বর্তমানে ন্যূনতম শ্রমিক মজুরি সাড়ে ৩ হাজার টাকা, যা ডলারের হিসাবে প্রতি ঘণ্টায় ২২ সেন্ট। ভারতে ৬০ সেন্ট, পাকিস্তানে ৫০ সেন্ট এবং চীনে ১ ডলার ২ সেন্ট।

পোশাক ও বস্ত্র খাতে বাড়ছে বিদেশী বিনিয়োগ
বদরুল আলম

শিল্পোপযোগী রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎ ও পরিবহন ব্যবস্থা উন্নত না হলেও দেশের বস্ত্র এবং তৈরি পোশাক খাতে বিদেশীদের আগ্রহ বাড়ছে। ইন্টারন্যাশনাল টেক্সটাইল মার্কেট অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী চলতি বছরে জাপান ও বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে প্লিয়াডিস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, তুরস্কের এশিয়া হোল্ডিংস প্রাইভেট লিমিটেড, ওয়াইকেকে বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেড, বেলজিয়ামের টাইগারকো লিমিটেড, তাইওয়ানের ইনেসকা আউটডোর বাংলাদেশ লিমিটেড, ক্যাট গার্মেন্টস কোম্পানি লিমিটেড, কোরিয়ার গ্লেনভিউ বাংলাদেশ লিমিটেড বাংলাদেশে বিনিয়োগ করছে।
বাংলাদেশ রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেপজা) মহাব্যবস্থাপক আজিজুর রহমান (ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন) বণিক বার্তাকে বলেন, টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাক খাতে বাংলাদেশ সম্ভানাময় একটি দেশ। গত বছরগুলোয় এ খাতে যে প্রবৃদ্ধি হয়েছে, তা বিপুল সম্ভাবনার প্রতিফলন মাত্র। এ দেশে সস্তা শ্রম এ খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির মূল কারণ। তা ছাড়া প্রতিযোগী দেশ চীন ও ইন্দোনেশিয়ায় শ্রমের দাম বেড়ে যাওয়ায় উত্পাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে। সে কারণেও অনেকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী হচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে কিছু সমস্যা আছে। সব দেশেই কম-বেশি এ ধরনের সমস্যা থাকে। আমরা এর ব্যতিক্রম নই। তবে এত সমস্যার মধ্যেও পোশাক খাতের প্রবৃদ্ধি এ খাতের সম্ভাবনাকে জোরালো করেছে। এ কারণেই অনেক নতুন বিনিয়োগ হচ্ছে পোশাক ও বস্ত্র খাতে।’
আজিজুর রহমান বলেন, পোশাক খাতে বিনিয়োগের অনেক আবেদন থাকলেও বেপজা জায়গা দিতে পারছে না। কারণ যে চট্টগ্রামে ব্যবসা করতে চায়, তাকে ঈশ্বরদীতে জায়গা দিলে হবে না।
২০০২ সাল থেকে বাংলাদেশে জিপার তৈরি করছে জাপানের ওয়াইকেকে গ্রুপ। এবার তারা তৃতীয়বারের মতো উত্পাদন ক্ষমতা বাড়াচ্ছে। বাজারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে ঢাকা রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে নতুন কারখানায় ৫ কোটি ডলার বিনিয়োগ করছে কোম্পানিটি।
ওয়াইকেকে বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক মাসুদ করিম জানান, তারা বাংলাদেশে চতুর্থ ইউনিট স্থাপনের জন্য সম্প্রতি মংলা ইপিজেড সফর করেছেন। ওয়াইকেকের নতুন বিনিয়োগ সম্পর্কে তিনি বলেন, সমস্যার মধ্যেই ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করেন। তবে বাংলাদেশে সস্তা শ্রম ও প্রতিযোগী দেশগুলোয় উত্পাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় বিদেশী ক্রেতা এখন আরও বেশি বাংলাদেশমুখী হচ্ছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে কিছু সমস্যা আছে। তার পরও নতুন বিনিয়োগকারী আসছেন। লাভ-ক্ষতি হিসাব করেই তারা আসছেন। তৈরি পোশাক খাতে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থানকে যথাযথ ব্যবহার করতে পারলে এ খাতের সম্ভাবনা দিন দিন বাড়বে বলে মনে করেন তিনি।
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সিনিয়র রিসার্চ ফেলো খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম এ বিষয়ে বলেন, ব্যবসায়ীরা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করেন। বিনিয়োগের জন্য তারা দেখেন সার্বিক সক্ষমতার বিষয়টি। এ সক্ষমতার মধ্যে রয়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিদ্যুত্, গ্যাস ইত্যাদি। দেশে গত দুই বছরে বিদ্যুত্ খাতে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হওয়ায় ব্যবসায়ীরা দীর্ঘমেয়াদে এর ব্যবহার সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারছেন। সার্বিকভাবে বলা যায়, বিনিয়োগের পরিবেশ আছে বলেই বিনিয়োগ বাড়ছে। জাপান ও বাংলাদেশের যৌথ বিনিয়োগ করা প্রতিষ্ঠান প্লিয়াডিস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ৪০ লাখ ডলার বিনিয়োগে মংলা ইপিজেডে নিটওয়্যার কারখানা করছে। প্লিয়াডিসের ব্যবস্থাপনা সহকারী ইশরাত জুলফিকার চৌধুরী জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের জিএসপি সুবিধা প্রদান এবং জাপান ও চীনে উত্পাদন খরচ বৃদ্ধির কারণে তারা বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী হয়েছেন।
বেপজা সূত্র জানায়, তুর্কি প্রতিষ্ঠান এশিয়া হোল্ডিংস বাংলাদেশ আদমজী ইপিজেডে ২ কোটি ২০ লাখ ডলার বিনিয়োগে গার্মেন্ট কারখানা করছে। বেলজিয়ামের টাইগারকো লিমিটেড ৭০ লাখ ডলার বিনিয়োগে করছে জ্যাকেট, তাঁবু ও সুরক্ষা পোশাক তৈরির কারখানা। তাইওয়ানের প্রতিষ্ঠান ইনেসকা আউটডোর ২ কোটি ৫০ লাখ ডলার বিনিয়োগে মংলা ইপিজেডে তাঁবু ও স্লিপিং ব্যাগ তৈরির কারখানা করছে। আর কোরিয়ার গ্লেনভিউ ১ কোটি ডলার বিনিয়োগে কর্ণফুলী ইপিজেডে স্থাপিত কারখানায় তৈরি করবে তাঁবু, ক্যানপি, স্লিপিং ব্যাগ ও ব্যাক প্যাক।
রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, তৈরি পোশাক রফতানি ভবিষ্যতে আরও বাড়বে। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে সিঙ্গেল স্টেজ জিএসপির কারণে আগামী দিনগুলোয় ইউরোপের বাজারে এর প্রতিফলন বেশি দেখা যাবে। এ ছাড়া আমাদের দেশে বর্তমানে উচ্চহারে মূল্য সংযোজন করা যায়— এমন পণ্য তৈরির হার বেড়েছে ও নতুন বাজারও তৈরি হচ্ছে। এ বাজারগুলো হলো জাপান, সাউথ আফ্রিকা ও চীন।
বাংলাদেশ বিনিয়োগ বোর্ডের নির্বাহী সদস্য খায়রুল আনাম বণিক বার্তাকে জানান, বাংলাদেশে বর্তমানে সরকারি সুযোগ-সুবিধাগুলোই ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগে উত্সাহ দিচ্ছে। এ ছাড়াও বাংলাদেশের শ্রম ও ব্যবসার পরিবেশ ব্যবসায়ীদের অনুকূলে। সামগ্রিকভাবে বলতে গেলে ব্যবসার উপযুক্ত পরিবেশই বিনিয়োগ বাড়ার কারণ।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাকশিল্প দীর্ঘ সময়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাক রফতানি থেকে অর্জিত আয়ের হার প্রায় ৭৮ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের দেশগুলো রফতানি করা টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাক খাতের প্রধান বাজার। সার্বিক শিল্পে ৪৫ শতাংশ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে ও মোট জাতীয় উত্পাদনে এ খাতের অবদান প্রায় ১১ শতাংশ। এ খাতের মাধ্যমে সরাসরি কর্মসংস্থান হয় প্রায় ৪০ লাখ মানুষের। বাজারের আয়তন প্রায় ১ হাজার ৬০০ কোটি ইউরো। প্রতিযোগী দেশগুলোর সঙ্গে তুলনামূলক বিচার করলে বাংলাদেশের শ্রম, আর্থিক ব্যয় ও উত্পাদন খরচ অনেক কম। বর্তমানে ন্যূনতম শ্রমিক মজুরি সাড়ে ৩ হাজার টাকা, যা ডলারের হিসাবে প্রতি ঘণ্টায় ২২ সেন্ট। ভারতে ৬০ সেন্ট, পাকিস্তানে ৫০ সেন্ট এবং চীনে ১ ডলার ২ সেন্ট। বিদ্যুত্ খরচও তুলনামূলক কম। বাংলাদেশের বিদ্যুত্ খরচ প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টায় ৪ দশমিক ৫, পাকিস্তানে ৬ দশমিক ৭২ ও চীনে ৮ দশমিক ৮৪ সেন্ট।

Bangladesh increases garment workers’ minimum wage
http://www.bbc.co.uk/news/world-south-asia-10779270

Visit us on FaceBook

একুশ নিউজ মিডিয়া এখন ফেস বুক এ Video News: www.EkushTube.com

Advertisements

তথ্য কণিকা Jahan Hassan জাহান হাসান
Ekush, Publisher/Editor/ Hollywood media hyphenate/ একুশ নিউজ মিডিয়া, লিটল বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস / 1 818 266 7539 / FB: JahanHassan

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: