ওয়াল স্ট্রিট দখলকারীদের সাহসী ভুবন


ওয়াল স্ট্রিট দখলকারীদের সাহসী ভুবন
Wall Street protesters urge students to boycott loan payments


অ্যামি গুডম্যান • মঙ্গলবার রাত ১টার পর আমাদের কাছে খবর এলো, নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ অকুপাই ওয়াল স্ট্রিট আন্দোলনকারীদের ক্যাম্পে হামলা চালিয়েছে। আমি ‘ডেমোক্রেসিনাউ’ টিমের সংবাদকর্মীদের সঙ্গে জুকুটি পার্কের দিকে দৌড়ালাম। এই পার্কটির নতুন নামকরণ হয়েছে লিবার্টি স্কয়ার বা স্বাধীনতা চত্বর। গিয়ে দেখি কয়েকশ’ দাঙ্গা পুলিশ ইতোমধ্যেই এলাকাটি ঘিরে ফেলেছে। দেখলাম, পুলিশ একদিকে তাঁবুগুলো ছিঁড়ে ফেলছে আর সিটি পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা আন্দোলনকারীদের জিনিসপত্রগুলো ময়লার ট্রাকে ছুড়ে মারছে। পুলিশ বেষ্টনির বাইরে পার্কের কেন্দ্রস্থলে ২০০ থেকে ৩০০ আন্দোলনকারীকে হাত বাঁধা অবস্থায় বসে থাকতে দেখলাম। কিছুতেই তারা দুই মাস ধরে দখল করে বসে থাকা জায়গাগুলো ছেড়ে যাবে না। তাদের সবাইকে এক এক করে হাতকড়া পরিয়ে গ্রেফতার করা হয়েছে। আমরা যে ক’জন সংবাদকর্মী পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে ঘটনাস্থলের কাছাকাছি পৌঁছতে পারলাম তাদের জুকুটি পার্ক সংলগ্ন রাস্তাগুলোর ওপর দাঁড়াতে দেওয়া হলো। তবে আমরা আমাদের ক্যামেরাগুলো চালু করার সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের সামনে দুটি পুলিশ বাস এনে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হলো যাতে আমরা ভেতরকার ছবি তুলতে না পারি। আমি আর আমার কয়েকজন সহকর্মী বাস দুটির ফাঁক গলিয়ে এবং ছেঁড়া তাঁবু আর স্লিপিং ব্যাগের স্তূপ পেরিয়ে পার্কের ভেতর ঢুকে পড়লাম। পুলিশ এতবড় একটা ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র মিডিয়ার কাছ থেকে প্রায় আড়ালই করে ফেলছিল।

একটি ধ্বংসস্তূপের মধ্যে বইয়ের একটি ভাঙা তাক আমার চোখে পড়ল। পার্কের বেশ কিছুটা ভেতরে গিয়ে দেখতে পেলাম একটি বই পড়ে আছে। বইটির গায়ে ‘ওডব্লিউএসএল’ চিহ্ন সাঁটা ছিল যার মানে হচ্ছে বইটি অকুপাই ওয়াল স্ট্রিট লাইব্রেরির। এটি এখন পিপলস লাইব্রেরি হিসেবেও পরিচিত। চলমান গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ফসল এই লাইব্রেরিটি। সর্বশেষ তথ্য মতে, বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দান করা ৫ হাজার বইয়ের একটি সংগ্রহ রয়েছে এটির। ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকা গণতন্ত্রের ধ্বংসাবশেষের মাঝখানে যে বইটি আমার দৃষ্টিগোচর হলো সেটি পড়েছিল একটি আবর্জনার স্তূপের ওপর। বইটির নাম ‘ব্রেইভ নিউ ওয়ার্ল্ড রিভিজিটেড’। লেখক এলডাস হাকসলি।

রাত গভীর হতে থাকলে হাকসলির বইটি চোখে পড়ার মাহাত্ম্য স্পষ্ট লাগল। তার বিখ্যাত উপন্যাস ব্রেইভ নিউ ওয়ার্ল্ড লেখার ৩০ বছর পর ১৯৫৮ সালে হাকসলি এই বইটি লেখেন। মূল বইটিতে তিনি ভবিষ্যৎ পৃথিবীর মানুষকে হ্যাভস এবং হ্যাভনটস এই দুই ভাগে বিভক্ত করেছিলেন। তার বর্ণিত দ্য ব্রেইভ নিউ ওয়ার্ল্ডের মানুষ আনন্দ, উন্মাদনা, বিজ্ঞাপন আর নেশা জাগানিয়া দ্রব্যাদির সাহচার্যে গা ভাসাবে। যাকে বলে প্রকৃত অর্থেই একটি ভোগবাদী জীবন। এই সমাজের নিচের স্তরের মানুষ ওপরের স্তরের অভিজাত কিছু মানুষকে সব ধরনের সেবা যুগিয়ে যাবে। তবে হাকসলির ব্রেইভ নিউ ওয়ার্ল্ড রিভিজিটেড বইটি কিন্তু উপন্যাসধর্মী রচনা নয়। এটিতে তিনি আধুনিক সমাজের একটি বিবর্ণ ভবিষ্যতের চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। এই বইটির এখানে একটি প্রাসঙ্গিকতা রয়েছে। কারণ আমরা দেখেছি যে, বাণিজ্য এবং বিশ্বায়নের আধিপত্যকে বিরোধিতা করে গড়ে ওঠা আন্দোলনকে ধ্বংসের চেষ্টা চলছে। আন্দোলনকারীদের ক্যাম্প ভেঙে দেওয়া হয়েছে।

হাকসলি তার বইতে লিখেছেন ‘প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে এবং ছোট ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দিয়ে গড়ে ওঠা বড় বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো রাষ্ট্র কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। আর রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রক বলতে বোঝায় পার্টির মুষ্টিমেয় নেতৃত্বের নিয়ন্ত্রণই। সামরিক বাহিনী, পুলিশ এবং বেসামরিক আমলারা ওই মুষ্টিমেয় নেতৃত্বের আজ্ঞাবাহী হয়ে কাজ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের মতো পুঁজিবাদী একটি গণতন্ত্রে এই নিয়ন্ত্রণটি রয়েছে অধ্যাপক সি রাইট মিলসের ভাষায় পাওয়ার এলিটদের হাতে। হাকসলি বলছেন, এই পাওয়ার এলিট বা ক্ষমতাবান গোষ্ঠীটি দেশের লাখ লাখ মানুষকে তাদের কারখানা, অফিস এবং স্টোরগুলোতে কর্মে নিয়োজিত করে। অন্যদিকে নিজেদের উৎপাদিত পণ্যসামগ্রী কেনার জন্য এই পাওয়ার এলিটরা আবার লাখ লাখ মানুষকে টাকা ধার দেয় এবং এর মাধ্যমে তাদের ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে।

তাছাড়া নিজেদের মালিকানাধীন গণমাধ্যমগুলোকে ব্যবহার করে প্রতিটি মানুষের চিন্তাভাবনা, আবেগ-অনুভূতি এবং কর্মকান্ডকেও তারা বিপুল পরিমাণে প্রভাবিত করে থাকে। জুকুটি পার্কে পুলিশি হামলা চলার সময় পিপলস লাইব্রেরির কর্মী স্টিফেন বয়ার সেখানে উপস্থিত ছিলেন। গ্রেফতার এড়িয়ে এবং আক্রান্তদের জন্য প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করার পর তিনি বলছেন, পার্কে আমরা যেসব জিনিস জড়ো করেছিলাম তার সবই নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। এত সুন্দর একটি লাইব্রেরিও ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে। লাইব্রেরির সংগ্রহে থাকা ৫ হাজার বইও হারিয়ে গেছে। অনুদান হিসেবে পাওয়া আমাদের তাঁবুগুলোও ছিঁড়ে তছনছ করে দেওয়া হয়েছে। আন্দোলনের ভেতর দিয়ে গড়ে ওঠা আমাদের সব অর্জন এরা নস্যাৎ করে দিয়েছে।

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র মিচেল ব্লুমবার্গের অফিস থেকে পরে অবশ্য উপরে কিছু বই সাজিয়ে রাখা একটি টেবিলের ছবি প্রচার করা হয়েছে এবং দাবি করা হয়েছে যে, লাইব্রেরির বইগুলো সংরক্ষিত আছে। তবে পিপলস লাইব্রেরির টুইটারে বলা হয়েছে, কিছু বই অক্ষত আছে দেখে আমরা স্বস্তি বোধ করছি। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে আমাদের অন্য বইগুলো কোথায়, আমাদের আচ্ছাদন আর বাক্সগুলোই বা কোথায়? প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, লাইব্রেরিকে এই আচ্ছাদনগুলো উপহার দিয়েছিলেন ন্যাশনাল বুক অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী বিখ্যাত রক অ্যান্ড রোল শিল্পী প্যাটি স্মিথ।

দখল অবস্থান নেওয়া আরো কিছু স্থানেও ইতোমধ্যেই হামলা চালানো হয়েছে। ওকল্যান্ডের মেয়র জ্যা কুয়ান বিবিসির কাছে স্বীকার করেছেন, পরিস্থিতি নিয়ে তিনি ১৮টি নগরীর কর্তৃপক্ষেও সঙ্গে কথা বলেছেন। অন্য আরেকটি খবরে জানা গেছে, এফবিআই এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটিও পরিস্থিতি সম্পর্কে নগরীগুলোর কর্তৃপক্ষকে পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে। মঙ্গলবার নিউইয়র্ক স্টেট আদালতের একজন বিচারক এই মর্মে রায় দিয়েছেন, আন্দোলনকারীদের উৎখাত করার বিষয়টি বহালই থাকবে এবং তারা আর তাঁবু ও স্লিপিং ব্যাগ নিয়ে জুকুটি পার্কে ফিরে যেতে পারবে না। এই রায় জারির পর সংবিধান বিশেষজ্ঞ একজন আইনজীবী আমাকে এই মর্মে একটি বার্তা পাঠিয়েছেন, ‘মনে রাখবেন আন্দোলন কিন্তু এখন রাজপথে অবস্থান নিয়েছে। আদালতকে সব সময়ই শেষ সম্বল হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে।’ কিংবা প্যাট্টি স্মিথের বিখ্যাত সেই গান ‘জনগণই সর্বশক্তিমান’।

কমন ড্রিমস থেকে ভাষান্তর

আদর্শকে নিশ্চিহ্ন করা যায় না •

দুই মাস আগের ঘটনা। মাত্র ২০০ জন মানুষ আমরা তাঁবু গেড়ে বসলাম ওয়াল স্ট্রিটের দোরগোড়ায়। সেই থেকেই অকুপাই ওয়াল স্ট্রিট একটি জাতীয় এবং এমনকি আন্তর্জাতিক প্রতীকে পরিণত হয়েছে। একই কায়দায় সারা আমেরিকায় এবং বিশ্বজুড়েই বিভিন্ন শহর এবং নগরে দখল করে নেওয়ার ঘটনা ঘটে চলেছে। এখন এতে হাজার হাজার মানুষ অংশ নিচ্ছে। ক্রমশ বাড়তে থাকা গণআন্দোলন আমাদের জাতীয় অর্থনীতি, আমাদের গণতন্ত্র এবং আমাদের ভবিষ্যতের চেহারাটাই তাৎপর্যপূর্ণভাবে পাল্টে দিতে শুরু করেছে।

এই গণআন্দোলনকে প্রতিহত করতে পুলিশি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। তবে আমরা কিন্তু এতটুকুও দমে যাইনি। আমাদের শক্তি এখন তুঙ্গে। আমাদের মনোবল অনমনীয়। ক্রমেই বাড়তে থাকা এই আন্দোলন কেবল একটি প্রতিবাদ মাত্র নয়, তার চেয়েও বড় কিছু। এটি দখল করে নেওয়ার চেয়েও বেশি কিছু এবং এটিকে কেবল একটি কৌশল হিসেবে দেখলেই চলবে না। শারীরিকভাবে যারা দখল কার্যে অংশ নিতে পেরেছেন এই আন্দোলনে ‘আমরা’ শব্দটি দিয়ে তাদের চেয়ে আরো বড় একটি পরিসরকে বোঝানো হয়েছে। এই আন্দোলনে যারা সহযোগিতা প্রদান করেছেন, যারা আন্দোলনের অন্তর্নিহিত বিষয়গুলো নিয়ে বন্ধু-বান্ধব এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছেন কিংবা যারা কোনো না কোনোভাবে নাগরিক সমাজের এই কর্মকান্ডে যুক্ত হয়েছেন তারা সবাই এই আন্দোলনের অংশ।

আমাদের জীবন বিপন্নকারী সংকটের মুহূর্তে আমরা যেমন সবাই একত্রে মিলে আমেরিকার অন্তর্নিহিত শক্তিকে আবিষ্কার করে সেই সংকট মোকাবিলা করি এবারের এ আন্দোলনও তারচেয়ে কম কিছু নয়। এমন একটি আন্দোলনকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া যায় না। কিছু রাজনীতিক আমাদের হয়তো শারীরিকভাবে আমাদের অবস্থান থেকে সরিয়ে নিতে পারেন, গণজমায়েত ভেঙে দিতে পারেন। বলপ্রয়োগের এই প্রচেষ্টায় তারা হয়তো সফলও হবেন। কিন্তু মনে রাখতে হবে, আমরা এখন একটি আদর্শিক লড়াইয়ে অবতীর্ণ। আমাদের ভাবনার জায়গাটি অনেক বেশি শক্তিশালী। আমরা চাই, আমাদের রাজনৈতিক ব্যবস্থাটি আমাদের সেবা দেবে। কেবল ধনসম্পদ আর ক্ষমতাবানদের নয়, সেবা দেবে রাষ্ট্রের সব নাগরিককে। আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের এই চিন্তার সঙ্গে সব মানুষই সহমত পোষণ করে। কারণ আমাদের প্রতিনিধি পরিষদ কংগ্রেস ওয়াল স্ট্রিটের ঘটনা দেখেও না দেখার ভান করেছে, তারা ঘরে ঘরে জন্ম নেওয়া অসন্তোষ, প্রতিবেশীর হৃদয়ের আর্তনাদ, অর্থনৈতিক কারণে দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের কষ্টের কাহিনীকে অবজ্ঞা করেছে। আমরা একটি গণতন্ত্রের স্বপ্ন দেখি। অকুপাই ওয়াল স্ট্রিট এবং আমরা ৯৯%-এর আন্দোলনে সেই স্বপ্ন মূর্ত হতে শুরু করেছে।

১০০ মানুষ জেলে বসে আছেন। আজ সকালেই একজন বিচারক রায় দিয়েছেন যে, আমরা আমাদের জিনিসপত্র ফিরে পাওয়ার অধিকার রাখি, অধিকার রাখি আমাদের অবস্থানে ফিরে যাওয়ারও। তবে মেয়র ব্লুমবার্গ ঘোষণা দিয়েছেন, পার্কটি বন্ধই থাকবে। তাতে অবশ্য কিছুই আসে যায় না। আমরা আবারো রাস্তার দখল নেব। আমরা জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত স্থানগুলো দখল করে নেব। সর্বত্র আমরা এ কাজ করব। কারণ আমরা জানি যে, আমাদের চিন্তাকে হত্যা করা যাবে না।

কমন ড্রিমস থেকে ভাষান্তর [সাপ্তাহিক বুধবার থেকে]

স্থায়ী ক্যাম্পাস না গড়া বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে বিপদ!


স্থায়ী ক্যাম্পাস না গড়া বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে বিপদ!


বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের সর্বশেষ অবস্থা জানতে চেয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয় সনদ অর্জনের যোগ্যতা অর্জন করেছে সেই তথ্য জানতে চেয়ে গত রবিবার বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) কাছে চিঠি পাঠায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সংশিস্নষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ করতে না পারা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্যই এ তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০১০-এর ৪৭ ধারা উদ্ধৃত করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়েছে, ১৯৯২ সালের আইনের অধীনে প্রতিষ্ঠিত যেসব বিশ্ববিদ্যালয় এখনো শর্ত পূরণ করে সনদ নিতে পারেনি সেসব বিশ্ববিদ্যালয়কে বিদ্যমান আইনের সংশিস্নষ্ট শর্ত পূরণ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সনদ গ্রহণ করে স্থায়ী হতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যেসব বিশ্ববিদ্যালয় শর্ত পূরণ করে সনদ গ্রহণ করে স্থায়ী হতে পারবে না, সরকার সেসব বিশ্ববিদ্যালয়ের সাময়িক অনুমতি বাতিল করে বন্ধ ঘোষণা করবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ কালের কণ্ঠকে বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়-গুলোর সর্বশেষ অবস্থা জানার জন্যই ইউজিসিকে এই চিঠি পাঠানো হয়েছে। ইউজিসি এ বিষয়ে তথ্য দেওয়ার পর একটি সভা করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হবে।

ইউজিসির সদস্য (বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়) অধ্যাপক আতফুল হাই শিবলী কালের কণ্ঠকে বলেন, মন্ত্রণালয়ের চিঠি পাওয়ার পর স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কী অবস্থান সে বিষয়ে কাজ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত প্রায় ১০টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী ক্যাম্পাসে গিয়ে পাঠদান কার্যক্রম শুরু করেছে।

সংশিস্নষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, স্থায়ী ক্যাম্পাসে কাজ শুরু করা এসব বিশ্ববিদ্যালয়ই সনদ পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে। অন্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিষয়ে কী হবে জানতে চাইলে অধ্যাপক শিবলী বলেন, আমরা (ইউজিসি) তথ্য দেওয়ার পর তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইনের আলোকে সনদ অর্জনে ব্যর্থ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সনদ অর্জনের গ্রহণযোগ্যতা সাপেক্ষে চলতি বছরের ফল সেমিস্টার পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ভর্তি করতে পারবে বলে গত ১৭ জানুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয় আদেশ জারি করে। ওই আদেশের আলোকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সর্বশেষ অগ্রগতি পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য ১৮ অক্টোবর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি সভা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অনিবার্য কারণে সভাটি হয়নি। এ অবস্থায় ফল সেমিস্টার শেষ হওয়ার পথে। ফলে স্থগিত হওয়া সভাটি শিগগিরই অনুষ্ঠিত হবে। আর ওই সভা সামনে রেখেই ইউজিসি থেকে সব তথ্য জানতে চেয়ে চিঠি দিয়েছে মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয় সূত্রে আরো জানা যায়, গত বছরের ডিসেম্বরে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ যে ২২টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাপারে ্তুরেড অ্যালার্ট্থ জারি করেছিলেন সেগুলোর মধ্যে ১৪টি স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণে বিভিন্নভাবে উদ্যোগ নিয়েছে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির সহসভাপতি আবুল কাশেম হায়দার কালের কণ্ঠকে বলেন, স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের জন্য অনেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় জমি খুঁজছে। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিকের সঙ্গে আমার আলাপ হয়েছে। সরকারকে তাঁদের সময় দিতে হবে। কারণ জমি পেলেই তো হবে না, এগুলোর প্রসেস করতে একটু সময় লাগে। তিনি বলেন, যেসব বিশ্ববিদ্যালয় এরই মধ্যে স্থায়ী ক্যাম্পাসে গেছে তারা সময় পেয়েছে ১২ বছর। অন্যদিকে যারা যেতে পারেনি তাদের (বিশ্ববিদ্যালয়) জন্ম হয়েছে মাত্র সাত-আট বছর। কাজেই স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের জন্য সবাইকে একই পরিমাণ সময় দেওয়া উচিত।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের একটি সূত্রে জানা যায়, দেশে ৫৪টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সাতটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য কোনো উদ্যোগই নেয়নি। ৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ভবন রয়েছে; কিন্তু আইনানুযায়ী নির্ধারিত পরিমাণ জমিতে নয়। ১৭টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য জমি কিনেছে; কিন্তু অবকাঠামো নির্মাণ শুরু করেনি। সাতটি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে, যারা স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য জমি কিনে এখন অবকাঠামো নির্মাণ করছে। ৯টি বিশ্ববিদ্যালয় এরই মধ্যে স্থায়ী ক্যাম্পাসে চলে গেছে। তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় আদালতের অনুমতি নিয়ে চালাচ্ছে। একটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন না পাওয়ায় স্থায়ী ক্যাম্পাসের হিসাবে আসেনি।

সূত্র মতে, যেসব বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী ক্যাম্পাসে গেছে সেগুলো হলো নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি চট্টগ্রাম, আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম, আহ্‌ছান উলস্নাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালাচার অ্যান্ড টেকনোলজি, বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি, ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ ও স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় সাভারে স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ করেছে বলে ইউজিসিকে জানিয়েছে। তবে স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কোনো তথ্য ইউজিসিতে পাঠানো হয়নি। সেখানে পুরোপুরিভাবে শিক্ষা কার্যক্রমও শুরু করা হয়নি।

যেসব বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য জমি কিনেছে এবং অবকাঠামো নির্মাণ করছে সেগুলো হলো ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি, গণবিশ্ববিদ্যালয়, সাউথ ইস্ট ইউনিভার্সিটি, সিটি ইউনিভার্সিটি, দি ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি। যেসব বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য জমি কিনেছে কিন্তু অবকাঠামো নির্মাণ শুরু করেনি সেগুলো হলো আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, শান্ত মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি, ইউনিভার্সিটি অব সাউথ এশিয়া, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অলটারনেটিভ, লিডিং ইউনিভার্সিটি সিলেট, ইউনিভার্সিটি অব ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড সায়েন্সেস, ইবাইস ইউনিভার্সিটি, মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি সিলেট, গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ, উত্তরা ইউনিভার্সিটি ও নর্দান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ।

যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ভবন আছে কিন্তু আইনানুযায়ী নির্ধারিত পরিমাণ জমিতে নেই সেগুলো হলো পিপলস ইউনিভর্সিটি অব বাংলাদেশ, মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, স্টেট ইউনিভার্সিটি, প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি, ডেফোডিল ইউনিভার্সিটি, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, দ্য মিলেনিয়াম ইউনিভার্সিটি ও সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।

অতীশ দীপংকর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এক বিঘা জমি কিনেছে বলে জানিয়েছে। বিষয়টি ইউজিসি তদন্ত করছে।

এ ছাড়া আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে চালু রয়েছে তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়। এগুলো হচ্ছে আমেরিকা বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি, কুইন্স ইউনিভার্সিটি, সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটি। সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটির শিক্ষা কার্যক্রম চালানোর জন্য আদালতের রায় থাকলেও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমতি মেলেনি।

যেসব বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য উদ্যোগ নেয়নি সেগুলো হলো দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়, প্রাইম ইউনিভার্সিটি, ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি, প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি, প্রাইম এশিয়া ইউনিভার্সিটি, রয়েল ইউনিভার্সিটি অব ঢাকা ও বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।

দৈনিক কালের কণ্ঠ / প্রথম পাতা : ২৯/১১/২০১১
—————————————–
Here is the list of the UGC Approved private university of Bangaldesh:

1. Ahsanullah University of Science and Technology(AUST)
2. American International University – Bangladesh(AIUB)
3. America Bangladesh University
4. ASA University Bangladesh (ASAUB)
5. Asian University of Bangladesh (AUB)
6. Atish Dipankar University of Science & Technology(ADUST)
7. Bangladesh University(BU)
8. Bangladesh University of Business and Technology(BUBT)
9. Begum Gulchemonara Trust University(BGTU)
10. BGC Trust University Bangladesh(BTUB)
11. Brac University(BracU)
12. Central Women’s University
13. City University(CU)
14. Daffodil International University (DIU)
15. Darul Ihsan University
16. Dhaka International University(DIU)
17. East West University (EWU)
18. Eastern University (EU)
19. Gano Bishwabidyalay
20. Green University of Bangladesh (GUB)
21. IBAIS University
22. Independent University, Bangladesh (IUB)
23. International Islamic University Chittagong (IIUC)
24. International University of Business, Agriculture & Technology (IUBAT)
25. Leading University
26. Manarat International University (MIU)
27. Metropolitan University, Sylhet
28. North South University (NSU)
29. Northern University – Bangladesh (NUB)
30. Premier University , Chittagong
31. Presidency University
32. Prime University
33. Primeasia University
34. Pundra University of Science and Technology
35. Queens University
36. Royal University of Dhaka (RUD)
37. Santa Marium University of Creative Technology
38. South East University (SEU)
39. Southern University
40. Stamford University
41. State University of Bangladesh (SUB)
42. Sylhet International University
43. The People’s University of Bangladesh (PUB)
44. The Millenium University
45. The University of Asia Pacific (UAP)
46. United International University (UIU)
47. University of Development Alternative (UODA)
48. University of Information Technology & Sciences (UITS)
49. University of Liberal Arts Bangladesh (ULAB)
50. University of Science and Technology, Chittagong (USTC)
51. University of South Asia (UniSA)
52. Uttara University
53. Victoria University of Bangladesh
54. World University of Bangladesh

Private university in Bangladesh is increasing day by day. As the students are rapidly increasing & the number of public university in Bangladesh are very few; so there is no substitute of private university to manage the higher education for the passed students of all over the Bangladesh.

But students have to be careful to choose the correct private university (Which is UGC Approved) for him/her to enlighten his/her future academic life. I am saying so because a lot of private university is inaugurating almost every new year; who are just selling the certificates by taking lots of money without providing any proper and qualified education.

Meat not up to Islamic Law, market pays $527,000


Meat not up to Islamic Law, market pays $527,000
D.A.: Anaheim Super King Market was falsely selling halal meat.
By ERIC CARPENTER
2011-11-21

ANAHEIM – An Anaheim market has agreed to pay more than a half-million dollars in a civil settlement after claims that it falsely advertised and sold generic meat that it advertised as halal meat.

Calling meat “halal” indicates that it was butchered in a specific way and slaughtered in the name of Allah, making it permissible to eat in accordance with Islamic law.

An investigation by the Orange County District Attorney’s office found that Anaheim Super King Market was selling meat from various sources as Halal meat, even though it did not meet those standards.

The Anaheim Super King Market agreed Monday to pay $527,000 to settle the case. While Super King Market has several locations throughout Southern California, the settlement only applies to the Anaheim location. A spokesperson for Anaheim Super King Market could not be reached for comment.

The Anaheim market, located near Magnolia Avenue and Cerritos Street, is on the outskirts of a large Muslim-American district, often referred to as Little Arabia.

Officials with the Orange county Health Department began investigating the market in April 2010 and discovered that various meats were being delivered to the store with no clear labeling. Once reaching the display case, they were “co-mingled with generic meats” and falsely advertised as meeting halal standards.

The D.A.’s consumer-fraud unit began investigating in summer 2010. The same unit has prosecuted cases involving fraudulent health supplements and male-enhancement pills, among other cases.

The prosecution of Anaheim Super King resulted from concerns raised by the Health Department, not from a public complaint, said Farrah Emami, a spokeswoman for the District Attorney’s office.

“In some cases, if specific victims can be identified, they might receive part of a monetary settlement. But in this case, it’s impossible to know who all the victims might have been,” she said. So the money will be used to prosecute other consumer-fraud cases.

The settlement didn’t require the market to admit fault. Anaheim Super King now must only purchase meat that is clearly labeled on the invoice and packaging and must ensure that halal meat is properly segregated, according to the settlement.

Prosecuting such cases is important, the District Attorney said in a statement, because “it protects customers from deceptive and harmful business practices and also prevents the defendant from gaining an unfair advantage over legitimate businesses.”

Contact the writer: 714-704-3769 or ecarpenter@ocregister.com

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও আরবীয় জনগণের মতাদর্শিক সংঘর্ষ


মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও আরবীয় জনগণের মতাদর্শিক সংঘর্ষ


রামজে বারোউদ • স্বেচ্ছাচারীদের চ্যালেঞ্জ করা, পুরনো কাঠামো ধ্বংস করা এবং উন্নত ভবিষ্যতের জন্য কর্মপন্থা উদ্ভাবনের কাজে আরবদের সংগ্রাম অব্যাহত থাকলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার ব্যর্থ নীতি, ভুল ধারণা ও আত্মস্বার্থে অবিচল রয়েছে। আরবরা নিজেদের মধ্যে অনেক বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করে, কিন্তু এ বিষয়ে খুব কম লোকই ভিন্ন মত পোষণ করে যে, এখন পিছনে ফিরে যাওয়ার কোনো পথ নেই। মুবারক ও বেন আলীর মতো স্বেচ্ছাচারীদের যুগ শেষ হয়ে যাচ্ছে। তারা মনে করে, তাদের ওপর অর্পিত হয়েছে নতুন কিছু চ্যালেঞ্জসহ নতুন সকাল। এ এলাকায় গণতন্ত্র, সুশীল সমাজ ও নাগরিকত্ব বিষয় নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। আরবের যেসব বুদ্ধিজীবী এখনো সন্ত্রাসবাদ ও পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে বাগাড়ম্বর করে তাদের ওয়াশিংটন ভিত্তিক বুদ্ধিজীবী গোষ্ঠী কাজে লাগিয়েছে অথবা তাদের মধ্যে এমন কিছু বেপরোয়া লোক আছে যারা মিথ্যার বেসাতি বিক্রেতা রুপার্ট মারডকের ফক্স নিউজে উপস্থিত হন।

একটা কথা সহজে অনুমেয় – আরব বিশ্বের অগ্রাধিকার বিষয়গুলো এখন আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রাধিকারের বিষয় নয়। হোসনি মুবারক যখন মিসরের প্রেসিডেন্ট ছিলেন তখনকার অবস্থার সঙ্গে এখনকার অবস্থার মিল নেই। একদল ‘আরব মধ্যস্থতাকারীর’ পরিচালনায় মুবারকের প্রধান দায়িত্ব ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র নীতির প্রতিফলন ঘটানো। ব্যাপারটা ছিল যেন তা মিসরের জাতীয় স্বার্থের জন্যও একটা জরুরি বিষয়। ইতোমধ্যে সিরিয়ার বাশার আল আসাদ পরস্পরবিরোধী অবস্থার মধ্যে আটকা পড়ে গেছেন। তথাকথিত সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বিষয়ে ভালো কাজে কৃতিত্ব লাভের জন্য তিনি বেপরোয়া ছিলেন – তিনি এখনো আরব প্রতিরোধের অভিভাবক হিসেবে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যখন ২০০১ সালের শেষ দিকে আফগানিস্তান দখল করে তখন ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ কথাটা আরব সংস্কৃতিতে আলোচনার প্রধান বিষয়ে পরিণত করা হয়। সাধারণ আরববাসীদের এমন বিষয়ে উদ্যোগ নিতে বাধ্য করা হয় যা তাদের কাছে গুরুত্বহীন ছিল, অথচ সেই বিষয়টিই এ অঞ্চলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ও রাজনৈতিক কৌশলের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে প্রতিভাত হয়।

আরব নারী-পুরুষ সবাইকে অধিকার ও মর্যাদা থেকে বঞ্চিত করা হয়, এমনকি তাদের আশাশূন্য করা হয়। তাদের শুধু ওসামা বিন লাদেন, আল কায়েদা ও অন্যান্য বিষয়ে জনমত জরিপের উপাদান হিসেবে গণ্য করা হয়। অথচ এসব বিষয় তাদের দৈনন্দিন জীবনের দুঃখ-কষ্ট ও অবমাননার জন্য দায়ী কোনো বিষয় ছিল না।

আরব স্বেচ্ছচারীরা তাদের নিজস্ব নিরাপত্তার স্বার্থে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বদ্ধ সংস্কারকে গ্রহণ করে। ইয়েমেনের আলী আবদুল্লাহ সালেহকে ‘আল কায়েদাকে পরাজিত’ করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক শত্রুভাবাপন্নভাবে দখল অথবা নিজেকেই ক্ষতিকর একটি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার মধ্যে যে কোনো একটা পথ বেছে নিতে হয়। তিনি শেষোক্ত বিকল্পটি বেছে নেন এবং এমন ভূমিকার ফলাফল হাতে হাতেই পেয়ে যান। ইয়েমেনী জনগণ রাস্তায় নেমে আসে – তারা দাবি করে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের। সালেহ অনুগত বাহিনী ও রিপাবলিকান গার্ডদের পাঠান হঠাৎ বেড়ে যাওয়া আল কায়েদা যোদ্ধাদের এবং নিরস্ত্র গণতন্ত্রকামী লোকদের একসঙ্গে হত্যা করার জন্য। সরাসরি ও কঠোর এ কাজকে তুলনা করা যায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অকথিত দরকষাকষির অাঁতাত, তোমাদের খারাপ লোকদের বিরুদ্ধে আমি যুদ্ধ করব যতক্ষণ আমি নিজেকে ধ্বংস করতে পারব এমন ভাবনার সঙ্গে।

লিবিয়ার মুয়াম্মার গাদ্দাফিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রাধিকার বিষয়গুলো কাজে লাগান। তার শাসনামলে প্রতিনিয়ত জোর দেওয়া হয়েছে যে, বিরোধী দলগুলোর সদস্যদের মধ্যে আল কায়েদা আছে। এসব কথা পশ্চিমা গণমাধ্যমে যথেষ্ট গুরুত্ব পায়। পাশ্চাত্যকে শান্ত করার জন্য গাদ্দাফি এমন বেপরোয়া হয়ে যান যে, তিনি বলেন, বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে তার যুদ্ধ ফিলিস্তিনি ‘চরমপন্থীদের’ বিরুদ্ধে ইসরাইলের যুদ্ধের চেয়ে ভিন্ন কিছু নয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং আরব স্বৈরশাসকরা যে ভাষায় কথা বলেন তা নির্যাতনের ভাষা কোষে খুঁজে পাওয়া যায় না এবং এটা একটা বিস্ময়কর বিষয়। অপরদিকে সাধারণ আরব জনগণ তাদের দীর্ঘদিন ধরে অস্বীকৃত মৌলিক অধিকারগুলো ফিরে পাওয়ার আশায় উদ্বেলিত ছিল। আল কায়েদা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্ণনা অনুযায়ী আরব জনগণ ঐক্যবদ্ধ নয়, অন্য কিছু বিষয়ে তারা ঐক্যবদ্ধ যা পশ্চিমা ভাষ্যকার ও সরকারি কর্মকর্তাদের দৃষ্টি এড়িয়ে যায়। অংশীদারিত্বমূলক ইতিহাস, ধর্ম, ভাষা ও পরস্পরের প্রতি সহানুভূতিশীল ঐক্য ছাড়াও তাদের মধ্যে আছে নির্যাতন, বিচ্ছিন্নতা, অন্যায় ও অসাম্যের এক সাধারণ অভিজ্ঞতা।

২০০৫ সালে প্রকাশিত জাতিসংঘের তৃতীয় আরব উন্নয়ন রিপোর্টে বলা হয় যে, আধুনিক আরব রাষ্ট্রে ‘নির্বাহী প্রক্রিয়ার ধরন একটা কৃষ্ণ গহবরের মতো, যা এর আশপাশের সামাজিক পরিবেশকে এমনভাবে গঠন করে যে, তা থেকে কিছু এগিয়ে যায় না এবং যা থেকে কিছু পালিয়ে যেতে পারে না।’ আরব রাষ্ট্রগুলোর জন্য ২০০৯ সালটা খুব ভালো ছিল না। ওই সময় এ ধরনের রিপোর্টের পঞ্চম খন্ডে বলা হয়, ‘মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব বলে আশা করা হয়। অথচ বেশ কয়েকটা আরব দেশে দেখা গেছে, তা হয়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক সনদ ও জাতীয় শাসনতান্ত্রিক ধারাগুলোর প্রতি হুমকিস্বরূপ।’ মে’তে টাইম ম্যাগাজিন ‘হাউ দ্য এরাব স্প্রিং মেড বিন লাদেন অ্যান আফটারথট’ শিরোনামে একটা রিপোর্ট প্রকাশ করে। আরব বিপ্লবের সম্মিলিত ধর্মনিরপেক্ষ প্রকৃতির কথা উল্লেখ করে ওই রিপোর্টে পাঠকদের স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়, মিসরের তাহরির স্কোয়ারে ওসামা বিন লাদেনের প্রশংসা করে কোনো ব্যানার দেখা যায়নি। তিউনিসিয়া, লিবিয়া বা এমনকি ইয়েমেনেও সরকারবিরোধী প্রতিবাদ মিছিলে তার ডেপুটি আয়মান আল জাওয়াহিরির কোনো ছবি দেখা যায়নি।’

সত্যের এই প্রকাশ পশ্চিমা মিডিয়ায় বিভিন্নভাবে প্রকাশ করা হলেও তাকে মোটামুটিভাবে বলা যায় একটা প্রতারণা। আসল কথা হলো, আল কায়েদা মডেল কখনো আরব সমাজের মূলধারায় প্রতিফলিত হয়নি। আরব বিপ্লব আল কায়েদা সম্পর্কে আরব সমাজের ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেনি। কারণ ওই ধারণা সমগ্র আরব সমাজের ধারণার খুবই সামান্য একটা অংশ মাত্র। যা হোক, এসব বিপ্লব আরবদের সম্পর্কে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ধারণাকে এখনো সত্যিকারভাবে চ্যালেঞ্জ করেনি।

জগবি ইন্টারন্যাশনাল জুলাইয়ে এরাব অ্যাটিচিউড ২০১১ প্রকাশ করে। এতে ছয়টি আরব রাষ্ট্রের এমন ধারণা প্রকাশ পায় যা এতে আরবদের মধ্যে বারাক ওবামার জনপ্রিয়তা শতকরা ১০ ভাগ কমে যাওয়ার কথাও রয়েছে। ২০০৯ সালে কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ে ওবামা যখন তার বিখ্যাত ভাষণ দেন তখন অনেক আরব মনে করে যে, কোনো কোনো অংশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-আরব অগ্রাধিকার চূড়ান্তভাবে এসে মিলেছে। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নীতি কোনো অনুকূল দিকে পরিচালিত না হওয়ায় আরবরা অনুধাবন করে, মার্কিন নীতিগুলো সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারিত হয়েই আছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার যুদ্ধ, ইসরাইলের প্রতি তার সমর্থন এবং তাদের পুরনো মিত্র অত্যন্ত দুর্নীতিপরায়ণ আরব শাসক ও অভিজাতদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে। আরবরা আবিষ্কার করেছে অথবা পুনরায় আবিষ্কার করেছে তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নীতির কোনো মিল নেই, বরং ওই দুই ধারা আসলে সাংঘর্ষিক পর্যায়ে আছে।

এটা খুবই স্বাভাবিক, মধ্যপ্রাচ্যের মতো তেলসমৃদ্ধ দেশগুলোতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট স্বার্থ ও লক্ষ্যে তার নীতি পরিচালিত করবে। কিন্তু আসলে যা হচ্ছে তা হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রাধিকারের জন্য অধিকাংশ আরব দেশের আশা আকাঙ্ক্ষা ও জাতীয় স্বার্থ পুরোপুরি ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আরব স্বৈরাচারী শাসকদের সহায়তায় ওয়াশিংটনের অস্পষ্ট ও বিভ্রান্ত নীতি আরব জাতিগুলোর জন্য অকথিত ক্ষতি ডেকে এনেছে। লাখ লাখ সাধারণ আরব যাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও অগ্রাধিকারকে পুরোপুরি হিসাবের বাইরে রাখা হয়েছে এবং এখন আরব জনগণ দেখাচ্ছে যে, তারা ওই বাস্তবতা গ্রহণে আর রাজি নয়।

ইন্টারনেট থেকে ভাষান্তর [সাপ্তাহিক বুধবার থেকে]
একুশ নিউজ মিডিয়া এখন ফেস বুক এ

কোন পথে আরব বিশ্ব


কোন পথে আরব বিশ্ব
তা রে ক শা ম সু র রে হ মা ন
আরব বিশ্বের রাজনীতি এখন কোন পথে? গেল বছরের নভেম্বরে তিউনিসিয়ার দীর্ঘদিনের শাসক বেন আলির দেশত্যাগের মধ্য দিয়ে যে পরিবর্তনের ধারা সূচিত হয়েছে তাতে গাদ্দাফির পতন ও মৃত্যুই শেষ কথা নয়। বরং পরিবর্তন আসছে সিরিয়ায়, সেখানে প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের পতন এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। দিন যত যাচ্ছে, দেশটিতে গণঅসন্তোষ তত বাড়ছে। গত প্রায় আট মাস ধরে সেখানে সরকারবিরোধী যে আন্দোলন হচ্ছে, তাতে প্রায় তিন হাজার ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছে। গাদ্দাফির মৃত্যুর পর প্রেসিডেন্ট আসাদকে কিছুটা নমনীয় মনে হয়। গত ২ নভেম্বর কায়রোতে আরব লিগের প্রস্তাবনায় সিরিয়ায় সহিংসতা বন্ধে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ওই চুক্তি অনুযায়ী সিরিয়ার বিভিন্ন শহর থেকে সেনা প্রত্যাহার, রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি ও বিরোধী পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু ওই চুক্তির ভবিষ্যত্ ইতোমধ্যে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। কেননা চুক্তি স্বাক্ষরের পরও সিরিয়ার সেনাবাহিনী ট্যাঙ্ক ব্যবহার করেছে এবং একটি ঘটনায় ২৪ জন মানুষ হোমসে শহরে মারা গেছে। চলতি সপ্তাহে কায়রোতে সিরিয়ার সরকার ও বিরোধী দলের মাঝে আলাপ শুরু হওয়ার কথা। এই আলোচনার ফলাফলের ওপর অনেক কিছুই এখন নির্ভর করছে। বলা ভালো, আসাদের পিতা হাফিজ আল আসাদ ১৯৭১ সাল থেকেই সিরিয়ার ক্ষমতায় ছিলেন। বাথ পার্টির মাধ্যমে তিনি ক্ষমতা পরিচালনা করতেন। ২০০০ সালে তার স্বাভাবিক মৃত্যুর পর তার বড় সন্তান বাশার আল আসাদ ক্ষমতা গ্রহণ করেন।

আরব বিশ্বের এই যে পরিবর্তন, এই পরিবর্তনের ঢেউ গিয়ে লেগেছে বাহরাইনেও। সেখানে রাজনৈতিক স্বাধীনতা, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও শাসক হামাদ বিন ঈসা আল খলিফার পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন হচ্ছে। গত ৪ নভেম্বর রাজধানী মানামায় বড় ধরনের বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে, সেখানে নারীরা অংশগ্রহণ করেছেন। পুলিশের গুলিতে একজন বিক্ষোভকারী মারাও গেছেন। তিউনিসিয়া থেকে শুরু করে বাহরাইন পর্যন্ত সর্বত্রই সরকার পতনের আন্দোলন হচ্ছে। কোথাও কোথাও সরকারের পরিবর্তন হয়েছে এবং একটি গণতান্ত্রিক ধারাও সেখানে শুরু হয়েছে। তিউনিসিয়ায় সর্বজন গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং একটি ইসলামিক শক্তি সেখানে নতুন শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এন্নাহদার বিজয় আরব বিশ্বে নতুন এক রাজনৈতিক শক্তির জন্ম দিয়েছে। লিবিয়ায় গণ-আন্দোলনের মুখে গাদ্দাফির পতন হয়নি। একটি গৃহযুদ্ধে এবং বিদেশি শক্তির সামরিক হস্তক্ষেপে গাদ্দাফির সরকারের পতনই শুধু হয়নি, গাদ্দাফি নিজে নিহতও হয়েছেন। গাদ্দাফি-পরবর্তী লিবিয়াতে কোন ধরনের সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে তা নিয়েও নানা প্রশ্ন আছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আগামী আট মাসের মধ্যে সেখানে নির্বাচনের কথা বলছে। কিন্তু প্রশ্ন আছে অনেক। যদি লিবিয়াতে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়, তা হলে আরেকজন স্বৈরাচারী একনায়কতন্ত্রের আবির্ভাব হওয়া বিচিত্র কিছু নয়। মুস্তাফা আবদেল জলিলের নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন সেখানে যুদ্ধ পরিচালক করেছে এবং গাদ্দাফি-পরবর্তী রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেছে। কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনে দ্বন্দ্ব রয়েছে। বিশেষ করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহমুদ জিবরিলের ভূমিকা প্রশ্নের মুখে থাকবে। অতীতে আবদেল জলিল গাদ্দাফির বিচারমন্ত্রী ছিলেন। পক্ষ ত্যাগ করে তিনি বিদ্রোহীদের দলে যোগ দেন। কিন্তু জিবরিল যুক্তরাষ্ট্রে থাকতেন। পিটার্সবার্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করে সেখানেই বসবাস করেন। সম্ভবত তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। জলিলের চেয়ে জিবরিল যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের খুব কাছের ব্যক্তি হবেন। যুদ্ধের কারণে প্রচুর অস্ত্রশস্ত্র সাধারণ মানুষের কাছে চলে গেছে। গাদ্দাফি নিজেও অস্ত্রভাণ্ডার খুলে দিয়েছিলেন। ন্যাটোর বিমান থেকেও বিদ্রোহীদের জন্য অস্ত্র ফেলা হয়েছিল। এসব অস্ত্রের হদিস পাওয়া খুব কঠিন হবে। বিমানবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রও রয়েছে ওইসব অস্ত্রশস্ত্রের মধ্যে। এই অস্ত্র আল কায়দার কাছে পৌঁছে যাওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। ফলে গাদ্দাফি-পরবর্তী লিবিয়ায় অস্ত্র একটি বড় ভূমিকা পালন করবে, যা গণতন্ত্রের উত্তরণে কোনো সাহায্য করবে না। গাদ্দাফি-পরবর্তী লিবিয়ায় ইসলামী জঙ্গিরা অন্যতম একটি শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে। বেশ কয়েকটি জঙ্গি গ্রুপের খবর পাওয়া যায়, যারা গাদ্দাফির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে; যেমন, বলা যেতে পারে Islamic Fighting Group (IFG), Abu Ubaidah-bin Januah Brigade, Abdel Hakim Belhadj Group, Tripoli Military Council কিংবা Salafi Group-এর কথা। এদের কারও কারও সঙ্গে আল কায়দার যোগাযোগ রয়েছে বলেও ধরে নেওয়া হয়। এক সময় IFG-কে পশ্চিমা শক্তি সমর্থন করেছিল। ১৯৯৬ সালে গাদ্দাফিবিরোধী আন্দোলনে IFG-কে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন করেছিল। এখন পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তী প্রশাসনের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক কী দাঁড়ায় সেটা দেখার বিষয়। গণতন্ত্রে উত্তরণের জন্য যা দরকার, তা হচ্ছে রাজনৈতিক দল ব্যবস্থাপনা, একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন, নিরপেক্ষ বিচারব্যবস্থা-যা লিবিয়াতে নেই। এখানে কোনো রাজনৈতিক দল নেই। এখন অন্তর্বর্তী প্রশাসনের সদস্যরা একাধিক দলের জন্ম দিতে পারেন এবং পরস্পরের বিরুদ্ধে ক্ষমতার দ্বন্দ্বে লিপ্ত হতে পারেন। লিবিয়ায় বেকার সমস্যা প্রকট। জনগোষ্ঠীর ৩০ ভাগ বেকার। লিবিয়ায় বিশাল তেলের রিজার্ভ থাকলেও তেলনির্ভর শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি। লিবিয়ার জনগোষ্ঠীর ৪০ ভাগ হচ্ছে তরুণ। এদেরকে মূল ধারায় নিয়ে আসা, চাকরির ব্যবস্থা করা হবে কঠিন কাজ। না হলে এখানে চিরস্থায়ী একটি অস্থিতিশীলতা থাকবেই। লিবিয়া গোত্রকেন্দ্রিকভাবে বিভক্ত। গোত্রের লোকজন একত্রিত হয়ে মরুভূমি তথা পাহাড়ের নিচে বসবাস করেন। এরা আধুনিকমনস্ক নন। গাদ্দাফি যে গোত্রের প্রতিনিধিত্ব করেন, তারা গাদ্দাফির মৃত্যুকে সহজভাবে নেবেন না। ফলে একধরনের বিরোধিতা থেকেই যাবে। উপরন্তু দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের বিরোধের জন্ম হয়েছে। তেল কূপগুলো পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত। বিদ্রোহ শুরু হয়েছিল দক্ষিণাঞ্চল থেকে। গাদ্দাফির পতনের পর লিবিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা শক্তিগুলোর প্রভাব বাড়বে। পশ্চিমা শক্তিগুলোর আগ্রহ মূলত লিবিয়ার তেল ও গ্যাসের কারণে। বিশ্বের রিজার্ভের ৩৫ ভাগ তেল রয়েছে লিবিয়ায়, যার পরিমাণ ৬০ বিলিয়ন ব্যারেল। গ্যাস রিজার্ভ রয়েছে ১ হাজার ৫০০ বিলিয়ন কিউবিক মিটার। যুদ্ধের আগে প্রতিদিন তেল উত্তোলিত হতো এক দশমিক তিন মিলিয়ন ব্যারেল থেকে এক দশমিক ছয় মিলিয়ন ব্যারেল। ভূমধ্যসাগরের নিচ দিয়ে পাইপের সাহায্যে এই গ্যাস যায় ইতালিতে (ত্বেবহংঃত্বধস চরঢ়বষরহব)। লিবিয়ার অভ্যন্তরে মাত্র এক ডলারে তেল পাওয়া যেত। অথচ আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যারেলপ্রতি তেলের মূল্য ৮০ ডলার। সুতরাং আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানিগুলোর স্বার্থটা কোথায় তা সহজেই অনুমেয়। লিবিয়ার পুনর্গঠনের নামে তখন লিবিয়াতে ব্যবসা খুঁজবে মার্কিনি কোম্পানিগুলো। আর লিবীয় সরকারকে তেল বিক্রি করে (অতিরিক্ত তেল উত্তোলন করে) পুনর্গঠনের বিল পরিশোধ করতে হবে। ঠিক যেমনটি হয়েছে ইরাকে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাটেজিতে লিবিয়ার অবস্থান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পেন্টাগন যে দীর্ঘ পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে, তাতে লিবিয়া একটি ফ্যাক্টর। লিবিয়ার প্রশাসনকে যদি হাতে রাখা যায়, তা হলে উত্তর আফ্রিকা নিয়ন্ত্রণ করা সহজ। লিবিয়া নিয়ন্ত্রণে এলে পার্শ্ববর্তী শাদ ও নাইজারও নিয়ন্ত্রণে আসবে। শাদ ও নাইজারে রয়েছে তেল ও ইউরেনিয়াম, যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য খুবই প্রয়োজন। একুশ শতকে যে নতুন আফ্রিকার জন্ম হতে যাচ্ছে, সেখানে ফরাসি ভাষাভাষী অঞ্চলে কর্তৃত্ব বাড়বে যুক্তরাষ্ট্রের। কঙ্গো, রুয়ান্ডা, আইভরি কোস্ট ছিল একসময় ফ্রান্সের কলোনি। ফরাসি ভাষা এখানে সরকারি ভাষা। এ অঞ্চলে তখন বাড়বে যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃত্ব। ইতোমধ্যেই আফ্রিকাতে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে নতুন একটি মিলিটারি কমান্ড অঋজওঈঙগ। এ জন্য লিবিয়ায় ‘বন্ধুপ্রতিম’ সরকারের খুব প্রয়োজন ছিল। গাদ্দাফির মত্যু এই হিসাবটা সহজ করে দিল। লিবিয়ার ঘটনাবলি দিয়ে এটা প্রমাণিত হয়ে গেল যে, পৃথিবীর যেকোনো রাষ্ট্রের সরকারকে উত্খাত করার ক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্র রাখে। তবে অবশ্যই সেই সরকারকে যুক্তরাষ্ট্রের অপছন্দের হতে হবে। অতীতে গাদ্দাফিকে যুক্তরাষ্ট্র তার স্বার্থে ব্যবহার করেছে। ইরাকে সাদ্দামের বিরুদ্ধে অভিযানের সময়ও যুক্তরাষ্ট্র গাদ্দাফিকে তার স্বার্থে ব্যবহার করেছিল। প্রয়োজন ফুরিয়ে যাওয়ায় গাদ্দাফিকে চলে যেতে হল। এভাবে একটি স্বাধীন দেশে ন্যাটোর বিমানবহর দিয়ে হামলা কোনো আন্তর্জাতিক আইন অনুমোদন করে না। এটা স্পষ্টতই আন্তর্জাতিক আইনের বরখেলাপ। নিরাপত্তা পরিষদ লিবিয়ায় তথাকথিত ‘গণহত্যা’(?) ঠেকাতে ন্যাটোর বিমান হামলার অনুমতি দিয়েছিল। কিন্তু সরকার পরিবর্তনের কোনো অনুমতি দেয়নি। কিন্তু দুর্ভাগ্য হচ্ছে নিরাপত্তা পরিষদে এ কথাগুলো আর কেউ বলবে না। বিশ্বব্যাপী যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আফ্রিকায় সামরিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার স্বার্থেই লিবিয়ায় সরকার পরিবর্তন হল।

প্রশ্ন হচ্ছে, সমগ্র আরব বিশ্বের এই যে পরিবর্তন, এই পরিবর্তন কি সেখানে একটি গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির জন্ম দেবে? তিউনিসিয়ায় এন্নাহদা পার্টির উত্থান সেখানে একটি ‘তুরস্ক মডেলের’ জন্ম দিতে যাচ্ছে। তুরস্কে ইসলাম আর গণতন্ত্রের সমন্বয়ে নতুন এক রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্ম হয়েছে। তুরস্কে ইসলামপন্থীরা কট্টরপন্থী নন। এরা আল কায়দাকে সমর্থনও করে না। বরং আল কায়দার রাজনীতিকে সমালোচনা করে। আধুনিকমনস্ক তুরস্কের নেতৃত্ব ইসলামিক বিশ্বে নতুন এক ইমেজ নিয়ে এসেছে। এন্নাহদার নেতা ঘান্নুচি তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী এরদোগানের রাজনীতির অনুসারী। এ কথা তিনি স্বীকারও করেছেন। একসময় মিসরের ইসলামিক ব্রাদারহুড পার্টির রাজনীতিতে আকৃষ্ট হয়েছিলেন ঘান্নুচি। এখন সেখান থেকে কিছুটা সরে এসেছেন। ‘তুরস্ক মডেল’ এখন তার কাছে আদর্শ। আগামী ২৮ নভেম্বর মিসরে সংসদ নির্বাচন। সেখানে ইসলামিক ব্রাদারহুড পার্টির বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তবে ক্ষমতাসীন সামরিক জান্তার সঙ্গে তাদের সম্পর্ক কোন পর্যায় গিয়ে দাঁড়ায় সেটাই দেখার বিষয়। সামরিক জান্তা প্রধান ফিল্ড মার্শাল তানতাবি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলেই ধারণা করা হচ্ছে। দেশটিতে অশান্ত পরিস্থিতি দিন দিন বাড়ছে। এখানে ইসলামপন্থীদের ক্ষমতা পরিচালনা করা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই গেল। ইয়েমেনের পরিস্থিতি একটু ভিন্ন। প্রেসিডেন্ট সালেহ ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিলেও এখনও পর্যন্ত সেই প্রতিশ্রুতি তিনি রাখেননি। তুলনামূলক বিচারে আল কায়দা অনেক শক্তিশালী ইয়েমেনে। এখানে গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোর বিজয়ের সম্ভাবনা ক্ষীণ। তরুণ সমাজ সেখানে সালেহবিরোধী আন্দোলন গড়ে তুলেছিল। কিন্তু তাদের কোনো সংগঠন নেই। তবে আল কায়দার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোকে নিয়ে একটা ভয় থেকেই গেল। সিরিয়াতেও এদের তত্পরতা রয়েছে।
স্পষ্টতই আরব বিশ্বে ইসলামিক শক্তির উত্থান ঘটেছে। ১৯৫২ সালে মিসরে জামাল আবদুন নাসেরের ক্ষমতা গ্রহণের মধ্য দিয়ে আরব জাতীয়তাবাদী রাজনীতির জন্ম হয়েছিল, যা ছড়িয়ে গিয়েছিল প্রতিটি আরব রাষ্ট্রে। এখন তিউনিসিয়ায় গণতন্ত্রমনা একটি ইসলামিক শক্তির উত্থান সমগ্র আরব বিশ্বে ছড়িয়ে যায় কি না সেটাই দেখার বিষয়।

লেখক : অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
tareque.rahman(a)aol.com

একুশ নিউজ মিডিয়া এখন ফেস বুক এ

Believe it or not- Distressed children of Bangladesh: How can you help?


Dhaka | Monday| 21 November 2011 | 07 Agrahayan 1418 BS | 24 Zilhajj 1432 HIJRI
Daily Sun

Believe it or not
Distressed children of Bangladesh: How can you help?
Abdullah A Dewan
Abdullah A Dewan

Distressed children are everywhere in every country — an estimated one billion globally — and six million alone in Bangladesh. That’s why you see them every day wherever you go. Don’t many of us often turn our eyes away when we see them to escape from our qualms of conscience and moral callings to come to their rescue? I see these children everyday whenever I visit Bangladesh and meet people amongst us who work to save them from pains of hunger, disease, and the miseries of illiteracy.

Many of us are involved in some isolated way, helping some of these children in our locality back home. I have finally decided go one step further — join our friends Ruqsana Ahmed and Shafi Ahmed, among others, who are passionately involved in the rescue initiatives of these destitute and despairing children through their charity Distressed Children and Infants International (DCI).

On 15 October, Ruqsana and Shafi organised a fund raising dinner and discussions in Flint Michigan, attended by nearly 200 Bangladeshi professionals. The mayor of Flint and some local American doctors and their spouses also joined the event. Most notably, the fund raising festivity was festooned by the participation of Bangladesh celebrity movie star Bobita — designated as the goodwill ambassador of the DCI. Her speech highlighting her involvement with the DCI was highly motivating — to say the least.

Founded in 2003 by its current Executive Director Ehsan Hoque (MBBS, Ph.D), the DCI is a US registered nonprofit charitable organisation dedicated to the cause of underprivileged children worldwide.

The charity has been actively working in Bangladesh since 2005 with the mission to provide impoverished children with education, basic needs and health care, while enlightening young Americans about the challenges these children face daily and their possible role. At the fund raising event, Dr Hoque, who himself is being diagnosed nearly blind, articulated why he has sacrificed his profession to found an organisation for the welfare of the distressed children.

Unlike many traditional NGOs operating in Bangladesh, the DCI is nearly 100 per cent volunteer based (except a few paid field workers) and funded 100 per cent from charitable donations. Because of its volunteer based operations, the DCI can devote 93 per cent of its funds for the welfare of distressed children with administrative, and fund raising costs accounting for mere a 5 and 2 per cent respectively.

The uniqueness of the DCI is that it is US based, and organised and directed by Bangladeshi Americans — physicians, engineers, university professors, businessmen, homemakers, and so on. Its brochure and website will show that many distinguished American doctors and university professors are also involved for the cause of distressed children globally. The current President of the DCI is Dr Brian DeBroff, a Professor at the Yale University School of Medicine.

With Yale University’s support, the DCI’s annual conference on Child Rights and Sight is held at the Yale campus. The 3rd conference was held on 10 September 2011 in which I was invited as a guest speaker. In the conference, the activities of the DCI were particularly accentuated by speakers from the Amnesty International, UNICEF, International Labour Organisation, Bangladesh’s permanent representative at the UN and many other important dignitaries.

Of the estimated one billion poverty-badgered children worldwide, 250 million are reportedly child labourers of which 22,000 die every year in work-related accidents. Many of these child workers have no access to education and are snarled in low-skilled, low-paid jobs — drifting deeper and deeper into broken health and an entrenched cycle of perpetual poverty trap — if they survive at all. Other glaring statistics include 30,000 children dying each day due to poverty, 1.4 million dying every year from unsafe drinking water and inadequate sanitation and 2.2 million dying because of lack of immunisation.

According to a 2008 UNICEF report, there are nearly six million children between the ages of 5 and 15 in Bangladesh who are forced to work just to survive. Most of them virtually have no access to medical care and schooling. Nearly 450,000 children are living on the streets being exposed to physical and sexual abuse. Among them, girls in particular are prey for gangs who run street brothels. Reports of trafficking and commercial exploitation of children are not startling news to anyone anymore in Bangladesh. The problem is getting worse day by day and thus warrants attention and help from all quarters.
The flagship programme of the DCI is its Sun Child Sponsorship (SCH) initiatives. For just $15 a month, one can make a world of difference — giving hope from despair and life from death to a deprived child. Bangladeshi families living in Michigan have sponsored about 75 children so far and counting. Some of the notable accomplishments of the SCH programmes are:

-Blindness Prevention Pro-gramme: Emphasises preventative measures and education along with vision screening and eye surgery camps. So far 6822 children have received eye care, 255 received cataract surgeries and 100 primary ophthalmologists were trained in pediatric cataract surgery.

-Health for Underprivileged Programme: Provides curative and preventive health care for residents of slum areas. So far 17500 Dhaka City residents are receiving this support and 250 pregnant mothers have received prenatal care.

-Orphan Support Progra-mme: Provides basic necessities such as food and shelter as well as education, healthcare, and training services to orphans.

-Disaster Relief and Rehabi-litation Programme: Rebuilt 30 Sidr-destroyed houses and one school, and provided relief support to 1500 villagers of Sidr victims. Some 500 victims of Cyclone Aila and 1000 victims of 2007 flood were given relief support under the programme.

At present, 228 families are receiving skill-training and financial support for income generating activities and 68 underprivileged women have already developed independence by being hired as the DCI tutors.

Some recent activities of the DCI also include building an orphanage in Muhammadpur, Dhaka which was opened last year and now is fully operational — serving 18 orphan girls. The DCI’s health clinics are providing free treatment services to the families of Mohammadpur and Kallayanpur slum areas. Safe Motherhood Day was also observed on 28 May by the DCI addressing the problem of high maternal mortality rate among the underprivileged. The DCI operates a programme to help the mothers of Kallayanpur and Muhammadpur slums to ensure healthy pregnancies and safe deliveries.

An eye screening and surgery camp was opened in the Kallayanpur slum on 3 June with the help of two ophthalmologists, Dr Ferdous Akhter and Dr Shahana Karim of BIRDEM, Dhaka. On 6 June this year, the DCI’s collaboration with Diabetic Association of Bangladesh was renewed and expanded to include Childhood Blindness Preven-tion Programme through-out Bangladesh.
We cannot expect the government to do everything for everyone. The fortunate amongst us may get involved to work as volunteers, donors or sponsors of a child. So, please visit www.distressedchildren.org.

The mission of rescuing the distressed children from poverty and illiteracy, and providing medical care may seem “mission impossible”. But if we all get involved, in whatever small way possible, we can certainly brighten their future with hopes. Admittedly, I joined in this altruistic cause belatedly. However, I do not feel too bad for being late — better late than never.

The writer, formerly a Physicist and Nuclear Engineer, is a Professor of Economics at Eastern Michigan University.
Direct Link – The daily Sun:
—————————————————————————————————————————–

আতঙ্কিত ধনিকগোষ্ঠী


আতঙ্কিত ধনিকগোষ্ঠী

পল ক্রুগম্যান • গত ১৫ মে স্পেনের ‘ক্ষুদ্র জনতার আন্দোলনের’ রেশ ধরে ১৭ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের ‘ওয়াল স্ট্রিট দখল করো’ আন্দোলনের উত্তাপ এখন ছড়িয়ে পড়েছে আমেরিকা-ইউরোপ হয়ে আফ্রিকা, এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়া পর্যন্ত। শনিবার বিশ্বের ৮২টি দেশের ৯শ’রও বেশি শহরে লাখ লাখ মানুষ বিক্ষোভে শামিল হয়। পুঁজিবাদের সাম্প্রতিক প্রতিভূ করপোরেট ব্যবসায়ীদের লোভ-লালসা ও সীমাহীন লুটপাট, সে কারণে ধনী-দরিদ্রে্যর ব্যাপক বৈষম্য এবং এই লুটপাটের সহযোগী সরকারগুলোর ব্যয় সংকোচননীতি ও ধনীদের বেইল আউটের নামে কোটি কোটি ডলারের অর্থ সাহায্যের বিরুদ্ধে এই বিক্ষোভ পরিচালিত হচ্ছে। পুঁজিবাদের অন্তর্নিহিত ব্যবস্থাপনা দুর্বলতার কারণেই যে বর্তমান এই পরিস্থিতি এবং এই পরিস্থিতি যে মোকাবিলার শক্তিও সে ক্রমশই হারিয়ে ফেলছে তারই আভাস মিলছে এই বিক্ষোভের মধ্য দিয়ে। বিশ্বায়নের ধারায় মাত্র ১ শতাংশের লুটপাটের বিরুদ্ধে ৯৯ শতাংশের প্রতিবাদেরও বিশ্বায়ন ঘটছে, এরই নমুনা পাওয়া গেছে গত শনিবার। এরই বিশ্লেষণধর্মী দুটি লেখা প্রকাশ করা হলো এই বিক্ষোভের অন্তর্নিহিত কার্যকারণ অনুধাবনের জন্য।

ওয়াল স্ট্রিট দখল করো আন্দোলন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে বদলে দেয় কিনা তা দেখতে আমাদের আরো অপেক্ষা করতে হবে। তথাপি ওয়ালস্ট্রিট, সাধারণভাবে অতি বিত্তবান এবং রাজনীতিবিদ ও পন্ডিত যারা মূলত অধিকাংশ অর্থবিত্তের মালিক এক শতাংশ মার্কিনিদেরই স্বার্থ রক্ষা করে থাকে তারা এই আন্দোলনের বিরুদ্ধে প্রলাপ বকতে শুরু করেছে। তাদের এ ধরনের প্রতিক্রিয়ায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ধরা পড়েছে। তারা বলছে, চরমপন্থীরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যবোধ ধ্বংস করে দিতে চাচ্ছে। যেমন এফডিআর ওয়াল স্ট্রিট আন্দোলনকারীদের জাকুতি পার্কে সমবেত প্রতিবাদকারী না বলে ‘অর্থনৈতিক রাজানুগত্যবাদী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

একটু দেখে নেওয়া যাক রিপাবলিকান রাজনীতিকরা ক্রমশ ছড়িয়ে পড়তে থাকা অহিংস এই আন্দোলনকে কীভাবে চিত্রিত করছে। একথা ঠিক যে, আন্দোলনকারীরা ইতোমধ্যেই পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় বিরোধে জড়িয়ে পড়েছে। পুলিশও মাঝে মাঝে তাদের ওপর বেশিমাত্রায়ই চড়াও হয়েছে। তা সত্ত্বেও পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায়নি যে, একে দাঙ্গা আখ্যায়িত করতে হবে। এসব ঘটনাকে কোনোভাবেই ২০০৯ সালের গ্রীষ্মে সংঘটিত টি পার্টির আন্দোলনের সঙ্গেও তুলনা করা যাবে না।

তারপর হাউজে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা এরিক ক্যান্টর আন্দোলনকারীদের হুজুগে জনতা আখ্যায়িত করে বলেছেন, ‘এরা এক মার্কিনিকে আরেক মার্কিনির বিরুদ্ধে খেপিয়ে তুলছে।’ আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী মিট রমনি বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ‘শ্রেণী সংগ্রাম’ শুরুর অভিযোগ এনেছেন। অন্যদিকে হারম্যান কেইন তাদের ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী’ বলে অভিহিত করেছেন। সিনেটর র‌্যান্ড পল আমার একজন প্রিয় ব্যক্তিত্ব। তিনিও কি জানি কি কারণে মনে করছেন আন্দোলনকারীরা আই প্যাডগুলো ছিনিয়ে নেবে। কারণ তারা মনে করে, এগুলো ধনীদের প্রাপ্য নয়।

নিউইয়র্কের মেয়র মাইকেল ব্লুমবার্গ নিজ যোগ্যতায়ই একজন ধনবান ব্যক্তি, আচার-আচরণেও সজ্জন এবং অপেক্ষাকৃত নমনীয় বলে পরিচিত। অথচ তিনিও আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে এই মর্মে অভিযোগ এনেছেন যে, তারা নাকি এই নগরে বসবাসকারী লোকজনের চাকরি-বাকরি কেড়ে নিতে চায়। অথচ আন্দোলনের প্রকৃত লক্ষ্যের সঙ্গে এ জাতীয় অভিযোগের কোনো মিলই নেই।

আপনি যদি সিএনবিসিতে প্রচারিত আলাপ-আলোচনা শুনতেন তাহলে শুনতে পেতেন যে, সেখানে বলাবলি হচ্ছে ‘আন্দোলনকারীরা তাদের খেয়ালের পতাকা উড়িয়ে যায় যাক’, ‘আসলে তারা তো হচ্ছে লেনিনেরই দোসর’।

বর্তমান অবস্থাটি বুঝতে হলে আগে বুঝতে হবে যে, এই অবস্থানটি হচ্ছে বৃহত্তর একটি প্রেক্ষিতের উপসর্গমাত্র। আসল ব্যাপার হলো বিপুল অর্থ সম্পদের অধিকারী ধনাঢ্য মার্কিনিরা বিশেষ একটি ব্যবস্থার মাধ্যমে নিজেদের জন্য সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলছে। আর যখনই কেউ তাদের এই সম্পদ সংগ্রহের প্রক্রিয়াটি নিয়ে কোনো রকম প্রশ্ন তোলে তখনই তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।

আপনাদের নিশ্চয় মনে আছে, গত বছর প্রেসিডেন্ট ওবামা বড় বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মালিকের বিরুদ্ধে মৃদু সমালোচনার সুরে কথা বলেছিলেন। আর তাতেই তারা ওবামার ওপর প্রচন্ড রকম ক্ষেপে যান। ওবামা ভলকার আইন নামে একটি আইনের অনুমোদন দিয়েছিলেন। তাতে বলা ছিল কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে আর্থিক সাহায্যের সুবিধাপ্রাপ্ত ব্যাংকগুলো কোনো রকম অনুমাননির্ভর বিনিয়োগের ঝুঁকি নিতে পারবে না। এই কারণেই সংশ্লিষ্ট ব্যাংক মালিকরা ক্ষেপে গিয়ে ওবামার আচরণকে প্রায় সমাজতান্ত্রিক বলে অভিহিত করেছিলেন। আর তাদের প্রস্তাব মতো কর নীতিতে পরিবর্তন মেনে নেওয়ার পর দেখা গেল, তাদের কাউকে কাউকে খুব অল্প পরিমাণেই কর দিতে হচ্ছে। এই অবস্থাটিকে ব্ল্যাকস্টোন গ্রুপের চেয়ারম্যান স্টিফেন স্কেয়ার্জম্যান হিটলারের পোল্যান্ড আক্রমণের সঙ্গে তুলনা করেছেন।

অন্যদিকে এলিজাবেথ ওয়ারেনের মতো ভদ্র মহিলাদের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনার মতো ঘটনাও থেমে নেই। এলিজাবেথ আর্থিক খাতের একজন সংস্কারক হিসেবে পরিচিত। তিনি বর্তমানে ম্যাসাচুসেট থেকে সিনেটর পদপ্রার্থী। কিছুদিন আগে তিনি একটি ইউটিউব ভিডিওচিত্রে ধনীদের ওপর বেশিমাত্রায় করারোপের পক্ষে কথা বলেছিলেন। তার বক্তব্যে এমন কোনো বিপ্লবাত্মক কথাবার্তা ছিল না। এমনকি অলিভার ওয়েন্ডেল হোমের সেই বিখ্যাত আপ্ত বাক্যের চেয়েও তার বক্তব্য কম ধারালো ছিল। অলিভার তো তার সেই বক্তব্যে বলেছিলেন, ‘আমরা একটি সভ্য সমাজের উদ্দেশ্যেই কর প্রদান করে থাকি।’

কিন্তু মিস ওয়ারেনের বিরুদ্ধে সম্পদশালীদের পক্ষে ওকালতি করা মানুষজনের কথা শুনলে আপনার মনে হবে, মিস ওয়ারেনের রূপ ধরে বুঝিবা লিওন ট্রটস্কির দ্বিতীয় দফা মর্ত্যে আগমন ঘটেছে। জর্জ উইল তো বলেই বসলেন, ওয়ারেন একটি সমবায়ী এজেন্ডা নিয়েই এগুচ্ছেন এবং তিনি বিশ্বাস করেন, ব্যক্তিতান্ত্রিকতা হচ্ছে এক ধরনের পৌরানিক দানব। আর রাশ লিমবাগ তাকে ‘পরগাছা’ আখ্যায়িত করে বলেছেন, ‘ওয়ারেন এমন একটি পরগাছা যে কিনা তাকে আশ্রয় দেওয়া গাছটিকেই ঘৃণা করে। যে গাছটির গায়ে জড়িয়ে থেকে সে তার জীবনের উপদান সংগ্রহ করছে সে গাছটিকেই সে আবার ধ্বংস করে দিতে চায়।’ সেখানে আসলে ঘটছেটা কী? উত্তর হলো- ওয়াল স্ট্রিটে আস্তানা গেঁড়ে থাকা বিশ্ব মোড়লরা বুঝে গেছেন, নিজেদের অবস্থান ধরে রাখার পক্ষে নৈতিক কোনো শক্তি এখন আর তাদের অবশিষ্ট নেই। তারা কোনো জন গাল্ট নন, নন কোনো স্টিভ জবসও। তারা আসলে এক ধরনের আর্থিক ফেরিওয়ালা। অর্থের সব জটিল ফাঁদ পেতে নিজেরা বিপুল বিত্তবৈভব হাতিয়ে নিচ্ছেন। তাদের কর্মকান্ড মার্কিন জনগণের কোনো উপকারেই আসছে না। উপরন্তু, তাদের এসব ফন্দিফিকির আমাদের বড় ধরনের সংকটের মধ্যে ফেলে দিচ্ছে। যার ফলস্বরূপ লাখ লাখ কোটি কোটি মার্কিন নাগরিকের জীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়ছে।

এতকিছুর পরও কোনো রকম ক্ষতিই তাদের গুনতে হচ্ছে না। তাদের দেউলিয়া হয়ে যাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে মার্কিন জনগণের করের টাকায় বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে। এক্ষেত্রে তাদের অবদান খুবই সামান্য। তারা কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে প্রকাশ্য এবং অপ্রকাশ্য বিভিন্ন ধরনের সুবিধা ভোগ করছে। এখনো তারা সামনের দিকে থেকেই মজা লুটছে। আর পেছনে থাকা করদাতা জনগণ তাদের সবকিছুই হারাচ্ছে। তারা কর নীতিতে থেকে যাওয়া ফাঁকফোকড় গলিয়ে কর প্রদানের ক্ষেত্রে বড় ধরনের রেয়াত পেয়ে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে তাই দেখা যায় কোটি কোটি ডলার আয়-উপার্জনকারীদের চেয়ে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর দেওয়া করের পরিমাণ বেশি।

তারা যে এ ধরনের বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে তা নিয়ে কোনো রকম উচ্চবাচ্য করা যাবে না। কেউ যদি করতে চায় এবং যত ভদ্র ভাষায়ই তা করা হোক না কেন, তাকে রক্ষক বা দৈত্য হিসেবে চিত্রিত করা হবে এবং মঞ্চ থেকে বিতাড়িত হবে সে। বস্ত্তত, একজন মানুষ যত বেশি পরিশীলিত ভাষায় এবং যুক্তিসঙ্গত উপায়ে তাদের সমালোচনা করবে সেও ঠিক তত বেশি পরিমাণেই দৈত্য হিসেবে আখ্যায়িত হবে। এলিজাবেথ ওয়ারেনের ক্ষেত্রেও তাই ঘটেছে। সুতরাং, প্রকৃতপক্ষে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী কে? অবশ্যই আন্দোলনকারীরা নয়, যারা কেবল তাদের বক্তব্যগুলো উপস্থাপনের চেষ্টা করছে। নিজেদের কথাগুলো অন্যদের কাছে পৌঁছে দিতে চাইছে। আসল চরমপন্থী হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শাসকগোষ্ঠী, যারা তাদের বিপুল বিত্তবৈভব আহরণের বিরুদ্ধে সোচ্চার যে কোনো কণ্ঠস্বরকে স্তব্ধ করে দিতে চায়।

লেখক নোবেলজয়ী মার্কিনি অর্থনীতিবিদ [সাপ্তাহিক বুধবার থেকে]

Bhola Cyclone 13 November 1970 : What is the real lesson of Bhola in 1970 : মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ৩৫তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ।


৪১ বছর পূর্বে, ১৯৭০ সালের ১৩ নভেম্বর ভয়াল কালো রাতে উপকূলীয় এলাকায় জলোচ্ছ্বাস তেড়ে আসে।
সরকারি হিসাবে প্রায় ৫ লক্ষ এবং বেসরকারী হিসাবে প্রায় ১০ লক্ষ আদম সন্তান স্রোতের টানে নদী-সমুদ্রগর্ভে-তীরে-ঢালে, ডালে-জলে-ঝোপে, চরে প্রাণ হারায়।

মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ৩৫তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ।

১৯৭০ সালের ৪ ডিসেম্বর ঢাকার পল্টন ময়দানে এক জনসভায় ভাষণ দিয়ে স্বাধীন পূর্ব পাকিস্তান দাবি উত্থাপন করেন।

৪১ বছর পূর্বে, ১৯৭০ সালের ১৩ নভেম্বর ভয়াল কালো রাতে উপকূলীয় হাতিয়া, চর আবদুল্লা, রামগতি, সন্দ্বীপ, ঢালচর, চর জব্বার, তজুমদ্দিন, চর কচ্ছপিয়া, চর পাতিলা, কুকরী মুকড়ী, মনপুরা, চরফ্যাশন, দৌলতখাঁন, ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় জলোচ্ছ্বাস তেড়ে আসে।
তখন ছিল রমজান মাস। সরকারি হিসাবে প্রায় ৫ লক্ষ এবং বেসরকারী হিসাবে প্রায় ১০ লক্ষ আদম সন্তান স্রোতের টানে নদী-সমুদ্রগর্ভে-তীরে-ঢালে, ডালে-জলে-ঝোপে, চরে প্রাণ হারায়।
একইসঙ্গে প্রাকৃতিক থাবায় কোটি কোটি টাকার পশু, মত্স্য, ফসল, রাস্তা, কালভার্ট, বাড়িঘর, স্কুল প্রতিষ্ঠান সম্পদ ধ্বংস হয়ে যায়।
দেশী-বিদেশী প্রচার মাধ্যমে এই ধ্বংসযজ্ঞের বর্ণনা ছিল
‘মানুষের মৃতদেহগুলো কচুিরপানার ঝোপের মত সমুদ্রের দিকে ধাবিত হচ্ছে’।

৭০’র জলোচ্ছ্বাসের ফলে উপকূলীয় জনপদে পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ভৌগলিক বন্ধনের বাঁধ ছিন্ন-ভিন্ন, হয়ে যায়।
ধ্বংসযজ্ঞের উপর দাঁড়িয়ে বেঁচে থাকা উপকূলীয় চরাঞ্চল স্থানীয়দের অসহায়ত্বসহ পূর্ব পাকিস্তানী জাতীয় রাজনৈতিক
চৈতন্যবোধের ঝাঁকুনিতে তত্কালীন পশ্চিম পাকিস্তানী নির্লিপ্ত শাসক-শোষকদের পিন্ডির মসনদে আঘাত হানে।
তখন উপকূলীয় এলাকায় জাতীয় পরিষদ নির্বাচন স্থগিত হয়।
We should pay close attention to the lessons of history, and the lessons of nature.
The lesson of how policy mismanagement led to public dissatisfaction and eventually contributed to national dismemberment is a stark reminder. It is a lesson that should not be lost on the politicians, policy-makers and people of Pakistan.

There is a reason why disasters require national solidarity. Without it, they can become even more disastrous and deeply buried fissures in the social fabric can burst forth in volcanic anger. As we look around at the political, policy and citizen response to the current floods, one sees too many who wish to turn disaster into a political opportunity. Those who do would be well advised to remember Bhola. Indeed, we would all be well advised to remember Bhola.

There are important lessons to learn from our own mistakes. For the sake of our present, if not of our past, let us resolve not to make the same mistakes again. Let us not forget what is the real lesson of Bhola in 1970, as of so many other tragedies: dissatisfaction in times of crisis can be a force of agony, and political catastrophe can sometimes grow from seeds sown in natural disaster.
———————————————————–
মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ৩৫তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ।

১৯৭৬ সালের ১৭ নভেম্বর তিনি মারা যান। এই সংগ্রামী নেতা দেশের নিপীড়িত ও নির্যাতিত মানুষের মুক্তির জন্য সারা জীবন আন্দোলন, সংগ্রামে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। সাম্রাজ্যবাদ ও পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদীকণ্ঠ ছিলেন। বাঙালি জাতিসত্তা বিকাশের আন্দোলনে তার অবদান স্মরণীয়। স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেছেন।

মওলানা ভাসানী দীর্ঘ কর্মময় জীবনের অধিকাংশ সময়ই টাঙ্গাইলের সন্তোষে কাটিয়েছেন। সেখানে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। এই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ১৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ৯টি কারিগরি ও সামাজিক সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। ‘৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলে টাঙ্গাইলের সন্তোষে মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। এই মহান নেতা ১৮৮০ সালে সিরাজগঞ্জ জেলার ধানগড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। জীবনের শুরুতে মক্তবে শিক্ষা গ্রহণ এবং মক্তবেই কিছুকাল শিক্ষকতা করেন। ১৯০৩ সালে আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯১৯ সালে কংগ্রেসে যোগ দিয়ে খেলাফত ও অসহযোগ আন্দোলনে অংশ নেন এবং এ সময় ১০ মাস কারা ভোগ করেন। ১৯২৯ সালে আসামের ধুবড়ী জেলার ব্রহ্মপুত্র নদের ভাসানচরে প্রথম কৃষক সম্মেলন করেন। সেই থেকে তার নামের পিছনে ভাসানী শব্দ যুক্ত হয়। ১৯৩১ সালে টাঙ্গাইলের সন্তোষের কাগমারীতে, ১৯৩২ সালে সিরাজগঞ্জের কাওরাখোলায় এবং ১৯৩৩ সালে গাইবান্ধায় বিশাল কৃষক সম্মেলন করেন। ভাষা আন্দোলনে এবং ১৯৬৯ সালে আইয়ুববিরোধী গণআন্দোলনে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেন। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার এবং শেখ মুজিবুর রহমানসহ এ মামলার সকল আসামীর নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন। ১৯৭০ সালের নভেম্বরে উপকূলীয় এলাকায় প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় হলে দুর্গত এলাকায় ত্রাণ কাজে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৭০ সালের ৪ ডিসেম্বর ঢাকার পল্টন ময়দানে এক জনসভায় ভাষণ দিয়ে স্বাধীন পূর্ব পাকিস্তান দাবি উত্থাপন করেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত ১৯৭১ সালের অসহযোগ আন্দোলনের প্রতি সমর্থন দেন। ১৯৭১ সালে মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হন। এ সময় তিনি ভারতে ছিলেন। ১৯৭২ সালের ২২ জানুয়ারি স্বাধীন বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন এবং একই বছর ২৫ ফেব্রুয়ারি সাপ্তাহিক হক কথা পত্রিকা প্রকাশ করেন। মুজিব সরকারের ব্যাংক, বীমা ও শিল্প প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ নীতি ও ১৯৭২ সালে সংবিধানের প্রতি সমর্থন প্রদান করেন। দিবসটি উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০ টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি থাকবেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। শহীদ আসাদ পরিষদ ও বাংলাদেশ গরীব মুক্তি আন্দোলনের যৌথ উদ্যোগে সকাল সাড়ে ৭ টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে জমায়েত ও প্রভাত ফেরী অনুষ্ঠিত হবে। এর পরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মওলানা ভাসানীর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হবে। এছাড়াও বিকেল তিনটায় স্বোপার্জিত স্বাধীনতা মঞ্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান, জাতীয় মুক্তিযুদ্ধ ও মওলানা ভাসানী’ শীর্ষক আলোচনা সভা এবং কবিতা পাঠের আয়োজন করা হয়েছে। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন ফজলে হোসেন বাদশা এমপি, অধ্যাপক মেজবাহ কামাল প্রমুখ।

এ দিকে ইত্তেফাকের টাঙ্গাইল প্রতিনিধি খান মোহাম্মদ খালেদ জানান, রবিবার থেকে টাঙ্গাইলে পাঁচদিনব্যাপী শিক্ষা, সংস্কৃতি, রাজনীতি, অর্থনীতি, কৃষি বিষয়ক মেলার আয়োজন করা হয়েছে। টাঙ্গাইল মওলানা ভাসানী ফাউন্ডেশনের আয়োজনে মাজার প্রাঙ্গণে এ মেলায় ২৬টি স্টল স্থান পেয়েছে। প্রতিদিন বিকেলে ভাসানীর উপর বিভিন্ন আলোচনা ছাড়াও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

ভাসানীর মৃত্যুবার্ষিকী এ উপলক্ষে বিএনপি গতকাল বুধবার বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আলোচনা সভা করেছে। মওলানা ভাসানীর মৃত্যুবার্ষিকী পালন কমিটির আহ্বায়ক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বিশেষ অতিথি স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ, শামসুজ্জামান দুদু, ডা. এজেড এম জাহিদ হোসেন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, জাফরুল হাসান, নজমুল হক নানু, কবির মুরাদ, এডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, খায়রুল কবীর খোকন, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু প্রমুখ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, ভাসানী ও জিয়াউর রহমানের রাজনীতি অভিন্ন— আজ দেশের রাজনীতি বিপদগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। মওলানা ভাসানীর স্বপ্নও বিপদগ্রস্ত। আমরা আবার আক্রান্ত হয়েছি। তাই এ থেকে উত্তরণের জন্য সবাইকে মওলানা ভাসানী ও জিয়াউর রহমানের পথ অনুসরণ করতে হবে।

বিশেষ অতিথি অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, বৃটিশ থেকে পাকিস্তান হয়ে বাংলাদেশ। এই তিনটি আমলেই ভাসানীকে কারাবরণ করতে হয়েছে। জীবনের ৩৩টি বছর তিনি কারাগারে কাটিয়েছেন।

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে তার ছিল গভীর আদর্শিক ঐক্য ও রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা। শোষণ ও বঞ্চনাহীন এবং প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক, অসামপ্রদায়িক বাংলাদেশ গঠনের জন্য তিনি আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। [ইত্তেফাক থেকে]
————————
আবদুল হামিদ খান ভাসানী (ডিসেম্বর ১২, ১৮৮০-নভেম্বর ১৭, ১৯৭৬) বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ।
যুক্তফ্রন্ট গঠনে প্রধান নেতাদের মধ্যে অন্যতম। দেশের মানুষের কাছে ‘মজলুম জননেতা’ হিসাবে পরিচিত। স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় বিশিষ্ট ভূমিকা পালন করেন। তিনি রাজনৈতিক জীবনের বেশীরভাগ সময় বামপন্থী মাওধারার রাজনীতির সাথে জড়িয়ে ছিলেন। তার অনুসারীদের অনেকে এজন্য তাকে “লাল মাওলানা ” নামেও ডাকতেন। তিনি ছিলেন একজন দূরদর্শী নেতা এবং ষাটের দশকের শুরুতেই নিশ্চিত হয়েছিলেন যে পাকিস্তানের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ একটি অচল রাষ্ট্রকাঠামো।

‘আফ্রো-এশিয়া-ল্যাটিন আমেরিকার মজলুম জননেতা’ মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা। তিনিই প্রথম এ দেশ স্বাধীন করার স্বপ্ন দেখেছিলেন। অন্যায় আর অত্যাচারের বিরুদ্ধে তার ছিল আপসহীন সংগ্রাম। এই সংগ্রাম ছিল সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে। ছিল পাকিস্তানের স্বৈরাচারী শাসকদের বিরুদ্ধে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরপরই সরকারের যাবতীয় কালা কানুন, গণতন্ত্রবিরোধী কার্যকলাপ ও জুলুমের বিরুদ্ধে তার কণ্ঠ হয়ে উঠেছিল সোচ্চার। এই বিপ্লবী পুরুষ কোনো স্বৈরশাসককে ক্ষমা করেননি। হাত মেলাননি গদি অথবা অর্থের মোহে পড়ে।

দেশে ভয়াবহ বন্যা হলো পাকিস্তান আমলের শেষ দিকে। সেই বন্যায় নিহত হয় লাখ লাখ মানুষ। তখন ভাসানী সভা ডেকেছেন টাঙ্গাইল পার্ক ময়দানে। এই প্রথম তাকে খুব কাছে থেকে দেখার সুযোগ হলো। কলেজে প্রথমবর্ষে ভর্তি হয়েছি। গিয়েছিলাম তাকে দেখতে এবং তার ভাষণ শুনতে। আশ্চর্য হলাম তার পোশাক-পরিচ্ছদ দেখে। এত বড় একজন বরেণ্য নেতার এ কী সাধারণ বেশ!

শুনলাম মওলানার অমোঘ ভাষণ। বৃদ্ধ নেতার কী বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর! প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার উদ্দেশে তিনি বললেন, ‘ইয়াহিয়া সাহেব! আপনি পূর্ব পাকিস্তানের মানুষকে বাঁচান। হাজার হাজার গৃহহারা মানুষ পানিবন্দী হয়ে আছে; হেলিকপ্টার পাঠিয়ে তাদের উদ্ধার করুন। খাদ্যসামগ্রী পাঠান।’ বক্তৃতার মাঝে মাঝে উচ্চকণ্ঠে উচ্চারিত হচ্ছিল তার ‘খামোশ’ ধ্বনি, যা ছিল সিংহের গর্জনের মতো। তারপর মওলানা ভাসানীকে ১৯৭০-৭১ সালে অনুষ্ঠিত সভা ও মিছিলে দূর থেকে দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল। প্রতিদিনকার পত্রিকায় তখন গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশিত হতো তার খবর ও ছবি। ১৯৭০ সালে তিনি বললেন, ‘ভোট নয়, দেশের স্বাধীনতা চাই।’

’৭৩ ও ’৭৪ সালে মওলানা ভাসানী টাঙ্গাইলের সন্তোষে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে জাতীয় পর্যায়ে তিনটি শিক্ষাসংক্রান্ত সম্মেলনের আয়োজন করেন। খ্যাতনামা শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সাংবাদিকেরা এতে যোগ দিয়েছিলেন। তার স্বপ্নের ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আদর্শ ও রূপরেখা প্রণয়ন করে ১৯৭৪ সাল থেকে তা বাস্তবায়নের কাজে হাত দেন।

১৯৭৪ সালে দেশব্যাপী ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের সময় অধুনালুপ্ত দৈনিক আজাদের সাংবাদিক হিসেবে গিয়েছিলাম মওলানা ভাসানীর সাক্ষাৎকার নিতে। সকালের সোনালি রোদে তার দেখা পেলাম। দেখলাম, শান্ত সৌম্য হাস্যোজ্জ্বল এক ব্যতিক্রমী নেতাকে। তিনি থাকতেন যেখানে, সেই টিনের ঘর ছেড়ে বেরিয়ে এলেন উঠোনে। সালাম দিলাম, পরিচয় দিলাম। তিনি বাইরের ছনের ঘরটায় ভাঙা একটা চেয়ারে বসলেন। আমাদের বসতে বললেন। সামনের চেয়ার দু’টিতে আমরা বসলাম।

পত্রিকার পরিচয় দিতেই মওলানা শুরু করলেন দৈনিক আজাদের প্রতিষ্ঠাতা, পাকিস্তান আন্দোলনের অন্যতম নেতা ও বিখ্যাত লেখক মওলানা আকরম খাঁ সাহেবের সাথে তার দীর্ঘ সময়ের স্মৃতিঘেরা রাজনৈতিক দিনগুলোর কথা। মনে হলো, তার স্মৃতির ভাণ্ডার যেন খুলে গেল। কায়েদে আজম, শেরেবাংলা, সোহরাওয়ার্দী প্রমুখ নেতাসহ পাকিস্তান আন্দোলনে নিজের জীবনের সাথে সম্পৃক্ত নানা ঘটনা বলতে শুরু করলেন। গভীর আগ্রহের সাথে শুনলাম তার অতীতজীবনের কাহিনী।

সাংবাদিকদের অনেকের জানা আছে (যারা মওলানা ভাসানীর সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন), সাংবাদিকতার নিয়ম অনুসারে তাকে প্রশ্ন করা বা উত্তর নেয়া যেত না। সংক্ষেপে তিনি বলতে পারতেন না। যেভাবে প্রশ্ন করি, তার উত্তর সেভাবে দিতেন না। অনেক বিস্তারিত ও ইতিহাস-আশ্রিত তথ্যবহুল সে উত্তর।
দেশের দুর্ভিক্ষের অবস’া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করায় খুব রেগে উঠলেন। বললেন, তোমরা সাংবাদিক। তোমরা মওলানা ভাসানীর কাছে এসেছ দুর্ভিক্ষের খবর নিতে? কেন, তোমরা শহরে বসে সাংবাদিকতা করো? তোমরা গ্রামে যাও। শাহজানী, হুগডা, কাতুলী, শাহজাদপুর প্রভৃতি চর এলাকায় গিয়ে দেখো, মানুষ কী খেয়ে দিন কাটাচ্ছে। কচু-ঘেচু, ভাতের ফ্যান, চালের কুঁড়ার চাপড়ি, আটার জাউ, এগুলো খেয়ে মানুষ কষ্টে বেঁচে আছে। এসব অখাদ্য খেয়ে কলেরা, ডায়রিয়ায় প্রতিদিন মারা যাচ্ছে মানুষ। কাফনের কাপড় পাচ্ছে না। কলার পাতা দিয়ে দাফন করতে হচ্ছে।”

একটু থামলেন জনদরদি এই নেতা। বললেন, ‘শেখ মুজিবকে বললাম, তুমি দেশের মানুষকে বাঁচাও। তোমার সরকারের রিলিফ জনসাধারণ পাচ্ছে না। তোমারই দলের লোকেরা লুটপাট করে তা খাচ্ছে।’

সাংবাদিক হিসেবে খুব লজ্জিত হলাম এ জন্য যে, সত্যিই আমরা কিছু সাংবাদিক শহরে বসে বসে গ্রামের মানুষের দুঃখদুর্দশার কথা পত্রিকায় লিখি। কিন’ স্বচক্ষে দেখতে যাই না। মওলানা ভাসানীর কাছে পেলাম যেন পুরো বাংলাদেশের সচিত্র প্রতিবেদন। তিনি তুলে ধরলেন বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, দিনাজপুরসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের দুঃখদুর্দশার কথা। সামনাসামনি বসে প্রায় ঘণ্টাখানেক কথা বলার সুযোগ হয়েছিল। জীবনে সেই দিনটির কথা কোনো দিন ভুলব না। সাক্ষাৎকারটি যত্নের সাথে দৈনিক আজাদ পত্রিকায় প্রকাশ পেয়েছিল, তবে সরকারি সেন্সর হয়ে। এরই ফাঁকে তার মেহমানদারিতে ভুল হয়নি। তিনি বললেন, ‘আমি গরিব মানুষ, কী খাওয়াব তোমাদের।’ লোক ডেকে ঘর থেকে সবরি কলা এনে দিলেন। এমন সময় পশ্চিমবঙ্গ থেকে সরকারি দলের এক নেতা এসে ঢুকলেন। আমরা সালাম দিয়ে চলে এলাম।

মুজিব সরকারের খাদ্যমন্ত্রী ফণীভূষণ মজুমদার একবার এলেন সন্তোষে সরকারি সফরে। সাংবাদিক হিসেবে ছিলাম আমন্ত্রিত। দরবার হলে মন্ত্রীর বক্তৃতার পর খাবারের ব্যবস’া হলো। আমরা সাংবাদিক, সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক কর্মী ও নেতাসহ প্রায় দুই শ’ লোক বসলাম। আমাদের ধারণা ছিল, মন্ত্রী মহোদয়ের জন্য অন্তত আলাদা কিছু ভালো খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে। কিন’ না, চিনা ও আউশের চালমিশ্রিত ভাত, পুকুরের নলামাছ বেগুন দিয়ে রান্না করা, মুরগির এক টুকরো গোশত ও ডাল সবাইকে খেতে দেয়া হলো। সম্ভবত চৈত্রের শেষের দিকে হবে। অথচ ফল খেতে দেয়া হলো তরমুজ, লিচু, কলা, কাঁঠাল ইত্যাদি।

আরো দুই-তিনবার মওলানা ভাসানীর সন্তোষের বাড়িতে তার পাশে বসে খাওয়ার সুযোগ হয়েছে। নিরহঙ্কারী মানুষটি যাকে সামনে পেয়েছেন তাকে আহ্বান করেছেন একসাথে বসে খাওয়ার জন্য। উঁচুদরের মানুষ মনে করে কারো জন্য আলাদা খাবারের আয়োজন করেননি। আবার কাউকে কৃষক-মজুর বলে অবহেলা করেননি। অনেক বড় নেতার কথা শুনেছি, পত্রিকায় ছাপা হওয়ার জন্য, টিভিতে দেখানোর জন্য বস্তির মানুষকে ডেকে এনে পাশে বসিয়ে ক্যামেরাম্যানদের দিয়ে ছবি তুলে রেখে উঠে দাঁড়িয়েছেন খাবার থালা রেখে। কিন’ ‘অশুচি অস্পৃশ্য’ নিম্নবিত্ত মানুষগুলোর সত্যিই নয়নের মণি ছিলেন মওলানা ভাসানী। তার মনে-প্রাণে-ধ্যানে ছিল ইসলামের শাশ্বত মানবতার আদর্শ। মওলানা দুস’ মানবতার সেবায় যেমন ছিলেন একনিষ্ঠ, তেমনি জালেম, স্বৈরাচারী ও সাম্রাজ্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে ছিলেন সোচ্চার। শোষকের সাথে নীতির ব্যাপারে আপস করেননি। গৃহবন্দী জীবন কাটালেও ক্ষমতা, অর্থ, সুবিধা বা খ্যাতির সুযোগ তিনি গ্রহণ করেননি। করেছেন ঘৃণা।

১৮৮০-১৯২৯
মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী সিরাজগঞ্জের ধানগড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম হাজী শরাফত আলী খান। মক্তব হতে শিক্ষাগ্রহণ করে কিছুদিন মক্তবেই শিক্ষকতা করেন। ১৮৯৭ সালে পীর সৈয়দ নাসীরুদ্দীনের সাথে আসাম যান। ১৯০৩ সালে সন্ত্রাসবাদী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন। ইসালামিক শিক্ষার উদ্দেশ্যে ১৯০৭-এ দেওবন্দ যান। দুই বছর সেখানে অধ্যয়ন করে আসামে ফিরে আসেন। ১৯১৭ সালে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস ময়মনসিংহ সফরে গেলে তার ভাষণ শুনে ভাসানী অনুপ্রাণিত হন। ১৯১৯ সালে কংগ্রেসে যোগদান করে খেলাফত আন্দোলন ও অসহযোগ আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে দশ মাস কারাদণ্ড ভোগ করেন। ১৯২৩ সালে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন স্বরাজ্য পার্টি গঠন করলে ভাসানী সেই দল সংগঠিত করার ব্যাপারে ভূমিকা পালন করেন। ১৯২৬-এ আসামে প্রথম কৃষক-প্রজা আন্দোলনের সুত্রপাত ঘটান। ১৯২৯-এ আসামের ধুবড়ী জেলার ব্রহ্মপুত্র নদের ভাসান চরে প্রথম কৃষক সম্মেলন আয়োজন করেন।এখান থেকে তার নাম রাখা হয় ” ভাসানীর মাওলানা “। এরপর থেকে তার নামের শেষে ভাসানী শব্দ যুক্ত হয়।

১৯৩০-১৯৫৯
১৯৩১-এ সন্তোষের কাগমারীতে, ১৯৩২-এ সিরাজগঞ্জের কাওরাখোলায় ও ১৯৩৩-এ গাইবান্ধায় বিশাল কৃষক সম্মেলন করেন। ১৯৩৭-এ মাওলানা ভাসানী কংগ্রেস ত্যাগ করে মুসলীম লীগে যোগদান করেন। সেই সময়ে আসামে ‘লাইন প্রথা’ চালু হলে এই নিপীড়নমূলক প্রথার বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেতৃত্ব দান করেন।এসময় তিনি ” আসাম চাষী মজুর সমিতি” গঠন করেন এবং ধুবরী, গোয়ালপাড়া সহ বিভিন্ন জায়গায় প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। ১৯৪০ সালে শের-এ-বাংলা এ.কে. ফজলুল হকের সঙ্গে মুসলীম লীগের লাহোর সম্মেলনে যোগদান করেন। ১৯৪৪ সালে মাওলানা ভাসানী আসাম প্রাদেশিক মুসলীম লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৪৫-৪৬ সালে আসাম জুড়ে বাঙালিদের বিরুদ্ধে “বাঙ্গাল খেদাও” আন্দোলন শুরু হলে ব্যাপক দাঙ্গা দেখা দেয়। এসময় বাঙালিদের রক্ষার জন্য ভাসানী বারপেটা, গৌহাটি সহ আসামের বিভিন্ন জায়গা ঘুরে বেড়ান। পাকিস্তান আন্দোলনে অংশ নিয়ে ১৯৪৭ সালে আসামে গ্রফতার হন। ১৯৪৮-এ মুক্তি পান। এরপর তিনি টাঙ্গাইলের সন্তোষে ফিরে আসেন।১৯৪৮ সালের প্রথম দিকে তিনি বঙ্গীয় মুসলিম লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পূর্ববঙ্গ ব্যবস্থাপক সভার সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দের ১৭ মার্চ ব্যবস্থাপক সভার কার্যাবলি বাংলায় পরিচালনা করার জন্য স্পিকারের কাছে দাবি জানান এবং এই দাবি নিয়ে পীড়াপীড়ি করেন। ১৯ মার্চ বাজেট বক্তৃতায় অংশ নিয়ে বলেন, যেসব কর কেন্দ্রীয় সরকার পূর্ববঙ্গ প্রদেশ থেকে সংগ্রহ করে তার শতকরা ৭৫% প্রদেশকে দিতে হবে। এখানে উলেস্নখ যে, ব্রিটিশ আমলে বঙ্গপ্রদেশ জুটেক্স ও সেলসট্যাক্স রাজস্ব হিসেবে আদায় করত এবং এই করের ভাগ কেন্দ্রীয় সরকারকে দিতে হতো না। পাকিস্তান সৃষ্টির পর কেন্দ্রীয় সরকার পূর্ববঙ্গ সরকারের হাত থেকে এই কর ছিনিয়ে নিয়ে নিজেরাই আদায় করতে থাকে যার ফলে পূর্ববঙ্গ সরকার আর্থিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। বিস্ময়ের ব্যাপার হলো এই সময় পূর্ববঙ্গ সরকারের বার্ষিক বাজেট ছিল মাত্র ৩৬ কোটি টাকা। যাই হোক, মুসলিম লীগ দলের সদস্য হয়েও সরকারের সমালোচনা করায় মুসলিম লীগের ৰমতাসীন সদস্যরা মওলানা ভাসানীর ওপর অখুশী হয় এবং তার নির্বাচনে ত্রুটি ছিল এই অজুহাত দেখিয়ে আদালতে মামলা দায়ের করে এবং মওলানা ভাসানীকে নানাভাবে হয়রানি করতে থাকে। পরিশেষে মওলানা ভাসানী ব্যবস্থাপক সভার সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এতদসত্ত্বেও পূর্ববঙ্গের তৎকালীন গভর্নর এক নির্বাহী আদেশ বলে মওলানা ভাসানীর নির্বাচন বাতিল করেন। বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম লীগের জনবিরোধী কার্যকলাপের ফলে মওলানা ভাসানী ১৯৪৯ সালের ২৩-২৪ জুন ঢাকার টিকাটুলিতে রোজ গার্ডেনে মুসলিম লীগ কর্মী সম্মেলন আহ্বান করেন। ২৩ জুন ওই কর্মিসম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সারাদেশ থেকে প্রায় ৩০০ কর্মিসম্মেলনে যোগদান করেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন আতাউর রহমান খান। মওলানা ভাসানী ছিলেন প্রধান অতিথি। ২৩ জুন পূর্ববঙ্গের প্রথম বিরোধী রাজনৈতিক দল পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ গঠিত হয়। মওলানা ভাসানী সর্বসম্মতিক্রমে এই দলের সভাপতি নির্বাচিত হলেন। সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন শামসুল হক। ২৪ জুন আরমানীটোলা ময়দানে আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রথম জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৪৯ সালের মধ্যভাগে পূর্ববঙ্গে খাদ্যাভাব দেখা দেয়। ১১ অক্টোবর আরমানীটোলা ময়দানে আওয়ামী মুসলিম লীগের একটি জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় খাদ্য সমস্যা সমাধানে ব্যর্থতার জন্য পূর্ববঙ্গ মন্ত্রিসভার পদত্যাগ দাবি করা হয় এবং ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মওলানা ভাসানী ভুখা মিছিলে নেতৃত্ব দেন। ভূখা মিছিলে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য ১৯৪৯-এর ১৪ অক্টোবর গ্রেফতার হয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে কারাবরণ করেন।

১৯৫০ সালে সরকার কর্তৃক রাজশাহী কারাগারের খাপরা ওয়ার্ড এর বন্দীদের উপর গুলিবর্ষণের প্রতিবাদে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে অনশন ধর্মঘট পালন করেন এবং ১৯৫০ সালের ১০ ডিসেম্বর তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান। বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ১৯৫২-র ৩০ জানুয়ারি ঢাকা জেলার বার লাইব্রেরী হলে তার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা কর্মপরিষদ গঠিত হয়। রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে সহযোগিতার কারণে গ্রেফতার হয়ে ১৬ মাস কারানির্যাতনের শিকার হন। অবশ্য জনমতের চাপে ১৯৫৩ সালের ২১ এপ্রিল মওলানা ভাসানীকে জেল থেকে মুক্তি দেয়া হয়।পূর্ববঙ্গের প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ১৯৫৩ সালের ৩ ডিসেম্বর কৃষক-শ্রমিক পার্টির সভাপতি শের-এ-বাংলা এ.কে. ফজলুল হক এবং হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দীকে সঙ্গে নিয়ে যুক্তফ্রন্ট নামক নির্বাচনী মোর্চা গঠন করেন। নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট বিপুল বিজয় অর্জন করে এবং পূর্ব বাংলার প্রাদেশিক পরিষদে ২৩৭ টির মধ্য ২২৮ টি আসন অর্জনের মাধ্যমে নিরঙকুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। ফজলুল হকের নেতৃত্বে সরকার গঠন করার পর ২৫শে মে ১৯৫৪ মাওলানা ভাসানী বিশ্ব শান্তি সম্মেলনে যোগদানের উদ্দেশ্যে সুইডেনের রাজধানী স্টকহোল্ম যান এবং সেখানে বক্তব্য প্রদান করেন। ৩০ মে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা ভেঙ্গে দিয়ে পূর্ব পাকিস্তানে গভর্ণরের শাসন জারি করে এবং মাওলানা ভাসানীর দেশে প্রত্যাবর্তনের উপর বিধিনিষেধ আরোপ করেন। ১১ মাস লন্ডন, বার্লিন, দিল্লী ও কলকাতায় অবস্থান করার পর তার উপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হলে ১৯৫৫-র ২৫ এপ্রিল দেশে প্রত্যাবর্তন করেন। পূর্ব বাংলায় খাদ্যজনিত দুর্ভিক্ষ রোধের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে ৫০ কোটি টাকা আদায়ের দাবিতে ১৯৫৬-র ৭ মে ঢাকায় অনশন ধর্মঘট শুরু করেন। সরকার দাবি মেনে নিলে ২৪ মে অনশন ভঙ্গ করেন। একই বছর ১২ সেপ্টেম্বর হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ-রিপাবলিকান পার্টির কোয়ালিশন সরকার গঠিত হলে মাওলানা ভাসানী সরকারের পররাষ্ট্রনীতির বিরোধিতা করে নিরপেক্ষ নীতি অবলম্বন করার জন্য সরকারের উপর চাপ প্রয়োগ করেন।

১৯৫৬তে পাকিস্তান গণপরিষদে যে খসড়া শাসনতন্ত্র বিল পেশ করা হয় তাতে পাকিস্তানকে ইসলামিক রিপাবলিক বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল,তখন মাওলানা ভাসানী পল্টনের জনসভায় তার বিরোধিতা করে সুস্পষ্ট বক্তব্য দিয়েছিলেন৷

কাগমারী সম্মেলনে১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়। ৮ ফেব্রুয়ারি ডক্টর কাজী মোতাহার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি আরম্ভ হয়। এই সভায় মওলানা ভাসানীও বক্তৃতা করেন। বক্তৃতায় অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে তিনি বলেন, পূর্ববাংলা পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় শাসকদের দ্বারা শোষিত হতে থাকলে পূর্ববঙ্গবাসী তাদের সালামু ওআলায়কুম জানাতে বাধ্য হবে।এছাড়া কাগমারী সম্মেলনে ভাসানী পাক-মার্কিন সামরিক চুক্তি বাতিলের দাবি জানান। প্রধানমন্ত্রী সোহ্‌রাওয়ার্দী সেই দাবি প্রত্যাখান করলে ১৮ মার্চ আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করেন। একই বছর ২৫ জুলাই তার নেতৃত্বে ঢাকার রূপমহল সিনেমা হলে ‘ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি’ (ন্যাপ) গঠিত হয়। ন্যাপ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ভাসানী প্রকাশ্যে বামপন্থী রাজনীতির সাথে জড়িয়ে পড়েন এবং এর পর থেকে সবসময় বাম ধারার রাজনীতিএর সাথেই সংশ্লিষ্ট ছিলেন। ১৯৫৭-র ৭ অক্টোবর দেশে সামরিক শাসন জারি হলে আইয়ুব খান ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে সকল রাজনৈতিক দলের কর্মকান্ড নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। ১২ অক্টোবর মাওলানা ভাসানীকে কুমুদিনী হাসপাতাল থেকে গ্রেফতার করা হয়। ঢাকায় ৪ বছর ১০ মাস কারারুদ্ধ থাকেন।

১৯৬০-১৯৬৯
বন্দী অবস্থায় ১৯৬২-র ২৬ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত বন্যাদুর্গতদের সাহায্য ও পাটের ন্যায্যমূল্যসহ বিভিন্ন দাবিতে অনশন ধর্মঘট পালন করেন। ৩ নভেম্বর মুক্তিলাভ করেন এবং ন্যাশনাল ডেমোক্রাটিক ফ্রন্ট-এর রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত হন। ১৯৬৩-র মার্চ মাসে আইয়ুব খানের সাথে সাক্ষাত করেন। একই বছর ২৪ সেপ্টেম্বর চীনের বিপ্লব দিবস-এর উৎসবে যোগদানের জন্য ঢাকা ত্যাগ করেন এবং চীনে সাত সপ্তাহ অবস্থান করেন। ১৯৬৪-র ২৯ ফেব্রুয়ারি ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি পুনরুজ্জীবিত করে দলের সভাপতির দ্বায়িত্বভার গ্রহণ করেন এবং একই বছর ২১ জুলাই ‘সম্মিলিত বিরোধী দল’ (কপ) গঠনে ভূমিকা পালন করেন। ১৯৬৫-র ১৭ জুলাই আইয়ুব খানের পররাষ্ট্র নীতির প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন। ১৯৬৬-তে শেখ মুজিবুর রহমানের উপস্থাপিত ছয় দফা কর্মসূচীর বিরোধিতা করেন। ১৯৬৭-র ২২ জুন কেন্দ্রীয় সরকার রেডিও ও টেলিভিশন থেকে থেকে রবীন্দ্র সঙ্গীত প্রচার বন্ধ করার নির্দেশ জারি করলে এর প্রতিবাদ করেন। ১৯৬৭-র নভেম্বর-এ ন্যাপ দ্বি-খন্ডিত হলে চীনপন্থি ন্যাপের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৬৯ সালে আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনে মাওলানা ভাসানী বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেন। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামীদের মুক্তি দাবি করেন। ৮ মার্চ (১৯৬৯) পশ্চিম পাকিস্তানে গিয়ে সেখানে পাকিস্তান পিপলস পার্টির নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টোর সাথে সাক্ষাত করে গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র কায়েমের লক্ষ্যে একমত হন। ২৬ শে ফেব্রুয়ারি আইয়ুব খান কর্তৃক আহুত গোলটেবিল বৈঠক প্রত্যাখান করে শ্রমজীবীদের ঘেরাও কর্মসূচী পালনে উৎসাহ প্রদান করেন। আইয়ুব খান সরকারের পতনের পর নির্বাচনের পূর্বে ভোটের আগে ভাত চাই, ইসলামিক সমাজতন্ত্র কায়েম ইত্যাদি দাবি উত্থাপন করেন।

১৯৭০-১৯৭৬
১৯৭০ সালের ৬-৮ আগস্ট বন্যা সমস্যা সমাধানের দাবিতে অনশন পালন করেন।অতঃপর সাধারণ নির্বচনে অংশ গ্রহণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। ১২ নভেম্বর (১৯৭০) পূর্ব পাকিস্তানে প্রলয়ঙ্কারী ঘুর্ণিঝড় হলে দুর্গত এলাকায় ত্রান ব্যবস্থায় অংশ নেয়ার জন্য ন্যাপ প্রার্থীরা নির্বাচন থেকে সরে দাড়ান। ১৯৭০ সালের ৪ ডিসেম্বর ঢাকার পল্টন ময়দানে এক জনসভায় ‘স্বাধীন পূর্ব পাকিস্তান’ দাবি উত্থাপন করেন। ১৯৭১ এর মার্চ মাসে শেখ মুজিবুর রহমানের অসহযোগ আন্দোলন এর প্রতি সমর্থন প্রদান করেন এবং ১৮ জানুয়ারী ১৯৭১ পল্টন ময়দানে অনুষ্ঠিত জনসভায় স্বাধীনতার ঘোষণা প্রদানের জন্য তার প্রতি আহবান জানিয়েছিলেন। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ভারত যান এবং মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হন।২৫ মার্চ রাতে মওলানা ভাসানী সন্তোষে তার গৃহে অবস্থান করছিলেন। তিনি পাকিস্তান বাহিনীর দৃষ্টি এড়িযে টাঙ্গাইল ছেড়ে তার পিতৃভূমি সিরাজগঞ্জে চলে যান। পাকিস্তান বাহিনী তার সনত্দোষের বাড়িটি পুড়িয়ে দেয়। মওলানা ভাসানী মোজাফ্ফর ন্যাপ নেতা সাইফুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে নৌকাযোগে ভারত সীমানা অভিমুখে রওনা হন। অবশেষে ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মইনুল হক চৌধুরীর সাহায্যে মওলানা ভাসানী ও সাইফুল ইসলাম ১৫/১৬ এপ্রিল পূর্ববঙ্গ অতিক্রম করে আসামের ফুলবাড়ী নামক স্থানে উপস্থিত হন। পরে তাদের হলদীগঞ্জ বিএসএফ ক্যাম্পে আশ্রয় দেয়া হয়। এরপর মওলানা ভাসানী ও সাইফুল ইসলামকে প্লেনে করে কলকাতায় পাঠিয়ে দেয়া হয় এবং পার্ক স্ট্রিটের কোহিনুর প্যালেসের ৫তলার একটি ফ্ল্যাট তাদের অবস্থানের জন্য দেয়া হয়। ১৯৭১ সালের ২৩ এপ্রিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার পৰে মওলানা ভাসানী একটি বিবৃতি প্রদান করেন যা ভারতীয় বাংলা ও ইংরেজি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। এছাড়া মওলানা ভাসানী চীনের নেতা মাও সে তুং, চৌ এন লাই এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের কাছে তার বার্তা পাঠিয়ে তাদের অবহিত করেন যেন পূর্ববঙ্গে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ব্যাপকহারে গণহত্যা চালাচ্ছে। সেজন্য তিনি প্রেসিডেন্ট নিক্সনকে অনুরোধ করেন এই মর্মে যে, তিনি যেন পাকিস্তানকে অস্ত্র সরবরাহ না করেন। উপরন্তু মওলানা ভাসানী প্রেসিডেন্ট নিক্সনকে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেবার আহ্বান জানান। ১৯৭১ সালের ২৫ এপ্রিল মওলানা ভাসানী সোভিয়েত রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট কাছে পাকিস্তান বাংলাদেশের জনগণের ওপর যে বর্বরোচিত অত্যাচার চালাচ্ছে তার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করেন। ৩১ মে মওলানা ভাসানী এক বিবৃতিতে বলেন, বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষ দখলদার বাহিনীর সঙ্গে জীবনমরণ সংগ্রামে লিপ্ত। তারা মাতৃভূমি রৰার জন্য বদ্ধপরিকর। তারা এই সংগ্রামে জয়লাভ করবেই। ৭ জুন মওলানা ভাসানী এক বিবৃতিতে বলেন, বাংলাদেশের সব অঞ্চল আজ দশ লাখ বাঙালির রক্তে স্নাত এবং এই রক্তস্নানের মধ্য দিয়েই বাংলার স্বাধীনতা আসবে।

এর মধ্যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ দু’বার কোহিনুর প্যালেসে এসে মওলানা ভাসানীর সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হন এবং তার পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রার্থনা করেন।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে সর্বদলীয় চরিত্র দেয়ার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে আট সদস্যবিশিষ্ট উপদেষ্টা কমিটি গঠিত হয় যার সভাপতি ছিলেন মওলানা ভাসানী। ওই উপদেষ্টা কমিটির সদস্য ছিলেন_ ১) তাজউদ্দীন আহমদ, ২) মণি সিং, ৩) অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ, ৪) মনোঞ্জন ধর প্রমুখ। মওলানা ভাসানীর সভাপতিত্বে ওই উপদেষ্টা কমিটির সভায় এই মর্মে অভিমত ব্যক্ত করা হয় যে, পূর্ববঙ্গের পূর্ণ স্বাধীনতা ব্যতিরেক অন্য কোন প্রকার রাজনৈতিক সমাধান গ্রহণযোগ্য হবে না।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে মওলানা ভাসানী কলকাতা ছাড়াও দেরাদুন, দিল্লী ও অন্যান্য স্থানে অবস্থান করেন। পরবর্তীকালে অনেকে অভিযোগ করেন যে ভারতে থাকাকালীন তিনি নজরবন্দি অবস্থায় ছিলেন। ভারতে অবস্থানকালে মওলানা ভাসানী দুইবার অসুস্থ হয়ে পড়েন। তখন তাকে দিল্লী অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সে ভর্তি করা হয়েছিল। বাংলাদেশে ১৯৭২ সালের ২২ জানুয়ারি প্রত্যাবর্তন করেন। ১৯৭২-এর ২৫ ফেব্রুয়ারি সাপ্তাহিক হক-কথা প্রকাশ করেন। বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রীচুক্তির বিরোধিতা করলেও মুজিব সরকারের জাতীয়করণ নীতি এবং ১৯৭২-এর সংবিধানের এর প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেন। ১৯৭৩ সালে খাদ্যের দাবিতে ঢাকায় ১৫-২২ মে অনশন ধর্মঘট পালন করেন। ১৯৭৪-এর ৮ এপ্রিল হুকুমতে রাব্বানিয়া সমিতি গঠন করেন। একই বছর জুন মাসে আইন অমান্য আন্দোলন শুরু করলে টাঙ্গাইলের সন্তোষে গৃহবন্দি হন। ১৯৭৬-এর ১৬ মে ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের প্রতিবাদে ঐতিহাসিক লং মার্চে নেতৃত্ব দেন। একই বছর ২ অক্টোবর খোদাই খিদমতগার নামে নতুন আর একটি সংগঠন গড়ে তোলেন।

মৃত্যু
১৯৭৬ খৃস্টাব্দের ১৭ই নভেম্বর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এই দেশ বরেণ্য নেতা মৃত্যুবরণ করেন। তাঁকে টাঙ্গাইলের সন্তোষে দাফন করা হয়। সারা দেশ থেকে আগত হাজার হাজার মানুষ তাঁর জানাযায় অংশগ্রহণ করে।

সমাজ সংস্কার
রাজনীতির পাশাপাশি তিনি সমাজ সংস্কারমূলক কর্মকান্ডে জড়িত ছিলেন। আসামে ৩০ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি কারিগরী শিক্ষা কলেজ, শিশু কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন সন্তোষে। এছড়াও তিনি কাগমারিতে মাওলানা মোহাম্মস আলী কলেজ এবং পঞ্চবিবিতে নজরুল ইসলাম কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।
প্রকাশিত গ্রন্থ

* দেশের সমস্যা ও সমাধান (১৯৬২)
* মাও সে তুং-এর দেশে (১৯৬৩)

মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী আজীবন নিপীড়িত মানুষের মুক্তির সংগ্রাম করে গেছেন। ১৯৭৬ সালের ১৬ই মে তিনি ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চে নেতৃত্ব দেন। এ কর্মসূচিই ছিল তাঁর জীবনের শেষ কর্মসূচি। কেন তিনি এ কর্মসূচি গ্রহণ করতে গেলেন? এ প্রশ্নটি আমার মনে প্রায়ই জাগে। এ প্রশ্নটির উত্তর খুঁজে পাবার জন্য আমরা কাজ করছি। আমাদের জাতীয় জীবনে ১৯৭৬ সাল এক সংকটপূর্ণ বছর। এ বছরের প্রথম দিকে ভারত উপর্যুপরি সীমান্তহামলা শুরু করে এবং মে মাসের প্রথম দিকে ফারাক্কায় গঙ্গা নদীর পানি এক তরফা প্রত্যাহার করে নেয়। এ সময় দেশবাসীর মনে একদিকে ভারতের আক্রমন ভীতি অপর দিকে ফারাক্কায় গঙ্গা নদীর পানি একতরফা প্রত্যাহার করায় নদীগুলিতে পানি না পাওয়া ভীতি। জাতির এ সংকটময় মূহুর্তে মহান নেতা মওলানা ভাসানী গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেন। তিনি ফারাক্কা লংমার্চের কর্মসূচি ঘোষণা করলেন। এ কর্মসূচীটি আমাদের জাতীয় জীবনের এক মহাসংকটকালে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এ কর্মসূচীতে আমি ব্যাক্তিগতভাবে সম্পৃক্ত ছিলাম। আজ থেকে চৌত্রিশ বছর আগে অনুষ্ঠিত এ লংমার্চের কিছু কিছু স্মৃতি আজো আমার মনে রয়েছে। এখানে আমার স্মরণে থাকা দু’ একটি ঘটনা বর্ননা করব।

এ সময়কার আরও একটি বড় ঘটনা ছিল ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগষ্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবার পরিজনকে হত্যা করা। এ হত্যাকান্ডের পরপরই জেলখানায় বন্দি অবস্থায় জাতীয় পর্যায়ের চার নেতাঃ মুক্তিযুদ্ধের মহান বীর তাজুদ্দিন আহমদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, এম. মনসুর আলী, এ এইচ এম কামরুজ্জামানকে হত্যা করা হয়। সদ্য স্বাধীনতাপ্রাপ্ত বাংলাদেশ একটি স্থিতিশীল সরকার প্রতিষ্ঠার আগেই সে সময়কার সরকার প্রধান শেখ মুজিবুর রহমানকেসহ এসব রাজনৈতিক হত্যাকান্ড বাংলাদেশকে নেতৃত্ব শুন্য করার লক্ষ্যে পরিচালিত হয়েছিল। রাজনৈতিক হত্যাকান্ডের ধারাবাহিকভায় এটা ছিল একটি বড় ধরনের ঘটনা। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার আগেও নক্সালের নামে অসংখ্য বামপন্থী নেতা কর্মিদের হত্যা করা হয়েছে। সেনাবাহিনীতে সাধারণ সৈনিক ও অফিসারের মধ্যকার অসাম্যের কথা তুলে বার বার বিদ্রোহের উস্কানি দেয়া হয়েছে। ফলে মারা গেছে সৈন্য বাহিনীর অনেক অফিসার ও সাধারণ সৈন্য। এতে সেনাবাহিনীর চেইন অব কমান্ড নষ্ট হয়েছে। একটা সময়ে এটা স্পষ্ট হলো যে, কিছু সংখ্যক দেশীয় চক্রান্তকারী বহিরাগত আগ্রাসনকে আলিঙ্গন করার জন্য এ পরিস্থিতি তৈরী করছে। ঘটনার গভীরতা সাধারণ সৈনিকরা বুঝতে পারলো। সময় ক্ষেপন না করে ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বর রাত ৪টায় ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের কয়েক হাজার সৈন্য ট্যাঙ্ক ও ট্রাকে করে ঢাকা শহরে আগমন করল। আমি সেদিন রাতে তোপখানা রোডের এক বাসায় ছাত্রদলের (ভাসানী অনুসারী) কিছু কর্মিসহ সংগঠনের অন্যতম নেতা মোবারক হোসেনের বাসায় ঘুমাচ্ছিলাম। রোডের পাশে বাসা থাকায় বাসার সকলেই আমরা জ়েগে উঠলাম। তখন সকাল পাঁচটা। আমি আমার বন্ধুদের বললাম চল আমরা সৈন্যদের সাথে যোগ দেই। ওদের শ্লোগান আমাদের মত হয় না। কাউকে রাজী করাতে না পেরে আমি একাই একটি ট্যাঙ্কে উঠে গিয়ে শ্লোগান দিলাম। ট্যাঙ্কে ১০/১২ সৈন্য ছিল। আমার শ্লোগানের কন্ঠ শুনে সৈন্যরা যেন বারুদে অগ্নি শলাকা পেল। কামানের গর্জনের চাইতে মানুষের গর্জন কত জোরালো হতে পারে, সেদিন আমি তা বুঝেছি। ঢাকা শহরের আমি একজন পরিচিত মুখ। সৈন্যবাহী একটি ট্যাঙ্কে উঠে সারা শহরব্যাপী শ্লোগান দিয়ে তোপখানা রোডে এলে সমবেত হাজার হাজার মানুষ ট্যাঙ্ক মিছিলে যোগ দেয়। সিপাহী-জনতা এক কাতারে সামিল হয়। তারা জ়েনারেল জিয়াউর রহমানকে বন্ধি অবস্থা থেকে মুক্ত করে আনে। এ দিনটি দেশবাসী ‘সিপাহী-জনতার বিপ্লব দিবস’ হিসেবে পালন করে। সেদিন সিপাহী-জনতা গগনবিদারী স্লোগান দিয়ে বিশ্ববাসীকে জানিয়ে দেয়; আগ্রাসী যেই হও, বাংলাদেশের দিকে হাত বাড়াইওনা। তারা শ্লোগান দেয়ঃ ‘সিপাহী বিপ্লব জিন্দাবাদ’, ‘সিপাহী-জন তা ভাই ভাই’, ‘জেনারেল জিয়া জিন্দাবাদ’, ‘রুশ-ভারতের দালালরা হুঁশিয়ার সাবধান’, মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী।

পরিকল্পিত হত্যাকান্ডের মাধ্যামে চক্রান্তকারীরা দেশকে নেতৃত্বশূন্য করে ফেলেছে। ৭ই নভেম্বর দুপুর বেলাই সন্তোষে মওলানা ভাসানীর সাথে যোগাযোগ করা হয়। তিনি এক বিবৃতিতে জেনারেল জিয়াকে সমর্থন করেন। মওলানা ভাসানীর বয়স তখন ৯৬ বছর। বার্ধক্যের নানারোগে তিনি আক্রান্ত। এ সময় সীমান্তে অবিরত হামলা চলছিল। মওলানা ভাসানী সীমান্ত সফর শুরু করলেন। প্রতিদিন তিনি হাজার হাজার মানুষের সামনে দেশের স্বাধীনতা রক্ষায় এগিয়ে আসার আহবান জানান। একে অসুস্থ তার উপর সীমান্ত সফরের ধকল, এ অবস্থায় ১৯৭৬ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারী খুলনার এক সভায় বক্তৃতা প্রদান কালে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। স্থানীয় ডাক্তারগণ মওলানা ভাসানীর হৃদরোগে আক্রান্ত হবার কথা বলেন। তাঁকে পিজি হাস্পাতালে নিয়ে আসা হয়। এর পর থেকে হুজুর প্রায়শঃই অসুস্থ হয়ে পড়তেন। পিজি হাসপাতালে তাঁর জন্য একটা রুম বরাদ্ধ ছিল।

দেশের এ সংকটময় মূহুর্তে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাসানী ন্যাপের ছাত্র সংগঠন জাতীয় ছাত্রদলের পক্ষ থেকে আমরা এমন কতগুলো জাতীয়তাবাদী কর্মসুচী গ্রহণ করি-যা বাংলাদেশের দেশপ্রেমিক ছাত্র-যুব সমাজকে প্রবল ভাবে আকর্ষণ করেছিল। তার একটি হলো ‘ফারাক্কা প্রতিরোধ আন্দোলন’। যতটুকু আমার মনে পড়ে তারিখটি ছিল ১৫ কি ১৬ ই এপ্রিল। ভারত কর্তৃক ফারাক্কায় গঙ্গা নদীর পানি এক তরফা প্রত্যাহারের ফলে পদ্মা শুকিয়ে চৌচির হয়ে গেছে। পত্রিকায় এ ছবি দেখে আমি আমাদের ছাত্রদলের কর্মীদের নিয়ে তাত্ক্ষণিকভাবে মধুর ক্যান্টিন থেকে একটি প্রতিবাদ মিছিল বের করি। এ মিছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্টস ফ্যাকাল্টির করিডোর প্রদক্ষিণ করার পর সাইন্স ফ্যাকাল্টি হয়ে আমরা প্রেস ক্লাব পর্যন্ত গমন করি। সেখান থেকে ১০/১২ জনের একটি গ্রুপ আমরা মওলানা হুজুরের সাথে দেখা করার জন্য পিজি হাসপাতালে গেলাম। আমি বললাম, হুজুর, আমরা ফারাক্কা বাঁধের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার প্রতিবাদে মিছিল করে এসেছি। আমরা চাই এ ব্যাপারে বিশ্ব-দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য আপনি একটা কিছু করেন। হুজুর আমাদের উত্সাহ-উদ্দীপনা দেখে খুব খুশী হলেন। তিনি বললেন তোমরা যুবক, তোমরা যদি চাও অনেক বড় কর্মসূচী গ্রহণ করা যাবে। ফারাক্কা বাঁধের বিরুদ্ধে এখনই কিছু না করলে একদিন বাংলাদেশ মরুভূমিতে পরিনত হবে। জাতি হিসেবে আমরা নিঃশেষ হয়ে যাব। তিনি আমাকে থাকার জন্য বললেন। অন্যরা চলে গেলে হুজুর আমাকে বললেন, প্রথমে সেরাজকে দেখ বাসায় আছে কিনা? তাকে না পেলে জাহিদকে টেলিফোন কর, বাংলাদেশ টাইমস পত্রিকায় পাওয়া যাবে। শ্রমিক নেতা সিরাজুল হোসেন খানকে টেলিফোন করে পাওয়া গেল। আমি টেলিফোন হুজুরের হাতে দিলাম। হুজুর জিজ্ঞাসা করলেন, সেরাজ আমার এখানে আসতে পারবা। তোমার সাথে একটা জরুরী আলাপ আছে। সিরাজ ভাই বললেন, হুজুর আসছি। সেদিন বিকালেই হুজুর ফারাক্কায় ভারত কর্তৃক এক তরফা পানি প্রত্যাহারের ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতির উপর একটা বিবৃতি প্রদান করলেন। পর দিন বিকাল ৬টার দিকে হুজুরকে দেখতে গেলাম। কিছুক্ষণ পর হুজুর বললেন তোমার সাথে যারা এসেছে তাদেরকেসহ সকলেই এখন চলে যাও। কাল সকালের দিকে এক বার এসো। আমরা যখন কক্ষ থেকে বের হয়ে আসলাম তখন দেখলাম জেনারেল জিয়াউর রহমান সাহেব আরো কয়েকজন আর্মী অফিসারসহ হুজুরের সাথে দেখা করতে এসেছেন। সে সময় আমরা শুনেছিলাম, জেনারেল জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে মওলানা ভাসানীর পরামর্শকে খুবই গুরুত্ব দিতেন। শুনা কথাগুলি আমাদের কাছে সঠিক হলো। পরদিন ১৮ই এপ্রিল হুজুরের কাছে গেলে বুঝতে আমাদের অসুবিধা হলো না যে, জাতির এ মহাদুর্যোগময় মূহুর্তে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে পরিচালিত চক্রান্ত প্রতিহত করার লক্ষ্যে মওলানা ভাসানী ও জেনারেল জিয়াউর রহমান একমত হয়েছেন। হুজুর বললেন, আমরা ফারাক্কা বাঁধের বিরুদ্ধে লং মার্চ করব। ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের ফলে আমাদের যে ক্ষতি তা ভারতে স্বীকার করতেই হবে। ভারত যদি বাংলাদেশের ন্যায্য পাওনা পানি না দেয়, তাহলে ১৬ই মে রাজশাহী থেকে লক্ষ জনতার শান্তি মিছিল নিয়ে ফারাক্কা অভিমুখে যাত্রা শুরু করবো।

পিজি হাসপাতালে থাকা কালেই মওলানা ভাসানী সকল রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দলের নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠনের ঘোষণা দেন। ২রা মে ৩১ সদস্য বিশিষ্ট ফারাক্কা মিছিল কমিটি গঠন করা হয়। মওলানা ভাসানীকে এ কমিটির আহবায়ক করা হয়। আমাকে এ কমিটিতে রাখার জন্য হুজুর নিজে প্রস্তাব দেন।

আজ থেকে ছত্রিশ বছর আগে গঙ্গা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যার দাবীতে মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ফারাক্কা লংমার্চের নেতৃত্ব দেন। রাজশাহী মাদ্রাসা ময়দান থেকে ১৯৭৬ সালের ১৬ই মে আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি প্রায় লক্ষাধিক মানুষের এ মিছিলের যাত্রা ঘোষণা করেন এবং ১৭ই মে রাজশাহীর কানসার্ট সীমান্তে গিয়ে এ মিছিল শেষ হয়। রাজশাহীর মাদ্রাসা ময়দানের সংক্ষিপ্ত ভাষণে বলেন, গঙ্গা নদীর ন্যায্য হিস্যা আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের সংগ্রাম চলবে। আমরা শান্তি চাই। কিন্তু তারা যুদ্ধ চায়। বাংলাদেশের নিরস্ত্র জনতার ভয়ে তারা সীমান্তে সৈন্য মোতায়েন করেছে। আমরা যুদ্ধকে ঘৃণা করি। তিনি আরও বলেন, এ মিছিল বৃহত্শক্তির বিরুদ্ধে মজলুমের সংগ্রামের প্রতীক। গোটা বিশ্বের বুক থেকে জালেমের শোষণ পীড়নের সমাপ্তি না ঘটা পর্যন্ত এ সংগ্রাম চলবে। রাজশাহী থেকে রওয়ানা দেবার সময় হুজুর বলে ছিলেন, আমার সাথে সাথে থেকো। হুজুর অসুস্থ। ডায়াবেটিকস দ্রুত উঠা নামা করছে। প্রতি আধা ঘন্টা পর পর কাপড় বদলাতে হচ্ছে। ছোট্ট একটা মটর গাড়ি হুজুরকে বহন করছে। সাথে মশিয়ুর রহমান যাদু মিয়া। মিছিল শুরু হবার কিছুক্ষণ পরেই মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়েছিল। সারাদেশ থেকে এ মিছিলে অংশ নেবার জন্য কয়েক লক্ষ মানুষ এসেছে। তারা হুজুরের আগে পিছে মিছিলে দৌড়াচ্ছে। কেহই বৃষ্টির কারণে মিছিল থেকে সরে পড়েনি। এ মিছিলে আমিও হুজুরকে বহনকারী গাড়ির পিছনে পিছনে দৌড়াচ্ছি। আমার সাথে মোজাফফর হোসেন, সামসুজ্জামান মিলন, শওকত হোসেন নিলুসহ আরো অনেকে। এক টানা দৌড়ে কিভাবে আমরা ১১ মাইল পথ অতিক্রম করে প্রেমতলী পৌঁছেছিলাম, তা আজো বলতে পারি না। প্রেমতলী থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ১৯ মাইল পথ। এখানে আমরা রাত্রি যাপন করলাম। পরদিন সকালে আবার যাত্রা শুরু। অতিক্রম করতে হবে কানসার্ট পর্যন্ত আরও ৩৪ মাইল পথ। বিকাল ৪টায় আমরা কানসার্ট গিয়ে পৌঁছলাম। এখানে এ সে তিনি মিছিলের সমাপ্তি ঘোষণা করে বললেন, বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যার দাবী মেনে না নিলে তিনি আগামী মাসের মধ্যে স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী গঠন করে আগামী ১৬ই আগষ্ট থেকে ভারতীয় পন্য বর্জন আন্দোলন শূরু করবেন। তিনি মিছিলে আগতদের শপথ বাক্য পাঠ করানঃ গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যা না পাওয়া পর্যন্ত সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা, এবং দেশ গড়ার কাজে আত্মোসর্গ করা।

ফারাকা লং মার্চের মাধ্যমে মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী জাতীয় দুর্দিনে কিভাবে আগ্রাসী শক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাড়াতে হয়, সে পথ নির্দেশ রেখে গেছেন। বাংলাদেশের প্রাপ্য গঙ্গা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা না পেলে ভারতীয় পন্য বর্জন আন্দোলন শুরু করার নির্দেশ দিয়ে গেছেন। জেনারেল জিয়া সেদিন মওলানা ভাসানীকে সামনে রেখে আপোসের নয়, একজন দেশপ্রেমিক মুক্তিযোদ্ধার মত লড়াইয়ে সামিল হয়েছিলেন। আর আজ আমরা কি দেখছি, ক্ষমতার লোভে দল বিশেষ, আবার কখনো গোষ্ঠি বিশেষ এ মহান নেতার নির্দেশমত কাজ না করে, আপোসের পথ ধরেছে। দেশের স্বার্থ, দেশের অস্তিত্ব আগ্রাসী শক্তির হাতে তুলে দিচ্ছে। এর জন্য অবশ্যই ইতিহাসের কাঠগড়ায় একদিন দাঁড়াতে হবে।

ইন্দিরা গান্ধীকে মওলানা ভাসানীর লেখা একটি চিঠি:

প্রিয় মিসেস ইন্দিরা গান্ধী, প্রধানমন্ত্রী, গণপ্রজাতন্ত্রী ভারত সরকার আপনার ১৯৭৬ সালের ৪ মে’র পত্র ফারাক্কা সমস্যা সম্পর্কে সরকারি বিবৃতির পুনরাবৃত্তি মাত্র। আপনার প্রখ্যাত পূর্বপুরুষ— মতিলাল নেহরুর নাতি এবং জওয়াহেরলাল নেহরুর কন্যার নিকট থেকে এরূপ পত্র আশা করিনি। আপনি নিজে বঞ্চিত লোকের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সকল ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য সকল সময় সংগ্রাম করেছেন। মুক্তিযুদ্ধকালে আপনি এবং ভারতের সকল জনগণ যে সাহায্য করেছে এজন্য আমি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ।
ফারাক্কা সম্পর্কে আপনাকে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল পরিদর্শন করে কৃষি এবং শিল্প উত্পাদনের যে ক্ষতি হবে তা পরিমাপ করা জন্য পুনরায় অনুরোধ করছি। সম্পূর্ণ সরকারি প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর না করার জন্য আপনাকে অনুরোধ করছি। কারণ তাতে বর্তমান অবস্থা প্রতিফলিত হয় না।
এককভাবে গঙ্গার পানিপ্রবাহ প্রত্যাহার করার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা আমি ব্যাপকভাবে পরিদর্শন করি।
পারস্পরিক সমঝোতা ও সহযোগিতার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের জন্য আপনার উদ্যোগকে আমি অভিনন্দন জানাচ্ছি। কিন্তু সমাধান স্থায়ী ও বিস্তারিত হতে হবে। দু’মাসের নিম্ন প্রবাহের মধ্যে তা সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না; সারা বছরের স্রোত অন্তর্ভুক্ত থাকার ভিত্তিতে ফারাক্কা সমস্যা সমাধানের জন্য পূর্বে আপনাকে কয়েকবার টেলিগ্রাম করেছি। বাংলাদেশের সাড়ে তিন কোটি মানুষের জীবন-মরণ সমস্যা অন্যদের দিয়ে সমাধান সম্ভব নয়। দুই দেশের নেতাদের একত্রে বসে সমাধানে পৌঁছা উচিত। সম্মুখ বিরোধ ও সংঘর্ষ বাদ দিয়ে আমি অনুরোধ করছি আপনি নিজে হস্তক্ষেপ করে নিজে সমাধান করবেন, যা আট কোটি বাংলাদেশীর নিকট গ্রহণযোগ্য হবে। যদি আমার অনুরোধ আপনি গ্রহণ না করেন, তাহলে অত্যাচারিত মানুষের নেতা আপনার পূর্বপুরুষ এবং মহাত্মা গান্ধীর পদাঙ্ক অনুসরণ করে সমস্যা সমাধানের জন্য কর্মসূচি প্রণয়ন করতে বাধ্য হব। এ সঙ্কট সমাধানে আমার সর্বোচ্চ সহযোগিতা এবং দু’দেশের বন্ধুত্ব সম্পর্ক শক্তিশালী করার জন্য নিশ্চয়তা দিচ্ছি।
শুভেচ্ছান্তে—
আপনার বিশ্বস্ত
আবদুল হামিদ খান ভাসানী

ইন্দিরা গান্ধীর চিঠি

প্রিয় মওলানা সাহেব, আমি আপনার ১৯৭৫ সালের ১৮ এপ্রিলের পত্র পেয়ে দুঃখ পেলাম এবং বিস্মিত হলাম। এটা কল্পনা করতে কষ্ট হচ্ছে যে, ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে আমাদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সংগ্রাম করেছেন এবং পরবর্তীতে তার নিজের বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে দুঃখ-কষ্টে ও উত্সাহে অংশগ্রহণ করেছেন— তিনি আমাদের এমন সাংঘাতিকভাবে ভুল বুঝছেন এবং আমাদের সরকারের উদ্দেশ্য সম্পর্কে প্রশ্ন তুলছেন। আমি বিশ্বাস করতে পছন্দ করি যে, আপনি ভারতের বিভক্ত ভারত প্রতিষ্ঠার আক্রমণাত্মক অভিসন্ধি এবং ফারাক্কা বাঁধ ভাঙার ভীতি প্রদান সম্পর্কে যে ভাষণ দিয়েছেন তা উত্তেজনা মুহূর্তে বলেছেন। কোনো বাংলাদেশী সত্যি বিশ্বাস করে যে, ভারত এত দ্রুত বাংলাদেশ থেকে সেনাবাহিনী প্রত্যাহার করেছে— সে কী করে তার প্রতিবেশীর প্রতি বৈরী ভাব পোষণ করতে পারে! মুক্তিযুদ্ধে অবদান এবং যুদ্ধ-উত্তর সহযোগিতার বিবরণের প্রেক্ষিতে ভারত সরকার ও তার জনগণকে বিচার করার প্রত্যাশা করে। আমাদের নিজেদের প্রয়োজন অধিক এবং আমাদের জনগণের দায়িত্ব অনেক বেশি। কিন্তু আমরা বিশ্বাস করি যে, আমাদের দুই দেশের জনগণের মঙ্গল একে অপরের ওপর নির্ভরশীল। আমাদের উভয়ের স্বার্থে এ অঞ্চলে স্থিতিশীলতা, সহযোগিতা এবং দু’দেশের মধ্যে বন্ধুত্ব প্রয়োজন।

আপনি অবগত আছেন যে, ১৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ফারাক্কা বাঁধ পূর্ব ভারতের প্রধান বন্দর কলকাতাকে রক্ষার জন্য একমাত্র উপায়। এ বাঁধকে কোনো প্রকারে পরিত্যাগ করা যায় না। আপনি আরও জানেন যে, একমাত্র গ্রীষ্মকালে দু’মাসে গঙ্গায় পানির অভাব দেখা দেয়। উপায় অবশ্য পাওয়া যাবে। ভবিষ্যতে যদি কোনো ঘটতি দেখা দেয় তাহলে পারস্পরিক সমঝোতা ও সহযোগিতার মাধ্যমে আমাদের উভয়ের প্রয়োজন মেটানো যাবে। হুগলীর জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম পানি না দিয়ে আমরা বাংলাদেশে পানির প্রবাহ এ পর্যন্ত অব্যাহত রেখেছি। মনে হয়, আপনাকে ফারাক্কা বাঁধের সংযুক্ত খালের বাংলাদেশ প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে একতরফা এবং অত্যন্ত ভাবানো বিবরণ দেয়া হয়েছে। আপনি বললে আমাদের হাইকমিশনার আপনাকে বিপরীত বিবরণ সম্পর্কে অবহিত করবেন।

প্রতিবেশীদের সঙ্গে অনেক সময় সমস্যা দেখা দেয়। সমঝোতা ও সহযোগিতার মধ্যে সমাধান খুঁজে পাওয়াই গুরুত্বপূর্ণ। সংঘর্ষ ও শত্রুতা পোষণ করে আমরা একে অন্যের ক্ষতি করতে পারি না। আপনাকে সম্পূর্ণ সরলতার সঙ্গে পুনরায় বলতে চাই যে, বাংলাদেশ তার স্বাধীনতাকে সংহত এবং শান্তিতে উন্নতি করুক। আমাদের পক্ষ থেকে প্রতিবেশী বন্ধু এবং উন্নয়নের অংশীদার হিসেবে আমরা আমাদের অবদানের প্রস্তাব অব্যাহত রাখব।

আপনি হয়তো অবগত আছেন যে, আমাদের দুই সরকার গ্রীষ্মকালে গঙ্গার পানি বণ্টন এবং সংশ্লিষ্ট প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে। এর জন্য উভয় পক্ষের কল্যাণকামী মানুষের উত্সাহ ও সমর্থন প্রয়োজন। আমি আপনাকে নিশ্চয়তা প্রদান করছি যে, আমরা অনুসরণ ও চুক্তিপূর্ব আলোচনায় উন্মুক্ত কিন্তু কেউ যেন আশা না করে যে, ভারত কোনো প্রকার ভয় এবং অযৌক্তিক ও অন্যায় দাবির কাছে আত্মসমর্পণ করবে।
আপনার বিশ্বস্ত,
ইন্দিরা গান্ধী

প্রথম আলো
– মওলানা ভাসানী : তার ব্যক্তিত্ব ও মানবতা- অধ্যাপক আশরাফ জামান

দারিদ্রের দেশ আমেরিকা


দারিদ্রের দেশ আমেরিকা

জেরি হোয়াইট • গত সপ্তাহে প্রকাশিত মার্কিন জনসংখ্যা জরিপ ব্যুরোর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৯৫০ সালে তথ্য সংরক্ষণ শুরু করার পর এখন সর্বোচ্চ সংখ্যক আমেরিকান দারিদ্র্যসীমায় বাস করছে। ব্যুরোর পরিসংখ্যানগুলো মার্কিন পুঁজিবাদী অর্থনীতি ও গোটা রাজনৈতিক ব্যবস্থার দেউলিয়াপনার এক দলিল হিসেবেই প্রতিভাত হচ্ছে।

২০১০ সালে এক কোটি ৬৪ লাখ শিশুসহ মোট চার কোটি ৬২ লাখ মানুষ- গড়ে প্রায় প্রতি ছয়জন মার্কিনির একজন বাস করছিল দারিদ্র্যসীমার নিচে। তাদের প্রায় অর্ধেক বা দুই কোটি লোক ছিল চরম দারিদ্রে্য, যারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের হিসাব অনুযায়ী ন্যূনতম খাবার, আশ্রয়, পোশাক ও বিভিন্ন সেবা লাভের জন্য প্রয়োজনীয় যে আয় তার অর্ধেকেরও কমে জীবিকা নির্বাহ করছিল। যেহেতু এটি সরকারি দারিদ্র্যসীমা- চারজনের একটি পরিবারের জন্য প্রায় ২২ হাজার ডলার এবং ৬৫ বছরের কম বয়সী একজন অবিবাহিত ব্যক্তির জন্য ১১ হাজার ডলার- তা জীবনযাত্রার একটি যুক্তিসঙ্গত মান বজায় রাখার জন্য যথেষ্ট নয়। আরো সঠিক হিসাব হবে সরকারি এই দারিদ্র্যসীমার দ্বিগুণ অর্থাৎ চারজনের একটি পরিবারের জন্য প্রায় ৪৪ হাজার ডলার। দশ কোটির বেশি মার্কিনি – প্রতি তিনজনে একজন – এই দারিদ্র্যসীমার নিচে অবস্থান করছে।

দারিদ্র্য বৃদ্ধির মূল কারণ হচ্ছে কর্মসংস্থান সংকট, যা ২০১০ সাল বা যে বছর মন্দা শেষ হয়েছে বলে দাবি করা হয় তার এক বছর পর আরো তীব্র হয়েছে। লাখ লাখ শ্রমিক এখন বেকার বা বাধ্য হয়ে খন্ডকালীন, কম বেতনের কাজ করছে যা তাদের দারিদ্র্যমুক্ত থাকার জন্য যথেষ্ট নয়।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যুবসমাজ। ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীদের গড় আয় গত বছর নয় শতাংশ কমে গেছে। ২৫ থেকে ৩৪ বছর বয়সী ৬০ লাখ তরুণ-তরুণী খরচ কমাতে বাপ-মা ও বন্ধুদের পরিবারের সঙ্গে থাকা শুরু করেছে, যে সংখ্যা মন্দাপূর্ব সময়ের চেয়ে ২৫ শতাংশ বেশি। এদের মধ্যে দারিদ্রে্যর হার ৮.৪ শতাংশ; কিন্তু, ব্লুমবার্গ বিজনেসউইকের করা জনসংখ্যা জরিপের এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই হার বেড়ে ৪৫.৩ শতাংশ হতো, যদি তাদের বাপ-মার আয় হিসাব করা না হতো।

তিন বছরে দারিদ্রে্যর যে বিস্ফোরণ এবং সেই সঙ্গে বন্ধক দেওয়া বাড়ির মালিকানা হারানো, বাস্ত্তহীনতা, ক্ষুধা ও বীমাহীন মানুষের ক্রমবর্ধমান সংখ্যা- এসব ঘটেছে এমন সময়ে যখন পাশাপাশি অর্থনীতি ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণকারী ধনিক অভিজাত শ্রেণীর সম্পদ বেড়েছে এত উঁচুমাত্রায় যা অবাক করে দেওয়ার মতো।

এটা হচ্ছে তিন দশক দীর্ঘ এক প্রক্রিয়ার ফলাফল, যে সময়ে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় দলের শাসকরা সমাজের সম্পদের আরো বড় অংশ করপোরেট ও পুঁজিবাদী অভিজাতদের হাতে তুলে দেওয়ার এক সচেতন নীতির বাস্তবায়ন করেছে। মুক্ত বাজারের নামে তারা করপোরেশনসমূহ ও ধনিকগোষ্ঠীর ওপর আরোপিত কর হ্রাস করেছে, শিল্প ও ব্যাংকগুলোর ওপর থেকে নিয়ন্ত্রণ প্রত্যাহার করেছে এবং শ্রমিক শ্রেণীর চাকরি ও জীবনযাত্রার বিরুদ্ধে পরিচালিত এক করপোরেট আক্রমণকে সমর্থন যুগিয়ে গেছে। সেই সঙ্গে কর্মসংস্থানমূলক সরকারি ব্যয় ক্রমাগত সংকুচিত করেছে এবং বড় শিল্প ও ব্যাংকের জন্য প্রণোদনামূলক অর্থ যুগিয়েছে। তিন বছর আগের এই দিনে, ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে ওয়াল স্ট্রিটের বিনিয়োগ কোম্পানি লেহমান ব্রাদার্সের পতনের পর সরকার বিনা শর্তে ব্যাংকগুলোকে অযুত কোটি ডলার যোগান দিয়েছে। করপোরেশন ও ব্যাংকগুলোর কাছে এখন দুই লাখ কোটি ডলার সঞ্চিত রয়েছে, অথচ তারা কোনো শ্রমিক নিয়োগ করতে অথবা নতুন কর্মসংস্থানে রাজি নয়।

ক্ষমতাসীনরা এখন উঁচুমাত্রার বেকারত্বের এক সুপরিকল্পিত নীতি অনুসরণ করছে যাতে মজুরি ও অন্যান্য ভাতা আরো কমিয়ে তাদের মুনাফা আরো বাড়ানো যায়। উদাহরণস্বরূপ, অটোমোবাইল শিল্পে ওবামা প্রশাসন ও ট্রেড ইউনিয়নগুলোর সমর্থন নিয়ে করপোরেশনগুলো কাজের পরিবেশ ত্রিশের দশকে যেমন ছিল সে অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে চাচ্ছে। এই শিল্পে এখন নবনিযুক্ত শ্রমিকরা দারিদ্র্যসীমার নিচের আয়ের মজুরি পাচ্ছে। সেই সঙ্গে তাদের মৌলিক অধিকার ও সুরক্ষা থেকেও পুরোপুরি বঞ্চিত করা হচ্ছে।

ত্রিশের দশকের মহামন্দার পর বর্তমান এই তীব্রতম অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকটের মোকাবিলায় ওবামা প্রশাসন কিছুই করেনি। প্রতিনিয়ত বেড়ে চলা সামাজিক ক্লেশের প্রতি তার প্রতিক্রিয়া হচ্ছে সম্পূর্ণ নির্লিপ্তি। প্রেসিডেন্ট ওবামা উত্তর ক্যারোলিনায় যে ভাষণ দেন তাতে দারিদ্রে্যর এই নতুন পরিসংখ্যানগুলোর উল্লেখ করারও প্রয়োজন বোধ করেননি। তিনি সেখানে তার প্রস্তাবিত ভুয়া কর্মসংস্থান আইনের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছেন মাত্র। অথচ এই আইন বৃহৎ ব্যবসাগুলোর ওপর কর আরো কমাবে এবং তাদের আরো অর্থ যোগান দেবে ও কর্মজীবী মানুষের ক্লেশ আরো বাড়াবে।

সাহায্য করা দূরে থাক, ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানরা সমাজকল্যাণ কর্মসূচিগুলোর ব্যয় কয়েক লাখ কোটি ডলার কমাতে অঙ্গীকারাবদ্ধ। অথচ এই সমাজকল্যাণ খাতের কর্মসূচিগুলোই বিংশ শতাব্দীতে ত্রিশের মহামন্দার সময়কালীন কয়েক কোটি লোককে দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করেছিল। ওবামার দ্বিদলীয় বাজেট ঘাটতি হ্রাসকরণ কমিটির যেসব কর্মসূচির ওপর আঘাত হানার পরিকল্পনা করছে তার একটি হচ্ছে সামাজিক নিরাপত্তা, যেটি, জনসংখ্যা জরিপ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর দুই কোটি বয়স্ক ও পঙ্গু মানুষকে দারিদ্র্যমুক্ত রেখেছিল।

করপোরেট ও পুঁজিপতি অভিজাত এবং তাদের পক্ষপুষ্ট শাসকদের মূল লক্ষ্য সুস্পষ্ট। আর তা হচ্ছে এমন সব কর্মসূচি গ্রহণ যা সরাসরি তাদের সম্পদ বাড়ায় না এমন সবকিছুর অবলুপ্তি।

ডব্লুএসডব্লুএস অনলাইন থেকে ভাষান্তর : আজফার আজিজ [সাপ্তাহিক বুধবার থেকে]

Statistics on poverty & food wastage in America
By Samana Siddiqi

Poverty in America? One of the richest countries in the world?

Yes, poverty is a reality in America, just as it is for millions of other human beings on the planet. According to the US Census Bureau, 35.9 million people live below the poverty line in America, including 12.9 million children.

This is despite abundance of food resources. Almost 100 billion pounds of food is wasted in America each year. 700 million hungry human beings in different parts of the world would have gladly accepted this food.

Here are some statistics on the nature of poverty and the waste of food and money in America.

-In 2004, requests for emergency food assistance increased by an average of 14 percent during the year, according to a 27-city study by the United States Conference of Mayors.

-Also in this study, it was noted that on average, 20 percent of requests for emergency food assistance have gone unmet in 2004.

-According to the Bread for the World Institute 3.5 percent of U.S. households experience hunger. Some people in these households frequently skip meals or eat too little, sometimes going without food for a whole day. 9.6 million people, including 3 million children, live in these homes.

-America’s Second Harvest (http://www.secondharvest.org/), the nation’s largest network of food banks, reports that 23.3 million people turned to the agencies they serve in 2001, an increase of over 2 million since 1997. Forty percent were from working families.

33 million Americans continue to live in households that did not have an adequate supply of food. Nearly one-third of these households contain adults or children who went hungry at some point in 2000.

U.S. Dept. of Agriculture, March 2002, “Household Food Security in the United States, 2000”
Wasted food in America

-According to America’s Second Harvest, over 41 billion pounds of food have been wasted this year.

-According to a 2004 study from the University of Arizona (UA) in Tucson, on average, American households waste 14 percent of their food purchases.

Fifteen percent of that includes products still within their expiration date but never opened. Timothy Jones, an anthropologist at the UA Bureau of Applied Research in Anthropology who led the study, estimates an average family of four currently tosses out $590 per year, just in meat, fruits, vegetables and grain products.

Nationwide, Jones says, household food waste alone adds up to $43 billion, making it a serious economic problem.

– Official surveys indicate that every year more than 350 billion pounds of edible food is available for human consumption in the United States. Of that total, nearly 100 billion pounds – including fresh vegetables, fruits, milk, and grain products – are lost to waste by retailers, restaurants, and consumers.

-“U.S.-Massive Food Waste & Hunger Side by Side” by Haider Rizvi

-According to a 1997 study by US Department of Agriculture’s Economic Research Service (ERS) entitled “Estimating and Addressing America’s Food Losses”, about 96 billion pounds of food, or more than a quarter of the 356 billion pounds of edible food available for human consumption in the United States, was lost to human use by food retailers, consumers, and foodservice establishments in 1995.

Fresh fruits and vegetables, fluid milk, grain products, and sweeteners (mostly sugar and high-fructose corn syrup) accounted for two-thirds of the losses. 16 billion pounds of milk and 14 billion pounds of grain products are also included in this loss.

Food that could have gone to millions

According to the US Department of Agriculture, up to one-fifth of America’s food goes to waste each year, with an estimated 130 pounds of food per person ending up in landfills. The annual value of this lost food is estimated at around $31 billion But the real story is that roughly 49 million people could have been fed by those lost resources. (For your persona jihad against wastage, see A Citizen’s Guide to Food Recovery)

(The figures below are 1998 figures)

Proportion of Americans living below the poverty level: 12.7 percent (34.5 million people)
The average poverty threshold for a family of four: $16,660 in annual income
The average poverty threshold for a family of three: $13,003 in annual income
Poverty rate for metropolitan areas: 12.3 percent
Poverty rate for those living inside central cities: 18.5 percent
Poverty rate for those living in the suburbs: 8.7 percent
Percentage and number of poor children: 18.9 percent (13.5 million)
Children make up 39 percent of the poor and 26 percent of the total population.
The poverty rate for children is higher than for any other age group.

Child poverty:

-for children under age 6 living in families with a female householder and no husband present: 54.8 percent
-for children under age 6 in married-couple families: 10.1 percent
Poverty rate for African Americans: 26.1 percent
Poverty rate for Asians and Pacific Islanders: 12.5 percent
Poverty rate for Hispanics of any race: 25.6 percent
Poverty rate for non-Hispanic whites: 8.2 percent

Visit us on FaceBook

একুশ নিউজ মিডিয়া এখন ফেস বুক এ

Video News: www.EkushTube.com

Change your Life: ASea – Advancing Life

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আন্দোলন : কারণ খুবই স্পষ্ট


যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আন্দোলন : কারণ খুবই স্পষ্ট

অকুপাই ইউ এস এ

অকুপাই ইউ এস এ


ডোনা স্মিথ • ওয়ালস্ট্রিটবিরোধী আন্দোলনকারীদের খবর মিডিয়া সারা জাতির সামনে কিভাবে উপস্থাপন করছে তা আমার জানার দরকার নেই। তারা পুরো ব্যাপারটি ঘিরে এখনো অস্পষ্টতা রয়েছে বলে দাবি করেছে। সেটি নিয়েও আমার কোনো মাথা ব্যথা নেই। তবে আমি কিন্তু এই আন্দোলনকারীদের কণ্ঠ থেকে সুস্পষ্ট একটি বক্তব্য শুনতে পেয়েছি। আমি তাদের পক্ষ হয়ে কথা বলছি না। তবে আমার যাপিত জীবন আর তাদের যাপিত জীবন কিন্তু একই। চেতনাগত দিক থেকেও আমাদের অবস্থান অভিন্ন এবং আমার সঙ্গে সহমত পোষণকারীর সংখ্যাও কিন্তু লাখ লাখ। আমরা সবাই বলছি, যথেষ্ট হয়েছে, আর নয়। এ দেশের খেটে খাওয়া মানুষ সবসময়ই কঠোর পরিশ্রম করেছে সৎ উপায়ে বেঁচে থাকার মতো একটু আয়-উপার্জনের জন্য। তারা চেয়েছে ন্যায্য কিছু সুযোগ-সুবিধা, চেয়েছে অমানুষিক পরিশ্রমের পর প্রয়োজনীয় একটু বিশ্রাম, বছরান্তে কিছু ছুটিছাটা আর অসুস্থ হয়ে পড়লে বাড়িতে থাকার অধিকার। কিন্তু সেই আশির দশক থেকেই শ্রমজীবী মানুষ লাগাতার বৈষম্য আর অধিকারহীনতার শিকার হয়ে আসছে। তারা কাজ করেছে বেশি কিন্তু মজুরি পেয়েছে কম। তারপরও তাদের যা পেয়েছে তাই নিয়ে আনন্দে থাকতে বলা হয়েছে। কৃতজ্ঞ থাকতে বলা হয়েছে। যথেষ্ট হয়েছে আর নয়।

শ্রমজীবী তরুণ প্রজন্মের কলেজপড়ুয়া ছাত্রছাত্রীদের অধিকার ছিল নিজেদের পছন্দ মতো ভবিষ্যৎ বেছে নেয়ার, প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর কোন পেশা তারা গ্রহণ করবে আর কোনটা করবে না সে অধিকারও এক সময় ছিল তাদের। অথচ এখন তাদের পড়াশোনার খরচ চালাতে গিয়ে ঋণের জালে আটকে যেতে হচ্ছে; কর্মজীবনের শুরুতেই হন্যে হয়ে ঘুরতে হচ্ছে একটি চাকরির জন্য। হাজার হাজার, লাখ লাখ কর্মক্ষম মানুষ এখন বেকার। যথেষ্ট হয়েছে, আর নয়।

অথচ ইতোমধ্যেই করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর শীর্ষ নির্বাহীদের বেতন বেড়েছে বহুগুণ। করপোরেট মুনাফার পরিমাণ আকাশ ছুঁয়েছে। যথেষ্ট হয়েছে, আর নয়।

occupy_nightfall_LA

occupy_nightfall_LA


ওয়াশিংটন ডিসি থেকে শুরু করে আলাদা আলাদাভাবে প্রতি রাজ্যে সব দলের রাজনীতিকরাই ধনীদের তোয়াজ করছেন, তাদের কাছ থেকে কাঁড়ি কাঁড়ি অর্থ নিচ্ছেন এবং ওয়াদা করছেন, তারা সেই অর্থ প্রদানকারীদের স্বার্থ দেখবেন। অন্যদিকে শ্রমজীবী ভোটারদেরও মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে বলছেন, তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন, সুপেয় পানি, জননিরাপত্তা এবং দারিদ্রে্যর মতো বিষয়গুলোর ব্যাপারে তারা মনোযোগী হবেন। কিন্তু নির্বাচনের পর তারা এই শ্রমজীবীদের কথা একেবারেই ভুলে যান; ব্যস্ত হয়ে পড়েন কেবল তাদের পেছনে বড় বড় অংকের অর্থ লগ্নিকারীদের স্বার্থ রক্ষার বিষয়গুলো নিয়ে। যথেষ্ট হয়েছে, আর নয়।

আপনারা শ্রমজীবী মানুষের সন্তানদের যুদ্ধে পাঠাচ্ছেন। কখনো কখনো দেখা গেছে তাদের যুদ্ধে পাঠানোর পেছনে আপনাদের ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত স্বার্থই কেবল জড়িত। আপনারা আপনাদের বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গিটি তাদের গেলাতে চান। আর সেটা করতে গিয়ে তাদের পরিবারগুলো ছন্নছাড়া হয়ে যাচ্ছে, নেমে আসছে পারিবারিক বিপর্যয়। আপনারা তাদের মজুরি দিচ্ছেন সামান্যই এবং সুযোগ-সুবিধাগুলোও কাটছাঁট করে ফেলছেন ইচ্ছেমত। আসলে আপনারা মানুষের মর্যাদা এবং দেশের কথা মোটেই ভাবেন না। আপনারা মুখে মুখে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ভালোবাসার কথা বলেন, সৈনিকদের কানে ভালোবাসার কথা শোনান। কিন্তু আপনাদের প্রকৃত ভালোবাসার নজর অন্যদিকে। সত্যি কথা বলতে কি, আপনারা আসলে ভালোবাসেন মুনাফা, ক্ষমতা এবং হরেক রকমের সুযোগ-সুবিধা। আর এগুলো পাওয়ার জন্যই আপনারা আপনাদের সর্বশক্তি নিয়োগ করেন। যথেষ্ট হয়েছে, আর নয়। ইতোমধ্যে ব্যাংকার এবং ওয়ালস্ট্রিটের ব্যবসায়ীরা ক্রয়-বিক্রয় যোগ্য সব কিছুই বেচে-কিনে শেষ করে দিয়েছে। ধনীরা আরো ধনী হয়েছে, তাদের চাকচিক্য আর খোলতাই বেড়েছে। ওয়ালস্ট্রিটের স্বার্থ রক্ষাকে কেন্দ্র করে ক্ষমতা ঘুরপাক খাচ্ছে। রিয়েল এস্টেট খাতের ঋণ ফুলে-ফেঁপে উঠেছিল। শেষে ফুটু বেলুনের মতো চুপসে গেছে। দেশের সর্বোচ্চ আদালত রায় দিয়েছে, করপোরেশনগুলো জনগণে রূপান্তরিত হয়েছে। মুনাফা তার নিজের স্বার্থে জনগণকে পশুখাদ্যে পরিণত করেছে। এটিই ওয়ালস্ট্রিটের কাজ। প্রতিটি রাজনীতিক এখন ক্ষমতার জন্য পাগল। তারা দেশের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে চায়। সারা বিশ্বকেও চায় তাবে রাখতে। যথেষ্ট হয়েছে, আর নয়।

ওয়ালস্ট্রিট দখলকারীদের দাবিগুলো কী? মিডিয়াতে অনেকেই এই প্রশ্ন রেখেছেন। কিন্তু মিডিয়া এ ব্যাপারে অস্পষ্টতার দোহাই দিচ্ছে। আসলে তাদের দাবি খুবই পরিষ্কার। তারা চায় এই জাতির যেকোনো ধরনের মানবীয় উদ্যোগ আর যেন ওয়ালস্ট্রিট এবং সরকারে তাদের অনুগতদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতে না পারে। যথেষ্ট হয়েছে, আর নয়।

কয়েক বছর আগেই গর্ডন জিকো ওয়ালস্ট্রিটের লোকজনের উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘লালসা খুবই ভালো।’ বাক্যটি একটি সিনেমা থেকে নেওয়া হলেও এটি ধ্রুপদী মর্যাদা পেয়ে গিয়েছিল। মুনাফার পেছনে ছুটতে থাকা একটি প্রজন্মের কাছে এটি একটি প্রার্থনা বাক্যে পরিণত হয়েছিল। যথেষ্ট হয়েছে, আর নয়।

কিন্তু এখন যারা ওয়ালস্ট্রিট দখল করে আছে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে যারা তাদের সমর্থন জানাচ্ছে তারা সবাই এখন সমস্বরে বলছে, লালসা মোটেই ভালো নয়। লালসা আমাদের ঘর চুরি করে, আমাদের স্বাস্থ্য চুরি করে, আমাদের ভবিষ্যৎ স্বপ্ন চুরি করে। লালসা আমাদের পড়াশোনার সময়গুলো ছিনিয়ে নেয়, জীবনকে সুন্দরভাবে গড়ে তোলার সময়গুলোও সে চুরি করে নিয়ে যায়। চুরি করে নেয় আমাদের বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার সুযোগ, সন্তানের বাবা-মা হওয়ার সম্ভাবনা। লালসা আমাদেরকে সম্মানের সঙ্গে অবসরে যাওয়া থেকেও বঞ্চিত করে। লালসা ভালো নয়। সুতরাং লোভ-লালসাকে উজ্জীবিত করার মতো নীতি এবং সেগুলোর প্রয়োগ বন্ধ করতে হবে। হতে পারে সেটি শক্তি প্রয়োগ কিংবা সম্ভাব্য অন্য যেকোনো উপায়ে। আপনি তো জানেনই, কোন ধরনের নীতি আপনার এক শতাংশ বন্ধুর মধ্যে লালসা জাগায় আর কোন ধরনের নীতি আপনার ৯৯ শতাংশ বন্ধুর জন্য কল্যাণ বয়ে আনতে পারে। যথেষ্ট হয়েছে, আর নয়।

আমরা তো আপনাদের বহুবার বলেছি, আমরা একটি সমতাভিত্তিক সুন্দর জীবন চাই। আমরা তো বিনা পয়সায় কিছু চাচ্ছি না। খেটে খাওয়া, শ্রমজীবী মানুষ কোনদিনই এমনটা চায়নি। তবে ওয়ালস্ট্রিটের লোকজন চেয়েছে। আপনারা আমাদের যা দিয়েছেন তা নিয়েই আমাদের সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে। কিন্তু আপনারা যখন আমাদের কথাটা শুনতে পর্যন্ত অনীহ হয়ে পড়েছেন তখনই রাস্তায় নেমে আসতে বাধ্য হয়েছি আমরা। আপনারা এই শ্রমজীবী মানুষের বিশ্রামের সুযোগটি পর্যন্ত কেড়ে নিয়েছেন। যথেষ্ট হয়েছে, আর নয়। আপনারা আমাদের একটু করে রুটি ধরিয়ে দিয়ে বলেছিলেন, এটি নিয়েই সন্তুষ্ট থাক। আমরা থেকেছি। কিন্তু সেই রুটিটিও যে এখন কেড়ে নিচ্ছেন। আপনারা সব নীতিই প্রণয়ন করছেন আপনাদের এবং ওয়ালস্ট্রিটে অবস্থানকারী আপনাদের সহযোগীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে। আপনাদের কর্মকান্ড আবারো একটি অর্থনৈতিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। আপনারা আমাদের বলছেন, তোমাদের তো একটি চাকরি আছে, তাই নিয়েই সন্তুষ্ট থাক, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর। আর তুমি যদি সেটি না করতে চাও তবে আরো অনেকেই আছে যারা সেটি করতে চায়। এই মন্ত্রই কি আপনারা আমাদের গেলাচ্ছেন না? আপনারা একজন শ্রমিকের বিরুদ্ধে আরেকজন শ্রমিককে উস্কে দিচ্ছেন, প্রতিবেশীকে ক্ষেপিয়ে তুলছেন প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে। যথেষ্ট হয়েছে আর নয়।

আপনার কাছ থেকে পাওয়া রুটিটিই কিন্তু যথেষ্ট নয়। শ্রমজীবী মানুষের বাড়তি আয় কিন্তু দিন দিন ফুরিয়ে যাচ্ছে। সঞ্চয় বলে তাদের কিন্তু কিছুই আর এখন নেই, দুর্দিনে যার ওপর নির্ভর করা যায়। ওয়ালস্ট্রিটসহ অন্যান্য মাধ্যম দিয়ে আমাদের সব সম্পদ পাচার হয়ে এখন আপনাদের পকেটে গিয়ে ঢুকছে। আমরা আপনাদের মতো হতে চাই না। আমরা পুরোপুরিভাবেই মানবিক হতে চাই। আমরা মুক্ত থাকতে চাই আপনাদের লোভী নিয়ন্ত্রণ থেকে। যথেষ্ট হয়েছে, আর নয়। আপনাদের ঐশ্বর্যের যারা প্রশংসা করে তাদের মতো বিস্ফারিত নেত্রে আমরা আপনাদের দিকে তাকাতে চাই না। আপনারা মানুষের ওপর নিষ্পেষণ চালান। আপনাদের পদ ও সম্পদ অর্জনের পথে যারাই বাধা হয়ে দাঁড়ায় তাদেরই আপনারা পদদলিত করেন। মানবীয় জীবন সম্পর্কে আপনাদের দৃষ্টিভঙ্গি এবং নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে আমরা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করি। আপনাদের তাকানো দেখেই আমরা সেটা অাঁচ করতে পারি। যথেষ্ট হয়েছে, আর নয়।

আমাদের কি দাবি তা জানতে চান? আমাদেরকে আমাদের মানবীয় মর্যাদা ফিরিয়ে দিন। আমরা সুস্থ পরিবেশে জীবন ধারণ উপযোগী কর্ম এবং মজুরি পেতে চাই। আমরা সসম্মানে চাকরি থেকে অবসর নিয়ে ভালোবাসাসহ বাকি জীবনটা উপভোগ করতে চাই। স্বাস্থ্যসম্মত ঘরবাড়ি চাই যেখানে থাকবে বিশুদ্ধ বায়ু আর সুপেয় জল। থাকবে আমাদের শিশুদের জন্য ভালো ভালো স্কুল। অসুস্থ হয়ে পড়লে, আহত হয়ে পড়লে কিংবা নিঃস্ব হয়ে পড়লেও আমরা যেন সুচিকিৎসা পেতে পারি তার নিশ্চয়তা চাই। সংক্ষেপে বলতে গেলে, সভ্য জগতের মানুষ হিসেবে সসম্মানে বাঁচার জন্য যে সব উপকরণ এবং সুযোগ-সুবিধা প্রয়োজন সেগুলোই আমরা পেতে চাই। ধনীদের ওপর করারোপ অন্যায় কিছু নয়। কিন্তু ধনীদের সুখে রাখতে খেটে খাওয়া মানুষের ওপর উচ্চহারে করারোপ অবশ্যই অন্যায় ও অন্যায্য। যথেষ্ট হয়েছে, আর নয়।

আপনাদের জন্যে যথেষ্ট কখনোই যথেষ্ট বলে বিবেচিত হবে না। তবে আমরা যারা অপরিচ্ছন্ন জনতা এবং আপনাদের মুনাফা ও সীমাহীন লালসার পশুখাদ্যে পরিণত হয়েছি তাদের কাছে যথেষ্ট শেষ পর্যন্ত যথেষ্ট হিসেবেই আদ্রিত। [সাপ্তাহিক বুধবার থেকে]

Visit us on FaceBook

একুশ নিউজ মিডিয়া এখন ফেস বুক এ

Video News: www.EkushTube.com

Change your Life: ASea – Advancing Life
%d bloggers like this: