যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে ভঙ্গুরাবস্থা বিরাজ করছে।

ভয়াবহ মন্দার দিকে যাচ্ছে বিশ্ব অর্থনীতি

যুক্তরাষ্ট্রের দোদুল্যমান অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগ ও ইউরো অঞ্চলের ঋণসংকট বিশ্ববাজারকে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলে দিয়েছে। ১৭ আগস্ট প্রকাশিত মরগান স্ট্যানলির প্রতিবেদন ভিন্ন কিছু বলেনি। খবর ইকোনমিক টাইমসের।
মরগান স্ট্যানলির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সাম্প্রতিক ঘটনাবলি বড় হতাশাজনক। সংকট বিষয়ে ইউরোপের সাড়া যথেষ্ট নয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের ঋণসীমা বাড়ানো নিয়ে ঘটনাগুলো আর্থিক বাজারের ওপর ফেলেছে ঋণাত্মক প্রভাব। এর ফলে ভোক্তাদের আত্মবিশ্বাস কমে গেছে আর ব্যবসাও হয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত। চলতি বছরের প্রথমার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের জিডিপি বার্ষিক গড় হারে বেড়েছে ১ শতাংশেরও কম, যা প্রমাণ করে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে ভঙ্গুরাবস্থা বিরাজ করছে।
অপরদিকে ইউরোপের পূর্ববর্তী হার বৃদ্ধি, ঋণসংকট ও আর্থিক নীতিমালা কঠোর করা প্রবৃদ্ধিকে ক্ষতির মুখে ফেলবে। ইউরো অঞ্চলের জিডিপি এ বছরের শেষ ও ২০১২ সালের শুরুর দিকে অপরিবর্তিত থাকবে। এরূপ উন্নয়নের কারণে মরগান স্ট্যানলি চলতি বছরের জন্য বিশ্বব্যাপী প্রবৃদ্ধি অনুমান ৪ দশমিক ২ শতাংশ থেকে ৩ দশমিক ৯ শতাংশে কমিয়ে এনেছে। ২০১২ সালের জন্য প্রবৃদ্ধি অনুমান কমানো হয়েছে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ পর্যন্ত। এ প্রতিবেদনে বিভিন্ন অঞ্চল সম্পর্কে মরগান স্ট্যানলির দৃষ্টিভঙ্গি বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে।
উপার্জন ও ব্যয়ের ধীরগতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবৃদ্ধি আকাঙ্ক্ষার অবনমন ঘটানো হয়েছে। বিনিয়োগ ও নিয়োগ বিষয়ে ব্যবসায়ের আগ্রহ নিয়ে উদ্বেগও অন্যতম কারণ।
ইউরো অঞ্চলের জিডিপি প্রবৃদ্ধিবিষয়ক অনুমান এ বছর ও আগামী বছরের জন্য শতাংশের পুরোটাই কমানো হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোয় জাতীয় চাহিদার কমতির ভিত্তিতে এমনটি করা হয়েছে। এতে ইউরো অঞ্চলের পুরোটাই প্রভাবিত হবে, ম্যানুফ্যাকচারিং নির্দেশকগুলোর ধীরগতির ফলে বিশ্বব্যাপী ব্যবসার গতি ধীর হয়ে যাবে, ন্যায্য হারে অর্থায়নে প্রবেশাধিকার ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো জটিলতার মুখোমুখি হবে, অর্থায়নবিষয়ক ব্যয়ের সম্ভাব্যতার সৃষ্টি হবে, যা বিনিয়োগ প্রকল্পগুলোকে প্রভাবিত করতে পারে।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, যুক্তরাজ্যের প্রবৃদ্ধি দুর্বল হলেও ইতিবাচক। অতিরিক্ত ধারণক্ষমতার অভাব ও বিশ্বব্যাপী স্ফীতির ফলে ২০১২ সাল ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের জন্য আরেকটি অস্বস্তিদায়ক বছর হবে।
দুর্বল বিশ্ব অর্থনীতি, ভূমিকম্প পরবর্তী পুনর্নির্মাণ কার্যক্রমে বিলম্ব, মধ্যবর্তী থেকে দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুত্ চাহিদা ও সরবরাহে কঠোর শর্তের কারণে মরগান স্ট্যানলি জাপানের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাবিষয়ক অনুমান কমিয়েছে। আর্থিক সম্পদগুলো ও করবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ এবং মূল্যস্ফীতিকরণ এ ক্ষেত্রে প্রধান ঝুঁকি।
অস্ট্রেলিয়া সম্পর্কে বলা হয়েছে, দেশটিতে খনিবহির্ভূত খাতগুলোয় দুর্বলতার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। মুদ্রা ও আর্থিক নীতি এবং বাড়ির দাম কমে যাওয়ার ফলে সম্পদের ওপর প্রতিকূল প্রভাব এর কারণ। ভোক্তা মনোভাব কয়েক মাস ধরে ব্যাপকভাবে কমেছে, যা বেকারের সংখ্যা বৃদ্ধির আশঙ্কা বাড়াবে।
জাপান বাদে এশিয়ার অন্য দেশগুলোয় জিডিপি প্রবৃদ্ধি অনুমান ২০১১ সালে ৭ দশমিক থেকে ৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৭ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ২০১২ সালের জন্য ৭ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৭ দশমিক ৩ শতাংশে আনা হয়েছে। উন্নত বিশ্বে প্রবৃদ্ধির ধীরগতির প্রভাব পড়েছে এ অঞ্চলেও।
প্রতিবেদন অনুযায়ী কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, তাইওয়ান ও থাইল্যান্ডের মতো দেশগুলো তুলনামূলকভাবে চীন, ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার অর্থনীতির চেয়ে তাদের প্রবৃদ্ধি সম্পর্কিত দৃষ্টিভঙ্গিকে আরও ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে।

[বণিক বার্তা ডেস্ক]

আরও ৩টি ব্যাংক বন্ধ হলো যুক্তরাষ্ট্রে

যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রক সংস্থা গত শুক্রবার আরও তিনটি ব্যাংক বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে দেশটিতে বন্ধ ব্যাংকের সংখ্যা এখন ৬৮। বন্ধ হয়ে যাওয়া ব্যাংকগুলোর মধ্যে আছে— ফ্লোরিডার পাম বিচের লাইডিয়ান প্রাইভেট ব্যাংক, জর্জিয়ার স্টেটসবরোর ফার্স্ট সাউদার্ন ন্যাশনাল ব্যাংক এবং ইলিয়নিসের ফার্স্ট চয়েস ব্যাংক। খবর রয়টার্সের।

তবে দ্য ফেডারেল ডিপোজিট ইন্স্যুরেন্স করপোরেশন (এফডিআইসি) আশা করছে গত বছরের ১৫৭টি ব্যাংক বন্ধের তুলনায় এ বছরের শেষের দিকে আরও কম ব্যাংক বন্ধ হবে। ২০০৯ সালে ১৪০টি ব্যাংক বন্ধ করা হয়েছিল। এদিকে চলতি বছর বেশিরভাগ ছোট ব্যাংক বন্ধ হওয়ার মধ্যে পড়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশই বিদ্যমান অর্থমন্দার শিকার।
এফডিআইসি গত শুক্রবার বলেছে ফ্লোরিডার পাম বিচের লাইডিয়ান প্রাইভেট ব্যাংক বন্ধ হয়ে গেছে। তারা আরও বলেছে, ব্যাংকটির পাঁচটি শাখা আগামী সোমবার সাবাডেল ইউনাইটেড ব্যাংকের অধীনে নতুন করে চালু করা হবে। প্রসঙ্গত, ২০১১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত লাইডিয়ান ব্যাংকের মোট সম্পদ ছিল ১৭০ কোটি ডলার এবং মোট জমার পরিমাণ ছিল ১২৪ কোটি ডলার। এফডিআইসি বলেছে, গত শুক্রবার জর্জিয়ার স্টেটসবরোর ফার্স্ট সাউদার্ন ন্যাশনাল ব্যাংক বন্ধ করা হয়েছে। শনিবার ব্যাংকটির দক্ষিণের হেরিটেজ ব্যাংকের শাখা হিসেবে আবার চালু হওয়ার কথা। ২০১১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ফার্স্ট সাউদার্ন ন্যাশনাল ব্যাংকের মোট সম্পদ ছিল ১৬ কোটি ৪৬ লাখ ডলার এবং মোট জমা ছিল ১৫ কোটি ৯৭ লাখ ডলার। ইলিয়নিসের ফার্স্ট চয়েস ব্যাংক অব জেনেভা গত শুক্রবার বন্ধ করা হয়েছে এবং ব্যাংকটির একমাত্র শাখা শনিবার ইনল্যান্ড ব্যাংক অ্যান্ড ট্রাস্টের একটি অংশ হিসেবে পুনরায় চালু করা হবে। এফডিআইসি জানিয়েছে ২০১১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ফার্স্ট চয়েস ব্যাংক অব জেনেভার মোট সম্পদ ছিল ১৪ কোটি ১০ লাখ ডলার এবং মোট জমা ছিল ১৩ কোটি ৭২ লাখ ডলার।

অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতির দায় স্বীকার করে নিলেন ওবামা
বণিক বার্তা ডেস্ক

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনেক নাগরিকই দেশটির প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার অর্থনৈতিক কার্যপ্রণালিতে সন্তুষ্ট নন। আর ওবামাও এর দায়দায়িত্ব স্বীকার করে নিয়েছেন। খবর ইকোনমিক টাইমসের।
গ্যালপ জরিপে দেখা যায়, ওবামার অর্থনীতি নিয়ে কার্যক্রমের ফলে তার জনপ্রিয়তা ২৬ শতাংশ কমে গেছে। দ্বিতীয় অর্থমন্দার ঝুঁকি এবং বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজারে দরপতনের বিষয়টিও ওবামার ২০১২ সালের নির্বাচনে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
গত সপ্তাহে সিবিএস নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে ওবামা বলেন, আমাদের দেশে বেকারত্বের হার এখনো অনেক বেশি। এমনকি অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির গতিও যথেষ্ট নয়। কিন্তু তার পরেও বলব, আমরা আসলে সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছি। যদি এই সিদ্ধান্তগুলো না নেয়া হতো তাহলে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হতো। তবে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না হলে এটি সন্তুষ্টির কোনো বিষয় নয়। আমি চাই আর একটি বছর আমাকে মূল্যায়ন করা হোক।
ওবামা দ্বিতীয় অর্থমন্দার আশঙ্কা দূর করে দিয়ে এই সাক্ষাত্কারে ইউরোপের ঋণসমস্যা, জাপানের সুনামি এবং আরবের সমস্যাগুলোই অর্থনৈতিক গতিকে বাধাগ্রস্ত করেছে বলে দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, আমি মনে করি না যে, আমাদের সামনে আরেকটি অর্থমন্দা আসছে। তবে আমরা সত্যিকারভাবেই বেকারত্বের সমস্যায় আছি। এ জন্য আমাদের অনেক বেশি কাজ করতে হবে।
এ সময় ওবামা কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনায় বাধা দেয়ার জন্য রিপাবলিকানদের দোষারোপ করেন। তিনি জাতীয় চাহিদা পূরণ করার জন্য তার রাজনৈতিক দলের অর্জনের বিষয়েও আলোচনা করেন।
এদিকে সম্প্রতি ম্যাসাচুয়েটসে মার্থা ভেনইয়ার্ডে অবকাশ যাপনকালে ওবামা কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সেপ্টেম্বরের মধ্যে বাজেট ঘাটতি পরিকল্পনা করার অঙ্গীকার করেন। তিনি প্রত্যাশা করছেন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা কর মওকুফ আইনের সম্প্রসারণ করবে, যার মাধ্যমে অনেক কর্মক্ষেত্র তৈরি হবে এবং আফগানিস্তান ও ইরাক থেকে যুদ্ধফেরত সৈন্যদেরদেরও এখানে সুযোগ করে দিতে সাহায্য করবে।
ওবামার দীর্ঘ দিনের সহকারী ডেভিড এক্সলর্ড সিএনএনকে বলেন, আমি মনে করি কেউ কেউ ওয়াশিংটনকে নিয়ে খেলার চেষ্টা করছে। এই একটি বিষয়ই স্বচ্ছ রাজনীতির অনেক কার্যক্রম থেকে দূরে রেখেছে। এ কারণেই আমরা পেশাজীবী আমেরিকানদের কর মওকুফ সম্প্রসারণের মতো বিষয়ে একমত হতে পারছি না।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের আরেকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের উপদেষ্টা কার্ল রভ ওবামার অর্থনৈতিক পদক্ষেপের সমালোচনা করেন। ওবামা কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়ে অঙ্গীকার রক্ষা করবেন না উল্লেখ করে তিনি বলেন, তার পরিকল্পনা সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হবে। সম্ভবত আমরা সপ্তম অথবা অষ্টম বা নবমবারের মতো প্রেসিডেন্টের এই পরিকল্পনার কথা শুনলাম। প্রতিটি সময়েই তিনি এই বিষয়টি নিয়ে শুধু সময় অপচয় করেছেন। ফলে এটি আরও ব্যয়বহুল, আরও ঘাটতিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ এখন বিরক্ত হয়ে গেছে।
তার এই মতের পরিপ্রেক্ষিতে ওবামার আরেকজন সাবেক সহকারী বিল বার্টন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা প্রশাসনের এমন কারও পরামর্শ শুনতে চায় না, যারা নিজেরাই ব্যাপক ঘাটতির মধ্যে ছিল। এমনকি তারা আমাদের একটি যুদ্ধের মধ্যে রেখেছিল এবং নিউইয়র্কের শেয়ারবাজারকে জুয়ার আসরে পরিণত করেছিল, যা কখনোই আমরা করিনি।

Visit us on FaceBook

একুশ নিউজ মিডিয়া এখন ফেস বুক এ Video News: www.EkushTube.com

Advertisements

তথ্য কণিকা Jahan Hassan জাহান হাসান
Ekush, Publisher/Editor/ Hollywood media hyphenate/ একুশ নিউজ মিডিয়া, লিটল বাংলাদেশ, লস এঞ্জেলেস / 1 818 266 7539 / FB: JahanHassan

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: