বিশ্বের ১২০টি দেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গোপন যুদ্ধ

বিশ্বের ১২০টি দেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গোপন যুদ্ধ

বিশ্বব্যাপী এক গোপন যুদ্ধে নিয়োজিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এর বিশাল ব্যয় দেশটির অর্থনীতির জন্য মারাত্মক সংকট সৃষ্টি করলেও যে গোপন বাহিনী এসওকম এই যুদ্ধে সম্পৃক্ত তার বিস্তৃতি ক্রমশ বাড়ানো হচ্ছে। দানবরূপী এই গোপন বাহিনী সম্পর্কে বিশ্ববাসী তো বটেই এমনকি মার্কিন নাগরিকরাও সামান্যই জানেন। এশিয়া টাইমসে প্রকাশিত এই বাহিনী সম্পর্কিত টম ডিসপাচের সহযোগী সম্পাদক নিক টার্সের প্রতিবেদনটি ভাষান্তর করেছেন নেয়ামুল হক।

এই মুহূর্তে হয়তো মার্কিন কমান্ডো বাহিনী অভিযান পরিচালনা করছে পৃথিবীর কোথাও না কোথাও। দিনে অন্তত ৭০টি স্থানে এ ঘটনা ঘটিয়ে চলেছে তারা। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীরই ভেতরকার গোপন এক বাহিনী বিশ্বের অধিকাংশ দেশে এ অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের অজান্তে। পেন্টাগনের নতুন এ এলিট শক্তিটি বিশ্বব্যাপী এক যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এই শক্তিটির অবয়ব ও ক্ষমতা এখন পর্যন্ত অজানাই রয়ে গেছে। অর্থাৎ কখনো জানানো হয়নি। ইউএস নেভি সিল পাকিস্তানে ওসামা বিন লাদেনের আস্তানায় অতর্কিতে হামলা চালিয়ে তার বুকে ও কপালে দুটি বুলেট বিদ্ধ করার পর থেকেই মানুষ মার্কিন সামরিক বাহিনীর এ জাতীয় নৈশকালীন গোপন অভিযান সম্পর্কে প্রথম জানতে পারল।

ঘটনাটিকে একটু ব্যতিক্রমধর্মীই বলতে হয়। কারণ এটা মোটামুটি সবারই জানা ছিল, ইউএস স্পেশাল অপারেশন্স বাহিনীগুলো প্রধানত ইরাক ও আফগানিস্তানের মতো যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলগুলোতেই নিয়োজিত। তাছাড়া ইয়েমেন এবং সোমালিয়ার মতো বিরোধপূর্ণ অঞ্চলগুলোতেও এ বাহিনী ক্রমশ তাদের তৎপরতার বিস্তার ঘটাচ্ছিল। তারপরও বিশ্বব্যাপী এই বাহিনীর কর্মকান্ডের বিষয়টি এ পর্যন্ত মোটামুটি অস্বচ্ছ একটি আবরণেই ঢেকে রাখা হয়েছিল।

গত বছর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকার সাংবাদিক কারেন ডেইয়াং এবং গ্রেগ জেফ জানিয়েছিলেন, বিশ্বের অন্তত ৭৫টি দেশে ইউএস স্পেশাল অপারেশন্স বাহিনী নিয়োজিত রয়েছে। জর্জ ডব্লিউ বুশের আমলে এ সংখ্যাটি ছিল ৬০। আর ইউএস স্পেশাল অপারেশন্স কমান্ডের মুখপাত্র কর্নেল টিম নাই জানিয়েছেন, চলতি বছরের শেষ নাগাদ এ জাতীয় দেশের সংখ্যা বেড়ে ১২০-এ দাঁড়াতে পারে। সম্প্রতি তিনি বলেছেন, আমরা বহু জায়গায় ঘোরাঘুরি করেছি, আফগানিস্তান এবং ইরাক ছাড়াও বিশ্বের বহু দেশে আমরা গিয়েছি, যাচ্ছি। বিশ্বের অন্তত ৬০ শতাংশ দেশেই এখন যুক্তরাষ্ট্রের এই বিশেষ বাহিনীর উপস্থিতি রয়েছে। এতদিন যা ধারণা করা হতো এ সংখ্যা তার চেয়ে অনেক বেশি। এ থেকেই বোঝা যায় বিশ্বের সব প্রান্তেই পেন্টাগনের এ এলিট বাহিনীর গোপন যুদ্ধ তৎপরতা ক্রমশ বেড়েই চলেছে।

সামরিক বাহিনীর ভেতর গোপন বাহিনীর উত্থান : ১৯৮০ সালে ইরানে মার্কিন জিম্মি উদ্ধারের এক ব্যর্থ অভিযান চালাতে গিয়ে সে অভিযানে আটজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছিল। এরপর জন্ম নেওয়া ইউএস স্পেশাল অপারেশনস কমান্ড (এসওকম) ১৯৮৭ সালে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে। ভিয়েতনাম যুদ্ধোত্তর কালে নিয়মিত মার্কিন বাহিনীর আস্থা অর্জনে ব্যর্থ এবং অর্থ বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত এই বিশেষ অভিযান বাহিনীটি হঠাৎ করেই নিজের একটি ঠিকানা পেয়ে যায়। পেয়ে যায় স্থিতিশীল একটি বাজেট এবং কমান্ডার হিসেবে চার তারকাখচিত একজন জেনারেল। আর তখন থেকেই মার্কিন সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন বাহিনীর সৈনিকদের সমন্বয়ে এসওকম পৃথকভাবে একটি যৌথ বাহিনী হিসেবে গড়ে উঠতে শুরু করে। সেনাবাহিনীর ‘গ্রিন বেরেট’ এবং রেঞ্জার্স, নেভি সিলস, এয়ারফোর্স এয়ার কমান্ডোস এবং মেরিন কর্পস স্পেশাল অপারেশন্স টিমসহ সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন শাখা থেকে সৈন্য নিয়ে এই বাহিনীটির বিভিন্ন ইউনিট গড়ে তোলা হয়। এর সঙ্গে আরো যুক্ত হয়েছে বিশেষায়িত হেলিকপ্টার ক্রু, নৌ-সেনা দল, বেসামরিক বিষয়ক কর্মকর্তা, আধা উদ্ধারকর্মী দল, এমনকি যুদ্ধ ক্ষেত্রে এয়ার ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ বাহিনী এবং বিশেষ অভিযান সম্পর্কিত আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ দল। এসওকম যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বিশেষায়িত এবং গোপন অভিযানগুলোই পরিচালনা করে থাকে। এসবের মধ্যে রয়েছে গোপন খুন, সন্ত্রাসবিরোধী হামলা, দূরবর্তী লক্ষ্যস্থল চিহ্নিতকরণ, গোয়েন্দা বিশ্লেষণ, বিদেশী সৈন্যদের প্রশিক্ষণ প্রদান এবং গণবিধ্বংসী অস্ত্রের বিস্তার রোধ অভিযান।

এ বাহিনীটির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি শাখা হচ্ছে জয়েন্ট স্পেশাল অপারেশন্স কমান্ড বা জেএসওসি। এটি হচ্ছে গুপ্ত অভিযান পরিচালনাকারী একটি সাব-কমান্ড। এর প্রাথমিক কাজই হচ্ছে সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীদের খুঁজে বের করা এবং হত্যা করা। প্রেসিডেন্টের কাছে দায়বদ্ধ এবং তারই কর্তৃত্বে পরিচালিত জেএসওসি সারা বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা লক্ষ্যবস্ত্তসমূহের একটি তালিকা প্রস্ত্তত রাখে। এ তালিকায় মার্কিন নাগরিকদের নামও থাকে। এটি আইন-বহির্ভূত হত্যা/আটক অভিযানও পরিচালনা করে আসছে। চার তারকা জেনারেলের বিদ্রোহ দমন বিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা এবং সিআইএর পরবর্তী পরিচালক ডেভিড পেট্রাউস জেএসওসিকে সন্ত্রাস মোকাবিলায় হত্যাকান্ড পরিচালনাকারী বড় ধরনের একটি যন্ত্র হিসেবে অভিহিত করেছেন। নেভি সিলস এবং আর্মিস ডেল্টা ফোর্সের মতো কমান্ডো বাহিনীগুলো দিয়েই হত্যাকান্ডের মতো অভিযানগুলো পরিচালিত হয়ে থাকে। এর পাশাপাশি সোমালিয়া, পাকিস্তান এবং ইয়েমেনের মতো দেশগুলোতে ড্রোন আক্রমণের মাধ্যমে পরিচালিত গোপন যুদ্ধাভিযানগুলোতে সিআইএ’র সঙ্গে এদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। তাছাড়া এই কমান্ডের অধীনে গোপন কারাগার পরিচালনার একটি নেটওয়ার্কও সক্রিয় রয়েছে। সম্ভবত এককভাবে আফগানিস্তানেই এ বাহিনীর অধীনে এ জাতীয় অন্তত ২০টি গোপন কারাগার রয়েছে। এসব কারাগারে গুরুত্বপূর্ণ সন্দেহভাজন বা আটকদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়ে থাকে।

সাংগঠনিক ব্যাপ্তি : নববইয়ের দশকের শুরুর দিকে স্পেশাল অপারেশন্স কমান্ডের সৈন্য সংখ্যা ৩৭ হাজার থাকলেও বর্তমানে তা বেড়ে প্রায় ৬০ হাজারে দাঁড়িয়েছে। এদের এক-তৃতীয়াংশই হচ্ছে এসওকমের নিয়মিত সদস্য। আর বাদ বাকিরা সামরিক বাহিনীর অন্যান্য বিশেষায়িত বিভাগ থেকে আগত। এরা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পালাক্রমে এসে এ কমান্ডের অধীনে দায়িত্ব পালন করে যায়। ২০১০ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের পর থেকেই এসওকমের সাংগঠনিক ব্যাপ্তির বিস্তার ঘটে জ্যামিতিক হারে। এর একটি ব্যাখ্যা খুঁজে পাওয়া যায় এর বাজেটের হিসাব থেকে। কারণ ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানটির মূল বাজেট ২৩০ কোটি ডলার থেকে যদি তিনগুণ বেড়ে ৬৩০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। আর যদি ইরাক ও আফগান যুদ্ধের ব্যয় এর সঙ্গে যোগ করা হয় তবে চলতি সময়ে এ পরিমাণ চারগুণেরও বেশি বেড়ে গিয়ে ৯৮০ কোটি ডলারে দাঁড়াবে। একই সময়ে তাই বিদেশের মাটিতে নিয়োজিত বাহিনীটির সৈন্য সংখ্যা যদি এক লাফে চারগুণ বেড়ে যায় তাতেও বিস্ময়ের কিছু নেই। বাহিনীটির কলেবর এবং অভিযান এখন ক্রমশই বিশ্বব্যাপী আরো বেশি ছড়িয়ে পড়ছে।

এসওকমের সঙ্গে সর্বশেষ ২০০৬ সালে যুক্ত হওয়া শাখাটি হচ্ছে মেরিন কর্পস ফোর্সেস স্পেশাল অপারেশন্স কমান্ড। এটির সাবেক প্রধান লে. জেনারেল ডেনিস হেজলিক ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, তার নেতৃত্বাধীন এ ইউনিটটির সৈন্য সংখ্যা ২৬০০ থেকে বেড়ে প্রায় দ্বিগুণের মতো হয়ে যাবে। তার জবানিতে, ‘আমার মনে হয় এ বাহিনীটির সদস্য সংখ্যা একদিন বেড়ে ৫ হাজারে গিয়ে দাঁড়াবে। অর্থাৎ এর সৈন্যসংখ্যা হবে বর্তমানে অভিযান পরিচালনারত বাহিনী ‘সিলের’ সৈন্য সংখ্যার ৫০০০ থেকে ৬০০০-এর মধ্যে সমান। জুনে প্রতিরক্ষা বিষয়ক সংবাদদাতাদের সঙ্গে ওয়াশিংটনে এক প্রাতরাশ সভায় তিনি জানান, দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইতোমধ্যেই ইউনিটটির সৈন্য সংখ্যা আরো ১০০০ বাড়ানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এসওকমের হবু প্রধান এবং জেএসওসির (বিন লাদেন হত্যার সময় তিনিই এই বাহিনীটির নেতৃত্বে ছিলেন) বিদায়ী প্রধান নৌবাহিনীর ভাইস এডমিরাল উইলিয়াম ম্যাকরাভেন সিনেটের সামনে দেওয়া তার সাম্প্রতিক অবহিতকরণ বক্তব্যে বাহিনীটির সৈন্য সংখ্যা বার্ষিক ৩ থেকে ৫ শতাংশ হারে বৃদ্ধির একটি জোরালো প্রস্তাব পেশ করেছেন। একইসঙ্গে বাহিনীটিকে আরো কিছু ড্রোন বিমান এবং বিশেষ অভিযান পরিচালনার সহায়ক বাড়তি কিছু নতুন উপকরণ যোগান দেওয়ারও প্রস্তাব করেছেন তিনি। সাবেক সিল সদস্য ম্যাকরাভেন যিনি এখনো মাঝে মাঝে বাহিনীটির বিভিন্ন অভিযানে অংশ নিয়ে থাকেন এই ধারণা পোষণ করেন যে, আফগানিস্তান থেকে ক্রমান্বয়েই নিয়মিত সেনাবাহিনীকে সরিয়ে নিয়ে আসার পর বিশেষ অভিযান পরিচালনাকারী বাহিনীগুলোকেই সেখানে আরো অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হবে। তিনি বলেন, ২০১১ সালের ডিসেম্বর নাগাদ ইরাক থেকে সব মার্কিন বাহিনী ফিরিয়ে নিয়ে আসার কথা থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের এলিট বাহিনীগুলো যদি এরপরও সেখানে থেকে যায় তবে তা থেকে ইরাকই বেশি লাভবান হবে। সিনেট আর্মড সার্ভিসেস কমিটির সামনে বক্তব্য পেশ করতে গিয়ে তিনি আরো উল্লেখ করেন, ‘জেএসওসির একজন সাবেক কমান্ডার হিসেবে আমি আপনাদের বলতে পারি যে, ইয়েমেন এবং সোমালিয়ায় আমাদের খুবই কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হয়েছিল।’

স্পেশাল অপারেশন্স কমান্ডের বিদায়ী প্রধান নৌ এডমিরাল এরিক ওলসন ন্যাশনাল ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক ‘স্পেশাল অপারেশনস অ্যান্ড লো ইন্টেনসিটি কনফ্লিকট সিম্পোজিয়ামে’ চলতি বছরের গোড়ার দিকে দেওয়া এক ভাষণের সময় স্যাটেলাইটের মাধ্যমে প্রাপ্ত রাত্রীকালীন বিশ্বের কিছু চিত্রের দিকে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। সেই চিত্রে ৯/১১-এর আগ পর্যন্ত প্রধানত উত্তরাঞ্চলীয় শিল্পোন্নত বিশ্বই পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করা ছিল। ওলসন বলেন, ‘কিন্তু এক দশকে বিশ্ব বিপুলভাবে পরিবর্তিত হয়ে গেছে এবং আমাদের কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গিও এখন পাল্টে গেছে। আমরা এখন দক্ষিণ গোলার্ধের দিকেই নজর দিচ্ছি বেশি। বিশেষ অভিযানগুলোও সেদিকেই চালাতে হবে। কারণ সেদিক থেকেই হুমকির আশঙ্কা এখন অনেক বেশি পরিমাণে বেড়ে গেছে।’ এ লক্ষ্যেই ওলসন ‘লরেন্স প্রকল্প’ নামে নতুন প্রকল্প চালু করার প্রস্তাব দেন। এ প্রকল্পের আওতায় সংশ্লিষ্ট অঞ্চল বা দেশগুলোর সঙ্গে সাংস্কৃতিক যোগাযোগ বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। যেমন বিদেশের মাটিতে বিশেষ অভিযান চালানোর আগে সেসব অঞ্চলের ভাষা রপ্ত করা এবং সেসব অঞ্চলের স্থানীয় ইতহাস ও রীতি-নীতি সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান লাভ করা ইত্যাদি। এ প্রকল্পটির নামকরণ করা হয়েছে ব্রিটিশ অফিসার টমাস এডওয়ার্ড লরেন্সের (লরেন্স অব এরাবিয়া নামেই যিনি অধিক পরিচিত) নাম অনুসারে। এডওয়ার্ড লরেন্স প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে আরব যোদ্ধাদের সংগঠিত করে গেরিলাযুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। আফগানিস্তান, পাকিস্তান, মালি এবং ইন্দোনেশিয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ওলসন বলেন, এসওকমকে এখন প্রয়োজন অনুসারে বিশ্বের যে কোনো অঞ্চলেই এই ‘লরেন্স প্রকল্প’ চালু করতে হবে।

ওলসন বিশ্বের ৫১টি দেশে এসওকম তার কর্মকান্ড বিস্তৃত রেখেছে বলে ইঙ্গিত দিলেও কর্নেল নাই আমাকে বলেছেন যে, এ সংখ্যাটি ৭০-এর কম নয় এবং তিনি এও জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকারের অনুরোধেই এসওকম সেসব দেশে তার কর্মতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

চলতি বছরের গোড়ার দিকে হাউস আর্মড সার্ভিসেস কমিটির সামনে ওলসন যে স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন তা থেকে জানা যায়, বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যের ২০টি দেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ অভিযান পরিচালনাকারী বাহিনী মোতায়েন করা আছে। দেশগুলো হলো- আফগানিস্তান, বাহরাইন, মিসর, ইরান, ইরাক, জর্ডান, কাজাখস্তান, কুয়েত, কিরগিস্তান, লেবানন, ওমান, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, সিরিয়া, তাজিকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, উজবেকিস্তান এবং ইয়েমেন। এছাড়াও দক্ষিণ আমেরিকা থেকে শুরু করে দক্ষিণ এশিয়া পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে এই বাহিনীর সৈন্যরা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। এসবের মধ্যে কোথাও স্বল্পসংখ্যক সৈন্য, কোথাও বা আবার পুরো বাহিনী আকারে এরা মোতায়েন রয়েছে।

স্পেশাল অপারেশনস কমান্ড তাদের বাহিনীসমূহ আসলেই কোন কোন দেশে তৎপর রয়েছে তার প্রকৃত চিত্রটি কখনো প্রকাশ করে না। কর্নেল নাই বলেন, ‘আমরা এমন কিছু স্থানে আমাদের বাহিনী মোতায়েন রেখেছি যার তালিকা প্রকাশ করাটা সমীচীন হবে না এবং কারণ যাই থাক, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোরও অনেকেই চান না যে, এসব তথ্য বাইরে প্রকাশিত হোক। আর এসব কারণের মধ্যে কিছু অভ্যন্তরীণ এবং কিছু হচ্ছে আঞ্চলিক ব্যাপার জড়িত রয়েছে।’

তবে সিল এবং ডেল্টার মতো বাহিনীগুলোকে আফগানিস্তান, ইরাক, পাকিস্তান এবং ইয়েমেনে হত্যা কিংবা পাকড়াও জাতীয় গোপন অভিযানে নিয়োজিত রাখা হয়েছে তা আর এখন কোনো গোপন (কিংবা অন্তত ভালোভাবে ঢেকে রাখা যাচ্ছে না) বিষয় নয়। অন্যদিকে গ্রিন বেরেটস এবং রেঞ্জার্সের মতো বাহিনীগুলো এবং অন্যান্য জঙ্গি সংগঠন আল কায়দাবিরোধী গোপন যুদ্ধের অংশ হিসেবে প্রকাশ্যেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে স্থানীয় সৈন্যদের প্রশিক্ষণ দিয়ে যাচ্ছে। যেমন ফিলিপাইনে আর্মি স্পেশাল অপারেশনস ফোর্স, নেভি সিলস, এয়ারফোর্স স্পেশাল অপারেটর্স এবং অন্যদের সমন্বয়ে গঠিত ৬০০ সৈন্যের একটি বাহিনীকে মোতায়েন রাখার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে বছরে ৫ কোটি ডলার ব্যয় করতে হচ্ছে। এ বাহিনীটি তাদের ফিলিপিনো সহযোগীদের সঙ্গে মিলে জেমাহ ইসলামিয়াহ এবং আবু সায়াফের মতো জঙ্গি সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে থাকে।

অনুসন্ধানী সাংবাদিক টারা ম্যাকেলভি গত বছর এসওকমের দলিলাদি, পেন্টাগনের প্রকাশ্য সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যাদি এবং স্পেশাল অপারেশনস বাহিনীর বিভিন্ন অভিযান সম্পর্কিত উপাত্তসমূহ বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে এলিট বাহিনীগুলো বেলিজ, ব্রাজিল, বুলগেরিয়া, বুরকিনা ফাসো, জার্মানি, ইন্দোনেশিয়া, মালি, নরওয়ে, পানামা এবং পোল্যান্ডে যৌথ প্রশিক্ষণ কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া যতদূর জানা যায়, ২০১১ সালেও তারা ডমিনিকান রিপাবলিক, জর্ডান, রুমানিয়া, সেনেগাল, দক্ষিণ কোরিয়া এবং থাইল্যান্ডে একই ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। আর আসল বাস্তবতা হচ্ছে মি. নাই আমাকে জানিয়েছেন, বিশ্বের যে দেশেই স্পেশাল অপারেশনস বাহিনী মোতায়েন করা আছে সেখানেই তারা প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু রেখেছে। তিনি বলেছেন, চলতি বছরের শেষ নাগাদ তারা বিশ্বের ১২০টি দেশ সফর করবেন এবং এসব দেশের অধিকাংশ জায়গায়ই প্রশিক্ষণের নামে বিভিন্ন ধরনের সামরিক কর্মকান্ড চলছে। তবে এগুলোকে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি হিসেবেই অভিহিত করা হয়ে থাকে।

পেন্টাগনে ক্ষমতাবান এলিটরা : সামরিক বাহিনীর এক সময়কার অবহেলিত সৎ সন্তান স্পেশাল অপারেশনস বাহিনীসমূহ এখন গুরুত্বপূর্ণ বাহিনী অর্থাৎ জ্যেষ্ঠ সন্তান হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। আর এ গুরুত্ব কেবল আকার আকৃতি আর বাজেট বরাদ্দের দিক থেকেই নয়, তারা ক্ষমতা এবং প্রভাব-প্রতিপত্তির বিবেচনায়ও এখন অতিমাত্রায় তাৎপর্য বহন করছে। ২০০২ সাল থেকেই এসওকমকে জয়েন্ট স্পেশাল অপারেশনস টাস্কফোর্স ফিলিপিনসের মতো যৌথ বাহিনী গঠন করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এটি হচ্ছে সেন্টকমের মতো যুদ্ধবাজ সংগঠনগুলোকে দেওয়া এক ধরনের বাড়তি অধিকার। এসওকম চলতি বছরেও তেমন ঢাকঢোল না পিটিয়েই নিজস্ব একটি জয়েন্ট একুইজিশন টাস্কফোর্স গঠন করেছে। এ বাহিনীর সদস্যরা সামরিক সরঞ্জামাদি স্থাপন ও সংগ্রহে খুবই পারদর্শী।

নিজস্ব বাহিনীর বাজেট বরাদ্দকরণ, প্রশিক্ষণ, সরঞ্জামাদি সংগ্রহকরণ ও বিভিন্ন বিভাগের (যেমন সেনা ও নৌ বিভাগ) সংরক্ষিত ও ক্ষমতার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং বিভিন্ন প্রতিরক্ষা বিভাগের বাজেটে অর্থ প্রদান ও কংগ্রেসে নিজের পক্ষে প্রভাবশালী সদস্যদের টানতে পারার মাধ্যমে এসওকম বর্তমানে পেন্টাগনের ভেতর ব্যতিক্রমধর্মী ও স্বয়ংসম্পূর্ণ এক শক্তিতে পরিণত হয়েছে।

নিজস্ব শক্তিতেই সে এখন আমলাতান্ত্রিক বাধা অতিক্রম করতে পারে, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ক্রয় করতে পারে এবং ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে মানুষের মাথায় রশ্মিবাহিত সংবাদ সরবরাহের মতো বিষয় নিয়ে গবেষণা চালাতে পারে। কিংবা ভূমিতে তৎপর সৈনিকদের জন্য গোপন ছদ্মাবরণ তৈরির প্রযুক্তিও আবিষ্কার করতে পারে। ২০০১ সালের পর থেকেই এসওকম ছোট ছোট কিছু প্রতিষ্ঠানকে বিশেষায়িত যন্ত্রপাতি ও অস্ত্র নির্মাণের সুযোগ দিয়ে আসছিল। বর্তমানে এসব প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ক্ষমতা আগের চেয়ে ছয় গুণ বেড়ে গেছে।

স্পেশাল অপারেশনস কমান্ডের সদর দফতরটি ফ্লোরিডার ম্যাকডিল এয়ারফোর্স বেইজে অবস্থিত হলেও হাওয়াই, জার্মানি, এবং দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিশ্বের অনেক জায়গায়ই এর কমান্ড ঘাটি স্থাপন করা হয়েছে। আর বিশ্বের অধিকাংশ দেশে নিজের কর্মকান্ডের বিস্তার ঘটিয়ে প্রতিষ্ঠানটি এখন এক সর্বেসর্বা বাহিনীতে পরিণত হয়েছে।

এসওকমের বিদায়ী প্রধান হিসেবে চলতি বছরের গোড়ার দিকে ওলসন বলেছিলেন, এসওকম স্থল, বিমান ও নৌবাহিনীর সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে। সারাবিশ্বেই তার উপস্থিতি বর্তমান। তার কর্তৃত্ব এবং দায়-দায়িত্বের মধ্যে সামরিক বিভাগ, সামরিক বাহিনী এবং প্রতিরক্ষা সংস্থাসমূহের কর্মকান্ডেরও প্রতিফলন লক্ষ্য করা যায়। সব মিলিয়ে এটি এখন প্রতিরক্ষা বিভাগের এক অনুসংস্করণে পরিণত হয়েছে।

বিশ্বব্যাপী পরিচালিত পেন্টাগনের সন্ত্রাসবিরোধী সব কর্মকান্ড সমন্বয়ের দায়িত্ব এখন এই এসওকমের। এর ফলে বাহিনীটির সঙ্গে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা, বিদেশে মোতায়েন সামরিক বাহিনীসমূহ এবং গোয়েন্দা বিভাগসমূহের একটি ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ স্থাপিত হয়ে গেছে। তার নিজের রয়েছে গোপন হেলিকপ্টার বাহিনী, বিমান বহর, বিপুল অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত ড্রোন বিমান, অত্যাধুনিক কামান সজ্জিত স্পিডবোট, বিশেষায়িত হামভি এবং পুঁতে রাখা মাইন নিরোধক যান বহর বা এমআরএপি। এছাড়াও অন্যান্য প্রচলিত অত্যাধুনিক সমরাস্ত্রও রয়েছে এই বাহিনীটির। সব মিলিয়ে এসওকম নতুন ধরনের এক সামরিক সংগঠন হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে।

প্রয়াত সামরিক বিশেষজ্ঞ চ্যালমার্স জনসন সিআইএকে এক সময় ‘প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত বাহিনী’ হিসেবে অভিহিত করলেও সে কাজটি বর্তমানে এসওকমের অধীন জেএসওসি করে থাকে। এই বাহিনীটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহীর ব্যক্তিগত বাহিনী হিসেবে হত্যাকান্ডের ঘটনাসমূহ ঘটিয়ে থাকে। আর এরই জন্মদাতা এসওকম হচ্ছে পেন্টাগনের নতুন পাওয়ার এলিট। এটি হচ্ছে সামরিক বাহিনীর ভেতরেই জন্ম নেওয়া গোপন আরেক সামরিক বাহিনী। এর ক্ষমতার হাত যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরসহ বিশ্বের সর্বত্রই প্রসারিত। বিশ্বের ১২০টি দেশে স্পেশাল অপারেশনস কমান্ডের সৈন্যরা তাদের গোপন অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। এসবের মধ্যে রয়েছে বিখ্যাত ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের হত্যা, অন্যান্য ছোটখাট প্রয়োজনীয় হত্যাকান্ড পরিচালনা, পাকড়াও, অপহরণ অভিযান, গভীর রাতে দরজা ভেঙে মানুষের ঘরবাড়িতে তল্লাশি চালানো, বিভিন্ন দেশের স্থানীয় সৈন্যদের সঙ্গে মিলে যৌথ অভিযান পরিচালনা এবং মার্কিন জনগণের কাছে অপরিচিত ও অদৃশ্য শত্রুসমূহ নিধনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে স্থানীয় সহযোগী সৈন্যদের প্রশিক্ষণ দান। এক সময় ছোট, দুর্বল, বহিরাগত অযোগ্য হিসেবে বিশেষভাবে পরিচিত বাহিনীটি এখন তার ক্ষমতা, অধিকার, প্রভাব এবং ঔজ্জ্বলের কারণে ভিন্ন ধরনের গুরুত্বের অধিকারী হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষভাবে পরিকল্পিত প্রচারণার কারণে বাহিনীটির এ ঔজ্জ্বল্য এখন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে এবং বহির্বিশ্বে তার এক অতিমানবীয় ভাবমূর্তি তৈরি করেছে। যদিও তাদের অধিকাংশ কর্মকান্ডই চলছে গোপনে এবং ক্রমশ বিস্তারশীল এক পর্দার আড়ালে। বাহিনীটি তাদের প্রচারণার অংশ হিসেবে এডমিরাল ওলসনের একটি প্রথাগত বক্তব্যকে বেছে নিয়েছে। ওলসন বলেছেন, আমি নিশ্চিত যে, এই বাহিনীটি সাংস্কৃতিক দিক থেকে বেশ সমন্বিত, তারা দক্ষ হন্তারক, দ্রুত সাড়াদানকারী, ক্ষিপ্রগতিসম্পন্ন, সৃজনশীল এবং দক্ষ ও কার্যকর উপদেষ্টা, প্রশিক্ষক আর সমস্যা সমাধানকারী হিসেবেও এদের জুড়ি নেই। তাছাড়া এরা সাহসী বীর। জাতি এদের নিয়ে গর্ব করতে পারে।

আসপেন ইন্সটিটিউটস সিকিউরিটি ফোরামে দেওয়া সাম্প্রতিক এক বক্তব্যেও ওলসন একই ধরনের কথার ফুলঝুরি ছুটিয়ে বেশ কিছু ভুল তথ্য পরিবেশন করেছেন। তিনি সেখানে দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল অপারেশনস বাহিনী বিশ্বের মাত্র ৬৫টি দেশে অবস্থান করছে এবং এর মধ্যে মাত্র দুটি দেশে তারা যুদ্ধরত রয়েছে। পাকিস্তানে ড্রোন হামলা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি নাকি বলেছিলেন,‘ আপনারা কি বিস্ফোরণ সংক্রান্ত ভিত্তিহীন সেই খবরের কথা বলছেন?’

যাই হোক, তিনি আবারো তার বক্তব্যে ফিরে আসেন এবং বলেন যে, রাতের অন্ধকারে হেলিকপ্টারের সাহায্যে কমান্ডোরা ওসামা বিন লাদেনের ওপর যেভাবে হামলা চালিয়েছিল সে ধরনের অভিযান এখন অহরহই পরিচালিত হচ্ছে। তিনি জানান, এ জাতীয় হামলার ঘটনা প্রতি রাতে এমন অন্তত ডজনখানেক কিংবা তার চেয়েও বেশি ঘটছে। তবে এসওকমের আকার সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে তিনি যে তথ্য দিয়েছিলেন তার বক্তব্যের মধ্যে সম্ভবত সেটিই ছিল সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ। তিনি বেশ জোর দিয়েই জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল অপারেশনস ফোর্সের আকারটি মোটামুটিভাবে কানাডার নিয়মিত সামরিক বাহিনীর সমান। আসলে পৃথিবীর যেসব দেশে যুক্তরাষ্ট্রের এ স্পেশাল অপারেশনস বাহিনী সারা বছর ধরে মোতায়েন থাকে সেসব দেশের অনেকগুলো নিয়মিত সামরিক বাহিনীর চাইতেই আকারে এটি বড় এবং দিন দিন এই আকার আরো স্ফীত হতে থাকবে।

মার্কিন জনগণ এখনো তাদের এমন বিশাল আকারের, অতিতৎপর ও গোপন একটি বিশেষ বাহিনীর প্রয়োজন আছে কিনা সে প্রশ্ন করতে শুরু করেনি এবং এ সম্পর্কিত আরো বেশি তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত তেমনটা শুরু করবে বলেও মনে হয় না। তবে ওলসন কিংবা তার সৈন্যদের কাছ থেকেও এসব তথ্য পাওয়া যাবে না। এসওকমের গোপনীয়তা সম্পর্কে তার কাছে জানতে চাওয়া হলে ওলসন বলেন, ‘নিজেদের সম্পর্কে সবচেয়ে কম বলতে পারাটাই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আমাদের প্রবেশ করতে পারার পক্ষে সহায়ক।’ তিনি বলেন, ‘বিন লাদেন হত্যা অভিযানের মতো অভিযানগুলো নিয়ে যাচাই-বাছাইয়ের প্রশ্ন উত্থাপিত হলে আমাদের এই এলিট বাহিনী তাতে বাধা দিয়ে থাকে। আর সামরিক বাহিনীর ভেতরকার গোপনীয় এ সামরিক বাহিনীটি তার প্রয়োজনীয় কাজটি সারা হয়ে গেলে নিজেই আবারো পর্দার অন্তরালে চলে যেতে পছন্দ করে।
[সাপ্তাহিক বুধবার থেকে]

Advertisements

তথ্য কণিকা Jahan Hassan জাহান হাসান
Ekush, Publisher/Editor/ Hollywood media hyphenate/ একুশ নিউজ মিডিয়া, লিটল বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস / 1 818 266 7539 / FB: JahanHassan

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s