‘ফেসবুকের বাইরে মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন সব উত্তেজনাকর প্রবণতার বিষয় মাথায় রেখে নতুন কোম্পানি শুরু করার এটাই সঠিক সময়।

র্যান্ডি জুকারবার্গ

লেখক: প্রাঞ্জল সেলিম  |  শুক্র, ২৬ অগাষ্ট-এ ২০১১, ১১ ভাদ্র ১৪১৮

সামাজিক যোগাযোগের সবচেয়ে বড় ও জনপ্রিয় ওয়েব ফেসবুকের বিপনন বিভাগের পরিচালক ও প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জুকারবার্গের বোন রান্ডি জুকারবার্গ পদত্যাগ করেছেস। টানা ৬ বছর এই পদে চাকরি করার পর তিনি তার পদ থেকে পদত্যাগ করলেন। তিনি চান এমন একটি ওয়েব মাধ্যম, যা কিনা ফেসবুকের চেয়ে বেশি ‘সামাজিক’ হবে। পদত্যাগের সময় তিনি বলেছেন ‘ফেসবুকের বাইরে মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন সব এক্সাইটিং ভাবনার বিষয় মাথায় রেখে নতুন কোম্পানি শুরু করার সময় এখন। সেই চিন্তা করেই এগিয়ে চলছেন মার্ক জুকারবার্গের বড় বোন র্যাান্ডি জুকারবার্গ। তাকে নিয়ে লিখেছেন প্রাঞ্জল সেলিম

বিশ্বের সবচেয়ে কমবয়সী বিলিয়নিয়ার, যিনি বিশ্বের কোটি কোটি মানুষকে এক সুতোয় গেঁথেছেন। ১৯৮৪ সালের ১৪ মে নিউ ইয়র্কের হোয়াইট প্লেইনস গ্রামে জন্ম মার্কের। বাবা এডওয়ার্ড দন্ত চিকিত্সক। মা কারেন একজন মনোরোগ চিকিত্সক। মার্ক ছাড়াও এডওয়ার্ড-কারেন দম্পতির ঘরে আছে তিন মেয়ে রান্ডি, ডোনা ও এরিলি। ছেলেমেয়েদের লালন-পালন করেছেন গাঁয়ে, নিউইয়র্কের ডোবস ফেরিতে। শৈশব থেকেই মার্ক পড়াশোনা ও কাজকর্মে ছিলেন চৌকস। কৈশোরেই ইংরেজির পাশাপাশি ফরাসি, হিব্রু, লাতিন ও প্রাচীন গ্রিক ভাষায় কথা বলা ও লেখা শিখে যান মার্ক। কম্পিউটারের প্রতি ঝোঁক দেখে ছেলেকে নিজেই প্রোগ্রামিং শেখানো শুরু করেন এডওয়ার্ড। সে ১৯৯০ সালের কথা। মার্ক তখন ছয় বছরের শিশু। তখনই তাকে আটারি বেসিক প্রোগ্রামিংয়ের ওপর পড়ানো শুরু করেন এডওয়ার্ড। পরে একজন গৃহশিক্ষক (সফটওয়্যার নির্মাতা) রেখে দেন। ডেভিড নিউম্যান নামের ওই শিক্ষক জুকারবার্গকে ‘বিস্ময় বালক’ স্বীকার করতে দ্বিধা করেননি। যোগাযোগের কম্পিউটার প্রোগ্রাম এবং ভিডিও গেম নিয়ে আগ্রহ ছিল জুকারবার্গের। বাবার রোগী দেখার চেম্বার আর বাড়ির গুটিকতক কম্পিউটারের জন্য একটি প্রোগ্রাম বানান জুকারবার্গ। নাম দেন ‘জাকনেট’। এর সাহায্যে ব্যবহারকারীরা সহজেই একে অন্যের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারতেন। মাধ্যমিকে পড়ার সময় ‘সিনাপস মিডিয়া প্লেয়ার’ নামের একটি মিউজিক প্লেয়ার বানান খুদে এই প্রতিভা। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারী বা শ্রোতার রুচি সম্পর্কে ধারণা নেওয়া যেত। মাইক্রোসফট ও এওল সফটওয়্যারটি কেনার আগ্রহ দেখায়। মার্ককে চাকরিরও প্রস্তাব দেয়। কিন্তু মার্ক সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন এবং সফটওয়্যারটি আরও উন্নত করতে স্কুল পর্যন্ত ছেড়ে দেন। পরে পড়াশোনা করতে চলে যান হার্ভার্ডে। হার্ভার্ডে কম্পিউটার বিজ্ঞান ও মনোবিজ্ঞানের ওপর পড়াশোনা শুরু করেন জুকারবার্গ। দ্বিতীয় বর্ষে পড়ার সময় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় সহায়ক ‘কোর্সম্যাচ’ নামের একটি সফটওয়্যার তৈরি করেন। কলেজের সুদর্শন তরুণ-তরুণী বাছাই করতে অল্পদিনের মাথায় ‘ফেসম্যাশ’ নামের আরেকটি সফটওয়্যার বানান মার্ক। ছবি দেখে আবেদনময় তরুণ-তরুণী বাছাইয়ের হিড়িক পড়ে যায় গোটা কলেজে। এতে কলেজের ওয়েব সার্ভারে বাড়তি চাপ পড়ে। কর্তৃপক্ষ সাইটটি বন্ধ করে দেয়। শিক্ষার্থীরা দাবি তুললেন, ওই রকম একটি ওয়েবসাইট তাদের চাই। যেখানে শিক্ষার্থীদের নাম, ঠিকানা, ছবি ও তাদের সঙ্গে যোগাযোগের বিস্তারিত তথ্য থাকবে। এ কথা শুনে মার্ক প্রতিজ্ঞা করেন, কলেজ কর্তৃপক্ষ করে না দিলে তিনি নিজে শিক্ষার্থীদের জন্য এমন একটি ওয়েবসাইট তৈরি করবেন। সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে গিয়েই জুকারবার্গের হাতে জন্ম নেয় পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও বৃহত্তম সামাজিক যোগাযোগের সাইটটি। ২০০৪ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি হার্ভার্ডের ডরমিটরিতে ফেসবুকের উদ্বোধন করেন জুকারবার্গ। এই প্রকল্পে তার সাথে যুক্ত হন তার বড় বোন র্যান্ডি জুকারবার্গ। ফেসবুককে আরও প্রমোট করার জন্য ছিল তাদের এই উদ্যোগ। তবে সম্প্রতি একটি খবরে জানা গেছে, অনলাইনে সামাজিক যোগাযোগের সবচেয়ে জনপ্রিয় এই মাধ্যম ফেসবুকের বিপণন পরিচালক ও এর প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জুকারবার্গের বোন র্যান্ডি জুকারবার্গ পদত্যাগ করেছেন। এককভাবে ফেসবুকের মতো বা এর চেয়ে উন্নত একটি মাধ্যম চালু করার উদ্দেশে র্যান্ডি পদত্যাগ করেছেন বলে জানা গেছে। র্যান্ডি ফেসবুকে টানা ৬ বছর চাকরি করার পর প্রতিষ্ঠানটি থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন। তার পরিকল্পনা সামাজিক যোগাযোগের এমন একটি মাধ্যম তৈরি করা যা ফেসবুকের চেয়ে বেশি ‘সামাজিক’ হবে। পদত্যাগ পত্রে ফেসবুকে নিজের অর্জন সম্পর্কে বিস্তারিত বিবরণসহ র্যান্ডি লিখেছেন, ‘ফেসবুকের বাইরে মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন সব উত্তেজনাকর প্রবণতার বিষয় মাথায় রেখে নতুন কোম্পানি শুরু করার এটাই সঠিক সময়।’ তার নতুন কোম্পানির নাম আরটুজেড মিডিয়া হতে পারে। একটি সূত্রে জানা যাচ্ছে, ফেসবুক থেকে তিন মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি নেয়ার পরই র্যান্ডি তার ক্যারিয়ার নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেন। ফেসবুক কর্তৃপক্ষ র্যান্ডির পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তার নতুন কোম্পানি শুরু করার বিষয়টিও তারা নিশ্চিত করেছে। তবে এ ব্যাপারে র্যান্ডির ভাই মার্ক জুকারবার্গ কোনো মন্তব্য করেননি। রান্ডি বলেন, ‘ইন্টারনেটে সার্ফিং এবং বিভিন্ন বিষয় পোস্ট করার সময় নিজের আসল নাম ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা থাকলে ব্যবহারকারীরা আরও অনেক ভালো ব্যবহার করতেন।’ ইন্টারনেটে উত্ত্যক্ত করার বিষয়ে একটি গোল টেবিল বৈঠকে তিনি এ মন্তব্য করেন। বেনামে ইন্টারনেট ব্যবহার বন্ধ করলে অনলাইনে বিরক্ত ও হয়রানি করার প্রবণতা অনেকাংশে কমে যাবে বলে মত দেন তিনি। এর অবসান হওয়া উচিত বলে মনে করেন রান্ডি। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি মানুষ যখন আসল নাম ব্যবহার করে তখন সে ভালো ব্যবহার করে। কিন্তু বেনামে বা নকল নামে কোনো মাধ্যমে সে নিজেকে যেকোনো কিছু করার ক্ষেত্রে অনেক নিরাপদ মনে করে।’ অবশ্য র্যান্ডির আগে গুগলের সাবেক প্রধান নির্বাহী এরিক স্মিথ এমন মন্তব্য করেন। সম্প্রতি ব্যক্তিগত গোপনীয়তার নিশ্চয়তা দিতে এবং অন্যের দ্বারা ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ায় ফেসবুক ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়েছে। http://new.ittefaq.com.bd/news/view/38262/2011-08-26/36

Visit us on FaceBook

একুশ নিউজ মিডিয়া এখন ফেস বুক এ Video News: www.EkushTube.com

Advertisements

তথ্য কণিকা Jahan Hassan জাহান হাসান
Ekush, Publisher/Editor/ Hollywood media hyphenate/ একুশ নিউজ মিডিয়া, লিটল বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস / 1 818 266 7539 / FB: JahanHassan

One Response to ‘ফেসবুকের বাইরে মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন সব উত্তেজনাকর প্রবণতার বিষয় মাথায় রেখে নতুন কোম্পানি শুরু করার এটাই সঠিক সময়।

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: