেন, ‘প্রথমত দেখতে হবে এই সংখ্যাগুলো এটাই প্রমাণ করে কি না যে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হচ্ছে এবং দ্বিতীয়ত বহির্বিশ্বে এখনো ভয়াবহ অবস্থা বিরাজ করছে।’
প্রসঙ্গত ঋণসংকট উত্তরণে ইউরোপীয় ব্যাংকগুলোকে সস্তায় ডলার সরবরাহ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করায় বিশ্বব্যাপী কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো বিপদের মধ্যে পড়তে যাচ্ছে বলে এই জরিপে দেখানো হয়।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধক হলো ইউরো অঞ্চলের ঋণসংকট, যা এখনো স্পর্শকাতর অবস্থায় রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের ভাইস চেয়ারম্যান জেনেট ইলেন বলেন, এ সপ্তাহের শুরুতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রানীতিকে আরও শিথিল করার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। অর্থনীতিতে গতি ফিরিয়ে আনার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২ লাখ কোটি ডলারের বেশি দীর্ঘমেয়াদি সিকিউরিটিজের ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করবে বলে জানান তিনি।

ব্ল্যাক ফ্রাইডে : যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ড বিক্রি


ব্ল্যাক ফ্রাইডে : যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ড বিক্রি

ব্ল্যাক ফ্রাইডে : যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ড বিক্রি ওয়াল স্ট্রিট বিক্ষোভকারীদের আন্দোলন সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রে গত শুক্রবার ব্ল্যাক ফ্রাইডের বিক্রি রেকর্ড করেছে। খুচরা দ্রব্যসামগ্রী বিক্রির প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন পণ্যে মূল্য হ্রাস ও বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ক্রেতা আকর্ষণে সফল হওয়ায় গত বছরের তুলনায় বিক্রি ৬ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। এ হিসাবে এ বছর বিক্রি ১ হাজার ১৪০ কোটিতে পৌঁছেছে এবং এটিই দেশটিতে ব্ল্যাক ফ্রাউডে উপলক্ষে সবেচেয়ে বেশি বিক্রি বলে শিকাগোভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান শপার ট্রাক জানায়। খবর এএফপি ও ইয়াহু নিউজের।

কেনাকাটা উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর নভেম্বরের শেষ শুক্রবার ব্ল্যাক ফ্রাইডে হিসেবে পালন করা হয়। বিক্রি বাড়ার ফলে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের গতি আরও বাড়বে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। কারণ তিন দিনে যে পরিমাণ বিক্রি হয়েছে তা গত বছর অর্জিত প্রবৃদ্ধির অর্ধেক বলে জানা যায়। একই সঙ্গে খুচরা দ্রব্যসামগ্রী বিক্রেতাদের জন্য এটি বছরের সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়ার দিনও ছিল। এর আগে গত বছর ব্ল্যাক ফ্রাইডের বিক্রি ছিল ৫ দশমিক ২ শতাংশ। ফলে দেশটির চলতি বছর এ দিবসটির বিক্রি ২ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়বে বলে দ্য ন্যাশনাল রিটেইল ফেডারেশন প্রত্যাশা করেছিল।

ব্যবস্থাপনা পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এ টি কিয়ার্নির অংশীদার লরা গুরস্কি বলেন, ‘প্রত্যেকে একই ক্রেতা আকর্ষণে প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছে।’ এ ক্রেতাদের একজন হলেন এলিসন সার্টরেন্ড। বোস্টনভিত্তিক এ হিসাবরক্ষক টাইম স্কয়ারে কাপড়ের দোকান অ্যারোপোস্টালে গিয়েছিলেন কেনাকাটার জন্য। তিনি বলেন, একমাত্র কম দাম ও ভাল সুযোগ পেলেই আমি কেনাকাটার জন্য দোকানে যাই।

এদিকে অ্যারোপোস্টাল ইনকরপোরেশন তাদের ওয়েবসাইটে জানায়, শনিবারের ব্লুআউটের জন্য আমাদের সবকিছুর দাম ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো হয়েছে। এ ছাড়া নিউইয়র্কের টাইম স্কয়ারে গ্যাপ ইনকরপোরেশনের শনিবারের বিশেষ কেনাকাটা উপলক্ষে সব ধরনের পোশাকের ওপর ৬০ শতাংশ ছাড় দেয়া হয় বলেও জানা যায়। পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান অ্যালিক্সপার্টনার্স এলএলপির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডেভিড বাসোক বলেন, এ খেলার নাম হচ্ছে— উন্নয়ন, উন্নয়ন, উন্নয়ন। তারা সামনেও একে ধরে রাখতে চায়। প্রসঙ্গত,
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও এ দিবস উপলক্ষে ওয়াশিংটনের স্থানীয় দোকানগুলোয় গিয়েছেন বলে জানা গেছে।

এদিকে ব্ল্যাক ফ্রাইডের বিক্রি অপেক্ষাকৃত ভালো হলেও গত শুক্রবার অকুপাই ওয়াল স্ট্রিটের বিক্ষোভকারীদের কারণে বেশ কয়েকটি দোকানে বিক্রি বন্ধ ছিল। এর মধ্যে লস এঞ্জেলেসে ওয়ালমার্টের একটি শাখায় সবচেয়ে বেশি বিশৃঙ্খল অবস্থার সৃষ্টি হয়। এখানে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে কমপক্ষে ২০ জন আহত হন। তার পরও স্মার্টফোনের মতো পণ্যগুলোর দাম তুলনামূলক কমিয়ে দেয়ায় দোকানটিগুলোয় ক্রেতাদের ভিড় দেখা গেছে। সিয়ার্স হোল্ডিংয়ের রিটেইল সার্ভিসের ভাইস প্রেসিডেন্ট জ্যামিই বুকস রয়টার্সকে বলেন, এ মৌসুমের পুরো সময়ই আমরা এ ধরনের কর্মসূচি চালু রাখব। তবে একটি দিবস উপলক্ষেই আমরা আমাদের সব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করব না।

এদিকে ব্ল্যাক ফ্রাইডের বিক্রি বাড়ানোর জন্য বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্নভাবে প্রচারণা চালানো শুরু করেছে। ডিপার্টমেন্টাল স্টোর ম্যাকিস ইনকরপোরেশন তাদের পণ্যের প্রচারণার জন্য তরুণ সঙ্গীতশিল্পী জাস্টিন বিবারকে বেছে নিয়েছে। জেসি প্যানি কোম্পানি ইনকরপোরেশনের নির্বাহী মাইক থিলম্যান বলেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, বিজ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করা।

সফটওয়্যার ও খুচরা দ্রব্যসামগ্রী বিক্রির প্রতিষ্ঠান আইবিএম স্মার্টার কমার্স জানায়, থ্যাংকসগিভিং উপলক্ষে অনলাইনে বিক্রির পরিমাণ ৩৯ দশমিক ৩ ও ব্ল্যাক ফ্রাইডে উপলক্ষে ২৪ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাজার পেয়েছে মোবাইল ফোনসেট ও ট্যাবলেট কম্পিউটার। প্রসঙ্গত, বড়দিন উপলক্ষে কেনাকাটার প্রস্তুতি মূলত শুরু হয় এ ব্ল্যাক ফ্রাইডের মধ্য দিয়েই। ফলে এ দিনগুলোর জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে থাকে খুচরা দ্রব্যসামগ্রী বিক্রির ছোট প্রতিষ্ঠান থেকে বড় চেইন শপ ও সুপার মার্কেটগুলো। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে ভোক্তা ব্যয় দেশটির অর্থনীতির ৭০ শতাংশ হওয়ায় বর্তমান এ মন্দাবস্থায় স্বাভাবিকভাবেই এখন বিনিয়োগকারীদের নজর ক্রেতাদের গতিবিধির ওপর।
বণিক বার্তা ডেস্ক

বাংলাদেশের রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি বেড়েছে প্রায় ১২ শতাংশ।


রেমিট্যান্সপ্রবাহ ২০১১ : শীর্ষ পাঁচে বাংলাদেশ

মীর মনিরুজ্জামান
বিশ্ব অর্থনীতির অনেক মানদণ্ডেই বাংলাদেশ উজ্জ্বলতম অবস্থানে নেই। কিন্তু এক দশক ধরে প্রবাসী বাংলাদেশীদের পাঠানো অর্থ বা রেমিট্যান্স দেশের জন্য নিয়ে এসেছে এক অসামান্য আশীর্বাদ। এখন বিশ্বের শীর্ষ ১০ রেমিট্যান্সগ্রহীতা দেশের মধ্যে বাংলাদেশ পাকিস্তানের সঙ্গে যৌথভাবে পঞ্চম।

গত বৃহস্পতিবার বিশ্বব্যাংকের আউটলুক ফর রেমিট্যান্স ২০১২-১৪ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এ বার্তা দেয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আরব বসন্ত ও বিশ্বমন্দা রেমিট্যান্সপ্রবাহে কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। মিসর, সিরিয়া ও লিবিয়াসংকটের কারণে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শ্রমিক ফিরে এলেও বাংলাদেশের রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি বেড়েছে প্রায় ১২ শতাংশ। ২০১১ সালের ১০ মাসের ভিত্তিতে (জানুয়ারি-অক্টোবর) পুরো বছরের যে প্রক্ষেপণ তারা করেছে, তাতে বিশ্বব্যাংক মনে করছে, এ বছর বাংলাদেশ ১ হাজার ২০০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স গ্রহণ করবে।

প্রতিবেদনে শীর্ষ ১০টি দেশের তালিকায় রয়েছে যথাক্রমে ভারত, চীন, মেক্সিকো, ফিলিপাইন, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, নাইজেরিয়া, ভিয়েতনাম, মিসর ও লেবানন। ২০১১ সালে শীর্ষ ১০টি দেশে রেমিট্যান্সপ্রবাহের পরিমাণ ২২০ বিলিয়ন ডলার, যা উন্নয়নশীল দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ। ৫৮ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স গ্রহণ করে ভারত তালিকার শীর্ষস্থানটি দখল করেছে। ৫৭ বিলিয়ন নিয়ে চীন দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। তৃতীয় অবস্থানে মেক্সিকো ২৪ বিলিয়ন ডলার, চতুর্থ অবস্থানে ফিলিপাইন ২৩ বিলিয়ন, পঞ্চম অবস্থানে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ ১২ বিলিয়ন, ষষ্ঠ অবস্থানে নাইজেরিয়া ১১ বিলিয়ন, সপ্তম অবস্থানে ভিয়েতনাম ৯ বিলিয়ন, অষ্টম অবস্থানে মিসর ও লেবানন ৮ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স গ্রহণ করেছে।

বাংলাদেশের রেমিট্যান্সপ্রবাহ বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রবাসী শ্রমিকের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় প্রথম ৯ (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) মাসে বিদেশে শ্রমিক পাঠানোর প্রবৃদ্ধি হয় ৩৭ শতাংশ। এ সময়ে রেমিট্যান্সের পরিমাণও বাড়ে। এ খাতে দেশটি প্রবৃদ্ধি ১২ শতাংশ ধরে রেখেছে। এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে অক্টোবর পর্যন্ত বৈধ পথে রেমিট্যান্স এসেছে ১০ দশমিক ১১ বিলিয়ন ডলার। উত্তর আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার পরও জনশক্তি রফতানিতে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। প্রতিবেদনে লিবিয়া থেকে ৩৮ হাজার শ্রমিক ফেরত আসার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে।

এদিকে বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনকে কিছুটা রক্ষণশীল হিসাব বলে মনে করছেন প্রবাসীকল্যাণ সচিব ড. জাফর আহমেদ। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংকের হিসাবের চেয়ে বেশি জনশক্তি রফতানি করেছে বাংলাদেশ। এ ছাড়া রেমিট্যান্স খাতেও অর্জন বেশি। কারণ ব্যাংকিং চ্যানেল ছাড়াও অন্যান্য চ্যানেলে পর্যাপ্ত রেমিট্যান্স আসে। তিনি বলেন, গত বছরের চেয়ে জনশক্তি রফতানি খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ। গত বছর ডিসেম্বর পর্যন্ত জনশক্তি রফতানি হয়েছিল ৩ লাখ ৯০ হাজার, এ বছর নভেম্বর পর্যন্ত রফতানি হয়েছে ৫ লাখ ১০ হাজার। ডিসেম্বরে আরও ৪০ হাজার মানুষ যাবে। সব মিলে এ বছর ৬ লাখ জনশক্তি রফতানি হবে। ওমান ও সংযুক্ত আবর আমিরাতে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শ্রমিক রফতানি হওয়ায় এ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে সংকট না থাকলে এ বছর আরও জনশক্তি রফতানি হতো বলে মনে করেন সচিব ড. জাফর আহমেদ।

তবে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সির (বায়রা) সভাপতি মো. আবুল বাশার মনে করেন, কূটনৈতিক তত্পরতার দুর্বলতার কারণে জনবল রফতানি এখনো কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পায়নি। তিনি বলেন, জনশক্তি রফতানির প্রধান বাজার সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, কুয়েত, কাতার এখনো বন্ধ আছে। সরকার যদি কূটনৈতিক তত্পরতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এসব দেশের শ্রমবাজারে জনশক্তি রফতানি আবার চালু করতে পারত, তবে রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি আরও বাড়ত।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১১ সালে ছয়টি উন্নয়নশীল অঞ্চলে রেমিট্যান্সের প্রবাহ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেড়েছে। আমেরিকা, জাপান ও ইউরোপের অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের পরও উন্নয়নশীল দেশে রেমিট্যান্সের পরিমাণ বৃদ্ধির বিষয়টি ব্যতিক্রম হিসেবে দেখছে বিশ্বব্যাংক। ওই সব দেশের প্রবাসীরা ব্যক্তিগত খরচ কমিয়ে দেশে অর্থ পাঠাচ্ছেন বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। বিশ্বব্যাংক মনে করছে, উন্নয়নশীল দেশে ২০১২ সালে ৭ দশমিক ৩ শতাংশ, ২০১৩ সালে ৭ দশমিক ৯ এবং ২০১৪ সালে ৮ দশমিক ৪ শতাংশ হারে রেমিট্যান্সপ্রবাহ বাড়বে।
তবে প্রতিবেদনে বেশ কিছু ঝুঁকির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ইউরোর চলমান ঋণসংকট দীর্ঘায়িত হলে এবং আমেরিকাসহ উন্নত অর্থনীতির দেশে বেকারত্ব বাড়লে তা প্রবাসী শ্রমিকদের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। অর্থনৈতিক সংকটের কারণে অনেক দেশ প্রবাসী শ্রমিক নিয়োগ বন্ধ অথবা সংকোচন করতে পারে। কোনো কোনো দেশ নিজের ঘর সামলাতে শ্রমিকদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে পারে বলে আশঙ্কা করছে বিশ্বব্যাংক।বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন প্রসঙ্গে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণাকেন্দ্রের গবেষণা পরিচালক ড. জায়েদ বখত বলেন, ইউরোপসংকট দীর্ঘায়িত হলেও তা বাংলাদেশের রেমিট্যান্সে বড় ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হবে না। কারণ বাংলাদেশের রেমিট্যান্স ইউরোপের ওপর নির্ভরশীল নয়। তবে মধ্যপ্রাচ্যে সংকট ঘনীভূত হলে রেমিট্যান্সে বড় সমস্যা হবে। সে ক্ষেত্রে শ্রমিকের দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে রেমিট্যান্সপ্রবাহ বাড়ানোর পরামর্শ দেন ড. জায়েদ বখত।

বায়রা সভাপতি মো. আবুল বাশার বলেন, বাংলাদেশে প্রতি বছর ৩০ লাখ লোক কাজের জন্য তৈরি হয়। এদের অধিকাংশের জন্য কাজের কোনো ব্যবস্থা দেশে নেই। এই শ্রমশক্তিকে যত বেশি বিদেশে পাঠানো যাবে, দেশে রেমিট্যান্সপ্রবাহ তত বাড়বে। এ ব্যাপারে সরকারকেই মুখ্য ভূমিকা পালন করতে হবে বলে তিনি মনে করেন।

%d bloggers like this: