Hitler’s private library: Rabindranath Tagore

হিটলারের লাইব্রেরিতে আমাদের রবীন্দ্রনাথ
দৈনিক নয়াদিগন্ত / প্রিয়জন : ২০/১০/২০১১
ভিন্ন দৃষ্টি
ইমাম মেহেদী

সমকালের চোখে অখণ্ড বাংলা ও বাঙালির শিরোমণি হয়ে আজ ও স্বাধীন বাংলাদেশসহ বিশ্ব ভাণ্ডারে যিনি কিংবদন্তির আসন গ্রহণ করে আছেন, তিনি হলেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। স্বাধীন বাংলার বীজ হয়তো বা রোপণ-বপন কিছুই হয়নি ঠিক তখনই বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও বাঙালি জাতির অগ্রিম স্বাধীনতার আলোকবর্তিকা হাতে নিয়ে এসেছিলেন রবিঠাকুর গীতাঞ্জলীর মাধ্যমে। গীতাঞ্জলী কাব্যে কবি নোবেল পেয়েছেন বলেই যে গীতাঞ্জলী তার একমাত্র মূল্যবান লেখা এ কথা ঠিক নয়, রবীন্দ্রনাথের গীতাঞ্জলী ছাড়াও অন্যান্য বইও বিশ্ববরেণ্য ব্যক্তির মনকে জয় করেছে।

জার্মানির বর্ণবাদী চিন্তার অধিকারী ছিলেন অ্যাডলফ হিটলার। তার জার্মানি বলতে যা বোঝায় তা হলো স্বৈরতান্ত্রিক এক দেশ। হিটলার ছিলেন একজন ক্ষুধার্ত পাঠকপ্রেমিক। তার জীবনে আনুষ্ঠানিক শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ খুব একটা না হয়ে উঠলেও পাঠাভ্যাসের দিক থেকে তিনি অনেক অগ্রসর হয়েছিলেন, তার প্রমাণস্বরূপ দেখা যায় জার্মান গবেষক ব্রিজিট হামানের লেখা বই (হিটলার ইন ভিয়েনায়-ইংরেজি অনুবাদ ১৯৯৯)। হিটলারের জীবনের ধ্যান-ধারণা ও চিন্তার মধ্যে বই পাঠ করা ছিল অন্যতম একটি প্রধান কাজ। হিটলারের জীবনকে সম্পূর্ণরূপে জানতে হলে তার ব্যক্তিগত বইপত্রের দিকে চোখ রাখা উচিত।

হিটলারের পাঠাভ্যাস নিয়ে জার্মানির বাইরে প্রথম বই প্রকাশিত হয় ১৯৪২ সালে। দিস ইজ দি এনিমি মার্কিন সাংবাদিক ফ্রেডরিক ওয়েশনার। ওয়েশনার তার বইয়ের মাধ্যমে জানাচ্ছেন তৎকালীন বিভিন্ন বিষয় লেখা মূল্যবান বই সংগ্রহ করতেন ও পড়তেন হিটলার। হিটলার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর তার লাইব্রেরিকে দু’টি ভাগে বিভক্ত করেছিলেন। একটি অংশ ছিল বার্লিনের সরকারি বাসভবনে, অন্যটি তিনি রেখেছিলেন বের্গকের পাহাড়ি এলাকায় নিজের অবসরকালীন নিবাসে। তথ্য ও গবেষণা অনুযায়ী হিটলারের লাইব্রেরিতে মোট বইয়ের সংখ্যা ছিল প্রায় ১৬ হাজার বা তারও বেশি। এসব বইয়ের মধ্যে তৎকালীন সাময়িক ইতিহাসের বই-ই ছিল বেশি। টিমোথি ডব্লিউ রাইবাকের লেখা বই হিটলারস প্রাইভেট লাইব্রেরি- দ্য বুকস দ্যাট শেপড ইজ লাইফ- এ অনেকটাই রহস্যময়ভাবে উপসি’তি মিলেছে আমাদের কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাম।

বার্লিনে হিটলারের লাইব্রেরিতে হাজার দশেক বইয়ের সংগ্রহ ছিল, যা ১৯৪৫ সালে এর সবগুলোই চলে যায় সোভিয়েত কর্তৃপক্ষের দখলে। অন্য দিকে মার্কিন সেনারা বের্গকের ধ্বংসাত্মক যুদ্ধক্ষেত্র থেকে হিটলারের ফেলে রাখা যেসব বই একত্রে সংরক্ষণ করেছিল এর মধ্যে বেশ কিছু বই-ই যুক্তরাষ্ট্রে চলে যায়। এর মধ্যে প্রায় তিন হাজার বই নিরাপত্তার জন্য হিটলার যুদ্ধের শেষ দিকে বের্গকের কাছাকাছি এক লবণখনিতে বাক্সের মধ্যে রাখতে চেয়েছিলেন। যুদ্ধের পর বইগুলো যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তর করা হয়।

কংগ্রেসের লাইব্রেরিতে ১২০০ বইয়ের মধ্যে অন্যতম একটি বই হচ্ছে- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জার্মানি ভাষায় প্রকাশিত জাতীয়তাবাদ। আমরা কম-বেশি অনেকেই জানি, জাতীয়তাবাদ সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন, তা হিটলারের এককেন্দ্রিকতা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। তা ছাড়াও রবীন্দ্রনাথ তখন ছিলেন নাৎসিদের কালো তালিকাভুক্ত কবি। তার পরেও হিটলারের পছন্দের বইয়ের মধ্যে রবীন্দ্রনাথের লেখা বই কিভাবে ঠাঁই পেল! যতদূর জানা যায় রবীন্দ্রনাথের লেখা এই বইটি হিটলার তার জন্মদিনের উপহার হিসেবে পেয়েছিলেন তার এক শুভাকাঙ্ক্ষী মহিলার কাছ থেকে।

হিটলারের ৩২তম জন্মদিনে তার এক মহিলা ভক্ত রবীন্দ্রনাথের জাতীয়তাবাদ বইটি উপহার দিয়েছিলেন। হিটলার তখনো ক্ষমতাসীন হননি। তবে ভদ্র মহিলার নাম সম্পর্কে তেমন কোনো তথ্য মেলেনি এবং মহিলার সাথে হিটলারের কী সম্পর্ক ছিল সে বিষয়ে তেমন কিছু জানা যায়নি, তবে ধারণা করা যেতে পারে মহিলার সাথে হিটলারের সম্পর্কে র স্মৃতিকে ধরে রাখার জন্যই হিটলারের পছন্দের বইয়ের মধ্যে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বইটি স্থান পেয়েছিল।

Visit us on FaceBook

একুশ নিউজ মিডিয়া এখন ফেস বুক এ More Video: WWW.EkushTube.comTime (Machine) in a Bottle: ASea – Advancing Life

Advertisements

তথ্য কণিকা Jahan Hassan জাহান হাসান
Ekush, Publisher/Editor/ Hollywood media hyphenate/ একুশ নিউজ মিডিয়া, লিটল বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস / 1 818 266 7539 / FB: JahanHassan

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: