Bhola Cyclone 13 November 1970 : What is the real lesson of Bhola in 1970 : মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ৩৫তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ।


৪১ বছর পূর্বে, ১৯৭০ সালের ১৩ নভেম্বর ভয়াল কালো রাতে উপকূলীয় এলাকায় জলোচ্ছ্বাস তেড়ে আসে।
সরকারি হিসাবে প্রায় ৫ লক্ষ এবং বেসরকারী হিসাবে প্রায় ১০ লক্ষ আদম সন্তান স্রোতের টানে নদী-সমুদ্রগর্ভে-তীরে-ঢালে, ডালে-জলে-ঝোপে, চরে প্রাণ হারায়।

মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ৩৫তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ।

১৯৭০ সালের ৪ ডিসেম্বর ঢাকার পল্টন ময়দানে এক জনসভায় ভাষণ দিয়ে স্বাধীন পূর্ব পাকিস্তান দাবি উত্থাপন করেন।

৪১ বছর পূর্বে, ১৯৭০ সালের ১৩ নভেম্বর ভয়াল কালো রাতে উপকূলীয় হাতিয়া, চর আবদুল্লা, রামগতি, সন্দ্বীপ, ঢালচর, চর জব্বার, তজুমদ্দিন, চর কচ্ছপিয়া, চর পাতিলা, কুকরী মুকড়ী, মনপুরা, চরফ্যাশন, দৌলতখাঁন, ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় জলোচ্ছ্বাস তেড়ে আসে।
তখন ছিল রমজান মাস। সরকারি হিসাবে প্রায় ৫ লক্ষ এবং বেসরকারী হিসাবে প্রায় ১০ লক্ষ আদম সন্তান স্রোতের টানে নদী-সমুদ্রগর্ভে-তীরে-ঢালে, ডালে-জলে-ঝোপে, চরে প্রাণ হারায়।
একইসঙ্গে প্রাকৃতিক থাবায় কোটি কোটি টাকার পশু, মত্স্য, ফসল, রাস্তা, কালভার্ট, বাড়িঘর, স্কুল প্রতিষ্ঠান সম্পদ ধ্বংস হয়ে যায়।
দেশী-বিদেশী প্রচার মাধ্যমে এই ধ্বংসযজ্ঞের বর্ণনা ছিল
‘মানুষের মৃতদেহগুলো কচুিরপানার ঝোপের মত সমুদ্রের দিকে ধাবিত হচ্ছে’।

৭০’র জলোচ্ছ্বাসের ফলে উপকূলীয় জনপদে পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ভৌগলিক বন্ধনের বাঁধ ছিন্ন-ভিন্ন, হয়ে যায়।
ধ্বংসযজ্ঞের উপর দাঁড়িয়ে বেঁচে থাকা উপকূলীয় চরাঞ্চল স্থানীয়দের অসহায়ত্বসহ পূর্ব পাকিস্তানী জাতীয় রাজনৈতিক
চৈতন্যবোধের ঝাঁকুনিতে তত্কালীন পশ্চিম পাকিস্তানী নির্লিপ্ত শাসক-শোষকদের পিন্ডির মসনদে আঘাত হানে।
তখন উপকূলীয় এলাকায় জাতীয় পরিষদ নির্বাচন স্থগিত হয়।
We should pay close attention to the lessons of history, and the lessons of nature.
The lesson of how policy mismanagement led to public dissatisfaction and eventually contributed to national dismemberment is a stark reminder. It is a lesson that should not be lost on the politicians, policy-makers and people of Pakistan.

There is a reason why disasters require national solidarity. Without it, they can become even more disastrous and deeply buried fissures in the social fabric can burst forth in volcanic anger. As we look around at the political, policy and citizen response to the current floods, one sees too many who wish to turn disaster into a political opportunity. Those who do would be well advised to remember Bhola. Indeed, we would all be well advised to remember Bhola.

There are important lessons to learn from our own mistakes. For the sake of our present, if not of our past, let us resolve not to make the same mistakes again. Let us not forget what is the real lesson of Bhola in 1970, as of so many other tragedies: dissatisfaction in times of crisis can be a force of agony, and political catastrophe can sometimes grow from seeds sown in natural disaster.
———————————————————–
মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ৩৫তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ।

১৯৭৬ সালের ১৭ নভেম্বর তিনি মারা যান। এই সংগ্রামী নেতা দেশের নিপীড়িত ও নির্যাতিত মানুষের মুক্তির জন্য সারা জীবন আন্দোলন, সংগ্রামে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। সাম্রাজ্যবাদ ও পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদীকণ্ঠ ছিলেন। বাঙালি জাতিসত্তা বিকাশের আন্দোলনে তার অবদান স্মরণীয়। স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেছেন।

মওলানা ভাসানী দীর্ঘ কর্মময় জীবনের অধিকাংশ সময়ই টাঙ্গাইলের সন্তোষে কাটিয়েছেন। সেখানে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। এই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ১৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ৯টি কারিগরি ও সামাজিক সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। ‘৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলে টাঙ্গাইলের সন্তোষে মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। এই মহান নেতা ১৮৮০ সালে সিরাজগঞ্জ জেলার ধানগড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। জীবনের শুরুতে মক্তবে শিক্ষা গ্রহণ এবং মক্তবেই কিছুকাল শিক্ষকতা করেন। ১৯০৩ সালে আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯১৯ সালে কংগ্রেসে যোগ দিয়ে খেলাফত ও অসহযোগ আন্দোলনে অংশ নেন এবং এ সময় ১০ মাস কারা ভোগ করেন। ১৯২৯ সালে আসামের ধুবড়ী জেলার ব্রহ্মপুত্র নদের ভাসানচরে প্রথম কৃষক সম্মেলন করেন। সেই থেকে তার নামের পিছনে ভাসানী শব্দ যুক্ত হয়। ১৯৩১ সালে টাঙ্গাইলের সন্তোষের কাগমারীতে, ১৯৩২ সালে সিরাজগঞ্জের কাওরাখোলায় এবং ১৯৩৩ সালে গাইবান্ধায় বিশাল কৃষক সম্মেলন করেন। ভাষা আন্দোলনে এবং ১৯৬৯ সালে আইয়ুববিরোধী গণআন্দোলনে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেন। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার এবং শেখ মুজিবুর রহমানসহ এ মামলার সকল আসামীর নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন। ১৯৭০ সালের নভেম্বরে উপকূলীয় এলাকায় প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় হলে দুর্গত এলাকায় ত্রাণ কাজে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৭০ সালের ৪ ডিসেম্বর ঢাকার পল্টন ময়দানে এক জনসভায় ভাষণ দিয়ে স্বাধীন পূর্ব পাকিস্তান দাবি উত্থাপন করেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত ১৯৭১ সালের অসহযোগ আন্দোলনের প্রতি সমর্থন দেন। ১৯৭১ সালে মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হন। এ সময় তিনি ভারতে ছিলেন। ১৯৭২ সালের ২২ জানুয়ারি স্বাধীন বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন এবং একই বছর ২৫ ফেব্রুয়ারি সাপ্তাহিক হক কথা পত্রিকা প্রকাশ করেন। মুজিব সরকারের ব্যাংক, বীমা ও শিল্প প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ নীতি ও ১৯৭২ সালে সংবিধানের প্রতি সমর্থন প্রদান করেন। দিবসটি উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০ টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি থাকবেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। শহীদ আসাদ পরিষদ ও বাংলাদেশ গরীব মুক্তি আন্দোলনের যৌথ উদ্যোগে সকাল সাড়ে ৭ টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে জমায়েত ও প্রভাত ফেরী অনুষ্ঠিত হবে। এর পরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মওলানা ভাসানীর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হবে। এছাড়াও বিকেল তিনটায় স্বোপার্জিত স্বাধীনতা মঞ্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান, জাতীয় মুক্তিযুদ্ধ ও মওলানা ভাসানী’ শীর্ষক আলোচনা সভা এবং কবিতা পাঠের আয়োজন করা হয়েছে। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন ফজলে হোসেন বাদশা এমপি, অধ্যাপক মেজবাহ কামাল প্রমুখ।

এ দিকে ইত্তেফাকের টাঙ্গাইল প্রতিনিধি খান মোহাম্মদ খালেদ জানান, রবিবার থেকে টাঙ্গাইলে পাঁচদিনব্যাপী শিক্ষা, সংস্কৃতি, রাজনীতি, অর্থনীতি, কৃষি বিষয়ক মেলার আয়োজন করা হয়েছে। টাঙ্গাইল মওলানা ভাসানী ফাউন্ডেশনের আয়োজনে মাজার প্রাঙ্গণে এ মেলায় ২৬টি স্টল স্থান পেয়েছে। প্রতিদিন বিকেলে ভাসানীর উপর বিভিন্ন আলোচনা ছাড়াও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

ভাসানীর মৃত্যুবার্ষিকী এ উপলক্ষে বিএনপি গতকাল বুধবার বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আলোচনা সভা করেছে। মওলানা ভাসানীর মৃত্যুবার্ষিকী পালন কমিটির আহ্বায়ক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বিশেষ অতিথি স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ, শামসুজ্জামান দুদু, ডা. এজেড এম জাহিদ হোসেন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, জাফরুল হাসান, নজমুল হক নানু, কবির মুরাদ, এডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, খায়রুল কবীর খোকন, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু প্রমুখ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, ভাসানী ও জিয়াউর রহমানের রাজনীতি অভিন্ন— আজ দেশের রাজনীতি বিপদগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। মওলানা ভাসানীর স্বপ্নও বিপদগ্রস্ত। আমরা আবার আক্রান্ত হয়েছি। তাই এ থেকে উত্তরণের জন্য সবাইকে মওলানা ভাসানী ও জিয়াউর রহমানের পথ অনুসরণ করতে হবে।

বিশেষ অতিথি অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, বৃটিশ থেকে পাকিস্তান হয়ে বাংলাদেশ। এই তিনটি আমলেই ভাসানীকে কারাবরণ করতে হয়েছে। জীবনের ৩৩টি বছর তিনি কারাগারে কাটিয়েছেন।

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে তার ছিল গভীর আদর্শিক ঐক্য ও রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা। শোষণ ও বঞ্চনাহীন এবং প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক, অসামপ্রদায়িক বাংলাদেশ গঠনের জন্য তিনি আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। [ইত্তেফাক থেকে]
————————
আবদুল হামিদ খান ভাসানী (ডিসেম্বর ১২, ১৮৮০-নভেম্বর ১৭, ১৯৭৬) বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ।
যুক্তফ্রন্ট গঠনে প্রধান নেতাদের মধ্যে অন্যতম। দেশের মানুষের কাছে ‘মজলুম জননেতা’ হিসাবে পরিচিত। স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় বিশিষ্ট ভূমিকা পালন করেন। তিনি রাজনৈতিক জীবনের বেশীরভাগ সময় বামপন্থী মাওধারার রাজনীতির সাথে জড়িয়ে ছিলেন। তার অনুসারীদের অনেকে এজন্য তাকে “লাল মাওলানা ” নামেও ডাকতেন। তিনি ছিলেন একজন দূরদর্শী নেতা এবং ষাটের দশকের শুরুতেই নিশ্চিত হয়েছিলেন যে পাকিস্তানের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ একটি অচল রাষ্ট্রকাঠামো।

‘আফ্রো-এশিয়া-ল্যাটিন আমেরিকার মজলুম জননেতা’ মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা। তিনিই প্রথম এ দেশ স্বাধীন করার স্বপ্ন দেখেছিলেন। অন্যায় আর অত্যাচারের বিরুদ্ধে তার ছিল আপসহীন সংগ্রাম। এই সংগ্রাম ছিল সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে। ছিল পাকিস্তানের স্বৈরাচারী শাসকদের বিরুদ্ধে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরপরই সরকারের যাবতীয় কালা কানুন, গণতন্ত্রবিরোধী কার্যকলাপ ও জুলুমের বিরুদ্ধে তার কণ্ঠ হয়ে উঠেছিল সোচ্চার। এই বিপ্লবী পুরুষ কোনো স্বৈরশাসককে ক্ষমা করেননি। হাত মেলাননি গদি অথবা অর্থের মোহে পড়ে।

দেশে ভয়াবহ বন্যা হলো পাকিস্তান আমলের শেষ দিকে। সেই বন্যায় নিহত হয় লাখ লাখ মানুষ। তখন ভাসানী সভা ডেকেছেন টাঙ্গাইল পার্ক ময়দানে। এই প্রথম তাকে খুব কাছে থেকে দেখার সুযোগ হলো। কলেজে প্রথমবর্ষে ভর্তি হয়েছি। গিয়েছিলাম তাকে দেখতে এবং তার ভাষণ শুনতে। আশ্চর্য হলাম তার পোশাক-পরিচ্ছদ দেখে। এত বড় একজন বরেণ্য নেতার এ কী সাধারণ বেশ!

শুনলাম মওলানার অমোঘ ভাষণ। বৃদ্ধ নেতার কী বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর! প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার উদ্দেশে তিনি বললেন, ‘ইয়াহিয়া সাহেব! আপনি পূর্ব পাকিস্তানের মানুষকে বাঁচান। হাজার হাজার গৃহহারা মানুষ পানিবন্দী হয়ে আছে; হেলিকপ্টার পাঠিয়ে তাদের উদ্ধার করুন। খাদ্যসামগ্রী পাঠান।’ বক্তৃতার মাঝে মাঝে উচ্চকণ্ঠে উচ্চারিত হচ্ছিল তার ‘খামোশ’ ধ্বনি, যা ছিল সিংহের গর্জনের মতো। তারপর মওলানা ভাসানীকে ১৯৭০-৭১ সালে অনুষ্ঠিত সভা ও মিছিলে দূর থেকে দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল। প্রতিদিনকার পত্রিকায় তখন গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশিত হতো তার খবর ও ছবি। ১৯৭০ সালে তিনি বললেন, ‘ভোট নয়, দেশের স্বাধীনতা চাই।’

’৭৩ ও ’৭৪ সালে মওলানা ভাসানী টাঙ্গাইলের সন্তোষে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে জাতীয় পর্যায়ে তিনটি শিক্ষাসংক্রান্ত সম্মেলনের আয়োজন করেন। খ্যাতনামা শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সাংবাদিকেরা এতে যোগ দিয়েছিলেন। তার স্বপ্নের ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আদর্শ ও রূপরেখা প্রণয়ন করে ১৯৭৪ সাল থেকে তা বাস্তবায়নের কাজে হাত দেন।

১৯৭৪ সালে দেশব্যাপী ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের সময় অধুনালুপ্ত দৈনিক আজাদের সাংবাদিক হিসেবে গিয়েছিলাম মওলানা ভাসানীর সাক্ষাৎকার নিতে। সকালের সোনালি রোদে তার দেখা পেলাম। দেখলাম, শান্ত সৌম্য হাস্যোজ্জ্বল এক ব্যতিক্রমী নেতাকে। তিনি থাকতেন যেখানে, সেই টিনের ঘর ছেড়ে বেরিয়ে এলেন উঠোনে। সালাম দিলাম, পরিচয় দিলাম। তিনি বাইরের ছনের ঘরটায় ভাঙা একটা চেয়ারে বসলেন। আমাদের বসতে বললেন। সামনের চেয়ার দু’টিতে আমরা বসলাম।

পত্রিকার পরিচয় দিতেই মওলানা শুরু করলেন দৈনিক আজাদের প্রতিষ্ঠাতা, পাকিস্তান আন্দোলনের অন্যতম নেতা ও বিখ্যাত লেখক মওলানা আকরম খাঁ সাহেবের সাথে তার দীর্ঘ সময়ের স্মৃতিঘেরা রাজনৈতিক দিনগুলোর কথা। মনে হলো, তার স্মৃতির ভাণ্ডার যেন খুলে গেল। কায়েদে আজম, শেরেবাংলা, সোহরাওয়ার্দী প্রমুখ নেতাসহ পাকিস্তান আন্দোলনে নিজের জীবনের সাথে সম্পৃক্ত নানা ঘটনা বলতে শুরু করলেন। গভীর আগ্রহের সাথে শুনলাম তার অতীতজীবনের কাহিনী।

সাংবাদিকদের অনেকের জানা আছে (যারা মওলানা ভাসানীর সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন), সাংবাদিকতার নিয়ম অনুসারে তাকে প্রশ্ন করা বা উত্তর নেয়া যেত না। সংক্ষেপে তিনি বলতে পারতেন না। যেভাবে প্রশ্ন করি, তার উত্তর সেভাবে দিতেন না। অনেক বিস্তারিত ও ইতিহাস-আশ্রিত তথ্যবহুল সে উত্তর।
দেশের দুর্ভিক্ষের অবস’া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করায় খুব রেগে উঠলেন। বললেন, তোমরা সাংবাদিক। তোমরা মওলানা ভাসানীর কাছে এসেছ দুর্ভিক্ষের খবর নিতে? কেন, তোমরা শহরে বসে সাংবাদিকতা করো? তোমরা গ্রামে যাও। শাহজানী, হুগডা, কাতুলী, শাহজাদপুর প্রভৃতি চর এলাকায় গিয়ে দেখো, মানুষ কী খেয়ে দিন কাটাচ্ছে। কচু-ঘেচু, ভাতের ফ্যান, চালের কুঁড়ার চাপড়ি, আটার জাউ, এগুলো খেয়ে মানুষ কষ্টে বেঁচে আছে। এসব অখাদ্য খেয়ে কলেরা, ডায়রিয়ায় প্রতিদিন মারা যাচ্ছে মানুষ। কাফনের কাপড় পাচ্ছে না। কলার পাতা দিয়ে দাফন করতে হচ্ছে।”

একটু থামলেন জনদরদি এই নেতা। বললেন, ‘শেখ মুজিবকে বললাম, তুমি দেশের মানুষকে বাঁচাও। তোমার সরকারের রিলিফ জনসাধারণ পাচ্ছে না। তোমারই দলের লোকেরা লুটপাট করে তা খাচ্ছে।’

সাংবাদিক হিসেবে খুব লজ্জিত হলাম এ জন্য যে, সত্যিই আমরা কিছু সাংবাদিক শহরে বসে বসে গ্রামের মানুষের দুঃখদুর্দশার কথা পত্রিকায় লিখি। কিন’ স্বচক্ষে দেখতে যাই না। মওলানা ভাসানীর কাছে পেলাম যেন পুরো বাংলাদেশের সচিত্র প্রতিবেদন। তিনি তুলে ধরলেন বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, দিনাজপুরসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের দুঃখদুর্দশার কথা। সামনাসামনি বসে প্রায় ঘণ্টাখানেক কথা বলার সুযোগ হয়েছিল। জীবনে সেই দিনটির কথা কোনো দিন ভুলব না। সাক্ষাৎকারটি যত্নের সাথে দৈনিক আজাদ পত্রিকায় প্রকাশ পেয়েছিল, তবে সরকারি সেন্সর হয়ে। এরই ফাঁকে তার মেহমানদারিতে ভুল হয়নি। তিনি বললেন, ‘আমি গরিব মানুষ, কী খাওয়াব তোমাদের।’ লোক ডেকে ঘর থেকে সবরি কলা এনে দিলেন। এমন সময় পশ্চিমবঙ্গ থেকে সরকারি দলের এক নেতা এসে ঢুকলেন। আমরা সালাম দিয়ে চলে এলাম।

মুজিব সরকারের খাদ্যমন্ত্রী ফণীভূষণ মজুমদার একবার এলেন সন্তোষে সরকারি সফরে। সাংবাদিক হিসেবে ছিলাম আমন্ত্রিত। দরবার হলে মন্ত্রীর বক্তৃতার পর খাবারের ব্যবস’া হলো। আমরা সাংবাদিক, সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক কর্মী ও নেতাসহ প্রায় দুই শ’ লোক বসলাম। আমাদের ধারণা ছিল, মন্ত্রী মহোদয়ের জন্য অন্তত আলাদা কিছু ভালো খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে। কিন’ না, চিনা ও আউশের চালমিশ্রিত ভাত, পুকুরের নলামাছ বেগুন দিয়ে রান্না করা, মুরগির এক টুকরো গোশত ও ডাল সবাইকে খেতে দেয়া হলো। সম্ভবত চৈত্রের শেষের দিকে হবে। অথচ ফল খেতে দেয়া হলো তরমুজ, লিচু, কলা, কাঁঠাল ইত্যাদি।

আরো দুই-তিনবার মওলানা ভাসানীর সন্তোষের বাড়িতে তার পাশে বসে খাওয়ার সুযোগ হয়েছে। নিরহঙ্কারী মানুষটি যাকে সামনে পেয়েছেন তাকে আহ্বান করেছেন একসাথে বসে খাওয়ার জন্য। উঁচুদরের মানুষ মনে করে কারো জন্য আলাদা খাবারের আয়োজন করেননি। আবার কাউকে কৃষক-মজুর বলে অবহেলা করেননি। অনেক বড় নেতার কথা শুনেছি, পত্রিকায় ছাপা হওয়ার জন্য, টিভিতে দেখানোর জন্য বস্তির মানুষকে ডেকে এনে পাশে বসিয়ে ক্যামেরাম্যানদের দিয়ে ছবি তুলে রেখে উঠে দাঁড়িয়েছেন খাবার থালা রেখে। কিন’ ‘অশুচি অস্পৃশ্য’ নিম্নবিত্ত মানুষগুলোর সত্যিই নয়নের মণি ছিলেন মওলানা ভাসানী। তার মনে-প্রাণে-ধ্যানে ছিল ইসলামের শাশ্বত মানবতার আদর্শ। মওলানা দুস’ মানবতার সেবায় যেমন ছিলেন একনিষ্ঠ, তেমনি জালেম, স্বৈরাচারী ও সাম্রাজ্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে ছিলেন সোচ্চার। শোষকের সাথে নীতির ব্যাপারে আপস করেননি। গৃহবন্দী জীবন কাটালেও ক্ষমতা, অর্থ, সুবিধা বা খ্যাতির সুযোগ তিনি গ্রহণ করেননি। করেছেন ঘৃণা।

১৮৮০-১৯২৯
মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী সিরাজগঞ্জের ধানগড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম হাজী শরাফত আলী খান। মক্তব হতে শিক্ষাগ্রহণ করে কিছুদিন মক্তবেই শিক্ষকতা করেন। ১৮৯৭ সালে পীর সৈয়দ নাসীরুদ্দীনের সাথে আসাম যান। ১৯০৩ সালে সন্ত্রাসবাদী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন। ইসালামিক শিক্ষার উদ্দেশ্যে ১৯০৭-এ দেওবন্দ যান। দুই বছর সেখানে অধ্যয়ন করে আসামে ফিরে আসেন। ১৯১৭ সালে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস ময়মনসিংহ সফরে গেলে তার ভাষণ শুনে ভাসানী অনুপ্রাণিত হন। ১৯১৯ সালে কংগ্রেসে যোগদান করে খেলাফত আন্দোলন ও অসহযোগ আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে দশ মাস কারাদণ্ড ভোগ করেন। ১৯২৩ সালে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন স্বরাজ্য পার্টি গঠন করলে ভাসানী সেই দল সংগঠিত করার ব্যাপারে ভূমিকা পালন করেন। ১৯২৬-এ আসামে প্রথম কৃষক-প্রজা আন্দোলনের সুত্রপাত ঘটান। ১৯২৯-এ আসামের ধুবড়ী জেলার ব্রহ্মপুত্র নদের ভাসান চরে প্রথম কৃষক সম্মেলন আয়োজন করেন।এখান থেকে তার নাম রাখা হয় ” ভাসানীর মাওলানা “। এরপর থেকে তার নামের শেষে ভাসানী শব্দ যুক্ত হয়।

১৯৩০-১৯৫৯
১৯৩১-এ সন্তোষের কাগমারীতে, ১৯৩২-এ সিরাজগঞ্জের কাওরাখোলায় ও ১৯৩৩-এ গাইবান্ধায় বিশাল কৃষক সম্মেলন করেন। ১৯৩৭-এ মাওলানা ভাসানী কংগ্রেস ত্যাগ করে মুসলীম লীগে যোগদান করেন। সেই সময়ে আসামে ‘লাইন প্রথা’ চালু হলে এই নিপীড়নমূলক প্রথার বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেতৃত্ব দান করেন।এসময় তিনি ” আসাম চাষী মজুর সমিতি” গঠন করেন এবং ধুবরী, গোয়ালপাড়া সহ বিভিন্ন জায়গায় প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। ১৯৪০ সালে শের-এ-বাংলা এ.কে. ফজলুল হকের সঙ্গে মুসলীম লীগের লাহোর সম্মেলনে যোগদান করেন। ১৯৪৪ সালে মাওলানা ভাসানী আসাম প্রাদেশিক মুসলীম লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৪৫-৪৬ সালে আসাম জুড়ে বাঙালিদের বিরুদ্ধে “বাঙ্গাল খেদাও” আন্দোলন শুরু হলে ব্যাপক দাঙ্গা দেখা দেয়। এসময় বাঙালিদের রক্ষার জন্য ভাসানী বারপেটা, গৌহাটি সহ আসামের বিভিন্ন জায়গা ঘুরে বেড়ান। পাকিস্তান আন্দোলনে অংশ নিয়ে ১৯৪৭ সালে আসামে গ্রফতার হন। ১৯৪৮-এ মুক্তি পান। এরপর তিনি টাঙ্গাইলের সন্তোষে ফিরে আসেন।১৯৪৮ সালের প্রথম দিকে তিনি বঙ্গীয় মুসলিম লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পূর্ববঙ্গ ব্যবস্থাপক সভার সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দের ১৭ মার্চ ব্যবস্থাপক সভার কার্যাবলি বাংলায় পরিচালনা করার জন্য স্পিকারের কাছে দাবি জানান এবং এই দাবি নিয়ে পীড়াপীড়ি করেন। ১৯ মার্চ বাজেট বক্তৃতায় অংশ নিয়ে বলেন, যেসব কর কেন্দ্রীয় সরকার পূর্ববঙ্গ প্রদেশ থেকে সংগ্রহ করে তার শতকরা ৭৫% প্রদেশকে দিতে হবে। এখানে উলেস্নখ যে, ব্রিটিশ আমলে বঙ্গপ্রদেশ জুটেক্স ও সেলসট্যাক্স রাজস্ব হিসেবে আদায় করত এবং এই করের ভাগ কেন্দ্রীয় সরকারকে দিতে হতো না। পাকিস্তান সৃষ্টির পর কেন্দ্রীয় সরকার পূর্ববঙ্গ সরকারের হাত থেকে এই কর ছিনিয়ে নিয়ে নিজেরাই আদায় করতে থাকে যার ফলে পূর্ববঙ্গ সরকার আর্থিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। বিস্ময়ের ব্যাপার হলো এই সময় পূর্ববঙ্গ সরকারের বার্ষিক বাজেট ছিল মাত্র ৩৬ কোটি টাকা। যাই হোক, মুসলিম লীগ দলের সদস্য হয়েও সরকারের সমালোচনা করায় মুসলিম লীগের ৰমতাসীন সদস্যরা মওলানা ভাসানীর ওপর অখুশী হয় এবং তার নির্বাচনে ত্রুটি ছিল এই অজুহাত দেখিয়ে আদালতে মামলা দায়ের করে এবং মওলানা ভাসানীকে নানাভাবে হয়রানি করতে থাকে। পরিশেষে মওলানা ভাসানী ব্যবস্থাপক সভার সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এতদসত্ত্বেও পূর্ববঙ্গের তৎকালীন গভর্নর এক নির্বাহী আদেশ বলে মওলানা ভাসানীর নির্বাচন বাতিল করেন। বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম লীগের জনবিরোধী কার্যকলাপের ফলে মওলানা ভাসানী ১৯৪৯ সালের ২৩-২৪ জুন ঢাকার টিকাটুলিতে রোজ গার্ডেনে মুসলিম লীগ কর্মী সম্মেলন আহ্বান করেন। ২৩ জুন ওই কর্মিসম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সারাদেশ থেকে প্রায় ৩০০ কর্মিসম্মেলনে যোগদান করেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন আতাউর রহমান খান। মওলানা ভাসানী ছিলেন প্রধান অতিথি। ২৩ জুন পূর্ববঙ্গের প্রথম বিরোধী রাজনৈতিক দল পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ গঠিত হয়। মওলানা ভাসানী সর্বসম্মতিক্রমে এই দলের সভাপতি নির্বাচিত হলেন। সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন শামসুল হক। ২৪ জুন আরমানীটোলা ময়দানে আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রথম জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৪৯ সালের মধ্যভাগে পূর্ববঙ্গে খাদ্যাভাব দেখা দেয়। ১১ অক্টোবর আরমানীটোলা ময়দানে আওয়ামী মুসলিম লীগের একটি জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় খাদ্য সমস্যা সমাধানে ব্যর্থতার জন্য পূর্ববঙ্গ মন্ত্রিসভার পদত্যাগ দাবি করা হয় এবং ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মওলানা ভাসানী ভুখা মিছিলে নেতৃত্ব দেন। ভূখা মিছিলে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য ১৯৪৯-এর ১৪ অক্টোবর গ্রেফতার হয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে কারাবরণ করেন।

১৯৫০ সালে সরকার কর্তৃক রাজশাহী কারাগারের খাপরা ওয়ার্ড এর বন্দীদের উপর গুলিবর্ষণের প্রতিবাদে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে অনশন ধর্মঘট পালন করেন এবং ১৯৫০ সালের ১০ ডিসেম্বর তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান। বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ১৯৫২-র ৩০ জানুয়ারি ঢাকা জেলার বার লাইব্রেরী হলে তার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা কর্মপরিষদ গঠিত হয়। রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে সহযোগিতার কারণে গ্রেফতার হয়ে ১৬ মাস কারানির্যাতনের শিকার হন। অবশ্য জনমতের চাপে ১৯৫৩ সালের ২১ এপ্রিল মওলানা ভাসানীকে জেল থেকে মুক্তি দেয়া হয়।পূর্ববঙ্গের প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ১৯৫৩ সালের ৩ ডিসেম্বর কৃষক-শ্রমিক পার্টির সভাপতি শের-এ-বাংলা এ.কে. ফজলুল হক এবং হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দীকে সঙ্গে নিয়ে যুক্তফ্রন্ট নামক নির্বাচনী মোর্চা গঠন করেন। নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট বিপুল বিজয় অর্জন করে এবং পূর্ব বাংলার প্রাদেশিক পরিষদে ২৩৭ টির মধ্য ২২৮ টি আসন অর্জনের মাধ্যমে নিরঙকুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। ফজলুল হকের নেতৃত্বে সরকার গঠন করার পর ২৫শে মে ১৯৫৪ মাওলানা ভাসানী বিশ্ব শান্তি সম্মেলনে যোগদানের উদ্দেশ্যে সুইডেনের রাজধানী স্টকহোল্ম যান এবং সেখানে বক্তব্য প্রদান করেন। ৩০ মে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা ভেঙ্গে দিয়ে পূর্ব পাকিস্তানে গভর্ণরের শাসন জারি করে এবং মাওলানা ভাসানীর দেশে প্রত্যাবর্তনের উপর বিধিনিষেধ আরোপ করেন। ১১ মাস লন্ডন, বার্লিন, দিল্লী ও কলকাতায় অবস্থান করার পর তার উপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হলে ১৯৫৫-র ২৫ এপ্রিল দেশে প্রত্যাবর্তন করেন। পূর্ব বাংলায় খাদ্যজনিত দুর্ভিক্ষ রোধের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে ৫০ কোটি টাকা আদায়ের দাবিতে ১৯৫৬-র ৭ মে ঢাকায় অনশন ধর্মঘট শুরু করেন। সরকার দাবি মেনে নিলে ২৪ মে অনশন ভঙ্গ করেন। একই বছর ১২ সেপ্টেম্বর হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ-রিপাবলিকান পার্টির কোয়ালিশন সরকার গঠিত হলে মাওলানা ভাসানী সরকারের পররাষ্ট্রনীতির বিরোধিতা করে নিরপেক্ষ নীতি অবলম্বন করার জন্য সরকারের উপর চাপ প্রয়োগ করেন।

১৯৫৬তে পাকিস্তান গণপরিষদে যে খসড়া শাসনতন্ত্র বিল পেশ করা হয় তাতে পাকিস্তানকে ইসলামিক রিপাবলিক বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল,তখন মাওলানা ভাসানী পল্টনের জনসভায় তার বিরোধিতা করে সুস্পষ্ট বক্তব্য দিয়েছিলেন৷

কাগমারী সম্মেলনে১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়। ৮ ফেব্রুয়ারি ডক্টর কাজী মোতাহার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি আরম্ভ হয়। এই সভায় মওলানা ভাসানীও বক্তৃতা করেন। বক্তৃতায় অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে তিনি বলেন, পূর্ববাংলা পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় শাসকদের দ্বারা শোষিত হতে থাকলে পূর্ববঙ্গবাসী তাদের সালামু ওআলায়কুম জানাতে বাধ্য হবে।এছাড়া কাগমারী সম্মেলনে ভাসানী পাক-মার্কিন সামরিক চুক্তি বাতিলের দাবি জানান। প্রধানমন্ত্রী সোহ্‌রাওয়ার্দী সেই দাবি প্রত্যাখান করলে ১৮ মার্চ আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করেন। একই বছর ২৫ জুলাই তার নেতৃত্বে ঢাকার রূপমহল সিনেমা হলে ‘ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি’ (ন্যাপ) গঠিত হয়। ন্যাপ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ভাসানী প্রকাশ্যে বামপন্থী রাজনীতির সাথে জড়িয়ে পড়েন এবং এর পর থেকে সবসময় বাম ধারার রাজনীতিএর সাথেই সংশ্লিষ্ট ছিলেন। ১৯৫৭-র ৭ অক্টোবর দেশে সামরিক শাসন জারি হলে আইয়ুব খান ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে সকল রাজনৈতিক দলের কর্মকান্ড নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। ১২ অক্টোবর মাওলানা ভাসানীকে কুমুদিনী হাসপাতাল থেকে গ্রেফতার করা হয়। ঢাকায় ৪ বছর ১০ মাস কারারুদ্ধ থাকেন।

১৯৬০-১৯৬৯
বন্দী অবস্থায় ১৯৬২-র ২৬ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত বন্যাদুর্গতদের সাহায্য ও পাটের ন্যায্যমূল্যসহ বিভিন্ন দাবিতে অনশন ধর্মঘট পালন করেন। ৩ নভেম্বর মুক্তিলাভ করেন এবং ন্যাশনাল ডেমোক্রাটিক ফ্রন্ট-এর রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত হন। ১৯৬৩-র মার্চ মাসে আইয়ুব খানের সাথে সাক্ষাত করেন। একই বছর ২৪ সেপ্টেম্বর চীনের বিপ্লব দিবস-এর উৎসবে যোগদানের জন্য ঢাকা ত্যাগ করেন এবং চীনে সাত সপ্তাহ অবস্থান করেন। ১৯৬৪-র ২৯ ফেব্রুয়ারি ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি পুনরুজ্জীবিত করে দলের সভাপতির দ্বায়িত্বভার গ্রহণ করেন এবং একই বছর ২১ জুলাই ‘সম্মিলিত বিরোধী দল’ (কপ) গঠনে ভূমিকা পালন করেন। ১৯৬৫-র ১৭ জুলাই আইয়ুব খানের পররাষ্ট্র নীতির প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন। ১৯৬৬-তে শেখ মুজিবুর রহমানের উপস্থাপিত ছয় দফা কর্মসূচীর বিরোধিতা করেন। ১৯৬৭-র ২২ জুন কেন্দ্রীয় সরকার রেডিও ও টেলিভিশন থেকে থেকে রবীন্দ্র সঙ্গীত প্রচার বন্ধ করার নির্দেশ জারি করলে এর প্রতিবাদ করেন। ১৯৬৭-র নভেম্বর-এ ন্যাপ দ্বি-খন্ডিত হলে চীনপন্থি ন্যাপের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৬৯ সালে আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনে মাওলানা ভাসানী বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেন। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামীদের মুক্তি দাবি করেন। ৮ মার্চ (১৯৬৯) পশ্চিম পাকিস্তানে গিয়ে সেখানে পাকিস্তান পিপলস পার্টির নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টোর সাথে সাক্ষাত করে গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র কায়েমের লক্ষ্যে একমত হন। ২৬ শে ফেব্রুয়ারি আইয়ুব খান কর্তৃক আহুত গোলটেবিল বৈঠক প্রত্যাখান করে শ্রমজীবীদের ঘেরাও কর্মসূচী পালনে উৎসাহ প্রদান করেন। আইয়ুব খান সরকারের পতনের পর নির্বাচনের পূর্বে ভোটের আগে ভাত চাই, ইসলামিক সমাজতন্ত্র কায়েম ইত্যাদি দাবি উত্থাপন করেন।

১৯৭০-১৯৭৬
১৯৭০ সালের ৬-৮ আগস্ট বন্যা সমস্যা সমাধানের দাবিতে অনশন পালন করেন।অতঃপর সাধারণ নির্বচনে অংশ গ্রহণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। ১২ নভেম্বর (১৯৭০) পূর্ব পাকিস্তানে প্রলয়ঙ্কারী ঘুর্ণিঝড় হলে দুর্গত এলাকায় ত্রান ব্যবস্থায় অংশ নেয়ার জন্য ন্যাপ প্রার্থীরা নির্বাচন থেকে সরে দাড়ান। ১৯৭০ সালের ৪ ডিসেম্বর ঢাকার পল্টন ময়দানে এক জনসভায় ‘স্বাধীন পূর্ব পাকিস্তান’ দাবি উত্থাপন করেন। ১৯৭১ এর মার্চ মাসে শেখ মুজিবুর রহমানের অসহযোগ আন্দোলন এর প্রতি সমর্থন প্রদান করেন এবং ১৮ জানুয়ারী ১৯৭১ পল্টন ময়দানে অনুষ্ঠিত জনসভায় স্বাধীনতার ঘোষণা প্রদানের জন্য তার প্রতি আহবান জানিয়েছিলেন। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ভারত যান এবং মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হন।২৫ মার্চ রাতে মওলানা ভাসানী সন্তোষে তার গৃহে অবস্থান করছিলেন। তিনি পাকিস্তান বাহিনীর দৃষ্টি এড়িযে টাঙ্গাইল ছেড়ে তার পিতৃভূমি সিরাজগঞ্জে চলে যান। পাকিস্তান বাহিনী তার সনত্দোষের বাড়িটি পুড়িয়ে দেয়। মওলানা ভাসানী মোজাফ্ফর ন্যাপ নেতা সাইফুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে নৌকাযোগে ভারত সীমানা অভিমুখে রওনা হন। অবশেষে ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মইনুল হক চৌধুরীর সাহায্যে মওলানা ভাসানী ও সাইফুল ইসলাম ১৫/১৬ এপ্রিল পূর্ববঙ্গ অতিক্রম করে আসামের ফুলবাড়ী নামক স্থানে উপস্থিত হন। পরে তাদের হলদীগঞ্জ বিএসএফ ক্যাম্পে আশ্রয় দেয়া হয়। এরপর মওলানা ভাসানী ও সাইফুল ইসলামকে প্লেনে করে কলকাতায় পাঠিয়ে দেয়া হয় এবং পার্ক স্ট্রিটের কোহিনুর প্যালেসের ৫তলার একটি ফ্ল্যাট তাদের অবস্থানের জন্য দেয়া হয়। ১৯৭১ সালের ২৩ এপ্রিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার পৰে মওলানা ভাসানী একটি বিবৃতি প্রদান করেন যা ভারতীয় বাংলা ও ইংরেজি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। এছাড়া মওলানা ভাসানী চীনের নেতা মাও সে তুং, চৌ এন লাই এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের কাছে তার বার্তা পাঠিয়ে তাদের অবহিত করেন যেন পূর্ববঙ্গে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ব্যাপকহারে গণহত্যা চালাচ্ছে। সেজন্য তিনি প্রেসিডেন্ট নিক্সনকে অনুরোধ করেন এই মর্মে যে, তিনি যেন পাকিস্তানকে অস্ত্র সরবরাহ না করেন। উপরন্তু মওলানা ভাসানী প্রেসিডেন্ট নিক্সনকে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেবার আহ্বান জানান। ১৯৭১ সালের ২৫ এপ্রিল মওলানা ভাসানী সোভিয়েত রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট কাছে পাকিস্তান বাংলাদেশের জনগণের ওপর যে বর্বরোচিত অত্যাচার চালাচ্ছে তার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করেন। ৩১ মে মওলানা ভাসানী এক বিবৃতিতে বলেন, বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষ দখলদার বাহিনীর সঙ্গে জীবনমরণ সংগ্রামে লিপ্ত। তারা মাতৃভূমি রৰার জন্য বদ্ধপরিকর। তারা এই সংগ্রামে জয়লাভ করবেই। ৭ জুন মওলানা ভাসানী এক বিবৃতিতে বলেন, বাংলাদেশের সব অঞ্চল আজ দশ লাখ বাঙালির রক্তে স্নাত এবং এই রক্তস্নানের মধ্য দিয়েই বাংলার স্বাধীনতা আসবে।

এর মধ্যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ দু’বার কোহিনুর প্যালেসে এসে মওলানা ভাসানীর সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হন এবং তার পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রার্থনা করেন।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে সর্বদলীয় চরিত্র দেয়ার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে আট সদস্যবিশিষ্ট উপদেষ্টা কমিটি গঠিত হয় যার সভাপতি ছিলেন মওলানা ভাসানী। ওই উপদেষ্টা কমিটির সদস্য ছিলেন_ ১) তাজউদ্দীন আহমদ, ২) মণি সিং, ৩) অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ, ৪) মনোঞ্জন ধর প্রমুখ। মওলানা ভাসানীর সভাপতিত্বে ওই উপদেষ্টা কমিটির সভায় এই মর্মে অভিমত ব্যক্ত করা হয় যে, পূর্ববঙ্গের পূর্ণ স্বাধীনতা ব্যতিরেক অন্য কোন প্রকার রাজনৈতিক সমাধান গ্রহণযোগ্য হবে না।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে মওলানা ভাসানী কলকাতা ছাড়াও দেরাদুন, দিল্লী ও অন্যান্য স্থানে অবস্থান করেন। পরবর্তীকালে অনেকে অভিযোগ করেন যে ভারতে থাকাকালীন তিনি নজরবন্দি অবস্থায় ছিলেন। ভারতে অবস্থানকালে মওলানা ভাসানী দুইবার অসুস্থ হয়ে পড়েন। তখন তাকে দিল্লী অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সে ভর্তি করা হয়েছিল। বাংলাদেশে ১৯৭২ সালের ২২ জানুয়ারি প্রত্যাবর্তন করেন। ১৯৭২-এর ২৫ ফেব্রুয়ারি সাপ্তাহিক হক-কথা প্রকাশ করেন। বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রীচুক্তির বিরোধিতা করলেও মুজিব সরকারের জাতীয়করণ নীতি এবং ১৯৭২-এর সংবিধানের এর প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেন। ১৯৭৩ সালে খাদ্যের দাবিতে ঢাকায় ১৫-২২ মে অনশন ধর্মঘট পালন করেন। ১৯৭৪-এর ৮ এপ্রিল হুকুমতে রাব্বানিয়া সমিতি গঠন করেন। একই বছর জুন মাসে আইন অমান্য আন্দোলন শুরু করলে টাঙ্গাইলের সন্তোষে গৃহবন্দি হন। ১৯৭৬-এর ১৬ মে ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের প্রতিবাদে ঐতিহাসিক লং মার্চে নেতৃত্ব দেন। একই বছর ২ অক্টোবর খোদাই খিদমতগার নামে নতুন আর একটি সংগঠন গড়ে তোলেন।

মৃত্যু
১৯৭৬ খৃস্টাব্দের ১৭ই নভেম্বর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এই দেশ বরেণ্য নেতা মৃত্যুবরণ করেন। তাঁকে টাঙ্গাইলের সন্তোষে দাফন করা হয়। সারা দেশ থেকে আগত হাজার হাজার মানুষ তাঁর জানাযায় অংশগ্রহণ করে।

সমাজ সংস্কার
রাজনীতির পাশাপাশি তিনি সমাজ সংস্কারমূলক কর্মকান্ডে জড়িত ছিলেন। আসামে ৩০ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি কারিগরী শিক্ষা কলেজ, শিশু কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন সন্তোষে। এছড়াও তিনি কাগমারিতে মাওলানা মোহাম্মস আলী কলেজ এবং পঞ্চবিবিতে নজরুল ইসলাম কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।
প্রকাশিত গ্রন্থ

* দেশের সমস্যা ও সমাধান (১৯৬২)
* মাও সে তুং-এর দেশে (১৯৬৩)

মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী আজীবন নিপীড়িত মানুষের মুক্তির সংগ্রাম করে গেছেন। ১৯৭৬ সালের ১৬ই মে তিনি ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চে নেতৃত্ব দেন। এ কর্মসূচিই ছিল তাঁর জীবনের শেষ কর্মসূচি। কেন তিনি এ কর্মসূচি গ্রহণ করতে গেলেন? এ প্রশ্নটি আমার মনে প্রায়ই জাগে। এ প্রশ্নটির উত্তর খুঁজে পাবার জন্য আমরা কাজ করছি। আমাদের জাতীয় জীবনে ১৯৭৬ সাল এক সংকটপূর্ণ বছর। এ বছরের প্রথম দিকে ভারত উপর্যুপরি সীমান্তহামলা শুরু করে এবং মে মাসের প্রথম দিকে ফারাক্কায় গঙ্গা নদীর পানি এক তরফা প্রত্যাহার করে নেয়। এ সময় দেশবাসীর মনে একদিকে ভারতের আক্রমন ভীতি অপর দিকে ফারাক্কায় গঙ্গা নদীর পানি একতরফা প্রত্যাহার করায় নদীগুলিতে পানি না পাওয়া ভীতি। জাতির এ সংকটময় মূহুর্তে মহান নেতা মওলানা ভাসানী গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেন। তিনি ফারাক্কা লংমার্চের কর্মসূচি ঘোষণা করলেন। এ কর্মসূচীটি আমাদের জাতীয় জীবনের এক মহাসংকটকালে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এ কর্মসূচীতে আমি ব্যাক্তিগতভাবে সম্পৃক্ত ছিলাম। আজ থেকে চৌত্রিশ বছর আগে অনুষ্ঠিত এ লংমার্চের কিছু কিছু স্মৃতি আজো আমার মনে রয়েছে। এখানে আমার স্মরণে থাকা দু’ একটি ঘটনা বর্ননা করব।

এ সময়কার আরও একটি বড় ঘটনা ছিল ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগষ্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবার পরিজনকে হত্যা করা। এ হত্যাকান্ডের পরপরই জেলখানায় বন্দি অবস্থায় জাতীয় পর্যায়ের চার নেতাঃ মুক্তিযুদ্ধের মহান বীর তাজুদ্দিন আহমদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, এম. মনসুর আলী, এ এইচ এম কামরুজ্জামানকে হত্যা করা হয়। সদ্য স্বাধীনতাপ্রাপ্ত বাংলাদেশ একটি স্থিতিশীল সরকার প্রতিষ্ঠার আগেই সে সময়কার সরকার প্রধান শেখ মুজিবুর রহমানকেসহ এসব রাজনৈতিক হত্যাকান্ড বাংলাদেশকে নেতৃত্ব শুন্য করার লক্ষ্যে পরিচালিত হয়েছিল। রাজনৈতিক হত্যাকান্ডের ধারাবাহিকভায় এটা ছিল একটি বড় ধরনের ঘটনা। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার আগেও নক্সালের নামে অসংখ্য বামপন্থী নেতা কর্মিদের হত্যা করা হয়েছে। সেনাবাহিনীতে সাধারণ সৈনিক ও অফিসারের মধ্যকার অসাম্যের কথা তুলে বার বার বিদ্রোহের উস্কানি দেয়া হয়েছে। ফলে মারা গেছে সৈন্য বাহিনীর অনেক অফিসার ও সাধারণ সৈন্য। এতে সেনাবাহিনীর চেইন অব কমান্ড নষ্ট হয়েছে। একটা সময়ে এটা স্পষ্ট হলো যে, কিছু সংখ্যক দেশীয় চক্রান্তকারী বহিরাগত আগ্রাসনকে আলিঙ্গন করার জন্য এ পরিস্থিতি তৈরী করছে। ঘটনার গভীরতা সাধারণ সৈনিকরা বুঝতে পারলো। সময় ক্ষেপন না করে ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বর রাত ৪টায় ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের কয়েক হাজার সৈন্য ট্যাঙ্ক ও ট্রাকে করে ঢাকা শহরে আগমন করল। আমি সেদিন রাতে তোপখানা রোডের এক বাসায় ছাত্রদলের (ভাসানী অনুসারী) কিছু কর্মিসহ সংগঠনের অন্যতম নেতা মোবারক হোসেনের বাসায় ঘুমাচ্ছিলাম। রোডের পাশে বাসা থাকায় বাসার সকলেই আমরা জ়েগে উঠলাম। তখন সকাল পাঁচটা। আমি আমার বন্ধুদের বললাম চল আমরা সৈন্যদের সাথে যোগ দেই। ওদের শ্লোগান আমাদের মত হয় না। কাউকে রাজী করাতে না পেরে আমি একাই একটি ট্যাঙ্কে উঠে গিয়ে শ্লোগান দিলাম। ট্যাঙ্কে ১০/১২ সৈন্য ছিল। আমার শ্লোগানের কন্ঠ শুনে সৈন্যরা যেন বারুদে অগ্নি শলাকা পেল। কামানের গর্জনের চাইতে মানুষের গর্জন কত জোরালো হতে পারে, সেদিন আমি তা বুঝেছি। ঢাকা শহরের আমি একজন পরিচিত মুখ। সৈন্যবাহী একটি ট্যাঙ্কে উঠে সারা শহরব্যাপী শ্লোগান দিয়ে তোপখানা রোডে এলে সমবেত হাজার হাজার মানুষ ট্যাঙ্ক মিছিলে যোগ দেয়। সিপাহী-জনতা এক কাতারে সামিল হয়। তারা জ়েনারেল জিয়াউর রহমানকে বন্ধি অবস্থা থেকে মুক্ত করে আনে। এ দিনটি দেশবাসী ‘সিপাহী-জনতার বিপ্লব দিবস’ হিসেবে পালন করে। সেদিন সিপাহী-জনতা গগনবিদারী স্লোগান দিয়ে বিশ্ববাসীকে জানিয়ে দেয়; আগ্রাসী যেই হও, বাংলাদেশের দিকে হাত বাড়াইওনা। তারা শ্লোগান দেয়ঃ ‘সিপাহী বিপ্লব জিন্দাবাদ’, ‘সিপাহী-জন তা ভাই ভাই’, ‘জেনারেল জিয়া জিন্দাবাদ’, ‘রুশ-ভারতের দালালরা হুঁশিয়ার সাবধান’, মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী।

পরিকল্পিত হত্যাকান্ডের মাধ্যামে চক্রান্তকারীরা দেশকে নেতৃত্বশূন্য করে ফেলেছে। ৭ই নভেম্বর দুপুর বেলাই সন্তোষে মওলানা ভাসানীর সাথে যোগাযোগ করা হয়। তিনি এক বিবৃতিতে জেনারেল জিয়াকে সমর্থন করেন। মওলানা ভাসানীর বয়স তখন ৯৬ বছর। বার্ধক্যের নানারোগে তিনি আক্রান্ত। এ সময় সীমান্তে অবিরত হামলা চলছিল। মওলানা ভাসানী সীমান্ত সফর শুরু করলেন। প্রতিদিন তিনি হাজার হাজার মানুষের সামনে দেশের স্বাধীনতা রক্ষায় এগিয়ে আসার আহবান জানান। একে অসুস্থ তার উপর সীমান্ত সফরের ধকল, এ অবস্থায় ১৯৭৬ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারী খুলনার এক সভায় বক্তৃতা প্রদান কালে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। স্থানীয় ডাক্তারগণ মওলানা ভাসানীর হৃদরোগে আক্রান্ত হবার কথা বলেন। তাঁকে পিজি হাস্পাতালে নিয়ে আসা হয়। এর পর থেকে হুজুর প্রায়শঃই অসুস্থ হয়ে পড়তেন। পিজি হাসপাতালে তাঁর জন্য একটা রুম বরাদ্ধ ছিল।

দেশের এ সংকটময় মূহুর্তে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাসানী ন্যাপের ছাত্র সংগঠন জাতীয় ছাত্রদলের পক্ষ থেকে আমরা এমন কতগুলো জাতীয়তাবাদী কর্মসুচী গ্রহণ করি-যা বাংলাদেশের দেশপ্রেমিক ছাত্র-যুব সমাজকে প্রবল ভাবে আকর্ষণ করেছিল। তার একটি হলো ‘ফারাক্কা প্রতিরোধ আন্দোলন’। যতটুকু আমার মনে পড়ে তারিখটি ছিল ১৫ কি ১৬ ই এপ্রিল। ভারত কর্তৃক ফারাক্কায় গঙ্গা নদীর পানি এক তরফা প্রত্যাহারের ফলে পদ্মা শুকিয়ে চৌচির হয়ে গেছে। পত্রিকায় এ ছবি দেখে আমি আমাদের ছাত্রদলের কর্মীদের নিয়ে তাত্ক্ষণিকভাবে মধুর ক্যান্টিন থেকে একটি প্রতিবাদ মিছিল বের করি। এ মিছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্টস ফ্যাকাল্টির করিডোর প্রদক্ষিণ করার পর সাইন্স ফ্যাকাল্টি হয়ে আমরা প্রেস ক্লাব পর্যন্ত গমন করি। সেখান থেকে ১০/১২ জনের একটি গ্রুপ আমরা মওলানা হুজুরের সাথে দেখা করার জন্য পিজি হাসপাতালে গেলাম। আমি বললাম, হুজুর, আমরা ফারাক্কা বাঁধের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার প্রতিবাদে মিছিল করে এসেছি। আমরা চাই এ ব্যাপারে বিশ্ব-দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য আপনি একটা কিছু করেন। হুজুর আমাদের উত্সাহ-উদ্দীপনা দেখে খুব খুশী হলেন। তিনি বললেন তোমরা যুবক, তোমরা যদি চাও অনেক বড় কর্মসূচী গ্রহণ করা যাবে। ফারাক্কা বাঁধের বিরুদ্ধে এখনই কিছু না করলে একদিন বাংলাদেশ মরুভূমিতে পরিনত হবে। জাতি হিসেবে আমরা নিঃশেষ হয়ে যাব। তিনি আমাকে থাকার জন্য বললেন। অন্যরা চলে গেলে হুজুর আমাকে বললেন, প্রথমে সেরাজকে দেখ বাসায় আছে কিনা? তাকে না পেলে জাহিদকে টেলিফোন কর, বাংলাদেশ টাইমস পত্রিকায় পাওয়া যাবে। শ্রমিক নেতা সিরাজুল হোসেন খানকে টেলিফোন করে পাওয়া গেল। আমি টেলিফোন হুজুরের হাতে দিলাম। হুজুর জিজ্ঞাসা করলেন, সেরাজ আমার এখানে আসতে পারবা। তোমার সাথে একটা জরুরী আলাপ আছে। সিরাজ ভাই বললেন, হুজুর আসছি। সেদিন বিকালেই হুজুর ফারাক্কায় ভারত কর্তৃক এক তরফা পানি প্রত্যাহারের ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতির উপর একটা বিবৃতি প্রদান করলেন। পর দিন বিকাল ৬টার দিকে হুজুরকে দেখতে গেলাম। কিছুক্ষণ পর হুজুর বললেন তোমার সাথে যারা এসেছে তাদেরকেসহ সকলেই এখন চলে যাও। কাল সকালের দিকে এক বার এসো। আমরা যখন কক্ষ থেকে বের হয়ে আসলাম তখন দেখলাম জেনারেল জিয়াউর রহমান সাহেব আরো কয়েকজন আর্মী অফিসারসহ হুজুরের সাথে দেখা করতে এসেছেন। সে সময় আমরা শুনেছিলাম, জেনারেল জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে মওলানা ভাসানীর পরামর্শকে খুবই গুরুত্ব দিতেন। শুনা কথাগুলি আমাদের কাছে সঠিক হলো। পরদিন ১৮ই এপ্রিল হুজুরের কাছে গেলে বুঝতে আমাদের অসুবিধা হলো না যে, জাতির এ মহাদুর্যোগময় মূহুর্তে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে পরিচালিত চক্রান্ত প্রতিহত করার লক্ষ্যে মওলানা ভাসানী ও জেনারেল জিয়াউর রহমান একমত হয়েছেন। হুজুর বললেন, আমরা ফারাক্কা বাঁধের বিরুদ্ধে লং মার্চ করব। ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের ফলে আমাদের যে ক্ষতি তা ভারতে স্বীকার করতেই হবে। ভারত যদি বাংলাদেশের ন্যায্য পাওনা পানি না দেয়, তাহলে ১৬ই মে রাজশাহী থেকে লক্ষ জনতার শান্তি মিছিল নিয়ে ফারাক্কা অভিমুখে যাত্রা শুরু করবো।

পিজি হাসপাতালে থাকা কালেই মওলানা ভাসানী সকল রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দলের নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠনের ঘোষণা দেন। ২রা মে ৩১ সদস্য বিশিষ্ট ফারাক্কা মিছিল কমিটি গঠন করা হয়। মওলানা ভাসানীকে এ কমিটির আহবায়ক করা হয়। আমাকে এ কমিটিতে রাখার জন্য হুজুর নিজে প্রস্তাব দেন।

আজ থেকে ছত্রিশ বছর আগে গঙ্গা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যার দাবীতে মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ফারাক্কা লংমার্চের নেতৃত্ব দেন। রাজশাহী মাদ্রাসা ময়দান থেকে ১৯৭৬ সালের ১৬ই মে আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি প্রায় লক্ষাধিক মানুষের এ মিছিলের যাত্রা ঘোষণা করেন এবং ১৭ই মে রাজশাহীর কানসার্ট সীমান্তে গিয়ে এ মিছিল শেষ হয়। রাজশাহীর মাদ্রাসা ময়দানের সংক্ষিপ্ত ভাষণে বলেন, গঙ্গা নদীর ন্যায্য হিস্যা আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের সংগ্রাম চলবে। আমরা শান্তি চাই। কিন্তু তারা যুদ্ধ চায়। বাংলাদেশের নিরস্ত্র জনতার ভয়ে তারা সীমান্তে সৈন্য মোতায়েন করেছে। আমরা যুদ্ধকে ঘৃণা করি। তিনি আরও বলেন, এ মিছিল বৃহত্শক্তির বিরুদ্ধে মজলুমের সংগ্রামের প্রতীক। গোটা বিশ্বের বুক থেকে জালেমের শোষণ পীড়নের সমাপ্তি না ঘটা পর্যন্ত এ সংগ্রাম চলবে। রাজশাহী থেকে রওয়ানা দেবার সময় হুজুর বলে ছিলেন, আমার সাথে সাথে থেকো। হুজুর অসুস্থ। ডায়াবেটিকস দ্রুত উঠা নামা করছে। প্রতি আধা ঘন্টা পর পর কাপড় বদলাতে হচ্ছে। ছোট্ট একটা মটর গাড়ি হুজুরকে বহন করছে। সাথে মশিয়ুর রহমান যাদু মিয়া। মিছিল শুরু হবার কিছুক্ষণ পরেই মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়েছিল। সারাদেশ থেকে এ মিছিলে অংশ নেবার জন্য কয়েক লক্ষ মানুষ এসেছে। তারা হুজুরের আগে পিছে মিছিলে দৌড়াচ্ছে। কেহই বৃষ্টির কারণে মিছিল থেকে সরে পড়েনি। এ মিছিলে আমিও হুজুরকে বহনকারী গাড়ির পিছনে পিছনে দৌড়াচ্ছি। আমার সাথে মোজাফফর হোসেন, সামসুজ্জামান মিলন, শওকত হোসেন নিলুসহ আরো অনেকে। এক টানা দৌড়ে কিভাবে আমরা ১১ মাইল পথ অতিক্রম করে প্রেমতলী পৌঁছেছিলাম, তা আজো বলতে পারি না। প্রেমতলী থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ১৯ মাইল পথ। এখানে আমরা রাত্রি যাপন করলাম। পরদিন সকালে আবার যাত্রা শুরু। অতিক্রম করতে হবে কানসার্ট পর্যন্ত আরও ৩৪ মাইল পথ। বিকাল ৪টায় আমরা কানসার্ট গিয়ে পৌঁছলাম। এখানে এ সে তিনি মিছিলের সমাপ্তি ঘোষণা করে বললেন, বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যার দাবী মেনে না নিলে তিনি আগামী মাসের মধ্যে স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী গঠন করে আগামী ১৬ই আগষ্ট থেকে ভারতীয় পন্য বর্জন আন্দোলন শূরু করবেন। তিনি মিছিলে আগতদের শপথ বাক্য পাঠ করানঃ গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যা না পাওয়া পর্যন্ত সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা, এবং দেশ গড়ার কাজে আত্মোসর্গ করা।

ফারাকা লং মার্চের মাধ্যমে মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী জাতীয় দুর্দিনে কিভাবে আগ্রাসী শক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাড়াতে হয়, সে পথ নির্দেশ রেখে গেছেন। বাংলাদেশের প্রাপ্য গঙ্গা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা না পেলে ভারতীয় পন্য বর্জন আন্দোলন শুরু করার নির্দেশ দিয়ে গেছেন। জেনারেল জিয়া সেদিন মওলানা ভাসানীকে সামনে রেখে আপোসের নয়, একজন দেশপ্রেমিক মুক্তিযোদ্ধার মত লড়াইয়ে সামিল হয়েছিলেন। আর আজ আমরা কি দেখছি, ক্ষমতার লোভে দল বিশেষ, আবার কখনো গোষ্ঠি বিশেষ এ মহান নেতার নির্দেশমত কাজ না করে, আপোসের পথ ধরেছে। দেশের স্বার্থ, দেশের অস্তিত্ব আগ্রাসী শক্তির হাতে তুলে দিচ্ছে। এর জন্য অবশ্যই ইতিহাসের কাঠগড়ায় একদিন দাঁড়াতে হবে।

ইন্দিরা গান্ধীকে মওলানা ভাসানীর লেখা একটি চিঠি:

প্রিয় মিসেস ইন্দিরা গান্ধী, প্রধানমন্ত্রী, গণপ্রজাতন্ত্রী ভারত সরকার আপনার ১৯৭৬ সালের ৪ মে’র পত্র ফারাক্কা সমস্যা সম্পর্কে সরকারি বিবৃতির পুনরাবৃত্তি মাত্র। আপনার প্রখ্যাত পূর্বপুরুষ— মতিলাল নেহরুর নাতি এবং জওয়াহেরলাল নেহরুর কন্যার নিকট থেকে এরূপ পত্র আশা করিনি। আপনি নিজে বঞ্চিত লোকের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সকল ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য সকল সময় সংগ্রাম করেছেন। মুক্তিযুদ্ধকালে আপনি এবং ভারতের সকল জনগণ যে সাহায্য করেছে এজন্য আমি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ।
ফারাক্কা সম্পর্কে আপনাকে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল পরিদর্শন করে কৃষি এবং শিল্প উত্পাদনের যে ক্ষতি হবে তা পরিমাপ করা জন্য পুনরায় অনুরোধ করছি। সম্পূর্ণ সরকারি প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর না করার জন্য আপনাকে অনুরোধ করছি। কারণ তাতে বর্তমান অবস্থা প্রতিফলিত হয় না।
এককভাবে গঙ্গার পানিপ্রবাহ প্রত্যাহার করার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা আমি ব্যাপকভাবে পরিদর্শন করি।
পারস্পরিক সমঝোতা ও সহযোগিতার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের জন্য আপনার উদ্যোগকে আমি অভিনন্দন জানাচ্ছি। কিন্তু সমাধান স্থায়ী ও বিস্তারিত হতে হবে। দু’মাসের নিম্ন প্রবাহের মধ্যে তা সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না; সারা বছরের স্রোত অন্তর্ভুক্ত থাকার ভিত্তিতে ফারাক্কা সমস্যা সমাধানের জন্য পূর্বে আপনাকে কয়েকবার টেলিগ্রাম করেছি। বাংলাদেশের সাড়ে তিন কোটি মানুষের জীবন-মরণ সমস্যা অন্যদের দিয়ে সমাধান সম্ভব নয়। দুই দেশের নেতাদের একত্রে বসে সমাধানে পৌঁছা উচিত। সম্মুখ বিরোধ ও সংঘর্ষ বাদ দিয়ে আমি অনুরোধ করছি আপনি নিজে হস্তক্ষেপ করে নিজে সমাধান করবেন, যা আট কোটি বাংলাদেশীর নিকট গ্রহণযোগ্য হবে। যদি আমার অনুরোধ আপনি গ্রহণ না করেন, তাহলে অত্যাচারিত মানুষের নেতা আপনার পূর্বপুরুষ এবং মহাত্মা গান্ধীর পদাঙ্ক অনুসরণ করে সমস্যা সমাধানের জন্য কর্মসূচি প্রণয়ন করতে বাধ্য হব। এ সঙ্কট সমাধানে আমার সর্বোচ্চ সহযোগিতা এবং দু’দেশের বন্ধুত্ব সম্পর্ক শক্তিশালী করার জন্য নিশ্চয়তা দিচ্ছি।
শুভেচ্ছান্তে—
আপনার বিশ্বস্ত
আবদুল হামিদ খান ভাসানী

ইন্দিরা গান্ধীর চিঠি

প্রিয় মওলানা সাহেব, আমি আপনার ১৯৭৫ সালের ১৮ এপ্রিলের পত্র পেয়ে দুঃখ পেলাম এবং বিস্মিত হলাম। এটা কল্পনা করতে কষ্ট হচ্ছে যে, ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে আমাদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সংগ্রাম করেছেন এবং পরবর্তীতে তার নিজের বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে দুঃখ-কষ্টে ও উত্সাহে অংশগ্রহণ করেছেন— তিনি আমাদের এমন সাংঘাতিকভাবে ভুল বুঝছেন এবং আমাদের সরকারের উদ্দেশ্য সম্পর্কে প্রশ্ন তুলছেন। আমি বিশ্বাস করতে পছন্দ করি যে, আপনি ভারতের বিভক্ত ভারত প্রতিষ্ঠার আক্রমণাত্মক অভিসন্ধি এবং ফারাক্কা বাঁধ ভাঙার ভীতি প্রদান সম্পর্কে যে ভাষণ দিয়েছেন তা উত্তেজনা মুহূর্তে বলেছেন। কোনো বাংলাদেশী সত্যি বিশ্বাস করে যে, ভারত এত দ্রুত বাংলাদেশ থেকে সেনাবাহিনী প্রত্যাহার করেছে— সে কী করে তার প্রতিবেশীর প্রতি বৈরী ভাব পোষণ করতে পারে! মুক্তিযুদ্ধে অবদান এবং যুদ্ধ-উত্তর সহযোগিতার বিবরণের প্রেক্ষিতে ভারত সরকার ও তার জনগণকে বিচার করার প্রত্যাশা করে। আমাদের নিজেদের প্রয়োজন অধিক এবং আমাদের জনগণের দায়িত্ব অনেক বেশি। কিন্তু আমরা বিশ্বাস করি যে, আমাদের দুই দেশের জনগণের মঙ্গল একে অপরের ওপর নির্ভরশীল। আমাদের উভয়ের স্বার্থে এ অঞ্চলে স্থিতিশীলতা, সহযোগিতা এবং দু’দেশের মধ্যে বন্ধুত্ব প্রয়োজন।

আপনি অবগত আছেন যে, ১৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ফারাক্কা বাঁধ পূর্ব ভারতের প্রধান বন্দর কলকাতাকে রক্ষার জন্য একমাত্র উপায়। এ বাঁধকে কোনো প্রকারে পরিত্যাগ করা যায় না। আপনি আরও জানেন যে, একমাত্র গ্রীষ্মকালে দু’মাসে গঙ্গায় পানির অভাব দেখা দেয়। উপায় অবশ্য পাওয়া যাবে। ভবিষ্যতে যদি কোনো ঘটতি দেখা দেয় তাহলে পারস্পরিক সমঝোতা ও সহযোগিতার মাধ্যমে আমাদের উভয়ের প্রয়োজন মেটানো যাবে। হুগলীর জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম পানি না দিয়ে আমরা বাংলাদেশে পানির প্রবাহ এ পর্যন্ত অব্যাহত রেখেছি। মনে হয়, আপনাকে ফারাক্কা বাঁধের সংযুক্ত খালের বাংলাদেশ প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে একতরফা এবং অত্যন্ত ভাবানো বিবরণ দেয়া হয়েছে। আপনি বললে আমাদের হাইকমিশনার আপনাকে বিপরীত বিবরণ সম্পর্কে অবহিত করবেন।

প্রতিবেশীদের সঙ্গে অনেক সময় সমস্যা দেখা দেয়। সমঝোতা ও সহযোগিতার মধ্যে সমাধান খুঁজে পাওয়াই গুরুত্বপূর্ণ। সংঘর্ষ ও শত্রুতা পোষণ করে আমরা একে অন্যের ক্ষতি করতে পারি না। আপনাকে সম্পূর্ণ সরলতার সঙ্গে পুনরায় বলতে চাই যে, বাংলাদেশ তার স্বাধীনতাকে সংহত এবং শান্তিতে উন্নতি করুক। আমাদের পক্ষ থেকে প্রতিবেশী বন্ধু এবং উন্নয়নের অংশীদার হিসেবে আমরা আমাদের অবদানের প্রস্তাব অব্যাহত রাখব।

আপনি হয়তো অবগত আছেন যে, আমাদের দুই সরকার গ্রীষ্মকালে গঙ্গার পানি বণ্টন এবং সংশ্লিষ্ট প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে। এর জন্য উভয় পক্ষের কল্যাণকামী মানুষের উত্সাহ ও সমর্থন প্রয়োজন। আমি আপনাকে নিশ্চয়তা প্রদান করছি যে, আমরা অনুসরণ ও চুক্তিপূর্ব আলোচনায় উন্মুক্ত কিন্তু কেউ যেন আশা না করে যে, ভারত কোনো প্রকার ভয় এবং অযৌক্তিক ও অন্যায় দাবির কাছে আত্মসমর্পণ করবে।
আপনার বিশ্বস্ত,
ইন্দিরা গান্ধী

প্রথম আলো
– মওলানা ভাসানী : তার ব্যক্তিত্ব ও মানবতা- অধ্যাপক আশরাফ জামান

দারিদ্রের দেশ আমেরিকা


দারিদ্রের দেশ আমেরিকা

জেরি হোয়াইট • গত সপ্তাহে প্রকাশিত মার্কিন জনসংখ্যা জরিপ ব্যুরোর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৯৫০ সালে তথ্য সংরক্ষণ শুরু করার পর এখন সর্বোচ্চ সংখ্যক আমেরিকান দারিদ্র্যসীমায় বাস করছে। ব্যুরোর পরিসংখ্যানগুলো মার্কিন পুঁজিবাদী অর্থনীতি ও গোটা রাজনৈতিক ব্যবস্থার দেউলিয়াপনার এক দলিল হিসেবেই প্রতিভাত হচ্ছে।

২০১০ সালে এক কোটি ৬৪ লাখ শিশুসহ মোট চার কোটি ৬২ লাখ মানুষ- গড়ে প্রায় প্রতি ছয়জন মার্কিনির একজন বাস করছিল দারিদ্র্যসীমার নিচে। তাদের প্রায় অর্ধেক বা দুই কোটি লোক ছিল চরম দারিদ্রে্য, যারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের হিসাব অনুযায়ী ন্যূনতম খাবার, আশ্রয়, পোশাক ও বিভিন্ন সেবা লাভের জন্য প্রয়োজনীয় যে আয় তার অর্ধেকেরও কমে জীবিকা নির্বাহ করছিল। যেহেতু এটি সরকারি দারিদ্র্যসীমা- চারজনের একটি পরিবারের জন্য প্রায় ২২ হাজার ডলার এবং ৬৫ বছরের কম বয়সী একজন অবিবাহিত ব্যক্তির জন্য ১১ হাজার ডলার- তা জীবনযাত্রার একটি যুক্তিসঙ্গত মান বজায় রাখার জন্য যথেষ্ট নয়। আরো সঠিক হিসাব হবে সরকারি এই দারিদ্র্যসীমার দ্বিগুণ অর্থাৎ চারজনের একটি পরিবারের জন্য প্রায় ৪৪ হাজার ডলার। দশ কোটির বেশি মার্কিনি – প্রতি তিনজনে একজন – এই দারিদ্র্যসীমার নিচে অবস্থান করছে।

দারিদ্র্য বৃদ্ধির মূল কারণ হচ্ছে কর্মসংস্থান সংকট, যা ২০১০ সাল বা যে বছর মন্দা শেষ হয়েছে বলে দাবি করা হয় তার এক বছর পর আরো তীব্র হয়েছে। লাখ লাখ শ্রমিক এখন বেকার বা বাধ্য হয়ে খন্ডকালীন, কম বেতনের কাজ করছে যা তাদের দারিদ্র্যমুক্ত থাকার জন্য যথেষ্ট নয়।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যুবসমাজ। ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীদের গড় আয় গত বছর নয় শতাংশ কমে গেছে। ২৫ থেকে ৩৪ বছর বয়সী ৬০ লাখ তরুণ-তরুণী খরচ কমাতে বাপ-মা ও বন্ধুদের পরিবারের সঙ্গে থাকা শুরু করেছে, যে সংখ্যা মন্দাপূর্ব সময়ের চেয়ে ২৫ শতাংশ বেশি। এদের মধ্যে দারিদ্রে্যর হার ৮.৪ শতাংশ; কিন্তু, ব্লুমবার্গ বিজনেসউইকের করা জনসংখ্যা জরিপের এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই হার বেড়ে ৪৫.৩ শতাংশ হতো, যদি তাদের বাপ-মার আয় হিসাব করা না হতো।

তিন বছরে দারিদ্রে্যর যে বিস্ফোরণ এবং সেই সঙ্গে বন্ধক দেওয়া বাড়ির মালিকানা হারানো, বাস্ত্তহীনতা, ক্ষুধা ও বীমাহীন মানুষের ক্রমবর্ধমান সংখ্যা- এসব ঘটেছে এমন সময়ে যখন পাশাপাশি অর্থনীতি ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণকারী ধনিক অভিজাত শ্রেণীর সম্পদ বেড়েছে এত উঁচুমাত্রায় যা অবাক করে দেওয়ার মতো।

এটা হচ্ছে তিন দশক দীর্ঘ এক প্রক্রিয়ার ফলাফল, যে সময়ে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় দলের শাসকরা সমাজের সম্পদের আরো বড় অংশ করপোরেট ও পুঁজিবাদী অভিজাতদের হাতে তুলে দেওয়ার এক সচেতন নীতির বাস্তবায়ন করেছে। মুক্ত বাজারের নামে তারা করপোরেশনসমূহ ও ধনিকগোষ্ঠীর ওপর আরোপিত কর হ্রাস করেছে, শিল্প ও ব্যাংকগুলোর ওপর থেকে নিয়ন্ত্রণ প্রত্যাহার করেছে এবং শ্রমিক শ্রেণীর চাকরি ও জীবনযাত্রার বিরুদ্ধে পরিচালিত এক করপোরেট আক্রমণকে সমর্থন যুগিয়ে গেছে। সেই সঙ্গে কর্মসংস্থানমূলক সরকারি ব্যয় ক্রমাগত সংকুচিত করেছে এবং বড় শিল্প ও ব্যাংকের জন্য প্রণোদনামূলক অর্থ যুগিয়েছে। তিন বছর আগের এই দিনে, ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে ওয়াল স্ট্রিটের বিনিয়োগ কোম্পানি লেহমান ব্রাদার্সের পতনের পর সরকার বিনা শর্তে ব্যাংকগুলোকে অযুত কোটি ডলার যোগান দিয়েছে। করপোরেশন ও ব্যাংকগুলোর কাছে এখন দুই লাখ কোটি ডলার সঞ্চিত রয়েছে, অথচ তারা কোনো শ্রমিক নিয়োগ করতে অথবা নতুন কর্মসংস্থানে রাজি নয়।

ক্ষমতাসীনরা এখন উঁচুমাত্রার বেকারত্বের এক সুপরিকল্পিত নীতি অনুসরণ করছে যাতে মজুরি ও অন্যান্য ভাতা আরো কমিয়ে তাদের মুনাফা আরো বাড়ানো যায়। উদাহরণস্বরূপ, অটোমোবাইল শিল্পে ওবামা প্রশাসন ও ট্রেড ইউনিয়নগুলোর সমর্থন নিয়ে করপোরেশনগুলো কাজের পরিবেশ ত্রিশের দশকে যেমন ছিল সে অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে চাচ্ছে। এই শিল্পে এখন নবনিযুক্ত শ্রমিকরা দারিদ্র্যসীমার নিচের আয়ের মজুরি পাচ্ছে। সেই সঙ্গে তাদের মৌলিক অধিকার ও সুরক্ষা থেকেও পুরোপুরি বঞ্চিত করা হচ্ছে।

ত্রিশের দশকের মহামন্দার পর বর্তমান এই তীব্রতম অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকটের মোকাবিলায় ওবামা প্রশাসন কিছুই করেনি। প্রতিনিয়ত বেড়ে চলা সামাজিক ক্লেশের প্রতি তার প্রতিক্রিয়া হচ্ছে সম্পূর্ণ নির্লিপ্তি। প্রেসিডেন্ট ওবামা উত্তর ক্যারোলিনায় যে ভাষণ দেন তাতে দারিদ্রে্যর এই নতুন পরিসংখ্যানগুলোর উল্লেখ করারও প্রয়োজন বোধ করেননি। তিনি সেখানে তার প্রস্তাবিত ভুয়া কর্মসংস্থান আইনের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছেন মাত্র। অথচ এই আইন বৃহৎ ব্যবসাগুলোর ওপর কর আরো কমাবে এবং তাদের আরো অর্থ যোগান দেবে ও কর্মজীবী মানুষের ক্লেশ আরো বাড়াবে।

সাহায্য করা দূরে থাক, ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানরা সমাজকল্যাণ কর্মসূচিগুলোর ব্যয় কয়েক লাখ কোটি ডলার কমাতে অঙ্গীকারাবদ্ধ। অথচ এই সমাজকল্যাণ খাতের কর্মসূচিগুলোই বিংশ শতাব্দীতে ত্রিশের মহামন্দার সময়কালীন কয়েক কোটি লোককে দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করেছিল। ওবামার দ্বিদলীয় বাজেট ঘাটতি হ্রাসকরণ কমিটির যেসব কর্মসূচির ওপর আঘাত হানার পরিকল্পনা করছে তার একটি হচ্ছে সামাজিক নিরাপত্তা, যেটি, জনসংখ্যা জরিপ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর দুই কোটি বয়স্ক ও পঙ্গু মানুষকে দারিদ্র্যমুক্ত রেখেছিল।

করপোরেট ও পুঁজিপতি অভিজাত এবং তাদের পক্ষপুষ্ট শাসকদের মূল লক্ষ্য সুস্পষ্ট। আর তা হচ্ছে এমন সব কর্মসূচি গ্রহণ যা সরাসরি তাদের সম্পদ বাড়ায় না এমন সবকিছুর অবলুপ্তি।

ডব্লুএসডব্লুএস অনলাইন থেকে ভাষান্তর : আজফার আজিজ [সাপ্তাহিক বুধবার থেকে]

Statistics on poverty & food wastage in America
By Samana Siddiqi

Poverty in America? One of the richest countries in the world?

Yes, poverty is a reality in America, just as it is for millions of other human beings on the planet. According to the US Census Bureau, 35.9 million people live below the poverty line in America, including 12.9 million children.

This is despite abundance of food resources. Almost 100 billion pounds of food is wasted in America each year. 700 million hungry human beings in different parts of the world would have gladly accepted this food.

Here are some statistics on the nature of poverty and the waste of food and money in America.

-In 2004, requests for emergency food assistance increased by an average of 14 percent during the year, according to a 27-city study by the United States Conference of Mayors.

-Also in this study, it was noted that on average, 20 percent of requests for emergency food assistance have gone unmet in 2004.

-According to the Bread for the World Institute 3.5 percent of U.S. households experience hunger. Some people in these households frequently skip meals or eat too little, sometimes going without food for a whole day. 9.6 million people, including 3 million children, live in these homes.

-America’s Second Harvest (http://www.secondharvest.org/), the nation’s largest network of food banks, reports that 23.3 million people turned to the agencies they serve in 2001, an increase of over 2 million since 1997. Forty percent were from working families.

33 million Americans continue to live in households that did not have an adequate supply of food. Nearly one-third of these households contain adults or children who went hungry at some point in 2000.

U.S. Dept. of Agriculture, March 2002, “Household Food Security in the United States, 2000”
Wasted food in America

-According to America’s Second Harvest, over 41 billion pounds of food have been wasted this year.

-According to a 2004 study from the University of Arizona (UA) in Tucson, on average, American households waste 14 percent of their food purchases.

Fifteen percent of that includes products still within their expiration date but never opened. Timothy Jones, an anthropologist at the UA Bureau of Applied Research in Anthropology who led the study, estimates an average family of four currently tosses out $590 per year, just in meat, fruits, vegetables and grain products.

Nationwide, Jones says, household food waste alone adds up to $43 billion, making it a serious economic problem.

– Official surveys indicate that every year more than 350 billion pounds of edible food is available for human consumption in the United States. Of that total, nearly 100 billion pounds – including fresh vegetables, fruits, milk, and grain products – are lost to waste by retailers, restaurants, and consumers.

-“U.S.-Massive Food Waste & Hunger Side by Side” by Haider Rizvi

-According to a 1997 study by US Department of Agriculture’s Economic Research Service (ERS) entitled “Estimating and Addressing America’s Food Losses”, about 96 billion pounds of food, or more than a quarter of the 356 billion pounds of edible food available for human consumption in the United States, was lost to human use by food retailers, consumers, and foodservice establishments in 1995.

Fresh fruits and vegetables, fluid milk, grain products, and sweeteners (mostly sugar and high-fructose corn syrup) accounted for two-thirds of the losses. 16 billion pounds of milk and 14 billion pounds of grain products are also included in this loss.

Food that could have gone to millions

According to the US Department of Agriculture, up to one-fifth of America’s food goes to waste each year, with an estimated 130 pounds of food per person ending up in landfills. The annual value of this lost food is estimated at around $31 billion But the real story is that roughly 49 million people could have been fed by those lost resources. (For your persona jihad against wastage, see A Citizen’s Guide to Food Recovery)

(The figures below are 1998 figures)

Proportion of Americans living below the poverty level: 12.7 percent (34.5 million people)
The average poverty threshold for a family of four: $16,660 in annual income
The average poverty threshold for a family of three: $13,003 in annual income
Poverty rate for metropolitan areas: 12.3 percent
Poverty rate for those living inside central cities: 18.5 percent
Poverty rate for those living in the suburbs: 8.7 percent
Percentage and number of poor children: 18.9 percent (13.5 million)
Children make up 39 percent of the poor and 26 percent of the total population.
The poverty rate for children is higher than for any other age group.

Child poverty:

-for children under age 6 living in families with a female householder and no husband present: 54.8 percent
-for children under age 6 in married-couple families: 10.1 percent
Poverty rate for African Americans: 26.1 percent
Poverty rate for Asians and Pacific Islanders: 12.5 percent
Poverty rate for Hispanics of any race: 25.6 percent
Poverty rate for non-Hispanic whites: 8.2 percent

Visit us on FaceBook

একুশ নিউজ মিডিয়া এখন ফেস বুক এ

Video News: www.EkushTube.com

Change your Life: ASea – Advancing Life

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আন্দোলন : কারণ খুবই স্পষ্ট


যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আন্দোলন : কারণ খুবই স্পষ্ট

অকুপাই ইউ এস এ

অকুপাই ইউ এস এ


ডোনা স্মিথ • ওয়ালস্ট্রিটবিরোধী আন্দোলনকারীদের খবর মিডিয়া সারা জাতির সামনে কিভাবে উপস্থাপন করছে তা আমার জানার দরকার নেই। তারা পুরো ব্যাপারটি ঘিরে এখনো অস্পষ্টতা রয়েছে বলে দাবি করেছে। সেটি নিয়েও আমার কোনো মাথা ব্যথা নেই। তবে আমি কিন্তু এই আন্দোলনকারীদের কণ্ঠ থেকে সুস্পষ্ট একটি বক্তব্য শুনতে পেয়েছি। আমি তাদের পক্ষ হয়ে কথা বলছি না। তবে আমার যাপিত জীবন আর তাদের যাপিত জীবন কিন্তু একই। চেতনাগত দিক থেকেও আমাদের অবস্থান অভিন্ন এবং আমার সঙ্গে সহমত পোষণকারীর সংখ্যাও কিন্তু লাখ লাখ। আমরা সবাই বলছি, যথেষ্ট হয়েছে, আর নয়। এ দেশের খেটে খাওয়া মানুষ সবসময়ই কঠোর পরিশ্রম করেছে সৎ উপায়ে বেঁচে থাকার মতো একটু আয়-উপার্জনের জন্য। তারা চেয়েছে ন্যায্য কিছু সুযোগ-সুবিধা, চেয়েছে অমানুষিক পরিশ্রমের পর প্রয়োজনীয় একটু বিশ্রাম, বছরান্তে কিছু ছুটিছাটা আর অসুস্থ হয়ে পড়লে বাড়িতে থাকার অধিকার। কিন্তু সেই আশির দশক থেকেই শ্রমজীবী মানুষ লাগাতার বৈষম্য আর অধিকারহীনতার শিকার হয়ে আসছে। তারা কাজ করেছে বেশি কিন্তু মজুরি পেয়েছে কম। তারপরও তাদের যা পেয়েছে তাই নিয়ে আনন্দে থাকতে বলা হয়েছে। কৃতজ্ঞ থাকতে বলা হয়েছে। যথেষ্ট হয়েছে আর নয়।

শ্রমজীবী তরুণ প্রজন্মের কলেজপড়ুয়া ছাত্রছাত্রীদের অধিকার ছিল নিজেদের পছন্দ মতো ভবিষ্যৎ বেছে নেয়ার, প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর কোন পেশা তারা গ্রহণ করবে আর কোনটা করবে না সে অধিকারও এক সময় ছিল তাদের। অথচ এখন তাদের পড়াশোনার খরচ চালাতে গিয়ে ঋণের জালে আটকে যেতে হচ্ছে; কর্মজীবনের শুরুতেই হন্যে হয়ে ঘুরতে হচ্ছে একটি চাকরির জন্য। হাজার হাজার, লাখ লাখ কর্মক্ষম মানুষ এখন বেকার। যথেষ্ট হয়েছে, আর নয়।

অথচ ইতোমধ্যেই করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর শীর্ষ নির্বাহীদের বেতন বেড়েছে বহুগুণ। করপোরেট মুনাফার পরিমাণ আকাশ ছুঁয়েছে। যথেষ্ট হয়েছে, আর নয়।

occupy_nightfall_LA

occupy_nightfall_LA


ওয়াশিংটন ডিসি থেকে শুরু করে আলাদা আলাদাভাবে প্রতি রাজ্যে সব দলের রাজনীতিকরাই ধনীদের তোয়াজ করছেন, তাদের কাছ থেকে কাঁড়ি কাঁড়ি অর্থ নিচ্ছেন এবং ওয়াদা করছেন, তারা সেই অর্থ প্রদানকারীদের স্বার্থ দেখবেন। অন্যদিকে শ্রমজীবী ভোটারদেরও মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে বলছেন, তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন, সুপেয় পানি, জননিরাপত্তা এবং দারিদ্রে্যর মতো বিষয়গুলোর ব্যাপারে তারা মনোযোগী হবেন। কিন্তু নির্বাচনের পর তারা এই শ্রমজীবীদের কথা একেবারেই ভুলে যান; ব্যস্ত হয়ে পড়েন কেবল তাদের পেছনে বড় বড় অংকের অর্থ লগ্নিকারীদের স্বার্থ রক্ষার বিষয়গুলো নিয়ে। যথেষ্ট হয়েছে, আর নয়।

আপনারা শ্রমজীবী মানুষের সন্তানদের যুদ্ধে পাঠাচ্ছেন। কখনো কখনো দেখা গেছে তাদের যুদ্ধে পাঠানোর পেছনে আপনাদের ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত স্বার্থই কেবল জড়িত। আপনারা আপনাদের বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গিটি তাদের গেলাতে চান। আর সেটা করতে গিয়ে তাদের পরিবারগুলো ছন্নছাড়া হয়ে যাচ্ছে, নেমে আসছে পারিবারিক বিপর্যয়। আপনারা তাদের মজুরি দিচ্ছেন সামান্যই এবং সুযোগ-সুবিধাগুলোও কাটছাঁট করে ফেলছেন ইচ্ছেমত। আসলে আপনারা মানুষের মর্যাদা এবং দেশের কথা মোটেই ভাবেন না। আপনারা মুখে মুখে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ভালোবাসার কথা বলেন, সৈনিকদের কানে ভালোবাসার কথা শোনান। কিন্তু আপনাদের প্রকৃত ভালোবাসার নজর অন্যদিকে। সত্যি কথা বলতে কি, আপনারা আসলে ভালোবাসেন মুনাফা, ক্ষমতা এবং হরেক রকমের সুযোগ-সুবিধা। আর এগুলো পাওয়ার জন্যই আপনারা আপনাদের সর্বশক্তি নিয়োগ করেন। যথেষ্ট হয়েছে, আর নয়। ইতোমধ্যে ব্যাংকার এবং ওয়ালস্ট্রিটের ব্যবসায়ীরা ক্রয়-বিক্রয় যোগ্য সব কিছুই বেচে-কিনে শেষ করে দিয়েছে। ধনীরা আরো ধনী হয়েছে, তাদের চাকচিক্য আর খোলতাই বেড়েছে। ওয়ালস্ট্রিটের স্বার্থ রক্ষাকে কেন্দ্র করে ক্ষমতা ঘুরপাক খাচ্ছে। রিয়েল এস্টেট খাতের ঋণ ফুলে-ফেঁপে উঠেছিল। শেষে ফুটু বেলুনের মতো চুপসে গেছে। দেশের সর্বোচ্চ আদালত রায় দিয়েছে, করপোরেশনগুলো জনগণে রূপান্তরিত হয়েছে। মুনাফা তার নিজের স্বার্থে জনগণকে পশুখাদ্যে পরিণত করেছে। এটিই ওয়ালস্ট্রিটের কাজ। প্রতিটি রাজনীতিক এখন ক্ষমতার জন্য পাগল। তারা দেশের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে চায়। সারা বিশ্বকেও চায় তাবে রাখতে। যথেষ্ট হয়েছে, আর নয়।

ওয়ালস্ট্রিট দখলকারীদের দাবিগুলো কী? মিডিয়াতে অনেকেই এই প্রশ্ন রেখেছেন। কিন্তু মিডিয়া এ ব্যাপারে অস্পষ্টতার দোহাই দিচ্ছে। আসলে তাদের দাবি খুবই পরিষ্কার। তারা চায় এই জাতির যেকোনো ধরনের মানবীয় উদ্যোগ আর যেন ওয়ালস্ট্রিট এবং সরকারে তাদের অনুগতদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতে না পারে। যথেষ্ট হয়েছে, আর নয়।

কয়েক বছর আগেই গর্ডন জিকো ওয়ালস্ট্রিটের লোকজনের উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘লালসা খুবই ভালো।’ বাক্যটি একটি সিনেমা থেকে নেওয়া হলেও এটি ধ্রুপদী মর্যাদা পেয়ে গিয়েছিল। মুনাফার পেছনে ছুটতে থাকা একটি প্রজন্মের কাছে এটি একটি প্রার্থনা বাক্যে পরিণত হয়েছিল। যথেষ্ট হয়েছে, আর নয়।

কিন্তু এখন যারা ওয়ালস্ট্রিট দখল করে আছে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে যারা তাদের সমর্থন জানাচ্ছে তারা সবাই এখন সমস্বরে বলছে, লালসা মোটেই ভালো নয়। লালসা আমাদের ঘর চুরি করে, আমাদের স্বাস্থ্য চুরি করে, আমাদের ভবিষ্যৎ স্বপ্ন চুরি করে। লালসা আমাদের পড়াশোনার সময়গুলো ছিনিয়ে নেয়, জীবনকে সুন্দরভাবে গড়ে তোলার সময়গুলোও সে চুরি করে নিয়ে যায়। চুরি করে নেয় আমাদের বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার সুযোগ, সন্তানের বাবা-মা হওয়ার সম্ভাবনা। লালসা আমাদেরকে সম্মানের সঙ্গে অবসরে যাওয়া থেকেও বঞ্চিত করে। লালসা ভালো নয়। সুতরাং লোভ-লালসাকে উজ্জীবিত করার মতো নীতি এবং সেগুলোর প্রয়োগ বন্ধ করতে হবে। হতে পারে সেটি শক্তি প্রয়োগ কিংবা সম্ভাব্য অন্য যেকোনো উপায়ে। আপনি তো জানেনই, কোন ধরনের নীতি আপনার এক শতাংশ বন্ধুর মধ্যে লালসা জাগায় আর কোন ধরনের নীতি আপনার ৯৯ শতাংশ বন্ধুর জন্য কল্যাণ বয়ে আনতে পারে। যথেষ্ট হয়েছে, আর নয়।

আমরা তো আপনাদের বহুবার বলেছি, আমরা একটি সমতাভিত্তিক সুন্দর জীবন চাই। আমরা তো বিনা পয়সায় কিছু চাচ্ছি না। খেটে খাওয়া, শ্রমজীবী মানুষ কোনদিনই এমনটা চায়নি। তবে ওয়ালস্ট্রিটের লোকজন চেয়েছে। আপনারা আমাদের যা দিয়েছেন তা নিয়েই আমাদের সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে। কিন্তু আপনারা যখন আমাদের কথাটা শুনতে পর্যন্ত অনীহ হয়ে পড়েছেন তখনই রাস্তায় নেমে আসতে বাধ্য হয়েছি আমরা। আপনারা এই শ্রমজীবী মানুষের বিশ্রামের সুযোগটি পর্যন্ত কেড়ে নিয়েছেন। যথেষ্ট হয়েছে, আর নয়। আপনারা আমাদের একটু করে রুটি ধরিয়ে দিয়ে বলেছিলেন, এটি নিয়েই সন্তুষ্ট থাক। আমরা থেকেছি। কিন্তু সেই রুটিটিও যে এখন কেড়ে নিচ্ছেন। আপনারা সব নীতিই প্রণয়ন করছেন আপনাদের এবং ওয়ালস্ট্রিটে অবস্থানকারী আপনাদের সহযোগীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে। আপনাদের কর্মকান্ড আবারো একটি অর্থনৈতিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। আপনারা আমাদের বলছেন, তোমাদের তো একটি চাকরি আছে, তাই নিয়েই সন্তুষ্ট থাক, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর। আর তুমি যদি সেটি না করতে চাও তবে আরো অনেকেই আছে যারা সেটি করতে চায়। এই মন্ত্রই কি আপনারা আমাদের গেলাচ্ছেন না? আপনারা একজন শ্রমিকের বিরুদ্ধে আরেকজন শ্রমিককে উস্কে দিচ্ছেন, প্রতিবেশীকে ক্ষেপিয়ে তুলছেন প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে। যথেষ্ট হয়েছে আর নয়।

আপনার কাছ থেকে পাওয়া রুটিটিই কিন্তু যথেষ্ট নয়। শ্রমজীবী মানুষের বাড়তি আয় কিন্তু দিন দিন ফুরিয়ে যাচ্ছে। সঞ্চয় বলে তাদের কিন্তু কিছুই আর এখন নেই, দুর্দিনে যার ওপর নির্ভর করা যায়। ওয়ালস্ট্রিটসহ অন্যান্য মাধ্যম দিয়ে আমাদের সব সম্পদ পাচার হয়ে এখন আপনাদের পকেটে গিয়ে ঢুকছে। আমরা আপনাদের মতো হতে চাই না। আমরা পুরোপুরিভাবেই মানবিক হতে চাই। আমরা মুক্ত থাকতে চাই আপনাদের লোভী নিয়ন্ত্রণ থেকে। যথেষ্ট হয়েছে, আর নয়। আপনাদের ঐশ্বর্যের যারা প্রশংসা করে তাদের মতো বিস্ফারিত নেত্রে আমরা আপনাদের দিকে তাকাতে চাই না। আপনারা মানুষের ওপর নিষ্পেষণ চালান। আপনাদের পদ ও সম্পদ অর্জনের পথে যারাই বাধা হয়ে দাঁড়ায় তাদেরই আপনারা পদদলিত করেন। মানবীয় জীবন সম্পর্কে আপনাদের দৃষ্টিভঙ্গি এবং নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে আমরা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করি। আপনাদের তাকানো দেখেই আমরা সেটা অাঁচ করতে পারি। যথেষ্ট হয়েছে, আর নয়।

আমাদের কি দাবি তা জানতে চান? আমাদেরকে আমাদের মানবীয় মর্যাদা ফিরিয়ে দিন। আমরা সুস্থ পরিবেশে জীবন ধারণ উপযোগী কর্ম এবং মজুরি পেতে চাই। আমরা সসম্মানে চাকরি থেকে অবসর নিয়ে ভালোবাসাসহ বাকি জীবনটা উপভোগ করতে চাই। স্বাস্থ্যসম্মত ঘরবাড়ি চাই যেখানে থাকবে বিশুদ্ধ বায়ু আর সুপেয় জল। থাকবে আমাদের শিশুদের জন্য ভালো ভালো স্কুল। অসুস্থ হয়ে পড়লে, আহত হয়ে পড়লে কিংবা নিঃস্ব হয়ে পড়লেও আমরা যেন সুচিকিৎসা পেতে পারি তার নিশ্চয়তা চাই। সংক্ষেপে বলতে গেলে, সভ্য জগতের মানুষ হিসেবে সসম্মানে বাঁচার জন্য যে সব উপকরণ এবং সুযোগ-সুবিধা প্রয়োজন সেগুলোই আমরা পেতে চাই। ধনীদের ওপর করারোপ অন্যায় কিছু নয়। কিন্তু ধনীদের সুখে রাখতে খেটে খাওয়া মানুষের ওপর উচ্চহারে করারোপ অবশ্যই অন্যায় ও অন্যায্য। যথেষ্ট হয়েছে, আর নয়।

আপনাদের জন্যে যথেষ্ট কখনোই যথেষ্ট বলে বিবেচিত হবে না। তবে আমরা যারা অপরিচ্ছন্ন জনতা এবং আপনাদের মুনাফা ও সীমাহীন লালসার পশুখাদ্যে পরিণত হয়েছি তাদের কাছে যথেষ্ট শেষ পর্যন্ত যথেষ্ট হিসেবেই আদ্রিত। [সাপ্তাহিক বুধবার থেকে]

Visit us on FaceBook

একুশ নিউজ মিডিয়া এখন ফেস বুক এ

Video News: www.EkushTube.com

Change your Life: ASea – Advancing Life

বিদ্রোহের নতুন নাম ‘আমরা শতকরা ৯৯’


বিদ্রোহের নতুন নাম ‘আমরা শতকরা ৯৯’ ।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াল স্ট্রিট দখল আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে ঢাকায় সমাবেশ হয়েছে।

Occupy Wall St.


মেহেদী হাসান • ওয়াল স্ট্রিট। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক ব্যবস্থাপনার মূল কেন্দ্র। অন্য কথায়, পুঁজিতান্ত্রিক বিশ্বব্যবস্থার বাণিজ্যিক কেন্দ্র। যে কেন্দ্রে বসে আছে সমগ্র জনসংখ্যার শতকরা এক ভাগের খুব গুরুত্বপূর্ণ অংশ, একচেটিয়া পুঁজির প্রতিষ্ঠান, বৃহৎ বহুজাতিক করপোরেশন (তেল, অস্ত্র, খাদ্য), ব্যাংক, বীমা এবং বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান। আর যাদের স্বার্থের প্রতিনিধিত্ব করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং এ স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে যাকে সারা পৃথিবীতে যুদ্ধ, গণহত্যা, জাতিগত সহিংসতা, সামরিক শাসন বিস্তৃত করতে হয়েছে। অস্ত্র আর তেল কোম্পানির স্বার্থে সারা পৃথিবীতেই যুদ্ধোন্মাদনা ছড়াতে হয়েছে। ইরাক, আফগানিস্তান সর্বশেষ লিবিয়ায় লাখ লাখ মানুষ যুদ্ধের বলি হয়েছে। কেবল দখলকৃত দেশগুলোর মানুষই রাষ্ট্রটির তাড়নার শিকার হয়নি, হয়েছে তার নিজ দেশের সাধারণ মানুষও। যুদ্ধ এবং দমন অর্থনীতির পেছনে জনগণের করের অর্থে এ রাষ্ট্রটি ব্যয় করে বছরে ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। অথচ বাহ্যিক চাকচিক্যময়, জৌলুসপূর্ণ এ মুল্লুকে প্রতিদিন ক্ষুধার্ত থাকে চার কোটি মানুষ। তাদের খাদ্যের ব্যবস্থা করার জন্য প্রয়োজন মাত্র ১০ বিলিয়ন ডলার। মন্দা অর্থনীতিতে জর্জরিত এ রাষ্ট্রে গোয়েন্দাগিরির পেছনে খরচ বেড়েছে তিনগুণ, কমেছে সামাজিক সুরক্ষা ব্যয়। দৈত্যাকার ব্যাংক, করপোরেশনের অন্তর্গত মন্দার কারণে ধ্বংস থেকে বাঁচাতে গিয়ে বেইল আউট কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোর সিইওদের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার দিয়েছে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে। বেড়েছে দ্রব্যমূল্য, কমেছে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা। ঋণ বেড়েছে জনগণের ওপরে করের বোঝা বেড়েছে জনগণের।

‘ওয়াল স্ট্রিট দখল কর’ আওয়াজ দিয়ে এহেন পররাজ্যগ্রাসী, সন্ত্রাসী, ঋণগ্রস্ত রাষ্ট্রের সুবিধাভোগী অংশের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে ‘আমরা শতকরা ৯৯’ আর এটি এখন সারা দুনিয়ার এক প্রতীকী স্লোগান। আর এরই ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে আন্দোলন। নারী-শ্রমিক-শিক্ষার্থী-শিক্ষক-বেকার-দরিদ্র-মধ্যবিত্ত; যারা বর্তমান বিদ্যমান ব্যবস্থায় জর্জরিত, দিশেহারা; তাদের প্রতি সংহতি জানিয়ে। ‘অক্যুপাই ওয়াল স্ট্রিট’ হলো শোষণকেন্দ্রে প্রজবলিত বিদ্রোহের নতুন নাম, নতুন পরিচয়। যে পরিচয় হীনমন্যতা, ভোগবাদিতা, আত্মপরিচয়ের সংকটকে ঝেড়ে ফেলে নতুন শক্তি নিয়ে উঠে দাঁড়িয়েছে। এই শক্তি এখন ইথারে ভেসে ছড়িয়ে গেছে সারাবিশেবর তরুণ-যুব সম্প্রদায়ের কাছে। সারাবিশ্বের ভুক্তভোগী সংবেদনশীল মানুষের কাছে। নিজের দেশের অসহনীয় অস্বস্তিকর অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে পুঞ্জীভূত ক্ষোভ আর ‘অকুপাই ওয়াল স্ট্রিট’-এর ‘আমরা শতকরা ৯৯’-এর প্রতিরোধের শক্তি নিয়ে বিশ্বের প্রায় এক হাজার শহরে এই আন্দোলন দানা বেঁধেছে। নোয়াম চমস্কি এ আন্দোলনকে সমর্থন করে বার্তা পাঠিয়েছেন ‘জনগণের পক্ষে সম্মানজনক এবং দুঃসাহসিক অভিযাত্রার ভূমিকা’ বলে।

সম্মানজনক কেন? কারণ, করপোরেট প্রতিষ্ঠান এবং তাদের প্রতিনিধিত্বমূলক শ্রেণীরাষ্ট্র-মুখপাত্ররা যেখানে পুরো সমাজকে ভোগবাদিতার চকচকে রঙিন চশমা দিয়ে দুনিয়াকে দেখানোর প্রচেষ্টায় দিনরাত আহাজারি করছে; পণ্যভোগকে ধর্মের স্থানে ঠাঁই দেওয়ার প্রচেষ্টায় মত্ত যেখানে `TINA’ (There is no Alternative)-র অনুসারীরা সেখানে সে বেড়াজালকে ছিন্ন করে ‘মানুষ’ পরিচয়ে দাঁড়ানোর প্রচেষ্টা দুঃসাহসিকই বটে। এই মানুষ প্রমাণ করেছেন, রাষ্ট্র যতই ক্ষমতাধর কিংবা শক্তিশালী হোক না কেন, জনগণের অসাধ্য কোনো কিছু নেই। নাহলে, বিশ্বের সবচাইতে ‘দুর্ধর্ষ’ সন্ত্রাসী রাষ্ট্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাকের ডগায় বসে এহেন কাজ কীভাবে সম্ভব? সম্ভব এবং প্রয়োজনীয়; এটা প্রমাণ করেছেন ‘শতকরা ৯৯’-এর প্রতিনিধিরা।

Occupy Wall St.


কেন পুঁজিতান্ত্রিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কেন্দ্রস্থলে বিদ্রোহের নতুন ঠিকানা তৈরি হলো? এই কি প্রথম? তা তো নয়। নভেম্বর ১৯৯৯তে সিয়াটলে, এপ্রিল ২০০১-এ কিউবেক সিটিতে ‘পুঁজিতান্ত্রিক বিশ্বায়নবিরোধী’ বিক্ষোভ হয়েছে। কিন্তু এই পর্বে পূর্বের আন্দোলনের দুর্বলতা-সীমাবদ্ধতাকে অনেক ক্ষেত্রে অতিক্রম করে সচেতনতা-ধরণ-ধারণ-বিস্তৃতি-ব্যাপকতার নতুনমাত্রা নিয়ে এই আন্দোলন আরো শক্তি নিয়ে দাঁড়িয়েছে। এই আন্দোলন এখন সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের চেতনার ঐক্যের ভিত্তিতে রচিত হয়েছে। এটা ঠিক এই আন্দোলনে একক কোনো নেতৃত্ব নেই। এখানে যেমন শ্রমিক আছেন, তেমনি বেকাররাও আছেন। আছেন প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল, ট্রেড ইউনিয়নিস্ট, পরিবেশবাদী, স্টাডি গ্রুপ, সংস্কৃতিকর্মী। বিপক্ষে; ব্যাংকার, রাজনীতিবিদ, ধর্মযাজক, স্টক এক্সচেঞ্জ, বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার।

যোগাযোগের মাধ্যমে আন্দোলনের গতি বিস্তৃত হয়েছে যে জগত তৈরি করেছিল করপোরেট তার আপন মুনাফাবৃদ্ধির স্বার্থে। সে প্রযুক্তিই তার জন্য কবর রচনা করতে যাচ্ছে। করপোরেট রাষ্ট্রের ভয়ও সে কারণে মারাত্মক। এই ভীতি থেকেই ন্যায্য এবং যুক্তির শক্তি নিয়ে দাঁড়ানো আন্দোলনকে দমন করতে উদ্যত। হামলা-মামলা-ভয়-ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে আন্দোলনকে স্তিমিত করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু দমনমূলক নীতি নিয়ে তারা যে ‘পুলসেরাতের পুল’ পার হতে পারছে না তা ইতোমধ্যেই প্রমাণিত। এ আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে কেন্দ্র থেকে প্রান্ত পর্যন্ত। ১৭ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের লোয়ার ম্যানহাটনের জুকোটি পার্কে অর্থনৈতিক মন্দা, উচ্চ বেকারত্ব, ব্যাংক বন্ধকি সংকট ও করপোরেট লোভের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন শুরু করে বিক্ষোভকারীরা। এ আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে পর্তুগালের লিসবনে ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ রাস্তায় নামে। তারা স্লোগান দেয়- ‘ঋণের দায় আমাদের নয়, আইএমএফ বেরিয়ে যাও’। এ আন্দোলন এখন নিউইয়র্ক ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়েছে ইউরোপ, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া পর্যন্ত। সারা বিশ্বের হাজার শহরে; পাঁচজন থেকে পাঁচ হাজার, পঞ্চাশ হাজার, লক্ষাধিক মানুষ সমবেত হচ্ছেন আপন আপন স্থানে।

স্লোগানের নতুন নতুন ভাষা তৈরি হয়েছে। তৈরি হয়েছে নতুন বক্তব্য। ‘আমরা ৯৯ শতাংশ’, ‘আমরা আমাদের দেশকে জনগণের কাছে ফিরিয়ে দিতে এসেছি’। ‘আমরা হারিয়েছি, ব্যাংক বেইল আউট পেয়েছে’, ‘সারাদিন, সারা সপ্তাহ ওয়াল স্ট্রিট দখল করুন’, ‘করপোরেট সাম্রাজ্য জাগ্রত এবং সচেতন মানুষকে কখনোই নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না।’ ‘৯৯ শতাংশ মানে বৃহৎ সংখ্যা, যারা হারতে পারে না।’ ‘ব্যাংকারদের গ্রেফতার কর, আমাদের নয়।’ ‘প্রাইভেট ব্যাংক সরকারকে নিয়ন্ত্রণ করে, জনগণ নয়।’ ‘আমাদের চাকরি কোথায়?’ ‘এটি আমাদের দেশ-একে আমরা দখল করবো, এগুলো আমাদের রাস্তা-এগুলো আমরা দখল করবো, আমরা এখানে আছি এবং আমরা ক্রমশ বাড়ছি-চল সবাই একসঙ্গে দখল করি।’ ‘আমাদের যা পাওনা আমরা তা বুঝে নেই।’

এই বিদ্রোহের প্রয়োজনীয়তা কেন তা স্লোগানের ভাষার মাধ্যমেই উপলব্ধি করা যায়।

ক্রিস হেজেস যিনি একজন লেখক-সাংবাদিক, পূর্ব ইউরোপের অনেক ধরনের গণআন্দোলনের প্রত্যক্ষদর্শী এবং ‘অকোপাই ওয়াল স্ট্রিট’-এ অংশগ্রহণকারী; তিনি বলছেন, ‘আমি এই আন্দোলনে এসেছি ভেতরের তাগিদ থেকে। কারণ, করপোরেশনগুলো আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষের মাথা-মগজ দখল করে নিয়েছে। দখল করে নিয়েছে তাদের স্বতবা। এ আন্দোলন তার বিরুদ্ধে।…যখন এই ধরনের আন্দোলন মাথা তুলে দাঁড়ায় সেখানে করপোরেট দখলের বিরুদ্ধে মানুষের পক্ষে প্রকৃত সত্যটাই সামনে নিয়ে আসে। এ ধরনের আন্দোলন যখন তৈরি হয় তখন যে মানুষ যে সমাজে বসবাস করছে সে সমাজের প্রকৃত চিত্রটাকে পরিষ্কার করে তুলে ধরে। তুলে ধরে সমাজের বৈষম্য, ক্ষমতাবানদের দেŠরাত্ম্য-অন্যায়-অবিচার, শোষণ-বঞ্চনা এবং আন্দোলন অনেকটা ‘সেন্ট্রিফিউগাল ফোর্স’ ধরনের কাজ করে- কারণ এ আন্দোলনের যে শক্তি তা ছড়িয়ে পড়ে এবং কোথায় গিয়ে এর শেষটা দাঁড়াবে তা পূর্বে থেকে অনুমান করা যায় না।..সমাজের এলিট গোষ্ঠী, নীল পোশাকধারী পুলিশ প্রশাসন, মাথা-মগজ নিয়ন্ত্রণের ম্যাকানিজম; কেউ এ আন্দোলন আশা করে না। কিন্তু বিধি বাম, ইতিহাস তাদের নির্ধারিত পথে চলে না এবং শেষ পর্যন্ত অপ্রতিরোধ্য আন্দোলনের কারণে ক্ষমতাবানরা হয়ে পড়ে প্রতিরোধহীন।’

‘করপোরেট ডাকাত হানা দিয়েছে দ্বারে, তাকে প্রতিরোধ কর’ প্ল্যাকার্ড হাতে ২০/২২ বছরের একজন তরুণ বলছেন, ‘আমরা এখন আর করপোরেটের হাতে বন্দি হতে চাই না। রাজনীতিতে করপোরেট অর্থ আমরা চাই না। এই অর্থ সারা বিশ্বের সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করছে; নিয়ন্ত্রণ করছে প্রাকৃতিক সম্পদ, সমস্ত জীবন-মান।’ এ আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের অধিকাংশই তরুণ-যুব সমাজের অংশ। কয়েকজনের সাক্ষাৎকার সংবলিত একটি ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, তারা বলছেন, ‘ব্যাংক এবং এক্সনের মতো বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারের ঘাড়ে চেপে আমাদের নিংড়ে নিচ্ছে। আমরা যারা সমবেত হয়েছি তারা এ প্রক্রিয়ার বিপক্ষে।’….‘মধ্য প্রাচ্যে যখন কোনো আন্দোলন হয় তখন মিডিয়া সেটাকে খামচে ধরে প্রচার করে। কারণ, সেখানে তাদের স্বার্থ আছে। সরকারি স্বার্থের সঙ্গে তাদের স্বার্থ জড়িত। কিন্তু যখন নিজের দেশের উঠানে করপোরেট স্বার্থ-শোষণবিরোধী একটি ন্যায্য আন্দোলন হচ্ছে তখন সেটি প্রচার করতে তাদের অনীহা। কারণ, এতে তাদের মুনাফা স্বার্থ বাধাগ্রস্ত হয়।’…‘শাসকরা মূলত আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে জুয়া খেলছেন এবং এই বিষয়টি আমাদের দৃষ্টির আড়ালে হচ্ছে। এটা তো কোনোভাবেই আমি মেনে নিতে পারি না।’…‘সরকার আমাদের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করছে না। তারা আমাদের জীবনকে কোনো পরোয়াই করে না। এটা আমরা মেনে নিতে পারি না।’ চাকরিজীবী একজন পৌঢ় বয়সের, তিনি সেদিনই উপস্থিত হয়েছেন আন্দোলনে। তার উপলব্ধি হলো, ‘এখানে যারা উপস্থিত হয়েছেন তারা বলছেন ব্যাংকিং ব্যবস্থার দুর্বলতার কথা, রাজনীতির দুর্বৃত্তায়নের কথা। এটা ঠিক। এদের কারণে আমরা আমাদের কোনো স্বপ্নই বাস্তবায়ন করতে পারছি না।’ ৩০/৩২ বছরের একজন বেকার যুবক অসহনীয় অবস্থায় থেকেও আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন। তিনি বলছেন, ‘আমি আমার চাকরি হারিয়েছি। হারিয়েছি হেলথ ইন্স্যুরেন্স। সামাজিক নিরাপত্তা জাল যেটি সরকারের দেওয়ার কথা ছিল বেকার অবস্থায় তার সবকিছু এখন আমার আয়ত্তের বাইরে। কিন্তু এর জন্য আমরা কর প্রদান করি। বিপরীতে এখন অনিশ্চয়তা, নিরাপত্তাহীনতা ভর করেছে। আমি আমার এই কথাগুলোই বলতে এসেছি এখানে।’…‘যখন আমাদের জীবন-মান সব চলে যাচ্ছে অল্প কিছু সম্পদলোভী হায়েনার হাতে তখন আমরা আর কী করতে পারি। যখন আমাদের করের অর্থে ভোগ-বিলাসে মত্ত গুটিকয়েক লোক যারা সমাজের ১%, তখন ঘর থেকে বের হয়ে রাস্তায় এসে না দাঁড়ানোর কি কোনো কারণ আছে? আমাদের করের অর্থে চালানো হচ্ছে যুদ্ধ, মানুষ মরছে, আমরা হচ্ছি বেকার’।

এ কথাগুলো শুধু আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের নয় বরং মার্কিন মুল্লুক এবং পুঁুজিতান্ত্রিক বিশ্বব্যবস্থার অধীনস্ত সব দেশের মানুষের। যার কারণে এর ঢেউ সারাবিশ্বে আছড়ে পড়তে বেশি সময় লাগেনি। যার চেহারা আমরা দেখছি বিশ্বব্যাপী। শারীরিক-মানসিক-প্রাযুক্তিক যোগাযোগের মাধ্যমে নিজস্ব স্বর এবং সুর নিয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাবানদের দখল-আধিপত্যের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছে বিক্ষোভকারীরা, সমাজের সিংহভাগ মানুষের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে, ‘আমরা শতকরা ৯৯’। রক্তাক্ত হচ্ছে কিন্তু আন্দোলনকে গুঁড়িয়ে দিতে পারছে না ক্ষমতাধর প্রশাসন। গায়ে ‘কাঁদা’ লাগানোতে অনীহা মূল ধারার করপোরেট মিডিয়ার। এজন্য একদিকে আমরা দেখি লিবিয়ায় ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার’ নামক তেল দখলের যুদ্ধের মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীর কাহিনী যত না ফলাও করে প্রচার করা হয়; লিবিয়ার তথাকথিত বিদ্রোহী এনটিসির যুদ্ধ জয়ের খবর যত না আগ্রহ সহকারে গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করে; তার সিকিভাগের একভাগ গুরুত্ব পায় না জনগণের ন্যায় এবং ন্যায্য আন্দোলন। তার বিপরীতে ‘শতকরা ৯৯’কে আড়ালে রাখায় মরিয়া হয়ে উঠতে দেখি! উপরন্তু করপোরেট মিডিয়ার ঘাড়ে এখন ‘সমাজতন্ত্রের ভূত’ চেপে বসেছে। এ ভূত ঘাড় থেকে নামানোর জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে কিন্তু কোনোভাবেই নামাতে পারছে না। কী মার্কিন, কী বাংলাদেশে। আদল আলাদা, রক্তের ধারা এক। কিন্তু এ বিদ্রোহের বিশেষত্ব এই যে, করর্পোরেট মিডিয়ার মুখ পানে চেয়ে বসে নেই বিদ্রোহীরা। ফেসবুক, টুইটার, ব্লগের মতো সামাজিক মিডিয়াকে অবলম্বন করে আন্দোলনকে বিস্তৃত করতে তৎপর। যদিও এর ওপর নিয়ন্ত্রণ আনার চেষ্টা চলছে। কিন্তু, এই শক্তিকে রুখবে কে?

বাংলাদেশেও একচেটিয়া পুঁজির রাহুগ্রাস থেকে মুক্ত হওয়ার আন্দোলন চলছে। সম্পদ এবং সম্মান যা বিভিন্ন মেয়াদের সরকারের সময় জনগণের হাতছাড়া হয়েছে তাকে জনগণের হাতে ফেরৎ আনার আন্দোলন চলছে দীর্ঘদিন ধরেই। ‘আমরা শতকরা ৯৯’-এর সঙ্গে সংহতি এবং সম্পর্ক সেখানেই। ভিন্ন দেশ কিন্তু দখল-আধিপত্যবিরোধী গণআন্দোলনের সুরটি অভিন্ন। শোষণের মূল ধর্মটি যেখানে এক সেখানে প্রতিরোধ-বিদ্রোহের ভাষার মূলে ঐক্য থাকবে সেটিই স্বাভাবিক। mehedihassan1@gmail.com [সাপ্তাহিক বুধবার থেকে]

ঢাকা, অক্টোবর ৩১ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াল স্ট্রিট দখল আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে ঢাকায় সমাবেশ হয়েছে।

সোমবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘গরিবী হটাও আন্দোলন’ এ সমাবেশ আয়োজন করে।

সমাবেশে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক নূরুল হক মেহেদী বলেন, “এ আন্দোলন বাংলাদেশসহ বিশ্বের শ্রমজীবী-মেহনতী মানুষের আন্দোলনে প্রেরণা যুগিয়েছে। এ আন্দোলনের ঢেউ আমাদের অধিকার বঞ্চিত মানুষদের মধ্যে জাগরণের সৃষ্টি করেছে।”

যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর ‘অতিমুনাফা’র প্রতিবাদে গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের এ আন্দোলন শুরু হয়। এক পর্যায়ে গত ১৫ অক্টোবর বিশ্বের ৮০টি দেশের ৯৫১টি শহরে একযোগে প্রতিবাদে নামে এ আন্দোলনের সমর্থকরা।

ঢাকার সমাবেশে কমরেড মেহেদি দেশীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সুনেত্র ও রশিদপুর গ্যাসক্ষেত্র থেকে গ্যাস উত্তোলনের দাবি জানান।
সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন গরিবী হটাও আন্দোলনের ঢাকা মহানগরের সভাপতি খায়রুল ইসলাম সুজন ও সাধারণ সম্পাদক হাবিবুল্লাহ মাহবুব।
সমাবেশ শেষে মিছিল করেন তারা।

Visit us on FaceBook

একুশ নিউজ মিডিয়া এখন ফেস বুক এ

Video News: www.EkushTube.com

Change your Life: ASea – Advancing Life

বিশ্বের ১২০টি দেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গোপন যুদ্ধ


বিশ্বের ১২০টি দেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গোপন যুদ্ধ

বিশ্বব্যাপী এক গোপন যুদ্ধে নিয়োজিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এর বিশাল ব্যয় দেশটির অর্থনীতির জন্য মারাত্মক সংকট সৃষ্টি করলেও যে গোপন বাহিনী এসওকম এই যুদ্ধে সম্পৃক্ত তার বিস্তৃতি ক্রমশ বাড়ানো হচ্ছে। দানবরূপী এই গোপন বাহিনী সম্পর্কে বিশ্ববাসী তো বটেই এমনকি মার্কিন নাগরিকরাও সামান্যই জানেন। এশিয়া টাইমসে প্রকাশিত এই বাহিনী সম্পর্কিত টম ডিসপাচের সহযোগী সম্পাদক নিক টার্সের প্রতিবেদনটি ভাষান্তর করেছেন নেয়ামুল হক।

এই মুহূর্তে হয়তো মার্কিন কমান্ডো বাহিনী অভিযান পরিচালনা করছে পৃথিবীর কোথাও না কোথাও। দিনে অন্তত ৭০টি স্থানে এ ঘটনা ঘটিয়ে চলেছে তারা। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীরই ভেতরকার গোপন এক বাহিনী বিশ্বের অধিকাংশ দেশে এ অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের অজান্তে। পেন্টাগনের নতুন এ এলিট শক্তিটি বিশ্বব্যাপী এক যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এই শক্তিটির অবয়ব ও ক্ষমতা এখন পর্যন্ত অজানাই রয়ে গেছে। অর্থাৎ কখনো জানানো হয়নি। ইউএস নেভি সিল পাকিস্তানে ওসামা বিন লাদেনের আস্তানায় অতর্কিতে হামলা চালিয়ে তার বুকে ও কপালে দুটি বুলেট বিদ্ধ করার পর থেকেই মানুষ মার্কিন সামরিক বাহিনীর এ জাতীয় নৈশকালীন গোপন অভিযান সম্পর্কে প্রথম জানতে পারল।

ঘটনাটিকে একটু ব্যতিক্রমধর্মীই বলতে হয়। কারণ এটা মোটামুটি সবারই জানা ছিল, ইউএস স্পেশাল অপারেশন্স বাহিনীগুলো প্রধানত ইরাক ও আফগানিস্তানের মতো যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলগুলোতেই নিয়োজিত। তাছাড়া ইয়েমেন এবং সোমালিয়ার মতো বিরোধপূর্ণ অঞ্চলগুলোতেও এ বাহিনী ক্রমশ তাদের তৎপরতার বিস্তার ঘটাচ্ছিল। তারপরও বিশ্বব্যাপী এই বাহিনীর কর্মকান্ডের বিষয়টি এ পর্যন্ত মোটামুটি অস্বচ্ছ একটি আবরণেই ঢেকে রাখা হয়েছিল।

গত বছর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকার সাংবাদিক কারেন ডেইয়াং এবং গ্রেগ জেফ জানিয়েছিলেন, বিশ্বের অন্তত ৭৫টি দেশে ইউএস স্পেশাল অপারেশন্স বাহিনী নিয়োজিত রয়েছে। জর্জ ডব্লিউ বুশের আমলে এ সংখ্যাটি ছিল ৬০। আর ইউএস স্পেশাল অপারেশন্স কমান্ডের মুখপাত্র কর্নেল টিম নাই জানিয়েছেন, চলতি বছরের শেষ নাগাদ এ জাতীয় দেশের সংখ্যা বেড়ে ১২০-এ দাঁড়াতে পারে। সম্প্রতি তিনি বলেছেন, আমরা বহু জায়গায় ঘোরাঘুরি করেছি, আফগানিস্তান এবং ইরাক ছাড়াও বিশ্বের বহু দেশে আমরা গিয়েছি, যাচ্ছি। বিশ্বের অন্তত ৬০ শতাংশ দেশেই এখন যুক্তরাষ্ট্রের এই বিশেষ বাহিনীর উপস্থিতি রয়েছে। এতদিন যা ধারণা করা হতো এ সংখ্যা তার চেয়ে অনেক বেশি। এ থেকেই বোঝা যায় বিশ্বের সব প্রান্তেই পেন্টাগনের এ এলিট বাহিনীর গোপন যুদ্ধ তৎপরতা ক্রমশ বেড়েই চলেছে।

সামরিক বাহিনীর ভেতর গোপন বাহিনীর উত্থান : ১৯৮০ সালে ইরানে মার্কিন জিম্মি উদ্ধারের এক ব্যর্থ অভিযান চালাতে গিয়ে সে অভিযানে আটজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছিল। এরপর জন্ম নেওয়া ইউএস স্পেশাল অপারেশনস কমান্ড (এসওকম) ১৯৮৭ সালে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে। ভিয়েতনাম যুদ্ধোত্তর কালে নিয়মিত মার্কিন বাহিনীর আস্থা অর্জনে ব্যর্থ এবং অর্থ বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত এই বিশেষ অভিযান বাহিনীটি হঠাৎ করেই নিজের একটি ঠিকানা পেয়ে যায়। পেয়ে যায় স্থিতিশীল একটি বাজেট এবং কমান্ডার হিসেবে চার তারকাখচিত একজন জেনারেল। আর তখন থেকেই মার্কিন সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন বাহিনীর সৈনিকদের সমন্বয়ে এসওকম পৃথকভাবে একটি যৌথ বাহিনী হিসেবে গড়ে উঠতে শুরু করে। সেনাবাহিনীর ‘গ্রিন বেরেট’ এবং রেঞ্জার্স, নেভি সিলস, এয়ারফোর্স এয়ার কমান্ডোস এবং মেরিন কর্পস স্পেশাল অপারেশন্স টিমসহ সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন শাখা থেকে সৈন্য নিয়ে এই বাহিনীটির বিভিন্ন ইউনিট গড়ে তোলা হয়। এর সঙ্গে আরো যুক্ত হয়েছে বিশেষায়িত হেলিকপ্টার ক্রু, নৌ-সেনা দল, বেসামরিক বিষয়ক কর্মকর্তা, আধা উদ্ধারকর্মী দল, এমনকি যুদ্ধ ক্ষেত্রে এয়ার ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ বাহিনী এবং বিশেষ অভিযান সম্পর্কিত আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ দল। এসওকম যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বিশেষায়িত এবং গোপন অভিযানগুলোই পরিচালনা করে থাকে। এসবের মধ্যে রয়েছে গোপন খুন, সন্ত্রাসবিরোধী হামলা, দূরবর্তী লক্ষ্যস্থল চিহ্নিতকরণ, গোয়েন্দা বিশ্লেষণ, বিদেশী সৈন্যদের প্রশিক্ষণ প্রদান এবং গণবিধ্বংসী অস্ত্রের বিস্তার রোধ অভিযান।

এ বাহিনীটির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি শাখা হচ্ছে জয়েন্ট স্পেশাল অপারেশন্স কমান্ড বা জেএসওসি। এটি হচ্ছে গুপ্ত অভিযান পরিচালনাকারী একটি সাব-কমান্ড। এর প্রাথমিক কাজই হচ্ছে সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীদের খুঁজে বের করা এবং হত্যা করা। প্রেসিডেন্টের কাছে দায়বদ্ধ এবং তারই কর্তৃত্বে পরিচালিত জেএসওসি সারা বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা লক্ষ্যবস্ত্তসমূহের একটি তালিকা প্রস্ত্তত রাখে। এ তালিকায় মার্কিন নাগরিকদের নামও থাকে। এটি আইন-বহির্ভূত হত্যা/আটক অভিযানও পরিচালনা করে আসছে। চার তারকা জেনারেলের বিদ্রোহ দমন বিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা এবং সিআইএর পরবর্তী পরিচালক ডেভিড পেট্রাউস জেএসওসিকে সন্ত্রাস মোকাবিলায় হত্যাকান্ড পরিচালনাকারী বড় ধরনের একটি যন্ত্র হিসেবে অভিহিত করেছেন। নেভি সিলস এবং আর্মিস ডেল্টা ফোর্সের মতো কমান্ডো বাহিনীগুলো দিয়েই হত্যাকান্ডের মতো অভিযানগুলো পরিচালিত হয়ে থাকে। এর পাশাপাশি সোমালিয়া, পাকিস্তান এবং ইয়েমেনের মতো দেশগুলোতে ড্রোন আক্রমণের মাধ্যমে পরিচালিত গোপন যুদ্ধাভিযানগুলোতে সিআইএ’র সঙ্গে এদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। তাছাড়া এই কমান্ডের অধীনে গোপন কারাগার পরিচালনার একটি নেটওয়ার্কও সক্রিয় রয়েছে। সম্ভবত এককভাবে আফগানিস্তানেই এ বাহিনীর অধীনে এ জাতীয় অন্তত ২০টি গোপন কারাগার রয়েছে। এসব কারাগারে গুরুত্বপূর্ণ সন্দেহভাজন বা আটকদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়ে থাকে।

সাংগঠনিক ব্যাপ্তি : নববইয়ের দশকের শুরুর দিকে স্পেশাল অপারেশন্স কমান্ডের সৈন্য সংখ্যা ৩৭ হাজার থাকলেও বর্তমানে তা বেড়ে প্রায় ৬০ হাজারে দাঁড়িয়েছে। এদের এক-তৃতীয়াংশই হচ্ছে এসওকমের নিয়মিত সদস্য। আর বাদ বাকিরা সামরিক বাহিনীর অন্যান্য বিশেষায়িত বিভাগ থেকে আগত। এরা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পালাক্রমে এসে এ কমান্ডের অধীনে দায়িত্ব পালন করে যায়। ২০১০ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের পর থেকেই এসওকমের সাংগঠনিক ব্যাপ্তির বিস্তার ঘটে জ্যামিতিক হারে। এর একটি ব্যাখ্যা খুঁজে পাওয়া যায় এর বাজেটের হিসাব থেকে। কারণ ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানটির মূল বাজেট ২৩০ কোটি ডলার থেকে যদি তিনগুণ বেড়ে ৬৩০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। আর যদি ইরাক ও আফগান যুদ্ধের ব্যয় এর সঙ্গে যোগ করা হয় তবে চলতি সময়ে এ পরিমাণ চারগুণেরও বেশি বেড়ে গিয়ে ৯৮০ কোটি ডলারে দাঁড়াবে। একই সময়ে তাই বিদেশের মাটিতে নিয়োজিত বাহিনীটির সৈন্য সংখ্যা যদি এক লাফে চারগুণ বেড়ে যায় তাতেও বিস্ময়ের কিছু নেই। বাহিনীটির কলেবর এবং অভিযান এখন ক্রমশই বিশ্বব্যাপী আরো বেশি ছড়িয়ে পড়ছে।

এসওকমের সঙ্গে সর্বশেষ ২০০৬ সালে যুক্ত হওয়া শাখাটি হচ্ছে মেরিন কর্পস ফোর্সেস স্পেশাল অপারেশন্স কমান্ড। এটির সাবেক প্রধান লে. জেনারেল ডেনিস হেজলিক ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, তার নেতৃত্বাধীন এ ইউনিটটির সৈন্য সংখ্যা ২৬০০ থেকে বেড়ে প্রায় দ্বিগুণের মতো হয়ে যাবে। তার জবানিতে, ‘আমার মনে হয় এ বাহিনীটির সদস্য সংখ্যা একদিন বেড়ে ৫ হাজারে গিয়ে দাঁড়াবে। অর্থাৎ এর সৈন্যসংখ্যা হবে বর্তমানে অভিযান পরিচালনারত বাহিনী ‘সিলের’ সৈন্য সংখ্যার ৫০০০ থেকে ৬০০০-এর মধ্যে সমান। জুনে প্রতিরক্ষা বিষয়ক সংবাদদাতাদের সঙ্গে ওয়াশিংটনে এক প্রাতরাশ সভায় তিনি জানান, দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইতোমধ্যেই ইউনিটটির সৈন্য সংখ্যা আরো ১০০০ বাড়ানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এসওকমের হবু প্রধান এবং জেএসওসির (বিন লাদেন হত্যার সময় তিনিই এই বাহিনীটির নেতৃত্বে ছিলেন) বিদায়ী প্রধান নৌবাহিনীর ভাইস এডমিরাল উইলিয়াম ম্যাকরাভেন সিনেটের সামনে দেওয়া তার সাম্প্রতিক অবহিতকরণ বক্তব্যে বাহিনীটির সৈন্য সংখ্যা বার্ষিক ৩ থেকে ৫ শতাংশ হারে বৃদ্ধির একটি জোরালো প্রস্তাব পেশ করেছেন। একইসঙ্গে বাহিনীটিকে আরো কিছু ড্রোন বিমান এবং বিশেষ অভিযান পরিচালনার সহায়ক বাড়তি কিছু নতুন উপকরণ যোগান দেওয়ারও প্রস্তাব করেছেন তিনি। সাবেক সিল সদস্য ম্যাকরাভেন যিনি এখনো মাঝে মাঝে বাহিনীটির বিভিন্ন অভিযানে অংশ নিয়ে থাকেন এই ধারণা পোষণ করেন যে, আফগানিস্তান থেকে ক্রমান্বয়েই নিয়মিত সেনাবাহিনীকে সরিয়ে নিয়ে আসার পর বিশেষ অভিযান পরিচালনাকারী বাহিনীগুলোকেই সেখানে আরো অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হবে। তিনি বলেন, ২০১১ সালের ডিসেম্বর নাগাদ ইরাক থেকে সব মার্কিন বাহিনী ফিরিয়ে নিয়ে আসার কথা থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের এলিট বাহিনীগুলো যদি এরপরও সেখানে থেকে যায় তবে তা থেকে ইরাকই বেশি লাভবান হবে। সিনেট আর্মড সার্ভিসেস কমিটির সামনে বক্তব্য পেশ করতে গিয়ে তিনি আরো উল্লেখ করেন, ‘জেএসওসির একজন সাবেক কমান্ডার হিসেবে আমি আপনাদের বলতে পারি যে, ইয়েমেন এবং সোমালিয়ায় আমাদের খুবই কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হয়েছিল।’

স্পেশাল অপারেশন্স কমান্ডের বিদায়ী প্রধান নৌ এডমিরাল এরিক ওলসন ন্যাশনাল ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক ‘স্পেশাল অপারেশনস অ্যান্ড লো ইন্টেনসিটি কনফ্লিকট সিম্পোজিয়ামে’ চলতি বছরের গোড়ার দিকে দেওয়া এক ভাষণের সময় স্যাটেলাইটের মাধ্যমে প্রাপ্ত রাত্রীকালীন বিশ্বের কিছু চিত্রের দিকে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। সেই চিত্রে ৯/১১-এর আগ পর্যন্ত প্রধানত উত্তরাঞ্চলীয় শিল্পোন্নত বিশ্বই পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করা ছিল। ওলসন বলেন, ‘কিন্তু এক দশকে বিশ্ব বিপুলভাবে পরিবর্তিত হয়ে গেছে এবং আমাদের কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গিও এখন পাল্টে গেছে। আমরা এখন দক্ষিণ গোলার্ধের দিকেই নজর দিচ্ছি বেশি। বিশেষ অভিযানগুলোও সেদিকেই চালাতে হবে। কারণ সেদিক থেকেই হুমকির আশঙ্কা এখন অনেক বেশি পরিমাণে বেড়ে গেছে।’ এ লক্ষ্যেই ওলসন ‘লরেন্স প্রকল্প’ নামে নতুন প্রকল্প চালু করার প্রস্তাব দেন। এ প্রকল্পের আওতায় সংশ্লিষ্ট অঞ্চল বা দেশগুলোর সঙ্গে সাংস্কৃতিক যোগাযোগ বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। যেমন বিদেশের মাটিতে বিশেষ অভিযান চালানোর আগে সেসব অঞ্চলের ভাষা রপ্ত করা এবং সেসব অঞ্চলের স্থানীয় ইতহাস ও রীতি-নীতি সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান লাভ করা ইত্যাদি। এ প্রকল্পটির নামকরণ করা হয়েছে ব্রিটিশ অফিসার টমাস এডওয়ার্ড লরেন্সের (লরেন্স অব এরাবিয়া নামেই যিনি অধিক পরিচিত) নাম অনুসারে। এডওয়ার্ড লরেন্স প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে আরব যোদ্ধাদের সংগঠিত করে গেরিলাযুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। আফগানিস্তান, পাকিস্তান, মালি এবং ইন্দোনেশিয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ওলসন বলেন, এসওকমকে এখন প্রয়োজন অনুসারে বিশ্বের যে কোনো অঞ্চলেই এই ‘লরেন্স প্রকল্প’ চালু করতে হবে।

ওলসন বিশ্বের ৫১টি দেশে এসওকম তার কর্মকান্ড বিস্তৃত রেখেছে বলে ইঙ্গিত দিলেও কর্নেল নাই আমাকে বলেছেন যে, এ সংখ্যাটি ৭০-এর কম নয় এবং তিনি এও জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকারের অনুরোধেই এসওকম সেসব দেশে তার কর্মতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

চলতি বছরের গোড়ার দিকে হাউস আর্মড সার্ভিসেস কমিটির সামনে ওলসন যে স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন তা থেকে জানা যায়, বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যের ২০টি দেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ অভিযান পরিচালনাকারী বাহিনী মোতায়েন করা আছে। দেশগুলো হলো- আফগানিস্তান, বাহরাইন, মিসর, ইরান, ইরাক, জর্ডান, কাজাখস্তান, কুয়েত, কিরগিস্তান, লেবানন, ওমান, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, সিরিয়া, তাজিকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, উজবেকিস্তান এবং ইয়েমেন। এছাড়াও দক্ষিণ আমেরিকা থেকে শুরু করে দক্ষিণ এশিয়া পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে এই বাহিনীর সৈন্যরা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। এসবের মধ্যে কোথাও স্বল্পসংখ্যক সৈন্য, কোথাও বা আবার পুরো বাহিনী আকারে এরা মোতায়েন রয়েছে।

স্পেশাল অপারেশনস কমান্ড তাদের বাহিনীসমূহ আসলেই কোন কোন দেশে তৎপর রয়েছে তার প্রকৃত চিত্রটি কখনো প্রকাশ করে না। কর্নেল নাই বলেন, ‘আমরা এমন কিছু স্থানে আমাদের বাহিনী মোতায়েন রেখেছি যার তালিকা প্রকাশ করাটা সমীচীন হবে না এবং কারণ যাই থাক, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোরও অনেকেই চান না যে, এসব তথ্য বাইরে প্রকাশিত হোক। আর এসব কারণের মধ্যে কিছু অভ্যন্তরীণ এবং কিছু হচ্ছে আঞ্চলিক ব্যাপার জড়িত রয়েছে।’

তবে সিল এবং ডেল্টার মতো বাহিনীগুলোকে আফগানিস্তান, ইরাক, পাকিস্তান এবং ইয়েমেনে হত্যা কিংবা পাকড়াও জাতীয় গোপন অভিযানে নিয়োজিত রাখা হয়েছে তা আর এখন কোনো গোপন (কিংবা অন্তত ভালোভাবে ঢেকে রাখা যাচ্ছে না) বিষয় নয়। অন্যদিকে গ্রিন বেরেটস এবং রেঞ্জার্সের মতো বাহিনীগুলো এবং অন্যান্য জঙ্গি সংগঠন আল কায়দাবিরোধী গোপন যুদ্ধের অংশ হিসেবে প্রকাশ্যেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে স্থানীয় সৈন্যদের প্রশিক্ষণ দিয়ে যাচ্ছে। যেমন ফিলিপাইনে আর্মি স্পেশাল অপারেশনস ফোর্স, নেভি সিলস, এয়ারফোর্স স্পেশাল অপারেটর্স এবং অন্যদের সমন্বয়ে গঠিত ৬০০ সৈন্যের একটি বাহিনীকে মোতায়েন রাখার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে বছরে ৫ কোটি ডলার ব্যয় করতে হচ্ছে। এ বাহিনীটি তাদের ফিলিপিনো সহযোগীদের সঙ্গে মিলে জেমাহ ইসলামিয়াহ এবং আবু সায়াফের মতো জঙ্গি সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে থাকে।

অনুসন্ধানী সাংবাদিক টারা ম্যাকেলভি গত বছর এসওকমের দলিলাদি, পেন্টাগনের প্রকাশ্য সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যাদি এবং স্পেশাল অপারেশনস বাহিনীর বিভিন্ন অভিযান সম্পর্কিত উপাত্তসমূহ বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে এলিট বাহিনীগুলো বেলিজ, ব্রাজিল, বুলগেরিয়া, বুরকিনা ফাসো, জার্মানি, ইন্দোনেশিয়া, মালি, নরওয়ে, পানামা এবং পোল্যান্ডে যৌথ প্রশিক্ষণ কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া যতদূর জানা যায়, ২০১১ সালেও তারা ডমিনিকান রিপাবলিক, জর্ডান, রুমানিয়া, সেনেগাল, দক্ষিণ কোরিয়া এবং থাইল্যান্ডে একই ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। আর আসল বাস্তবতা হচ্ছে মি. নাই আমাকে জানিয়েছেন, বিশ্বের যে দেশেই স্পেশাল অপারেশনস বাহিনী মোতায়েন করা আছে সেখানেই তারা প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু রেখেছে। তিনি বলেছেন, চলতি বছরের শেষ নাগাদ তারা বিশ্বের ১২০টি দেশ সফর করবেন এবং এসব দেশের অধিকাংশ জায়গায়ই প্রশিক্ষণের নামে বিভিন্ন ধরনের সামরিক কর্মকান্ড চলছে। তবে এগুলোকে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি হিসেবেই অভিহিত করা হয়ে থাকে।

পেন্টাগনে ক্ষমতাবান এলিটরা : সামরিক বাহিনীর এক সময়কার অবহেলিত সৎ সন্তান স্পেশাল অপারেশনস বাহিনীসমূহ এখন গুরুত্বপূর্ণ বাহিনী অর্থাৎ জ্যেষ্ঠ সন্তান হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। আর এ গুরুত্ব কেবল আকার আকৃতি আর বাজেট বরাদ্দের দিক থেকেই নয়, তারা ক্ষমতা এবং প্রভাব-প্রতিপত্তির বিবেচনায়ও এখন অতিমাত্রায় তাৎপর্য বহন করছে। ২০০২ সাল থেকেই এসওকমকে জয়েন্ট স্পেশাল অপারেশনস টাস্কফোর্স ফিলিপিনসের মতো যৌথ বাহিনী গঠন করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এটি হচ্ছে সেন্টকমের মতো যুদ্ধবাজ সংগঠনগুলোকে দেওয়া এক ধরনের বাড়তি অধিকার। এসওকম চলতি বছরেও তেমন ঢাকঢোল না পিটিয়েই নিজস্ব একটি জয়েন্ট একুইজিশন টাস্কফোর্স গঠন করেছে। এ বাহিনীর সদস্যরা সামরিক সরঞ্জামাদি স্থাপন ও সংগ্রহে খুবই পারদর্শী।

নিজস্ব বাহিনীর বাজেট বরাদ্দকরণ, প্রশিক্ষণ, সরঞ্জামাদি সংগ্রহকরণ ও বিভিন্ন বিভাগের (যেমন সেনা ও নৌ বিভাগ) সংরক্ষিত ও ক্ষমতার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং বিভিন্ন প্রতিরক্ষা বিভাগের বাজেটে অর্থ প্রদান ও কংগ্রেসে নিজের পক্ষে প্রভাবশালী সদস্যদের টানতে পারার মাধ্যমে এসওকম বর্তমানে পেন্টাগনের ভেতর ব্যতিক্রমধর্মী ও স্বয়ংসম্পূর্ণ এক শক্তিতে পরিণত হয়েছে।

নিজস্ব শক্তিতেই সে এখন আমলাতান্ত্রিক বাধা অতিক্রম করতে পারে, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ক্রয় করতে পারে এবং ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে মানুষের মাথায় রশ্মিবাহিত সংবাদ সরবরাহের মতো বিষয় নিয়ে গবেষণা চালাতে পারে। কিংবা ভূমিতে তৎপর সৈনিকদের জন্য গোপন ছদ্মাবরণ তৈরির প্রযুক্তিও আবিষ্কার করতে পারে। ২০০১ সালের পর থেকেই এসওকম ছোট ছোট কিছু প্রতিষ্ঠানকে বিশেষায়িত যন্ত্রপাতি ও অস্ত্র নির্মাণের সুযোগ দিয়ে আসছিল। বর্তমানে এসব প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ক্ষমতা আগের চেয়ে ছয় গুণ বেড়ে গেছে।

স্পেশাল অপারেশনস কমান্ডের সদর দফতরটি ফ্লোরিডার ম্যাকডিল এয়ারফোর্স বেইজে অবস্থিত হলেও হাওয়াই, জার্মানি, এবং দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিশ্বের অনেক জায়গায়ই এর কমান্ড ঘাটি স্থাপন করা হয়েছে। আর বিশ্বের অধিকাংশ দেশে নিজের কর্মকান্ডের বিস্তার ঘটিয়ে প্রতিষ্ঠানটি এখন এক সর্বেসর্বা বাহিনীতে পরিণত হয়েছে।

এসওকমের বিদায়ী প্রধান হিসেবে চলতি বছরের গোড়ার দিকে ওলসন বলেছিলেন, এসওকম স্থল, বিমান ও নৌবাহিনীর সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে। সারাবিশ্বেই তার উপস্থিতি বর্তমান। তার কর্তৃত্ব এবং দায়-দায়িত্বের মধ্যে সামরিক বিভাগ, সামরিক বাহিনী এবং প্রতিরক্ষা সংস্থাসমূহের কর্মকান্ডেরও প্রতিফলন লক্ষ্য করা যায়। সব মিলিয়ে এটি এখন প্রতিরক্ষা বিভাগের এক অনুসংস্করণে পরিণত হয়েছে।

বিশ্বব্যাপী পরিচালিত পেন্টাগনের সন্ত্রাসবিরোধী সব কর্মকান্ড সমন্বয়ের দায়িত্ব এখন এই এসওকমের। এর ফলে বাহিনীটির সঙ্গে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা, বিদেশে মোতায়েন সামরিক বাহিনীসমূহ এবং গোয়েন্দা বিভাগসমূহের একটি ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ স্থাপিত হয়ে গেছে। তার নিজের রয়েছে গোপন হেলিকপ্টার বাহিনী, বিমান বহর, বিপুল অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত ড্রোন বিমান, অত্যাধুনিক কামান সজ্জিত স্পিডবোট, বিশেষায়িত হামভি এবং পুঁতে রাখা মাইন নিরোধক যান বহর বা এমআরএপি। এছাড়াও অন্যান্য প্রচলিত অত্যাধুনিক সমরাস্ত্রও রয়েছে এই বাহিনীটির। সব মিলিয়ে এসওকম নতুন ধরনের এক সামরিক সংগঠন হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে।

প্রয়াত সামরিক বিশেষজ্ঞ চ্যালমার্স জনসন সিআইএকে এক সময় ‘প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত বাহিনী’ হিসেবে অভিহিত করলেও সে কাজটি বর্তমানে এসওকমের অধীন জেএসওসি করে থাকে। এই বাহিনীটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহীর ব্যক্তিগত বাহিনী হিসেবে হত্যাকান্ডের ঘটনাসমূহ ঘটিয়ে থাকে। আর এরই জন্মদাতা এসওকম হচ্ছে পেন্টাগনের নতুন পাওয়ার এলিট। এটি হচ্ছে সামরিক বাহিনীর ভেতরেই জন্ম নেওয়া গোপন আরেক সামরিক বাহিনী। এর ক্ষমতার হাত যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরসহ বিশ্বের সর্বত্রই প্রসারিত। বিশ্বের ১২০টি দেশে স্পেশাল অপারেশনস কমান্ডের সৈন্যরা তাদের গোপন অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। এসবের মধ্যে রয়েছে বিখ্যাত ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের হত্যা, অন্যান্য ছোটখাট প্রয়োজনীয় হত্যাকান্ড পরিচালনা, পাকড়াও, অপহরণ অভিযান, গভীর রাতে দরজা ভেঙে মানুষের ঘরবাড়িতে তল্লাশি চালানো, বিভিন্ন দেশের স্থানীয় সৈন্যদের সঙ্গে মিলে যৌথ অভিযান পরিচালনা এবং মার্কিন জনগণের কাছে অপরিচিত ও অদৃশ্য শত্রুসমূহ নিধনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে স্থানীয় সহযোগী সৈন্যদের প্রশিক্ষণ দান। এক সময় ছোট, দুর্বল, বহিরাগত অযোগ্য হিসেবে বিশেষভাবে পরিচিত বাহিনীটি এখন তার ক্ষমতা, অধিকার, প্রভাব এবং ঔজ্জ্বলের কারণে ভিন্ন ধরনের গুরুত্বের অধিকারী হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষভাবে পরিকল্পিত প্রচারণার কারণে বাহিনীটির এ ঔজ্জ্বল্য এখন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে এবং বহির্বিশ্বে তার এক অতিমানবীয় ভাবমূর্তি তৈরি করেছে। যদিও তাদের অধিকাংশ কর্মকান্ডই চলছে গোপনে এবং ক্রমশ বিস্তারশীল এক পর্দার আড়ালে। বাহিনীটি তাদের প্রচারণার অংশ হিসেবে এডমিরাল ওলসনের একটি প্রথাগত বক্তব্যকে বেছে নিয়েছে। ওলসন বলেছেন, আমি নিশ্চিত যে, এই বাহিনীটি সাংস্কৃতিক দিক থেকে বেশ সমন্বিত, তারা দক্ষ হন্তারক, দ্রুত সাড়াদানকারী, ক্ষিপ্রগতিসম্পন্ন, সৃজনশীল এবং দক্ষ ও কার্যকর উপদেষ্টা, প্রশিক্ষক আর সমস্যা সমাধানকারী হিসেবেও এদের জুড়ি নেই। তাছাড়া এরা সাহসী বীর। জাতি এদের নিয়ে গর্ব করতে পারে।

আসপেন ইন্সটিটিউটস সিকিউরিটি ফোরামে দেওয়া সাম্প্রতিক এক বক্তব্যেও ওলসন একই ধরনের কথার ফুলঝুরি ছুটিয়ে বেশ কিছু ভুল তথ্য পরিবেশন করেছেন। তিনি সেখানে দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল অপারেশনস বাহিনী বিশ্বের মাত্র ৬৫টি দেশে অবস্থান করছে এবং এর মধ্যে মাত্র দুটি দেশে তারা যুদ্ধরত রয়েছে। পাকিস্তানে ড্রোন হামলা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি নাকি বলেছিলেন,‘ আপনারা কি বিস্ফোরণ সংক্রান্ত ভিত্তিহীন সেই খবরের কথা বলছেন?’

যাই হোক, তিনি আবারো তার বক্তব্যে ফিরে আসেন এবং বলেন যে, রাতের অন্ধকারে হেলিকপ্টারের সাহায্যে কমান্ডোরা ওসামা বিন লাদেনের ওপর যেভাবে হামলা চালিয়েছিল সে ধরনের অভিযান এখন অহরহই পরিচালিত হচ্ছে। তিনি জানান, এ জাতীয় হামলার ঘটনা প্রতি রাতে এমন অন্তত ডজনখানেক কিংবা তার চেয়েও বেশি ঘটছে। তবে এসওকমের আকার সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে তিনি যে তথ্য দিয়েছিলেন তার বক্তব্যের মধ্যে সম্ভবত সেটিই ছিল সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ। তিনি বেশ জোর দিয়েই জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল অপারেশনস ফোর্সের আকারটি মোটামুটিভাবে কানাডার নিয়মিত সামরিক বাহিনীর সমান। আসলে পৃথিবীর যেসব দেশে যুক্তরাষ্ট্রের এ স্পেশাল অপারেশনস বাহিনী সারা বছর ধরে মোতায়েন থাকে সেসব দেশের অনেকগুলো নিয়মিত সামরিক বাহিনীর চাইতেই আকারে এটি বড় এবং দিন দিন এই আকার আরো স্ফীত হতে থাকবে।

মার্কিন জনগণ এখনো তাদের এমন বিশাল আকারের, অতিতৎপর ও গোপন একটি বিশেষ বাহিনীর প্রয়োজন আছে কিনা সে প্রশ্ন করতে শুরু করেনি এবং এ সম্পর্কিত আরো বেশি তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত তেমনটা শুরু করবে বলেও মনে হয় না। তবে ওলসন কিংবা তার সৈন্যদের কাছ থেকেও এসব তথ্য পাওয়া যাবে না। এসওকমের গোপনীয়তা সম্পর্কে তার কাছে জানতে চাওয়া হলে ওলসন বলেন, ‘নিজেদের সম্পর্কে সবচেয়ে কম বলতে পারাটাই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আমাদের প্রবেশ করতে পারার পক্ষে সহায়ক।’ তিনি বলেন, ‘বিন লাদেন হত্যা অভিযানের মতো অভিযানগুলো নিয়ে যাচাই-বাছাইয়ের প্রশ্ন উত্থাপিত হলে আমাদের এই এলিট বাহিনী তাতে বাধা দিয়ে থাকে। আর সামরিক বাহিনীর ভেতরকার গোপনীয় এ সামরিক বাহিনীটি তার প্রয়োজনীয় কাজটি সারা হয়ে গেলে নিজেই আবারো পর্দার অন্তরালে চলে যেতে পছন্দ করে।
[সাপ্তাহিক বুধবার থেকে]

Bangladeshi Band FeedBack & Spondon in Los Angeles


Friends Club of Valley, Los Angeles 2011 News

Nasir Ahmed Apu -Old Time Music Jams with Spondan & FeedBack 2011 in Los Angeles

গত ২৯শে অক্টোবর লস এন্জেলেসের ফ্রেন্ডশীপ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো ফ্রেন্ডস ক্লাব অব ভ্যালী, লস এন্জেলেস আয়োজিত ফ্রেন্ডস টুর্নামেন্ট ২০১১ র অ্যাওয়ার্ড সিরিমনি ও বাংলাদেশ নাইট। বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসের চিরস্মরণীয় নাম ও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশানের বর্তমান সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনকে আজীবন সম্মাননায় ভুষিত করা হয়। এছাড়া সঙ্গীতে আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয় মাইলসের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য জনপ্রিয় যন্ত্রশিল্পী খাজা কামাল মাইনুদ্দীনকে। ক্রীড়া ও সঙ্গীত জগতের অভূতপূর্ব এ মিলনমেলায় লস এন্জেলেস প্রবাসীদের মনমাতানো ব্যন্ডসঙ্গীত উপহার দেয় এতিহ্যবাহী ফিডব্যাক, ঢাকাব্যান্ড ও স্পন্দনের জনপ্রিয় সঙ্গীত তারকারা। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের লস এন্জেলেস নিযুক্ত মাননীয় কনসাল জেনারেল জনাব এনায়েত হোসেন সহ শহরের অনেক গন্যমান্য ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান উপলক্ষে ‘উচ্ছ্বাস’ নামের একটি বার্ষিক সংকলন প্রকাশিত হয়।

Tomar Chithi FeedBack in Los Angeles Live 2011

Moushumi kare vhalobasho tumi FeedBack 2011

Oi dur theke durey FeedBack band in Los Angeles 2011

FeedBack Bangladeshi Band in Los Angeles 2011 ফীডব্যাক বাংলাদেশ

Visit us on FaceBook

একুশ নিউজ মিডিয়া এখন ফেস বুক এ

Video News: www.EkushTube.com

Change your Life: ASea – Advancing Life

Have To Cut Back Red Meat Consumption? এল গোশতের দিন


এল গোশতের দিন

দৈনিক কালের কণ্ঠ / ডাক্তার আছেন : ৩০/১০/২০১১

গরুর গোশত খুব উঁচুমানের আমিষ এবং এতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের অ্যামাইনো এসিড থাকে। অল্প বয়সে গরুর গোশত খাওয়া শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয়, বরং উপকারী। তবে অতিরিক্ত কোনো কিছুই ভালো না। তাই পরিমিত খাওয়া ভালো এবং অবশ্যই উত্তমরূপে রান্না করে বিশেষকরে বয়স্ক ও যাদের নানা রকম স্বাস্থ্য সমস্যা রয়েছে তারা একটু হিসাব করে খেলে উৎসবের আনন্দ মাটি হবে না।

* গোশত সঠিকভাবে রান্না করুন। প্রয়োজনে আগে কিছুক্ষণ সেদ্ধ করে এর চর্বি ছাড়িয়ে নিন যদি ফ্যাট এড়াতে চান। গোশত টুকরো করে কাটার সময়ও বাড়তি চর্বি ছাড়িয়ে নিতে পারেন।

* গোশতের বিভিন্ন আইটেমের পাশাপাশি খাবারের সঙ্গে সালাদের আইটেম রাখুন। সালাদ হজমে সাহায্য করবে, সেই সঙ্গে অতিরিক্ত গোশত খাওয়া এড়াতে পারবেন সালাদ খেয়ে।

* খাওয়ার পর টক দই খান। এটা হজমে সাহায্য করবে।

* খাবার খাওয়ার পরপরই পানি পান করবেন না। কারণ এতে গোশত ও ফ্যাট পরিপাক করার অ্যানজাইম যেমনথপেপসিন, ট্রিপসিন, লাইপেজ ইত্যাদি পাতলা বা উরষঁঃব হয়ে যায়। ফলে হজম ভালো হয় না। যাঁরা কম খেতে চান, তাঁরা খাবারের আধঘণ্টা আগে এক-দেড় গ্লাস পানি খান। এতে পেট ভরা ভরা লাগবে। ফলে কম খেতে পারবেন।

* যাঁরা মোটা কিন্তু হার্ট বা কিডনির কোনোরূপ সমস্যায় ভুগছেন না, তাঁরা অন্য সময় ডায়েটিং করলেও ঈদে গোশতের আইটেমগুলো খেতে পারেন। তবে দাওয়াত খাওয়ার আগে ওরলিস্ট্যাট (ঙৎষরংঃধঃ)-জাতীয় ওষুধ খান, এতে চর্বির খাদ্যের চর্বি শরীরে সঞ্চিত হবে না। ফলে মলের সঙ্গে কিছুটা চর্বি যেতে পারে, তবে এতে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই এবং এর কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও নেই। খাবারের সঙ্গে সালাদ খান।

* ঈদের রাতে দাওয়াত থাকলে ভারী খাবার খাওয়ার পর অন্তত দু-তিন ঘণ্টা পর ঘুমাতে যাবেন। কখনোই ভরা পেটে ঘুমিয়ে পড়বেন না।

* শিক কাবাব বা পোড়ানো গোশত না খাওয়াই ভালো। কারণ সিদ্ধ না করা হলে গোশতের জীবাণু অনেক সময় রয়েই যায়।

* গোশত ভালো করে চিবিয়ে খাবেন। গোগ্রাসে খাওয়া উচিত নয়।

এ ছাড়া বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যায় যাঁরা ভুগছেন তাঁরা নিচের পরামর্শগুলো মেনে চলুন

দাঁতের সমস্যা থাকলে

যাঁদের দাঁতের সমস্যা রয়েছে অথবা দাঁতে ফাঁক রয়েছে, তাঁরা গোশত খাওয়ার ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। দাঁতের ফাঁকে আটকানো গোশত থেকে মুখে দুর্গন্ধ, মাড়ির ইনফেকশন বা মাড়ি ফোলা, দাঁত ব্যথা ইত্যাদি হতে পারে। তাই দাঁতের কোনো সমস্যা থাকলে ঈদের আগেই ডেন্টিস্টের শরণাপন্ন হোন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিন।

* ডেন্টাল ফ্লস কিনে রাখুন এবং গোশত খাওয়ার পর দাঁত ব্রাশ করে ফেলুন ও ডেন্টাল ফ্লস ব্যবহার করুন।

* যাঁদের দাঁতে ক্যাপ লাগানো আছে, তাঁরা গোশতের হাড় খাওয়ার সময় সতর্ক থাকুন।

পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা থাকলে

কোরবানির ঈদে গোশত খাওয়ার হিড়িকে সাধারণত সবজি, শাক, ডাল ইত্যাদি খাওয়া হয় না বললেই চলে। এ কারণে কোষ্ঠকাঠিন্য, এমনকি পায়ুপথে ব্যথা বা রক্তপাত পর্যন্ত হতে পারে। তাই কোরবানির ঈদে গোশত খাওয়ার পাশাপাশি পেঁপে, গাজর ইত্যাদি দিয়ে তৈরি সবজির একটি আইটেম রাখুন। দিনে খাওয়ার ফাঁকে ফাঁকে পানি ও ফলের রস খান।

* যাঁদের আগে থেকেই অ্যানাল ফিশার বা পাইলসের সমস্যা রয়েছে, তাঁরা গোশত খাবেন পরিমিত। সঙ্গে সকাল ও রাতে ইসবগুলের ভুসি এবং তরল খাবার খান।

* যাঁদের পেপটিক আলসারের সমস্যা রয়েছে, তাঁরা চর্বিযুক্ত বা অতিরিক্ত ঝাল দিয়ে রান্না করা খাবার খাওয়ার ৩০ মিনিট আগে দুবেলা অ্যান্টি-আলসারেন্ট কোনো ওষুধ, যেমনথরেনিটিডিন, প্যান্টোপ্রাজল, ইসমিপ্রাজল ইত্যাদির যেকোনো একটি খেয়ে নিন।

গরুর গোশতে অ্যালার্জি থাকলে

অনেকের গরুর গোশতে অ্যালার্জি থাকে এবং খেলে গা চুলকায়, লাল লাল ছোপ হয় এবং ফুলে যায়। তাঁরা ভাবেন, কোরবানির পশুর গোশত খেলে বুঝি এমন হবে না। এটা ঠিক নয়। যাঁদের অ্যালার্জি আছে তাঁরা ঈদের গোশত খেলেও একই ধরনের অ্যালার্জিক রি-অ্যাকশন হবে। তাই কোরবানির সময় অ্যান্টি-হিস্টামিনজাতীয় ওষুধ দুবেলা করে তিন থেকে পাঁচ দিন সেবন করুন। সে ক্ষেত্রে গরুর গোশত খেতে পারবেন। প্রথমে দু-এক টুকরো খান। কোনো সমস্যা না হলে ঈদের সময়টায় গোশত খাওয়া চালিয়ে যেতে পারেন। তবে অবশ্যই ওষুধ খেতে ভুলবেন না। এর পরও কোনো সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

উচ্চ রক্তচাপ থাকলে

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য যাঁরা ওষুধ খান, তাঁরা অনেকেই মনে করেন, কোরবানির সময় গরুর বা খাসির গোশত খেলেই প্রেশার বেড়ে যাবে। এ ধারণা আদৌ ঠিক নয়। তবে কখনোই অতিরিক্ত খাওয়া চলবে না এবং চর্বি এড়িয়ে চলতে হবে।

* ঈদের ব্যস্ততার মাঝে কিন্তু ওষুধ খেতে ভুলবেন না।

* যাঁদের দীর্ঘমেয়াদি অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপের কারণে কিডনি সমস্যা আছে, তাঁরা গোশত খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।

ডায়াবেটিস থাকলে

ডায়াবেটিক রোগীরা পরিমিত খান। যদি কোনো বেলায় খাওয়া বেশি হয়ে যায় কিংবা আত্মীয়স্বজনের বাসায় দাওয়াত থাকে, তাহলে ওষুধের ডোজ কিছুটা এবং ইনসুলিন দুই ইউনিট বাড়িয়ে নিন। তবে ঈদের আগেই এ ব্যাপারে আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নিশ্চিত হয়ে নিন।

* গোশতের সঙ্গে পোলাও-বিরিয়ানি কম খান, ভাত খাওয়ার চেষ্টা করুন।

* গরুর গোশত খেতে পারবেন। তবে চর্বি বেশি থাকে বিধায় খাসির গোশত এবং মগজ বাদ দিন।

* যাঁদের দীর্ঘমেয়াদি অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ ব্লাড সুগারের জন্য ডায়াবেটিক নেফ্রোপ্যাথি হয়েছে, তাঁরা গোশত খাবেন না।

* ঈদের ব্যস্ততার মধ্যে ডায়াবেটিসের ওষুধ খেতে কিংবা ইনসুলিন নিতে ভুলবেন না।

হার্টের সমস্যা থাকলে

যাঁরা হার্টের সমস্যাজনিত কারণে বুকের ব্যথায় ভুগছেন কিংবা আগে যাঁদের মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন (হার্ট অ্যাটাক) হয়েছে, তাঁরা ঈদে খাওয়াদাওয়ার ব্যাপারে সচেতন থাকবেন।

* খাসির গোশত, চর্বিযুক্ত খাবার একেবারেই খাবেন না।

* গরুর গোশত (চর্বি ছাড়া) খেতে পারবেন, তবে অতিরিক্ত পরিমাণে নয়।

* যাঁদের হার্টের ধমনিতে stent বসানো হয়েছে,

তাঁরা কোরবানির গোশত একেবারেই খাবেন না, তা নয়। ভাত দিয়ে গোশতের তরকারি খান।

অনেকে ভাবেন, হার্টের অপারেশন হলে মসলাছাড়া গোশত খেতে হবে; তা কিন্তু নয়। মুখরোচক করেই খান, কিন্তু অল্প খান। ঝোলটা যথাসম্ভব এড়িয়ে চলুন।

* যাঁদের অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস বা ধমনিতে চর্বি জমার প্রবণতা আছে এবং আগে স্ট্রোক হয়েছে, তাঁদের কোরবানির গোশত, মগজ, বিরিয়ানি, পোলাও, পায়েস, সেমাই ইত্যাদি পরিহার করাই ভালো।

কিডনির সমস্যা থাকলে

যাঁদের কিডনি সমস্যা আছে, তাঁদের প্রোটিন খাওয়া নিয়ন্ত্রিত থাকে। তাঁরা গোশত না খেলেই ভালো হয়, খেলেও দিনে দুই টুকরো বা ত্রিশ গ্রামের বেশি নয়।

* যাঁদের ক্রনিক কিডনি ডিজিজের জন্য ডায়ালাইসিস করান, তাঁরা প্রোটিন খেতে পারবেন এবং তাঁদের ক্ষেত্রে গরুর গোশত খাওয়ার ব্যাপারে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই।

* যাঁরা কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট করিয়েছেন এবং সফল হয়েছেন, তাঁরা কোরবানির গোশত খেতে পারবেন।

প্রেগন্যান্সি বা গর্ভাবস্থায়

অনেকে ভাবেন, গর্ভাবস্থায় গরুর গোশত খাওয়া যায় না। এটা ঠিক নয়। গরুর গোশত গর্ভাবস্থায় নারীদের প্রোটিনের চাহিদা মেটায়। তবে এ সময় মহিলাদের কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থাকে, যা গোশত বেশি খাওয়ার পর আরো বেড়ে যেতে পারে। তাই ঈদের দিন সকালে এবং আগের দিন রাতে ইসবগুলের ভুসির শরবত খান।

কোরবানির ঈদ এবং ঈদের গোশত খাওয়া সব বয়সী মানুষের জন্য আনন্দের ব্যাপার। সেই আনন্দ সবাই উপভোগ করতে পারবেন, যদি স্বাস্থ্যসম্মত করে রান্না করে পরিমাণমতো খান।

Why We Have To Cut Back Red Meat Consumption?
রেড মীট

Many studies have founds that eating too much red meat can increase the risk of many chronic health conditions. But since red meat is also have some important nutrients that your body needs such as protein, vitamin B12 and D, calcium, iron, and zinc, you must create a balanced eating plan so your body still gets sufficient amount of these nutrients.

Some product that can replace your red meat consumption are soy products, legumes, low-fat dairy, dark green and leafy vegetables, nuts, and whole grains. Poultry and fish also have leaner protein that provide many of the same nutrients found in red meat.

And reason why you have to limiting your red meat intake is because they can cause several serious diseases such as:
1. Arthritis
Study founds that men and women who ate the greatest amount of read meat, meat products, and total protein had a higher rates of inflammatory polyarthritis compared with people who ate the least amount.

2. Diabetes
If you have diabetes type 2 or at high risk you must dieting by limiting red meat and other source of saturated fats and eat more fruit, vegetables, and fiber and also exercising regularly. Because study founds that the risk is reduce by 50% by doing the above.

3. Cancer
High intake of red meat and processed meat increases the risk of colorectal cancer. High-heat cooking methods such as grilling, broiling, or pan frying trigger the formation of carcinogenic compounds in red meat. To prevent this you can marinate the meat for one hour before cooking, steaming or poaching meat, or turning the meat frequently while cooking over medium heat.

Visit us on FaceBook

একুশ নিউজ মিডিয়া এখন ফেস বুক এ

Video News: www.EkushTube.com

Change your Life: ASea – Advancing Life