উচ্চ হারে কমিশন আদায়: প্রবাসীদের আয়ের একটা বড় অংশ বেরিয়ে যাচ্ছে। ডলারের দাম স্বাভাবিক হয়ে আসছে

ডলারের দাম স্বাভাবিক হয়ে আসছে
সাকিব তনু

টাকার বিপরীতে ডলারের দাম স্বাভাবিক হয়ে আসছে। দেশের মুদ্রাবাজারে ডলারের দামের যে ঊর্ধ্বগতি শুরু হয়েছিল, তা অনেকটাই থেমে গেছে। বাণিজ্য ঘাটতিও অনেকটা কমে এসেছে। রেমিট্যান্স প্রবাহ ভালো হওয়ায় মুদ্রাবাজারে ডলারের দাম স্থিতিশীল হয়ে আসছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বণিক বার্তাকে বলেন, বাজারে এখন ডলারের চাহিদা কমে এসেছে। আমদানি অনেক কমেছে। এ ছাড়া এলসিও কম খোলা হচ্ছে। প্রবাসীরাও ভালো পরিমাণে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন। তাই চাপ না থাকার কারণে ডলারের দাম স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। ঈদের পর বোঝা যাবে প্রকৃত অবস্থা। তবে বর্তমানে নতুন করে কোনো বিনিয়োগ না থাকার কারণেও ডলারের দাম স্বাভাবিক হয়ে এসেছে বলে মনে করেন তিনি।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য মতে, ২০০৯-১০ অর্থবছরের ৩০ জুলাই ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হার ছিল ৬৯ টাকা ৬ পয়সা। আর ২০১০-১১ অর্থবছরের একই দিন ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হার দাঁড়িয়েছে ৬৯ টাকা ৪২ পয়সা। চলতি (২০১১-১২) অর্থবছরে ৩০ জুলাই প্রতি ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হার বেড়ে দাঁড়ায় ৭৪ টাকা ৭৫ পয়সা। গত ১৮ আগস্ট বিনিময় হার ছিল ৭৪ টাকা ৭০ পয়সা।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, শুধু এ বছর জানুয়ারি থেকে জুনেই ডলারের দাম বেড়েছিল ৩ টাকা শূন্য ৪ পয়সা। এ বছরের ৩ জানুয়ারি ১ ডলারের বিপরীতে টাকার দাম ছিল ৭১ টাকা ১৫ পয়সা। ফেব্রুয়ারিতে ছিল ৭১ টাকা ৩০ পয়সা। মার্চে বেড়ে দাঁড়ায় ৭২ টাকা ৭৭ পয়সা। এপ্রিলে ছিল ৭২ টাকা ৯৫ পয়সা। মে মাসে ছিল ৭৩ টাকা ৪৯ পয়সা। জুনে বেড়ে দাঁড়ায় ৭৪ টাকা ১৯ পয়সা। জুলাইয়ে তা হয় ৭৪ টাকা ৭৫ পয়সা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য মতে, চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ২৩ কোটি ৩৯ লাখ ৫২ হাজার ডলারের পণ্য রফতানি হয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় যা ২৮ দশমিক ৭০ শতাংশ বেশি। এদিকে জুনে আমদানি করা হয়েছে ২৯ কোটি ১০ লাখ ৪০ হাজার ডলারের পণ্য। আগের অর্থবছরে একই সময়ের তুলনায় যা ৩২ দশমিক ২৮ শতাংশ বেশি। এ বছরের জুনে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের (রেমিট্যান্স) পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ১০৩ কোটি ৮৯ লাখ ডলার। মে মাসে যা ছিল ৯৯ কোটি ৮৪ লাখ ডলার। আর ১ থেকে ১২ আগস্ট পর্যন্ত রেমিট্যান্স এসেছে ৪৫ কোটি ৯৪ লাখ ডলার।
বিশ্ববাজারে ডলারের দাম যখন কমতির দিকে, তখন বাংলাদেশে ছিল উঠতির দিকে। বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদেরও এ কারণে বৈদেশিক পণ্যের মূল্য পরিশোধে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হয়। ফলে বেড়ে যায় পণ্যমূল্য। সে সময় বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছিল, বাণিজ্য ঘাটতির কারণেই ডলারের দাম বেড়ে যাচ্ছে। বর্তমানে আমদানি-রফতানিতে ভারসাম্য আসায় তা ডলারের দামে প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

উচ্চ হারে কমিশন নিচ্ছে রেমিট্যান্স প্রেরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো
সুমন আফসার

রেমিট্যান্স পাঠানোর মাধ্যম হিসেবে কাজ করা বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানই উচ্চ হারে কমিশন আদায় করছে বলে জানা গেছে। এতে প্রবাসীদের আয়ের একটা বড় অংশ বেরিয়ে যাচ্ছে। কানাডাভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান অ্যাসোসিয়েশন অব কমিউনিটি অর্গানাইজেশন ফর রিফর্ম নাউ (এসিওআরএন) পরিচালিত এক গবেষণা থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
কানাডার টরন্টোতে কাজ করছেন বাংলাদেশী মোহাম্মদ রাসেল। বাংলাদেশে তার ছয় স্কুলগামী ভাইবোনসহ আরও দুই আত্মীয়ের জন্য নিয়মিত টাকা পাঠাতে হয়। তিন মাস অন্তর তিনি একবার টাকা পাঠান। তার আবাসস্থলের পাশে ওয়েস্টার্ন ইউনিয়নের শাখা থেকে এ টাকা পাঠান তিনি। প্রতিবার ১০০ মার্কিন ডলার (প্রায় ৭ হাজার ৪০০ টাকা) করে পাঠান রাসেল। এর জন্য প্রতিবারই ১১ ডলার (৮১৪ টাকা) করে কমিশন দিতে হয় ওয়েস্টার্ন ইউনিয়নকে। আর সেলফোনের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে চাইলে আরও ৬ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় করতে হবে তার।
ওয়্যারহাউসে কাজ করা ৩২ বছর বয়সী মোহাম্মদ রাসেল বলেন, রেমিট্যান্স প্রেরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর আদায় করা কমিশনের হার অনেক বেশি। এটি কমিয়ে আনা হলে প্রবাসীদের জন্য ভালো হতো। তাদের বেশকিছু অর্থ সাশ্রয় হতো।
এসিওআরএন কানাডা সম্প্রতি একটি প্রচারাভিযান শুরু করেছে, যেখানে ওয়েস্টার্ন ইউনিয়নের আদায় কমিশনের ব্যাপারে প্রচারণা চালাচ্ছে তারা। এ ক্ষেত্রে ওয়েস্টার্ন ইউনিয়নকে বেছে নেয়ার উদ্দেশ্য হলো, রেমিট্যান্স প্রেরণকারী এ প্রতিষ্ঠানটির বিশ্বব্যাপী নেটওয়ার্ক রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি এ ক্ষেত্রে প্রায় ১৭ শতাংশ বাজার দখলে রেখেছে।
এসিওআরএনর প্রেসিডেন্ট কেই বিশ্বনাথ বলেন, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো রেমিট্যান্স পাঠানোর জন্য যে অর্থ আদায় করছে, তা অনেকের কাছে বেশি বলে জানা গেছে। প্রতিষ্ঠানটি ওয়েস্টার্ন ইউনিয়নের কাছে কমিশনের হার ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার আবেদন করেছে।
বিশ্বনাথ বলেন, বিশ্বব্যাংকের উপদেশের আলোকে এ হার নির্ধারণের জন্য বলছে এসিওআরএন। বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর ৩২ হাজার কোটি ডলারের অর্থ প্রবাহের কারণে বিশ্বব্যাংক এ নির্দেশনা দিয়েছে। প্রায় ২১ কোটি ৫০ লাখ প্রবাসী উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এ অর্থ পাঠান। জানা গেছে, এর মধ্যে শুধু কানাডা থেকে অর্থ প্রবাহের পরিমাণ ৭৫০ কোটি ডলার।
ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন ছাড়াও দেশে রেমিট্যান্স প্রেরণে আরও কিছু প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এগুলোর মধ্যে মানিগ্রাম, এক্সপ্রেস মানি উল্লেখযোগ্য।
এসিওআরএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অঞ্চল ও সেবা ভেদে মানিগ্রামের মাধ্যমে প্রতি ১০০ ডলার পাঠাতে গড়ে ৩ দশমিক ৭০ থেকে ১৩ দশমিক ২৬ ডলার ব্যয় হয়। এইচএসবিসির মাধ্যমে সমপরিমাণ অর্থ পাঠাতে ব্যয় হয় ৪০ দশমিক ১৮ থেকে ৫০ দশমিক ৮৪ ডলার। আর ১০০ ডলার পাঠাতে ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন কমিশন নিচ্ছে ১৩ দশমিক ৪৭ থেকে ২১ দশমিক ৭ ডলার।
বিশ্বনাথ জানান, কমিশন আদায়ের ক্ষেত্রে কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানগুলো আরও কিছু অদৃশ্য খাতে অর্থ আদায় করছে তাদের গ্রাহকের কাছ থেকে। গ্রাহকের অজান্তে আদায় করা হচ্ছে এ অর্থ। কোনো বিকল্প না থাকায় প্রবাসীরা বাধ্য হয়ে উচ্চ হারে কমিশন দিচ্ছেন।
বিশ্বব্যাপী ৪ লাখ ৭০ হাজার এজেন্টের মাধ্যমে সেবা দিচ্ছে ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন। প্রতিষ্ঠানটির দাবি অনুযায়ী, গত ১০ বছরে রেমিট্যান্স প্রেরণে কমিশনের হার অনেকটাই কমে এসেছে। তাদের মতে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি, পরিচালনাগত দক্ষতা বৃদ্ধি ও নতুন পণ্যের কারণে কমিশনের হার কমেছে।
ওয়েস্টার্ন ইউনিয়নের এক মুখপাত্র জানান, ওয়েস্টার্ন ইউনিয়নের সেবার ওপর গ্রাহকের আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছে। দ্রুত, নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য অর্থ স্থানান্তরের জন্য ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন যে পরিচিতি লাভ করেছে, তা গ্রাহকের কারণেই। গ্রাহকের কাছে কমিশন প্রদানের বিষয়টি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, ওয়েস্টার্ন ইউনিয়নের সেবার মানও তাদের কাছে সমান গুরুত্ব বলে জানান তিনি।
প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অর্থ পাঠানোর স্থান অনুযায়ী কমিশনের হার নির্ধারিত হয়। বিশ্বব্যাপী রেমিট্যান্স সেবার ক্ষেত্রে তাদের প্রশাসনিক ব্যয় মূল অর্থের প্রায় ৫ থেকে ৬ শতাংশ।
http://bonikbarta.com/2011-08-21/news/details/4374.html

একুশ নিউজ মিডিয়া এখন ফেস বুক এ

একুশ নিউজ মিডিয়া এখন ফেস বুক এ Video News: www.EkushTube.com Visit us on FaceBook

Advertisements

তথ্য কণিকা Jahan Hassan জাহান হাসান
Ekush, Publisher/Editor/ Hollywood media hyphenate/ একুশ নিউজ মিডিয়া, লিটল বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস / 1 818 266 7539 / FB: JahanHassan

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: