জেলহত্যা দিবস Jail Killing Day in Bangladesh, Nov 3, 1975- prediction of bongabandhu killing

Video Playlist: EkushTube’s Special Presentation with Tajuddin Ahmed’s Daughter Shermin Ahmed Ripi, An eyewitness remembrance

জেলহত্যা দিবস

দৈনিক ইত্তেফাক / সম্পাদকীয় : ০৩/১১/২০১১
বৃহস্পতি, ৩ নভেম্বর ২০১১, ১৯ কার্তিক ১৪১৮


আজ জেলহত্যা দিবস। ১৯৭৫ সালের এই দিনে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের অভ্যন্তরে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে তাহার পক্ষে সফল নেতৃত্বদানকারী চার জাতীয় নেতাকে। সপরিবারে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার মাত্র ৭৯ দিনের ব্যবধানে, স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসের কলঙ্কময় অধ্যায়ে যুক্ত হইয়াছিল আরো একটি শোকাবহ দিন। দিনটি শুধু গভীর শোকের নয়, স্বাধীন একটি জাতির জন্য গ্লানিকর। কেননা জেলখানার ভিতরে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে প্রবাসী সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ, অর্থমন্ত্রী এম মনসুর আলী এবং স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী এএইচএম কামরুজ্জামান বর্বর হত্যাযজ্ঞের শিকার হন। এমন নৃশংস ঘৃণ্য ঘটনার নজির সভ্য দুনিয়ায় খুঁজিয়া পাওয়া দুষ্কর।



আধুনিক রাষ্ট্রে কারাগারকে নিরাপদ স্থান হিসাবে বিবেচনা করা হয়। কারণ কারাবন্দীদের হেফাজতের দায়িত্ব কারা কর্তৃপক্ষের। কিন্তু, দুর্ভাগ্যজনকভাবে তখনকার কর্তৃপক্ষ সেই দায়িত্ব পালনে ক্ষমার অযোগ্য ব্যর্থতার পরিচয় দেন। লেলিহান ক্ষমতালিপ্সা দেশপ্রেমিক চার নেতার প্রাণ সংহার করিয়া জাতীয় জীবনে অঙ্কিত করিয়াছে আরো একটি কলঙ্কতিলক।


জেলে নিহত চার নেতা বঙ্গবন্ধুর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের বিশ্বস্ত ও পরীক্ষিত সঙ্গী হিসাবে স্বাধীনতার আন্দোলন-সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখিয়াছেন। সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের পুনর্গঠনেও তাহাদের অবদান ছিল অপরিসীম। সময়ের অগ্নিপরীক্ষায় উত্তীর্ণ এই পর্যায়ের নেতা কোনো সমাজেই সুলভ নহে। বস্তুত জাতীয় চার নেতার এই হত্যাকাণ্ডকে বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ড হইতে বিচ্ছিন্ন করিয়া দেখার উপায় নাই। দুইটি ঘটনাই একই নীলনকশার অংশমাত্র। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ শুধু নয়, সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশকে নেতৃত্বশূন্য করাই ছিল ইহার মূল উদ্দেশ্য। ষাটের ও সত্তরের দশকে সালভেদর আলেন্দে ও প্যাট্রিস লুমুম্বাসহ বিশ্বের বহু জাতীয়তবাদী নেতাকে অনুরূপ ষড়যন্ত্রের শিকার হইতে হইয়াছে। অতএব, বঙ্গবন্ধু ও চার নেতার হত্যার নেপথ্যেও জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কুচক্রীদের ক্ষমতালিপ্সা যে সক্রিয় ছিল তা না বলিলেও চলে। সেই সময়ে বিশ্বাসঘাতকতার সাময়িক পুরস্কারও অর্জন করিয়াছেন কেহ কেহ। বলা বাহুল্য, জাতীয় চার নেতা সেইদিন বিশ্বাসঘাতকতা করিতে সম্মত হন নাই বলিয়াই তাহাদেরকে নির্মম পরিণতি বরণ করিতে হইয়াছে। তাহাদের রাজনীতির একমাত্র লক্ষ্য ছিল দেশ ও জনগণের কল্যাণ। সেই লক্ষ্যেই আত্ম-উৎসর্গ করিয়া তাহারা রাখিয়া গিয়াছেন দেশপ্রেম ও আপোষহীনতার দৃষ্টান্ত।


জেলহত্যা সংঘটিত হইবার দীর্ঘ ৩৬টি বৎসর অতিক্রান্ত হইবার পর আজও বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় নাই। ন্যক্কারজনক এই ঘটনার পরদিনই লালবাগ থানায় মামলা দায়ের করা হইয়াছিল। কিন্তু দীর্ঘ ২১ বৎসর ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করিয়া রুদ্ধ করিয়া রাখা হইয়াছিল বিচারের পথ। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ১৯৯৬ সালে মামলাটি পুনর্জ্জীবিত করা হয় । রায় হয় ২০০৪ সালের ২০ অক্টোবর। প্রদত্ত রায়ে নিম্ন আদালতে তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং অপর ১২ জনকে যাবজ্জীন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেন। বিষয়টি এখন সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারাধীন আছে। ইহা নিশ্চিত যে, ঘৃণ্য ও কাপুরুষোচিত এই হত্যাযজ্ঞের বিচার অবশ্যই একদিন সম্পন্ন হইবে। ঘাতকেরা তাহাদের কৃতকর্মের যথোচিত শাস্তিও পাইবে। গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের জন্য ইহা অত্যন্ত জরুরিও বটে। জেলহত্যা দিবসে জাতীয় চার নেতার অবদানের কথা স্মরণ করিয়া তাহাদের স্মৃতির প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা।


More Video: www.EkushTube.com

Advancing Life Opportunity : ASEA-Advancing Life

Visit us on FaceBook

একুশ নিউজ মিডিয়া এখন ফেস বুক এ Video News: www.EkushTube.com

Advertisements

তথ্য কণিকা Jahan Hassan জাহান হাসান
Ekush, Publisher/Editor/ Hollywood media hyphenate/ একুশ নিউজ মিডিয়া, লিটল বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস / 1 818 266 7539 / FB: JahanHassan

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: